• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৬ই আষাঢ় ১৪৩১ সকাল ০৬:৩৩:৪২ (20-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শনে ট্রেনযাত্রা শুরু


রবিবার ৫ই নভেম্বর ২০২৩ সকাল ১০:২০



দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শনে ট্রেনযাত্রা শুরু

ছবি: সংগৃহীত

চ্যানেল এস ডেস্ক: 

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে প্রথম ট্রেনের যাত্রা। তবে এটি কোনো ট্রায়াল রান নয়, মূলত এ রেলপথের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন অর্থাৎ কোনো ত্রুটি আছে কি-না তা যাচাই করতে প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষণ দল নিয়ে যাচ্ছে ট্রেনটি। 

রোববার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে আটটি বগি নিয়ে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যায় ট্রেনটি। এতে করে যাচ্ছেন পরিদর্শন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এ যাত্রায় নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন ও বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করবেন তারা। 

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিম এ রেলপথ পরিদর্শন করবেন। রোববার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের পথে ট্রেনটি চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়।  

টিমটি এ রেলপথের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়াবে এবং ধীরে ধীরে কক্সবাজারের দিকে যাবে। একই সঙ্গে নবনির্মিত রেলপথের ব্রিজগুলোতেও দাঁড়াবে। মূলত উদ্বোধনের আগে খুঁটিনাটি সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিম। বিকেল নাগাদ এ টিম কক্সবাজার পৌঁছাবে।’ 

মো. সুবক্তগীন আরও বলেন, ‘দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের কর্মকর্তা থাকবে ৮ থেকে ১০ জন। আর বাকি সব বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিমের কর্মকর্তা।’ 

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে রোববার কোনো ট্রায়াল রান হচ্ছে না। গভার্মেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ রেলপথ ইন্সপেকশন করবে। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটা বিভাগ। যেটা বাংলাদেশ রেলওয়ের বাইরে, কিন্তু রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গভার্মেন্ট ইন্সপেক্টর। 

‘এটা ইঞ্জিনের ট্রায়াল বা গাড়ির ট্রায়াল না; এটা হলো রেল লাইন ঠিক আছে কি-না কিংবা রেল চলতে পারবে কি-না, সেটাই তারা যাচাই করবে। আর কত স্পিডে ট্রেন চলতে পারবে সেটাও পর্যবেক্ষণ করবে এ টিম। প্রধানমন্ত্রী যখন এ রেলপথ উদ্বোধন করবেন, তার আগে সামগ্রিক বিষয় জানান দেয়ার জন্য এটা করা হয়।’ 

প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ রেলপথ। এ পথের ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে - ঢাকা থেকে নন এসি শোভন চেয়ার ৫১৫ টাকা, এসি সিট ৯৪৮ টাকা, এসি কেবিন ১ হাজার ৩৬৩ টাকা এবং এসি বার্থ ২ হাজার ৩৬ টাকা। 

পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। 

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে এছি ৩৯টি বড় সেতু, ২২৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং। হাতি চলাচলের জন্য রয়েছে দুটি আন্ডারপাস। নির্মাণ করা হয়েছে ৯টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো: দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার।

প্রস্তুত কালুরঘাট সেতু
চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুতে ট্রেন ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান সফলভাবে শেষ হয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি রেল ইঞ্জিন চালিয়ে এটি যাচাই করা হয়।

শুরুতে সাড়ে ১০ টনের ২২০০ সিরিজের ইঞ্জিন, তারপর ১১.১৬ টনের ২৯০০ সিরিজের ইঞ্জিন এবং সবশেষ ১৫ টনের তিন হাজার সিরিজের ইঞ্জিন সেতুতে চলাচল করে। আর এ সিরিজের ইঞ্জিন দিয়েই কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলবে।

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথে যেতে হলে ট্রেনকে প্রায় শতবর্ষী এ সেতু পাড়ি দিতে হবে। এ সেতুর সংস্কার কাজের জন্য গত ১ অগাস্ট থেকে তিন মাসের জন্য সেতুটিতে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১১ নভেম্বর কক্সবাজারের পথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে, আজ (রোববার) ৮টি বগি ও একটি ইঞ্জিন নিয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার নবনির্মিত এ রেলপথ যাক্রা করে একটি ইন্সপেকশন টিম। তারা রেলপথ ও স্টেশনসহ সব বিষয় যাচাই করে দেখবে।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, ‘তিন রকমের ইঞ্জিন ট্রায়াল সফলভাবে শেষ  হয়েছে। কালুরঘাট সেতু ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত আছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দল ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা বলেন, ‘শনিবার আমরা নতুন মডেলের ইঞ্জিন দিয়ে একাধিকবার ট্রায়াল রান করেছি। কালুরঘাট সেতুর ওপর দিয়ে এখন ট্রেন চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে নতুন জেলা হিসেবে যুক্ত হবে কক্সবাজার।’

চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম এ কালুরঘাট সেতু। সড়কপথে সব ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি এ সেতু দিয়েও ট্রেন চলে। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ রেল সেতুটি। ১৯৫৮ সালে সেতুটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় পাকিস্তান সরকার। ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত কালুরঘাট সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে, সেটি নাজুক হয়ে পড়ে। ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে সেতুটি দুদফা সংস্কার করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুনঃ


সর্বশেষ সংবাদ