নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০:৫৪:৪৪
রোহিঙ্গা তহবিলে ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নরওয়ে
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নরওয়ে। যা বৈশ্বিক অর্থায়ন হ্রাসের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তায় সহায়ক হবে। ইউএনএইচসিআর-এর বৈশ্বিক বাজেটে নরওয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সহায়তার অংশ এই অনুদান।
জাতিসংঘের এই সংস্থাকে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম অব্যাহত
রাখতে ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমবর্ধমান মানবিক সুরক্ষা চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।
২০২৫ সালে মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ
কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে।
ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেছেন,
সংকটের নবম বছরে রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা ও আশা বজায় রাখতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায়
এখন বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। নরওয়ের এই অনুদান শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন
ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়িয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করবে। এটি স্বেচ্ছায়,
নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মনোবল ধরে রাখতে
সহায়ক হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড
গুলব্রান্ডসেন জানিয়েছেন, নরওয়ে ও ইউএনএইচসিআর শরণার্থী সুরক্ষায় একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
অনুসরণ করে, যা ‘অধিকারভিত্তিক, নীতিনিষ্ঠ, বহুপাক্ষিক ও ভবিষ্যৎমুখী’। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের
প্রতি সহায়তার অর্থ হলো—
মর্যাদা ও অধিকারের ওপর জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কাজ করা।’ মানবিক নীতি মেনে রোহিঙ্গা
নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনএইচসিআর-এর
কার্যক্রমে সহায়তা দিতে পেরে নরওয়ে গর্বিত। নরওয়ে ‘সেফ-২’ কর্মসূচির মতো যৌথ উদ্যোগেও
সহায়তা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি সরবরাহ
করা হয়। এতে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা কমে এবং ক্যাম্পের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ,
নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়— বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য।
বিশ্বব্যাপী ৭১ শতাংশ শরণার্থী বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম
আয়ের দেশগুলোতে অবস্থান করছে বলে জানিয়ে ইউএনএইচসিআর বলছে, এটি শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা
সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে
ধরে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউএনএইচসিআর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ২০২৬ সালের
জন্য হালনাগাদ ‘যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা’ চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।