মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি দল ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। গোয়েন্দাদের একটি দলের বরাত দিয়ে সিএনএন এমন চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। চীনের এমন পদক্ষেপকে চরম উসকানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয় যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তারা সহায়তা করেছে। এ ছাড়া আগামী মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে বেইজিং সফরের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র ব্যবস্থা পুনরায় পূরণ করতে পারে। দুইটি সূত্র সিএনএনকে বলেছেন, চীন এসব অস্ত্রের চালানের উৎস গোপন করতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানে পাঠানোর চেষ্টা করছে।সূত্রের দাবি, বেইজিং কাঁধে বহনযোগ্য অ্যান্টি-ইয়ার মিসাইল সিস্টেম ইরানে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, সংঘাতে কোনো পক্ষকেই চীন কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি। তিনি অস্ত্র পাঠানোর খবরকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের প্রতিনিধি দলে ৭১ জন, কড়া নিরাপত্তায় ইসলামাবাদইরানের প্রতিনিধি দলে ৭১ জন, কড়া নিরাপত্তায় ইসলামাবাদইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের বর্তমানে দুই সপ্তাহের বিরতি চলছে। এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমাধানে চুক্তি করতে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদল এখন ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতি কতদিন পর্যন্ত টিকে তাই এখন দেখার বিষয়। এ ছাড়া দুইপক্ষই যেভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে এবং চুক্তি করতে যেসব শর্ত জুড়ে দিচ্ছে তাতে আশার ফল খুবই কম।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। 'বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়' শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংসদে যখন মন্ত্রীরা, সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও ভালো কিছু মেলেনি এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু গতকালকের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় বাস্তবতা ভিন্ন।আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ১০ এপ্রিল শুক্রবার মরিশাসে নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের এই সময়ে দেশগুলোর উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা চাপে রয়েছে।এ অবস্থায় ‘কলেক্টিভ অ্যাকশন’ বা সম্মিলিত উদ্যোগকে নতুন করে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলের শাসন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত মহাসাগরকে ঘিরে একটি ‘শেয়ারড কোঅপারেটিভ ভিশন’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং এ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনকে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন।তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর এই অঞ্চলের সব মানুষের, যারা এর ওপর নির্ভরশীল, এর সঙ্গে যুক্ত এবং এটিকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে। এই নীল জলরাশি যেন বিভাজন নয়, বরং ঐক্য, টেকসই উন্নয়ন ও প্রেরণার উৎস হয়।খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করে এবং সার্ক পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একইসঙ্গে বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগে জোর দিচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই), বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ, এই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে হবে।বক্তব্যে তিনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন। এ অঞ্চল এখনো কম গবেষিত এবং অধিকাংশ মানুষ প্রথাগত মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও বাড়ছে।তিনি বলেন, আলোচনাকে কার্যকর করতে হলে এমন উদ্যোগ নিতে হবে, যা বাস্তবে অর্থনীতি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙা। ১০ এপ্রিল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলেন।অজয় বাঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব এড়ানো যাবে না। আর যদি যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ধরে নিলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ক্ষতি বেড়ে প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।এছাড়া মূল্যস্ফীতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তুলনামূলক ভালো পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০০ থেকে ৩০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর পরিস্থিতি খারাপ হলে এটি প্রায় ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।বিশেষ করে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ৪ শতাংশ ছিল। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে এই হার আরও কমে ২.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে।অন্যদিকে, এসব দেশে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে তা ৪.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগে ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল। আর চরম পরিস্থিতিতে এটি ৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা,সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে।
চলতি মাসে তিনটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের বোর্ডের অধীনে এটাই হতে যাচ্ছে প্রথম সিরিজ। সেই সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক করে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৫ সদস্যের দল দিয়েছে বোর্ড। জাতীয় দলের নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের এটাই প্রথম দল ঘোষণা।পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ সিরিজ থেকে স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনেনি নতুন নির্বাচক প্যানেল। সেই সিরিজের ১৫ জনকেই রাখা হয়েছে প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে।আগামী ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ওয়ানডে। ২০ এপ্রিল একই মাঠে একই সময়ে শুরু হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। ২৩ এপ্রিল সিরিজের শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচটিও শুরু হবে সকাল ১১টায়।একই মাঠে ২৭ এপ্রিল মাঠে গড়াবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নতুন সূচি অনুযায়ী, এই ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টায়। একদিন বিরতি দিয়ে ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামেই মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় ম্যাচ। সিরিজের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২ মে মিরপুর শেরেবাংলায়।মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, সাইফ হাসান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর চরের বুকে বাড়ি দিপালী খাতুনের (৩৪)। অনেক কষ্টে যোগাড় করা টাকাপয়সা দিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তিনি।বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননের বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরায়েলের ছোঁড়া মিসাইলের আঘাতে নিহত হন তিনি। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।নিহত দিপালী খাতুন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চর শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। বাবা বেঁচে থাকলেও মা তিন থেকে চার বছর আগে বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন।স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, দিপালী গত ২০১৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে লেবাননে যান। এরপর থেকে তিনি লেবাননে স্থায়ীভাবেই থাকা শুরু করেন। দিপালী শেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন পরে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে আবার লেবাননে চলে যান।এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিপালীর নিহতের সংবাদ বাড়িতে আসার পর থেকেই চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ বাবা মোফাজ্জেল বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।দিপালী খাতুনের ছোট বোন লাইজু খাতুন বলেন, গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমার বড় বোন দিপালী খাতুন লেবাননে যান। সেখানে তিনি একটি বাসায় কাজ করতেন। সবশেষ ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার ফোনে ও ইন্টারনেটে পাইনি।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলেও তার মোবাইলের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান লাইজু খাতুন। তিনি বলেন, আমার বোন লেবাননে যেখানে থাকতেন তার বাসার পাশে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে দেশে টাকা পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে বোনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।দিপালীরা তিন বোন ও দুই ভাই। তিনি অবিবাহিত ছিলেন বলে জানা গেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এই ঘটনা জানার পরেই সকালেই তাদের পরিবারের কাছে যায়। পরিবারের সকল সদস্য দিপালীর মৃত্যুর খবরে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অতি দ্রুত তার লাশ বাংলাদেশি নিয়ে আসা হবে।চরভদ্রাসন উপজেলায নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আমরা ঘটনা জানার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে আমরা কাগজপত্র পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
গ্লোবাল ইনোভেটিভ টেকনোলজি ব্র্যান্ড টেকনো সম্প্রতি বাংলাদেশে এর ‘স্পার্ক ৫০’ সিরিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এ সিরিজে রয়েছে স্পার্ক ৫০ ফোরজি এবং স্পার্ক ৫০ ফাইভজি ফোন। স্মুথ পারফরম্যান্স, লম্বা ব্যাটারি লাইফ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বহু স্মার্ট ফিচারে পরিপূর্ণ এই নতুন লাইনআপটি নিয়ে ব্র্যান্ডটি বেশ আশাবাদী। নতুন নতুন স্টাইলিশ ডিজাইন আর ব্যবহারিক উদ্ভাবনী সব ফিচার নিয়ে স্মার্টফোন বাজারে টেকনোর যাত্রায় দিনদিন বাড়ছে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। এই সিরিজের মূল আকর্ষণ হলো স্পার্ক ৫০ ফাইভজি, যা নতুন প্রজন্মের কানেক্টিভিটি এবং শক্তিশালী অলরাউন্ড পারফরম্যান্স নিয়ে এসেছে। ৬.৭৮-ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লের ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট থাকায় স্ক্রলিং আরও আরামদায়ক হয়। নেট ব্রাউজিং ও গেমিংয়ের জন্যও মেলে দারুণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। ফোনটিতে রয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৪০০ ফাইভজি+ প্রসেসর। আধুনিক ব্যবহারকারীদের জন্য টেকনো দ্রুত ফাইভজি পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে, যাতে সারাদিনই ভালোভাবে কাজ করা যায়।স্পার্ক ৫০ ফাইভজি-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা দিয়ে সহজেই স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত ছবি তোলা যায়। অন্যদিকে ৬৫০০মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং থাকায় দিনভর চার্জ ব্যাকআপ নিয়েও থাকবে না কোনো দুশ্চিন্তা। ফোনটির সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে মিলিটারি-গ্রেড প্রোটেকশন, আইপি৬৪ ধুলোবালি ও পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ফোনের একপাশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রাখা হয়েছে। এছাড়াও এতে টেকনো এআই, ফ্রিলিংক ২.০ এবং আইওএস-এর সাথে ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফার সুবিধা রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি হবে আরও স্মার্ট, আরো উপভোগ্য। ফাইভজি মডেলের পাশাপাশি টেকনোর এ সিরিজে থাকছে স্পার্ক ৫০ ফোরজি, যা মূলত দৈনন্দিন ব্যবহারে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের জন্য ভালো হবে। হেলিও জি৮১ প্রসেসরে চালিত এই ফোনটিতে আছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটসহ ৬.৭৮ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ব্যাটারির দিক দিয়ে ফোনটি ফাইভজি সংস্করণের চেয়ে এগিয়ে আছে। ৭০০০মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকায় স্পার্ক ৫০ ফোরজি ফোনটি সহজেই টানা অনেকটা সময় চালানো যায়। এছাড়াও এতে থাকা ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার, আইপি৬৪ প্রোটেকশন, ১.৮ মিটার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স, আইআর রিমোট কন্ট্রোল, টেকনো এআই, ফ্রিলিংক ২.০ এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট চিপ ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে। ফলে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এটি একটি পরিপূর্ণ ও কার্যকর স্মার্টফোন হিসেবে খুব সহজেই পছন্দের তালিকায় যোগ হয়ে যেতে পারে।বাজারে স্পার্ক ৫০ ফোরজি পাওয়া যাবে ৪জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টে ১৭,৪৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য) এবং ৬জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টে ১৯,৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য)। অন্যদিকে, স্পার্ক ৫০ ফাইভজি আসছে ৬জিবি+১২৮জিবি কনফিগারেশনে ২৩,৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য)।নিখুঁত ডিসপ্লে, উচ্চ মানের ক্যামেরা, টেকসই ডিজাইন এবং স্মার্ট ফিচার ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে স্পার্ক ৫০ সিরিজটি বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য স্টাইলিশ ও পারফরম্যান্সভিত্তিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে টেকনো-র অবস্থানকে আরো জোরদার করে তোলে।আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন www.tecno-mobile.com/bd অথবা টেকনোর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আকবর হোসেন। একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।আকবর হোসেন জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে লন্ডনে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলেও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।লন্ডনে নিয়োগ পাওয়ার আগে আকবর হোসেন বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলমাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন। গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। ওই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে লেবানন। কিন্তু দখলদারদের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জানান লেবানন এতে থাকবে না। এরপর দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এসব হামলায় দুইশরও বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আহত হন।ইরান এখন শর্ত দিচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তাহলে লেবাননে আগে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত এখন দ্বন্দ্ব চলছে।এরমধ্যে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান মার্কিনিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংলাপ স্থগিত করেছে।কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তেহরান।সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় খাতা দেখার ক্ষেত্রে সচেতন থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এবং এ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসমূহের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এর কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতায় যাই লেখা থাকুক, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেয়া যাবে না। শিক্ষকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদী। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এবারও তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়—এমন ধারণা বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হবে। এখন থেকে সিন্ডিকেটের বদলে স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার পরিচালিত হবে।শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের প্রথম সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, আমদানি-নির্ভর পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেইনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে বাজার নজরদারি সহজ হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিবছর টিসিবির কার্যক্রমে ৩২-৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির চাপ কমিয়ে টিসিবির সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে প্রতিদিন সকালে এই হাটের কার্যক্রম চলবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে একটি পণ্য কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছাতে ৪-৫ বার হাতবদল হয়, যার ফলে দাম বাড়লেও কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না। ‘কৃষকের হাট’ এই প্রথা ভেঙে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করবে।বাণিজ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, সারা দেশে কৃষকরা যাতে সপ্তাহে অন্তত একদিন সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে বিষমুক্ত সতেজ সবজি পাবেন এবং কৃষকরাও তাদের শ্রমের সঠিক দাম নিশ্চিত করতে পারবেন।সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। 'বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়' শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংসদে যখন মন্ত্রীরা, সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও ভালো কিছু মেলেনি এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু গতকালকের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় বাস্তবতা ভিন্ন।আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর চরের বুকে বাড়ি দিপালী খাতুনের (৩৪)। অনেক কষ্টে যোগাড় করা টাকাপয়সা দিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তিনি।বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননের বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরায়েলের ছোঁড়া মিসাইলের আঘাতে নিহত হন তিনি। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।নিহত দিপালী খাতুন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চর শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। বাবা বেঁচে থাকলেও মা তিন থেকে চার বছর আগে বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন।স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, দিপালী গত ২০১৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে লেবাননে যান। এরপর থেকে তিনি লেবাননে স্থায়ীভাবেই থাকা শুরু করেন। দিপালী শেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন পরে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে আবার লেবাননে চলে যান।এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিপালীর নিহতের সংবাদ বাড়িতে আসার পর থেকেই চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ বাবা মোফাজ্জেল বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।দিপালী খাতুনের ছোট বোন লাইজু খাতুন বলেন, গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমার বড় বোন দিপালী খাতুন লেবাননে যান। সেখানে তিনি একটি বাসায় কাজ করতেন। সবশেষ ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার ফোনে ও ইন্টারনেটে পাইনি।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলেও তার মোবাইলের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান লাইজু খাতুন। তিনি বলেন, আমার বোন লেবাননে যেখানে থাকতেন তার বাসার পাশে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে দেশে টাকা পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে বোনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।দিপালীরা তিন বোন ও দুই ভাই। তিনি অবিবাহিত ছিলেন বলে জানা গেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এই ঘটনা জানার পরেই সকালেই তাদের পরিবারের কাছে যায়। পরিবারের সকল সদস্য দিপালীর মৃত্যুর খবরে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অতি দ্রুত তার লাশ বাংলাদেশি নিয়ে আসা হবে।চরভদ্রাসন উপজেলায নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আমরা ঘটনা জানার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে আমরা কাগজপত্র পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
চলতি মাসে তিনটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের বোর্ডের অধীনে এটাই হতে যাচ্ছে প্রথম সিরিজ। সেই সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক করে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৫ সদস্যের দল দিয়েছে বোর্ড। জাতীয় দলের নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের এটাই প্রথম দল ঘোষণা।পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ সিরিজ থেকে স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনেনি নতুন নির্বাচক প্যানেল। সেই সিরিজের ১৫ জনকেই রাখা হয়েছে প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে।আগামী ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ওয়ানডে। ২০ এপ্রিল একই মাঠে একই সময়ে শুরু হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। ২৩ এপ্রিল সিরিজের শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচটিও শুরু হবে সকাল ১১টায়।একই মাঠে ২৭ এপ্রিল মাঠে গড়াবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নতুন সূচি অনুযায়ী, এই ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টায়। একদিন বিরতি দিয়ে ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামেই মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় ম্যাচ। সিরিজের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২ মে মিরপুর শেরেবাংলায়।মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, সাইফ হাসান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে শোকের ছায়া এখনও সর্বত্র বিরাজমান। এই শোকের আবহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহুলের জীবনের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিচালক শুভ্রজিৎ বাপ্পা।তিনি বলেন, এই ছবিটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মুক্তি দিচ্ছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহযোগিতা পেলে ছবিটি দর্শকদের বিনামূল্যে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বিশ্বকর্মা’ নামের একজন চিত্রগ্রাহককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। সংসারের অভাব আর অবহেলার মাঝেও বিশ্বকর্মা মৃত মানুষের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।প্রথমে সিনেমাটির নাম ‘নেগেটিভ’ থাকলেও রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন সম্মানে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র ও রানা বসু ঠাকুর। রূপম ইসলাম ও সোমলতার কণ্ঠে গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্য ঋত। সব মিলিয়ে, ‘ছবিওয়ালা’ এখন কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং প্রিয় অভিনেতার প্রতি টলিউডের এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বলিউড অভিনেত্রী জারিন খানের মা পারভীন খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাশুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাউল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পারভীন খান। গত বছর অক্টোবর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এ বছরের শুরু থেকেই ফের অসুস্থ হয়ে আইসিউতে ছিলেন তিনি।
প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বক্স অফিস টপচার্টে সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ৪৮টি থিয়েটার থেকে ছবিটি আয় করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা)। পরিবেশনা সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো বাংলাদেশ’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। উত্তর আমেরিকায় তিন দিনের আয়ের হিসাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা। এর আগে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ৮৬টি থিয়েটারে তিন দিনে আয় করেছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রথম সপ্তাহ শেষে আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এরই মধ্যেই এটি রায়হান রাফীর ‘তুফান’ (১ দশমিক ৫ লাখ ডলার), হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ (১ দশমিক ৩২ লাখ ডলার) এবং অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’র (১ দশমিক ২৫ লাখ ডলার) লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণা১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণাপরিবেশনা সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব জানান, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে গত তিন দিনে যা ঘটেছে, তা অবিশ্বাস্য। ‘উৎসব’র পর তানিম নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে উপহার দিলেন আরেকটি দারুণ কাজ। আশা করছি এটি ব্যবসায়িক অনেক রেকর্ড ভাঙবে। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দেশের বাজারেও। বুড়িগঙ্গা টকিজ, হইচই স্টুডিওস ও ডোপ প্রোডাকশন্স প্রযোজিত সিনেমার টিকিট দুই সপ্তাহে দেশে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ টাকার। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকেই এসেছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার মূল প্রতিপাদ্য ‘১০০% খাঁটি বাংলাদেশি ছায়াছবি’। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি রাতের ট্রেনযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী চিত্রা (সাবিলা নূর) ও তরুণ চিকিৎসক আশহাবের (শরিফুল রাজ) পরিচয়ের পাশাপাশি ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের বিচিত্র ও মজার সব গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা ও মডেল বিদ্যা সিনহা মিম। তিনি শুধু অভিনয়েই নন, নিজের রূপ আর ফ্যাশন সেন্স দিয়ে দর্শক-ভক্তদের মন জয় করে চলেছেন। প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজেকে নানান রূপে মেলে ধরেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। হালকা গোলাপী রঙের একটি নজরকাড়া গাউনে নতুন লুকে ধরা দিলেন তিনি। এর মাধ্যমে ভক্তদের মনে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৬ এপ্রিল সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে একটি ফ্যাশন শুটের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন এই লাস্যময়ী মডেল-অভিনেত্রী। মূলত, সদ্য আয়োজিত লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে নজরকাড়া এই গোলাপি গাউনে, এই সাজে দেখা গিয়েছিল তাকে। প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, মিমের পরনে অফ-শোল্ডার সেই গাউনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ট্রেইল। গলায় ঝলমলে পাথরের নেকলেস, হাতে স্বচ্ছ গ্লাভস এবং পরিপাটি চুলে তিনি যেন এক রাজকীয় আভা ছড়াচ্ছেন। সঙ্গে নানা ভঙ্গিতে পোজ আলাদা মাত্রা এনে দেয়।ছবির ক্যাপশনে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘গ্রেস, চার্ম, অ্যান্ড আ টাচ অব রয়্যালটি’, অর্থাৎ, লাবণ্য, আকর্ষণ এবং রাজকীয়তার এক অপূর্ব ছোঁয়া।মিমের এই ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। নেটিজেনরা মন্তব্য ঘরে প্রিয় তারকার এই স্নিগ্ধ-রাজকীয় রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের মুকুট জয়ের মাধ্যমে শোবিজে পা রাখা বিদ্যা সিনহা মিম দীর্ঘ সময় ধরে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। একই প্ল্যাটফর্মের এবারের আয়োজনের জুরি বোর্ডে ছিলেন অভিনেত্রী। এবারের আসরের গালা ডে তে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন মিম। ব্যস্ততার মাঝেও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান; সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব থাকেন এই তারকা। আর মাঝে মাঝে এমন নজরকাড়া লুকে ধরা দিয়ে ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ান।
জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এ বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। ৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তারকাখচিত এই আয়োজনে বর্ণিতার হাতে বিজয়ীর ট্রফি তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান এবং লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। মুকুটের পাশাপাশি বর্ণিতার হাতে তুলে দেওয়া হয় সোয়ারোভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ট্রফি; সেই সঙ্গে একটি বিলাসবহুল গাড়িও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এবারের আসরে ফার্স্ট রানার আপ নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম এবং সেকেন্ড রানার আপের শিরোপা জিতেছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে এই তিনজনের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছিলেন খুলনার নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা এবং ঢাকার তিস্তা পাল। পাঁচ প্রতিযোগীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিচারকদের রায়ে সেরার তালিকায় জায়গা করে নেন তারা।সাত বছর পর এই আয়োজনটি ফিরে আসায় শুরু থেকেই সাধারণ দর্শক ও শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সেরা দশ এবং পরবর্তীতে সেরা পাঁচ প্রতিযোগী চূড়ান্ত লড়াইয়ের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে সাজানো হয়। শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রতিযোগীদের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, স্টাইল সেন্স এবং কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।গ্র্যান্ড ফিনালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ, উৎসবের আমেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে আয়োজন করেছে ‘দারাজ বৈশাখী মেলা’। দেশজুড়ে অনলাইন ক্রেতাদের মাঝে বাংলা নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ১০ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে এই ক্যাম্পেইনটি চলবে ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত। ক্যাম্পেইন চলাকালীন থাকছে ৮০% পর্যন্ত ফ্ল্যাশ সেল, এক্সক্লুসিভ ভাউচার এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা, যা বাংলা নতুন বছরের কেনাকাটাকে করবে আরও আনন্দদায়ক।দারাজ বৈশাখী মেলায় ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ফ্যাশন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, এফএমসিজি এবং লাইফস্টাইলসহ সব ধরণের ক্যাটাগরিতে থাকছে বিশাল অফার। ফলে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনাকাটার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।ক্যাম্পেইনটি শুরু হচ্ছে ১০ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিশেষ ফ্ল্যাশ ভাউচারের মাধ্যমে, যেখানে থাকছে ৯% পর্যন্ত ছাড়। গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ৭৪৯ টাকার কেনাকাটায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং ৫,৯৯৯ টাকার কেনাকাটায় ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাউচার সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়াও ক্যাম্পেইন চলাকালীন সাইট এবং ক্যাটাগরি ভেদে নিয়মিত বিরতিতে আরও ভাউচার উন্মুক্ত করা হবে। গ্রাহকদের জন্য থাকছে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়ের ‘হট ডিলস’, ৮০% পর্যন্ত ছাড়ের ‘মেগা ডিলস’ এবং নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা।পুরো ক্যাম্পেইন জুড়ে থাকছে থিম ভিত্তিক বিশেষ দিন: শনিবার ‘চয়েস ডে’, রবি ও সোমবার ‘ফ্যাশন ফরোয়ার্ড ডে’ এবং মঙ্গলবার ‘ইলেকট্রিক্যাল টিউজডে’। এই বিশেষ দিনগুলোতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্যে থাকছে কিউরেটেড শপিং অভিজ্ঞতা ও বিশেষ অফার।দারাজ বৈশাখী মেলায় থাকছে বিশেষ ‘সুপার ব্র্যান্ড ডে’; যেখানে ১২ এপ্রিল ‘ইউনিলিভার’ এবং ১৪ এপ্রিল ‘ডেটল’ বিশেষ মূল্যছাড় প্রদান করবে। পাশাপাশি দারাজের “এভরিডে লো প্রাইস” নিশ্চিত করতে দারাজ চয়েস চ্যানেলে থাকছে বিশেষ অফার- ৩টি পণ্য কিনলে ডেলিভারি ডিসকাউন্ট এবং ৫টি পণ্য কিনলে ১টি ফ্রি গিফটসহ ডেলিভারি ডিসকাউন্ট।পেমেন্ট সুবিধা বৃদ্ধিতে দারাজ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপ করেছে। নগদ ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। দারাজ-ইবিএল কো-ব্র্যান্ড কার্ডহোল্ডাররা ১৫% পর্যন্ত, অন্যান্য ইবিএল কার্ডহোল্ডাররা ১২% পর্যন্ত এবং সাউথইস্ট ব্যাংক কার্ডহোল্ডাররা ১২% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া ইবিএল জিপ-এর মাধ্যমে ১২ মাস পর্যন্ত ০% ইএমআই সুবিধা থাকছে।এবারের দারাজ বৈশাখী মেলায় এক্সক্লুসিভ প্ল্যাটিনাম পার্টনার হিসেবে রয়েছে ডেটল, হায়ার, হিমালয়া এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে ম্যারিকো এবং সিলভার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইমামি ও গোদরেজ।নতুন বছরের এই অফারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন দারাজ বৈশাখী মেলা পেজ অথবা ডাউনলোড করুন দারাজ অ্যাপ।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট আমদানি নেই। বাজার খুঁজে কোনো কার্পেট পাওয়া না গেলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পার্সিয়ান বা ইরানি কার্পেট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যবর্তী দেশ হয়ে আসা এই পণ্য বিলাসবহুল ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।বাংলাদেশের কার্পেট বাজারের বার্ষিক বিক্রয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। এই বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর, যেখানে ইরানি কার্পেটের অংশ খুবই ছোট। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর জানুয়ারি ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে বাংলাদেশের আমদানি অত্যন্ত সীমিত। ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল শূন্য। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে সামান্য আমদানি হয়েছে, তা ছিল যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল পণ্যের জন্য। কার্পেট এই তালিকায় ছিল না।জাতিসংঘের কমট্রেড তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৫১০ ডলার, যা ফেল্ট ফ্লোর কভারিংসের জন্য। ২০১৪ সালে নটেড কার্পেট রপ্তানি ছিল মাত্র ২ হাজার ৮২০ ডলার। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ও বাড্ডা লিংকরোড এলাকায় কার্পেটের বিভিন্ন দোকানে সরেজমিনে গিয়ে ইরানি কার্পেট বিক্রি হতে দেখা যায়নি। কার্পেট ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এখন আর ইরানের কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না।এলিফ্যান্ট রোডের মিঠু কার্পেটসের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করা যায় ন। আর তা ছাড়া ইরানি কার্পেট অনেক দামি। সারা বছরে বা ছয় মাসে একটা দুটো বিক্রি হয়। তাই আমরা ইরানি কার্পেট বিক্রি করি না।’মিশু কার্পেটসের ব্যবস্থাপকও জানান, তারা ইরানি কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না। এ ছাড়া আরাফাত কার্পেটস, সারমানস কার্পেটস, পনির কার্পেটস, মোরেশদ কার্পেটস ও নিউ রুপসী কার্পেটসের শোরুমের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, তারাও ইরানি কার্পেট বিক্রি করেন না।গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে গিয়েও জানা যায় সেখানকার কার্পেট ব্যবসায়ীরা ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করেন না। শুধু একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের কাছে মাত্র একটি ইরানি কার্পেট আছে।তবে অনলাইনে কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে ইরানি কার্পেট বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম আলাদিন কার্পেটসবিডি। ফেসবুকে তাদের ৫৩ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা পার্সিয়ান ও তুর্কি হ্যান্ডমেড কার্পেট বিক্রি করে। ইসফাহান, কাশান এবং তাবরিজ অঞ্চলের কার্পেট তাদের প্রধান পণ্য। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিক্রি পরিচালনা করে।প্রতিষ্ঠানটির হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তাদের শোরুম মূলত দুবাই থেকে পরিচালিত হয়। সেখান থেকে তারা অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশে কার্পেট সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মধ্যে ফ্রি ডেলিভারির সুবিধাও রয়েছে।বেডিং বিডি নামের আরেকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ‘ইরানি কার্পেট’ নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরি রয়েছে। তারা দাবি করে যে এসব কার্পেট শতাব্দী প্রাচীন পার্সিয়ান ঐতিহ্যের অংশ। গ্রাহকদের কাছে এগুলোকে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রিমিয়াম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আলমেইডা রাগসও বাংলাদেশে অনলাইনে কার্পেট বিক্রি করে। পার্সিয়ান ১২০০ রিড কালেকশন তাদের বিশেষ পণ্য।ইউবাই বাংলাদেশ ও দারাজ এই দুটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আন্তর্জাতিক বিক্রেতাদের মাধ্যমে পার্সিয়ান কার্পেট সরবরাহ করে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য পাওয়া যায়।বাংলাদেশে কার্পেট ক্রেতাদের ধরন সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে প্রধানত ধনী ও উচ্চবিত্ত মানুষরাই পার্সিয়ান কার্পেট কিনতেন। তবে গত এক দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কার্পেট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন গৃহসজ্জার অংশ হিসেবে কার্পেট কিনছেন।বৈশ্বিক পর্যায়েও ইরানের কার্পেট শিল্প ভয়াবহ পতনের মুখে পড়েছে। তিন দশক আগে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে তা বর্তমানে ৪০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।ইরানের চেম্বার অব কমার্সের কার্পেট ও হস্তশিল্প কমিশনের চেয়ারম্যান মরতেজা হাজি আগামিরি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইরান ফোকাসকে বলেন, গত ছয় বছর ধরে রপ্তানি ১০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। তিনি এটিকে কার্যত শূন্যের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি তাদের আন্তর্জাতিক বাজার হারিয়েছে।বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইরানি নকশার কার্পেট উৎপাদন করছে।ইরানি কার্পেট ব্যবসায়ী হামেদ নবিজাদেহ জানান, ইরান এখন নিজ দেশেও বিদেশি কার্পেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীন থেকে আমদানি করা কার্পেট স্থানীয় বাজারেও বিক্রি কমিয়ে দিচ্ছে।চীন, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান কম খরচে ইরানি ডিজাইনের কার্পেট তৈরি করছে। তারা বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে বাংলাদেশে, দামের প্রতি সংবেদনশীল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
তথ্যের ভিড়ে সত্য খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস মানুষকে একটু থেমে ভাবতে, দেখে-শুনে যাচাই করতে ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস ২ এপ্রিল। এই দিনের মূল বার্তা-ফ্যাক্ট-চেকিং খুবই জরুরি। যদিও এই দিনটি বছরে একদিন পালিত হয়, কিন্তু আসলে এটি সারা বছর প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত।পাড়ার গল্প থেকে ভাইরাল ভিডিও—এখন তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই কিছু শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবসের ইতিহাসআন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস প্রথম শুরু হয় ২০১৬ সালে। এর লক্ষ্য ছিল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাধারণ মানুষ সবাই এই দায়িত্বের অংশ। এই উদ্যোগটি একটি বৈশ্বিক ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শুরু হয়, যা তথ্য যাচাইয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করে। এই দিবসটি ২ এপ্রিল পালন করা হয়, যা ১ এপ্রিলের পরের দিন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, এপ্রিল ফুলের মজা শেষ হলে এখন সময় তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার।বর্তমানে তথ্য খুব দ্রুত ছড়ায়। আগে গুজব সীমিত থাকলেও এখন তা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক সময় দ্রুততা ও আবেগকে গুরুত্ব দেয়, যা সঠিক যাচাইয়ের পথে বাধা হতে পারে। এই কারণে এখন অনেক সাংবাদিক, গবেষক ও সংস্থা ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কাজে যুক্ত।এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাক্ট-চেকিং শুধু বিশেষজ্ঞদের কাজ নয়। আমরা সবাই এতে ভূমিকা রাখতে পারি। একজন মানুষ যদি ভুল তথ্য শেয়ার না করে, তাতেই অনেক ক্ষতি কমানো সম্ভব। আবার কেউ ভদ্রভাবে ভুল ধরিয়ে দিলে অন্যরা নতুন করে ভাবতে পারে।ফ্যাক্ট-চেকিং মানে সন্দেহপ্রবণ হওয়া নয়। এটি সত্যকে সমর্থন করা, ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সচেতন আলোচনা গড়ে তোলার একটি উপায়।নতুন প্রযুক্তির কারণে এখন ভুয়া ছবি, অডিও বা ভিডিও তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে। তাই তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।লক্ষ্য সবারকে বিশেষজ্ঞ বানানো নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে একটি সহজ অভ্যাস তৈরি করা। যেমন প্রশ্ন করা, আপনি কীভাবে জানেন। এতে সত্য শুধু দেখানোর বিষয় না হয়ে বাস্তবভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ্লোবাল ইনোভেটিভ টেকনোলজি ব্র্যান্ড টেকনো সম্প্রতি বাংলাদেশে এর ‘স্পার্ক ৫০’ সিরিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এ সিরিজে রয়েছে স্পার্ক ৫০ ফোরজি এবং স্পার্ক ৫০ ফাইভজি ফোন। স্মুথ পারফরম্যান্স, লম্বা ব্যাটারি লাইফ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বহু স্মার্ট ফিচারে পরিপূর্ণ এই নতুন লাইনআপটি নিয়ে ব্র্যান্ডটি বেশ আশাবাদী। নতুন নতুন স্টাইলিশ ডিজাইন আর ব্যবহারিক উদ্ভাবনী সব ফিচার নিয়ে স্মার্টফোন বাজারে টেকনোর যাত্রায় দিনদিন বাড়ছে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। এই সিরিজের মূল আকর্ষণ হলো স্পার্ক ৫০ ফাইভজি, যা নতুন প্রজন্মের কানেক্টিভিটি এবং শক্তিশালী অলরাউন্ড পারফরম্যান্স নিয়ে এসেছে। ৬.৭৮-ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লের ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট থাকায় স্ক্রলিং আরও আরামদায়ক হয়। নেট ব্রাউজিং ও গেমিংয়ের জন্যও মেলে দারুণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। ফোনটিতে রয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৪০০ ফাইভজি+ প্রসেসর। আধুনিক ব্যবহারকারীদের জন্য টেকনো দ্রুত ফাইভজি পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে, যাতে সারাদিনই ভালোভাবে কাজ করা যায়।স্পার্ক ৫০ ফাইভজি-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা দিয়ে সহজেই স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত ছবি তোলা যায়। অন্যদিকে ৬৫০০মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং থাকায় দিনভর চার্জ ব্যাকআপ নিয়েও থাকবে না কোনো দুশ্চিন্তা। ফোনটির সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে মিলিটারি-গ্রেড প্রোটেকশন, আইপি৬৪ ধুলোবালি ও পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ফোনের একপাশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রাখা হয়েছে। এছাড়াও এতে টেকনো এআই, ফ্রিলিংক ২.০ এবং আইওএস-এর সাথে ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফার সুবিধা রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি হবে আরও স্মার্ট, আরো উপভোগ্য। ফাইভজি মডেলের পাশাপাশি টেকনোর এ সিরিজে থাকছে স্পার্ক ৫০ ফোরজি, যা মূলত দৈনন্দিন ব্যবহারে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের জন্য ভালো হবে। হেলিও জি৮১ প্রসেসরে চালিত এই ফোনটিতে আছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটসহ ৬.৭৮ ইঞ্চি এইচডি ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ব্যাটারির দিক দিয়ে ফোনটি ফাইভজি সংস্করণের চেয়ে এগিয়ে আছে। ৭০০০মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকায় স্পার্ক ৫০ ফোরজি ফোনটি সহজেই টানা অনেকটা সময় চালানো যায়। এছাড়াও এতে থাকা ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার, আইপি৬৪ প্রোটেকশন, ১.৮ মিটার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স, আইআর রিমোট কন্ট্রোল, টেকনো এআই, ফ্রিলিংক ২.০ এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট চিপ ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে। ফলে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এটি একটি পরিপূর্ণ ও কার্যকর স্মার্টফোন হিসেবে খুব সহজেই পছন্দের তালিকায় যোগ হয়ে যেতে পারে।বাজারে স্পার্ক ৫০ ফোরজি পাওয়া যাবে ৪জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টে ১৭,৪৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য) এবং ৬জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টে ১৯,৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য)। অন্যদিকে, স্পার্ক ৫০ ফাইভজি আসছে ৬জিবি+১২৮জিবি কনফিগারেশনে ২৩,৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য)।নিখুঁত ডিসপ্লে, উচ্চ মানের ক্যামেরা, টেকসই ডিজাইন এবং স্মার্ট ফিচার ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে স্পার্ক ৫০ সিরিজটি বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য স্টাইলিশ ও পারফরম্যান্সভিত্তিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে টেকনো-র অবস্থানকে আরো জোরদার করে তোলে।আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন www.tecno-mobile.com/bd অথবা টেকনোর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।