প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন— মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণী অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।মন্ত্রীর দাবি, গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’—এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেয়।তিনি বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার বিষয়টি আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর জীবনের শুরু থেকেই যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়।তিনি আরও জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় অংশই মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এ নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।সভায় জানানো হয়, ৪০টা নরমাল ডেলিভারি পরে একজন ধাত্রী রেজিষ্ট্রেশন পান। প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ৫৮০০ ধাত্রী দক্ষ হয়ে উঠেন। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে তাদের কাজের সুযোগ না থাকায় এ সকল ধাত্রীদের সিংহভাগই ঝরে পড়েন। এর মধ্যে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে বছরে শুধুমাত্র ৫০০ ধাত্রী কাজ করার সুযোগ পেলেও বাকীরা সাধারণ নার্স হিসাবে কাজ করেন। এতে শিশু জন্মের সময় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়।সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) সভাপতি রোজিনা খাতুন, বিএমএসের সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার ও বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতার প্রমুখ।
শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন কারারক্ষীসহ ২৩ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। দেশটির গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার দাঙ্গার ঘটনা। আজ সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানায়, রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো এলাকার প্রধান কারাগারে দুটি মাদক চক্রের বন্দিদের মধ্যে রাতভর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।দেশুটির সরকারি হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, তার চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৩টি মরদেহ আনা হয়েছে এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত বন্দি ও রক্ষীকে ভর্তি করা হয়েছে।টেলিফোনে এএফপি-কে গামলাথ বলেন, ‘কয়েকজন ভুক্তভোগীর শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে, আবার কারো কারো শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।’কর্মকর্তারা জানান, কয়েক হাজার বন্দি থাকা নেগোম্বো কারাগারে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।কারাগারের ভেতরে মারামারির খবর ছড়িয়ে পড়লে, রোববার রাতে সংলগ্ন আরেকটি অংশের নারী বন্দিরা ছাদের ওপর উঠে যান এবং তাদের মুক্তির দাবি জানাতে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়লে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সোমবার পুলিশ কমান্ডোদের ডাকা হলেও কারাগারের ভেতরে তাদের মোতায়েন করা হয়নি। এ সময় কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের বিশাল ভিড় জমে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বিমান বাহিনীর ড্রোন এবং একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন।একজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন, ‘দাঙ্গা থামাতে গিয়ে চারজন রক্ষী নিহত হয়েছেন। আজ সকালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।’এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ মহামারির চরম সময়ে শ্রীলঙ্কার অন্য একটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দি নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর সরকার গাদাগাদি করে থাকা কারাগারগুলো থেকে শত শত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিল, যা কারাগারের প্রকৃত ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), বিজু মিয়া (৩৬), বাদশা মিয়া (৩৫), জুয়েল মিয়া (৩৫), আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আসমত। অপর আসামি ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।তিনি আরও জানান, মামলায় মোট নয়জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দেন। চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন একজন সৎ, সাহসী, সত্যনিষ্ঠ, নির্ভীক, নির্মোহ ও নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক। তিনি একাধারে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত গবেষক, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক এবং বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মননশীল জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল সত্য, ন্যায়, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর।রোববার (৫ জুলাই) মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। পরে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন মুহাম্মদ আবদুল হাকিম এবং মা জাহানারা খাতুন।১৯৫৯ সালে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৬১ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক আহমদ শরীফ, অধ্যাপক নীলিমা ইব্রাহিমসহ প্রথিতযশা শিক্ষকদের সান্নিধ্যে এসে প্রগতিশীল চিন্তাচর্চায় উদ্বুদ্ধ হন।পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চার দশকেরও বেশি সময় অধ্যাপনা করেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন জনপ্রিয়, তেমনি একজন গভীর চিন্তাবিদ ও প্রাজ্ঞ গবেষক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। বাংলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নজরুল রচনাবলীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি প্রগতিশীল সাময়িকী লোকায়ত-এর সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে নিয়মিত প্রবন্ধ ও কলাম লিখেছেন।অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক দুই ডজনের কাছাকাছি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুক্তিসংগ্রাম (১৯৭২), নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি (১৯৮১), রাজনীতি ও দর্শন (১৯৮৯), আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা (২০০৪) এবং রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ (২০০৮)। তিনি বার্ট্রান্ড রাসেলের Political Ideals গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেন। এছাড়া ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তা ও আকবরের রাষ্ট্রসাধনা তাঁর সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তাঁর কন্যা অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন একজন শিক্ষাবিদ। পুত্র ফয়সল আরেফিন দীপন ছিলেন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী।২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন ফয়সল আরেফিন দীপন। সন্তানের এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পরও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রতিশোধের ভাষায় কথা বলেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, “আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন—উভয় পক্ষই দেশের সর্বনাশ করছেন। উভয় পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে?” এই বক্তব্য তাঁর অসাধারণ সহনশীলতা, মানবিকতা ও রাষ্ট্রচিন্তার গভীরতার পরিচয় বহন করে এবং সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক কেবল একজন শিক্ষক বা লেখক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, যিনি আজীবন সাধারণ মানুষের মুক্তি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর প্রবন্ধ, গবেষণা ও চিন্তাধারা বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নৈতিকতা ও মানবিক সমাজ নির্মাণে তাঁর দর্শন আগামী প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর দেশপ্রেম, সততা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং মুক্তচিন্তার আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে।লেখক: সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র, দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি ও বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়কে পড়ে থাকা একটি গাছ সরানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধে রূপ নেয়। এ নিয়ে গ্রাম্যভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর দুই গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাসেদ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘর্ষের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান মালুরি রাতের বাজারে (পাসার মালাম) বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭ দেশের ২০০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর অন্যান্য রাতের বাজার ও বিদেশিদের সমাগমস্থলেও একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।দেশটির হারিয়ান মেট্রোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় অভিযানে অভিবাসন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়েই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সন্দেহভাজন অনেক অভিবাসী বিভিন্ন দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করলেও আগে থেকেই কৌশলগতভাবে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তারা তাদের আটক করেন।অভিযান চলাকালে সেখানে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, রান্নার উপকরণ ও প্রস্তুত খাবার কিনতে বাজারে এসেছিলেন। প্রতিদিনের মতো ওইদিন সন্ধ্যায়ও বাজারটিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক ও অভিবাসীর উপস্থিতি ছিল।দেশটির অভিবাসন বিভাগ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ‘অপ কুটিপ’ নামে বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়ার অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল)-এর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করেন।জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কয়েকটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) বাজারের প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে। একই সময়ে সাধারণ ক্রেতার ছদ্মবেশে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তারা অভিযান শুরু করেন। ফলে অনেকের পালানোর সুযোগ হয়নি।কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, অভিযানে মোট ৫০০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন।তিনি বলেন, মোট ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ ও ৭৫ জন নারী। আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক।তার ভাষ্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে জানা যায়, এ এলাকায় নিয়মিত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সমাগম ঘটে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের অপব্যবহার, পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে, কুয়ালালামপুর সিটি হলের (ডিবিকেএল) এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মোহদ মুজ্জামের জামালউদ্দিন বলেন, তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিদেশি ওই বাজারে মূলত ক্রেতা হিসেবেই আসতেন। স্থানীয় ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।অভিযান-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হামশা ইনজাউ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। শুধু অবৈধ অভিবাসী নয়, তাদের নিয়োগদাতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, দালালচক্র, এজেন্ট এবং যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহযোগিতা দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করেই আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি সাধারণ মানুষকে অভিবাসন আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে অভিবাসন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বৈধ বাংলাদেশি কর্মীদেরও পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি হালনাগাদ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।সোমবার (৬ জুলাই) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে।নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৬০ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ কর্তৃক ২০ জন, লালবাগ বিভাগ কর্তৃক ২১ জন, ওয়ায়ী বিভাগ কর্তৃক ৪৯ জন, মতিঝিল বিভাগ কর্তৃক ৬৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ কর্তৃক ৫০ জন, মিরপুর বিভাগ কর্তৃক ৬৯ জন, গুলশান বিভাগ কর্তৃক ৪১ জন, উত্তরা বিভাগ ৪২ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক ৮ জন গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ৮৬ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৭ হাজার ৯৭৭ পিস ইয়াবা, ৫টি চাকু, ১ টি কাঁচি, ২ টি এসএস পাইপ ও ৩ টি লাঠি উদ্ধার করা হয়।রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি হতে দিল না ইংল্যান্ড। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা।সোমবার (৬ জুলাই) আজতেকা স্টেডিয়ামে আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় ম্যাচটি। তবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা। মাঝমাঠে দাপটের সঙ্গে দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার বিপাকে পড়ে মেক্সিকোর রক্ষণভাগ।দ্বিতীয়ার্ধে নতুন উদ্যমে খেলতে নেমে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো। এতে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে এলেও ইংল্যান্ড পাল্টা আক্রমণে আরেকটি গোল করে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলে। শেষ মুহূর্তে স্বাগতিকরা আরও একবার জালের দেখা পেলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি।৩-২ গোলের এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।অন্যদিকে, ঘরের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত সমর্থন পেয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে গেল মেক্সিকোর। শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভেদ করে সমতায় ফেরার মতো সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।জুড বেলিংহামের অসাধারণ নৈপুণ্য, ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এই জয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে জানান দিল গ্যারেথ সাউথগেটের দল।
কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যোগদানের পর প্রায় ১১ মাসে একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমনে আলোচনায় উঠে এসেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোহাম্মদ তানভীরুল আজম। ওয়ারেন্টভুক্ত ও দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেফতার, বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক ইকবাল হাসানের ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি এহেছানকে গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।গত ৩ জুলাই কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এহেছানকে গ্রেফতার করে এসআই তানভীর। পুলিশ সূত্র জানায়, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।জানা গেছে, এসআই তানভীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কক্সবাজার সদরে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। তার নেতৃত্বে একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত, পলাতক ও বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃতও হয়েছেন।মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী ইকবাল হাসান কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক রূপালী সৈকত’র সহ-সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক মুক্ত খবর’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। তার তত্ত্বাবধানে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে প্রধান আসামি এহেছান অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানতে পেরে তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এর জের ধরে গত ২৯ মে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া মকবুল সওদাগরপাড়ার একটি চায়ের দোকানে এহেছান ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে হামলা চালায়।এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। প্রধান আসামি তার পিঠে কামড় দিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, একটি পাওয়ার ব্যাংক ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।ঘটনার পর থেকেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে মাঠে নামে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবশেষে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর সার্কেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। সাংবাদিক ইকবাল হাসানের ওপর হামলার ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, এসআই তানভীরসহ সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধ দমনে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান-কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, এসআই তানভীরের মতো চৌকস ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা পুলিশের জন্য গর্ব। তিনি নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধ দমনে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অগ্রগতি কক্সবাজার সদর মডেল থানার আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এটি জাতীয় নির্বাচনের মতোই সফল হবে বলে আশা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির।সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে সরকারকে চিঠি দিবে ইসি। যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো। ইসি মাছউদ আরও বলেন, আমরা আশা করি, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মতোই সফল হবে। তবে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সংবাদে মিস লিড যাতে না হয় সেদিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান। এসময় ইসি আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কমিশন। আইন, সীমানা সব কিছু নিয়েই কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করছে ইসি।
জুলাই গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও গোপালগঞ্জ জেলায় কর্মসূচি করছে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। তবে ঘোষণার এক ঘণ্টা পরই গোপালগঞ্জের কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি। এদিন রাজধানীর বাংলামোটরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আগামী ৬ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার উদ্বোধন হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে সহিংসতা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজয় কনসার্ট ছাড়াও ২৬ জুলাই এক দফা ঘোষণার দিন এবং ৩ আগস্ট আরও বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সোমবার (৬ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজার এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস। এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অভিযানজুড়ে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস জানান, উচ্ছেদ করা স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এর আগে একাধিকবার নোটিশ প্রদান ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে দখলদারদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেননি। ফলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।এর আগেও একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে, নবীনগর উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু মোছা, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান এবং শতাধিক পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় বাঙ্গরা বাজার এলাকায় সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করা হয়।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি হতে দিল না ইংল্যান্ড। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা।সোমবার (৬ জুলাই) আজতেকা স্টেডিয়ামে আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় ম্যাচটি। তবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা। মাঝমাঠে দাপটের সঙ্গে দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার বিপাকে পড়ে মেক্সিকোর রক্ষণভাগ।দ্বিতীয়ার্ধে নতুন উদ্যমে খেলতে নেমে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো। এতে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে এলেও ইংল্যান্ড পাল্টা আক্রমণে আরেকটি গোল করে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলে। শেষ মুহূর্তে স্বাগতিকরা আরও একবার জালের দেখা পেলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি।৩-২ গোলের এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।অন্যদিকে, ঘরের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত সমর্থন পেয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে গেল মেক্সিকোর। শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভেদ করে সমতায় ফেরার মতো সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।জুড বেলিংহামের অসাধারণ নৈপুণ্য, ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এই জয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে জানান দিল গ্যারেথ সাউথগেটের দল।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী।শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশন জানায়, মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু হয়।ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পান ১৭৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিশ্বখ্যাত গায়িকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সম্ভাব্য বিয়ে ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। বিয়ের দিনক্ষণ কিংবা আয়োজন সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অতিথিদের পোশাক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেইলর সুইফট তার ব্যক্তিগত বিষয় সবসময় গোপন রাখতেই পছন্দ করেন। তাই সম্ভাব্য বিয়ের আয়োজন নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।জল্পনা রয়েছে, নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শুক্রবার (৩ জুলাই) এই আয়োজন হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রায় এক হাজার ১০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অতিথিদের পোশাকে থাকবে মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও রোমান্টিক ধাঁচ। অনেকেই বিখ্যাত নকশাকারদের তৈরি পোশাক বেছে নিতে পারেন। গ্রীষ্মকালীন আয়োজন হওয়ায় হালকা রঙ, ঢিলেঢালা পোশাক ও সূক্ষ্ম নকশার পোশাক বেশি দেখা যেতে পারে।সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তবে কী বিয়ে করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস? টেইলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও রয়েছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে সেলেনা গোমেজ, সুকি ওয়াটারহাউস, সাবরিনা কার্পেন্টার, কারা ডেলিভিনসহ আরও অনেকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র ফ্যাশনধারা বজায় রাখলেও কনের চেয়ে বেশি নজর কাড়ার চেষ্টা করবেন না।বিয়ের পোশাক নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ফ্যাশন বিশ্লেষকদের ধারণা, টেইলর সুইফট নিজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পোশাক পরতে পারেন। রাজকীয় নকশার করসেট ও ছড়ানো ঘেরের পোশাক তার পছন্দ হতে পারে। পরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তিনি আরও হালকা ও আরামদায়ক পোশাকেও দেখা যেতে পারেন।অন্যদিকে, ট্রাভিস কেলসি বরাবরই ব্যতিক্রমী পোশাকের জন্য পরিচিত। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাকে দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বিয়ের আয়োজন, অতিথি তালিকা কিংবা পোশাক—সবকিছুই এখনো জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে টেইলর সুইফট বা ট্রাভিস কেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।সূত্র: বিবিসি
বিশ্ব সংগীত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আর্টিস্ট ক্লাবের আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এ সংগীত পরিবেশন করে। কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সংগীতপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব সংগীত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সংগীত এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা সংস্কৃতি, জাতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর্টিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আর্টিস্ট ক্লাব সবসময়ই সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে রয়েছে। বিশ্ব সংগীত দিবসে ডিইউসিএফ-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে ডিইউসিএফ-এর শিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশন করেন একটি প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’। দলীয় ও একক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ পুরো সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।অনুষ্ঠান শুরু হয় ব্যতিক্রম ধর্মী পুথি পাঠ এর মাধ্যমে। ডিইউসিএ’কে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম গান শুরু হয় একটি কোরাস ‘মোরো ঝনঝার মত’ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন নির্ঝর চৌধুরী, ইরবতি মন্ডল, আনিকা শারমিলা কৃপা ও ফরহাদ মিল্টন। নজরুল ইসলামের গান করেন নন্দিত শিল্পী নন্দিনী দও ধরা। পল্লী গীতি ও উকিল মুন্সীর গান করেন মাহফুজার রহমান মহব্বত। রবি ঠাকুরের গান করেন নাঈমা ইসলাম নাজ এবং অনুষ্ঠান শেষ হয় আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে সমেবেত সংগীত পরিবেশন মাধ্যমে। সভাপতি সুজিত মোস্তফা ডিইউসিএ’কে তাদের পরিবেশনার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শিল্পী ও দর্শকদের এক সুরের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং উপস্থিত সকলের কাছে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ নিয়ে আসছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘৭.৭ সুপার সেভিংস সেল’। এই ক্যাম্পেইনে দেশজুড়ে গ্রাহকদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড অফার এবং আর বিভিন্ন পুরস্কার জিতে নেবার সুযোগ। ৬ জুলাই থেকে রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে ১৭ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই ক্যাম্পেইন। এ সময়জুড়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন মৌসুমের অন্যতম সেরা সব অফার।বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সাজানো এই মেগা ক্যাম্পেইনে থাকছে প্রিপেমেন্ট ভাউচারে সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত ছাড়, মেগা ডিল ও ফ্ল্যাশ সেলে সর্বোচ্চ ৮০% পর্যন্ত ছাড়, পাশাপাশি হট ডিলসে সর্বোচ্চ ৭০% পর্যন্ত ছাড়। এছাড়াও সাইটজুড়ে ডেলিভারি ডিসকাউন্ট, নির্বাচিত পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি এবং সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০% ছাড়ের বিশেষ ডিসকাউন্ট ভাউচার থাকায় ইলেকট্রনিক্স, ফ্যাশন, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বিউটি এবং লাইফস্টাইলসহ সব ক্যাটাগরিতে কেনাকাটা হবে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী।ক্যাম্পেইনের উত্তেজনা আরও বাড়াতে দারাজ নিয়ে এসেছে ‘৭.৭ সুপার সেভিংস সেল জ্যাকপট’। এ আয়োজনের মাধ্যমে গ্রাহকরা জিতে নিতে পারবেন আকর্ষণীয় প্রিমিয়াম হোম অ্যাপ্লায়েন্স। ক্যাম্পেইন চলাকালে ডেটল পণ্যে ন্যূনতম ২৯৯ টাকা কেনাকাটার শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ সংখ্যক সফল অর্ডার সম্পন্ন করা পাঁচজন সৌভাগ্যবান বিজয়ী নির্বাচিত হবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকছে মিডিয়া ১ টন নন-ইনভার্টার এসি, হায়ার ৩২ ইঞ্চি বেজেল-লেস গুগল টিভি, ওয়ালটন রিচার্জেবল সিলিং ফ্যান, ফিলিপস এনএ১১০ এয়ার ফ্রায়ার এবং ফিলিপস এইচএল৭৫৭৭ মিক্সার গ্রাইন্ডার।গ্রাহকদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করতে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী দিনে থাকছে ‘ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার’, যেখানে মাত্র ৬ ঘণ্টার জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডে মিলবে এক্সক্লুসিভ মূল্যছাড়। পরবর্তী নির্ধারিত দিনগুলোতে (৭, ৮, ১০, ১৫ এবং ১৭ জুলাই) চলবে ৭ ঘণ্টাব্যাপী ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার, যাতে গ্রাহকরা তাদের পছন্দের ব্র্যান্ডের পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনার সুযোগ পান। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পেইনজুড়ে থাকছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডভিত্তিক বিশেষ আয়োজন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ৯ জুলাই থাকছে এক্সক্লুসিভ ট্র্যাকশন ডিল। এদিন গ্রাহকরা মাত্র ৭৭ টাকা ও ৭৭৭ টাকায় নির্বাচিত জনপ্রিয় পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। সীমিত সময় ও সীমিত স্টকের এই অফার গ্রাহকদের জন্য ক্যাম্পেইনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮ জুলাই ভিশন ব্র্যান্ড ডে, ৯ জুলাই ইউনিলিভার ব্র্যান্ড ডে, ১০ জুলাই রিয়েলমি ব্র্যান্ড ডে, ১২ জুলাই রেকিট সুপার ব্র্যান্ড ডে, ১৩ জুলাই ভিট ব্র্যান্ড ডে, ১৪ জুলাই টপ টেক জোন ব্র্যান্ড ডে, ১৫ জুলাই ম্যারিকো ব্র্যান্ড ডে এবং ১৬ জুলাই ওরাইমো ব্র্যান্ড ডে। এছাড়াও প্রতি কর্মদিবসে ক্যাটাগরি-ভিত্তিক বিশেষ ক্যাম্পেইন চলবে, যেখানে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাছাইকৃত অফার উপভোগ করতে পারবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আরও সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করতে দারাজ তার ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) বা দারাজ চয়েস চ্যানেলকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৩টি পণ্য কিনলে ফ্রি ডেলিভারি এবং ৫টি পণ্য কিনলে ১টি ফ্রি গিফটের পাশাপাশি ফ্রি ডেলিভারি-এর মতো বিশেষ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় আরও বেশি সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।এবারের ৭.৭ সুপার সেভিংস সেল আরো উপভোগ্য করে তুলেছে দারাজের একাধিক শীর্ষস্থানীয় পার্টনার। ডেটল এবং ইউনিলিভার দারাজের এক্সক্লুসিভ প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। প্যারাস্যুট ন্যাচারালে এবং হিমালয়া থাকছে গোল্ড পার্টনার হিসেবে। এছাড়া সেসা এবং গোদরেজ সিলভার পার্টনার হিসেবে অংশগ্রহণ করছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।পেমেন্ট পার্টনারদের মাধ্যমে কেনাকাটায় থাকছে আরও আকর্ষণীয় সাশ্রয়ের সুযোগ। দারাজ–ইস্টার্ন ব্যাংক কো-ব্র্যান্ড ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সিটি ব্যাংক পিএলসি., ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি., মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি., প্রাইম ব্যাংক পিএলসি. এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি.-এর কার্ডধারীরা সংগ্রহযোগ্য ভাউচারের মাধ্যমে ১২% পর্যন্ত আকর্ষণীয় ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি.-এর ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য দারাজ চয়েস চ্যানেলে থাকছে বিশেষ অফার, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আরও সাশ্রয়ী মূল্যে কেনা যাবে। এছাড়াও বিকাশ ব্যবহারকারীরা নির্বাচিত হোম অ্যাপ্লায়েন্স কেনাকাটায় তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে ইবিএল জিপ (EBL ZIP)-এর মাধ্যমে টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার এবং নির্বাচিত হোম অ্যাপ্লায়েন্স কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ৬ মাসের ০% সুদে ইএমআই-এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধাও থাকছে। ফলে পুরো ক্যাম্পেইনজুড়ে প্রতিটি কেনাকাটা হবে আরও সাশ্রয়ী ও লাভজনক।৭.৭ সুপার সেভিংস সেল উপলক্ষে দারাজ বাংলাদেশের সকল গ্রাহককে এই উৎসবমুখর শপিং ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। গ্রাহকরা দারাজ অ্যাপ বা ক্যাম্পেইন পেজ ভিজিট করে প্রতিদিনের ডিল, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড অফার এবং আকর্ষণীয় পুরস্কারের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন। রিয়েল-টাইম আপডেট ও সর্বশেষ ক্যাম্পেইনের খবর পেতে চোখ রাখুন দারাজ বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলোতে।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
আকস্মিক ও অতি বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং ‘ডিজিটাল টুইন’ (Digital Twin) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রকৌশলী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের মতে, নির্ভুল তথ্য, রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বন্যায় জানমাল, কৃষি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)–এর পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে সোমবার রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে ‘ফ্লাড রেজিলিয়েন্স থ্রু অ্যা ডিজিটাল টুইন ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইবির সভাপতি এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে প্রায়ই আকস্মিক ও অতি বন্যার কারণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। বিশেষ করে ফসল তোলার মৌসুমে এ ধরনের বন্যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করে।তিনি বলেন, সময়মতো নির্ভরযোগ্য বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে কৃষকেরা আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বন্যা পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার কৃষিকে আরও টেকসই ও দুর্যোগ-সহনশীল করে তুলতে পারে।রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, আইইবি প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, কৃষির আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও ভূমিকা রাখবে।সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় প্রতিবছরই বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতি বন্যার প্রকোপ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। এই বাস্তবতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার বিকল্প নেই।বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নদী-তীরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ মৌসুমি বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও আকস্মিক অতি বন্যা তাদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এ ধরনের বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।সেমিনারে বুয়েটের পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে নদীর পানির উচ্চতা পরিমাপে প্রচলিত ওয়াটার স্কেল ব্যবহার করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ম্যানুয়াল হওয়ায় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সময় লাগে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নদীর পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হচ্ছে।এসব সেন্সর নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে পাঠাতে পারে। এর ফলে পানির উচ্চতার পরিবর্তন, প্রবাহের ধারা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডও এখন বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে রিয়েল-টাইম পানি-স্তরের তথ্য সরবরাহ করছে। এসব তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি গবেষক, প্রকৌশলী ও নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জসিম ইমরান। তিনি বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তির ব্যবহার, রিয়েল-টাইম তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা) এবং সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন।এ সময় আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল হসান (তমাল), সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী, ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের নেতা, প্রকৌশল চ্যাপ্টারের প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’