জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সম্মত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারতের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় খলিলুর ও হামিদুল্লাহ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় উভয়পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।তারা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।ড. খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে তার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করায় ড. খলিলুর রহমান ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্যও বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে।আলোচনার সময় মন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যাবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে।সম্প্রতি ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য খলিলুর রহমান মন্ত্রী হরদীপ পুরীকে ধন্যবাদ জানান এবং ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।মন্ত্রী পুরী ইঙ্গিত দেন যে ভারত সরকার এই অনুরোধটি সানন্দে ও অনুকূলভাবে বিবেচনা করবে। উভয়পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোতে আলোচনা করতেও সম্মত হয়।তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামীকাল ৯ এপ্রিল দুপুরে মরিশাসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহোদর প্রয়াত আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ারও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়েছেন তিনি।আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ–সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এ দাবি জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেন। ৩০ বছর পর আসনটি জনগণ বিএনপিকে উপহার দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এ আসনটি আপনারা উপহার দিলে, দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে, ভাওয়াল মাঠের জনসভায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন।’ এই সংসদ সদস্য জানান, ‘সেখানকার জনগণ এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় আগমনের অপেক্ষা করছে।’এ পর্যায়ে মুজিবুর রহমান বলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত একটি বিপ্লবের নাম তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর যুগশ্রেষ্ঠ উক্তি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে গাজীপুরবাসী উজ্জীবিত। তিনি বলেন, ‘আমার আবেগের একটি কথা, একাত্তর সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর সহোদর ভাই পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী ছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ৯ মাস বন্দী ছিলেন। যদি কোনো দিন সুযোগ হয়, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধের যে অবদান, সে জন্য তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, আর তাঁর সহোদর ভাই—আমাদের ভাইকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছি।’ মুজিবুর রহমান দাবি করেন, এই প্রস্তাব তিনি প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য করছেন না।
চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—প্রথম তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩১ শিশু-কিশোর (১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী) নিহত হয়েছে।সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন আরার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।এতে জানানো হয়, ১১টি জাতীয় দৈনিক, ১৩টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।সংস্থাটি বলছে, সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণে শিশুরা সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগজনক মাত্রায় হতাহত হচ্ছে।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৪১ জন (১৭.৭৪ শতাংশ), ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৮৬ জন (৩৭.২২ শতাংশ) এবং ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ১০৪ জন (৪৫.০২ শতাংশ)।বিশ্লেষণে সংস্থাটি আরও জানায়, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালক/হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ১১৩ শিশু (৪৮.৯১ শতাংশ) এবং পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১৮ শিশু (৫১.০৮ শতাংশ)।দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনা পর্যালোচনায় সেবা ফাউন্ডেশন বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় নিহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। ঘরের দরজা খুললেই সড়ক—এমন অবস্থা। এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়মনীতি জানে না। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। এটি অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।শিশু পথচারীদের চাপা বা ধাক্কা দেওয়া যানবাহনের চিত্র:বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৪ শিশু (৩৭.২৮ শতাংশ)প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১ শিশু (৯.৩২ শতাংশ)থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৯ শিশু (৪১.৫২ শতাংশ)বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১৪ শিশু (১১.৮৬ শতাংশ)শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরনশিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ৫২ শিশু (২২.৫১ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ৮৫ শিশু (৩৬.৭৯ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ৫৬ শিশু (২৪.২৪ শতাংশ) এবং শহরের সড়কে ৩৮ শিশু (১৬.৪৫ শতাংশ) নিহত হয়েছে।দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬টি (২.৫৯ শতাংশ), সকালে ৬১টি (২৬.৪০ শতাংশ), দুপুরে ৬৮টি (২৯.৪৩ শতাংশ), বিকেলে ৫৭টি (২৪.৬৭ শতাংশ), সন্ধ্যায় ২২টি (৯.৫২ শতাংশ) এবং রাতে ১৭টি (৭.৩৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ:দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়াসড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাবপরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়াঅদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের মাধ্যমে যানবাহন চালানোদুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটআহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতালির আস্থা ব্যক্ত করেন।বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সময় তাাদের মধ্যে বৈঠক হয়। উভয় পক্ষ সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেন যে, দৃঢ় জনসম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, চামড়া ও সিরামিক শিল্প, উৎপাদন খাত, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।প্রতিমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ইতালির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ইতালির সমর্থন কামনা করেন।রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এজেন্ডা বিষয়ে ইতালির অবস্থান তুলে ধরেন।আলোচনায় অভিবাসন ও চলাচল বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং ইতালীয় সমাজে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতি দেন।উভয় পক্ষ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে বৈধ পথ সম্প্রসারণ, দক্ষতা অংশীদারিত্ব এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শ্রম চলাচল জোরদারের মাধ্যমে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযানে টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার অনুমোদনহীন ও অবৈধ বাস কাউন্টারগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে।বুধবার (৮ এপ্রিল) ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে গত ১০ মার্চ ডিএসসিসির উদ্যোগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় সভায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।ডিএসসিসি জানায়, প্রাথমিক জরিপে টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় পর্যন্ত সায়েদাবাদ কাউন্টার কেন্দ্রিক মোট ২৪০টি অবৈধ কাউন্টার চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে রাস্তা বা ফুটপাত দখল না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ এলাকায় অবৈধ বাস কাউন্টার স্থাপনের ফলে তীব্র যানজট ও চলাচলকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। জনস্বার্থে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অবৈধ কাউন্টারগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। সায়েদাবাদের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।মগবাজার মোড় থেকে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী হয়ে কাকরাইল মসজিদ, মৎস্য ভবন ও আব্দুল গনি রোড হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এলাকা এবং বাংলামোটর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হেয়ার রোড ও শিক্ষা ভবন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রবেশপত্র পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রগুলো এরইমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কেন্দ্র সচিবদের কাছ থেকে এই প্রবেশপত্রগুলো সংগ্রহ করতে হবে।বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।একইসঙ্গে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রবেশপত্র সংক্রান্ত কোনো তথ্যের জন্য বোর্ডের নির্ধারিত টেলিফোন নম্বরে (০২-২২৩৩৬৯৮১৫) যোগাযোগ করা যাবে।
চার দিনের ব্যবধানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আরও দুজন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সদর দফরের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও প্রশাসন আমীর খসরু স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি করা হয়।দুই কর্মকর্তার মধ্যে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং মো. উসমান গণিকে গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের এসি পেট্রোল হিসেবে বদলি করা হয়েছে।এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) ডিএমপির তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি করা হয়।
অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।বুধবার (৮ এপ্রিল) দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে ‘৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।ওই প্রতিবেদনের বরাতে আবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে।আবেদন অনুযায়ী, আট মাসে নিবন্ধন অধিদফতরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি।বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের অফিসে অনুরূপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের বিধান থাকলেও এই আট মাসে নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে ‘সি’ ও ‘বি’ গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের অনেককেই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে উচ্চতর গ্রেডের কার্যালয়ে।অন্যদিকে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ‘এ’ গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের ‘শাস্তিমূলকভাবে’ ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে। তাদের অনেককেই বারবার বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। কাউকে কাউকে যোগদানের আগের দিন পুনরায় অন্য অফিসে বদলির নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা জারি করে। সেখানে বলা হয়, জেলার রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। তবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই শত শত সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষের লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আর কোনো বদলির আদেশ হয়নি।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোহাম্মদ মামুন ফরাজী নামে এক সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন।বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ফার্মগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফার্মগেট এলাকায় লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে একটি সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজি চালক মামুন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত মামুন ফরাজী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হিরাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি শিকদার ফরাজীর ছেলে।আহত অবস্থায় মামুনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী কাজী ফয়সাল জানান, বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। এতে চালক গুরুতর আহত হন।এ বিষয়ে তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।’
মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমন্বিত উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যেগে অনুষ্ঠিত 'ইয়ুথ ভয়েস ফর এভিডেন্স বেসড প্রিভেনশন: প্রিভেন্ট, ডোন্ট প্রোমোট' শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোর ও তরুণ বয়সেই মাদকের প্রতি কৌতূহল ও ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা সর্বাধিক থাকে। তাই এই বয়সেই সঠিক তথ্য, জীবনদক্ষতা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ও সাইকোথেরাপি এবং সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডাঃ এম এ মোহিত কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মেম্বার সেক্রেটারি ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।এ সময় তারা মাদক প্রতিরোধে প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক কৌশল অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন-মাদক কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের সমাজ ও আগামী প্রজন্মের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি।বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তি নির্মূলে কেবল চিকিৎসা নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য ও তরুণবান্ধব করা প্রয়োজন। সমাজ থেকে মাদকের সহজলভ্যতা কমাতে এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিতে নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সমন্বিত অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবাধিকারসম্মত দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগই হবে মাদক প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।সেমিনারে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা।এ সময় মাদকের দিকে তরুণদের ঝুঁকে পড়ার মূল কারণ হিসেবে পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট, সহপাঠীদের নেতিবাচক প্রভাব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করা হয়। এই ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় পরিবারকে প্রতিরোধের প্রথম স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জীবন-দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা প্রণয়নে যুবকদের সম্পৃক্ত করার কথা জানার বক্তারা। এছাড়া ইয়ুথ ডিক্লিয়ারেশন হস্তান্তর করে তরুণরা। সেখানে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞান ভিত্তিক কার্যক্রমের সুপারিশমালা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহোদর প্রয়াত আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ারও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়েছেন তিনি।আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ–সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এ দাবি জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেন। ৩০ বছর পর আসনটি জনগণ বিএনপিকে উপহার দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এ আসনটি আপনারা উপহার দিলে, দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে, ভাওয়াল মাঠের জনসভায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন।’ এই সংসদ সদস্য জানান, ‘সেখানকার জনগণ এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় আগমনের অপেক্ষা করছে।’এ পর্যায়ে মুজিবুর রহমান বলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত একটি বিপ্লবের নাম তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর যুগশ্রেষ্ঠ উক্তি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে গাজীপুরবাসী উজ্জীবিত। তিনি বলেন, ‘আমার আবেগের একটি কথা, একাত্তর সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর সহোদর ভাই পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী ছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ৯ মাস বন্দী ছিলেন। যদি কোনো দিন সুযোগ হয়, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধের যে অবদান, সে জন্য তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, আর তাঁর সহোদর ভাই—আমাদের ভাইকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছি।’ মুজিবুর রহমান দাবি করেন, এই প্রস্তাব তিনি প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য করছেন না।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হবে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে এ কর্মসূচি চলবে। এছাড়া ১১ এপ্রিল দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ১৩ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।মামুনুল হক আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নানা ধরনের ছলচাতুরি করছে। তারা সুস্পষ্টভাবে মানুষের ম্যান্ডেটকে অপমান করেছে।তিনি বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে বিরোধী দল চুপ থাকতে পারে না। ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তন আমরা রুখে দেব। আমরা গণভোটের রায় যেভাবেই হোক কার্যকর করব। এই দাবির পক্ষে অব্যাহত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টা থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে এক বিধবা নারী ও তার দুই মেয়ের ওপর হামলা চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মৃত জাহাঙ্গীর প্রধানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী মো. মফিজুল (৫০), কাজল আক্তার (৪৫) ও কুলসুমের নেছার (৭০) সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির আঙিনায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাহমিনা সুলতানার বসতঘরে ঢুকে পড়ে।এসময় তারা তাহমিনাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার দুই মেয়ে প্রিয়া (১৮) ও মুন্নি (১৬) তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। হামলাকারীরা তখন তাদের ওপরও চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাহমিনার কান থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল এবং তার মেয়ের গলা থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে।এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষমতা দখল নিয়ে চলমান ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডে যে পরিস্থিতি চলছে তা যেন ‘সার্কাসে’ পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ সার্কাস চলছে ক্রিকেট বোর্ডে, যদি ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকেট কিনেন আপনার ওই টিকেট বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।’বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই সাবেক ক্রিকেটার সেখানে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমেরিকায় আজকে তিন বছর। আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ড কোথায় সেটাই জানি না ভাই। ক্রিকেট বোর্ডের মেম্বার কে, ওটা জানা তো অনেক দূরের কথা। ক্রিকেট বোর্ডটা অ্যাকচুয়ালি কোথায় সেটাই জানি না। অথচ আমি ক্রিকেট নিয়ে প্রতিদিন কাজ করছি।’'শরীর এত নড়বড়ে হলে বিশ্রাম নিন', বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর চটলেন গাভাস্কার'শরীর এত নড়বড়ে হলে বিশ্রাম নিন', বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর চটলেন গাভাস্কারশেষে হতাশা প্রকাশ করে আফতাব বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো মানুষের ব্যর্থতা নাই। কেন জানেন? আপনি না জানলেও আপনাকে জানিয়ে দেবে। মিডিয়া এমনভাবে ঢোল পিটায় যে আপনি জানতে না চাইলেও জানবেন। এই সার্কাস আর কতদিন চলবে জানি না। ক্রিকেট তো এখন আর নাই, সার্কাস আছে। সার্কাসটা দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ জানালাম।’
প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বক্স অফিস টপচার্টে সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ৪৮টি থিয়েটার থেকে ছবিটি আয় করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা)। পরিবেশনা সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো বাংলাদেশ’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। উত্তর আমেরিকায় তিন দিনের আয়ের হিসাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা। এর আগে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ৮৬টি থিয়েটারে তিন দিনে আয় করেছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রথম সপ্তাহ শেষে আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এরই মধ্যেই এটি রায়হান রাফীর ‘তুফান’ (১ দশমিক ৫ লাখ ডলার), হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ (১ দশমিক ৩২ লাখ ডলার) এবং অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’র (১ দশমিক ২৫ লাখ ডলার) লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণা১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণাপরিবেশনা সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব জানান, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে গত তিন দিনে যা ঘটেছে, তা অবিশ্বাস্য। ‘উৎসব’র পর তানিম নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে উপহার দিলেন আরেকটি দারুণ কাজ। আশা করছি এটি ব্যবসায়িক অনেক রেকর্ড ভাঙবে। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দেশের বাজারেও। বুড়িগঙ্গা টকিজ, হইচই স্টুডিওস ও ডোপ প্রোডাকশন্স প্রযোজিত সিনেমার টিকিট দুই সপ্তাহে দেশে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ টাকার। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকেই এসেছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার মূল প্রতিপাদ্য ‘১০০% খাঁটি বাংলাদেশি ছায়াছবি’। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি রাতের ট্রেনযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী চিত্রা (সাবিলা নূর) ও তরুণ চিকিৎসক আশহাবের (শরিফুল রাজ) পরিচয়ের পাশাপাশি ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের বিচিত্র ও মজার সব গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা ও মডেল বিদ্যা সিনহা মিম। তিনি শুধু অভিনয়েই নন, নিজের রূপ আর ফ্যাশন সেন্স দিয়ে দর্শক-ভক্তদের মন জয় করে চলেছেন। প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজেকে নানান রূপে মেলে ধরেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। হালকা গোলাপী রঙের একটি নজরকাড়া গাউনে নতুন লুকে ধরা দিলেন তিনি। এর মাধ্যমে ভক্তদের মনে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৬ এপ্রিল সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে একটি ফ্যাশন শুটের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন এই লাস্যময়ী মডেল-অভিনেত্রী। মূলত, সদ্য আয়োজিত লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে নজরকাড়া এই গোলাপি গাউনে, এই সাজে দেখা গিয়েছিল তাকে। প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, মিমের পরনে অফ-শোল্ডার সেই গাউনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ট্রেইল। গলায় ঝলমলে পাথরের নেকলেস, হাতে স্বচ্ছ গ্লাভস এবং পরিপাটি চুলে তিনি যেন এক রাজকীয় আভা ছড়াচ্ছেন। সঙ্গে নানা ভঙ্গিতে পোজ আলাদা মাত্রা এনে দেয়।ছবির ক্যাপশনে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘গ্রেস, চার্ম, অ্যান্ড আ টাচ অব রয়্যালটি’, অর্থাৎ, লাবণ্য, আকর্ষণ এবং রাজকীয়তার এক অপূর্ব ছোঁয়া।মিমের এই ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। নেটিজেনরা মন্তব্য ঘরে প্রিয় তারকার এই স্নিগ্ধ-রাজকীয় রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের মুকুট জয়ের মাধ্যমে শোবিজে পা রাখা বিদ্যা সিনহা মিম দীর্ঘ সময় ধরে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। একই প্ল্যাটফর্মের এবারের আয়োজনের জুরি বোর্ডে ছিলেন অভিনেত্রী। এবারের আসরের গালা ডে তে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন মিম। ব্যস্ততার মাঝেও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান; সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব থাকেন এই তারকা। আর মাঝে মাঝে এমন নজরকাড়া লুকে ধরা দিয়ে ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ান।
জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এ বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। ৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তারকাখচিত এই আয়োজনে বর্ণিতার হাতে বিজয়ীর ট্রফি তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান এবং লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। মুকুটের পাশাপাশি বর্ণিতার হাতে তুলে দেওয়া হয় সোয়ারোভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ট্রফি; সেই সঙ্গে একটি বিলাসবহুল গাড়িও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এবারের আসরে ফার্স্ট রানার আপ নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম এবং সেকেন্ড রানার আপের শিরোপা জিতেছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে এই তিনজনের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছিলেন খুলনার নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা এবং ঢাকার তিস্তা পাল। পাঁচ প্রতিযোগীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিচারকদের রায়ে সেরার তালিকায় জায়গা করে নেন তারা।সাত বছর পর এই আয়োজনটি ফিরে আসায় শুরু থেকেই সাধারণ দর্শক ও শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সেরা দশ এবং পরবর্তীতে সেরা পাঁচ প্রতিযোগী চূড়ান্ত লড়াইয়ের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে সাজানো হয়। শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রতিযোগীদের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, স্টাইল সেন্স এবং কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।গ্র্যান্ড ফিনালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।
কলকাতার বিনোদন জগতে একের পর এক গেরো লাগছে। আসছে দুঃসংবাদ। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। এরপর মাকে হারান সুদীপ্তা, বিদিশা। এবার প্রখ্যাত পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের নিখোঁজের খবর পাওয়া গেল। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎসবের স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় একথা জানিয়েছেন।বাড়ি থেকে দুপুরে ব্যাংকের কাজে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার-পরিচালক উৎসব মুখার্জি। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ সিনেমার গল্পকার উৎসবের খোঁজ এর পর থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।দুপুরে শেষবার যখন উৎসবের সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি ব্যাংকের ভেতরেই ছিলেন বলে সামাজিকমাধ্যমকে জানান পরিচালকের স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই পরিচালকের ফোন বন্ধ হয়ে যায়৷ সেটি এখনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে৷
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টাসহ প্রতারণা করে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে জামিনের আপসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিয়ে করার কথা থাকলেও, আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আর বিয়ে করেননি। টাকাও ফেরত দেয়নি। এজন্য আমরা তার জামিন বাতিলের প্রার্থনা করি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপসের শর্তে নোবেলকে জামিনের আদেশ দেন।গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরেরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে মামলার ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেন আদালত।গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা)। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।মামলার অভিযোগে বলা হয়, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ অগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে আত্মসাৎ করে। বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করেন। আর এতে অপর আসামিরা তাকে সহযোগিতা করে।
আসছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা দানিশ তাইমুর এবং অভিনেত্রী ও মডেল আনমোল বালোচের নতুন সিরিয়াল। সাহসী অন-স্ক্রিন রোমান্স এবং আলোড়ন তোলা নাটকের জন্য আলাদাভাবে পরিচিতি রয়েছে দানিশ তাইমুরের। দানিশ তাইমুর নিজেই একটি ভিডিওর মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে তার আসন্ন নাটকের বিস্তারিত শেয়ার করে তাইমুর জানিয়েছেন, প্রথমে সিরিয়ালটির নাম ‘নিস্তার’ জানা গেলেও এখনো নাম চূড়ান্ত হয়নি। ভক্তদের নতুন সিরিয়ালের সুখবর দিয়ে ভিডিওতে দানিশ তাইমুর বলেন, ‘আমাদের নতুন সিরিয়াল শিগগির শুরু হচ্ছে। আমার সঙ্গে অনমোল বালোচ ও নাইমা বাট থাকছেন পর্দায়। অসাধারণ এ গল্পটিকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য রয়েছেন বেশ কিছু তারকা।’ নাটকটিতে তাইমুরের সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন 'এক সিতাম অউর', 'সিফ তুম' এবং 'মান আংগান' খ্যাত পাকিস্তানি অভিনেত্রী-মডেল আনমোল বালোচ। অসাধারণ অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে এরই মধ্যে ভক্তদের ক্র্যাশে পরিণত হয়েছেন তিনি।সিরিয়ালটির নাম কী হবে—দর্শকদের এই কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তরে তাইমুর বলেন, ‘এর নাম কিন্তু ‘নিস্তার’ নয়, যে নামটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। আমরা এখনও নাম প্রকাশ করিনি। আমি শিগগিরই নামটি প্রকাশ করব।’ পাশাপাশি পাকিস্তানি ছোট পর্দার তারকা ভক্তদের তার নাটকের নাম ঠিক করার জন্য মতামত চান। সূত্র: রিভিউইটইনস্টাগ্রামে তুমুল জনপ্রিয় দানিশ তাইমুরের প্রায় ৮.৯ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। তার জনপ্রিয় নাটকগুলো হলো দিওয়াঙ্গি, ক্যায়সি তেরি খুদগারজি, জান নিসার, আব দেখ খুদা কেয়া করতা হ্যায়, তেরি ছাওঁ মেঁ এবং ইশক হ্যায়। শের এবং মন মাস্ত মালাং-এর মতো সাম্প্রতিক হিট নাটকগুলোয় ভক্তরা তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। ২০১৫ সালে ইয়াসির জাসওয়ালের থ্রিলার জালাইবি দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাহাজ দুটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে আসছে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের জাহাজ। একই দিনে, ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরও একটি জাহাজ দেশে আসছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে আগেই এলএনজি ও এলপিজি বহনকারী দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। ‘কুল ভয়েজার’ নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি এবং ‘গ্যাস জার্নি’ চীন থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে। শিগগিরই এসব জ্বালানি খালাস শুরু হবে।এরই অংশ হিসেবে ২৬ হাজার টন অকটেন ও ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আনা হচ্ছে। ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজটিও বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসার কথা রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, জাহাজ দুইটির শেষ পোর্ট ছিল যথাক্রমে নাইজেরিয়া ও চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটের সময় নিউইয়র্কের আলবানি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি। তারা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।নিহতরা হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের মো. হেরামন (৬০) এবং তার ছেলে নাজমুল রোবেল (৩০), নড়াইলের ফাহিম আলিম (২৭)। এদের মধ্যে হেরামন ও নাজমুল সম্পর্কে বাবা-ছেলে। আর ফাহিম নাজমলের বন্ধু। তারা নিউইয়র্কের লাউডনভিলে বসবাস করতেন।আহতরা হলেন- নিহত হেরামনের বড় মেয়ে রত্না (৩৩) এবং নাতনি ইকরা (১)। দুর্ঘটনায় তারা গুরুতর আহত হয়ে আলবানি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত হীরামনের ছোট বোন রাজিয়া বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক সময় সোমবার সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকারে চড়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন সবাই। নিহত নাজমুল রোবেল নিজে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। আলবানির রুট ৯-এইচ সড়কের ভ্যান ওয়াইক লেনে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের লাইন অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়।নিহত হিরামনের ছোট বোন রাজিয়া বেগম বলেন, নিহতদের জানাজার নামাজ বুধবার নিউইয়র্ক সময় জোহরের নামাজের পর বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে (২৩৫১, এভিনিউ, ব্রনক্স, নিউইয়র্ক) অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিউ জার্সির মার্লবুরো মুসলিম সিমেটেরিতে তাদের দাফন করা হবে। তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিন।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট আমদানি নেই। বাজার খুঁজে কোনো কার্পেট পাওয়া না গেলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পার্সিয়ান বা ইরানি কার্পেট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যবর্তী দেশ হয়ে আসা এই পণ্য বিলাসবহুল ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।বাংলাদেশের কার্পেট বাজারের বার্ষিক বিক্রয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। এই বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর, যেখানে ইরানি কার্পেটের অংশ খুবই ছোট। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর জানুয়ারি ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে বাংলাদেশের আমদানি অত্যন্ত সীমিত। ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল শূন্য। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে সামান্য আমদানি হয়েছে, তা ছিল যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল পণ্যের জন্য। কার্পেট এই তালিকায় ছিল না।জাতিসংঘের কমট্রেড তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৫১০ ডলার, যা ফেল্ট ফ্লোর কভারিংসের জন্য। ২০১৪ সালে নটেড কার্পেট রপ্তানি ছিল মাত্র ২ হাজার ৮২০ ডলার। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ও বাড্ডা লিংকরোড এলাকায় কার্পেটের বিভিন্ন দোকানে সরেজমিনে গিয়ে ইরানি কার্পেট বিক্রি হতে দেখা যায়নি। কার্পেট ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এখন আর ইরানের কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না।এলিফ্যান্ট রোডের মিঠু কার্পেটসের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করা যায় ন। আর তা ছাড়া ইরানি কার্পেট অনেক দামি। সারা বছরে বা ছয় মাসে একটা দুটো বিক্রি হয়। তাই আমরা ইরানি কার্পেট বিক্রি করি না।’মিশু কার্পেটসের ব্যবস্থাপকও জানান, তারা ইরানি কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না। এ ছাড়া আরাফাত কার্পেটস, সারমানস কার্পেটস, পনির কার্পেটস, মোরেশদ কার্পেটস ও নিউ রুপসী কার্পেটসের শোরুমের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, তারাও ইরানি কার্পেট বিক্রি করেন না।গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে গিয়েও জানা যায় সেখানকার কার্পেট ব্যবসায়ীরা ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করেন না। শুধু একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের কাছে মাত্র একটি ইরানি কার্পেট আছে।তবে অনলাইনে কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে ইরানি কার্পেট বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম আলাদিন কার্পেটসবিডি। ফেসবুকে তাদের ৫৩ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা পার্সিয়ান ও তুর্কি হ্যান্ডমেড কার্পেট বিক্রি করে। ইসফাহান, কাশান এবং তাবরিজ অঞ্চলের কার্পেট তাদের প্রধান পণ্য। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিক্রি পরিচালনা করে।প্রতিষ্ঠানটির হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তাদের শোরুম মূলত দুবাই থেকে পরিচালিত হয়। সেখান থেকে তারা অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশে কার্পেট সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মধ্যে ফ্রি ডেলিভারির সুবিধাও রয়েছে।বেডিং বিডি নামের আরেকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ‘ইরানি কার্পেট’ নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরি রয়েছে। তারা দাবি করে যে এসব কার্পেট শতাব্দী প্রাচীন পার্সিয়ান ঐতিহ্যের অংশ। গ্রাহকদের কাছে এগুলোকে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রিমিয়াম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আলমেইডা রাগসও বাংলাদেশে অনলাইনে কার্পেট বিক্রি করে। পার্সিয়ান ১২০০ রিড কালেকশন তাদের বিশেষ পণ্য।ইউবাই বাংলাদেশ ও দারাজ এই দুটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আন্তর্জাতিক বিক্রেতাদের মাধ্যমে পার্সিয়ান কার্পেট সরবরাহ করে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য পাওয়া যায়।বাংলাদেশে কার্পেট ক্রেতাদের ধরন সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে প্রধানত ধনী ও উচ্চবিত্ত মানুষরাই পার্সিয়ান কার্পেট কিনতেন। তবে গত এক দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কার্পেট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন গৃহসজ্জার অংশ হিসেবে কার্পেট কিনছেন।বৈশ্বিক পর্যায়েও ইরানের কার্পেট শিল্প ভয়াবহ পতনের মুখে পড়েছে। তিন দশক আগে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে তা বর্তমানে ৪০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।ইরানের চেম্বার অব কমার্সের কার্পেট ও হস্তশিল্প কমিশনের চেয়ারম্যান মরতেজা হাজি আগামিরি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইরান ফোকাসকে বলেন, গত ছয় বছর ধরে রপ্তানি ১০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। তিনি এটিকে কার্যত শূন্যের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি তাদের আন্তর্জাতিক বাজার হারিয়েছে।বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইরানি নকশার কার্পেট উৎপাদন করছে।ইরানি কার্পেট ব্যবসায়ী হামেদ নবিজাদেহ জানান, ইরান এখন নিজ দেশেও বিদেশি কার্পেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীন থেকে আমদানি করা কার্পেট স্থানীয় বাজারেও বিক্রি কমিয়ে দিচ্ছে।চীন, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান কম খরচে ইরানি ডিজাইনের কার্পেট তৈরি করছে। তারা বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে বাংলাদেশে, দামের প্রতি সংবেদনশীল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
তথ্যের ভিড়ে সত্য খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস মানুষকে একটু থেমে ভাবতে, দেখে-শুনে যাচাই করতে ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস ২ এপ্রিল। এই দিনের মূল বার্তা-ফ্যাক্ট-চেকিং খুবই জরুরি। যদিও এই দিনটি বছরে একদিন পালিত হয়, কিন্তু আসলে এটি সারা বছর প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত।পাড়ার গল্প থেকে ভাইরাল ভিডিও—এখন তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই কিছু শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবসের ইতিহাসআন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস প্রথম শুরু হয় ২০১৬ সালে। এর লক্ষ্য ছিল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাধারণ মানুষ সবাই এই দায়িত্বের অংশ। এই উদ্যোগটি একটি বৈশ্বিক ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শুরু হয়, যা তথ্য যাচাইয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করে। এই দিবসটি ২ এপ্রিল পালন করা হয়, যা ১ এপ্রিলের পরের দিন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, এপ্রিল ফুলের মজা শেষ হলে এখন সময় তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার।বর্তমানে তথ্য খুব দ্রুত ছড়ায়। আগে গুজব সীমিত থাকলেও এখন তা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক সময় দ্রুততা ও আবেগকে গুরুত্ব দেয়, যা সঠিক যাচাইয়ের পথে বাধা হতে পারে। এই কারণে এখন অনেক সাংবাদিক, গবেষক ও সংস্থা ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কাজে যুক্ত।এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাক্ট-চেকিং শুধু বিশেষজ্ঞদের কাজ নয়। আমরা সবাই এতে ভূমিকা রাখতে পারি। একজন মানুষ যদি ভুল তথ্য শেয়ার না করে, তাতেই অনেক ক্ষতি কমানো সম্ভব। আবার কেউ ভদ্রভাবে ভুল ধরিয়ে দিলে অন্যরা নতুন করে ভাবতে পারে।ফ্যাক্ট-চেকিং মানে সন্দেহপ্রবণ হওয়া নয়। এটি সত্যকে সমর্থন করা, ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সচেতন আলোচনা গড়ে তোলার একটি উপায়।নতুন প্রযুক্তির কারণে এখন ভুয়া ছবি, অডিও বা ভিডিও তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে। তাই তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।লক্ষ্য সবারকে বিশেষজ্ঞ বানানো নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে একটি সহজ অভ্যাস তৈরি করা। যেমন প্রশ্ন করা, আপনি কীভাবে জানেন। এতে সত্য শুধু দেখানোর বিষয় না হয়ে বাস্তবভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১০ থেকে আগামী সোমবার (১৩ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা প্রায় চার দিন সারাদেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি অথবা বিঘ্নিত হতে পারে গ্রাহক সেবা।কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE-5 (SMW5)-এর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে সাময়িক এ অসুবিধা হতে পারে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছে যে, কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE-5 (SMW5)-এর কনসোর্টিয়াম কর্তৃক ‘S.1.5.1 Shunt Fault Repair’ শীর্ষক একটি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’ ‘ওই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আগামী ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৩ দিন ৮ ঘণ্টা সময় ধরে চলবে। এ সময়কালে কার্যক্রমটি Traffic Affecting হওয়ায় SMW5 সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে সিঙ্গাপুরমুখী সার্কিটগুলো সাময়িকভাবে প্রভাবিত হবে। এর ফলে ইন্টারনেট গ্রাহকরা ইন্টারনেটের ধীরগতি অথবা আংশিক সেবা বিঘ্নের সম্মুখীন হতে পারেন।’ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকার সময় বিএসসিপিএলস ‘র অন্য সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE-4 (SMW4)-এর মাধ্যমে সেবা প্রদান আগের মতো অব্যাহত থাকবে। আরও জানানো হয়েছে, ‘রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক সেবা পুনরায় নিশ্চিত করা যায়।’
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।