ঢাকা মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। রোববার (১৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হলো।আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।গত ১৩ মে ডিএমপির কমিশনার সরোওয়ারের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরদিন অতিরিক্ত কমিশনার এনএস নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় একই পদে মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে কমিশনার হিসেবে বসানো হলো।
সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মারা গেছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৫ শিশু এবং নিশ্চিত হামে এক শিশু মারা গেছে।রোববার (১৭ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গে ৫ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ১ শিশু মারা গেছে। এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৪৩ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৪ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৮৪ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৭৬৭ শিশু। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৪৬ শিশু।
সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ নামের নতুন একটি সেবা। এটির মাধ্যমে ঢাকা জেলার যেকোনো নাগরিক সরাসরি জেলা প্রশাসনে ফোন করে তাঁদের অভাব-অভিযোগ, তথ্য ও মতামত জানাতে পারবেন।রোববার (১৭ মে) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।ফরিদা খানম বলেন, আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি সেবা চালু করতে যাচ্ছি, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে গণশুনানি করে থাকি। এর বাইরেও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা চালু থাকবে। এতে নাগরিকেরা সহজেই তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন নিয়ে কোনো পরামর্শ থাকলেও তা জানাতে পারবেন। শিগগিরই এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরব।অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আরও বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কোনো সংকটে না পড়ে, সে জন্য মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। বিভিন্ন সেলিব্রিটিকে দিয়ে জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারে ঢাকা জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।‘গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এই আয়োজনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকেরা হলেন সমাজের আয়না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজের প্রকৃত চিত্র ও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমাদের সামনে উঠে আসে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের কোনো দপ্তরে যদি কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হন বা অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম আপনাদের চোখে পড়ে, তবে তা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে তুলে ধরবেন।মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার এবং তেজগাঁও সার্কেলের সার্কেল অফিসার ও সিনিয়র সহকারী সচিব তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম, ধামরাইয়ের ইউএনও মো. আল মামুন, কেরানীগঞ্জের ইউএনও মো. উমর ফারুক এবং নবাবগঞ্জের ইউএনও দিলরুবা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) সভাপতি লিটন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মামুন খান, সহসভাপতি এমরুল হাসান বাপ্পী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক নাইমুর রহমান নাবিল, দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন খান রিফাত, প্রচার সম্পাদক রকি আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে দলটি।রোববার (১৭ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন মহলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে নয়।তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল, গণতান্ত্রিক ও আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন। দলটি কখনো মাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না এবং সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা দায়িত্বশীল আচরণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।জামায়াতে ইসলামী দাবি করে, তারা সবসময় শান্তি, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী। শাহ আলী মাজারের ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়।
রাজধানীর মুগদা থানার মান্ডার আব্দুল করিম রোডে ২৬০/১ শাহনাজ ভিলা বাসার বেজমেন্ট অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশের সাত টুকরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুগদা থানার এসআই আবু রায়হান।এসআই বলেন, একটি নির্মাণাধীণ ভবনের এক পাশে থাকা ফাঁকা জায়গা থেকে মরদেহের সাত টুকরো অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও বাম হাতের অংশ নেই। লাশের অংশগুলোতে পচন ধরেছে। এখনো পরিচয় মেলেনি। লাশটি পুরুষ ব্যক্তির।তিনি আরও বলেন, লাশের সাত টুকরো অংশগুলো সাতটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে থানায় জানালে আমরা ছুটে এসেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত, চামড়া সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।বুধবার (১৭ মে) রাজধানীর মিরপুরে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা যে নিয়ম ও পদ্ধতি শিখবেন, তা অনুসরণ করেই কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা জরুরি। এ জন্য চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ লবণ বিনামূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোরবানির কাজে নিয়োজিত মৌসুমি শ্রমিকদেরও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ করার নিয়ম জানাতে হবে। কোরবানির পরপরই রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া নির্ধারিত ব্যাগে কোরবানির বর্জ্য ভরে বাসার সামনে রাখলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা দ্রুত তা অপসারণ করবে।মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুরো শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার। সবাই সচেতন হলে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ সম্ভব।স্বাগত বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, এবার দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। ঈদে বিপুল চামড়া ও মাংসের গুণগত মান বজায় রাখতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি, মাংসের মান ঠিক রাখা এবং চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঈদের আগে জুমার খুতবায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম ও প্রশিক্ষণার্থী মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, হালাল ও সহিহ পদ্ধতিতে পশু কোরবানি করতে হবে। জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে শরীর থেকে সম্পূর্ণ রক্ত বের হয়ে যায়। এরপর পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধবে না এবং পরিবেশও পরিচ্ছন্ন থাকবে।প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কোরবানির সঠিক নিয়ম অনুসরণ, চামড়ার গুণগত মান সংরক্ষণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হত্যার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে।হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে নো অর্ডার দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন।ফলে ওই দুই মামলাসহ মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে। তার কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।এর আগে ১০ মামলায় হাইকোর্টে জামিনের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে ২ মার্চ একটি মামলায় এবং ১২ এপ্রিল অপর মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় ৩০ এপ্রিল রুল দিয়ে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে।আদালতে আইভীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও এস এম সিদ্দিকুর রহমান শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন ঘিরে হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।এই পাঁচ মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট আইভীর জামিন মঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। পরে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে। গত ১০ মে লিভ টু আপিল খারিজ হলে পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকে।পরে আরও পাঁচ মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানার হত্যা মামলা এবং একটি সদর থানার মামলা।দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে চেম্বার আদালত সেই জামিন স্থগিত করেন। তবে ১০ মে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। ফলে দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায়ও আইভীর জামিন বহাল থাকে।আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান বলেন, ১২ মামলায় জামিনাদেশ ও আপিল বিভাগের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তিনি মুক্তি পেতে পারেন।
দেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ। লাশ গ্রহণ করেছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।আজ রোববার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়ি বনানীর বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মারা যান জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যু হয় তার।বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসে কেন্দ্রীয় মসজিদে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে হবে দ্বিতীয় জানাজা। একই দিন রাত ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে কারিনার মায়ের দেয়া মসজিদের জায়গার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কারিনা কায়সারকে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত, পরে শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন এই তরুণ প্রতিভা।কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে গণমাধ্যমের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, “ভোটের আগে সবাই মাজারে যায়, কিন্তু মাজারে হামলা হলে কেউ সহমর্মিতা দেখাতে আসে না।” তিনি সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ও মাজারভক্তদের ওপর হামলাকে বিরুদ্ধ মতের ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে জুলুম ও বৈষম্যবিরোধী নাগরিকদের দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।রোববার (১৭ মে) সকালে মিরপুরে শাহ আলী বেগদাদী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাব বৈঠকী সভার যৌথ আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ রোমেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কবি ও ভাবুক ফরহাদ মজহার। এতে বিপুল সংখ্যক বিক্ষুব্ধ মাজারভক্ত, পাগল, সাধক, বাউল ও দর্শনার্থী অংশ নেন।বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “ছোটবেলায় আমরা অনেকেই ভক্তি সহকারে মাজার জিয়ারত করেছি, মাজারে মোমবাতি জ্বালিয়েছি। কিন্তু বিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকে যখন জেনেছি, এগুলো ধর্মমতে সহিহ কাজ নয়, তখন আমরা সেগুলো পরিহার করেছি। বিজ্ঞ আলেমরা আমাদের যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছেন, কিন্তু কখনোই মাজারে হামলা করে এসব কাজ বন্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেননি। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে মানুষকে সংশোধন করাই ইসলামের শিক্ষা। বিরুদ্ধ মতের ওপর শক্তি প্রয়োগ ও হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”তিনি সারাদেশের মাজারগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান। এছাড়া তিনি বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করতে হবে সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ থেকে। প্রয়োজনে সংসদ, সচিবালয় এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত, তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।”অধিকার আদায়ের প্রশ্নে এবি পার্টির সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, ফরিদুল হক প্রমুখ।
সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ নামের নতুন একটি সেবা। এটির মাধ্যমে ঢাকা জেলার যেকোনো নাগরিক সরাসরি জেলা প্রশাসনে ফোন করে তাঁদের অভাব-অভিযোগ, তথ্য ও মতামত জানাতে পারবেন।রোববার (১৭ মে) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।ফরিদা খানম বলেন, আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি সেবা চালু করতে যাচ্ছি, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে গণশুনানি করে থাকি। এর বাইরেও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা চালু থাকবে। এতে নাগরিকেরা সহজেই তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন নিয়ে কোনো পরামর্শ থাকলেও তা জানাতে পারবেন। শিগগিরই এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরব।অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আরও বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কোনো সংকটে না পড়ে, সে জন্য মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। বিভিন্ন সেলিব্রিটিকে দিয়ে জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারে ঢাকা জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।‘গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এই আয়োজনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকেরা হলেন সমাজের আয়না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজের প্রকৃত চিত্র ও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমাদের সামনে উঠে আসে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের কোনো দপ্তরে যদি কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হন বা অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম আপনাদের চোখে পড়ে, তবে তা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে তুলে ধরবেন।মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার এবং তেজগাঁও সার্কেলের সার্কেল অফিসার ও সিনিয়র সহকারী সচিব তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম, ধামরাইয়ের ইউএনও মো. আল মামুন, কেরানীগঞ্জের ইউএনও মো. উমর ফারুক এবং নবাবগঞ্জের ইউএনও দিলরুবা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) সভাপতি লিটন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মামুন খান, সহসভাপতি এমরুল হাসান বাপ্পী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক নাইমুর রহমান নাবিল, দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন খান রিফাত, প্রচার সম্পাদক রকি আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে দলটি।রোববার (১৭ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন মহলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে নয়।তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল, গণতান্ত্রিক ও আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন। দলটি কখনো মাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না এবং সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা দায়িত্বশীল আচরণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।জামায়াতে ইসলামী দাবি করে, তারা সবসময় শান্তি, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী। শাহ আলী মাজারের ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হঠাৎ করে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে তিনি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামানাথ পূজারী।পরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে প্রকল্পের সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি উপস্থাপনা এবং বিআইএফপিসিএলের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।মতবিনিময় সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামানাথ পূজারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার মো. জাকির হোসেন, বিপিডিবির (উৎপাদন) সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম, এপিএসসিএলের পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান, বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব অভিষেক কুমার, প্রকল্প পরিচালক মুহা. আলাউদ্দিন, উপপ্রকল্প পরিচালক অংকুর আগারওয়ালসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি, রামপাল থানার ওসি মো. রাজিব আল রশিদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্যসচিব মুজাফফর রহমান আলম, সদস্য অহিদুল ইসলাম পল্টু, রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ হোসেন এবং মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী প্রমুখ। মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী প্ল্যান্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র, কয়লা শেড, কয়লা মজুদের স্থান, জেটি, কয়লা আমদানি ও খালাস কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দ্বিতীয় দিনে দুই সেশনেই সমান ৪টি করে ৮টি উইকেট পাকিস্তানের তুলে নেয় বাংলাদেশ। চা বিরতির পর বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করছে স্বাগতিকরা ২৩২ রানে। এতে করে বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ৪৬ রানের।দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সিলেটে বাংলাদেশের তাসকিন-মিরাজ-তাইজুল ও রানার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুটি করে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।শেষ উইকেট হিসেবে সাজিদ খানকে থার্ড ম্যানে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান নাহিদ রানা। চা-বিরতির পর মাঠে খেলা ফিরলেও আঘাত হানেন নাহিদ। নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ১০ রান করা খুররম শাহজাদকে। ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়কে। ২০৭ রানে ৯ উইকেট হারায় শান মাসুদের দল।বিরতির আগে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে দামি উইকেটটা নিয়েছেন নাহিদ রানা। ৬৮ রান করা বাবর আজমকে ফেরান তিনি। নাহিদের ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমকে। তার বিদায়ে ১৪২ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।এরপর একে একে সালমান আলী আগা (২১), রিজওয়ান (১৩) ও হাসান আলীকে (১৮) সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সিলেট টেস্টের চালকের আসনে নিয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। ফলে ১৮৪ রানে ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান।প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদে ও মেহেদি হাসান মিরাজের তোপে পড়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। সেই চাপ থেকে পাকিস্তানকে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন বাবর আজম। ৬৩ বলে করেন অর্ধশতকও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েছেন গতি তারকা নাহিদ রানার বলে।দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের করে নেয় তাসকিন ও মিরাজ। দুজন মিলে শিকার করেছেন পাকিস্তানের ৪ উইকেট। এই সেশনের ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের বোর্ডে জমা হয় ৭৫ রান। সবমিলিয়ে সফরকারীদের বোর্ডে রান ৪ উইকেটে ৯৬। বাবর আজম ৩৭ ও সালমান আলী আগা অপরাজিত আছেন ৬ রানে।দিনের শুরুটা তাসকিন করেন দারুণভাবে আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর মাধ্যমে। ৯ রান করা পাকিস্তানের ব্যাটারের এজ খুঁজে নেন তাসকিন। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারী পাকিস্তান। এই উইকেটে কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসেরও। বাম পাশে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে গ্লাভসে নেন বলটি। একটি চারে ৯ রান করা ফজল হতাশ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।এরপর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও ফেরান তিনি। দুই ওপেনারকেই আউট করে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নেন তাসকিন। ২৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনের শেষ বিকালে অফ সাইডে তিনটি চার মেরে ইঙ্গিত দেন আবারও দারুণ কিছু করার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। ২৩ রান ২ উইকেট হারালো পাকিস্তান।শান মাসুদ ও সৌদ শাকিলের উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৬১ রানে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ শর্ট কাভারে নাঈম হাসানকে ক্যাচ দেন মিরাজের বলে। ২১ রানে তার বিদায়ে ভাঙে বাবর আজমের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটিও। সুবিধা করতে পারেননি শাকিলও। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ৮ রান আসে তার ব্যাটে। ৭৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান।এর আগে, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষ বিকালে ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২১ রান। ফলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ২৫৭ রান।আজম আওয়াইজ ১৩ ও ৮ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ এই ৬ ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি তারা।দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে সেঞ্চুরি করে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস। দলের সংগ্রহ তিনশ পর্যন্ত নিতে না পারলেও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি দলকে। অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান।শেষ ব্যাটার হিসেবে রানের খাতা না খুলে আউট হয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তিনি। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেনে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।একেবারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এই সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।এবারের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ২ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের জুটি। তিনি আউট হয়েছেন ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ ৭ রান করে। ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দলীয় ২৭৮ রানে। এর আগে, শরিফুলের সঙ্গে গড়েন ৬৪ রানের জুটি।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হয়েছেন তিনি, খুলতে পারেননি রানের খাতা।তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে টপ এজ হয়েছেন তিনি। আব্বাস নিজেই ক্যাচ নেন।৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।সেট হয়ে গিয়েছিলেন আগের টেস্টে জোড়া হাফসেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। তবে খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন তিনি, বল লেগে উড়ে যায় স্টাম্পের বেল। ৪১ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ৬৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ।মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হয়েছেন শান্ত (২৯)। আরেক সেট ব্যাটার মুশফিককে (২৩) এলবিডব্লিউ করেন খুররম শেহজাদ। খুররমের তৃতীয় শিকার হন মিরাজ। মাত্র ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।পাকিস্তানের হয়ে খুররম ৪টি, আব্বাস ৩টি, দুটি হাসান আলী ও একটি উইকেট নেন সাজিদ খান।
বছরটা যেন নিজের করে নিচ্ছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার ‘ফাদারল্যান্ড’ সিনেমাটি কুড়াচ্ছে দারুণ প্রশংসা। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি গড়তে পারেন অস্কারের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সান্দ্রা এবার কেবল একটি নয়, বরং চারটি অস্কার ক্লিপের দাবিদার। জার্মানির এই গুণী অভিনেত্রী ‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ দিয়ে আগেই নাম লিখিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এবার তিনি পা রেখেছেন হলিউডের বিশাল দুনিয়ায়। একাডেমি তাদের নিয়মে কিছু বদল আনায় এখন থেকে একজন শিল্পী একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন পেতে পারেন। আর সেই সুযোগেই সান্দ্রা এবার সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী— উভয় বিভাগেই দুটি করে মোট চারটি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রায়ান গোসলিংয়ের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় দাপুটে অভিনয়ের জন্য তিনি এখন পার্শ্ব অভিনেত্রীর দৌড়ে সবার আগে আছেন। বিশেষ করে হ্যারি স্টাইলসের গান গেয়ে সেই কারাওকে দৃশ্যে তিনি যা দেখিয়েছেন, তা সবাই মনে রাখবে অনেক দিন। আগামী অক্টোবরে তাকে দেখা যাবে টম ক্রুজের সঙ্গে ‘ডিগার’ সিনেমায়। যদিও এই সিনেমা নিয়ে এখনই খুব বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে পরিচালক ইনারিতুর আগের রেকর্ড বলছে এটি অস্কারের ঝুলিতে অনেক মনোনয়ন ভরবে। সেখান থেকে সান্দ্রার দ্বিতীয় পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ আগামীকাল ভারত থেকে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।তিনি জানান, আগামীকাল দুপুরে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এরপর বাদ আসর বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।কায়সার হামিদ আরও বলেন, সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় তাকে দাফন করা হবে। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন।
ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জানা নায়গান’ প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই পাইরেসি হওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিনেমার সহকারী সম্পাদক প্রশান্তসহ সেলভাম ও বালাকৃষ্ণান নামের দুই ব্যক্তি। সাইবার ক্রাইম বিভাগের দায়ের করা মামলায় তাদের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং অনেক আগে শেষ হলেও এখনও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩ এপ্রিল অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এটি অবৈধভাবে ফাঁস হয়ে যায়।এইচ. বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসবকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে সিনেমাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বার্তা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি আটকে দেয়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর কথা থাকলেও সেন্সর কমিটির এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা বাতিল করা হয়। ফলে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।সিনেমাটির প্রযোজক কে. ভেঙ্কট নারায়ণ বলেন, আমরা বর্তমানে সেন্সর সার্টিফিকেটের (সিবিএফসি) অপেক্ষায় আছি। ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই আমরা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেব। বিজয় স্যার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।উল্লেখ্য, ‘জানা নায়গান’ সিনেমাটি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সময় দেওয়ার লক্ষ্যে বিনোদন জগত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই ছবিতে বিজয় ছাড়াও অভিনয় করেছেন ববি দেওল, পূজা হেগড়ে, প্রকাশ রাজ ও গৌতম বাসুদেব মেননের মতো তারকারা।
মেয়ে কারিনা কায়সারের জন্য ক্ষমা ও দোয়া চেয়েছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি বলেছেন, আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।১৫ মে শুক্রবার লিভার ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।কারিনা কায়সেরের মৃত্যুর বিষয়টি তার বাবা কায়সার হামিদ ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।ফেসবুক পোস্টে কায়সার হামিদ লিখেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা (kaarina kaisar) একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরবর্তীতে কারিনার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়েএবং তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ই-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু করেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের বিষয়ে কায়সার হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি ও চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এর আগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়।১৬ মে শুক্রবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।কায়সার হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’ পারিবারিক ও চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে, লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গত কয়েক দিন ধরে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। শুরুতে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও পরে পরীক্ষায় শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং গত শুক্রবার তার লিভার ফেইলিউর হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি ও অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার হামিদের বর্তমান অবস্থা সন্ধোষজনক ও উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। কারিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি তামিলনাড়ুর ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে ১৪মে বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা বলেন তার বাবা, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় তারা সন্তুষ্ট এবং চিকিৎসকরা একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।কায়সার হামিদ বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পর থেকেই চিকিৎসায় উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে তার ফুসফুসের চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থান স্থিতিশীল থাকলে পরবর্তী ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। আইসিইউতে সার্বক্ষণিক দুইজন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরিবারকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে জ্বর ও সংক্রমণে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে হেপাটাইটিসে ও হেপাটাইটিসই ধরা পড়ে, যার জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে আইসিইউ এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে মা ও দুই ভাই রয়েছেন। পরিবার আরও জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত কারিনা কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী জুনে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে একযোগে পুরো সুবিধা না দিয়ে কয়েক ধাপে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে সরকার।জানা গেছে, আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেট বক্তব্যের সময় নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়ন কাঠামো তুলে ধরা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিপুল অর্থের জোগান। এ কারণেই একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়ে কাজ চলছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন আংশিক বাড়ানো হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর শতভাগ সুবিধা নিশ্চিত করা।নতুন পে-কমিশনের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনার বা অবসরভোগী আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে।পে-স্কেল নিয়ে সুখবর, কার্যকরের সম্ভাব্য সময় জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়পে-স্কেল নিয়ে সুখবর, কার্যকরের সম্ভাব্য সময় জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। বাসাভাড়া, চিকিৎসা খরচ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চাপে রয়েছেন। তাই দ্রুত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।নিচে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতনের তালিকা দেওয়া হলো। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।গ্রেড প্রস্তাবিত বেতন স্কেল (টাকা)গ্রেড-১ ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)গ্রেড-২ ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০গ্রেড-৩ ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০গ্রেড-৪ ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০গ্রেড-৫ ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০গ্রেড-৬ ৭১,০০০–১,৩৪,০০০গ্রেড-৭ ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০গ্রেড-৮ ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০গ্রেড-৯ ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০গ্রেড-১০ ৩২,০০০–৭৭,৩০০গ্রেড-১১ ২৫,০০০–৬০,৫০০গ্রেড-১২ ২৪,৩০০–৫৮,৭০০গ্রেড-১৩ ২৪,০০০–৫৮,০০০গ্রেড-১৪ ২৩,৫০০–৫৬,৮০০গ্রেড-১৫ ২২,৮০০–৫৫,২০০গ্রেড-১৬ ২১,৯০০–৫২,৯০০গ্রেড-১৭ ২১,৪০০–৫১,৯০০গ্রেড-১৮ ২১,০০০–৫০,৯০০গ্রেড-১৯ ২০,৫০০–৪৯,৬০০গ্রেড-২০ ২০,০০০–৪৮,৪০০উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান (২৪) নিহত হয়েছেন। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান মাহমুদ।জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়িটিতে আগুন লেগে যায় এবং সেটি রাস্তার পাশের একটি বাসস্টপে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।মাহমুদ হাসান কিছুদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জন করেছিলেন। তিনি ডেজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী নাদিম নূর বলেন, “আমরা একসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় এসেছিলাম। সে আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল। তার এই অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। সবাই আমার বন্ধুর জন্য দোয়া করবেন এবং কোরিয়ায় সতর্কভাবে গাড়ি চালাবেন।”মাহমুদ হাসানের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
এআই-নির্ভর গ্লোবাল প্রিমিয়াম স্মার্ট ইকোসিস্টেম ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশ চলমান ঈদ-উল-আযহা মেগা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের ঈদ উদযাপনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই ক্যাম্পেইনে সৌভাগ্যবান ক্রেতারা জিতে নিচ্ছেন আকর্ষণীয় মেগা পুরস্কার ও ক্যাশব্যাক। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা সেন্টারপয়েন্টে অবস্থিত টেকনোর ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে আয়োজন করা হয় বিশেষ ‘মেগা গিফটস গিভঅ্যাওয়ে’ অনুষ্ঠান।অনুষ্ঠানে টেকনোর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইনের সৌভাগ্যবান বিজয়ীরা। বিশেষ এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের অর্জিত পুরস্কার।টেকনো ক্যামন ৫০ আলট্রা কিনে ঢাকার বাসাবোর মো. জামাল উদ্দিন জিতেছেন একটি ইলেকট্রিক বাইক, আর জয়পুরহাটের মি. নাসিম এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পেয়েছেন একটি ল্যাপটপ। এছাড়াও পোভা কার্ভ ২ এবং ক্যামন ৫০ আলট্রা কেনা আরও অনেক ক্রেতা পেয়েছেন টেকনো বাডস, ব্যাকপ্যাক এবং অন্যান্য এআইওটি ডিভাইসসহ আকর্ষণীয় উপহার। টেকনোর ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে নিজেদের বিশেষ ঈদ মুহূর্ত উদযাপন করেন বিজয়ীরা।ক্যাম্পেইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১ মে, ২০২৬ থেকে এবং এটি চলবে ঈদ-উল-আযহা পর্যন্ত, ফলে আরও অনেক গ্রাহকের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্যাশব্যাক জিতে নেবার সুযোগ থাকছে ক্যাম্পেইন শেষ হওয়া পর্যন্ত।ক্যাম্পেইনটির আওতায় গ্রাহকরা টেকনো ক্যামন সিরিজ অথবা পোভা সিরিজের যেকোনো একটি স্মার্টফোন কিনে জিতে নিতে পারেন ইলেকট্রিক বাইক, ল্যাপটপ, টেকনোর এআইওটি পণ্য এবং সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। এছাড়াও থাকছে টিডব্লিউএস ইয়ারবাড, স্মার্টওয়াচসহ আরও বিশেষ সব উপহার।টেকনো গ্রাহকদের নিকটস্থ আউটলেটে গিয়ে নির্ধারিত ক্যামন সিরিজ অথবা পোভা সিরিজের স্মার্টফোন কিনে এই ঈদ-উল-আযহায় পরবর্তী সৌভাগ্যবান বিজয়ী হওয়ার সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন টেকনো বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা টেকনোর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ফলো করুন।
গোনাহ থেকে বাঁচতে এবং হালালের পথে থাকার উদ্দেশেই জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছিলেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।বুধবার (৬ মে) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান মাদানী।সেখানে তিনি লেখেন, আল্লাহকে ভয় করা এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এমন আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন আলোচিত এ ইসলামি বক্তা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব’ শিরোনামে দীর্ঘ এক ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।সেখানে মাদানী বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্ক বা টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু লোক বলার চেষ্টা করছে, আমি নাকি আমার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় এই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে চাপে পড়ে বিয়ে করেছি। আবার অনেক নির্লজ্জরা তো বলছে টিকটকে নাকি পরিচয়, মাআযাল্লাহ! আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনোদিন দেখিনি, এমনকি তার সাথে একবারের জন্য কথাও হয়নি,আর টিকটকে জীবনে কোনদিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না!’সবচেয়ে বেশি আপত্তি তোলা হচ্ছে- কেন প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন আলোচিত এ ইসলামী বক্তা। এর জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে মাদানী দাবি করে বলেন, বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী-ছেলে বা মেয়ে-তাদের ফরম পূরণ করতে হয়। আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। উভয়পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন, আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব, আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী। আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সাথে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।নিজের পোস্টে প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, আমি সারাক্ষণ স্ত্রীর পাশে হাসপাতালে থেকেছি। ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন—৪ দিন ছিলাম রাত-দিন আমার ঘুম ছিল না, ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। যেদিন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, সেদিন অপারেশনের পর সারারাত তার বিছানার পাশে বসে থেকেছি। রাত ৩টার দিকে নার্সরাই আমার জন্য মায়া করে বলেছে, ‘হুজুর, আপনার স্ত্রী ভালো আছেন, আপনি বসে না থেকে এবার একটু ঘুমান।’গর্ভাবস্থার পুরো সময় হাসপাতালে থেকে স্ত্রীর দেখভাল করেছেন এবং সংসারজীবনে অবহেলার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি শুনে কষ্ট পেলেও তারা তার আচরণ বা দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বলেও দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া আলোচনায় আসা আইএমভি নামের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও ব্যাখ্যা করেন মাদানী। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি এমন নারী-পুরুষকে একত্র করে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় না।একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক অসহায় ও আশ্রয়হীন নারীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সহায়তার জায়গা হিসেবেও কাজ করছে।সমালোচকদের উদ্দেশে মাদানী আরও বলেন, অনেকেই একাধিক বিয়ের ইসলামী বিধানকে অপছন্দ করেন বলেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫টা ৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টিন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!’