# আড়াই মাসেও নিয়োগ হয়নি চেয়ারম্যান ও কমিশনার # প্রতিদিন জমা পড়া শত শত অভিযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় কমিশন# থমকে আছে অভিযানদেশে দুর্নীতি রুখতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একমাত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত আড়াই মাস ধরে অভিভাবক শুন্য। অন্তবর্তী সরকারের সময় ৫ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া কমিশন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন অনেকটা নাটকীয়ভাবে। এরপর আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও নতুন কমিশন গঠন হয়নি। কমিশনহীন দুদকে প্রতিদিন জমা পড়া শত শত অভিযোগ। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য পাঠানোর মতো বৈধ কর্তৃত্ব অন্য কর্মকর্তাদের হাতে না থাকায় সব অভিযোগ ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল, নতুন অনুসন্ধান, নোটিশ প্রদান, এমনকি ঘুষের বিরুদ্ধে ফাঁদ অভিযানও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি নেই এনফোর্সমেন্ট টিমেরও অভিযান। এ অবস্থায় দুদকের কমিশন কবে নিয়োগ হবে তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরী হয়েছে। যদিও কেই কেউ বলছে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আগামি জুন মাসের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন হতে পারে। অনেকটা ভেবেচিন্তে দক্ষ কমিশন গঠনে সরকার কিছুটা সময় নিচ্ছে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনো এমন অচলাবস্থার মুখে পড়েনি সংস্থাটি। কমিশন না থাকায় পুরো প্রশাসনিক কাঠামো যেন সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে গেছে। বাইরে থেকে নিয়মিত কার্যক্রম চলমান মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তদন্ত, অনুসন্ধান ও আইনগত সিদ্ধান্তের বড় অংশ স্থবির হয়ে আছে।দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান-২) মো. মোতাহার হোসেন চ্যানেল এস- কে বলেন, ‘আগের কমিশনের সময়ে যেসব অনুসন্ধান অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো সীমিত আকারে চলমান আছে। কিন্তু নতুন করে জমা পড়া অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। কমিশন না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে আছে।’জমা পড়ছে অভিযোগ, সিদ্ধান্ত নেই অনুসন্ধানের: দুদক সূত্র বলছে, পূর্ণাঙ্গ কমিশন থাকার সময় (অন্তবর্তী ও আওয়ামীলীগ সরকারের সময়) প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ত। এর মধ্যে ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ–বাণিজ্য, প্রকল্প দুর্নীতি ও সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ। এসব অভিযোগ প্রথমে চেয়ারম্যানের দপ্তরে যেত, পরে কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচাই-বাছাই সেলে পাঠানো হতো। যাচাই শেষে যেগুলো তফসিলভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলো অনুসন্ধানের অনুমোদন পেত। কিন্তু গত আড়াই মাসে সেই পুরো প্রক্রিয়াই থেমে আছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অন্তত ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু কোনটি অনুসন্ধানযোগ্য, কোনটি নয়-সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। সব অভিযোগ চেয়ারম্যানের দপ্তরে জমে আছে।দুদকের পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমান আইনে অভিযোগ যাচাই সেলে পাঠানোর ক্ষমতাও কার্যত কমিশনের হাতে। চেয়ারম্যান না থাকায় অভিযোগ শুধু জমা হচ্ছে, কিন্তু পরবর্তী ধাপে যাচ্ছে না। এতে ভেতরে ভেতরে বিশাল এক জট তৈরি হয়েছে।’কর্মকর্তারা জানান, অন্তবর্তী সরকারের সময় আওয়ামীলীগ আমলে মন্ত্রী এমপি ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আমলা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বিভিন্ন বাহিনীর সাবেক কিছু প্রভাবশীলী কর্মর্কাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সব কার্যক্রমে এখন ভাটা পড়েছে কমিশন না থাকা। অনুসন্ধান শেষ হলেও মামলা করার মতো অনুমোদন মিলছে না কমিশনা না থাকায় আবার অনেক মামলার তদন্ত শেষ হলেও অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ফলে সেগুলো আদালতে জমা দেওয়া যাচ্ছে না।থেমে গেছে ফাঁদ অভিযান ও এনফোর্সমেন্ট: দুদকের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কমিশনের কড়া নজরদারির কারণে কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ ছিল। একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০টি অনুসন্ধান ও সমপরিমাণ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পালন করতে হতো। নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হতো কমিশনকে। ঘুষের বিরুদ্ধে ফাঁদ অভিযান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট অভিযান—সবই ছিল সক্রিয়। এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশন না থাকায় মাঠপর্যায়ে কার্যত কোনো তদারকি নেই। নতুন অনুসন্ধান নেই, অভিযান নেই, জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশও দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তা এখন পুরোনো ফাইল গুছিয়ে সময় পার করছেন।’দুদকের ভেতরের আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে জনআস্থা। কর্মকর্তাদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের গতি কমে যাওয়ায় অভিযুক্তদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, দুদক আবারও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের শিকার হয়েছে। কমিশনহীন দুদক সচল রাখতে আইনের সংশোধন: বর্তমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধনী খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার না থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে দুদকের সচিব মহাপরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যক্রম চালাতে পারবেন। পরে কমিশন গঠিত হলে সেই সিদ্ধান্ত কমিশনকে অবহিত করতে হবে। সচিবের গৃহীত সিদ্ধান্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে।দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান আইনে সব ক্ষমতা কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে পুরো কমিশন একসঙ্গে পদত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না হয়, সেজন্যই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”সংশোধনী খসড়ায় কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং, বিদেশে অর্থ পাচার, কর ও শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ, পুঁজিবাজার জালিয়াতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও জালিয়াতিকেও দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিতর্কিত ৩২ (ক) ধারা বাতিলেরও প্রস্তাব এসেছে। এই ধারায় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা অনুসরণের বাধ্যবাধকতা ছিল। উচ্চ আদালত আগেই ধারাটি অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া তদন্ত ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা শিথিল, গোপন অনুসন্ধান পরিচালনা, কর্মকর্তাদের সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদেশি নাগরিকত্বধারীদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবও রয়েছে সংশোধনীতে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: দুদক সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৫ সালে একটি সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। সেখানে কমিশনার নিয়োগে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়। কমিটিতে বিচারপতি, সিএজি, পিএসসি চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি নারী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ কমিশনার অন্তর্ভুক্তির কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল করা হয়। ফলে আগের পদ্ধতিতে কমিশন নিয়োগের বিষয়টি বহাল থাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কাঠামো নাকি পুরোনো পদ্ধতি-এই দ্বন্দ্বের কারণেই কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দুদকে একাধিকবার নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করে। এর ফলে চতুর্থবারের মতো কমিশনশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর আগেও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমিশনকে বিদায় নিতে হয়েছে। দুদকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যদি দুদকের নেতৃত্বও বদলে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। চ্যানেল এস - এর সাথে আলাপকালে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘দুদকের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আড়াই মাস কমিশন না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু প্রশাসনিক স্থবিরতাই তৈরি হয় না, দুর্নীতিবিরোধী বার্তাও দুর্বল হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান দেখাতে চায়, তাহলে দুদকের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আইনের বড় দুর্বলতা হলো-সব সিদ্ধান্ত কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে পুরো কমিশন একসঙ্গে সরে গেলে প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ে। আইন সংশোধনের উদ্যোগ বাস্তবসম্মত হলেও সেটি যেন ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।”তার মতে, ‘দুদকের স্বাধীনতা শুধু আইনে লিখে দিলেই হয় না। বাস্তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে কমিশন পরিবর্তনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এই প্রতিষ্ঠান বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হবে।’এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি চ্যানেল এস-কে বলেন, দুদকের ‘কমিশন’ গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের কাজ শিগগির শুরু হতে পারে। এই মুহূর্তে সার্চ কমিটি করা হলে দুদকের আগের আইনেই কমিশন গঠন করা হবে। দুদক আইন সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য, দুদক আইন-২০০৪ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা হলেন– সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ী সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যক্তির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি একাধিক সভা করে দুদকের নতুন তিন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ছয় ব্যক্তির নাম পাঠাবে। পরে রাষ্ট্রপতি ছয় থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এই তিনজনের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে।সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এই দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল থেকেই দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (এমপি) বলেছেন, আমরা ভালো কাজের পক্ষে সবসময় পানির মতো তরল থাকবো, কিন্তু অন্যায় দেখলে ইস্পাতের মতো কঠিন হবো।শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাদের ত্যাগ ও আত্মদানের ফলে দেশে একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। স্বপ্নবাজ তরুণদের কোরবানির ফলে অনেকে কারামুক্ত হয়েছেন, কেউ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু আপনারা কৃতজ্ঞ না থেকে বিগত স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, আপনারাও সেই পথেই হাঁটছেন।তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে তরুণরা ভয়কে জয় করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। বিগত ১৭ বছর আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে অনেক আন্দোলন করেছি, কিন্তু দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত তরুণদের রক্ত ও আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। এখন সেই তরুণদেরই ‘শিশু সংগঠন’ বা ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের ৭০ শতাংশ রায়কে সম্মান করুন। জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, যদি জনগণের পক্ষে কাজ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তার জবাব দেবে। এখনো সময় আছে, এসে জনগণকে বলুন যে, আপনারা জনগণের রায় মেনে নিচ্ছেন। জনগণ উদার, তারা আপনাকে ক্ষমা করবে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আপনারা নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছিলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কেউ ক্ষমতায় বসতে পারবে না। অথচ নির্বাচন ছাড়াই এখন দেশের ৪৭টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সিটি করপোরেশনেও প্রশাসক বসানো হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম একটি গুম কমিশন গঠন করা হোক, যাতে অতীতের অন্যায়গুলোর বিচার হয়। তাতেও আপনারা কর্ণপাত করেননি।তিনি আরও বলেন, আপনারা বলেছিলেন চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, অথচ এখন ক্ষমতায় এসে বলছেন, সমঝোতার মাধ্যমে নেওয়া টাকা চাঁদাবাজি নয়। একসময় আপনাদের দলের নাম ছিল ‘জাতীয়তাবাদী দল’, এখন মানুষ বলছে সেটি ‘চাঁদাবাজ দল’।তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের বসানো হচ্ছে। জাতীয় সংসদে যদি সত্য কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা জনগণের মাঝে গিয়ে কথা বলবো, যেখানে কোনো স্পিকারের অনুমতি লাগে না। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না।জামায়াত আমির বলেন, অনেক সময় আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও হাসিমুখে জীবন দিতে পারে, তাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে সম্মান করি, কিন্তু কেউ যদি আমাদের চোখ রাঙায়, সেটি মেনে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করা হলে জনগণও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।সবশেষে তিনি বলেন, আজ পদ্মা ও তিস্তা নদীর বিশাল অংশ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। আমরা চাই নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাক। খাল কাটার কর্মসূচি ভালো উদ্যোগ, তবে নদীতে পানি না থাকলে খাল খননের সুফল পাওয়া যাবে না। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। যারা চাঁদাবাজি করতে আসবে, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু দেশের সম্মান বিসর্জন দেব না।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এসময় জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারী, বগুড়া মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল প্রমুখ।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দীন।তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্রথম আসামি ও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ড. হাসিবুর রশীদ বাচ্চুকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চারদিন পর ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন অধ্যাপক রশীদ।
বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। আজ শনিবার (১৬ মে) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অবস্থিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যলয় থেকে তফসিল ঘোষণা করা হয়।আগামী ১৭ মে বিকাল ৪টায় ঘোষিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। পরের দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলবে ঘোষিত ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ৷ আপত্তির ওপর শুনানি হবে ১৯ মে। একইদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশিত হবে।২০ এবং ২১ মে সকাল ১০টা থেকে সকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন বিতরণ। ২১ এবং ২২ মে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিলের সময় পাবেন প্রার্থীরা। ২৩ মে বাছাইকৃত মনোনয়নপত্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন৷২৪ মে একই দিনে বাছাইকৃত মনোনয়ন তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মে সকাল দশটা থেকে ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। সেদিনই দুপুর দুইটায় চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।২৫ মে পোস্টাল ব্যালট বা ই-ব্যালটের আবেদন করতে হবে। এই ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৭ জুন বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি পরিচালক এবং সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন। ফলাফল ঘোষণাও হবে একইদিনে।প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৩ ক্যাটাগরি থেকে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা-বিভাগ ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন। ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ১২ জন। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ১ জন।
বাংলাদেশকে এক সময় ভারতের মুখাপেক্ষী করা হয়েছিল, এবারও সরকার কারও মুখাপেক্ষী হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।শনিবার (১৬ মে) জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে রাজধানীর বি এম এ মিলনায়তনে তিনি এ কথা বলেন।ক্ষমতায় আসতে বর্তমান সরকার কোথাও মাথা দিয়ে এসেছে কিনা, এটি এখনো স্পষ্ট না। বাংলাদেশ এতদিন ভারতের মুখাপেক্ষী ছিল, এই সরকারও কারও মুখাপেক্ষী হতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সব মিলিয়ে সরকারের পররাষ্ট্র নীতি বাংলাদেশের পক্ষেই হবে বলে বিশ্বাস করি। সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সরকার প্রথম থেকেই সংসদকে ব্যর্থ করেছে। শুধুমাত্র পিআর স্ট্র্যাটেজি করে দেশ চালানো যায় না। দেশ পরিচালনা করতে হলে জনগণের সঙ্গে যে কমিটমেন্ট দেয়া হয়েছে, তা পালন করতে হবে।স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে নাহিদ আরও বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অনেক সংকট চলছে। সরকার সফলভাবে তা নিরসন করতে পারছে না। হামে ৪০০ শিশুর মৃত্যু, সরকারের ব্যর্থতা। সরকার শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নিজের হাত পরিষ্কার করতে চায়। সরকারের উচিত এই মুহূর্তে জরুরি অবস্থা জারি করা। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, বাংলাদেশের নদীতে ভারত বাঁধ বসিয়ে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে পানির অধিকার চাই আমরা। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের হওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে কোনো কথা হয়নি। এটা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে।
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সামরিক প্রধান নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, তারা গাজায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করেছে। খবর আল জাজিরার।টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার গাজা সিটিতে এক হামলায় ওই সদস্য নিহত হন। তবে আল-হাদ্দাদের নিহত হওয়ার বিষয়টি এখনো হামাসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার মাধ্যমে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে হাসপাতালগুলোতে আরও ১৩টি মরদেহ এসেছে। এ ছাড়া ৫৭ জন আহত ব্যক্তিকেও আনা হয়েছে।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৮৭০-এ পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৪৩ জনে। এই সময়ে মোট ৭৭১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন এবং অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কাছে পৌঁছাতে ক্রমাগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে গান, মিষ্টিমুখ ও হারিকেন মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।১৬ মে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘর গেইট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।কর্মসূচিতে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ ছিল বাংলার কৃষক সমাজের দীর্ঘদিনের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিজয়। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও শোষণের রূপ বদলালেও তার চরিত্র বদলায়নি। তিনি বলেন, “জমিদারি প্রথার আধুনিক সংস্করণ ‘চাঁদাবাজির রাজনীতি’ উচ্ছেদ করতে হবে।”অন্যান্য বক্তারা বলেন, আজও কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। সেই বাস্তবতায় জমিদারি উচ্ছেদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তারা।মিছিলটি জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা হারিকেন হাতে মিছিলে অংশ নেন এবং পরে উপস্থিত সবার মাঝে মুড়ি, বাতাসা ও জিলাপি বিতরণ করা হয়।এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে কৃষকের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বিদেশি আগ্রাসন বিরোধী, দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়।জেডিপির নেতারা বলেন, বাংলার আপামর কৃষক শ্রেণীর মুক্তির ঐতিহাসিক এই দিন কেবল অতীত স্মরণের বিষয় নয়; বরং বর্তমান সময়েও শোষণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরণা। তারা জনগণের অধিকারভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির উদ্ধারকর্মী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, একটি ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের পরপরই আগুনের লেলিহান শিখা বাস ও আশপাশের যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে।পরে দমকল কর্মী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক পুলিশ।দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, উদ্ধারকারী একাধিক দল দুমড়েমুচড়ে যাওয়া যানবাহনের ভেতর থেকে আহতদের বের করে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন।বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ওই এলাকা ঠান্ডা করা ও জমে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। হতাহতদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক পুলিশ। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
সিলেটে পেসাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবেন তা উইকেট দেখেই বুঝা গিয়েছিল। বাংলাদেশের ইনিংসেও সেটাই দেখা গেল। নতুন বলে বাংলাদেশি ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছেন খুররাম শেওহজাদ-মোহাম্মাদ আব্বাসরা। তাদের সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন জয়-মুমিনুলরা। টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে দারুণ ব্যাটিং করেছেন লিটন দাস। তার সেঞ্চুরিতে আড়াইশ পেরিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস।সিলেট টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভার খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রান করেছেন লিটন।ব্যাটিংয়ে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মুহাম্মদ আব্বাসের করা ইনিংসের প্রথম বলই লাইন মিস করেন জয়। তবে সেটি লেগ স্টাম্পের বাইরে হওয়ায় লেগ বিফোর থেকে বেঁচে যান। দ্বিতীয় বলে তিনি স্লিপে ক্যাচ দেন। তাতে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।শুরুর সেই ধাক্কা সামলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল-তানজিদ মিলে। ভালো শুরুর আভাস দিয়েও অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ ৩৪ বলে ২৬ রানে থামেন। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।এরপর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল-শান্ত’র জুটি বেশিক্ষণ টিকেনি। খুররম শাহজাদের দারুণ এক ডেলিভারি মুমিনুলের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে অফ স্টাম্প ভেঙে দেয়। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারালেও বাংলাদেশকে শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত-মুশফিক। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শান্ত উইকেটে থিতু হয়েও ফিরেছেন শট খেলতে গিয়ে দুটানায় পড়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।এরপর মুশফিকও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ৬৪ বলে ২৩ রান করে শাহজাদের বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়েছেন তিনি। সাতে নেমে পুরোপুরি ব্যর্থ মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪ রান করে তিনি ফিরলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারায় দল।দলের এমন বিপদে হাল ধরেন লিটন। তাকে বেশ কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। মাত্র ১৬ রান করলেও তিনি বল খেলেছেন ৪০টি। যা সাহায্য করেছে আরেক প্রান্তে থাকা লিটনকে। তাইজুলের পর তাসকিনকে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন লিটন। তবে তাসকিন ১৩ বলের বেশি খেলতে পারেননি।এমন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও একাই লড়াই করছেন তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে লিটন খেলেছেন ১৩৫ বল। লাল বলে এটি তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে ফিরেছেন লিটন।
পবিত্র হজ পালনে গিয়ে এ বছর সৌদিতে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৩৪৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত হজ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।বুলেটিন বলা হয়, হজ পালন করতে গিয়ে মারা যাওয়া ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় ১১ জন এবং মদিনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জেদ্দা, মিনা, আরাফা কিংবা মুজদালিফা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য জানা যায়নি। এদিকে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৪৪৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৯০৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট ১৫০টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭৫টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৭০৪ জন, সৌদি এয়ারলাইনসে ৫৩টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৭৮৪ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৫৯ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। গত ১৮ এপ্রিল হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয়, যা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। আর হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দীন।তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্রথম আসামি ও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ড. হাসিবুর রশীদ বাচ্চুকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চারদিন পর ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন অধ্যাপক রশীদ।
জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে গান, মিষ্টিমুখ ও হারিকেন মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।১৬ মে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘর গেইট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।কর্মসূচিতে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ ছিল বাংলার কৃষক সমাজের দীর্ঘদিনের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিজয়। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও শোষণের রূপ বদলালেও তার চরিত্র বদলায়নি। তিনি বলেন, “জমিদারি প্রথার আধুনিক সংস্করণ ‘চাঁদাবাজির রাজনীতি’ উচ্ছেদ করতে হবে।”অন্যান্য বক্তারা বলেন, আজও কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। সেই বাস্তবতায় জমিদারি উচ্ছেদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তারা।মিছিলটি জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা হারিকেন হাতে মিছিলে অংশ নেন এবং পরে উপস্থিত সবার মাঝে মুড়ি, বাতাসা ও জিলাপি বিতরণ করা হয়।এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে কৃষকের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বিদেশি আগ্রাসন বিরোধী, দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়।জেডিপির নেতারা বলেন, বাংলার আপামর কৃষক শ্রেণীর মুক্তির ঐতিহাসিক এই দিন কেবল অতীত স্মরণের বিষয় নয়; বরং বর্তমান সময়েও শোষণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরণা। তারা জনগণের অধিকারভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী কূটনীতিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা সাব্বির বিন শামসকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানা পুলিশ আটক করেছে।শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা রয়েছে।জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে সীমান্ত এলাকায় তাকে আটক করা হয়।পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হক জানান, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের পরিচয় দেন এবং জানান যে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।ওসি আরও জানান, এ সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।উল্লেখ্য, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। সাব্বির বিন শামস প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনে মিনিস্টার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি যুক্তরাজ্যের University of Bath-এ পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিস বিষয়ে ডক্টরাল গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। আজ শনিবার (১৬ মে) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অবস্থিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যলয় থেকে তফসিল ঘোষণা করা হয়।আগামী ১৭ মে বিকাল ৪টায় ঘোষিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। পরের দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলবে ঘোষিত ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ৷ আপত্তির ওপর শুনানি হবে ১৯ মে। একইদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশিত হবে।২০ এবং ২১ মে সকাল ১০টা থেকে সকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন বিতরণ। ২১ এবং ২২ মে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিলের সময় পাবেন প্রার্থীরা। ২৩ মে বাছাইকৃত মনোনয়নপত্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন৷২৪ মে একই দিনে বাছাইকৃত মনোনয়ন তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মে সকাল দশটা থেকে ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। সেদিনই দুপুর দুইটায় চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।২৫ মে পোস্টাল ব্যালট বা ই-ব্যালটের আবেদন করতে হবে। এই ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৭ জুন বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি পরিচালক এবং সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন। ফলাফল ঘোষণাও হবে একইদিনে।প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৩ ক্যাটাগরি থেকে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা-বিভাগ ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন। ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ১২ জন। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ১ জন।
ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জানা নায়গান’ প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই পাইরেসি হওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিনেমার সহকারী সম্পাদক প্রশান্তসহ সেলভাম ও বালাকৃষ্ণান নামের দুই ব্যক্তি। সাইবার ক্রাইম বিভাগের দায়ের করা মামলায় তাদের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং অনেক আগে শেষ হলেও এখনও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩ এপ্রিল অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এটি অবৈধভাবে ফাঁস হয়ে যায়।এইচ. বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসবকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে সিনেমাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বার্তা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি আটকে দেয়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর কথা থাকলেও সেন্সর কমিটির এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা বাতিল করা হয়। ফলে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।সিনেমাটির প্রযোজক কে. ভেঙ্কট নারায়ণ বলেন, আমরা বর্তমানে সেন্সর সার্টিফিকেটের (সিবিএফসি) অপেক্ষায় আছি। ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই আমরা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেব। বিজয় স্যার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।উল্লেখ্য, ‘জানা নায়গান’ সিনেমাটি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সময় দেওয়ার লক্ষ্যে বিনোদন জগত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই ছবিতে বিজয় ছাড়াও অভিনয় করেছেন ববি দেওল, পূজা হেগড়ে, প্রকাশ রাজ ও গৌতম বাসুদেব মেননের মতো তারকারা।
মেয়ে কারিনা কায়সারের জন্য ক্ষমা ও দোয়া চেয়েছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি বলেছেন, আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।১৫ মে শুক্রবার লিভার ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।কারিনা কায়সেরের মৃত্যুর বিষয়টি তার বাবা কায়সার হামিদ ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।ফেসবুক পোস্টে কায়সার হামিদ লিখেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা (kaarina kaisar) একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরবর্তীতে কারিনার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়েএবং তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ই-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু করেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের বিষয়ে কায়সার হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি ও চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এর আগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়।১৬ মে শুক্রবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।কায়সার হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’ পারিবারিক ও চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে, লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গত কয়েক দিন ধরে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। শুরুতে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও পরে পরীক্ষায় শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং গত শুক্রবার তার লিভার ফেইলিউর হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি ও অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার হামিদের বর্তমান অবস্থা সন্ধোষজনক ও উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। কারিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি তামিলনাড়ুর ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে ১৪মে বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা বলেন তার বাবা, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় তারা সন্তুষ্ট এবং চিকিৎসকরা একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।কায়সার হামিদ বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পর থেকেই চিকিৎসায় উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে তার ফুসফুসের চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থান স্থিতিশীল থাকলে পরবর্তী ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। আইসিইউতে সার্বক্ষণিক দুইজন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরিবারকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে জ্বর ও সংক্রমণে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে হেপাটাইটিসে ও হেপাটাইটিসই ধরা পড়ে, যার জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে আইসিইউ এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে মা ও দুই ভাই রয়েছেন। পরিবার আরও জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত কারিনা কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
বলিউডের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘নো এন্ট্রি টু’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন বরুণ ধাওয়ান। অভিনেতা বর্তমানে তার আসন্ন ছবি ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’-এর প্রচারণায় ব্যস্ত-এমন মুহূর্তেই তার প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরটি প্রকাশ্যে এলো।প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বরুণ ধাওয়ানের এই সিনেমায় অভিনয় করার যে জল্পনা ছিল, তার এখন আর কোনো ভিত্তি নেই। সূত্রটি জানায়, ‘বরুণ ধাওয়ানের অংশগ্রহণের খবরটি এখন সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। তিনি বর্তমানে তার পরবর্তী সিনেমার প্রচারণায় পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন।’ বরুণের এই হঠাৎ প্রস্থানের পর সিনেমার কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে বরুণ সরে গেলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অভিনেতা শাহিদ কাপুরকে নিয়ে। বি-টাউনের অন্দরের খবর, ‘নো এন্ট্রি ২’-এর নির্মাতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন শাহিদ।তিনি সিনেমার মূল ধারণাটি শুনেছেন এবং খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য শুনতে পারেন। যদিও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে শাহিদের অভিনয়ের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জও এই সিক্যুয়েল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় সৃজনশীল মতপার্থক্যের গুঞ্জন উঠলেও প্রযোজক বনি কাপুর জানিয়েছিলেন, মূলত শিডিউল জটিলতার কারণেই দিলজিৎ সিনেমাটি করতে পারেননি। তবে একের পর এক তারকা সরে গেলেও সূত্রমতে, অর্জুন কাপুর এখনো এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া আনিস বাজমি পরিচালিত ‘নো এন্ট্রি’ ছিল বক্স অফিসে সুপারহিট। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সালমান খান, অনিল কাপুর ও ফরদিন খানসহ একঝাঁক তারকা। ২০২৪ সালে বনি কাপুর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি দীর্ঘ সময় পুরনো কাস্ট নিয়ে কাজ করার অপেক্ষা করেছিলেন।
অভিনেতা ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সের বাতিল করা হয়েছে। অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি।মাসুমা রহমান তানি জানান, সিনেমার একজন সহ-অভিনেত্রীর অভিযোগই ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর বাতিল করা হয়েছে।বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি বলেন, “আমরা চলচ্চিত্রটির সেন্সর দিয়েছিলাম। তখন এটির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে জেবা জান্নাত নামে প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত একজন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জেবা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ একটি নাটক বলে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে জানান। পরে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরকিল্পনা করলে তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। তার সঙ্গে নাটকের চুক্তি হয়েছে, সিনেমার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। সে জন্যই আমরা এর মুক্তির অনুমতি বাতিল করেছি।”এই প্রজেক্টে বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীও অভিনয় করেছেন। দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে চুক্তি করেন তিনি। সম্প্রতি তিনিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।মৌসুমী এক অডিওতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা এক ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলেন, এটার শুটিং তো বেশি হয়েছে, আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি। কিন্তু খবরে দেখছি, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি।’‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে জেবার অভিযোগ ছিল, তাকে নাটকের কথা বলে কাজ করিয়েছিলেন সিনেমার পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়েন এই অভিনেত্রী। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন জেবা।‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এ মৌসুমী, হাসান জাহাঙ্গীর ও জেবা জান্নাত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অঙ্কের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৪০ হাজার কোটি।’বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে যা পেয়েছি, সেটা মাইনাস, মাইনাস, মাইনাস। এখানে যোগ (ধনাত্মক) কিছু নেই, সবগুলো ঋণাত্মক। অনেক বিল তারা পরিশোধ করে যায়নি। পাওয়ার সেক্টর, এনার্জি সেক্টরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এখন সেগুলোও পরিশোধ করতে হচ্ছে।’শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম মোরশেদ হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অসীম বড়ুয়া, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আবদুল মান্নান রানা ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ।অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা হতদরিদ্র, যাঁদের চিকিৎসা করাতে অসুবিধা হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসার জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধতা আছে, সে জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে রোগী পাঠাব। তারা চিকিৎসা করবে। বিলটা সরকার দিয়ে দেবে। সুতরাং যাঁরা হতদরিদ্র, তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।আমির খসরু বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। কারণ, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়।’আমির খসরু আরও বলেন, ‘আমরা যে ইউনিভার্সেল, প্রিভেন্টিভ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি, এটি বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নাগরিক অধিকার। এই অধিকার থেকে তারা এত দিন বঞ্চিত ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। আমরা সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।’দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমানে কঠিন সময় অতিক্রম করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবেও অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।’অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। প্রথমে এখান থেকে বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে।’অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও সময় লাগবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন, আমি বলেছি দুই বছর সময় লাগবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।’
ইতালির ‘ওসপেদালে দি নোলা’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের অন্যতম আস্থার ঠিকানা। আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে প্রতিদিনই এখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন বিভিন্ন দেশের মানুষ।হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সকাল থেকেই দেখা যায় রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি। জরুরি চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চিকিৎসাসেবায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক প্রবাসী বলছেন, প্রবাস জীবনে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ রোগীদের মাঝে বাড়াচ্ছে আস্থা।শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাও নজর কেড়েছে অনেকের। প্রতিদিন পরিবার নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ।বিশ্লেষকদের মতে, ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর সেই তালিকায় নোলার ‘ওসপেদালে দি নোলা’ হাসপাতাল অন্যতম।দেশ থেকে দূরে প্রবাস জীবনে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রবাসীদের মনে এনে দিচ্ছে বাড়তি স্বস্তি ও নিরাপত্তা।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন খুলনায় নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) উদ্বোধন করেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে কোম্পানিটি। দেশজুড়ে নির্ভরযোগ্য সংযোগ এবং উন্নত গ্রাহক অভিজ্ঞতা প্রদানে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীনফোন; সেই প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করলো এই উদ্যোগ।সম্প্রতি গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার জয় প্রকাশ এই সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। এসময় জিপিসিতে আসা একজন গ্রাহককে সরাসরি 'জিপিফাই' সেবা সংক্রান্ত তথ্যসেবা দিয়ে সহায়তা করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জিপিসি পার্টনার শেখ মাহমুদ হাসান (সোহেল), গ্রামীণফোনের খুলনা সার্কেল বিজনেস হেড মো. আহসান হাবিব এবং হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।নতুন এই জিপিসিটি সুন্দরবনের থিমে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একজন শিল্পীর তৈরি করা শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এটি গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দ্রুত সমস্যার সমাধান, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা এবং গ্রামীণফোনের ডিজিটাল সেবাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুলনার ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে চায় গ্রামীণফোন। নতুন এই সেন্টারটি ৯৯ শতাংশ পেপারলেস কাস্টমার সার্ভিস মডেলে পরিচালিত হচ্ছে, যা দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।গ্রাহক-বান্ধব সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার জয় প্রকাশ বলেন, "গ্রামীণফোনে আমরা নিরন্তর চেষ্টা করি সারাদেশে সর্বোত্তম গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে। এই নতুন সেন্টারটি আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।"তিনি আরও বলেন, "আমরা খুলনার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই সেন্টারটি ডিজাইন করেছি, যাতে এটি শহরের প্রাণশক্তি এবং পরিচয়কে ফুটিয়ে তোলে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের গ্রাহকরা এই খোলামেলা এবং আন্তরিক পরিবেশে তাদের প্রত্যাশিত সেবা, যত্ন ও ডিজিটাল সহায়তা পাবেন; যা একই সাথে ডিজিটাল অভিজ্ঞতার একটি কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।"মোংলা বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব, শক্তিশালী মৎস্য ও বাণিজ্য খাত এবং দ্রুত সম্প্রসারণশীল ইন্টারনেটনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে খুলনা দেশের অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গোনাহ থেকে বাঁচতে এবং হালালের পথে থাকার উদ্দেশেই জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছিলেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।বুধবার (৬ মে) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান মাদানী।সেখানে তিনি লেখেন, আল্লাহকে ভয় করা এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এমন আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন আলোচিত এ ইসলামি বক্তা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব’ শিরোনামে দীর্ঘ এক ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।সেখানে মাদানী বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্ক বা টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু লোক বলার চেষ্টা করছে, আমি নাকি আমার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় এই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে চাপে পড়ে বিয়ে করেছি। আবার অনেক নির্লজ্জরা তো বলছে টিকটকে নাকি পরিচয়, মাআযাল্লাহ! আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনোদিন দেখিনি, এমনকি তার সাথে একবারের জন্য কথাও হয়নি,আর টিকটকে জীবনে কোনদিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না!’সবচেয়ে বেশি আপত্তি তোলা হচ্ছে- কেন প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন আলোচিত এ ইসলামী বক্তা। এর জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে মাদানী দাবি করে বলেন, বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী-ছেলে বা মেয়ে-তাদের ফরম পূরণ করতে হয়। আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। উভয়পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন, আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব, আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী। আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সাথে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।নিজের পোস্টে প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, আমি সারাক্ষণ স্ত্রীর পাশে হাসপাতালে থেকেছি। ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন—৪ দিন ছিলাম রাত-দিন আমার ঘুম ছিল না, ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। যেদিন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, সেদিন অপারেশনের পর সারারাত তার বিছানার পাশে বসে থেকেছি। রাত ৩টার দিকে নার্সরাই আমার জন্য মায়া করে বলেছে, ‘হুজুর, আপনার স্ত্রী ভালো আছেন, আপনি বসে না থেকে এবার একটু ঘুমান।’গর্ভাবস্থার পুরো সময় হাসপাতালে থেকে স্ত্রীর দেখভাল করেছেন এবং সংসারজীবনে অবহেলার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি শুনে কষ্ট পেলেও তারা তার আচরণ বা দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বলেও দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া আলোচনায় আসা আইএমভি নামের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও ব্যাখ্যা করেন মাদানী। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি এমন নারী-পুরুষকে একত্র করে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় না।একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক অসহায় ও আশ্রয়হীন নারীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সহায়তার জায়গা হিসেবেও কাজ করছে।সমালোচকদের উদ্দেশে মাদানী আরও বলেন, অনেকেই একাধিক বিয়ের ইসলামী বিধানকে অপছন্দ করেন বলেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫টা ৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টিন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!’