বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় ভারত সরকার প্রস্তুত।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি একেবারেই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। তবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এই আবেদন করেন।আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশ পরে দেওয়া হবে বলে আদালত আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন মামলা দায়েরের আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীকে আসামি করা হয়েছে।অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, আক্তার হোসেন, মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সার্জিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্ণেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।মামলার আবেদনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতি জাদুঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আদালত এখনো মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।সূত্র: টিবিএস
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো নীতিমালায় ফিরে যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দলটি জনগণের পকেট কাটার নীতি বাতিল করা ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নীতি পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ওষুধ সিন্ডিকেটের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। গরিব মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই বলেই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দেশের ওষুধশিল্প আজ একটি বড় অর্থনৈতিক খাত। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হলেও সাধারণ মানুষকে ওষুধ কিনতে গিয়ে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা থাকা জরুরি।তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের পরিপত্রে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ প্রণয়ন করে তালিকাটি ২৯৭টিতে উন্নীত করে। কিন্তু বর্তমান সরকার গত ৩ আগস্ট এসব নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে গেছে।ফুয়াদ বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া একটি নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের পকেটের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করেছে। এটি সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও অঙ্গীকারের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা বাতিল করে সরকার প্রকারান্তরে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশের ওষুধবাজারে ভারতের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার, ওষুধশিল্পের মালিক ও চিকিৎসকদের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে ব্র্যান্ডের নামে বিপুলসংখ্যক ওষুধ বাজারজাত হচ্ছে। একই জেনেরিকের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের নাম ও মূল্য নিয়ে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রোগী ও সাধারণ ভোক্তারা বিভ্রান্ত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।তিনি বলেন, একই জেনেরিকের ওষুধকে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করার প্রবণতা কমাতে হবে। ডাক্তারদের প্রভাবিত করতে কোম্পানিগুলোর উপহার ও প্রণোদনা দেওয়ার সংস্কৃতিও বন্ধ করতে হবে।এবি পার্টি ওষুধ খাত সংস্কারে কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে--১. বাতিল করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ পুনর্বহাল করতে হবে।২. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।৩. একই জেনেরিকের ওষুধের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ব্র্যান্ড বৈচিত্র্য ও মূল্যবৈষম্য কমাতে হবে।৪. ওষুধ কোম্পানির চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার জন্য উপহার ও অনৈতিক প্রণোদনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।৫. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।৬. দেশীয় ওষুধশিল্পের সক্ষমতা ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবন সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দিতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রচারের সুযোগ তৈরি করতে হবে।৭. এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের ওষুধশিল্পকে বিদেশি বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার উপকরণ, কেবল ব্যবসার পণ্য নয়। তাই ওষুধনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগী ও সাধারণ মানুষকে। সরকারকে ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নয়, জনগণের স্বার্থে অবস্থান নিতে হবে।তিনি ওষুধশিল্পের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, দয়া করে মালিকপক্ষকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না। ব্যবসার স্বার্থ থাকবে, কিন্তু তার আগে মানুষের জীবন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহদপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বির আহমেদ তানিম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, বরিশালের নেতা জাকির হোসেন বারী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম এবং হাতীবান্ধা উপজেলা আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম।
এক মাসের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে জনগণ যাতে সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা কালচারাল অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তথ্য কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন করা হবে। কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে যাতে পক্ষপাতিত্ব, বঞ্চনা কিংবা কাউকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ না ওঠে, সেভাবেই এর কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।গণমাধ্যমের পরিচয় ও বিভিন্ন ধরনের কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে নিয়েও বিভিন্ন ধরনের কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত ও মূলধারার গণমাধ্যমকে সঠিক জায়গায় আসতে হবে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি বলেন, কেউ জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে বা সরকারের সমালোচনার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। তারপরও মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মনোকষ্ট পেয়েছেন।আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ভোট চুরির মাধ্যমে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনার অভিযোগ ছিল। এ কারণে তারা জনগণের কথা ভাবেনি। বর্তমান সরকার নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশজুড়ে সংস্কৃতির প্রসার এবং যুবসমাজকে দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে।তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা কালচারাল অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ছাতক উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাতক সদর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়েছে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান। অভিযানে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের ছাতক সার্কেলের এসআই আতাউর রহমান সজীবের টিমের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযান চলে ছাতকের শিববাড়ি, পৌরসভা কমপ্লেক্স, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এলাকা, জাউয়াবাজার ও গোবিন্দগঞ্জে। বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।অভিযানে আটক ৪ জনের মধ্যে দুইজনকে ৯০ দিন করে, একজনকে ১৫ দিন এবং অপরজনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ওপর মোট ২০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছাতক সার্কেলের এসআই আতাউর রহমান সজীবের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সহযোগিতা করেন।উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছাতকের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবন, বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রশাসনের এমন তৎপরতায় স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে পদোন্নতির কথা বলে সাড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে বুধবার(১৯ আগস্ট) ওই যুবকসহ তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।অভিযুক্ত যুবকের নাম লিয়ন মিয়া ওরফে সম্রাট হোসেন সামিম (৩০)। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রাবাড়ী ফুলবাড়ীর চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে।মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে লিয়নের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নিজেকে এনএসআইয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।তরুণীর অভিযোগ, লিয়ন একটি অ্যাফিডেভিটের কপি এনে তাঁকে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বিয়ের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে চাকরি চলে যেতে পারে বলেও জানান তিনি। এরপর পদোন্নতির জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তরুণীর পরিবারকে জানান লিয়ন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতির পর বিয়ের বিষয়টি স্বজনদের জানানো হবে—এমন আশ্বাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে লিয়নকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর মা-বাবাও তরুণীর বাড়িতে এসেছিলেন বলে স্থানীয় কয়েকজন জানান।তবে কিছুদিন পর লিয়নের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। খোঁজখবর নিয়ে তরুণীর পরিবার জানতে পারে, তিনি এনএসআইয়ের কর্মকর্তা নন।এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লিয়ন ওই তরুণীর বাড়িতে যান। পরে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তরুণীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিয়নকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, লিয়ন বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন।তরুণীর বাবা বলেন, ‘নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় আমরা তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। মেয়েকে বিয়ে করবে—এমন আশ্বাসে তাঁকে টাকা দিয়েছি। পরে জানতে পারি, তাঁর পরিচয় ভুয়া। আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।’পুলিশ জানায়, লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের একটি অ্যাফিডেভিটের কপি ও এনএসআইয়ের একটি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটে ওই তরুণীকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, কাগজটি ভুয়া এবং লিয়ন নিজেই এটি তৈরি করেছেন। এ ছাড়া লিয়নের আগে বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী রয়েছেন—এমন তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। একই কৌশলে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, ‘আটকের পর লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের অ্যাফিডেভিট ও এনএসআইয়ের কার্ড পাওয়া গেছে। এগুলো ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর আগে স্ত্রী থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজনের সঙ্গে একইভাবে প্রতারণার অভিযোগের তথ্য মিলেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে।’ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিয়ন ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লিয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মা-বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৬৭১ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১৯ জন, খুলনা বিভাগে ১৩৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ২৭২ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৭৪ জন।গত বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। আর ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি তার স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত থাকবেন বলে তার আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ১২ ঘণ্টার সময় মঞ্জুর করেছেন। আগামীকাল ভোরে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে স্বামীর জানাজায় অংশ নেবেন এবং দাফন শেষে পুনরায় কারাগারে ফিরবেন।’এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে মা দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতে যান তার মেয়ে তানি দীপাবলী নেওয়াজ। সেখানে প্যারোলে মুক্তির প্রক্রিয়া ও সময়ের বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।মুন্সীগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত উল ফারহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তার মেয়ে কারাগারে এসেছিলেন।’এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০১৯ সালে স্ট্রোক করার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।পরিবারের পক্ষ থেকে দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু জানান, তৌফিক নেওয়াজ একজন বিশিষ্ট আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি ধ্রুপদি সংগীতেরও অনুরাগী ছিলেন।বুধবার দুপুরের পর তার জানাজা ও দাফনের স্থান চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ডা. দীপু মনি।বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে। যদিও কয়েকটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, তবে অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় তিনি মুক্তি পাননি।চলতি বছরের গত ২৭ মে অসুস্থ তৌফিক নেওয়াজকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে নিয়ে এসেছিলেন স্বজনেরা, যেন তিনি কারাবন্দি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। সেটিই ছিল এই দম্পতির শেষ সাক্ষাৎ।সে সময় তানি দীপাবলী বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে দীপু মনির সাত দিনের প্যারোল আবেদন করলেও তখন তা মঞ্জুর করা হয়নি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে গণমাধ্যম বর্তমানে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে।’আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর তথ্য ভবনে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি। তবে এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এই অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন।রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতির মূল কাজ হলো জনগণের সেবা করা, আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সেই ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। কিন্তু বিগত দিনে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে, গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। এই পেশার মর্যাদা ও সাংবাদিকদের কল্যাণ সুরক্ষায় ফাউন্ডেশনটিকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমি। এসময় সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহ সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
তিন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নাটোরের ডিসি আসমা শাহীন, গাইবান্ধার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ন্যস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ ছাড়া বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট দিয়েছেন। পরে ভোট দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দুপুর দুইটা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়ম সংসদ সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নিয়ম জানান। নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন সিইসি।এ সময় জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সিইসি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থী এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ঘোষণা করেন। পরে সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট পেপার গ্রহণ ও তা ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরেন।সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। পরে ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।সিইসি জানান, ভোট গ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টায়। এরপর ব্যালট গণনা শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংসদ সদস্য হওয়ায় এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।বাংলাদেশে গত তিন দশক ধরে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এককভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি ভেঙে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে এই পুরো নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো নীতিমালায় ফিরে যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দলটি জনগণের পকেট কাটার নীতি বাতিল করা ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নীতি পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ওষুধ সিন্ডিকেটের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। গরিব মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই বলেই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দেশের ওষুধশিল্প আজ একটি বড় অর্থনৈতিক খাত। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হলেও সাধারণ মানুষকে ওষুধ কিনতে গিয়ে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা থাকা জরুরি।তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের পরিপত্রে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ প্রণয়ন করে তালিকাটি ২৯৭টিতে উন্নীত করে। কিন্তু বর্তমান সরকার গত ৩ আগস্ট এসব নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে গেছে।ফুয়াদ বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া একটি নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের পকেটের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করেছে। এটি সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও অঙ্গীকারের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা বাতিল করে সরকার প্রকারান্তরে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশের ওষুধবাজারে ভারতের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার, ওষুধশিল্পের মালিক ও চিকিৎসকদের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে ব্র্যান্ডের নামে বিপুলসংখ্যক ওষুধ বাজারজাত হচ্ছে। একই জেনেরিকের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের নাম ও মূল্য নিয়ে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রোগী ও সাধারণ ভোক্তারা বিভ্রান্ত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।তিনি বলেন, একই জেনেরিকের ওষুধকে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করার প্রবণতা কমাতে হবে। ডাক্তারদের প্রভাবিত করতে কোম্পানিগুলোর উপহার ও প্রণোদনা দেওয়ার সংস্কৃতিও বন্ধ করতে হবে।এবি পার্টি ওষুধ খাত সংস্কারে কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে--১. বাতিল করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ পুনর্বহাল করতে হবে।২. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।৩. একই জেনেরিকের ওষুধের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ব্র্যান্ড বৈচিত্র্য ও মূল্যবৈষম্য কমাতে হবে।৪. ওষুধ কোম্পানির চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার জন্য উপহার ও অনৈতিক প্রণোদনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।৫. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।৬. দেশীয় ওষুধশিল্পের সক্ষমতা ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবন সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দিতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রচারের সুযোগ তৈরি করতে হবে।৭. এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের ওষুধশিল্পকে বিদেশি বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার উপকরণ, কেবল ব্যবসার পণ্য নয়। তাই ওষুধনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগী ও সাধারণ মানুষকে। সরকারকে ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নয়, জনগণের স্বার্থে অবস্থান নিতে হবে।তিনি ওষুধশিল্পের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, দয়া করে মালিকপক্ষকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না। ব্যবসার স্বার্থ থাকবে, কিন্তু তার আগে মানুষের জীবন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহদপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বির আহমেদ তানিম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, বরিশালের নেতা জাকির হোসেন বারী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম এবং হাতীবান্ধা উপজেলা আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছের প্রায় ২ শতাধিক চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও পরিচালনা করা হয়।কর্মসূচিতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শেখ জসিম উদ্দিন,এস এম গোলাম কিবরিয়া সাগর, আব্দুর রশিদ মল্লিক সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বাড়াতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতার মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডারউইনে বাংলাদেশ চালকের আসনে ছিল একেবারে প্রথম দিন থেকেই। সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানটা ক্রমেই শক্ত হয়েছে। দর্শক সমর্থকদের অপেক্ষাও ছিল বহুক্ষণ, বহু দিন ধরে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বাংলাদেশ ইতিহাসটা গড়েই ফেলল। অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৯ উইকেটে। অজি মুল্লুকে প্রথমবার তাদেরই ধসিয়ে দিয়ে জেতার দারুণ স্বাদ এসে ধরা দিল ইন্দ্রিয়ে।আশা ছিল, তার পিঠে একটু ভয়ও ছিল বৈকি! বিশ্বাস না হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রির ফাঁকে ফাঁকে সমর্থকদের মন্তব্যগুলো খুঁজে দেখুন? সেখানে বহু বাংলাদেশির কথা ছিল একটাই, ‘কত কিছুই তো হতে দেখলাম!’বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্শক–সমর্থক হলে বোধ হয় এই এক সমস্যা। শেষের আগে বিশ্বাসই হতে চায় না কোনো কিছু। ইতিহাস তাতে রসদ যুগিয়ে যায়, মুলতান টেস্টের ইনজামাম থেকে যে যাত্রার শুরু, ফতুল্লা টেস্টে রিকি পন্টিং, এরপর চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অতিমানব হয়ে ওঠা… সবকিছুই হয়েছে যে চোখের সামনে, সে চোখ কোনো কিছু হতে দেখার আগে যদি বিশ্বাস না করে, তাকে কি দোষারোপ করা যায়?কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা চোখের সামনে হতে দেখলেও বুঝি খানিকটা অবিশ্বাস চলে আসে মগজে, চিমটি কেটে দেখতে হয় ‘স্বপ্নে হচ্ছে না তো সব?’ এই ভুলটা ভাঙতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বোধ হয় তেমনই এক ঘটনা।কেন হবে না বলুন? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৮৫ রানে হারল মাসদুয়েক আগে, সেই দলে আজকের একাদশের ৭ জন ছিলেন। সেটাকে না হয় আপনি ঝড়ে-বকে বলে উড়িয়ে দিলেনই। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের ওই ইনিংস ব্যবধানে হারটা? সেই দলটা তো আজকের এই একাদশই ছিল মোটাদাগে!সেই দলটা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে, তাও এমন ৪ দিন ধরে ছড়ি ঘুরিয়ে! কে ভেবেছিল! অস্ট্রেলিয়া ভাবেনি, তা নিশ্চিত। মারারা স্টেডিয়ামের ভিএআইপি লাউঞ্জের দিকে তাকালেই বুঝা যায় বিষয়টা। অস্ট্রেলিয়া সফর কাভার করতে যাওয়া এক সহকর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেল, ম্যাচটা ৩ দিনে শেষ হয়ে যাবে, তাই না ভেবে ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিটই কাটেননি কেউ, আজকের দিনটায় ফাঁকা পড়ে আছে জায়গাটা!খেলাটা ৩ দিন পেরোনো নিয়েই যেখানে সন্দেহ ছিল অনেকের, সেখান থেকে বাংলাদেশের জয়… বিষয়টা অভাবনীয় ছিল। এতটাই অভাবনীয় যে বাংলাদেশের পক্ষে বাজির রেট ছিল ১-২০! বাংলাদেশ সে পাশার দানটা উলটে দিয়েছে পুরোপুরি।একটা টেস্ট জিততে একক নৈপুণ্য যথেষ্ট হয় না। বাংলাদেশের এই জয়ও একক নৈপুণ্যে আসেনি। শুরুটা করে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অজিদেরকে প্রথম চমকটা দিয়েছিলেন। সে চমকের দমক সইতে না পেরে স্বাগতিকরা অলআউট হলো ১৯৮ রানে। এরপরও শঙ্কা ছিল ব্যাটিংয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি যে দলের ঝুলিতে আছে, আরও একটা বার এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে দল, শঙ্কাটা ছিলই। তানজিদ হাসান তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত সে শঙ্কাটা বিদায় করলেন। তামিম করলেন সেঞ্চুরি, শান্ত তিন অঙ্কের দেখা না পেলেও গেলেন খুব কাছে, ৮৪ রানের এই ইনিংস চালকের আসনে জাঁকিয়ে বসার উপায় বাতলে দিল দলকে।১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট অবশ্য মাঝে নাড়িয়ে দিয়েছিল দলকে। এরপরই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আবির্ভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার তিনি সেঞ্চুরি না করলেও যা করলেন, তা দলকে এনে দিল বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ এর চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসেই পেয়েছে মোটে দুই বার, তাও আয়ারল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সে তেঁতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে; বিশালত্বটা বুঝুন তাহলে?কাজটা তখনও অর্ধেক হয়েছে। বাকি কাজটা সারতে হতো বোলারদের। হাসান মাহমুদ আবারও শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছিলেন। তবে মূল স্পটলাইটটা কেড়ে নিলেন মিরাজ। একে একে ৫ উইকেট। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে হারটা এড়াল বটে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া শেষমেশ অলআউট হয় ২৮৪ রানে। বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭। মামুলি লক্ষ্যে বাংলাদেশ পা হড়কায়নি। ১ উইকেট হারালেও সাদমান ইসলাম আর মুমিনুলের ব্যাটে চড়ে তুলে নিয়েছে ৯ উইকেটের দারুণ এক জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়। তাও ৪ দিন দাপট ধরে রেখে, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে! বাংলাদেশ দল ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে বটে!
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য কুমিল্লায় বসছে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে দেশীয় চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’। আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট কুমিল্লা কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব।দুই দিনের আয়োজনে থাকছে মোট ছয়টি চলচ্চিত্র। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনটি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। সাধারণ দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিদিনের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। একটি টিকিটেই ওই দিনের তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ থাকছে। অনলাইন ও উৎসবের ভেন্যু—দুই জায়গা থেকেই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।উৎসবের প্রথম দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় আকাশ হক পরিচালিত ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। এরপর সন্ধ্যা ৫-৩০ মিনিটে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জীবন শাহাদাৎ পরিচালিত ‘নেমপ্লেট’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘গলুই’ প্রদর্শিত হবে।দ্বিতীয় দিন ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় পর্দায় উঠবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘লাল শাড়ি’। বিকেল সাড়ে ৫-৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে সুপিন বর্মন পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এ লেটার অব পোস্টমাস্টার’। উৎসবের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দেখানো হবে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাতাও’।আয়োজনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থাকায় দর্শক দুই দিনে ভিন্ন স্বাদের বেশ কিছু কাজ দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, দেশীয় চলচ্চিত্রের নানা ধরনের নির্মাণ ও গল্প বলার ধরন সম্পর্কে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতাও দিতে পারে।ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বড়ুয়া মনোজিত ধীমন জানান, রাজধানীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিসর তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সেই জায়গা থেকে কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো এ উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। স্থানীয় দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের জন্য উৎসবটি হয়ে উঠতে পারে দেশীয় চলচ্চিত্রকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। এক টিকিটে তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুবিধা এবং তুলনামূলক কম টিকিটমূল্য তরুণদের উৎসবে টানতে পারে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগঠক ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিরও একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স নিবেদিত এ উৎসব আয়োজন করছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটি ও বেঙ্গল ফিল্ম সোসাইটি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এ আয়োজন কুমিল্লায় চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করবে।শুধু কুমিল্লায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের অন্যান্য শহরেও এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে পড়লে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিকল্প পরিসর আরও সমৃদ্ধ হবে। প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনীর পাশাপাশি উৎসবভিত্তিক আয়োজন দর্শকদের ভিন্নধারার চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ তৈরি করে। সেই বিবেচনায় ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’ দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক তৈরির ধারায় একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘুরতে বেশ ভালোবাসেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে কখনো পাহাড়, কখনো সমুদ্র কিংবা ঝরনার সৌন্দর্যে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। সেই মুহূর্তগুলো ভিডিও কিংবা ছবি- ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নেন এই নায়িকা।বর্তমানে সিনেমার শুটিংয়ের কাজে নেপালে রয়েছেন অপু বিশ্বাস। কাজের ফাঁকে সেখানকার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে তাকে। তবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালেই হঠাৎ সমুদ্রতটের আবহে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।ছবিগুলোর পটভূমি কোথাকার, তা অবশ্য জানাননি অপু। বলে রাখা ভালো, নেপালে কোনো সমুদ্র সৈকতও নেই। তবে ছবিতে তার সাজপোশাকই যেন কেড়ে নিয়েছে সবার নজর। মাথায় ক্যাপ, চোখে রোদচশমা আর পরনে স্লিভলেস কালো ক্যাজুয়াল টপ—পুরো সাজেই ছিল ওয়েস্টার্ন ও স্টাইলিশ ছাপ।খোলামেলা চুল, মুখে হালকা হাসি আর কালো পোশাকে অপুর উপস্থিতি ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নান্দনিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে তোলা এসব ছবিতে বেশ সাবলীলভাবেই ধরা দিয়েছেন তিনি।সকাল সকাল অপুর এমন স্টাইলিশ লুক প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভিড় করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। নানা প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন প্রিয় নায়িকাকে।
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ কলকাতার পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। আগামী ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার নন্দনে অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত নয়টি প্রামাণ্যচিত্রের একটি। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ৬৬ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়া—ইস্টার্ন রিজিয়ন আয়োজিত এ উৎসবে সেরা ও দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন ও সিলভার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। কলকাতায় প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ছবিটির ভারতীয় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।পরিচালক মকবুল চৌধুরী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এ সময়ে তিনি ঢাকা, কলকাতা, প্যারিস ও নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে নাসির আলী মামুনের শিল্পীজীবন ও সৃজনযাত্রা অনুসরণ করেছেন। তাঁর শিল্পকর্মের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মামুনের সম্পর্ক ও যোগাযোগও উঠে এসেছে প্রামাণ্যচিত্রটিতে।ছবিতে কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিশেষভাবে উপস্থিত হয়েছে। কলকাতাকে ঘিরে প্রামাণ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার রয়েছে প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ, প্রয়াত চিত্রশিল্পী রবীন মণ্ডল, চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী এবং গণেশ হালই-এর।প্রামাণ্যচিত্রটিতে নাসির আলী মামুনের সৃজনযাত্রার একটি চিন্তাশীল ও শিল্পসম্মত দলিল তুলে ধরা হয়েছে। আলো ও ছায়ার অনন্য আন্তঃসম্পর্কে গড়ে ওঠা তাঁর শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে কীভাবে মানবমুখের ভেতর ইতিহাসের গভীর সত্যকে ধারণ করা যায়, চলচ্চিত্রটি সেই শিল্পভাষার অনুসন্ধান করেছে।‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ ২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ২৮তম টাঙ্গস অন ফায়ার, ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার লাভ করে।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন একই আদালত। আসামি পক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ডিবি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। সম্প্রতি ডিবির জমা দেওয়া এই প্রতিবেদন আদালত আমলে নিয়ে সমন জারি করে তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।গত বছরের ৫ নভেম্বর একই আদালতে অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, তানজিন তিশা বাংলাদেশের পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত। এর সুবাদে আসামি অ্যাপোনিয়ার অনলাইন পেজে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে একটি শাড়ি পছন্দ করে নেন। যার বাজার মূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। শাড়িটি তানজিন তিশার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তানজিন তিশা নানা ধরনের ভয়েস ম্যাসেজ এবং ম্যাসেজ দিয়ে শাড়িটি পরিধান করে অ্যাপোনিয়া পেজ প্রমোশনের জন্য নানাভাবে আশ্বস্ত করেন।মামলায় আরও বলা হয়, তানজিন তিশাকে পেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে শাড়িটি পরিধান করে পেজ প্রমোশনের জন্য নানা উপায়ে অনুরোধ করেন। তিনি গত ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাড়িটি পরিধান না করে, পেজ প্রমোশন না করে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত ৬ মাসের অধিক সময় কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের কথোপকথন থেকে বিরত রয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।বাদীর অভিযোগ, তানজিন তিশা প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। মামলাটি আমলে গ্রহণ করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে আদালত অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার চ্যানেল এসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তারাই বিষয়টি তদন্ত করছে।’সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।পুরোনো নথি অনুযায়ী, সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ ওই তদন্তের ফল মেনে নেয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ডন হককে গ্রেফতারের পর মামলার তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে।
কাঁধখোলা কালো গাউনে নজরকাড়া এক ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর সঙ্গে পুরুষদের নিয়ে ক্যাপশনে দিলেন খোঁচা। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার দেওয়া এই পোস্টে দখো গেলো গ্ল্যামারাস লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। তার পোস্ট করা একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়- স্নিগ্ধ ও খানিকটা বোল্ড লুকে। টিউব কাটের বডি ফিটেড কালো মেরমেড গাউনে ফুটে উঠেছে ফারিয়ার শার্প লুক। সাজসজ্জায় বেছে নিয়েছেন ডায়মন্ড ও পান্নার মিশেলে তৈরি নেকলেস, মানানসই দুল এবং ব্রেসলেট।ছবিগুলোতে ফারিয়ার অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে আভিজাত্য আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বিলাসবহুল সোফায় হেলান দিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ছবিই নয়, ভক্তদের নজর কেড়েছে তার পোস্টের ক্যাপশনটি। ফারিয়া লিখেছেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষের চেয়ে হীরাই মেয়েদের মন বেশি বোঝে।’ ছবিগুলো পোস্ট করার পরপরই মন্তব্যের ঘরে অনুরাগী ও নেটিজেনদের ভিড় জমেছে। ফারিয়ার রূপের প্রশংসা করে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘একদম কুইন লুক!’ অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সত্যিই দারুণ লাগছে ফারিয়া আপু!’ অনেকেই আবার এই বোল্ড লুকের প্রশংসা করেছেন মুক্তকণ্ঠে।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার প্ল্যাটফর্ম সাজগোজ এবার নতুন জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরিজ বিভাগ চালুর মাধ্যমে তাদের পণ্যের পরিসর আরও বাড়িয়েছে। নতুন কালেকশনটি মূলত সাজগোজকে গিফট ও ব্যক্তিগত স্টাইলের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ শপ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন উপলক্ষ ও বাজেটের জন্য থাকছে নানা ধরনের পণ্য। কালেকশনটি এখন শুধু অনলাইনে shop.shajgoj.com-এ পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর সাজগোজের মুক্তার গহনার পাইলটটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর, সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি এবার উৎকৃষ্ট মানের মুক্তা, ট্রেন্ডি ফ্যাশন জুয়েলারি এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজ নিয়ে তাদের পণ্যের সংগ্রহ আরও সম্প্রসারিত করেছে। নতুন এই ক্যাটাগরিতে বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সাজসজ্জার জন্য সব ধরনের গহনা একত্রে রাখা হয়েছে। গ্রাহকরা ‘দ্য রয়্যাল পার্ল’ এবং ‘অপেরা’-র মতো মুক্তার সেটের পাশাপাশি বাটারফ্লাই ও হার্ট স্টাড, ঝুমকা, ঝাড়বাতি কানের দুল, আংটি এবং চুড়ি থেকে বেছে নিতে পারেন। এই কালেকশনে হেয়ার ক্লিপ, স্ক্রাঞ্চি এবং নেইল আর্ট স্টিকারের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের অ্যাক্সেসরিজও রয়েছে। ৭৫ টাকা থেকে শুরু হওয়া দামে এই কালেকশনে প্রিমিয়াম মুক্তার নজরকাড়া গহনার পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্পও রয়েছে, যা এটিকে বিভিন্ন উপহারের উপলক্ষ ও বাজেটের জন্য উপযুক্ত করে তোলে।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আজ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।আল জাজিরার প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতেই দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেখা যায়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার বা দূরবর্তী সরবরাহ মূল্য প্রতি ব্যারেলে ২৭ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৯১.১৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এর আগের কার্যদিবসেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দর ব্যারেলে ৪২ সেন্ট বেড়ে ৮৫.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দিনের লেনদেনে দর ১ শতাংশের বেশি বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৫.৩৭ ডলারে উঠেছিল।ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের সঙ্গে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে তারা এখন থেকে আরও আগ্রাসী বা আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করবে।অন্যদিকে ওয়াশিংটনও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। দুই পরাশক্তির মধ্যে এই উত্তেজনার পারদ চড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা নতুন করে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টায় ৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ ছাড়া, মিসরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ২৯ জন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস কায়রো এ তথ্য জানিয়েছে।দূতাবাস জানায়, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় প্রতিবেশী দেশ লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দিকভ্রষ্ট হয়ে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীসহ একটি রাবারের নৌকা মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। স্থানীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন থাকায় তাদের চিকিৎসার জন্য মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি দূতাবাস অবহিত হওয়ার পর প্রথম সচিব (শ্রম) স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে মোট ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের একজন কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি জানান যে, গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং ৪ জন সুদানিসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা শুরু করেন। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার পূর্বে তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং একপর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এভাবে ভাসতে ভাসতে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানীসহ মোট ১০ জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ সময় তারা সমুদ্রে অবস্থান করার কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরায় একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন বলে তিনি জানান।ঘটনাটি জানার পর থেকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর তাদের দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড শাওমি ২০২৬ সালের ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ২৩২তম অবস্থান অর্জন করেছে। ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বার্ষিক তালিকা, যা বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট স্কেল ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। শাওমি ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম ৪৬৮তম স্থানে এ তালিকায় নিজের জায়গা করে নেয়। ওইবছরে ফরচুনে সবচেয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায় শাওমি। পরবর্তীতে, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ২৯৭তম স্থানে উঠে আসে শাওমি।প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করতে শাওমি ২০২৬ সালে এক্সরিং ০১ ৩-ন্যানোমিটার উন্মোচন করে, যা প্রতিষ্ঠানটির নিজের তৈরি প্রথম ফ্ল্যাগশিপ এসওসি (সিস্টেম অন চিপ)। একইসাথে, ক্রস-ডিভাইস কানেক্টিভিটি আরও কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানটি এআই ও হাইপারওএস সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও শাওমি হোম অ্যাপ্লায়েন্স, এআইওটি ও ইভি সহ আরও বিভিন্ন খাতে নিজের পোর্টফলিও সমৃদ্ধ করেছে। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।শাওমি ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি, সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ও উন্নত প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষতা নিশ্চিত করেছে। শাওমি এসইউ৭, শাওমি ওয়াইইউ৭ ও শাওমি স্কাইনোম্যাড মডেলগুলো উন্নত ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন, লং রেঞ্জ পারফরম্যান্স ও ইন্টেলিজেন্ট ইন-কার প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা প্রতিফলিত করে। শাওমি এসইউ৭ ও শাওমি ওয়াইইউ৭ যেখানে চালকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া স্কাইনোম্যাড চালকের পাশাপাশি, অন্যান্য যাত্রীদের আরাম, সুবিধা ও উন্নত অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর কেবিনকে এমন একটি অ্যাডাপ্টেবল লিভিং স্পেস হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা সারাদিন ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের সাথে তালমিলিয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। গত ১২ বছরে রেডমি নোট সিরিজ ৫০ কোটিরও বেশি স্মার্টফোন বিক্রির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করেছে। ক্রেতাদের এ ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা শাওমির ধারাবাহিক ব্যবসায়িক বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রসারে বিশেষ অবদান রেখেছে, যা ২০১৯ সালে ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় প্রথমবার ৪৬৮ নম্বর স্থান থেকে ২০২৬ সালে ২৩২ নম্বর স্থানে উঠে আসতে সহায়তা করেছে। বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে ১০০-এরও বেশি বাজারে শাওমির ‘হিউম্যান × কার × হোম’ ইকোসিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।এ বিষয়ে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “উদ্ভাবন, অনন্য প্রযুক্তি ও ইকোসিস্টেম উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শাওমি এ বছর ফরচুন গ্লোবাল ৫০০-এর তালিকায় ২৩২তম অবস্থান অর্জন করেছে। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে এআই, স্মার্ট হোম, ইন্টেলিজেন্ট মোবিলিটি ও অন্যান্য খাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি, আমাদের ক্রেতাদের জন্য সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে এমন একটি ইন্টারকানেক্টেড ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আমরা সময়ের সঙ্গে ফরচুন গ্লোবাল ৫০০-এর তালিকায় শাওমির অবস্থান আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে চাই।”আগামীতেও শাওমি প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, বৈশ্বিক ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ ও বিশ্বের আরও বেশি মানুষ ও কমিউনিটির কাছে সহজলভ্য ও ইন্টেলিজেন্ট প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।আরও বিস্তারিত জানতে, https://www.mi.com/global/about/ ভিজিট করুন বা শাওমি বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/XiaomiBangladesh ফলো করুন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি