ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সহমর্মিতা জানিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, দুই স্পিকারের বৈঠক নিয়ে জাতীয় সংসদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্পিকার গালিবাফ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য উপলক্ষ্যে স্পিকার ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরান সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সংহতি প্রকাশ করেন।স্পিকার ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে শতাব্দী-প্রাচীন বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক সহজতর করার ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি ইরানের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান অর্জনে সব পক্ষ এই গতিবেগ গড়ে তুলবে।স্পিকার গালিবাফকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে স্পিকার গতকাল তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, আমরা চেষ্টা করি যত অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের নিজস্ব এলাকা, দেশের কাজ, দেশে যত সমস্যা আছে সেগুলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করার, মোকাবিলা করার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। কোনো সিদ্ধান্তে ভুল হতে পারে। রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তারা অবশ্যই সমালোচনার মধ্যেই থাকবেন। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাটাই হচ্ছে সাংবাদিকের জন্য উপযুক্ত কাজ। কারণ তাকে সঠিকভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া, সঠিক পথে গাইড করা। এ বিষয়গুলো খুব জরুরি।তিনি বলেন, আমাদের দেশে যারা সংবাদপত্রে কাজ করেন তারা অনেক সময় নিগৃহীত হন। তারা নিগৃত হন যে কোনো একটা সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে দেখা যায় যে, যার বিরুদ্ধে খবরটা বের হয়েছে সে তার প্রতি চড়াও হয়। আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে হয়নি। তবে অনেক জায়গায় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। ঘটবেও না আশা করি। মিডিয়া যদি শক্ত হয়, এদেশের গণতন্ত্র শক্ত হয়। গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপরে।শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নির্বাচনের পূর্বে যে ওয়াদাগুলো দিয়েছিলাম, তা পূরণ করবার জন্য। সেভাবেই কাজ করছি। ইতিমধ্যে দুইটি উপজেলার অনুমোদন হয়ে গেছে, কাজ শুরু হয়েছে, অলরেডি ভাগও হয়ে গেছে। দায়িত্ব বণ্টন হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই উপজেলাতে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি হয়ে যাবে এবং নতুন ইউএনও এসে কাজ শুরু করবে। শুধু স্ট্রাকচার তৈরি হলেই তো হবে না। মানুষগুলোকে তৈরি করতে হবে। আমরা যেন সেখানে সঠিক নেতৃত্ব পাই তারা যেন সঠিকভাবে নতুন উপজেলাগুলোতে কাজ করতে পারেন এ ব্যাপারে আমাদেরকে সজাগ হতে হবে।সকালে মোলানী এলাকায় একটি প্রতিবন্ধী এতিমখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ সকালে মোলানীতে প্রতিবন্ধীদের একটি এতিমখানায় ঢুকেছিলাম। এখানে গিয়ে দেখলাম প্রায় সাড়ে ৫শ প্রতিবন্ধীকে তারা লালন করে। দুঃখের ব্যাপার হলো তারা যে সরকারের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা পেত, গত ১৫ বছর তা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ওই ভদ্রলোক রাজনীতি করেন, বিএনপি করেন। সুতরাং তার সব সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে। তারা যে ঘরগুলোতে থাকে সেই ঘরের টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা খুব দ্রুত তার সমস্যাগুলো সমাধান করে দেব।তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাগ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে তাদেরকে বের করে আনতে হবে।সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার সাদাকে সাদা বলবেন, কালোকে কালো বলবেন। এখানে যারা খারাপ কাজ করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে লিখবেন। আর যারা ভালো কাজ করবে তাদেরকে একটু বাহবা দেবেন। আপনাদের কাছে এটাই আমার অনুরোধ।এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার (এসপি) বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান তানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার জয়-পরাজয় নিয়ে সমর্থকদের উত্তেজনা এক পর্যায়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যা বা হতাহত এড়াতে রাজধানীর পাড়া-মহল্লা বা বিভিন্ন জায়গায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলো বিশেষ নজরদারি করবে থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও সমর্থকদের সংঘর্ষের জেরে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান, ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখা হয়। এটা আমরা নজরদারি করছি। ডিএমপির সব থানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় এরকম স্ক্রিন আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও লোক রাখবে, আমরাও লোক রাখবো। যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করে ডিএমপির ডিবি প্রধান বলেন, আনন্দটা যেন আনন্দ পর্যায়ে থাকে। কোনো বিষাদে পরিণত না হয়। আর আমরা পরস্পরের প্রতি সহনশীল হব। আমরা যেটা বলি যে, অপোজিট পক্ষকে আমরা মেনে নেব। মেনে নেব, খেলায় হার-জিত থাকবে। আমরা আনন্দ করব, তবে অপরকেও তার সুযোগ দিতে হবে।গত সোমবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিলেন। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন। এই মারধরের জেরে গত বুধবার আদাবর রাতে আদাবর নবদয় হাউজিংয়ে বিএনপির ইউনিট সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যা করা। এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তেজগাঁও বিভাগ৷অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমান৷ তাদের মধ্যে রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করে। গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরিটি উদ্ধার করেছে ডিবি।এই ঘটনায়, ইউনিট বিএনপি সভাপতি আহত গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন আছেন।
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।আইএসপিআর জানায়, সফরকালে, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তিনি উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা শিল্প-স্থাপনা পরিদর্শন করেন।আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ, চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাকিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী প্রধান গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গমন করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর চট্টগ্রাম ওয়াসায় পদোন্নতির জট কেটেছে। সম্প্রতি সংস্থাটির ৩২ জন কর্মকর্তাসহ মোট ২৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।এর আগে দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সেই স্থবিরতা কাটায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা পদোন্নতি কার্যকর হওয়ায় কর্মপরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের আগ্রহও বাড়বে।পদোন্নতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ উপলক্ষ্যে মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ, সহ সভাপতি মো. ওমর, মো. জামাল উদ্দিনসহ পদোন্নতিপ্রাপ্ত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পদোন্নতি না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পেশাগতভাবে বঞ্চিত ছিলেন। এতে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টির সমাধান করেছেন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও কর্মোদ্যম ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, এই পদোন্নতি শুধু দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানই ঘটায়নি, বরং প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা করছেন।চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, দীর্ঘদিন পর পদোন্নতির সুযোগ পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল বেড়েছে। এর ফলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এর ইতিবাচক প্রভাব ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবার মানেও প্রতিফলিত হবে।
একান্তে দেখা করার প্রস্তাব, ছাত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে বিপাকে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হন তিনি।বুধবার (১ জুলাই) সকালে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে (৩৮) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নশরতপুর ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কিছুদিন ধরে মোবাইল ফোনে একান্তে দেখা করার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠাতেন মাহমুদুল হাসান। এতে বিরক্ত হয়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মাদ্রাসায় এলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে বিকেলে উত্তেজিত এলাকাবাসী মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।আদমদীঘি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রহমতুল্লাহ বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে
দেশের রিয়েল এস্টেট ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব - প্রকৌশলী এফ আর খান (ফয়জুর রহমান খান) সম্প্রতি অনন্ত রিয়েল এস্টেট লিমিটেডে চিফ অ্যাডভাইজার হিসেবে যোগদান করেছেন।অনন্ত রিয়েল এস্টেট লিমিটেড দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অনন্ত গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বার্ষিক টার্নওভার এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই শিল্পগোষ্ঠী এখন দেশের আবাসন খাতে প্রিমিয়াম লিভিংয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপনের লক্ষ্যে গড়ে তুলছে অনন্ত টেরাসেস।৪৫ বিঘারও বেশি জমির ওপর নির্মিতব্য অনন্ত টেরাসেস হবে দেশের প্রথম লীড প্ল্যাটিনাম (LEED Platinum) luxury residential প্রকল্প, যেখানে প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ জায়গা রাখা হয়েছে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে। স্থাপত্য উৎকর্ষতা, নির্মাণ মানের গুরুত্ব, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক জীবনযাত্রার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প প্রতিফলিত করে বিশ্বমানের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংযোজনের প্রতি অনন্ত গ্রুপের অঙ্গীকার।চিফ অ্যাডভাইজার হিসেবে প্রকৌশলী খান প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এবং বিশ্বমানের প্রকল্প বাস্তবায়ন, কার্যক্রমের উৎকর্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনন্ত রিয়েল এস্টেটের ভিশনকে শক্তিশালী করবেন।চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রিয়েল এস্টেট খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন প্রকৌশলী এফ আর খান। ইঞ্জিনিয়ারিং, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রকল্প উন্নয়ন এবং সামগ্রিক রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক মাইলফলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের গড়ে তুলতে এবং দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন। তাঁর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি, কারিগরি দক্ষতা ও মানের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি তাঁকে শিল্প মহলে ব্যাপক সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন নিজের সন্তান-স্বজনের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধের ভাগ্যে জুটেছে তার উল্টো চিত্র। যে মানুষটি সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে, চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকেই ফেলে রাখা হলো রাস্তার পাশে। অসহায় সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বৈল্লা বাজার এলাকায় একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন এই বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরেই একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতায় দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।এলাকাবাসী জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কান্না করছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।ততক্ষণে খবরটি পৌঁছে যায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যে নাতনিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং সেই খরচও নিয়মিত বহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ছোট মেয়ে রিনা বেগম বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। রিনা বেগম বলেন, পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করব।টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।'
বিশ্বখ্যাত গায়িকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সম্ভাব্য বিয়ে ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। বিয়ের দিনক্ষণ কিংবা আয়োজন সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অতিথিদের পোশাক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেইলর সুইফট তার ব্যক্তিগত বিষয় সবসময় গোপন রাখতেই পছন্দ করেন। তাই সম্ভাব্য বিয়ের আয়োজন নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।জল্পনা রয়েছে, নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শুক্রবার (৩ জুলাই) এই আয়োজন হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রায় এক হাজার ১০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অতিথিদের পোশাকে থাকবে মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও রোমান্টিক ধাঁচ। অনেকেই বিখ্যাত নকশাকারদের তৈরি পোশাক বেছে নিতে পারেন। গ্রীষ্মকালীন আয়োজন হওয়ায় হালকা রঙ, ঢিলেঢালা পোশাক ও সূক্ষ্ম নকশার পোশাক বেশি দেখা যেতে পারে।সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তবে কী বিয়ে করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস? টেইলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও রয়েছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে সেলেনা গোমেজ, সুকি ওয়াটারহাউস, সাবরিনা কার্পেন্টার, কারা ডেলিভিনসহ আরও অনেকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র ফ্যাশনধারা বজায় রাখলেও কনের চেয়ে বেশি নজর কাড়ার চেষ্টা করবেন না।বিয়ের পোশাক নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ফ্যাশন বিশ্লেষকদের ধারণা, টেইলর সুইফট নিজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পোশাক পরতে পারেন। রাজকীয় নকশার করসেট ও ছড়ানো ঘেরের পোশাক তার পছন্দ হতে পারে। পরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তিনি আরও হালকা ও আরামদায়ক পোশাকেও দেখা যেতে পারেন।অন্যদিকে, ট্রাভিস কেলসি বরাবরই ব্যতিক্রমী পোশাকের জন্য পরিচিত। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাকে দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বিয়ের আয়োজন, অতিথি তালিকা কিংবা পোশাক—সবকিছুই এখনো জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে টেইলর সুইফট বা ট্রাভিস কেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।সূত্র: বিবিসি
দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিত্সাসেবার মানোন্নয়নে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রম্নমী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাত্ প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসার নিশ্চিত করতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় সিভিল সার্জনদের পাঁচটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। যথা-১. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিত্সকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে।২. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিত্সকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে।৩. ডিউটি রোস্টার ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে।৪. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক উপস্থিত না থাকলে বা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে হবে।৫. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।আইএসপিআর জানায়, সফরকালে, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তিনি উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা শিল্প-স্থাপনা পরিদর্শন করেন।আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ, চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাকিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী প্রধান গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গমন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সংসদ গঠনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করেছে। সংবিধানে বিধান না থাকার অজুহাতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। অথচ সংবিধানে উল্লেখ না থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমান সংসদেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে রাষ্ট্রের অর্থ আবারও বিদেশে পাচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করেননি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে নেওয়া ব্যবস্থা।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা হতাশাজনক।সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যথায় দেশ নতুন সংকটে পড়তে পারে।
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, আমরা চেষ্টা করি যত অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের নিজস্ব এলাকা, দেশের কাজ, দেশে যত সমস্যা আছে সেগুলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করার, মোকাবিলা করার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। কোনো সিদ্ধান্তে ভুল হতে পারে। রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তারা অবশ্যই সমালোচনার মধ্যেই থাকবেন। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাটাই হচ্ছে সাংবাদিকের জন্য উপযুক্ত কাজ। কারণ তাকে সঠিকভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া, সঠিক পথে গাইড করা। এ বিষয়গুলো খুব জরুরি।তিনি বলেন, আমাদের দেশে যারা সংবাদপত্রে কাজ করেন তারা অনেক সময় নিগৃহীত হন। তারা নিগৃত হন যে কোনো একটা সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে দেখা যায় যে, যার বিরুদ্ধে খবরটা বের হয়েছে সে তার প্রতি চড়াও হয়। আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে হয়নি। তবে অনেক জায়গায় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। ঘটবেও না আশা করি। মিডিয়া যদি শক্ত হয়, এদেশের গণতন্ত্র শক্ত হয়। গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপরে।শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নির্বাচনের পূর্বে যে ওয়াদাগুলো দিয়েছিলাম, তা পূরণ করবার জন্য। সেভাবেই কাজ করছি। ইতিমধ্যে দুইটি উপজেলার অনুমোদন হয়ে গেছে, কাজ শুরু হয়েছে, অলরেডি ভাগও হয়ে গেছে। দায়িত্ব বণ্টন হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই উপজেলাতে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি হয়ে যাবে এবং নতুন ইউএনও এসে কাজ শুরু করবে। শুধু স্ট্রাকচার তৈরি হলেই তো হবে না। মানুষগুলোকে তৈরি করতে হবে। আমরা যেন সেখানে সঠিক নেতৃত্ব পাই তারা যেন সঠিকভাবে নতুন উপজেলাগুলোতে কাজ করতে পারেন এ ব্যাপারে আমাদেরকে সজাগ হতে হবে।সকালে মোলানী এলাকায় একটি প্রতিবন্ধী এতিমখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ সকালে মোলানীতে প্রতিবন্ধীদের একটি এতিমখানায় ঢুকেছিলাম। এখানে গিয়ে দেখলাম প্রায় সাড়ে ৫শ প্রতিবন্ধীকে তারা লালন করে। দুঃখের ব্যাপার হলো তারা যে সরকারের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা পেত, গত ১৫ বছর তা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ওই ভদ্রলোক রাজনীতি করেন, বিএনপি করেন। সুতরাং তার সব সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে। তারা যে ঘরগুলোতে থাকে সেই ঘরের টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা খুব দ্রুত তার সমস্যাগুলো সমাধান করে দেব।তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাগ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে তাদেরকে বের করে আনতে হবে।সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার সাদাকে সাদা বলবেন, কালোকে কালো বলবেন। এখানে যারা খারাপ কাজ করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে লিখবেন। আর যারা ভালো কাজ করবে তাদেরকে একটু বাহবা দেবেন। আপনাদের কাছে এটাই আমার অনুরোধ।এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার (এসপি) বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান তানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে আলজেরিয়াকে বিদায় করে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালের ম্যাচে আফ্রিকান দলটিকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইউরোপের এই পরাশক্তি। এই জয়ের মাধ্যমে সুইসরা টানা চার আসরে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং বর্তমান) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট পাওয়ার গৌরব অর্জন করলো। ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নেয় সুইজারল্যান্ড। খেলার দশ মিনিটে দলের তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল ড্রিবলিং করে আলজেরিয়ার ডি-বক্সে নিয়ে যান। সেখানে চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে স্ট্রাইকার ব্রেল এমবোলো দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে সুইসদের প্রথম উদযাপনের সুযোগ এনে দেন। এরপর আলজেরিয়া সমতায় ফিরতে কিছু আক্রমণ চালালেও তাতে কোনো ধার ছিল না, ফলে এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার দেশটি।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সুইসরা। বিরতি থেকে ফেরার প্রথম মিনিটেই এক ক্ষিপ্র কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্যান এনডয়ে। এরপরে দুই দলই একাধিক আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ চালালেও গোললাইনের সামনে ফিনিশিংয়ের অভাবে আর কোনো গোল আদায় করতে পারেনি।খেলার অন্তিম মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড আরও একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিল। তবে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান গোললাইন থেকে অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ফিরিয়ে দিলে ব্যবধান আর বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড এবং আরও একটি আফ্রিকান দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল।
বিশ্ব সংগীত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আর্টিস্ট ক্লাবের আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এ সংগীত পরিবেশন করে। কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সংগীতপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব সংগীত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সংগীত এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা সংস্কৃতি, জাতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর্টিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আর্টিস্ট ক্লাব সবসময়ই সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে রয়েছে। বিশ্ব সংগীত দিবসে ডিইউসিএফ-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে ডিইউসিএফ-এর শিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশন করেন একটি প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’। দলীয় ও একক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ পুরো সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।অনুষ্ঠান শুরু হয় ব্যতিক্রম ধর্মী পুথি পাঠ এর মাধ্যমে। ডিইউসিএ’কে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম গান শুরু হয় একটি কোরাস ‘মোরো ঝনঝার মত’ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন নির্ঝর চৌধুরী, ইরবতি মন্ডল, আনিকা শারমিলা কৃপা ও ফরহাদ মিল্টন। নজরুল ইসলামের গান করেন নন্দিত শিল্পী নন্দিনী দও ধরা। পল্লী গীতি ও উকিল মুন্সীর গান করেন মাহফুজার রহমান মহব্বত। রবি ঠাকুরের গান করেন নাঈমা ইসলাম নাজ এবং অনুষ্ঠান শেষ হয় আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে সমেবেত সংগীত পরিবেশন মাধ্যমে। সভাপতি সুজিত মোস্তফা ডিইউসিএ’কে তাদের পরিবেশনার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শিল্পী ও দর্শকদের এক সুরের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং উপস্থিত সকলের কাছে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
একদিনের ব্যবধানে নতুন করে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবারের দফায় এক লাফে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে দেশের বাজারের জন্য সোনার নতুন এই দর নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাজুস। নতুন এ দর সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা পড়বে এখন। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এর আগে, সবশেষ গত ২ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের বাজারে এ দামেই বেচাকেনা হচ্ছিল সোনা।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৩ দফা, কমানো হয়েছে ৪২ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১১৭ টাকা বাড়িয়ে এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা।এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৭ দফা; কমানো হয়েছে ২৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার। এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
একটি উদ্ভাবনী রিটেল ডিসট্রিবিউশন মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি-পোশাক শিল্পের (আরএমজি) কর্মীদের জন্য ডিজিটাল সংযোগ ও টেলিযোগাযোগ সেবার পরিধি বাড়াতে একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ করেছে দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন এবং গামের্ট-কেন্দ্রিক রিটেল নেটওয়ার্ক আপন বাজার। এই চুক্তির আওতায়, এখন থেকে আপন বাজার গ্রামীণফোনের একটি ডিসট্রিবিউশন পার্টনার; আপন বাজারের আউটলেটগুলোতে একটি শপ-ইন-শপ রিটেল মডেল চালু করেছে গ্রামীণফোন। এই সহযোগিতার ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের কাছে গ্রামীণফোনের পণ্য ও সেবা আরো সহজলভ্য হবে। এই বিশালসংখ্যক কর্মীদের মধ্যে ক্রমশ ডিজিটাল চাহিদা বাড়লেও তারা সুবিধাবঞ্চিত ছিল।আপন বাজারের আউটলেটগুলোতে সিম অ্যাক্টিভেশন, সিম রিপ্লেসমেন্ট, স্ক্র্যাচ কার্ডস, ডাটা প্যাকস, ভয়েস বান্ডেলস ও কম্বো প্যাকসহ গ্রামীণফোনের বেশ কিছু অফার উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা। গ্রামীণফোনের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ শরীফ মাহমুদ খান এবং আপন বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখ সাইফ আল রশিদ সম্প্রতি জিপি হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) ফারহা নাজ জামান, হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন এসকে. ইফতেখার আহমেদ এবং হেড অব সেলস প্ল্যানিং মো. নাসিরুজ্জামান চৌধুরী; আপন বাজারের ডিরেক্টর (বিজনেস) ইয়াসির আরাফাত, অপারেশনস লিড রেজওয়ানুল আহসান রূপম, ম্যানেজার (এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) কানিজ আহমেদ এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জিনিয়া ইবনাত উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান বলেন, ”গ্রামীণফোনে আমরা চাই যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য ডিজিটাল সংযোগ আরো সহজলভ্য ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে। আপন বাজারের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমাদের পণ্য ও সেবাগুলো তৈরি-পোশাক শিল্পের কর্মীদের আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছি। এখন তারা যেখান থেকে নিত্যপণ্য কেনাকাটা করেন সেখানেই টেলিযোগাযোগের সেবাগুলো পেয়ে যাবেন। আমাদের পণ্য ও সেবাগুলো আরো সহজলভ্য করতে, সংযোগের মাধ্যমে সমাজের ক্ষমতায়ন ঘটাতে এবং বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরে সহযোগী হতে প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি; এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।” আপন বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখ সাইফ আল রশিদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তিকরণ এখন আর কোন বাড়তি সুবিধা নয়, বরং আর্থিক ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত। শিল্পখাতের কর্মীদের কাছে সাশ্রয়ী সংযোগ, ডিজিটাল সেবা এবং প্রয়োজনীয় টেলিযোগাযোগ পণ্যগুলো আরো সহজলভ্য করে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে, গ্রামীণফোনের সাথে আমাদের এই পার্টনারশিপটি করা হয়েছে। কারখানা ও কর্মীদের মধ্যে আপনের প্রতি আস্থাকে কাজে লাগিয়ে আমরা তাদের জীবিকাকে আরো উন্নত এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে চাই।”গ্রামীণফোনের পণ্য ও সেবা আরও সহজলভ্য করতে, গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে এবং দেশজুড়ে ডিজিটাল অর্ন্তভূক্তিতে অবদান রাখতে উদ্ভাবনী ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক ডিসট্রিবিউশন চ্যানেল গড়ে তুলতে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীণফোন। এই পদক্ষেপটি সেই অগ্রযাত্রারই অংশ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’