শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ইসলামি শিক্ষাকে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় উন্নয়ন, নৈতিকতা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামি শিক্ষার মূল লক্ষ্য মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা। এ খাতকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণা, দক্ষ শিক্ষক এবং যুগোপযোগী কারিকুলামের বিকল্প নেই।৩০ জুন মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে শুধু প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমনভাবে এই খাতকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও কার্যকর, গবেষণানির্ভর ও পরিকল্পিত ভূমিকা নিতে হবে।তিনি বলেন, অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফাজিল–কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইসলামি শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিকায়িত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী কারিকুলাম।মাদ্রাসা খাতে শিক্ষক সংকটের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইসলামি শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া কিছু মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে এবং তা সমাধানে কাজ চলছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ইসলামি শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও দেশের সব খাতে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ফাজিল–কামিল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বিসিএসসহ বিভিন্ন জাতীয় সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ অতীতেও নেওয়া হয়েছে এবং তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখলে ইরানও তাদের দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করবে। তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা চাপের কড়া জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।২৯ জুন সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও চুক্তি একতরফাভাবে কার্যকর হতে পারে না। পারস্পরিক আস্থা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি হয়।ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পারস্পরিক সমঝোতা একটি দ্বিমুখী রাস্তা। আমেরিকা যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে আমরাও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।’ তার এই মন্তব্যকে চলমান পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।তিনি কারও নাম উল্লেখ না করেই হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করেন। পেজেশকিয়ানের ভাষায়, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অযৌক্তিক হুমকির জবাব ইরান যুক্তি, কূটনীতি এবং প্রয়োজন হলে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে দেবে।এদিকে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে। একই উদ্দেশ্যে ইরানের প্রতিনিধিরাও সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক জেসন ক্যাম্পবেলের মতে, দোহায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে আন্তরিক আগ্রহ দেখাচ্ছে।তবে আপাতত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার প্রাথমিক ধাপ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক বক্তব্য ও পারস্পরিক সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই আলোচনা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। ২৯ জুন সোমবার দিনভর চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। উদ্ধারকাজ চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শিল্পনগরী দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। দিনিপ্রোতে হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭ বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও ৮ জন। এছাড়া খারকিভে গ্লাইড বোমা হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ বলেন, রাশিয়া দিনিপ্রোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি ইউক্রেনের আকাশ সুরক্ষায় ইউরোপের দেশগুলোকে নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।এদিকে যথারীতি এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের আটক কেন্দ্র (ডিপো)গুলোতে গত পাঁচ বছরে ৪৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। মৃতদের মধ্যে ১২ জন শিশু থাকায় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পার্লামেন্টে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন শিশু। শিশুদের মধ্যে আটজন ছেলে ও চারজন মেয়ে।সোমবার (৩০ জুন) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকায়াত-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আলোচ্য পাঁচ বছরে ইমিগ্রেশন বিভাগের বিভিন্ন ডিপোতে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জনকে আটক রাখা হয়েছিল। সে হিসাবে মৃত্যুর হার মোট আটক ব্যক্তির প্রায় ০.১৩ শতাংশ।জাতীয়তাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ফিলিপাইনের নাগরিক। পাঁচ বছরে তাদের ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ১০৯ জন এবং মিয়ানমারের ৬১ জন নাগরিক।অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, ব্রুনেই, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের মিলিয়ে আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব দেশের মধ্যে কোন দেশের কতজন মারা গেছেন, সে বিষয়ে পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।সাবাং আসনের সংসদ সদস্য ওং চেন ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা, ডিপোভিত্তিক তথ্য, জাতীয়তা, লিঙ্গ এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তার লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনে বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যগত কারণ দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে সেপসিস ও সেপটিক শক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ ও রক্তনালিজনিত জটিলতা, পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের রোগ। এছাড়া এইচআইভি/এইডস, লেপ্টোস্পাইরোসিস এবং মেনিনজাইটিসের মতো সংক্রামক রোগেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিপোতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক আটক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।এ ছাড়া সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা আটক ব্যক্তিদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের দ্রুত সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী, পোশাক ও কম্বল সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সপ্তাহে অন্তত একবার খোলা পরিবেশে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।তবে শিশুসহ শত শত মৃত্যুর এই সরকারি পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোর স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন পরিস্থিতি এবং আটক ব্যক্তিদের মানবিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিক ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের আটক রেখে পরিচালিত এসব ডিপোর পরিবেশ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনাও আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচ স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম পরিবর্তন না করায় সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পাঁচ প্রতিনিধি।সোমবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালে এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের ওয়াকআউট না করার অনুরোধ জানান।ওয়াকআউট করা ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা হলেন, ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।জানা যায়, ডাকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি ঢাবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ ‘সিন্ডিকেট’-এর সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। স্থাপনাগুলো হলো, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।সোমবার রাতে সিনেট অধিবেশনে সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এরপর সিনেট সদস্যরা এ বিষয়ে তাদের নিজ নিজ বক্তব্য দেন।আলোচনায় অংশ নিয়ে সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিষয়টিতে যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রাখার দাবি জানিয়ে এটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান। এ সময় ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শিয়ে নাম পরিবর্তনের কথা বলেন।দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপাচার্য বিষয়টি চূড়ান্ত না করে পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নিদের্শ দেন। এ নির্দেশের প্রতিবাদে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসু প্রতিনিধিরা।পরে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন ডাকসুর নেতারা। এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ছাত্রজনতার অন্যতম প্রাণের দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে প্রতিষ্ঠিত স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তন। যৌক্তিক এই দাবির প্রেক্ষিতে সারা দেশে এর মধ্যে প্রায় ৮ শতাধিক স্থাপনার নাম পরিবর্তিত হয়েছে। সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদী আইকন শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জুলাই বিপ্লবের সূতিকাগার যে প্রতিষ্ঠান, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে থাকা হল ও স্থাপনাগুলোর নাম কোনো এক অদৃশ্য কারণে এখনও পরিবর্তিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি এবং গণস্বাক্ষরের প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পেশ করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম উক্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেন এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিন্ডিকেটে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠানো হয়েছিল।কিন্তু আজ জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দুই বছর পর অনুষ্ঠিত প্রথম সিনেট অধিবেশনে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এবং কৃত্রিম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দেখিয়ে ফের বিষয়টি সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এই সিদ্ধান্ত শুধু অযৌক্তিকই নয়, শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে তুচ্ছ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।তাদের দাবি, শেখ মুজিবের নামে হল বহাল থাকায় সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত যে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং, হেনস্তা ও ভিকটিমাইজেশনের শিকার হচ্ছে, তা তুলে ধরার পরেও বাস্তবতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এমনকি মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময়ও হলের ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে শুধু ফ্যাসিবাদী আইকনের নাম হলের নাম বহাল থাকায়।তাদের মতে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী আইকনদের প্রতি প্রশাসনের এই সুপ্ত দরদ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা।এই অন্যায্য, অযৌক্তিক ও হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে আমরা আজকের সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি।এই ওয়াকআউট ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, বরং ঢাবির শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি তাদের নৈতিক অবস্থানের প্রকাশ বলে জানান তারা।
ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে ফের জেলের জালে ২ কেজি ৪শ গ্রাম ওজনের একটি রাজা ইলিশ ধরা পড়েছে। ইলিশ মাছটি নিলামে তোলার পর ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে মাছটি বিক্রি করা হয়।মৎস্য আড়তের মালিক মমিন তালুকদার জানান, সোমবার বিকাল ৫ টায় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের জেলে ইসমাইল গোরামি মাঝিসহ তার জেলে সঙ্গীরা রামনেওয়াজ সংলগ্ন মেঘনায় মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় জালে অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে একটি রাজা ইলিশ ধরা পড়ে। এই উপকূলের জেলে ও মৎস্য আড়তদাররা বড় সাইজের ইলিশকে রাজা মাছ বলে।রামেওয়াজ মৎস্য ঘাটের ব্যাপ্যারী ও আড়তদারের মমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তের বাক্সে নিলামে তোলা হয়। পরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৩শ টাকায় মাছটি ক্রয় করেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদার মমিন তালুকদার।আড়তদার মমিন তালুকদার জানান, বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি আড়তে বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি। তিনি নিজে আড়তদার ও ঢাকায় মাছ চালান করেন। মঙ্গলবার ঢাকার লঞ্চে অন্যান্য মাছের সঙ্গে রাজা ইলিশ মাছটি ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাছের আড়তে পাঠাবেন। তিনি আরও বেশি দামে মাছটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।ইসমাল মাঝী বলেন এ বসর বর্ষা মৌসুমে ইলিশের অকাল থাকলে ও বড় সাইজের রাজা ইলিশটি পেয়ে তিনি অনেক খুশি তিনি আশাবাদী সামনে আরও বেশি ইলিশ শিকার করতে পারবেন।এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক জানান, মেঘনায় বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে, এটা জেলেদের জন্য সুখবর। সামনে বর্ষায় বৃষ্টিপাত বাড়লে আরও বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জামালপুরে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।২৯ জুন সোমবার রাত সাড়ে ৭টা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত জামালপুর-ময়মনসিংহ মহা সড়কের শরিফপুর বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় গ্রাহকরা। এ সময় তারা দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করেন।অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এলাকায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছেন না। পাশাপাশি সেচ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।জামালপুর সদর থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অবরোধ তুলে দিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ৬৫ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তাবিত ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম (তুরাপ) চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আর্থিক কাঠামো এবং সরকারি অনুমোদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে এর বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাতজন সংসদ সদস্য (এমপি)।সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)-এর বিষয়ে উত্থাপিত সুশাসন ও জবাবদিহির প্রশ্নগুলোর সমাধান না করেই নতুন একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ উদ্বেগজনক।এমপিরা প্রশ্ন তুলেছেন, মন্ত্রিসভা কি আনুষ্ঠানিকভাবে তুরাপ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে? যদি অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাহলে কেন আবারও বেস্টিনেটকে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে—সেই বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।তাদের মতে, তুরাপ কেবল একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিদেশি কর্মী নিয়োগ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সংযুক্তি, অভিবাসন প্রক্রিয়া, কর্মী স্থানান্তর, নিয়োগ ব্যয়, শ্রম অধিকার এবং লাখ লাখ কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন জনপরামর্শ ও পূর্ণ স্বচ্ছতা ছাড়া করা উচিত নয়।বিবৃতিতে বলা হয়, তুরাপের ঘোষিত লক্ষ্য হলো দালালচক্রের প্রভাব কমিয়ে সরাসরি নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং নিয়োগ ব্যয় হ্রাস করা। তবে শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিশ্চিত হবে না। কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে পুরোনো শোষণব্যবস্থাই নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।সংসদ সদস্যরা স্মরণ করিয়ে দেন, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)-এর প্রতিবেদনে এফডব্লিউসিএমএস পরিচালনায় একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয় বছরেরও বেশি সময় সরকার ও বেস্টিনেটের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই সিস্টেমটি পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া সুপার অ্যাডমিন আইডির নিয়ন্ত্রণ, অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে আবেদন অনুমোদন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়ও সেখানে চিহ্নিত করা হয়েছিল।একই সঙ্গে ২০২২ সালের অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদনে এফডব্লিউসিএমএস ব্যবস্থাপনাকে অসন্তোষজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব বিতর্কের মধ্যেই সরকার ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বেস্টিনেটের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে, যেখানে প্রতি বিদেশি কর্মীর জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২১৫ রিঙ্গিত করা হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে একই প্রতিষ্ঠানের হাতে আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা।তাদের দাবি, তুরাপ বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) অথবা স্বচ্ছ রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। শুধুমাত্র এফডব্লিউসিএমএস পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।বিবৃতিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, তুরাপ চালু হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া উৎস দেশে নিয়োগ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সংযুক্তি, প্রবেশ অনুমোদন, পারমিট নবায়ন এবং কর্মীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে একচেটিয়া ব্যবসায়িক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এমপিরা বলেন, বেস্টিনেটের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ১২ বছরের চুক্তির আওতায় হতে পারে এবং প্রতি বিদেশি কর্মীর আবেদনে প্রায় ১ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৯৫০ রিঙ্গিত) পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। পাশাপাশি একজন কর্মীর এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ফি আরোপের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। যদিও এসব শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবুও তা ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং কর্মীবান্ধব সংস্কারের প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।এমপিরা সরকারের কাছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দাবি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তুরাপের মন্ত্রিসভা অনুমোদনের অবস্থা, বেস্টিনেটকে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়ার ভিত্তি, উন্মুক্ত দরপত্র না হওয়ার কারণ, প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো, বিদেশি কর্মীদের তথ্যের মালিকানা ও নিরাপত্তা, এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা।তারা বলেন, মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রকৃত সংস্কার জরুরি। অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, ঋণের বোঝা, দালালচক্রের শোষণ এবং প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়ার মতো অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। তবে সংস্কারের নামে বহু দালালের পরিবর্তে একটি শক্তিশালী বেসরকারি একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কোনো সমাধান হতে পারে না।যৌথ বিবৃতিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে, সংসদ ও জনগণের সামনে তুরাপ প্রকল্পের সব তথ্য প্রকাশ না করা পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পের ক্রয়প্রক্রিয়া, ব্যয়ের কাঠামো, তথ্য সুরক্ষা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামো এবং কর্মী সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন পেতালিং জয়ার এমপি লি চিয়ান চুং, সুবাংয়ের এমপি ওং চেন, ওয়াংসা মাজুর এমপি জাহির হাসান, বালিক পুলাউয়ের এমপি মুহাম্মদ বখতিয়ার ওয়ান চিক, আমপাংয়ের এমপি রোদজিয়াহ ইসমাইল, সুংগাই সিপুতের এমপি কেসাভান সুব্রামানিয়াম এবং গোপেংয়ের এমপি তান কার হিং।
মালয়েশিয়ায় অপহরণ মামলায় সাত বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে খালাস পেয়েছেন দুই বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক| দেশটির আপিল আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অপহরণের অভিযোগে দেওয়া দোষী সাব্যস্তের রায় বাতিল করে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন|মুক্তি পাওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন ৪২ বছর বয়সী ফারুক শাহাবুদ্দিন এবং ৪০ বছর বয়সী হোসনেয়ারা বেগম রবেসালি| সোমবার তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে তাদের আপিল মঞ্জুর করেন| বেঞ্চের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি আজমি আরিফিন| অপর দুই বিচারপতি ছিলেন রাদজি আবদুল হামিদ ও আহমদ শাহরির সালেহ|রায়ের ফলে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৬১ সালের অপহরণ আইনের ৩(১) ধারায় দেওয়া দোষী সাব্যস্তের রায় বাতিল করা হয়| একই সঙ্গে আলোর সেতার হাইকোর্টের দেওয়া ৩০ বছরের কারাদণ্ড এবং ফারুকের ওপর আরোপিত এক বেত্রাঘাতের সাজাও বাতিল করা হয়|এর আগে ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আলোর সেতার হাইকোর্ট ফারুক ও হোসনেয়ারাকে দোষী সাব্যস্ত করেন| অভিযোগ ছিল, তারা ২০১৮ সালের ২২ ডিসে¤^র রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে কেদাহর কুলিম বাসস্টেশন এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম সলিহউদ্দিনকে অপহরণ করেন|রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, তারা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সাইফুলকে আটকে রেখেছিলেন|তবে আপিল শুনানিতে ফারুকের আইনজীবী আরএসএন রায়ের যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপক্ষ অপহরণ মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভুক্তভোগীকে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিপ্রায় প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে|আদালত পঞ্চম সাক্ষী নূর আলী স্যাফিখ মারজুকির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন| তিনি জানান, যেই বাড়িতে সাইফুলকে পাঁচ দিন আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল, সেই সময় তিনি নিজেও সেখানে অবস্থান করছিলেন| তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল অবাধে চলাফেরা করতেন; তাকে কোথাও আটকে রাখা হয়নি কিংবা তার চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি|আপিল আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ঘটনাটি সাইফুলের বাবার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়ে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না|ফারুকের পক্ষে আইনজীবী আরএসএন রায়ের ও আর. থান্ডাইয়ুথাবানি এবং হোসনেয়ারার পক্ষে আহমদ তৌফিক বাহারোম আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন| রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর সিতি রাফিদাহ জয়নুদ্দিন|
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭১৬।সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬২৩ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪১ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ জন। একই সময়ে ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১১ জনে।
ঋণ খেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে নির্বাচনে জয়ী হলেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।৩০ জুন মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।একই বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।এর ধারাবাহিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে তার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিতে পারেননি।সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর বিজয় কার্যকর হচ্ছে না। ফলে ওই আসনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচন কমিশনের করণীয় নির্ধারণের পথও উন্মুক্ত হলো।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭৫০ জন মেডিক্যাল ও সমসংখ্যক নার্সিং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে দ্রুত হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ রাখায় শত শত মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুধু বই পড়ে চিকিৎসক বা নার্স হওয়া সম্ভব নয়; এ জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা ও রোগীর সংস্পর্শ অপরিহার্য। হাসপাতালের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও মানবিক ও সেবাধর্মী মডেলে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতার প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যতটা কঠোর ও সক্রিয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। সরকারি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির ঘটনাতেও অনেক সময় দায়ীরা পার পেয়ে যায়। অপরাধ যেখানেই ঘটুক, সরকারকে উভয় খাতকে সমানভাবে দেখতে হবে।আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা থাকলে তার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।এ ছাড়া বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা থেকে দেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, মাঝপথে হাসপাতাল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানবিক ও যৌক্তিক কারণে দ্রুত আদ-দ্বীন হাসপাতালটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানান তিনি।
নড়াইলের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের পুলিশ সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে জেলার ৪টি থানা এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ২৬ টি মোবাইল ফোন ও অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ৫১ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। ৩০ জুন বেলা সাড়ে ১১ টায় উদ্ধারকৃত স্মার্ট ফোন ও টাকা ভুক্তভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।মোবাইল ও টাকা ফেরত পেয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা এগুলো পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, পুলিশ তাদের মোবাইল ও টাকা উদ্ধার করে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। তারা তাদের মোবাইল ও টাকা খোয়া গেলে নিকটস্থ থানায় ঘটনার বিষয়ে জিডি করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, নড়াইল টিমের সাথে যোগাযোগ করেন।অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন সিকদার, মোঃ আলাউদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মোঃ আব্দুল খালেক, অফিসার ইনচার্জ, সিসিআইসি সহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, নড়াইলে কর্মরত পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাজিল দারুণ প্রত্যাবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করল। প্রথমার্ধে জাপানের কাছে গোল খায় তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকার পর গোল শোধ দেয় সেলেসাও। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, যখন ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই। তখনই গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি চমকে দিলেন। তার ৯৬তম মিনিটের গোলে ২-১ ব্যবধানে শেষ ৩২ এর ম্যাচ জিতল ব্রাজিল, পেল শেষ ষোলোর টিকিট।প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়েছে। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দেয়। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি। বিজ্ঞাপন৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারেস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।এর কিছুক্ষণ পরেই গ্যাব্রিয়েল ব্যাক পোস্টে আরও একটি ডিপ ক্রস বাড়ান। এবার রায়ান হেডের মাধ্যমে বলের নাগাল পেলেও সুজুকির গায়ে লেগে বলটি পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং ব্রাজিল একটি কর্নার পায়।তবে জাপানের দৃঢ় রক্ষণের কারণে কর্নার থেকে কোনো সুযোগ তৈরি হতে পারেনি এবং তারা ব্রাজিলকে পেছনে হটে যেতে বাধ্য করে।৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়।ইনজুরি টাইম ছিল ৬ মিনিটের। একেবারে শেষ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে এক বিপজ্জনক জায়গায় তানাকা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষকে দিয়ে বসেন। গিমারায়েস মার্টিনেল্লির উদ্দেশ্যে একটি থ্রু পাস বাড়ান। চোখের পলকে বলটি নিজের বাম পা থেকে ডান পায়ে নিয়ে নেন মার্টিনেল্লি এবং সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে পোস্টে লাগিয়ে বল জালে জড়ান!
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্ববাজারে সোনার দর ১ শতাংশের বেশি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার চেয়ে এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়তে পারে; এমন প্রত্যাশাই বাজারে বেশি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম অক্টোবর ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের পথে রয়েছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে।২০২৪ সালের পর এটিই বুলিয়নের প্রথম ত্রৈমাসিক দরপতন। পাশাপাশি ২০১৩ সালের জুন ত্রৈমাসিকের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির জল্পনাও জোরালো হয়েছে।মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ সুদের হারের প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী ডলার-এই তিনটি বিষয় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পক্ষে থাকা অন্যান্য ইতিবাচক কারণকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।যদিও স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এই মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা এখন চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৬৪ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন এ সপ্তাহে প্রকাশিতব্য জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান এবং অকৃষি কর্মসংস্থানের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।এদিকে মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো লাভের পথে রয়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক মূল্যবান ধাতু কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এ সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। যদিও ইরান জানিয়েছে, এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সময়ে তেলের দাম ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে।এডওয়ার্ড মেয়ারের ধারণা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।এর আগে সবশেষ গত ২৯ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।বিশ্বাবাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে। এই তিনটি ধাতুই মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানের পথে রয়েছে।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফিনিক্স সামিট ২০২৬ শনিবার (২৭ জুন) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। অনুষ্ঠানে সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।সামিটের মূল কনফারেন্সে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সহনশীলতা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলা বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সম্প্রতি চীন সফরে তাদের নীতিনির্ধারকদের সাথে প্রযুক্তি বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কীভাবে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সফট পাওয়ার কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন। আমাদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই নবীন। এই ডেমোগ্রাফিক বাস্তবতা আমাদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে, যদি আমরা তা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি। এই আয়োজন থেকে বোঝা যাচ্ছে আমাদের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তাদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।”এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের ফাউন্ডার ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার একটি যৌথ উদ্যোগ। গত কয়েকদিনে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সামিটে যে জ্ঞান-বিনিময়, সহযোগিতার সুযোগ এবং নতুন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকে তৈরি হওয়া সংযোগ ও উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথকে সুদৃঢ় করবে।”দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগ দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি), পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ১০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সেশন, কর্মশালা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে যুক্ত হন। সামিটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল অংশ নেয়। এতে, ক্লাব পার্টনার হিসেবে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও নলেজ পার্টনার হিসেবে দেশি-বিদেশি ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সামিটে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংগঠনটির সদস্যদের নিষ্ঠা, দলগত প্রচেষ্টা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।সাইবার নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে আজীবন নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) সুমন আহমেদ সাবিরকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অনার অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সাইবার নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এবং নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’ কর্মশালা বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস ফর প্র্যাকটিশনার্স’, ‘মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি: ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এবং ‘র্যানসামওয়্যার মেকানিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।সামিটটি সফল হতে সহযোগিতা করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ)। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এক্সেনটেক পিএলসি। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), ম্যাগনাস কর্পোরেশন, সান্স ইনস্টিটিউট, এমজিএইচ, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও ম্যাক্সক্রিট। এছাড়াও, ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এগ্রোশিফট, গোল্ড কিনেন, এপনিক, বিজিআই, সাইহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সিটিজেনস ব্যাংক, বেঙ্গল ইনফোসেক লিমিটেড ও অরেঞ্জ সল্যুশন লিমিটেড। সাইবার সিকিউরিটি নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এপনিক, সান্স ইনস্টিটিউট ও রিসিকিউরিটি। পাশাপাশি, ফেলোশিপ পার্টনার হিসেবে ফ্ল্যাক্সঅপ্টিক্স জিএমবিএইচ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে এসসিআইটিপি ও আইএসপিএবি রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’