বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। যারা অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে, তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন-এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হবে। এরশাদও সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। তারেক রহমানকে তার যাওয়ার রাস্তা নিজেকে বাছাই করে নিতে হবে।’শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢাকা টু রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।গণজোয়ার প্রতিরোধ করতে গতকাল রাত থেকে লংমার্চের পথে থাকা ১১–দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এই কাজে যোগ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে লংমার্চের গণজোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হবে না।এসময় শেখ হাসিনার সরকার যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে, বর্তমান সরকারও একই আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।তিনি বলেন, ঢাকা টু চট্টগ্রাম ঐতিহাসিক লং মার্চ সফল করার পরে আজকে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি ঢাকা থেকে রংপুরের আমাদের সেই ঐতিহাসিক লং মার্চ। রংপুরের আজকের এই ঐতিহাসিক লং মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে, আট দফা দাবিতে।সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ১১ দলের গণদাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। এই রাজপথ থেকে আমরা আদায় করে ঘরে ফিরবো। গণভোটের গণরায়কে কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের বিকল্প কোন পথ নাই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তারেক জিয়া সরকারকে গণভোটের রায় কার্যকর করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে ইনশাল্লাহ।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ১১ দল দ্ব্যর্থহীন ভাষাই বলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য তারা নিজেরাই নিজেদের হাতে গড়বে। তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে সরকারের লুকোচুরি আর বরদাস্ত করা হবে না। শহীদ শরীফ ওসমান হাদীসহ দেশ প্রেমিক ইলিয়াস আলীসহ যাদেরকে গুম, খুন, হত্যা করা হয়েছে তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মানুষ আদায় করে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ। শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদেরকে যারা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে আমরা ভিনদেশীয় অপশক্তিগুলোকে আজকের এই লংমার্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সফল হব ইনশাআল্লাহ।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে পিক-আপ ভ্যানের ধাক্কায় সৈকত হোসাইন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিক-আপ ভ্যানের এক সহকারী আহত হয়েছেন।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া মোল্লাবাড়ী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সৈকত হোসাইন (২৩)। পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইলগামী একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কের কড্ডা এলাকায় সামনে থাকা একটি ট্রাককে পেছন থেকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এর চালক নিহত হন। দুর্ঘটনায় পিক-আপ ভ্যানের হেলপার আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিক-আপ ভ্যান ও ট্রাকটি জব্দ করেছে। কোনাবাড়ী থানার এ এস আই আব্বাস উদ্দিন জানান,লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সরকার শুরু থেকেই একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের আস্থা হারিয়েছে এবং ভুলের পর ভুল করে জনগণের অনাস্থা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।১১ দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা, শফিকুর রহমান এমপি,এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এডিপির চেয়ারম্যান ড.কর্ণেল অলি আহমদ বীরবিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামনুল হকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই সরকার শুরুই করেছে ভুল দিয়ে। ভুলের পর ভুল করে সরকার জনগণের অনাস্থা পূর্ণ করে তুলেছে।বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন,গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপির দুটি নতুন নাম দিতে চাই, ‘বিশ্বাস নাই পার্টি’ বা ‘বিশ্বাসহীন পার্টি আরেকটা বিশ্বাস নষ্ট পার্টি। আপনারা যদি গুম-খুন ও অন্যান্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের নাম দেবে ‘বিচার না করা পার্টি’। বিদ্যুৎ দিতে না পারলে জনগণ বলবে,বিদ্যুৎ নাই পার্টি’।মঞ্জু বলেন, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আপনাদের নতুন একটি নাম দিতে বাধ্য হব, বাংলাদেশ নাই নাই পার্টি’।তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল পরিবর্তনের পর একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে,গুম খুনের শক্তিশালী আইন হবে কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণভোটের গণরায়কে মেনে নিতে টালবাহানা, জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।গুম ও মানবাধিকার নিয়ে প্রতারণার আইন করেছে।এভাবে জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে পার পাওয়া যাবে না।সমাবেশে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল এবং শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহকারী প্রচার সম্পাদক রিপন মাহমুদ, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু এবং মশিউর রহমান মিলুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে। দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে। যদি সাহস থাকে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।’মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা আপনাদের সামনে বলতে চাই, মিরাজ শেখ কোথায়? পাঁচ মাস হয়ে গেলো, কেন মিরাজ শেখের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না? অথচ এই সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সরকারের বিগত সাত মাসে নাকি একটিও গুম হয়নি। মিরাজ শেখের গুমের ঘটনা পুরো বিশ্ববাসী এখন জানে।’মিরাজ শেখের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম জানান, তারা প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ারও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘তিনি (গাজী সালাহউদ্দিন) একটা ভুল করেছিলেন। খারাপ ভাষা ব্যবহার করে সরকার প্রধানের নামে কটূক্তি করেছিলেন। আমরা সেটা সমর্থন করিনি। দল হিসেবে আমরা তৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর কোন সন্ত্রাস করেছেন যে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে?’গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া কি এক ধরনের সন্ত্রাস? তারেক রহমান কি বাংলাদেশের নতুন দিগ্বিজয়ী? তার বিরুদ্ধে কথা বললেই, মিম করলেই, এমনকি গালি দিলেও, যেটা আমরা সমর্থন করি না, সেটা তো সন্ত্রাস নয়।’হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জে দেখেছেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ তারা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধী দল-মত দমন করা শুরু হয়ে গেছে।’গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করবে। পাশাপাশি অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান রাখার ফলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির বহু নেতাকর্মী বিগত সময়ে গুম হয়েছেন। সালাহউদ্দিন (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সাহেব গুম হয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। বিএনপি বিরোধীদলে থাকার সময় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আর এখন তারা সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও কোনো তদন্ত হতে দিচ্ছে না।’মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারি মানবাধিকার কমিশনে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে গুমের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।জাতিসংঘে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কী জবাব দেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন।’সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে, এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি।’মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন, সঠিকভাবে যাতে গুমের তদন্ত হয়, মানবাধিকার কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের নামে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সে আইনের সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের অধিকার হরণ না করা হয়।’
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এই অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সংক্ষিপ্ত আলাপকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান তারা।ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন মঈন খান এবং হুমায়ুন কবির। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তারা।বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ।রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‘জামায়াতে-ইসলামী : ইটস হিস্ট্রি এন্ড পলিটিক্স’- শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি আজ এ কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। একইভাবে কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। অন্যের মত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটি তার কাছে শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং একটি সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।বইটির আলোচনায় উঠে আসা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান এবং জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সেই অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তাঁর সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করেছিলেন।আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে গেলে কখনো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চা পান করেছেন, কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এই বই পাঠ করা উচিত।ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্স অ্যান্ড গভর্নমেন্টের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রিয়াজ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডম-এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং দ্য ডেইলি স্টার-এর কনসালটিং এডিটর ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি।শুক্রবার (১৮ সেপ্টম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করে রোম নিজস্ব উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার সক্ষমতা ইতালির রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি অচল হয়ে গেলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমলাতান্ত্রিক বিলম্বের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে দেওয়া উচিত নয়’। তবে ঠিক কতটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে বা কখন সেগুলো দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী।বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহন, তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং সুয়েজ খালমুখী কনটেইনার জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। সবচেয়ে সরু অংশে প্রণালিটির প্রস্থ প্রায় ৩০ কিলোমিটার।সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে হুথি আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপসহ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।রুটটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ বা অচল হয়ে গেলে জাহাজগুলোকে বিকল্প ও দীর্ঘতর পথে চলতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহের সময় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও বিভিন্ন আমদানি পণ্যের দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর আগেও হুথি হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু ইয়েমেনের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় নৌপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।ইতালির এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সামরিক নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইতালির নতুন উদ্যোগ তাই ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় জাতীয় পর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে।সূত্র: আলজাজিরা
তেজগাঁও মসজিদে চলছিল গোপন বৈঠক, সন্দেহভাজন ২৩ জন গ্রেপ্তাররাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওই কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, আটক ২৩ জন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসির একাধিক টিম রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে।এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এই অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সংক্ষিপ্ত আলাপকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান তারা।ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন মঈন খান এবং হুমায়ুন কবির। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তারা।বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ১১ দলের গণদাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। এই রাজপথ থেকে আমরা আদায় করে ঘরে ফিরবো। গণভোটের গণরায়কে কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের বিকল্প কোন পথ নাই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তারেক জিয়া সরকারকে গণভোটের রায় কার্যকর করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে ইনশাল্লাহ।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরো বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ১১ দল দ্ব্যর্থহীন ভাষাই বলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য তারা নিজেরাই নিজেদের হাতে গড়বে। তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে সরকারের লুকোচুরি আর বরদাস্ত করা হবে না। শহীদ শরীফ ওসমান হাদীসহ দেশ প্রেমিক ইলিয়াস আলীসহ যাদেরকে গুম, খুন, হত্যা করা হয়েছে তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মানুষ আদায় করে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ। শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদেরকে যারা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে আমরা ভিনদেশীয় অপশক্তিগুলোকে আজকের এই লংমার্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সফল হব ইনশাআল্লাহ।
‘মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নবীনগর পৌরসভার নিমতলা এলাকায় নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হাদিস শাহিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শুকুর খান, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান দুলাল, বিল্লাল হোসেন মাস্টার, নবীনগর প্রেসক্লাব সদস্য সাংবাদিক খন্দকার মোঃ আলমগীর হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস বেপারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।সভায় বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও পেশাদার এবং দলভিত্তিক নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। ব্যাগি ক্যাপের পর এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রতিটি দলকে বিশেষভাবে তৈরি কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দলগুলোর হাতে এসব হেলমেট তুলে দেওয়া শুরু হবে। বিদেশে বিশেষভাবে তৈরি করা এই হেলমেটগুলো শুধু এবারের জন্য নয়, দলের জন্য স্থায়ীভাবেই রাখা হবে।ভারতের জনপ্রিয় Shrey (শ্রেয়) ব্র্যান্ডের হেলমেট প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ব্র্যান্ডটির আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত, কেএল রাহুল থেকে শুরু করে তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই মাঠে বলের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে এই ব্র্যান্ডের হেলমেট ব্যবহার করে থাকেন।কোনো খেলোয়াড়ের হেলমেটের সাইজে সমস্যা হলে সেটিও পরিবর্তন করার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে যোগ দিলে তার জন্যও নতুন কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করবে বিসিবি। এনসিএলে দলভিত্তিক এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও আলাদা ও পেশাদার পরিচয় তৈরি করার লক্ষ্য বিসিবির।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
'জুলাই যোদ্ধাদের ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে নিরাপদ হওয়া যাবে না; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হামলাকারীরাই নিজেদের আরও অনিরাপদ করে তুলছেন ' বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন।সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইতালিতে তাকে হেনস্থার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধনের দাবি, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।এ সময় বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনায় শুধু তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।বাঁধন আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
দেশের বাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভালো মানের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকাশনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী, মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।বাজুস আরও জানিয়েছে, পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
লিবিয়ায় আটকে পড়া এবং বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ ১৬৮ জনকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বেনগাজি শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছে, গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা এসব বাংলাদেশি বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) করে আজ সকাল ১০টা ৪ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার অবৈধ চেষ্টা করতে গিয়ে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।এতে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান।অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করারও আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।আইওএম দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে যাতায়াত ব্যয়, খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ, মেসেজিং ও অনলাইন বাণিজ্যের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, তখন বাংলাদেশ থেকে তৈরি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে দেশের বাইরেও। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রায়হান সরকারের একক উদ্যোগে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া দেশীয় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম Hopenity এখন সাত লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর মাইলফলক পেরিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। Android, iPhone ও Web তিন মাধ্যমেই চালু থাকা প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী এখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশেও রয়েছে।মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের হালিম সরকারের ছেলে রায়হান সরকার ছোট পরিসরে একটি ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ ধাপে ধাপে prototype, product development এবং ব্যবহারকারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ platform চালুর পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে Hopenity শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিজস্ব encrypted messaging platform HopeChat, social commerce platform Hoppi Shopping এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ডিজিটাল সেবা। ফলে একই ecosystem-এর মধ্যে যোগাযোগ, কনটেন্ট তৈরি, ব্যবসা, কেনাকাটা ও সামাজিক কার্যক্রমকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, Hopenity-তে ব্যবহারকারীরা লেখা, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন। প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার পোস্ট তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীরা নিয়মিত একে অপরের সঙ্গে interact করছেন। এর পাশাপাশি HopeChat-এর মাধ্যমে encrypted messaging, audio/video calling ও booking management-এর সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে Hoppi Shopping বর্তমানে বাংলাদেশে চালু রয়েছে, যেখানে বিক্রেতারা পণ্য তালিকাভুক্ত করছেন এবং ব্যবহারকারীরা পণ্য অর্ডার করছেন। অর্ডার process ও delivery কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।Hopenity-এর ব্যবহারকারী বৃদ্ধির পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে multi-CDN infrastructure ব্যবহার করে global traffic serve করা হচ্ছে। শুধু primary CDN গত ৩০ দিনে ৯০ মিলিয়নের বেশি global traffic serve করেছে বলে জানিয়েছে তারা। ব্যবহারকারী ও কনটেন্টের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে server, database, media processing, security এবং network infrastructure ধাপে ধাপে scale করা হচ্ছে। রায়হান সরকার বলেন, বড় technology platform তৈরি করতে শুধু application তৈরি করলেই হয় না; ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকেও সেই অনুপাতে সক্ষম করে তুলতে হয়।দেশীয় প্রযুক্তি উদ্যোগ হিসেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে Hopenity। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, pre-seed পর্যায়ের অর্থায়নের পর seed-level investment-ও secured হয়েছে। এই অর্থ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, product development, team expansion ও platform growth-এর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রায়হান সরকারের মতে, বাংলাদেশে তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন।ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে Hopenity। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, account protection-এর জন্য two-factor authentication, device approvalসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নিজস্ব messaging platform HopeChat-এ encrypted communication সুবিধাও রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারী ও সেবার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে security ও privacy infrastructure আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।তবে Hopenity-এর কার্যক্রম কেবল সামাজিক যোগাযোগ বা বিনোদনে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না উদ্যোক্তা রায়হান সরকার। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত খাবার অন্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে দেওয়া, অতিরিক্ত পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রয়োজনীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মতো সামাজিক কার্যক্রমেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।রায়হান সরকারের ভাবনায় Hopenity শুধু একটি business platform নয়, বরং বাংলাদেশের নিজস্ব digital capability তৈরির একটি উদ্যোগ। তাঁর মতে, দেশের মানুষ বর্তমানে social media, video platform, advertising, online services ও digital commerce-এর জন্য বড় আন্তর্জাতিক platform ব্যবহার করছে। দেশীয় technology platform শক্তিশালী হলে digital advertising, commerce ও online services-এর একটি অংশ দেশের অর্থনীতির ভেতরে রাখা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারকারী ও ব্যবসা তৈরি করতে পারলে বিদেশি বাজার থেকেও দেশে revenue আনার সুযোগ তৈরি হবে।এই লক্ষ্য সামনে রেখে Hopenity আগামী দিনের জন্য user growth, creator economy, user experience, in-app advertising, brand ও seller ecosystem, sustainable revenue এবং international expansion-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি advertising ecosystem সম্প্রসারণ, creators ও brands যুক্ত করা, sellers বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে platform-এর ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।২০১৯ সালে মতলবের দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের এক তরুণের হাতে শুরু হওয়া Hopenity-এর পথচলা এখন সাত লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী এবং একাধিক ডিজিটাল সেবা নিয়ে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মতলবের একটি গ্রামের ধারণা থেকে শুরু হয়ে Android, iPhone ও Web প্ল্যাটফর্মে বিস্তৃত হওয়া এই উদ্যোগ এখন বাংলাদেশের বাইরের ব্যবহারকারীদের কাছেও পৌঁছানোর দাবি করছে।রায়হান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন, বাংলাদেশ শুধু বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে না; দেশের তরুণরাও বিশ্বের মানুষের জন্য প্রযুক্তি তৈরি করবে। সেই ভাবনা থেকেই Hopenity-এর সামনে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ, social commerce, creator economy, digital advertising ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আরও বড় করার লক্ষ্য।Hopenity-এর ভাষায় ‘The People’s Platform’। মতলব থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রার পরবর্তী লক্ষ্য এখন ‘Built in Bangladesh, Built for the World’।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।