নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেরই বিভিন্ন বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। বৈঠকে তারা এসব বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, অক্ষরে অক্ষরে সেভাবেই বাস্তবায়ন করব।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেন। একটি দল লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং আরেকটি দলের প্রতিনিধি শেষ মুহূর্তে অসুস্থতাজনিত কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে সেগুলোও পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে নতুন করে পুরনো সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আসা হলে প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন কোনো প্রস্তাব থাকলে তা লিখিতভাবে কমিটির কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান।বিশেষ কমিটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বৈঠক করার পরিকল্পনার কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোচ্ছেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে, সনদে তার প্রতিফলন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এবং কিছু বিষয় আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য।জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে তা নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাওয়া আসনের অনুপাতে, আবার কেউ মোট ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এসব বিষয়ও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না—এমন প্রচারণা চালিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি সংখ্যাধিক্যের কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না—এটা সম্পূর্ণ অসত্য।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করব। যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই আমরা যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসার চেষ্টা করব।বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল অংশ না নিলেও প্রক্রিয়াটি একপাক্ষিক নয় বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেনি এমন রাজনৈতিক দলও আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে।নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ লিখিত বক্তব্য বা প্রস্তাব দিলে তা কমিটি বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুন (১৯)-এর মরদেহ গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ডিসি তেজগাঁও ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডিসি তেজগাঁও বলেন, লাশ এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।এর আগে গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আলোচনায় আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন স্কুলছাত্র মারা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে তারা নিখোঁজ হয়।মারা যাওয়া তিনজন হলো- মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিশ এলাকার মো. ফারুকের যমজ ছেলে আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিনের ছেলে আবির হোসেন (১৪)।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফিন ও আশিকিন। আবির একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি ও ফারিজ আহমেদ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে চার বন্ধু মিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে থাকা ফারিজ আহমেদ পানি থেকে উঠে এলেও আরিফিন, আশিকিন ও আবির তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও পুলিশ এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আরিফিন ও আশিকিনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এক ঘণ্টা পর অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী ফারিজ আহমেদ জানায়, আমরা আজ স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাশবন দেখতে এসেছিলাম। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসলে নামি। আমি তীরের কাছাকাছি থাকায় বেঁচে যাই। কিন্তু আমার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদীর পাড়ের একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদী ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা ছিল। নোঙর করা বাল্কহেডের পাশে শিক্ষার্থীরা গোসলে নামে। এসময় একটি বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করে চলে যাওয়ার সময় ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গোসলে নেমে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন পানি থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে সহযোগিতা করেছে। নিখোঁজ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা, শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমা এবং কারাদণ্ডের পরিবর্তে গৃহবন্দিত্ব মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাককে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ। তার জরিমানা পরিশোধে অর্থ সংগ্রহে নেমেছে ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক দল উম্নো। তহবিল চালুর একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে জমা পড়েছে ১০ লাখ রিঙ্গিত। তবে নাজিব বলেছেন, তাকে সহায়তা করতে গিয়ে কেউ যেন আর্থিক চাপ বা বাধ্যবাধকতা অনুভব না করেন।উম্নোর উদ্যোগে গঠিত ‘নাজিব রাজাক সলিডারিটি ফান্ড’-এ গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১০ লাখ রিঙ্গিত জমা পড়ে। প্রথম ঘণ্টায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৫ রিঙ্গিত এবং তিন ঘণ্টায় ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬২ দশমিক ০২ রিঙ্গিত সংগ্রহ হয়। দলটির মহাসচিব দাতুক আসরাফ ওয়াজদি দুসুকি জানান, অনেকেই ১০ ও ৫০ রিঙ্গিত করে অনুদান দিয়েছেন।নাজিবের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, তার প্রতি মানুষের সংহতি ও সহায়তার প্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে স্পর্শিত। তবে তার কারণে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক কিংবা সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের আর্থিক বোঝা বহন করতে হবেএমনটি তিনি চান না। কেউ সহায়তা করলে তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।তহবিল চালুর পর উম্নো সমর্থকদের আরও অনুদানের আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি ১০ রিঙ্গিত করেও অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আসরাফ ওয়াজদি। উম্নো সভাপতি দাতুক সেরি আহমাদ জাহিদ হামিদি জানিয়েছেন, দলীয় নেতা, সদস্য ও সমর্থকদের পাশাপাশি নাজিবকে সমর্থন জানাতে ইচ্ছুক যে কেউ স্বেচ্ছায় তহবিলে অর্থ দিতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে ও আইন মেনে পরিচালনার কথাও জানান তিনি।তবে এ উদ্যোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাজিবের জরিমানা পরিশোধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। একই অর্থ আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের সহায়তায় ব্যবহার করা যায় কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।এরই মধ্যে নাজিবের শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, নাজিবের ক্ষমার আবেদন করার অধিকার রয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব জনসাধারণের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তির ওপর কীভাবে পড়তে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।আনোয়ার বলেন, নাজিবের জন্য শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার পথ তিনি তৈরি করে দিয়েছেন এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক বন্দির মতো নাজিবেরও ক্ষমার আবেদন করার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার রক্ষার অবস্থান তিনি আগেও জানিয়েছেন।শাহ আলমে আয়োজিত ‘হাই-টি রিইউনিয়ন পেরিন্তিস রিফর্মিস’ অনুষ্ঠানে আনোয়ার বলেন, নাজিবের আবেদন ক্ষমা বোর্ডের বিবেচনায় যাওয়ার অধিকার রাখে। ইয়াং দি-পারতুয়ান আগংয়ের সভাপতিত্বে গঠিত ক্ষমা বোর্ডই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।আনোয়ার আরও বলেন, নাজিবের আবেদন বিবেচনার সময় তিনি ক্ষমা বোর্ডকে তার চলমান মামলাগুলো, জরিমানার অস্বাভাবিক বড় অঙ্ক এবং সিদ্ধান্তটির কারণে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জনআস্থা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তিতে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।গত শুক্রবার ফেডারেল টেরিটরিজ ক্ষমা বোর্ড নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমা দেয়। এর ফলে এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় তার অবশিষ্ট কারাদণ্ড গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ব্যবস্থা ২৩ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে এর সঙ্গে রয়েছে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধসহ অন্যান্য শর্ত।অ্যাটর্নি জেনারেল তান সেরি মোহাম্মদ দুসুকি মোকতার জানিয়েছেন, শর্তসাপেক্ষ এ ক্ষমা কেবল এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় দেওয়া কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নাজিবের বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলার ওপর এ ক্ষমার সরাসরি কোনো প্রভাব নেই।
২০২৯ সাল নাগাদ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনের উন্নীতকরণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন,ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে প্রকল্পের কাজ আরও গতিশীল করা হবে।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটির উন্নয়ন প্রকল্প অনেক আগে নেওয়া হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৫৬ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে যেখানে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে।’মহাসড়ক পরিদর্শনের সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ নানা সংকটে দিশেহারা। কৃষকের সার নেই, পেটে ভাত নেই। যুবকের কাজ নেই, বাড়িতে নিরাপত্তা নেই। অন্যদিকে ব্যাংকে টাকা নেই, অথচ একদল লোক এখনো ‘খাই খাই’ জিকিরে ব্যস্ত।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির পথসভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, বেকারত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কৃষি খাত সংকটে পড়েছে, যুবসমাজ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ এবং আর্থিক খাত নিয়েও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিও তুলে ধরেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই রাজপথের এই কর্মসূচি। সরকার ৮ দফা দাবি মেনে নিলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথে যাওয়া হবে। আর দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৮ দফা এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।তিনি আরও বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’— শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে তিনি এ আহ্বান জানান।এ সময় ড. তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী। আমাদের এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়নই করবে না, বরং উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও সৃষ্টি করবে।’বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি।অগ্রাধিকারগুলো হলো — সংকট মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত ও প্রশমনে সক্ষম আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করা, দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয় বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নমনীয় সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখা।তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।সংলাপে আরও অংশ নেন— ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু ও পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গো।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস।
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, প্রথমদিন থেকেই বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকার দলকে অসহযোগিতা করার কারণেই কেউ কেউ (আওয়ামী লীগ) ডিসেম্বরে আসতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ।তিনি বলেন, ‘আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন বিরোধী দল উপস্থিত হয়নি। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে সব রকমের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধী দল এই সুযোগটা না দিত, লংমার্চ যদি না করত, তাহলে এই সুযোগটা পেতো না।’শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লাইন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ এই আয়োজন করেন।পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদে বসে ভালো কথা বলে। কিন্তু বাইরে গিয়ে ভালো কথা বলছে না। গত ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করছে তারা দুই এক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে, আবার পালিয়ে যায়। এই সুযোগটা তো তারা পাচ্ছে।’ বিরোধী দলের লংমার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন যারা বিরোধী দল আছে, আজকে তারা রংপুর যাচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছে। তারা গ্যাসের জন্য আন্দোলন করছে, তেলের জন্য আন্দোলন করছে। যে বাংলাদেশে গ্যাস নাই, তেল নাই, তারেক জিয়াকে এখনই গ্যাস দিতে হবে, এখনই সব বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমরা তো একটা ধ্বংসস্তুপের ওপর দায়িত্বে এসেছি। আমরা এসেই কি ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সব দিয়ে দিতে পারব?’মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যে লংমার্চ অথবা রোডমার্চ করছে, সেখানে কি তেল খরচ হচ্ছে না? রাস্তাঘাটে কি মানুষের ক্ষতি হচ্ছে না? মানুষের চলাফেরার মধ্যে জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে না? অসুস্থ রোগীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে না? তাহলে বিরোধী দল কি এটা কোনো ভালো কাজ করল? কিন্তু উনারা বারবার সংসদে বলছে তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে, সরকারকে সহযোগিতার নমুনা যদি এই ধরণের হয়, এটা কি সহযোগিতা হইলো?’শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বিএনপিকে একটা চাপে রেখে তারা (বিরোধী দল) ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। এভাবে কি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যায় নাকি? এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে। ভোটের এক সপ্তাহ আগে হাতের ভেতর আইডি কার্ড নিয়ে টাকা দিয়ে কিছু ভোট নিয়েছে। আমাদের কিছু মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে কিছু ভোট নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য ভবিষ্যতে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরণের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘৫ই আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদের লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ই আগস্ট আসেনি। এই ৫ই আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপটটা তৈরি করেছে বিদায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।’ ইত্তেফা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা নাহিদর ১৩ বছরের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশেও ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন, পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে।এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ডায়নামিক নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ামক শক্তি, যা দেশকে দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন করছেন। তিনি জনগণের প্রতি মমত্ববোধ, দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং বিদেশ সফরের নামে অর্থ অপচয় বন্ধ করে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নজিরবিহীন শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জনগণ এমন নির্মোহ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী আর পায়নি।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি পৌর সদরে 'কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী নানা চক্রান্ত ও অপতৎপরতা’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে দাউদকান্দি পৌর সদরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। দাউদকান্দি পৌর বিএনপি এই মিছিলের আয়োজন করেছে। সমাবেশে ড.খন্দকার মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রের ব্যয় হ্রাসের জন্য নির্ধারিত ৯ দিনের সফর ৪দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তিনি সেখানে সংবর্ধনা গ্রহণ না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন করছেন। ঘুষ, দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ দেখে মানুষ অনেক খুশি।তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিদেশ সফরে সরকারী অর্থব্যয়ে রাজসিক আয়োজনে সফর সঙ্গীদের বিশাল বহরকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সীমিত আয়োজন,রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম ও দায়িত্ববোধ এক ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা বহন করছে।ড. মারুফ আরও বলেন, তারেক রহমানের মতো একজন মানবিক ও জনবান্ধব সরকার প্রধানের বিরুদ্ধেও বিরোধী জোট কটূক্তি করছে, যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। একই সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা বিদেশে বসে সন্ত্রাস ও সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে। এটি নিন্দনীয় ও দু:খজনক। রাজনীতি হচ্ছে, শুভবুদ্ধির প্রতিযোগিতা। সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে দেশকে অশান্ত করার নাম রাজনীতি নয়।তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সন্ত্রাস ও সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সমাবেশ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সাবেক সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, বিএনপি নেতা আরিফ মাহামুদ, পৌর যুবদলের আহবায়ক শরীফ চৌধুরী, দাউদকান্দি যুব দলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার ও পৌর যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান লিমন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক আসিফ কবির প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন স্কুলছাত্র মারা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে তারা নিখোঁজ হয়।মারা যাওয়া তিনজন হলো- মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিশ এলাকার মো. ফারুকের যমজ ছেলে আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিনের ছেলে আবির হোসেন (১৪)।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফিন ও আশিকিন। আবির একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি ও ফারিজ আহমেদ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে চার বন্ধু মিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে থাকা ফারিজ আহমেদ পানি থেকে উঠে এলেও আরিফিন, আশিকিন ও আবির তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও পুলিশ এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আরিফিন ও আশিকিনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এক ঘণ্টা পর অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী ফারিজ আহমেদ জানায়, আমরা আজ স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাশবন দেখতে এসেছিলাম। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসলে নামি। আমি তীরের কাছাকাছি থাকায় বেঁচে যাই। কিন্তু আমার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদীর পাড়ের একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদী ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা ছিল। নোঙর করা বাল্কহেডের পাশে শিক্ষার্থীরা গোসলে নামে। এসময় একটি বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করে চলে যাওয়ার সময় ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গোসলে নেমে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন পানি থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে সহযোগিতা করেছে। নিখোঁজ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও পেশাদার এবং দলভিত্তিক নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। ব্যাগি ক্যাপের পর এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রতিটি দলকে বিশেষভাবে তৈরি কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দলগুলোর হাতে এসব হেলমেট তুলে দেওয়া শুরু হবে। বিদেশে বিশেষভাবে তৈরি করা এই হেলমেটগুলো শুধু এবারের জন্য নয়, দলের জন্য স্থায়ীভাবেই রাখা হবে।ভারতের জনপ্রিয় Shrey (শ্রেয়) ব্র্যান্ডের হেলমেট প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ব্র্যান্ডটির আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত, কেএল রাহুল থেকে শুরু করে তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই মাঠে বলের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে এই ব্র্যান্ডের হেলমেট ব্যবহার করে থাকেন।কোনো খেলোয়াড়ের হেলমেটের সাইজে সমস্যা হলে সেটিও পরিবর্তন করার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে যোগ দিলে তার জন্যও নতুন কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করবে বিসিবি। এনসিএলে দলভিত্তিক এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও আলাদা ও পেশাদার পরিচয় তৈরি করার লক্ষ্য বিসিবির।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
'জুলাই যোদ্ধাদের ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে নিরাপদ হওয়া যাবে না; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হামলাকারীরাই নিজেদের আরও অনিরাপদ করে তুলছেন ' বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন।সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইতালিতে তাকে হেনস্থার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধনের দাবি, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।এ সময় বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনায় শুধু তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।বাঁধন আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের পরিবেশ পুনরুদ্ধার, সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে গত ৪৬ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি খাত-সমর্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ চারা বিতরণ কর্মসূচি বনায়ন।১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা বনায়ন গত সাড়ে চার দশকে সারা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। এই দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চলতি বছর দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বনায়নের। দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের সহনশীলতা ও জলবায়ু মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।বর্তমানে সারা দেশে ১৯টি নার্সারির মাধ্যমে বনায়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব নার্সারিতে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়। বনায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ৭০:৩০ প্রজাতি বিন্যাস কৌশল, যেখানে দ্রুতবর্ধনশীল বনজ প্রজাতির পাশাপাশি দেশীয় ও ঔষধি গাছকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে বনায়ন সারা দেশের কৃষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছে। একই সঙ্গে ১১৯টি ঔষধি উদ্ভিদবাগান প্রতিষ্ঠা করেছে কর্মসূচিটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঔষধি উদ্ভিদের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিচিতি বাড়ানোর সহায়তা করা হচ্ছে।পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে, বিভিন্ন সামাজিক ও জনসমাগমস্থলে এবং পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সবুজ আচ্ছাদন বাড়িয়ে চলেছে বনায়ন। পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কাজ করছে কর্মসূচিটি।পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বনায়ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে। এর মধ্যে পাঁচবার বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।বনায়নের মুখপাত্র আহমেদ রায়হান আহসানউল্লাহ বলেন, “বনায়নের ৪৬ বছরের পথচলা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি এটি আমাদের জন্য একটি চলমান দায়িত্বও। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হওয়ায় বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি। গত ৪৬ বছর ধরে বনায়ন সারা দেশে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে আসছে। চলতি বছর আমরা দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা করেছি, যা দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’— শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে তিনি এ আহ্বান জানান।এ সময় ড. তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী। আমাদের এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়নই করবে না, বরং উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও সৃষ্টি করবে।’বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি।অগ্রাধিকারগুলো হলো — সংকট মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত ও প্রশমনে সক্ষম আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করা, দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয় বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নমনীয় সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখা।তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।সংলাপে আরও অংশ নেন— ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু ও পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গো।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস।
লিবিয়ায় আটকে পড়া এবং বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ ১৬৮ জনকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বেনগাজি শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছে, গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা এসব বাংলাদেশি বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) করে আজ সকাল ১০টা ৪ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার অবৈধ চেষ্টা করতে গিয়ে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।এতে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান।অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করারও আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।আইওএম দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে যাতায়াত ব্যয়, খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিইউপি ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাথে অংশীদারিত্বে ‘স্ফূরণ ৬.০’-কে সহযোগিতা করছে। ফটোগ্রাফি, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, আর্ট ও কার্টুন প্রদর্শনীকে একত্রিত করে স্ফূরণ ৬.০ একটি অনন্য সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।বিইউপি ফটোগ্রাফি সোসাইটির আয়োজনে এবং অপোর স্পনসরশিপে স্ফূরণ ৬.০ সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের তরুণ সৃজনশীলদের জন্য একটি উন্মুক্ত স্থান তৈরি করেছে, যেখানে তারা ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে বিশ্বকে কীভাবে দেখে ও উপলব্ধি করে তা তুলে ধরতে পারবেন।এই আয়োজনে চারটি সৃজনশীল বিভাগ রয়েছে, ক্যামেরা ফটোগ্রাফি, মোবাইল ফটোগ্রাফি, আর্ট ও কার্টুন প্রদর্শনী। ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিগুলোতে ওপেন থিম রাখা হয়েছে, যেখানে স্মার্টফোন, পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা, পোলারয়েড, ডিজিটাল ক্যামেরা বা ডিএসএলআর দিয়ে তোলা রঙিন ও সাদা-কালো উভয় ধরনের ছবি জমা দেওয়া যাবে। এই আয়োজনের কেন্দ্রে মৌলিকত্ব ও অথেনটিক ভিজ্যুয়াল এক্সপ্রেশন রয়েছে এবং প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ১০টি ছবি জমা দিতে পারবেন।আর্ট ও কার্টুন প্রদর্শনী সৃজনশীল প্রকাশের এই পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। এখানে হাতে আঁকা ও ডিজিটাল উভয় ধরনের কাজ গ্রহণযোগ্য; পেইন্টিং, ইলাস্ট্রেশন ও কার্টুন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে, যা তরুণ শিল্পীদের নিজেদের স্টাইল, ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ দিচ্ছে।অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বিইউপি শিক্ষার্থীরা অপোর এক্সক্লুসিভ অভিজ্ঞতা ও সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে অপো কেয়ার সার্ভিস, ফান অ্যান্ড গেম এক্টিভিটিজ, ডিসকাউন্ট ও ইএমআই সুবিধা। পাশাপাশি, ফ্রি প্রোটেক্টিভ ফিল্ম, ক্লিনিং অ্যান্ড ডিজিনফেকশন, সিস্টেম আপগ্রেড, ১ ঘণ্টার ফ্ল্যাশ ফিক্স, পার্টস ডিসকাউন্ট এবং আইওটি পণ্য ও এক্সেসরিজে বিশেষ অফার।এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের জেনারেল ম্যানেজার ডেমন ইয়াং বলেন, “তরুণ সৃজনশীলরা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বকে দেখার নতুন উপায় নিয়ে আসে। স্ফূরণ ৬.০-এর জন্য বিইউপি ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাথে আমাদের এই সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা সেই সৃজনশীলতাকে সহযোগিতা করতে চাই।”
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।