রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এদিন দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানায়।এ সময় হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার অব্যাহত দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হাইকমিশনারের আলোচনায় অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গভীর বন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।তারা উভয়ে দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের জন্য দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার তাৎপর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি উদ্যোগ ও বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ : ফ্রম ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টু এ রেজিলেন্ট এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। আর্থিকভাবে এ খাত তীব্র সংকটে ভুগছিল এবং কৌশলগতভাবেও কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। তিনি বলেন, আজকের যে পরিস্থিতি, তাতে পূর্বতন নীতিমালার মাধ্যমে আমাদের একটি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ফাঁদে ফেলা হয়েছে। বিগত সরকার কৌশলগতভাবে দেশের জ্বালানি খাতকে চরম আমদানিনির্ভর করে গড়ে তুলেছিল। বর্তমান জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের জনগণ, শিল্প খাত ও সার্বিক বিনিয়োগের ওপর পরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘জ্বালানি মিশ্রণ’-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন উপদেষ্টা।তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার নতুন এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ, পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খননসহ বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে অধ্যাপক ড. তিতুমীর স্পষ্ট করে বলেন, শতভাগ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কেবল কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে এটি সম্পূর্ণ কার্যক্ষম হতে পারবে। যেকোনো মূল্যে সবার আগে আমরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ভিএলসি কার্গোতে সরাসরি গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হলে দেশে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। বিগত সরকার সব ক্ষেত্রে অলিগার্ক (স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী)-দের প্রতিষ্ঠিত করে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে গ্যাস আমদানির নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে খোলা বাজারে এলপিজির মূল্য নিশ্চিতভাবেই সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কখনো স্বল্পমেয়াদি চিন্তা থেকে নেওয়া উচিত নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয় বিবেচনা করেই এসব নীতি নির্ধারণ করতে হবে।জ্বালানি নিরাপত্তার প্রকৃত অর্থ হলো- সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা মন্তব্য করে ড. তিতুমীর বলেন, একই সঙ্গে এমন একটি স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা অস্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং বৈচিত্র্যময় বহিঃখাতের ভারসাম্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী তিনটি ট্রেন চলাচল আবারও শুরু হতে পারে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল বন্ধ আছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের কর্মকর্তারা। আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে থাকবে।বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে।’ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে অক্টোবর থেকেই ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হতে পারে।বৈঠকে বাংলাদেশ রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথ চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসকে যমুনা সেতুর পরিবর্তে সদ্য নির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে আগামী মাস থেকেই তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ফের চালু হতে পারে। তবে ট্রেন চলাচল শুরুর আগে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আন্দোলনের পর মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মিতালী এক্সপ্রেস ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই শেষবারের মতো ঢাকায় এসেছিল। এরপর আর ভারতে ফিরে যায়নি।মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা-কলকাতা, বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চলাচল করত। এবার আবারও শুরু হতে পারে দুদেশের এ তিন ট্রেনের চলাচল।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়া প্রবাসীদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই চালকসহ চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই সিলেটের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এরমধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। জেলার কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। দেশে ফেরার জন্য বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন জানান, খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি বলেন, দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমি তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে গিয়েছি। পরিবার দুটির জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যু হয়। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও একজন কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়।
রাশিয়ার উত্তর ককেশাস অঞ্চলে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় অন্তত ১১ পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ। খবর সিএনএনের রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে কাবার্দিনো-বালকারিয়া অঞ্চলের মিজিরগি পর্বতে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ৩৩ জন পর্বতারোহীর একটি দল সেখানে ছিল।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষের বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০ জন পর্বতারোহী নিজে থেকেই পাহাড় থেকে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তবে আরও ছয়জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।নিখোঁজদের উদ্ধারে ৫০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং আবারও তুষারধসের আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।মিজিরগি পর্বত রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের অন্যতম উঁচু শৃঙ্গ। সেখানে বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মী-সমর্থকদের হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা, পানির বোতল নিক্ষেপ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, একজন নারী শিল্পী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে বেড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন,এ ঘটনা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ।তারা বলেন, দেশে ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ভেনিসের ঘটনা তারই আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। দেশ ছাড়লেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী মানসিকতা তাদের ছাড়েনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নাগরিক ও তাঁর পরিবারের ওপর বিদেশের মাটিতে হামলা কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।মঞ্জু ও ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চরিত্র হারিয়ে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতির রাজনীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে গিয়েও একজন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীর ওপর হামলার ঘটনা তাদের সেই সহিংস ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহতাই প্রকাশ করে।তারা আরও বলেন, ইতালিতে বসবাসরত কিংবা সফররত কোনো বাংলাদেশি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অন্যের ওপর হামলা, হুমকি বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করলে তার পরিচয়, সে একজন সন্ত্রাসী। ভেনিসের ঘটনাটি ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন বিদেশের মাটিতেও তাদের সেই সন্ত্রাসী আচরণকে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ বিশ্ববাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির মর্যাদা ও পরিবারের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে এবি পার্টি সোচ্চার থাকবে।তারা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যতো বড় সন্ত্রাসীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে এসে বাঁধন ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের ৬১৩ জন শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। আজ সকাল থেকেই কারখানার মূল ফটকে এসে শ্রমিকরা ভীড় করছেন। এসময় শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ করা যায়।কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয় ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ততার কারণে ফ্যাক্টরীর উৎপাদন ও প্রশাসনিক খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ সকল সেকশন/বিভাগ এবং ডিভিশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২০ মোতাবেক ফ্যাক্টরীর অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আগামী ০৮/০৯/২০২৬ইং তারিখ থেকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।ওই নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২০ মোতাবেক আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।উল্লেখ্য থাকে যে, ভবিষ্যতে ফ্যাক্টরীতে পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে, শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী এই ছাঁটাইকৃত দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে।সর্বোপরি ফ্যাক্টরীর এই সংকটকালীন মুহূর্তে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।যে সকল শ্রমিক, কর্মচারীদের চাকরি বহাল রয়েছে তারা লে-অফ নোটিশের আওতাভুক্ত থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফ বেনিফিটের সকল সুবিধা পাবেন। যাদের চাকুরী এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত আছেন, তাদের নামের তালিকা এবং পদবী এই নোটিশের সাথে সংযুক্ত করা হলো। এ বিষয়ে মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে শ্রমও আইন অনুযায়ী সকল পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশ -২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন,কেয়া গ্রুপের কিছু শ্রমিক ছাঁটাই এর নোটিশ পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার মূল ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য গত ৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখ থেকে ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণ দেখিয়ে কারখানা টি অদ্যবধি পর্যন্ত লে- অফ বর্ধিত রয়েছে।
ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুজান ভাইজে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব'র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্য যাচাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন এবং তথ্য প্রাপ্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাঙামাটি প্রেস ক্লাবে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেস ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ পিআইবি নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।মতবিনিময়কালে ড. সুজান ভাইজে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের সত্যতা যাচাই, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ইউনেস্কো কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের নিয়ে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।আলোচনায় বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব উঠে আসে। পাশাপাশি শিক্ষা, গণমাধ্যম উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।অন্যান্য বক্তারা বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের দ্রুত প্রবাহ যেমন বাড়ছে, তেমনি ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। ফলে সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং পেশাগত নৈতিকতা আরও জোরদার করা জরুরি।এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্ণফুলী কনফারেন্স হলে পিআইবি ও ইউনেস্কোর উদ্যোগে রাঙামাটিতে তিনদিন ব্যাপী এআই ও ফ্যাক্ট চেক বিষয়ক কর্মশালা শুরু হয়েছে।মতবিনিময় সভায় ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা, পিআইবি প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুণ, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস, সিঃ সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেলসহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়কালে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে উন্নয়ন সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘হাইপ আর ‘ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আপা (শেখ হাসিনা) না কি ডিসেম্বরে লীগের (আওয়ামী লীগ) পলাতকদের দেশে ফিরতে বলবে না। মূলত, তাদেরকে বললেও কেউ আসতো না।’তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট কীভাবে পরিবারের সবার পালানো নিশ্চিত করে বাকিদের ফেলে দিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন এটা কোনোমতে জান বাঁচিয়ে পালানো নিষিদ্ধ লীগের নেতাদের ভালো মতোই মনে আছে।’এনসিপির এ নেতার মতে, ‘ডিসেম্বরের (শেখ হাসিনার দেশে ফেরা) হাইপ আর ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ!’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা শেখ হাসিনা সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি কোনো নির্দেশনা কাউকে দিচ্ছি না। তবে দেশে-বিদেশে আমাদের সমর্থক-নেতাকর্মী যারা যেখানেই আছেন তারা তাদের ইচ্ছা পোষণ করছে। তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারাও আমার সঙ্গে যেতে চায়। আমি নির্দেশনা দিয়ে কাউকে তো বিপদে ফেলতে পারি না, কিন্তু যারা মনে করবেন যেতে চায়, তারা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর চলতি মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতির পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে আরও ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। খবর রয়টার্স।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২১ দশমিক ০৪ ডলারে নেমেছে। ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটি থাকায় বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম।স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবিষয়ক কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, শুক্রবার প্রকাশিত শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর বন্ডের সুদহার বেড়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে স্বর্ণ ও রুপার দাম জ্বালানি পণ্যের বিপরীত দিকে গিয়ে আরও কমেছে।হ্যানসেনের মতে, সোমবারের লেনদেনে দুইবার প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে নামার পর স্বর্ণের বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। ৪ হাজার ৩২০ ডলারের কাছাকাছি পর্যায়কে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে গেলে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে।গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে দেশটির বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৫৮ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৫০ শতাংশ।বাজারে এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক এবং শুক্রবার প্রকাশিতব্য ভোক্তা মূল্যসূচকের দিকে নজর রয়েছে। এসব তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় এলাকায় একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন একটি নৌপথের মানচিত্র ঘোষণা করা হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বাড়লে সুদ বা আয় না দেওয়া স্বর্ণয় বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ফেড সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত না নিলে—যে দাবি তিনি এর আগেও করে আসছেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন।অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ০৬ ডলারে নেমেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮২৫ দশমিক ২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০১ দশমিক ৮৪ ডলারে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এদিন দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানায়।এ সময় হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার অব্যাহত দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হাইকমিশনারের আলোচনায় অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গভীর বন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।তারা উভয়ে দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের জন্য দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার তাৎপর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মী-সমর্থকদের হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা, পানির বোতল নিক্ষেপ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, একজন নারী শিল্পী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে বেড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন,এ ঘটনা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ।তারা বলেন, দেশে ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ভেনিসের ঘটনা তারই আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। দেশ ছাড়লেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী মানসিকতা তাদের ছাড়েনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নাগরিক ও তাঁর পরিবারের ওপর বিদেশের মাটিতে হামলা কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।মঞ্জু ও ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চরিত্র হারিয়ে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতির রাজনীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে গিয়েও একজন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীর ওপর হামলার ঘটনা তাদের সেই সহিংস ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহতাই প্রকাশ করে।তারা আরও বলেন, ইতালিতে বসবাসরত কিংবা সফররত কোনো বাংলাদেশি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অন্যের ওপর হামলা, হুমকি বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করলে তার পরিচয়, সে একজন সন্ত্রাসী। ভেনিসের ঘটনাটি ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন বিদেশের মাটিতেও তাদের সেই সন্ত্রাসী আচরণকে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ বিশ্ববাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির মর্যাদা ও পরিবারের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে এবি পার্টি সোচ্চার থাকবে।তারা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যতো বড় সন্ত্রাসীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে এসে বাঁধন ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং স্কুল বহির্ভূত শিশু মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রামপাল উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।"আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব, শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুল বহির্ভূত শিশু মুক্ত"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রামপাল উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে রামপাল এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানে রামপাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসি-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ফুলি সরকার (সিনিয়র ম্যানেজার, রামপাল কো-অর্ডিনেশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ), মোঃ জামাল উদ্দিন (ন্যাশনাল এ্যাডভোকেসী কোর্ডিনেটর, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ), শেখ রাজিব আল রশিদ (অফিসার ইনচার্জ, রামপাল থানা), কানিজ ফাতেমা শেফা (উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা), ইনসাদ ইবনে আমিন (রামপাল উপজেলা কৃষি অফিসার), ডাঃ সুকান্ত কুমার পাল (রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা), মোঃ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) এবং মোঃ ইমরান হোসেন (উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী)।এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নাথন চৌকিদার (সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার), বিউটি কুইন (চাইল্ড রাইটস ইন এ্যাকশন), লিটন হিউবার্ট কোড়াইয়া (চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার), সুবাস জয়ধর (প্রোগ্রাম অফিসার), পার্থ সারথী দেবে (প্রোগ্রাম অফিসার) ও শিউলি কস্তা (প্রোগ্রাম অফিসার) উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার ইশিতা বৈরাগী।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত চাইল্ড ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যবৃন্দ এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের আলোয় আলোকিত হওয়া শিশুরা উপস্থিত ছিল।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গঠনে বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশুশ্রম প্রতিরোধ এবং ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য। রামপাল উপজেলাকে এই সামাজিক সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত রাখতে প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এই সাফল্য ধরে রাখতে শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দুর্দান্ত জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকি শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চীনে হকিতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি মেয়েদের একচেটিয়া আধিপত্য।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে বাংলাদেশ। দলের হয়ে প্রথম গোল করেন কনা আক্তার। কনার পর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া। তারা দুজনেই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেন।চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের পক্ষে হাল ধরেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। তিনি চমৎকার দক্ষতায় পরপর আরও দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোলে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত হয়।কনার প্রথম গোল, এরপর ইমা ও রিয়ার জোড়া গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে অধিনায়ক সারিকা রিমনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৭-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ।টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া। এ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হংকং চায়নার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পাকিস্তান।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভ্লগ সিরিজ ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’-এর একটি পর্বে বেগম জিয়ার আইকনিক লুকে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সাজ, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সাজ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, “আপনারা কি আমার ‘ডিসকাভারিং বাংলাদেশ’ ব্লগ আগে দেখেন নাই? এর আগে আমি যখন মনিপুরী বা গারোদের নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাদের কস্টিউম পরেছি। আমি যখন তাঁতশিল্প নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাঁতের শাড়িটা পরছি। আমি যখন যে ভিডিওটা করি, তখন সেটার লুক নিই। ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা করিনি, আপনারা খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এটা আমার ভিডিও বানানোর প্যাটার্ন।”নিজের সাজ ও পোশাক দিয়ে দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাশন, আমাদের ট্র্যাডিশন ও কালচার নিয়ে স্টাডি করি। বাংলাদেশের পোশাক এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি, দেশের পরিচয় ও কালচার রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’চলতি বছর বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। রাজনীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি দেশনীতিবিদ হতে চাই। আমার জন্য রাজনীতি শব্দটা একটু আলাদা। দেশের জন্য কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরকম কিছু বড় প্ল্যাটফর্ম যদি পাই, সেখান থেকে আমার জন্য দেশের পলিসি মেকিং, দেশের অনেক পরিবর্তন আনার জায়গাটা পাওয়া সহজ হবে। এটাই আমার রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ ছিল।’বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এই মূল্যায়নটা কোনো আলাদা জায়গা দিয়ে করতে পারব না। কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ১০, কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ০। এক কথায় তো উতর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ‘হায়দার’, ‘মহানগর’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ দিয়ে অল্প দিনেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং নিয়েও বেশ সরব এই অভিনেত্রী।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের ৬১৩ জন শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। আজ সকাল থেকেই কারখানার মূল ফটকে এসে শ্রমিকরা ভীড় করছেন। এসময় শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ করা যায়।কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয় ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ততার কারণে ফ্যাক্টরীর উৎপাদন ও প্রশাসনিক খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ সকল সেকশন/বিভাগ এবং ডিভিশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২০ মোতাবেক ফ্যাক্টরীর অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আগামী ০৮/০৯/২০২৬ইং তারিখ থেকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।ওই নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২০ মোতাবেক আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।উল্লেখ্য থাকে যে, ভবিষ্যতে ফ্যাক্টরীতে পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে, শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী এই ছাঁটাইকৃত দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে।সর্বোপরি ফ্যাক্টরীর এই সংকটকালীন মুহূর্তে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।যে সকল শ্রমিক, কর্মচারীদের চাকরি বহাল রয়েছে তারা লে-অফ নোটিশের আওতাভুক্ত থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফ বেনিফিটের সকল সুবিধা পাবেন। যাদের চাকুরী এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত আছেন, তাদের নামের তালিকা এবং পদবী এই নোটিশের সাথে সংযুক্ত করা হলো। এ বিষয়ে মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে শ্রমও আইন অনুযায়ী সকল পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশ -২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন,কেয়া গ্রুপের কিছু শ্রমিক ছাঁটাই এর নোটিশ পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার মূল ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য গত ৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখ থেকে ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণ দেখিয়ে কারখানা টি অদ্যবধি পর্যন্ত লে- অফ বর্ধিত রয়েছে।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়া প্রবাসীদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই চালকসহ চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই সিলেটের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এরমধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। জেলার কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। দেশে ফেরার জন্য বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন জানান, খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি বলেন, দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমি তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে গিয়েছি। পরিবার দুটির জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যু হয়। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও একজন কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
তরুণদের জন্য গ্রামীণফোনের বিনামূল্যের অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রামীণফোন একাডেমি’ ৪ লাখ নিবন্ধনের মাইলফলক অর্জন করেছে। গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ হাজার তরুণ প্ল্যাটফর্মটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিয়েছেন। পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে ডিজিটাল ও এআই দক্ষতার ক্রমবর্ধমান চাহিদারই প্রতিফলন এটি।গ্রামীণফোন একাডেমি এমন সময় এ মাইলফলক অর্জন করল, যখন এআই ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের শেখা, কাজের ধরন ও ক্যারিয়ার গঠনের পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। এই বাস্তবতায় তরুণদের ভবিষ্যতের এআইনির্ভর অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ আরও বিস্তৃত করছে গ্রামীণফোন একাডেমি।গ্রামীণফোন একাডেমির এআই প্রোগ্রামে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই এজেন্টস, ক্রিয়েটিভ ইন্টেলিজেন্স, ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন, এআইয়ের সহায়তায় পোর্টফোলিও তৈরি, কোডিং ছাড়াই অ্যাপ নির্মাণ, এআইনির্ভর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (ইউএক্স) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন একাডেমির বিভিন্ন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে সনদ অর্জন করেছেন ৫০ হাজার শিক্ষার্থী। শুধু শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জন নয়, নতুন দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে এই প্ল্যাটফর্ম।পটিয়া থেকে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ আমান জানান, গ্রামীণফোন একাডেমির অভিজ্ঞতা তাঁর যোগাযোগের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ উন্নত করার পাশাপাশি তাঁকে স্বাবলম্বী হতে এবং কর্মক্ষেত্রে নতুন পথ তৈরিতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে এতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠব। গ্রামীণফোন একাডেমি আমাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে। এখন আমি ডেলয়েট বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পড়ার পাশাপাশি আমার পরিমণ্ডলের তিনশরও বেশি তরুণের মাঝে অর্জিত এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছি।”গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্নেন্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বাজারে প্রবেশ করছেন, যেখানে দেশের মোট বেকার জনসংখ্যার ৭৮.৯ শতাংশই তরুণ। একই সাথে প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। তাই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের জন্য সময়োপযোগী ও সহজলভ্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধনের ei মাইলফলক এবং আমাদের এআই কোর্সগুলোতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এই পরিবর্তনের যুগে শেখার ও নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তরুণরা কতটা আগ্রহী। গ্রামীণফোন একাডেমির মাধ্যমে আমরা শেখার এই আগ্রহকে এমন দক্ষতায় রূপান্তর করতে চাই, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য নতুন ও অর্থবহ সুযোগ তৈরি করবে।“গ্রামীণফোন একাডেমি তরুণদের জন্য ডিজিটাল, পেশাগত ও উদীয়মান প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনে সহজ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যেখানে এআই ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী সক্ষমতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগি করে তোলা, নতুন আয়ের পথ তৈরি করা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাঁদের আরও কার্যকর ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই গ্রামীণফোনের লক্ষ্য।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘হাইপ আর ‘ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আপা (শেখ হাসিনা) না কি ডিসেম্বরে লীগের (আওয়ামী লীগ) পলাতকদের দেশে ফিরতে বলবে না। মূলত, তাদেরকে বললেও কেউ আসতো না।’তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট কীভাবে পরিবারের সবার পালানো নিশ্চিত করে বাকিদের ফেলে দিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন এটা কোনোমতে জান বাঁচিয়ে পালানো নিষিদ্ধ লীগের নেতাদের ভালো মতোই মনে আছে।’এনসিপির এ নেতার মতে, ‘ডিসেম্বরের (শেখ হাসিনার দেশে ফেরা) হাইপ আর ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ!’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা শেখ হাসিনা সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি কোনো নির্দেশনা কাউকে দিচ্ছি না। তবে দেশে-বিদেশে আমাদের সমর্থক-নেতাকর্মী যারা যেখানেই আছেন তারা তাদের ইচ্ছা পোষণ করছে। তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারাও আমার সঙ্গে যেতে চায়। আমি নির্দেশনা দিয়ে কাউকে তো বিপদে ফেলতে পারি না, কিন্তু যারা মনে করবেন যেতে চায়, তারা যাবে।