মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধেই দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তারা দেশটির বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং ব্রিজে হামলার কারণে অনেক ইরানি চাকরি হারিয়েছেন।সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে জানিয়েছে, এই ৪০ দিনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এতে ইরানের ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি অর্থে ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান।ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে ইরানের ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। যারমধ্যে আছে ১ লাখ আবাসিক বাড়ি। যেগুলোর কিছু আংশিক এবং কিছু পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।এছাড়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে। এর পাশাপাশি হামলা হয়েছে ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি ইউনিটেও। হামলায় এগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে রেডক্রসের ২০টি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়ে গেছে।এগুলোর পাশাপাশি ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে। যারমধ্যে আছে পাঁচটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর এবং বেসামরিক বিমান।বেসামরিকের পাশাপাশি ইরানের সামরিক অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিনি ও ইসরায়েলিদের হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র— খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ— এগুলোর পাশাপাশি ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক উপলক্ষে বিদেশি প্রতিনিধিদলের আগমনের আগে একটি ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ইসলামাবাদ পুলিশ। এতে নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কখনোই রেড জোনের দিকে যাতায়াত করবেন না’। শুধু সরকারি যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো প্রবেশ অনুমোদিত নয়।পুলিশ আরও জানিয়েছে, শ্রীনগর হাইওয়ে এবং ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়ে-তে যান চলাচল পরিবর্তন (ডাইভারশন) করা হবে। তাই এই সময়ে নাগরিকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছে। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে কঠোর তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসতে চলেছে ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তি বৈঠক। তার আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ইসলামাবাদকে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ ও সেনা। যা পুরো ইসলামাবাদ শহরকে এক দুর্গে পরিণত করেছে। শুধু তা-ই নয়, সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ ও বাজার। খবরে বলা হয়েছে, ‘রেড জোন’ এলাকাগুলোতে অর্থাৎ যে সব এলাকায় সংসদ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়, বিলাসবহুল হোটেল ও দূতাবাস রয়েছে, সেসব এলাকায় বেসরকারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা যাতে নির্বিঘ্ন যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। গোটা শহরের যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণাও করা হয়েছে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ৩০ সদস্যের একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল। তবে পাকিস্তানে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন খোদ মার্কিন নাগরিকদের একাংশ। হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব আরি ফ্লেইশার বলেন, ‘পাকিস্তান বিপজ্জনক। কারণ দেশটির সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই।’ একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা-ইরানের বৈঠকের আগে নিজেদের আকাশ সীমাও সুরক্ষিত করছে ইসলামাবাদ। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের আকাশে টহল দিতে দেখা গেছে আইএল-৭৮ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং পাক যুদ্ধবিমান সি-১৩০। শুক্রবার ইরানের আকাশেও দেখা গেছে পাক যুদ্ধবিমান। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতেই যুদ্ধবিমানগুলো সেখানে পাঠানো হয়েছে। ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের প্রতিনিধিদলের উপর যাতে কোনও রকম হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করবে পাকিস্তান। তাদের ঢাল হয়ে দাঁড়াবে পাক যুদ্ধবিমানগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলমাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন। গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। ওই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে লেবানন। কিন্তু দখলদারদের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জানান লেবানন এতে থাকবে না। এরপর দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এসব হামলায় দুইশরও বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আহত হন।ইরান এখন শর্ত দিচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তাহলে লেবাননে আগে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত এখন দ্বন্দ্ব চলছে।এরমধ্যে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান মার্কিনিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংলাপ স্থগিত করেছে।কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তেহরান।সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় খাতা দেখার ক্ষেত্রে সচেতন থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এবং এ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসমূহের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এর কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতায় যাই লেখা থাকুক, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেয়া যাবে না। শিক্ষকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদী। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এবারও তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আজ শুক্রবার তিনি দেশে ফেরেন।আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরকালে, তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন প্রদান করা হয়।এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদ গ্যালারিতে অনূর্ধ্ব-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে ৫০টি আসন রয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দর্শনার্থী গ্যালারিতে আরও ১০০ আসন শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেন। স্পিকার ওই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এখন থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থীরা সংসদের কার্যক্রম সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক চর্চার রীতির সঙ্গে পরিচিত করাবে।এ বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে নৌবিহারে যেতেন। যাতে তারা রাষ্ট্রের সম্পদ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমিও চাই, জেন-জিরা রাষ্ট্র সম্পর্কে জানুক, রাজনীতি নিয়ে সচেতন হোক।’এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়ার সঙ্গে আলাপ করতে গেলে, তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সংসদে এলে সংসদের অধিবেশন চালুর আগে সংসদ নিয়ে বিস্তারিত অবহিত করা হবে। এতে তারা দেশের সংসদের স্থাপত্যশৈলী, ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে পারবে।’
পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাহিনীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনী কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইরানি হামলার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তাকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে কোনো দেশের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেনি।’আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, যদি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হামলার এই খবরগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কাজ। সংস্থাটি দাবি করেছে, অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করতে এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে নস্যাৎ করার জন্য তারা প্রায়ই এ ধরনের উসকানিমূলক ও ভুয়া অভিযান (ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন) পরিচালনা করে থাকে। ইরান সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইআরজিসি যোগ করেছে যে, ইরানি বাহিনী যদি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে তা সাহসের সাথে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই ইরানের সরকারি বিবৃতির বাইরে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার দায়ভার তেহরান গ্রহণ করবে না।বিবৃতিতে বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোর অপপ্রচার চালানোর প্রচেষ্টাকে উন্মোচন করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়া জুড়ে তাদের আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রাখলেও ইরান এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী মেনে চলার বিষয়ে অনড় রয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলে পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সাথে পারস্য উপসাগরে যেকোনো বিশৃঙ্খলার জন্য প্রকৃত উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।এদিকে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতি সম্মান জানানো এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করার জন্য তাদের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যে সংঘাতের শুরু হয়েছিল, তার জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ পরিচালনা করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঠপর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এখনো বিরাজ করছে।সূত্র: প্রেস টিভি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।১০ এপ্রিল শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। ফরম বিক্রি চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শুক্রবার থেকে রোববার পযর্ন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও সংগ্রহ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। আর ফরমের সঙ্গে জমা দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা।উল্লেখ্য, আগামী ১২ মে ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তফসিল ঘোষণা করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।আখতার আহমেদ জানান, আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য ৩৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ১টি আসন। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৫০টি।এএইচআর/এনএফ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে স্মরণ করে বার্তা দিয়েছেন তার ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মোজতবা বলেন, “ইসলাম ও ইরানের শত্রুদের ভয়াবহ অপরাধ, ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাৎবরণ, ইসলামিক উম্মাহ এবং সত্যান্বেষীদের নেতা, ইরানের প্রতিরোধ ও শহীদদের গুরু মহান খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন অতিবাহিত হয়েছে।”ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন আহত।১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে হিসেবে বেছে নেয় ইরান। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে একাধিক ইরানি সূত্রে জানা গেছে, মোজতবা পায়ে আঘাত পেয়েছেন এবং সেই আঘাত প্রাণঘাতী নয়।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে একটি রুশ সামরিক বিমানে চেপে গত ১২ মার্চ ইরান ত্যাগ করে মস্কো যান মোজতবা। বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত ৯১টি বিল পাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়। এগুলোর মধ্যে সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, আজ পাস হওয়া ২৪টিসহ চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত ৯১টি বিল পাস হয়েছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’, ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল, ২০২৬’, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘অর্থ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’, শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করার প্রস্তাব করলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এই বিলের ওপর তিনটি সংশোধন প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার তার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেন। বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে পাস হয়। আজকের অধিবেশনে সবশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।১০ এপ্রিল শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। ফরম বিক্রি চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শুক্রবার থেকে রোববার পযর্ন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও সংগ্রহ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। আর ফরমের সঙ্গে জমা দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা।উল্লেখ্য, আগামী ১২ মে ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তফসিল ঘোষণা করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।আখতার আহমেদ জানান, আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য ৩৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ১টি আসন। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৫০টি।এএইচআর/এনএফ
বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক আবাসিক হোটেল ও মোটেলকে ঘিরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব কার্যকলাপ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের ঐতিহাসিক মহাস্থান এলাকা থেকে শুরু করে শহরতলীর মাটিডালি বিমান মোড় হয়ে উত্তরদিকে তিনমাথা রেলগেইট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে অন্তত ১৩টি আবাসিক হোটেল ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট-কাম-হোটেলে নিয়মিতভাবে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে।অভিযোগ অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—হোটেল অবকাশ, হোটেল গোধুলি, হোটেল ড্রিম প্যালেস এবং হোটেল গোধুলি-২। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে হচ্ছে না। প্রতিটি আবাসিক হোটেলে অতিথি নিবন্ধনের জন্য রেজিস্টার সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা এসব অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তারা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যকলাপ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষমতা দখল নিয়ে চলমান ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডে যে পরিস্থিতি চলছে তা যেন ‘সার্কাসে’ পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ সার্কাস চলছে ক্রিকেট বোর্ডে, যদি ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকেট কিনেন আপনার ওই টিকেট বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।’বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই সাবেক ক্রিকেটার সেখানে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমেরিকায় আজকে তিন বছর। আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ড কোথায় সেটাই জানি না ভাই। ক্রিকেট বোর্ডের মেম্বার কে, ওটা জানা তো অনেক দূরের কথা। ক্রিকেট বোর্ডটা অ্যাকচুয়ালি কোথায় সেটাই জানি না। অথচ আমি ক্রিকেট নিয়ে প্রতিদিন কাজ করছি।’'শরীর এত নড়বড়ে হলে বিশ্রাম নিন', বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর চটলেন গাভাস্কার'শরীর এত নড়বড়ে হলে বিশ্রাম নিন', বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর চটলেন গাভাস্কারশেষে হতাশা প্রকাশ করে আফতাব বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো মানুষের ব্যর্থতা নাই। কেন জানেন? আপনি না জানলেও আপনাকে জানিয়ে দেবে। মিডিয়া এমনভাবে ঢোল পিটায় যে আপনি জানতে না চাইলেও জানবেন। এই সার্কাস আর কতদিন চলবে জানি না। ক্রিকেট তো এখন আর নাই, সার্কাস আছে। সার্কাসটা দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ জানালাম।’
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে শোকের ছায়া এখনও সর্বত্র বিরাজমান। এই শোকের আবহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহুলের জীবনের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিচালক শুভ্রজিৎ বাপ্পা।তিনি বলেন, এই ছবিটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মুক্তি দিচ্ছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহযোগিতা পেলে ছবিটি দর্শকদের বিনামূল্যে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বিশ্বকর্মা’ নামের একজন চিত্রগ্রাহককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। সংসারের অভাব আর অবহেলার মাঝেও বিশ্বকর্মা মৃত মানুষের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।প্রথমে সিনেমাটির নাম ‘নেগেটিভ’ থাকলেও রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন সম্মানে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র ও রানা বসু ঠাকুর। রূপম ইসলাম ও সোমলতার কণ্ঠে গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্য ঋত। সব মিলিয়ে, ‘ছবিওয়ালা’ এখন কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং প্রিয় অভিনেতার প্রতি টলিউডের এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বলিউড অভিনেত্রী জারিন খানের মা পারভীন খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাশুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাউল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পারভীন খান। গত বছর অক্টোবর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এ বছরের শুরু থেকেই ফের অসুস্থ হয়ে আইসিউতে ছিলেন তিনি।
প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বক্স অফিস টপচার্টে সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ৪৮টি থিয়েটার থেকে ছবিটি আয় করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা)। পরিবেশনা সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো বাংলাদেশ’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। উত্তর আমেরিকায় তিন দিনের আয়ের হিসাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা। এর আগে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ৮৬টি থিয়েটারে তিন দিনে আয় করেছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রথম সপ্তাহ শেষে আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এরই মধ্যেই এটি রায়হান রাফীর ‘তুফান’ (১ দশমিক ৫ লাখ ডলার), হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ (১ দশমিক ৩২ লাখ ডলার) এবং অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’র (১ দশমিক ২৫ লাখ ডলার) লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণা১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট, তফসিল ঘোষণাপরিবেশনা সংস্থা স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব জানান, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে গত তিন দিনে যা ঘটেছে, তা অবিশ্বাস্য। ‘উৎসব’র পর তানিম নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে উপহার দিলেন আরেকটি দারুণ কাজ। আশা করছি এটি ব্যবসায়িক অনেক রেকর্ড ভাঙবে। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দেশের বাজারেও। বুড়িগঙ্গা টকিজ, হইচই স্টুডিওস ও ডোপ প্রোডাকশন্স প্রযোজিত সিনেমার টিকিট দুই সপ্তাহে দেশে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ টাকার। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকেই এসেছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটগাজীপুরে ডাকাতের হামলায় নারীর মৃত্যু, নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুটপাটনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার মূল প্রতিপাদ্য ‘১০০% খাঁটি বাংলাদেশি ছায়াছবি’। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি রাতের ট্রেনযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী চিত্রা (সাবিলা নূর) ও তরুণ চিকিৎসক আশহাবের (শরিফুল রাজ) পরিচয়ের পাশাপাশি ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের বিচিত্র ও মজার সব গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা ও মডেল বিদ্যা সিনহা মিম। তিনি শুধু অভিনয়েই নন, নিজের রূপ আর ফ্যাশন সেন্স দিয়ে দর্শক-ভক্তদের মন জয় করে চলেছেন। প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজেকে নানান রূপে মেলে ধরেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। হালকা গোলাপী রঙের একটি নজরকাড়া গাউনে নতুন লুকে ধরা দিলেন তিনি। এর মাধ্যমে ভক্তদের মনে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৬ এপ্রিল সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে একটি ফ্যাশন শুটের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন এই লাস্যময়ী মডেল-অভিনেত্রী। মূলত, সদ্য আয়োজিত লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে নজরকাড়া এই গোলাপি গাউনে, এই সাজে দেখা গিয়েছিল তাকে। প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, মিমের পরনে অফ-শোল্ডার সেই গাউনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ট্রেইল। গলায় ঝলমলে পাথরের নেকলেস, হাতে স্বচ্ছ গ্লাভস এবং পরিপাটি চুলে তিনি যেন এক রাজকীয় আভা ছড়াচ্ছেন। সঙ্গে নানা ভঙ্গিতে পোজ আলাদা মাত্রা এনে দেয়।ছবির ক্যাপশনে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘গ্রেস, চার্ম, অ্যান্ড আ টাচ অব রয়্যালটি’, অর্থাৎ, লাবণ্য, আকর্ষণ এবং রাজকীয়তার এক অপূর্ব ছোঁয়া।মিমের এই ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। নেটিজেনরা মন্তব্য ঘরে প্রিয় তারকার এই স্নিগ্ধ-রাজকীয় রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের মুকুট জয়ের মাধ্যমে শোবিজে পা রাখা বিদ্যা সিনহা মিম দীর্ঘ সময় ধরে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। একই প্ল্যাটফর্মের এবারের আয়োজনের জুরি বোর্ডে ছিলেন অভিনেত্রী। এবারের আসরের গালা ডে তে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন মিম। ব্যস্ততার মাঝেও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান; সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব থাকেন এই তারকা। আর মাঝে মাঝে এমন নজরকাড়া লুকে ধরা দিয়ে ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ান।
জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এ বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। ৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তারকাখচিত এই আয়োজনে বর্ণিতার হাতে বিজয়ীর ট্রফি তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান এবং লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। মুকুটের পাশাপাশি বর্ণিতার হাতে তুলে দেওয়া হয় সোয়ারোভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ট্রফি; সেই সঙ্গে একটি বিলাসবহুল গাড়িও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এবারের আসরে ফার্স্ট রানার আপ নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম এবং সেকেন্ড রানার আপের শিরোপা জিতেছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে এই তিনজনের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছিলেন খুলনার নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা এবং ঢাকার তিস্তা পাল। পাঁচ প্রতিযোগীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিচারকদের রায়ে সেরার তালিকায় জায়গা করে নেন তারা।সাত বছর পর এই আয়োজনটি ফিরে আসায় শুরু থেকেই সাধারণ দর্শক ও শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সেরা দশ এবং পরবর্তীতে সেরা পাঁচ প্রতিযোগী চূড়ান্ত লড়াইয়ের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে সাজানো হয়। শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রতিযোগীদের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, স্টাইল সেন্স এবং কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।গ্র্যান্ড ফিনালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ, উৎসবের আমেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে আয়োজন করেছে ‘দারাজ বৈশাখী মেলা’। দেশজুড়ে অনলাইন ক্রেতাদের মাঝে বাংলা নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ১০ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে এই ক্যাম্পেইনটি চলবে ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত। ক্যাম্পেইন চলাকালীন থাকছে ৮০% পর্যন্ত ফ্ল্যাশ সেল, এক্সক্লুসিভ ভাউচার এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা, যা বাংলা নতুন বছরের কেনাকাটাকে করবে আরও আনন্দদায়ক।দারাজ বৈশাখী মেলায় ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ফ্যাশন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, এফএমসিজি এবং লাইফস্টাইলসহ সব ধরণের ক্যাটাগরিতে থাকছে বিশাল অফার। ফলে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনাকাটার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।ক্যাম্পেইনটি শুরু হচ্ছে ১০ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিশেষ ফ্ল্যাশ ভাউচারের মাধ্যমে, যেখানে থাকছে ৯% পর্যন্ত ছাড়। গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ৭৪৯ টাকার কেনাকাটায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং ৫,৯৯৯ টাকার কেনাকাটায় ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাউচার সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়াও ক্যাম্পেইন চলাকালীন সাইট এবং ক্যাটাগরি ভেদে নিয়মিত বিরতিতে আরও ভাউচার উন্মুক্ত করা হবে। গ্রাহকদের জন্য থাকছে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়ের ‘হট ডিলস’, ৮০% পর্যন্ত ছাড়ের ‘মেগা ডিলস’ এবং নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা।পুরো ক্যাম্পেইন জুড়ে থাকছে থিম ভিত্তিক বিশেষ দিন: শনিবার ‘চয়েস ডে’, রবি ও সোমবার ‘ফ্যাশন ফরোয়ার্ড ডে’ এবং মঙ্গলবার ‘ইলেকট্রিক্যাল টিউজডে’। এই বিশেষ দিনগুলোতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্যে থাকছে কিউরেটেড শপিং অভিজ্ঞতা ও বিশেষ অফার।দারাজ বৈশাখী মেলায় থাকছে বিশেষ ‘সুপার ব্র্যান্ড ডে’; যেখানে ১২ এপ্রিল ‘ইউনিলিভার’ এবং ১৪ এপ্রিল ‘ডেটল’ বিশেষ মূল্যছাড় প্রদান করবে। পাশাপাশি দারাজের “এভরিডে লো প্রাইস” নিশ্চিত করতে দারাজ চয়েস চ্যানেলে থাকছে বিশেষ অফার- ৩টি পণ্য কিনলে ডেলিভারি ডিসকাউন্ট এবং ৫টি পণ্য কিনলে ১টি ফ্রি গিফটসহ ডেলিভারি ডিসকাউন্ট।পেমেন্ট সুবিধা বৃদ্ধিতে দারাজ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপ করেছে। নগদ ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। দারাজ-ইবিএল কো-ব্র্যান্ড কার্ডহোল্ডাররা ১৫% পর্যন্ত, অন্যান্য ইবিএল কার্ডহোল্ডাররা ১২% পর্যন্ত এবং সাউথইস্ট ব্যাংক কার্ডহোল্ডাররা ১২% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া ইবিএল জিপ-এর মাধ্যমে ১২ মাস পর্যন্ত ০% ইএমআই সুবিধা থাকছে।এবারের দারাজ বৈশাখী মেলায় এক্সক্লুসিভ প্ল্যাটিনাম পার্টনার হিসেবে রয়েছে ডেটল, হায়ার, হিমালয়া এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে ম্যারিকো এবং সিলভার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইমামি ও গোদরেজ।নতুন বছরের এই অফারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন দারাজ বৈশাখী মেলা পেজ অথবা ডাউনলোড করুন দারাজ অ্যাপ।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট আমদানি নেই। বাজার খুঁজে কোনো কার্পেট পাওয়া না গেলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পার্সিয়ান বা ইরানি কার্পেট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যবর্তী দেশ হয়ে আসা এই পণ্য বিলাসবহুল ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।বাংলাদেশের কার্পেট বাজারের বার্ষিক বিক্রয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। এই বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর, যেখানে ইরানি কার্পেটের অংশ খুবই ছোট। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর জানুয়ারি ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে বাংলাদেশের আমদানি অত্যন্ত সীমিত। ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল শূন্য। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে সামান্য আমদানি হয়েছে, তা ছিল যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল পণ্যের জন্য। কার্পেট এই তালিকায় ছিল না।জাতিসংঘের কমট্রেড তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ইরান থেকে বাংলাদেশে কার্পেট রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৫১০ ডলার, যা ফেল্ট ফ্লোর কভারিংসের জন্য। ২০১৪ সালে নটেড কার্পেট রপ্তানি ছিল মাত্র ২ হাজার ৮২০ ডলার। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ও বাড্ডা লিংকরোড এলাকায় কার্পেটের বিভিন্ন দোকানে সরেজমিনে গিয়ে ইরানি কার্পেট বিক্রি হতে দেখা যায়নি। কার্পেট ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এখন আর ইরানের কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না।এলিফ্যান্ট রোডের মিঠু কার্পেটসের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করা যায় ন। আর তা ছাড়া ইরানি কার্পেট অনেক দামি। সারা বছরে বা ছয় মাসে একটা দুটো বিক্রি হয়। তাই আমরা ইরানি কার্পেট বিক্রি করি না।’মিশু কার্পেটসের ব্যবস্থাপকও জানান, তারা ইরানি কার্পেট আমদানি বা বিক্রি করেন না। এ ছাড়া আরাফাত কার্পেটস, সারমানস কার্পেটস, পনির কার্পেটস, মোরেশদ কার্পেটস ও নিউ রুপসী কার্পেটসের শোরুমের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, তারাও ইরানি কার্পেট বিক্রি করেন না।গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে গিয়েও জানা যায় সেখানকার কার্পেট ব্যবসায়ীরা ইরান থেকে কোনো কার্পেট আমদানি করেন না। শুধু একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের কাছে মাত্র একটি ইরানি কার্পেট আছে।তবে অনলাইনে কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে ইরানি কার্পেট বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম আলাদিন কার্পেটসবিডি। ফেসবুকে তাদের ৫৩ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা পার্সিয়ান ও তুর্কি হ্যান্ডমেড কার্পেট বিক্রি করে। ইসফাহান, কাশান এবং তাবরিজ অঞ্চলের কার্পেট তাদের প্রধান পণ্য। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিক্রি পরিচালনা করে।প্রতিষ্ঠানটির হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তাদের শোরুম মূলত দুবাই থেকে পরিচালিত হয়। সেখান থেকে তারা অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশে কার্পেট সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মধ্যে ফ্রি ডেলিভারির সুবিধাও রয়েছে।বেডিং বিডি নামের আরেকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ‘ইরানি কার্পেট’ নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরি রয়েছে। তারা দাবি করে যে এসব কার্পেট শতাব্দী প্রাচীন পার্সিয়ান ঐতিহ্যের অংশ। গ্রাহকদের কাছে এগুলোকে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রিমিয়াম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আলমেইডা রাগসও বাংলাদেশে অনলাইনে কার্পেট বিক্রি করে। পার্সিয়ান ১২০০ রিড কালেকশন তাদের বিশেষ পণ্য।ইউবাই বাংলাদেশ ও দারাজ এই দুটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আন্তর্জাতিক বিক্রেতাদের মাধ্যমে পার্সিয়ান কার্পেট সরবরাহ করে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য পাওয়া যায়।বাংলাদেশে কার্পেট ক্রেতাদের ধরন সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে প্রধানত ধনী ও উচ্চবিত্ত মানুষরাই পার্সিয়ান কার্পেট কিনতেন। তবে গত এক দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কার্পেট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন গৃহসজ্জার অংশ হিসেবে কার্পেট কিনছেন।বৈশ্বিক পর্যায়েও ইরানের কার্পেট শিল্প ভয়াবহ পতনের মুখে পড়েছে। তিন দশক আগে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে তা বর্তমানে ৪০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।ইরানের চেম্বার অব কমার্সের কার্পেট ও হস্তশিল্প কমিশনের চেয়ারম্যান মরতেজা হাজি আগামিরি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইরান ফোকাসকে বলেন, গত ছয় বছর ধরে রপ্তানি ১০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। তিনি এটিকে কার্যত শূন্যের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি তাদের আন্তর্জাতিক বাজার হারিয়েছে।বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইরানি নকশার কার্পেট উৎপাদন করছে।ইরানি কার্পেট ব্যবসায়ী হামেদ নবিজাদেহ জানান, ইরান এখন নিজ দেশেও বিদেশি কার্পেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়েছে। ভারত, তুরস্ক এবং চীন থেকে আমদানি করা কার্পেট স্থানীয় বাজারেও বিক্রি কমিয়ে দিচ্ছে।চীন, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান কম খরচে ইরানি ডিজাইনের কার্পেট তৈরি করছে। তারা বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে বাংলাদেশে, দামের প্রতি সংবেদনশীল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
তথ্যের ভিড়ে সত্য খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস মানুষকে একটু থেমে ভাবতে, দেখে-শুনে যাচাই করতে ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস ২ এপ্রিল। এই দিনের মূল বার্তা-ফ্যাক্ট-চেকিং খুবই জরুরি। যদিও এই দিনটি বছরে একদিন পালিত হয়, কিন্তু আসলে এটি সারা বছর প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত।পাড়ার গল্প থেকে ভাইরাল ভিডিও—এখন তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই কিছু শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবসের ইতিহাসআন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং দিবস প্রথম শুরু হয় ২০১৬ সালে। এর লক্ষ্য ছিল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাধারণ মানুষ সবাই এই দায়িত্বের অংশ। এই উদ্যোগটি একটি বৈশ্বিক ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শুরু হয়, যা তথ্য যাচাইয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করে। এই দিবসটি ২ এপ্রিল পালন করা হয়, যা ১ এপ্রিলের পরের দিন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, এপ্রিল ফুলের মজা শেষ হলে এখন সময় তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার।বর্তমানে তথ্য খুব দ্রুত ছড়ায়। আগে গুজব সীমিত থাকলেও এখন তা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক সময় দ্রুততা ও আবেগকে গুরুত্ব দেয়, যা সঠিক যাচাইয়ের পথে বাধা হতে পারে। এই কারণে এখন অনেক সাংবাদিক, গবেষক ও সংস্থা ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কাজে যুক্ত।এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাক্ট-চেকিং শুধু বিশেষজ্ঞদের কাজ নয়। আমরা সবাই এতে ভূমিকা রাখতে পারি। একজন মানুষ যদি ভুল তথ্য শেয়ার না করে, তাতেই অনেক ক্ষতি কমানো সম্ভব। আবার কেউ ভদ্রভাবে ভুল ধরিয়ে দিলে অন্যরা নতুন করে ভাবতে পারে।ফ্যাক্ট-চেকিং মানে সন্দেহপ্রবণ হওয়া নয়। এটি সত্যকে সমর্থন করা, ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সচেতন আলোচনা গড়ে তোলার একটি উপায়।নতুন প্রযুক্তির কারণে এখন ভুয়া ছবি, অডিও বা ভিডিও তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে। তাই তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।লক্ষ্য সবারকে বিশেষজ্ঞ বানানো নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে একটি সহজ অভ্যাস তৈরি করা। যেমন প্রশ্ন করা, আপনি কীভাবে জানেন। এতে সত্য শুধু দেখানোর বিষয় না হয়ে বাস্তবভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আস্থার নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ৯০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি নিয়ে এলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্মার্ট ডিভাইস ব্র্যান্ড অপো। দেশের প্রথম ও একমাত্র ব্র্যান্ড হিসেবে এই সুবিধা নিয়ে আসা হলো। এবার এই ৯০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির কারণে ক্রেতারা একদম নিশ্চিন্তে তাদের ডিভাইস ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। গত ০১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা অপোর বাংলা নববর্ষ লটারি ক্যাম্পেইন ২০২৬ উপলক্ষে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পহেলা বৈশাখের উদযাপনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে নিয়ে আসা এই ক্যাম্পেইনে বিক্রয়োত্তর নিশ্চয়তার পাশাপাশি, আকর্ষণীয় পুরস্কারের সুযোগও থাকছে।অপোর একাধিক জনপ্রিয় স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এই অফারটি প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে অপো এ৬এক্স, অপো এ৬কে, অপো এ৬, অপো এ৬এস প্রো, অপো রেনো১৪ ফাইভজি ও অপো রেনো১৫ এফ ফাইভজি। ফলে, ক্রেতারা এখন তাদের পছন্দ অনুযায়ী ডিভাইস কেনার পাশাপাশি, অতিরিক্ত সুবিধাও উপভোগ করতে পাবেন। প্রথম দিন থেকেই নিশ্চিন্ত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ক্রেতাদের জন্য থাকছে ৯০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি।এই উদযাপনকে আরও আনন্দময় করতে, ক্রেতারা একটি সহজ ও আকর্ষণীয় ডিজিটাল লটারিতে অংশনেওয়ার সুযোগ পাবেন। ডিভাইস কেনার পর ব্যবহারকারীরা অনলাইনে তাদের তথ্য জমা দিয়ে সাথেসাথেই জানতে পারবেন তারা কোন পুরস্কার জিতেছেন। আকর্ষণীয় পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ও’লাইক এয়ারবাডস, এলিট ব্যাকপ্যাক, অপো টি-শার্ট, অপো ক্যাপ ও টপপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০% ডাউন পেমেন্টে কার্ডলেস ইএমআই সুবিধা। এছাড়াও, অপো এ৬কে ব্যবহারকারীরা পাবেন আরও অতিরিক্ত ২ বছরের ওয়ারেন্টি।এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কেবল স্মার্টফোন নয়; বরং আস্থা, যত্ন ও উদযাপনের ওপর ভিত্তি করে ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে চলেছে অপো।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।