ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা।এর আগে চলতি মাসেও একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার, ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর সম্পন্ন করে চীনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তিনি চীনের দালিয়ান নগরে অবতরণ করেন।এর আগে একই দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ উড়োজাহাজে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের ব্যস্ত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন, যেখানে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের প্রধান আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।সফরের অংশ হিসেবে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।মালয়েশিয়া ত্যাগের আগে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের বিশেষ অতিথি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার মনজুরুল করিম এবং উপহাইকমিশনার শাহানারা মলিকাও উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫৯০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৬৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১৭১ জন। আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৭ হাজার ৭৪৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন।
আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির মূল্য হ্রাস পাওয়ার সুবাদে নিজেদের সব রুটের বিমান ভাড়া কমানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় বাজেট ক্যারিয়ার এয়ারএশিয়া এক্স। বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেনিয়ামিন ইসমাইল নিশ্চিত করেছেন যে গত ১৫ জুন থেকে টিকিট প্রতি ৫ শতাংশ হারে ভাড়া কমানো হয়েছে এবং জেট জ্বালানির দাম আরও কমলে টিকিটের মূল্য পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞ লিঙ্গম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকটি বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে, যার সরাসরি সুফল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় আকাশচুম্বী হওয়া জ্বালানির দাম এখন উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে এসেছে। বিমান শিল্পের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন যে, ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই শিল্পটি সত্যিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আশা করি, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আজ যেমন আছে তেমনই স্থিতিশীল থাকবে।’আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর জেট ফুয়েলের লেনদেন হয়েছে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১১২ ডলারে, যা গত ৩০ মার্চ যুদ্ধের তীব্র উত্তেজনার সময় রেকর্ড সর্বোচ্চ ২৪২ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে বর্তমান মূল্যে বড় ধরনের পতন ঘটলেও তা এখনও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্বাভাবিক সময়কার প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারের চেয়ে কিছুটা ওপরে রয়েছে।সূত্র: মিডল ইস্ট আই
জাপান বিদেশিদের জন্য ভিসা ফি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়িয়েছে । প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথমবারের মতো পুনর্নির্ধারণ হলো এই ফি, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিসার খরচ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর বিবিসির।আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন হার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জাপান সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ২ হাজার ২৭৮ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন বা ১১ হাজার ৩৯৫ টাকা করা হয়েছে।একইভাবে মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার ফি ৬ হাজার ইয়েন বা ৪ হাজার ৫৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ইয়েন বা ২২ হাজার ৭৯০ নির্ধারণ করা হয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তশিমিতসু মতেগি জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটক আগমনে বড় কোনও প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন না।দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা জাপানি ইয়েনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মহামারির পর পর্যটন খাত পুনরায় উত্থান ঘটায় গত বছর জাপানে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।এদিকে শুধু ভিসা ফি নয়, বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি-ও বাড়িয়েছে জাপান। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে গৃহীত এক আইনে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন বা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি।এ ছাড়া বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন বা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ফি-ও ১০ হাজার ইয়েন বা ৭ হাজার ৫৯৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন বা ৭৫ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।
রাজধানীতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট। গণহত্যার বিচারে ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।সোমবার (২২ জুন) জোটের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয় নগরে এই সমাবেশ হবে।সমাবেশে জামায়াত আমিরসহ জোটের দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান হামিদুর রহমান।তিনি জানান, একই দাবিতে ৪ জুলাই জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল হবে।জুলাই গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, সামনে আমাদের বৈঠক আছে। সেখানে কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত হবে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এল ও শাখার সার্ভেয়ারমোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দালাল চক্রের সদস্য নিয়ে রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণের তদন্তে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।তদন্তের সময় দালাল চক্রের সদস্যরা সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিনের সঙে সার্বক্ষণিক ছিলেন এমন ভিডিও প্রদিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা ও মহানগরীর কোনাবাড়ীর শেষ সীমানা বরাব এলাকায় সখিনা বেগমের (৫০) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে ভূমি অধিগ্রহণের তদন্তে যান তিনি। তদন্তের সময় দালাল চক্রের সদস্যের দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে এভাবে দালাল চক্রের সদস্যদের নিয়ে তদন্ত করা কতটুকু যুক্তি- সঙ্গত। জানা যায় ঢাকা থেকে উত্তর বঙ্গ রেলরুটের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব মৌজায় মৃত হালিম শিকদারের ১০৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু এখানে আপত্তি করেন মৃত হালিম শিকদারের মেয়েসখিনা বেগম। তিনি গেলো ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে জেলা প্রশাসনের এল ও শাখার মিস কেস করেন। মিস কেস নং ৪৮/২০২৬ এল এ কেস নং ০৬/০২/২০২১। মৃত হালিম শিকদারের ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সখিনা বেগম ছয় নম্বর সন্তান। সখিনা বেগমের দাবী ভাইয়েরা দুই বোনকে বাবার ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করে তারা নিজেরাই এই টাকা আত্মাসাৎ করার পায়তারা করছেন। তিনি বলেন, গেলো শনিবার তদন্ত কর্মকর্তা আসলেও আমাকে জানায়নি । তারা বিবাদীর সাথে কথা বলে চলে যায়। আজ সোমবার এটার শোনানি রয়েছে। তিনি আরও বলেন,আমাদের কেন বাবার ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করা হবে এর জন্যই আমি মিস কেস করেছি।মৃত হালিম শিকদারের অন্য ছেলে মেয়েরা হলেন, মৃত লতিফ শিকদার,কামাল শিকদার,সানু শিকদার,মোজাম্মেল শিকদার,আলম শিকদার ও ছোট মেয়ে হামেলা বেগম। এবিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসনের এল ও শাখার সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন,আমার উর্ধ্বতন কর্মকতা রয়েছে তার সাথে কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের এল ও শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সাবরিন আক্তার বলেন,ঘটনার সত্যতা পেলে ওই সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’র টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ১০ জনের বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি ০-০ ব্যবধানে শেষ হওয়ায় দুই দলই মূল্যবান ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নিয়েছে। ২ ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট এবং বেশি গোল করার সুবাদে বেলজিয়ামকে দুই নম্বরে নামিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানটি দখল করেছে ইরান।মাঠের শক্তিতে বেলজিয়াম যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ফুটবলবিশ্ব দেখল এক চরম নাটকীয় ম্যাচ। প্রথমার্ধে ইরানের গোল বাতিল আর দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের লাল কার্ডের ধাক্কা- সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা।ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে প্রথম নাটকীয়তার জন্ম হয়। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন ইরানি ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির নিখুঁত অফসাইড কলে কপাল পোড়ে ইরানের। অল্পের জন্য অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি।১-০ লিড পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ভাগ্য ইরানের দিকে আরও হেলে পড়ে বেলজিয়াম শিবিরে লাল কার্ডের আঘাতে। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ইরানের একটি বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। এর আগেই হলুদ কার্ড থাকায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।১০ জনের বেলজিয়ামকে পেয়ে শেষ ২০ মিনিট আক্রমণের ধার বাড়ায় ইরান। তবে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দারুণ কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের দৌড়ে বেলজিয়ামের সমানতালেই টিকে রইল লড়াকু ইরান।
নরসিংদীর মনোহরদীতে বজ্রপাতে তিনজন মাদরাসাশিক্ষার্থী মারা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পাঁচকান্দি এলাকার এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বাদলের ছেলে জহিরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আবু রায়হান ও একই এলাকার আবু জাফর।জানা যায়, মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় মাগবিরের সময় অজু করার সময় বজ্রপাতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, ওই সময় বজ্রপাতে চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে শিবপুর হসপিটালে নিযলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।নরসিংদী সিভিল সার্জন ডাক্তার বুলবুল কবির জানিয়েছেন, বজ্রপাতের তিন শিক্ষার্থী মারা গেছে। আহত একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সে এখন ভালো আছে। নিহত সবার বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হবে।মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, মাগরিবের নামাজের আগে মাদরাসায় অজু করার সময় চার ছাত্র আহত হয়। এ সময় তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের কুদাব থেকে মিরের বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় নাকাল ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ। গত দুই বছর ধরে চলছে এমন অবস্থা। ড্রেন নির্মাণের নামে রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের ব্যাপক বৃষ্টিতে এই রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে উঠেছে।সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, দ্রুতই এ রাস্তার ড্রেন এর কাজ শেষ করা হবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার কুদাব সড়কটি গত দুই বছর ধরে মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে রেখেছে। এই রাস্তায় দুই বছর আগে শুরু হয় ড্রেন নির্মাণের কাজ। কিন্তু ঠিকাদার কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কয়েকদিন চলে কাজ আবার বন্ধ হয়ে যায় । রাস্তা তৈরি করার পর ড্রেন নির্মাণ করায় কারণে কোটি টাকা ব্যয়ের রাস্তার বেহাল দশা।সড়কের একপাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার কারণে, সড়কের পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে । এরই মধ্যে এ রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে থাকে , এবং সড়কের মাঝখানে গর্ত হয়ে গেছে । এলাকাবাসীর দাবি এই দুর্ভোগ থেকে যেন অতি তাড়াতাড়ি মুক্তি পাওয়া যায় । ওই এলাকায় বসবাসকারী লিটন মিয়া ’সহ আরও অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় এক হাঁটু পানি জমে। পায়ে হেঁটে চলতে গেলে জুতা-সেন্ডেল খুলে ফেলতে হয়। অনেককে হোঁচট খেয়ে কাদা-পানিতে পড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি চান এলাকার মানুষ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ২ এর সহকারী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ জানান রাস্তাটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা আছে। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে এটাও জানি। বৃষ্টির কারণেই ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুতই ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত এলাকাবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবেন এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের। এলাকাবাসীর দাবি ড্রেন নির্মাণ আগে করলে সড়কটির এই অবস্থা হত না ।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা।এর আগে চলতি মাসেও একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার, ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানীতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট। গণহত্যার বিচারে ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।সোমবার (২২ জুন) জোটের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয় নগরে এই সমাবেশ হবে।সমাবেশে জামায়াত আমিরসহ জোটের দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান হামিদুর রহমান।তিনি জানান, একই দাবিতে ৪ জুলাই জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল হবে।জুলাই গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, সামনে আমাদের বৈঠক আছে। সেখানে কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত হবে।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে এক চীনা পর্যটককে হেনস্তা করে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।সোমবার (২২ জুন) দুপুরে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বদলগাছী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।আটক আব্দুল মাবুত জয়পুরহাট জেলার চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘হিরো নানা’ নামে পরিচিত।ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে আসা এক চীনা পর্যটককে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসে।ভিডিওটি নজরে আসার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত আব্দুল মাবুতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে ওই বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে অনভিপ্রেত আচরণ ও তাকে বিব্রত করার মতো কর্মকাণ্ড দেখা যায়। বিষয়টি দেশের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ বা তাদের হয়রানির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অদম্য সাহসিকতা আর উরুগুয়ের গোলকিপার ফার্নান্দো মুসলেরার এক মারাত্মক ভুলে হার্ড রক স্টেডিয়ামে আরেকবার বিশ্বফুটবলকে চমকে দিলো কেপ ভার্দে। ম্যাচের শুরু থেকে উরুগুয়ের একচেটিয়া আধিপত্য ও ৬৪ শতাংশ বল পজিশন থাকলেও, ২-২ গোলের মহাকাব্যিক ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি।এই ড্রয়ের ফলে স্পেন ও উরুগুয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, কেপ ভার্দে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় রেকর্ড গড়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কোনো বিশ্বকাপজয়ী দেশের কাছে তারা কখনোই হারেনি-সেই ধারা আজও অক্ষুণ্ন রাখলো তারা।ম্যাচের ২১ মিনিটে কেভিন পিনার ফ্রি-কিক উরুগুয়ের ওয়ালের মাঝখান দিয়ে জালে জড়ালে লিড নেয় কেপ ভার্দে। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে রূপকথাই লেখে উরুগুয়ে। ৪৪ মিনিটে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোল এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে (৪৫+৬ মিনিট) অগুস্তিন কানববিও ফাঁকায় বল পেয়ে ট্যাপ-ইনে গোল করেন। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।দ্বিতীয়ার্ধের ৬১তম মিনিটে আসে ম্যাচের নাটকীয়তম মুহূর্ত। উরুগুয়ের ডিফেন্ডার অলিভেরার এক ভুল পাস এবং ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কিপার মুসলেরার খামখেয়ালিভাবে লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ নেন বদলি নামা হেলিও ভারেলা। মুসলেরাকে বোকা বানিয়ে ফাঁকা পোস্টে নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর আরাউহো উরুগুয়ের হয়ে আবারও বল জালে জড়ালেও ভিএআর চেকে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।শেষদিকে ভালভার্দের দুর্দান্ত এক ক্রস সতীর্থরা ছুঁতে ব্যর্থ হলে পয়েন্ট হারানোর আফসোস নিয়ে মাঠ ছাড়ে মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আয়োজনটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে ভিন্ন মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।সবশেষে, টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্যবৃন্দ সকল অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের প্রতি সমর্থন ও ভোট প্রদানের জন্য বিনীত আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও গ্যালাক্সি বাংলাদেশের গ্রুপ চেয়ারম্যান তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও ইনোগ্লোবের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কাদির এবং বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের (বিএফটিডি) ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল একরাম (রাজু)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বোটফ সভাপতি চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি এবং উপ-সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ভ্যাকেশনের সিইও আবদুল্লাহ আল কাফি।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৭ থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ভারত। দেশটির ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ (এলপিএআই) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে ভারতের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হলো পেট্রাপোল, যা বনগাঁর কাছে বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত।নতুন স্থলবন্দরের জন্য যেসব স্থান বিবেচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি, উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া। এসব এলাকায় বর্তমানে স্থল কাস্টমস স্টেশন থাকলেও সেগুলোকে আধুনিক অবকাঠামোসমৃদ্ধ স্থলবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।কয়েক মাস ধরে এসব প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এলপিএআই। তবে সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রগতি ধীর হয়েছে। সংস্থাটির আশা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে।কলকাতায় সিআইআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে এলপিএআই চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৭ থেকে ৮টি নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বন্দরের জন্য গড়ে প্রায় ৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে এবং তা সীমান্তবর্তী এলাকাতেই হতে হবে।একটি আধুনিক স্থলবন্দরে সাধারণত পণ্য পরিবহন ও খালাসের সুবিধা, ট্রাক পার্কিং, গুদাম, শীতল সংরক্ষণাগার, অভিবাসন বিভাগ, কাস্টমস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেবা একসঙ্গে থাকে।পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগটি ভারতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। দেশজুড়ে আরও ৭৪টি নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে ভারতে ১৫টি স্থলবন্দর কার্যক্রম চালালেও নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ২ লাখ ২৭ হাজার ৫২২ কোটি রুপি। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৮৪৪ কোটি রুপির বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। তবে স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে আরও প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৭ কোটি রুপির অতিরিক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ভারত সরকার।
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দেশটির শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বাংলাদেশিরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত অপর ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক।নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো নিয়ে এসেছে তাদের বিশেষ বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইন ‘শ্যুট অ্যান্ড উইন – মেক ইউর ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্ট উইথ অপো’। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ক্রেতারা আকর্ষণীয় উপহার জিতে নিতে পারবেন, উপভোগ করতে পারবেন বিশেষ ছাড়।এই ক্যাম্পেইনের আওতায়, ক্রেতারা একটি অপো স্মার্টফোন কিনে, মাই অপো অ্যাপ ডাউনলোড করে এবং নির্ধারিত অপো শোরুমে ভিজিট করে একটি ফুটবলভিত্তিক চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অংশগ্রহণকারীরা গোল করার জন্য চারটি সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, অপো রেনো সিরিজের যেকোনো স্মার্টফোন ক্রেতারা পাবেন দ্বিগুণ আনন্দ, তাদের জন্য থাকছে মোট আটটি কিকের সুযোগ।এতে সফল অংশগ্রহণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় উপহার রয়েছে। প্রথম কিকে গোল করতে পারলে পাওয়া যাবে হ্যান্ড ব্যান্ড, দ্বিতীয় কিকে রিস্ট ব্যান্ড, তৃতীয় কিকে কি-রিং ও চতুর্থ কিকে গোল করলে পাওয়া যাবে ক্যাপ। এছাড়াও, ফুটবলপ্রেমীরা অপোর অনলাইন কনটেস্টে অংশ নিয়ে জিতে নিতে পারবেন অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি, অপো প্যাড এসই ও এনকো বাডস৩ প্রো’র মতো আকর্ষণীয় পুরস্কার।ক্যাম্পেইনের উদ্দীপনা আরও বাড়াতে নির্বাচিত অপো আইওটি পণ্যে থাকছে সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়। আরও রয়েছে ও’লাইক টিডব্লিউএস টি১১৪ লাইটে ৩০০ টাকা, ও’লাইক টিডব্লিউএস টি৩০২ ও ও’লাইক এফডব্লিউ৩ অ্যামোলেড স্মার্ট ওয়াচে ৫০০ টাকা, ও’লাইক এফএম০৩ স্মার্ট ওয়াচ, অপো এনকো বাডস৩ প্রো ও অপো এনকো এয়ার৪-এ ১,০০০ টাকা, অপো প্যাড এসই-তে (১২৮ জিবি + ৬ জিবি) ১,৫০০ টাকা, অপো ওয়াচ এক্স২ মিনিতে ২,০০০ টাকা এবং অপো ওয়াচ এক্স২-তে ৩,০০০ টাকা ছাড়।এই ক্যাম্পেইন বাংলাদেশের নির্বাচিত অপো শোরুমগুলোতে চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপো পার্ক স্টোর (যমুনা ফিউচার পার্ক), মতিঝিল ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, অপো মোবাইল মেলা বাড্ডা, বেটা কোম্পানি শপ বসুন্ধরা, নারায়ণগঞ্জ ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, জিবি স্টোর চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ ফ্ল্যাগশিপ স্টোর। আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ভিজিট করুন ও অনলাইন কনটেস্টে অংশ নিতে অপো বাংলাদেশের অফিসিয়াল সাইট https://oppoworldcupmoment.com/ ভিজিট করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’