দেশে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৬ জনে।শনিবার (১২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। একই সময় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৬৩ জন। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯২ শিশু। সবমিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৪৮ জন। আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ২৪৮ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৮৯৯ জন।
আসামের যোরহাটে আজ শনিবার সকালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি এএন-৩২ (AN-32) পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিমানবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অবতরণের সময় বিমানটি এয়ার ফোর্স স্টেশনের ভেতরেই ভেঙে পড়ে এবং পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সাড়া দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণও এখনো জানা যায়নি। ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘যোরহাটে বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমানের দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছি।’এএন-৩২ একটি দ্বৈত ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মিত এই মডেলের প্রায় ১০০টি বিমান বর্তমানে তাদের বহরে রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উচ্চভূমির ঘাঁটিতে পরিচালনার উপযোগী এই বিমান একসঙ্গে প্রায় ৭ দশমিক ৫ টন মালামাল, ৫০ জন যাত্রী বা ৪২ জন প্যারাট্রুপার বহনে সক্ষম। দুর্গম অঞ্চলে রসদ সরবরাহে এটি নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।এর আগে গত ৫ মার্চ আসামের কারবি আংলং জেলায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট নিহত হন। সেদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের দিকে যোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশন থেকে নিয়মিত উড্ডয়নের পর বিমানটির সঙ্গে স্থল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানানো হয়।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা ওঠেছে। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনা আজ রাতে বাড়বে আরও কয়েকগুণ। কেননা, শিরোপার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম পরাশক্তি ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন শুরু করার লক্ষ্যে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে খেলতে নামবে সেলেসাওরা।গ্রুপ ‘এফ’-এ ব্রাজিলের আজকের ম্যাচটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। সেলেসাওরা আজ মুখোমুখি হবে আসরের অন্যতম দল মরক্কোর। গত কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিল আফ্রিকার উদীয়মান পরাশক্তি দল মরক্কো।ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড ও কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এটিই ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই বেশ কয়েকজন প্রধান তারকার ইনজুরি ভোগাচ্ছে সেলেসাও স্কোয়াডকে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার রাফিনিয়ার মতো ফরোয়ার্ডদের নিয়ে গঠিত ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই ত্রাস। ব্রাজিলকে আজ পরীক্ষা দিতে হবে মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে, গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবার আরও পরিপক্ক। আশরাফ হাকিমি ও হাকিম জিয়েশদের নিয়ে গড়া এই আফ্রিকান দলটি যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করে দিতে ওস্তাদ। ফলে প্রথম ম্যাচেই ফুটবলপ্রেমীরা এক তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ও নান্দনিক ম্যাচের অপেক্ষা করছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চে শুভসূচনার রেকর্ড ব্রাজিলের বরাবরের মতোই দুর্দান্ত। বিগত বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত থাকার চমৎকার রেকর্ড রয়েছে সেলেসাওদের। আজ বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক হজযাত্রীর ফেলে আসা লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।১৩ জুন শনিবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে উপজেলা সদরের কদমতলী এলাকায় স্থানীয় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজনদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা চলতি বছর কসবা হজ কাফেলার মাধ্যমে হজে যান। তিনি ফেরার পথে তার একটি লাগেজ সৌদি আরবে ফেলে আসেন। লাগেজটি ফিরিয়ে আনার জন্য গত বৃহস্পতিবার ওই বৃদ্ধার পরিবার হজ এজেন্সিতে গিয়ে চাপ দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লাগেজের দায়িত্ব হজযাত্রীর বলে জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বৃদ্ধার স্বজনরা হজ এজেন্সিটিতে ভাঙচুর চালান। এরই জেরে আজ শনিবার সকালে কদমতলি এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১০ জন।কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হস্তক্ষেপে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রাধানগর ইউনিয়নের ২২০ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় নৌকাপথে শিশু ও নারীদেরসহ ওই ১৫ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।বিজিবি জানিয়েছে, ওই সময় রোকনপুর বিওপির টহল দল সীমান্ত এলাকায় নজরদারিতে ছিল। ভারতীয় ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা নৌকায় করে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তা প্রতিহত করে।পরে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিএসএফ ওই ১৫ জনকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বলে জানায় বিজিবি।নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্তে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং টহল ও নজরদারি জোরদার রয়েছে।তিনি আরও জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন এবং অন্যান্য অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।এর আগে গত ৪ জুন একই সীমান্ত এলাকায় আরও ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবির প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার উত্তর শশিকর গ্রামে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে চারদিন ব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্ত্তন ও মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বর্গীয় কানাই লাল সরকার এবং স্বর্গীয় সাবিত্রী রানী সরকারের আত্মার চিরশান্তি কামনায় এই ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ শুভ্র সরকার। এবং অনুষ্ঠানে সার্বিক পরিচালনা করেন পূরবী সরকার প্রধান শিক্ষক (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম)। ১২ জুন শনিবার দিন ব্যাপি বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে এই মহতি অনুষ্ঠান গভীর রাতে এসে সফল সমাপনী ঘটেছে।স্বর্গীয় কানাই লাল সরকারের বাস ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল ডঃ শুভ্র সরকারের স্বর্গীয় পিতা-মাতার স্মরণে তৃতীয় বার্ষিকী আয়োজন। গত চারদিন ধরে উৎসব প্রাঙ্গণে নামকীর্ত্তন, ধর্মীয় আলোচনা, ও আরতির আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত কীর্তনীয়া দল এই সংকীর্ত্তনে অংশ নেন, যাদের সুমধুর হরিনাম সুধায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে আজ সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ এই ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেন। হরিনাম সংকীর্ত্তন শেষে উপস্থিত সকল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে পরম তৃপ্তিতে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক পূরবী সরকার জানান, "পিতা-মাতার আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে এবং জগতের সকল জীবের মঙ্গল কামনায় এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিগত চারদিন ধরে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা এই আয়োজনকে সফল ও সার্থক করে তুলেছে।চারদিন ব্যাপী এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলা ডাসার এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এক পরম শান্তি ও উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে।
রাজধানীর উত্তরায় হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মো. অনিককে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা বিভাগ পুলিশ। উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগের তদারকিতে পরিচালিত অভিযানে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ব্ল্যাক লেভেল মদের বোতল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অনিক তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকার মো. আলমের ছেলে।উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর জানান, অনিকের বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং পল্টন থানায় আরও একটি মাদক মামলা রয়েছে।তিনি আরও জানান, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তে কথিত পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।সমাবেশে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইনের চেষ্টা আমাদের বিজিবি ও সীমান্তের জনগণ রুখে দেবে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের ঘটনা বন্ধে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে কার্যকর আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই।প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আবু জার গিফারী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের দাবি, মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং স্লোগান দেন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাঁকে গুলি করে।’শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালীর জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তেল সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।টুকু বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের পর কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে।মন্ত্রী জানান, এ সময় সরকার প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের ড্রাই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তা ভোক্তাদের কাছে কম দামে সরবরাহ করার কারণে একটি বড় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান বিল পরিশোধ ও খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়।মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বিজয়ের পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত হারে গ্যাস অনুসন্ধানে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে যেসব দেশ সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে, তারা সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রফতানি পর্যন্ত করছে।উপদেষ্টা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশকেও এই খাতে অগ্রসর হতে হবে।ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—অনেক বিনিয়োগকারী জানিয়েছে যে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায় সামলিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে আবার বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতে পারে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক পাওয়ার প্ল্যান্ট যথাযথভাবে মেরামত বা মেইনটেনেন্স করা হয়নি, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হয়েছে, যা ভোক্তার কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুকু জানান, এসব ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ফেভারেবল অপিনিয়ন পাওয়া গেলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ লাখ মিটার অর্ডার দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার হয়নি এবং গুদামে পড়ে আছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।ডিপিডিসির প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।রাজধানীর একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, শাহবাগ এলাকার পেছনে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হলেও এসব প্রকল্পের আয় কাঠামো ও অর্থনৈতিক যুক্তি দুর্বল ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হলেও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রফিট বা রিটার্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্তে কথিত পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।সমাবেশে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইনের চেষ্টা আমাদের বিজিবি ও সীমান্তের জনগণ রুখে দেবে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের ঘটনা বন্ধে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে কার্যকর আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই।প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আবু জার গিফারী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের দাবি, মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং স্লোগান দেন।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বর্নি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামাদ মুন্সী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবিরের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচির আওতায় আম, আমড়া, পেয়ারা, চম্পলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা বলেন, “ফলজ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন প্রকার গাছ রোপণ করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি।” তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গঠনে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইমরুল সরদার, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন শেখ, ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন, ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া, ৪/৫/৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুইটি আক্তার, ৭/৮/৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তারিন আক্তার এবং বর্নি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সুমন শেখসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। তাদের মতে, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা ওঠেছে। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনা আজ রাতে বাড়বে আরও কয়েকগুণ। কেননা, শিরোপার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম পরাশক্তি ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন শুরু করার লক্ষ্যে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে খেলতে নামবে সেলেসাওরা।গ্রুপ ‘এফ’-এ ব্রাজিলের আজকের ম্যাচটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। সেলেসাওরা আজ মুখোমুখি হবে আসরের অন্যতম দল মরক্কোর। গত কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিল আফ্রিকার উদীয়মান পরাশক্তি দল মরক্কো।ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড ও কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এটিই ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই বেশ কয়েকজন প্রধান তারকার ইনজুরি ভোগাচ্ছে সেলেসাও স্কোয়াডকে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার রাফিনিয়ার মতো ফরোয়ার্ডদের নিয়ে গঠিত ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই ত্রাস। ব্রাজিলকে আজ পরীক্ষা দিতে হবে মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে, গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবার আরও পরিপক্ক। আশরাফ হাকিমি ও হাকিম জিয়েশদের নিয়ে গড়া এই আফ্রিকান দলটি যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করে দিতে ওস্তাদ। ফলে প্রথম ম্যাচেই ফুটবলপ্রেমীরা এক তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ও নান্দনিক ম্যাচের অপেক্ষা করছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চে শুভসূচনার রেকর্ড ব্রাজিলের বরাবরের মতোই দুর্দান্ত। বিগত বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত থাকার চমৎকার রেকর্ড রয়েছে সেলেসাওদের। আজ বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসহ দেশজুড়ে ১০৩ প্রেক্ষাগৃহে একযোগে চলছে মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত সিনেমা‘রকস্টার’। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মেগাস্টার শাকিব খানের ‘রকস্টার’। ঈদের দিন থেকেই দেশজুড়ে ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা শহরের সিংগেল স্ক্রিন- সব মিলিয়ে বড় পরিসরেই দর্শকের সামনে আসছে ছবিটি। আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’-এ এক রকস্টারের উত্থান, খ্যাতি, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক। মুক্তির আগে গান, পোস্টার ও প্রচারণায় আলোচনায় আসে সিনেমাটি। ঈদের হাফ ডজন ছবির ভিড়েও ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশজুড়ে সিনেমাটির হল বণ্টনের তালিকায় চোখে পড়ছে বড় পরিসরের উপস্থিতি। রাজধানী ঢাকায় ‘রকস্টার’ চলছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সবকটি শাখায়— বসুন্ধরা সিটি, এসকেএস টাওয়ার (মহাখালী), সীমান্ত সম্ভার, সনি স্কয়ার (মিরপুর), মিলিটারি মিউজিয়াম ও উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে। এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, টঙ্গীর সাবা সোহানা সিনেপ্লেক্স এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
টানা চার দফা কমানোর পর এবার দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।১৩ জুন শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।সোনার দাম বাড়ানোর সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৯১ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২২ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ হামলায় অন্তত ৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এ সময় নিহত হয়েছে ভারতীয় এক নাগরিক।বুধবার রাতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের খোঁজ নিচ্ছে।বিবৃতিতে কুয়েতে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রকেট বা ড্রোন হামলা এবং সেগুলো প্রতিহত করার দৃশ্য ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।একইসঙ্গে ওইসব ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করতেও বলা হয়েছে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী, এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।এ পরিস্থিতিতে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা রক্তদানে সক্ষম, তাদের জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে শিল্পখাত প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটাইল সোর্সিং আয়োজনের জন্য।ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬ আগামী ১৮–১৯–২০ জুন, আইসিসিবি, পূর্বাচল এক্সপ্রেস হাইওয়ে, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রদর্শনী বৈশ্বিক টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনকে এক ছাদের নিচে একত্রিত করবে এবং সোর্সিং, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বি-টু-বি টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, বাংলাদেশ, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং ও উজবেকিস্তানসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের নির্মাতা এবং সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তন্তু, সুতা, কাপড়, ট্রিমস, এক্সেসরিজ, রং, রাসায়নিক পদার্থ, কমপ্লায়েন্স সেবা এবং টেকসই সাপ্লাই চেইন উদ্ভাবনের বিস্তৃত পরিসর এখানে প্রদর্শিত হবে।বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো দ্রুতগতিতে তুলার বাইরে বিকল্প উপকরণের দিকে ঝুঁকছে — ফলে ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ), পারফরম্যান্স টেক্সটাইল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য তন্তু এবং ট্রেসযোগ্য সাপ্লাই চেইনের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এই সংস্করণ সরাসরি সেই পরিবর্তনের সাড়া দেবে — শীর্ষ টেক্সটাইল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিশেষ প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতাদের সামনে পরবর্তী প্রজন্মের উপকরণ ও উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হবে।প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন — টেক্সপ্রোসিল, ম্যাটেক্সিল ও পিডেক্সিলসহ শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি উন্নয়ন পরিষদের সহায়তায় — ৭৫টিরও বেশি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে অংশ নেবে। পাশাপাশি চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়নে চীনের শীর্ষ প্রদেশগুলো থেকে ৭০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আরএমজি শিল্পের জন্য এমএমএফ, টেকসই উপকরণ, পোশাক এক্সেসরিজ এবং উন্নত ফেব্রিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন উপস্থাপন করবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, আর্জেন্টিনা, ভারত, ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ২০টিরও বেশি দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক ক্রেতারা ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ অংশ নিতে আগ্রহী।প্রদর্শনীতে আরও থাকবে ইন্টারেক্টিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ — ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায় — যেখানে শিল্প নেতারা টেকসইতা, সাপ্লাই চেইন স্থিতিশীলতা, ট্রেসেবিলিটি ও উদীয়মান বাজারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করবেন। এর পাশাপাশি বি-টু-বি কানেক্ট ওয়ান-টু-ওয়ান ম্যাচমেকিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক বৈঠকের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। অফিশিয়াল ট্রেসেবিলিটি পার্টনার হিসেবে টেক্সটাইলজেনেসিস ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল সোর্সিংয়ের আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, “ ইন্টেক্স বাংলাদেশ বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহকারীদের সাথে বাংলাদেশের গতিশীল পোশাক শিল্পকে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে চলেছে। এ ধরনের উদ্যোগ সোর্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত এবং টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন জুড়ে মূল্যবান সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করে।”বিজিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, “বাংলাদেশ যখন বৈশ্বিক পোশাক সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে, তখন ইন্টেক্স বাংলাদেশের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী, ক্রেতা ও নির্মাতাদের সংযুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিজিবিএ এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে পেরে গর্বিত এবং ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করে।”বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে হাজার হাজার ব্যবসায়িক বৈঠক সহজতর করার ইতিহাস নিয়ে ইন্টেক্স ধারাবাহিকভাবে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইন একীকরণকে শক্তিশালী করে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিসর, ভবিষ্যৎমুখী কর্মসূচি এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং সুযোগ নিয়ে ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ও বৈশ্বিক টেক্সটাইল সাপ্লাই চেইনের নির্ধারিত মিলনস্থল হয়ে উঠতে প্রস্তুত।বিনামূল্যে ই-ব্যাজ নিবন্ধন করুন bd.intexsouthasia.com-এ — দ্রুত প্রবেশাধিকারের জন্য।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’