দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩১৫ জন। আজ শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই মৃত্যুগুলো ঘটে।শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০।একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৮ জন। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩২৯।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪১৪ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে।
রাজধানীর পল্লবীতে হত্যার শিকার রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এসেছি। তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেওয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি শতভাগ বিশ্বাসী যে আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো।’শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রামিসার বাবা হান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রীকে, বাংলাদেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়। এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে। নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।অন্যদিকে একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, ‘আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।এদিকে সন্তান হারানোর শোকে প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না ও সান্ত্বনার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।
ঝিনাইদহ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারপিট ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ছাত্রদলের ৮ নেতার নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।শুক্রবার (২২ মে) রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।আসামিরা হলেন- ইসলামী ইউনিভার্সিটি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ ৮ জনকে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।এ সময় হামলাকারীরা ঘুষি, ইটপাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়।হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া হামলার সময় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।মামলায় আরও বলা হয়, স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামীকাল শনিবার থেকেই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছুটি শুরু হবে।পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল খোলা রাখার কথা ছিল। তবে আজ শুক্রবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৩ মে থেকে আগামী ৬ জুন শনিবার পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে।২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। এ উপলক্ষে সরকারি অফিস–আদালত রোববার (২৪ মে) থেকে সাত দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ শুক্রবার (২২ মে) সস্ত্রীক সৌদি আরব গেছেন।সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে রাজকীয় অতিথি হিসেবে সৌদি আরব সফর করছেন সেনাপ্রধান।সফরকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। হজ পালন শেষে আগামী ১ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দেশের সব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘ঈদ বোনাস’ হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ ‘ঈদ বোনাস’ হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিকেলে গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে হেঁটে রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।
সহযোদ্ধাদের ওপর ভায়োলেন্স হলে নিজেরাও সেটা বেছে নিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদেরকে আজ রাতের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। যদি গ্রেফতার করা না হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স বেছে নেন, তাহলে আমরাও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হব।’ দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশেও পর পর ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের নারীরা এখনও নিরাপদ নয়।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কলসির মুখ সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তের জিরো লাইনে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে। এতে খবর পেয়ে রংপুর ব্যাটালিয়ন ৫১- বিজিবির তীব্র আপত্তি ও কঠোর অবস্থানের মুখে খুঁটিটি তুলে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।বিজিবি জানায় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার কুচলিবাড়ী কলসির মুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল সীমান্ত আইন অমান্য করে জিরো লাইনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করার চেষ্টা করে। পরে বিষয়টি স্থানীয় ও বিজিবির টহল দলের নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে অবিলম্বে সেই খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত আইন মেনে চলার তাগিদ দেয়া হয়। বিজিবির এমন অনড় ও কড়া জবাবের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং স্থাপনকরা করা খুঁটিগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে যান। এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়রারা জানায়, বিজিবির এই দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যে কোনো ধরনের উসকানি বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুচলিবাড়ী সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে রংপুর ব্যাটালিয়ন ৫১-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্তে বিএসএফ প্রায়ই এইরকম বাঁশের খুঁটি স্থাপন করার চেষ্টা করে, বিজিবির টহল দলের সদস্যরা কড়া প্রতিবাদ করলে তখন তারা খুঁটি অপসারণ করতে বাধ্য হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেছেন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডকে’ মধ্যযুগীয় আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত রাসূল (সা.) এর বিচারব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করেছেন। দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী মনে করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাসূল (সা.) এর বিচারব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননার শামিল।শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারি দলের নীতিনির্ধারকগণ প্রায়ই ‘মদিনার সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা’ এবং ‘শরীয়াবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার’ মৌখিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে থাকেন। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়া আইনকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে হেয় প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে তাদের আদর্শিক দেউলিয়াত্ব, সস্তা রাজনৈতিক অবস্থান এবং চরম দ্বিচারিতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটলো।তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবমাননাকর মন্তব্য দেশের আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে এবং সামগ্রিকভাবে তাদের ক্ষুব্ধ ও উসকে দিয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিক সমাজ মনে করেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী শরীয়া আইনের প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই 'অবমাননাকর' মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে জামায়াত।
সিলেটে ছিনতাইকারীকে আটক করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৯) সদস্য ইমন আচার্য্য। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছিনতাইকারী আসাদউল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার (২২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহত ইমন আচার্য্য র্যাব-৯ সিলেটে কর্মরত ছিলেন (কনস্টেবল নম্বর- ৬৯১৭৯০, বিপি নম্বর- ৯৮১৮২১৯২০৫)।পুলিশ জানায়, দুপুরে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী থানার কিন ব্রিজ এলাকায় পুলিশের একটি টহল দল সন্দেহভাজন এক ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করে। পালানোর সময় অভিযুক্তের মুখোমুখি হন সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য। তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারী ছুরি দিয়ে ইমনকে আঘাত করে।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকসেবী ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। ছুরিকাঘাতের পর আতঙ্ক সৃষ্টি করে সে একটি আবাসিক বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ সতর্ক অভিযানে তাকে নিরস্ত্র করে আটক করে এবং ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করে।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ শুক্রবার (২২ মে) সস্ত্রীক সৌদি আরব গেছেন।সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে রাজকীয় অতিথি হিসেবে সৌদি আরব সফর করছেন সেনাপ্রধান।সফরকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। হজ পালন শেষে আগামী ১ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সহযোদ্ধাদের ওপর ভায়োলেন্স হলে নিজেরাও সেটা বেছে নিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদেরকে আজ রাতের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। যদি গ্রেফতার করা না হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স বেছে নেন, তাহলে আমরাও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হব।’ দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশেও পর পর ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের নারীরা এখনও নিরাপদ নয়।
রাজধানীর পল্লবীতে হত্যার শিকার রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এসেছি। তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেওয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি শতভাগ বিশ্বাসী যে আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো।’শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রামিসার বাবা হান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রীকে, বাংলাদেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়। এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে। নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।অন্যদিকে একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, ‘আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।এদিকে সন্তান হারানোর শোকে প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না ও সান্ত্বনার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।
অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে ক্রিস কোলম্যান কিংবা বার্ন্ড স্টর্ককে না নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচিত বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ করা হলো এলেন গায়ানার সাবেক কোচ থমাস ডুলিকে। শুক্রবার (২২ মে) বাফুফের ফেসবুক পেজে এ বিষয়টি জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টা কালই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। অপেক্ষা ছিল তার দেশে আসার। সকালে এমিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের নতুন এই কোচ। তিনি আসার পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বাফুফে।
অভিনয়শিল্পী বাঁধন খাঁন। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছেন। এখন পুরোদস্তুর অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের নিয়মিত অভিনয়শিল্পী। সিনেমা, টেলিভিশন নাটক ও ওটিটি ফিল্মে সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন। সংস্কৃতিমনা মানুষ তরুণ বাঁধন খান প্রকৃত শিল্পী হতে চান। শিল্পী হওয়ার লড়াইয়ে তিনি সিদ্ধহস্ত।দীর্ঘদিন ধরে তিনি টেলিভিশন নাটক, ধারাবাহিক, ওয়েব ফিল্ম, ওটিটি কনটেন্ট, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় অভিনয় করছেন। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় সিনেমা তুফান, তাণ্ডব ও সুরঙ্গতেও অভিনয় করেছেন। অভিনয় করেছেন টান, নিঃশ্বাস, হরিজন পল্লী, ইনফিনিটি টু, নীলচক্র ও ইনসাফ সিনেমায়ও। তিনি সর্বশেষ আঁন্ধার ও মাটি নামের দুটি সিনেমায় কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি আঁকা ও এলেন সপন নামের ওটিটি ফিল্মেও অভিনয় করেছেন। টিভি ফিকশন ও ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে তিনি অভিনয় করেছেন বুক ভরে নিঃশ্বাস ও ক্যাম্পাস-এ। প্রাণ, আকিজ ও সেন্টার ফ্রুট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও মায়ের অনুপ্রেরণায় তার অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। তিনি জানান, থিয়েটারের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের স্বপ্নযাত্রা শুরু।বাঁধন খাঁন বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর কাজ শুধু বিনোদন দেওয়া নয়; বরং সমাজ, দেশ ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। আগামীতে তিনি নিজেকে একজন প্রকৃত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলে দর্শকদের আরও ভালো ও অর্থবহ কাজ উপহার দিতে চান। তিনি এমন কাজ করতে আগ্রহী, যা বিনোদনের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বিবাহিতা নারীদের উপর হওয়া নারকীয় অত্যাচারের বর্ণনা শুনলে যে কাউকে শিউরে উঠতে হয়! ধর্ম-বর্ণ কিংবা শ্রেণি নির্বিশেষে এই ব্যাধি যেন ক্রমেই জেঁকে বসছে সমাজে। এই ইস্যুতে এবার নারীদের পরামর্শ দিলেন ভারতের সংসদ সদস্য ও বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাউত।কঙ্গনা বরাবরই পিতৃতন্ত্রে ছক ভাঙার উদাহরণ গড়েছেন। বলিউডের খান-কাপুর হোক কিংবা রাজনীতির ময়দানে ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব, স্পষ্ট কথায় কাউকে ধরাশায়ী করতে কোনো সময়ই পিছপা হন না তিনি।এবার বিবাহিত নারীদের উপর বাড়তে থাকা নির্যাতনের হার নিয়ে সরব কঙ্গনা। গতকাল মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিবিবাহিত নারীদের নিয়ে নিত্যদিন কত খবর প্রকাশ্যে আসে। শিক্ষিত মেয়েরা অনেকেই হয়তো দমবন্ধ হয়ে আসা পরিবেশ থেকে উদ্ধার পেতে বাবা-মায়ের কাছে আকুতি করে। কিন্তু এই অসভ্য ভারতীয় সমাজের ইতিহাস রয়েছে বিবাহিত মেয়েদের পরিত্যক্ত করে দেওয়ার।’এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নারীরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন, তার জন্য একটি জরুরি পরামর্শও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কঙ্গনার কথায়, ‘নারীদের আমি যে পরামর্শ দিচ্ছি, সেটা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ডেটিং অ্যাপ দেবে না। আপনারা নিজেদের পেশা বা ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিন। আপনাদের জীবনের যে কোনো মানুষ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে। তবে সেটা যেন পেশাকে ছাপিয়ে না যায়।’এরপরেই মেয়েদের বিয়ে ও স্বাবলম্বী হওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, ‘পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার পরেই বিয়ের কথা ভাবুন। মনে রাখবেন, নিজেদের ‘হিরো’ বা রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাইরে থেকে কেউ আপনাদের উদ্ধার করতে আসবে না। আর স্বাবলম্বী হওয়াটা আপনার নিজস্ব পরিচয়। যেভাবে জীবনে বাঁচতে চান, নিজেদের জন্য ঠিক তেমন জীবনই গড়ে তুলুন।’
কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’১৭ মে রবিবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছে। বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। এরপর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কায়সার হামিদ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে কারিনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। মেয়ের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এতো মানুষ ভালোবাসে এটা আমার জানা ছিল না। তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।’এরপর মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’এর আগে রোববার রাতে ঢাকা শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা শেষ হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কারিনার নানা বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।প্রসঙ্গত, লিভারজনিত জটিলতায় কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় তাঁকে। পরে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা চালিয়ে যান। একই সঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নাটক ও ওটিটির জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
দেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ। লাশ গ্রহণ করেছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।আজ রোববার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়ি বনানীর বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মারা যান জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যু হয় তার।বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসে কেন্দ্রীয় মসজিদে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে হবে দ্বিতীয় জানাজা। একই দিন রাত ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে কারিনার মায়ের দেয়া মসজিদের জায়গার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কারিনা কায়সারকে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত, পরে শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন এই তরুণ প্রতিভা।কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।
বছরটা যেন নিজের করে নিচ্ছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার ‘ফাদারল্যান্ড’ সিনেমাটি কুড়াচ্ছে দারুণ প্রশংসা। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি গড়তে পারেন অস্কারের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সান্দ্রা এবার কেবল একটি নয়, বরং চারটি অস্কার ক্লিপের দাবিদার। জার্মানির এই গুণী অভিনেত্রী ‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ দিয়ে আগেই নাম লিখিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এবার তিনি পা রেখেছেন হলিউডের বিশাল দুনিয়ায়। একাডেমি তাদের নিয়মে কিছু বদল আনায় এখন থেকে একজন শিল্পী একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন পেতে পারেন। আর সেই সুযোগেই সান্দ্রা এবার সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী— উভয় বিভাগেই দুটি করে মোট চারটি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রায়ান গোসলিংয়ের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় দাপুটে অভিনয়ের জন্য তিনি এখন পার্শ্ব অভিনেত্রীর দৌড়ে সবার আগে আছেন। বিশেষ করে হ্যারি স্টাইলসের গান গেয়ে সেই কারাওকে দৃশ্যে তিনি যা দেখিয়েছেন, তা সবাই মনে রাখবে অনেক দিন। আগামী অক্টোবরে তাকে দেখা যাবে টম ক্রুজের সঙ্গে ‘ডিগার’ সিনেমায়। যদিও এই সিনেমা নিয়ে এখনই খুব বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে পরিচালক ইনারিতুর আগের রেকর্ড বলছে এটি অস্কারের ঝুলিতে অনেক মনোনয়ন ভরবে। সেখান থেকে সান্দ্রার দ্বিতীয় পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ আগামীকাল ভারত থেকে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।তিনি জানান, আগামীকাল দুপুরে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এরপর বাদ আসর বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।কায়সার হামিদ আরও বলেন, সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় তাকে দাফন করা হবে। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বর্তমানে মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।শুক্রবার (২২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২১ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৯ দশমিক ০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে ২৯ হাজার ৮৭৯ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার।এর আগে ২০ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৭১৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার।আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন “প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)”–এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।নতুন কমিটিতে ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তালুকদার পুনরায় সভাপতি এবং বাংলা টিভি ও সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি এম. আব্দুল মান্নান পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি নাসিম উদ্দিন আকাশ (দৈনিক সূর্যোদয়), সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছালাহউদ্দিন (দৈনিক ইনকিলাব), সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সিকদার (বিবিসি একাত্তর), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন মান্না (প্রবাসের প্রহর), দপ্তর সম্পাদক মইনুল ইসলাম তালুকদার (ডিবিসি নিউজ, আবুধাবি), প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক মানিক (৫২ টিভি), সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম (বঙ্গ টিভি), অর্থ সম্পাদক ওবায়দুল হক (দৈনিক দেশকাল), সহ-অর্থ সম্পাদক নুরুল্লাহ শাহজাহান খান (কে টিভি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুব সরকার (বিশ্ব বাংলা টিভি), তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাহেদ ছরোয়ার (কলম টিভি, কলম বিডি নিউজ)।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী রেজা (ঢাকা গেজেট), আব্দুল মান্নান (চট্টগ্রাম মঞ্চ), আলী রশিদ (নিউজ ২৪ চট্টগ্রাম), মো. আরমান চৌধুরী (দৈনিক আমার সময়) এবং আরশাদুল হক (দৈনিক সূর্যোদয় দুবাই)।সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে থেকে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, আরও তিনটি অত্যাধুনিক এনইভি, বিওয়াইডি সিল ৫, বিওয়াইডি সিল ৬ ও বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ উপলক্ষে ১৭ মে সোমবার ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের সড়কে আরও স্মার্ট, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর মোবিলিটি সল্যুশন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এ আয়োজন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং। এছাড়াও, আরও উপস্থিত ছিলেন সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আমিদ সাকিফ খান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রেতাবৃন্দ, ব্যবসায়িক অংশীদার, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।আয়োজনে মনোমুগ্ধকর রিভিল শো, প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন, কীনোট স্পিচ, গাড়ি উন্মোচন, মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনের পাশাপাশি, ৬০টি প্রি-অর্ডারকৃত বিওয়াইডি গাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য বিশ্বমানের এনইভি প্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।নতুন নিয়ে আসা বিওয়াইডি সিল ৫ একটি সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (পিএইচইভি) সেডান, যা বিওয়াইডির অত্যাধুনিক ডিএম-আই প্রযুক্তি ও ব্লেড ব্যাটারি দিয়ে চালিত। ১৫০০ সিসির শাওয়ুন হাই-এফিশিয়েন্সি ইঞ্জিনসমৃদ্ধ এই গাড়িটি ১৫৪ কিলোওয়াট কমবাইন্ড ম্যাক্সিমাম পাওয়ার ও ৩০০ নিউটন মিটার টর্ক প্রদান করে, যেখানে এর কমবাইন্ড ড্রাইভিং রেঞ্জ সর্বোচ্চ ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়াও, সেডানটিতে এডিএএস (অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম) সেফটি প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি এইচডি ক্যামেরা, ৬টি এয়ারব্যাগ, ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সুবিধা, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ও ১২.৮ ইঞ্চির ইন্টেলিজেন্ট ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম রয়েছে।সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) সেডান বিওয়াইডি সিল ৬ একবার চার্জে সর্বোচ্চ ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রাইভিং রেঞ্জ প্রদান করে। রেয়ার-হুইল ড্রাইভ সহ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট সিনক্রোনাস মোটর দিয়ে চালিত এই গাড়িটি ৯৫ কিলোওয়াট শক্তি ও ২২০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। মডেলটিতে আরও রয়েছে ডিসি ফাস্ট চার্জিং, এডিএএস, অ্যাপল কারপ্লে, অ্যান্ড্রয়েড অটো, লেদার সিট, পিএম২.৫ এয়ার ফিল্ট্রেশন ও বিওয়াইডির নিজস্ব ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি।বিওয়াইডির প্রিমিয়াম এসইউভি পোর্টফোলিওকে আরও সম্প্রসারিত করতে নিয়ে আসা নতুন বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি নিয়ে এসেছে অল-হুইল-ড্রাইভ সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভি অভিজ্ঞতা, যা সর্বোচ্চ ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পিউর ইলেকট্রিক রেঞ্জ প্রদান করে। এর পাশাপাশি, এতে ১৫০০ সিসির টার্বোচার্জড ইঞ্জিন রয়েছে, যা দীর্ঘ ভ্রমণে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিশ্চিত করে। গাড়িটিতে ১৫.৬ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, ইনফিনিটি প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম, প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড ও হিটেড সিট, ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সাপোর্ট, ৭টি এয়ারব্যাগ ও এডিএএসের মতো উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে, যা পরিবার ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রিমিয়াম ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং বলেন, “বাংলাদেশ বিওয়াইডির বৈশ্বিক এনইভি ভিশনের জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হচ্ছে। সিল ৫, সিল ৬ ও সিলায়ন ৬ এডব্লিউডির মাধ্যমে আমরা এমন উন্নত প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সেফটি ও টেকসই মোবিলিটি সল্যুশন নিয়ে এসেছি, যা ভবিষ্যতের পরিবহনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই গাড়িগুলো বাংলাদেশের ক্রেতাদের নিউ এনার্জি মোবিলিটি অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”এ বিষয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, “আজকের এই উদ্বোধন বাংলাদেশের এনইভি ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণে বিওয়াইডি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভিন্নধর্মী লাইফস্টাইল ও ড্রাইভিং চাহিদার জন্য আমরা বৈচিত্র্যময় গাড়ির অপশন নিয়ে এসেছি। হাইব্রিড এফিশিয়েন্সি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ইনোভেশন ও প্রিমিয়াম এসইউভি পারফরম্যান্স, নতুন এই লাইনআপ বাংলাদেশের স্মার্ট মোবিলিটির পরবর্তী বিবর্তনকে তুলে ধরছে।”নতুন নিয়ে আসা বিওয়াইডি সিল ৫-এর প্রথম ৫০০ ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাত্র। সম্পূর্ণ ইভি বিওয়াইডি সিল ৬ পাওয়া যাবে মাত্র ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম এসইউভি সেগমেন্টে বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাত্র; বিভিন্ন সেগমেন্টে ক্রেতাদের জন্য সর্বাধুনিক নিউ এনার্জি মোবিলিটি সল্যুশন নিশ্চিতে এ গাড়িগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। তিনটি মডেলেই এই খাতের শীর্ষস্থানীয় বিওয়াইডির ওয়ারেন্টি সুবিধা ও সর্বাধুনিক ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এনইভি বাজারে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতি ক্রেতাদের আস্থা আরও জোরদার করবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।আজ বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।