ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বর্ডার’ চালু করা হবে।২২ মে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সীমান্ত নিরাপত্তার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’ খবর হিন্দুস্থান টাইমসের।অমিত শাহ জানান, ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা ও উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তকে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সীমান্তকে স্মার্ট বর্ডারে রূপান্তরের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। আগামী এক বছরের মধ্যে সব ধরনের প্রযুক্তি একত্র করে দুর্ভেদ্য সীমান্ত নিরাপত্তা গড়ে তোলার কাজ চলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রোন, রাডার, আধুনিক ক্যামেরা ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প চালু করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিএসএফের কাজ আরও সহজ ও শক্তিশালী হবে।’প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার সদস্যের বিএসএফ বাহিনী ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান ও পূর্বে বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারা দেয়। ১৯৬৫ সালে বাহিনীটি গঠন করা হয়।অমিত শাহ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘উদ্বেগের কারণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে এসব সীমান্ত রক্ষা করা সম্ভব নয়।তার ভাষায়, এসব সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ, গবাদিপশু পাচার, জাল ভারতীয় মুদ্রা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো হুমকি রয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতের হুমকি শনাক্ত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে কৃত্রিম জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তা ঠেকানো আমাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার শুধু অনুপ্রবেশ বন্ধই নয়, বরং দেশে থাকা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’অমিত শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তায় এখন রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে সমন্বয় জোরদারে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।সীমান্ত এলাকা যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তখনই ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের কথা জানালেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার।শুক্রবার (২২ মে) নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সীমান্ত নিরাপত্তার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’ খবর হিন্দুস্থান টাইমসের।অমিত শাহ জানান, ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা ও উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তকে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সীমান্তকে স্মার্ট বর্ডারে রূপান্তরের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। আগামী এক বছরের মধ্যে সব ধরনের প্রযুক্তি একত্র করে দুর্ভেদ্য সীমান্ত নিরাপত্তা গড়ে তোলার কাজ চলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রোন, রাডার, আধুনিক ক্যামেরা ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প চালু করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিএসএফের কাজ আরও সহজ ও শক্তিশালী হবে।’প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার সদস্যের বিএসএফ বাহিনী ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান ও পূর্বে বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারা দেয়। ১৯৬৫ সালে বাহিনীটি গঠন করা হয়।অমিত শাহ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘উদ্বেগের কারণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে এসব সীমান্ত রক্ষা করা সম্ভব নয়।তার ভাষায়, এসব সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ, গবাদিপশু পাচার, জাল ভারতীয় মুদ্রা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো হুমকি রয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতের হুমকি শনাক্ত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে কৃত্রিম জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তা ঠেকানো আমাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার শুধু অনুপ্রবেশ বন্ধই নয়, বরং দেশে থাকা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’অমিত শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তায় এখন রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে সমন্বয় জোরদারে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, শিশু রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।২৩ মে শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।তিনি বলেন, “রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড, ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।”তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; এর সঙ্গে সততা, জবাবদিহি ও দূরদর্শী পরিকল্পনার বিষয়ও জড়িত। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।২৩ মে শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রকৌশলী-সাংসদদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ পাওয়া প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী–কেও সম্মাননা জানানো হয়েছে। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।সংবর্ধনা পাওয়া প্রকৌশলী-সাংসদেরা হলেন—নরসিংদী–৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল), মানিকগঞ্জ–২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম (তুলি), প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম ক্যামেলিয়া ও প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে মির্চা ফখরুল বলেন, আইইবি দেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু প্রকৌশলীদের পেশাগত মানোন্নয়নেই নয়, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। মন্ত্রী বলেন, প্রকৌশলীরা দেশের উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীলতা, মেধা ও পেশাগত সততার ভিত্তিতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত এক মাস ধরে নানা সেমিনার ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে জাতীয় উন্নয়ন, প্রকৌশল শিক্ষা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলো থেকে পাওয়া সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তা কাজে লাগে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, গত ২ মে শুরু হওয়া মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটছে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দল–মতনির্বিশেষে প্রকৌশলীদের একত্র করার মাধ্যমে আইইবি দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স) প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) প্রকৌশলী এ টি এম তানভীর-উল হাসান (তামাল), সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (সার্ভিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী এবং সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট) প্রকৌশলী মো. নূর আমিন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও আইইবির ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আর্জেন্টিনা বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। শুধু তাই নয়? আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যও কামনা করেন তিনি।২৩ মে শনিবার দুপুরে যশোরের হামিদপুরে শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে আয়োজিত ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, যখন মিস্টার মার্সেলো (আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত) এখানে কথা বলতে আসেন তখন আমি দেখলাম প্রত্যেকেই হাততালি দিচ্ছেন। আর এটাই প্রমাণ করে যে, আর্জেন্টিনা বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আসন্ন বিশ্বকাপে আমরা তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।’ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসময় আরও বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিক মুক্ত রাখতে হবে। বিগত ২০ বছর ক্রীড়াঙ্গন ছিলো রাজনীতির দখলে। আগে ক্রীড়াঙ্গনে কিছু দেওয়ার জন্য ক্রীড়ামোদিরা আসছেন; আর এখন আসেন নিতে। বাংলাদেশে ক্রীড়ামোদীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ক্রীড়ামোদিদের জায়গা রাজনীতি, ব্যবসায়ীরা দখল করেছে। এই ধারা দেখে বেরিয়ে আসা উচিত। দিনব্যাপী ‘এএফসি গ্রাসরুটস ফুটবল ডে উপলক্ষে যশোর সদরের হামিদপুরে শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের ৮০০ ক্ষুদে ফুটবলারের পদচারণায় রঙিন হয়ে উঠে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এখানে এসে ছোট বাচ্চাদের দেখে আমি আমার তারুণ্যের দিনগুলিতে ফিরে গেলাম। আমার সবচেয়ে প্রিয় শহর যশোর। আমি যশোর ক্যান্টমেন্টে যুদ্ধ করেছিলাম। যশোরে আড়াই বছর চাকরি করেছি শুরুতে। শামসুল হুদার নামে স্টেডিয়াম হওয়ায় আমি খুশি। তার নামে এখন একাডেমি হয়েছে বাংলাদেশে এমন নজির নেই।’‘নাসের জাহেদীর মতো এমন ১০ জন ক্রীড়ামোদি থাকলে আমরা এতদিন বিশ্বকাপের কাছাকাছি থাকতাম। জাহেদী সাহেব এই উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন প্রত্যাশা এমন। পাকিস্তান এবং আর্জেন্টিনার অতিথি এসেছে তাদের ধন্যবাদ। আশা করি যশোরের ফুটবলের মান উন্নত হবে সঙ্গে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ এশিয়ার ফুটবল ম্যাপে আরো এগিয়ে যাবে। এশিয়ার মধ্যে সেরা দল হবে বাংলাদেশ।’-মন্তব্য করেন স্পিকার।অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের গ্রাসরুট ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনা থেকে কোচ আনার। যারা ভালো খেলবে, তাদের আর্জেন্টিনায় পাঠানোর বিষয়ও ভাবা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোসও একাডেমির সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিশুদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখান থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের আগামী দিনের ফুটবল তারকারা। তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার ও ভবিষ্যৎ ফুটবল তারকাদের গড়ে তুলতে এই ধরণের ব্যকিক্রমধর্মী এই আয়োজন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামের এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপক শনিবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানান, তাদের মূল ওয়েবসাইটটি সরকারি হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী একই সাথে অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইট বন্ধের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং আন্দোলনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজটি হ্যাক করা হয়েছে।চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের তেলাপোকার সাথে তুলনা করে একটি মন্তব্য করেছিলেন। তার এই মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিতে মাত্র এক সপ্তাহ আগে অভিজিত দীপক এই আন্দোলনের সূচনা করেন। প্রধান বিচারপতি অবশ্য পরবর্তীতে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার মন্তব্যটি কেবল জাল সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে ছিল এবং ভারতের যুবসমাজই মূলত উন্নত ভারতের মূল ভিত্তি। তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে দীপক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সাথে মিল রেখে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি গঠন করেন।মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই অনলাইন আন্দোলনটি অভাবনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার আগে দলটির ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যার (৯ মিলিয়ন বা ৯০ লাখ) দ্বিগুণেরও বেশি। দীপক দাবি করেছেন, গত সাত দিনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ তাদের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।শুধুমাত্র অনলাইন ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই আন্দোলনটি বর্তমানে ভারতের একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। ভারতের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি একটি অনলাইন পিটিশন চালু করে, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। সম্প্রতি দেশটিতে সরকারি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়, যার ফলে দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।এই আন্দোলনের মূল ভাবনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিত দীপক জানান, যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সাধারণ নাগরিকদের তেলাপোকা ও পরজীবী মনে করেন। তবে তাদের মনে রাখা উচিত যে নোংরা ও পচা জায়গাতেই তেলাপোকার বংশবৃদ্ধি হয় এবং বর্তমান ভারতের পরিস্থিতিও ঠিক তেমনটাই দাঁড়িয়েছে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধের এই অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় আপাতত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করবেনা। তেহরান এখন মূলত লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টিতেই তাদের পুরো মনোযোগ দিতে চায়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘চলমান আলোচনার এই পর্যায়ে আমরা পারমাণবিক বিষয়ের বিস্তারিত কোনো আলোচনা করব না। আমরা লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ করার ওপর আলোচনাকে কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামী ৩০ দিন বা ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে প্রবেশ করব কিনা, তা সম্পূর্ণ পরের বিষয়।’যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের মাধ্যমে চলা এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াটিকে বেশ ‘সময়সাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেছেন বাঘাই। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের শত্রুতা কয়েক দশক পুরোনো, তাই রাতারাতি সব সমাধান সম্ভব নয়। কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ও খসড়ার শব্দচয়ন নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এই কারণে আলোচনা চলছে এবং নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদও জানিয়েছেন ইরানের এই মুখপাত্র।উল্লেখ্য, এর আগে ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি সংশোধিত ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিল, যার বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে চুক্তি করার জন্য কয়েক দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন।
কোন ফাইলে অনিয়ম হয়েছে তা প্রকাশ করতে বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া। ২৩ মে শনিবার রাতে নিজের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ লাইভে এসে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লাইভে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগটি এনেছেন তার স্পষ্টতা প্রয়োজন। তিনি যেন সুনির্দিষ্ট ফাইলটি জনগণের জন্য উম্মুক্ত করে দেন, কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে জনগণের তা জানার অধিকার রয়েছে। তবে সচিব যদি বিদেশে থাকার কারণে বা অন্য কোন কারণে অনুপস্থিত থাকেন তখন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটিও মন্ত্রী/উপদেষ্টার অনুমোদনেই হয়। সেরকম কিছু হয়ে থাকলে তো আইনের ব্যত্যয় নেই।উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি প্রকল্পে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই ফাইল পাস করেছেন।মীর শাহে আলম বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর আওতাধীন কমিটিকে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার আমলের তদন্ত করে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, পিরোজপুরে প্রকল্পের টেন্ডার দেয়ার পর, কোনো কাজ ছাড়াই ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এ কারণে গত দুই বছর ধরে পিরোজপুরের সকল উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। শিগগিরই পিরোজপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্ধ প্রকল্প চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এভাবে অন্যান্য অনেক জেলায় রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে।
রাজধানীর ভাটারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক নারীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী। তবে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিথীর দাবি, জুলাইয়ে তিনি চাকরির কারণে সিলেটে ছিলেন। শুধু বাবার পরিচয়ের কারণেই তাকে রাজনৈতিক এসব মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।২৩ মে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে সোহেলী তামান্না নামের এক নারীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়।গত ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই আমিনুর রহমান বিথীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। শনিবার আসামির উপস্থিতিতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের পক্ষে কথা বলেন খাদিজা ইয়াসমিন বিথী। বারবার মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন। আমার বাচ্চা আছে। বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে চলি। এত টাকা কই পাব?’জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে শুনানিতে বিথী বলেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগের সঙ্গে জড়িত থাকব কীভাবে? শুধুমাত্র বাবার কারণে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের একটা মেয়ে বাচ্চা আছে। এর আগে আমি একটি মামলায় জামিন পাই। পরে আবার সাজানো মামলা দেয়।’আন্দোলনের সময় নিজের অবস্থান এবং গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বারবার এত মামলা দেওয়ার কারণ কী জানি না। আমি সেদিন আমার বাবাকে দেখতে গেছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। মেয়ে হিসেবে বাবাকে দেখতে যেতেই পারি। আমি জুলাইয়ের সময় পার্ট টাইম জবের জন্য সিলেট ছিলাম।’এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে আদালতকে জানানো হয়।ভাটারায় করা এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, চব্বিশের সরকার পতনের দিন বেলা ১১টায় ভাটারায় রাস্তার ওপর সোহেলী তামান্নাসহ আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়াভাবে গুলি বর্ষণ চলে। আসামিদের ছোড়া গুলিতে সোহেলী তামান্না গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।চিকিৎসা শেষে পরবর্তীতে ভাটারা থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন তামান্না। সেই মামলাতেই শনিবার বিথীকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত।
ফ্রান্স ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতিমার বেন গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২৩ মে শনিবার এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বিষটি জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।ফ্লোটিলা কর্মীদের জিম্মি করার পর ইসরায়েললি মন্ত্রীর বিদ্রূপের ভিডিও প্রকাশের পর নিন্দা শুরু হয়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, আজ থেকে ইতিমার বেন-গভিরের ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশ নিষিদ্ধ।তিনি বলেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় থাকা ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি তাঁর নিন্দনীয় আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বেন-গভির সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে ফ্লোটিলার কর্মীদের হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় বিদ্রূপ করতে দেখা যায়। ওই কর্মীদের চোখ ও হাত বাঁধা ছিল।এর আগে ইসরায়েলি নৌবাহিনী সাইপ্রাস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলার জাহাজগুলো আটকে দেয়। পরে প্রায় ৪৩০ অংশগ্রহণকারীকে জিম্মি করে ইসরায়েল।কর্মীদের মেঝেতে টেনে নেওয়ার ছবি প্রকাশের পর ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। তারা এই আচরণকে অগ্রহণযোগ্য এবং মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়।বারো বলেন, আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না যে, ফরাসি নাগরিকদের এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মুখে পড়তে হবে। আমি লক্ষ্য করেছি, ইসরায়েলের বহু সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ এগুলো। আমার ইতালীয় সহকর্মীর মতো আমিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানাচ্ছি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; এর সঙ্গে সততা, জবাবদিহি ও দূরদর্শী পরিকল্পনার বিষয়ও জড়িত। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।২৩ মে শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রকৌশলী-সাংসদদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ পাওয়া প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী–কেও সম্মাননা জানানো হয়েছে। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।সংবর্ধনা পাওয়া প্রকৌশলী-সাংসদেরা হলেন—নরসিংদী–৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল), মানিকগঞ্জ–২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম (তুলি), প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম ক্যামেলিয়া ও প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে মির্চা ফখরুল বলেন, আইইবি দেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু প্রকৌশলীদের পেশাগত মানোন্নয়নেই নয়, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। মন্ত্রী বলেন, প্রকৌশলীরা দেশের উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীলতা, মেধা ও পেশাগত সততার ভিত্তিতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত এক মাস ধরে নানা সেমিনার ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে জাতীয় উন্নয়ন, প্রকৌশল শিক্ষা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলো থেকে পাওয়া সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তা কাজে লাগে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, গত ২ মে শুরু হওয়া মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটছে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দল–মতনির্বিশেষে প্রকৌশলীদের একত্র করার মাধ্যমে আইইবি দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স) প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) প্রকৌশলী এ টি এম তানভীর-উল হাসান (তামাল), সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (সার্ভিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী এবং সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট) প্রকৌশলী মো. নূর আমিন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও আইইবির ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া।
কোন ফাইলে অনিয়ম হয়েছে তা প্রকাশ করতে বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া। ২৩ মে শনিবার রাতে নিজের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ লাইভে এসে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লাইভে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগটি এনেছেন তার স্পষ্টতা প্রয়োজন। তিনি যেন সুনির্দিষ্ট ফাইলটি জনগণের জন্য উম্মুক্ত করে দেন, কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে জনগণের তা জানার অধিকার রয়েছে। তবে সচিব যদি বিদেশে থাকার কারণে বা অন্য কোন কারণে অনুপস্থিত থাকেন তখন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটিও মন্ত্রী/উপদেষ্টার অনুমোদনেই হয়। সেরকম কিছু হয়ে থাকলে তো আইনের ব্যত্যয় নেই।উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি প্রকল্পে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই ফাইল পাস করেছেন।মীর শাহে আলম বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর আওতাধীন কমিটিকে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার আমলের তদন্ত করে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, পিরোজপুরে প্রকল্পের টেন্ডার দেয়ার পর, কোনো কাজ ছাড়াই ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এ কারণে গত দুই বছর ধরে পিরোজপুরের সকল উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। শিগগিরই পিরোজপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্ধ প্রকল্প চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এভাবে অন্যান্য অনেক জেলায় রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের পিটুনিতে এক অভিযুক্ত গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। আরেক অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ওই দুই যুবক হলেন— বক্তাবলী এলাকার মনির হোসেনের ছেলে হিরো (২২) ও জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল (২১)। শনিবার (২৩ মে) সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ফতুল্লার একটি গ্রামে ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, শিশুটির মা বিষয়টি বুঝতে পারলেও প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে জানাননি। রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।তারা আরও জানান, রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত হিরোকে ধরে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হিরো বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া রাতে অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত সোহেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এদিকে, আজ সকালে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির, পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সীসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এ সময় এসপি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ছয় বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা দুজনই পুলিশ হেফাজতে আছে।এ ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুটির মেডিকেল টেস্টসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করে এবং নিজের ক্লাবকে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে নিয়ে গিয়ে শনিবার (২৩ মে) প্রিমিয়ার লিগের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ (বর্ষসেরা খেলোয়াড়) নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ।আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক প্লেমেকার কেভিন ডি ব্রুইনার যৌথভাবে গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২০টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছুঁয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। অ্যাসিস্টের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চলতি মৌসুমে ৮টি গোলও করেছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার, যার ওপর ভর করে লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইউনাইটেড। এবারের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন তালিকায় ফার্নান্দেজের সঙ্গে আরও ছিলেন আর্সেনালের শিরোপাজয়ী ত্রয়ী গ্যাব্রিয়েল, ডেভিড রায়া ও ডেক্লান রাইস; ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড ও অ্যান্টনিও সেমেনিও; নটিংহাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার মরগান গিবস-হোয়াইট এবং ব্রেন্টফোর্ডের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো। চলতি মৌসুমে লিগে সর্বোচ্চ ১৩২টি গোল করার সুযোগ (চান্স ক্রিয়েট) তৈরি করে নিজেকে প্রিমিয়ার লিগের সেরা প্লেমেকার হিসেবে প্রমাণ করেছেন ব্রুনো। এ তালিকায় ৮৯টি সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন লিভারপুলের ডমিনিক সোবোজলাই। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ‘ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ফার্নান্দেজ। পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়ে পঞ্চমবারের মতো জিতে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মর্যাদাপূর্ণ ‘স্যার ম্যাট বাসবি প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার। রোববার (২৪ মে) লিগের শেষ ম্যাচে ব্রাইটনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইউনাইটেড। সেই ম্যাচে আরও একটি অ্যাসিস্ট করতে পারলেই এককভাবে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি।সেরা তরুণ খেলোয়াড় ও’রাইলিএদিকে এক দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ‘ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ (বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়) নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ২১ বছর বয়সী তারকা নিকো ও’রাইলি। ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে আসন্ন বিশ্বকাপ দলে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমি থেকে উঠে আসা ও’রাইলি চলতি মৌসুমে পেপ গার্দিওলার মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা করে নেন। মূলত লেফটব্যাক পজিশনে খেললেও মাঝমাঠেও তাকে দেখা গেছে। পুরো মৌসুমে ৫টি গোলের পাশাপাশি ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে লিগে মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন ও’রাইলি, যার মধ্যে ২৯টিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। বড় ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি, যার অন্যতম নজির লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে তার জোড়া গোল। পুরস্কার পাওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করে ও’রাইলি বলেন, ‘পুরস্কারটি জিততে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। গত মৌসুমে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেকের পর আমি জানতাম যে, কঠোর পরিশ্রম করলে এ বছর আরও বেশি খেলার এবং দলকে সাহায্য করার সুযোগ পাব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এতটা সময় মাঠে কাটাতে পারা এবং কোচ ও সতীর্থদের আস্থা অর্জন করতে পারাটাই এখন পর্যন্ত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি আমার পরিবার এবং সিটির প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।’
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ উদ্যোগে “স্টোরি টু স্ক্রিনপ্লে: ফ্রম আইডিয়া টু সিনেমা (চিন্তা থেকে চিত্রনাট্য: বড় পর্দার ভাষা শেখা)” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার আয়োজিত এ কর্মশালায় চলচ্চিত্রপ্রেমী ও গল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজন জুড়ে আলোচনা করা হয় কীভাবে একটি সাধারণ ধারণাকে ধাপে ধাপে দৃশ্য, ঘটনা এবং পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্যে রূপ দেওয়া যায় এবং তা দর্শক উপযোগী করে তোলা সম্ভব।কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল একটি এক লাইনের ভাবনাকে প্রথমে ধারণা, পরে দৃশ্য এবং শেষে পূর্ণাঙ্গ গল্পে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং পরিচালক ফারহানা রহমান।মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল এ ধরনের উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কর্মশালা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।পরিচালক ফারহানা রহমান বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, এ ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি সাংস্কৃতিক উদ্যোগে তরুণ ও আগ্রহীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব।কর্মশালার প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন তানভীর চৌধুরী। তিনি বলেন, গল্প লেখা ও চিত্রনাট্য নির্মাণ শেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।গল্পের নৈতিকতা ও নীতিগত দিক নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বিস্তৃত পরিসরে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিনয়শিল্পী বাঁধন খাঁন। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছেন। এখন পুরোদস্তুর অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের নিয়মিত অভিনয়শিল্পী। সিনেমা, টেলিভিশন নাটক ও ওটিটি ফিল্মে সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন। সংস্কৃতিমনা মানুষ তরুণ বাঁধন খান প্রকৃত শিল্পী হতে চান। শিল্পী হওয়ার লড়াইয়ে তিনি সিদ্ধহস্ত।দীর্ঘদিন ধরে তিনি টেলিভিশন নাটক, ধারাবাহিক, ওয়েব ফিল্ম, ওটিটি কনটেন্ট, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় অভিনয় করছেন। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় সিনেমা তুফান, তাণ্ডব ও সুরঙ্গতেও অভিনয় করেছেন। অভিনয় করেছেন টান, নিঃশ্বাস, হরিজন পল্লী, ইনফিনিটি টু, নীলচক্র ও ইনসাফ সিনেমায়ও। তিনি সর্বশেষ আঁন্ধার ও মাটি নামের দুটি সিনেমায় কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি আঁকা ও এলেন সপন নামের ওটিটি ফিল্মেও অভিনয় করেছেন। টিভি ফিকশন ও ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে তিনি অভিনয় করেছেন বুক ভরে নিঃশ্বাস ও ক্যাম্পাস-এ। প্রাণ, আকিজ ও সেন্টার ফ্রুট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও মায়ের অনুপ্রেরণায় তার অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। তিনি জানান, থিয়েটারের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের স্বপ্নযাত্রা শুরু।বাঁধন খাঁন বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর কাজ শুধু বিনোদন দেওয়া নয়; বরং সমাজ, দেশ ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। আগামীতে তিনি নিজেকে একজন প্রকৃত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলে দর্শকদের আরও ভালো ও অর্থবহ কাজ উপহার দিতে চান। তিনি এমন কাজ করতে আগ্রহী, যা বিনোদনের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বিবাহিতা নারীদের উপর হওয়া নারকীয় অত্যাচারের বর্ণনা শুনলে যে কাউকে শিউরে উঠতে হয়! ধর্ম-বর্ণ কিংবা শ্রেণি নির্বিশেষে এই ব্যাধি যেন ক্রমেই জেঁকে বসছে সমাজে। এই ইস্যুতে এবার নারীদের পরামর্শ দিলেন ভারতের সংসদ সদস্য ও বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাউত।কঙ্গনা বরাবরই পিতৃতন্ত্রে ছক ভাঙার উদাহরণ গড়েছেন। বলিউডের খান-কাপুর হোক কিংবা রাজনীতির ময়দানে ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব, স্পষ্ট কথায় কাউকে ধরাশায়ী করতে কোনো সময়ই পিছপা হন না তিনি।এবার বিবাহিত নারীদের উপর বাড়তে থাকা নির্যাতনের হার নিয়ে সরব কঙ্গনা। গতকাল মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিবিবাহিত নারীদের নিয়ে নিত্যদিন কত খবর প্রকাশ্যে আসে। শিক্ষিত মেয়েরা অনেকেই হয়তো দমবন্ধ হয়ে আসা পরিবেশ থেকে উদ্ধার পেতে বাবা-মায়ের কাছে আকুতি করে। কিন্তু এই অসভ্য ভারতীয় সমাজের ইতিহাস রয়েছে বিবাহিত মেয়েদের পরিত্যক্ত করে দেওয়ার।’এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নারীরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন, তার জন্য একটি জরুরি পরামর্শও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কঙ্গনার কথায়, ‘নারীদের আমি যে পরামর্শ দিচ্ছি, সেটা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ডেটিং অ্যাপ দেবে না। আপনারা নিজেদের পেশা বা ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিন। আপনাদের জীবনের যে কোনো মানুষ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে। তবে সেটা যেন পেশাকে ছাপিয়ে না যায়।’এরপরেই মেয়েদের বিয়ে ও স্বাবলম্বী হওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, ‘পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার পরেই বিয়ের কথা ভাবুন। মনে রাখবেন, নিজেদের ‘হিরো’ বা রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাইরে থেকে কেউ আপনাদের উদ্ধার করতে আসবে না। আর স্বাবলম্বী হওয়াটা আপনার নিজস্ব পরিচয়। যেভাবে জীবনে বাঁচতে চান, নিজেদের জন্য ঠিক তেমন জীবনই গড়ে তুলুন।’
কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’১৭ মে রবিবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছে। বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। এরপর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কায়সার হামিদ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে কারিনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। মেয়ের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এতো মানুষ ভালোবাসে এটা আমার জানা ছিল না। তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।’এরপর মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’এর আগে রোববার রাতে ঢাকা শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা শেষ হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কারিনার নানা বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।প্রসঙ্গত, লিভারজনিত জটিলতায় কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় তাঁকে। পরে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা চালিয়ে যান। একই সঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নাটক ও ওটিটির জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
দেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ। লাশ গ্রহণ করেছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।আজ রোববার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়ি বনানীর বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মারা যান জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যু হয় তার।বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসে কেন্দ্রীয় মসজিদে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে হবে দ্বিতীয় জানাজা। একই দিন রাত ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে কারিনার মায়ের দেয়া মসজিদের জায়গার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কারিনা কায়সারকে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত, পরে শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন এই তরুণ প্রতিভা।কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।
বছরটা যেন নিজের করে নিচ্ছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার ‘ফাদারল্যান্ড’ সিনেমাটি কুড়াচ্ছে দারুণ প্রশংসা। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি গড়তে পারেন অস্কারের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সান্দ্রা এবার কেবল একটি নয়, বরং চারটি অস্কার ক্লিপের দাবিদার। জার্মানির এই গুণী অভিনেত্রী ‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ দিয়ে আগেই নাম লিখিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এবার তিনি পা রেখেছেন হলিউডের বিশাল দুনিয়ায়। একাডেমি তাদের নিয়মে কিছু বদল আনায় এখন থেকে একজন শিল্পী একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন পেতে পারেন। আর সেই সুযোগেই সান্দ্রা এবার সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী— উভয় বিভাগেই দুটি করে মোট চারটি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রায়ান গোসলিংয়ের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় দাপুটে অভিনয়ের জন্য তিনি এখন পার্শ্ব অভিনেত্রীর দৌড়ে সবার আগে আছেন। বিশেষ করে হ্যারি স্টাইলসের গান গেয়ে সেই কারাওকে দৃশ্যে তিনি যা দেখিয়েছেন, তা সবাই মনে রাখবে অনেক দিন। আগামী অক্টোবরে তাকে দেখা যাবে টম ক্রুজের সঙ্গে ‘ডিগার’ সিনেমায়। যদিও এই সিনেমা নিয়ে এখনই খুব বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে পরিচালক ইনারিতুর আগের রেকর্ড বলছে এটি অস্কারের ঝুলিতে অনেক মনোনয়ন ভরবে। সেখান থেকে সান্দ্রার দ্বিতীয় পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
দেশে জেট ফুয়েলের দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমানো হয়েছে।২৩ মে শনিবার মধ্যরাত থেকে এ নতুন মূল্য কার্যকর হবে।শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির মূল্য কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩৩৮৫ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সর্বশেষ গত ৭ মে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২ টাকা ৩৫ পয়সা কমানো হয়েছিল। তার আগে ৭ এপ্রিল প্রায় ২৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়। এছাড়া গত ২৪ মার্চ এক দফায় জেট ফুয়েলের দাম ৯০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।বিইআরসি জানায়, ২৩ মে কমিশনে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ এর প্লাটস রেট, বিপিসির এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের বিদ্যমান মূল্য বিবেচনায় নিয়ে মে মাসের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন “প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)”–এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।নতুন কমিটিতে ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তালুকদার পুনরায় সভাপতি এবং বাংলা টিভি ও সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি এম. আব্দুল মান্নান পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি নাসিম উদ্দিন আকাশ (দৈনিক সূর্যোদয়), সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছালাহউদ্দিন (দৈনিক ইনকিলাব), সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সিকদার (বিবিসি একাত্তর), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন মান্না (প্রবাসের প্রহর), দপ্তর সম্পাদক মইনুল ইসলাম তালুকদার (ডিবিসি নিউজ, আবুধাবি), প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক মানিক (৫২ টিভি), সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম (বঙ্গ টিভি), অর্থ সম্পাদক ওবায়দুল হক (দৈনিক দেশকাল), সহ-অর্থ সম্পাদক নুরুল্লাহ শাহজাহান খান (কে টিভি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুব সরকার (বিশ্ব বাংলা টিভি), তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাহেদ ছরোয়ার (কলম টিভি, কলম বিডি নিউজ)।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী রেজা (ঢাকা গেজেট), আব্দুল মান্নান (চট্টগ্রাম মঞ্চ), আলী রশিদ (নিউজ ২৪ চট্টগ্রাম), মো. আরমান চৌধুরী (দৈনিক আমার সময়) এবং আরশাদুল হক (দৈনিক সূর্যোদয় দুবাই)।সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে থেকে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট) থেকে তাদের এ সিরিজ স্মার্টফোনের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই সার্টিফিকেশনে অপো এ সিরিজের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কালারওএসের স্মুথনেস, সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ ও নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ড ডিউরেবিলিটি, বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। সার্টিফায়েড ফিচারগুলোর মধ্যে স্মুথনেস অপো এ সিরিজের অন্যতম বড় সক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ পরিবর্তন, অ্যাপ চালু করা, কনটেন্ট ব্রাউজিং, গেমিং কিংবা সারাদিন মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স আশা করেন। অপো এ সিরিজের স্মার্টফোনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও দ্রুত অ্যাপ রেসপন্স, ফ্লুইড ট্রানজিশন ও স্থিতিশীল পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা যায়।বুয়েটের সার্টিফিকেশন অনুযায়ী, নির্বাচিত অপো এ সিরিজের স্মার্টফোনগুলো সর্বোচ্চ ৬ বছর ব্যবহারের পরও নতুন ফোনের মতো স্মুথ অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম। অ্যাপ চালানো, নিয়মিত ব্যবহৃত অ্যাপ চালু করা কিংবা দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার সময় ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের রেসপন্সিভ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপভোগ করতে পারবেন। এই সার্টিফিকেশন অপো এ সিরিজের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি পারফরম্যান্সকেও স্বীকৃতি দিয়েছে। যারা সারাদিন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্য ডিভাইসগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন বছরের পর বছর নিয়মিত চার্জিং ও ব্যবহারের পরও ব্যাটারির স্বাস্থ্য ও ব্যাকআপ ভালো থাকে। স্মুথনেস ও ব্যাটারি নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি, ডিউরেবিলিটিও অপো এ সিরিজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের চাপ, দীর্ঘসময় হ্যান্ডলিং, ব্যাগ বা পকেটে বহন করা এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনাজনিত আঘাত সহ্য করার উপযোগী করে স্মার্টফোনগুলো তৈরি করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘসময় ধরে ব্যবহারযোগ্যতা ও স্ট্রাকচারাল রিলায়েবিলিটি নিশ্চিত হয়।এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিসট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “অপোতে আমরা বিশ্বাস করি, ব্যবহারকারীরা শুধু প্রথম দিনের জন্য নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে স্মুথ, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল অভিজ্ঞতা পেতে চান। বুয়েটের এই সার্টিফিকেশন আমাদের সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।”
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।আজ বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।