প্রথম ধাপে দেশের ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। পাশাপাশি ৬ বছর বয়সিদেরও তথ্য নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৮ নভেম্বর) ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধাপে সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।আখতার আহমেদ জানান, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। তবে অব্যবহৃত ইভিএমগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।এছাড়া ইসি ছয় বছর বয়স থেকেই নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত পরিস্থিতির কারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় নিয়ন্ত্রক শক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার জোর তৎপরতা চলছে।রোববার ( ৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইস্যুটিকে সক্রিয় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি মূলত একটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু। তাই এর সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সর্বস্তরের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করা হয়েছে।শামা ওবায়েদ বলেন, এ লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি কাজ করছে।রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করায় কক্সবাজারসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এ ছাড়া, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানবপাচার, অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এবং বাংলাদেশি জেলেদের আটকের মতো ঘটনায় এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নতুন শিশুর জন্ম এবং পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।সংকট সমাধানে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও নতুন নতুন শরণার্থী সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যাকে সচল ও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।
গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেছেন পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিক। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করেন।রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরের পর অর্ধশতাধিক শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে কাশিমপুর থেকে কোনাবাড়ির জরুনের দিকে আসেন। এ সময় তারা আশপাশের কারখানাগুলোতে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। ওইসব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল।এ সময় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানার ভেতরে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা ওই শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। খবর পেয়ে বিজিবিও ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ও লাঠি পেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল থেকে শিল্পাঞ্চল স্বাভাবিকভাবে চলছিল। বেলা ৩টার দিকে ওই একই দাবি জানিয়ে মন্ডল গ্রুপের বেশকিছু শ্রমিক জরুন মোড়ে আসে। এ সময় তারা ৬ থেকে ৭টি কারখানায় ঢিল ছুড়ে মারে। পরে পুলিশ ও বিজিবি তাদের লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সরিয়ে দেয়। এ সময় ৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে গাজীপুরে ৭টি কারখানা ছাড়া সব কারখানায় উৎপাদন চলছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এ দেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এটি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের জেগে ওঠা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক।তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পেছনে প্রেরণা ছিল ৭ নভেম্বর।’আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা দেশের স্বাধীনতাকে অন্য একটি দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তখন যারা প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবাদ করেছিলেন তাদেরকে রক্ষীবাহিনী গঠন করে হত্যা করা হয়েছিল।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ ও সৈনিকরা রাস্তায় নেমে আসে। ৭ নভেম্বর ছিল সৈনিক-জনতার এক অভূতপূর্ব বিপ্লব, যা বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়।তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের সমর্থনে নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করেন। তার সময়ে অসংখ্য টেলিভিশন ও সংবাদপত্র চালু হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পায়।রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আসে। কলকারখানার উৎপাদন আবার সচল হয়। এ সময়ে গ্রাম পুলিশ ও মহিলা পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষ একইভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এ সময়ে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল।তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়।তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে।রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে এখনও নির্ভীক ও অতন্দ্রভাবে জেগে আছে। এই দেশকে কারও সেবাদাস হতে দেওয়া যাবে না।বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি সহজ-সরল পথের রাজনীতি, সিরাতুল মুস্তাকিমের রাজনীতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের অঙ্গীকার কখনো ভঙ্গ করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি। তবে কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও কথায় কথায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এ সময় রুহুল কবির রিজভী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে বৈঠক। বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও কমিটির সদস্য তারেক রহমান।বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও কমিটির সদস্য ডা. মো. শফিকুর রহমান, কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ও কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য মো. নাহিদ ইসলাম।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা, অদম্য সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি, পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।রোববার (৮ নভেম্বর) দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পৃথক বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। দেশপ্রেমিক সিপাহী জনতা '৭৫-এর ৭নভেম্বর অতন্ত্র প্রহরী হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। জিয়ার হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। জাতির শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। এইদিন জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। সবাইকে নিয়ে আধুনিক সমৃদ্ধ দেশ গড়তে এক দলীয় বাকশালের শৃঙ্খল থেকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলকে মুক্ত করেন। বন্ধ ঘোষিত জাতীয় দৈনিকের প্রকাশনা ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরে একটি দল ক্ষমতায় এসে লুটপাট, চুরি ডাকাতি করে '৭৪-এ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে। তাদের সোনার ছেলেরা দেশকে অস্থিতিশীল ও তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম ও মানবিকতা দিয়ে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। ফ্যাসিস্ট দলটির নেতা যেখানে ব্যর্থ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন।খন্দকার মারুফ বলেন, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সকালে রেডিওতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, 'আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।' তাঁর এই শানিত বক্তব্য জাতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক বার্তা।তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করেছে। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিতে রেখেছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতামাতার আদর্শ ধারণ করে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনটি দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পলাতকরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। দেশপ্রেমিক জনগণ এইসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিবে। ড. খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমান দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতা দিয়ে পিতার মতোই আগামীর সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সক্ষম হবেন। তিনি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন।কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এম.এ লতিফ ভূইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, আ.অদুদ মুন্সী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহউদ্দিন বায়েজিদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, কাউসার আলম সরকার, এম. সালাহউদ্দিন সরকার,আরিফ মাহামুদ, আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, জহিরুল ইসলাম, প্রফেসর শহীদুল ইসলাম, ডা.আবদুল কাইয়ুম, জয়নাল আবেদীন, ইউসুব হোসেন নয়ন, দিলারা শিরীন, আজহারুল হক শাহীন, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, শরীফ চৌধুরী, আতাউর রহমান ভুইয়া, মো.রোমান খন্দকার,আবদুল হান্নান, আবদুল বাসেদ প্রমুখ।
দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। একই সাথে একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম সংগঠনটির নতুন মহাসচিব (সাধারণ সম্পাদক) নির্বাচিত হয়েছেন।রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে অ্যাটকোর ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির আগামী দুই বছরের নেতৃত্ব বেছে নিতে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। নতুন কমিটির সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী এবং মহাসচিব আব্দুস সালাম গণমাধ্যম ও দেশের টেলিভিশন শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সঠিক তথ্য না থাকলে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব নয়। আমরা তথ্যের স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্যে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি।রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে পারলে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে। কিন্তু অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে রাজনীতিতে গণতন্ত্র কখনো কাজ করে না। অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে দেশের উন্নয়নও কম হয়।সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য বা ডেটা। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছাড়া কার্যকর নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তথ্য হতে হবে স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য, যাতে জনগণ, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকেরা তা বিশ্বাস করতে পারেন। সরকারি তথ্যে কারসাজি করা হলে তা সরকারের নিজের সঙ্গেই প্রতারণার শামিল।বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে কাজের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের সমন্বয়কে অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, আর সেখানে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ভূমিকা অপরিসীম। সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই দেশের বৈষম্য চিহ্নিত করা, সমস্যার সমাধান এবং নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি সম্ভব।মন্ত্রী বলেন, কোনো সমস্যার গভীরে যেতে হলে আগে সঠিক তথ্য জানতে হবে। অতীতের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করতেই সরকার পরিসংখ্যান ও তথ্যের ওপর জোর দিচ্ছে। ডেটা মূলত সরকারের ব্যালান্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করে।তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিতে জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার যত বেশি তথ্য উন্মুক্ত করবে, তত বেশি মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানা যাবে। এতে ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং নীতিনির্ধারণে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা সহজ হবে। গবেষক ও সাধারণ মানুষ যাতে সহজে পরিসংখ্যান ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য অনলাইনে একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার (ওপেন ডেটাবেজ) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য শুধু সরকারের একক সম্পদ নয়; গবেষক, নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য তা উন্মুক্ত থাকতে হবে।নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের দুর্বলতা দূর করার ওপর তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী একটি উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন। তিনি জানান, ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলেও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যের প্রয়োজন হবে।পাশাপাশি বিবিএসের বিদ্যমান জনবল সংকট নিরসনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তথ্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
ইরানের ওপর কয়েক মাস ধরে নৌ অবরোধ চালানোর পর এবার আরও বড় ব্লকেডের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের চলাচল বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে একটি বিশেষ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পথ সংকুচিত করার পাশাপাশি দেশটির অর্থের প্রবাহেও বাধা সৃষ্টি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সামগ্রীর চলাচল বন্ধে কাজ করবে এই টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন যেসব অর্থের প্রবাহকে অবৈধ বলে মনে করে, সেগুলো বন্ধ করাও দলটির অন্যতম লক্ষ্য।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার টাম্পায় হবে টাস্কফোর্স আয়রন গেটের সদর দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে দলটি।ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানের জন্য এই উদ্যোগ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে সাতটি দেশের। পশ্চিম ও উত্তরে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং পূর্বে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। সব মিলিয়ে এসব দেশের সঙ্গে ইরানের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার।এ ছাড়া উত্তরে কাস্পিয়ান সাগরের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূল রয়েছে। ফলে স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে পণ্য ও প্রযুক্তি পরিবহনের পথগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের আওতায় আসতে পারে।এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে দেশটির সমুদ্রপথের বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগরকেও লক্ষ্যবস্তু করায় তেহরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে।
উত্তর কলম্বিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন সেনা নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সান লুকাস পর্বতশ্রেণীর পাদদেশে অবস্থিত সান্তা রোসা দেল সুর শহরের একটি ঘাঁটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি। স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, এই হামলার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের লুকানোর কোনো জায়গা থাকবে না। আমাদের সেনাদের ওপর প্রতিটি হামলা কলম্বিয়াকে রক্ষা করার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে।গত আগস্টে রক্ষণশীল নেতা এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দেশটির গ্রামাঞ্চলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আগের সরকারের শুরু করা শান্তি আলোচনা বাতিল করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা বাড়ানো ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা জোরদার করেছে।
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ ও জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অপরিহার্য। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন আজ রোববার এ কথা বলেন।উপদেষ্টা বলেন, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বিন্যাসের পর তা থেকে জ্ঞানভিত্তিক উপাদান তৈরি এবং নীতিনির্ধারণে সেগুলোর ব্যবহার—পুরো প্রক্রিয়াটিই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হবে।রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মিলনায়তনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তথ্যকে কার্যকর জ্ঞানে রূপান্তরের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।পরিসংখ্যানের নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বপন চিকিৎসা ব্যবস্থার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়ের প্রতিবেদনে অবশ্যই রোগীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা তুলে ধরতে হবে। আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোনো ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা যাবে না।ওষুধ কোম্পানি, চিকিৎসক কিংবা রোগ নির্ণয়কেন্দ্র কোনোভাবেই চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষার প্রতিবেদনকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে না, যাতে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা নষ্ট হয়।একইভাবে পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াও স্বাধীন এবং বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন। অন্যথায় সংগৃহীত তথ্য প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে ব্যর্থ হবে। এতে নীতিনির্ধারকেরা বিভ্রান্ত হতে পারেন।আগের সরকারের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে স্বপন বলেন, তথ্য সংগ্রহ, পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ এবং পরিকল্পনার কাজে ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াকে কোনো পূর্বনির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তৈরি পরিসংখ্যান রাষ্ট্রের জন্য আরও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।’একজন সফল জাতীয় নেতা পদ্ধতিগত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন উল্লেখ করে স্বপন বলেন, এ প্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।নীতিনির্ধারকদের কাছে নির্ভুল, সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ তথ্য পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিসংখ্যানের পদ্ধতিগত ও সমন্বিত প্রয়োগ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে কার্যকর নীতি ও সিদ্ধান্তে রূপ দিতে সহায়তা করবে।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিনির্ধারক ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পৌঁছে দিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বপন।তিনি দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এ দেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এটি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের জেগে ওঠা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক।তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পেছনে প্রেরণা ছিল ৭ নভেম্বর।’আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা দেশের স্বাধীনতাকে অন্য একটি দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তখন যারা প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবাদ করেছিলেন তাদেরকে রক্ষীবাহিনী গঠন করে হত্যা করা হয়েছিল।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ ও সৈনিকরা রাস্তায় নেমে আসে। ৭ নভেম্বর ছিল সৈনিক-জনতার এক অভূতপূর্ব বিপ্লব, যা বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়।তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের সমর্থনে নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করেন। তার সময়ে অসংখ্য টেলিভিশন ও সংবাদপত্র চালু হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পায়।রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আসে। কলকারখানার উৎপাদন আবার সচল হয়। এ সময়ে গ্রাম পুলিশ ও মহিলা পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষ একইভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এ সময়ে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল।তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়।তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে।রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে এখনও নির্ভীক ও অতন্দ্রভাবে জেগে আছে। এই দেশকে কারও সেবাদাস হতে দেওয়া যাবে না।বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি সহজ-সরল পথের রাজনীতি, সিরাতুল মুস্তাকিমের রাজনীতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের অঙ্গীকার কখনো ভঙ্গ করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি। তবে কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও কথায় কথায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এ সময় রুহুল কবির রিজভী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।
চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাভার পৌর ছাত্রদলের বিতর্কিত সভাপতি আরমান হোসেন বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।আজ রোববার (৮ নভেম্বর) তাঁর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র দলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র দলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় তাকে সাভার পৌর ছাত্রদলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে সাভারের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মুখে পড়ে ছাত্রদল।তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ হয় বিশেষ করে সাভারে রেডিও কলোনি এলাকায় ডাব কান্ড তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
মাত্র দুই ম্যাচ আগেই টেস্টে অভিশেষ করেছেন তাওহীদ হৃদয়। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে মাঠে নেমেই ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে দলে বিপদে ফেলেছিলেন তিনি। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তবে তৃতীয় ম্যাচেই অসাধ্য সাধন করে সমালোচকদের কঠিন জবাব দিয়েছেন তিনি।বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এতদিন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের, অপরাজিত ২১৯ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হৃদয় আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিককে ছাড়িয়ে গেছেন। ২৪২ রানের অপরাজিত থেকে দলকে লিড এনে দেন তিনি।সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় হৃদয়ের নামের পাশে ১৯০ রান। সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম ইনজুরিতে পড়ায় তাসকিনই কার্যত বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ব্যাটার। আউট হলেই শেষ।সেই তাসকিনকে নিয়েই মহাকাব্যিক এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। এক প্রান্ত ধরে ধরে ৩০৪ বলে এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটার। ২০০ রান ছোঁয়ার পথে খেলার পথে ১৯টি চার আর ৭টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়।হৃদয়ের ইনিংসে বিরাট অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। দুজনের ১১৭ রানের জুটিতেই ৩০০ পার করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জুটির ইতি টানেন জোমেল ওয়ারিকেন। এরপর তাসকিন ১২ রান করে আউট হলে ৩৮৬ রানের থামে বাংলাদেশ। ৩২ রানের লিড পায় টাইগাররা।দিনের চতুর্থ শিকারে তাইজুলকে ব্যক্তিগত ২২ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন ওয়ারিকেন। ৩০১ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে মুশফিক জোমেল ওয়ারিকেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন। এরপর লিটনও ফিরেছেন মাত্র ৮ রান করে। মুশফিকের মতো ওয়ারিকেনের বলে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত ১৬ রানে। তাতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। তার বিদায়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। ১ রানের বেশি করতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ওয়ারিকেনের তৃতীয় শিকার হন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার দিওয়ালি পার্টিতে হাতে হাত রেখে হাজির হলেন তারকা দম্পতি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন। লাল গালিতে সোনালি পাড়ের উজ্জ্বল লাল শাড়িতে সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া এবং কালো শেরওয়ানিতে অভিষেক বচ্চন যেন পুরো অনুষ্ঠানের আলো কেড়ে নেন। তাদের এই জাদুকরী রসায়নের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ঝড়ের গতিতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে বলিউডে দীপাবলির উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো । মনীশ মালহোত্রা তার বাড়িতে একটি জমকালো দীপাবলি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে বলিউডের অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতি ছিল। তবে সেই পার্টির সবচেয়ে আলোচিত তারকা ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন। এ তারকা দম্পতি হাতে হাত ধরে প্রবেশ করেন ৷ মুহূর্তের মধ্যে তাদের রসায়ন সবার নজর কেড়ে নেন। উজ্জ্বল লাল শাড়িতে সজ্জিত ঐশ্বরিয়া তার স্বামী অভিষেকের হাত ধরে ভালোবাসার ভঙ্গিতে পোজ দেন। এতদিন পর এ জুটিকে একসঙ্গে দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা উচ্ছ্বসিত। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে তাদের দুজনের ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ঐশ্বরিয়াকে কখনো অভিষেকের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে, আবার কখনো তার বাহুডোরে থেকে হাসতে দেখা গেছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সাবেক বিশ্বসুন্দরী সোনালি সুতায় সূক্ষ্ম কারুকার্য করা একটি উজ্জ্বল লাল শাড়ি বেছে নিয়েছিলেন। লাল লিপস্টিক ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অভিনেত্রীকে অসাধারণ লাগছিল। অন্যদিকে অভিষেক বচ্চনকে কালো শেরওয়ানিতে সুন্দর দেখাচ্ছিল।এ তারকা দম্পতির ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসামাত্রই নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের মন্তব্যে ভরে যায়। তাদের একসঙ্গে হাত ধরে হাসতে দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। তাদের দেখে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, তাদের ওপর যেন কুদৃষ্টি না পড়ে। আরেক নেটিজেন প্রশংসা করে লিখেছেন, বহু বছর পর এমন দৃশ্য দেখলাম।অনেকেই ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের লাল শাড়ির সাজও পছন্দ করেছেন। এতদিন পর এ তারকা জুটির এমন ছবি দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা বলছেন, তাদের এভাবেই একসঙ্গে সুখী থাকা উচিত।এর আগে বেশি কিছু দিন ধরেই তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার গুঞ্জন ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনাও ওঠে। তবে কেউ-ই আনুষ্ঠানিকভাবে এ খবর নিশ্চিত করেননি।
আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময় মেজাজ হারিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরীমণি ওই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?’ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে সাংবাদিকদের ভিড়ের মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর বেজায় চটে যান অভিনেত্রী এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তবে যাকে উদ্দেশ্য করে পরীমণি এই অভিযোগ করেন, সেই সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে তা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কেন আপনার গায়ে হাত দেব? আমার ট্রাইপড ভেঙে দিলেন কেন?’ এ সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তির কণ্ঠেও প্রতিবাদ করতে শোনা যায়, যিনি বলেন, ‘আপনি টেনে হাত ছিলে ফেলছেন।’ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হেনস্তার শিকার ওই জাতীয় দৈনিকের ডিজিটাল বিভাগের সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি মূলত একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করতেই আদালতে এসেছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার সময় অন্য সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি আমিও তাঁর ফুটেজ ধারণ করছিলাম। ঠিক যে মুহূর্তে তিনি লিফটে উঠছিলেন, তাঁর বডিগার্ডরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এর পরও আমি ফুটেজ নেওয়া চালিয়ে গেলে, তিনি হঠাৎ আমার ফোনে হাত দেন এবং খামচে ধরে ফোনটি কেড়ে নেন। পরে আমি তাঁর হাত থেকেই ফোনটি উদ্ধার করি।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘মামলার শুনানি শেষ করে নিচে নামার পর আমাকে দেখে তিনি আবারও তেড়ে আসেন। এ সময় তিনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এলোপাতাড়ি অকথ্য ও গালিগালাজপূর্ণ ভাষায় কথা বলতে থাকেন।’এর আগে আজ সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন পরীমণি। শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন দেন আদালত।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বুধবার পরীমণির মনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। এজন্য সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। আশা করি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয় এলার্জি জনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একইসঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমণি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় ও প্রিয় মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে রুপালি পর্দায় পা রাখার পর থেকেই নিজের অসাধারণ অভিনয়, অনবদ্য সৌন্দর্য আর সাবলীল অঙ্গভঙ্গিতে কোটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আজ এ নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন।দীর্ঘ অভিনয়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্লকবাস্টার ও জনপ্রিয় সিনেমা। বর্তমানে এ অভিনেত্রী অবস্থান করছেন আমেরিকায়। পেয়েছেন দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি। মৌসুমী বলেন, মানুষ চলার পথে অনেক ভুল করে। সেই ভুলগুলোই একসময় জীবনে অনুশোচনা হয়ে ফিরে আসে। আবার ভুলও মানুষের জীবনে প্রয়োজন আছে। ভুল করলে মানুষ একসময় বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, সেই ভুল থেকে শেখারও চেষ্টা করে একসময়। আমি নিজেও হয়তো চলার পথে ভুল করেছিলাম, সেসব ভুল শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছি বলেই আমি আজ এত দূর আসতে পেরেছি। এটাও সত্যি, ভুল একজন মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে উপলব্ধি থেকে।এই অভিনেত্রী বলেন, ভুল করলে ঝামেলায় পড়তে হয়, তবে ভুল ফেস করাটাও জীবনের অংশ। ভুল-ভ্রান্তি, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এই নিয়েই তো আসলে জীবন। যে জীবনের যোদ্ধা আমি, আমরা সবাই।তিনি বলেন, আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করতাম, তখন সিনিয়র জুনিয়ররা একটা টিম হয়ে কাজ করতাম। যে কারণে আমরা খুব বেশি যে নিরাপত্তহীনতায় ভুগতাম এমনটা নয়। তবে হ্যাঁ ইন্ডাস্ট্রির মধ্য থেকে আমাকে, আমাদের শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেনি। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হয়েছে সবসময়।অভিনেত্রী বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটা রাজনীতির জায়গা। ছোট ছোট বিষয় নিয়েও রাজনীতি হয় এখানে। সেসব নোংরা রাজনীতির মধ্যে পড়ে যেতাম আমি, আমরা। যে কারণে এসব ঝামেলা এড়ানোর জন্য নিজেরাই গ্রুপ মেইনটেইন করতাম, যাতে বিপদে পড়লেও তা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করতাম আমাদের মধ্যে কোনো জেলাসি ছিল না। আর ইন্ডাস্ট্রি নারী শিল্পীদের যে খুব বেশি সম্মান দিয়েছে তা বলব না, নারী শিল্পীরা যতটুকুই পেয়েছে তাদের যোগ্যতার কারণেই পেয়েছে। হোক সেটা শ্রদ্ধেয় শাবানা, ববিতা ম্যাডাম কিংবা আমিসহ অন্যদের ক্ষেত্রে। আমি মনে করি তারা নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই সম্মান আদায় করে নিয়েছেন।
মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছে তাকে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন পূর্বাভাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন শুটিংয়েও। তার ভাষায়, নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যেন দ্বিতীয় জন্মের মতো।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়েও ঘুমাতে পারতেন না। ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন সময় পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া।এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত নাটকটির গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে ভীষণ মিস করছিলেন তানিয়া। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। তাই শুটিংয়ে ফেরাটা তার কাছে শুধু পেশাগত প্রত্যাবর্তন নয়, মানসিকভাবেও স্বস্তির। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। এ অবস্থায় কাজের চাপ থেকে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা।তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরদিনই জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক অনকোলজিস্টের কাছ থেকে আয়ু নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস শুনতে হয় তাকে। চিকিৎসক জানান, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে ঢাকায় থাকতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানিয়া। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তাতেও ছিল বিদায়ের সুর। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পাশে মা ও বোনকে দেখে কিছুটা সাহস পান।অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তানিয়া। বাবা না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবা করেছেন মা। পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল তার মৃত্যুর গুজবও। তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এখন নতুন করে জীবন ও কাজের স্বপ্ন দেখছেন তানিয়া। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এবারও সেই ভালোবাসা আর আগের উদ্দীপনা নিয়েই ক্যারিয়ারকে নতুন করে এগিয়ে নিতে চান।জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উদ্দেশেও দিয়েছেন সাহসী বার্তা। তার মতে, রোগের নাম শুনেই মনোবল হারালে চলবে না। মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি। কঠিন সময়েও আশা না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
টানা কাজ করা, শারীরিক ও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, বয়স বাড়া ইত্যাদি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আর এটি সৌন্দর্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে উপকারী। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।১. শশাশশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে।একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।২. কাঁচা আলুআলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়।একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ইনোভার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালে ইলেকট্রিক্যাল পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরম্ন করা ব্র্যান্ডটি মাত্র এক বছরের মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল, হোম অ্যাপস্নায়েন্স, পাম্প ও টুলস ক্যাটাগরিতে ৪০০টিরও বেশি পণ্যের সমৃদ্ধ সম্ভার গড়ে তুলেছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৭০০টি ডিলারের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজারে নিজেদের উপস্থিতি ও বিতরণ সক্ষমতা সম্প্রসারণ করেছে।প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত আকিজ হাউসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকিজ রিসোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ জসিম উদ্দিন।অনুষ্ঠানে শেখ জসিম উদ্দিন বলেন, “ইনোভার-এর এক বছরের যাত্রা আমাদের জন্য একটি গুরম্নত্বপূর্ণ মাইলফলক। অল্প সময়ের মধ্যে পণ্যের গুণগতমানের মাধ্যমে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করতে সড়্গম হয়েছি আমরা। অংশীদারদের কথা মাথায় রেখে আমরা রম্নচিশীল পণ্য তৈরিতে গুরম্নত্ব দিচ্ছি। এ জন্য আমরা আমাদের কারখানায় উন্নত প্রযুক্তি, রোবোটিক আর্ম ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) প্রযুক্তি ব্যবহার করছি”।তিনি আরো বলেন, “আমরা মনে করি, আধুনিক প্রযুক্তি, মানসম্মত পণ্য ও নির্ভরযোগ্য সেবার সমন্বয়ে ইনোভার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে। আমাদের প্রত্যাশা, ইনোভার-এর পণ্য দেশের প্রতিটি প্রাšেত্ম মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে”।আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদ আল আমিন রাজিব বলেন, “ইনোভার-এর প্রথম বছরটি আমাদের জন্য অগ্রগতি, সম্ভাবনা ও গুরম্নত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি, গুণগতমান ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে গ্রাহকের দৈনন্দিন প্রয়োজনের উপযোগী পণ্য সরবরাহ করাই আমাদের লক্ষ্য। অল্প সময়ের মধ্যে ৪০০টিরও বেশি পণ্যের সম্ভার গড়ে তোলা এবং দেশজুড়ে ৭০০টি ডিলারের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে”।তিনি আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি নয়, সেই পণ্যের সার্ভিসও নিশ্চিত করা। এ জন্য আমাদের রয়েছে দক্ষ সার্ভিস টিম, যারা দেশের যেকোনো প্রাšেত্ম ভোক্তাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করে থাকে। গ্রাহকের আস্থা অর্জন, পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত গ্রাহকসেবা প্রদানের মাধ্যমে ইনোভারকে একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য”।অনুষ্ঠানে আকিজ রিসোর্সের চিফ পিপল অফিসার মো. আফসার উদ্দিন, চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌফিক হাসান, ডেপুটি চিফ অপারেটিং অফিসার সোহানুর রহমান সোহান, আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার গোলাম কিবরিয়া সরকার, হেড অব মার্কেটিং মো. সাজ্জাদুল ইসলাম এবং হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ফয়সাল সহ আকিজ রিসোর্সের বিভিন্ন বিজনেস ইউনিটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ডিজাইনড ফর নাউ (Designed for now) উজ্জীবিত হয়ে যাত্রা শুরু করা ইনোভারের পণ্যসম্ভারে বর্তমানে রয়েছে সুইচ, সকেট, এলইডি লাইট, ইলেকট্রিক কুকার, গ্যাস স্টোভ, রাইস কুকার, গিজার, ওয়াটার পাম্প, হার্ডওয়্যার ও পাওয়ার টুলসসহ বিভিন্ন পণ্য। বাড়ি নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে শুরম্ন করে রান্নাঘর এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি পণ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহকের চাহিদা পূরণে ব্র্যান্ডটি ধারাবাহিকভাবে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও পরিসর সম্প্রসারণ করছে।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা মদিনা থেকে একটি যানবাহনে করে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান।তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে তিনজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীকে নিয়োগ দিয়েছে জেকে লাইফস্টাইল। তাঁরা হলেন মো. আব্দুল জলিল খান, আসাদুজ্জামান নূর ও মো. শাহা রিয়ার রহমান সাগীর।প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মো. আব্দুল জলিল খান গ্রুপ চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচালন ব্যবস্থাপনায় তাঁর ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস অ্যান্ড হসপিটালিটি) এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া প্রাভা হেলথ, স্কয়ার হাসপাতাল ও আজগর আলী হাসপাতালেও কাজ করেছেন তিনি।আসাদুজ্জামান নূর যোগ দিয়েছেন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্সের দায়িত্বে। এ খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ১৮ বছরের বেশি। তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ থেকে ফাইন্যান্সে বিবিএ ও এমবিএ করেছেন। এর আগে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স, লায়লা গ্রুপ, সিনড্রেলা ফ্যাশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন মো. শাহা রিয়ার রহমান সাগীর। প্রযুক্তি খাতে তাঁর ১২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেছেন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ক্লাউড অবকাঠামো ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।নতুন নিয়োগ প্রসঙ্গে জেকে লাইফস্টাইলের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ‘শিশু সুরক্ষা নীতিমালা’ বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এ ছাড়া শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি ও অনুপযুক্ত স্পর্শের কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষকদের নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ এবং অপরাধে জড়িতদের ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের আহ্বান জানান তিনি।আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী।ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, এ দেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রভাবশালী আলিম, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত খোলামেলা ও আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা করা। ভুলগুলো নিজেরা সংশোধন না করলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ নেবে, যার ফলে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই অযাচিত চাপ ও সংকটের মুখে পড়তে পারে।মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অসংখ্য সিসি ক্যামেরাহীন, অনিবন্ধিত ও তদারকিহীন প্রতিষ্ঠানের অপ্রীতিকর ঘটনার চিত্র উঠে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অনুমোদন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতির বিষয়ে আজহারী বলেন, শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ ও আবেগের ধরণ বুঝে শিক্ষকদের বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত বা ভয় দেখানোর ঘটনা শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার তাগিদ দিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, প্রতিটি মাদ্রাসায় চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশ থাকতে হবে। শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আজহারী জানান, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে পুনরায় অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।পরিশেষে মিজানুর রহমান আজহারী স্পষ্ট করেন, এই পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে দ্বীনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। আলেম-ওলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।