দীর্ঘ ২২ বছর পর শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন, নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়ে দলীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোদ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে দুপুর পৌনে ২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সবশেষে বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন দলের প্রধান।চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে ঘিরে জেলার তরুণদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, জেলাকে পর্যটন শিল্পে বিকশিত করা এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বলেন, চাঁদপুরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘দুটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ৩৭০ জনের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একইসঙ্গে চাঁদপুর থেকে দেশের ২২ জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশাবাদী খুব ভালোভাবে আয়োজনটি সমাপ্ত করতে পারবো।’এ বিষয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘এখানে সড়ক , নৌ ও রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো। চাঁদপুরে ইপিজেড করার মতো চমৎকার একটি জায়গা। এখানে ইপিজেড হলে চাঁদপুরের পাশাপাশি আশপাশের জেলার মানুষও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। অনেক দাবি-দাওয়ার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটি আমাদের অন্যতম একটি চাওয়া থাকবে।’
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টাই আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। একটা শব্দও বলেননি। অর্থাৎ চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারো সঙ্গে কথা হয়নি। এই বিষয়ে আগেও দায়িত্ব নিয়ে বলেছি, এখনও বলছি। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির সরকারের উদ্দেশে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জনগণ নির্বাচনে যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা হেরে গেছে, এই সরকার তাদেরকেই আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে দিচ্ছে। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। শুধু তাই নয় যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয়েও দলীয় আনুগত্য ভিসি, প্রো ভিসি, প্রক্টর প্রভোষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘মনে রাখবেন কোনো পরিকল্পনাই ফাইনাল না। উপরে একজন মহাপরিকল্পনাকারী রয়েছেন। আর এটা যদি ফাইনাল হতো, অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর সুন্দর করে সব কিছু সাজিয়েছিলো, কিন্তু দুদিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। রংপুরবাসী গর্বিত, আমাদের কৃতজ্ঞতা আজীবন পাবেন। আপানদের সন্তান আবু সাঈদ জীবন দিয়ে আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আবু সাঈদের নাম ছাড়া কোনো স্লোগান হয় না। এজন্য রংপুরবাসী গর্বিত।’ জামায়াত আমির বলেন, ভালো কাজ সরকারি দল, বিরোধী দল একসঙ্গে করলে দেশের উন্নয়ন হবে। জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। আমরা সেই আস্থা তৈরিতে কাজ করতে চাই। আমরা শুধু বিরোধীদল হিসেবে কাগজে কলমে কিংবা সংসদে থাকতে চাই না। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত নির্বাচনমুখি দল। আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নেবো, তবে এই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।তিস্তা চুক্তি বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, পদ্ধা ব্যারেজ হচ্ছে, সেই বিষয়কে অভিনন্দন জানাই। তবে তিস্তাকে বাদ দিয়ে নয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা চাই। এ বিষয়ে আমরা কথা বলছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা করতেই হবে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, দুনিয়ার যেখানেই মানবতার বিরুদ্ধে এই অপকর্ম হবে, সেখানেই আমাদের নিন্দা থাকবে। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কেউ কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া কাউকে দেয় নাই। কোনো সংবিধানও দেয়নি। সুধী সমাবেশে রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর সদর ৩ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর (গঙ্গাচড়া) আসন-১ এমপি রায়হান সিরাজীসহ অন্যান্য নেতারা। এর আগে ডা. শফিকুর রহমান সকালে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে তিনি রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য, জেলা ও মহানগরী আমিরসহ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুরে আমির ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার হামিদের বর্তমান অবস্থা সন্ধোষজনক ও উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। কারিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি তামিলনাড়ুর ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে ১৪মে বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা বলেন তার বাবা, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় তারা সন্তুষ্ট এবং চিকিৎসকরা একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।কায়সার হামিদ বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পর থেকেই চিকিৎসায় উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে তার ফুসফুসের চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থান স্থিতিশীল থাকলে পরবর্তী ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। আইসিইউতে সার্বক্ষণিক দুইজন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরিবারকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে জ্বর ও সংক্রমণে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে হেপাটাইটিসে ও হেপাটাইটিসই ধরা পড়ে, যার জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে আইসিইউ এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে মা ও দুই ভাই রয়েছেন। পরিবার আরও জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত কারিনা কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসতবাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধের ঘটনায় একে একে একই পরিবারের ৫জনই মারা গেলেন। সর্বশেষ সায়মা (৩৫) নামে আরও একজন মারা গেছেন। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৫ মে শুক্রবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়মা মারা যান। নিহত সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।এর আগে একই ঘটনায় মারা যান সায়মার স্বামী মো. কালাম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে কথা (১০) এবং মুন্নি (৭)। এদের মধ্যে কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এছাড়া মুন্নার ৩০ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত রোববার সকালে গিরিধারা এলাকার মো. শাহজাহান মিয়ার মালিকানাধীন নয়তলা ভবনের নিচতলায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয় পরিবারের পাঁচ সদস্যই দগ্ধ হন। বদ্ধরুমে গ্যাস জমে থাকায় ভাড়াটিয়া কালাম লাইটার দিয়ে সিগারেট জ্বালাতে গেলেই বিস্ফোরণ ঘটে।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের অধীনে শুরু হয়েছে কথিত ‘বুলডোজার অভিযান’। রাজধানী কলকাতার তপসিয়া এলাকায় একটি অবৈধ চামড়া কারখানা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে শুভেন্দু প্রশাসন।ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে কারখানার মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বহুতল ভবনটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এরপরই তিনি অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।পুলিশের উপস্থিতিতে ভবনটি খালি করে দ্রুত ভাঙার কাজ শুরু করে কলকাতা পৌরসভা।ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পৌরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, যেসব ভবনের ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, তাদের প্রথমে নোটিশ দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে যোগী আদিত্যনাথ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘বুলডোজার নীতি’ চালুর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। আর সেই হুঁশিয়ারি শতভাগ সত্যি করলেন রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার বলছে, রাজ্যের কোথাও অবৈধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হবে।তবে বিরোধী দলগুলো এই দ্রুত ভাঙার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পরিচালিত এ অভিযান ‘অসাংবিধানিক’।
দীর্ঘ ২২ বছর পর শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ দুই দশক পর সরকারপ্রধানের আগমণকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ইতোমধ্যে তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন কর্মসূচির নির্ধারিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে চাঁদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। নেতার আগমণ উপলক্ষে শহরের প্রধান সড়কগুলোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে সাজানো হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নিম্নবিত্ত মানুষের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিএ ছাড়া তিনি স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সফরটি সফল করতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে গেছেন। সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলামের কাছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ছিল তার শেষ কর্মদিবস। ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মো. সরওয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলামের কাছে তার দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কমিশনার নিয়োগ না দেওয়ায়, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে এস এন নজরুল ইসলাম আপাতত ডিএমপির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।মো. সরওয়ারের ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কাল ছিল বেশ ঘটনাবহুল। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তৎকালীন কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পদত্যাগ করেন। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. সরওয়ারকে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা চলছে। আজ টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি ২৭ দিন। আর এই সংখ্যাটা দিয়ে এক মজার তথ্য প্রকশা করেছে ফেডারেশন অব ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)। এ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসে ২৭ জোড়া বাবা ও ছেলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বাবা-ছেলে হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন মেক্সিকোর লুইস পেরেজ ও মারিও পেরেজ। লুইস খেলেছিলেন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে, আর তার ছেলে মারিও মাঠে নেমেছিলেন ১৯৫০-এর আসরে।আরেকটি মজার ঘটনা হলো মার্তি ও হোসে পান্তোলরাকে নিয়ে। বাবা মার্তি ১৯৩৪ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন স্পেনের হয়ে, কিন্তু ছেলে হোসে ১৯৭০ সালে প্রতিনিধিত্ব করেন মেক্সিকোর হয়ে।ফ্রান্সের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার লিলিয়ান থুরাম এবং তার ছেলে মার্কাস থুরাম- উভয়েই বিশ্বকাপে সফল। বাবা লিলিয়ান ১৯৯৮ সালে জিতেছিলেন শিরোপা। আর ছেলে মার্কাস ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলেছে ফাইনাল। যদিও আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স।
বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর দেশে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।১৪ মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নভো গ্রুপ ইনভেস্টর মিট-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এর বিপুল জনসংখ্যা ও তরুণ শ্রমশক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। তবে গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্পের পাশাপাশি হোম টেক্সটাইল, হস্তশিল্প, মৎস্য ও কৃষিপণ্য খাতেও ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসব খাতে বিনিয়োগ করলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোলায় জ্বালানি সম্পদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া পায়রা বন্দর, বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল এবং পর্যটন খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে। মন্ত্রী এ সময় বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত নিগুয়েন মান কুঅং, বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, নভো গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।এ সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের কৃষি খাতে সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি সমন্বিত কৃষি প্রকৌশল কাঠামো গড়ে তোলা এবং কারিগরি পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে কৃষিকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ জনবলনির্ভর খাতে রূপান্তর করতে হবে।রাজধানীর রমনাস্থ শহীদ প্রকৌশলী ভবনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে বৃহস্পতিবার “বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও সেচব্যবস্থা: সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।মীর শাহে আলম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সুশাসনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে কৃষি খাতে সমন্বয়ের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রম বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।তিনি বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো কৃষি প্রকৌশলভিত্তিক একটি বিশেষায়িত অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি। কৃষিকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি পদে অকারিগরি জনবল নিয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও কার্যকারিতা অর্জিত হচ্ছে না।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি পদে দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক স্থানে সঠিক জনবল নিয়োগের মাধ্যমেই উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল ও টেকসই করা সম্ভব। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও কৃষির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহ্রিন ইসলাম তুহিন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো প্রায় ৯৭ শতাংশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি, সময় সাশ্রয় এবং ব্যয় হ্রাস সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ জরুরি।তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রতিবছর বন্যার কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যার পানিকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পানি থেকে শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। পাশাপাশি কারিগরি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল খাত দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি আধুনিকায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশল খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে প্রতিবছর কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই ১৫ এপ্রিলের আগেই বোরো ধান কাটার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, দ্রুত ধান কাটার প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় শ্রম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বন্যা পূর্বাভাস ও পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার আহ্বান জানান তিনি।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম বলেন, দেশের প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদিত হয়। আগে এই ধান কাটতে প্রায় ৪২ দিন সময় লাগলেও আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে বর্তমানে মাত্র ২৩ দিনেই ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও লাভজনক হয়ে উঠছে।তিনি আরও বলেন, সেচ ব্যবস্থাপনায় সৌরশক্তির ব্যবহার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমছে, উৎপাদন বাড়ছে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাও নিশ্চিত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কৃষিতে পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। পানির অপচয় রোধ করে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী। তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, কৃষি অবকাঠামো, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কৃষি প্রকৌশল খাতের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃষিকে টেকসই, লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তর করতে হলে কৃষি প্রকৌশল খাতকে জাতীয় উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। দেশের সব কৃষিযন্ত্রের ডিজিটাল নিবন্ধন, অবস্থান শনাক্তকরণ, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যসচিব প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বিপ্লব। সভাপতিত্ব করেন আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মাওলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সেক্রেটারি প্রকৌশলী মো. বেলাল সিদ্দিকী।সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি খাত আরও আধুনিক, দক্ষ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে পরিণত হবে।
ফারাক্কা বাঁধের কারণে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ। এর জন্য তৎকালীন আওয়ামী সরকার দায়ী। ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য এখনও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।১৬ মে ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব সব কথা বলেছেন।বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে লাখো জনতা গঙ্গা নদীর পানি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল লংমার্চে অংশ নেয়। ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। সে এলাকায় পানিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।বিএনপির মহাসচিব বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ অব্যাহতভাবে এখনও পর্যন্ত চালু থাকায় সেটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত।স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি, আজও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে একতরফা নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে জনগণের ঐতিহাসিক মিছিল রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল। তাই প্রতি বছর ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’যেকোনও অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টাই আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। একটা শব্দও বলেননি। অর্থাৎ চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারো সঙ্গে কথা হয়নি। এই বিষয়ে আগেও দায়িত্ব নিয়ে বলেছি, এখনও বলছি। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির সরকারের উদ্দেশে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জনগণ নির্বাচনে যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা হেরে গেছে, এই সরকার তাদেরকেই আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে দিচ্ছে। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। শুধু তাই নয় যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয়েও দলীয় আনুগত্য ভিসি, প্রো ভিসি, প্রক্টর প্রভোষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘মনে রাখবেন কোনো পরিকল্পনাই ফাইনাল না। উপরে একজন মহাপরিকল্পনাকারী রয়েছেন। আর এটা যদি ফাইনাল হতো, অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর সুন্দর করে সব কিছু সাজিয়েছিলো, কিন্তু দুদিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। রংপুরবাসী গর্বিত, আমাদের কৃতজ্ঞতা আজীবন পাবেন। আপানদের সন্তান আবু সাঈদ জীবন দিয়ে আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আবু সাঈদের নাম ছাড়া কোনো স্লোগান হয় না। এজন্য রংপুরবাসী গর্বিত।’ জামায়াত আমির বলেন, ভালো কাজ সরকারি দল, বিরোধী দল একসঙ্গে করলে দেশের উন্নয়ন হবে। জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। আমরা সেই আস্থা তৈরিতে কাজ করতে চাই। আমরা শুধু বিরোধীদল হিসেবে কাগজে কলমে কিংবা সংসদে থাকতে চাই না। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত নির্বাচনমুখি দল। আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নেবো, তবে এই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।তিস্তা চুক্তি বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, পদ্ধা ব্যারেজ হচ্ছে, সেই বিষয়কে অভিনন্দন জানাই। তবে তিস্তাকে বাদ দিয়ে নয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা চাই। এ বিষয়ে আমরা কথা বলছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা করতেই হবে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, দুনিয়ার যেখানেই মানবতার বিরুদ্ধে এই অপকর্ম হবে, সেখানেই আমাদের নিন্দা থাকবে। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কেউ কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া কাউকে দেয় নাই। কোনো সংবিধানও দেয়নি। সুধী সমাবেশে রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর সদর ৩ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর (গঙ্গাচড়া) আসন-১ এমপি রায়হান সিরাজীসহ অন্যান্য নেতারা। এর আগে ডা. শফিকুর রহমান সকালে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে তিনি রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য, জেলা ও মহানগরী আমিরসহ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুরে আমির ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
সুনামগঞ্জের ছাতকে কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস (ভোক্তা অধিকার-সিআরবি) উপজেলা শাখার নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।শুক্রবার (১৫ মে) ছাতক শহরে সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভায় সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।নবগঠিত কমিটিতে শাহীন আহমেদ শাহীকে সভাপতি এবং ইমাম উদ্দিন মামুনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাকারিয়া, আলী আশরাফ তাহীদ, অজিদ কুমার দাশ ও মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ। সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইয়াছিন খান রাব্বি আহমেদ, বদিউল আলম ছালেক, সৈয়দ জুয়েল হোসেন ও ফয়জুল হক নাইম।এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাফিজ ছিদ্দিক রহমান ও অর্জুন ছন্দ। অর্থ সম্পাদক হয়েছেন ফজলুল হক। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাবুল মিয়া, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান রুবেল এবং দপ্তর সম্পাদক জাহেদ মিয়া।সভায় বক্তারা বলেন, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, বাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য।নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার জানান।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা চলছে। আজ টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি ২৭ দিন। আর এই সংখ্যাটা দিয়ে এক মজার তথ্য প্রকশা করেছে ফেডারেশন অব ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)। এ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসে ২৭ জোড়া বাবা ও ছেলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বাবা-ছেলে হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন মেক্সিকোর লুইস পেরেজ ও মারিও পেরেজ। লুইস খেলেছিলেন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে, আর তার ছেলে মারিও মাঠে নেমেছিলেন ১৯৫০-এর আসরে।আরেকটি মজার ঘটনা হলো মার্তি ও হোসে পান্তোলরাকে নিয়ে। বাবা মার্তি ১৯৩৪ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন স্পেনের হয়ে, কিন্তু ছেলে হোসে ১৯৭০ সালে প্রতিনিধিত্ব করেন মেক্সিকোর হয়ে।ফ্রান্সের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার লিলিয়ান থুরাম এবং তার ছেলে মার্কাস থুরাম- উভয়েই বিশ্বকাপে সফল। বাবা লিলিয়ান ১৯৯৮ সালে জিতেছিলেন শিরোপা। আর ছেলে মার্কাস ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলেছে ফাইনাল। যদিও আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স।
বলিউডের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘নো এন্ট্রি টু’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন বরুণ ধাওয়ান। অভিনেতা বর্তমানে তার আসন্ন ছবি ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’-এর প্রচারণায় ব্যস্ত-এমন মুহূর্তেই তার প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরটি প্রকাশ্যে এলো।প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বরুণ ধাওয়ানের এই সিনেমায় অভিনয় করার যে জল্পনা ছিল, তার এখন আর কোনো ভিত্তি নেই। সূত্রটি জানায়, ‘বরুণ ধাওয়ানের অংশগ্রহণের খবরটি এখন সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। তিনি বর্তমানে তার পরবর্তী সিনেমার প্রচারণায় পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন।’ বরুণের এই হঠাৎ প্রস্থানের পর সিনেমার কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে বরুণ সরে গেলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অভিনেতা শাহিদ কাপুরকে নিয়ে। বি-টাউনের অন্দরের খবর, ‘নো এন্ট্রি ২’-এর নির্মাতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন শাহিদ।তিনি সিনেমার মূল ধারণাটি শুনেছেন এবং খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য শুনতে পারেন। যদিও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে শাহিদের অভিনয়ের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জও এই সিক্যুয়েল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় সৃজনশীল মতপার্থক্যের গুঞ্জন উঠলেও প্রযোজক বনি কাপুর জানিয়েছিলেন, মূলত শিডিউল জটিলতার কারণেই দিলজিৎ সিনেমাটি করতে পারেননি। তবে একের পর এক তারকা সরে গেলেও সূত্রমতে, অর্জুন কাপুর এখনো এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া আনিস বাজমি পরিচালিত ‘নো এন্ট্রি’ ছিল বক্স অফিসে সুপারহিট। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সালমান খান, অনিল কাপুর ও ফরদিন খানসহ একঝাঁক তারকা। ২০২৪ সালে বনি কাপুর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি দীর্ঘ সময় পুরনো কাস্ট নিয়ে কাজ করার অপেক্ষা করেছিলেন।
অভিনেতা ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সের বাতিল করা হয়েছে। অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি।মাসুমা রহমান তানি জানান, সিনেমার একজন সহ-অভিনেত্রীর অভিযোগই ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর বাতিল করা হয়েছে।বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি বলেন, “আমরা চলচ্চিত্রটির সেন্সর দিয়েছিলাম। তখন এটির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নামে প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত একজন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জেবা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ একটি নাটক বলে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে জানান। পরে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরকিল্পনা করলে তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। তার সঙ্গে নাটকের চুক্তি হয়েছে, সিনেমার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। সে জন্যই আমরা এর মুক্তির অনুমতি বাতিল করেছি।”এই প্রজেক্টে বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীও অভিনয় করেছেন। দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে চুক্তি করেন তিনি। সম্প্রতি তিনিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।মৌসুমী এক অডিওতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা এক ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলেন, এটার শুটিং তো বেশি হয়েছে, আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি। কিন্তু খবরে দেখছি, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি।’‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে জেবার অভিযোগ ছিল, তাকে নাটকের কথা বলে কাজ করিয়েছিলেন সিনেমার পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়েন এই অভিনেত্রী। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন জেবা।‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এ মৌসুমী, হাসান জাহাঙ্গীর ও জেবা জান্নাত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
ফ্রান্সের উপকূলীয় শহর কান-এ শুরু হচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরগুলোর একটি কান চলচ্চিত্র উৎসব। মঙ্গলবার (১২ মে) ৭৯তম এই আয়োজন শুরু হবে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলা এ উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠেছে ভূমধ্যসাগর তীরের ছোট্ট এই শহর। বিশ্বের নামকরা নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কান এখন পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক সিনেমার প্রাণকেন্দ্রে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় কান শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘পালে দে ফেস্টিভাল এ দে কঁগ্রে’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।এর মধ্য দিয়েই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত রেড কার্পেট আয়োজন, যেখানে অংশ নেবেন বিশ্বের খ্যাতিমান তারকারা। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় থাকছেন ফরাসি অভিনেত্রী আইসা মাইগা। অন্যদিকে প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত নির্মাতা পার্ক চান-উক।উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে ২১টি চলচ্চিত্র।মর্যাদাপূর্ণ ‘পাম দ’র’ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সমসাময়িক বিশ্ব সিনেমার একাধিক খ্যাতিমান পরিচালক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের আসগর ফারহাদি,স্পেনের পেদ্রো আলমোদোভার, জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা, পোল্যান্ডের পাওয়েল পাভলিকোভস্কি এবং জাপানের রিউসুকে হামাগুচি।এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে আলোচনায় থাকা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পেদ্রো আলমোদোভারের বিটার ক্রিসমাস, ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউয়ের ফিয়র্ড, পাওয়েল পাভলিকোভস্কির ফাদারল্যান্ড, আসগর ফারহাদির প্যারালাল টেলস, রিউসুকে হামাগুচির অল অব আ সাডেন এবং হিরোকাজু কোরে-এদার শিপ ইন দ্য বক্স। চলতি আসরে হলিউড নির্ভরতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একমাত্র নির্মাতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ইরা স্যাক্স। তার নির্মিত দ্য ম্যান আই লাভ চলচ্চিত্রটি আশির দশকের নিউইয়র্কে এইডস সংকটের প্রেক্ষাপটে নির্মিত।উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ফরাসি নির্মাতা পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত রোমান্টিক সিনেমা দ্য ইলেকট্রিক কিস। এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রিমিয়ার বিভাগে প্রদর্শিত হবে হলিউড অভিনেতা জন ট্রাভোল্টা পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র প্রপেলার: ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ।চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের সম্মানসূচক ‘পাম দ’র’ প্রদান করা হবে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি পরিচালক পিটার জ্যাকসন এবং মার্কিন সংগীত ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ডকে। উৎসব চলাকালে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিশ্ব প্রিমিয়ার, সংবাদ সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজার কার্যক্রম একযোগে চলবে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের শতাধিক দেশের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনায়তনে পরিণত হবে কান শহর।যদিও এবারের আসরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপাদ্য ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অংশগ্রহণ, বিশ্ব সিনেমার বৈচিত্র্য এবং নারী-পুরুষ চলচ্চিত্রকারদের প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৩ মে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন। তবে পুরো উৎসবজুড়ে আন্তর্জাতিক সিনেমা অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে ফ্রান্সের কান শহর।
মা—এই শব্দের আরেক নাম আশ্রয়, ভালোবাসা ও মমতা। একজন মা কর্মজীবী হোন কিংবা গৃহিণী, প্রতিদিনের অসংখ্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জন্য খুব সামান্য সময়ই বের করতে পারেন। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো মায়েদের জন্য তৈরি করেছে নতুন এক সম্ভাবনার জগৎ।দিনের ব্যস্ততা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে অনেক মা এখন খুঁজে পাচ্ছেন বিনোদন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ। শুধু দর্শক হিসেবেই নয়, অনেকেই হয়ে উঠছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নিজেদের বাস্তব জীবনের গল্প, পরিবার, রান্নাবান্না কিংবা ছোট ছোট আনন্দঘন মুহূর্ত ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরছেন তারা, যা সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে দর্শকদের মনে।নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচার ব্যবহার অনেক অভিভাবকের জন্য এখনও কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে TikTok-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করাকে সহজ করে দিয়েছে। সংসার ও পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীলতা ধরে রাখছেন অনেক মা, যা তাদের ভিডিও কনটেন্টে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে সামিহা সাইয়ারা, আরিফা বেগম এবং মাসফিক হোসেন এখন সামাজিক মাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক মা দিবসে তাদের কনটেন্ট যেন মনে করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো তৈরি হয় আপন মানুষদের ঘিরেই।সামিহা সাইয়ারা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লাইফস্টাইল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ফ্যাশন, স্কিনকেয়ার ও দেশীয় পোশাক নিয়ে তার ভিডিও তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে তার কনটেন্টকে আরও বিশেষ করে তোলে মেয়ের উপস্থিতি। মা-মেয়ের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, মিলিয়ে পোশাক পরা কিংবা উৎসবকেন্দ্রিক ভিডিও দর্শকদের কাছে বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে আরিফা বেগম তার রান্না ও পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্তকে ভিডিওতে তুলে ধরেন। বিশেষ উৎসবের আয়োজন, পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না এবং একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দ তার কনটেন্টে ফুটে ওঠে আন্তরিকভাবে। সাধারণ ও স্বাভাবিক উপস্থাপনার কারণেই দর্শকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।এদিকে মাসফিক হোসেন, যিনি ‘লেইজি পান্ডা’ নামে পরিচিত, মাকে নিয়ে তৈরি করেন ভিন্নধর্মী কমেডি কনটেন্ট। মা-ছেলের খুনসুটি, ট্রেন্ডি চ্যালেঞ্জ ও হাস্যরসাত্মক অভিনয় তার ভিডিওগুলোকে করে তুলেছে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় নিখুঁত জীবনের ছবিই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই বাংলাদেশি মায়েরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তুলে ধরছেন বাস্তব জীবনের গল্প—রান্নাবান্না, ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়। আর তাদের এই আন্তরিক উপস্থাপনাই সহজেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে।
মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া মিম। পোশাক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বেশ আলোচিত থাকেন সবসময়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের ফ্যাশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন গণমাধ্যমে।মারিয়া মিম বলেন, তার পরনের লাল রঙের ওয়েস্টার্ন পোশাকটি ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে কেনা। ভবিষ্যতে সেখানে গেলে আরও এমন পোশাক কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। অনুষ্ঠানে নিজের সাজপোশাক প্রসঙ্গে মিম জানান, কোন ড্রেস পরবেন বা কোন লুকে হাজির হবেন, তা নিয়ে তার আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকে।সৌদি আরবে অত্যন্ত চমৎকার সব ওয়েস্টার্ন পোশাক পাওয়া যায় উল্লেখ করে মিম বলেন, আমার রেড অনেক পছন্দ, আর রেড পরলে আমাকে অনেক সুন্দর লাগে। আমার এই ড্রেসটা আমি যখন ওমরাহ করতে গিয়েছিলাম, তখন জেদ্দা থেকে কিনেছিলাম। ওখানে ওয়েস্টার্ন ড্রেস অনেক সুন্দর সুন্দর পাওয়া যায়। সো এটা আমার জানা ছিল না। আর নেক্সট টাইম আমি সৌদি আরব গেলে অবশ্যই আরও আরও অনেক ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিনব। সো আমি ওখান থেকেই নিয়েছিলাম এই ড্রেসটা।তবে পোশাকের দাম কত, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার প্রস্তাব পেলেও চিত্রনাট্য ও সহ-শিল্পী মনের মতো না হওয়ায় কাজে নামা হয়নি। তিনি বলেন, আমি তো সিনেমার অফার অনেক আগে থেকেই পাচ্ছি। বাট ব্যাটে-বলে মিলে না। আরেকটা করছি আমি, ওটার তো শুটিং আরও বাকি আছে। সো হ্যাঁ, যখন আসবে তখন তো অবশ্যই তোমরা দেখতে পারবে।অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া মিম ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। শোবিজ অঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন থাকলেও ব্যক্তিগত নানা জটিলতায় মাঝপথে তাকে থেমে যেতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে সেই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেই ব্যক্তিগত জীবন ও প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নে মেজাজ হারান মিম। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের বুম মাইক্রোফোন ছুঁড়ে ফেলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি, যা নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস (বাইফা) অ্যাওয়ার্ড পেলেন গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ। ‘মাগুরার ফুল’ শিরোনামের আলোচিত গান রচনার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।শুক্রবার (৮ মে), বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাইফা পুরস্কারের পঞ্চম আসরের সূচনা হয়। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে মাহবুবুল খালিদ ছাড়াও এবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন- ‘তুমি’ গানের জন্য আইদিদ রশিদ, ‘বাজি’ গানের জন্য ইমন চৌধুরী ও হাশিম মাহমুদ, ‘গুলবাহার’ গানের জন্য ঈশান মজুমদার, ‘লং ডিসটেন্স লাভ’ গানের জন্য শুভেন্দু দাস শুভ।সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট ও সচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গান লিখে আসছেন গীতিকার, সুরকার মাহবুবুল খালিদ। তার লেখা পাঁচ শতাধিক গান ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘খালিদ সংগীত’ প্ল্যাটফর্মে। নিজের অধিকাংশ গানের সুরকারও তিনি। মাগুরায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ৮ বছর বয়সি শিশু আছিয়াকে নিয়ে লেখা হৃদয়স্পর্শী গান ‘মাগুরার ফুল’-এর জন্য ‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে বাইফা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন মাহবুবুল খালিদ।বাইফার জমকালো এ আয়োজনে দর্শক ভোট ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে গান, নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি, নৃত্য ও ফ্যাশনসহ মোট ২৯টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবারের আসরে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন এবং ঢালিউডের বরেণ্য অভিনেত্রী কোহিনূর আখতার সুচন্দা। তারকাদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, রেড কার্পেট ও বিশেষ গ্ল্যামার সেগমেন্ট দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়।বলে রাখা ভালো, বাইফা অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসর থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান শুরু হয়। এর আগে এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা, নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মহম্মদ।‘মাগুরার ফুল’ গানটি লেখা হয়েছে মাগুরার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী মাঠপাড়া গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে।এই নির্মম ঘটনা গভীরভাবে নাড়া দেয় মাহবুবুল খালিদকে। সেই বেদনা থেকেই তিনি রচনা ও সুর করেন ‘মাগুরার ফুল’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন মৌটুসী খান, মৌলি মজুমদার ও মৌমিতা বড়ুয়া। সংগীতায়োজন করেছেন শেখ পুলক ও রোমান রহমান।গানটির শুরুতেই উঠে এসেছে এক শিশুর অপূর্ণ স্বপ্ন আর সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতা- “মাগুরার ফুল ছোট্ট মুকুল, ঝরে গেলো ফুটে ওঠার আগেই/ ডাক্তার হবার স্বপ্নটা তার, নিভে গেলো পিশাচের এক ছোবলেই...।” আবেগঘন এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।গানটি নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি মিউজিক ভিডিও, যা পরিচালনা করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। ‘খালিদ সংগীত’ শিরোনামের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৪ মে বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে গ্রাহকদের জন্য সতর্কবার্তাটি পোস্ট করে বাংলাদেশ ব্যাংক।সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের (থার্ড-পার্টি) প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ডেবিট ও ক্রেডিট প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, সিভিভি (CVV)-সহ সংবেদনশীল তথ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কিছু ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। যেমন—ক. কার্ডের গোপনীয় তথ্য ফাস হয়ে জালিয়াতির আশঙ্কা।খ. অননুমোদিত লেনদেন সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা।গ. গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি ও তথ্য নিরাপত্তা বিস্মিত হওয়া।ঘ. সামগিক কার্ড ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়া।এছাড়াও সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রদানসহ প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করা থেকে সব গ্রাহককে বিরত থাকার অনুরোধ করা যাচ্ছে। একইসঙ্গে কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করা হলো।গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবের নিরাপত্তার স্বার্থে বলা হয়েছে, আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যাংকসমূহের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো অবস্থাতেই ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (011) কিংবা কার্ডের কোনো তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। যেকোনো সন্দেহজনক লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ রইল।
ইতালির ‘ওসপেদালে দি নোলা’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের অন্যতম আস্থার ঠিকানা। আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে প্রতিদিনই এখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন বিভিন্ন দেশের মানুষ।হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সকাল থেকেই দেখা যায় রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি। জরুরি চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চিকিৎসাসেবায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক প্রবাসী বলছেন, প্রবাস জীবনে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ রোগীদের মাঝে বাড়াচ্ছে আস্থা।শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাও নজর কেড়েছে অনেকের। প্রতিদিন পরিবার নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ।বিশ্লেষকদের মতে, ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর সেই তালিকায় নোলার ‘ওসপেদালে দি নোলা’ হাসপাতাল অন্যতম।দেশ থেকে দূরে প্রবাস জীবনে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রবাসীদের মনে এনে দিচ্ছে বাড়তি স্বস্তি ও নিরাপত্তা।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অপো এ৬কের নতুন ভেরিয়েন্ট বাজারে এনেছে গ্লোবাল টেকনোলজি ব্র্যান্ড অপো। ৬ জিবি + ১২৮ জিবির নতুন এই স্মার্টফোনটি এখন সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। অপো এ৬কের প্রথম ভেরিয়েন্টটি গত মাসের শুরুতে সফলভাবে বাজারে উন্মোচিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, ক্রেতাদের আগ্রহ বিবেচনা করে উন্নত পারফরম্যান্স ও বেশি স্টোরেজ সুবিধা দিতে নতুন ভ্যারিয়েন্টটি আনা হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল আলট্রা-ক্লিয়ার ক্যামেরা, যা বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতিতেও নিখুঁত ও উজ্জ্বল ছবি ধারণ করতে সক্ষম। স্ন্যাপড্রাগন ৬৮৫ মোবাইল প্ল্যাটফর্ম সমৃদ্ধ এই স্মার্টফোন দৈনন্দিন ব্যবহার, স্ট্রিমিং, গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ে স্মুথ ও রেসপনসিভ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ব্যাটারি। উন্নত ভিউয়িং অভিজ্ঞতার জন্য অপো এ৬কেতে রয়েছে ১২০ হার্জ আলট্রা ব্রাইট ডিসপ্লে। দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতা ও নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে স্মার্টফোনটিতে এআই এডিটর ২.০, এআই গেমবুস্ট ২.০, এআই লিঙ্কবুস্ট ৩.০, থেফট প্রোটেকশন, জেমিনি ইন্টিগ্রেশন ও ৪ বছরের ফ্লুয়েন্সি গ্যারান্টির মতো উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।অপোর বিশেষ ঈদ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে, নতুন ৬ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের এ৬কে স্মার্টফোন কিনলে ক্রেতারা এক্সক্লুসিভ ৯০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি পাবেন। ৬ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের এই ডিভাইসটি এখন সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১,৯৯৯ টাকায়। ক্রেতারা দেশের যেকোনো অপো অনুমোদিত ব্র্যান্ড স্টোর ও রিটেইল পার্টনারদের কাছ থেকে স্মার্টফোনটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
গোনাহ থেকে বাঁচতে এবং হালালের পথে থাকার উদ্দেশেই জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছিলেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।বুধবার (৬ মে) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান মাদানী।সেখানে তিনি লেখেন, আল্লাহকে ভয় করা এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এমন আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন আলোচিত এ ইসলামি বক্তা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব’ শিরোনামে দীর্ঘ এক ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।সেখানে মাদানী বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্ক বা টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু লোক বলার চেষ্টা করছে, আমি নাকি আমার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় এই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে চাপে পড়ে বিয়ে করেছি। আবার অনেক নির্লজ্জরা তো বলছে টিকটকে নাকি পরিচয়, মাআযাল্লাহ! আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনোদিন দেখিনি, এমনকি তার সাথে একবারের জন্য কথাও হয়নি,আর টিকটকে জীবনে কোনদিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না!’সবচেয়ে বেশি আপত্তি তোলা হচ্ছে- কেন প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন আলোচিত এ ইসলামী বক্তা। এর জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে মাদানী দাবি করে বলেন, বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী-ছেলে বা মেয়ে-তাদের ফরম পূরণ করতে হয়। আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। উভয়পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন, আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব, আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী। আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সাথে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।নিজের পোস্টে প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, আমি সারাক্ষণ স্ত্রীর পাশে হাসপাতালে থেকেছি। ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন—৪ দিন ছিলাম রাত-দিন আমার ঘুম ছিল না, ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। যেদিন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, সেদিন অপারেশনের পর সারারাত তার বিছানার পাশে বসে থেকেছি। রাত ৩টার দিকে নার্সরাই আমার জন্য মায়া করে বলেছে, ‘হুজুর, আপনার স্ত্রী ভালো আছেন, আপনি বসে না থেকে এবার একটু ঘুমান।’গর্ভাবস্থার পুরো সময় হাসপাতালে থেকে স্ত্রীর দেখভাল করেছেন এবং সংসারজীবনে অবহেলার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি শুনে কষ্ট পেলেও তারা তার আচরণ বা দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বলেও দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া আলোচনায় আসা আইএমভি নামের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও ব্যাখ্যা করেন মাদানী। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি এমন নারী-পুরুষকে একত্র করে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় না।একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক অসহায় ও আশ্রয়হীন নারীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সহায়তার জায়গা হিসেবেও কাজ করছে।সমালোচকদের উদ্দেশে মাদানী আরও বলেন, অনেকেই একাধিক বিয়ের ইসলামী বিধানকে অপছন্দ করেন বলেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫টা ৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টিন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!’