মার্কিন বাহিনী ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত সামরিক উপায়ে জোর করে দখল করতে চেয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের কারণে সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএ ‘র এক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ১৯ মে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা শহরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) সদর দপ্তরে একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন বেশ কয়েক জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা; মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্ষদ জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত ছিলেন সে বৈঠকে। এমনকি এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য জেনারেল ড্যান কেইন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের শরিক রাষ্ট্রগুলোর সেনাপ্রধানদের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের সূচি কাটছাঁট করেছিলেন বলে জানা গেছে।বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার জন্য একটি স্থল অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন কর্মকর্তারা। কীভাবে সেই অভিযান পরিচালনা করা হবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনাও তৈরি করেন। তারপর জেনারেল ড্যান কেইন সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার খসড়া সমেত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুমতি চান।কিন্তু জেনারেল ড্যান কেইনের এই প্রস্তাব শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল করে দেন। মার্কিন সেনাপ্রধানকে তিনি বলেন, সামরিক উপায়ে ইউরেনিয়ামের দখল নিলে ইরানের তরফ থেকে গুরুতর প্রতিক্রিয়া আসবে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। তাছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পের পাশাপাশি দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনার একটি বড় কারণ। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ পরিষদ ইন্টান্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটি (আইএইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে। এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ বা পরিশুদ্ধ। বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলেই এই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান।২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আইএইএ এই তথ্য জানানোর পর ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তগত করতে ওই মাসেই দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের পরামণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারলেও ইউরেনিয়ামের কোনো সন্ধান পায়নি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দফায় দফায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ হয়েছে; কিন্তু কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই সংলাপ।এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রায় ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই যুদ্ধবিরতি এখনও চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বোমা তৈরির জন্য পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান তার ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে— অন্যদিকে ইরান এ অভিযোগ বার বার প্রত্যাখ্যান করে বলেছে— ইরানের পরমাণু প্রকল্পের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।ইরানের এই ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় আছে— তা এখনও রহস্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান, ইরান তার সমৃদ্ধ পরমাণুর মজুত শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করুক।সূত্র : সিএনএন
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার করা রোগীদের ঢাকার ৬ সরকারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১১ জুনের স্মারক মোতাবেক আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে তাদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হলো।যেসব হাসপাতালে রেফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো-১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল২. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল৩. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল৪. মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল৫. কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং৬. বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট
রাজধানীর উত্তরায় হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মো. অনিককে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা বিভাগ পুলিশ। উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগের তদারকিতে পরিচালিত অভিযানে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ব্ল্যাক লেভেল মদের বোতল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অনিক তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকার মো. আলমের ছেলে।উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর জানান, অনিকের বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং পল্টন থানায় আরও একটি মাদক মামলা রয়েছে।তিনি আরও জানান, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তে কথিত পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।সমাবেশে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইনের চেষ্টা আমাদের বিজিবি ও সীমান্তের জনগণ রুখে দেবে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের ঘটনা বন্ধে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে কার্যকর আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই।প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আবু জার গিফারী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের দাবি, মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং স্লোগান দেন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাঁকে গুলি করে।’শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালীর জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তেল সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।টুকু বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের পর কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে।মন্ত্রী জানান, এ সময় সরকার প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের ড্রাই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তা ভোক্তাদের কাছে কম দামে সরবরাহ করার কারণে একটি বড় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান বিল পরিশোধ ও খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়।মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বিজয়ের পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত হারে গ্যাস অনুসন্ধানে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে যেসব দেশ সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে, তারা সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রফতানি পর্যন্ত করছে।উপদেষ্টা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশকেও এই খাতে অগ্রসর হতে হবে।ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—অনেক বিনিয়োগকারী জানিয়েছে যে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায় সামলিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে আবার বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতে পারে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক পাওয়ার প্ল্যান্ট যথাযথভাবে মেরামত বা মেইনটেনেন্স করা হয়নি, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হয়েছে, যা ভোক্তার কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুকু জানান, এসব ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ফেভারেবল অপিনিয়ন পাওয়া গেলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ লাখ মিটার অর্ডার দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার হয়নি এবং গুদামে পড়ে আছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।ডিপিডিসির প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।রাজধানীর একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, শাহবাগ এলাকার পেছনে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হলেও এসব প্রকল্পের আয় কাঠামো ও অর্থনৈতিক যুক্তি দুর্বল ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হলেও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রফিট বা রিটার্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজধানীর হাতিরঝিল থানার রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় ইয়াসিন খান পলাশ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বলছে, পলাশ ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী।শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ২টার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান।তিনি বলেন, আজ পলাশের বাসায় মিলাদ ছিল। মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি রামপুরা টিভি সেন্টারের উল্টো পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই সময় মোটরসাইকেলযোগে এসে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হাতিরঝিল রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ১৮-২০ বছর জেল খেটে মাস খানেক আগে জামিনে বের হয় সে। তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত দশটি মামলার সন্ধান পেয়েছি আমরা। তবে কারা তাকে গুলি করেছে সেই বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গুলিবিদ্ধ পলাশ।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি নিখোঁজ শিবির নেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।শুক্রবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান আহমেদ অপহৃত হয়েছেন। ১৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরও তিনি উদ্ধার না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?”জামায়াত আমির অবিলম্বে জিসান আহমেদকে উদ্ধার করে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্রামে থাকা ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার নিখিল চৌধুরী। ৩০ বছর বয়সী লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার বর্তমানে তাসমানিয়া ও হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলছেন।বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন তিনি। ব্রিসবেনের গ্রেড ক্রিকেটে খেলার সময় নিখিলের প্রতিভায় মুগ্ধ হন তৎকালীন হারিকেন্স কোচ জেমস হোপস। এরপর থেকেই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে টানা তিন মৌসুম খেলেছেন তিনি।২০২৪-২৫ মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নিখিল। এরপর তাসমানিয়ার হয়ে লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ইতোমধ্যে শেফিল্ড শিল্ডে একটি সেঞ্চুরি এবং এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার।নিখিলকে দলে নেওয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমেইড বলেন, ‘নিখিল বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের নজরে ছিল। এই সফরের জন্য তিনি স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন এবং ব্রিসবেনের প্রস্তুতি ক্যাম্পেও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে গত মৌসুমে বিবিএলে তার পারফরম্যান্স আমাদের মুগ্ধ করেছে। এ বছর আইপিএলেও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। বাংলাদেশ সফরে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেকের সুযোগ পেতে পারে।’অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পাওয়া নিখিলের পেছনের গল্পটা নজরকাড়া। ২০২০ সালে কুইন্সল্যান্ডে থাকা চাচার সঙ্গে দেখা করতে অস্ট্রেলিয়ায় যান নিখিল। তখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেই থেকে যান। ফলে তার অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ অস্ট্রেলিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না থাকলেও দেশটিতে টানা পাঁচ বছর বসবাস করেছেন তিনি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অস্থায়ী নাগরিক একটি দেশে কমপক্ষে ৩ বছর বা টানা ৩৬ মাস বসবাস করলেই ওই দেশের জাতীয় দলে খেলতে পারবেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন নিখিল।এদিকে ভারতে জন্ম নেওয়া নিখিল পাঞ্জাবের হয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ১২টি টি-টোয়েন্টি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে খেলবেন তিনি।বাংলাদেশের বিপক্ষে যদি নিখিল একাদশে খেলার সুযোগ পান, তবে ৬২ বছর পর প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে তুলবেন তিনি। ১৯৬৪ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেগস্পিনার রেক্স সেলারস।এছাড়া বাংলাদেশ সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে আসা লিসা স্টালেকারও ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। ভারতের পুনেতে জন্ম এই নারী ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণে মোট ১৮৭ ম্যাচ খেলেছেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় তারা ব্যর্থ হন।শুক্রবার (১২ জুন) সকালে প্রাগপুর নামক এলাকা দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতের নদীয়া জেলার করিমপুরের চর মেঘনা এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী, চারজন পুরুষ ও চারজন শিশু রয়েছে।বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের চর মেঘনা সীমান্ত দিয়ে প্রাগপুর সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে তাদেরকে পুনরায় ভারত সীমান্তে ফেরত পাঠান।কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি বলেছেন, সীমান্তে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে রাতের আঁধারে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। তবে তাদের চেষ্টা প্রতিহত করা হচ্ছে এবং হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালীর জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তেল সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।টুকু বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের পর কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে।মন্ত্রী জানান, এ সময় সরকার প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের ড্রাই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তা ভোক্তাদের কাছে কম দামে সরবরাহ করার কারণে একটি বড় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান বিল পরিশোধ ও খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়।মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বিজয়ের পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত হারে গ্যাস অনুসন্ধানে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে যেসব দেশ সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে, তারা সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রফতানি পর্যন্ত করছে।উপদেষ্টা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশকেও এই খাতে অগ্রসর হতে হবে।ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—অনেক বিনিয়োগকারী জানিয়েছে যে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায় সামলিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে আবার বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতে পারে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক পাওয়ার প্ল্যান্ট যথাযথভাবে মেরামত বা মেইনটেনেন্স করা হয়নি, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হয়েছে, যা ভোক্তার কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুকু জানান, এসব ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ফেভারেবল অপিনিয়ন পাওয়া গেলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ লাখ মিটার অর্ডার দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার হয়নি এবং গুদামে পড়ে আছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।ডিপিডিসির প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।রাজধানীর একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, শাহবাগ এলাকার পেছনে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হলেও এসব প্রকল্পের আয় কাঠামো ও অর্থনৈতিক যুক্তি দুর্বল ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হলেও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রফিট বা রিটার্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্তে কথিত পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।সমাবেশে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইনের চেষ্টা আমাদের বিজিবি ও সীমান্তের জনগণ রুখে দেবে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের ঘটনা বন্ধে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে কার্যকর আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই।প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আবু জার গিফারী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের দাবি, মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং স্লোগান দেন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাঁকে গুলি করে।’শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্রামে থাকা ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার নিখিল চৌধুরী। ৩০ বছর বয়সী লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার বর্তমানে তাসমানিয়া ও হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলছেন।বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন তিনি। ব্রিসবেনের গ্রেড ক্রিকেটে খেলার সময় নিখিলের প্রতিভায় মুগ্ধ হন তৎকালীন হারিকেন্স কোচ জেমস হোপস। এরপর থেকেই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে টানা তিন মৌসুম খেলেছেন তিনি।২০২৪-২৫ মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নিখিল। এরপর তাসমানিয়ার হয়ে লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ইতোমধ্যে শেফিল্ড শিল্ডে একটি সেঞ্চুরি এবং এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার।নিখিলকে দলে নেওয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমেইড বলেন, ‘নিখিল বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের নজরে ছিল। এই সফরের জন্য তিনি স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন এবং ব্রিসবেনের প্রস্তুতি ক্যাম্পেও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে গত মৌসুমে বিবিএলে তার পারফরম্যান্স আমাদের মুগ্ধ করেছে। এ বছর আইপিএলেও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। বাংলাদেশ সফরে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেকের সুযোগ পেতে পারে।’অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পাওয়া নিখিলের পেছনের গল্পটা নজরকাড়া। ২০২০ সালে কুইন্সল্যান্ডে থাকা চাচার সঙ্গে দেখা করতে অস্ট্রেলিয়ায় যান নিখিল। তখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেই থেকে যান। ফলে তার অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ অস্ট্রেলিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না থাকলেও দেশটিতে টানা পাঁচ বছর বসবাস করেছেন তিনি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অস্থায়ী নাগরিক একটি দেশে কমপক্ষে ৩ বছর বা টানা ৩৬ মাস বসবাস করলেই ওই দেশের জাতীয় দলে খেলতে পারবেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন নিখিল।এদিকে ভারতে জন্ম নেওয়া নিখিল পাঞ্জাবের হয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ১২টি টি-টোয়েন্টি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে খেলবেন তিনি।বাংলাদেশের বিপক্ষে যদি নিখিল একাদশে খেলার সুযোগ পান, তবে ৬২ বছর পর প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে তুলবেন তিনি। ১৯৬৪ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেগস্পিনার রেক্স সেলারস।এছাড়া বাংলাদেশ সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে আসা লিসা স্টালেকারও ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। ভারতের পুনেতে জন্ম এই নারী ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণে মোট ১৮৭ ম্যাচ খেলেছেন।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসহ দেশজুড়ে ১০৩ প্রেক্ষাগৃহে একযোগে চলছে মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত সিনেমা‘রকস্টার’। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মেগাস্টার শাকিব খানের ‘রকস্টার’। ঈদের দিন থেকেই দেশজুড়ে ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা শহরের সিংগেল স্ক্রিন- সব মিলিয়ে বড় পরিসরেই দর্শকের সামনে আসছে ছবিটি। আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’-এ এক রকস্টারের উত্থান, খ্যাতি, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক। মুক্তির আগে গান, পোস্টার ও প্রচারণায় আলোচনায় আসে সিনেমাটি। ঈদের হাফ ডজন ছবির ভিড়েও ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশজুড়ে সিনেমাটির হল বণ্টনের তালিকায় চোখে পড়ছে বড় পরিসরের উপস্থিতি। রাজধানী ঢাকায় ‘রকস্টার’ চলছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সবকটি শাখায়— বসুন্ধরা সিটি, এসকেএস টাওয়ার (মহাখালী), সীমান্ত সম্ভার, সনি স্কয়ার (মিরপুর), মিলিটারি মিউজিয়াম ও উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে। এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, টঙ্গীর সাবা সোহানা সিনেপ্লেক্স এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
এবার ঈদে বেশ কয়েকটি চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন নন্দিত মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। ওয়েব ফিল্ম সারার সংসারে অভিনয় এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ঈদ আনন্দমেলার নাচ পরিবেশনের পর এবার নতুন খবর,মিউজিক ভিডিওতেও দেখা মিলবে তার। ‘পেনসিল হিল’ শিরোনামের এই গানচিত্রটি পরিচালনা করেছেন শোয়েব আহমেদ। গানটি গেয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আলতাফ। একই সঙ্গে তিনি গানটির কথা লিখেছেন এবং সুরও করেছেন। মিউজিক ভিডিওতে মৌয়ের সঙ্গে মডেল হিসেবে দেখা যাবে গায়ককেও। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ: খামেনিমধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ: খামেনিনতুন কাজটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মৌ বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘আমার গরুর গাড়িতে’ গানের মিউজিক ভিডিওতে জাহিদ হাসানের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলাম। এখন মিউজিক ভিডিওর ধরন পাল্টেছে। প্রচুর মিউজিক ভিডিও হচ্ছে। অনেক প্রস্তাব পাই; কিন্তু করা হয়ে ওঠে না। আসিফ আলতাফ যখন জানালেন ‘পেনসিল হিল’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে আমাকেই লাগবে। নাম শুনে বেশ আগ্রহ হলো। গানটা শুনলাম। খুব ব্যতিক্রমী একটা গান। আধুনিক জীবনের বিষাদ ফুটে উঠেছে গানে। রাজি হয়ে গেলাম। স্বজনদের টানে ঈদের ছুটিতে শহর ছাড়ার হিড়িকস্বজনদের টানে ঈদের ছুটিতে শহর ছাড়ার হিড়িকজানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় গানচিত্রটি আসিফের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর বোর্ডের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন— অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।এই মূহুর্তে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইসলামী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া অস্থিরতার বিষয় গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও।এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনো চলছে। মাঠের কর্মসূচির পর এবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।এদিকে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছেন- এমন অভিযোগ ওঠার পর তা ব্যাংকিং সেক্টরে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।এর মধ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) এ ইস্যুতে সংসদেও পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছে সরকার ও বিরোধী দল। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির অতীত অনিয়ম এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহারের নানা খতিয়ান সংসদে তুলে ধরা হয়।অন্যদিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি তুলেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া ব্যাংকটির তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এরই মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তাও চেয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। সবশেষ বুধবার (১০ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনায় ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংক খাতের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ হামলায় অন্তত ৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এ সময় নিহত হয়েছে ভারতীয় এক নাগরিক।বুধবার রাতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের খোঁজ নিচ্ছে।বিবৃতিতে কুয়েতে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রকেট বা ড্রোন হামলা এবং সেগুলো প্রতিহত করার দৃশ্য ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।একইসঙ্গে ওইসব ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করতেও বলা হয়েছে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী, এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।এ পরিস্থিতিতে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা রক্তদানে সক্ষম, তাদের জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে 'অফিসিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার' হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। ক্রিকেটের মাঠের উন্মাদনার সাথে ই-মবিলিটির নতুন দিগন্তকে যুক্ত করার লক্ষ্যে এই পার্টনারশিপ।মাঠের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অদম্য স্পৃহা, ডেডিকেশন এবং শ্রেষ্ঠত্বকে সম্মান জানাতে এই সিরিজের অফিসিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে থাকছে বিশেষ স্বীকৃতি। ২২ গজে বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামানো সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বাংলাদেশি বোলারকে তাঁর অসামান্য নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত করবে ভি মটো বাংলাদেশ।সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই যুগান্তকারী পার্টনারশিপ সম্পন্ন হয়। উক্ত আয়োজনে ভি মটো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ভি মটো গ্রুপের কান্ট্রি ডিরেক্টর (দক্ষিণ এশিয়া) মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজীব নূর। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট অপারেশনসের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।এই কোলাবোরেশনের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপন এবং প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও অগ্রগতির প্রতি উভয় প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটের গৌরবময় অর্জনগুলোর সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি একটি প্রতিযোগিতামূলক, রোমাঞ্চকর এবং স্মরণীয় সিরিজের প্রত্যাশা করছে ভি মটো বাংলাদেশ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’