টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে, তারা একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ি এসআই মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাস উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এলে তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে যান। এবং তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশেই রেল লাইনে বসে গল্প করছিলেন। এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে এসে পড়লে, তারা সরে যাওয়ার আগেই ট্রেনে কাটা পড়েন। এতে এক শিশু, দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন বলে জানান এসআই মিজান।
দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার জ্বালানি তেল খাতে প্রতিদিন গড়ে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে পৃথিবীর প্রায় ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর নীতিতে অটল রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই চতুর্মুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও জনস্বার্থে ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদার চিত্র তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার টন এবং পেট্রল-অকটেনের চাহিদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন থাকলেও সম্প্রতি তা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন গড়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করতে হয়েছে। তবে সরকার আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে।ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে জয়ী হওয়া এই প্রতিমন্ত্রী বিগত ১৫ বছরের অনিয়মের সমালোচনা করে বলেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকৃত দুস্থরা সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার চায় উপকারভোগী বাছাইয়ে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় যেন কোনোভাবেই প্রাধান্য না পায়। সরকার ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মগুরুদের সম্মানী চালু করেছে এবং আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে 'কৃষক কার্ড' চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৫৩ জন ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন), পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ মজুদদারি প্রতিরোধে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।মন্ত্রণালয় জানায়, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুদদারি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে এসব ভিজিলেন্স টিম কাজ করবে। পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।সরকার আশা করছে, জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ থাকবে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চললেও ইরানের তেল রপ্তানির ওপর ভিত্তি করে দেশটির অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালির কৌশলগত সুবিধা ব্যবহার করে ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। খবর ব্লুমবার্গ ও এনডিটিভির।বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, ইরান তাদের ‘ইরানিয়ান লাইট’ তেল চীনের বাজারে গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছাড়ে বিক্রি করছে।ইরানের ফেব্রুয়ারি মাসের আয় প্রতিদিন গড়ে ১১৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে মার্চ মাসের আয় প্রতিদিন গড়ে ১৩৯ মিলিয়ন ডলার।উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলো যখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, তখন ইরান খারগ দ্বীপ টার্মিনাল থেকে নির্বিঘ্নে তেল বোঝাই করে ট্যাঙ্কার পাঠাচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মার্চ মাসে খারগ দ্বীপে ট্যাঙ্কার নোঙর করার গতি আরও বেড়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত জাস্ক টার্মিনাল থেকেও ইরান তেল পাঠানো শুরু করেছে। এছাড়া এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি আরোপ করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে তেহরান।সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তেলের বাজারে যুদ্ধের প্রভাব কমাতে ওয়াশিংটন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রিচার্ড নেফিউর মতে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানকে তেল বিক্রি করার জন্য অনুনয় করছে।’ যদিও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে, কিন্তু পরে তিনি তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ কথা উল্লেখ করে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই বিশাল অঙ্কের তেল রাজস্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চালানো প্রতিশোধমূলক হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূরণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে এই অর্থ ব্যয় করছে তেহরান।অন্যদিকে, কাতার, সৌদি আরব বা কুয়েতের মতো দেশগুলো যখন উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে বা তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো (সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র ছাড়া) মূলত হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছেন, যা যুদ্ধ শেষ করার ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ২৮তম দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রথম আঘাতেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যার পর দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় তারা এখন একের পর এক ইরানি নেতা ও কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি প্রকাশ করেছে তেহরান। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন' এবং 'আল মায়াদিন ইংলিশ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবিতে তাকে তেহরানে তার নিজ কার্যালয়ে অত্যন্ত নিবিষ্ট চিত্তে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ এজেন্সি' সে সময় জানিয়েছিল, খামেনি তার অফিসে অর্পিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল-১২' জানিয়েছে, হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। ওই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাইও নিহত হয়েছেন। খামেনির মরদেহ তার প্রাসাদের কম্পাউন্ড থেকেই ইরানি উদ্ধারকারীরা উদ্ধার করেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসলেও দমে যায়নি তেহরান। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
দেশের বাজারে আরও এক দফা কমেছে সোনার দাম। এবার সবচেয়ে ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি শুক্রবার বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ গত ২৫ মার্চ সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ২৫ মার্চ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়ে আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের বাজারে এই রেটেই বিক্রি হয়েছে সোনা। সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৬ দফা; কমানো হয়েছে ২১ দফা। আর আগের বছর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।সোনার দাম কমানো হলেও এবারের দফায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ১৩ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১০ বার এবং কমানো হয়েছিল মাত্র ৩ বার।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রাজিব শেখ (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ৩০টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। নিহত রাজিব শেখ চিংগড়িয়া গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চিংগড়িয়া গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও মনজুরুল আলম গ্রুপের মধ্যে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ২৮ জানুয়ারি এক সংঘর্ষে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন নিহত হন। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষ ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা সংগঠিত হয়ে একের পর এক বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনী তলব করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।খবর পেয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৩০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুধু কথার রাজনীতি করে না, বরং বাস্তব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।শুক্রবার (২৭ মার্চ) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিনটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বেসিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যেসব সড়কের কাজ শুরু হয়েছে সেগুলো হলো—মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর-দত্তপুর সড়ক, কপালহর-লংগারপাড় সড়ক এবং জাহাঙ্গীপুর ইউনিয়নের রায়পাশা হাফিজিয়া মাদ্রাসা সড়ক।এছাড়া ১ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৩শ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পশ্চিম দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়। তিনটি সড়ক নির্মাণে মোট ৪ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের করের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব এনামুল কাদির, যুগ্ম আহ্বায়ক পল্লব রায়, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের বাবুল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, সাবেক ছাত্রদল নেতা আকরাম হোসেন ফেরদৌসসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে (৭৬) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।২৭ মার্চ শুক্রবার ভোরে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকার মৃত আজিমদ্দিনের ছেলে। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি বগুড়ার একটি বিশেষ দল ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার রমনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১৫) করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন।এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলাসহ মোট ১০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এই ভাইস চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন । নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, ইরানের অনুরোধে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে,’ যদিও এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।এই ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাবেন। পরে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান, আর এবার সেটি দ্বিতীয়বারের মতো আরও বাড়ানো হলো।তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত না থাকে।বর্তমান সংঘাতটি শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে।এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ‘চুক্তির জন্য মিনতি করছে,’ যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে এবং পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে আক্রমণ বাড়ানো হবে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ মজুদদারি প্রতিরোধে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।মন্ত্রণালয় জানায়, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুদদারি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে এসব ভিজিলেন্স টিম কাজ করবে। পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।সরকার আশা করছে, জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ থাকবে।
জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে (৭৬) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।২৭ মার্চ শুক্রবার ভোরে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকার মৃত আজিমদ্দিনের ছেলে। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি বগুড়ার একটি বিশেষ দল ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার রমনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১৫) করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন।এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলাসহ মোট ১০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এই ভাইস চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলার ঘটনায় বিএনপির ৬ সমর্থককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন— মালেক খান (৪০), নজরুল সরদার (২২), রমজান সরদার (৩৫), সামছুল সরদার (২৮), আলমগীর সরদার (৩২) ও মহাসিন সরদার (২৯)।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শাওন ও মালেক খানের পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঘটনার সময় ধারণ করা একটি লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এদিকে, ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাওনের বাড়িতে আগুন দেয় এবং রিফাত নামে আরেকজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও অবস্থান করছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে স্বাভাবিকভাবেই আগেভাগেই হোটেল-মাঠ, অনুশীলন কেন্দ্রসহ বেশকিছু স্পট সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ হাজার হোটেলকক্ষ বুক করে ফিফা। কিন্তু এরমধ্যে বাতিল করা হয়েছে ২ হাজার কক্ষ। তবে কী কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি ফিফা।ফিলাডেলফিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এড গ্রোস মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি৬–কে বলেছেন, চার শহরের কেন্দ্রীয় হোটেলে সংরক্ষিত বড় সংখ্যক কক্ষ বাতিল করা হয়েছে। এর নেপথ্য কারণ জানায়নি ফিফা। তবে চুক্তির শর্ত মেনেই সেসব রিজার্ভেশন বাতিল এবং এজন্য কোনো জরিমানা গুনতে হচ্ছে না বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থাকে।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ ফিফা এবং ফিলাডেলফিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারস্থ হয়। গ্রোস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও আয়োজক শহরেও ফিফার কক্ষ বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এমন পদক্ষেপের কারণে হোটেল ভাড়া কতটা বাড়ে তা অনিশ্চিত এবং সে কারণে কক্ষ বুক করতে আগ্রহী ফুটবলভক্তদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন এই ফিলাডেলফিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।গ্রোস বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাবোধ করছি না, যদিও সেজন্য বিশ্বও থেমে থাকবে না। বাতিল হওয়া রুম আবার ভাড়া হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে এবং ফিলাডেলফিয়ায় আগত ভক্তদের কাছে বিক্রি করা হবে।’ একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালেই একাধিক সম্মেলন রয়েছে এই অঙ্গরাজ্যে। সে কারণে কক্ষ ভাড়া দেওয়া খুব একটা কঠিন হবে না বলেও প্রত্যাশা।ফিলাডেলফিয়ায় কক্ষ বাতিলের সংবাদ সামনে আসার পর মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম ‘এল ফাইনান্সিয়েরো’ জানিয়েছে, মেক্সিকো সিটিতেও নিজেদের বুক করা হোটেল কক্ষের ৪০ শতাংশ বাতিল করেছে ফিফা। যেখানে তার উদ্ধৃতি দিয়েছে মেক্সিকো সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল ডিরেক্টর আলবার্তো আলবারান লেইভার। তিনি বলেছেন, গত মাসে বিশ্বকাপের জন্য সংরক্ষিত ২০০০ কক্ষের মধ্যে ৮০০ কক্ষ বাতিল করেছে ফিফা। ইএসপিএনকে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে আলবারান লেইভা কক্ষ বাতিলের বিষয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তার মতে, ফিফা কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই অতিরিক্ত বুকিং করেছিল।আলবারান বলছেন, ‘ফিফা (সংকট) প্রতিরোধের কৌশল এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মাসখানেক আগে ২০০০ রুম বুক করেছিল। পরে কিছু সংখ্যক কক্ষ বাতিল করা হয়, কারণ সেগুলো আর প্রয়োজন নেই বলে বিবেচনা করছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ কিংবা বিষয় নেই।’ ফিফার তথ্যমতে– তারা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন মেগা ইভেন্টে সারাবিশ্ব থেকে ৫ থেকে সাড়ে ৬ মিলিয়ন ফুটবলভক্তের উপস্থিতি আশা করেছিল।
মহান স্বাধীনতা দিবস। বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ত্যাগকে গভীরভাবে স্মরণ করেন। জয়া আহসান লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালের এই দিনে এদেশের মানুষ পৃথিবীকে জানিয়ে দিয়েছিল, আজ থেকে আমরা স্বাধীন। পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের নিরীহ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল নৃশংস একটি গণহত্যা।’ জয়া আহসান আরও বলেন, ‘এই নয় মাসে কত না কঠিন আত্মত্যাগ, সাহসী লড়াই, অদম্য স্বপ্নের জয়যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধকে, অগণিত শহীদদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, সেদিনের স্বপ্ন দেখা এ দেশের কোটি মানুষকে অভিবাদন।’ তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি শাসকদের নৃশংস গণহত্যার মুখেও বাঙালি জাতি মাথা নত করেনি; বরং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছে স্বাধীনতা। এছাড়া জয়া আহসান তার লেখায় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা কোটি মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ’র ঈদ আয়োজন গ্ল্যামার আর সাফল্যের আলো ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছে বিষণ্ণ, আবেঘগণ ও মধুময়। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান এই অভিনেতা।সেখানে তিনি শেয়ার করেন নিজের বিশেষ এক আবেগের কথা। কোনো দামি ব্র্যান্ডের পোশাক নয়, বরং পরলোকগত মায়ের স্মৃতিকে জড়িয়ে এবারের ঈদ উদযাপন করছেন তিনি।ভিডিও বার্তায় শুভ বলেন, এইবার ঈদটা আমার জন্য একটু স্পেশাল। প্রায় দেড়-দুই বছর ধরে আমি একটা কাজ করছিলাম ‘জ্যাজ সিটি’ নামে, সেটি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। আপনারা দেখলে খুশি হব।’তবে ক্যারিয়ারের সাফল্যের চেয়েও ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার ঈদ তো আগের মতোই- মায়ের শাড়ি দিয়ে বানানো পাঞ্জাবি পরে সকালে মায়ের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছি।সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আরিফিন শুভ বলেন, ‘ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই একসঙ্গে থাকা। আশা করি, এই আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক।
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুটি হয়ে আসছেন চিত্রনায়ক এবিএম সুমন ও চিত্রনায়িকা সাদিয়া জাহান প্রভা। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ঝুমুর আসমা জুঁই পরিচালিত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা "দুই পয়সার মানুষ"-এ দেখা যাবে তাদের। দ্রোহ আর প্রেমকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এ সিনেমা।সিনেমায় দেখা যায়, বাবার মৃত্যুর পর এলাকার প্রভাবশালী এক বড় ভাইয়ের নজরে পরে যায় সুমন। বিল্লাহ, যার অপর নাম ত্রাস। কি করে না সে? মেয়ে পাচার, টেন্ডারবাজি, চোরাকারবারি, মার্ডার। সুমন এক সময় জড়িয়ে যায় অপরাধ জগতের সাথে। বিল্লাহর ছোটো ভাইয়ের রক্ত অনেক পছন্দ, লাল লাল রক্ত। সুমন তার চোখের কা়ঁটা। দুজনের মধ্যে চলে নিরব লড়াই। সব কিছুই বাইরে সুমনের জীবনে এক টুকরো শান্তির তার প্রেমিকা। মিষ্টি মেয়ে যার চোখে দুষ্ট হাসি। দুজনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। হঠাৎ আসে কালবৈশাখী মতো এক ঝড়। সব কিছু তছনছ করে দিয়ে যায়। কি করবে সুমন? পালিয়ে যাবে নাকি লড়বে। এভাবে উত্তেজনা নিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটে চলে সিনেমাটি। ইতোমধ্যে সিনেমার শুটিং শেষ পযায়ে আছে বলে জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক ঝুমুর আসমা জুঁই। চলতি বছরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আশা করছেন নির্মাতা। প্রভা ও সুমন জুটির অ্যাকশন আর প্রেমের রসায়ন দর্শক খুব উপভোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিচালক। তিনি আশা করেন দর্শক একটা ভালো সিনেমা হলে গিয়ে দেখবে। প্রভা ও সুমন ছাড়াও এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, সমু চৌধুরী, রামিজ রাজু, মিলি বাশার, আনোয়ার শাহী, সুমন পারভেজসহ অনেকে।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা মারা গেছেন। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার (১৮ মার্চ) তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সুতোমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে অ্যানিমেশন জগতে।মিন্ট নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন সুতোমু। এ পরিচালককে জাপানের অ্যানিমেশন শিল্পে অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। ক্যারিয়ারে ‘ডোরেমন’-এর পরিচালনা ছাড়াও সিরিয়াল ও সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।সুতোমু শিবায়ামা ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ‘ডোরেমন’ টিভি সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ডোরেমনের জনপ্রিয় ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। নোবিতা, শিজুকা ও ডোরেমন চরিত্রগুলোকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলার পেছনে তার অবদান অনবদ্য।সুতোমু ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা আনিমেশন প্রতিষ্ঠানে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বহু জনপ্রিয় অ্যানিমেশন উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন।অ্যানিমেশন শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পান এ নির্মাতা। তার মৃত্যুতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল, ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রিয় ছোটবেলার কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এই নক্ষত্রের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেকড়ের টানে ঘরমুখো মানুষের অনুভূতি তুলে ধরেই নিজের নতুন মৌলিক গান ‘ফেরা’ নিয়ে হাজির হয়েছেন সংগীতশিল্পী নাবিলা নূর কুহু। গানটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাই ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।গানের কথা লিখেছেন কুহু নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অটমনাল মুন, যিনি ব্লুজ ও জ্যাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে গানটিতে স্বতন্ত্র একটি আবহ তৈরি করেছেন।ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন মীর হিশাম। সাধারণ ভিডিওর বাইরে গিয়ে স্কেচ অ্যানিমেশনের মাধ্যমে গানটির আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।কুহু বলেন, ‘‘‘ফেরা’-তে ঘর ছেড়ে দূরে থাকা মানুষের নস্টালজিয়া ও দীর্ঘদিন পর নিজের ঘরে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে সেই আবেগ দোলাবে।’’শিল্পী হিসেবে কুহু শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় যুক্ত। তিনি ছায়ানট থেকে নজরুলগীতিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন, শুদ্ধসংগীত তালিম নিয়েছেন অনুপ বডুয়ার কাছে, এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।শিল্পীর উল্লেখযোগ্য মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বেহাগের এই রাত’, ‘দ্য সং অফ এ রোডট্রিপ’, ‘শহুরে মায়া’, ‘ছায়াহরিণের ডাক’ ও ‘শূন্যতায় জীবন’। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের গান দিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য এই নতুন গানটি দোলা এবং আনন্দ ছড়াবে—তাই প্রত্যাশা কুহুর।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ২ দিনব্যাপী প্রথম ‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’। ১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং ৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে।উৎসবের পর্দা উঠবে ২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। পরে প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরঙ’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাঁকন পরিচালিত ‘ডট’।২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শকরা দেখতে পাবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের।কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘মুঠোফোনের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে সিনেমা দেখার এই যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ও আধুনিক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার লাবণী বিচ পয়েন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখানো হবে ৩টি ছবি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস। সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দেশের বাজারে আরও এক দফা কমেছে সোনার দাম। এবার সবচেয়ে ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি শুক্রবার বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ গত ২৫ মার্চ সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ২৫ মার্চ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়ে আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের বাজারে এই রেটেই বিক্রি হয়েছে সোনা। সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৬ দফা; কমানো হয়েছে ২১ দফা। আর আগের বছর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।সোনার দাম কমানো হলেও এবারের দফায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ১৩ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১০ বার এবং কমানো হয়েছিল মাত্র ৩ বার।
রিয়াদ-এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন দিবসটির কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় রিয়াদে অবস্থানরত বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্যের ওপর বক্তব্য রাখেন রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য মামুনুর রশিদ ও ডাঃ গোলাম হাসনাইন সোহান। পরিশেষে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন।রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদ, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।এছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সকলকে মহান স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি সৌদি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।অনুষ্ঠানের শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহিদের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি কাটাতে রাজধানী থেকে গ্রামে আসা ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নেমেছে মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা প্রশান্তি পার্কে। ঈদের চতুর্থ দিনেও সেখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে।বিশেষ করে দুপুরের পর ভিড় বেড়ে যায়। পার্কের ভেতরে আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নদীর তীরে বসে অনেকেই উপভোগ করেছেন শীতল বাতাস আর মেঘনার শান্ত জলরাশি।কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। পার্কিং সংকট, খাবারের দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং টয়লেট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের চতুর্থ দিনে মেঘনার তীরে অবস্থিত প্রশান্তি পার্ক পরিণত হয়েছে আনন্দ-উৎসবের এক মিলনমেলায়। প্রকৃতি আর অবকাশের টানে মানুষের এই আগমন প্রমাণ করে, নগর জীবনের কোলাহল থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এমন খোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।দর্শনার্থীরা বলেন, 'ঈদের ব্যস্ততার পর একটু খোলা জায়গায় সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার-এর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে প্রায় লাখো পর্যটকের আগমনে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি।জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং শ্রীমঙ্গল চা-বাগান এলাকাগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও গাইডসহ সংশ্লিষ্ট খাতের লোকজন এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।মৌলভীবাজারে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। কেউ ঝর্ণার পানিতে গোসল করছেন, কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আবার অনেকে দল বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির কারণে শহরের মূল পর্যটন এলাকা ও সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বধ্যভূমি, হামহাম জলপ্রপাত, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, খাসিয়া পল্লি, পাত্রখোলা েেলকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কমলগঞ্জ ও বড়লেখা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়েছে। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪ হাজার ৭২৪ জন পর্যটক টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ টাকা।ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছি। পাহাড় বেয়ে নামা ঝর্ণাধারা সত্যিই অসাধারণ। মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।’পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজারে ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ পাহাড়-জঙ্গল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সময়টা খুব আনন্দে কাটছে।”ঢাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘শহরের যানজট আর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি।লাউয়াছড়া টিকেট কালেক্টর শাহিন আহমদ জানান, ‘এ বনে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি জানান প্রায় ২ হাজার ৮ শ ৮৪ জন পর্যটক বনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। যা সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা।’অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন,পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফের করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, সদস্যরা কাজ করছেন।
চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন উৎসব ও অবসর সময়ে লোকজন ছুটে আসে তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এখানে এসে সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত সব বয়সী লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে। মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পিড বোট।এসব ট্রলার আর স্পিড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১শ টাকা। স্পিডবোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩শ টাকা। এখানে এলে মাইকে ঘোষণা শোনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা অপো স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একেবারে নতুন অপো এ৬এস প্রো।উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে অপো গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক পার্টনারদের মাধ্যমে বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত অপো স্মার্টফোন কিনলে গ্রাহকরা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং কমিউনিটি ব্যাংক কার্ডধারীরা ফ্ল্যাট ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, অপো রেনো১৫ এফ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন, যা ঈদ উপলক্ষে স্মার্টফোন আপগ্রেড করতে আগ্রহীদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।এই ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ অপো এ৬এস প্রো, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি। এই ডিভাইসে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এআই অটো জুম ৫০মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা স্মার্ট ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বড় গ্রুপ সেলফি সহজে ধারণ করতে পারে—ঈদের পারিবারিক আড্ডা ও আনন্দময় মুহূর্ত ধারণের জন্য একেবারে উপযুক্ত।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “ঈদ আনন্দ, একসাথে থাকার মুহূর্ত এবং স্মরণীয় সময়ের উৎসব। এই বিশেষ অফারগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে চাই এবং একই সঙ্গে অপো এ৬এস প্রো -এর মতো উদ্ভাবনী ডিভাইস তুলে ধরতে চাই।”
কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ’। তার এই পোস্টের নিচে কয়েক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে যানজট ও চাঁদামুক্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটারিং করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা সংগঠনের নেতাদের কোথাও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এটা একটা কাগজে-কলমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন।যদিও এর আগে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।