ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।২১ মার্চ শনিবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ উপলক্ষে বাসভবন চত্বরে বিশাল প্যান্ডেল স্থাপন এবং গোটা এলাকায় ব্যাপক সাজসজ্জ্বা করা হয়। একে একে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা সেখানে এসে জামায়াত আমিরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।জামায়াত আমির ছাড়াও এ অনুষ্ঠানে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা-৪ আসনের এমপি জয়নুল আবেদনী, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসাইন, ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেম, ঢাকা-১৬ আসনের এমপি কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও মাহফুজুর রহমান, শামীম বিন সাঈদী, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একই স্থানে রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন ডা. শফিকুর রহমান।
ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে উদযাপিত হওয়া এবারের ঈদ অত্যন্ত আনন্দের বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হলো। আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাব। ২১ মার্চ শনিবার সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া এবারের ঈদকে ‘বিষাদময়’ বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্যান্ডেলে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লিসহ আশপাশের সড়ক মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রিজ ভেঙে শতাধিক মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ে গেছেন। এ ঘটনায় ৩ শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর ওই ব্রিজে এবং আশপাশে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ আসেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আজ অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ে।এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে অনেকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কিছু শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখনো দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
আজ শনিবার দিনের শুরুতে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার খবরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ ‘বিপর্যয়ের’ ঝুঁকি তৈরি করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি প্রতিবেদনের তদন্ত করছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি আক্রান্ত হয়েছে।এ বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা আজ শনিবার (২১ মার্চ) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের একটি বস্তুনিষ্ঠ এবং কঠোর মূল্যায়ন করতে হবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি প্রকৃত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে।’এর আগে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দখলদার জায়নবাদী শাসনের অপরাধমূলক হামলার পর আজ সকালে নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’ তবে হামলার পর কোনো পারমাণবিক উপাদান ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।তিন সপ্তাহের এই যুদ্ধে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির তেল রপ্তানি রুট বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি যুদ্ধ থেকে পিছু হটার কথা ভাবছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বৃহৎ সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি কারণ আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, পেন্টাগন তাদের মিশন সম্পন্ন করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় নিতে পারে।তা সত্ত্বেও, মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করছে, যা স্থল অভিযানের একটি সম্ভাব্য সংকেত। অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েল এবং তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় যে তারা তেহরানের প্রশাসনিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরান ক্রমাগত বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে এনেছে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। আজারবাইজানের বাকু হয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইটে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তারা ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় ও তেহরানস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রচেষ্টায় সফলভাবে এসব নাগরিকদের দেশে আনা হয়েছে। শনিবার তেহরানের বাংলাদেশ দূতবাস থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই নাগরিকদের নিরাপত্তায় তৎপর হয় দূতাবাস। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের একটি দল নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি নিরাপদ এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের (বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের) জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পরে নিরাপদ রুটের জন্য ইরান সরকারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সব দেশই ইতিবাচক সাড়া দিলে যাতায়াত ও নিরাপত্তার খাতিরে আজারবাইজানের আসতারা সীমান্তকে প্রধান রুট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। দূতাবাস থেকে জানানো হয়, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আইনি জটিলতা। কারণ ফিরে আসা ১৮৬ জনের মধ্যে ১৪২ জনই অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দূতাবাস কর্মকর্তাদের টানা ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আজারবাইজানে প্রবেশের অনুমতি মেলে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দূতাবাস বাংলাদেশিদের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে তাদের আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে স্থানান্তর করা হয়। বাকুর বিমানবন্দর থেকেই বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে করে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য ইরান ও আজারবাইজান সরকার এবং আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দূতাবাস। মিশন জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সংঘাত আরও বাড়লে সেখানে আটকে পড়া অবশিষ্ট বাংলাদেশিদেরও ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
ঢাকাসহ ১৯ জেলার ওপর দিয়ে সকালের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।শনিবার (২১ মার্চ) রাতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঈদুর ফিতরের দিনে ঘুরতে এসে জিয়া উদ্যানে এক যুবক ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।আজ শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।এ বিষয়ে মিরপুর পিওএম’র সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাজী মুস্তাফিজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কাজী মুস্তাফিজ বলেন, ওই যুবক জিয়া উদ্যানে ঘুরতে এসে ব্লেড দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন। তিনি ব্লেড দিয়ে নিজের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোঁচ দেন। এমনকি একপর্যায়ে নিজের গলাতেও পোঁচ দিতে গিয়েছিলেন।এএসআই কাজী মুস্তাফিজ আরও বলেন, যুবকটি যখন নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন, তখন উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই যুবকের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
এবারের ঈদুল ফিতর বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন ধারা উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে কূটনৈতিকদের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।প্রণয় ভার্মা বলেন, ঈদ এমনই একটা উৎসব যেখানে আমাদের সবাইকে কাছে নিয়ে আসে। এ উৎসব সবাইকে কাছে আসার সেতুবন্ধন তৈরি করে। আমি আশা করি, এ ঈদ ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের নতুন ধারা উন্মোচন করবে। আমাদের মানুষদের মধ্যে সংযোগ আরও বৃদ্ধি করবে। ভারতীয় হাইকমিশনারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুললো এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্ত। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ফেসবুকে শেয়ার করেছেন একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাস্তায় এক পুলিশ সদস্যকে বুকে জড়িয়ে কোলাকুলি করছেন।জাহিদ হোসেন লিখেছেন, এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলো—যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সার্জেন্ট দৌড়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্যালুট ও হ্যান্ডশেক করছেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী তাকে উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করেন।সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে এই দৃশ্য নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।এবিএম জাকারিয়া লিখেছেন, ‘সবাই একটু ইতস্তত করলেও জনতার প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হাত বাড়িয়ে টেনে বুকে নিয়ে কোলাকুলি করেছেন। তার সহজ-সরল আচরণে শ্রদ্ধায় চোখে পানি চলে আসে বারবার।’এমডি মাহবুব আলম মন্তব্য করেছেন, ‘এই ছোট্ট দৃশ্যটা দেখে মনটা ভরে গেছে। চোখের শান্তি।’এমডি ইউসুফ আলী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের প্রিয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আল্লাহ দীর্ঘজীবী করুন। আমিন।’
যুদ্ধের মধ্যেও উন্মুক্ত ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার ইরানি। ৩০ রমজান শেষে আজ শনিবার দেশটিতে পালিত হচ্ছে ঈদ।দেশটির সরকারি টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, ভোরবেলা রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মসজিদে ঈদের নামাজের জন্য জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।মসজিদে জায়গা না হওয়ায় অনেক মানুষ বাইরে নামাজ আদায় করেন।এছাড়া আরাক, জাহেদান এবং আবাদানেও উন্মুক্ত জায়গায় মানুষ ঈদের নামাজ পড়েছেন।আজকে ঈদের দিনই আবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত গোয়েন্দা মন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্রের জানাজার নামাজও পড়েছেন ইরানের সাধারণ মানুষ।সূত্র: গালফ নিউজ
ঢাকাসহ ১৯ জেলার ওপর দিয়ে সকালের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।শনিবার (২১ মার্চ) রাতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে উদযাপিত হওয়া এবারের ঈদ অত্যন্ত আনন্দের বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হলো। আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাব। ২১ মার্চ শনিবার সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া এবারের ঈদকে ‘বিষাদময়’ বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্যান্ডেলে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লিসহ আশপাশের সড়ক মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন।
ঈদ মানেই আনন্দ আর খুশি। সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি চার দেয়ালের ভেতরে থাকা কারাবন্দিরাও। ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দিদের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তায় ছিল মুড়ি ও পায়েস।ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে ফুল, চকলেট ও মিষ্টান্ন দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, গরুর রেজালা। এছাড়া যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য রাখা হয় খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।ঈদের দিনে কারাগারে বন্দি ও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের খোঁজখবর নিতে পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি বন্দিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় কারাগারের পরিবেশ, বন্দিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পরিদর্শন করেন তিনি।জেলা প্রশাসক বলেন, “ঈদ আনন্দের দিন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো বন্দিরাও যেন মানবিক পরিবেশে ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারে, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।” তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে বর্তমানে ৫৫৯ জন বন্দি রয়েছেন। এ সময় জেল সুপার মো. তারিকুল ইসলাম ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজ, উন্নতমানের খাবারসহ সব ধরনের মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ১০০টি লুঙ্গি ও শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “কারাগার শুধুমাত্র শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্দিরা যেন নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”ঈদের দিনে কারাগারের ভেতরে এমন আয়োজন বন্দিদের মাঝে কিছুটা হলেও আনন্দ এনে দিয়েছে, যা চার দেয়ালের সীমা পেরিয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইউটিউবের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করেছে ফিফা। এতে করে সম্প্রচার অধিকারধারীরা ভিডিও প্ল্যাটফর্মটিতে ম্যাচের অংশ সরাসরি স্ট্রিম করতে পারবে, যা বিশ্বজুড়ে তরুণ দর্শকদের কাছে সহজে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। ফিফা এই চুক্তিকে ‘গেম-চেঞ্জিং অংশীদারত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।চুক্তির আওতায় আগামী ১১ জুন-১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর প্রথম ১০ মিনিট সম্প্রচার করতে উৎসাহিত করা হবে। যা এক ধরনের প্রলোভন হিসেবে কাজ করবে, যাতে তরুণ দর্শকরা পরে টেলিভিশনের মতো প্রচলিত মাধ্যমে পুরো ম্যাচ দেখতে আগ্রহী হয়।ফিফা জানিয়েছে, সম্প্রচারকারীরা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে নির্বাচিত কিছু ম্যাচ সম্পূর্ণভাবে স্ট্রিম করতে পারবে। এতে বিশ্বব্যাপী দর্শকরা আকৃষ্ট হবে এবং পুরো প্রতিযোগিতা কোথায় দেখা যাবে তা প্রচার করবে।ফিফা যোগ করেছে, তারা তাদের বিশ্বকাপ আর্কাইভের কিছু অংশ ইউটিউবে শেয়ার করবে, যার মধ্যে থাকবে পুরোনো ম্যাচ এবং ফুটবল ইতিহাসের অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত।যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে ফিফা বিশ্বজুড়ে ইউটিউব নির্মাতাদের একটি দলকে অভূতপূর্ব সুযোগ দেবে ১০৪ ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট ঘিরে নানা কনটেন্ট তৈরির জন্য।এই চুক্তির আর্থিক মূল্য কত সেটি অবশ্য প্রকাশ করেনি ফিফা।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা মারা গেছেন। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার (১৮ মার্চ) তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘এশিয়া দো’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সুতোমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে অ্যানিমেশন জগতে।মিন্ট নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন সুতোমু। এ পরিচালককে জাপানের অ্যানিমেশন শিল্পে অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। ক্যারিয়ারে ‘ডোরেমন’-এর পরিচালনা ছাড়াও সিরিয়াল ও সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।সুতোমু শিবায়ামা ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ‘ডোরেমন’ টিভি সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, ডোরেমনের জনপ্রিয় ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে। নোবিতা, শিজুকা ও ডোরেমন চরিত্রগুলোকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলার পেছনে তার অবদান অনবদ্য।সুতোমু ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা আনিমেশন প্রতিষ্ঠানে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বহু জনপ্রিয় অ্যানিমেশন উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন।অ্যানিমেশন শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পান এ নির্মাতা। তার মৃত্যুতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল, ভক্ত ও শুভাকাঙক্ষীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রিয় ছোটবেলার কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এই নক্ষত্রের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেকড়ের টানে ঘরমুখো মানুষের অনুভূতি তুলে ধরেই নিজের নতুন মৌলিক গান ‘ফেরা’ নিয়ে হাজির হয়েছেন সংগীতশিল্পী নাবিলা নূর কুহু। গানটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাই ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।গানের কথা লিখেছেন কুহু নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অটমনাল মুন, যিনি ব্লুজ ও জ্যাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে গানটিতে স্বতন্ত্র একটি আবহ তৈরি করেছেন।ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন মীর হিশাম। সাধারণ ভিডিওর বাইরে গিয়ে স্কেচ অ্যানিমেশনের মাধ্যমে গানটির আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।কুহু বলেন, ‘‘‘ফেরা’-তে ঘর ছেড়ে দূরে থাকা মানুষের নস্টালজিয়া ও দীর্ঘদিন পর নিজের ঘরে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে সেই আবেগ দোলাবে।’’শিল্পী হিসেবে কুহু শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় যুক্ত। তিনি ছায়ানট থেকে নজরুলগীতিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন, শুদ্ধসংগীত তালিম নিয়েছেন অনুপ বডুয়ার কাছে, এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।শিল্পীর উল্লেখযোগ্য মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বেহাগের এই রাত’, ‘দ্য সং অফ এ রোডট্রিপ’, ‘শহুরে মায়া’, ‘ছায়াহরিণের ডাক’ ও ‘শূন্যতায় জীবন’। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের গান দিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য এই নতুন গানটি দোলা এবং আনন্দ ছড়াবে—তাই প্রত্যাশা কুহুর।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজন করেছে ২ দিনব্যাপী প্রথম ‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’। ১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং ৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে।উৎসবের পর্দা উঠবে ২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। পরে প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরঙ’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাঁকন পরিচালিত ‘ডট’।২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শকরা দেখতে পাবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের।কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘মুঠোফোনের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে সিনেমা দেখার এই যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ও আধুনিক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার লাবণী বিচ পয়েন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখানো হবে ৩টি ছবি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস। সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা সিজন–৬”। বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী বাছাই করা হয়।নির্বাচিত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে রমজান মাসজুড়ে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৯–এ বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রচারিত এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্ব পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী ও আবু বকরসহ সংশ্লিষ্টরা।প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়—ক গ্রুপ: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিখ গ্রুপ: ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে সসাস-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের আসরে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন পান ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাস নয়—সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” ‘সেরাদের সেরা’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার সমন্বয় ঘটছে। আয়োজকদের আশা, এই মঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের সেই প্রতিভাবান মুখগুলো, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটিকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের অনুমতি দেয়। মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমাটির স্থিতিকাল ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা। সোমবার রাতে সামাজিক আমধ্যমে সার্টিফিকেট প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোর্তিময়ীসহ আরও অনেকে।এদিকে প্রিন্স ছাড়াও মুক্তি মিছিলে থাকা আরও চার সিনেমা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন গত সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেগুলো হচ্ছে- ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও প্রেশার কুকার। প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ভিন্ন ধারার হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্সর সার্টিফিকেশন পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
‘সাহস আর সমর্থন নিয়ে সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মন জানালা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মন জানালার আয়োজনে নারীর আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও নিজেকে যত্ন নেওয়ার গুরুত্বের কথা তুলে ধরের তারা।অতিথিরা বলেন, হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে। সমালোচনা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জবাব দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। জীবনের চলার পথে ট্রমা থাকবে, নানা রকম বাধা আসবে; এগুলো মোকাবিলা করে নিজেকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে।গত ৭ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডির প্যারাগন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর, রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন, মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ , চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক মৌসুমী মৌ, মন জানালার সহ–প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুল করিমমূলত ৪০ উর্ধ্ব নারীদের নিয়ে কাজ করে এই সংগঠন। ‘গিইভ টু গেইন’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের দেড় শতাধিক নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষক ও কমিউনিটি নেত্রী অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর বলেন, ‘আমি হতাশায় বিশ্বাসী না। আমাদের নারীরা যে হতাশায় বিশ্বাসী এটা আমি মানি না। কারণ, আমি আমার ভাগ্য নিয়েই এসেছি। আমরা কেউ জানি না কার ভাগ্যে কী আছে। তাই আমাকে এগিয়ে যেতেই হবে আমার নিজের জন্য, আমার বাচ্চাদের জন্য, আমার পরিবারের জন্য, আমার সমাজের জন্য, আমার দেশের জন্য।’রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন কথা বলেন নারী স্বাস্থ্য নিয়ে। আমরা অনেক সময় শরীরকে খুব শক্ত মনে করি।ভাবি — একটু কম ঘুমালে কিছু হবে না,সমস্যা নেই, পানি কম খেলেও শরীর তো চলছে!কিন্তু সত্যিটা হলো—শরীরকে শাস্তি দিলে সে চুপ থাকে না। আজ না হোক, একদিন সে হিসাব নেবে। যখন নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হয়, তখন তারা শুধু নিজেরাই উন্নতি করে না—বরং তাদের পরিবার, অর্থনীতি এবং পুরো দেশও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়! ৪০ উর্ধ্ব নারীদের একে অন্যের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘নারীরাই নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বী। সব জায়গায় নারীদের সাথেই আমার লড়তে হয়েছে। আমি কখনো সেটা মুখে উত্তর দিইনি, আমি আমার কাজে প্রমাণ করেছি। আমার কাছে মনে হয় যে “ইগনোর” একটা বিষয় আছে, যেটা অনেক বড় শাস্তি। আপনাকে একজন অনেক কথা বলে গেল, আপনি চুপ করে থাকলেন, একটা টাইমের পরে কিন্তু সে আর কথা বলবে না।’চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী এসেছিলেন তাঁর মাকে নিয়ে। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের বয়সে পৌঁছাইনি; কিন্তু আপনারা প্রত্যেকে এক একটা জার্নি কমপ্লিট করে এখানে বসে আছেন। আপনারা সে সময়ে কথা বলেছেন যখন মেয়েদের কথা বলা অতটা সহজ ছিল না। আপনারা সে সময়ে অনেকে কাজ করেছেন যখন মেয়েদের পড়াশোনা করার অনুমতি খুব একটা ছিল না। আমাদের প্রত্যেকের কোনো না কোনো ট্রমা আছে। তার মানে এটাও না যে আপনার ট্রমা আপনি নিজের মধ্যে চেপে রেখে নিজেকে শেষ করে দেবেন।’মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক মৌসুমী মৌ বলেন, নারীর মানসিক মুক্তি সবার আগে দরকার। মানসিক মুক্তি মিললেই নারী স্বাবলম্বী হবে, তার অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।’ নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য এই অনুষ্ঠানে ৫ জন নারীকে ‘সিটি ব্যাংক মন জানালা আলোকিত নারী সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন— নাবেগাহ্ দোরদানা, জাহেদা খানম, বদরুন্নেছা সরকার, লায়ন ইয়াসমিন শাহাদাত ও কানিজ ফাতেমা।তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডলি জহুর, সাদিয়া ইসলাম মৌ, ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন ,জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশি ও মন জানালার সহ–প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুল করিম। অনুষ্ঠান সহযোগিতায় সিটি ব্যাংক পিএলসি এবং ইস্পাহানি। শেষে সবাই ইফতার ও ডিনারে অংশগ্রহণ করেন।
দেশের বাজারে একদিনে দুই দফায় কমেছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে এক দফা স্বর্ণের দাম কমানোর পর বিকেলে আরেক দফা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। দুই দফায় মিলিয়ে প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম কমেছে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই কার্যকর হয়েছে।বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।দাম কমানোর প্রায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।এর আগে, সবশেষ আজ সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সকাল ১০টা থেকেই। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৬ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার
জার্মানিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল (শুক্রবার)। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম এই উৎসবকে ঘিরে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির প্রায় সব বড় শহরেই প্রবাসীদের উদ্যোগে বড় বড় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের তিনটি স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাবিন মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে– সকাল সাড়ে ৭টায় জার্মান খুতবা ও বাংলা খুতবাসহ প্রথম জামাত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৮টা এবং সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।এই শহরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশন সংলগ্ন মুনশেনার স্রাসেতে একটি স্থায়ী মসজিদ ক্রয়ের চেষ্টা চলমান রয়েছে; সেখানে সকাল ৭টায় জার্মান এবং সাড়ে ৮টায় বাংলা খুতবাসহ দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের উদ্যোগে সালবাও বরনহাইম অডিটোরিয়ামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।পার্শ্ববর্তী ওফেনবাখ শহরের ‘আইনহাইট ডেস ইসলামে’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। মাইঞ্জ শহরের তাকওয়া মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা এবং সকাল সাড়ে ৮টায়।রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির সব বড় শহরেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা পেরুর রাজধানী লিমা। যেখানে রমজানের প্রকাশ্য ঘোষণা, মাইকে আজানের সুমধুর ধ্বনি কিছুই নেই। তবে ১১ কোটি মানুষের এই কর্মব্যস্ত শহরে ট্রাফিক আর ব্যবসার চিরচেনা ছন্দে রমজান যেন এক শান্ত নীরবতা বয়ে যায়। এই খ্রিষ্টানপ্রধান দেশটিতে কয়েক দশক ধরে টিকে আছে একনিষ্ঠ এক মুসলিম জনপদ, যাদের কাছে প্রতিটি রমজান হলো ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা।পেরুর মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে মুসলিমরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। সরকারি হিসব অনুযায়ী মাত্র ২ হাজার ৬০০ জন মুসলিম বসবাস করেন এখানে। এই ছোট্ট জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার মানুষের বাস রাজধানী লিমায়। বাকি ৬০০ জন থাকেন চিলির সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে।লিমার ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন’ মসজিদের ইমাম আহমেদ মোহাম্মদ (৩৬) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে রমজানে চারপাশ থেকে যে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন পাওয়া যায়, এখানে তা নেই। এখানে মানুষ নিজের মতো জীবন চালায়, অফিস-আদালত সব স্বাভাবিক থাকে। তাই আমাদের জন্য এটি ঈমানের এক বড় পরীক্ষা।প্রশান্ত মহাসাগরের কোলঘেঁষা একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদে ইফতারের সময় নেমে আসে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। শুধু মুসলিম নন, মসজিদে ভিড় করেন কৌতূহলী প্রতিবেশীরাও। ইমামের মতে, ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো মানুষের সেবা করা এবং খাবার ভাগ করে নেওয়া।ইফতারের দস্তরখানে খেজুর ও শরবতের পাশাপাশি থাকে পেরুর ঐতিহ্যবাহী ‘এসকাবেচে’ (সিরকা ও পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা মুরগির ঝাল পদ)। এখানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিসর, ভেনেজুয়েলা এবং পেরুর স্থানীয় মুসলিমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতার করেন। শুধু তাই নয়, রমজান মাসে লিমা ও এর আশপাশের প্রায় ২ হাজার দরিদ্র মুসলিম ও অমুসলিম পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে এই মসজিদ কর্তৃপক্ষ।১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এক সময় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। মজার তথ্য হলো, পেরুতে ১৯ শতকের শেষের দিকে আরব অভিবাসীদের মাধ্যমে ইসলাম এলেও বর্তমানের মুসলিমদের প্রায় ৯৯ শতাংশই জন্মসূত্রে পেরুভিয়ান। তারা নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।তেমনই একজন আবু বকর। আমাজন অঞ্চলের উকায়ালি থেকে আসা এই যুবক ১৫ বছর আগে একদল পাকিস্তানি মুসলিমের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বিশাল ক্যাথলিক জনসমুদ্রের মাঝে আমাদের অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের জীবনে যে পরিবর্তন এনেছে, তা আমাদের শান্তি দেয়।পাকিস্তানের ফরিদ নাসিম ১৯৮০-এর দশকে ইনকা সভ্যতার টানে পেরুতে এসেছিলেন। তার মতে, পেরুর মানুষ মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে খুব একটা জানে না, তাই রমজান নিয়ে তাদের প্রচুর কৌতূহল। ইমাম আহমেদ মোহাম্মদের ভাষায়, ইসলামে বর্ণ, ভাষা বা সীমান্ত কোনো বাধা নয়। এখানে সবাই সমান এবং আমরা সবাই মিলে এই দেশের মঙ্গল কামনায় ঐক্যবদ্ধ।সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ঈদের ছুটিতে সমুদ্রের টানে অনেকেই ছুটে যান দক্ষিণের পর্যটন শহর কুয়াকাটায়। তবে এই সমুদ্রকন্যার পাশেই রয়েছে আরেক অপার বিস্ময়- নিঃশব্দ, নির্জন ও স্বপ্নময় চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল বুকে স্বপ্নের মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার।দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দিগন্তজোড়া জলরাশির মাঝখানে সৃষ্টিকর্তা যেন নিভৃতে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো স্বর্গভূমি। কাছে গেলে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়। অসীম আকাশ আর অনন্ত সাগরের মিলনরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক নিঃশব্দ কবিতা। সোনালি বালুকাবেলা, ঢেউয়ের ছন্দময় আছড়ে পড়া আর বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ সব মিলিয়ে চর হেয়ার এক অনাবিল প্রশান্তির ঠিকানা।দ্বীপের ভেতরে পা রাখলেই মেলে আরেক ভিন্ন জগতের দেখা। গহীন বনের ছায়াঘেরা পথ, পাখিদের নিরন্তর কলকাকলি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ সব মিলিয়ে এখানে বিরাজ করে এক অপার্থিব নির্জনতা। মনে হবে, কোলাহলমুখর পৃথিবী থেকে আপনি অনেক দূরে, যেখানে সময়ও যেন ধীর হয়ে যায়। এখানে শত শত পাখির কলরবে ভোরের নীরবতা ভাঙে, বিস্তীর্ণ বালুচরে লাল কাঁকড়ার দল ছুটে বেড়িয়ে আঁকে জীবনের চঞ্চল রেখাচিত্র। ঢেউয়ের ফেনায় ভেজা তটরেখা, দূরে ভাসমান মাছধরা নৌকা আর আকাশজুড়ে সাদা মেঘ সব মিলিয়ে চর হেয়ার স্বপ্নীল জগৎ।সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কুয়াকাটা ভ্রমণের সঙ্গে চর হেয়ার হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য। এই ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে দক্ষিণের এই নিভৃত দ্বীপে কাটাতে পারেন এক ভিন্ন রকম সময়। যেখানে প্রকৃতি নিজেই আপনার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।ভৌগোলিক অবস্থান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার। কেউ কেউ একে ‘হেয়ার চর’ নামেও ডাকেন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কলা গাছিয়ার চর’ নামেও পরিচিত। চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘সোনার চর’, যেখানে হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। পূর্বে চর আন্ডা, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ ও তার পাশেই চর কাশেম। এসব চরের নান্দনিক দৃশ্যও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এই চরের দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার। আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে চরটির দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।ভ্রমণের আদর্শ সময়বঙ্গোপসাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এখানে ভ্রমণের আদর্শ সময় শীতকাল। এ সময় অতিথি পাখির দেখা মেলে বেশি। তবে এই সময়েও চরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।যেসব সুবিধা রয়েছেচর হেয়ারে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট তাবু ও কটেজ। তাবু প্রতি ভাড়া এক রাতের জন্য ৪০০ টাকা। সমুদ্রের ঢেউয়ের কলকল ধ্বনি শুনতে শুনতে নির্জন রাতে তাবুতে কাটানো সময় হয়ে উঠতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা। এছাড়া সৈকতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছাতাসহ আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। বনভূমির ভেতরে গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনা শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সীদের জন্য আনন্দদায়ক।খাবারের জন্য রয়েছে সাগরের তাজা মাছ, মুরগি, ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। থাকা, খাওয়া, ট্রলার সার্ভিস, তাবু ও কটেজসহ ভ্রমণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সোনার চর ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলস’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চর হেয়ার ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান। তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭১৯৩৬৮১৭৮।তবে এখানে পর্যাপ্ত দোকান বা ফার্মেসি না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো। মোবাইল চার্জিংয়ের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাও রাখলে সুবিধা হবে।যেভাবে যাবেননৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায়। ডেকের ভাড়া ৬৫০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা। সেখান থেকে ১৫০০ টাকায় ট্রলার (রিজার্ভ) বা ২০০০ টাকায় স্পিডবোটে চর হেয়ারে যাওয়া যায়। কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়া ভাগাভাগি করা সম্ভব।সড়কপথে: ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে পটুয়াখালী চৌরাস্তা পর্যন্ত বাসভাড়া প্রায় ৬৫০ টাকা। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকায় ৪০ মিনিটে হরিদেবপুর ফেরিঘাট। ট্রলারে ১০ টাকায় গলাচিপা শহরে উঠে মোটরসাইকেলে ১৫০ টাকায় পানপট্টি লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায় (সময় প্রায় ২৫ মিনিট)। পানপট্টি থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা ও বিকেল ৩টায় লঞ্চ চরমোন্তাজের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। প্রায় ৩ ঘণ্টার নদীপথে আগুনমুখা ও তেতুলিয়া নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চরমোন্তাজ থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টা এবং স্পিডবোটে ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন চর হেয়ারে।বিকল্প পথ: গলাচিপার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট থেকে ১০ হাজার টাকায় স্পিডবোট ভাড়া করা যায়। এছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসা যায়। মাত্র ৩০০০-৩৫০০ টাকায় আপনি চলে আসতে পারবেন চর হেয়ারে।যা যা দেখবেনচর হেয়ারে রয়েছে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত,যেখানে আচড়ে পড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি। দ্বীপের বুকে আছে ঝাউগাছ আর পেয়ারাগাছের বন। এছাড়া আছে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার ঝোপঝাড়। সবুজ বনভূমির গাছগুলোতে বিচরণ করে হাজারো দেশীয় ও বিদেশী অতিথি পাখি যার মধুর কণ্ঠে কিচিরমিচির গানে ভুলে যাবেন শহুরে কোলাহলের অবসাদ।দোলনায় শুয়ে দুলতে দুলতে পাখিদের গানে মুগ্ধ হবেন আপনি। সারস, বক, শামুকখোল, মদনটাকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় এখানকার গাছের মগডালে। আর ঝোপগুলো ডাহুক, কোড়াসহ নাম না জানা পাখিদের অভয়ারণ্য সৈকতে বসে সাগরের গর্জন আন্দোলিত করে তোলে মন। এখান থেকে দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরা। সূর্যোদয়ের সময় লাল আভায় রাঙা দিগন্ত আর সূর্যাস্তের ক্ষণে সোনালি-কমলা রঙে ঢেকে যাওয়া জলরাশি হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অনির্বচনীয় মায়া। বালুকাময় সৈকত এর চারদিকে দেখা যাবে লাল কাঁকড়া। এছাড়া এই চরটি চমৎকার এক পিকনিক স্পট। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা ব্যবস্থা। চর হেয়ার শুধু একটি দ্বীপ নয় এ এক অনুভূতি, বিস্ময়, নিঃশব্দ সৌন্দর্যের ঘোষণা। ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি, নির্জনতা ও সমুদ্রের মিলিত রূপ উপভোগ করতে চাইলে দক্ষিণের এই স্বর্গভূমি হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ (৮ মার্চ) উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অন্যতম।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন। এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।উল্লিখিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা অধিদফতর। এ ছাড়া, বিভিন্ন অফিস ও সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।সারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারও সারা বিশ্বের সব দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি পালনে প্রতিবছরই একটি প্রতিপাদ্য সুনির্দিষ্ট করা হয়।
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা অপো স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একেবারে নতুন অপো এ৬এস প্রো।উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে অপো গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক পার্টনারদের মাধ্যমে বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত অপো স্মার্টফোন কিনলে গ্রাহকরা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং কমিউনিটি ব্যাংক কার্ডধারীরা ফ্ল্যাট ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, অপো রেনো১৫ এফ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন, যা ঈদ উপলক্ষে স্মার্টফোন আপগ্রেড করতে আগ্রহীদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।এই ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ অপো এ৬এস প্রো, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি। এই ডিভাইসে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এআই অটো জুম ৫০মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা স্মার্ট ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বড় গ্রুপ সেলফি সহজে ধারণ করতে পারে—ঈদের পারিবারিক আড্ডা ও আনন্দময় মুহূর্ত ধারণের জন্য একেবারে উপযুক্ত।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “ঈদ আনন্দ, একসাথে থাকার মুহূর্ত এবং স্মরণীয় সময়ের উৎসব। এই বিশেষ অফারগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে চাই এবং একই সঙ্গে অপো এ৬এস প্রো -এর মতো উদ্ভাবনী ডিভাইস তুলে ধরতে চাই।”
কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। সবাই ফেরেশতা হয়ে গেছে মাশাআল্লাহ’। তার এই পোস্টের নিচে কয়েক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে যানজট ও চাঁদামুক্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটারিং করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে কোনো জনসচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার বা সংগঠনের নেতাদের কোথাও কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এটা একটা কাগজে-কলমে ভুঁইফোঁড় সংগঠন।যদিও এর আগে ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।