সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্টবিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।পর্যায়ক্রমে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনকে। এর আগে গত ৩১ জুলাই অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, জহিরুল ইসলাম রুবেল, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির, শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক এবং মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে রায়হান আলী ও আনজুম সাকিব নামের দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং অনেককে গুরুতর আহত করেছেন আসামিরা।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলী গুলিতে নিহত হন। একই সময় শাহ মখদুম কলেজের সামনে নিহত হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও ৪৫ জন গুরুতর আহত হন।অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার এলাকা, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় এবং আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কারবার ও চোরাচালানে জড়িত মাদকের সকল গডফাদারদের ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।এর আগে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়।বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।দীর্ঘদিন ধরেই কোস্ট গার্ড নৌ সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তায় কাজ করছে। মিয়ানমার নৌ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক কারবার আটকানো যাচ্ছে না। মাদক উদ্ধারের তৎপরতার মধ্যেও চোরাচালান চলছে। এটা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ আরও বাড়ানো হবে কি-না জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ডমহাপরিচালক বলেন, মাদক যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা এটা আমরা সবাই জানি। মাদকের ব্যাপারে আমি যেটা সমস্যা দেখেছি যে, কেন জানি এ দেশে মাদকের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা থাকলে সাপ্লাই হবে, সরবরাহ হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে গত দুই বছরে শুধুমাত্র দেড় কোটি ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাপকসংখ্যক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকের কারবার সমূলে নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে নতুন শক্তিশালী আইনও পাশ হতে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। যাতে তারা এ ব্যাপারে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের নীতি মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে, মাদকের যতো গডফাদার রয়েছে তাদের ধরার জন্য। যারা মাদক কারবার ও চোরাচালানে জড়িত তাদের ধরা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে গডফাদারদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে একদম সমূলে মাদককে বন্ধ করা যায়।কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক বলেন, আমি মনে করি যে এখানে সমস্ত মন্ত্রণালয় বা সমস্ত দেশেরই একটা দায়িত্ব আছে। কারণ আমরা জনগণ যদি সচেতন না হই, মাদকের ব্যবহারের বিষয়কে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে যদি সিরিয়াসলি না নিই তাহলে কিন্তু ডিমান্ড যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ সাপ্লাই বন্ধ করা সম্ভব হবে না, যতোই ব্যবস্থা নিই না কেন।তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছি। গত কয়েক বছরে যে পরিমাণ মাদক কারবারি ধরা হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো এতো ধরা পড়েনি। সুতরাং মাদকের ব্যাপারে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।এ সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশে দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সরেজমিনে মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধিত এ সড়কের উদ্বোধন করবেন।প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে তাদের দুর্গন্ধ ও ময়লার দুর্ভোগ সহ্য করে যাতায়াত করতে হয়েছে। খুব দ্রুতই এখানে আবর্জনার পরিবর্তে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষ ও সবুজ পরিবেশ দেখতে পাবেন যাত্রীরা।ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, আমরা এখানে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করেছি। নির্ধারিত ল্যান্ডফিলের বাইরে মহাসড়কে কেউ ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফরিদা খানম আরও বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হলে এখানে দুটি উইন্ডমিল স্থাপন করা হবে। এসব উইন্ডমিল থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের বাতি জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়ের নির্দিষ্ট স্থানে বালি ও মাটি ফেলে জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর সেখানে নারিকেল, সুপারি ও নিমসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করা হয়েছে। মাটি ধরে রাখতে বিশেষ ধরনের ঘাস লাগানোর পাশাপাশি অননুমোদিতভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে মহাসড়কের পাশে মজবুত নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় ও দুর্গন্ধের কারণে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের এ অংশটি ছিল যাত্রী ও স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ। সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি একটি পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব সড়কে রূপ নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গ্রিসের সিফনস দ্বীপে স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উড্ডয়নের সময় একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন নিহত হয়েছে।হেলিকপ্টারটিতে তারা তিনজনই ছিলেন বলে দেশটির দমকল বাহিনী জানিয়েছে। খবর এএফপির।দৈনিক কাঠিমেরিনি জানিয়েছে, কাছের একটি হেলিপ্যাড থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বেল হেলিকপ্টারটি সাগরে পড়ে যায়। পত্রিকাটি আরও জানায়, এর পাইলটকে মাত্র দুই মাস আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্প্রতি নিজেদের কারখানায় ‘মৌসুমি রোগ থেকে সুরক্ষা ও সচেতনতা ক্যাম্প’আয়োজন করেছে হপ লুন অ্যাপারেলস লিমিটেড। ব্র্যাক হেলথকেয়ারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব মেডিক্যাল সেন্টারে বিনা মূল্যে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।এছাড়াও, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থ জীবনযাপন নিয়ে তাঁদের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা।এই আয়োজনের অংশ হিসেবে কর্মীদের রক্তে শর্করার মাত্রা (ব্লাড সুগার), রক্তচাপ ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা পড়লে হপ লুনের নিজস্ব চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ঐ কর্মীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। ফলে ক্যাম্পে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দুটিই পান কর্মীরা।স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলেন ব্র্যাক হেলথকেয়ারের স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ। সাধারণ রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন এবং কর্মক্ষেত্র ও বাড়িতে কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়ে তাঁরা কর্মীদের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সুস্থতার সঙ্গে কাজের দক্ষতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।একজন কর্মী সুস্থ থাকলে শুধু তাঁর নিজের কাজ নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও এর প্রভাব পড়ে। এ বিষয়টিও কর্মীদের সামনে তুলে ধরেন স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস কর্মীদের নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিতে সহায়তা করতে পারে বলেও তাঁরা জানান।ব্র্যাক হেলথকেয়ার লিমিটেডের কিউএ ও পেশেন্ট এক্সপেরিয়েন্স ম্যানেজার ডা. তাহমিদ হাসান প্রবাদ বলেন, “কর্মীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে কর্মীরা কর্মস্থলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন।”হপ লুন বাংলাদেশের সোশ্যাল ইনিটিয়েটিভস হেড গুলশান আরা বলেন, “কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করাও সমনভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কর্মীদের জন্য দুটো দিকই নিশ্চিত করতে চেয়েছি।”পোশাক কারখানায় কর্মীদের দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। তাই তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এ হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে কর্মস্থলেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন হপ লুনের কর্মীরা। কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও এ সার্ভিসের যাত্রা শুরু হবে।চট্টগ্রামে প্রাথমিকভাবে দুটি বাস দিয়ে এ সার্ভিস চালু করা হবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বাস দুটির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর বাসগুলো কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকা থেকে নগরীর ফ্রি পোর্ট-পতেঙ্গা রুটে চলাচল করবে।চট্টগ্রামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। শুরুতে শুধু রাজধানী ঢাকায় এ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় চট্টগ্রামকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।এরশাদ উল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামের জন্য দুটি বাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে বাস দুটি নির্ধারিত রুটে চলাচল শুরু করবে। চট্টগ্রামকে এ উদ্যোগের আওতায় রাখায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চট্টগ্রামেও চালু হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও বিআরটিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।একই দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।বিআরটিসি সূত্র জানায়, গোলাপি রঙের এসব বাসের চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও নারীরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গণপরিবহন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।উদ্বোধনের পর নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুযায়ী এসব বাস চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের বিশেষ বাস সার্ভিস আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চুক্তিতে আরও এক বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকছেন ড. নাসিমুল গনি।সোমবার তার মেয়াদ বাড়িয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব থাকছেন মো. এহছানুল হক। তাকে আবারও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ২১ আগস্ট। অনলাইনে এ আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাদের বিভিন্ন দূর-দূরান্তে পোস্টিং রয়েছে, তাদের ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করছি। আজকালের মধ্যেই সেটা শুরু করতে যাচ্ছি। ট্রান্সফারের বিষয়টার পর আমরা নিউ রিক্রুটমেন্টের দিকে যাচ্ছি।এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময়সূচি, আবেদন নিষ্পত্তি এবং অনলাইনে বদলি নিয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগির বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।বদলি আবেদনপ্রক্রিয়ায় দায়িত্বরত মাউশির একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, আবেদনের সময় প্রাথমিকভাবে ১০ দিন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এটি কমতে বা বাড়তে পারে। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আরও ৫ দিন সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর শিক্ষকদের বদলি করা হবে।শিক্ষকরা তিনটি এলাকার বাইরে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করতে গেলে ‘আবেদন যোগ্য নন’ বলে নোটিফিকেশন দেখাবে সফটওয়্যার।মাউশি সূত্র জানায়, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোথাও বদলি আবেদন করা যাবে না। এলাকাগুলোর বাইরে আবেদন নেবে না সফটওয়্যার। সফটওয়্যার সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে।মাউশির কর্মকর্তারা জানান, নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের বাইরে আবেদনের সুযোগ নেই। কেউ চাইলেও আবেদন করতে পারবেন না।
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—অনিক, আকাশ খান ও চান্দি বাবু।রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, মামলার বিচারকাজে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।মামলার বিবরণ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সীমান্তের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে তার ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত তা কার্যকর হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা হাজী আলম। তিনি দণ্ডপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
কারবার ও চোরাচালানে জড়িত মাদকের সকল গডফাদারদের ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।এর আগে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়।বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।দীর্ঘদিন ধরেই কোস্ট গার্ড নৌ সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তায় কাজ করছে। মিয়ানমার নৌ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক কারবার আটকানো যাচ্ছে না। মাদক উদ্ধারের তৎপরতার মধ্যেও চোরাচালান চলছে। এটা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ আরও বাড়ানো হবে কি-না জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ডমহাপরিচালক বলেন, মাদক যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা এটা আমরা সবাই জানি। মাদকের ব্যাপারে আমি যেটা সমস্যা দেখেছি যে, কেন জানি এ দেশে মাদকের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা থাকলে সাপ্লাই হবে, সরবরাহ হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে গত দুই বছরে শুধুমাত্র দেড় কোটি ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাপকসংখ্যক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকের কারবার সমূলে নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে নতুন শক্তিশালী আইনও পাশ হতে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। যাতে তারা এ ব্যাপারে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের নীতি মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে, মাদকের যতো গডফাদার রয়েছে তাদের ধরার জন্য। যারা মাদক কারবার ও চোরাচালানে জড়িত তাদের ধরা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে গডফাদারদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে একদম সমূলে মাদককে বন্ধ করা যায়।কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক বলেন, আমি মনে করি যে এখানে সমস্ত মন্ত্রণালয় বা সমস্ত দেশেরই একটা দায়িত্ব আছে। কারণ আমরা জনগণ যদি সচেতন না হই, মাদকের ব্যবহারের বিষয়কে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে যদি সিরিয়াসলি না নিই তাহলে কিন্তু ডিমান্ড যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ সাপ্লাই বন্ধ করা সম্ভব হবে না, যতোই ব্যবস্থা নিই না কেন।তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছি। গত কয়েক বছরে যে পরিমাণ মাদক কারবারি ধরা হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো এতো ধরা পড়েনি। সুতরাং মাদকের ব্যাপারে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।এ সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ৬ মাসের মেয়াদকালের পর্যালোচনামূলক সংবাদ সম্মেলনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি নেতারা অভিযোগ করেছেন; ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ইত্যাদি নানা স্বপ্নময় প্রতিশ্রুতির কথা বলে বিএনপি সরকার দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ আর গ্যাসের হাহাকার, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, অর্থনীতিকে আরো গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথে না হেঁটে জনগণের মতামতকে পায়ে দলনের নতুন ধরনের বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিচ্ছেন। প্রথম ৬ মাসে জনগণ যে নতুন সম্ভাবনা আশা করেছিল তা চরম হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে বলে মনেকরে দলটি। ১৭ আগস্ট সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর বিজয় নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে “সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান” বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এবি পার্টি। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ৬ মাস কম সময় না, ৬ মাস হলো সরকারের মেয়াদকালের ১০ ভাগের ১ ভাগ। তবে ৬ মাসেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা ঠিক হবেনা। সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি সূচক থাকে যার মধ্যে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসন ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়ন ইত্যাদি। এসব সূচকের বিবেচনায় ৬ মাসে তেমন আশানুরূপ উন্নতি নেই। বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চাইতে এখন পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এ মূহুর্তে খুবই হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী জীবন মাণ উন্নত না হয়ে আরও অধঃপতিত হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় লোক নিয়োগ ও ক্যাম্পাস ভিত্তিক সহিংসতা সরকারের সুশাসন নিয়ে মারাত্মক সংশয় তৈরি করেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবন সংগ্রাম অবর্ণনীয় কষ্টে নিপতিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শত শত কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ১ হাজারেরও বেশি নতুন কল কারখানা চালুতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকার যেখানে নতুন কর্মসংস্থানের আশা দেখিয়েছিল সেখানে উল্টো বেকারত্ব আরও বেড়েছে। অর্থনীতি সার্বিক বিবেচনায় স্থবির।জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সকল দলকে নিয়ে এক টেবিলে বসার জন্য আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম কিন্তু সরকার আমাদের কথা শোনেন নাই।জ্বালানি সংকট কিন্তু আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কেননা বিদ্যুৎ ও গ্যাসে পূর্বের মাফিয়া চক্র এখনো বিদ্যামান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার আচরণ ও কর্মযজ্ঞে মিতব্যয়ীতা ও সময়ানুবর্তিতার চর্চা, জৌলুস পরিহার করে সাদামাটা জীবনাচরণের নতুন সংস্কৃতি চালু করার বার্তা দিচ্ছেন কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার কোন ছায়া নেই। খালখনন, ফ্যমিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতা চালুসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করে সামাজিক অর্থনীতিতে যে গতি আনতে চেয়েছেন তার কোন ছাপ সমাজে আমরা দেখছিনা উপরন্তু এসব নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ আসছে। সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে তাতে বিরোধী দলের আন্দোলন করারই কোন দরকার হবেনা। জনদুর্ভোগের কারণে সাধারণ নাগরিকেরাই ধৈর্য্য হারিয়ে রাস্তায় নামবে বলে জনাব মঞ্জু অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন ৬ মাসের সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক। সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তে তারা সবার আগে দলীয়তন্ত্রকে প্রাধান্য দিচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার কালচার আবার ফিরে আসছে যা কাম্য ছিলো না, তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা এখন পর্যন্ত রয়েছে এটি ইতিবাচক দিক। পুরো সময় ধরে যাতে সরকারের এই রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় থাকে। ভারত সফরের বিষয়ে সরকারের অবস্থানকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি।তিনি আরো বলেন,বিএনপির ভাষায় গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু ৩১ দফা তো চাপিয়ে দেয় নি, এটি বিএনপির নিজস্ব দফা, সেই দফাগুলোর ৮-১০ টি দফা অমান্য করা হয়েছে। দলীয় নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন,যোগ্য মানুষ নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ হলে সমস্যা নেই। তাদের ওয়াদা ছিলো ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করবেন না কিন্তু তারা সেটি রাখেন নাই। বিচারবিভাগ ও দুদক পুনর্গঠন নিয়ে ওয়াদাও বিএনপি রাখে নি। নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত তাঁরা দলীয় নিয়োগ দিয়েছেন। ছয় মাসের মধ্যে বিএনপি তাঁর ৩১ দফা ভুলে গিয়েছে। গুম ও মানবাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী আইনের চাইতেও দূর্বল আইন করেছে। যারা গুম করে তাদেরকেই তদন্তের দায়িত্বের ক্ষমতা দিয়েছে বিএনপি সরকার। কোন সংসদে নীতিমালা করা ছাড়া জ্বালানি খাতকে বেসরকারি করণ খাতে দেওয়া যাবে না। আমরা বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে নয় তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। জঙ্গি ইস্যু সকল দলকে নিয়ে ডিল করার পরামর্শ দেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান,শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসির,কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ,মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা,নাটোর জেলা আহ্বায়ক মোকাররেবুর রহমান নাসিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহসীনুল হক চৌধুরী, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, কদমতলী থানার আহ্বায়ক কাজী মোঃ খোকন,ওয়ারী থানার সদস্য সচিব নূর নবী এবং বরিশালের নেতা জাকির হোসেন বারী।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধভাবে নকল তামাকজাত পণ্য (জর্দা) তৈরির কারখানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের এক ঘণ্টার মধ্যে শাকিল (২৪) নামে একজনকে আটক করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। তবে ঘটনায় অভিযুক্ত আরো দুইজন পলাতক রয়েছেন।সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কালা সড়ক সংলগ্ন কুকাদাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তার দুই ছেলে মিজান (৪০) ও শাকিল (২৪) দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়াই জর্দা তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড ও কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়। পরে গোপনে কারখানা চালুর খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান।এ সময় সাংবাদিকদের গালিগালাজ, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, আঘাতের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি ইউএনও মো. মাহবুব হাসান ও ওসি একেএম রেজাউল করিমকে জানানো হয়। এতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।এ ঘটনায় চ্যানেল এস টেলিভিশনের সংবাদ প্রতিনিধি হাদী চকদার ও বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি দুলদুল হোসেন রাজু সহ পাঁচ সাংবাদিক রাতেই অভিযুক্ত ওই তিন জনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে সেই অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে শাকিল নামে এক অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। তবে ঘটনায় আরো ২ জন অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন। রিপোর্টর্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের প্রতিনিধি হাদী চকদার বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন আচরণ আমরা কখনোই প্রত্যাশা করি না। আমরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শাকিলকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুজনকেও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডারউইনে বাংলাদেশ চালকের আসনে ছিল একেবারে প্রথম দিন থেকেই। সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানটা ক্রমেই শক্ত হয়েছে। দর্শক সমর্থকদের অপেক্ষাও ছিল বহুক্ষণ, বহু দিন ধরে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বাংলাদেশ ইতিহাসটা গড়েই ফেলল। অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৯ উইকেটে। অজি মুল্লুকে প্রথমবার তাদেরই ধসিয়ে দিয়ে জেতার দারুণ স্বাদ এসে ধরা দিল ইন্দ্রিয়ে।আশা ছিল, তার পিঠে একটু ভয়ও ছিল বৈকি! বিশ্বাস না হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রির ফাঁকে ফাঁকে সমর্থকদের মন্তব্যগুলো খুঁজে দেখুন? সেখানে বহু বাংলাদেশির কথা ছিল একটাই, ‘কত কিছুই তো হতে দেখলাম!’বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্শক–সমর্থক হলে বোধ হয় এই এক সমস্যা। শেষের আগে বিশ্বাসই হতে চায় না কোনো কিছু। ইতিহাস তাতে রসদ যুগিয়ে যায়, মুলতান টেস্টের ইনজামাম থেকে যে যাত্রার শুরু, ফতুল্লা টেস্টে রিকি পন্টিং, এরপর চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অতিমানব হয়ে ওঠা… সবকিছুই হয়েছে যে চোখের সামনে, সে চোখ কোনো কিছু হতে দেখার আগে যদি বিশ্বাস না করে, তাকে কি দোষারোপ করা যায়?কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা চোখের সামনে হতে দেখলেও বুঝি খানিকটা অবিশ্বাস চলে আসে মগজে, চিমটি কেটে দেখতে হয় ‘স্বপ্নে হচ্ছে না তো সব?’ এই ভুলটা ভাঙতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বোধ হয় তেমনই এক ঘটনা।কেন হবে না বলুন? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৮৫ রানে হারল মাসদুয়েক আগে, সেই দলে আজকের একাদশের ৭ জন ছিলেন। সেটাকে না হয় আপনি ঝড়ে-বকে বলে উড়িয়ে দিলেনই। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের ওই ইনিংস ব্যবধানে হারটা? সেই দলটা তো আজকের এই একাদশই ছিল মোটাদাগে!সেই দলটা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে, তাও এমন ৪ দিন ধরে ছড়ি ঘুরিয়ে! কে ভেবেছিল! অস্ট্রেলিয়া ভাবেনি, তা নিশ্চিত। মারারা স্টেডিয়ামের ভিএআইপি লাউঞ্জের দিকে তাকালেই বুঝা যায় বিষয়টা। অস্ট্রেলিয়া সফর কাভার করতে যাওয়া এক সহকর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেল, ম্যাচটা ৩ দিনে শেষ হয়ে যাবে, তাই না ভেবে ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিটই কাটেননি কেউ, আজকের দিনটায় ফাঁকা পড়ে আছে জায়গাটা!খেলাটা ৩ দিন পেরোনো নিয়েই যেখানে সন্দেহ ছিল অনেকের, সেখান থেকে বাংলাদেশের জয়… বিষয়টা অভাবনীয় ছিল। এতটাই অভাবনীয় যে বাংলাদেশের পক্ষে বাজির রেট ছিল ১-২০! বাংলাদেশ সে পাশার দানটা উলটে দিয়েছে পুরোপুরি।একটা টেস্ট জিততে একক নৈপুণ্য যথেষ্ট হয় না। বাংলাদেশের এই জয়ও একক নৈপুণ্যে আসেনি। শুরুটা করে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অজিদেরকে প্রথম চমকটা দিয়েছিলেন। সে চমকের দমক সইতে না পেরে স্বাগতিকরা অলআউট হলো ১৯৮ রানে। এরপরও শঙ্কা ছিল ব্যাটিংয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি যে দলের ঝুলিতে আছে, আরও একটা বার এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে দল, শঙ্কাটা ছিলই। তানজিদ হাসান তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত সে শঙ্কাটা বিদায় করলেন। তামিম করলেন সেঞ্চুরি, শান্ত তিন অঙ্কের দেখা না পেলেও গেলেন খুব কাছে, ৮৪ রানের এই ইনিংস চালকের আসনে জাঁকিয়ে বসার উপায় বাতলে দিল দলকে।১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট অবশ্য মাঝে নাড়িয়ে দিয়েছিল দলকে। এরপরই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আবির্ভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার তিনি সেঞ্চুরি না করলেও যা করলেন, তা দলকে এনে দিল বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ এর চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসেই পেয়েছে মোটে দুই বার, তাও আয়ারল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সে তেঁতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে; বিশালত্বটা বুঝুন তাহলে?কাজটা তখনও অর্ধেক হয়েছে। বাকি কাজটা সারতে হতো বোলারদের। হাসান মাহমুদ আবারও শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছিলেন। তবে মূল স্পটলাইটটা কেড়ে নিলেন মিরাজ। একে একে ৫ উইকেট। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে হারটা এড়াল বটে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া শেষমেশ অলআউট হয় ২৮৪ রানে। বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭। মামুলি লক্ষ্যে বাংলাদেশ পা হড়কায়নি। ১ উইকেট হারালেও সাদমান ইসলাম আর মুমিনুলের ব্যাটে চড়ে তুলে নিয়েছে ৯ উইকেটের দারুণ এক জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়। তাও ৪ দিন দাপট ধরে রেখে, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে! বাংলাদেশ দল ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে বটে!
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ কলকাতার পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। আগামী ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার নন্দনে অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত নয়টি প্রামাণ্যচিত্রের একটি। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ৬৬ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়া—ইস্টার্ন রিজিয়ন আয়োজিত এ উৎসবে সেরা ও দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন ও সিলভার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। কলকাতায় প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ছবিটির ভারতীয় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।পরিচালক মকবুল চৌধুরী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এ সময়ে তিনি ঢাকা, কলকাতা, প্যারিস ও নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে নাসির আলী মামুনের শিল্পীজীবন ও সৃজনযাত্রা অনুসরণ করেছেন। তাঁর শিল্পকর্মের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মামুনের সম্পর্ক ও যোগাযোগও উঠে এসেছে প্রামাণ্যচিত্রটিতে।ছবিতে কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিশেষভাবে উপস্থিত হয়েছে। কলকাতাকে ঘিরে প্রামাণ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার রয়েছে প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ, প্রয়াত চিত্রশিল্পী রবীন মণ্ডল, চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী এবং গণেশ হালই-এর।প্রামাণ্যচিত্রটিতে নাসির আলী মামুনের সৃজনযাত্রার একটি চিন্তাশীল ও শিল্পসম্মত দলিল তুলে ধরা হয়েছে। আলো ও ছায়ার অনন্য আন্তঃসম্পর্কে গড়ে ওঠা তাঁর শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে কীভাবে মানবমুখের ভেতর ইতিহাসের গভীর সত্যকে ধারণ করা যায়, চলচ্চিত্রটি সেই শিল্পভাষার অনুসন্ধান করেছে।‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ ২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ২৮তম টাঙ্গস অন ফায়ার, ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার লাভ করে।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন একই আদালত। আসামি পক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ডিবি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। সম্প্রতি ডিবির জমা দেওয়া এই প্রতিবেদন আদালত আমলে নিয়ে সমন জারি করে তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।গত বছরের ৫ নভেম্বর একই আদালতে অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, তানজিন তিশা বাংলাদেশের পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত। এর সুবাদে আসামি অ্যাপোনিয়ার অনলাইন পেজে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে একটি শাড়ি পছন্দ করে নেন। যার বাজার মূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। শাড়িটি তানজিন তিশার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তানজিন তিশা নানা ধরনের ভয়েস ম্যাসেজ এবং ম্যাসেজ দিয়ে শাড়িটি পরিধান করে অ্যাপোনিয়া পেজ প্রমোশনের জন্য নানাভাবে আশ্বস্ত করেন।মামলায় আরও বলা হয়, তানজিন তিশাকে পেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে শাড়িটি পরিধান করে পেজ প্রমোশনের জন্য নানা উপায়ে অনুরোধ করেন। তিনি গত ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাড়িটি পরিধান না করে, পেজ প্রমোশন না করে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত ৬ মাসের অধিক সময় কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের কথোপকথন থেকে বিরত রয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।বাদীর অভিযোগ, তানজিন তিশা প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। মামলাটি আমলে গ্রহণ করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে আদালত অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার চ্যানেল এসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তারাই বিষয়টি তদন্ত করছে।’সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।পুরোনো নথি অনুযায়ী, সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ ওই তদন্তের ফল মেনে নেয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ডন হককে গ্রেফতারের পর মামলার তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে।
কাঁধখোলা কালো গাউনে নজরকাড়া এক ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর সঙ্গে পুরুষদের নিয়ে ক্যাপশনে দিলেন খোঁচা। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার দেওয়া এই পোস্টে দখো গেলো গ্ল্যামারাস লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। তার পোস্ট করা একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়- স্নিগ্ধ ও খানিকটা বোল্ড লুকে। টিউব কাটের বডি ফিটেড কালো মেরমেড গাউনে ফুটে উঠেছে ফারিয়ার শার্প লুক। সাজসজ্জায় বেছে নিয়েছেন ডায়মন্ড ও পান্নার মিশেলে তৈরি নেকলেস, মানানসই দুল এবং ব্রেসলেট।ছবিগুলোতে ফারিয়ার অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে আভিজাত্য আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বিলাসবহুল সোফায় হেলান দিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ছবিই নয়, ভক্তদের নজর কেড়েছে তার পোস্টের ক্যাপশনটি। ফারিয়া লিখেছেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষের চেয়ে হীরাই মেয়েদের মন বেশি বোঝে।’ ছবিগুলো পোস্ট করার পরপরই মন্তব্যের ঘরে অনুরাগী ও নেটিজেনদের ভিড় জমেছে। ফারিয়ার রূপের প্রশংসা করে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘একদম কুইন লুক!’ অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সত্যিই দারুণ লাগছে ফারিয়া আপু!’ অনেকেই আবার এই বোল্ড লুকের প্রশংসা করেছেন মুক্তকণ্ঠে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চোটের গভীরতা বেশি থাকায় জরুরি ভিত্তিতে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।আপাতত তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। তবে ঠিক কীভাবে অভিনেতা হাতে চোট পেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুটিং সেটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।প্রিয় ‘মহাগুরু’র অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অজস্র ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন জেনে স্বস্তি মিলেছে সবার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। গত ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নবগঠিত বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র গবেষক আবদুর রহমান। এছাড়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ এবং সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন অনুযায়ী এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এ ছাড়া বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু।মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন করে এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার প্ল্যাটফর্ম সাজগোজ এবার নতুন জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরিজ বিভাগ চালুর মাধ্যমে তাদের পণ্যের পরিসর আরও বাড়িয়েছে। নতুন কালেকশনটি মূলত সাজগোজকে গিফট ও ব্যক্তিগত স্টাইলের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ শপ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন উপলক্ষ ও বাজেটের জন্য থাকছে নানা ধরনের পণ্য। কালেকশনটি এখন শুধু অনলাইনে shop.shajgoj.com-এ পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর সাজগোজের মুক্তার গহনার পাইলটটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর, সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি এবার উৎকৃষ্ট মানের মুক্তা, ট্রেন্ডি ফ্যাশন জুয়েলারি এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজ নিয়ে তাদের পণ্যের সংগ্রহ আরও সম্প্রসারিত করেছে। নতুন এই ক্যাটাগরিতে বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সাজসজ্জার জন্য সব ধরনের গহনা একত্রে রাখা হয়েছে। গ্রাহকরা ‘দ্য রয়্যাল পার্ল’ এবং ‘অপেরা’-র মতো মুক্তার সেটের পাশাপাশি বাটারফ্লাই ও হার্ট স্টাড, ঝুমকা, ঝাড়বাতি কানের দুল, আংটি এবং চুড়ি থেকে বেছে নিতে পারেন। এই কালেকশনে হেয়ার ক্লিপ, স্ক্রাঞ্চি এবং নেইল আর্ট স্টিকারের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের অ্যাক্সেসরিজও রয়েছে। ৭৫ টাকা থেকে শুরু হওয়া দামে এই কালেকশনে প্রিমিয়াম মুক্তার নজরকাড়া গহনার পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্পও রয়েছে, যা এটিকে বিভিন্ন উপহারের উপলক্ষ ও বাজেটের জন্য উপযুক্ত করে তোলে।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আজ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।আল জাজিরার প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতেই দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেখা যায়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার বা দূরবর্তী সরবরাহ মূল্য প্রতি ব্যারেলে ২৭ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৯১.১৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এর আগের কার্যদিবসেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দর ব্যারেলে ৪২ সেন্ট বেড়ে ৮৫.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দিনের লেনদেনে দর ১ শতাংশের বেশি বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৫.৩৭ ডলারে উঠেছিল।ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের সঙ্গে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে তারা এখন থেকে আরও আগ্রাসী বা আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করবে।অন্যদিকে ওয়াশিংটনও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। দুই পরাশক্তির মধ্যে এই উত্তেজনার পারদ চড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা নতুন করে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টায় ৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ ছাড়া, মিসরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ২৯ জন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস কায়রো এ তথ্য জানিয়েছে।দূতাবাস জানায়, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় প্রতিবেশী দেশ লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দিকভ্রষ্ট হয়ে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীসহ একটি রাবারের নৌকা মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। স্থানীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন থাকায় তাদের চিকিৎসার জন্য মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি দূতাবাস অবহিত হওয়ার পর প্রথম সচিব (শ্রম) স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে মোট ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের একজন কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি জানান যে, গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং ৪ জন সুদানিসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা শুরু করেন। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার পূর্বে তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং একপর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এভাবে ভাসতে ভাসতে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানীসহ মোট ১০ জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ সময় তারা সমুদ্রে অবস্থান করার কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরায় একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন বলে তিনি জানান।ঘটনাটি জানার পর থেকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর তাদের দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড শাওমি ২০২৬ সালের ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ২৩২তম অবস্থান অর্জন করেছে। ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বার্ষিক তালিকা, যা বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট স্কেল ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। শাওমি ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম ৪৬৮তম স্থানে এ তালিকায় নিজের জায়গা করে নেয়। ওইবছরে ফরচুনে সবচেয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায় শাওমি। পরবর্তীতে, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ২৯৭তম স্থানে উঠে আসে শাওমি।প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করতে শাওমি ২০২৬ সালে এক্সরিং ০১ ৩-ন্যানোমিটার উন্মোচন করে, যা প্রতিষ্ঠানটির নিজের তৈরি প্রথম ফ্ল্যাগশিপ এসওসি (সিস্টেম অন চিপ)। একইসাথে, ক্রস-ডিভাইস কানেক্টিভিটি আরও কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানটি এআই ও হাইপারওএস সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও শাওমি হোম অ্যাপ্লায়েন্স, এআইওটি ও ইভি সহ আরও বিভিন্ন খাতে নিজের পোর্টফলিও সমৃদ্ধ করেছে। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।শাওমি ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি, সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যারের সমন্বয় ও উন্নত প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষতা নিশ্চিত করেছে। শাওমি এসইউ৭, শাওমি ওয়াইইউ৭ ও শাওমি স্কাইনোম্যাড মডেলগুলো উন্নত ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন, লং রেঞ্জ পারফরম্যান্স ও ইন্টেলিজেন্ট ইন-কার প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা প্রতিফলিত করে। শাওমি এসইউ৭ ও শাওমি ওয়াইইউ৭ যেখানে চালকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া স্কাইনোম্যাড চালকের পাশাপাশি, অন্যান্য যাত্রীদের আরাম, সুবিধা ও উন্নত অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর কেবিনকে এমন একটি অ্যাডাপ্টেবল লিভিং স্পেস হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা সারাদিন ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের সাথে তালমিলিয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। গত ১২ বছরে রেডমি নোট সিরিজ ৫০ কোটিরও বেশি স্মার্টফোন বিক্রির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করেছে। ক্রেতাদের এ ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা শাওমির ধারাবাহিক ব্যবসায়িক বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রসারে বিশেষ অবদান রেখেছে, যা ২০১৯ সালে ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় প্রথমবার ৪৬৮ নম্বর স্থান থেকে ২০২৬ সালে ২৩২ নম্বর স্থানে উঠে আসতে সহায়তা করেছে। বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে ১০০-এরও বেশি বাজারে শাওমির ‘হিউম্যান × কার × হোম’ ইকোসিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।এ বিষয়ে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “উদ্ভাবন, অনন্য প্রযুক্তি ও ইকোসিস্টেম উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শাওমি এ বছর ফরচুন গ্লোবাল ৫০০-এর তালিকায় ২৩২তম অবস্থান অর্জন করেছে। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে এআই, স্মার্ট হোম, ইন্টেলিজেন্ট মোবিলিটি ও অন্যান্য খাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি, আমাদের ক্রেতাদের জন্য সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে এমন একটি ইন্টারকানেক্টেড ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আমরা সময়ের সঙ্গে ফরচুন গ্লোবাল ৫০০-এর তালিকায় শাওমির অবস্থান আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে চাই।”আগামীতেও শাওমি প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, বৈশ্বিক ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ ও বিশ্বের আরও বেশি মানুষ ও কমিউনিটির কাছে সহজলভ্য ও ইন্টেলিজেন্ট প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।আরও বিস্তারিত জানতে, https://www.mi.com/global/about/ ভিজিট করুন বা শাওমি বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/XiaomiBangladesh ফলো করুন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি