চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হবে।বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দীন হায়দারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই রুটিন প্রকাশ করা হয়।প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২ জুলাই শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।পরীক্ষার সময় ও বিন্যাসসূচিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী চলবে। এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) এবং সিকিউ (সৃজনশীল) উভয় অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।১০০ নম্বরের বিষয়: ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়: ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় পাবেন শিক্ষার্থীরা।সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাড়ে ৯টায় উত্তরপত্র বিতরণ করা হবে এবং ১০টায় দেওয়া হবে প্রশ্নপত্র। দুপুর ২টা থেকে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১টা ৩০ মিনিটে উত্তরপত্র বিতরণ করা হবে।পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনাপরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ড বেশ কিছু বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে:১. আসন গ্রহণ: পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।২. প্রবেশপত্র সংগ্রহ: পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।৩. পাসের নিয়ম: পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।৪. ঘড়ি ও ক্যালকুলেটর: পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) এবং কাটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।৫. মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ: পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না। কেবল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করার এবং উত্তরপত্র কোনো অবস্থাতেই ভাঁজ না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষার বিস্তারিত রুটিন সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে তা অবৈতনিক করা হবে। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত, যা অবৈতনিক।বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা করতে চান। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এটা করব ধাপে ধাপে।গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে ডানদিকে মোড় নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুন পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী এই অভিযান সারা দেশে পরিচালিত হবে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো সড়কে দুর্ঘটনা কমানো এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া (rolling stop) গ্রহণযোগ্য নয়। চাকা চলতে থাকলে সেটি আইন ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।এই নিয়ম ভঙ্গ করলে:কোরিয়ান ৬০,০০০ ওন জরিমানা- ১০ পয়েন্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সে কাটা হবেকর্তৃপক্ষ বলছে, এটি শুধুমাত্র ট্রাফিক নিয়ম নয়—এটি সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়।দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানগত বছর সারা দেশে ডানদিকে মোড় নেওয়ার সময় মোট ১৪,৬৫০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৭৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল পথচারী।গুরুত্বপূর্ণ বার্তাসরকার জানিয়েছে, আইন পরিবর্তন করা হয়নি—বরং আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে।একটি ছোট বিরতি (pause) অনেক বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পারে।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সরকারি নির্ধারিত ফি আদায়কে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত নার্সদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনদের কাছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধের অনুরোধ করেন কর্তব্যরত নার্স। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনরা নার্সদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে এলে আরও দুজন আহত হন।পরে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ফি আদায়ের মতো নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”মৌলভীবাজার সদর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, “পেয়িং বেডের নির্ধারিত ফি চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুইজন নার্সের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার ও কোটালীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সমান জারি করেছেন আদালত কোটালীপাড়া উপজেলার ৬ নং ঘাঘর কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ কে অবৈধভাবে ডেপুটেশন দেওয়ায়, সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বিবাদী করেন জেলা শিক্ষা অফিসার জ্যোৎস্না খাতুন, কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখড় রঞ্জন ভক্ত ছাড়াও কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিব হাসান মুন্সি, ঘাঘর কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডল, সহকারী শিক্ষক দিপক গাইন,সহকারী শিক্ষিকা সম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে । অভিযোগ টি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালত কোটালীপাড়া। ঐ ছয় আসামি কে আগামী ০৫/০৫/২৬ তারিখ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন, তা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার।স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ও একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্লেচার এ কথা বলেন।ফ্লেচারের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকির মতো সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি প্রতিটি ‘সম্ভাব্য স্বৈরাচারীকে’ একই ধরনের হুমকি এবং কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লেচারের অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত যা যুক্তরাজ্যকে একটি ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ফেলে দিয়েছে।ফ্লেচার বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য খাতে কাটছাঁট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখন বিভিন্ন সম্মেলনে যখন যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে নিজেদের ‘নেতৃস্থানীয়’ বলে দাবি করে, তখন উপস্থিতরা মুচকি হাসে।মানবিক বিষয় ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ওসিএইচএর প্রধান ফ্লেচার বর্তমানে মানবিক সহায়তা তহবিলের চরম সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।ফ্লেচার জানান, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, বরং আদর্শগত কারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের চাহিদার সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তারই ফল।ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে ফ্লেচার বলেন, সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকায় আমরা আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব অনুভব করব, যা আরও বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।ফ্লেচার আরও বলেন, এই যুদ্ধের প্রতিটি দিনের জন্য ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমার তৈরি করা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা’র পুরো লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই বেপরোয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহের কম সময়ের খরচ দিয়ে আমরা সেই অর্থায়ন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা তা পারছি না। হঠাৎ করেই এই ধারণাটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ‘আমরা সবকিছু উড়িয়ে দেব, আমরা তোমাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, তোমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেব’।এই ধরনের ভাষার স্বাভাবিকীকরণকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে ফ্লেচার বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী হতে চাওয়া ব্যক্তি, যারা আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের এই ধরনের ভাষা এবং কৌশল ব্যবহার করতে আরও সুযোগ করে দেয়।ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ককে একটি ‘চরম অনিশ্চয়তা বা রোলারকোস্টার রাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন ফ্লেচার। তবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমকে এটি বোঝাতে কিছুটা সফল হয়েছি যে জাতিসংঘ কেবল একদল অযোগ্য, অকেজো ও ক্লান্ত আমলাদের আস্তানা নয়।’যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করে ওসিএইচএর প্রধান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আবাসন ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি ট্রাম্প প্রশাসনে যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের বেশিরভাগই আবাসন ব্যবসা থেকে আসা। বিশ্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সব কাজ শেষ করার পর প্রক্রিয়ার শেষে করমর্দন করে। কিন্তু আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আগে করমর্দন করে দেখে যে ‘আমি কি এই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি?’ এবং তারপর বলে ‘চলুন চুক্তি করি’... এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কম আগ্রহী, তাই জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলে তা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবে না।ফ্লেচার আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত, তারা নিশ্চয়তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রক্রিয়া পছন্দ করি। আমাদের প্রোটোকল, মানচিত্র এবং পতাকার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। আমরা শৃঙ্খলা পছন্দ করি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, বিশৃঙ্খলা বেশি কার্যকর। তারা মনে করে অনিশ্চয়তা, প্রতিপক্ষ ও বন্ধুকে অপ্রস্তুত করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা বেশি ফলাফল পান। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়। ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করেন, তবে তাকে এর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হোক; তবে কেবল কথা না বলে কাজগুলো আসলে শেষ করা প্রয়োজন।ফ্লেচার আরও জানান, গর্ভপাত বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যদি নতুন কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করবেন কি না—এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না। প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত মেনে আমরা কি সেই টাকা নেব, এটা জেনেও যে তা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে? নাকি নেব না? শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।ফ্লেচারের দাবি, যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামোটি ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত। তার ভাষ্য, আমরা এখন একটি লেনদেনমূলক ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি যেখানে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখে না যার মাধ্যমে তাদের বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করা উচিত।বাজেট কাটছাঁটের ফলে এর প্রভাব বিশাল হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যদি কোনো সংস্থা বা এজেন্সির প্রধান হতাম এবং আমার ৫০ বিলিয়ন ডলারের সংস্থাটি যদি এই বছর ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত, তবে সম্ভবত এতক্ষণে আমি বরখাস্ত হতাম। আমার পরিসংখ্যানগুলো সুখকর নয়। একদিকে অর্থ কমে আসছে, অন্যদিকে প্রয়োজন বেড়ে বাড়ছে। এটি মূলত ব্যর্থতার একটি ধরন, তাই আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে।যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন কাটছাঁট অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠিন ছিল (কারণ অতীতে তারা তহবিলের ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করত), তবে পুরো ইউরোপজুড়েই এ সাহায্য কমছে। বিগত সময়ে মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে ব্যয় করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য কয়েক দশক ধরে এ ব্যয় করার বিষয়টি ছিল একটি পবিত্র দলীয় প্রতিশ্রুতি যা গত কয়েক বছরে ধুলোয় মিশে গেছে।ফ্লেচার বলেন, এই কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য, কিন্তু এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কারণ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশকেও একই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য প্রসঙ্গে ফ্লেচার আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত এবং গত ১০ বছর ধরে এটিই চলছে। একপর্যায়ে তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত সম্পদ যেমন: ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব, বিবিসি, সৃজনশীল শিল্প, প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির মতো জায়গাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেখানে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং যেখানে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত বিনয়ী হওয়ার প্রবণতা দেখাই। তবে এই মুহূর্তে শান্তভাবে দক্ষতা দেখানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।মানবতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে ফ্লোচার বলেন, গত তিন বছরে ১ হাজার জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন হামলার শিকার। আমরা হচ্ছি জরুরি সেবা সংস্থা, আমরা ফায়ার ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মতো যারা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে যাই। কিন্তু কেন জানি এটি এখন এমনই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে যে আমাদের বিপুল সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে। আবার যারা আমাদের হত্যা করছে, তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে ফ্লোচার বলেন, আমাদের কেবল সাধারণ কোনো বিবৃতি দেবেন না যে ‘মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত’, বরং ফোন তুলুন। যারা আমাদের মারছে, তাদের নাম ধরে ডাকুন; যারা এই কাজ করছে, তাদের অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বারাখওয়ানাত নামক জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তির নাম আবু নাসের শামীম। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।নিহত শামীম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও চার ছেলে রয়েছে। বিস্তারিত আসছে...
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার ৫৬৩ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সরকারি-বেসরকারি মোট ৫১টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। এদিকে হজে গিয়ে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।এদিকে এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা ও সৌদি আরবের সূত্রে হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ৭ হাজার ৮৫৫ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৫ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৮৭০ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ১৭ হাজার ৬৯৩ হজযাত্রী।এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত নইম উদ্দীন মন্ডল নামে একজন বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নইম উদ্দীন মন্ডলের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।এর আগে, গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করে।
ব্যক্তিগত তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ (পিডিএস) হালনাগাদ করতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার মাউশির উপপরিচালক মো. শওকত হোসেন মোল্যা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরাধীন এইচআরএম মডিউলের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত পিডিএস এর নতুন ভার্সনটিতে কারিগরি ও সফটওয়্যার সিস্টেম গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নতুন ফিচার সংযোজন করে গত ১৫ এপ্রিল টেস্ট সার্ভার থেকে লাইভ সার্ভারে দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের https://apps.emis.gov.bd লিঙ্কে প্রবেশ করে এইচআরএম মডিউলের অধীন ব্যবহৃত পিডিএস-এ সাম্প্রতিক ছবি সংযোজনপূর্বক তথ্য হালনাগাদ করার জন্য নিদের্শক্রমে অনুরোধ করা হলো।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। এজন্য সরকার নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলো পালন নিয়ে পরিপত্রে এ দিবসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আরেকটি পরিপত্র জারির মাধ্যমে এ সংশোধন এনেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।এতে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।এজন্য ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ১১ মার্চ জারি করা পরিপত্রের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় যথাস্থানে সন্নিবেশিত হিসেবে গণ্য হবে।উক্ত সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিপত্রে।সর্বশেষ গত ১১ মার্চ সরকার নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলো পালন নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করা হয়। সেখানে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের বিষয়টি ছিল না। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই দিবসের কোন স্বীকৃতি ছিল না।জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতা বিপ্লবের স্মরণে পালিত হয়। কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আমলে মূলত ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়। এই বিপ্লবের বিরোধী ও সমালোচক গোষ্ঠী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বিপ্লবীদের আক্রমণে খালেদ মোশাররফসহ আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর প্রতিবাদে এই দিনটিকে 'মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস' হিসেবে পালন করে।
ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্যের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এ আগ্রহের কথা জানান। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা ভুল তথ্য ও অপতথ্য রোধে ইউনেস্কোর ভূমিকা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।তিনি জানান, বর্তমানে অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের ওপর ইউনেস্কো বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।ইউনেস্কোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।তিনি প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইউনেস্কোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।ইউনেস্কো প্রতিনিধি এ বিষয়ে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানাও উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বারাখওয়ানাত নামক জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তির নাম আবু নাসের শামীম। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।নিহত শামীম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও চার ছেলে রয়েছে। বিস্তারিত আসছে...
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ছুরিকাঘাতে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুন বেগম (৬৫) ওই এলাকার মৃত ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্ত হেলিম মিয়ার সঙ্গে তার ভাই ও ভাতিজার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তার ভাই ও ভাতিজা পাশের বাড়িতে বদরুন বেগমের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হেলিম মিয়া ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে বদরুন বেগমসহ চারজন আহত হন।পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুন বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নান্দনিক ও জনপ্রিয় ব্রাজিলিয়ান তারকা রিকার্ডো কাকার জন্মদিন আজ। ‘ফুটবলের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিত এই সাবেক মিডফিল্ডার আজ ৪৫ বছরে পা রেখেছেন। তার অসাধারণ খেলোয়াড়ি দক্ষতা, সৌন্দর্যপূর্ণ ফুটবল স্টাইল এবং ব্যক্তিত্ব তাকে বিশ্বজুড়ে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে।২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি অর্জন করেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে ২০০২ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের অংশ হিসেবে তিনি ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দও উপভোগ করেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।ক্লাব ফুটবলে, বিশেষ করে এসি মিলানের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। সেই সময় তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের জায়গা পাকা করেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের তালিকায় স্থান পান। তার দৃষ্টিনন্দন ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং এবং গোল করার ক্ষমতা মিলানকে বহু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেয়।পরবর্তীতে তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন, তবে সেখানে ইনজুরির কারণে নিজের সর্বোচ্চটা ধারাবাহিকভাবে দেখাতে পারেননি। তবুও ক্লাবটির হয়ে তিনি ১২০টি ম্যাচ খেলে ২৯ গোল এবং ৩৯ অ্যাসিস্ট করেন, যা দলের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে ধরা হয়। মাদ্রিদের হয়ে তিনি লা লিগা এবং কোপা দেল রে শিরোপাও জিতেছিলেন।ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো সিটির হয়ে খেলেন এবং ৩৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান। মাঠের ভেতরে যেমন তিনি ছিলেন সৃজনশীল ও নান্দনিক, তেমনি মাঠের বাইরে তার বিনয়ী ও ভদ্র আচরণ তাকে ভক্তদের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছে।
তানজিন তিশা অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন সেন্স নিয়েও বেশ সচেতন। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই নিজেকে মেলে ধরেন নানা রূপে ও সাজে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একগুচ্ছ নতুন ছবি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সেখানে তার সাজ ও আভিজাত্য ভক্ত-অনুরাগীদের বেশ নজর কেড়েছে। বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা মাঝেমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন। কখনো অভিনয়ের প্রশংসা, আবার কখনো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের জেরে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় থাকেন এ তারকা। বর্তমানে তানজিন তিশা বিভিন্ন ইভেন্ট ও ফটোশুটে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর আগে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। যদিও এ নাটকটি ঘিরে তিশার বিরুদ্ধে একটি বিতর্কও দানা বেঁধেছিল। এদিকে ছবিতে দেখা গেছে, অভিনেত্রীকে একটি প্যাস্টেল শেডের কারুকাজ করা শাড়িতে। হালকা গোলাপি রঙের এ শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ফুল স্লিভ ব্লাউজ ও গলায় ভারি চকার তার লুকে এনেছে রাজকীয় আভা। কানের দুল আর খোঁপা করা চুল তার এই বিশেষ সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মেকআপেও ছিল তানজিন তিশার স্নিগ্ধতার ছাপ। গোলাপি আইশ্যাডো ও লিপস্টিকে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।পোস্ট করা ছবিতে আরও দেখা গেছে, অভিনেত্রীর নানা ঢঙে পোজ ছিল বেশ নজরকাড়া। কখনো বসে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে মিষ্টি হেসে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন তিনি। কোনো ছবিতে তার চোখের মায়াবী চাহনি দিতেও দেখা যাচ্ছে। নিজের এই লুক তানজিন তিশার কতটা পছন্দ হয়েছে তা বোঝা যায় তার দেওয়া ক্যাপশনেও। অভিনেত্রী ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন— এই সাজকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি। একই ফটোশুটের ছবি আরও একটি পোস্টে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন— কথায় নয়, কাজেই পরিচয়।তানজিন তিশার এ ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেই মুহূর্তেই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। অসংখ্য লাইক ও কমেন্ট করেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসায় মেতে উঠেন নেটিজেনরা। বেশ কয়েকজনের মন্তব্য এমন— দেখে সুন্দর, অনন্য লাগছে, শাড়িতে মানিয়েছে।
উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও আমেরিকা) বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেখানে মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ছবিটি ছাড়িয়ে গেছে এ যাবৎকালে আয়ের শীর্ষে থাকা সিনেমা ‘হাওয়া’-র লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’ ও বক্স অফিস ট্র্যাকার ‘কমস্কোর’। জানিয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহেই ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার আয় করে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে ৫৪টি থিয়েটারে প্রদর্শিত হওয়া সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে।এর আগে উত্তর আমেরিকার বাজারে ‘হাওয়া’ সিনেমাটি মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার আয় করেছিল; এবার তার রেকর্ড ভেঙেছে বনলতা এক্সপ্রেস।সিনেমাটির অভাবনীয় এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছেন। অন্যদিকে সিনেমার পরিচালক তানিম নূর দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য, তানিম নূর পরিচালিত ও বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই সিনেমাটি গেল শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে মোট ২২টি থিয়েটারে তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও শরীফুল রাজসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে হইচই প্রোডাকশন।
জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন নটিয়াল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা। তাই তার বিয়ের খবরটিও সামনে এসেছে অনেকটা নিভৃতেই।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একেবারে সাদামাটা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই শুভ আয়োজন। শোনা যাচ্ছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জুবিন, তিনি তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। তবে কনের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেননি এই গায়ক। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দেরাদুনের এই শিল্পী ২০১১ সালে ‘এক্স ফ্যাক্টর ইন্ডিয়া’ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেবল’ সিনেমার ‘এক মুলাকাত’ গানের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ‘জিন্দেগি কুছ তো বাতা’ এবং ‘কাবিল’এর টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে। পরবর্তীতে ‘লুট গায়ে’, ‘তুম হি আনা’ এবং ‘রাতা লম্বিয়া’র মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ‘শেরশাহ’ সিনেমার ‘রাতান লম্বিয়াঁ’ গানটি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রিয় গায়কের নতুন জীবনের জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আবারও ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রেম আর আট বছরের দাম্পত্য জীবন কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায়, রেডিটে একটি ভাইরাল পোস্ট থেকেই এই জল্পনার শুরু। সেখানে দাবি করা হয়, রণবীর ও দীপিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারেন এই তারকা দম্পতি।এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছে ভক্তদের মধ্যেও। বিশেষ করে তাদের কন্যা দুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি রণবীর বা দীপিকা কেউই।এই সিনেমা সাফল্যের সময় দীপিকার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রিমিয়ারেও তাকে না দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও পরে সমালোচনার জবাবে দীপিকা স্পষ্টই জানান, তিনি সিনেমাটি সবার আগেই দেখে ফেলেছেন।এদিকে তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে নাকচ করেন রণবীর নিজেই। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। সংসার জীবনে তারা ভালো আছেন।ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়—বাস্তবের সঙ্গে যার মিল অনেক সময়ই থাকে না।সব মিলিয়ে, ‘বাজিরাও-মাস্তানি’ জুটির সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সত্যিটা জানতে এখন অপেক্ষাই ভরসা।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদ আরও বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ১২৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ১২৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৪৫৯ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ হাজার ৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার।উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট ইস্যু এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বর্তমান সময়ে স্পেন সরকারের ঘোষিত বৈধকরণ কর্মসূচির আওতায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় কাগজপত্র প্রাপ্তিতে জটিলতা এই সুযোগকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।আমরা মনে করি, প্রবাসীদের এই সংকট কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৈধতা অর্জনের মাধ্যমে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা এবং কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে বহু প্রবাসী এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স নিম্নোক্ত দাবিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছে—১. স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরি ভিত্তিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।২. প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট ইস্যু কার্যক্রম চালু করতে হবে।৩. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানে অযথা হয়রানি, বিলম্ব ও অনিয়ম বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।৪. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।৫. দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, সময় অত্যন্ত সীমিত। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—তিন ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স বিশ্বাস করে, সরকার প্রবাসীদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একটি সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
সড়কে নিরাপদ ও সচেতন ড্রাইভিং নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্র্যান্ড ব্লিসবন্ড বাংলাদেশের বাজারে এনেছে তাদের সর্বাধুনিক মডেলের কার এক্সসরিজ বা গাড়ির যন্ত্রাংশ। এসব অতিপ্রয়োজনীয় এক্সেসরিজের মধ্যে রয়েছে ক্যামেরা, ওয়্যারলের চার্জিং, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, অ্যারোমা ডিফিউজার, ইনফ্ল্যাটরসহ বেশকিছু ডিভাইস। দেশের অন্যতম প্রযুক্তিপণ্য পরিবেশক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট এবং তাদের পার্টনার রিটেইল শপে পাওয়া যাচ্ছে গাড়ির এসব এক্সেসরিজ। প্রায় প্রতিটি ডিভাইসে পাওয়া যাবে ১৮ মাসের ওয়ারেন্টি সুবিধা। ব্লিসবন্ড কার ডিভিআর এফ১ব্লিসবন্ড কার ডিভিআর এফ১ উচ্চমানের ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা নিয়ে এসেছে। যাত্রাপথের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণে সক্ষম এ ডিভাইসটি গাড়ির অভ্যন্তরের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। এটি সামনের ও পেছনের ডুয়াল ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা দেয়। এতে রয়েছে ফোর-কে আলট্রা এইচডি ফ্রন্ট ক্যামেরা, ১০৮০পি রিয়ার ক্যামেরা, নাইট ভিশন, ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটি ও জিপিএস ট্র্যাকিং সুবিধা। জরুরি মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয় ভিডিও লক করার জন্য রয়েছে জি-সেন্সর। ব্লিসবন্ড কার ডিভিআর এক্স২৫ উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্লিসবন্ড কার ডিভিআর এক্স২৫ পরিষ্কার ভিডিও রেকর্ডিং এবং প্রশস্ত ভিউ অ্যাঙ্গেলের মাধ্যমে সড়কে পূর্ণাঙ্গ নজরদারি নিশ্চিত করে। যেকোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তথ্য সংরক্ষণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। টেকসই গঠন, ব্যবহারবান্ধব নকশা এবং ধারাবাহিক রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় নিরাপত্তাসচেতন চালকদের জন্য এটি হতে পারে নির্ভরযোগ্য ডিভাইস। কার ডিভিআর এ২০নতুন এই কার ডিভিআর এ২০ উন্নত নিরাপত্তা ও স্মার্ট ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৯.৬৬ ইঞ্চি এইচডি টাচস্ক্রিন, ফ্রন্ট ও রিয়ার ক্যামেরায় ফোর-কে ও টু-কে এইচডিআর রেকর্ডিং এবং ১৪০ ডিগ্রি আলট্রা-ওয়াইড ভিউ। নাইট ও রেইন ভিশন, জিপিএস, ওয়াই-ফাই ও ২৪ ঘণ্টা পার্কিং মনিটরিং সুবিধাও রয়েছে। ১৮ মাসের ওয়ারেন্টিযুক্ত এ ডিভাইসটি স্মার্ট সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।ওয়্যারলেস চার্জিং কার মাউন্ট জেকে ৬৮৬ব্লিসবন্ড ওয়্যারলেস চার্জিং কার মাউন্ট জেকে ৬৮৬ ড্রাইভিংয়ের সময় স্মার্টফোন ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এতে রয়েছে ১৫ ওয়াট ওয়্যারলেস ফাস্ট চার্জিং, শক্তিশালী ট্রায়াঙ্গুলার সাপোর্ট ও মেকানিক্যাল ক্ল্যাম্প। ইন্টেলিজেন্ট টেম্পারেচার কন্ট্রোল ও ৮ স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা ডিভাইসটিকে করে তুলেছে আরও নির্ভরযোগ্য। ৫.৪ থেকে ৭.২ ইঞ্চি স্মার্টফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ মাউন্টটি কমপ্যাক্ট ও স্থিতিশীল নকশায় তৈরি।স্মার্ট কার অ্যারোমা ডিফিউজার এডি০২গাড়ির ভেতরের পরিবেশ সতেজ রাখতে ব্লিসবন্ড এনেছে স্মার্ট কার অ্যারোমা ডিফিউজার এডি০২। এতে রয়েছে ন্যানো-স্কেল ফাইন মিস্ট প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক সুগন্ধ নিয়ন্ত্রণ সুবিধা। স্মার্ট সেন্সরের মাধ্যমে গাড়ি চালু-বন্ধের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে ডিভাইসটি। দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি এটি দুর্গন্ধ দূর করে। টাইপ-সি চার্জিং ও রিচার্জেবল ব্যাটারিযুক্ত এ ডিভাইসটি হালকা ও সহজে বহনযোগ্য।ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ভিসি-৫গাড়ির অভ্যন্তর পরিষ্কার রাখতে ব্লিসবন্ড এনেছে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ভিসি-৫, যা থ্রি-ইন-ওয়ান মাল্টি-ফাংশন সুবিধাযুক্ত। শক্তিশালী সাকশন ক্ষমতার পাশাপাশি এটি ব্লোয়ার ও পাম্প হিসেবেও কাজ করে। ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনযোগ্য নকশা ও ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবস্থায় সহজে ব্যবহারযোগ্য এ ডিভাইসটিতে রয়েছে ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। কমপ্যাক্ট ডিজাইন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফিল্টার থাকায় এটি দৈনন্দিন ব্যবহারে কার্যকর সমাধান।ফাস্ট ইনফ্লেটর এপি৫যাত্রাপথে কওনও কারণে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত টায়ার ইনফ্লেশন নিশ্চিত করতে ব্লিসবন্ড এনেছে ফাস্ট ইনফ্লেটর এপি৫। এতে রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ পিএসআই চাপের সক্ষমতা ও বিল্ট-ইন ডিজিটাল প্রেশার মনিটরিং। ৪০০০ এমএএইচ রিচার্জেবল ব্যাটারিযুক্ত ডিভাইসটিতে রয়েছে এলইডি লাইট, যা রাতে বা জরুরি অবস্থায় সহায়ক। হালকা ও বহনযোগ্য এ ইনফ্লেটরটি গাড়ি, মোটরসাইকেল, সাইকেল ও বলের জন্য সহজ প্রিসেট সুবিধা প্রদান করে।বাংলাদেশের বাজারে ব্লিসবন্ডের এসব ডিভাইসের পাশাপাশি আরও পাওয়া যাচ্ছে কার ফোন হোল্ডার, এয়ার পিউরিফায়ারসহ বেশ কিছু ডিভাইস।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।