রাজধানী শেরেবাংলা নগর থানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হবে।এর আগে গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সাথে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫নং বিল্ডিং এর ৩য় তলায় বসবাস করত। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সাথে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল তার পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলে। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভিতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এসময় বিছানার উপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
৮ ঘন্টা আগে
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত তিন আসামি ও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার অপর একজনসহ চার আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় চারজনের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত দুই কিশোর ফাহাদ ও কামরুলকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবে। তাঁদের মধ্যে সিয়াম এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন।রাত ১১টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, একটি হত্যা মামলায় পুলিশ রাতে চার আসামিকে কারাগারে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুর জেলার টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল অপ্রতিম।রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।এদিকে, রোববার রাতে সিয়াম ছাড়া অপর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
১২ ঘন্টা আগে
টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—কিশোরগঞ্জের নিকলীর দামপাড়া এলাকার মো. জুলহাস উদ্দিন (৩৯) এবং করিমগঞ্জের গুনধর এলাকার প্রহড় (২৮)।সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট বাদী মেহেদি হক নিয়নকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ‘Zales’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেয় প্রতারক চক্রটি। পরে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাকে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়। শুরুতে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্নের মাধ্যমে কমিশনের সুযোগ দেওয়া হলেও পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়।একপর্যায়ে ৯০টি অর্ডার সম্পন্নের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে টাকা জমা দিতে বলা হয়। অ্যাকাউন্টে মুনাফার টাকা প্রদর্শন করে তা উত্তোলনের জন্য নানা অজুহাতে আরও অর্থ নেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় বাদীর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।এ ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। এরই মধ্যে এ মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সিআইডি জানায়, সর্বশেষ অভিযানে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি প্রহড়কেও গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৩ দিন আগে
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়কে পার্কিং নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে ফাঁকা রাস্তায় দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া আলোচিত যুবক মোঃ হামিদুল গাজীকে (৪১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় ব্যবহৃত রিভলবার ও খয়েরি রঙের সিএইচআর প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে ক্ষমতার দাপট দেখাতে হামিদুল গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও র্যাব-১। পরে তার স্বীকারোক্তিতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে একটি ২২ বোর রিভলবার উদ্ধার করা হয়।হামিদুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে, যার ৮টিই মাদকের। জুট ব্যবসার আড়ালে তিনি মাদক কারবারে জড়িত বলে ধারণা পুলিশের। আসামিকে আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
৪ দিন আগে