রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ ও প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে এ আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত জানান, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন অগ্রগতি সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, সফরের অংশ হিসেবে সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করবে।সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৬ জন।আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৬৮ শিশুর। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৬৭ শিশু মারা গেছে।এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৫ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৫১। এই সময়ে ১ হাজার ৯০ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ২৮ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ২১৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৯২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
অতীতে সংসদে স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা, ডেপুটি স্পিকারকে হত্যা এবং সংসদে জুতা ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে সেই ‘কালো ইতিহাসে’ ফিরে যেতে চান না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে, জুতা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আমরা সেই কালো ইতিহাসে ফিরে যেতে চাই না।তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পাওয়ার কথা। একইভাবে কমিটিগুলোর সভাপতির পদেও ২৬ শতাংশ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের কাউকে দেওয়া হয়নি।চিফ হুইপের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নিলে তাদের সভাপতি পদ দেওয়া হবে—এমন কোনো সমঝোতা হয়নি।তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা যাব এবং সেই হিসেবে আপনি আমাদের সভাপতি দেবেন—এমন কথা আমরা কখনোই বলিনি। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করব না। একটি কমিটিতে জয়েন করানোর জন্য শর্ত আরোপ করে জোর-জবরদস্তি করার ট্র্যাডিশন আমরা সঠিক মনে করি না।বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এটি জনগণের সংসদ। তাই বৈষম্যবিরোধী এই সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা উচিত।এর আগে চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, বিরোধী দলীয় উপনেতার সঙ্গে ফোনালাপের ভিত্তিতে তিনি আশা করেছিলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে। এই বোঝাপড়ার কারণেই রোববারের কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।চিফ হুইপ বলেন, বিগত ৫৪-৫৫ বছরে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ছাড়া অন্য কোনো সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে করার রেওয়াজ নেই। তারপরও বিরোধী দলকে আনুপাতিক হারে ১০টি কমিটির সভাপতি পদ দিতে তারা রাজি।তিনি বলেন, আমাদের কথা ছিল, সংবিধান সংশোধন করেই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। উনারা যদি সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তবে আমরা পদ দিতে রাজি আছি। আমরা কোনো কিছু আটকে রাখতে চাই না।চিফ হুইপ আরও বলেন, আমি যদি দিল খুলে কথা বলি, তবে অপরপক্ষকেও ওপেন হার্ট হতে হবে। কথার মারপ্যাঁচ করে আমরা দেশ গঠনের কাজে এগোতে পারব না।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্ক ইতিবাচক। এই জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।জোটটিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঁচার আগে মরার চিন্তা করলে সমস্যা।রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।গত বৃহস্পতিবার সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত। এর অংশ হিসেবে দুই দেশ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে। তবে এর দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।রোববার (৩০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মাদারীপুর জেলার এসপি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।এছাড়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীকে মাদারীপুর জেলার এসপি ও ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমানকে পিরোজপুর জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।বদলির আদেশে বলা হয়, এ আদেশ কার্যকর করা হবে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের গুমের শিকার ২৪১ জন নেতাকর্মীর ন্যায়বিচার এবং এখনও নিখোঁজ সাত ছাত্রনেতার সন্ধানের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি ।আজ (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় তারা। “গুম ও নিপীড়নের খতিয়ান: ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও গুম প্রতিরোধে কার্যকর সংস্কারের দাবি” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোছাইন জুয়েল, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, স্পোর্টস সম্পাদক মুশফিকুর রহমান এবং শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক জাকির হোসাইন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গুমের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আল মুকাদ্দাসের পিতা মাওলানা আব্দুল হালিম, গুমের শিকার হাফেজ জাকির হোসেনের ভাই জিয়াউর রহমান, গুমের শিকার রেজওয়ান হোসেনের বড় ভাই রিপন হোসেন, গুম করে ক্রসফায়ারে নিহত মহিদুল ইসলামের ভাই শহিদুল ইসলাম এবং গুম করে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া ছাত্রশিবিরের জয়পুরহাট জেলার সাবেক সভাপতি আবু যর গিফারীসহ গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্য ও ভুক্তভোগীরা।লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে পতিত স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে ‘গুম’ বা ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ডি জি এফ আই, র্যাব ও সিটিটিসিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বিশেষায়িত বাহিনীকে ব্যবহার করে এসব গুমের ঘটনা ঘটানো হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন।গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৪১ জন নেতাকর্মী ছিলেন। এটি রাজনৈতিক পরিচয় থাকা মোট ভুক্তভোগীর ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। এই পরিসংখ্যানটি মূলত গুম কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বিগত দেড় দশকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো প্রকৃত গুমের ঘটনা সাত শতাধিক। পৈশাচিক নির্যাতনের কারণে চরমভাবে ট্রমাটাইজড (মানসিকভাবে বিপর্যস্ত) হওয়া এবং ভীতি ও নিরাপত্তার কারণে দেশের বাইরে চলে যাওয়া বিপুল সংখ্যক গুম ফেরত জনশক্তির তথ্য এখনো পুরোপুরি হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি, যার কারণে প্রকৃত সংখ্যাটি কমিশনের রিপোর্টের চেয়েও অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, তৎকালীন নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরগুলোতে ১৪ হাজার ৮২৬টি রাজনৈতিক ও মিথ্যা মামলায় ছাত্রশিবিরের ১৭ হাজার ৪৬৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে তিনি দাবি করেন।কেন্দ্রীয় সভাপতি তাঁর বক্তব্যে গত দেড় দশকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার আব্দুল্লাহ ওমর নাসিব শাহাদাত, ইবনুল ইসলাম পারভেজ, আনিসুর রহমান, আল মাহমুদ, আবু জর গিফারী, শামীম মাহমুদ, হাফেজ মো. জসিম উদ্দীন জিহাদ, মহিউদ্দিন সোহান এবং মো. মাইদুল ইসলামের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চালানো নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন।একইসঙ্গে তৎকালীন জয়পুরহাট জেলা সভাপতি আবু জর গিফারী ও সেক্রেটারি ওমর আলীর পায়ে গুলি করে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।নিখোঁজ সাত ছাত্রনেতার বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর ইতোমধ্যে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল মুকাদ্দাস, আদাবর থানা সভাপতি হাফেজ জাকির হোসেন, বেনাপোল থানা সেক্রেটারি রেজওয়ান, বান্দরবানের জয়নাল হোসেন, ঝিনাইদহের মু. কামরুজ্জামান এবং কক্সবাজার থেকে গুম হওয়া শফিকুল ইসলামসহ ছাত্রশিবিরের সাতজন নেতাকর্মীর কোনো সন্ধান রাষ্ট্র এখনো দিতে পারেনি। আমরা অবিলম্বে এই সাতজনের বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এবং তাদের সন্ধান দাবি করছি।’সংবাদ সম্মেলন থেকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়।১. গুম কমিশনে দায়ের করা ছাত্রশিবিরের ২৪১ জন নেতাকর্মীর গুমের ঘটনাসহ সাত শতাধিক গুমের ঘটনা এবং এখনো নিখোঁজ সাত ছাত্রনেতাসহ সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি গুমের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।২. বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত প্রতিটি গুম ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা ও কমান্ডারের আদেশে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।৩. এখনো নিখোঁজ থাকা ছাত্রনেতাদের প্রকৃত অবস্থান ও পরিণতি সম্পর্কে রাষ্ট্রকে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। একইসঙ্গে গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও শহীদ পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।৪. চূড়ান্তভাবে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘র্যাব সংক্রান্ত বিল’ সংশোধন করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা দিতে হবে।৫. তদন্তের দায়িত্ব এমন একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সংস্থার হাতে ন্যস্ত করতে হবে, যার নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা অভিযুক্ত হতে পারে এমন যেকোনো বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’-এর সম্পূর্ণ বাইরে থাকবে। শুধু এক বাহিনী থেকে অন্য বাহিনীর কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করাই যথেষ্ট নয়।৬. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রেও ফৌজদারি কার্যবিধির অনুরূপ ক্ষমতাসম্পন্ন নিজস্ব তদন্ত দল দিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। একইসঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছেই ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।বক্তব্যের শেষাংশে কেন্দ্রীয় সভাপতি উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘গুম হওয়া এই সাতটি পরিবার আজও তাদের প্রিয় সন্তানের প্রতীক্ষায় চোখের জল ফেলছে। আল মুকাদ্দাস কিংবা মো. ওয়ালীউল্লাহর মায়েরা আজও ব্যাকুল হৃদয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন। আমরা চাই, আপনাদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে এই মজলুম পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাস ও আর্তনাদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’সংবাদ সম্মেলনে গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী নেতাকর্মীরা তাঁদের দুঃসহ স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা গুম, নির্যাতন ও হামলার শিকার হওয়ার বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নির্ধারিত সময়ের আগে উচ্চতর গ্রেডে বেতন নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করায় চার প্রভাষকের কাছ থেকে টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর।রোববার (৩০ আগস্ট) অধিদফতরের জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিযুক্ত চার শিক্ষক হলেন— চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ীয়া বার আউলিয়া হামিদিয়া আলিম মাদরাসার আরবি বিষয়ের প্রভাষক মো. ওসমান গনি, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শম্ভুপুর ডিএসএন আলিম মাদরাসার হাদিস বিষয়ের প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদরাসার হাদিস বিষয়ের প্রভাষক মো. ওবায়দুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশপুর উপজেলার মাদার বাজার এবিএস মাদরাসার হাদিস বিষয়ের প্রভাষক শামিমা খাতুন।অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির আট বছর পূর্তিতে ৫০ শতাংশ কোটা অনুযায়ী এবং ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হবেন। ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে ০.৫ বা তার বেশি হলে পরবর্তী পূর্ণসংখ্যা হিসেবে গণনা করে পদোন্নতি দেওয়া যাবে। তবে এ পদোন্নতির ফলে প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা বাড়বে না।নীতিমালা অনুযায়ী, ৫০ শতাংশ কোটায় সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি না পাওয়া প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্তির পর বেতন স্কেলের গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৮ পাওয়ার যোগ্য হবেন। এরপর আরও ছয় বছর, অর্থাৎ মোট ১৬ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের এমপিওভুক্তির তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (MEMIS) সেলের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চার প্রভাষক উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই MEMIS সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করে গ্রেড-৮ পেয়েছেন। এর ফলে তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই বেশি হারে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।অধিদফতর বলছে, নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা গ্রহণ করা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৪ অনুচ্ছেদের বিধানের পরিপন্থী। এ কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিওশিটে থাকা বেতন কোড-৮ বাতিল করে বিধি অনুযায়ী আগের বেতন কোড-৯ পুনর্বহাল করা হয়েছে। জুলাই মাসের এমপিওশিটে এ সংশোধন কার্যকর করা হয়েছে।একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেডের কারণে অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি পাওনা আদায় আইন (PDR আইন)-এর বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
বিমান টিকিটের অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। টিকিটের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে এখন থেকে যাত্রীর টিকিটে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানভাড়া সহনীয় রাখতে ট্রাভেল এজেন্সি আইন ও বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মন্ত্রীর লিখিত জবাবটি সংসদে টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা ও টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ১০ দফা সম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ট্রাভেল এজেন্সিকে বিমান টিকিটে তাদের নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং টিকিটের বিক্রয়মূল্য স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে।বিমানভাড়া নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতে সাধারণত ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে ভাড়া নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের আয় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা কাজ করে। রুট, গন্তব্য, দূরত্ব, বুকিংয়ের সময়, যাত্রার তারিখ, আসন প্রাপ্যতা, এয়ারলাইন্সের ধরন, আন্তর্জাতিক বাজারে এভিয়েশন জ্বালানির দাম, বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট চার্জ, সরকারি কর ও অন্যান্য ফি বিবেচনায় নিয়ে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, ফলে একই রুটে সময়, চাহিদা ও আসন প্রাপ্যতার পার্থক্যের কারণে বিমানভাড়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হতে পারে। তাই শুধু একটি বা একাধিক সূচক বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ের বিমানভাড়ার তুলনা করা যৌক্তিক নয়।প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথাও সংসদে তুলে ধরে মন্ত্রী, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা, আলাদা ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক চেক-ইনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, যাত্রীস্বার্থ রক্ষা এবং বিমান টিকিটের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ জন্য আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা) অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার (৩০ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম এ ঘোষণা দেন।দেলাওয়ার হোসেন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিও।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দলটি সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তিনি বলেন, ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের প্রার্থী জয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। শিগগিরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
সত্যের আরাধনা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বিশ্বমানের সংবাদ সংস্থায় রূপান্তর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ শেষে বাসস কার্যালয়ে সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।সংস্থাটির কর্মীদের উৎসাহিত করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাসসে একটি অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ টিম রয়েছে। আমরা যদি সত্য ও পেশাদারিত্বকে ভিত্তি করে সততার সঙ্গে কাজ করি, তবে বাসস শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করবে এবং অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই সংস্থাকে আমাদের আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।সংবাদের নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে বাসস এমডি বলেন, সাংবাদিকতা হলো সত্যের আরাধনা—সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা। আমাদের দায়বদ্ধতা কেবল রাষ্ট্র এবং এ দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি; কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিস্বার্থের প্রতি নয়। বাসস পরিবারের সকল সদস্য মিলে আমরা রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে কাজ করব।কর্মক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে আপনারা এমডি বা প্রধান সম্পাদক ভাববেন না, আমি আপনাদেরই একজন সহকর্মী। মাঠের সংবাদকর্মী হিসেবে আমি আপনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। এখানে ব্যক্তিপূজা বা ক্ষমতার দাপট দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। নানা রঙের ফুল দিয়ে যেমন একটি সুন্দর মালা গাঁথা হয়, তেমনি সবাইকে সাথে নিয়ে একটি পেশাদার ও সুবাসিত বাসস পরিবার গঠন করতে চাই।অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাসস একসময় অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও প্রভাব বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, ভিভিআইপি ও দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার ও গুণগত প্রতিবেদন এখান থেকে প্রকাশ হতো, যা সব জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। সেই ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।তিনি আরও বলেন, একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক নেতা ও দক্ষ সংগঠককে বাসসের শীর্ষ পদে পাওয়া এ প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমাদের মূল পরিচয় আমরা সাংবাদিক।এর আগে আজ রোববার সকাল ১০টায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার কাছে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী তার আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র জমা দেন।এরপর দুপুর ১২টায় বাসস কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাসসের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা, বাসস এমপ্লয়েজ ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বাসস ইউনিট এবং ডিইউজের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাকে অভিনন্দন জানান।বাসসের সিটি এডিটর মুরসালিন নোমানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফজলুল হক, ডিইউজের বাসস ইউনিট চিফ ও ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম এবং ডেপুটি ইউনিট চিফ জিএম রাজিব হোসেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম আহাদ, মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন, মো. আব্দুল বাতেন মাতুব্বর, এস এম হারুনুর রশীদ, জুনান নিশাত, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মো. আকতারুজ্জামান, সিটি এডিটর (ইংরেজি) মো. মোর্শেদুর রহমান, বাসস এমপ্লয়েজ ইউনিয়নের সভাপতি কামারুল ইসলামসহ বাসস পরিবারের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক ও কর্মচারীবৃন্দ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার ৫ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।আজ রোববার (৩০ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাঁচ এডিসিকে বদলির বিষয়টি জানানো হয়েছে।অফিস আদেশে গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগের এডিসি মো. সোনাহর আলীকে গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের এডিসি মো. সাজ্জাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের। অন্যদিকে, এতদিন ক্যান্টনমেন্ট জোনের দায়িত্বে থাকা এডিসি মোহাম্মদ আবির হাসানকে কমিশনার দপ্তরে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ‘স্টাফ অফিসার টু কমিশনার’ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের এডিসি মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরীকে পিওএম-পূর্ব বিভাগে এবং পিওএম-পূর্ব বিভাগের এডিসি মো. নজরুল ইসলামকে গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের রমনা জোনাল টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়।
অতীতে সংসদে স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা, ডেপুটি স্পিকারকে হত্যা এবং সংসদে জুতা ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে সেই ‘কালো ইতিহাসে’ ফিরে যেতে চান না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে, জুতা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আমরা সেই কালো ইতিহাসে ফিরে যেতে চাই না।তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পাওয়ার কথা। একইভাবে কমিটিগুলোর সভাপতির পদেও ২৬ শতাংশ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের কাউকে দেওয়া হয়নি।চিফ হুইপের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নিলে তাদের সভাপতি পদ দেওয়া হবে—এমন কোনো সমঝোতা হয়নি।তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা যাব এবং সেই হিসেবে আপনি আমাদের সভাপতি দেবেন—এমন কথা আমরা কখনোই বলিনি। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করব না। একটি কমিটিতে জয়েন করানোর জন্য শর্ত আরোপ করে জোর-জবরদস্তি করার ট্র্যাডিশন আমরা সঠিক মনে করি না।বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এটি জনগণের সংসদ। তাই বৈষম্যবিরোধী এই সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা উচিত।এর আগে চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, বিরোধী দলীয় উপনেতার সঙ্গে ফোনালাপের ভিত্তিতে তিনি আশা করেছিলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে। এই বোঝাপড়ার কারণেই রোববারের কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।চিফ হুইপ বলেন, বিগত ৫৪-৫৫ বছরে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ছাড়া অন্য কোনো সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে করার রেওয়াজ নেই। তারপরও বিরোধী দলকে আনুপাতিক হারে ১০টি কমিটির সভাপতি পদ দিতে তারা রাজি।তিনি বলেন, আমাদের কথা ছিল, সংবিধান সংশোধন করেই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। উনারা যদি সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তবে আমরা পদ দিতে রাজি আছি। আমরা কোনো কিছু আটকে রাখতে চাই না।চিফ হুইপ আরও বলেন, আমি যদি দিল খুলে কথা বলি, তবে অপরপক্ষকেও ওপেন হার্ট হতে হবে। কথার মারপ্যাঁচ করে আমরা দেশ গঠনের কাজে এগোতে পারব না।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। পরে তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সরিষার তেলের ঘানি ঘুরে দেখেন। এ সময় খামারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা উন্নত জাতের গরু পালন, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের খাপরিখাল এলাকায় প্যারাগন ডেইরি ফার্মে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি উন্নত জাতের গরু পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।খামার ঘুরে গাভির পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত জাতের গরুর প্রজনন কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।প্যারাগন ডেইরির কর্মকর্তারা জানান, গাভির দুধ উৎপাদন বাড়াতে উন্নত পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খামারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সয়াবিন ও ভুট্টাসহ উন্নতমানের পশুখাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি আমেরিকান জেনেটিক্স ব্যবহার করে উন্নত জাতের গরু পালনের কার্যক্রমও চলছে।খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্য বাংলাদেশের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও এজিএম মেজবাহ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খামারের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, পশুখাদ্য, দুধ উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। পরে খামারে উৎপাদিত দুধ পান করেন তিনি।এরপর বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাটে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি ঘুরে দেখেন এবং সরিষা থেকে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। ঘানিভাঙা সরিষার তেল তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি এখনো টিকে থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিয়েন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।এ সময় রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গঙ্গাচড়া ত্যাগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। উন্নত পশুখাদ্য ও জেনেটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব ঠিক থাকলে আজকের দিনেই তথা ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। তবে সেপ্টেম্বরের আসন্ন সাদা বলের সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আপাতত ঝুলে গেছে। এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই জানিয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারত।বিসিসিআইয়ের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগে নির্ধারিত সেপ্টেম্বর মাসের সূচিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী বছরের শুরুর দিকে একটি উপযুক্ত সময় চাচ্ছে।বিসিসিআইয়ের সেই সূত্র এএনআইকে জানিয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (দেশটির) সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। অন্যদিকে বিসিবি এখন আগামী বছরের শুরুর দিকে একটি উইন্ডো খুঁজছে।’বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের, তবে পরবর্তীতে সিরিজটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিসিবি ঘোষণা করেছিল, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আসবে ভারত। তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত সিরিজ নিয়ে কথা বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি বলেছিলেন, ' (ভারত সিরিজ নিয়ে) আলোচনা হচ্ছে। দুইটা বোর্ড আলোচনা করছে। তারিখ এদিক সেদিক হতে পারে।'প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে শেষবার বাংলাদেশ সফর করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এরপর বাংলাদেশে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর দু’দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের নির্ধারিত সিরিজ কেবল পিছিয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়েছে। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসেনি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছিল।বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের বোঝাপড়ায় সেপ্টেম্বরে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবিও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছিল। যদিও এরপরই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। দিনটি উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে স্মরণ করছেন বিশ্বের মুসলিমরা। দুই বাংলায় একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জয়া আহসানও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘ঈদে মিলাদুন্নবী- ভালোবাসা, শান্তি আর মানবতার পথে ফিরে আসার এক পবিত্র স্মরণ।’ জয়ার এই সংক্ষিপ্ত বার্তায় ভালোবাসা, শান্তি ও মানবতার গুরুত্ব উঠে এসেছে। পবিত্র এই দিনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী মাজার এলাকা থেকেও জশনে জুলুসের র্যালি বের হয়। এ ছাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ অংশ নেন।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।এদিকে গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর আগে গত ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, "নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।"ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তাঁর চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি "ফিঙ্গার হার্ট" পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে 'পোড়ামন ২' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে 'দহন' সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।
চলচ্চিত্র নির্মাণের পর পোস্ট-প্রডাকশন থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখি-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালা।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে আয়োজিত এ কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান, শাকিব খান অভিনীত আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের পরিচালক। বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, দর্শক সম্পৃক্ততা, চলচ্চিত্র বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও বাণিজ্যিক কৌশল নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।কর্মশালায় চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশন পরবর্তী ধাপ, ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরের ভূমিকা, ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্র্যাটেজি, হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের বিপণন ও দর্শক তৈরি, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং কমার্শিয়াল পজিশনিংসহ চলচ্চিত্র বিতরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।কর্মশালার একটি বিশেষ সেশনে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বিষয়ে আলোচনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। চলচ্চিত্রের নির্মাণ থেকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাদার যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।কর্মশালায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সারা বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশনের প্রয়োজনীয়তা। আলোচনায় বলা হয়, চলচ্চিত্রের দর্শক শুধু ঢাকা বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও রয়েছে সম্ভাবনাময় দর্শক। তাই একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু নির্মাণের মানের ওপর নির্ভর করে না—সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন পরিকল্পনার মাধ্যমে কত বিস্তৃত দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রটি পৌঁছাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।আলোচনায় ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের নৈতিকতা বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্বচ্ছ রাজস্ব বণ্টন, সঠিক বক্স অফিস রিপোর্টিং, ন্যায্য স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা এবং চলচ্চিত্রের অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী সরকার।এছাড়া কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BUFT) এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়; পোস্ট-প্রডাকশন, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শন—পুরো চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালার মাধ্যমে নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, বাজার ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও পেশাগত ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের মেনসওয়্যার ব্র্যান্ড জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোব (GW) আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল খাতের পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানাতে নিয়ে এসেছে ব্যাংকার্স উইক। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্যাংক, নন-ব্যাংক ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীরা জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোবের মিরপুর ডিওএইচএস ও ধানমন্ডি আউটলেট থেকে রেডি-টু-ওয়্যার ও কাস্টম টেইলারিংসহ সব পণ্যে ২০% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। “আমরা সচেতনভাবে কখনো ব্যাংকারদের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করিনি। সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝতে পেরেছি, আমাদের অনেক ব্যাংকারের সঙ্গে কাজ করার এবং তাদের স্টাইল করার সুযোগ হয়েছে। ব্যাংকার্স উইক তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানানো এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় মাত্র ,” বলেছেন জেন্টলম্যান'স ওয়ার্ড্রোবের ফাউন্ডার ও সিইও শাবাব দ্বীন শারেক।ক্যাম্পেইনে আধুনিক পেশাজীবীদের পোশাকের চাহিদা মাথায় রেখে স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল শার্ট ও ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ক্লাসিক ও ভার্সেটাইল মেনসওয়্যার রাখা হয়েছে।
দেশের বাজারে কমলো সোনার গহনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। শনিবার (২৯ অগস্ট) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২০, ২২ ও ২৫ আগস্ট তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম সবমিলিয়ে বাড়ানো হয় ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা। এই দাম বাড়ানোর পর এখন দাম কমানো হলো।এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৬ হাজার ৮২৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৫ হাজার ৮৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৪ হাজার ৭২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।এর আগে গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ৩৪১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়।সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৫৯ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিলের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামক দোকানে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে এবং অপরজন রাজু বুকে গুলিবিদ্ধ হন।গুরুতর আহত উভয়কে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালের নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় রকঅ্যাওয়ে এভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছাকাছি অবস্থিত রেস্তোরাঁয় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাজুর দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবন শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো।এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, মেধা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্র্যান্ডটি এই উদ্যোগ নিয়েছে।অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামকে মূলত এমন এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাজানো হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, কমিউনিকেশন, লিডারশিপ ও কমিউনিটি-বিল্ডিং দক্ষতার বিকাশ ঘটবে। অপোর প্রতিনিধি হিসেবে এই অ্যাম্বাসেডররা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে সহপাঠী ও তরুণদের সাথে যুক্ত হবেন, আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করবেন ও অপো লাইফস্টাইল অভিজ্ঞতায় অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন।এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশের অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড্যামন ইয়াং বলেন, “অপো বিশ্বাস করে, তরুণদের মাঝে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই, আমাদের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা কেবল ব্র্যান্ড প্রতিনিধি হিসেবে নয়; বরং ক্রিয়েটর, চেঞ্জমেকার ও ইউথ লিডার হিসেবে নিজেদের মেধা, প্রযুক্তি ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে অনুপ্রাণিত করুক।”নতুন নির্বাচিত হওয়া এই অ্যাম্বাসেডররা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন - আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) মো. রফিজুরজ্জামান রফি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের (বিইউপি) মো. মারুফ আহমেদ সিনহা, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) আবদুল্লাহ শরীফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মহিমা আমিন মৌ ও মো. আশরাফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া জান্নাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা রানী দাস, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) নুঝাত নাওয়ার ও চৌধুরী আসিফ আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুবাসশির তাহমিদ ভূঁইয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হামিম আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. ইউসুফ আলী, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উম্মায়া হাবিবা সুজানা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাব্বির আহমেদ কাব্য এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবু সাঈদ।ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অ্যাম্বাসেডরদের অপোর ব্র্যান্ড ফিলোসফি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অপো ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি মোবাইল ফটোগ্রাফি সেশন, যা পরিচালনা করেন পাঠশালার ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদ। অনুষ্ঠানে অপো বাংলাদেশের অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের হেড অব মার্কেটিং মো. নাজিমুদ্দৌলা নিলয় উপস্থিত ছিলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি