আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সরকার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রদর্শন করছে। দেশে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন কাজ করছে এবং এর নির্বাচন কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকেন, যা সাংবিধানিক শাসনেরই প্রকাশ।’ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র মিশন থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১৭৮৭ সালে গৃহীত মার্কিন সংবিধানের সঙ্গে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের গণতান্ত্রিক অবকাঠামোর বেশ মিল রয়েছে।’ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে ‘বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা’ তত্ত্ব প্রয়োগ করে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও একই ধরনের এখতিয়ার অনুশীলন করে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সবসময় স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা পায়।অতীতে বিএনপির ১০ লাখেরও বেশি নেতাকর্মী রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ মামলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়ের করেছিল।’ অনুষ্ঠানে এক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তুলে ধরেন, কীভাবে অব্যাহত বিতর্ক, ঐকমত্যে পৌঁছানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানে নতুন সংশোধনী যুক্ত করার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি দৃঢ় ও টেকসই ভিত্তি পেয়েছে। এছড়াও ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ সম্ভবত শেষের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খবর আলজাজিরার।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলেও তিনি আবার দাবি করেন।ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।তবে ট্রাম্পের ‘সরাসরি যোগাযোগের’ দাবি নিয়ে তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থান ভিন্ন। ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি অস্বীকার বা গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলে আসছেন, যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ সুরক্ষিত থাকতে হবে।এর মধ্যেই বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করে আবারও অর্থবহ আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান তিনি।আরাগচি বলেন, ইরান নিজেদের রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইরানের অধিকার সুরক্ষিত থাকে—এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথও খোলা রয়েছে।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার কাঠামো পুনর্গঠন এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তা হতে দেব না।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, ইন্টেলিজেন্স এবং চলার পথের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, আপনারা আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, এই জাতীয় কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।’১১ দলীয় এই কর্মসূচিতে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাইজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে অপোজিশন সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে, দাবি আদায় করে, প্রতিবাদ করে। কিন্তু ৭০ ভাগ লোকের হ্যাঁ ভোট দেওয়া গণভোটের রায়কে পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নাই যে একটা রেফারেন্ডাম, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সেই নজিরও গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া মেজরিটির জোরে তারা সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা খর্ব করে দিয়েছে।’সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আজকের শীর্ষ বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না।’তিনি বলেন, ‘আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কোরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের উপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?’স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে। মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর কাফেলা গাজীপুর হয়ে সরাসরি রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত লংমার্চ অব্যাহত থাকবে।লংমার্চের রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা করে গাজীপুর-টঙ্গী হয়ে প্রথম পথসভা হবে গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায়। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে। এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে। এরপর লংমার্চ যাবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময়ের দিকে পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে জানান তিনি। এরপর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরের শেষে প্রত্যেক জেলার যারা যেতে আগ্রহী হবেন, তাদের গাড়িবহর যুক্ত হবে। সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি টিম ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সবগুলোরই একটা সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মধ্য দিয়ে আমাদের এই লংমার্চের বহর ইনশাআল্লাহ যাত্রা করবে।’লংমার্চের পথ ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলে আমরা পথে কোনো আলাদা রান্না করা খাবার বা ব্যবস্থা সম্ভব হবে না।’এ জন্য প্রত্যেক গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা কয়েক দিন দরপতনের পর আকস্মিকভাবে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ওঠানামা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পটভূমিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধাতুটির চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক সূচকে এ দরবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় ১০টা ৪৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স মূল্যবান ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে আবার ৪ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে ফিউচার মার্কেটেও সরবরাহ মূল্যে বড় অঙ্কের উত্থান দেখা গেছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের’ সুদের হার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সার্বিক বিনিয়োগ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেকোনো অর্থনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে চকচকে এই ধাতুতে বিপুল মূলধন স্থানান্তর করছেন, যা বিশ্ববাজারে এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একাধিক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিজস্ব রিজার্ভে মূল্যবান ধাতুটির মজুত বাড়াতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রধান মুদ্রা ডলারের সূচকে সাময়িক শিথিলতা দেখা দেওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য এই ধাতুতে বিনিয়োগ সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা এর বৈশ্বিক চাহিদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট স্থির না হওয়া পর্যন্ত ধাতুটির দর ওঠানামা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাজারের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খুব শিগগিরই দেশের অভ্যন্তরীণ অলংকার বাজারেও পড়তে পারে বলে আভাস দিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।অন্য এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে যুগ্মসচিব মো. হুসাইন শওকতকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক পদ থেকে বদলি করা হয়েছে। তাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. হুসাইন শওকত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলির আদেশাধীন ছিলেন। নতুন পদায়নের জন্য তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।অন্যদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। এ জন্য তার চাকরি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও একটি চোখধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার নবাগত দল রেসিং সানটান্ডারকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কাতালানরা। দলের দুর্দান্ত এই জয়ে অনবদ্য হ্যাটট্রিক করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে বার্সেলোনা। অষ্টম মিনিটেই ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে প্রথম গোল এনে দেন জোয়াও কানসেলো। ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২-০ করেন রাফিনিয়া। ৩০তম মিনিটে রেসিংয়ের মিডফিল্ডার গেয়ি এক গোল শোধ করলেও ৩৬তম মিনিটে অ্যাসিয়ার ভিল্লালিবেরের আত্মঘাতী গোলে ৩-১-এ এগিয়ে যায় বার্সা। প্রথমার্ধের ৪২তম মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে রাফিনিয়া নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৪-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫তম মিনিটে রেসিংয়ের ইয়াসির জাবিরি এক গোল শোধ করে ব্যবধান কমালেও বার্সার রুদ্ররূপ থামেনি। দুই মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের পঞ্চম গোলটি পূরণ করেন রাফিনিয়া। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ ম্যাচে এটি তার ১১তম গোল। ৭২তম মিনিটে ডি-বক্সে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল জালে জড়ালেও কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হন ইয়ামাল। ৭৯ মিনিটে রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামা আরেক ব্রাজিলিয়ান জেসুস লা লিগায় গোলের খাতা খোলেন । ইয়ামালের থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় কিছুটা বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন সাবেক আর্সেনাল স্ট্রাইকার।অনেক সুযোগ হারানোর পর, অবশেষে ৮৯তম মিনিটে গোলের দেখা পান ইয়ামাল। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা আডেইয়েমি মাঝমাঠে দুজনকে কাটিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান এবং ডি-বক্সে ঢুকে ছোট করে কাটব্যাক করেন, আর জোরাল শটে দলের সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল। লিগে টানা চার ও সব মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ইয়ামাল। আসরে তার গোল হলো সাতটি।মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই অন্তত পাঁচটি করে গোল করল কাতালান ক্লাবটি। এই সাত ম্যাচে তারা মোট গোল করল ৩৩টি, বিপরীতে তাদের জালে বল গেছে কেবল সাতবার! লিগে ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল বার্সেলোনা। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে রেয়াল মাদ্রিদ। আর লিগে তৃতীয় হারের স্বাদ পাওয়া রেসিং ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে দশম স্থানে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ সম্ভবত শেষের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খবর আলজাজিরার।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলেও তিনি আবার দাবি করেন।ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।তবে ট্রাম্পের ‘সরাসরি যোগাযোগের’ দাবি নিয়ে তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থান ভিন্ন। ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি অস্বীকার বা গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলে আসছেন, যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ সুরক্ষিত থাকতে হবে।এর মধ্যেই বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করে আবারও অর্থবহ আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান তিনি।আরাগচি বলেন, ইরান নিজেদের রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইরানের অধিকার সুরক্ষিত থাকে—এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথও খোলা রয়েছে।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার কাঠামো পুনর্গঠন এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি খনি ধসে অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।পশ্চিম কর্ডোফানের এল-নাহুদ শহরের কাছে মঙ্গলবার আল-জারা স্বর্ণ খনির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। আজ বুধবার সকালে সেখান থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া খায়ের আল-সাইয়েদ জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন তা জানা যায়নি। খনির শ্রমিক সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি সারারাত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন বলে জানিয়েছেন।
রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় এবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।অফিস আদেশে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গুলশান বিভাগ) এম তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।এর আগে আজ বুধবার একই ঘটনায় পৃথক অফিস আদেশে গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদরদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে গুলশান মডেল থানার ওসি দাউদ হোসেনকে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন গলিতে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মক্কায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ধরনের হামলার নিন্দা জানানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ‘পবিত্র মক্কা নগরী আল্লাহ তায়ালার ঘর কাবার কারণে সম্মানিত। এটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান। এখানে যে কোনো প্রকার হামলা চালানো হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নিন্দা জানানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।’এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘হামলাকারী হুতি হোক কিংবা যে কেউ হোক, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত সীমার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।তিনি বলেন, মক্কাকে নিশানা করে হুথিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাকেও মক্কায় হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।তবে, মক্কাকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হুথিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌদির দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এর আগেও সৌদি আরব একই ধরনের অভিযোগ করেছিল।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সরকার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রদর্শন করছে। দেশে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন কাজ করছে এবং এর নির্বাচন কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকেন, যা সাংবিধানিক শাসনেরই প্রকাশ।’ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র মিশন থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১৭৮৭ সালে গৃহীত মার্কিন সংবিধানের সঙ্গে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের গণতান্ত্রিক অবকাঠামোর বেশ মিল রয়েছে।’ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে ‘বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা’ তত্ত্ব প্রয়োগ করে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও একই ধরনের এখতিয়ার অনুশীলন করে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সবসময় স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা পায়।অতীতে বিএনপির ১০ লাখেরও বেশি নেতাকর্মী রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ মামলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়ের করেছিল।’ অনুষ্ঠানে এক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তুলে ধরেন, কীভাবে অব্যাহত বিতর্ক, ঐকমত্যে পৌঁছানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানে নতুন সংশোধনী যুক্ত করার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি দৃঢ় ও টেকসই ভিত্তি পেয়েছে। এছড়াও ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তা হতে দেব না।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, ইন্টেলিজেন্স এবং চলার পথের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, আপনারা আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, এই জাতীয় কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।’১১ দলীয় এই কর্মসূচিতে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাইজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে অপোজিশন সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে, দাবি আদায় করে, প্রতিবাদ করে। কিন্তু ৭০ ভাগ লোকের হ্যাঁ ভোট দেওয়া গণভোটের রায়কে পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নাই যে একটা রেফারেন্ডাম, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সেই নজিরও গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া মেজরিটির জোরে তারা সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা খর্ব করে দিয়েছে।’সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আজকের শীর্ষ বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না।’তিনি বলেন, ‘আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কোরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের উপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?’স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে। মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর কাফেলা গাজীপুর হয়ে সরাসরি রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত লংমার্চ অব্যাহত থাকবে।লংমার্চের রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা করে গাজীপুর-টঙ্গী হয়ে প্রথম পথসভা হবে গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায়। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে। এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে। এরপর লংমার্চ যাবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময়ের দিকে পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে জানান তিনি। এরপর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরের শেষে প্রত্যেক জেলার যারা যেতে আগ্রহী হবেন, তাদের গাড়িবহর যুক্ত হবে। সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি টিম ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সবগুলোরই একটা সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মধ্য দিয়ে আমাদের এই লংমার্চের বহর ইনশাআল্লাহ যাত্রা করবে।’লংমার্চের পথ ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলে আমরা পথে কোনো আলাদা রান্না করা খাবার বা ব্যবস্থা সম্ভব হবে না।’এ জন্য প্রত্যেক গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর বাজারে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত একটি মেলা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি অভিযান পরিচালনা করে মেলাটি বন্ধ ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে নিশ্চিন্তপুর বাজারে একটি মহল জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে মেলা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়।জানা গেছে, মেলার দ্বিতীয় দিনে আয়োজকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনির কাছে অনুমোদনের জন্য গেলে তিনি জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া মেলা পরিচালনা না করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মেলাটি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর নিশ্চিন্তপুর বাজারের অনুমোদনহীন মেলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুমোদন ছাড়া কোনো মেলা পরিচালনা না করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও একটি চোখধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার নবাগত দল রেসিং সানটান্ডারকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কাতালানরা। দলের দুর্দান্ত এই জয়ে অনবদ্য হ্যাটট্রিক করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে বার্সেলোনা। অষ্টম মিনিটেই ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে প্রথম গোল এনে দেন জোয়াও কানসেলো। ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২-০ করেন রাফিনিয়া। ৩০তম মিনিটে রেসিংয়ের মিডফিল্ডার গেয়ি এক গোল শোধ করলেও ৩৬তম মিনিটে অ্যাসিয়ার ভিল্লালিবেরের আত্মঘাতী গোলে ৩-১-এ এগিয়ে যায় বার্সা। প্রথমার্ধের ৪২তম মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে রাফিনিয়া নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৪-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫তম মিনিটে রেসিংয়ের ইয়াসির জাবিরি এক গোল শোধ করে ব্যবধান কমালেও বার্সার রুদ্ররূপ থামেনি। দুই মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের পঞ্চম গোলটি পূরণ করেন রাফিনিয়া। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ ম্যাচে এটি তার ১১তম গোল। ৭২তম মিনিটে ডি-বক্সে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল জালে জড়ালেও কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হন ইয়ামাল। ৭৯ মিনিটে রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামা আরেক ব্রাজিলিয়ান জেসুস লা লিগায় গোলের খাতা খোলেন । ইয়ামালের থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় কিছুটা বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন সাবেক আর্সেনাল স্ট্রাইকার।অনেক সুযোগ হারানোর পর, অবশেষে ৮৯তম মিনিটে গোলের দেখা পান ইয়ামাল। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা আডেইয়েমি মাঝমাঠে দুজনকে কাটিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান এবং ডি-বক্সে ঢুকে ছোট করে কাটব্যাক করেন, আর জোরাল শটে দলের সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল। লিগে টানা চার ও সব মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ইয়ামাল। আসরে তার গোল হলো সাতটি।মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই অন্তত পাঁচটি করে গোল করল কাতালান ক্লাবটি। এই সাত ম্যাচে তারা মোট গোল করল ৩৩টি, বিপরীতে তাদের জালে বল গেছে কেবল সাতবার! লিগে ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল বার্সেলোনা। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে রেয়াল মাদ্রিদ। আর লিগে তৃতীয় হারের স্বাদ পাওয়া রেসিং ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে দশম স্থানে।
'জুলাই যোদ্ধাদের ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে নিরাপদ হওয়া যাবে না; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হামলাকারীরাই নিজেদের আরও অনিরাপদ করে তুলছেন ' বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন।সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইতালিতে তাকে হেনস্থার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধনের দাবি, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।এ সময় বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনায় শুধু তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।বাঁধন আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা কয়েক দিন দরপতনের পর আকস্মিকভাবে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ওঠানামা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পটভূমিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধাতুটির চাহিদা বাড়ায় আন্তর্জাতিক সূচকে এ দরবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় ১০টা ৪৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স মূল্যবান ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে আবার ৪ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে ফিউচার মার্কেটেও সরবরাহ মূল্যে বড় অঙ্কের উত্থান দেখা গেছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের’ সুদের হার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সার্বিক বিনিয়োগ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেকোনো অর্থনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে চকচকে এই ধাতুতে বিপুল মূলধন স্থানান্তর করছেন, যা বিশ্ববাজারে এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একাধিক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিজস্ব রিজার্ভে মূল্যবান ধাতুটির মজুত বাড়াতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রধান মুদ্রা ডলারের সূচকে সাময়িক শিথিলতা দেখা দেওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য এই ধাতুতে বিনিয়োগ সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা এর বৈশ্বিক চাহিদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট স্থির না হওয়া পর্যন্ত ধাতুটির দর ওঠানামা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাজারের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খুব শিগগিরই দেশের অভ্যন্তরীণ অলংকার বাজারেও পড়তে পারে বলে আভাস দিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্টরা।
লিবিয়ায় আটকে পড়া এবং বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ ১৬৮ জনকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বেনগাজি শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছে, গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা এসব বাংলাদেশি বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) করে আজ সকাল ১০টা ৪ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার অবৈধ চেষ্টা করতে গিয়ে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।এতে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান।অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করারও আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।আইওএম দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে যাতায়াত ব্যয়, খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) উপায় সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন গ্রাহক ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে ও অভিনন্দন জানাতে একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।উপায়-এর পেমেন্ট ক্যাম্পেইনের বিজয়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. সোহেল রানা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি রাইডো ইলেকট্রিক বাইক।অন্যদিকে, উইকেন্ড ক্যাম্পেইন (লাভ সামলাও) উইক ৪-এর বিজয়ী রাজশাহীর মো. আইনুল হক এবং ফরিদপুরের শিহাব মাহমুদ সজল প্রত্যেকে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি করে স্বর্ণের বার।পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপায়-এর প্রতিনিধিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান।এ ধরনের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের বাড়তি সুবিধা ও পুরস্কারের সুযোগ দিতে চায় উপায়।
মক্কায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ধরনের হামলার নিন্দা জানানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ‘পবিত্র মক্কা নগরী আল্লাহ তায়ালার ঘর কাবার কারণে সম্মানিত। এটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান। এখানে যে কোনো প্রকার হামলা চালানো হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নিন্দা জানানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।’এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘হামলাকারী হুতি হোক কিংবা যে কেউ হোক, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত সীমার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।তিনি বলেন, মক্কাকে নিশানা করে হুথিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাকেও মক্কায় হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।তবে, মক্কাকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হুথিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌদির দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এর আগেও সৌদি আরব একই ধরনের অভিযোগ করেছিল।