চাঁদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করতে আগামী ১৬ মে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী এ সফরে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিবেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয় নেতা কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।মঙ্গলবার (৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মো. উজ্জ্বল হোসেন এক চিঠিতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সফল করতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন।সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়, সকাল ৭টায় ঢাকার গুলশানের সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়াবুক বাজার এলাকায় ঘোর্থখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাটে উপস্থিত হয়ে বিশ্বখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।দুপুরে সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে জেএম সেন গুপ্ত রোডের চাঁদপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে একই সড়কে চাঁদপুর জেলা বিএনপির নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা ৬টায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন।সন্ধ্যা ৭টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ করবেন তিনি এবং রাত ১০টায় গুলশানের বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সরকারি সফর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।সফর প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. সলিম উল্ল্যাহ সেলিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সফর ও উৎসবমুখর করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি এ সফর সফল ও সার্থক হবে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সেরা শিক্ষা হাবে পরিণত করার সব ধরনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা এডুকেশন হাব। আমাদের সেই রিসোর্স রয়েছে, আমাদের সেই মেধা রয়েছে, আমাদের সেই প্রোগ্রাম রয়েছে, আমাদের সেই ইচ্ছা রয়েছে। এটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে।’মঙ্গলবার (৫মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। ‘মাত্র ১৬ দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যে কাজ হয়েছিল, তা ১৬ বছরেও করা কঠিন।’শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা উন্নয়নে গভীর আগ্রহী ছিলেন এবং শিক্ষাকে ঘিরে তার স্বপ্ন ছিল সুদূরপ্রসারী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন শিক্ষা, শিক্ষা এবং শিক্ষা। বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ আকৃষ্ট করার বিষয়েও কাজ চলছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করত এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশে শিক্ষাগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে অবদান রাখার প্রবণতা বাড়াতে হবে।স্টেকহোল্ডারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের মতামত শোনা ছাড়া টেকসই সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্কলারশিপ প্রদান এবং ট্রাস্টভিত্তিক পরিচালনার বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে চায়।
ইরানের রাজধানী তেহরানের পাশে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১১ জন বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ৪১ জনের মতো আহত হওয়ার খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।৫ মে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিশেহ এলাকায় অবস্থিত আরঘাভান কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। খবর আনাদোলুর। শাহরিয়ার জেলার গভর্নর সজ্জাদ বারানজি জানান, কমপ্লেক্সটিতে ২৫০টির বেশি দোকান এবং প্রায় ৫০টি অফিস ইউনিট রয়েছে। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের মধ্যে অনেককে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ ছিল ভবনের কম্পোজিট ফ্যাসাড, যা আগুনকে বাইরের দিক দিয়ে দ্রুত বিস্তৃত হতে সহায়তা করে।উদ্ধার অভিযান শেষে ভবনের ভেতরে আটকে পড়া সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা ট্রাফিক বক্সের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৩৩৯৭ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে গাড়িটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে।তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু সময় সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।ফার্মগেট ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) জয়নাল আবেদীন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, সোনারগাঁও ক্রসিং থেকে আসার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রাইভেটকারটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর রেকারের মাধ্যমে গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনায় গাড়ির চালক-যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে এবং এখন নতুন ধাপে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ যাওয়ার অর্থই হলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে ইরানের ওপর হামলা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেষ’ হয়েছে।রুবিও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে ‘ফেভার টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে দাবি করে বলেন, এই নতুন উদ্যোগ মূলত বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অংশ। তার ভাষায়, এটি বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। তিনি জানান, ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে বহু নাবিক ও বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছিলেন। সেসব আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর প্রায় ৮৭টি দেশের ২৩ হাজারের বেশি মানুষ ওই অঞ্চলে আটকা পড়েছেন এবং ইরান সরকার তাদের কার্যত অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখেছিলো।এ সময় ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাকে জটিল ও হতাশাজনক বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন এই কূটনীতিক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল।মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার শেয়ার করে এ ঘোষণা দেন।তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা আমাদের অধিকার। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।’এরপর তিনি আরও দুটি পোস্ট দেন। একটি পোস্টে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, “কাকে ভোট দিতে চান? রাজাকারের বাচ্চাদের নাকি মুক্তিযুদ্ধকে যে ধারণ করে তাকে?”অপর পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আমি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, স্বচ্ছ এবং উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। পাশাপাশি আমার নগরী থাকবে রাজাকারমুক্ত—কথা দিলাম!”জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন নীলা ইসরাফিল। এরপর যোগ দেন এনসিপিতে। পরে এনসিপির আরেক নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি বাড়িতে মাদকের আস্তানায় র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ ১০ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। র্যাব জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় র্যাবের অভিযানে হামলা ও তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার পর থেকে সদর উপিজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় থানা পুলিশের সহয়তায় রাত ৯ টায় ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকায় একটি ছয় তলা ও একটি দুই তলা বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব।এ সময় দুই বাড়িতে তল্লাশি করে প্রায় ৫ মন গাঁজা, ১০ থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবা, টাকা গোনার মেশিন, ড্রোন, রাম দা, চাপাতি, ছুরি, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপ সহ বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়। এর সাথে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে জব্দকৃত মাদক, অস্ত্র ও টাকা সহ আটককৃতদের ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দীর্ঘদিনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্যাম্পে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন হালিম, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।অনুসন্ধানী তথ্যমতে, কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম মিয়ানমারে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। তিনি একসময় নিষিদ্ধ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ‘হালিম’ নাম ধারণ করে আত্মগোপনে গিয়ে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন।তার নেতৃত্বাধীন ‘হালিম গ্রুপ’ পরে আরসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করে বলে জানা যায়। এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এছাড়া হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিকবার। ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অস্ত্র ক্রয় ও নতুন সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে আটকের পর রহস্যজনকভাবে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় আসে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ক্যাম্পবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বের অবসান হলেও, বিশ্লেষকদের মতে এতে সহিংসতা কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ক্ষমতার শূন্যতা নতুন করে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।এ বিষয়ে ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হালিমের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে ক্যাম্পজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আটকে থাকা সিনেমা ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’ মুক্তি পেলো। ইরফানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্প্রতি ইউটিউবে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইরফানের বিপরীতে ছবিটিতে বিদ্যা বালান অভিনয় করেছেন। এটি ইরফান খান এবং বিদ্যা বালনের ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকের কাজ। ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে রূপালি পর্দায় সম্ভবত এটিই ছিল বিদ্যার প্রথম সিনেমা। এর চেয়েও বড় বিষয়, পুরো ক্যারিয়ারে এই একটি মাত্র সিনেমাতেই একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই দুই পাওয়ার হাউস পারফর্মার।২৫ বছর আগে চিত্রনাট্যকার সার্থক দাশগুপ্ত এটি পরিচালনা করেছিলেন। তবে প্রতিকূলতা যেন পিছু ছাড়ছিল না। মূল ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ায় দুই দশকেরও বেশি সময় ছবিটির মুক্তি আটকে ছিল। পরিচালক সার্থক প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাক্রমে ছবিটির একটি ভিএইচএস কপি খুঁজে পাওয়া যায়, যা বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুনরুদ্ধার করে দর্শকদের সামনে আনা সম্ভব হয়েছে।পরিচালনার স্মৃতিচারণা করে সার্থক দাশগুপ্ত বলেন, ‘তখন আমি একেবারে নতুন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই কেবল অনুভূতির ওপর ভর করে সিনেমাটি বানিয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমবিএ শেষ করে কর্পোরেট জীবন ছেড়ে আসা সেই তরুণের কাছে এটি ছিল বড় এক পরীক্ষা। আজ প্রিয় ইরফানের স্মরণে এটি মুক্তি দিতে পেরে আমি তৃপ্ত।’সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক সঙ্গীতশিল্পীকে ঘিরে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে নিস্তব্ধতা আর রহস্যের মাঝে ডানা মেলে স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষা। তবে সেই যাত্রা মোটেও প্রত্যাশামতো এগোয় না। শূন্য বাজেটের এই কাজটি বর্তমান দর্শকদের কাছে অন্যরকম এক নস্টালজিয়া তৈরি করেছে।নিজের প্রথম দিকের কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিদ্যা বালনও। তিনি বলেন, ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’ শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে দেখে অবিশ্বাস্য লাগছে। তখন আমি নিজের জায়গা খুঁজছি, আর ইরফান ছিলেন অসাধারণ একজন সহকর্মী। আমাদের একসঙ্গে করা একমাত্র এই কাজটি ফিরে পাওয়া আমার কাছে দারুণ এক প্রাপ্তি।’গত ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সিনেমাটি ইউটিউবে প্রায় দুই লক্ষ ভিউ অর্জন করেছে। ইরফান ভক্তদের কাছে এই ছবি যেন এক হারিয়ে যাওয়া অমূল্য রত্ন। এর আগে সার্থক দাশগুপ্ত ‘দ্য মিউজিক টিচার’ ও ‘২০০ হাল্লা হো’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজ ‘ধারাভি ব্যাংক’ পরিচালনা করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
বগুড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপনের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন বগুড়া যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২।মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জজকোর্টের আইনজীবী এম এ ছোবহান।মামলা সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলা-এর কোষাশ মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৫ দশমিক ৯৯ একর আয়তনের ‘বিষলাল’ পুকুর সংস্কার ও পাড়ে সাইনবোর্ড টানানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষ ভোগদখল করে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে।বাদীপক্ষের অভিযোগ, পুকুর সংক্রান্ত মামলায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুকুরপাড়ে বেআইনিভাবে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন, যা আদালত অবমাননার শামিল।এ ঘটনায় মনছের আলী সরদারসহ ১০ জন বাদী গত ২৯ এপ্রিল আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২০২০ সালে একই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে মামলা (নং-৯৫/২০২০) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৯ মে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।সর্বশেষ গত সোমবার বাদীপক্ষের আবেদন আমলে নিয়ে আদালত প্রশাসনের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী ২৪ মে সকাল ৯টায় আদালতে স্বশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় একতরফা শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার বলেন, সরকার পক্ষ থেকে পুকুরটিতে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়টি জানা গেছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবার গরুর হাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি হবে না, হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।৬ মে বুধবার সকালে গাবতলী হাট পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।তিনি বলেন, কোরবানির পশুর আনা নেয়ার সময় সড়কে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে সড়কে যাতে যানজট না হয় সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, হাটের সীমানার বাইরে গিয়েও কেউ পশু রাখতে পারবেন না। হাটগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল।মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার শেয়ার করে এ ঘোষণা দেন।তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা আমাদের অধিকার। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।’এরপর তিনি আরও দুটি পোস্ট দেন। একটি পোস্টে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, “কাকে ভোট দিতে চান? রাজাকারের বাচ্চাদের নাকি মুক্তিযুদ্ধকে যে ধারণ করে তাকে?”অপর পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আমি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, স্বচ্ছ এবং উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। পাশাপাশি আমার নগরী থাকবে রাজাকারমুক্ত—কথা দিলাম!”জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন নীলা ইসরাফিল। এরপর যোগ দেন এনসিপিতে। পরে এনসিপির আরেক নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করেন।
গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার কাউয়াদিঘি ও হাওরাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হাওরে চাষ করা বোরো ধান রক্ষায় কৃষকেরা প্রকৃতির সঙ্গে যেন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।হাওরাঞ্চলে বোরো ধান এখন শুধু ফসল নয়, অনেক কৃষকের কাছে এটি ডুবে যাওয়া স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার বিস্তীর্ণ হাওর তলিয়ে গেছে। ফলে জমিতে থাকা ধান কাটার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কেটে রাখা ধানও পানিতে পচে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাও এর জন্য দায়ী।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওর এলাকায় রয়েছে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। রাজনগরের মনু প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউস যথাযথভাবে পানি নিষ্কাশন না করায় হাওরে পানি জমে থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে সারাদেশে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও মৌলভীবাজারে এখনো তা শুরু হয়নি। বৈরী আবহাওয়া ও পানিতে নিমজ্জিত ফসল এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এতে কৃষকের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৬ হাজার ৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাদিপুর গ্রামের কৃষাণী জবা রানী বিশ্বাস জানান, ২৫ বিঘা জমির ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ ও সংসার চালানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু বন্যার পানিতে সেই স্বপ্ন ভেসে গেছে। তিনি বলেন, “দুই বিঘা জমির ধান তুলেছি, কিন্তু শুকাতে পারিনি। সব পচে গেছে। এখন পচা ধান সেদ্ধ করে খেতে হচ্ছে।”শেওয়াইজুড়ী এলাকার কৃষক বাবর মিয়া বলেন, “পাম্প ঠিকমতো চললে জমি ডুবে থাকত না। এখন প্রতি বিঘায় প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ করে পানির নিচ থেকে ধান তুলতে হচ্ছে।”মিরপুর এলাকার কৃষক জুনেদ মিয়া জানান, তার ১০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ১ বিঘার ধান তুলতে পেরেছেন, বাকি জমি এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে রয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ধানের দামও কমে গেছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ধানের দাম ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, মার্চের ১০ তারিখ থেকে জেলায় ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে হাওরাঞ্চলে পানি জমেছে। তবে সুইচ গেটগুলো খোলা রাখা হয়েছে এবং পাম্প হাউসগুলো নিয়মিত চালু রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের সংগঠন ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র প্রায় ৪ হাজার সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন।সোমবার (৪ মে) এনসিপি এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাই কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে এনসিপি কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের সঙ্গে ওয়ারিয়র্স অব জুলাই নেতৃবৃন্দ এনসিপিতে নাম লেখাবেন।এ যোগদান উপলক্ষ্যে ওয়ারিয়র্স অব জুলাই নেতারা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র সভাপতি মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসান, সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুস্তাইম বিল্লাহ হাবীবি, কোষাধ্যক্ষ মো. গোলাম আজম, কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্পাদক মো. মতূজা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির শিকদার উপস্থিত ছিলেন।ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র সভাপতি মো. সালমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আমরা সংগঠনের সব নেতা-কর্মী সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে। দীর্ঘ দেড় বছর আমরা ছোট সংগঠন নিয়ে লড়াই করে আসছিলাম জুলাই সনদসহ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করতে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সরকারের যে মনোভাব সেখানে আমাদের ছোট সংগঠন থেকে লড়াই করে তেমন ফল মিলছে না। সব মিলিয়ে গণভোট, জুলাই সনদ, জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের সব সংগ্রাম। আর সেই সংগ্রামকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে, দেশের মানুষের চাওয়া পূরণ করতে আমরা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছি।ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী বলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত কাজ রয়েছে এমন সবচেয়ে বড় সংগঠন ওয়ারিয়র্স অব জুলাই। আমরা যেসব পরিবর্তনের চিন্তা মাথায় রেখে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম সেসব পরিবর্তনে সেসব সংস্কারে বর্তমান সরকারের অনীহা আজ সবার সামনে স্পষ্ট। এজন্য সংস্কারের যে আশা সেই আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে জুলাইয়ের ভ্যানগার্ড এনসিপির মিছিলে যোগ দেওয়ার বিকল্প নেই। আমরা যেমন যুক্ত হচ্ছি, একইসঙ্গে দেশবাসীকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের একটি বড় অংশ এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। সব শ্রেণিপেশার, সব চিন্তাধারার মানুষ দেশের স্বার্থের রাজনীতিটা করতে এনসিপিকে বেছে নিচ্ছে এটাই এই মুহূর্তের বাস্তবতা। আমরা আরও সাংগঠনিক শক্তি অর্জনের দিকে মনোযোগ দেব, মানুষের জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানের রাজনীতিটা করে যাব।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে একক নাটক ‘হিয়ার মাঝে’। এতে অভিনয় করেছেন লামিমা লাম, সুদীপ বিশ্বাস দীপ ও সঞ্জয় রাজসহ আরও অনেকে। সজল আহমেদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন আনিসুর রহমান রাজীব।জানা গেছে, সম্প্রতি ৩০০ ফিট ও ডাক্তার বাড়ি-২ লোকেশনে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। ‘হিয়ার মাঝে’ নাটকটি আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভি-তে প্রচারিত হবে। নাটকটির মার্কেটিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে এসকে মিডিয়া পিআর।এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লামিমা লাম বলেন, 'হিয়ার মাঝে' নাটকটি খুবই ভালো হয়েছে। প্রতিটি সিনে আমরা সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সহশিল্পী দীপের সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ, এবং আমাদের কেমিস্ট্রি দারুণ হয়েছে। এছাড়াও নির্মাতা রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি, তাই কাজের অভিজ্ঞতাও ছিল স্বচ্ছন্দ। সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য ভালো একটি কাজ হবে বলে আশা করছি।'অভিনেতা সুদীপ বিশ্বাস দীপ বলেন, 'নাটকটির শুটিং খুব সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে। আশা করি, দর্শকরা ঈদে টিভির পাশাপাশি ইউটিউবেও নাটকটি উপভোগ করতে পারবেন। লামিমা লামের সঙ্গে এটি আমার প্রথম কাজ, এবং তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। আমাদের জুটিকে দর্শকদের ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস করি।'অভিনেতা সঞ্জয় রাজ বলেন, ঈদ উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘হিয়ার মাঝে’। সজল আহমেদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন আনিসুর রহমান রাজীব। নাটকটির গল্প অনেক সুন্দর। আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে অভিনয় করছি, এই সময়ে নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করেছি। বর্তমানে নিয়মিত নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করছি। এই নাটকেও দর্শক আমাকে একেবারে নতুন একটি চরিত্রে দেখতে পাবেন। আশা করি, আমার এই ভিন্নধর্মী উপস্থিতি দর্শকদের ভালো লাগবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশের আলোচিত অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি দাবি করেন, ফারুকীর কারণে কিছু শিল্পীর জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের কিছু শিল্পীর জীবন ফারুকী শেষ করে দিয়েছে। সে মনে করছে সে জিতে গেছে, কিন্তু সে জীবনেও জিততে পারবে না।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরে কাজের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। ‘আমি আমার দেশটাকে মিস করি। কোথাও কাজ করতে পারতাম না, কোথাও ঢুকতে পারতাম না। যেখানেই গেছি, সেখানেই ফারুকী। টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে রাখতো’- বলেন এই অভিনেত্রী।একটি অনুষ্ঠানে ফারুকীর স্ত্রীর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অরুণা বিশ্বাস। তার ভাষায়, ‘প্রত্যেক শিল্পীর দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অনেক অধিকার আছে। কিন্তু আমাদের সেই অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’লাইভে তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ‘আমি হয়তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভুলব না, কীভাবে আমাকে নিজের দেশ ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে’- যোগ করেন তিনি।তবে দেশ ছাড়ার পেছনে সরাসরি কোনো চাপ ছিল না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘আমাকে কেউ কিছু বলেনি। কিন্তু কেন জানি মনে হয়েছে, আমার চলে যাওয়া উচিত।’ এয়ারপোর্টে এক ব্যক্তির আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘একজন লোক আমাকে বারবার বিরক্ত করছিল। আমি জানতে চাই, কেন সে এমন করছিল। আশা করি, একদিন তার সঙ্গে দেখা হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারব।’অরুণা বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কানাডায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৩০ বছর ধরে কানাডায় আছি। আমার পাসপোর্ট না থাকলে আমি আসতাম না। আমি পালিয়ে আসিনি’। এই বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের পঞ্চম সিজনের শুটিং চলছে নেপালে। সেখানে ব্যাচেলর পয়েন্ট টিমের সঙ্গে যুক্ত হলেন নেপালের অভিনেত্রী রাজেশ্রী থাপা। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্মাতা জানান, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ফাইভের চ্যাপটার ১২-তে সারপ্রাইজ তাঁকে দেখা যাবে।ফেসবুকে রাজেশ্রী থাপার ছবি পোস্ট করে পরিচালক ক্যাপশনে লেখেন, চরিত্রটি কে হতে পারে অনুমান করুন। এরপর তাঁর কমেন্ট বক্সে হাজার হাজার ফানি মন্তব্য পড়তে দেখা যায়।গত বছর কোরবানির ঈদের সময় থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে শুরু হয়েছে ব্যাচেলর পয়েন্ট ফাইভের প্রচার। নতুন সিজনে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে চমক। পাঁচ বছর পর এই সিজনে ফিরে এসেছেন নেহাল ও আরিফিন চরিত্রে অভিনয় করা তৌসিফ মাহবুব ও শামীম হাসান সরকার। যুক্ত হয়েছে নতুন চরিত্রও। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, মনিরা মিঠু প্রমুখ।ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ব্যাচেলর পয়েন্টের নতুন এই সিজন প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আই এবং বুম ফিল্মস ইউটিউব চ্যানেলে।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সিদ্দিক জানান, গত ১৮ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।সিদ্দিক আরও বলেন, ‘আমার নামে দুটি মামলা রয়েছে। তবে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর ভিন্ন এক অনুভূতি কাজ করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি প্রায় ১০ মাস কারাগারে ছিলাম। জীবনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তির পর গত কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েছি। এতদিন এক ধরনের পরিবেশে ছিলাম, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এসেছি। নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্যই এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি।’উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার এসআই সামিউল ইসলাম গত বছর ১২ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ফার্নিচারকর্মী পারভেজ বেপারী। জুমার নামাজের পর আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পারভেজের বাবা মো. সবুজ গত বছরের ২ জুলাই গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন এক মাস হয়ে গেছে। গত ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কলকাতার তালসারির সমুদ্রে ডুবে মারা যান এই অভিনেতা। রাহুলের মৃত্যুর পর নেটপাড়ার একটা অংশের ট্রলের মুখে পড়েন তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।স্বামীর শেষকৃত্যে একটি কুর্তা আর ডেনিম জিন্স পরে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে শুধু পোশাক নিয়ে নয়, কিছু মানুষ তো প্রশ্ন তোলেন, কেন একবারও চোখের পানি ফেলতে দেখা গেল না প্রিয়াঙ্কাকে! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের যখন প্রিয়াঙ্কার মাথায় স্নেহের হাত রাখেন, তখন কেন এক চিলতে হাসি ফুটেছিল প্রিয়াঙ্কার মুখে! এরকমই আজব আর কুরুচিকর কমেন্টে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।আপাতত নিজের পরবর্তী ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’র প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত আছেন প্রিয়াঙ্কা। অবশ্য এই নিয়েও কম কটাক্ষ হয়নি, একদল নিন্দুকেরা প্রশ্ন তোলে, ‘স্বামী হারা একজন কীভাবে এত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরল!’ তবে এবার সব ট্রলের জবাব দিলেন অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যম টিভি নাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে স্পষ্ট করলেন, শত নেতিবাচকতার মধ্যেও ভালোটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তিনি।প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি সব পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই ভালোটা খুঁজে নেওয়ার। আমার মনে হয় যে, যখনই এরকম কোনো পরিস্থিতি এসছে, পাঁচজন হয়তো নেগেটিভ কথা বলেছে, কিন্তু ৫০ জন পাশে থেকেছেন এবং ভালো কথা বলেছেন। সেই পাঁচজনকে আমার গুরুত্ব না দিলেও চলবে। যে ৫০ জন পাশে থেকেছে, তারাই কিন্তু আমাদের হয়ে লড়াইগুলো করে। আসলে অনেকেই বাজে কথা বলে, কারণ তারা মনোযোগ চায়। আর এদেরকে গুরুত্ব না দেওয়া সবচেয়ে ভালো রেসপন্স হতে পারে।’প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘যেমন তোমার চারপাশে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে তুমি তোমার কষ্টের কথা ভাগ করে নাও, মন হালকা করো। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় পজিটিভিটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এরা তোমার মনোযোগ ডিজার্ভ করে। যারা তোমার জন্য লড়াই করছে। কেন আমি নেতিবাচক কথাকে আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে দেব!’ প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার— টলিউডের এক সময়ের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমা দিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি যে ইতিহাস তৈরি করেছিল, তা আজীবন ভক্তদের মনে থাকবে।
সরকে চুনর তেরি- গান ঘিরে তৈরি বিতর্কের প্রেক্ষিতে মহিলা কমিশনে হাজির হয়ে বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। কমিশনের সামনে দেওয়া বক্তব্যে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য কখনোই সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি একটি সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন—৫০ জন আদিবাসী কন্যাশিশুর সম্পূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।এই বিতর্কে নাম জড়ালেও এদিন উপস্থিত ছিলেন না অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। বিদেশে অবস্থানের কারণে তিনি আগেই সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তার জন্য নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।মূলত কে ডি: দ্য ডেভিল ছবির হিন্দি সংস্করণের একটি গানকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গান প্রকাশের পর এর ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে একাংশ আপত্তি তোলে। বিশেষ করে গানের কিছু অংশকে অশালীন বলে অভিযোগ করা হয় এবং নোরা ফাতেহির নৃত্যভঙ্গিমা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।সবশেষে কমিশনের সামনে সঞ্জয় দত্ত আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে তার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো কাজে নারী ও শিশুদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন উপস্থাপনা যেন না থাকে, সে বিষয়ে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন।সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। ৩৩ বছর পর ‘খলনায়ক’-এর সিকুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’ নিয়ে তিনি আবারও দর্শকের সামনে আসছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করায় এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বাড়লেও ধাপে ধাপে কমতে শুরু করেছে।বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত মেলায় বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন শান্তির পথ বেছে নিতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্টের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো।বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে এই রুটে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যবসায়ীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক বাণিজ্য শুরু না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন। বর্তমানে ইরান এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। সূত্র : বিবিসি
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জি. ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।রিয়াদে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুমায়ুন কবির সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংহতির বার্তা হস্তান্তর করেন।বৈঠকে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমুখী করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তাদের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড সলিউশন 'জিপিফাই'-এর প্রসারের লক্ষ্যে ‘ওয়াই-ফাই একটাই, সারাদেশে জিপিফাই’ নামে একটি নতুন ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।হোম ওয়াই-ফাইকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে ডিজাইন করা জিপিফাই-এর ওয়্যারলেস সেটআপ প্রথাগত ব্রডব্যান্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এতে তার টানা বা দেয়াল ফুটো করার কোনো ঝামেলা নেই। সারাদেশে বিনামূল্যে হোম ডেলিভারি এবং 'প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে' সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্বিঘ্নে সংযুক্ত হয়ে নির্ভরযোগ্য হোম ওয়াইফাই উপভোগ করতে পারবেন।জিপিফাই একই সাথে একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার করা সম্ভব; যা পরিবার, রিমোট ওয়ার্কার ও ছোট টিমের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। অফারটিতে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস রয়েছে, যার মধ্যে বিল্ট-ইন ব্যাটারি ব্যাকআপ সমৃদ্ধ মডেলও অন্তর্ভুক্ত। এটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও তিন ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করে। ফলে লোডশেডিংয়ের সময়ও কোন অসুবিধা হবেনা।গ্রাহকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে, জিপিফাই কোনো হিডেন এফইউপি (ফেয়ার ইউজেস পলিসি) ছাড়াই আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। সেই সাথে যে কোনো প্রয়োজনে থাকছে ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট হটলাইনের সুবিধা। ব্যবহারকারীরা বিকাশের ’পে বিল’, মাইজিপি এবং দেশব্যাপী রিটেইল পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে সহজেই বিল পরিশোধ করতে পারবেন। শুধু ইন্টারনেট সংযোগই নয়, ফ্রি ডেডিকেটেড রিয়েল আইপি এবং 'বায়োস্কোপ+' -এর মাধ্যমে ১০টি পর্যন্ত ওটিটি সাবস্ক্রিপশন উপভোগ করার সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা, যা বিনোদনের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।ব্যবহারকারীরা ২০ এমবিপিএস থেকে ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত বিভিন্ন সুবিধাজনক মাসিক প্ল্যান বেছে নিতে পারবেন। এই প্যাকেজগুলো শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৫০ টাকা থেকে, যা উচ্চগতির ইন্টারনেটকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে।গ্রামীণফোনের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার (সিপিও) সোলায়মান আলম বলেন, "গ্রামীণফোনে আমাদের প্রতিটি সেবার মূলে থাকে গ্রাহককেন্দ্রিকতা। বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে, তাতে আমরা বুঝতে পারছি যে মানুষের জীবনযাপন, কাজ এবং শেখার পদ্ধতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। রিমোট ওয়ার্ক ও অনলাইন শিক্ষা থেকে শুরু করে ডিজিটাল বিনোদন এবং দৈনন্দিন ওয়াইফাই সংযোগ সবক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য হোম ওয়াইফাইয়ের প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। জিপিফাই-এর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নির্ভরযোগ্য, সুবিধাজনক ও সহজলভ্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড অভিজ্ঞতা প্রদানের মাধ্যমে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা; যা আমাদের গ্রাহকদের গতিশীল জীবনযাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের ঘরে বা বাইরে সবখানেই সংযুক্ত ও উৎপাদনশীল থাকতে এবং যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করবে।"গ্রাহকরা জিপিফাই-এর প্ল্যান এবং কোথায় পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গ্রামীণফোনের অফিসিয়াল চ্যানেল এবং কাস্টমার টাচপয়েন্টগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা ট্রাফিক বক্সের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৩৩৯৭ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে গাড়িটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে।তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু সময় সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।ফার্মগেট ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) জয়নাল আবেদীন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, সোনারগাঁও ক্রসিং থেকে আসার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রাইভেটকারটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর রেকারের মাধ্যমে গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনায় গাড়ির চালক-যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।