হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইরান। সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশটির নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ (পিজিএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে ইরানের এই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের দাবি, কালো তালিকাভুক্ত এই জাহাজগুলো পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি পারাপারের সময় নির্দিষ্ট ট্রাফিক নিয়ম এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা আইন অমান্য করেছে। ইরানের নিয়ম বলতে কী বোঝানো হয়েছে বিবৃতিতে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তবে তেহরান অতীতে বলেছে যে প্রণালিটি অতিক্রম করার জন্য জাহাজ মালিকদের তাদের ছাড়পত্র নিতে হবে এবং জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।পিজিএসএ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই ৪৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালির ইরানি জলসীমা বা এর সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করলে কঠোর আইনি ও সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হবে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানা, জাহাজ সাময়িকভাবে আটক এবং কার্গো বা পণ্য জব্দ করা। এছাড়া একটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়ে ইরান জানিয়েছে, এই তালিকায় থাকা কোনো জাহাজের সঙ্গে যদি অন্য কোনো নৌযান মাঝসমুদ্রে পণ্য স্থানান্তর করে, তবে সেই সহযোগী নৌযানকেও তাৎক্ষণিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।ইরানের তৈরি এই ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ বা আইন অমান্যকারী তালিকার সিংহভাগই জ্বালানি ও রাসায়নিক পরিবহনকারী বড় বড় নৌযান। এর মধ্যে রয়েছে অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, রাসায়নিক ও পণ্যবাহী ট্যাংকার, পরিশোধিত বা ক্লিন পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-বাহী জাহাজ।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয, কালো তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিপিং জায়ান্টের নাম এসেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির রাষ্ট্রীয় কোম্পানি- এডনক লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং-এর সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ৮টি জাহাজ এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘নেভিগ৮ ট্যাংকারস’-এর বেশ কিছু নৌযান এই তালিকায় রয়েছে।অন্যদিকে সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’-এর মালিকানাধীন একাধিক তেল ট্যাংকারও ইরানের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নরওয়েভিত্তিক ক্ল্যাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট, স্টল্ট ট্যাংকারস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকর কোম্পানির বাণিজ্যিক জাহাজও তালিকায় স্থান পেয়েছে।প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির পরপরই ইরান এই পাল্টা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়। কোনো জাহাজ বা কোম্পানি যদি এই কালো তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে চায়, তবে উপযুক্ত প্রমাণ ও ব্যাখ্যাসহ ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল বা আবেদন জমা দিতে হবে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও নৌ-বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।সূত্র: রয়টার্স, মিডল ইস্ট আই
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।তিনি জানান, বৈঠকে মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল করা হলে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সর্বজনীন উপবৃত্তির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবার যাতে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস না করা হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দু’টি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান।সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন কার্যক্রম, আদালত পরিচালনার বিষয়াদি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানান।প্রধান বিচারপতি এ সময় রাষ্ট্রপতির কাছে অতিরিক্ত মামলা জট, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও কাঠামোগত সংকটসহ বিচারাঙ্গনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি মামলা দায়ের হচ্ছে। ফলে মামলার জট নিরসন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।রাষ্ট্রপতি এ সময় মামলার জট নিরসনে সালিশি নিষ্পত্তি ও গ্রাম আদালত ব্যবস্থার আরও প্রসার এবং কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে।আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ–বিষয়ক উপকমিটি।এ সময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন : পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ নামের একটি পুস্তিকা পড়ে শোনান।বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে পুস্তিকাটি লেখা হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিন সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার ১৮০ দিনের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি সংকটে কল-কারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট শিল্প উৎপাদন, কৃষি খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং খাতের লুটেরারা পুনরায় ফেরত আসছে, ভোগ্যপণ্য ও আমদানি বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, বিএনপি তাতে নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। পাঁচ মাস দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এবং লুটেরা ও বাজার সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন একই সূত্রে গাঁথা বলে তারা মনে করেন।প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার (যেমন মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) একে একে বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসবের জায়গায় আগের চেয়ে দুর্বল ও অকার্যকর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারকে ছুড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার নীতিতে বিচার ও শহীদ পরিবার-আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত।বিরোধী দল, মত ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলায় আহত ব্যক্তিদের আইনিভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশকে আবার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।পুস্তিকায় বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নতুন মোড়কে র্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেসব বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়।সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। শুধু ক্ষমতায় বসেছেন এবং পুরোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনা ও নীতি অনুযায়ী তিনি দেশকে পরিচালনা করছেন, দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছেন।’সরকার সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য, বিশেষ করে এনসিপি গত ছয় মাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করেছি বিরোধী দলের জায়গা থেকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা, সেটা বিরোধী দল এনেছে। সরকার সেটার জবাব দিয়েছে আমাদের একজন ভাইয়ের চোখ কেড়ে নিয়ে। গাইবান্ধায় একজন মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে।’বিরোধী দল আসলে ব্যর্থ, বিরোধী দল দুর্বল—এমন প্রচারকে ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তারা দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত এটা দেখিয়ে যাচ্ছেন যে কোথায় কোথায় সরকার ভুল করছে, প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে। নীতিগতভাবে এটা মানুষকে যেমন তারা দেখাবেন, একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে তারা এটার প্রতিরোধ করবেন। যদি সরকার ক্রমে সেদিকেই হাঁটতে থাকে, তাহলে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে পড়বে।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শিগগিরই ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ হবে পাঁচ থেকে ছয়টি বিভাগে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তারা একটা বড় বার্তা সরকারকে দেবেন। এরপর আরও কঠোর আন্দোলনের যদি প্রয়োজন হয়, সেটার ঘোষণা তারা দেবেন। পাশাপাশি এনসিপিও তার সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলা-জেলা পর্যায়ে ও মহানগরগুলোয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেটি ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদদ ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম করতে দেওয়া, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রাখা—এটা আসলে সম্ভব নয়। তারা মনে করেন, এটা সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতা।নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না দিল্লি, শেখ হাসিনাকে সেখানে রাখবে না, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকার শ্রদ্ধাশীল হবে, ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই বিগত ১৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশ–ইন যাতে না হয়, সীমান্ত হত্যা যাতে বন্ধ হয়—ইত্যাদির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে যেখানে শেখ হাসিনা রয়েছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তাহলে এটার আসলে অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসী কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটা শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা অবমাননাকর ঘটনা হবে। বাংলাদেশ যে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্বের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না—এটাই বার্তা যাবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধরন কিছুটা ভিন্ন এবং অতীতে এসব নির্বাচনে সহিংসতা বেশি দেখা গেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের মাথায় রয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে নির্বাচন কমিশন অনেক শিক্ষা পেয়েছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগের নির্বাচনের তুলনায় আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে। নির্বাচন কমিশন যে মানদণ্ড তৈরি করেছে, তার নিচে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং সম্ভব হলে সেই মান আরও উন্নত করা হবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, বর্ষাকাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা এবং স্কুলশিক্ষকদের প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।সিইসি স্পষ্ট করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ সরকার নির্ধারণ করবে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করা হবে, তবে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, বিষয়টি অযথা বিলম্বিত করার মতো নয় এবং সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধরন কিছুটা ভিন্ন এবং অতীতে এসব নির্বাচনে সহিংসতা বেশি দেখা গেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের মাথায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীকে যথাযথভাবে মোতায়েন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একা প্রস্তুতি নিলেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। পুলিশসহ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সব বাহিনী ও সংস্থার প্রস্তুতিও প্রয়োজন। নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসি জানান, পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কমিশন কাজ করছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের সব গণবিরোধী অবস্থানের নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানিয়ে যাবে তাঁর দল।সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় গণমাধ্যমের পাশে থাকতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান সংবাদপত্রের সম্পাদকরা। বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ণ রাখতে পত্রিকার সম্পাদকদের প্রতি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান। এদিন সরকারের ১৮০ দিনের মূল্যায়ন নিয়ে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ সময় দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহে বিএনপি সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ সময় শেখ হাসিনা ভারতে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে বাংলাদেশের জন্য তা অবমাননাকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীরা আটক হলেও মাদক ব্যবসায় নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের অনেকেই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে মাদকের কারবার চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও মাদকের সরবরাহ ও অর্থের মূল নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সমস্যাটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।স্থানীয়রা বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি এখন সামাজিক ও পারিবারিক সংকটেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা জরুরি।দূর্গাপুর ইউনিয়নের মো. আল আমিন বলেন, মাঝে মধ্যে মাদকসহ কয়েকজন আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু যারা এসব মাদকের বড় চালান আনে এবং পেছন থেকে পুরো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।সুলতানাবাদ ইউনিয়নের মো. রবিউল হক জানান, মাদক নির্মূলে শুধু আটক নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করা দরকার। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন বলেন, মাদক একটি পরিবার ও সমাজ ধ্বংস করে দিতে পারে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা যে পর্যায়েরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।তিনি বলেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারীদের আটক করলেই মাদক নির্মূল হবে না। মাদকের মূল উৎস ও বড় কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক নির্মূলে বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। মাদকের উৎস শনাক্ত, সরবরাহের পথ বন্ধ, বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এই চারটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্যসহ কাউকে আটক করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের উৎস ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মতলব উত্তরকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ভূমিকা পালন করবে। খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।মন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরেন। তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে বলে বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।দুই দেশের এই পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলগির খালের ওপর নির্মিত আলোচিত ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’ অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসনে আজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধটি কেটে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়।বাঁধ অপসারণস্থলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাঁধ অপসারণস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।একসময় বামনী নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকাতে মাটির এই আড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে তা নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জের পানি নিষ্কাশনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।সম্প্রতি বামনী নদীতে ক্লোজার ও ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণের পর এই আড়িবাঁধটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আলগির খাল ও জালিয়ার খালের মোট ১০.৫ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হচ্ছে।প্রশাসন জানায়, বাঁধ অপসারণ ও খাল খনন সম্পন্ন হলে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এলাকার প্রায় ২৮০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সুরক্ষার পথ সুগম হবে।
বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুত স্বনির্ভর,উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। বিএপি নেতা খন্দকার মারুফ দৃঢ়তার সাথে বলেন, অপরাধীর কোনো দল নেই,আদর্শ নেই। সে তো শুধুই অপরাধী। ওরা দেশ ও জাতির শত্রু, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পথে মারাত্মক অন্তরায়। সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ক্রিমিনালদের দমন করতে সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছেন। তাদের সামান্যতম ছাড় দেওয়া হবে না। এইসব অপরাধী আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে যাতে বেরিয়ে না যায়, সে ব্যাপারে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে তিনি মেঘনার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ড.খন্দকার মারুফ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে কুমিলার মেঘনা উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন। ড.খন্দকার মারুফ বলেন, একটি প্রযুক্তিনির্ভর,স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে। দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা এখন জনগণের কাছে দৃশ্যমান। জনগণ উন্নত সমৃদ্ধ নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন চায়। সরকারের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি খুবই অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ সরকার চরম দু:শাসন ও জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। তারেক রহমান সেই ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে জনগণকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাড়াবে, ইনশাআল্লাহ।মেঘনার ইউএনও মৌসুমী আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও.সি) মো. শহীদুল ইসলাম, মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্য সচিব মো. সালাহউদ্দিন সরকার ও যুগ্ম আহবায়ক দিলারা শিরীন প্রমুখ। সভায় বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র বিএনপির হাতেই নিরাপদ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যুগান্তকারী উন্নয়ন করে। জনগণ নিরাপদে, সুখ স্বাচ্ছ্যন্দে জীবন যাপন করতে পারে। এবারও বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করছে। মানুষ এইসব কাজের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। সরকার কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত কৃষি ও জনবান্ধব প্রকল্প- 'খাল খনন কর্মসূচি' আবারও চালু করেছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অসহায়, দু:স্থ এবং কৃষক পরিবারের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। গত ৬ মাসে তারেক রহমান রাষ্ট্রের প্রচুর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আপামর জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জনগণ তাঁকে ঘিরে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন স্বপ্ন দেখছে।সভায় ড.খন্দকার মারুফ মেঘনা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে- চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকসেবী ও কারবারী দমন, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।তিনি মেঘনা উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের সেবক। সেবার মনোভাব নিয়ে জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন। নতুবা জনগণের কাছে আপনাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কোনপ্রকার গাফিলতি কিংবা শৈথিল্য জনগণ বরদাশত করবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। সোমবার (২৪ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদে নির্ধারিত মন্ত্রীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা-ও নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংসদীয় কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।অন্যান্য মন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টনস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন ড. আব্দুল মঈন খান। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আফরোজা খানম। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন সাচিং প্রু। তাঁর অনুপস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, এর আগে জারি করা এ-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনগুলোর অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।গত ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে ছয়জন শপথ নেন। শপথের পর তাঁদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন এবং পুরোনো একজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। ড. আব্দুল মঈন খান পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সাচিং প্রু পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আন্দালিভ রহমান পার্থ পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শামীম কায়সার লিংকন পেয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।এই সাতজনের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের কারণে সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে।আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ–বিষয়ক উপকমিটি।এ সময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন : পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ নামের একটি পুস্তিকা পড়ে শোনান।বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে পুস্তিকাটি লেখা হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিন সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার ১৮০ দিনের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি সংকটে কল-কারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট শিল্প উৎপাদন, কৃষি খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং খাতের লুটেরারা পুনরায় ফেরত আসছে, ভোগ্যপণ্য ও আমদানি বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, বিএনপি তাতে নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। পাঁচ মাস দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এবং লুটেরা ও বাজার সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন একই সূত্রে গাঁথা বলে তারা মনে করেন।প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার (যেমন মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) একে একে বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসবের জায়গায় আগের চেয়ে দুর্বল ও অকার্যকর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারকে ছুড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার নীতিতে বিচার ও শহীদ পরিবার-আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত।বিরোধী দল, মত ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলায় আহত ব্যক্তিদের আইনিভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশকে আবার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।পুস্তিকায় বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নতুন মোড়কে র্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেসব বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়।সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। শুধু ক্ষমতায় বসেছেন এবং পুরোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনা ও নীতি অনুযায়ী তিনি দেশকে পরিচালনা করছেন, দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছেন।’সরকার সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য, বিশেষ করে এনসিপি গত ছয় মাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করেছি বিরোধী দলের জায়গা থেকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা, সেটা বিরোধী দল এনেছে। সরকার সেটার জবাব দিয়েছে আমাদের একজন ভাইয়ের চোখ কেড়ে নিয়ে। গাইবান্ধায় একজন মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে।’বিরোধী দল আসলে ব্যর্থ, বিরোধী দল দুর্বল—এমন প্রচারকে ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তারা দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত এটা দেখিয়ে যাচ্ছেন যে কোথায় কোথায় সরকার ভুল করছে, প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে। নীতিগতভাবে এটা মানুষকে যেমন তারা দেখাবেন, একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে তারা এটার প্রতিরোধ করবেন। যদি সরকার ক্রমে সেদিকেই হাঁটতে থাকে, তাহলে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে পড়বে।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শিগগিরই ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ হবে পাঁচ থেকে ছয়টি বিভাগে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তারা একটা বড় বার্তা সরকারকে দেবেন। এরপর আরও কঠোর আন্দোলনের যদি প্রয়োজন হয়, সেটার ঘোষণা তারা দেবেন। পাশাপাশি এনসিপিও তার সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলা-জেলা পর্যায়ে ও মহানগরগুলোয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেটি ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদদ ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম করতে দেওয়া, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রাখা—এটা আসলে সম্ভব নয়। তারা মনে করেন, এটা সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতা।নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না দিল্লি, শেখ হাসিনাকে সেখানে রাখবে না, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকার শ্রদ্ধাশীল হবে, ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই বিগত ১৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশ–ইন যাতে না হয়, সীমান্ত হত্যা যাতে বন্ধ হয়—ইত্যাদির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে যেখানে শেখ হাসিনা রয়েছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তাহলে এটার আসলে অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসী কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটা শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা অবমাননাকর ঘটনা হবে। বাংলাদেশ যে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্বের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না—এটাই বার্তা যাবে।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলগির খালের ওপর নির্মিত আলোচিত ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’ অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসনে আজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধটি কেটে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়।বাঁধ অপসারণস্থলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাঁধ অপসারণস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।একসময় বামনী নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকাতে মাটির এই আড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে তা নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জের পানি নিষ্কাশনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।সম্প্রতি বামনী নদীতে ক্লোজার ও ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণের পর এই আড়িবাঁধটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আলগির খাল ও জালিয়ার খালের মোট ১০.৫ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হচ্ছে।প্রশাসন জানায়, বাঁধ অপসারণ ও খাল খনন সম্পন্ন হলে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এলাকার প্রায় ২৮০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সুরক্ষার পথ সুগম হবে।
ম্যাকাই টেস্টে দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হারল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা অলআউট হয়েছে ৯৫ রানে। এই প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের পর একমাত্র স্বস্তি শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেট পাওয়া।এই টেস্টে টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের মাঝে একমাত্র প্রাপ্তি দুর্দান্ত বোলিংয়ে শরীফুল ইসলামের ৭ উইকেট পাওয়া।রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে অস্ট্রেলিয়ার ২ উইকেট তুলে নিতে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লাগে বাংলাদেশের। এর মধ্যেই প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যায় ১৪৬ রানে।উইকেটে বোলারদের খুব বেশি বাড়তি সুবিধা ছিল না। তবু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসের মতোই হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তারা যেভাবে আউট হয়েছেন, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।থিতু হয়ে যাওয়ার পর ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল, তানজিদ আউট হয়েছেন হুক করতে গিয়ে, লিটন ১০ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে থাকা মুশফিক ৮০ বল খেলে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।শেষটা হতাশার হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে ভালোভাবেই লেখা থাকবে এই সিরিজটা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টের জয়টা ক্রিকেটারদের স্মৃতিতেও সবসময় থেকে যাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হলো ১–১ সমতায়।
চলচ্চিত্র নির্মাণের পর পোস্ট-প্রডাকশন থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখি-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালা।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে আয়োজিত এ কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান, শাকিব খান অভিনীত আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের পরিচালক। বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, দর্শক সম্পৃক্ততা, চলচ্চিত্র বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও বাণিজ্যিক কৌশল নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।কর্মশালায় চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশন পরবর্তী ধাপ, ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরের ভূমিকা, ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্র্যাটেজি, হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের বিপণন ও দর্শক তৈরি, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং কমার্শিয়াল পজিশনিংসহ চলচ্চিত্র বিতরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।কর্মশালার একটি বিশেষ সেশনে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বিষয়ে আলোচনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। চলচ্চিত্রের নির্মাণ থেকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাদার যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।কর্মশালায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সারা বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশনের প্রয়োজনীয়তা। আলোচনায় বলা হয়, চলচ্চিত্রের দর্শক শুধু ঢাকা বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও রয়েছে সম্ভাবনাময় দর্শক। তাই একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু নির্মাণের মানের ওপর নির্ভর করে না—সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন পরিকল্পনার মাধ্যমে কত বিস্তৃত দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রটি পৌঁছাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।আলোচনায় ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের নৈতিকতা বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্বচ্ছ রাজস্ব বণ্টন, সঠিক বক্স অফিস রিপোর্টিং, ন্যায্য স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা এবং চলচ্চিত্রের অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী সরকার।এছাড়া কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BUFT) এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়; পোস্ট-প্রডাকশন, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শন—পুরো চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালার মাধ্যমে নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, বাজার ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও পেশাগত ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য কুমিল্লায় বসছে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে দেশীয় চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’। আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট কুমিল্লা কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব।দুই দিনের আয়োজনে থাকছে মোট ছয়টি চলচ্চিত্র। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনটি করে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। সাধারণ দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিদিনের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। একটি টিকিটেই ওই দিনের তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ থাকছে। অনলাইন ও উৎসবের ভেন্যু—দুই জায়গা থেকেই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।উৎসবের প্রথম দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় আকাশ হক পরিচালিত ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। এরপর সন্ধ্যা ৫-৩০ মিনিটে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জীবন শাহাদাৎ পরিচালিত ‘নেমপ্লেট’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘গলুই’ প্রদর্শিত হবে।দ্বিতীয় দিন ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় পর্দায় উঠবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘লাল শাড়ি’। বিকেল সাড়ে ৫-৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে সুপিন বর্মন পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এ লেটার অব পোস্টমাস্টার’। উৎসবের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দেখানো হবে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাতাও’।আয়োজনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থাকায় দর্শক দুই দিনে ভিন্ন স্বাদের বেশ কিছু কাজ দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, দেশীয় চলচ্চিত্রের নানা ধরনের নির্মাণ ও গল্প বলার ধরন সম্পর্কে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতাও দিতে পারে।ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বড়ুয়া মনোজিত ধীমন জানান, রাজধানীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিসর তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সেই জায়গা থেকে কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো এ উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। স্থানীয় দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের জন্য উৎসবটি হয়ে উঠতে পারে দেশীয় চলচ্চিত্রকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। এক টিকিটে তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুবিধা এবং তুলনামূলক কম টিকিটমূল্য তরুণদের উৎসবে টানতে পারে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগঠক ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিরও একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স নিবেদিত এ উৎসব আয়োজন করছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটি ও বেঙ্গল ফিল্ম সোসাইটি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দুই দিনের এ আয়োজন কুমিল্লায় চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করবে।শুধু কুমিল্লায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের অন্যান্য শহরেও এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে পড়লে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিকল্প পরিসর আরও সমৃদ্ধ হবে। প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনীর পাশাপাশি উৎসবভিত্তিক আয়োজন দর্শকদের ভিন্নধারার চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ তৈরি করে। সেই বিবেচনায় ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’ দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক তৈরির ধারায় একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘুরতে বেশ ভালোবাসেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে কখনো পাহাড়, কখনো সমুদ্র কিংবা ঝরনার সৌন্দর্যে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। সেই মুহূর্তগুলো ভিডিও কিংবা ছবি- ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নেন এই নায়িকা।বর্তমানে সিনেমার শুটিংয়ের কাজে নেপালে রয়েছেন অপু বিশ্বাস। কাজের ফাঁকে সেখানকার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে তাকে। তবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালেই হঠাৎ সমুদ্রতটের আবহে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।ছবিগুলোর পটভূমি কোথাকার, তা অবশ্য জানাননি অপু। বলে রাখা ভালো, নেপালে কোনো সমুদ্র সৈকতও নেই। তবে ছবিতে তার সাজপোশাকই যেন কেড়ে নিয়েছে সবার নজর। মাথায় ক্যাপ, চোখে রোদচশমা আর পরনে স্লিভলেস কালো ক্যাজুয়াল টপ—পুরো সাজেই ছিল ওয়েস্টার্ন ও স্টাইলিশ ছাপ।খোলামেলা চুল, মুখে হালকা হাসি আর কালো পোশাকে অপুর উপস্থিতি ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নান্দনিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে তোলা এসব ছবিতে বেশ সাবলীলভাবেই ধরা দিয়েছেন তিনি।সকাল সকাল অপুর এমন স্টাইলিশ লুক প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভিড় করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। নানা প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন প্রিয় নায়িকাকে।
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ কলকাতার পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। আগামী ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার নন্দনে অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত নয়টি প্রামাণ্যচিত্রের একটি। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ৬৬ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়া—ইস্টার্ন রিজিয়ন আয়োজিত এ উৎসবে সেরা ও দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন ও সিলভার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। কলকাতায় প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ছবিটির ভারতীয় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।পরিচালক মকবুল চৌধুরী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এ সময়ে তিনি ঢাকা, কলকাতা, প্যারিস ও নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে নাসির আলী মামুনের শিল্পীজীবন ও সৃজনযাত্রা অনুসরণ করেছেন। তাঁর শিল্পকর্মের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মামুনের সম্পর্ক ও যোগাযোগও উঠে এসেছে প্রামাণ্যচিত্রটিতে।ছবিতে কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিশেষভাবে উপস্থিত হয়েছে। কলকাতাকে ঘিরে প্রামাণ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার রয়েছে প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ, প্রয়াত চিত্রশিল্পী রবীন মণ্ডল, চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী এবং গণেশ হালই-এর।প্রামাণ্যচিত্রটিতে নাসির আলী মামুনের সৃজনযাত্রার একটি চিন্তাশীল ও শিল্পসম্মত দলিল তুলে ধরা হয়েছে। আলো ও ছায়ার অনন্য আন্তঃসম্পর্কে গড়ে ওঠা তাঁর শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে কীভাবে মানবমুখের ভেতর ইতিহাসের গভীর সত্যকে ধারণ করা যায়, চলচ্চিত্রটি সেই শিল্পভাষার অনুসন্ধান করেছে।‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ ২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ২৮তম টাঙ্গস অন ফায়ার, ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার লাভ করে।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন একই আদালত। আসামি পক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ডিবি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। সম্প্রতি ডিবির জমা দেওয়া এই প্রতিবেদন আদালত আমলে নিয়ে সমন জারি করে তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।গত বছরের ৫ নভেম্বর একই আদালতে অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, তানজিন তিশা বাংলাদেশের পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত। এর সুবাদে আসামি অ্যাপোনিয়ার অনলাইন পেজে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে একটি শাড়ি পছন্দ করে নেন। যার বাজার মূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। শাড়িটি তানজিন তিশার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তানজিন তিশা নানা ধরনের ভয়েস ম্যাসেজ এবং ম্যাসেজ দিয়ে শাড়িটি পরিধান করে অ্যাপোনিয়া পেজ প্রমোশনের জন্য নানাভাবে আশ্বস্ত করেন।মামলায় আরও বলা হয়, তানজিন তিশাকে পেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে শাড়িটি পরিধান করে পেজ প্রমোশনের জন্য নানা উপায়ে অনুরোধ করেন। তিনি গত ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাড়িটি পরিধান না করে, পেজ প্রমোশন না করে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত ৬ মাসের অধিক সময় কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের কথোপকথন থেকে বিরত রয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।বাদীর অভিযোগ, তানজিন তিশা প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। মামলাটি আমলে গ্রহণ করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে আদালত অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার চ্যানেল এসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তারাই বিষয়টি তদন্ত করছে।’সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।পুরোনো নথি অনুযায়ী, সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ ওই তদন্তের ফল মেনে নেয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ডন হককে গ্রেফতারের পর মামলার তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে।
বাংলাদেশের মেনসওয়্যার ব্র্যান্ড জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোব (GW) আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল খাতের পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানাতে নিয়ে এসেছে ব্যাংকার্স উইক। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্যাংক, নন-ব্যাংক ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীরা জেন্টলম্যান’স ওয়ার্ড্রোবের মিরপুর ডিওএইচএস ও ধানমন্ডি আউটলেট থেকে রেডি-টু-ওয়্যার ও কাস্টম টেইলারিংসহ সব পণ্যে ২০% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। “আমরা সচেতনভাবে কখনো ব্যাংকারদের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করিনি। সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝতে পেরেছি, আমাদের অনেক ব্যাংকারের সঙ্গে কাজ করার এবং তাদের স্টাইল করার সুযোগ হয়েছে। ব্যাংকার্স উইক তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সম্মান জানানো এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় মাত্র ,” বলেছেন জেন্টলম্যান'স ওয়ার্ড্রোবের ফাউন্ডার ও সিইও শাবাব দ্বীন শারেক।ক্যাম্পেইনে আধুনিক পেশাজীবীদের পোশাকের চাহিদা মাথায় রেখে স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল শার্ট ও ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ক্লাসিক ও ভার্সেটাইল মেনসওয়্যার রাখা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভসহ ১২টি খাতে অগ্রগতি অর্জিত হলেও, মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু ঋণসহ বাকি ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে তীব্র অবনতি ও গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত “সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা” শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।সিপিডি বলছে, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্ণ হলেও দেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়ে ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং শিল্প খাতে দীর্ঘায়িত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নতুন বিনিয়োগ থমকে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট ও অস্থিতিশীল বাজারের যে চ্যালেঞ্জ ছিল, ছয় মাস পরও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।সিপিডির গবেষণায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান ম্যাক্রো অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সূচকে অগ্রগতি দেখা গেলেও ১৯টি সূচকে অবনতি ঘটেছে।বিগত ৬ মাসের অর্থনীতি ও সুশাসনের পারফর্ম্যান্স নিয়ে মূল্যায়ন তুলে ধরে সিপিডির দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান দুটো প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিগত ৬ মাসের সার্বিক পর্যালোচনায় এই দুটির একটিতেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং দুই প্রত্যাশাতেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। বিগত সরকারের কাছ থেকে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। টাকা সংকট, ব্যাংকিং খাতের করুণ দশা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল। তবে এগুলো সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি দেখা যায়নি।সুশাসন ও প্রশাসনিক দুর্বলতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, দুর্নীতি বন্ধ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট এবং ‘মব কালচার’ বন্ধ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়ন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও দেশে মব ভায়োলেন্স অব্যাহত রয়েছে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি। গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় তৈরি আইনে নানা ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিশেষ করে, আইন ভঙ্গকারীকে দিয়ে অনুসন্ধান করানোর কারণে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কি কি সংকট পেয়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট একীভূত দলিল বা নথিপত্র তৈরি করেনি। ফলে সরকারের মুখে সংকটের কথা শোনা গেলেও তার তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুপস্থিত।অবশ্য সরকারের কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এমপিদের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, এআই দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক। তবে সার্বিকভাবে অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে হলে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বদলে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির দিকে যেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিলের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামক দোকানে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে এবং অপরজন রাজু বুকে গুলিবিদ্ধ হন।গুরুতর আহত উভয়কে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালের নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় রকঅ্যাওয়ে এভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছাকাছি অবস্থিত রেস্তোরাঁয় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাজুর দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবন শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো।এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
গ্রামীণফোন, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড (জিএইচএল)-এর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে, গ্রামীণফোনের ডিস্ট্রিবিউশন হাউস ফিল্ড ফোর্স এবং গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) এজেন্টদের জন্য ‘সুখী’ ডিজিটাল হেলথকেয়ার অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু করেছে।দেশজুড়ে গ্রাহকদের সেবা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ফ্রন্টলাইন টিমের স্বাস্থ্য ও সুস্থতায় সহায়তা করা গ্রামীণফোনের চলমান উদ্যোগগুলোর অংশ এই কার্যক্রম। একইসঙ্গে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের বৃহত্তর অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন এই উদ্যোগ।এই উদ্যোগের আওতায় ডিস্ট্রিবিউশন হাউস ফিল্ড ফোর্স এবং জিপিসি এজেন্টরা ‘সুখী’ অ্যাপের মাধ্যমে সারা বছর ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, তারা চিকিৎসা পরামর্শের পর ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন নিতে পারবেন। এছাড়াও হোম ল্যাব টেস্টে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ এবং অনলাইনে ওষুধ কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।গ্রামীণফোনের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ শরীফ মাহমুদ খান এবং গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের (জিএইচএল) চিফ বিজনেস অফিসার এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিবিটিও) মোহাম্মদ সোলায়মান রাসেল সম্প্রতি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) ফারহা নাজ জামান এবং চিফ প্রোডাক্ট অফিসার (সিপিও) সোলায়মান আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের (জিএইচএল) পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ড. আহমদ আরমান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে জিএইচএলের সিবিটিও তাদের অ্যাপ, ওয়েব এবং আইভিআর কল সেন্টার চ্যানেলের মাধ্যমে 'সুখী'র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার তাৎক্ষণিক ব্যবহার ও সুবিধা প্রদর্শন করেন।গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) ফারহা নাজ জামান বলেন, “আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ ফিল্ড ফোর্স এবং জিপিসি এজেন্টরা আমাদের ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তারা প্রতিদিন আমাদের গ্রাহকদের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকেন। তাই তাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা আমাদের জন্য একটি প্রধান অগ্রাধিকার। গ্রামীণ হেলথটেকের সাথে এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে, আমরা তাদের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও সুবিধাজনক করে তুলছি। আমরা বিশ্বাস করি ২৪/৭ ডাক্তারের পরামর্শ এবং অন্যান্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা আমাদের ফ্রন্টলাইন টিমকে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করবে।”গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকী বলেন, “গ্রামীণফোনের ফিল্ড ফোর্স এবং জিপিসি এজেন্টদের কাছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামীণফোনের সঙ্গে পার্টনারশীপ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। 'সুখী' প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যেকোনো স্থান থেকে সহজেই স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা নিতে পারবেন। এই উদ্যোগটি কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক করা যায়, তার একটি উদাহরণ। আমরা আশা করি এটি সারা দেশে গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের সেবা দেওয়া মানুষদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি