আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ, প্রযুক্তি, মেধা এবং যুবকদের প্রাধান্য ও নারীদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এই পরিকল্পনা ও কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। একইসঙ্গে বহু রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা সমুহের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।জামায়াত সূত্রে জানানো হয়, মোট ২৬টি অগ্রাধিকারসূচি নিয়ে ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে শাসনব্যবস্থা সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং উন্নত আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।ইশতেহারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতেও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।এ ছাড়া ইশতেহারে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুব প্রযুক্তি নেতৃত্বের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।জামায়াত দাবি করেছে, ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনা করে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।নির্বাচনি ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেগুলো হলো-১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’- এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন।৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া।৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে বিনির্মণ।৬. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।৭. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূলো আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।৮. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খ্যাত সংস্কারের মাখায়ে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই এ স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ।৯. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।১২. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা।১৩. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূনা ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা। বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া।১৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি।১৫. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা।১৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।১৭. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয় বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।১৮. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।১৯. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা।২০. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা।২১. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা।২২. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জনা স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা।২৩. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা।২৪. সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।২৫. সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।২৬. সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা ইতোমধ্যে ইশতেহারের কাজ গুছিয়ে এনেছি।তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ৩১ দফা ও ২৭ দফার আলোকে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সেই কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও জনমতের ভিত্তিতেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
একটি দলের পদলেহন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।মনিরা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের যেখানে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে তারা ও পুলিশ প্রশাসন একটি বিশেষ দলের হয়ে কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারে যাওয়া নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, একটি দলের আজ্ঞাবহ হয়ে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা হারিয়েছে।পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চাইছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখন বিএনপির প্রার্থীদের সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চাইছে।জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক বলেন, এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া উপকমিটির সদস্য শাওন মাহফুজ এবং ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক সাইফ ইবনে সারোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
দেশে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যজনক রোগের পেছনে নিপাহ ভাইরাস নয়, বরং বাদুড়বাহিত নতুন একটি ভাইরাস দায়ী এমন তথ্য উঠে এসেছে সর্বশেষ গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্তরা প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্নায়ুবিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়ুবিক সমস্যা। আক্রান্ত পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে এবং আগে নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।প্রাথমিকভাবে রোগটি নিপাহ ভাইরাসজনিত বলে ধারণা করা হলেও পরীক্ষায় দেখা যায়, কারও শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলার জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই রোগের প্রকৃত কারণ প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি) একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জনগণকে খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার, রোগতত্ত্বীয় নজরদারি জোরদার, এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বিএনপি সবার জন্য সমান সুযোগ, শ্রমের মর্যাদা ও মেধার মূল্যায়নে বিশ্বাস করে। মেধাভিত্তিক চাকরি, ন্যায্য অধিকার এবং শোষণের আগে সুবিচার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাতিরঝিলে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি হলো সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতি। আজ আমাদের সামনে গৌরবের নতুন সূর্যোদয়। আমরা বিশ্বাস করি— আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। ভেদাভেদের আগে সমতা।তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই নানা সমস্যা আছে। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, করাইল সাততলা এলাকা থেকে আসা তিনজন নারী, দুইজন পোশাকশ্রমিক এবং একজন পরিবহন শ্রমিকের কাছ থেকে তাদের হৃদয়বিদারক সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। এসব সমস্যা সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।তারেক রহমানের সহধর্মিণী আরও বলেন, বিএনপি সবার জন্য সমান সুযোগ, শ্রমের মর্যাদা ও মেধার মূল্যায়নে বিশ্বাস করে। মেধাভিত্তিক চাকরি, ন্যায্য অধিকার এবং শোষণের আগে সুবিচার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় বিএনপি, যেখানে নেতার আগে জনতা।সভায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জোবায়দা রহমান বলেন, আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে এখানে এসেছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। আমরা আপনাদের সমস্যাগুলো আরও মনোযোগ দিয়ে শুনবো, জানবো এবং সমাধানের পথ খুঁজবো। আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স একাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমের বিরুদ্ধে মামলা করছে দলটি। মামলা করতে এরইমধ্যে জামায়াতের একটি সাইবার টিম থানায় গেছে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া-প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জুবায়ের দাবি করেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ডিবির (গোয়েন্দা পুলিশ) তদন্তে ছরওয়ারে আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এরপর জামায়াতের একটি সাইবার টিম তার নামে মামলা করার জন্য থানায় গেছে। পরিকল্পিতভাবে একটি মহল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের আইডি হ্যাক করছে বলে দলটি অভিযোগ করেছে।জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করতে ভারতে তৈরি উন্নত মানের ‘ম্যালওয়্যার’ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে শীর্ষ নেতাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে। কারা এসব হ্যাকিংয়ের পেছনে মূল ইন্ধনদাতা, পুলিশ নিশ্চয়ই দ্রুত তাদের খুঁজে বের করবে।’ ডিবি জানিয়েছে, জামায়াত আমিরের এক্স একাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকা থেকে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।গত শনিবার বিকেলে জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’ পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইডি হ্যাক করে দুর্বৃত্তরা এই পোস্ট দিয়েছে।এদিকে মঙ্গলবার রাতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স আইডি থেকেও একই ধরনের একটি পোস্ট দেয়া হয়। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দবি করা হয় তার আইডিও হ্যাক হয়েছে।জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে দেওয়া পোস্ট, বিশেষ করে এই অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপিপন্থী অ্যাকটিভিস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সাররা দাবি করেন, জামায়াতের আমির কর্মজীবী নারীদের চরম অবমাননা করেছেন।এমন পরিস্থিতিতে শনিবার দিবাগত রাতে জামায়াতের অফিশিয়াল ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে জামায়াতের আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। শুধু জামায়াতের আমির নন, আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।একই বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরতে রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে জামায়াত। সংবাদ সম্মেলনে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে দলের আমিরের এক্স হ্যান্ডল হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন জামায়াতের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইটি) সেলের দুই সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। সেখানে প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি মেইল ব্যবহার করে এই কাজটি করা হয়েছে। কেউ assistantprogrammar@bangabhaban.gov.bd এই সরকারি মেইল ব্যবহার করে জামায়াতের মেইলে একটি ফাইল পাঠিয়েছে। যেখানে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য আছে বলে একটা ফাইল সংযুক্ত করা ছিল। যার মেইল থেকে এসেছে, তার নাম ছরওয়ারে আলম, তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কাজ করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মির্জা ফখরুল বলেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামিক দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। জামায়াতে ইসলামী বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।৪ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকার নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে-যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসাথে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গীবতকারীদের মতো গীবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে—জামায়াতের আমীর সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মান করতে পারে না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে—কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে? পথসভায় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচারের জন্য নির্বাচন কমিশনের অনুমতি চেয়েছে দলটি।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ তথ্য জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করবেন।ওই ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচারের জন্য গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন দাখিল করা হয়েছে।আমরা আশা করছি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামায়াত আমির ভাষণটি নির্ধারিত সময়ে সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অনুমোদন প্রদান করবেন।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রাথমিক পর্বে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) নেপালকে ৪-০ গোলে হারাল বাংলাদেশের মেয়েরা। ফলে প্রথম পর্বে সেরা হয়েই ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হবে।পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন প্রতিমা মুন্দা। বদলি নেমে আলো ছড়ালেন আলপি আক্তার। নেপালকে হারানো ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন এই ফুটবলার। এর আগে ভারতকে ২-০ ও ভুটানকে ১২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ।রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ভারত।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আবদুর রহমান মাছউদ।তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইসি মাছউদ জানান, বর্তমানে সারাদেশে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।তিনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যদি নিজে আইন ভঙ্গ করেন বা কোনো প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগ গুরুতর প্রকৃতির হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এই কমিশনার বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনি পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন- একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা আমাদের সহায়তা করবেন।সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে ইসি মাছউদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)'র সাথে মতবিনিময় করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বিটে কর্মরত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক)। এসময় র্যাক সদস্যদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয় টিআইবি। মঙ্গলবার টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, একই বিভাগের কর্মকর্তা জাফর সাদিক। র্যাক সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এখন 'বর্ডারলেস জার্নালিজম'র যুগে প্রবেশ করেছে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্থা বা ব্যাক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে হয় সাংবাদিকদের। এক্ষেত্রে র্যাক সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। এর মাধ্যমে দুর্নীতি করে দেশ থেকে চলে গেলে কিংবা বিদেশে অর্থ পাচার করলেই সহজে নিস্তার পাওয়া যাবে না, এমন বার্তা দেয়া যাবে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের। পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে টিআইবির চোখ দিয়ে দেশে কিংবা বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়া সিন্ডিকেটের উপর নজর রাখতে পারবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক বলেন, তথ্যগত দূর্বলতা কিংবা অসংগতির কারণে দুদকের মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যায় অনেক দুর্নীতিবাজ। দুর্বল চার্জশিটের কারণে আইনের ফাঁক-ফোকরে বেরিয়ে পড়ে রাঘববোয়ালরা। এক্ষেত্রে টিআইবির দেয়া তথ্য-উপাত্ত এবং দুর্নীতির ধারণাসূচক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে যেমন সমৃদ্ধ করে, তেমনিই দুদকের অনুসন্ধানেও সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে র্যাক সদস্যদের জন্য তথ্যগত সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের বাইরে চলে যাওয়া দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যাক্তি এবং অর্থ পাচারের তথ্যানুসন্ধানে বিভিন্ন দেশে কাজ করা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের চ্যাপ্টারগুলোও পাশে থাকবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন র্যাকের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসলিমুল আলম তৌহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ কিবরিয়া, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মন্টু, দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা, কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক নাজনীন আক্তার লাকী, কার্যনির্বাহী সদস্য মতলু মল্লিক, জামিউল আহসান সিপু ও দুলাল হোসেন।
রাজনীতিতে স্পষ্ট অবস্থান ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা তুলে ধরতে এবারের নির্বাচনি ইশতেহারকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারের প্রথমাংশর মূল কাঠামো সাজানো হয়েছে ‘৫টিতে হ্যাঁ’ এবং ‘৫টিতে না’—এই দুই ভাগে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।ইশতেহারের শুরুতেই ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ এই অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কোন কোন বিষয়ে জামায়াত স্পষ্টভাবে সম্মতি জানায় এবং কোন কোন বিষয়ে তারা আপসহীন; তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরাই এই কাঠামোর উদ্দেশ্য।ইশতেহারের ‘হ্যাঁ’ অংশে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। অন্যদিকে ‘না’ অংশে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দলটির দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।সরেজমিন দেখা গেছে, ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চও সাজানো হয়েছে এই ‘হ্যাঁ-না’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। মঞ্চের নকশা ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় ইশতেহারের এই মূল দর্শন প্রতিফলিত করা হয়েছে, যা দলটির রাজনৈতিক বার্তাকে আরও প্রতীকী ও দৃশ্যমান করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক লাখ সেনাসদস্য ও পাঁচ লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমিতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভীতিহীন, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর। নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনের আগে ও পরে সাত দিন মাঠে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে চারদিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পর দুইদিন করে মোট সাতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ শক্তিতে মাঠে থাকবে। ফলে নির্বাচনের পরও কোনো সহিংসতার সুযোগ নেই।নিরাপত্তা বাহিনীর পরিসংখ্যান তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রায় ১ লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্টগার্ডের ৪ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, র্যাবের ৯ হাজার, পুলিশের প্রায় দেড় লাখ এবং আনসার বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানান তিনি।এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রাথমিক পর্বে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) নেপালকে ৪-০ গোলে হারাল বাংলাদেশের মেয়েরা। ফলে প্রথম পর্বে সেরা হয়েই ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হবে।পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন প্রতিমা মুন্দা। বদলি নেমে আলো ছড়ালেন আলপি আক্তার। নেপালকে হারানো ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন এই ফুটবলার। এর আগে ভারতকে ২-০ ও ভুটানকে ১২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ।রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ভারত।
ভারতীয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ গিয়ে হাজির হয়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জে অরিজিতের পৈতৃক নিবাসে আমিরের এই আকস্মিক সফর। এ নিয়ে বিনোদন জগতে নতুন গুঞ্জন।জানা গেছে, জিয়াগঞ্জের নিহালিয়া পাড়ায় গত রোববার রাতে অরিজিতের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন আমির খান। এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজিমগঞ্জ-জিয়াগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ ।তিনি জানিয়েছেন, রোববার রাত অরিজিতের আমির বাড়িতেই কাটিয়েছেন। আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে অরিজিতের বাড়ির চারপাশে জোরদার হয়েছিলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, আমির খান কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অরিজিতের বাড়ির ছাদে হাসি মুখে ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন । প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। আমির হাত নেড়ে ভক্তদের অভিবাদন জানান। তবে হঠাৎ করেই কয়েক দিন আগে অরিজিৎ সিং চলচ্চিত্র বা প্লেব্যাক সংগীত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তে হতাশা বিরাজ করছে ভক্তদের মধ্যে। অরিজিৎকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার অনুরোধ হিসেবে আমির খানের এই ঝটিকা সফর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মরক্কো, সৌদি আরব ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে এই সার কেনা হচ্ছে। ৮০ হাজার টন ডিএপি সার, ৭০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে এতে। যাতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা।৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মরক্কো থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৫১ মার্কিন ডলার।কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মরক্কোর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।মরক্কোর এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটিও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌদি আরবের মা'আদেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সৌদি আরব থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৬০ মার্কিন ডলার। এদিকে বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি- নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আনতে ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪১৮ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ-এর কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কাফকো থেকে এই সার কিনতে ব্যয় হবে ১৫৩ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪১৫ দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার।
অভিবাসন ও মানবপাচার ঠেকাতে ইতালি ও লিবিয়ার মধ্যে ২০১৭ সালের ‘ইতালি-লিবিয়া মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (MoU) আরও তিন বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিবীয় কোস্ট গার্ডের হাতে ১০টি আধুনিক টহল জাহাজ হস্তান্তর করেছে ইতালি।ইতালির বর্তমান সরকার জানিয়েছে, সমুদ্রপথে অভিবাসীদের অনিয়ন্ত্রিত যাত্রা রোধ এবং মানবপাচারকারীদের কার্যক্রম বন্ধ করতেই এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হওয়া এই চুক্তি ২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।চুক্তি অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাওয়া অবৈধ নৌকা শনাক্ত ও আটকানোর দায়িত্বে থাকবে লিবীয় কোস্টগার্ড। আটক হওয়া নৌকাগুলোকে ইতালিতে না এনে সরাসরি লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং যাত্রীদের লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হবে।হস্তান্তর করা ১০টি নতুন টহল জাহাজ উচ্চগতিসম্পন্ন এবং আধুনিক রাডার সিস্টেমে সজ্জিত। এসব জাহাজ দূর থেকে ছোট নৌকা শনাক্ত করতে সক্ষম, ফলে সাগরপথে নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছে ইতালি।তবে চুক্তি নবায়ন নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো অভিবাসীরা অমানবিক আচরণ, নির্যাতন ও অবমাননাকর পরিবেশের মুখোমুখি হন।অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার বলছে, সমুদ্রপথে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো এবং মানবপাচারকারীদের ব্যাবসা বন্ধ করতে এ চুক্তিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সরকারের দাবি, নতুন টহল জাহাজ মোতায়েনের ফলে অবৈধভাবে সাগরপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে ধরা পড়ার ঝুঁকি ৯০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাবে।ইতালি সরকার আবারও সতর্ক করে জানিয়েছে, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। বৈধ উপায় ছাড়া এ ধরনের যাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান ন্যায়বিচার চেয়েছেন।জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ন্যায়বিচার চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আমি আশা করি, এখন ন্যায়বিচারটাও পাব- এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি, এখান থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। অপেক্ষায় রইলাম—আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য। অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ।’এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রপতি দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মো. ছরওয়ার আলমকে আটক করা হয়। পাশাপাশি জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকে ব্যবহৃত ডিভাইসও উদ্ধার করেছে ডিবি।এরও আগে, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে আইডিটি হ্যাক করা হয় বলে জানা যায়।যদিও বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামায়াত আমির স্বয়ং পোস্টটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার নাটক করছেন। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে বঙ্গভবনে যান জামায়াতের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা আলোচনা করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানান।