ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত বিপুল সংখ্যক ইরানি নাগরিক আজ শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে সমবেত হয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাদের কাছে নিজেদের অদম্য মনোভাবের বার্তা পাঠাতে চায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শিয়াদের প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত রক্তলাল পতাকা হাতে এবং কালো পোশাক পরিহিত শোকগ্রস্ত মানুষ ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে ভিড় জমান।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করছিলেন এবং দেশের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দমন করার পাশাপাশি পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাতের নীতি বজায় রেখেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি নিহত হন।খামেনির ছেলে এবং তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে এখনো দাফন অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি, অবশ্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা শুক্রবার বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাগত জানান। এই কমপ্লেক্সটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে অতিথিরা কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।আগামী দিনগুলোতে তেহরানের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে; তাই শীতল থাকার জন্য ওয়াটার মিস্ট বা পানির কুয়াশা তৈরির মধ্যে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ এই বিশাল কমপ্লেক্সটিতে আলাদা সারিতে অবস্থান গ্রহণ করেন।সাবেক এই নেতার বিশাল প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে তারা শোকের চিহ্ন হিসেবে নিজেদের বুকে আঘাত করছিলেন।এএফপি-র ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির কফিনটির ওপর তাঁর কালো পাগড়িটি রাখা ছিল। খামেনি ও পরিবারের অন্য চার সদস্যের কফিন সামনে একটি উঁচু বেদির ওপর রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।৩৮ বছর বয়সী একজন ধর্মীয় আলেম মোহাম্মদ মিরসালেহি বলেন, ‘নেতা আমাদের সবার কাছে বাবার মতো ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর আমরা সবাই এতিম হয়ে গেছি... তাঁর মতো কেউ ছিল না। তিনি সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয় ছিলেন।’১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী হামিদরেজা শাবানি বলেন, ‘আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায়, আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধ নিতে হবে।’কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, দাফনের এই আনুষ্ঠানিকতাগুলোতে কেবল রাজধানীতেই এক কোটিরও বেশি মানুষ সমবেত হবে।
তেহরানে আয়োজিত ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।তেহরানের গ্রান্ড মাসাল্লায় আয়োজিত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে আলি খামেনির বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করার পাশাপাশি স্পিকার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষে শোকসন্তপ্ত ইরানি জাতির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন ও শোকবার্তা পৌঁছে দেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেখানে রাখা শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।এর আগে স্পিকার ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল তেহরান পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার শতাব্দী প্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।স্পিকার সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তি ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারা বজায় রাখতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালীর সাথে বৈঠক করেন যেখানে ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রী তাদের দেশে ক্রিকেট খেলার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তা চান। এ ছাড়াও তিনি দুই দেশের মধ্যে খেলাধুলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করলে স্পিকার এই বার্তা বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেবেন বলে জানান।পরে স্পিকার ইরান রেডিও’র বাংলা বিভাগের সাথে এক সাক্ষাৎকার দেন যেখানে তিনি বাংলাদেশ-ইরানের দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেবার পাশাপাশি ইরানে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূতাবাসের সেবা বৃদ্ধি জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন বলে জানান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা-দুর্নীতি সেখানেই করা হবে চাকরিচ্যুত, ট্রান্সফার বা বদলিতে বিশ্বাস করি না। কাজ করতে হবে সততার সাথে। দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এসবকে কোনো প্রশ্রয় দিবে না সরকার।শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নরসিংদীর শিশু একাডেমি মিলনায়তে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী এসময় বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন ভাবে সাজিয়ে আরো ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। ফ্যামিলি প্লানিং সেন্টার গুলোকে উন্নত করা হবে। স্বাস্থ্যখাতে এই বছরেই একটা বিপ্লবের সূচনা করতে চাচ্ছে সরকার। প্রতিটা ক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেয়া হচ্ছে। যাতে করে জনগনের উন্নয়ন করা যায়। তিনি বলেন, এবারের বাজেট কোনো টাকার বাজেট না আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শকে দুর্নীতি মুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি। নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মন্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ। এসময় অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরা অংশ নেন।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আমাদের অপরাধ আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়া। আমি এই জন্য বলছি দুই থেকে তিনটি কারণে বিগত সরকার এই বগুড়ায় কোন উন্নয়ন করেনি । তাই আমি সংসদে বগুড়া উন্নয়নের কথা তুলে ধরেছি।শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের বড়াইল বাকসন খাল খনন পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে এমপি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন তাই আমি এই বগুড়াসহ সারাদেশের উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই।এত করে কে হিংসা করল কিংবা কারা সমালোচনা করলো সেইদিকে আমি মীর শাহ আলম কোন কান দেব না । তিনি সমাবেশে স্থানীয় আরো কিছু উন্নয়ন করার আশ্বাস দেন। স্থানীয় বাকসন উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য দেড় কোটি টাকা ঘোষণা দেন।
এবারের বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে হতাশা কাটিয়ে প্রত্যাবর্তনের আসরে নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দল কলম্বিয়া। শেষ ৩২-এর শেষ ম্যাচে জন আরিয়াসের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলেই ঘানাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচজুড়ে সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং ধৈর্যশীল আক্রমণের প্রদর্শনীতে জয়টি নিজেদের করে নেয় তারা।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। তবে শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোটের কারণে একজন করে খেলোয়াড় বদল করতে বাধ্য হন দুই কোচ। সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুত ম্যাচের ছন্দ নিজেদের দখলে নেয় কলম্বিয়া। বলের দখল ধরে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণে ঘানার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা।১৪তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। দারুণ এক দলীয় আক্রমণে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রিত শটে জাল খুঁজে নেন জন আরিয়াস। ঘানার গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। সেই গোলেই এগিয়ে যায় কলম্বিয়া।গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় ঘানা। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে কয়েকবার কলম্বিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের পাস ও ফিনিশিংয়ে সফল হতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, ড়ড়শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ে প্রতিটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় কলম্বিয়া।দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এক পর্যায়ে দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ শেষে বল জালে জড়ান লুইস দিয়াস। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই গোলটি বাতিল হয়। ব্যবধান না বাড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতছাড়া হতে দেয়নি কলম্বিয়ানরা।শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ঘানা। লম্বা বল, দ্রুত আক্রমণ ও সেট-পিস থেকে একের পর এক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কলম্বিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণে ভাঙন ধরাতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের মূল্যবান জয় নিয়ে উল্লাসে মাতে কলম্বিয়ানরা।এই জয়ে ২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হলো ঘানাকে। যদিও পুরো ম্যাচজুড়েই তারা লড়াই করে গেছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
অবিশ্বাস্য, নাটকীয় এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর খেলা উপহার দিলো আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নবাগত দেশটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শেষ মিনিট পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। ১২০ মিনিটে ৫ গোলের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে আর্জেন্টিনা (৩-২)। কেপ ভার্দেকে কি পরাজিত বলা চলে? বিশ্বফুটবলে নিজেদের নামটি স্মরণীয় করে রাখতে যা করা দরকার কেপ ভার্দে সবটুকুই করেছে! ম্যাচের পরতে পরতে টানটান উত্তেজনা, লড়াকু ও আত্মবিশ্বাসের অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখাল দুই দল। আর্জেন্টিনা ওই পথ পেরিয়েই তো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জিতেছে। কিন্তু কেপ ভার্দে কীভাবে-কোথা থেকে এত প্রেরণা সঞ্চার করল? অবশ্য প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই স্পেন ও উরুগুয়েকে সমতায় আটকে রাখাই তো কম প্রেরণাদায়ক নয়! মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিল কেপ ভার্দে। ২৮তম মিনিটে প্রায় নিজেদের অর্ধ থেকে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির দৌড়ে যাওয়ার লাইনেই ছিল সেই বল। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ৭ গজ দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি। সেই জোরালো শট কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।এর আগে বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ সপ্তম ম্যাচে গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মেসি। এবার অষ্টম ম্যাচেও গোল পেলেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে মেসি ২০-এ নিয়ে গেলেন। নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে তুঙ্গে থাকা ফর্ম দিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারাতেই সুযোগটা নিয়েছে কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে তারা ডেরয় দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ পরিণত করেছে। রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে বল বাড়ালে দুয়ার্তে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে দুর্দান্ত এক শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার লিড নেওয়া গোলে অ্যাসিস্ট করা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে ঠেকাতে পারেননি।মেসিকে হতাশ করে ভোজিনহার বীরত্ব, ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে ৯০ মিনিটের আগপর্যন্ত সময়টাতে ছিল ভোজিনহার বীরত্বের গল্প। মেসির দুটি দারুণ ফ্রি-কিক বাঁচিয়েছেন তিনি, আরও কয়েকটি দারুণ আক্রমণ পরাস্ত হয়েছে তার সামনে এসে। ফলে ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। তবে বেশিক্ষণ আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। আলবিসেলেস্তেদের প্রথম গোলেও বলের যোগান দিয়েছিলেন লিসান্দ্রো। নিজেদের রক্ষণ থেকে তিনি নিঁখুত পাস দিয়েছিলেন। দল যখন লিড পেতে মরিয়া ছিল, আবারও দৃশ্যপটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টারব্যাক। ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল আরেকজনের স্পর্শ পেয়ে একপাশে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো পেয়ে যান। হয়তো ধারণা ছিল তিনি ক্রস করবেন, কিন্তু তা না করে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন। ১০৩ মিনিটে সেই গোল শোধ করেছেন কেপ ভার্দের সিডনি ক্যাব্রাল। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে তিনি ভেতরের দিকে কাট করেন। ফিরতি বল পেয়ে ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নিয়েই যেন অবাক করা দৃশ্যের জন্ম দিলেন ক্যাব্রাল। হয়তো বলটি এভাবে ফাঁকি দেবে ধারণাও ছিল না এমি মার্টিনেজের।আর্জেন্টিনার গোল শোধ করে ২-২ সমতায় কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে আবারও লিড পেতে অপেক্ষা করতে হলো ৮ মিনিট। মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার পেয়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেড দেন, বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার আগে সেটি কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার হাতে লেগেছে। ফলে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা লিড পায় ৩-২ ব্যবধানে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনাও স্বস্তিতে ছিল না। আক্রমণ এবং রক্ষণ দু’দিকেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। শেষমেষ রেফারির শেষ বাঁশিই যেন স্কালোনি শিষ্যদের হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ এনে দিলো!
জামিল শেখের বয়স ৪০ বছর। কথা বলতে পারেন না। জন্মগতভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বাকপ্রতিবন্ধী)। বাকশক্তিহীনতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় কাটাচ্ছেন পরিশ্রম করে। ১০ বছর বয়স থেকে এমন একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যেখানে গেঁথে রাখা হয় মানুষের সুখ-দুঃখের বার্তা।গোপালগঞ্জ শহরে সংবাদপত্রের ফেরিওয়ালা (হকার) জামিল শেখ। ৩০ বছর ধরে তিনি পত্রিকা বিক্রি পেশার সঙ্গে যুক্ত। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মমর্যাদাবোধে তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার নাম।গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা তহম শেখ ও শিরিয়া বেগম দম্পতির ছেলে জামিল শেখ। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। জন্ম থেকে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ১০ বছর বয়স থেকে জীবিকার তাগিদে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন। সেই থেকে টানা তিন দশক শহরের পুলিশ লাইনস, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়িতে ঘুরে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করছেন।প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে কাঁধে পত্রিকার ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জামিল। রোদ, বৃষ্টি কিংবা প্রচণ্ড গরম—কোনো প্রতিকূলতাই থামাতে পারেনি তার জীবনসংগ্রাম। কথা বলতে না পারলেও মানুষের কথা ভালোভাবেই বুঝতে পারেন তিনি। ক্রেতারা যে পত্রিকার নাম বলেন, ঝোলা থেকে ঠিক সেটিই বের করে দেন। হিসাব-নিকাশেও ভুল হয় না তার। তবে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রসারে ছাপা পত্রিকার চাহিদা কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় তার আয়ও কমেছে।স্থানীয় সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রের মালিক খালিদ হোসেন বলেন, জামিল ৩০ বছর ধরে আমার দোকান থেকে নিয়মিত পত্রিকা নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। সে অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। আজ পর্যন্ত কোনো দিন হিসাব-নিকাশে তার ভুল বা অনিয়ম দেখিনি।তিনি বলেন, আগে পত্রিকার বিক্রি অনেক বেশি ছিল, কিন্তু এখন পাঠক কমে যাওয়ায় তার আয়ও কমে গেছে। তারপরও সে কারও কাছে হাত না পেতে নিজের পরিশ্রমেই জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। এমন একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে সমাজ ও সরকারের সহযোগিতা থাকা দরকার।স্থানীয়দের কাছে জামিল সততা, পরিশ্রম ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করায় তিনি সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তার আয়েই চলছে অসুস্থ মা শিরিয়া বেগমের চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয়।প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে জামিল কঠোর পরিশ্রম করে পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সে কখনও কারও কাছে হাত পাতেনি। নিজের শ্রমে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় বহন করছে। বর্তমানে ছাপা পত্রিকার বিক্রি কমে যাওয়ায় তার আয় অনেক কমেছে। সংসার চালাতে তাকে বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। এমন পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষের পাশে সমাজ ও রাষ্ট্রের দাঁড়ানো উচিত।পরিবার জানায়, এক সময় জামিল সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন। তবে হঠাৎ করেই সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সংসারের ব্যয় মেটাতে আরও বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে তাঁকে।জামিলের মা শিরিয়া বেগম বলেন, আগে আমার ছেলে প্রতিবন্ধী ভাতা পেত। হঠাৎ কী কারণে ভাতাটা বন্ধ হয়ে গেল, আমরা জানি না। এখন ওর পত্রিকা বিক্রির আয়েই আমাদের সংসার চলে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি এবং ভাতা কার্যক্রমও বন্ধ হয়নি। তাই এ ধরনের দাবির সত্যতা নেই। তবে জামিল বা তার পরিবারের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে রেকর্ড যাচাই করে ভাতা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। যোগ্যতা ও নথিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর চট্টগ্রাম ওয়াসায় পদোন্নতির জট কেটেছে। সম্প্রতি সংস্থাটির ৩২ জন কর্মকর্তাসহ মোট ২৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।এর আগে দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সেই স্থবিরতা কাটায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা পদোন্নতি কার্যকর হওয়ায় কর্মপরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের আগ্রহও বাড়বে।পদোন্নতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ উপলক্ষ্যে মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ, সহ সভাপতি মো. ওমর, মো. জামাল উদ্দিনসহ পদোন্নতিপ্রাপ্ত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পদোন্নতি না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পেশাগতভাবে বঞ্চিত ছিলেন। এতে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টির সমাধান করেছেন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও কর্মোদ্যম ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, এই পদোন্নতি শুধু দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানই ঘটায়নি, বরং প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা করছেন।চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, দীর্ঘদিন পর পদোন্নতির সুযোগ পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল বেড়েছে। এর ফলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এর ইতিবাচক প্রভাব ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবার মানেও প্রতিফলিত হবে।
একান্তে দেখা করার প্রস্তাব, ছাত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে বিপাকে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হন তিনি।বুধবার (১ জুলাই) সকালে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে (৩৮) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নশরতপুর ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কিছুদিন ধরে মোবাইল ফোনে একান্তে দেখা করার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠাতেন মাহমুদুল হাসান। এতে বিরক্ত হয়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মাদ্রাসায় এলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে বিকেলে উত্তেজিত এলাকাবাসী মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।আদমদীঘি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রহমতুল্লাহ বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে
দেশের রিয়েল এস্টেট ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব - প্রকৌশলী এফ আর খান (ফয়জুর রহমান খান) সম্প্রতি অনন্ত রিয়েল এস্টেট লিমিটেডে চিফ অ্যাডভাইজার হিসেবে যোগদান করেছেন।অনন্ত রিয়েল এস্টেট লিমিটেড দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অনন্ত গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বার্ষিক টার্নওভার এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই শিল্পগোষ্ঠী এখন দেশের আবাসন খাতে প্রিমিয়াম লিভিংয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপনের লক্ষ্যে গড়ে তুলছে অনন্ত টেরাসেস।৪৫ বিঘারও বেশি জমির ওপর নির্মিতব্য অনন্ত টেরাসেস হবে দেশের প্রথম লীড প্ল্যাটিনাম (LEED Platinum) luxury residential প্রকল্প, যেখানে প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ জায়গা রাখা হয়েছে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে। স্থাপত্য উৎকর্ষতা, নির্মাণ মানের গুরুত্ব, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক জীবনযাত্রার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প প্রতিফলিত করে বিশ্বমানের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংযোজনের প্রতি অনন্ত গ্রুপের অঙ্গীকার।চিফ অ্যাডভাইজার হিসেবে প্রকৌশলী খান প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এবং বিশ্বমানের প্রকল্প বাস্তবায়ন, কার্যক্রমের উৎকর্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনন্ত রিয়েল এস্টেটের ভিশনকে শক্তিশালী করবেন।চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রিয়েল এস্টেট খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন প্রকৌশলী এফ আর খান। ইঞ্জিনিয়ারিং, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রকল্প উন্নয়ন এবং সামগ্রিক রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক মাইলফলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের গড়ে তুলতে এবং দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন। তাঁর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি, কারিগরি দক্ষতা ও মানের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি তাঁকে শিল্প মহলে ব্যাপক সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজধানীর তুরাগে এক চটপটি ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদা দাবি ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী সুরুজ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ।শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তাকে গ্রেফতার করা হয়।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তুরাগের ১৮ নম্বর সেক্টরের ষোলহাট এলাকায় চটপটি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সুরুজ মিয়া ও তার সহযোগী তরিকুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, তারা ‘ক্যায়িং জোন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুরুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্যাশবাক্স থেকে ৮ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮০, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. টোকনউজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সুরুজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।এর আগে, গত ২১ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবসা দখলের চেষ্টা, সরকারি জমি দখল এবং ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।সুরুজ মিয়ার গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সংসদ গঠনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করেছে। সংবিধানে বিধান না থাকার অজুহাতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। অথচ সংবিধানে উল্লেখ না থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমান সংসদেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে রাষ্ট্রের অর্থ আবারও বিদেশে পাচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করেননি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে নেওয়া ব্যবস্থা।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা হতাশাজনক।সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যথায় দেশ নতুন সংকটে পড়তে পারে।
মতলব দক্ষিণে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি অফিসারের প্রত্যয়নের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। প্রত্যয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগী চাষিদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান জমা নেওয়া হচ্ছে না।কৃষক ফারুক আহমদ অভিযোগ করে বলেন, “আমার কৃষি কার্ড আছে, আমি একজন প্রকৃত কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও সংগ্রহ করেছি। এমনকি খাদ্য গুদাম থেকে ধান দেওয়ার জন্য বস্তাও দেওয়া হয়েছিল। সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও আমার ধান নেওয়া হয়নি। একইভাবে আমার আপন ভাই মহসিনও ধান দিতে পারেননি।তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরেছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছি, আমিও টাকা দেব, আমার ধানগুলো নিয়ে নিন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে “নেব”, “নেব” বলে ঘুরানোর পর এখন বলা হচ্ছে, আগামী বছর ধান দিতে হবে। এখন আর নেওয়ার সুযোগ নেই।’”প্রতিবেদকের পরিচয় গোপন রেখে মুঠোফোনে কথা হলে কৃষক সুদর্শন চন্দ্র বলেন, খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে তাকে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন প্রতিবেদকও যদি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে চান, তবে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। অন্য কৃষকদের কাছ থেকেও ‘অফিস খরচ’ নামে আরও বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কত টাকা নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সব কথা ফোনে বলা যাবে না। আপনি কড়িতলা মোড়ে আসেন, সরাসরি কথা বলব।”কৃষক মোজাম্মেল সরকার বলেন, “খাদ্য গুদামে সরকারি ভ্যাট, বস্তা ও শ্রমিক (লেবার) খরচের কথা বলে প্রতি বস্তা ধানের জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আমাকেও এই টাকা দিতে হয়েছে। আমি ৬৫ বস্তা ধান সরবরাহ করেছি। সে হিসেবে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রকৃত কৃষকরা সব ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ধান বিক্রি করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা খোলা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় খাদ্য গুদামের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল বলেন, “চলতি মৌসুমে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য উপজেলার প্রায় ২৫০ জন আগ্রহী কৃষককে কৃষি অফিস থেকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব কৃষকের ধান খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্রয় করবে। কৃষি অফিসের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই।”উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খালেদা আক্তার বলেন, “৭৫ মণ ধান বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ভ্যাট বাবদ ৫৪০ টাকা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। যদি কেউ এর বাইরে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে, তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”মতলব দক্ষিণ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) একরামুল ইসলাম বলেন, “কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৩০০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ৪০০ জন কৃষককে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভ্যাট (আইটি) ছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। কোনো কৃষক যদি অফিস সহকারীকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ সময় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে আরও তথ্য ও বক্তব্য নিতে গেলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করে এই বিষয়ে কোনো নিউজ বা সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম ইশমাম আহমেদ জানান, কৃষি অফিসের প্রত্যয়নের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের হতেই ধান নিতে হবে, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই, এই বিষয়ে কোন কৃষক মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, “এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”উল্লেখ্য যে চলতি মৌসুমে মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নির্বাচিত ১০০ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের অভিযানের আওতায় ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৩০০ টন ধান সংগ্রহ করা হবে।
এবারের বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে হতাশা কাটিয়ে প্রত্যাবর্তনের আসরে নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দল কলম্বিয়া। শেষ ৩২-এর শেষ ম্যাচে জন আরিয়াসের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলেই ঘানাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচজুড়ে সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং ধৈর্যশীল আক্রমণের প্রদর্শনীতে জয়টি নিজেদের করে নেয় তারা।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। তবে শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোটের কারণে একজন করে খেলোয়াড় বদল করতে বাধ্য হন দুই কোচ। সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুত ম্যাচের ছন্দ নিজেদের দখলে নেয় কলম্বিয়া। বলের দখল ধরে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণে ঘানার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা।১৪তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। দারুণ এক দলীয় আক্রমণে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রিত শটে জাল খুঁজে নেন জন আরিয়াস। ঘানার গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। সেই গোলেই এগিয়ে যায় কলম্বিয়া।গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় ঘানা। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে কয়েকবার কলম্বিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের পাস ও ফিনিশিংয়ে সফল হতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, ড়ড়শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ে প্রতিটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় কলম্বিয়া।দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এক পর্যায়ে দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ শেষে বল জালে জড়ান লুইস দিয়াস। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই গোলটি বাতিল হয়। ব্যবধান না বাড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতছাড়া হতে দেয়নি কলম্বিয়ানরা।শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ঘানা। লম্বা বল, দ্রুত আক্রমণ ও সেট-পিস থেকে একের পর এক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কলম্বিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণে ভাঙন ধরাতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের মূল্যবান জয় নিয়ে উল্লাসে মাতে কলম্বিয়ানরা।এই জয়ে ২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হলো ঘানাকে। যদিও পুরো ম্যাচজুড়েই তারা লড়াই করে গেছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
বিশ্বখ্যাত গায়িকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সম্ভাব্য বিয়ে ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। বিয়ের দিনক্ষণ কিংবা আয়োজন সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অতিথিদের পোশাক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেইলর সুইফট তার ব্যক্তিগত বিষয় সবসময় গোপন রাখতেই পছন্দ করেন। তাই সম্ভাব্য বিয়ের আয়োজন নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।জল্পনা রয়েছে, নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শুক্রবার (৩ জুলাই) এই আয়োজন হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রায় এক হাজার ১০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অতিথিদের পোশাকে থাকবে মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও রোমান্টিক ধাঁচ। অনেকেই বিখ্যাত নকশাকারদের তৈরি পোশাক বেছে নিতে পারেন। গ্রীষ্মকালীন আয়োজন হওয়ায় হালকা রঙ, ঢিলেঢালা পোশাক ও সূক্ষ্ম নকশার পোশাক বেশি দেখা যেতে পারে।সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তবে কী বিয়ে করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস? টেইলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও রয়েছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে সেলেনা গোমেজ, সুকি ওয়াটারহাউস, সাবরিনা কার্পেন্টার, কারা ডেলিভিনসহ আরও অনেকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র ফ্যাশনধারা বজায় রাখলেও কনের চেয়ে বেশি নজর কাড়ার চেষ্টা করবেন না।বিয়ের পোশাক নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ফ্যাশন বিশ্লেষকদের ধারণা, টেইলর সুইফট নিজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পোশাক পরতে পারেন। রাজকীয় নকশার করসেট ও ছড়ানো ঘেরের পোশাক তার পছন্দ হতে পারে। পরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তিনি আরও হালকা ও আরামদায়ক পোশাকেও দেখা যেতে পারেন।অন্যদিকে, ট্রাভিস কেলসি বরাবরই ব্যতিক্রমী পোশাকের জন্য পরিচিত। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাকে দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বিয়ের আয়োজন, অতিথি তালিকা কিংবা পোশাক—সবকিছুই এখনো জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে টেইলর সুইফট বা ট্রাভিস কেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।সূত্র: বিবিসি
বিশ্ব সংগীত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আর্টিস্ট ক্লাবের আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এ সংগীত পরিবেশন করে। কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সংগীতপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব সংগীত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সংগীত এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা সংস্কৃতি, জাতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর্টিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আর্টিস্ট ক্লাব সবসময়ই সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে রয়েছে। বিশ্ব সংগীত দিবসে ডিইউসিএফ-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে ডিইউসিএফ-এর শিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশন করেন একটি প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’। দলীয় ও একক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ পুরো সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।অনুষ্ঠান শুরু হয় ব্যতিক্রম ধর্মী পুথি পাঠ এর মাধ্যমে। ডিইউসিএ’কে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম গান শুরু হয় একটি কোরাস ‘মোরো ঝনঝার মত’ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন নির্ঝর চৌধুরী, ইরবতি মন্ডল, আনিকা শারমিলা কৃপা ও ফরহাদ মিল্টন। নজরুল ইসলামের গান করেন নন্দিত শিল্পী নন্দিনী দও ধরা। পল্লী গীতি ও উকিল মুন্সীর গান করেন মাহফুজার রহমান মহব্বত। রবি ঠাকুরের গান করেন নাঈমা ইসলাম নাজ এবং অনুষ্ঠান শেষ হয় আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে সমেবেত সংগীত পরিবেশন মাধ্যমে। সভাপতি সুজিত মোস্তফা ডিইউসিএ’কে তাদের পরিবেশনার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শিল্পী ও দর্শকদের এক সুরের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং উপস্থিত সকলের কাছে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়াতে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে ৯০ দিনের মজুত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) রয়েছে। সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ এই জ্বালানি সরবরাহ করবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। সম্প্রতি বিপিসির এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি ও খনিজস্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস পর পর দেশের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেল এবং জেট ফুয়েল আমদানি করে থাকে। এ কারণে জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাসের চাহিদার বিপরীতে বিপিসি একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে সেটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কমিটি তা ইতোমধ্যেই অনুমোদন করেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিয়ে সেটি বিপিসির কাছে পাঠিয়েছি। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড) দেবে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করবে। বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজার যখন চরম অস্থিতিশীল, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এক সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চাকা সচল রাখা, শিল্পোৎপাদন ও কৃষিকাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং আকাশপথের যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখাকে বড় বিচেনায় নেওয়া হয়েছে।বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ১০ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার চিঠি ১৭ জুন পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ ইস্যু করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত চুক্তির পর খুব দ্রুতই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—যেকোনো মূল্যেই দেশে ৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুত রাখতে হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে। চাহিদা মেটাতেই প্রতি ছয় মাস পর পর নিয়মিত তেল আমদানি করা হবে।’আর্থিক ব্যয় ও ডলারের হিসাবগত ২৪ মে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো বিপিসির এক প্রস্তাবে বলা হয়, জুন-আগস্ট সময়সীমার মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দরপত্রে পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের গত ১৩ মে তারিখের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার সমান ১২৩.২৫ টাকা) অনুযায়ী এই আমদানিতে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং ডলারের মূল্যের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। এই আমদানির টাকা বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে ঋণ বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে মেটানো হবে বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে।উদ্বেগজনক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতিবৈশ্বিক উদ্বেগজনক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার অভাবে জাহাজগুলো দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহার করায় ট্রানজিট সময় ও পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া দাবি করছে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি জটিল। ২০২২ সালে ডিজেলের সর্বোচ্চ দর প্রতি ব্যারেল ১৭৮.৯১ ডলার থাকলেও, ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তা রেকর্ড ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌঁছায়। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের গড় দর ৮৫.৯৯৭ ডলার থাকলেও এপ্রিলে তা ১১৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭.৯০৪ ডলার হয়।বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে এবার প্রিমিয়াম কিছুটা বাড়লেও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত এই দরটিকে বর্তমান বাস্তবতায় যৌক্তিক মনে করছে বিপিসির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।দেশে জ্বালানির ঘাটতি নেইজ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ৬০ দিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ডলার সংকটের মধ্যেও এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই। এ বিষয়ে যুগ্মসচিব মনির হোসেন বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের বাঁধা বা সংকটের আশঙ্কা নেই।’মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। যেকোনো মূল্যে শিল্প ও কৃষিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বাজারে যন্ত্রাংশের খরচ ও করের চাপ বাড়লেও গ্রাহকদের জন্য দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে টেকনো। বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর ও মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ফলে স্মার্টফোন বাজারে বাড়ছে খরচ, বাড়ছে দামের চাপ। যার ফলে অনেক দেশে বাড়ছে স্মার্টফোনের দাম।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও জুলাই থেকে কর পরিবর্তনের কারণে স্মার্টফোনের বাজারে দাম বাড়তে পারে। যেখানে অন্য স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে , সেখানে এআই-চালিত গ্লোবাল প্রিমিয়াম স্মার্ট ইকোসিস্টেম ব্র্যান্ড টেকনো হাঁটছে ভিন্ন পথে। দেশের আরও বেশি মানুষের হাতে উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে টেকনো ১ জুলাই থেকে ক্যামন ও পোভা সিরিজের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।৩০ জুন কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং বিশ্বজুড়ে চিপ, প্রসেসর, মাদারবোর্ড ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের দাম বাড়তে থাকায় অনেক কোম্পানি এখন ফোনের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে। গ্রাহকদের এই বাড়তি চাপ থেকে স্বস্তি ও উন্নত প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে, ১ জুলাই থেকে টেকনোর প্রিমিয়াম সিরিজের ফোন মিলবে আরও কম দামে। এর মধ্যে অতি জনপ্রিয় একটি ডিভাইস হলো ক্যামন ৫০। ক্যামন ৫০ (২৫৬+৮ জিবি) এর আগে দাম ছিলো ৩৮,৯৯৯ যা এখন পাওয়া যাবে ৩৬,৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য) এবং ক্যামন ৫০ (১২৮+৮ জিবি) এর আগের দাম ছিলো ৩৪,৯৯৯ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৩১,৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য) যার ফলে সবার জন্য ফ্লাগশিপ মানের ক্যামেরার অভিজ্ঞতা হবে আরও সহজলভ্য। এই অফারটি সীমিত সময়ের জন্য প্রযোজ্য।অনেকে যখন বৈশ্বিক খরচ বৃদ্ধির এবং স্থানীয় বাজারের চাপের কারণে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, টেকনো একটি ভিন্ন পথে যাচ্ছে। নির্বাচিত ডিভাইসের দাম কমিয়ে, ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। জুলাই মাস থেকে সম্ভাব্য দাম পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, টেকনো -এর এই সিদ্ধান্ত দেখায় যে, উদ্ভাবন, পারফরম্যান্স এবং মান বজায় রেখে অতিরিক্ত খরচ সরাসরি গ্রাহকের ওপর চাপানো ছাড়াই ব্যবসা করা সম্ভব।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’