সংসারের খরচ মেটাতে যখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে। ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে, এমন হিসাবের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। গত তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজারের বেশি।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনীতির এই দুই বিপরীত চিত্রই এখন আলোচনায়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের একটি অংশ যেখানে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বড় ব্যবসা ও বিত্তশালী শ্রেণির একটি অংশের আয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।এর তিন মাস আগে, অর্থাৎ মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। একই সময়ে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক আমানত বাড়ছে। তবে বড় অঙ্কের আমানত বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতেরও ভূমিকা রয়েছে।ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এক কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি সংস্থারও এ ধরনের হিসাব থাকতে পারে। আবার একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। ফলে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা এবং কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।পরবর্তী সময়ে সংখ্যাটি আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ১৯৭৬টি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি।২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সবশেষ চলতি বছরের জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে।অর্থাৎ, একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অর্থনীতির এই বৈপরীত্যই এখন দেশের আয় ও সম্পদ বণ্টনের চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন।
যেকোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বয়ে চলেছে। এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নানাভাবে হরণ করা হয়েছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে। এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যেকোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’। গণতন্ত্র কেবল সরকার গঠনের কোনো সাময়িক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি। গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে একটি সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত থেকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে ইনসাফ, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এই বিশেষ দিনে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর নিকট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। এই লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী দেশে সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিকে আর কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অভিশাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয়করণ মুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলদারি মুক্ত করতে হবে। শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সত্যিকারের গণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ন্যায্য নাগরিক সুবিধা আদায় ও যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ সফররত ফরাসি সিনেটরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই সনদ, সংসদীয় কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।ফরাসি প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনেটর গিয়োম শেভ্রিয়েঁ, সিনেটর পিয়ের-আলাঁ রোয়েরোঁ এবং সিনেটর অলিভিয়ের হেনো। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এবং ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ক্রিশ্চিয়ান বেক।জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতবিনিময় করেন। জামায়াতের প্রতিনিধিদল দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন ফরাসি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন।জামায়াতের প্রতিনিধিরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থবহ ও টেকসই সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা জুলাই সনদ, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় এর গুরুত্ব এবং সনদে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোকে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় জামায়াতের প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা বা যথাযথ উদ্যোগের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কোনোভাবেই বিলম্বিত করা উচিত নয়। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তা দেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিফলিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টেকসই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।বৈঠকে সংসদীয় কার্যক্রম ও সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতের প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদের ভূমিকা ও কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করা, বিরোধী দলগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংসদীয় চর্চা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্যগুলো গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সমাধানের ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।বৈঠকে বিরোধী দলগুলোর চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতের প্রতিনিধিদল বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে লংমার্চ, এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ফরাসি সিনেটরদের অবহিত করেন। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ও দাবি আদায়ের কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পায়। জামায়াতের প্রতিনিধিদল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ফরাসি সিনেটররা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক প্রবাসী যুবক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজের সময় হঠাৎ মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।নিহত মো. শরিফুল ইসলাম ফকির উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্বজনরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও শরিফুলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করব।” দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ডিসেম্বরে বিয়ের বদলে তার নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন পরিবার।শরিফুলের পরিবারে নেমে এসেছে একের পর এক নির্মম শোক। তার মেজো ভাই মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যান। বড় ভাইও প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন শরিফুল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন তিনি। পরপর দুটি সন্তান হারানোর এই পাহাড়সম শোক এখন বইতে হচ্ছে শরিফুলের বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে। একদিকে ছোটবেলায় এক সন্তানকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম—এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকেও হারিয়ে যেন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।পরিবারের স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে পরিশ্রম করে একদিন শরিফুল হাসিমুখে দেশে ফিরবেন। আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু নির্মম এক দুর্ঘটনায় প্রবাসের মাটিতেই থেমে গেল তার সব স্বপ্ন।শরিফুল ইসলাম ফকিরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জুলাইয়ের শহীদরা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চাননি, তারা রাষ্ট্রের সংস্কার, আমূল পরিবর্তন এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছেন। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণভোটের রায় সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাসহ সকল বিচারবহির্ভুত হত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে জনদুর্ভোগ চলছে, এর জন্য সরকারের ব্যর্থতা দায়ী। সরকার দায়িত্ব নিয়েই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে সরকার। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব—জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা উপজেলার মাদক সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং যেকোনো সংবাদ নির্ভয়ে প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের আয়না। আপনারা সেই আয়নার ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করি। তাহলে আমাদের সমাজ ও দেশের অগ্রযাত্রায় আপনারা অংশীদার হতে পারবেন।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু জনগণ এসব অপপ্রচার বিশ্বাস করেনি। বরং নির্বাচনে আমাদের ৬৮ জনকে এমপি নির্বাচিত করেছে। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের আসন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সাহস থাকলে দেশে আসুন। আমরা চাই, আপনি দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হন। কিন্তু তা না করে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ। এখন স্বচ্ছতার রাজনীতি করতে হবে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যেসব দাবিতে লংমার্চ করছি, তা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর দাবি নয়, এগুলো দেশের জনগণের দাবি। দেশের ৭০ ভাগ জনগণ, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, এটি তাদের দাবি। জুলাইয়ের শহীদরা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চাননি তারা রাষ্ট্রের সংস্কার, আমূল পরিবর্তন এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছেন। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণভোটের রায় সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাসহ সকল বিচারবহির্ভুত হত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।সভা শেষে এটিএম আজহারুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের নবনির্মিত ফকিরপাড়া জামে মসজিদ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তারাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দেন এবং হাড়িয়ারকুঠি মেনানগর পঞ্চায়েতপাড়া মসজিদের উদ্বোধন করেন।
আন্তর্জাতিক ওজন স্তর সুরক্ষা দিবস (বিশ্ব ওজন দিবস) উপলক্ষে এক বার্তায় বিশ্বজুড়ে টেকসই এবং সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।বার্তায় মহাসচিব উল্লেখ করেন, ১০ বছর আগে মন্ট্রিল প্রটোকলের ওপর ভিত্তি করে কিগালি সংশোধনী গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ সুরক্ষায় এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছিল। ক্ষতিকর হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (এইচএফসি) গ্যাস কমানোর এই উদ্যোগ বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।চলতি বছরের প্রতিপাদ্য "Global action for a cooler planet" (একটি শীতল গ্রহের জন্য বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ)-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও তীব্র তাপদাহের এই সময়ে মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর শীতলীকরণ (কুলিং) ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই সুবিধা সবার কাছে ন্যায্য ও টেকসই উপায়ে পৌঁছে দিতে হবে।মহাসচিব আরও জানান, কিগালি সংশোধনী পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমানো সম্ভব। আর এর সাথে শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে তা দ্বিগুণ সুফল বয়ে আনবে, যা জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতার জন্য অপরিহার্য।বিশ্ব ওজন দিবসে তিনি বিশ্বের সকল দেশকে দ্রুত কিগালি সংশোধনী অনুসমর্থন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষ ও পৃথিবীকে রক্ষার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিতে কথিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বাতিল করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সকল বৈধ ও লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ না নেওয়া এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে দলটি। এবি পার্টি অভিযোগ করে বলেন ‘সিন্ডিকেট বদলেছে, কিন্তু কাঠামো বদলায়নি’সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: সিন্ডিকেট, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় এসব দাবি করেন বক্তারা। এবি পার্টির ছায়া সরকার বিষয়ক সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু আহমেদ, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নুরুল আমিন ও ফখরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক রাজীব আহমদ।সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে সরকার নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এত যাচাই-বাছাইয়ের পর লাইসেন্স দেওয়ার পর যদি সেই এজেন্সিগুলো কাজই করতে না পারে, তাহলে লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ কী? তাই দাবি করছি স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সকল লাইসেন্সধারী এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দিতে হবে এবং সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। শ্রমিকদের স্বার্থে সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেনে-বুঝে এবং যথাযথভাবে যাচাই করে প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেক এজেন্সি ইতোমধ্যে ভাইভা নেওয়া শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শ্রমিকদের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন।তিনি বলেন, শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠান। অথচ ধনীদের সন্তানরা বিদেশে পড়তে গিয়ে দেশের অর্থ বিদেশে নিয়ে যান। গরিবের সন্তানরা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন।শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও শ্রমিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ৫ আগস্টের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।আইসিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট ২৫টি কোম্পানির মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে এটি উন্মুক্ত করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমবে।তিনি বলেন, ‘ধান্দাবাজদের’ দেশ থেকে দূর করতে হবে। শ্রমিকরা যাতে সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে বিদেশ যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা সামান্য আয়ের জন্য অসহনীয় কষ্ট করেন। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম মানবিকতাও দেখা যায় না।তিনি বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে না দেখে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলে শুধু গর্ব করলেই হবে না, তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।দাতু আমিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের খবরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে ফুয়াদ বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ২৫ কোম্পানির সিন্ডিকেট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। কম খরচে, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, দেশের শ্রমিকরা জমি বিক্রি করে বিদেশে যান এবং অমানবিক পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠান। মালয়েশিয়াতেও বাংলাদেশি শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করছেন।তিনি অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোকে কেন্দ্র করে আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় করা হয়েছে। কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ১৭টি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তার জবাব দিতে হবে।তিনি প্রশ্ন করেন, জনগণের সরকার হলে কেন সিন্ডিকেটের কাছে মাথানত করতে হবে? নেপাল ও ফিলিপাইন নিজেদের অবস্থান থেকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো বহাল থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বর্তমান সরকার সিন্ডিকেট ভেঙে দেবে,এমন প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। বরং বর্তমান নীতিমালায় সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে তিনি আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন এবং অতীতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন।সাংবাদিক রাজীব আহমেদ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, গণমাধ্যমে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এবং প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্যে এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আব্দুল ওয়াহাব মিনার বলেন, জীবিকার তাগিদে মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও পুরোনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।তিনি শ্রমিকদের স্বার্থে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সড়ক ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম ড. শাহেদুল ইসলাম, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন,ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ,ঢাকা উত্তর মহানগরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা,সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল এবং যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ ও প্রবাসী নেতা নুরুন্নবী নয়ন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হ্রাস এবং মার্কিন পণ্যের আমদানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ফার্স্টপোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে ফার্স্টপোস্ট জানায়, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭২ কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার কম।যদিও সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীন, তবে এই নতুন পরিবর্তনটি ভারতের জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। মূলত দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই এই পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলক অনেক বেশি পণ্য ক্রয় করায় এই বাণিজ্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ২৪৯ কোটি ডলার থেকে ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভারতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংক্রান্ত নীতি ও আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন থেকে ক্রয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয় ঢাকা, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে এই উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্ট দেখা গেছে।সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। সাত ধাপে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তৃতীয় ধাপে এ আলোচনা হতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নাম ঘোষণা করেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সোমবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা জানান।তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও স্থানীয় নির্বাচনে সব দল আলাদা আলাদাভাবে নির্বাচন করবে। সেজন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের দুই প্রার্থীও ঠিক করা হয়েছে। উত্তরে নির্বাচন করবেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন করবেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর প্রসঙ্গে পরওয়ার বলেন, যারা প্রথাগত রাজনীতি করে এই ভূখণ্ডের ইতিহাস জানে না, তারা এ ধরনের আচরণ করতে পারে বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগলে প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম ঢাকা মেইলকে এ খবর নিশ্চিত করেন। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের পরিচয় জানা যায়নি।বিকেল ৫ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের নষ্ট লিফটে এ আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, হাসপাতালের এই লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট, ময়লা ও আবর্জনায় ভরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।হাসপাতালে দ্বিতীয় তলার নষ্ট লিফট থেকে আগুনের লেলিহান শিখা অল্প সময়ে আট তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।এ সময় আগুন লাগার খবরে আট তলা এই নতুন ভবনে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালে কর্মরতরা হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নামে আসেন।
এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচেই এক অসম লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে টাইগ্রেসদের। প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। সেই ম্যাচের শুরুর একাদশেও বড় চমক রেখেছেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। নিয়মিত একাদশ থেকে পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়েছেন বাটলার।বাটলারের শুরুর একাদশের সবচেয়ে বড় চমক বাংলাদেশ নারী দলের সুপারস্টার ঋতুপর্ণা চাকমার একাদশে না থাকা। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইনের ভরসার নাম ঋতুপর্ণা। তবে কোনো তাকে একাদশে রাখা হয়নি সেটি জানানো হয়নি বাফুফের পক্ষ থেকে।অন্যদিকে, সর্বশেষ প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচে একাদশ থেকে বাদ পড়া সাবেক অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারকে আবারও শুরুর একাদশে ফিরিয়েছেন বাটলার। এ ম্যাচেও শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি গোলরক্ষক রূপনা চাকমার।এ ম্যাচে অনেকটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন বাটলার। বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছে আক্রমণভাগ মাঝ মাঠের নিয়মিত ফুটবলারদের। ঋতুপর্ণা ছাড়াও নেই ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।তবে সবচেয়ে বড় চমকটা বোধহয় আইরিন খাতুনের একাদশে সুযোগ পাওয়া। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।একাদশে এমন পরিবর্তনের আভাস অবশ্য আগেই দিয়ে রেখেছিলেন বাটলার। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে বাটলার বলেছিলেন, ‘ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণ মেয়েক সুযোগ দেব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড় মঞ্চের সুযোগগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।’মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভি আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, মমিতা খাতুন, কোহাতি কিসকু, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, মোসাম্মাৎ সুলতানা।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
সংসারের খরচ মেটাতে যখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে। ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে, এমন হিসাবের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। গত তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজারের বেশি।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনীতির এই দুই বিপরীত চিত্রই এখন আলোচনায়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের একটি অংশ যেখানে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বড় ব্যবসা ও বিত্তশালী শ্রেণির একটি অংশের আয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।এর তিন মাস আগে, অর্থাৎ মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। একই সময়ে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক আমানত বাড়ছে। তবে বড় অঙ্কের আমানত বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতেরও ভূমিকা রয়েছে।ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এক কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি সংস্থারও এ ধরনের হিসাব থাকতে পারে। আবার একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। ফলে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা এবং কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।পরবর্তী সময়ে সংখ্যাটি আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ১৯৭৬টি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি।২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সবশেষ চলতি বছরের জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে পৌঁছেছে।অর্থাৎ, একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অর্থনীতির এই বৈপরীত্যই এখন দেশের আয় ও সম্পদ বণ্টনের চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক প্রবাসী যুবক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজের সময় হঠাৎ মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।নিহত মো. শরিফুল ইসলাম ফকির উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যেপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্বজনরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও শরিফুলের সঙ্গে হাসিমুখে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করব।” দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ডিসেম্বরে বিয়ের বদলে তার নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন পরিবার।শরিফুলের পরিবারে নেমে এসেছে একের পর এক নির্মম শোক। তার মেজো ভাই মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যান। বড় ভাইও প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন শরিফুল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন তিনি। পরপর দুটি সন্তান হারানোর এই পাহাড়সম শোক এখন বইতে হচ্ছে শরিফুলের বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে। একদিকে ছোটবেলায় এক সন্তানকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম—এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকেও হারিয়ে যেন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।পরিবারের স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে পরিশ্রম করে একদিন শরিফুল হাসিমুখে দেশে ফিরবেন। আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, নতুন সংসার শুরু করবেন। কিন্তু নির্মম এক দুর্ঘটনায় প্রবাসের মাটিতেই থেমে গেল তার সব স্বপ্ন।শরিফুল ইসলাম ফকিরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
আগস্টে আয়োজিত তিনটি গ্রাহক ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের - উপায়। সম্প্রতি ঢাকায় উপায়-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।আগস্টে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাড মানি উইক ১’, ‘অ্যাড মানি উইক ২’ এবং ‘উইকেন্ড ক্যাম্পেইন (লাভ সামলাও) উইক ৩’—এই তিন ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের উপায়-এর ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করা।তিন ক্যাম্পেইনের তিনজন বিজয়ীকে অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন ৫০ হাজার টাকা এবং একজন ১ লাখ টাকা করে ক্যাশ রিওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছেন।উপায়-এর প্রতিনিধিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান।এ ধরনের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য বাড়তি সুবিধা ও পুরস্কারের সুযোগ তৈরি করতে চায় উপায়।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।পাশাপাশি ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এমন খবর সামনে আসার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।এনসিপির এ মুখপাত্র ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’