দেশের এলপিজি বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের নির্ধারিত পর্যায়ে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বাজারে অস্থিতিশীলতা দূর করতে নজরদারি বাড়ানো হবে। ভোক্তা পর্যায়ে কেউ যেন বিড়ম্বনার শিকার না হয় বা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে- সেজন্য আগামী দিন থেকে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াবো।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এলপিজির বর্তমান বাজারমূল্য ও সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ সভা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর এসেছে গত কিছুদিন ধরে। অ্যাপারেন্টলি এলপিজির কিছু গ্যাপ আছে- এরকম গণমাধ্যমে এসেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য যেটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩৫৬ টাকা, সেটি বিভিন্ন জায়গায় তার থেকে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদ এসেছে। তিনি বলেন, আগামী দিনে যেন এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকে এবং খুচরা পর্যায়ে কোনো ধরনের অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, বাজার স্থিতিশীল থাকে সেই উদ্দেশ্যে আমরা এলপিজি আমদানিকারক এবং সরকারের বিভিন্ন সহায়ক সংস্থা যারা আমরা ফ্যাসিলিটেট করি, রেগুলেট করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ তাদেরকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। এখানে আমরা একটি মিনিংফুল আলোচনা করেছি।মন্ত্রী আরও বলেন, যারা এই খাতের সঙ্গে জড়িত তারা কতগুলো বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছেন। আমরা সেটার নোট নিয়েছি এবং সেগুলো আগামী দিনে যতটুক সম্ভব সমাধান করে তারা যাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন সে জন্য আমরা সচেষ্ট থাকবো। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কি আগের পর্যায়ে থাকবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তারা আমদানিকারক বা যাদের বোটলিং প্লান্ট আছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে অনেক সময় যারা রিটেইল সেল করেন তারা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর সঙ্গে আমদানিকারকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ভোক্তা পর্যায়ে যেন এমন বিড়ম্বনার শিকার না হতে হয় বা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে, সেজন্য আগামী দিন থেকে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াবো। সেক্ষেত্রে কি দাম আগের জায়গায় যাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের জায়গায় আসবে। একটা জিনিস কী আমদানি পর্যায়ে মূল্যের ক্ষেত্রে যারা আমদানিকারক তারা কতগুলো যুক্তি উত্থাপন করেছেন। যেটি তাদের ব্যবসা সচল রাখার প্রয়োজনে প্রাইস রিভিউয়ের কথা তারা বলেছেন। এটি হচ্ছে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে। এটি কোনো মুখের কথা না। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে যদি তাদের কথাটা সমর্থনযোগ্য হয়, বিবেচনাযোগ্য হয় তাহলে সেটা তো বিবেচনা করতেই হবে। কেউ তো আর লোকসান করে ব্যবসা করবে না।এলপিজির দাম কি তাহলে বাড়ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, না না, এই মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এলপিজি জন্য ৩৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া আছে। সেখানে দেশের ১০টি কোম্পানি প্রায় ৭০ শতাংশ মতো আমদানি করে। বাকি কোম্পানিগুলো আমদানি করার ক্ষেত্রে আপনার কোনো ধরনের সহযোগিতা বা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস হলো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক অপারেটর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, এটা ঠিক। অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এটি মার্কেট শূন্যতার একটা উপাদান। পুরাটা না, একটা উপাদান। দ্বিতীয়ত হলো আমাদের আমদানি কারকরা প্রায় স্পট মার্কেট থেকে কেনেন। ফিউচার কন্ট্রাক্টে যান না। এজন্য মার্কেট ভলেটিলিটি তাদেরকে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করে আবার নিষ্ক্রিয় করে। আর তৃতীয়ত হচ্ছে অনেকের অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ব্যবসা আছে। ব্যাংকের সিঙ্গেল এক্সপোজাল লিমিট তাদের অনেকের জন্য একটা অন্তরায়। এসব বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো আগামী দিন।বিপিসির স্টোরেজ নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অন্য বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন যে এই মুহূর্তে যদি বিপিসি নিজেই আমদানি করতে চায় সেক্ষেত্রে তারা তাদের স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিটা ব্যবহার করতে দেবেন। আমরা এটিকে সাধুবাদ জানাই।
সেনাবাহিনীর উচ্চ পদে আরো ৬ সেনা কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এই আদেশ জারি করা হয়। সেনাবাহিনীর একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬ জন কর্মকর্তাকে বদলির পর এবার আরো ৬ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো।বদলি হওয়া সেনা কর্মকর্তারা হলেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ড্যান্ট, মেলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলিজির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল নাসিম পারভেজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদকে এ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), সেনা সদরের এ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামানকে মেলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলিজির কমান্ড্যান্ট এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন জিওসি মেজর জেনারেল মো. কামরুল হাসানকে ঢাকা সেনানিবাসের লজেস্টিক এরিয়ায় বদলি করা হয়েছে।এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬ সেনা কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। বদলিতে চিফ অব জেনারেল স্টাফ বা সিজিএস পদে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এই পদে আসেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ফুডল্যান্ড বেকারির বিরুদ্ধে চ্যানেল এস টেলিভিশনে " অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে খাদ্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্যে বাড়ছে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি " শিরোনামে নিউজ প্রচারের পর পরিবেশ অধিদপ্তর আগারগাঁও শোকজ নোটিশ জারি করেছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ২৬ ফেব্রুয়ারী পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট পরিচালক যুগ্মসচিব সৈয়দ ফরহাদ হোসেন এর স্বাক্ষরিত জারি হওয়া নোটিশে উল্লেখ করে,নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ডে ফুডল্যান্ড নামক বেকারিটি একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদন, চুলা তাপ আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এনে গত ১৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর আগারগাঁও এ একটি অভিযোগ দায়ের করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়নগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেয়।এবং জেলা অফিস সরজমিনে ফুডল্যান্ড বেকারি পরিদর্শন করে,এবং পরিবেশের ছাড়পত্র ব্যতিরেক উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর আগারগাঁও এর মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট শাখায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরক করে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫(সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘন করায় এই প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়,বিদ্যুৎ, পানি গ্যাস ও সকল সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরনসহ কেন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে মর্মে সন্তোষজনক ব্যাখা চেয়ে আগামী ৩ মার্চ সকাল ১০ ঘটিকায় শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ প্রদান করে । অন্যথায় একতরফা এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আরো উল্লেখ করে। ফুডল্যান্ড বেকারির পক্ষে জারি হওয়া নোটিশটি গ্রহণ করে মোঃ মিন্টু নামক জনৈক ব্যক্তি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩টি আসনে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে আবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসনগুলো হলো- ঢাকা-৬, ৭ ও গাইবান্ধা-৪। অপরদিকে শেরপুরের একটি আসনে কারচুপির অভিযোগ এনে আবেদন করেছে বিএনপি।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল আবেদনগুলো গ্রহণ করে আদেশ দিয়েছেন।একই সঙ্গে ওই আসনগুলোর নির্বাচনী সরঞ্জামাদি ইসিকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ওই আসনগুলোর বিজয়ী প্রার্থীকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে ঢাকা-৬, ৭ ও গাইবান্ধা-৪ শেরপুরের-১ আসনে কারচুপির অভিযোগ এনে আসনগুলোর পরাজিত প্রার্থীরা হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে ভোটের ফলাফল পুনঃগণনা চাওয়া হয়।গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন।
রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিয়ামকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা জামাও উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।মাসুদ আলম জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) স্কুল শিক্ষার্থীকে হত্যার পরদিন ভোরে কাঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক সিয়ামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও তার পরনের রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়।ডিসি জানান, সিয়ামকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, গত ৪ বছর যাবৎ তাদের মধ্যে সম্পর্ক চলছিল। গত কয়েক দিন যাবৎ ভুক্তভোগী তার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ করছিল না। তাদের আগে নিয়মিত যোগাযোগ হলেও সবশেষ তেমন যোগাযোগ হতো না। বিষয়টি নিয়ে ঘাতক সিয়াম ভুক্তভোগীকে সন্দেহ করা শুরু করে। এরপর গতকাল বুধবার তাকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বললে ভুক্তভোগী দেখা করে। একপর্যায়ে ঘাতক সিয়াম তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বাড়িতে ঢুকলে ঘাতক সিয়াম বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। ওই সময় আশপাশের বাসিন্দারা মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরাধীকে সনাক্ত করার বর্ণনা দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিয়ামকে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করি। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সিয়াম মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে ফেলে। এরপর আমরা বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে কলবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা জামা ও মোবাইল ফোন জব্দ করি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপে অপহরণের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম (২৩), ইশরাক ইয়ামিন লিখন (২০), হাসান আল বান্না ওরফে হাসলাম (২১) ও মোস্তাফিজ রহমান পুঞ্জ (২২)।পুলিশ বলছে, ওই চক্রে ১০-১২ জন রয়েছে। তারা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী এ খবর শুনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ফোন করে ডিসি মাসুদ আলমকে নির্দেশনা দিলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। তবে সেদিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।ডিসি মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা আসামিদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ভুক্তভোগী ছেলেটার কাছে কিছু বর্ণনা শুনেছি, আর আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি।এই চক্রে ১০-১২ জন আছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যে ভিডিও পেয়েছি, সেগুলো দেখে আঁতকে ওঠার মতো। তারা কাউকে টার্গেট করে টোপ দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে বিভিন্নজনকে নক করে মাদকের কথা বলে। কখনো বলে এখানে আসলে মাদক পাবে। কিছু আছে বিভিন্ন বাহানা, মেয়েদের সঙ্গে গল্প করা যাবে, এরকম বলে। এই ছেলেটাকেও কিছু একটা বলে টেলিগ্রামে নক করেছে। বলেছে, আসো একটু কথাবার্তা বলবো। কোনো একটা লোভ বা প্রলোভন দেখিয়েছে, আর ছেলেটাও ট্র্যাপে পা দিয়েছে।ডিসি মাসুদ আরও বলেন, ওই স্কুলছাত্রের স্কুল বন্ধ ছিল, বাসা থেকে সাইকেল নিয়েই সেদিন সে গিয়েছিল। অপহরণকারীরা বেশি টাকা আদায় করে না, কিন্তু ডেকে নেওয়ার পর ব্যাপক নির্যাতন করে। আশা করছি, জড়িত বাকিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নতুন কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার হিসেবে কোনো কর্মকর্তা যোগ না দেওয়া পর্যন্ত মো. সরওয়ার ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে থাকবেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে বসে বুঝেছেন গত ১৭ বছর কীভাবে মন্ত্রণালয় চলেছে। যে যেভাবে পেড়েছে যায় সেভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কাও করা হয়নি। এখন থেকে সবই নিয়মের ওপর চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ এলাকা ময়মনসিংহের নান্দাইলে এসে স্থানীয় প্রেসক্লাব পরিদর্শন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘দেশের আইপি টিভি ও অনলাইন পোর্টালগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা হবে। একটি মোবাইল ফোনকে সম্বল করে যারা অনলাইন পোর্টাল চালাচ্ছেন তাদেরকে সরকারি নীতিমালা মেনে কাজ করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে চায় না। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্র বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নান্দাইলে আসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নান্দাইলে এটি তার প্রথম সফর। নান্দাইলে পৌঁছালে স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে পুলিশের একটি চৌকষ দল প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইলের ইউএনও ফাতেমা জান্নাত।এসময় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। পরে তিনি চৌরাস্তায় অবস্থিত নান্দাইল প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন। সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ, নান্দাইল ও গফরগাঁও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বাগত জানানো হয়।সেখানে তিনি বক্তব্য প্রদানের সময় সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।পরে তিনি নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করেন। সভা শেষে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। যিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হলো।’গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।
বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংককে জরুরি তহবিল হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের সময় গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য তাদের এই সহায়তা দেওয়া হয়।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে যে তারা তহবিল সমস্যার মধ্যে রয়েছে। গ্রাহকদের অর্থ সময় মতো ফেরত দিতে পারছে না। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েছে।ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ক্যাশ ফ্লো ঠিক রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।উল্লেখ্য, ঈদের আগে ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যায়। সেজন্য এ সময় তারল্য বেশি থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত ও ঋণ আদায় হচ্ছে, তা দিয়ে তারল্য ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপে অপহরণের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম (২৩), ইশরাক ইয়ামিন লিখন (২০), হাসান আল বান্না ওরফে হাসলাম (২১) ও মোস্তাফিজ রহমান পুঞ্জ (২২)।পুলিশ বলছে, ওই চক্রে ১০-১২ জন রয়েছে। তারা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী এ খবর শুনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ফোন করে ডিসি মাসুদ আলমকে নির্দেশনা দিলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। তবে সেদিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।ডিসি মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা আসামিদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ভুক্তভোগী ছেলেটার কাছে কিছু বর্ণনা শুনেছি, আর আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি।এই চক্রে ১০-১২ জন আছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যে ভিডিও পেয়েছি, সেগুলো দেখে আঁতকে ওঠার মতো। তারা কাউকে টার্গেট করে টোপ দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে বিভিন্নজনকে নক করে মাদকের কথা বলে। কখনো বলে এখানে আসলে মাদক পাবে। কিছু আছে বিভিন্ন বাহানা, মেয়েদের সঙ্গে গল্প করা যাবে, এরকম বলে। এই ছেলেটাকেও কিছু একটা বলে টেলিগ্রামে নক করেছে। বলেছে, আসো একটু কথাবার্তা বলবো। কোনো একটা লোভ বা প্রলোভন দেখিয়েছে, আর ছেলেটাও ট্র্যাপে পা দিয়েছে।ডিসি মাসুদ আরও বলেন, ওই স্কুলছাত্রের স্কুল বন্ধ ছিল, বাসা থেকে সাইকেল নিয়েই সেদিন সে গিয়েছিল। অপহরণকারীরা বেশি টাকা আদায় করে না, কিন্তু ডেকে নেওয়ার পর ব্যাপক নির্যাতন করে। আশা করছি, জড়িত বাকিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।
যড়যন্ত্র করে দলীয় নিবন্ধন আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি (বিএজেপি)।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আম জনগণ পার্টির নিবন্ধন ইস্যুতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চার নির্বাচন কমিশনার এবং আম জানগণ পার্টির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও ইসি সচিব সভায় উপস্থিত ছিলেন না।শুনানি শেষে দলটির সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম বলেন, যেসব জেলা ও উপজেলায় আমরা কমিটি দেইনি, সেখান থেকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে। এটি পরিষ্কার একটি ষড়যন্ত্র। আমাদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমাদের দল নিবন্ধন পাবে।তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। অভিযোগ মূলত ব্যবসা কেন্দ্রিক এবং ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ের দায় দল নেবে না, সেটি আইন-আদালত দেখবে। আমাদের সামনের সারিতে যারা আছেন, তারা সবাই জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা। নিবন্ধন নিয়ে আর কোনো ছয়নয় করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।দলের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ডেসটিনির সাথে সম্পৃক্ততার খবরকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, ডেসটিনির সকল অফিস বহু বছর ধরে বন্ধ। সেই অফিস আমরা দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছি। এমন তথ্য সঠিক নয়। এছাড়া এটি ডেসটিনির উদ্যোক্তাদের দল, এটিও মিথ্যা প্রচারণা বরং গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল থেকে অনেকে এখানে এসেছেন।তিনি বলেন, আমাদের যথাযথ কমিটি ও কার্যালয় রয়েছে। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সত্য উদঘাটন করবে এবং আমরা ন্যায়বিচার পাবো।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে বসে বুঝেছেন গত ১৭ বছর কীভাবে মন্ত্রণালয় চলেছে। যে যেভাবে পেড়েছে যায় সেভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কাও করা হয়নি। এখন থেকে সবই নিয়মের ওপর চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ এলাকা ময়মনসিংহের নান্দাইলে এসে স্থানীয় প্রেসক্লাব পরিদর্শন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘দেশের আইপি টিভি ও অনলাইন পোর্টালগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা হবে। একটি মোবাইল ফোনকে সম্বল করে যারা অনলাইন পোর্টাল চালাচ্ছেন তাদেরকে সরকারি নীতিমালা মেনে কাজ করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে চায় না। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্র বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নান্দাইলে আসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নান্দাইলে এটি তার প্রথম সফর। নান্দাইলে পৌঁছালে স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে পুলিশের একটি চৌকষ দল প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইলের ইউএনও ফাতেমা জান্নাত।এসময় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। পরে তিনি চৌরাস্তায় অবস্থিত নান্দাইল প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন। সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ, নান্দাইল ও গফরগাঁও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বাগত জানানো হয়।সেখানে তিনি বক্তব্য প্রদানের সময় সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।পরে তিনি নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করেন। সভা শেষে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বেনফিকা। প্রথম লেগে হারলেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরুতেই সেই ব্যবধান মুছে দেয় সফরকারীরা। তবে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষ দিকে গোল করে আবারও রিয়ালকে জয় এনে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিবাগত রাতে প্লে-অফের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতে, দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে পরের ধাপে উঠল আলভারো আরবেলোয়ার দল।এদিনে আক্রমণাত্মক শুরু করে চতুর্দশ মিনিটেই দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে সমতা টানে বেনফিকা। ডান দিক থেকে পাভলিদিসের পাস তার সতীর্থদের কাছে যাওয়া আটকাতে স্লাইড করেন রাউল আসেন্সিও, কিন্তু বল তার পায়ে লেগে চলে যাচ্ছিল জালে, ক্ষিপ্রতায় পা বাড়িয়ে কোনোমতে সেটা আটকান থিবো কোর্তোয়া।কিন্তু ফিরতি বল গোলমুখে পেয়ে টোকায় জালে পাঠিয়ে দেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রাফা সিলভা। পুনরায় খেলা শুরু হতেই পাল্টা আক্রমণে দারুণ নৈপুণ্যে সমতা টানেন চুয়ামেনি। ফেদে ভালভের্দের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে, একটু বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি মিডফিল্ডার।গোল পেয়ে আক্রমণে জোর দেয় রিয়াল। ৩২তম মিনিটে হেডে বল জালেও পাঠান আর্দা গিলের; কিন্তু ব্যবধান বাড়েনি তাদের। অফসাইডে ছিলেন গন্সালো গার্সিয়া।দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ভালভের্দে। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় পেলেও, ঠিকমতো শটই নিতে পারেননি উরুগুয়ের মিডফিল্ডার।ছয় মিনিট পর আবার দারুণ সুযোগ পায় রিয়াল। তবে অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের কোনাকুনি শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬০তম মিনিটে উল্টো বেঁচে যায় তারা; রাফা সিলভার শটে বল আসেন্সিওর পায়ে লেগে আরেকটু ওপরে উঠে ক্রসবারে বাধা পায়।পুনরায় ম্যাচ শুরুর একটু পরেই দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন দারুণ ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস। মাঝমাঠ থেকে ভালভের্দের থ্রু পাস ধরে, ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ভিনিসিয়ুস, সবশেষ ১১ ম্যাচে করলেন আট গোল। ইনজুরি টাইম যোগ হয় ৯ মিনিট; কিন্তু বেনফিকা আর কোনো নাটকীয়তার জন্ম দিতে পারেনি।
বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি অসুস্থ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল এই নন্দিত পরিচালকের ৬৩তম জন্মদিন। কিন্তু আনন্দের সেই ক্ষণ কাটতে না কাটতেই ভক্তদের জন্য এলো দুঃসংবাদ। জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে নিজের জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন বনশালি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার খবর ছড়িয়ে পড়লে বলিপাড়াসহ ভক্তমহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।এদিকে বনশালির অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেললে মুখ খোলে তার পরিবার। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সঞ্জয় লীলা বনশালি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ জন্মদিনের পার্টিতে বনশালি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পরিচালকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, হাসপাতালে ভর্তির খবরটি একেবারেই ভিত্তিহীন এবং বনশালি এখন নিজের বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছেন।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বেশ আলোচনায় এসেছেন । তবে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান নানা বিষয়ে তাকে টার্গেট করে ইচ্ছে করে মানহানির চেষ্টা চলছে। মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং তার মানহানির চেষ্টা করায় আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ফেসবুকে মেহজাবীন লেখেন, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।' তার দাবি, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় তাকে কখনোই বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি। এমনকি তার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও জব্দ করা হয়নি। তার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মেহজাবীন বলেন, যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা তার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়েছে—এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে কিনা।পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমানে মানহানি যেন খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অভিযোগ, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ক্লিকবেইট তৈরির উদ্দেশ্যে তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টে বিদেশ থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল। সেখানে তার লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সে ভিডিও। অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেছে পুলিশকে। যা নেটিজেনরা ভালোভাবে নেননি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াও। অভিযান চলাকালে এক কিশোরকে সপাটে চড় মারেন এক পুলিশ সদস্য। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তার-ই এক স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবস্থা, অবশ্যই সার্চ করবেন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এইটা আপনাদের কাজ। কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন কেন? এইযে হুদাই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে আপনাদের ওপর মানুষের বিশ্বাস কিংবা সম্মান নষ্ট হয়ে যায়!’ অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা আপনাদের সন্মান করতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই আপনারা সত্যিই আমাদের সেবায় নিয়োজিত। আমরা চাই আপনারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কিন্তু দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি সন্মান ও করতে হবে।’
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের শারীরিক অবস্থা ও কর্মব্যস্ততা নিয়ে অবাক করা তথ্য ফাঁস করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা গোবিন্দ নমদেব। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে শাহরুখের- এমনটা জানেন সেই অভিনেতা। তাই বিষ্ময় প্রকাশ করে বললেন, এ অবস্থাতেই ২০ ঘণ্টা কাজ করেন বলিউড কিং! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিং খানের কঠোর পরিশ্রম ও জীবনযাপন নিয়ে মুখ খোলেন গোবিন্দ নমদেব। শাহরুখের এই সহ-অভিনেতার মতে, নায়কের শরীরে নানাবিধ জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে তার শিরদাঁড়ার হাড়ের সমস্যা বেশ পুরনো। গোবিন্দ বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই এই ভেবে যে, শরীরে এত সমস্যা থাকার পরও একজন মানুষ কীভাবে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন? তিনি মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমান, আবার নিয়ম করে শরীরচর্চা ও সংলাপ মুখস্থ করেন। শারীরিক কষ্টকে উপেক্ষা করেই তিনি সব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় শাহরুখের সঙ্গে কাজ করেছিলেন গোবিন্দ নমদেব। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শাহরুখের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতার। তখনই বুঝেছিলাম, ২৪ ঘণ্টা কাজ করার ক্ষমতা যদি কারও থাকে, তবে তা শুধু শাহরুখেরই আছে। নিজের শরীর নিয়ে একদমই ভাবেন না তিনি।এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান নিজেও তার অনিয়মিত জীবনযাপনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুমাতে যান তিনি। শুটিং থাকলে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সকাল ৯টা বা ১০টার মধ্যে সেটে হাজির হন। কাজ থেকে ফিরে গোসল সেরে আবারও শরীরচর্চায় মনোযোগ দেন তিনি।
ফের এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগে কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা-পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গত বছরের ১৩ আগস্ট এক তরুণী নোবেলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নোবেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, তাঁর মা নাজমা হোসেন এবং তাঁর সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুই পরিবারের সমঝোতার মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে নোবেলের বাগদান সম্পন্ন হয়। তরুণী একদিন নোবেলের ডেমরার বাসায় দেখা করতে যান। এ সময় স্টুডিওতে আটকে রেখে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন নোবেল। সম্মতি না দিলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন নোবেল। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এর আগেও নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ মে ডেমরা থানার একটি মামলায় ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর তিনি জামিন পান।গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ইতোমধ্যে সিনেমাটির শুটিং নিয়ে বর্তমানে কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢালিউড সুপারস্টার। গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার বৌবাজার, হাওড়া ও আলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকিব খানের নতুন কিছু লুকের কিছু ছবি দেখা গেল ভারতীয় বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে। ছবিতে শাকিব খানের চরিত্র অনুযায়ী নব্বই দশকের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ‘কালা জাহাঙ্গীর’-এর আদলে দেখা গেছে। অগোছালো চুল, ঘন দাড়ি-গোঁফ এবং বুক খোলা জ্যাকেটের নিচে শার্ট; যেখানে তাকে পুরোপুরি ভিন্ন এক অবতারে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। একজন সাধারণ মানুষ থেকে কীভাবে তিনি দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টারে পরিণত হন, সেই উত্তরণের গল্পই উঠে আসবে এই সিনেমায়।আনন্দবাজারের খবর, গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হাওড়ার শালিমারের একটি পরিত্যক্ত কারখানায় রাতভর সিনেমাটির মারপিট বা অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং শুরু হয়। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বৌবাজারের মাধো ভবনে চিত্রধারণ করা হয়। সেখানে বাইক নিয়ে শাকিব খানের একটি প্রবেশ দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দেয়। কলকাতার এই ধাপ শেষ করে পুরো ইউনিটের ভারতের হায়দেরাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে শাকিব খানের এই সিনেমাটিতে মেগাস্টারের বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের শরীফ সিরাজ ও মাহমুদ; কলকাতার লোকনাথ দে, পিয়ান সরকার, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য।সিনেমার চিত্রগ্রহণে রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘অ্যানিম্যাল’ খ্যাত চিত্রগ্রাহক অমিত রায় এবং শৈলেশ অবস্থী। জানা গেছে, শ্রীলঙ্কায় প্রথম লটের শুটিং শেষ হওয়ার পর এটি সিনেমার দ্বিতীয় লটের কাজ। ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে শিলিন সুলতানা প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটি চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
দেশের এলপিজি বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের নির্ধারিত পর্যায়ে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বাজারে অস্থিতিশীলতা দূর করতে নজরদারি বাড়ানো হবে। ভোক্তা পর্যায়ে কেউ যেন বিড়ম্বনার শিকার না হয় বা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে- সেজন্য আগামী দিন থেকে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াবো।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এলপিজির বর্তমান বাজারমূল্য ও সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ সভা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর এসেছে গত কিছুদিন ধরে। অ্যাপারেন্টলি এলপিজির কিছু গ্যাপ আছে- এরকম গণমাধ্যমে এসেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য যেটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩৫৬ টাকা, সেটি বিভিন্ন জায়গায় তার থেকে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদ এসেছে। তিনি বলেন, আগামী দিনে যেন এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকে এবং খুচরা পর্যায়ে কোনো ধরনের অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, বাজার স্থিতিশীল থাকে সেই উদ্দেশ্যে আমরা এলপিজি আমদানিকারক এবং সরকারের বিভিন্ন সহায়ক সংস্থা যারা আমরা ফ্যাসিলিটেট করি, রেগুলেট করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ তাদেরকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। এখানে আমরা একটি মিনিংফুল আলোচনা করেছি।মন্ত্রী আরও বলেন, যারা এই খাতের সঙ্গে জড়িত তারা কতগুলো বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছেন। আমরা সেটার নোট নিয়েছি এবং সেগুলো আগামী দিনে যতটুক সম্ভব সমাধান করে তারা যাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন সে জন্য আমরা সচেষ্ট থাকবো। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কি আগের পর্যায়ে থাকবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তারা আমদানিকারক বা যাদের বোটলিং প্লান্ট আছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে অনেক সময় যারা রিটেইল সেল করেন তারা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর সঙ্গে আমদানিকারকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ভোক্তা পর্যায়ে যেন এমন বিড়ম্বনার শিকার না হতে হয় বা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে, সেজন্য আগামী দিন থেকে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াবো। সেক্ষেত্রে কি দাম আগের জায়গায় যাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের জায়গায় আসবে। একটা জিনিস কী আমদানি পর্যায়ে মূল্যের ক্ষেত্রে যারা আমদানিকারক তারা কতগুলো যুক্তি উত্থাপন করেছেন। যেটি তাদের ব্যবসা সচল রাখার প্রয়োজনে প্রাইস রিভিউয়ের কথা তারা বলেছেন। এটি হচ্ছে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে। এটি কোনো মুখের কথা না। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে যদি তাদের কথাটা সমর্থনযোগ্য হয়, বিবেচনাযোগ্য হয় তাহলে সেটা তো বিবেচনা করতেই হবে। কেউ তো আর লোকসান করে ব্যবসা করবে না।এলপিজির দাম কি তাহলে বাড়ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, না না, এই মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এলপিজি জন্য ৩৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া আছে। সেখানে দেশের ১০টি কোম্পানি প্রায় ৭০ শতাংশ মতো আমদানি করে। বাকি কোম্পানিগুলো আমদানি করার ক্ষেত্রে আপনার কোনো ধরনের সহযোগিতা বা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস হলো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক অপারেটর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, এটা ঠিক। অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এটি মার্কেট শূন্যতার একটা উপাদান। পুরাটা না, একটা উপাদান। দ্বিতীয়ত হলো আমাদের আমদানি কারকরা প্রায় স্পট মার্কেট থেকে কেনেন। ফিউচার কন্ট্রাক্টে যান না। এজন্য মার্কেট ভলেটিলিটি তাদেরকে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করে আবার নিষ্ক্রিয় করে। আর তৃতীয়ত হচ্ছে অনেকের অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ব্যবসা আছে। ব্যাংকের সিঙ্গেল এক্সপোজাল লিমিট তাদের অনেকের জন্য একটা অন্তরায়। এসব বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো আগামী দিন।বিপিসির স্টোরেজ নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অন্য বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন যে এই মুহূর্তে যদি বিপিসি নিজেই আমদানি করতে চায় সেক্ষেত্রে তারা তাদের স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিটা ব্যবহার করতে দেবেন। আমরা এটিকে সাধুবাদ জানাই।
সৌদি আরবে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে সিকদার (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হারুন সিকদার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি রহমত আলী সিকদারের নতুন বাড়ির মো. নাগু মিয়ার ছেলে। ছয় ভাই ও সাত বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২ ডিসেম্বর ছুটিতে দেশে আসেন হারুন। এক মাস পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরেন। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।স্বজনেরা জানান, ভবনের একটি চতুর্মুখী সিঁড়িতে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান হারুন। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি মেডিকেল কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।হারুনের ছোট ভাই মো. সিফাত বলেন, আমার বোনের জামাই সেখানে তার সঙ্গে আছেন। কবে নাগাদ মরদেহ দেশে আনা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নই। মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক বলেন, ঘটনাটি শুনে খুব মর্মাহত হয়েছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দেশে আনা ও দাফন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বরকতময় মাস রমজান। এটি শুধু উপবাসের মাস নয়; আত্মিক পরিশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষায় ভরা এক মহিমান্বিত সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই সাধনা মুমিনের জীবনে আনে প্রশান্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা।আত্মিক পরিশুদ্ধির আহ্বানরমজান মানেই এক পবিত্র আবহ। ভোরের সেহরি থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সৌরভে ভরপুর। এ মাসে মানুষ কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার চর্চা করে। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক বিশেষ অনুশীলন। এই এক মাসের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক শিক্ষাই যেন বছরের বাকি সময়ের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।ইফতারের আমেজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনদিনভর সিয়াম সাধনার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, খেজুর ও শরবতের সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে ইফতারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চর্চা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষারমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার প্রকৃত অর্থ। যারা সারা বছর অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ এনে দেয় এই মাস। তাই রমজানে দান-সদকা ও জাকাত প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো—এসবের মধ্য দিয়েই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়।বদলে যাওয়া নাগরিক জীবনরমজানে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দেও আসে পরিবর্তন। অফিস-আদালতের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়, বাজারে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে শেষ দশকে ঈদের আনন্দঘন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের হৃদয়ে থাকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। শান্তি, রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের কাছে ফিরে আসে এই মহিমান্বিত মাস। রমজানের সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবে গড়ে উঠবে কলুষমুক্ত, সুন্দর এক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন—এই হোক মাহে রমজানের অঙ্গীকার।
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, ফলে শরীরের তরল ক্ষতি হয় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পেশীর কার্যক্রমে। এই অবস্থায় পানিশূন্যতা এড়াতে শুধু ইফতার বা সেহরিতে পানি খাওয়া যথেষ্ট নয়, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুনসেহরি ও ইফতারের সময় মোটামুটি ৮-১০ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে একবারে খুব বেশি পানি খাওয়ার চেয়ে এতে পানি ধীরে ধীরে পান করলে শরীর তার শোষণ ভালোভাবে করতে পারে। ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, টমেটো ইত্যাদি পানি-সমৃদ্ধ। এগুলো সেহরি ও ইফতারে থাকলে শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে।ক্যাফেইন ও চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় সীমিত করুনচা, কফি ও কোলার মতো পানীয় শরীর থেকে পানি বের করে দেয় (ডাইউরেটিক প্রভাব), ফলে শরীর দ্রুত পানি হ্রাস পায়। জুস বা চিনিযুক্ত মিষ্টি পানীয়ও বেশি শর্করা থাকার কারণে ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার কম খানঅতিরিক্ত লবণ শরীরের পানির চাহিদা বাড়ায়। তাই সেহরি ও ইফতারে বেশি লবণ বা তীব্র মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে লবণের বদলে লেবু, জিরা, তুলসী ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।হালকা ও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুনরোজা যখন ভাঙবে (ইফতার), তখন একবারে অনেক পানি না গিলেই বরং ধীরে ধীরে এবং নিয়মিত পানি পান করুন। এইভাবে শরীরকে পর্যায়ক্রমে হাইড্রেটেড রাখা সহজ হয়।বাইরের তাপ বা গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে সতর্ক থাকুনযদি রোজা রাখার সময়ে সূর্যের তাপে বেশি সময় কাটে বা শারীরিক কাজ বেশি হয়, তাহলে ঘাম বের হয়ে শরীর থেকে আরও পানি ক্ষয় হতে পারে। চেষ্টা করুন সূর্যের তাপ থেকে দূরে থাকুন এবং হালকা কাজ বা বিশ্রাম নিন।ইফতার ও সেহরিতে স্যুপ বা দই রাখুনহালকা তরকারি স্যুপ বা দই পানি ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে দইতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের ত্বরণ ভালো রাখে।রোজা রাখার সময় শরীরের সিগন্যাল যেমন খুব বেশি পিপাসা, মাথাব্যথা, অতি ক্লান্তি বা কম প্রস্রাবের রং এসব লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে শরীরকে রিফ্রেশ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য এক অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি ও ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেছেন। সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি গোষ্ঠী জুলাইকে ব্যর্থ করে দিতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে।’তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ও ‘কনসেন্ট’ তৈরির খেলা চলছে, তা খুবই ভয়ংকর বার্তা দেয়!’ডাকসু ভিপি লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে আওয়ামী পারপাস সার্ভের যে তৎপরতা চলছে, সেখানে কিছু মিডিয়া সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ থাকার দাবি করছে।’সাদিক কায়েম সতর্ক করেছেন, ‘মনে রাখবেন, যদি সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল কিংবা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে বিপ্লবীদের হেনস্তা করার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়ে যায়, তবে সম্মুখসারির ছাত্রনেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ আওয়ামী বিরোধী সকল শক্তিকেই এর ভুক্তভোগী হতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বয়ং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হুকুমের আসামি হয়ে যেতে পারেন!’সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জুলাইকে ব্যর্থ করতে পতিত ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীদের অপপ্রয়াস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় জীবনে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত হয় জুলাই বিপ্লব। এই আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করা হয়।অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবসান হয় তার টানা ১৬ বছরের শাসনামলের।