বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটানোর লক্ষ্যে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঢাকা জেলা ছাড়াও আরও কয়েকটি জেলা উন্মুক্ত করা হয়েছে।১৮ এপ্রিল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ঢাকা মেট্রো, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মেট্রো, বরিশাল, বরিশাল মেট্রো, খুলনা, খুলনা মেট্রো, রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রো ও ময়মনসিংহ জেলাগুলোতে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলো এখন থেকে ফুয়েল পাস বিডি সিস্টেমে নিবন্ধনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।অপরদিকে, ঢাকা জেলায় আজ থেকে ১৮টি পেট্রোল পাম্পে পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সারা দেশের অন্যান্য জেলাতেও উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।এর আগে গত ৯ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল, দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা আনতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোড ভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামে একটি অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। অ্যাপটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিক বা চালকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে পাইলটিং করা হচ্ছে। সফল পাইলটিংয়ের পর পর্যায়ক্রমে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি সারা দেশের সব যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ইরানের সঙ্গে বর্তমানে সম্পর্ক খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানান তারা।১৭ এপ্রিল শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হতে পারে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।তিনি দাবি করে বলেন, ধাপে ধাপে পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করা হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হতে পারে।তবে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের পর ইরান কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না। এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাও নেই।ট্রাম্প ‘পারমাণবিক ধুলো’ বলতে গত বছরের বোমা হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় অবশিষ্ট পদার্থকে বোঝাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য। তবে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি চুক্তিটা খুব দ্রুত হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন খুবই ভালো।’ আরও আলোচনার দরকার আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান এটি ‘সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষেই’ হবে। চুক্তি হলে তিনি ইসলামাবাদ ‘যেতে পারেন’ বলেও ইঙ্গিত দেন।ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে বিপুল অর্থ প্রদানের বিষয়ে প্রকাশিত খবরও ট্রাম্প অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো অর্থ লেনদেন হচ্ছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে হোয়াইট হাউস। এসব বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেকেই পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণার সংবেদনশীল প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।১৫ এপ্রিল বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য একটি প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি যাচাই করতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রয়োজন বলে প্রশাসন মনে করছে।নিখোঁজদের মধ্যে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির সিনিয়র প্রকৌশলী মনিকা জাসিন্তো রেজার নাম রয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। এছাড়া পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে কাজ করা স্টিভেন গার্সিয়া ২০২৫ সালের আগস্টে নিখোঁজ হন।লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম নিল ম্যাককাসল্যান্ডও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।অন্যদিকে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির দুই বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড এবং মাইকেল ডেভিড হিকসের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র নাসা ও পেন্টাগনকে পারমাণবিক মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছে।কংগ্রেসম্যান এরিক বার্লিসন এফবিআইকে তদন্তে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্চ নিরাপত্তা সংবেদনশীল গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের এ ধরনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক বা কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরুর পরও আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। ইরানি বাহিনীর নির্দেশে প্রণালিতে প্রবেশের পর জাহাজটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দিলে রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছ থেকে নোঙর তুলে ফুজাইরার উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা থামিয়ে দেওয়া হয়।জানা যায়, অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের মতোই ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অনুমতি ছাড়াই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে বাংলার জয়যাত্রা। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে।কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইরানি নৌবাহিনী রেডিও বার্তার মাধ্যমে সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং জানায়, আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া কেউ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না।বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। অনুমতি চাওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করে কোনো বার্তা না দেওয়ায় আমরা মনে করেছিলাম প্রণালিটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৪০টার মত বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। জয়যাত্রাও তাদের পথ অনুসরণ করে এগোতে থাকে।’তিনি আরও জানান, ‘রাত ১১:৫০ টার দিকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে জয়যাত্রা। যে গতিতে চলছিল, ভোর ৩টার দিকে হরমুজ অতিক্রম করে ওমান সাগরে প্রবেশ করা যেত। তবে হঠাৎ সাড়ে ১২টার দিকে রেডিও বার্তা পাঠিয়ে সব জহাজের গতিরোধ করার আদেশ দেয় ইরানিয়ান নেভি এবং আইআরজিসির অনুমতি ছাড়া হরমুজ পার হওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ার করে।’এর আগে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে ৩১ জন নাবিকসহ প্রায় ৪০ দিন আটকে ছিল বাংলার জয়যাত্রা। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ১০ এপ্রিল প্রথমবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি জাহাজটি। পরে শারজাহ বন্দরে ফিরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
কর্তব্যরত অবস্থায় ‘নিজের অস্ত্রের গুলিতে’ই প্রাণ হারালেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্য। ১৮ এপ্রিল শনিবার ভোরে নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।মৃত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ বলছে, নিজের অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।মৃত্যুর বিষয়টি খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্রাট বিশ্বাস আজ ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।’
আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন. এবারের বৃত্তি পরীক্ষাটি গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে তারা পরীক্ষা নিতে পারেনি।তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এই প্রক্রিয়া আমরা বাদ দিতে চাই না। তাই আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই এবং বাস্তবায়ন করি। আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।১৮ এপ্রিল শনিবার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এ সব কথা বলেন।এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, কতজন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বৃত্তির পরিমাণ কত হবে তা পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।বৃত্তিকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান শক্ত। শুধু বৃত্তি না, সার্বিকভাবে কোচিং আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। এটি একটি বড় সমস্যা। কোচিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ কিছু ইনোভেশন বা পলিসি চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে খুব শিগগিরই পাইলটিং শুরু হবে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি সংক্রান্ত কোচিং নিয়ে এখনো বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প যেমন— দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট এবং পিডিপি ফাইভ হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, ওয়াশরুম নির্মাণ, ডিজাইন পরিবর্তন এবং ফার্নিচার পরিবর্তনের মতো বড় কাজ করা হবে।তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি, সচিব এবং মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় সঠিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া গেছে।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরব পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪ টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ফ্লাইটে হজযাত্রী ছিলেন ৪১৯ জন।বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদেরকে অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম। হজযাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি ও হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব নিয়েই তামিম ইকবাল সাবেক অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু করেছেন। এই কার্ডের সুবিধা হিসেবে জানা গেছে, এই কার্ডধারী ভিআইপি গ্যালারিতে বসে বাংলাদেশের সকল ম্যাচ দেখতে পারবেন। আর এ নিয়েই ক্ষোভ ঝাড়লেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। তাপস বৈশ্য নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এটিকে এই যুগের বৈষ্যম্য বলে মন্তব্য করেছেন।তাপস লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি ছিল! আর এখন তো কার্ড! একদিন ভিডিও করে সকলকে বলবো এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়! অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী, আর অন্য সতীর্থরা?’মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে সাবেক এই টাইগার পেসার লিখেছেন, ‘খেলে তো সকলেই মিলে (১১ জন বা ১৪ জন), খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়াড়! রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড়, কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবে সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে।’এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘কারো যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পাইছে তারা করবে না। কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হইছে। অধিনায়কদের হেলথ ইন্সুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের?’জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করছে তাপসের। তিনি লিখেছেন, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য। আমি চাই আর যেনো কখনোই, কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস নেমেছে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তেলের দাম ১৩ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ দশমিক ৮৭ ডলার বা ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩ দশমিক ৫০ ডলার বা ১৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৮১ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই এই দর গত ১১ মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন।সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যতক্ষণ যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে। এখন আমাদের এটাও দেখতে হবে যে প্রণালী অতিক্রমকারী ট্যাংকারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় কি না’।যদিও শুক্রবার সেশনের শুরুতেই তেলের দাম কমে গিয়েছিল, কারণ আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক এবং লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিনিয়োগকারীদের মনে আশার আলো দেখিয়েছে- দীর্ঘস্থায়ী এই অস্থিরতা হয়তো শেষের পথে।প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত মার্চ মাসে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে—প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা সংঘাত শুরুর আগে ছিল ৭০ ডলারের নিচে। তবে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনায় সম্প্রতি তা ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নামে।সূত্র: রয়টার্স
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটানোর লক্ষ্যে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঢাকা জেলা ছাড়াও আরও কয়েকটি জেলা উন্মুক্ত করা হয়েছে।১৮ এপ্রিল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ঢাকা মেট্রো, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মেট্রো, বরিশাল, বরিশাল মেট্রো, খুলনা, খুলনা মেট্রো, রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রো ও ময়মনসিংহ জেলাগুলোতে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলো এখন থেকে ফুয়েল পাস বিডি সিস্টেমে নিবন্ধনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।অপরদিকে, ঢাকা জেলায় আজ থেকে ১৮টি পেট্রোল পাম্পে পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সারা দেশের অন্যান্য জেলাতেও উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।এর আগে গত ৯ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল, দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা আনতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোড ভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামে একটি অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। অ্যাপটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিক বা চালকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে পাইলটিং করা হচ্ছে। সফল পাইলটিংয়ের পর পর্যায়ক্রমে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি সারা দেশের সব যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র এবং ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি কর্মী সমর্থকদের ‘মব সৃষ্টি’ ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাবে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বাসার সামনে আজ সকালে মব সৃষ্টি ও হামলার ঘটনা বিএনপি সরকারের ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত বহন করে। রাশেদ প্রধানের বক্তব্যে একটি শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির পরিবর্তে ‘মব সৃষ্টি’ নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। আমি রাশেদ প্রধানের বাড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি এবং রাশেদ প্রধানের বাসা ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দাবি করছি।তিনি আরও বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিবাদ রাজনৈতিকভাবে হওয়া উচিৎ। গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন ও আইনের শাসনের পরিপন্থি এ ধরনের কোনো প্রকার মবের স্থান বাংলাদেশে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে যে কোনো প্রকার দুর্বৃত্তায়নও বাংলাদেশের মানুষ রুখে দেবে। মবের সময় পুলিশ প্রশাসনের নির্বিকার থাকাটাও কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে করে নাগরিকের আইনের শাসন পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সচিব জনি নন্দীর ওপর যে হামলা হয়েছে ও তাকে আটক করা হয়েছে- তারও নিন্দা জানাই এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হামলা, চাঁদাবাজি, হাসপাতালে মববাজিসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে নানা অপকৌশল নিয়েছে, যা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। বিএনপিকে নেতাকর্মীদের উশৃঙ্খলতা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
কর্তব্যরত অবস্থায় ‘নিজের অস্ত্রের গুলিতে’ই প্রাণ হারালেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্য। ১৮ এপ্রিল শনিবার ভোরে নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।মৃত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ বলছে, নিজের অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।মৃত্যুর বিষয়টি খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্রাট বিশ্বাস আজ ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব নিয়েই তামিম ইকবাল সাবেক অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু করেছেন। এই কার্ডের সুবিধা হিসেবে জানা গেছে, এই কার্ডধারী ভিআইপি গ্যালারিতে বসে বাংলাদেশের সকল ম্যাচ দেখতে পারবেন। আর এ নিয়েই ক্ষোভ ঝাড়লেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। তাপস বৈশ্য নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এটিকে এই যুগের বৈষ্যম্য বলে মন্তব্য করেছেন।তাপস লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি ছিল! আর এখন তো কার্ড! একদিন ভিডিও করে সকলকে বলবো এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়! অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী, আর অন্য সতীর্থরা?’মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে সাবেক এই টাইগার পেসার লিখেছেন, ‘খেলে তো সকলেই মিলে (১১ জন বা ১৪ জন), খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়াড়! রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড়, কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবে সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে।’এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘কারো যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পাইছে তারা করবে না। কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হইছে। অধিনায়কদের হেলথ ইন্সুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের?’জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করছে তাপসের। তিনি লিখেছেন, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য। আমি চাই আর যেনো কখনোই, কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’
জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন নটিয়াল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা। তাই তার বিয়ের খবরটিও সামনে এসেছে অনেকটা নিভৃতেই।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একেবারে সাদামাটা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই শুভ আয়োজন। শোনা যাচ্ছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জুবিন, তিনি তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। তবে কনের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেননি এই গায়ক। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দেরাদুনের এই শিল্পী ২০১১ সালে ‘এক্স ফ্যাক্টর ইন্ডিয়া’ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেবল’ সিনেমার ‘এক মুলাকাত’ গানের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ‘জিন্দেগি কুছ তো বাতা’ এবং ‘কাবিল’এর টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে। পরবর্তীতে ‘লুট গায়ে’, ‘তুম হি আনা’ এবং ‘রাতা লম্বিয়া’র মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ‘শেরশাহ’ সিনেমার ‘রাতান লম্বিয়াঁ’ গানটি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রিয় গায়কের নতুন জীবনের জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আবারও ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রেম আর আট বছরের দাম্পত্য জীবন কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায়, রেডিটে একটি ভাইরাল পোস্ট থেকেই এই জল্পনার শুরু। সেখানে দাবি করা হয়, রণবীর ও দীপিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারেন এই তারকা দম্পতি।এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছে ভক্তদের মধ্যেও। বিশেষ করে তাদের কন্যা দুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি রণবীর বা দীপিকা কেউই।এই সিনেমা সাফল্যের সময় দীপিকার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রিমিয়ারেও তাকে না দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও পরে সমালোচনার জবাবে দীপিকা স্পষ্টই জানান, তিনি সিনেমাটি সবার আগেই দেখে ফেলেছেন।এদিকে তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে নাকচ করেন রণবীর নিজেই। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। সংসার জীবনে তারা ভালো আছেন।ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়—বাস্তবের সঙ্গে যার মিল অনেক সময়ই থাকে না।সব মিলিয়ে, ‘বাজিরাও-মাস্তানি’ জুটির সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সত্যিটা জানতে এখন অপেক্ষাই ভরসা।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় ভবন নির্মাণে দুর্ঘটনা বা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে তিন দিনব্যাপী ১১তম বিল্ডএক্স ২০২৬ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক মানের এই আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম সেরা সিরামিক কোম্পানি ‘এক্স সিরামিক্স গ্রুপ’।এই প্রদর্শনীতে ‘ইতালিয়ান সিরিজ’ নিয়ে হাজির হয়েছে এক্স সিরামিক্স। প্রিমিয়াম টাইলস ও বাথওয়্যার পোর্টফোলিও উপস্থাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে আন্তর্জাতিক মান, নান্দনিক ডিজাইন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে।প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ প্রিমিয়াম ইতালিয়ান সিরিজ, যেখানে কনক্রিট, এক্স স্টোন, রাস্টিক, ডাবল ডিউরেবল পলিশড, স্টোন শিল্ড, রক এক্স, এক্স স্লেট এবং উড ট্রেইল-এর মতো নজরকাড়া সব ডিজাইন উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ডিজাইন আধুনিক ইউরোপীয় ট্রেন্ড, টেকসই গুণমান এবং বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগিতার এক অনন্য সংমিশ্রণ।একই সঙ্গে, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণে নির্মিত ‘এক্স বাথওয়্যার’-এর আটলান্টা, বার্লিন পালমা, লোটাস, ল্যাটিনা, জেসমিন এবং মেফ্লাওয়ার বাথওয়্যার পণ্যগুলো দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, যা সমসাময়িক জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ লাক্সারি ও ফাংশনালিটির এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেয়।এ বিষয়ে এক্সআইসির ইমেরিটাস চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা স্থপতি মোঃ মাজহারুল কাদের বলেন, ‘১১তম বিল্ডএক্স ২০২৬-এ অংশগ্রহণ আমাদের উদ্ভাবন, গুণগত মান এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ইতালিয়ান সিরিজ এবং আমাদের সম্প্রসারিত বাথওয়্যার পোর্টফোলিও’র মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের সমাধান উপস্থাপন করতে চাই, যা আধুনিক স্থাপত্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সিরামিক শিল্পে একটি শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করা।’মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক প্রদর্শনীতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এক্স সিরামিক্স লিমিটেড একটি উন্নয়নশীল ও বিশ্বমানের ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করছে।১১তম বিল্ডএক্স ২০২৬ প্রদর্শনীতে এক্স সিরামিক্সের স্টলে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য স্থপতি ও ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালরা, যার মধ্যে ছিলেন স্থপতি আসিফ ভুঁইয়া, স্থপতি জালাল আহমেদ, স্থপতি মামুনুন এম চৌধুরী, স্থপতি আহমেদ রিয়াদ মোমেনসহ এক্সআইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল ও রবি এলিট গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহকরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিভিন্ন শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দ্রুততর চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা।অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে ম্যানিক লাল দাস, ডিরেক্টর, কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস (রবি মার্কেটিং); মো. সানজিদ হোসেন, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ; সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ; এবং তানভীর আলম চৌধুরী, জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি পার্টনারশিপস, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ, রবি মার্কেটিং উপস্থিত ছিলেন। এবং চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মি. মুনতাসির মাহমুদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এবং মি. বাদশা মোড়ল, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার।এ সময় মি. মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা সেবাকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহক খুব সহজভাবে দেশের বাহিরে চিকিৎসা সেবা। রবি’র বিপুল গ্রাহকভিত্তিক এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যাত্রায় একটি বিশ্বস্ত সহযোগী পাবে।”মি. তানভীর আলম বলেন, “রবি সবসময় সেবার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সীমানার বাইরে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।