বন্ধ কারখানাগুলোর বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (৪ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ অংশ নেন সংশ্লিষ্টরা।গত এপ্রিলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, বেসরকারি উদ্যোগে ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ ছয়টি সরকারি পাটকল চালু করা হবে।পর্যায়ক্রমে বন্ধ বাকি পাটকলগুলো চালু অথবা ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। এতে করে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনি রফতানি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা সরকারের।
নিয়োগ দুর্নীতি থেকে বেকারত্ব- সেই রোষেই কি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের একের পর এক মন্ত্রী হেরে যাচ্ছেন? সেরকম সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আপাতত তৃণমূল সরকারের কমপক্ষে ১৫ জন বিদায়ী মন্ত্রী পিছিয়ে আছেন। যে তালিকায় আছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা।কোন কোন মন্ত্রী হেরে যাচ্ছেন?১) ব্রাত্য বসু (দমদম): ৮,০৬৯ ভোটে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী পিছিয়ে আছেন।২) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (উত্তর দমদম): ২,০০২ ভোটে পিছিয়ে আছেন অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৩) ইন্দ্রনীল সেন (চন্দননগর): পর্যটন মন্ত্রী আপাতত ৪,১৬০ ভোটে পিছিয়ে আছেন।৪) সুজিত বসু (বিধাননগর): ১২,০৮৪ ভোটে পিছিয়ে আছেন বিদায়ী দমকল মন্ত্রী।৫) সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (মন্তেশ্বর): ৬,২৭০ ভোটে পিছিয়ে আছেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।৬) প্রদীপ মজুমদার (দুর্গাপুর পূর্ব): ১২,৮২৬ ভোটে পিছিয়ে আছেন। যিনি রাজ্যের বিদায়ী পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় দফতরের মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান কৃষি উপদেষ্টা।৭) পুলক রায় (উলুবেড়িয়া দক্ষিণ): ৭৪৩ ভোটে পিছিয়ে আছেন।৮) সত্যজিৎ বর্মণ (হেমতাবাদ): ১৩,৮১৫ ভোটে পিছিয়ে আছেন।৯) স্নেহাশিস চক্রবর্তী (জাঙ্গিপাড়া): বিদায়ী পরিবহণ মন্ত্রী পিছিয়ে আছেন ৫,০০১ ভোটে।১০) উদয়ন গুহ (দিনহাটা): ৬,৫৩৭ ভোটে পিছিয়ে আছেন।১১) বীরবাহা হাঁসদা (বিনপুর): ১৩,২৩৭ ভোটে পিছিয়ে আছেন বিদায়ী বনমন্ত্রী।১২) মানস ভুইঁয়া (সবং): বিদায়ী মন্ত্রী আপাতত পিছিয়ে আছেন ৪,৪৯৩টি ভোটে।১৩) শ্রীকান্ত মাহাতো (শালবনি): ১০,৯৫৮ ভোটে পিছিয়ে আছেন।১৪) স্বপন দেবনাথ (পূর্বস্থলী দক্ষিণ): বিদায়ী প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী পিছিয়ে আছেন ১৩,৮৯৮ ভোটে।১৫) শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর): বিদায়ী শিল্পমন্ত্রী পিছিয়ে আছেন শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে। ৪,৪০৫ ভোটে পিছিয়ে তিনি।প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আজ সোমবার (৪ মে) ভোট গণনা চলছে। চার ঘণ্টার গণনার পর দেখা যাচ্ছে বিজেপি এগিয়ে আছে ১৮৩টি আসনে। অপরদিকে মমতা ব্যানার্জির ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ১০২টি আসনে এগিয়ে আছে। অপরদিকে বিজিপিএম, সিপিআই (এম) এবং এআইএসএফ একটি করে আসনে এগিয়ে আছে। কিন্তু কেন্দ্রের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় কংগ্রেস কোনো আসনে এগিয়ে থাকতে পারেনি।গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। ২৪ পরগনার একটি আসনের ভোট বাতিল করায় আজ ভোট গণনা হচ্ছে ২৯৩টি আসনের। এমনিতে বঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। ২৯৩ আসনের গণনার হিসেবে, এক কমে ম্যাজিক ফিগার দাঁড়াবে ১৪৭-এ। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল থেকেই নির্ধারিত হবে, যে আগামী ৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে কাদের কাছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় টানা ভারী বর্ষণজনিত বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।৩ মে রোববার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, থারাকা নিথি, এলজিও-মারাকওয়েট এবং কিয়াম্বু কাউন্টিতে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমিধস ও কাদার স্রোতে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, পাশাপাশি অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানী নাইরোবির বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানির মধ্যে দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা। রোববার তারা সড়ক সংস্কার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভও করেন।এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছিল, অতিবৃষ্টির কারণে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং কৃষিজমির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি কেনিয়ায় দ্বিতীয় বড় বন্যা-দুর্যোগ। গত মার্চেও রাজধানী নাইরোবিতে বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে বন্যা ও খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।সূত্র: আল–জাজিরা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এই সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।৪ মে রোববার সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।এর আগে বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরও একটি রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে আদেশ প্রদান করেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।৪ মে সোমবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরিফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরিফ বলেন, যমুনাসেতুগামী একটি ট্রাক রাবনা ফ্লাইওভারের ওপরে অপর একটি পিকআপ ভ্যান অতিক্রমের সময় সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হয়। নিহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ও আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। তিনটি বিরোধী শাসিত রাজ্য দখলের লড়াই হওয়ায় এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সবার চোখ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে রাজ্যের দখল নিতে এবার মরিয়া বিজেপি। বুথফেরত বেশির ভাগ জরিপও ইঙ্গিত দিয়েছে এখানে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে বিজেপি। কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ। এ ফল পুরোপুরি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কে পাচ্ছে রাজ্যের চাবি। অনলাইন এনডিটিভি বলছে, সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে।তবে এই ফল চূড়ান্ত নয়। যেহেতু ভোট গণনা চলছে, তাই মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের চিত্র। কখনো তৃণমূল এগিয়ে, কখনো বিজেপি। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র টক্কর চলছে এই রাজ্যে আর তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) এগিয়ে। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছে। আসামে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গাসামির অল ইন্ডিয়া এন আর কংগ্রেস (এআইএনআরসি) এগিয়ে।বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গই মূল লক্ষ্য। সেখানে গত এক দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই চলছে। নির্বাচন ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, সাংস্কৃতিক পরিচয় ইত্যাদি। বেশিরভাগ এক্সিট পোল বিজেপির জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।তামিলনাড়ুতে বিরোধী শাসিত রাজ্যে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট টানা দ্বিতীয়বার জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তামিলনাড়ুতে জয় কংগ্রেসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সংগ্রাম করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন আগেই জানিয়েছেন, সরকার গঠনে কংগ্রেসের বড় ভূমিকা নাও থাকতে পারে।কংগ্রেস কেরালায় জয়ের আশা করছে, যেখানে গতবার পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার টানা দ্বিতীয়বার জিতেছিল।কেরালার নির্বাচনকে বিজয়নের নেতৃত্বের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বামফ্রন্ট হারলে ১৯৭৭ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা সারা দেশে ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। ইতিমধ্যে তারা পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা হারিয়েছে।আসামে বিজেপির সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আসল পরীক্ষা হলো, তারা এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কিনা। ২০১৬ ও ২০২১ সালে বিজেপি অসম গণ পরিষদের সঙ্গে জোট করে জিতেছিল।কংগ্রেস এবং রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ-এর জন্য এটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচনের আগে বিজেপি তার বিরুদ্ধে ‘আইএসআই সমর্থন’ অভিযোগ তোলে। আর কংগ্রেস পাল্টা হিমন্ত শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে।পুদুচেরিতে এন রঙ্গাসামির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) টানা দ্বিতীয়বার জয়ের আশা করছে। তবে বিজয়ের টিভিকে দল বহু আসনে ত্রিমুখী লড়াই তৈরি করে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।আজ পাঁচটি রাজ্যের সাতটি উপনির্বাচনের গণনাও চলছে। সেগুলো হলো গুজরাটের উমরেথ, কর্ণাটকের বাগালকোট ও দাবানাগেরে সাউথ, মহারাষ্ট্রের রাহুরি ও বারামতি, নাগাল্যান্ডের কোরিডাং এবং ত্রিপুরার ধর্মনগর।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কৃতি সন্তান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সুলতানা জেসমিন জুঁইয়ের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা ছাত্রদল। এসময় দলটির নেতাকর্মীরা তারেক রহমান-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।রবিবার (৩ এপ্রিল) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে টাইম টাওয়ার চত্বর থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পুরো মিছিলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।মিছিলে উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা জুঁইয়ের শপথ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এতে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান ও সদস্য সচিব তারেক আব্দুল্লাহ বাপ্পি।বক্তারা বলেন, নাজিরপুরের কৃতি সন্তান সুলতানা জেসমিন জুঁইয়ের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো নাজিরপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, জুঁই তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।এছাড়া বক্তারা আরও বলেন, দলীয় নেতৃত্বের সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে একজন যোগ্য নারী নেত্রী জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছেন। এজন্য তারা তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক আফরোজ আহমেদ সবুজ, যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম মোল্লা, শফিক ইসলাম শফিক, অহিদুজ্জামান চঞ্চল, মো. এশারত শেখ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা ফয়সাল আহমেদ ফাহাদ, শহীদ জিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাঈনুল ইসলাম মঈন, বর্তমান সভাপতি মো. আসাদ শেখ, সাধারন সম্পাদক এমাম খানসহ মাটিভাংগা কলেজ ও রাজলক্ষ্মী কলেজসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলেে নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দিঘীরপাড় খাঁ বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী দুলাল মিয়াকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘাতকরা তাকে জবাই করে ফারুক হাজী সাহেবের ফিশারির পাড়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।নিহত দুলাল মিয়া দিঘীরপাড় এলাকার খাঁ বাড়ির বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি অত্যন্ত নম্র ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত বা কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।একজন সৎ ও কর্মঠ মানুষকে এভাবে হারিয়ে ফেলা সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানন এলাকাবাসী।
ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল, দারুসসালাম ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি করা হয়েছে।রোববার (৩ মে) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।ডিএমপির আদেশ অনুযায়ী, হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানকে মিরপুর মডেল থানায়, লাইনওয়ারের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে আদাবর থানায় এবং লাইনওয়ারের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. দুলাল হোসেনকে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া একই আদেশে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়াকে ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানকে গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে বদলি করা হয়েছে।এর আগে ভুক্তভোগীর কাছে থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মিরপুর মডেল থানার ওসি গোলাম আজমকে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম জাকাত নিয়ে বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ।রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, যা সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটা আল্লাহর পবিত্র বিধান। এই পবিত্র বিধানকে কেন্দ্র করে কটূক্তি বা বিদ্রূপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।’হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির মহিলা নেত্রী নিলুফার মনির জাকাত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইবাদতকে অবমাননা করার অধিকার দেয় না। এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি, বিদ্বেষ ও অশান্তির জন্ম দেয়।’সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জাকাতের মতো মহান ইবাদত সম্পর্কে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা সবার দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বক্তব্যের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করে তা প্রত্যাহার করা এবং মুসলমানদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় সংযম, শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখুন, যাতে সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি অটুট থাকে। আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা যেন মাঠে নামতে বাধ্য না হয়।’সম্প্রতি একটি টকশোতে জাকাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন নিলুফার মনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম।’ তার এই মন্তব্য নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের বর্তমান পোশাক ও লোগো পরিবর্তন করে আগের আদলে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পুলিশের বর্তমান পোশাকটি বর্তমানে অনেকের কাছেই মানানসই মনে হচ্ছে না। তাই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনতে এবং জনবান্ধব ইমেজ তৈরিতে আগের খাকি রঙের প্যান্টসহ পোশাকের পুরনো কাঠামো ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত কাকে জামিন দেবেন বা দেবেন না, তা সম্পূর্ণ আইনের বিষয়। তবে জামিন পেলেও কোনো অপরাধী পার পাবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম জাকাত নিয়ে বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ।রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, যা সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটা আল্লাহর পবিত্র বিধান। এই পবিত্র বিধানকে কেন্দ্র করে কটূক্তি বা বিদ্রূপ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।’হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির মহিলা নেত্রী নিলুফার মনির জাকাত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইবাদতকে অবমাননা করার অধিকার দেয় না। এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি, বিদ্বেষ ও অশান্তির জন্ম দেয়।’সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জাকাতের মতো মহান ইবাদত সম্পর্কে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা সবার দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বক্তব্যের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করে তা প্রত্যাহার করা এবং মুসলমানদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।’হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় সংযম, শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখুন, যাতে সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি অটুট থাকে। আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা যেন মাঠে নামতে বাধ্য না হয়।’সম্প্রতি একটি টকশোতে জাকাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন নিলুফার মনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম।’ তার এই মন্তব্য নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল ইসকফ সিরাপ ও ২৪ বোতল বিদেশি মদসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।র্যাব সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২ এর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ৩ জনকে আটক করা সম্ভব হলেও একজন পালিয়ে যায়।আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে মাদকদ্রব্য থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৭০ বোতল ইসকফ সিরাপ এবং একটি কার্টন থেকে ২৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আহমদ আলী (২৪), লিয়াকত আলী (২৮) ও আরমান আলী (১৯)। তারা সবাই কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা।র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রাখার কথা স্বীকার করেছে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতারকৃতদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৯ আরও জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জেতার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জিতে লিড নিলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ নিশ্চিত করতে পারল না টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর আজ শেষ ম্যাচও পড়ে বৃষ্টির বাধায়। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হয় ১৫ ওভারে।বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে কিউইদের ১০৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টাইগাররা। শুরুতেই ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন শরিফুল ইসলাম-শেখ মাহেদিরা। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। বেভন জ্যাকবসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩.২ ওভার হাতে রেখেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ব্ল্যাকক্যাপসরা। ১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছে বাজে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন শরিফুল। তাঁর বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন কিউই ওপেনার কেটেন ক্লার্ক। একই ওভারে ডেন ক্লিভারকেও সাজঘরের পথ দেখান টাইগার পেসার। নিজের প্রথম ওভারে ২ উইকেট নেওয়া শরিফুল দ্বিতীয় ওভারেই আবার আঘাত হানেন। এবার আরেক ওপেনার টিম রবিনসনকে বোল্ড করেন তিনি। টাইগার পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দলীয় ২৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর উইকেট নেওয়ার মিছিলে যোগ দেন মেহেদিও। ৫ম ওভারে তিনি ফেরান নিক কেলিকে। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে কিউইরা, বাংলাদেশের সামনে জাগে জয়ের আশা। তবে এরপর কিউইদের পথ দেখিয়েছেন জ্যাকবস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ফক্সক্রফট। এ দুজন মিলে জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। জয়ের পথে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেছেন জ্যাকবস। ২৯ বলেই নিজের ফিফটি তুলে নেওয়া কিউই এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩১ বলে ৬২ রান করে, ৫টি চারের সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন ৩টি ছয়। অপরপ্রান্তে ফক্সক্রফট ১৫ বলে ১৫ করে অপরাজিত ছিলেন, দুজনে মিলে দলকে জেতানোর পথে গড়েন ৭১ রানের জুটি। এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদেরও। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো করতে পারেননি সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। আজ সাইফ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। দুটি চার মেরে দারুণ কিছুর আভাসও দিয়েছিলেন। তবে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই আউট হন সাইফ। জেইডন লেনক্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি ১০ বলে করেন ১৬ রান। এদিকে সাইফ ফেরার পরের ওভারেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবার ডিন ফক্সক্রফটের বলে বিদায় নেন আরেক ওপেনার তামিম। তিনি ১০ বলে করেন ৬ রান। এরপরের বলেই সাজঘরের পথ ধরেন পারভেজ ইমন। ১ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় তাকে। এরপর ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। লিটন ছিলেন মারমুখী মেজাজে। ১৩ বলে ৩ চার আর ১ ছয়ে ২৫ রান করেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের দলীয় রান যখন ৫০ তখন বৃষ্টি শুরু হলে বন্ধ হয় খেলা।বৃষ্টির পর খেলা আবার শুরু হলে শুরুতেই লিটন দাসের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৬৩ রানে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। আউট হওয়ার আগে তিনি ১৭ বলে করেন ২৬ রান। এদিকে লিটন ফেরার পর হৃদয় খেলেছেন হাত খুলেই। তবে তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হয়েছে শামীম হোসেন। টাইগার এই মিডল অর্ডার ব্যাটার দলীয় ৮৬ রানেই ধরেন সাজঘরের পথ, ফেরার আগে করেন ৮ বলে ৩ রান। শামীম ফেরার পর স্কোরবোর্ডে আর ২ রান যোগ হতেই আউট হন হৃদয়ও। জশ ক্লার্কসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি ২৪ বলে করেন ৩৩ রান। এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৪.২ ওভারে ১০২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের পঞ্চম সিজনের শুটিং চলছে নেপালে। সেখানে ব্যাচেলর পয়েন্ট টিমের সঙ্গে যুক্ত হলেন নেপালের অভিনেত্রী রাজেশ্রী থাপা। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্মাতা জানান, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ফাইভের চ্যাপটার ১২-তে সারপ্রাইজ তাঁকে দেখা যাবে।ফেসবুকে রাজেশ্রী থাপার ছবি পোস্ট করে পরিচালক ক্যাপশনে লেখেন, চরিত্রটি কে হতে পারে অনুমান করুন। এরপর তাঁর কমেন্ট বক্সে হাজার হাজার ফানি মন্তব্য পড়তে দেখা যায়।গত বছর কোরবানির ঈদের সময় থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে শুরু হয়েছে ব্যাচেলর পয়েন্ট ফাইভের প্রচার। নতুন সিজনে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে চমক। পাঁচ বছর পর এই সিজনে ফিরে এসেছেন নেহাল ও আরিফিন চরিত্রে অভিনয় করা তৌসিফ মাহবুব ও শামীম হাসান সরকার। যুক্ত হয়েছে নতুন চরিত্রও। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, মনিরা মিঠু প্রমুখ।ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ব্যাচেলর পয়েন্টের নতুন এই সিজন প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আই এবং বুম ফিল্মস ইউটিউব চ্যানেলে।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সিদ্দিক জানান, গত ১৮ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।সিদ্দিক আরও বলেন, ‘আমার নামে দুটি মামলা রয়েছে। তবে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর ভিন্ন এক অনুভূতি কাজ করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি প্রায় ১০ মাস কারাগারে ছিলাম। জীবনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তির পর গত কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েছি। এতদিন এক ধরনের পরিবেশে ছিলাম, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এসেছি। নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্যই এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি।’উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার এসআই সামিউল ইসলাম গত বছর ১২ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ফার্নিচারকর্মী পারভেজ বেপারী। জুমার নামাজের পর আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পারভেজের বাবা মো. সবুজ গত বছরের ২ জুলাই গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন এক মাস হয়ে গেছে। গত ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কলকাতার তালসারির সমুদ্রে ডুবে মারা যান এই অভিনেতা। রাহুলের মৃত্যুর পর নেটপাড়ার একটা অংশের ট্রলের মুখে পড়েন তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।স্বামীর শেষকৃত্যে একটি কুর্তা আর ডেনিম জিন্স পরে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে শুধু পোশাক নিয়ে নয়, কিছু মানুষ তো প্রশ্ন তোলেন, কেন একবারও চোখের পানি ফেলতে দেখা গেল না প্রিয়াঙ্কাকে! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের যখন প্রিয়াঙ্কার মাথায় স্নেহের হাত রাখেন, তখন কেন এক চিলতে হাসি ফুটেছিল প্রিয়াঙ্কার মুখে! এরকমই আজব আর কুরুচিকর কমেন্টে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।আপাতত নিজের পরবর্তী ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’র প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত আছেন প্রিয়াঙ্কা। অবশ্য এই নিয়েও কম কটাক্ষ হয়নি, একদল নিন্দুকেরা প্রশ্ন তোলে, ‘স্বামী হারা একজন কীভাবে এত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরল!’ তবে এবার সব ট্রলের জবাব দিলেন অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যম টিভি নাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে স্পষ্ট করলেন, শত নেতিবাচকতার মধ্যেও ভালোটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তিনি।প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি সব পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই ভালোটা খুঁজে নেওয়ার। আমার মনে হয় যে, যখনই এরকম কোনো পরিস্থিতি এসছে, পাঁচজন হয়তো নেগেটিভ কথা বলেছে, কিন্তু ৫০ জন পাশে থেকেছেন এবং ভালো কথা বলেছেন। সেই পাঁচজনকে আমার গুরুত্ব না দিলেও চলবে। যে ৫০ জন পাশে থেকেছে, তারাই কিন্তু আমাদের হয়ে লড়াইগুলো করে। আসলে অনেকেই বাজে কথা বলে, কারণ তারা মনোযোগ চায়। আর এদেরকে গুরুত্ব না দেওয়া সবচেয়ে ভালো রেসপন্স হতে পারে।’প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘যেমন তোমার চারপাশে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে তুমি তোমার কষ্টের কথা ভাগ করে নাও, মন হালকা করো। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় পজিটিভিটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এরা তোমার মনোযোগ ডিজার্ভ করে। যারা তোমার জন্য লড়াই করছে। কেন আমি নেতিবাচক কথাকে আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে দেব!’ প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার— টলিউডের এক সময়ের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমা দিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি যে ইতিহাস তৈরি করেছিল, তা আজীবন ভক্তদের মনে থাকবে।
সরকে চুনর তেরি- গান ঘিরে তৈরি বিতর্কের প্রেক্ষিতে মহিলা কমিশনে হাজির হয়ে বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। কমিশনের সামনে দেওয়া বক্তব্যে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য কখনোই সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি একটি সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন—৫০ জন আদিবাসী কন্যাশিশুর সম্পূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।এই বিতর্কে নাম জড়ালেও এদিন উপস্থিত ছিলেন না অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। বিদেশে অবস্থানের কারণে তিনি আগেই সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তার জন্য নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।মূলত কে ডি: দ্য ডেভিল ছবির হিন্দি সংস্করণের একটি গানকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গান প্রকাশের পর এর ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে একাংশ আপত্তি তোলে। বিশেষ করে গানের কিছু অংশকে অশালীন বলে অভিযোগ করা হয় এবং নোরা ফাতেহির নৃত্যভঙ্গিমা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।সবশেষে কমিশনের সামনে সঞ্জয় দত্ত আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে তার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো কাজে নারী ও শিশুদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন উপস্থাপনা যেন না থাকে, সে বিষয়ে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন।সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। ৩৩ বছর পর ‘খলনায়ক’-এর সিকুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’ নিয়ে তিনি আবারও দর্শকের সামনে আসছেন।
ভারতের আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে গত শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তার এই দলবদল নিয়ে যখন পুরো ভারতজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে, তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। একটি বিতর্কিত মিম শেয়ার করে এবার বড়সড় বিপাকে পড়েছেন এই প্যান ইন্ডিয়া তারকা। নিজের সোজাসাপ্টা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ রাজ সবসময়ই পরিচিত। রাঘব চাড্ডার দলবদল প্রসঙ্গে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম শেয়ার করেন যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি পুলিশ বাহিনী ছাড়ছি কারণ তারা অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে। আর এই কারণেই আমি এখন দাউদ ইব্রাহিমকে আমন্ত্রণ করতে চলেছি।’ মিমটির ক্যাপশনে অভিনেতা শুধু লিখেছেন, ‘শুধু জিজ্ঞাসা করছি’। প্রকাশের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে কুরুচিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘স্যার, আপনার ভাষার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।’ অন্যজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটা কি একজন প্যান ইন্ডিয়া অভিনেতার ভাষা হতে পারে?’ অনেকেই দাবি করেছেন, অভিনেতার রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এই ধরনের মন্তব্যের জন্ম।তবে শুধু প্রকাশ রাজ নন, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাজনীতিকে ‘সবচেয়ে বড় প্রতারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ইডি ও সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতেই ভয়ে আপ ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন রাঘব।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রি মাতিয়েছেন ‘সিমরান’ আর ‘অঞ্জলি’সগ অসংখ্য দর্শক নন্দিত সিনেমা দিয়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কিংবা ‘কভি খুশি কভি গম’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে নিজেকে এতোটা বোল্ড হননি কাজল। পর্দায় চুম্বন দৃশ্য নিয়ে আপোষ করেননি কখনো। তবে ২০২৩ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই ঘটেছে সেই দীর্ঘদিনের নিয়মের ব্যত্যয়। ‘দ্য ট্রায়াল: লাভ, কানুন, ধোকা’ সিরিজে সহ-অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে তার একটি চুম্বন দৃশ্য শোরগোল ফেলে দেয় নেটদুনিয়ায়। ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে, ক্যারিয়ারের এত বছর পর কেন নিজের নীতি ভাঙলেন এই অভিনেত্রী?সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা চরিত্রের দাবিতেই করা। সিরিজে আমার অভিনীত ‘নয়নিকা সেনগুপ্ত’ যা হতে চায়, যা ভাবে কিংবা যা পায় না সেই লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ওই মুহূর্তটি। এটা কেবল একটি চুমুর দৃশ্য ছিল না; বরং সে কাকে বিশ্বাস করত আর কাকে বিশ্বাস করতে পারত না, এটি ছিল তার প্রতিফলন।’চিত্রনাট্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজল আরও বলেন, ‘দৃশ্যটি চিত্রনাট্যের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আমি বাদ দিতে পারিনি। ওটা বাদ দিলে চরিত্রটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অপূর্ণ থেকে যেত।’তবে দৃশ্যটি করার আগে মনে বেশ দ্বিধা ছিল কাজলের। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘আমার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। সেটে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত ধারণাটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগছিল। নিশ্চিত ছিলাম না যে আদৌ কাজটা করতে পারব কি না, নাকি ‘কাট’ বলে বেরিয়ে আসব। তবে শেষ পর্যন্ত সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি পেশাগত সিদ্ধান্ত।’উল্লেখ্য, ‘দ্য ট্রায়াল’ একটি কোর্টরুম ড্রামা যেখানে স্বামীর স্ক্যান্ডালের পর একজন নারীর পুনরায় আইনি পেশায় ফিরে আসার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। সিরিজটিতে কাজলের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টলিউড সুপারস্টার যিশু সেনগুপ্ত। এর দ্বিতীয় সিজনটি ২০২৫ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিও হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্লিন এনার্জি, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যান এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে নতুন অর্থায়ন সুবিধা চালু করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।রোববার (০৩ মে) উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন।‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস-টু-ম্যানুফ্যাকচারিং ফাইন্যান্সিং পার্টনারশিপ ফ্যাসিলিটি’ নামের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু খনিজ উত্তোলনে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন ও রিসাইক্লিংয়ের মতো উচ্চ-মূল্যের খাতে অঞ্চলটিকে এগিয়ে নেওয়া। এর মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তুতি, নীতি সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া হবে।মাসাতো কান্দা বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যেন কেবল কাঁচামালের উৎস হয়ে না থাকে, বরং খনিজ সম্পদভিত্তিক শিল্প থেকে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মূল্য সংযোজনের সুফল নিজেদের মধ্যেই ধরে রাখতে পারে—সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।এডিবি জানায়, এই অর্থায়ন সুবিধার দুটি অংশ রয়েছে। প্রথমটি অনুদানভিত্তিক, যেখানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্যায়ন এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এতে জাপান ২০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য ১.৬ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দ্বিতীয় অংশ ‘ক্যাটালিটিক ফাইন্যান্স উইন্ডো’, যা সহ-অর্থায়ন ও ঝুঁকি ভাগাভাগির মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক এবং কোরিয়ান ট্রেড ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন প্রত্যেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।সংস্থাটি ইতোমধ্যে ভারত-এ ব্যাটারি উৎপাদন, মঙ্গোলিয়া-তে ভূতাত্ত্বিক ডেটা ম্যাপিং, উজবেকিস্তান-এ এআইভিত্তিক ধাতু উৎপাদন এবং ফিলিপাইন-এর খনিজ খাতে নীতি সংস্কারে কাজ করছে। নতুন এই উদ্যোগটি এডিবির ২০২৫ সালের খনিজ কৌশল বাস্তবায়নে গতি আনবে।এডিবি আরও জানায়, এই সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত সব প্রকল্পকে কঠোর পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালা এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।এই উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করছে সংস্থাটি।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জি. ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।রিয়াদে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুমায়ুন কবির সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংহতির বার্তা হস্তান্তর করেন।বৈঠকে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমুখী করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তাদের নতুন হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য নিয়ে এসেছে। এ উপলক্ষে ‘শাওমি স্মার্ট লিভিং ফর এভরিওয়ান’ থিমে সোমবার (৪ মে) ঢাকার বনানীতে অবস্থিত শেরাটনে জমকালো এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটি স্মার্টফোনের নেতৃস্থানীয় জায়গা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেম নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলো। স্মার্টফোন ও এআইওটি (এআই অব থিংস) উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত শাওমি বাংলাদেশের হোম ও লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। যেন স্মার্ট ও কানেক্টেড লাইফস্টাইলের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করা যায়। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়াও, স্মার্টফোন খাতে শাওমি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্র্যান্ড এবং ২০২৫ সালে শাওমি টিভি বৈশ্বিক শিপমেন্টে শীর্ষ ৫-এ অবস্থান করেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ড ও স্মার্ট ইকোসিস্টেমের প্রতি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বোঝা যায়।বৈশ্বিক এই লক্ষ্যকে স্থানীয়ভাবে কাজে লাগানোর অংশ হিসেবে, শাওমি এখন স্মার্ট হোম কেয়ার সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে। ব্র্যান্ডটি মিজিয়া ফ্রন্ট লোড ওয়াশার ড্রায়ার ১০.৫ কেজি নিয়ে এসেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭৪,৯৯৯ টাকা। ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই অ্যাপ্লায়েন্সের মাধ্যমে মাত্র ৫৯ মিনিটেই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের জন্য আদর্শ সমাধান এটি। ক্রেতাদের জন্য শাওমি টিভি এস মিনি এলইডি সিরিজে কিউডি-মিনি এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করতে রয়েছে ১২০০ নিটস ব্রাইটনেস, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ডলবি ভিশন ও ডলবি অ্যাটমোস। এর ৯৮” ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ৪,৯৯,৯৯৯ টাকা, ৮৫” মাত্র ২,৪৫,৯৯৯ টাকা, ৭৫” মাত্র ১,৭৯,৯৯৯ টাকা, ৬৫” মাত্র ১,৩৯,৯৯৯ টাকা এবং ৫৫” মাত্র ১,০৩,৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।একইসাথে, বিনোদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬ নিয়ে এসেছে ব্র্যান্ডটি। শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬-এ ৪কে ইউএইচডি ডিসপ্লে, প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল ও স্মার্ট বিনোদনের জন্য গুগল টিভি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ৭৫” ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ১,৫৩,৯৯৯ টাকা, ৬৫” মাত্র ১১৪,৯৯৯ টাকা, ৫৫” মাত্র ৮৪,৯৯৯ টাকা এবং ৪৩” মাত্র ৫২,৯৯৯ টাকা।এছাড়াও, ব্র্যান্ডটি বেশকিছু লাইফস্টাইল-ভিত্তিক পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫ ও ৬ লিটার, স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার ৪ কম্প্যাক্ট ও লাইট, শাওমি স্মার্ট ক্যামেরা সি২০১ ও সি৩০১, আউটডোর স্মার্ট ক্যামেরা এবং শাওমি স্মার্ট ট্যাগ। পণ্যগুলো নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিদিনের সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতে শাওমির শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থান রয়েছে। আমরা সেই একই মানের উদ্ভাবন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে আসছি। আজকের ক্রেতারা কেবল আলাদা আলাদা গ্যাজেট নয়, বরং এমন প্রযুক্তি চান যা তাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। আমাদের ‘হিউম্যান × হোম × কার’ ভিশনের মাধ্যমে আমরা একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেন আমরা ‘গ্লোবাল হার্ডকোর টেক পার্টনার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। মিনি এলইডি টিভি থেকে শুরু করে স্মার্ট লন্ড্রি ও ট্র্যাকিং সল্যুশন, সবকিছুতেই আমরা ক্রেতাদের জন্য স্মার্ট লিভিংকে আরও সহজ ও সাবলীল করতে চাই।”উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পণ্য প্রদর্শনী, মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশন ও পণ্য সম্পর্কে সরাসরি জানাশোনার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। হোম অ্যাপ্লায়েন্স সেগমেন্টে আসার মধ্য দিয়ে শাওমি বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লিভিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিই পুনর্ব্যক্ত করলো, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্য ও সর্বোচ্চ মানের পণ্য নিশ্চিত করা হবে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।