ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২০ মে) সোয়া চারটার দিকে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের।ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।সরাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খবব পেয়ে মরদেহ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে সরাইল দমকল বাহিনীর সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকে গ্যাস জমে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া কিছু এখনই বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
ওমানে এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের চার ভাইয়ের মরদেহ নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।বুধবার ( ২০ মে) সকালে ১১ টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে হয় জানাজা।এর আগে ওমান থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।স্বপ্ন ছিল ওমান থেকে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে চার ভাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসের মাটিতে এক রাতেই নিভে গেল সব স্বপ্ন।ফিরে এসেছে তারা। তবে, অ্যাম্বুলেন্স করে, নিজ বাড়িতে, নিথর দেহে। শেষ যাত্রায়ও এক সাথে সঙ্গী ছিল চার ভাই। এরও আগে মঙ্গলবার রাতে প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে অ্যাম্বুল্যান্সে মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে বুধবার ভোরে নিয়ে আসা হয়। চার ভাইকে এক নজর দেখার জন্য গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়। একসাথে চার ভাইয়ের মৃত্যু কোনো ভাবেই মানতে পারছেন না এলাকাবাসী ও স্বজনরা। পাশাপাশি রাখা চারটি লাশবাহী খাটিয়া ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অসংখ্য মানুষ। কারও চোখে পানি, কেউ আবার নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজা পাড়ায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।বুধবার সকালে ১১ টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনিই জানাজার নামাজ পড়ান। তবে জানাজার আগে উপস্থিত সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে শুধু বলেন, আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। জানাজা শেষে এক সাথে চার ভাইকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এলাকাবাসী মো. ইসমাইল বলেন, ১২ বছর আগে মেজো ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা ওমানে দুটি গাড়ি ওয়াশিংয়ের ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন।কয়েক বছর আগে তারা জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরি শুরু করেন। তাদের মধ্যে দুজন কিছুদিন আগে বিয়ে করেছিলেন। মেজো ভাই বিদেশে যাওয়ার মাত্র আট মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সুখের সংসারটা শেষ হয়ে গেল।রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, চার ভাইয়ের মরদেহ ভোরে বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা ও দাফনের জন্য সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল।সরকারি নিয়ম অনুসারে নিহত প্রবাসীরা প্রতিজন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে জানিয়ে মো. নাজমুল হাসান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত এই টাকা উনাদের পরিবারকে দেয়া যায়। এই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ এনাম মাকে নিয়ে লালানগরের বাড়িতেই থাকেন। বড় দুই ভাই রাশেদ ও সাহেদ বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের পরিবার রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতেই থাকে। এদের মধ্যে সাহেদ সাত মাস আগে বিয়ে করে ওমানে গেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনায় দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও স্থানীয় সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন চার ভাই। গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়।
বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্তৃক ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা উস্কানিমূলক, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার (২০ মে) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে গৎবাঁধা মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ও গণমুখী ইসলামী দলের বিরুদ্ধে ন্যাক্কারজনকভাবে কুৎসা রটানোর পথ বেছে নিয়েছেন।’মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন ‘আমরা নাকি ধর্মের নামে রাজনীতি করি বা মিথ্যা বলি।’ অথচ দেশবাসী ভালো করেই জানেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও প্রকাশ্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আমরা ধর্ম নিয়ে কখনো কোনো ধরনের হীন ব্যবসা বা চাতুরীর আশ্রয় নেই না। বরং ধর্ম নিয়ে প্রকৃত ব্যবসা ও ভণ্ডামি করে বিএনপি নিজেই। সারা বছর তাদের বড় বড় নেতাদের নামাজের কোনো খবর থাকে না, অথচ নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই তাদের গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি চড়ে, হাতে তসবিহ দেখা যায় এবং আতর মেখে মসজিদে ঢুকতে দেখা যায়। জনগণের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই সস্তা ও ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনীতি বিএনপির জন্যই বেশি প্রযোজ্য, জামায়াতের নয়।”তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অমূলক দাবি করেছেন ‘এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কোনো দিন ক্ষমতায় বসাবে না।’ উনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একটি দল। অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক জনতা জামায়াতকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে এবং আমাদের মন্ত্রীরা সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির স্থাপন করেছেন। জনগণের এই রায়কে যারা অস্বীকার করে, তারা আসলে গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না।ঠাকুরগাঁওয়ের সভায় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার হীন উদ্দেশে যে সস্তা নাটক তিনি মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করেছেন, তা তার মতো একজন সিনিয়র রাজনীতিকের কাছে কখনো কাম্য নয়। অপপ্রচার চালিয়ে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না।মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে তিনি যে পুরোনো ও অসত্য বয়ান দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতে ইসলামী সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মিথ্যা এবং কুৎসার ওপর ভিত্তি করে কখনো টেকসই রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হবে সত্য, সততা এবং জনকল্যাণমূলক আদর্শের উপর ভিত্তি করে, যা জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে জামায়াতের বিরুদ্ধে অসত্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করার এবং এ ধরনের অসত্য মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ জানানো হয়েছে। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুর ১ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশ জানায় সাংবাদিকরা।ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারি শারমিন রহমান সরকারের প্রতি জরুরি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ঈদযাত্রাকালীন রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এছাড়াও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়।সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যাক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনসহ বাসটার্মিনাল থেকে যাতে ফিটনেসবিহীন বাস বের হতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহŸান জানান।দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোলপ্লাজায় বা ব্রিজের উপর গাড়ির লম্বা লাইন হয় এবং এই জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিরসেন টোলপ্লাজায় বুথ বাড়ানো দরকার।দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে অনেক আইন প্রণয়ন হলেও সেসব আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনেও এমন কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং রোডক্র্যাশ কমিয়ে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, গণমাধ্যমে সবসময় রোডক্র্যাশের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু কেন রোডক্র্যাশ হলো? কারণ কি? এগুলো বেশিরভাগ সংবাদে থাকেনা বা এর পরবর্তী ফলোআপ প্রতিবেদনও থাকেনা। তাই যেকোন রোডক্র্যাশের ফলোআপ প্রতিবেদন থাকা জরুরী।সভার সঞ্চালক দৈনিক মানবজিমনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির না, এটি সকলের দায়িত্ব, সমন্বিত উদ্যেগ এবং গণমাধ্যকেও এই সমন্বিত উদ্যেগের অংশ হতে হবে।এছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটি বিশেষভাবে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন, বাম পাশের লেন মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য সুনিদৃষ্ট করা ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।সেইফ সিস্টেমেরে আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন যত দ্রুত প্রণয়ন হবে এবং যত দ্রুত এর কঠোর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারবে। সরকারের পক্ষে তত দ্রুত সড়কের এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হবে। তাই সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি ঈদ যাত্রাসহ সর্বদা সকলের জন্য নিরাপদ ও আরো আনন্দের করে তোলা সরকারের প্রধান করনীয় হওয়া উচিত।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।বুধবার (২০ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৪০১ জন।১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন।এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ১২৮ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪১ হাজার ১২০ জন।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।বুধবার (২০ মে) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত সেক্রেটারি এসব বলেন। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রতিবাদ এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে এ সমাবেশ হয়।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি দলের নেতাকর্মীদের যৌন লালসার কারণে দেশের নারী ও শিশুর জীবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা এতটাই বেড়েছে যে, এতে বোঝা যায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সমাবেশে সাম্প্রতিক শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘রামিশা হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় এড়িয়ে সরকার অতীতের ব্যর্থতার কথা বলে বর্তমান বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বড় ব্যর্থতার দায়ে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন। কিন্তু দেশে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা উপেক্ষা করা হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বলা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ আরও বাড়বে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দক্ষিণ গেটে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। জেলার খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। তবে বাজারে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ খামারি ও বিক্রেতারা। ক্রেতাদের তুলনায় গরুর সংখ্যা বেশি থাকায় দরপতনের অভিযোগ করছেন তারা। একই সঙ্গে ভারত থেকে গরু আসতে পারে—এমন আশঙ্কাও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।লক্ষ্মীপুর সদর গরুর বাজারসহ রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী, কেরোয়া, চরমোহনা এবং পৌর শহরের বিভিন্ন অস্থায়ী গরুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন খামারিরা। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গরু বিক্রি করতে পারছেন না। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করছেন।রায়পুর উপজেলার স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, প্রায় এক বছর ধরে একটি গরু লালন-পালন করতে তার অনেক খরচ হয়েছে। গরুর খাবার, ওষুধ ও শ্রমিকের ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে খড়, ভুসি, ভুট্টা ও প্রস্তুতকৃত খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালন এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, “যে গরুর পেছনে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সেখানে ক্রেতারা ১ লাখ ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি বলছেন না। এতে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আরেক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “বাজারে গরু বেশি, কিন্তু ক্রেতা কম। অনেকেই মনে করছেন ভারত থেকে গরু আসবে, তাই এখন দাম কম বলছেন। এতে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানির জন্য লক্ষ্মীপুর জেলায় ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা রয়েছে ৮৯ হাজার ২১৫টি পশুর। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ২৬২টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ছোট-বড় খামারে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হয়েছে।রায়পুর উপজেলার খামারি নেয়ামত উল্লাহ জানান, গত কয়েক বছরে গরুর খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আগে যে খাদ্য কম দামে পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে গরুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে গরুর দামও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে। কিন্তু সেই দাম দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। তাদের দাবি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষায় বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা প্রয়োজন।বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে দেশীয় খামারিরা কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু বাজারে গুজব ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় দাম ওঠানামা করে। এ অবস্থায় খামারিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।রায়পুর উপজেলার “বাহার আলী মোল্লারহাট” গরুর বাজারে আসা ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, “গরুর দাম এখনও অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তাই অনেকে অপেক্ষা করছেন। ঈদের আরও কাছাকাছি গেলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “লক্ষ্মীপুরে চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। বাইরে থেকে যাতে কোনো পশু না আসতে পারে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটে ২০টি মেডিকেল টিম কাজ করবে।”অন্যদিকে কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার জানান, লক্ষ্মীপুরে ২০টি স্থায়ী ও ৭০টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি টহল পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা হাটের সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন।তবে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারিভাবে স্থানীয় খামারিদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা আরও উৎসাহিত হবেন। অন্যথায় লোকসানের কারণে অনেকেই ভবিষ্যতে গরু পালনে আগ্রহ হারাতে পারেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।আজ বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বুধবার (২০ মে) এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে।বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) বলেন, বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এ মামলা করেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এব ব্যবসায়ী।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। তার বক্তব্যের জের ধরে গড়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলন, যা অল্প সময়েই লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে।শুক্রবার (১৫ মে) সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা চাকরি পায় না বা কোনো পেশায় জায়গা করতে পারে না। তারা কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত হয়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। খবর আল জাজিরার।পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার মন্তব্য সব তরুণদের উদ্দেশে ছিল না। তবে বক্তব্যটি ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক বিভাজনে ক্ষুব্ধ জেন-জি প্রজন্ম এটিকে অপমানজনক হিসেবে দেখছে।এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়?- আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।তিনি পরে দলটির ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট চালু করেন। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ব্যঙ্গাত্মকভাবে দলটির নাম রাখা হয়।মাত্র তিন দিনে দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য হয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ। বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যেও এর প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে।দলটির ঘোষণাপত্রে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে অভিযোগ করতে পারা।বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি হাস্যরসাত্মক উদ্যোগ নয়; বরং ভারতের তরুণ সমাজের হতাশা, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিকল্প খোঁজার প্রবণতার প্রতিফলন।ভারতে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ২৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির ওপরও চাপ বাড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।তাঁরা বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আয়োজিত “ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের মৌলিক ধারণা” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। আইইবির কেমিকৌশল বিভাগের উদ্যোগে বিকেল ৫টায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশের শিল্পখাতে—বিশেষ করে পোশাকশিল্পের রং করা, ধোয়া ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায়—বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয়। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে শিল্পে পানির ব্যবহার অনেক বেশি হওয়ায় একদিকে অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।তিনি বলেন, পানি পুনর্ব্যবহার, কম পানি ব্যবহারকারী প্রযুক্তি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অপচয় কমানো সম্ভব। টেকসই শিল্পায়নের জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায়ই সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং কার্যকর প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবির সভাপতি ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, প্রকল্পের সাফল্যের জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি প্রকল্পের বাস্তবতা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উপযোগিতা নির্ধারণ করা হয়।তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ও গবেষণা করলেও বাস্তবায়ন করে তুলনামূলক কম সময়ে। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনার তুলনায় বাস্তবায়নে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়, ফলে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, প্রকল্প পরিকল্পনার শুরুতেই বাস্তবসম্মত বাজেট ও সময়সীমা নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং ব্যয় বাড়ে।তিনি আরও বলেন, শিল্পখাতে পরিবেশ সুরক্ষায় অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন না থাকায় অপরিশোধিত বর্জ্য নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। টেকসই শিল্পায়নের জন্য পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের সময় যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, বাস্তবায়নের সময় তার সঙ্গে বড় ধরনের অমিল দেখা যায়। ফলে বারবার সময় ও ব্যয় সংশোধন করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে বাস্তবায়নকালে নির্ধারিত সময় ও বাজেট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেভরন বাংলাদেশের বেস বিজনেস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজার প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার ধর। তিনি বলেন, প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সময়, ব্যয়, গুণগত মান ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সালমা আখতার। সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাওকাত ফেরদৌস এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী।অনুষ্ঠানে আইইবি সদর দপ্তর ও ঢাকা কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।বুধবার (২০ মে) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত সেক্রেটারি এসব বলেন। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রতিবাদ এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে এ সমাবেশ হয়।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি দলের নেতাকর্মীদের যৌন লালসার কারণে দেশের নারী ও শিশুর জীবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা এতটাই বেড়েছে যে, এতে বোঝা যায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সমাবেশে সাম্প্রতিক শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘রামিশা হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় এড়িয়ে সরকার অতীতের ব্যর্থতার কথা বলে বর্তমান বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বড় ব্যর্থতার দায়ে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন। কিন্তু দেশে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা উপেক্ষা করা হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বলা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ আরও বাড়বে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দক্ষিণ গেটে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বন্যার ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।বুধবার (২০ মে) বিকেলে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু পদ্মা ব্যারাজ নয়, বর্তমান সরকার তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পও হাতে নেবে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নানা কথা বলতে পারেন, তবে সরকার বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে।”সরকারপ্রধান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে খাল খনন কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিস্তা পাড়ের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে হিমশিম খেতে হয়। ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।”গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, “বর্ষায় ভাঙনে ঘরবাড়ি হারাই, আবার শুষ্ক সময়ে নদী শুকিয়ে যায়। তিস্তার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।”এদিকে তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দাবি, অতীতে একাধিকবার তিস্তা মহাপরিকল্পনার আশ্বাস মিললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব একটা দেখা যায়নি। তাই এবার ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়বে, নদীভাঙন কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা টেস্টেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে টেস্টে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে এবার নতুন ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তরা। সিলেট টেস্টে জিতে পাকিস্তানকে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তিও গড়ল টাইগাররা।পঞ্চম দিনের সকালে পাকিস্তান যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করছিল, দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছিল টাইগার শিবিরে। প্রথম ঘণ্টা প্রায় পারই করে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সাজিদ খান। ব্যাটিংও করছিলেন টি-টোয়েন্টি স্ট্রাইলে। অবশেষে তাদের ৫৪ জুটিটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। স্লিপে ক্যাচ হন ২৮ রান করা সাজিদ।পরের ওভারে শরিফুল ইসলাম আউট করেন সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা রিজওয়ানকে। গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে ক্যাচ দেন ৯৪ রান করা রিজওয়ান। ১৬৬ বলের প্রতিরোধ গড়া ইনিংসে ১০টি বাউন্ডারি হাঁকান রিজওয়ান। তার আউটের পরই কার্যত জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন খুররম শেহজাদ। তাকে আউট করে ইনিংসে ৬ উইকেট পূরণ করেছেন তাইজুল। পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৫৮ রানে।৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। দিনের শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিং করতে থাকে সফরকারীরা। রান তুলছিল ওভারপ্রতি ছয়ের ওপর করে।এর আগে চতুর্থ দিন দলীয় ২৭ রানে নাহিদ রানার বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। আউট হওয়ার আগে করেন ৬ রান। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তার বিদায়েই শুরু পাকিস্তানের উইকেটের পতন। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইসও পারেননি ইনিংস বড় করতে। ৪৯ বলে দুই চারে ২১ রান করার পর লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন মিরাজের বলে। দলীয় ৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।লাঞ্চের আগে দুই উইকেট হারালেও হাল ধরেছিলেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। দুজন মিলে ৯০ রানের জুটিও পার করেন। অস্বস্তি শুরু হয় স্বাগতিকদের। তবে সেই অস্বস্তি দূর করেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম বাবর আজমকে ফিরিয়ে।৪৭ রান করা বাবর তাইজুলের বলে সাজঘরে ফেরেন। যদিও ভালো বলে আউট হননি তিনি। লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের হওয়ার পথে তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ১৩৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় সফরকারীদের। ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। বাবরের বিদায়ে ভাঙে শান মাসুদের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি।নাহিদ রানা যেন ত্রাসের নাম পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। দিনের শুরুতে উইকেট নেওয়ার পর তিনি ফেরান ৬ রান করা সৌদ শাকিলকেও। তাতে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওয়াইডিশ ইয়র্কারে ব্যাট ছুঁইয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দেন শাকিল। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন তিনি। যদিও তাতে কোনো লাভ হয়নি। তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ১৫৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় সফরকারীরা।এর পরপরই ৭১ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তাইজুল। শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৭১ রান করা শান। ১৬২ রানে ৫ উইকেটের পতন হয় পাকিস্তানের।চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলি আগা যেভাবে মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন, হারের ভয় পেয়ে বসেছিল বাংলাদেশকে। অবশেষে শেষ বিকেলে ২২৪ বলে ১৩৪ রানের প্রতিরোধগড়া জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে জয়ের সুবাস দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সালমান আগাকে বোল্ড করেন তাইজুল। ৭১ রানে সাজঘরে ফেরেন আগা। এরপর হাসান আলিকে (০) স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ ক্যাচ বানান তাইজুল।এর আগে, মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে শাসন করে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করে ৩৯০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ লিড নেয় ৪৩৬ রান। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য আসে ৪৩৭ রানের।
বিবাহিতা নারীদের উপর হওয়া নারকীয় অত্যাচারের বর্ণনা শুনলে যে কাউকে শিউরে উঠতে হয়! ধর্ম-বর্ণ কিংবা শ্রেণি নির্বিশেষে এই ব্যাধি যেন ক্রমেই জেঁকে বসছে সমাজে। এই ইস্যুতে এবার নারীদের পরামর্শ দিলেন ভারতের সংসদ সদস্য ও বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাউত।কঙ্গনা বরাবরই পিতৃতন্ত্রে ছক ভাঙার উদাহরণ গড়েছেন। বলিউডের খান-কাপুর হোক কিংবা রাজনীতির ময়দানে ডাকসাইটে ব্যক্তিত্ব, স্পষ্ট কথায় কাউকে ধরাশায়ী করতে কোনো সময়ই পিছপা হন না তিনি।এবার বিবাহিত নারীদের উপর বাড়তে থাকা নির্যাতনের হার নিয়ে সরব কঙ্গনা। গতকাল মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিবিবাহিত নারীদের নিয়ে নিত্যদিন কত খবর প্রকাশ্যে আসে। শিক্ষিত মেয়েরা অনেকেই হয়তো দমবন্ধ হয়ে আসা পরিবেশ থেকে উদ্ধার পেতে বাবা-মায়ের কাছে আকুতি করে। কিন্তু এই অসভ্য ভারতীয় সমাজের ইতিহাস রয়েছে বিবাহিত মেয়েদের পরিত্যক্ত করে দেওয়ার।’এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নারীরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন, তার জন্য একটি জরুরি পরামর্শও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কঙ্গনার কথায়, ‘নারীদের আমি যে পরামর্শ দিচ্ছি, সেটা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ডেটিং অ্যাপ দেবে না। আপনারা নিজেদের পেশা বা ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিন। আপনাদের জীবনের যে কোনো মানুষ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে। তবে সেটা যেন পেশাকে ছাপিয়ে না যায়।’এরপরেই মেয়েদের বিয়ে ও স্বাবলম্বী হওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, ‘পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার পরেই বিয়ের কথা ভাবুন। মনে রাখবেন, নিজেদের ‘হিরো’ বা রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাইরে থেকে কেউ আপনাদের উদ্ধার করতে আসবে না। আর স্বাবলম্বী হওয়াটা আপনার নিজস্ব পরিচয়। যেভাবে জীবনে বাঁচতে চান, নিজেদের জন্য ঠিক তেমন জীবনই গড়ে তুলুন।’
কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’১৭ মে রবিবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছে। বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। এরপর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কায়সার হামিদ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে কারিনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। মেয়ের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এতো মানুষ ভালোবাসে এটা আমার জানা ছিল না। তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।’এরপর মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’এর আগে রোববার রাতে ঢাকা শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা শেষ হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কারিনার নানা বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।প্রসঙ্গত, লিভারজনিত জটিলতায় কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় তাঁকে। পরে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা চালিয়ে যান। একই সঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নাটক ও ওটিটির জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
দেশে পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ। লাশ গ্রহণ করেছেন তার বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।আজ রোববার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়ি বনানীর বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মারা যান জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মৃত্যু হয় তার।বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসে কেন্দ্রীয় মসজিদে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে হবে দ্বিতীয় জানাজা। একই দিন রাত ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে কারিনার মায়ের দেয়া মসজিদের জায়গার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কারিনা কায়সারকে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত, পরে শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন এই তরুণ প্রতিভা।কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।
বছরটা যেন নিজের করে নিচ্ছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার ‘ফাদারল্যান্ড’ সিনেমাটি কুড়াচ্ছে দারুণ প্রশংসা। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি গড়তে পারেন অস্কারের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সান্দ্রা এবার কেবল একটি নয়, বরং চারটি অস্কার ক্লিপের দাবিদার। জার্মানির এই গুণী অভিনেত্রী ‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ দিয়ে আগেই নাম লিখিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এবার তিনি পা রেখেছেন হলিউডের বিশাল দুনিয়ায়। একাডেমি তাদের নিয়মে কিছু বদল আনায় এখন থেকে একজন শিল্পী একই বিভাগে একাধিক মনোনয়ন পেতে পারেন। আর সেই সুযোগেই সান্দ্রা এবার সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী— উভয় বিভাগেই দুটি করে মোট চারটি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রায়ান গোসলিংয়ের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় দাপুটে অভিনয়ের জন্য তিনি এখন পার্শ্ব অভিনেত্রীর দৌড়ে সবার আগে আছেন। বিশেষ করে হ্যারি স্টাইলসের গান গেয়ে সেই কারাওকে দৃশ্যে তিনি যা দেখিয়েছেন, তা সবাই মনে রাখবে অনেক দিন। আগামী অক্টোবরে তাকে দেখা যাবে টম ক্রুজের সঙ্গে ‘ডিগার’ সিনেমায়। যদিও এই সিনেমা নিয়ে এখনই খুব বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে পরিচালক ইনারিতুর আগের রেকর্ড বলছে এটি অস্কারের ঝুলিতে অনেক মনোনয়ন ভরবে। সেখান থেকে সান্দ্রার দ্বিতীয় পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ আগামীকাল ভারত থেকে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।তিনি জানান, আগামীকাল দুপুরে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এরপর বাদ আসর বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।কায়সার হামিদ আরও বলেন, সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় তাকে দাফন করা হবে। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন।
ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জানা নায়গান’ প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই পাইরেসি হওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিনেমার সহকারী সম্পাদক প্রশান্তসহ সেলভাম ও বালাকৃষ্ণান নামের দুই ব্যক্তি। সাইবার ক্রাইম বিভাগের দায়ের করা মামলায় তাদের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং অনেক আগে শেষ হলেও এখনও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩ এপ্রিল অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এটি অবৈধভাবে ফাঁস হয়ে যায়।এইচ. বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসবকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে সিনেমাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বার্তা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি আটকে দেয়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর কথা থাকলেও সেন্সর কমিটির এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা বাতিল করা হয়। ফলে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।সিনেমাটির প্রযোজক কে. ভেঙ্কট নারায়ণ বলেন, আমরা বর্তমানে সেন্সর সার্টিফিকেটের (সিবিএফসি) অপেক্ষায় আছি। ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই আমরা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেব। বিজয় স্যার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।উল্লেখ্য, ‘জানা নায়গান’ সিনেমাটি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সময় দেওয়ার লক্ষ্যে বিনোদন জগত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই ছবিতে বিজয় ছাড়াও অভিনয় করেছেন ববি দেওল, পূজা হেগড়ে, প্রকাশ রাজ ও গৌতম বাসুদেব মেননের মতো তারকারা।
দেশের বাজারে সোনার দাম টানা তিন দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ 2 হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকায় এসেছে। গতকাল ছিল দুই লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা।বুধবার (২০ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো হয়েছে।বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯৩ হাজার ৩৯টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা।ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধেরশেুরুর পর থেকে বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখি। এরপর মূল্য সমন্বয় দর উঠানামা করতে থাকে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৪৬৫ ডলারে এসেছে।এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাজুস। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে একধাপে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন “প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)”–এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।নতুন কমিটিতে ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তালুকদার পুনরায় সভাপতি এবং বাংলা টিভি ও সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি এম. আব্দুল মান্নান পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি নাসিম উদ্দিন আকাশ (দৈনিক সূর্যোদয়), সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছালাহউদ্দিন (দৈনিক ইনকিলাব), সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সিকদার (বিবিসি একাত্তর), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন মান্না (প্রবাসের প্রহর), দপ্তর সম্পাদক মইনুল ইসলাম তালুকদার (ডিবিসি নিউজ, আবুধাবি), প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক মানিক (৫২ টিভি), সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম (বঙ্গ টিভি), অর্থ সম্পাদক ওবায়দুল হক (দৈনিক দেশকাল), সহ-অর্থ সম্পাদক নুরুল্লাহ শাহজাহান খান (কে টিভি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুব সরকার (বিশ্ব বাংলা টিভি), তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাহেদ ছরোয়ার (কলম টিভি, কলম বিডি নিউজ)।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী রেজা (ঢাকা গেজেট), আব্দুল মান্নান (চট্টগ্রাম মঞ্চ), আলী রশিদ (নিউজ ২৪ চট্টগ্রাম), মো. আরমান চৌধুরী (দৈনিক আমার সময়) এবং আরশাদুল হক (দৈনিক সূর্যোদয় দুবাই)।সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে থেকে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, আরও তিনটি অত্যাধুনিক এনইভি, বিওয়াইডি সিল ৫, বিওয়াইডি সিল ৬ ও বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি নিয়ে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ উপলক্ষে ১৭ মে সোমবার ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের সড়কে আরও স্মার্ট, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর মোবিলিটি সল্যুশন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এ আয়োজন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং। এছাড়াও, আরও উপস্থিত ছিলেন সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আমিদ সাকিফ খান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রেতাবৃন্দ, ব্যবসায়িক অংশীদার, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।আয়োজনে মনোমুগ্ধকর রিভিল শো, প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন, কীনোট স্পিচ, গাড়ি উন্মোচন, মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনের পাশাপাশি, ৬০টি প্রি-অর্ডারকৃত বিওয়াইডি গাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য বিশ্বমানের এনইভি প্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।নতুন নিয়ে আসা বিওয়াইডি সিল ৫ একটি সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (পিএইচইভি) সেডান, যা বিওয়াইডির অত্যাধুনিক ডিএম-আই প্রযুক্তি ও ব্লেড ব্যাটারি দিয়ে চালিত। ১৫০০ সিসির শাওয়ুন হাই-এফিশিয়েন্সি ইঞ্জিনসমৃদ্ধ এই গাড়িটি ১৫৪ কিলোওয়াট কমবাইন্ড ম্যাক্সিমাম পাওয়ার ও ৩০০ নিউটন মিটার টর্ক প্রদান করে, যেখানে এর কমবাইন্ড ড্রাইভিং রেঞ্জ সর্বোচ্চ ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়াও, সেডানটিতে এডিএএস (অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম) সেফটি প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি এইচডি ক্যামেরা, ৬টি এয়ারব্যাগ, ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সুবিধা, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ও ১২.৮ ইঞ্চির ইন্টেলিজেন্ট ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম রয়েছে।সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) সেডান বিওয়াইডি সিল ৬ একবার চার্জে সর্বোচ্চ ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রাইভিং রেঞ্জ প্রদান করে। রেয়ার-হুইল ড্রাইভ সহ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট সিনক্রোনাস মোটর দিয়ে চালিত এই গাড়িটি ৯৫ কিলোওয়াট শক্তি ও ২২০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। মডেলটিতে আরও রয়েছে ডিসি ফাস্ট চার্জিং, এডিএএস, অ্যাপল কারপ্লে, অ্যান্ড্রয়েড অটো, লেদার সিট, পিএম২.৫ এয়ার ফিল্ট্রেশন ও বিওয়াইডির নিজস্ব ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি।বিওয়াইডির প্রিমিয়াম এসইউভি পোর্টফোলিওকে আরও সম্প্রসারিত করতে নিয়ে আসা নতুন বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি নিয়ে এসেছে অল-হুইল-ড্রাইভ সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভি অভিজ্ঞতা, যা সর্বোচ্চ ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পিউর ইলেকট্রিক রেঞ্জ প্রদান করে। এর পাশাপাশি, এতে ১৫০০ সিসির টার্বোচার্জড ইঞ্জিন রয়েছে, যা দীর্ঘ ভ্রমণে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিশ্চিত করে। গাড়িটিতে ১৫.৬ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, ইনফিনিটি প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম, প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড ও হিটেড সিট, ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সাপোর্ট, ৭টি এয়ারব্যাগ ও এডিএএসের মতো উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে, যা পরিবার ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রিমিয়াম ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং বলেন, “বাংলাদেশ বিওয়াইডির বৈশ্বিক এনইভি ভিশনের জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হচ্ছে। সিল ৫, সিল ৬ ও সিলায়ন ৬ এডব্লিউডির মাধ্যমে আমরা এমন উন্নত প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সেফটি ও টেকসই মোবিলিটি সল্যুশন নিয়ে এসেছি, যা ভবিষ্যতের পরিবহনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই গাড়িগুলো বাংলাদেশের ক্রেতাদের নিউ এনার্জি মোবিলিটি অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”এ বিষয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, “আজকের এই উদ্বোধন বাংলাদেশের এনইভি ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণে বিওয়াইডি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভিন্নধর্মী লাইফস্টাইল ও ড্রাইভিং চাহিদার জন্য আমরা বৈচিত্র্যময় গাড়ির অপশন নিয়ে এসেছি। হাইব্রিড এফিশিয়েন্সি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ইনোভেশন ও প্রিমিয়াম এসইউভি পারফরম্যান্স, নতুন এই লাইনআপ বাংলাদেশের স্মার্ট মোবিলিটির পরবর্তী বিবর্তনকে তুলে ধরছে।”নতুন নিয়ে আসা বিওয়াইডি সিল ৫-এর প্রথম ৫০০ ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাত্র। সম্পূর্ণ ইভি বিওয়াইডি সিল ৬ পাওয়া যাবে মাত্র ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম এসইউভি সেগমেন্টে বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাত্র; বিভিন্ন সেগমেন্টে ক্রেতাদের জন্য সর্বাধুনিক নিউ এনার্জি মোবিলিটি সল্যুশন নিশ্চিতে এ গাড়িগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। তিনটি মডেলেই এই খাতের শীর্ষস্থানীয় বিওয়াইডির ওয়ারেন্টি সুবিধা ও সর্বাধুনিক ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এনইভি বাজারে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতি ক্রেতাদের আস্থা আরও জোরদার করবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।আজ বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।