তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড বলেছেন, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়টাকে তারা বেছে নিতে পারে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতি ফেলার ইতিহাস আছে ইরানের। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় তারা এ কাজ করে। জিমি কার্টার থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সব প্রেসিডেন্টের সময় তারা এ কাজ করেছে।”তিনি আরও বলেছেন, “একই সময়ে (নভেম্বরে) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্বাচন হচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির জন্য এটি ইরানের জন্য বড় একটি সুযোগ। বিশেষ করে তারা জানে, মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দাম নিয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর। যেমনটা আরব ভোটাররা রুটির দামের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর।”বর্তমানে ইরান ও মার্কিনিদের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। কিন্তু মধ্যস্থতকারী দেশগুলো এগিয়ে এলে এটির সমাধান হতে পারে উল্লেখ করে সাবেক এ দূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক অচলাবস্থা রয়েছে। ফলে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য চমকপ্রদ কিছু একটা প্রয়োজন।তিনি বলেন, “আমি মনে করি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যদি চমকপ্রদ কিছু না নিয়ে আসতে পারে তাহলে কূটনৈতিক তৎপরতার আসলে খুব বেশি দাম নেই।”বিশেষ করে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো যদি এগিয়ে আসে তাহলে সমাধান আসতে পারে বলে মনে করেন জোয়ে হুড। তিনি বলেন, “যেমন মক্কা চুক্তির দেশগুলো যদি তাদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে আসে এবং বলে, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতের নজরদারি করব, কোনো জাহাজে আর হামলা হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধেরও কোনো প্রয়োজন নেই।”সূত্র: আলজাজিরা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে দেখার পুরনো রাজনৈতিক ধারণা ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই; নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সবাই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করতেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোটব্যাংক’। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।মন্ত্রী বলেন, আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত—আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতির ভিত্তিতে আমরা প্রত্যেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা পাবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।সংবিধানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তি’ বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক এই চর্চা সমাজকে আরও সুন্দর করবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণই বিচারক। তারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি জন্মাষ্টমীর মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।এ ছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।পরে পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে জন্মাষ্টমীর মিছিলটি শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে গতি আনতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ট্রাইব্যুনালের জন্য পৃথক স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানাও নির্ধারণ করা হয়।আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।এতে বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীন ন্যূনতম ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাসমূহ বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে।কোনো মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সে পর্যায় থেকেই বিচারকার্য পরিচালিত হবে। অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল ও অধিক্ষেত্র: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের আওতাধীন থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে- ঢাকা মহানগর-১-এর অধীন পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।ঢাকা মহানগর-২-এর অধীন কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালী, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।ঢাকা মহানগর-৩-এর আওতাধীন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।ঢাকা মহানগর-৪-আওতাধীন উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।নারায়ণগঞ্জের জন্য ২টি (নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২), চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি (চট্টগ্রাম মহানগর-১, ২ ও ৩) ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে।এরমধ্যে কক্সবাজার-১-এর অধীন টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২-এর আওতাধীন উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা। কক্সবাজার-৩ এর অধীন রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা।এদিকে কুমিল্লার জন্য ২টি (কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, দেশ পরিচালনা ও সুস্থ ধারার রাজনীতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অনন্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রাজনীতিক। স্বাধীনতার পরে প্রতিটি প্রতিকূল ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে টেকসই উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে। তেমনিভাবে তারেক রহমানও ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালী পূর্ব বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র এবং টেকসই উন্নয়ন সবই বিএনপির অর্জন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান একটি উন্নত,সমৃদ্ধ ও নিরাপদ দেশ গঠনে কাজ করছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর ডায়নামিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে- 'বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল'।বর্ষীয়ান নেতা ড.মোশাররফ বলেন, সামাজিক অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সূচিত সুস্থ ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার উন্নয়নের রাজনীতিতে সামিল হওয়ার জন্য তিনি (ড. মোশাররফ) জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন,বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভুঁইয়া এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন, আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব এস.এম সালাহউদ্দিন সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালে প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড.খন্দকার মোশাররফ স্মৃতিচারণ করে বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিকশিত করার জন্য বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিলো তাঁর অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল। শহীদ জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। আজকের এই গৌরবময় দিনে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, ওসমান গণি ভূঁইয়া ও তৌহিদুল ইসলাম বাবু, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূঁইয়া, মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, মেঘনা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, ডা.আবদুল কাইউম, আবদুল গাফফার,মো.সলিমউল্লাহ, দিলারা শিরীন ও আবু ইউসুব নয়ন, মেঘনা যুবদলের আহবায়ক আতাউর রহমান ও সদস্য সচিব আবদুল হান্নান প্রমুখ।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে গালিগালাজের পর গ্রেফতার হওয়া যুবক সিফাত আব্দুল্লাহকে (২৫) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে উপস্থাপন করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।তার আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর গাছা থানা এলাকা থেকে সিফাতকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরীর (৩৮ নম্বর ওয়ার্ড) টিনের মসজিদ এলাকার সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার তিনি ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে।ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে চার হাজার টাকা এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার দাবি, এই বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তাকে আটক করে পুলিশ।গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে তার রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।’
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার দুই সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব পাওয়া গেছে।লোহিত সাগর উপকূলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বাহিনীর ২৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। আর তায়েজের অভ্যন্তরীণ এলাকায় আরও ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরেক সামরিক কর্মকর্তা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।এদিকে, হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় হুতি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং তায়েজ অঞ্চলের কাছে রকেট ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করে।সরকারি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হুতিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার মুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখাকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনও সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দেয়।
সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ১১ দলীয় ঐক্য জোটের লংমার্চ গণরায় বাস্তবানের জন্য পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে আমাদের গাড়িবহরের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত দেড় হাজার গাড়ি লংমার্চে অংশ নেবে। এই কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ দূর করার জন্য ১১ দলীয় জোট নিয়মতান্ত্রিক এবং গঠনমূলক লংমার্চ পালন করবে। এ সময় তিনি জানান, লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে।এরপর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা হবে। সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।লংমার্চে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর বিরোধী দল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৪ শিশু।আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৮৮ শিশুর। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৮৭ শিশু মারা গেছে।এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৪০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১৪। এই সময়ে ১ হাজার ৪ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪৫ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ২৬২ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টি কিংবা সামাজিক অশান্তি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।তিনি বলেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে বিভাজন তৈরি কিংবা সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তারা যে ধর্মের বিশ্বাসী বা যে রাজনৈতিক দর্শনের অনুসারীই হোক না কেন—রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করা হবে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত র্যালিপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়।আজকের এই দিনটি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত দিন। দ্বাপর যুগে অন্ধকারাচ্ছন পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময় তার জন্ম আমাদের এই বার্তায় দেয়, রাতের অন্ধকার যত গভীর হোক না কেন, ন্যায়ের পথ ধরে আসে মুক্তির আলো এটাই পরম সত্য।তাই সমাজ থেকে সত্য বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও সমাজ টিকে থাকবে আশার আলো নিয়ে। সেই আশার আলো হচ্ছে আবারও সমাজে সত্য উন্মোচিত এবং পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন ও ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারব। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে।তিনি বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদ জিয়া মহান সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্ম বিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শন বিবেচ্য বিষয় নয়, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটি পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। তাই আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাড. দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষ, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতন আচার্য্য, নির্বাহী সদস্য বাবু হালদার প্রমুখ।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এত অল্প সময়ে সরকারের সব কাজ শেষ হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। তারা ফটোসেশনের রাজনীতি করেন না, ফটো শোয়ের রাজনীতিও করেন না।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার রহমতখালী খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এর মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যায়নি। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কি হয়ে গেছে? বলার সুযোগ আছে? এটা তো বিরোধী দলের বোঝা উচিত। ছয় মাসের মাথায় উনারা লংমার্চ করবেন। আমরা ফটোসেশনের রাজনীতি করি না, ফটো শোয়ের রাজনীতিও করি না।তিনি আরও বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এরই মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যাবে, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজও এখনো শেষ হয়নি।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক নেতা ছিলেন, অনেকে নিজেদের দূরদর্শী নেতা মনে করেন। কিন্তু ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করে দেশের মানুষকে সুবিধা দেওয়ার মতো কাজ কেউ করেননি।খাল পুনঃখননের সুফল মানুষ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে দাবি করে তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ সুবিধা পাচ্ছে। তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তা ও পরিকল্পনা থেকেই ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে তা শুরু হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সারাদেশের নদী-নালা, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাহাবুব আলম মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে গতি আনতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ট্রাইব্যুনালের জন্য পৃথক স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানাও নির্ধারণ করা হয়।আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।এতে বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীন ন্যূনতম ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাসমূহ বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালসমূহে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে।কোনো মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সে পর্যায় থেকেই বিচারকার্য পরিচালিত হবে। অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল ও অধিক্ষেত্র: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের আওতাধীন থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে- ঢাকা মহানগর-১-এর অধীন পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরে বাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।ঢাকা মহানগর-২-এর অধীন কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালী, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।ঢাকা মহানগর-৩-এর আওতাধীন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।ঢাকা মহানগর-৪-আওতাধীন উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।নারায়ণগঞ্জের জন্য ২টি (নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২), চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি (চট্টগ্রাম মহানগর-১, ২ ও ৩) ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে।এরমধ্যে কক্সবাজার-১-এর অধীন টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২-এর আওতাধীন উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও থানা। কক্সবাজার-৩ এর অধীন রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা।এদিকে কুমিল্লার জন্য ২টি (কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, দেশ পরিচালনা ও সুস্থ ধারার রাজনীতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অনন্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রাজনীতিক। স্বাধীনতার পরে প্রতিটি প্রতিকূল ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে টেকসই উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে। তেমনিভাবে তারেক রহমানও ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালী পূর্ব বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র এবং টেকসই উন্নয়ন সবই বিএনপির অর্জন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান একটি উন্নত,সমৃদ্ধ ও নিরাপদ দেশ গঠনে কাজ করছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর ডায়নামিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে- 'বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল'।বর্ষীয়ান নেতা ড.মোশাররফ বলেন, সামাজিক অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সূচিত সুস্থ ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার উন্নয়নের রাজনীতিতে সামিল হওয়ার জন্য তিনি (ড. মোশাররফ) জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন,বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভুঁইয়া এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন, আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব এস.এম সালাহউদ্দিন সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালে প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড.খন্দকার মোশাররফ স্মৃতিচারণ করে বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিকশিত করার জন্য বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিলো তাঁর অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল। শহীদ জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। আজকের এই গৌরবময় দিনে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, ওসমান গণি ভূঁইয়া ও তৌহিদুল ইসলাম বাবু, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূঁইয়া, মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, মেঘনা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, ডা.আবদুল কাইউম, আবদুল গাফফার,মো.সলিমউল্লাহ, দিলারা শিরীন ও আবু ইউসুব নয়ন, মেঘনা যুবদলের আহবায়ক আতাউর রহমান ও সদস্য সচিব আবদুল হান্নান প্রমুখ।
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৩০ থেকে ৪০টি ল্যাপটপ এবং বিদেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত ডিভাইসের মতো কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার শহরের হোটেল সি প্যালেসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।পুলিশ জানায়, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে।তবে মামলার নম্বর, আসামিদের নাম ও নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, কক্সবাজারে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক জড়িত থাকতে পারেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিক এবং কয়েকজন তাইওয়ানের নাগরিক মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।তবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ঘটনায় জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।হোটেল সি প্যালেস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৬ আগস্ট চীনা নাগরিকদের একটি দল হোটেলে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়। তবে তারা কী উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এসেছিলেন বা হোটেলে অবস্থানকালে কী ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩০০*) হাঁকিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৫০ বলের এক মহাকাব্যিক ও ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নেন তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকাব্যিক ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন এ ব্যাটার।অবশ্য যে মাঠে ত্রিশতক হাঁকিয়েছেন হৃদয়, এই মাঠ বাংলাদেশিদের কাছে এক অনন্য ভেন্যু। ২০২০ সালে এখানেই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। ছয় বছর পর এই ঐতিহাসিক মাঠেই বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩০০ রানের অলৌকিক ইতিহাস লিখলেন বগুড়ার এ ব্যাটার।এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের পথচলায় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ২৩ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হৃদয়। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ২১৮ রানের একটি স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা এত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। ম্যাচের প্রথম দিনে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শাহরিয়ার বিদ্যুৎকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি।বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটি কেবল তৃতীয়। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিম ইকবাল জাতীয় ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাকিবুল হাসান।তবে তামিম ও রাকিবুল— দুজনের রেকর্ডই ছিল দেশের মাটিতে ঘরোয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যেখানে হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি বিদেশের মাটিতে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভ্লগ সিরিজ ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’-এর একটি পর্বে বেগম জিয়ার আইকনিক লুকে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সাজ, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সাজ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, “আপনারা কি আমার ‘ডিসকাভারিং বাংলাদেশ’ ব্লগ আগে দেখেন নাই? এর আগে আমি যখন মনিপুরী বা গারোদের নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাদের কস্টিউম পরেছি। আমি যখন তাঁতশিল্প নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাঁতের শাড়িটা পরছি। আমি যখন যে ভিডিওটা করি, তখন সেটার লুক নিই। ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা করিনি, আপনারা খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এটা আমার ভিডিও বানানোর প্যাটার্ন।”নিজের সাজ ও পোশাক দিয়ে দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাশন, আমাদের ট্র্যাডিশন ও কালচার নিয়ে স্টাডি করি। বাংলাদেশের পোশাক এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি, দেশের পরিচয় ও কালচার রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’চলতি বছর বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। রাজনীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি দেশনীতিবিদ হতে চাই। আমার জন্য রাজনীতি শব্দটা একটু আলাদা। দেশের জন্য কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরকম কিছু বড় প্ল্যাটফর্ম যদি পাই, সেখান থেকে আমার জন্য দেশের পলিসি মেকিং, দেশের অনেক পরিবর্তন আনার জায়গাটা পাওয়া সহজ হবে। এটাই আমার রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ ছিল।’বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এই মূল্যায়নটা কোনো আলাদা জায়গা দিয়ে করতে পারব না। কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ১০, কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ০। এক কথায় তো উতর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ‘হায়দার’, ‘মহানগর’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ দিয়ে অল্প দিনেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং নিয়েও বেশ সরব এই অভিনেত্রী।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। দিনটি উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে স্মরণ করছেন বিশ্বের মুসলিমরা। দুই বাংলায় একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জয়া আহসানও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘ঈদে মিলাদুন্নবী- ভালোবাসা, শান্তি আর মানবতার পথে ফিরে আসার এক পবিত্র স্মরণ।’ জয়ার এই সংক্ষিপ্ত বার্তায় ভালোবাসা, শান্তি ও মানবতার গুরুত্ব উঠে এসেছে। পবিত্র এই দিনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী মাজার এলাকা থেকেও জশনে জুলুসের র্যালি বের হয়। এ ছাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ অংশ নেন।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।এদিকে গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর আগে গত ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানতে চান, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর নামের তালিকা কী, বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি সদস্য কারখানাসহ ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি কারখানায় রফতানি আদেশ দিতে অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করেন তিনি।তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।এছাড়া রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংঅন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান চালানো হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও আরও জোরদার করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা এমইভি সুবিধা সীমিত করেছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার ৩১টি দেশের নাগরিকরা এ সুবিধার আওতার বাইরে পড়েছেন।ফলে বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসাই প্রযোজ্য হবে। যেসব দেশের জন্য এই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা বাতিল করে সিঙ্গেল এন্ট্রি করা হয়েছে তাদের তালিকাও প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) আর ঢালাওভাবে সব দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া হবে না।নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে অবশ্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে- ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এই নতুন ঘোষণা ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংক্রান্ত ভিসার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নীতির কথা জানানো হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
এআই-নির্ভর গ্লোবাল উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো-এর জনপ্রিয় ক্যামন সিরিজের নতুন সংযোজন টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে যাত্রা শুরু করল নতুন এই স্মার্টফোন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে এসেছে নতুন টেকনো ক্যামন এয়ার। আকর্ষণীয় স্লিম এই দুটি স্মার্টফোনে এডভান্সড ছবি তোলার টেকনোলজি, এআই-নির্ভর ফিচার, ডিউরাবেল ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সমন্বয় এনেছে টেকনো। “স্লিম, স্টং, আনস্টপেবল” ট্যাগলাইন সামনে রেখে তৈরি টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি -এর থিকনেস মাত্র ৬.৩৯ মিলিমিটার এবং ওজন মাত্র ১৯০ গ্রাম। লাইটওয়েটের পাশাপাশি ডিউরাবিলিটিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিভাইসটিতে। এতে রয়েছে আইপি৬৮, আইপি৬৯ ও আইপি৬৯কে প্রোটেকশন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি ও ৪৫ ওয়াট সুপার চার্জ সুবিধা।টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি -তে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চি ১.৫কে ১৪৪ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ই ৫জি প্রসেসর। ছবি তোলার জন্য এতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সনি এলওয়াইটি৭০০সি ওআইএস ক্যামেরা, সাথে ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, ফ্লিকার সেন্সর এবং ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। ডিভাইসটিতে আরও রয়েছে টেকনো-এর সর্বশেষ এআই-নির্ভর বিভিন্ন সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি নির্ণয়ের সুবিধাসহ এআই হেলথকেয়ার, এআই নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, এআই পেট স্ন্যাপ এবং এআই স্টারক্যাম্প সহ আরও অনেক ফিচার।টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি (৮জিবি+২৫৬জিবি)-এর মূল্য ৫৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। ডিভাইসটির প্রি-বুকিং চলবে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইন চলাকালে সফলভাবে প্রি-বুক করা গ্রাহকরা পাবেন এক্সক্লুসিভ গিফট বক্স যার মধ্যে থাকবে টেকনো স্মার্টওয়াচ নিও এবং টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচের একটি টিকিট। (অফারটি ক্যাম্পেইনের প্রযোজ্য টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস ও গিফট অ্যাভেইলেবিলিটির সাপেক্ষে কার্যকর হবে।)ক্যামন স্লিম ৫জি -এর বিশ্বব্যাপী প্রথম উন্মোচনের পাশাপাশি টেকনো ক্যামন এয়ার এখন দেশজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ৬.৩৯ মিলিমিটার থিক থ্রিডি কার্ভড ডিজাইন এবং ১৬২.৮ গ্রাম ওজনের ক্যামন এয়ার -এ রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি ও ৬০ ওয়াটের আল্ট্রা চার্জার। এতে আরও রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চি ১.৫কে ১৪৪ছার্জ অ্যামোলেড থ্রিডি কার্ভড ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ আলটিমেট প্রসেসর এবং আইপি৬৮/আইপি৬৯ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট প্রোটেকশন। ছবি তোলার জন্য টেকনো ক্যামন এয়ার -এ রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সনি এলওয়াইটি৬০০ মেইন ক্যামেরা ও ফ্লিকার সেন্সর এবং ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। পাশাপাশি রয়েছে টেকনো-এর এআই-নির্ভর বিভিন্ন সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি নির্ণয়ের সুবিধাসহ এআই হেলথকেয়ার, এআই নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, এআই পেট স্ন্যাপ এবং এআই স্টারক্যাম্প সহ আরও অনেক ফিচার। পাশপাশি এর ব্যাকসাইডে রয়েছে এআই মুড লাইট ফিচার। ক্যামন এয়ার পাওয়া যাচ্ছে দুটি ভার্সনে, ৮জিবি+১২৮জিবি-এর প্রাইস ৪৪,৯৯৯ টাকা এবং ৮জিবি+২৫৬জিবি-এর প্রাইস ৪৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।বাংলাদেশে ক্যামন স্লিম ৫জি -এর বিশ্বব্যাপী প্রথম উন্মোচন দেশের বাজারে টেকনো ক্যামন সিরিজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ক্যামন এয়ারের দেশব্যাপী অ্যাভেইলেবিলিটির পাশাপাশি নতুন এই অ্যাডিশন বাংলাদেশে টেকনোর ক্যামন সিরিজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকদের জন্য স্লিম ও আকর্ষণীয় ডিজাইন, এডভান্সড ফটোগ্রাফি টেকনোলজি, ডিউরাবিলিটি, এআই-নির্ভর ফিচার এবং শক্তিশালী ডেইলি পারফরম্যান্সের সমন্বয় নিয়ে এসেছে টেকনো। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন টেকনো মোবাইল বাংলাদেশের ওয়েবসাইট অথবা ফলো করুন টেকনো বাংলাদেশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি