স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, হাম মোকাবিলায় সরকারের মনোযোগ এখন টিকা ও চিকিৎসা কার্যক্রমের দিকে। তিনি বলেন, আমরা হামের টিকা দিচ্ছি। টিকার ওপরে কোনো চিকিৎসা নেই। টিকা নেয়নি এমন শিশুদের আমরা খুঁজে বের করে টিকা দেব।বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা এখন মাইকিং কার্যক্রম করছি। যেসব এলাকায় টিকা পায়নি, তাদেরকে ডেকে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। টিকা দেওয়ার পর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে, আমাদের সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অনেক ভুল তথ্য পত্রিকায় আসছে।’স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাম মোকাবিলায় আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি নেই। আইসিইউ রয়েছে এবং ডাক্তাররা সচেষ্ট রয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি। সবার সহযোগিতা চাই।’হামের টিকার সংকটের তদন্ত করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করব না এমন কোনো কথা আমি বলি নাই। এখন একটা সংকট চলছে। সংকট শেষ হওয়ার পর সরকারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হবে। আমরা সেদিকে নজর দেব। এখন যদি আমরা বিচার করার মনোযোগ দেই, তাহলে সংকট আরও বেড়ে যেতে পারে। আমাদের মনোযোগ এখন টিকা ও চিকিৎিসা কার্যক্রমের দিকে।’ডেঙ্গু প্রসঙ্গে সাখাওয়াত বকুল বলেন, ডেঙ্গুর কোনো টিকা নেই। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি এবং থাকতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় মোবাইল হাসপাতালও করে রেখেছি। যদি রোগী বেশি চাপ হয়ে যায়, একটা রোগীকেও যেন বাহিরে থাকতে না হয়। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে তিন লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন। এসময় চীনা দূতাবাসের উর্ধতন কর্মকর্তারা ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় ওয়াশিংটন থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান তিনি। পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই চীন সফরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন , একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো একটি বিরল ঘটনা। কাম্পবেলের মতে, এই সফরটি প্রমাণ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।উল্লেখ্য, গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে এবং বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়েও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বাতিল না হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনা দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ববাসী।কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্পের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা বেইজিংয়ের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিন দিনের এই সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।সূত্র: এপি নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবে হামলার জবাবে ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুইজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি প্রথমবারের মতো জানা গেল যে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় রিয়াদ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাচ্ছে।পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমান বাহিনী এসব হামলা চালায়। তবে কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে হামলার জবাবেই পাল্টা এই আঘাত হানা হয়।এ বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘদিন নির্ভরশীল সৌদি আরব সাম্প্রতিক ১০ সপ্তাহের সংঘাতে নিজেকে ঝুঁকির মুখে দেখতে শুরু করে। কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা লাগে।প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে। সৌদি ও আমিরাতের পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানি হামলার শিকার উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো এবার পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছে।তবে দুই দেশের কৌশলে পার্থক্যও ছিল। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নেয় এবং ইরানের ওপর সরাসরি চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। বিপরীতে সৌদি আরব প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল বলে জানা গেছে।পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার পর সৌদি আরব ইরানকে বার্তা দেয় যে প্রয়োজনে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা গড়ে ওঠে।আলি ভাইজ বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা প্রশমনের সমঝোতা দেখায় যে উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে, পরে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিও প্রতিষ্ঠিত হয়।দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যথাক্রমে সুন্নি ও শিয়া শক্তির প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। তারা বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর থেকে উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল।মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২৫-এ নেমে আসে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে। পশ্চিমা সূত্রগুলোর ধারণা, পরবর্তী হামলাগুলোর বেশিরভাগই ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো চালায় এবং তেহরান সরাসরি হামলা কমিয়ে আনে।এদিকে যুদ্ধবিরতির শুরুর দিকেও সৌদি আরবের দিকে আবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে রিয়াদ নতুন করে পাল্টা হামলার কথা বিবেচনা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সব পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী যাত্রীবাহী নৌযানের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার (১২ মে) গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত ভাড়া গত ১১ মে থেকেই কার্যকর হয়েছে।নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে শান্ত ও অশান্ত—উভয় ধরনের নৌরুটের জন্য কিলোমিটারভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট রুটভিত্তিক আলাদা ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ভাড়া নির্ধারণে জ্বালানি ব্যয়, পরিচালন খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং যাত্রীসেবার মান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শান্ত নৌরুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা ৮০ পয়সা এবং অবশিষ্ট দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটার ৮ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।অন্যদিকে অশান্ত নৌরুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার জনপ্রতি ভাড়া ১৭ টাকা এবং পরবর্তী ১০ কিলোমিটারের জন্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ও নৌপথের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এসব রুটে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।প্রজ্ঞাপনে রুটভিত্তিক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরিচা ঘাট–কাজীরহাট রুটে ভাড়া ২৩৫ টাকা, শিমুলিয়া–কাঁঠালবাড়ী রুটে ১৩০ টাকা, বরিশাল–ভেদুরিয়া রুটে ৩২৫ টাকা, লাহারহাট–ভেদুরিয়া রুটে ১৬০ টাকা, ভৈরব বাজার–নবীনগর রুটে ২৭০ টাকা, নরসিংদী–সলিমগঞ্জ রুটে ২৩৫ টাকা এবং গলাচিপা–রাঙ্গাবালী রুটে ৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটেও নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। রাঙামাটির ফিশারি ঘাট–মারিশ্যা রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৮৬০ টাকা, মাইনি রুটে ৪৮৫ টাকা এবং বরকল রুটে ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।অশান্ত নৌরুটের মধ্যে কুমিরা–গুপ্তছড়া রুটে ২৬০ টাকা, কক্সবাজার ৬ নম্বর ঘাট–মহেশখালী রুটে ৯৫ টাকা এবং বয়ার চর (চেয়ারম্যানঘাট)–নলছিরা (হাতিয়া) রুটে ৩২৫ টাকা ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক ও পরিচালনাকারীদের নতুন ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন।নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ায় একদিকে যাত্রীদের ব্যয় কিছুটা বাড়লেও, সংশ্লিষ্টরা বলছেন—এতে নৌপরিবহন খাতে সেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পরিচালনা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে যাত্রীদের একটি অংশ ভাড়া বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সেবার মানের সঙ্গে ভাড়ার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে।১২ মে মঙ্গলবার রাতে বঙ্গভবনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল ডা. এ কে এম ফয়জুল হকের বরাত দিয়ে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে প্রেসিডেন্টের এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়ে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে সেখানে একটি স্টেন্ট স্থাপন করা হয়।বর্তমানে প্রেসিডেন্ট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত এবং তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই গত ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে, যদিও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এ সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট মোঃ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল (এনইউএইচ)-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় তিনি নিয়মিত ফলো-আপের জন্য যুক্তরাজ্যের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।প্রসঙ্গ, বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য খ্যাত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন, জটিল কার্ডিয়াক সার্জারি এবং আধুনিক হৃদরোগ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ইউনিটের কমিশনিং ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান এই ঐতিহাসিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রকল্প সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এটি অন্যতম প্রধান কারিগরি ধাপ। রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং এটমস্ট্রয়েক্সপোর্টের ভাইস প্ৰেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের এই কাজে প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি, পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের উপরের অংশ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে শত শত অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।এনপিসিবিএল-এর এমডি ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, খুব শিগগিরই রিঅ্যাক্টরকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়ার পর ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ প্রশস্ত করবে।উল্লেখ্য, রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ঈশ্বরদীতে নির্মিত হচ্ছে এই মেগা প্রকল্প। এতে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিঅ্যাক্টর থাকছে। জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টরগুলো সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটির জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল। অভিযান পরিচালনার সময় ১০০ থেকে ১৫০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোবাইল কোর্টের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ, চারজন আনসার সদস্য এবং মোবাইল কোর্টে সহায়তাকারী পাঁচ কর্মচারী আহত হন। হামলাকারীরা সরকারি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।ইউএনও আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান শেষে প্রশাসনের দল ফেরার সময় আবারও হামলার শিকার হয়। তবে বিনা উসকানিতে গুলি চালানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তিনটি সেচ মেশিন ভেঙে ফেলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়। তার দাবি, এতে অন্তত চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে মোবাইল কোর্টের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়।
নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ দাখিলের সময় উপস্থিত ছিলেন গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মইনুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডের অলিয়ার রহমান, ৮নং ওয়ার্ডের মমিনুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ডের মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সিদ্দিকা বেগম, চম্পা রানী ও বিলকিস বেগম।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সাবেক চেয়ারম্যান অপসারণের পর ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর মোঃ আলমগীর হোসেন গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প, ভাতা কার্যক্রম ও বিভিন্ন সরকারি সেবায় ধারাবাহিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে। অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নামে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে প্রায় তিন লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল উত্তোলন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ভিডব্লিউবি কার্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রতিটি কার্ডে ৫ হাজার টাকা করে আদায়, টিউবওয়েল ও কাবিখা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে দুই দফায় প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসকের নিজ নামে প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও ইউনিয়নে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া প্রশাসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে মামলা ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে ইউপি সদস্যদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হতো। মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায়, উন্নয়ন বরাদ্দের টিন বিতরণে অনিয়ম এবং গ্রাম আদালত কমিটির নিয়মিত সভা না করার মতো গুরুতর অনিয়মের কথাও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।অভিযোগকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কৃষি ও পর্যটন খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আরও ৮ হাজার ৮৬৫টি সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন দিয়েছে ইতালি সরকার। এর ফলে ইতালিতে কাজের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।২০২৬ সালের ‘ডিক্রেটো ফ্লাসি’ কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত এই কোটা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ মে প্রকাশ করা হয়।মূলত গ্রীষ্মকালীন কৃষিকাজ এবং পর্যটন মৌসুমে বাড়তি শ্রমিক চাহিদা পূরণে এই অতিরিক্ত পারমিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোটার মধ্যে কৃষি খাতের জন্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৯টি পারমিট। এছাড়া হোটেল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৭৬টি পারমিট।চলতি বছরের শুরুতে ‘ক্লিক ডে’-তে আবেদন করেও কোটা সংকটের কারণে যারা সুযোগ পাননি, তাদের জন্য এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের অনেক আবেদন পুনরায় বিবেচনার আওতায় আনা হতে পারে।এদিকে নতুন আবেদনকারীদেরও সুযোগ থাকছে। তবে আবেদন করতে হবে ইতালির বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। নিয়োগকর্তাকে সরকারের নির্ধারিত ইমিগ্রেশন পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীর আবাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে দেশটিতে পৌঁছানোর পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে শ্রমিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে ইতালির। বিশেষ করে কৃষি, হোটেল ও পর্যটন খাতে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের চাহিদা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে অতিরিক্ত এই কোটা দীর্ঘ সময় খোলা নাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া পারমিট খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পূরণ হয়ে যায়।
আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে পবিত্র ঈদুল আজহায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।আইনজীবী জানান, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে ১১৯ ধারায়। ওই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে রিট করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন। পরে ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন।সেই বিচারাধীন রুলে সম্পূরক আবেদনে এ আদেশ দেন বলে জানিয়ে আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন জানান, আইনে আছে আলাদা কামরার কথা, সেটি বাস্তবায়নের রুল বিচারাধীন। এই অবস্থায় ঈদে নারীদের কষ্ট লাঘবে আবেদন করা হয়। পরে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জেরা (JERA) মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে দগ্ধদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।তাদেরকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।বিস্তারিত আসছে....
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২২৫ জন প্রার্থীর নির্বাচনী খরচসহ দলের মোট ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১২ মে) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে এই হিসাব বিবরণী জমা দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত ওই হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, নির্বাচনে দলটির মোট ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। এর মধ্যে ২২৫ জন প্রার্থীর বিপরীতে দলের পক্ষ থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি টাকা, যেখানে গড়ে প্রতি প্রার্থী দল থেকে প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা করে পেয়েছেন।নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তথ্যে ব্যয়ের খাতগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নির্বাচনী খরচের তালিকায় রয়েছে নির্বাচনী ইশতেহার ডিজাইন ও ছাপা, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন, আপ্যায়ন, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর এবং আইসিসিতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার খরচ।খাতওয়ারি ব্যয়ের বিবরণে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮২৭ টাকা এবং পরিবহন খাতে ৮ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া জনসভা ও সফর বাবদ ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৯৯ টাকা, স্টাফ খরচ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টাকা এবং আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ টাকা ব্যয় করেছে দলটি। বিবিধ খরচ হিসেবে আরও ২ লাখ টাকার হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শ্রমিকের মূল্য বেশি, তাই জমির ধান কাটতে পারছিলেন না ৩ মেয়ের মা অসহায় বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস। খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী।সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াধানা গ্রামের নমিতা বিশ্বাসের ২ বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দেন।আগামী ১ সপ্তাহ নেতা-কর্মীদের নিয়ে অসহায় মানুষের ধান কেটে দেয়ার ঘোষণা দেন এ সংসদ সদস্য।এ নিয়ে নমিতা বিশ্বাস বলেন, ‘আমার ৩ মেয়ে। স্বামী মারা গেছে। শ্রমিকের দৈনিক মূল্য ১ হাজার ২শ’ টাকা। টাকা না থাকায় আমার জমির ধান কাটতে পারছিলাম না। এমপি এসএম জিলানী লোকজন নিয়ে আমার জমির ধান কেটে দিয়েছে। এতে আমার অনেক উপকার হয়েছে। এজন্য ওনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’সংসদ সদস্য এসএম জিলানী বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া কষ্টসাধ্য। অনেক মানুষ টাকা দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছে না। সেই জন্য দল থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যে গরীব অসহায় মানুষগুলো ধান কাটতে পারছে না, তাদের ধান কেটে বাড়িতে উঠিয়ে দিলে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। তাই এই ধান কাটা মৌসুমে আগামী এক সপ্তাহ ধান কাটতে মানুষের পাশে দাঁড়াব।’
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারায় পাকিস্তানকে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে টাইগারদের প্রথম জয় এটি। এতে ৩ ম্যাচে ১টি করে জয়-হার ও ড্রতে ৪৪.৪৪ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠল বাংলাদেশ।পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলতে নামার আগে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অষ্টম স্থানে ছিল স্বাগতিকরা।এই চক্রে এটি দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাংলাদেশের। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ খেলেছিল টাইগাররা। শ্রীলঙ্কা সফরে দুই ম্যাচের সিরিজের ১টিতে জয় ও ১টিতে ড্র করেছিল তারা।বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্ট হেরে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম থেকে সপ্তম স্থানে নেমে গেল পাকিস্তান। ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ৩৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট আছে তাদের। নিজেদের প্রথম সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ১-১ সমতায় শেষ করেছিল পাকিস্তান।এই তালিকায় সবার উপরে আছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ৮ ম্যাচে ৭ জয় ও ১ হারে ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট আছে অসিদের। ৭৭.৭৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। ৩ ম্যাচ খেলে ২টিতে জয় ও ১টিতে ড্র করেছে কিউইরা।এরপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে- দক্ষিণ আফ্রিকা (৪ ম্যাচে ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট), শ্রীলঙ্কা (২ ম্যাচে ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট) এবং ভারত (৯ ম্যাচে ৪৮.১৫ শতাংশ পয়েন্ট)।অষ্টম ও নবম স্থানে আছে ইংল্যান্ড (১০ ম্যাচে ৩১.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৮ ম্যাচে ৪.১৭ শতাংশ পয়েন্ট)।সূত্র: বাসস
মা—এই শব্দের আরেক নাম আশ্রয়, ভালোবাসা ও মমতা। একজন মা কর্মজীবী হোন কিংবা গৃহিণী, প্রতিদিনের অসংখ্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জন্য খুব সামান্য সময়ই বের করতে পারেন। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো মায়েদের জন্য তৈরি করেছে নতুন এক সম্ভাবনার জগৎ।দিনের ব্যস্ততা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে অনেক মা এখন খুঁজে পাচ্ছেন বিনোদন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ। শুধু দর্শক হিসেবেই নয়, অনেকেই হয়ে উঠছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নিজেদের বাস্তব জীবনের গল্প, পরিবার, রান্নাবান্না কিংবা ছোট ছোট আনন্দঘন মুহূর্ত ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরছেন তারা, যা সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে দর্শকদের মনে।নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ডিজিটাল ফিচার ব্যবহার অনেক অভিভাবকের জন্য এখনও কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে TikTok-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করাকে সহজ করে দিয়েছে। সংসার ও পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীলতা ধরে রাখছেন অনেক মা, যা তাদের ভিডিও কনটেন্টে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে সামিহা সাইয়ারা, আরিফা বেগম এবং মাসফিক হোসেন এখন সামাজিক মাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক মা দিবসে তাদের কনটেন্ট যেন মনে করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো তৈরি হয় আপন মানুষদের ঘিরেই।সামিহা সাইয়ারা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লাইফস্টাইল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ফ্যাশন, স্কিনকেয়ার ও দেশীয় পোশাক নিয়ে তার ভিডিও তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে তার কনটেন্টকে আরও বিশেষ করে তোলে মেয়ের উপস্থিতি। মা-মেয়ের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, মিলিয়ে পোশাক পরা কিংবা উৎসবকেন্দ্রিক ভিডিও দর্শকদের কাছে বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে আরিফা বেগম তার রান্না ও পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্তকে ভিডিওতে তুলে ধরেন। বিশেষ উৎসবের আয়োজন, পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না এবং একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দ তার কনটেন্টে ফুটে ওঠে আন্তরিকভাবে। সাধারণ ও স্বাভাবিক উপস্থাপনার কারণেই দর্শকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।এদিকে মাসফিক হোসেন, যিনি ‘লেইজি পান্ডা’ নামে পরিচিত, মাকে নিয়ে তৈরি করেন ভিন্নধর্মী কমেডি কনটেন্ট। মা-ছেলের খুনসুটি, ট্রেন্ডি চ্যালেঞ্জ ও হাস্যরসাত্মক অভিনয় তার ভিডিওগুলোকে করে তুলেছে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় নিখুঁত জীবনের ছবিই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই বাংলাদেশি মায়েরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তুলে ধরছেন বাস্তব জীবনের গল্প—রান্নাবান্না, ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়। আর তাদের এই আন্তরিক উপস্থাপনাই সহজেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে।
মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া মিম। পোশাক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বেশ আলোচিত থাকেন সবসময়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের ফ্যাশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন গণমাধ্যমে।মারিয়া মিম বলেন, তার পরনের লাল রঙের ওয়েস্টার্ন পোশাকটি ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে কেনা। ভবিষ্যতে সেখানে গেলে আরও এমন পোশাক কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। অনুষ্ঠানে নিজের সাজপোশাক প্রসঙ্গে মিম জানান, কোন ড্রেস পরবেন বা কোন লুকে হাজির হবেন, তা নিয়ে তার আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকে।সৌদি আরবে অত্যন্ত চমৎকার সব ওয়েস্টার্ন পোশাক পাওয়া যায় উল্লেখ করে মিম বলেন, আমার রেড অনেক পছন্দ, আর রেড পরলে আমাকে অনেক সুন্দর লাগে। আমার এই ড্রেসটা আমি যখন ওমরাহ করতে গিয়েছিলাম, তখন জেদ্দা থেকে কিনেছিলাম। ওখানে ওয়েস্টার্ন ড্রেস অনেক সুন্দর সুন্দর পাওয়া যায়। সো এটা আমার জানা ছিল না। আর নেক্সট টাইম আমি সৌদি আরব গেলে অবশ্যই আরও আরও অনেক ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিনব। সো আমি ওখান থেকেই নিয়েছিলাম এই ড্রেসটা।তবে পোশাকের দাম কত, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার প্রস্তাব পেলেও চিত্রনাট্য ও সহ-শিল্পী মনের মতো না হওয়ায় কাজে নামা হয়নি। তিনি বলেন, আমি তো সিনেমার অফার অনেক আগে থেকেই পাচ্ছি। বাট ব্যাটে-বলে মিলে না। আরেকটা করছি আমি, ওটার তো শুটিং আরও বাকি আছে। সো হ্যাঁ, যখন আসবে তখন তো অবশ্যই তোমরা দেখতে পারবে।অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া মিম ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। শোবিজ অঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন থাকলেও ব্যক্তিগত নানা জটিলতায় মাঝপথে তাকে থেমে যেতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে সেই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেই ব্যক্তিগত জীবন ও প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নে মেজাজ হারান মিম। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের বুম মাইক্রোফোন ছুঁড়ে ফেলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি, যা নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস (বাইফা) অ্যাওয়ার্ড পেলেন গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ। ‘মাগুরার ফুল’ শিরোনামের আলোচিত গান রচনার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।শুক্রবার (৮ মে), বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাইফা পুরস্কারের পঞ্চম আসরের সূচনা হয়। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে মাহবুবুল খালিদ ছাড়াও এবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন- ‘তুমি’ গানের জন্য আইদিদ রশিদ, ‘বাজি’ গানের জন্য ইমন চৌধুরী ও হাশিম মাহমুদ, ‘গুলবাহার’ গানের জন্য ঈশান মজুমদার, ‘লং ডিসটেন্স লাভ’ গানের জন্য শুভেন্দু দাস শুভ।সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট ও সচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গান লিখে আসছেন গীতিকার, সুরকার মাহবুবুল খালিদ। তার লেখা পাঁচ শতাধিক গান ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘খালিদ সংগীত’ প্ল্যাটফর্মে। নিজের অধিকাংশ গানের সুরকারও তিনি। মাগুরায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ৮ বছর বয়সি শিশু আছিয়াকে নিয়ে লেখা হৃদয়স্পর্শী গান ‘মাগুরার ফুল’-এর জন্য ‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে বাইফা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন মাহবুবুল খালিদ।বাইফার জমকালো এ আয়োজনে দর্শক ভোট ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে গান, নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি, নৃত্য ও ফ্যাশনসহ মোট ২৯টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবারের আসরে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন এবং ঢালিউডের বরেণ্য অভিনেত্রী কোহিনূর আখতার সুচন্দা। তারকাদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, রেড কার্পেট ও বিশেষ গ্ল্যামার সেগমেন্ট দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়।বলে রাখা ভালো, বাইফা অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসর থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান শুরু হয়। এর আগে এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা, নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মহম্মদ।‘মাগুরার ফুল’ গানটি লেখা হয়েছে মাগুরার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী মাঠপাড়া গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে।এই নির্মম ঘটনা গভীরভাবে নাড়া দেয় মাহবুবুল খালিদকে। সেই বেদনা থেকেই তিনি রচনা ও সুর করেন ‘মাগুরার ফুল’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন মৌটুসী খান, মৌলি মজুমদার ও মৌমিতা বড়ুয়া। সংগীতায়োজন করেছেন শেখ পুলক ও রোমান রহমান।গানটির শুরুতেই উঠে এসেছে এক শিশুর অপূর্ণ স্বপ্ন আর সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতা- “মাগুরার ফুল ছোট্ট মুকুল, ঝরে গেলো ফুটে ওঠার আগেই/ ডাক্তার হবার স্বপ্নটা তার, নিভে গেলো পিশাচের এক ছোবলেই...।” আবেগঘন এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।গানটি নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি মিউজিক ভিডিও, যা পরিচালনা করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। ‘খালিদ সংগীত’ শিরোনামের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আগামী ১৬ মে শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’। দেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে এদিন সকাল ১০টা থেকে এই সম্মেলন শুরু হবে। দিনব্যাপী আয়োজনে সারা দেশের শতাধিক চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিনিধি, সংগঠক ও স্বাধীন চলচ্চিত্রকর্মীদের অংশগ্রহণে সম্মেলনে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা- পলিসি, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ডা. জাহেদ উর রহমান।আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ আলোচনা সভা। এদিন অস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত লিসা গাজীর ‘বাড়ির নাম শাহানা’ এবং আকরাম খানের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘নকশিকাঁথার জমিন’ প্রদর্শিত হবে। এছাড়া ‘ঢাকার বাইরের চলচ্চিত্র সংসদ’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক চলচ্চিত্র সংসদ’—এই দুই বিষয়ের ওপর পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের সংগঠকরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।চলচ্চিত্র আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিএফএফএস পদক ২০২৫ (বর্ষসেরা সংগঠন)’ এবং ‘চলচ্চিত্র সংসদ সম্মাননা ২০২৬ (বিএফএফএস আজীবন সম্মাননা)’। সম্মেলন উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মরণিকাও প্রকাশ করবে আয়োজক সংস্থাটি।উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) দেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলা, দর্শক তৈরি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি অস্কারের জন্য দেশীয় চলচ্চিত্র মনোনয়ন প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করে আসছে এই সংগঠনটি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সম্মেলন দেশের চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেম উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বারাকপুরের সাবেক বিধায়ক ও জনপ্রিয় নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে রাজের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে টলিউডের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধি নাম না করে রাজকে উদ্দেশ্য করে কড়া সমালোচনা করেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বারাকপুর আসন থেকে পরাজিত হওয়ার পরপরই সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাজ চক্রবর্তী। তার এই সিদ্ধান্তকে ইঙ্গিত করে সৌরভ পালোধি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, হেরে গেলে কি রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যায়? এদেরকে কি মৌলিক রাজনৈতিক শিক্ষার কোনো বই উপহার দেওয়া যায় না?সৌরভ পালোধির এই মন্তব্য রাজ চক্রবর্তীর ‘পরাজয় মেনে নিতে না পারা’র দিকেই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। টালিউড পাড়ায় বামপন্থী আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সৌরভ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, জয় বা পরাজয় যা-ই হোক না কেন, তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শেই অবিচল থাকবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় থাকার বিষয় নয়, বরং রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নাম।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৬-এর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন রাজ। টলিউডের এই হেভিওয়েট নির্মাতার এমন হঠাৎ প্রস্থানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে রাজের পক্ষ থেকে সৌরভের এই সমালোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আটকে থাকা সিনেমা ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’ মুক্তি পেলো। ইরফানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্প্রতি ইউটিউবে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইরফানের বিপরীতে ছবিটিতে বিদ্যা বালান অভিনয় করেছেন। এটি ইরফান খান এবং বিদ্যা বালনের ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকের কাজ। ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে রূপালি পর্দায় সম্ভবত এটিই ছিল বিদ্যার প্রথম সিনেমা। এর চেয়েও বড় বিষয়, পুরো ক্যারিয়ারে এই একটি মাত্র সিনেমাতেই একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই দুই পাওয়ার হাউস পারফর্মার।২৫ বছর আগে চিত্রনাট্যকার সার্থক দাশগুপ্ত এটি পরিচালনা করেছিলেন। তবে প্রতিকূলতা যেন পিছু ছাড়ছিল না। মূল ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ায় দুই দশকেরও বেশি সময় ছবিটির মুক্তি আটকে ছিল। পরিচালক সার্থক প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাক্রমে ছবিটির একটি ভিএইচএস কপি খুঁজে পাওয়া যায়, যা বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুনরুদ্ধার করে দর্শকদের সামনে আনা সম্ভব হয়েছে।পরিচালনার স্মৃতিচারণা করে সার্থক দাশগুপ্ত বলেন, ‘তখন আমি একেবারে নতুন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই কেবল অনুভূতির ওপর ভর করে সিনেমাটি বানিয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমবিএ শেষ করে কর্পোরেট জীবন ছেড়ে আসা সেই তরুণের কাছে এটি ছিল বড় এক পরীক্ষা। আজ প্রিয় ইরফানের স্মরণে এটি মুক্তি দিতে পেরে আমি তৃপ্ত।’সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক সঙ্গীতশিল্পীকে ঘিরে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে নিস্তব্ধতা আর রহস্যের মাঝে ডানা মেলে স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষা। তবে সেই যাত্রা মোটেও প্রত্যাশামতো এগোয় না। শূন্য বাজেটের এই কাজটি বর্তমান দর্শকদের কাছে অন্যরকম এক নস্টালজিয়া তৈরি করেছে।নিজের প্রথম দিকের কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিদ্যা বালনও। তিনি বলেন, ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’ শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে দেখে অবিশ্বাস্য লাগছে। তখন আমি নিজের জায়গা খুঁজছি, আর ইরফান ছিলেন অসাধারণ একজন সহকর্মী। আমাদের একসঙ্গে করা একমাত্র এই কাজটি ফিরে পাওয়া আমার কাছে দারুণ এক প্রাপ্তি।’গত ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সিনেমাটি ইউটিউবে প্রায় দুই লক্ষ ভিউ অর্জন করেছে। ইরফান ভক্তদের কাছে এই ছবি যেন এক হারিয়ে যাওয়া অমূল্য রত্ন। এর আগে সার্থক দাশগুপ্ত ‘দ্য মিউজিক টিচার’ ও ‘২০০ হাল্লা হো’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজ ‘ধারাভি ব্যাংক’ পরিচালনা করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯২ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১১ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৭৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ।এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
কৃষি ও পর্যটন খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আরও ৮ হাজার ৮৬৫টি সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন দিয়েছে ইতালি সরকার। এর ফলে ইতালিতে কাজের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।২০২৬ সালের ‘ডিক্রেটো ফ্লাসি’ কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত এই কোটা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ মে প্রকাশ করা হয়।মূলত গ্রীষ্মকালীন কৃষিকাজ এবং পর্যটন মৌসুমে বাড়তি শ্রমিক চাহিদা পূরণে এই অতিরিক্ত পারমিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোটার মধ্যে কৃষি খাতের জন্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৯টি পারমিট। এছাড়া হোটেল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৭৬টি পারমিট।চলতি বছরের শুরুতে ‘ক্লিক ডে’-তে আবেদন করেও কোটা সংকটের কারণে যারা সুযোগ পাননি, তাদের জন্য এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের অনেক আবেদন পুনরায় বিবেচনার আওতায় আনা হতে পারে।এদিকে নতুন আবেদনকারীদেরও সুযোগ থাকছে। তবে আবেদন করতে হবে ইতালির বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। নিয়োগকর্তাকে সরকারের নির্ধারিত ইমিগ্রেশন পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীর আবাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে দেশটিতে পৌঁছানোর পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে শ্রমিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে ইতালির। বিশেষ করে কৃষি, হোটেল ও পর্যটন খাতে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের চাহিদা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে অতিরিক্ত এই কোটা দীর্ঘ সময় খোলা নাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া পারমিট খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পূরণ হয়ে যায়।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
বাংলাদেশে টেকনো স্পার্ক ৫০ সিরিজের আনুষ্ঠানিক পথচলার দশদিন এর মধ্যে এই লাইনআপের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে স্পার্ক ৫০ ফাইভজি। দৈনন্দিন ব্যবহারে এতটা মানানসই এই ফোনটি, যে এ নিয়ে কথা না বলে উপায় নেই। বড় মাপের হাই-রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, শক্তিশালী ফাইভজি প্রসেসর, ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, বড় ব্যাটারি আর প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য পারফেক্ট ডিজাইন, কী নেই এতে? আর এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণের জায়গাটি হচ্ছে এই যে, ফোনটি ব্যবহার করে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। তাই ব্যবহার করে পাওয়া যায় দারুণ অভিজ্ঞতা। তাই ফোনটির কয়েকদিন চালানোর পরেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজরে আসে, তা হলো সবমিলিয়ে এটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাটাই। ৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে থাকায় নিয়মিত ব্যবহার হয় একেবারে স্মুথ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, শর্ট ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং বা এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়া, সবকিছুই হয় ঝামেলা ছাড়াই। গ্লোবালি বিভিন্ন রিভিউতে ফোনটির মজবুত ডিজাইন এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের কথা বলা হয়েছে। এটি আসলে এমন একটি ডিভাইস, যা মাঝে মাঝে শো-অফ এর চেয়ে বরং নিয়মিত ও দীর্ঘসময় ব্যবহার করার জন্যই তৈরি। মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৪০০ ফাইভজি+ প্রসেসর সেই অভিজ্ঞতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। ফলে, দৈনন্দিন সকল কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন এবং হালকা ধাঁচের গেমিংও বেশ ভালোভাবেই চালিয়ে নেওয়া যায়। পাওয়া যায় দারুণ দ্রুত পারফরম্যান্স।ব্যাটারি লাইফ হলো স্পার্ক ৫০ ফাইভজি-এর অন্যতম বড় শক্তি। ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিংয়ের ফলে ফোনটি ব্যবহারে চার্জিং নিয়ে মোটেও দুশ্চিন্তা করতে হয় না। দীর্ঘসময়ের যাতায়াত, টানা অনেকক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার, স্ট্রিমিং, কল বা সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি ব্যবহারেও বারবার চার্জ দেওয়া নিয়ে ভাবতে হয় না। আর প্রয়োজনের সময় দ্রুত চার্জ হয়ে যাওয়ার সুবিধাও রয়েছে অনেকরকম। মোটকথা, চার্জিং নিয়ে ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান যারা, এই ব্যাটারি ব্যাকআপ ফিচারটি তাদের জন্য ফোনটিকে আরো বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে। ক্যামেরা সেটআপে ফোনটি চালানোর অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়। কেননা স্পার্ক ৫০ ফাইভজি-তে থাকা ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা থাকায় ভালো মানের ফটোগ্রাফি এখন সকলের হাতের মুঠোয়। সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিতে তোলা যাবে স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত সব ছবি। ফোনটির বিভিন্ন রিভিউতেও ভালো ডে-লাইট ফটোগ্রাফির কথা উঠে এসেছে, যা এই সেগমেন্টের ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। ফলে নিজেদের পারিবারিক মুহূর্ত, সাধারণ পোর্ট্রেট বা দ্রুত সময়ের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট, সবক্ষেত্রেই খুব সহজে এই ক্যামেরাটিকে কাজে লাগানো যায়। স্পার্ক ৫০ ফাইভজি-কে আরো আধুনিক করে তুলেছে এর বিভিন্ন ফিচার। এতে রয়েছে আইপি৬৪ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, মিলিটারি-গ্রেড ডিউরেবিলিটি, সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, টেকনো এআই, ফ্রিলিংক ২.০ এবং আইওএস-এর সঙ্গে ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফার ইত্যাদি বিশেষ সব সুবিধা। এগুলো শুধু ফোনটির স্পেসিফিকেশন তালিকার অংশই নয়, বরং পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতার পেছনের চাবিকাঠি। এই ফোনের ডিজাইনে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, স্থায়িত্ব আর আরামদায়ক ব্যবহারের দিকে, যার ফলে ব্যালান্সড অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। স্পার্ক ৫০ ফোরজি মডেলটিও এক্ষেত্রে আলাদাভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এই সিরিজের অন্যতম আরেকটি শক্তিশালী দিক হচ্ছে এই ডিভাইসটি। যদিও ফাইভজি মডেলটিই এখন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তবে ফোরজি সংস্করণে রয়েছে এই সিরিজের সবচেয়ে বড়, অর্থাৎ ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, ৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার এবং আইআর রিমোট কন্ট্রোল, টেকনো এআই ও ফ্রিলিংক ২.০-এর মতো বেশ কিছু কার্যকর ফিচার। বিশেষ করে যারা ফোন কেনার সময় ব্যাটারির দিকটায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে সেরা একটি পছন্দ। বাংলাদেশের বাজারে এই সিরিজের দামও বেশ হাতের নাগালে রাখা হয়েছে। ৪জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টে স্পার্ক ৫০ ফোরজি পাওয়া যাচ্ছে ১৭,৪৯৯ টাকায় এবং এটির ৬জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম পড়ছে ১৯,৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে স্পার্ক ৫০ ফাইভজি-এর ৬জিবি+১২৮জিবি ভ্যারিয়েন্টের বর্তমান বাজারমূল্য ২৩,৯৯৯ টাকা। এত সাশ্রয়ী দামের মধ্যে স্পার্ক ৫০ ফাইভজি একটি দুর্দান্ত স্মার্টফোন, যা ব্যবহারে একইসঙ্গে পাওয়া যাবে দারুণ পারফর্ম্যান্স, আধুনিক মানের কানেক্টিভিটি এবং বাস্তবসম্মত ব্যবহারের একটি সামগ্রিক অভিজ্ঞতা।তাই এই ফোনটি এক সপ্তাহ ব্যবহারের পর বিষয়টা খুব সহজভাবে বলা যায়। টেকনো স্পার্ক ৫০ ফাইভজি আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে। দেখতে খুব স্টাইলিশ, পারফর্ম্যান্সে শক্তিশালী কিন্তু ব্যবহারে একেবারেই জটিল নয়। তাই প্রতিদিনের ব্যবহারে আপনার ভরসার সঙ্গী হতে পারে এই ফোনটি। কেননা নতুন স্পার্ক ৫০ সিরিজের লাইনআপে তাই অন্য সব ফোনকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি উজ্জল স্পার্ক ৫০ ফাইভজি।
গোনাহ থেকে বাঁচতে এবং হালালের পথে থাকার উদ্দেশেই জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছিলেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।বুধবার (৬ মে) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান মাদানী।সেখানে তিনি লেখেন, আল্লাহকে ভয় করা এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এমন আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন আলোচিত এ ইসলামি বক্তা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব’ শিরোনামে দীর্ঘ এক ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।সেখানে মাদানী বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্ক বা টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু লোক বলার চেষ্টা করছে, আমি নাকি আমার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় এই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে চাপে পড়ে বিয়ে করেছি। আবার অনেক নির্লজ্জরা তো বলছে টিকটকে নাকি পরিচয়, মাআযাল্লাহ! আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনোদিন দেখিনি, এমনকি তার সাথে একবারের জন্য কথাও হয়নি,আর টিকটকে জীবনে কোনদিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না!’সবচেয়ে বেশি আপত্তি তোলা হচ্ছে- কেন প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন আলোচিত এ ইসলামী বক্তা। এর জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে মাদানী দাবি করে বলেন, বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী-ছেলে বা মেয়ে-তাদের ফরম পূরণ করতে হয়। আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। উভয়পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন, আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব, আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী। আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সাথে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।নিজের পোস্টে প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, আমি সারাক্ষণ স্ত্রীর পাশে হাসপাতালে থেকেছি। ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন—৪ দিন ছিলাম রাত-দিন আমার ঘুম ছিল না, ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। যেদিন আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, সেদিন অপারেশনের পর সারারাত তার বিছানার পাশে বসে থেকেছি। রাত ৩টার দিকে নার্সরাই আমার জন্য মায়া করে বলেছে, ‘হুজুর, আপনার স্ত্রী ভালো আছেন, আপনি বসে না থেকে এবার একটু ঘুমান।’গর্ভাবস্থার পুরো সময় হাসপাতালে থেকে স্ত্রীর দেখভাল করেছেন এবং সংসারজীবনে অবহেলার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি শুনে কষ্ট পেলেও তারা তার আচরণ বা দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বলেও দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া আলোচনায় আসা আইএমভি নামের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও ব্যাখ্যা করেন মাদানী। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি এমন নারী-পুরুষকে একত্র করে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় না।একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক অসহায় ও আশ্রয়হীন নারীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সহায়তার জায়গা হিসেবেও কাজ করছে।সমালোচকদের উদ্দেশে মাদানী আরও বলেন, অনেকেই একাধিক বিয়ের ইসলামী বিধানকে অপছন্দ করেন বলেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫টা ৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টিন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!’