প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং অন্য দেশের সরকারপ্রধানকে বসিয়ে রেখে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন।শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ৮টি সমঝোতা ও ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোংলা বন্দর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য বিশেষ ইপিজেড নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। এসময় তিনি জানান, কুনমিং থেকে বাংলাদেশে সরাসরি যোগাযোগের জন্য চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোর প্রস্তাব করেছে বেইজিং। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ।এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরেও ‘বাংলাদেশ ফাস্ট নীতি’র বড় ধরনের সাফল্য দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রকাশিত ভিডিও প্রমাণ করে তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কত গভীর হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগের দুটি নোট অব ভার্বাল স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে দুই দেশ কাজ করবে বলে একমত হয়েছে। মালয়েশিয়াতে দুই লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নীতিগত বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, চায়না বাংলাদেশের উন্নয়নে স্থায়ী বন্ধু হতে চায়। এছাড়া ব্রিকস এবং সাংহাই কনভেনশনে বাংলাদেশের নতুন সদস্য হওয়াকে চীন সমর্থন করবে।
সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানে সরকারি দল সব ক্রেডিট (কৃতিত্ব) নেবে আর বিরোধীদল সবকিছুতে শুধু বিরোধিতাই করবে— ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে আমরা এই কালচার সমর্থন করি না। সরকারিদলকেও বিরোধীদলকে সম্মান করতে হবে। আর বিরোধীদলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। সবার আগে দেশের স্বার্থ। কোনো চুক্তিই হোক বা যাই হোক, তা হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদকে বাইপাস (পাশ কাটিয়ে) করে যেন কিছুই না হয়, সবকিছু হোক সংসদের ভেতরে।
আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল পরীক্ষা কেন্দ্রে সিকিউরিটি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (২৭ জুন) রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার মিলনায়তনে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রের সচিবদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিকিউরিটি ক্যামেরা নিশ্চিতের জন্য নির্দেশ দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন— রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাশী শহিদুল ইসলাম ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীসহ পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিববৃন্দ। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, এবার রাজশাহী বোর্ডের অধীনে ৮টি জেলায় মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৮টি এবং পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির একটি নতুন মানদণ্ড (বেঞ্চমার্ক) স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে ধন্যবাদ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। বিদেশ সফরে যাওয়ার সময় এবং ফিরে আসার সময় তিনি লোকসমাগম বা গণসংবর্ধনার আয়োজন করেননি। হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটানো হয়নি—এটি একটি বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে একটি নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছেন, যা বিএনপির রাজনীতিতে সব সময়ই ছিল। আমরা কোথাও আপস করব না। আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় আমাদের জ্বালানি ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের সঙ্গে আমাদের বৃহৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নেও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে রফতানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন ও মালয়েশিয়া সফরের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি।
সাসেক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল মোড়ে বিদ্যমান সঞ্চালন ও বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর করা হবে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের ভূলতা, গাউছিয়া, মুড়াপাড়া, আড়াইহাজার ও কাঞ্চন এলাকায় আগামী রোববার সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।শনিবার (২৭ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস জানায়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) সকাল ৯টা থেকে ২৯ জুন (সোমবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা উল্লিখিত এলাকাগুলোর সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় গোলাকান্দাইল মোড় এলাকায় গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।এ সময় ভূলতা, গাউছিয়া, মুড়াপাড়া, আড়াইহাজার ও কাঞ্চন এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকরা গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বা সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, অ্যারোফোম কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ না করায় অনেকেই খাবার, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় তারা দ্বারস্থ হয়েছেন দেশটির শ্রম বিভাগের।শুক্রবার (২৬ জুন) পোর্ট ক্লাং শ্রম বিভাগ-এ শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। শুনানির আগে ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে বিশিষ্ট আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন।শুনানির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও নিয়োগকর্তা পক্ষ জানায়, বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা নতুন করে মধ্যস্থতার তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানায়। তবে শ্রমিকদের আইনজীবী বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সরাসরি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানান।শেষ পর্যন্ত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরও গভীর করবে।শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কারও কাছে খাবার কেনার অর্থ নেই, আবার কেউ বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলছেন, শ্রম দিয়ে উপার্জিত ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।শুনানিতে আইনজীবী লতিফা কোয়া মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের যেন বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) করা না হয়, সে বিষয়ে আইনি সুরক্ষার প্রশ্নও উত্থাপন করেন। কারণ মামলা চলাকালে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।শুনানি শেষে শ্রমিক ও তাদের সমর্থকরা জেটিকে কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ সংহতি কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।পরে শ্রমিকদের আবাসস্থলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তাদের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ, দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য জরুরি সহায়তা এবং মামলা চলাকালে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথিপত্র সংরক্ষণ এবং সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করা।চার মাস ধরে উপার্জনের একমাত্র উৎস বন্ধ থাকার পরও যদি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকে, তবে এটি শুধু শ্রম অধিকার নয়, মানবাধিকারের প্রশ্নও হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু করে কৃষকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে সরকার বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা-য় আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠানে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওনা আফরিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা আক্তার, কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করীম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল-সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কর্পোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। গাড়ি নির্মাতা ব্র্যান্ড চেরি ও এর বিভিন্ন অংশীদার (পার্টনার) এবং কর্পোরেট গ্রাহকদের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।চেরি ঢাকার সাতারকুলের মাদানি এভিনিউতে (১০০ ফিট) অবস্থিত ‘গ্রিনভিল ফুটসাল’ মাঠে আজ ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি আগামী ২৯ জুন ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে।এশিয়ান হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, করপোরেট অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।এ সময় এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহেদ হোসেন এবং এজিএম সিরাজুল মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট গ্রাহকদের প্রতিনিধিরা টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে দলটিতে যোগ দিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির যুবশক্তির সাবেক আহ্বায়ক সেঁজুতি হোসাইন।শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন সেঁজুতি হোসাইন। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে দলে স্বাগত জানান।যোগদান শেষে সেঁজুতি হোসাইন বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা রেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং জনগণের স্বার্থে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, “বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাসহ যারা বিএনপির আদর্শ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এবং দলে যোগ দিতে চান, তাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হবে।”তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বিএনপি সবসময় নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মইন উদ্দিন বিপ্লব, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।অনুষ্ঠান শেষে নবাগত নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামকান্দি মল্লিকের মাঠে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। খেলাটি ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি।শুক্রবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে আর্জেন্টিনা সমর্থক দলকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে ব্রাজিল সমর্থক দল বিজয় অর্জন করে। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দেন। পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব।আয়োজকরা জানান, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। খেলা শেষে উভয় দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং অন্য দেশের সরকারপ্রধানকে বসিয়ে রেখে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন।শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ৮টি সমঝোতা ও ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোংলা বন্দর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য বিশেষ ইপিজেড নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। এসময় তিনি জানান, কুনমিং থেকে বাংলাদেশে সরাসরি যোগাযোগের জন্য চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোর প্রস্তাব করেছে বেইজিং। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ।এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরেও ‘বাংলাদেশ ফাস্ট নীতি’র বড় ধরনের সাফল্য দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রকাশিত ভিডিও প্রমাণ করে তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কত গভীর হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগের দুটি নোট অব ভার্বাল স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে দুই দেশ কাজ করবে বলে একমত হয়েছে। মালয়েশিয়াতে দুই লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নীতিগত বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, চায়না বাংলাদেশের উন্নয়নে স্থায়ী বন্ধু হতে চায়। এছাড়া ব্রিকস এবং সাংহাই কনভেনশনে বাংলাদেশের নতুন সদস্য হওয়াকে চীন সমর্থন করবে।
সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানে সরকারি দল সব ক্রেডিট (কৃতিত্ব) নেবে আর বিরোধীদল সবকিছুতে শুধু বিরোধিতাই করবে— ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে আমরা এই কালচার সমর্থন করি না। সরকারিদলকেও বিরোধীদলকে সম্মান করতে হবে। আর বিরোধীদলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। সবার আগে দেশের স্বার্থ। কোনো চুক্তিই হোক বা যাই হোক, তা হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদকে বাইপাস (পাশ কাটিয়ে) করে যেন কিছুই না হয়, সবকিছু হোক সংসদের ভেতরে।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়ওয়ারি বালুর ঘাটে গভীর রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে দুর্গাপুর এলাকা থেকে নৌকায় করে বালু এনে বড়ওয়ারি ঘাটে বিক্রি করছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই একটি চক্র জেলার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার নাম ভাঙিয়ে প্রতিদিন গভীর রাতে দুই থেকে তিনটি নৌকায় করে লাল বালু এনে বড়ওয়ারি ঘাটে বিক্রি করে আসছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, সদর উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। যদি দুর্গাপুর থেকে অবৈধভাবে বালু আনা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে।তিনি আরও বলেন, "সদর উপজেলায় কোনো ইজারাকৃত বালুমহাল না থাকলে বড়ওয়ারি ঘাটে কীভাবে বালু বিক্রি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"অভিযোগের বিষয়ে বড়ওয়ারি ঘাটের বালু ব্যবসায়ী ও জেলা যুবদলের সাবেক নেতা উজ্জ্বল উদ্দিন খান বলেন, "আমাদের ঘাটে বিভিন্ন নৌকা আসে। কেউ ধান, কেউ পাথর, আবার কেউ বালু নিয়ে আসে।" দুর্গাপুর থেকে গভীর রাতে লাল বালু এনে তার ঘাটে খালাস করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে নৌকার মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।"এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কর্পোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। গাড়ি নির্মাতা ব্র্যান্ড চেরি ও এর বিভিন্ন অংশীদার (পার্টনার) এবং কর্পোরেট গ্রাহকদের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।চেরি ঢাকার সাতারকুলের মাদানি এভিনিউতে (১০০ ফিট) অবস্থিত ‘গ্রিনভিল ফুটসাল’ মাঠে আজ ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি আগামী ২৯ জুন ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে।এশিয়ান হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, করপোরেট অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।এ সময় এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহেদ হোসেন এবং এজিএম সিরাজুল মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট গ্রাহকদের প্রতিনিধিরা টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন। ২৩ জুন মঙ্গলবার সকালে রাজধানির মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ঢালিউডের এই পরিচিতজন। তার মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভাগ্নে মনির।এছাড়া প্রবাস থেকে অভিনেতা জায়েদ খানও খবরটি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে জাকির হোসেনের যোগাযোগ ছিল, একসঙ্গে কাজও করেছেন তারা। জায়েদ বলেন, ‘জাকির হোসেন ভাই চলচ্চিত্রের একজন গুণী নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তিনি দুইবার আমার সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আমার বেশ কয়েকটি সিনেমার গানে নৃত্য পরিচালনাও করেছেন।’অনেক দিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন জাকির হোসেন। মে মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতেও নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন, চিকিৎসকের পরামর্শমতে চলছিল চিকিৎসা। ভালো চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছিলেন শিল্পীর পরিবার। কিন্তু আর ফেরা হয়নি।ঢাকাই ছবির পরিচিত নৃত্য পরিচালকদের একজন জাকির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে বহু ছবির নৃত্য পরিচালনা করেছেন। এছাড়া কিছু ছবিতে তাকে অভিনয় করতেও দেখা গেছে।
পরিবেশ ও সামাজিক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সংগঠক’ ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক ‘বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (সিজন-২) অর্জন করেছেন তরুণ সাংবাদিক ও সংগঠক মো. ইসমাইল হোসেন।শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।মো. ইসমাইল হোসেন সাবেক এসএ টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং ‘দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সুরক্ষা, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।এছাড়া নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে ইসমাইল হোসেন বলেন, “বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমি এবং আমার সংগঠন সবসময় নদী, পরিবেশ ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছি। সাধ্যের মধ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”এই অর্জন নিজের মায়ের প্রতি উৎসর্গ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজকের এই সম্মাননা আমি আমার মায়ের চরণে উৎসর্গ করছি। আমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের।”সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রশাসন ও সরকার যদি আমাদের সামাজিক ও পরিবেশবাদী উদ্যোগগুলোর প্রতি আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমরা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারব।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, ইসমাইল হোসেনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এ সম্মাননা দেশের যুবসমাজকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আয়োজনটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে ভিন্ন মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।সবশেষে, টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্যবৃন্দ সকল অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের প্রতি সমর্থন ও ভোট প্রদানের জন্য বিনীত আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও গ্যালাক্সি বাংলাদেশের গ্রুপ চেয়ারম্যান তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও ইনোগ্লোবের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কাদির এবং বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের (বিএফটিডি) ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল একরাম (রাজু)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বোটফ সভাপতি চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি এবং উপ-সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ভ্যাকেশনের সিইও আবদুল্লাহ আল কাফি।
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার (২৭ জুন) বিজিএমইএ আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা জানান।বাণিজমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করেও গ্যাসের অপ্রাপ্যতায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। তবে, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করার কথা জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মাধ্যমে দিনে আরও সাড়ে পাঁচশ থেকে থেকে ছয়শ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ কিরা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী দিনে আরও বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেয়ার কথাও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, অ্যারোফোম কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ না করায় অনেকেই খাবার, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় তারা দ্বারস্থ হয়েছেন দেশটির শ্রম বিভাগের।শুক্রবার (২৬ জুন) পোর্ট ক্লাং শ্রম বিভাগ-এ শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। শুনানির আগে ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে বিশিষ্ট আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন।শুনানির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও নিয়োগকর্তা পক্ষ জানায়, বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা নতুন করে মধ্যস্থতার তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানায়। তবে শ্রমিকদের আইনজীবী বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সরাসরি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানান।শেষ পর্যন্ত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরও গভীর করবে।শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কারও কাছে খাবার কেনার অর্থ নেই, আবার কেউ বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলছেন, শ্রম দিয়ে উপার্জিত ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।শুনানিতে আইনজীবী লতিফা কোয়া মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের যেন বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) করা না হয়, সে বিষয়ে আইনি সুরক্ষার প্রশ্নও উত্থাপন করেন। কারণ মামলা চলাকালে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।শুনানি শেষে শ্রমিক ও তাদের সমর্থকরা জেটিকে কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ সংহতি কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।পরে শ্রমিকদের আবাসস্থলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তাদের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ, দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য জরুরি সহায়তা এবং মামলা চলাকালে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথিপত্র সংরক্ষণ এবং সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করা।চার মাস ধরে উপার্জনের একমাত্র উৎস বন্ধ থাকার পরও যদি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকে, তবে এটি শুধু শ্রম অধিকার নয়, মানবাধিকারের প্রশ্নও হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফিনিক্স সামিট ২০২৬ শনিবার (২৭ জুন) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। অনুষ্ঠানে সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।সামিটের মূল কনফারেন্সে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সহনশীলতা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলা বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সম্প্রতি চীন সফরে তাদের নীতিনির্ধারকদের সাথে প্রযুক্তি বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কীভাবে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সফট পাওয়ার কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন। আমাদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই নবীন। এই ডেমোগ্রাফিক বাস্তবতা আমাদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে, যদি আমরা তা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি। এই আয়োজন থেকে বোঝা যাচ্ছে আমাদের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তাদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।”এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের ফাউন্ডার ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার একটি যৌথ উদ্যোগ। গত কয়েকদিনে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সামিটে যে জ্ঞান-বিনিময়, সহযোগিতার সুযোগ এবং নতুন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকে তৈরি হওয়া সংযোগ ও উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথকে সুদৃঢ় করবে।”দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগ দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি), পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ১০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সেশন, কর্মশালা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে যুক্ত হন। সামিটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল অংশ নেয়। এতে, ক্লাব পার্টনার হিসেবে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও নলেজ পার্টনার হিসেবে দেশি-বিদেশি ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সামিটে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংগঠনটির সদস্যদের নিষ্ঠা, দলগত প্রচেষ্টা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।সাইবার নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে আজীবন নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) সুমন আহমেদ সাবিরকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অনার অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সাইবার নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এবং নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’ কর্মশালা বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস ফর প্র্যাকটিশনার্স’, ‘মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি: ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এবং ‘র্যানসামওয়্যার মেকানিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।সামিটটি সফল হতে সহযোগিতা করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ)। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এক্সেনটেক পিএলসি। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), ম্যাগনাস কর্পোরেশন, সান্স ইনস্টিটিউট, এমজিএইচ, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও ম্যাক্সক্রিট। এছাড়াও, ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এগ্রোশিফট, গোল্ড কিনেন, এপনিক, বিজিআই, সাইহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সিটিজেনস ব্যাংক, বেঙ্গল ইনফোসেক লিমিটেড ও অরেঞ্জ সল্যুশন লিমিটেড। সাইবার সিকিউরিটি নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এপনিক, সান্স ইনস্টিটিউট ও রিসিকিউরিটি। পাশাপাশি, ফেলোশিপ পার্টনার হিসেবে ফ্ল্যাক্সঅপ্টিক্স জিএমবিএইচ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে এসসিআইটিপি ও আইএসপিএবি রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’