সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের অধিকার খর্ব করবেন না। আমাদের অধিকার আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে সংরক্ষিত হোক। এই বিল দুইটিই স্থগিত করুন, যেগুলোর কাগজ আজকেই সরবরাহ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের জন্য উত্থাপন করার সময় তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা বেশিরভাগ সংসদ সদস্য এখানে নতুন এসেছি। আমরা বিধিগুলো আস্তে আস্তে রপ্ত করছি। বিধি মোতাবেক এই সংসদ চলবে, এতে আমাদের সকলের সহযোগিতা করা উচিত। স্পিকারের চেয়ার থেকে বারবার এ অনুরোধ আমাদের জানানো হয়েছে এবং আমরা তা সম্মান করি।ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের সাক্ষাৎডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের সাক্ষাৎতিনি আরও বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬—এই বিলটি কোনো সময়সীমার মধ্যে বন্দি নয়। এখানে সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই বিধি মানাই উচিত ছিল। আমরা তিন দিন আগে চেয়েও তো পেলাম না, এমনকি এক দিন আগেও ম্যাটেরিয়ালসগুলো পাইনি। মাত্র এখন ডেস্কে এসে পেয়েছি।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি আবারও বলছি, এটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও অনেক বিল এই সংসদে আসবে—এটাই স্বাভাবিক। বিল আসবে, আইন সংশোধন হবে, আমাদের এগিয়ে যেতে হলে এগুলো লাগবে। কিন্তু যেখানে যা প্রযোজ্য, তাই হওয়া উচিত। যেহেতু এর কোনো সময়সীমা নেই, তাই এটি পরবর্তী অধিবেশনে আনা যেতে পারে। আমি অনুরোধ করব, এই আলোচনা এখানে স্থগিত করা উচিত।তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা, আমরা বিধি ৮০-তে আছি। বিধি অনুযায়ী বিলের রিপোর্ট আমাদের গতকাল দেওয়া হয়েছে। সদস্য, বিল দেওয়া হয়েছে গত পরশু দিন এবং রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে গতকাল।
ইরানে আবারও ‘শক্তিশালী হামলার’ পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফিং করবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস বলছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে শক্তিশালী হামলা’ চালানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন। এ হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যার মাধ্যমে চলমান আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া আরেকটি বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হতে পারে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রয়োজনে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে ইরানের ওপর নৌ অবরোধকে প্রধান চাপের কৌশল হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে ঢাকার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারকে। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে সই করেছেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। এছাড়া অপর একটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।তিনি বলেন, এসব মামলার মধ্যে ৭৯৯টি হত্যা মামলা এবং অন্যান্য ধারায় ১ হাজার ৫৬টি মামলা রুজু হয়েছে।৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ৭৯৯টি হত্যা মামলা এবং অন্যান্য ধারায় ১ হাজার ৫৬টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে ৪৮টি হত্যা মামলা এবং ১১০টি অন্যান্য মামলার এবং এসব মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।তিনি বলেন, বাকি ১ হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মামলার তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি মামলায় যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে।জামিন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জামিন প্রদান সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় সংঘটিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা হত্যা, গুম, নির্যাতন বা পঙ্গুত্বের মতো অপরাধে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।সূত্র: বাসস
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আগামী ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যদিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে তারা।৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সংসদীয় মেজরিটির জোরে ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের সূচি বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ, ১৩ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ, ২০ জুন খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ, ২৭ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ, ১১ জুলাই রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ, ১৮ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ, ২৫ জুলাই সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ।জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন মাস থেকে পুনরায় পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সকল জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও নিয়েছে ১১ দল। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। এছাড়া দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার চলমান থাকবে বলেও হয়।সরকারের সমালোচনা করে আযাদ বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে। ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে।উল্লেখ্য, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে গণমিছিল করেছে ১১ দল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন এক মাস হয়ে গেছে। গত ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কলকাতার তালসারির সমুদ্রে ডুবে মারা যান এই অভিনেতা। রাহুলের মৃত্যুর পর নেটপাড়ার একটা অংশের ট্রলের মুখে পড়েন তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।স্বামীর শেষকৃত্যে একটি কুর্তা আর ডেনিম জিন্স পরে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে শুধু পোশাক নিয়ে নয়, কিছু মানুষ তো প্রশ্ন তোলেন, কেন একবারও চোখের পানি ফেলতে দেখা গেল না প্রিয়াঙ্কাকে! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের যখন প্রিয়াঙ্কার মাথায় স্নেহের হাত রাখেন, তখন কেন এক চিলতে হাসি ফুটেছিল প্রিয়াঙ্কার মুখে! এরকমই আজব আর কুরুচিকর কমেন্টে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।আপাতত নিজের পরবর্তী ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’র প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত আছেন প্রিয়াঙ্কা। অবশ্য এই নিয়েও কম কটাক্ষ হয়নি, একদল নিন্দুকেরা প্রশ্ন তোলে, ‘স্বামী হারা একজন কীভাবে এত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরল!’ তবে এবার সব ট্রলের জবাব দিলেন অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যম টিভি নাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে স্পষ্ট করলেন, শত নেতিবাচকতার মধ্যেও ভালোটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তিনি।প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি সব পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই ভালোটা খুঁজে নেওয়ার। আমার মনে হয় যে, যখনই এরকম কোনো পরিস্থিতি এসছে, পাঁচজন হয়তো নেগেটিভ কথা বলেছে, কিন্তু ৫০ জন পাশে থেকেছেন এবং ভালো কথা বলেছেন। সেই পাঁচজনকে আমার গুরুত্ব না দিলেও চলবে। যে ৫০ জন পাশে থেকেছে, তারাই কিন্তু আমাদের হয়ে লড়াইগুলো করে। আসলে অনেকেই বাজে কথা বলে, কারণ তারা মনোযোগ চায়। আর এদেরকে গুরুত্ব না দেওয়া সবচেয়ে ভালো রেসপন্স হতে পারে।’প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘যেমন তোমার চারপাশে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে তুমি তোমার কষ্টের কথা ভাগ করে নাও, মন হালকা করো। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় পজিটিভিটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এরা তোমার মনোযোগ ডিজার্ভ করে। যারা তোমার জন্য লড়াই করছে। কেন আমি নেতিবাচক কথাকে আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে দেব!’ প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার— টলিউডের এক সময়ের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমা দিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি যে ইতিহাস তৈরি করেছিল, তা আজীবন ভক্তদের মনে থাকবে।
তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এর আগে, গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। এদিকে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।জানা যায়, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে।উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয় তারা।সেই সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে তা কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় এই অনুপাত আরও কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা হয়েছে।প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাশ হয়েছে। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে বিল দুটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাশ হয়ে যায়।বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ করলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান বা কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে গণ্য হন বা পদে বহাল থাকতে পারেন না। পাশ হওয়া বিলে এই বিধান বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আইনে বলা ছিল, ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে থাকতে পারবেন না। সংশোধিত বিলেও এই বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধান বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।এদিকে, বিল দুইটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুযোগ দিতে আইনগুলো সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ছয় সপ্তাহ বাকি। তবে বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েও ইরান এতে খেলা নিয়ে ইরানের অনিশ্চয়তা যেনো কাটছেনা। সম্প্রতি ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলছে-বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত!বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার সম্মেলনের পূর্বে ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি ‘জেনেছেন’ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আনিতা নিশ্চিত হয়েছেন বলে মনে হলেও, তিনি বলেছেন কর্মকর্তাদের ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ছিল।তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে ‘অভিবাসন কর্মকর্তাদের অনুপযুক্ত আচরণের’ কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এবং আরও দুজন ইরানি কর্মকর্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে আনিতা আনন্দ বলছেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত সূত্র নয়, তবে আমি বুঝতে পারছি যে, তাদের (কানাডায় প্রবেশের) অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার ভার আমি মন্ত্রীর (অভিবাসন মন্ত্রী লীনা দিয়াব) ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’ইরানের অনলাইন পত্রিকা সর্বপ্রথম ফুটবল কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, সোমবার মেহেদী তাজের ভিসা অনুমোদন করা হয় এবং মঙ্গলবারের শেষ নাগাদ সেটি প্রত্যাহার করে কানাডা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে এবং সংস্থাটি কানাডার সন্ত্রাসী তালিকায় আগে থেকে অন্তর্ভুক্ত। ইরানি ফুটবল কর্তাদের এমন বিড়ম্বনা নিয়ে পরবর্তীতে নিজেদের পর্যালোচনা জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী দিয়াবের কার্যালয়।দিয়াবের প্রেস সচিব তাউস আইত বলছেন, ‘গোপনীয়তা আইনের কারণে আমরা ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে না পারলেও, সরকার তার অবস্থানে স্পষ্ট ও অবিচল। আইআরজিসি কর্মকর্তারা কানাডায় অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের দেশে তাদের কোনো স্থান নেই।’এদিকে, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক কানাডা, যদিও সেখানে ইরানের কোনো ম্যাচ পড়েনি। তবে দেশটির ভ্যাঙ্কুভার শহরে এখন ফিফার সম্মেলন চলছে। যেখানে বৃহস্পতিবার ফিফার সদস্যভুক্ত ২১১টি দেশ থেকে ন্যূনতম একজন প্রতিনিধি হাজির থাকার কথা রয়েছে। তবে অনিশ্চিত ইরানের অংশগ্রহণ। এর আগে ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিল ইরান। শুরু থেকে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ফিফা আশাবাদী দেখালেও সাম্প্রতিক বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ঢাকায় পহেলা মে সবচেয়ে বড় শ্রমিক সমাবেশ করবে বিএনপি। এ নিয়ে ব্যপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ সমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে দলটি।৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ সব তথ্য জানিয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন।তিনি বলেন, এবারের মে দিবস একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ন্যূনতম মজুরির জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা না হওয়া, আউটসোর্সিং নিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়া এবং শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সরকারি পদ বিলুপ্ত করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় শ্রমের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি পাটসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় শিল্পের পরিবর্তে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শোভন কাজের পরিবেশ, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হবে এই সমাবেশ থেকে।সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সমাবেশে অংশ নেবেন।তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রমজীবী মানুষের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা আশাবাদী। আগামী পাঁচ বছরে এসব প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে চান বলেও জানান তিনি।নজরুল ইসলাম খান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তাই ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে জাতীয় নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে আরও কার্যকর করার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের অন্যান্য সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হবে।সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের নেতারা মে দিবস সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।তিনি বলেন, এসব মামলার মধ্যে ৭৯৯টি হত্যা মামলা এবং অন্যান্য ধারায় ১ হাজার ৫৬টি মামলা রুজু হয়েছে।৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ৭৯৯টি হত্যা মামলা এবং অন্যান্য ধারায় ১ হাজার ৫৬টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে ৪৮টি হত্যা মামলা এবং ১১০টি অন্যান্য মামলার এবং এসব মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।তিনি বলেন, বাকি ১ হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মামলার তদন্ত একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি মামলায় যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে।জামিন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জামিন প্রদান সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় সংঘটিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা হত্যা, গুম, নির্যাতন বা পঙ্গুত্বের মতো অপরাধে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।সূত্র: বাসস
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের অধিকার খর্ব করবেন না। আমাদের অধিকার আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে সংরক্ষিত হোক। এই বিল দুইটিই স্থগিত করুন, যেগুলোর কাগজ আজকেই সরবরাহ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের জন্য উত্থাপন করার সময় তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা বেশিরভাগ সংসদ সদস্য এখানে নতুন এসেছি। আমরা বিধিগুলো আস্তে আস্তে রপ্ত করছি। বিধি মোতাবেক এই সংসদ চলবে, এতে আমাদের সকলের সহযোগিতা করা উচিত। স্পিকারের চেয়ার থেকে বারবার এ অনুরোধ আমাদের জানানো হয়েছে এবং আমরা তা সম্মান করি।ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের সাক্ষাৎডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের সাক্ষাৎতিনি আরও বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬—এই বিলটি কোনো সময়সীমার মধ্যে বন্দি নয়। এখানে সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই বিধি মানাই উচিত ছিল। আমরা তিন দিন আগে চেয়েও তো পেলাম না, এমনকি এক দিন আগেও ম্যাটেরিয়ালসগুলো পাইনি। মাত্র এখন ডেস্কে এসে পেয়েছি।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি আবারও বলছি, এটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও অনেক বিল এই সংসদে আসবে—এটাই স্বাভাবিক। বিল আসবে, আইন সংশোধন হবে, আমাদের এগিয়ে যেতে হলে এগুলো লাগবে। কিন্তু যেখানে যা প্রযোজ্য, তাই হওয়া উচিত। যেহেতু এর কোনো সময়সীমা নেই, তাই এটি পরবর্তী অধিবেশনে আনা যেতে পারে। আমি অনুরোধ করব, এই আলোচনা এখানে স্থগিত করা উচিত।তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা, আমরা বিধি ৮০-তে আছি। বিধি অনুযায়ী বিলের রিপোর্ট আমাদের গতকাল দেওয়া হয়েছে। সদস্য, বিল দেওয়া হয়েছে গত পরশু দিন এবং রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে গতকাল।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে টানা দুই মাস নদীতে মাছ ধরতে না পেরে চরম সংকটে পড়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জেলেরা। ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত জীবিকার চাপে তাদের অনেকেই হতাশায় ভুগছেন।“সরকারের কথা মাইন্যা দুই মাস নদীতে নামি নাই। কিন্তু সংসার তো থেমে থাকে না। সুদে টাকা নিছি, এখন সেই ঋণের বোঝা বইতেছি। সময়মতো টাকা শোধ করতে না পারলে বিষ খাইয়া মইরা যাইতে হইবো”—কথাগুলো বলেন মোহনপুর গ্রামের জেলে আবুল হোসেন। তার কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা আর দুশ্চিন্তার ছাপ।ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ ছয়টি নদী অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এই সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় সরকার। ফলে অধিকাংশ জেলে পরিবার ধারদেনা করে কোনোমতে সংসার চালিয়েছে।একই গ্রামের জেলে কাইল্লা বেপারী জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় ঘরে বসে থাকতে হয়েছে। পরিবার চালাতে সুদে টাকা ধার নিতে হয়েছে। এখন নদীতে নামার প্রস্তুতি থাকলেও পর্যাপ্ত মাছ না পেলে ঋণ শোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।ষাটনল জেলে পাড়ার টিটু বর্মন বলেন, “সরকার চাল দিলেও সংসারের সব খরচ তো শুধু চাল দিয়ে চলে না। ঔষধ, পড়াশোনা, নৌকা-জাল মেরামত—সব মিলিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। এখন মাছ না পাইলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হইবো।”আরেক জেলে মো. আনোয়ার বলেন, নদীতে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। নদীর দূষণ, স্রোত কমে যাওয়া, ডুবচর জেগে ওঠা এবং অবৈধ জাটকা নিধনের কারণেও উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।এদিকে অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছর জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে নদীতে জোরালো অভিযান কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকাসহ বিভিন্ন মাছ ধরেছে, যা ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।সচেতন মহল ও গবেষকদের মতে, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতি ও জেলেদের জীবন-জীবিকায়।মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জেলেদের ভিজিএফের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি জেলেদের সচেতন হয়ে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, “আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। যদি নির্বিচারে জাটকা ধরা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।” তিনি জানান, ৭০-৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, জাটকা রক্ষা অভিযানে ৫ শতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে এবং প্রচুর জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে অভিযান সফল হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।জেলেদের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে টেকসই সমাধান ও বাস্তবসম্মত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ছয় সপ্তাহ বাকি। তবে বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েও ইরান এতে খেলা নিয়ে ইরানের অনিশ্চয়তা যেনো কাটছেনা। সম্প্রতি ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলছে-বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত!বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার সম্মেলনের পূর্বে ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি ‘জেনেছেন’ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আনিতা নিশ্চিত হয়েছেন বলে মনে হলেও, তিনি বলেছেন কর্মকর্তাদের ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ছিল।তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে ‘অভিবাসন কর্মকর্তাদের অনুপযুক্ত আচরণের’ কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এবং আরও দুজন ইরানি কর্মকর্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে আনিতা আনন্দ বলছেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত সূত্র নয়, তবে আমি বুঝতে পারছি যে, তাদের (কানাডায় প্রবেশের) অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার ভার আমি মন্ত্রীর (অভিবাসন মন্ত্রী লীনা দিয়াব) ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’ইরানের অনলাইন পত্রিকা সর্বপ্রথম ফুটবল কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, সোমবার মেহেদী তাজের ভিসা অনুমোদন করা হয় এবং মঙ্গলবারের শেষ নাগাদ সেটি প্রত্যাহার করে কানাডা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে এবং সংস্থাটি কানাডার সন্ত্রাসী তালিকায় আগে থেকে অন্তর্ভুক্ত। ইরানি ফুটবল কর্তাদের এমন বিড়ম্বনা নিয়ে পরবর্তীতে নিজেদের পর্যালোচনা জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী দিয়াবের কার্যালয়।দিয়াবের প্রেস সচিব তাউস আইত বলছেন, ‘গোপনীয়তা আইনের কারণে আমরা ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে না পারলেও, সরকার তার অবস্থানে স্পষ্ট ও অবিচল। আইআরজিসি কর্মকর্তারা কানাডায় অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের দেশে তাদের কোনো স্থান নেই।’এদিকে, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক কানাডা, যদিও সেখানে ইরানের কোনো ম্যাচ পড়েনি। তবে দেশটির ভ্যাঙ্কুভার শহরে এখন ফিফার সম্মেলন চলছে। যেখানে বৃহস্পতিবার ফিফার সদস্যভুক্ত ২১১টি দেশ থেকে ন্যূনতম একজন প্রতিনিধি হাজির থাকার কথা রয়েছে। তবে অনিশ্চিত ইরানের অংশগ্রহণ। এর আগে ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিল ইরান। শুরু থেকে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ফিফা আশাবাদী দেখালেও সাম্প্রতিক বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সরকে চুনর তেরি- গান ঘিরে তৈরি বিতর্কের প্রেক্ষিতে মহিলা কমিশনে হাজির হয়ে বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। কমিশনের সামনে দেওয়া বক্তব্যে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য কখনোই সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি একটি সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন—৫০ জন আদিবাসী কন্যাশিশুর সম্পূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।এই বিতর্কে নাম জড়ালেও এদিন উপস্থিত ছিলেন না অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। বিদেশে অবস্থানের কারণে তিনি আগেই সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তার জন্য নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।মূলত কে ডি: দ্য ডেভিল ছবির হিন্দি সংস্করণের একটি গানকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গান প্রকাশের পর এর ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে একাংশ আপত্তি তোলে। বিশেষ করে গানের কিছু অংশকে অশালীন বলে অভিযোগ করা হয় এবং নোরা ফাতেহির নৃত্যভঙ্গিমা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।সবশেষে কমিশনের সামনে সঞ্জয় দত্ত আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে তার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো কাজে নারী ও শিশুদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন উপস্থাপনা যেন না থাকে, সে বিষয়ে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন।সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। ৩৩ বছর পর ‘খলনায়ক’-এর সিকুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’ নিয়ে তিনি আবারও দর্শকের সামনে আসছেন।
ভারতের আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে গত শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তার এই দলবদল নিয়ে যখন পুরো ভারতজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে, তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। একটি বিতর্কিত মিম শেয়ার করে এবার বড়সড় বিপাকে পড়েছেন এই প্যান ইন্ডিয়া তারকা। নিজের সোজাসাপ্টা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ রাজ সবসময়ই পরিচিত। রাঘব চাড্ডার দলবদল প্রসঙ্গে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম শেয়ার করেন যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি পুলিশ বাহিনী ছাড়ছি কারণ তারা অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে। আর এই কারণেই আমি এখন দাউদ ইব্রাহিমকে আমন্ত্রণ করতে চলেছি।’ মিমটির ক্যাপশনে অভিনেতা শুধু লিখেছেন, ‘শুধু জিজ্ঞাসা করছি’। প্রকাশের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে কুরুচিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘স্যার, আপনার ভাষার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।’ অন্যজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটা কি একজন প্যান ইন্ডিয়া অভিনেতার ভাষা হতে পারে?’ অনেকেই দাবি করেছেন, অভিনেতার রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এই ধরনের মন্তব্যের জন্ম।তবে শুধু প্রকাশ রাজ নন, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাজনীতিকে ‘সবচেয়ে বড় প্রতারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ইডি ও সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতেই ভয়ে আপ ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন রাঘব।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রি মাতিয়েছেন ‘সিমরান’ আর ‘অঞ্জলি’সগ অসংখ্য দর্শক নন্দিত সিনেমা দিয়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কিংবা ‘কভি খুশি কভি গম’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে নিজেকে এতোটা বোল্ড হননি কাজল। পর্দায় চুম্বন দৃশ্য নিয়ে আপোষ করেননি কখনো। তবে ২০২৩ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই ঘটেছে সেই দীর্ঘদিনের নিয়মের ব্যত্যয়। ‘দ্য ট্রায়াল: লাভ, কানুন, ধোকা’ সিরিজে সহ-অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে তার একটি চুম্বন দৃশ্য শোরগোল ফেলে দেয় নেটদুনিয়ায়। ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে, ক্যারিয়ারের এত বছর পর কেন নিজের নীতি ভাঙলেন এই অভিনেত্রী?সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা চরিত্রের দাবিতেই করা। সিরিজে আমার অভিনীত ‘নয়নিকা সেনগুপ্ত’ যা হতে চায়, যা ভাবে কিংবা যা পায় না সেই লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ওই মুহূর্তটি। এটা কেবল একটি চুমুর দৃশ্য ছিল না; বরং সে কাকে বিশ্বাস করত আর কাকে বিশ্বাস করতে পারত না, এটি ছিল তার প্রতিফলন।’চিত্রনাট্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজল আরও বলেন, ‘দৃশ্যটি চিত্রনাট্যের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আমি বাদ দিতে পারিনি। ওটা বাদ দিলে চরিত্রটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অপূর্ণ থেকে যেত।’তবে দৃশ্যটি করার আগে মনে বেশ দ্বিধা ছিল কাজলের। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘আমার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। সেটে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত ধারণাটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগছিল। নিশ্চিত ছিলাম না যে আদৌ কাজটা করতে পারব কি না, নাকি ‘কাট’ বলে বেরিয়ে আসব। তবে শেষ পর্যন্ত সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি পেশাগত সিদ্ধান্ত।’উল্লেখ্য, ‘দ্য ট্রায়াল’ একটি কোর্টরুম ড্রামা যেখানে স্বামীর স্ক্যান্ডালের পর একজন নারীর পুনরায় আইনি পেশায় ফিরে আসার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। সিরিজটিতে কাজলের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টলিউড সুপারস্টার যিশু সেনগুপ্ত। এর দ্বিতীয় সিজনটি ২০২৫ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিও হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে।
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ নুসরাত জাহানকে তলব করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী ২২ এপ্রিল কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই অভিনেত্রীকে।ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশে গম পাঠানোকে কেন্দ্র করে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত।ধারণা করা হচ্ছে, এই পাচারচক্রের কিছু আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অভিনেত্রীর যোগসূত্র থাকতে পারে।তবে সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল কলকাতায় ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তদন্তকারীদের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন নুসরাত জাহান। তিনি কলকাতায় নয়, বরং দিল্লিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে চান। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পাঁচ বছরের জন্য বসিরহাট লোকসভা আসনের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহান। সেই সময় দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হলেও পরবর্তী নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।তবে দলটির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এখনও রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ইডির এই তলবের পর নুসরাত কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। একইসঙ্গে তার আইনজীবীরা কী অবস্থান নেন, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানজিন তিশা অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন সেন্স নিয়েও বেশ সচেতন। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই নিজেকে মেলে ধরেন নানা রূপে ও সাজে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একগুচ্ছ নতুন ছবি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সেখানে তার সাজ ও আভিজাত্য ভক্ত-অনুরাগীদের বেশ নজর কেড়েছে। বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা মাঝেমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন। কখনো অভিনয়ের প্রশংসা, আবার কখনো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের জেরে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় থাকেন এ তারকা। বর্তমানে তানজিন তিশা বিভিন্ন ইভেন্ট ও ফটোশুটে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর আগে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। যদিও এ নাটকটি ঘিরে তিশার বিরুদ্ধে একটি বিতর্কও দানা বেঁধেছিল। এদিকে ছবিতে দেখা গেছে, অভিনেত্রীকে একটি প্যাস্টেল শেডের কারুকাজ করা শাড়িতে। হালকা গোলাপি রঙের এ শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ফুল স্লিভ ব্লাউজ ও গলায় ভারি চকার তার লুকে এনেছে রাজকীয় আভা। কানের দুল আর খোঁপা করা চুল তার এই বিশেষ সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মেকআপেও ছিল তানজিন তিশার স্নিগ্ধতার ছাপ। গোলাপি আইশ্যাডো ও লিপস্টিকে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।পোস্ট করা ছবিতে আরও দেখা গেছে, অভিনেত্রীর নানা ঢঙে পোজ ছিল বেশ নজরকাড়া। কখনো বসে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে মিষ্টি হেসে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন তিনি। কোনো ছবিতে তার চোখের মায়াবী চাহনি দিতেও দেখা যাচ্ছে। নিজের এই লুক তানজিন তিশার কতটা পছন্দ হয়েছে তা বোঝা যায় তার দেওয়া ক্যাপশনেও। অভিনেত্রী ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন— এই সাজকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি। একই ফটোশুটের ছবি আরও একটি পোস্টে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন— কথায় নয়, কাজেই পরিচয়।তানজিন তিশার এ ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেই মুহূর্তেই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। অসংখ্য লাইক ও কমেন্ট করেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসায় মেতে উঠেন নেটিজেনরা। বেশ কয়েকজনের মন্তব্য এমন— দেখে সুন্দর, অনন্য লাগছে, শাড়িতে মানিয়েছে।
উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও আমেরিকা) বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেখানে মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ছবিটি ছাড়িয়ে গেছে এ যাবৎকালে আয়ের শীর্ষে থাকা সিনেমা ‘হাওয়া’-র লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’ ও বক্স অফিস ট্র্যাকার ‘কমস্কোর’। জানিয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহেই ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার আয় করে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে ৫৪টি থিয়েটারে প্রদর্শিত হওয়া সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে।এর আগে উত্তর আমেরিকার বাজারে ‘হাওয়া’ সিনেমাটি মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার আয় করেছিল; এবার তার রেকর্ড ভেঙেছে বনলতা এক্সপ্রেস।সিনেমাটির অভাবনীয় এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছেন। অন্যদিকে সিনেমার পরিচালক তানিম নূর দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য, তানিম নূর পরিচালিত ও বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই সিনেমাটি গেল শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে মোট ২২টি থিয়েটারে তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও শরীফুল রাজসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে হইচই প্রোডাকশন।
তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এর আগে, গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। এদিকে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।জানা যায়, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে।উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয় তারা।সেই সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে তা কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় এই অনুপাত আরও কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা হয়েছে।প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জি. ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।রিয়াদে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুমায়ুন কবির সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংহতির বার্তা হস্তান্তর করেন।বৈঠকে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমুখী করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ। ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বাস্তবায়িত হয়েছে।এই উপলক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত “সাবাশ বাংলাদেশ: ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি” শীর্ষক অনুষ্ঠানটি দেশের উচ্চমানের ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং বায়োলজিক ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নভো নরডিস্ক নভোমিক্স ও নভোর্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হবে। এতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যাবে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রিমিক্স ও দ্রুত কার্যকর আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তৈরি করা হবে। দেশে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের গুণগত মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে নভো নরডিস্কের বৈশ্বিক মান বজায় থাকে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অগ্রগতিকে তুলে ধরে। এটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে, উচ্চমানের ইনসুলিন সরবরাহ সহজ করবে এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে।”ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, “এই অংশীদারিত্ব স্বাস্থ্যখাতে আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে- জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক মান বজায় রেখে জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়, এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, “স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসকেএফ-এর সঙ্গে নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থানীয় উৎপাদনের এই উদ্যোগ দেখায়, কীভাবে ডেনিশ উদ্ভাবন মানসম্মত ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করতে পারে, পাশাপাশি দেশের বায়োম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতাও বাড়াতে সহায়তা করে।”নোভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি বলেন, “এই স্থানীয় উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ উপলক্ষে নভোমিক্স ও নভোর্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮% কমানো হচ্ছে, তবে গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।”ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, “আজ আমরা একটি গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের প্রথম আধুনিক পেনফিল ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হলো। এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।” বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজন আরও বাড়ছে। নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ডায়াবেটিস চিকিৎসার উন্নয়ন এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ২০১২ সাল থেকে তারা দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৯৯০ সাল থেকে উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।