লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৭ বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী কামাল হোসেনকে হারিয়ে ৩ মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বহু কষ্টে শাহিনুর বেগম সংসার টেনে নিচ্ছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে ওই সংসারে কালো মেঘ নেমে আসে। একে একে তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯) এবং মা শাহিনুরকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে বাসায় না থাকায় বেঁচে যান একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন (১৮)।সিফাত রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এখানে কর্মরত। সকালবেলা সিফাত তার বাসার অদূরেই কর্মস্থলে চলে যান।সিফাতের বরাত দিয়ে রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, সকালে সিফাত দোকানে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে তার মা ও বোনদের কুপিয়ে হত্যার খবর আসে। আমার দোকানের পেছনেই তাদের বাসা। লোকজন জড়ো হয়ে ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এদিকে একসঙ্গে মা ও তিনবোনের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সিফাত। প্রথমে ঘটনা শুনে বাসায় গিয়ে বুক চাপড়ে তিনি কান্নাকাটি করতে থাকেন। তার কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ধারণকৃত একটি ভিডিওতে তার গগনবিদারি কান্নার দৃশ্য দেখা যায়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে বণিক সমিতির নেতার বাসায় নিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে তাকে একবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে গাড়িতে নিয়ে এসে ফের বণিক সমিতির নেতার বাসায় রাখা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে সিফাতের বাবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তখন পরিবারের বড় মেয়ে রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমিতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। অন্যরা বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ালেখা করতেন। এছাড়া ছোট মেয়ে শিফা প্রায় দুই বছর বয়সী ছিলেন। এর মধ্যে বড় মেয়ে সায়মা এসএসসি পাস করে আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তির জন্য চেষ্টা করেন। সর্বশেষ কোথাও ভর্তি হননি তিনি। মেজো মেয়ে স্থানীয় লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। আর ছোট মেয়েও স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল।একমাত্র ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি দোকানে চাকরি নেন। সিফাত রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। নিহত সায়মার একসময়ের ক্লাসমেট প্রমি আক্তার বলেন, সাইমা মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বের হয়েছে। এর মধ্যে সে মেডিকেল ভর্তির জন্যও চেষ্টা করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। তবে ভর্তি হয়েছে কিনা জানি না।সিফাতের বরাত দিয়ে বণিক সমিতির নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, সিফাতের বাবা মারা যাওয়ার পর তা মা খুব কষ্টে সংসার চালিয়েছে। বছরখানিক ধরে সিফাত আমার এখানে কাজ করে। এখন তার তিন বোনসহ মাকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেটির আর কেউ নেই এ পৃথিবীতে। গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন কে আছে তা বলতে পারেননি তিনি।রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। পরিবারের একমাত্র ছেলে বেঁচে আছে। স্বজনদেরকে খবর দিতে বলা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বজনরা এসে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বুঝে নেবেন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রতন মজুমদার (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। তার বাড়ি শুনেছি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। তবে সঠিক ঠিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশেরও রফতানির সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে চীনের বেইজিংয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি।মাহদী আমিন বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে দৃঢ়ভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। ব্রিকসে যুক্ত করতে তারা সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে। তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। আমদানি ও রফতানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের সঙ্গে রফতানি বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব। চীনের যেমন বিনিয়োগ করার সুযোগ হয়েছে, আমাদেরও রফতানি করার সুযোগ রয়েছে।’ চীন রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইটিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ব্যাংক খাতেও তারা ভূমিকা রাখতে চায়। বাংলাদেশে অফিস খোলার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভিসা সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে চীনের মতো এতোবড় দেশ যেভাবে সম্মান করলো, আমরা মুগ্ধ হয়েছি। আমাদের আশা থেকেও বেশি পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং গর্ভনেন্সের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী।’ এদিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তাকে স্বাগত জানান। তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বহির্ভূতভাবে একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়েছিল। একই সভায় পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত। তাই নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না।এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের ১৩ জুন ৯৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেয়া আজীবন নিয়োগটি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ৯২তম সভার তারিখ (২০২৪ সালের ২০ জুন) থেকে অধ্যাপক ইমেরিটাস পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত বেতন-ভাতাদিও ফেরত দেয়ারও নির্দেশ রয়েছে অফিস আদেশে।
টানা আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমে সংযুক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানা যায়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের অনুপস্থিতি ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি খুবই অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। অপরাধীর কোনো দল নেই,আদর্শ নেই। সে তো শুধুই অপরাধী। তার কোনো ছাড় নেই। সমাজে আশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দমন করতে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। জনস্বার্থ বিনষ্টকারী এইসব অপরাধী আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে যাতে রক্ষা না পায়, সে ব্যাপারে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে তিনি মেঘনা থানার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কুমিল্লা-১ আসনের মেঘনা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মারুফ এসব কথা বলেন। ড.খন্দকার মারুফ জননিরাপত্তা ও সেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার দু:শাসন,জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে দেশের গণতন্ত্র,অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রপথিক হয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসাবে সন্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।মেঘনা উপজেলার এই সভায় ইউএনও মৌসুমী আক্তারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্য সচিব এম.এম মিজানুর রহমান,সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাহউদ্দিন সরকার ও দিলারা শিরীন প্রমুখ। সভায় বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র বিএনপির হাতেই নিরাপদ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যুগান্তকারী উন্নয়ন করে। জনগণ নিরাপদে, সুখ স্বাচ্ছ্যন্দে জীবন যাপন করতে পারে। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। মানুষ এইসব কাজের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছেন। তিনি কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত কৃষি ও জনবান্ধব প্রকল্প- 'খাল খনন কর্মসূচি' আবারও চালু করেছেন। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি অসহায়, দু:স্থ এবং কৃষক পরিবারের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করছেন। তারেক রহমান রাষ্ট্রের প্রচুর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আপামর জনগণের ভালোবাসা পাচ্ছেন। জনগণ তাঁকে ঘিরে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।সভায় ড.খন্দকার মারুফ মেঘনা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে- চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমন, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।।তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের সেবক। সেবার মনোভাব নিয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন। নতুবা জনগণের কাছে আপনাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কোনপ্রকার গাফিলতি কিংবা শৈথিল্য জনগণ বরদাশত করবে না।
২০২৬ সালের ‘ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, 'আজ আমরা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগগুলোর (MSMEs) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদযাপন করছি—যেসব উদ্যোগ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে, পরিবারগুলোর জীবিকা সচল রাখতে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য এগুলো অপরিহার্য; বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।'তবে এই ব্যবসাগুলোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, 'এর মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যাপক প্রভাব এবং অত্যধিক শুল্ক ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি। বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতাও এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।'মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাণিজ্য পথ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, 'এই সংঘাত জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সামগ্রিক ব্যয়কে আকাশচুম্বী করেছে।'মহাসচিব বলেন, 'বৈশ্বিক অভিঘাত বা সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা গড়ে তুলতে, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য আনতে, উপকরণ ও কাঁচামালের নতুন উৎস খুঁজে বের করতে এবং উদ্যোক্তাদের—বিশেষ করে নারী ও তরুণদের—সহায়তায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে সরকার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন যাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী সুদে ঋণ পেতে পারে এবং ঋণ গ্রহণের খরচ কমাতে পারে।'আন্তোনিও গুতেরেস আরও বলেন, 'এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও সফলতার জন্য উদ্ভাবন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যবসাগুলোকে সহায়তা করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার এই বিশ্বে শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে; সেই সাথে বৈশ্বিক বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সচল রাখার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।'ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগগুলো যেন আগামী প্রজন্মের জন্যও সমৃদ্ধি ও সুযোগ সৃষ্টির চালিকাশক্তি হিসেবে টিকে থাকে, সেটি নিশ্চিতে সবার প্রতি আহবান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
৪৩তম বিসিএসের নন ক্যাডারে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়নি জানিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে পুনরায় ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব। তিনি বলেন, ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার যে নিয়োগ হয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটা আইন অনুযায়ী হয়নি। এটা কোর্ট বলেছেন। নিয়োগস্বচ্ছভাবে হয়নি। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয়েছে। তাই কোর্ট এখানে নির্দেশ দিয়েছেন যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পুনরায় এই নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছভাবে, মেধা তালিকা প্রকাশ করার।এর আগে ৪৫৫ জন বিএসএস নন ক্যাডার চাকরি প্রার্থী রিট দায়ের করেছিলেন।
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনেও। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে ঘামতে দেখা গেছে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার জন্য ছোট ব্যাটারিচালিত পাখাও ব্যবহার করা হয়।সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বলছে, বুধবার (২৪ জুন) লন্ডনের সেন্ট জেমস প্রাসাদে আয়োজিত জলবায়ু সপ্তাহের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাজা চার্লস। অনুষ্ঠানে তার মুখে ঘাম দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি রুমাল দিয়ে মুখ মুছতেও দেখা যায়।এ সময় রাজপরিবারের গৃহপরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভাইস অ্যাডমিরাল স্যার টনি জনস্টোন-বার্টকে রাজার জন্য একটি ছোট ব্যাটারিচালিত পাখা ধরে রাখতে দেখা যায়। তীব্র গরমের মধ্যে রাজা চার্লসের এই মুহূর্তের ছবি প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিট-শূন্য নির্গমনবিষয়ক বিভাগের আয়োজনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র গরমের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং রাজা চার্লসের এই উপস্থিতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এবারের লন্ডন জলবায়ু সপ্তাহ ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত চলবে। নয় দিনব্যাপী এই আয়োজনে লন্ডনজুড়ে এক হাজারের বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন জলবায়ুবিষয়ক আয়োজন এটি, যেখানে ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও এক মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত তিনজন হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এছাড়া আহত মেজ মেয়ে ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তবে কয়েক বছর ধরে তারা লক্ষ্মীপুরে ভাড়া আছেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ৬ থেকে ৭ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে গোডাউন রোড এলাকায় ভাড়া আছেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের সবার শরীরে বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়েছে। তার মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দাবি করেছেন, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের (মার্কিন আইনপ্রণেতা) একটি কমিটির কাছে দেওয়া রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যের প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে এই তথ্য।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ জুন প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির কাছে গোপন সাক্ষ্য দেন বিল গেটস। সেখানে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে দূরত্ব তৈরির বিষয়ে কথা বলেন।সাক্ষ্যে গেটস বলেন, তাকে সরাসরি ব্ল্যাকমেইল করা হয়নি, তবে এপস্টেইনের কিছু খসড়া ই-মেইল দেখে তার মনে হয়েছে, তিনি ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইলের পথ খুঁজছিলেন। গেটসের ভাষায়, এপস্টেইন হয়তো নিজে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল অনুশীলন করছিলেন।তিনি আরও বলেন, এপস্টেইন তাকে কখনো সরাসরি এমন কোনো বার্তা পাঠাননি, যাকে তিনি ব্ল্যাকমেইল বলতে পারেন। তবে প্রকাশিত নথিগুলো দেখে তার কাছে বিষয়টি সেই দিকেই এগোচ্ছিল বলে মনে হয়েছে।সাক্ষ্যে বিল গেটস দাবি করেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে গেটস স্বীকার করেছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা তার জীবনের একটি বড় ভুল ছিল। তিনি আরও জানান, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, তবে এপস্টেইনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না।গেটসের দাবি, ২০১১ সালে তার সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় হয়। যদিও তার তিন বছর আগেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে যৌন অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন এপস্টেইন। গেটস বলেন, তিনি জানতেন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ ছিল, তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেননি, যা এখন তার কাছে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তার মামলার নথিপত্র প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাম নথিতে থাকা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয়।
টানা আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমে সংযুক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানা যায়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের অনুপস্থিতি ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি খুবই অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। অপরাধীর কোনো দল নেই,আদর্শ নেই। সে তো শুধুই অপরাধী। তার কোনো ছাড় নেই। সমাজে আশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দমন করতে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। জনস্বার্থ বিনষ্টকারী এইসব অপরাধী আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে যাতে রক্ষা না পায়, সে ব্যাপারে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে তিনি মেঘনা থানার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কুমিল্লা-১ আসনের মেঘনা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মারুফ এসব কথা বলেন। ড.খন্দকার মারুফ জননিরাপত্তা ও সেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার দু:শাসন,জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে দেশের গণতন্ত্র,অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রপথিক হয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসাবে সন্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।মেঘনা উপজেলার এই সভায় ইউএনও মৌসুমী আক্তারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্য সচিব এম.এম মিজানুর রহমান,সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাহউদ্দিন সরকার ও দিলারা শিরীন প্রমুখ। সভায় বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র বিএনপির হাতেই নিরাপদ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যুগান্তকারী উন্নয়ন করে। জনগণ নিরাপদে, সুখ স্বাচ্ছ্যন্দে জীবন যাপন করতে পারে। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। মানুষ এইসব কাজের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছেন। তিনি কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত কৃষি ও জনবান্ধব প্রকল্প- 'খাল খনন কর্মসূচি' আবারও চালু করেছেন। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি অসহায়, দু:স্থ এবং কৃষক পরিবারের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করছেন। তারেক রহমান রাষ্ট্রের প্রচুর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আপামর জনগণের ভালোবাসা পাচ্ছেন। জনগণ তাঁকে ঘিরে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।সভায় ড.খন্দকার মারুফ মেঘনা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে- চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমন, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।।তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের সেবক। সেবার মনোভাব নিয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন। নতুবা জনগণের কাছে আপনাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কোনপ্রকার গাফিলতি কিংবা শৈথিল্য জনগণ বরদাশত করবে না।
রাজবাড়ী রেলস্টেশনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরও তার কোনো নিকট আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মরদেহটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।জানা গেছে, গত ২৪ জুন (বুধবার) সকাল আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটে রাজবাড়ী রেলস্টেশনে অবস্থানরত এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় ওই ব্যক্তি নিজের নাম আমির হামজা (৮০), পিতা মৃত আব্দুল মোতালেব, ঠিকানা সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ বলে পরিচয় দেন।চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তার স্বজনদের খোঁজ করার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনও তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফলে মরদেহটি বর্তমানে অজ্ঞাতনামা (অসনাক্ত) হিসেবে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।রাজবাড়ী পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। উল্লেখিত বয়সের কোনো ব্যক্তির নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা বা অভিযোগ কোথাও হয়ে থাকলে কিংবা তার কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল অথবা সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের খুঁজে বের করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।
ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত দুই দেশ হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই দেশের ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে থাকে ফুটবল ভক্তরা। আর সেটা যদি বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে হয়, তাহলে তো কথায় নেই। সবশেষ ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছিল ব্রাজিল।এরপর কেটে গেছে প্রায় ৩ যুগ, কিন্তু দেখা হয়নি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। তবে ভক্তদের সেই অপেক্ষা শেষ হতে পারে এই বিশ্বকাপে। সমীকরণ মিলে গেলে চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা।গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে ‘জে’ গ্রুগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে জর্ডানের বিপক্ষে, সবঠিক থাকলে শেষ ম্যাচেও জয় নিশ্চিত হতে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তাদের। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা খেলবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স আপদের বিপক্ষে। যেখানে এগিয়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ উরুগুয়ে।অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো করতে না পারলেও হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপে টেবিলে সিংহাসনে ফিরেছিল ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। ফলে পরের রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।ফলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা এই অবস্থানের থেকে যদি দ্বিতীয়, তৃতীয় ও কোয়ার্টার ফাইনালের বাঁধা পেরোতে পারে তাহলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল।বিশ্বকাপে (মূল পর্ব) আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সবশেষ ১৯৯০ সালের ২৪ জুন মুখোমুখি হয়েছিল। ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেই হাইভোল্টেজ ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ (দ্বিতীয় রাউন্ড) ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা।ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট থেকে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এটিই দুই দলের একমাত্র লড়াই। ফলে সেমিফাইনালে দেখালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে যেতে চাইবে সেলেসাওরা। অন্যদিকে নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জিততেও মরিয়া মেসির দল।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন। ২৩ জুন মঙ্গলবার সকালে রাজধানির মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ঢালিউডের এই পরিচিতজন। তার মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভাগ্নে মনির।এছাড়া প্রবাস থেকে অভিনেতা জায়েদ খানও খবরটি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে জাকির হোসেনের যোগাযোগ ছিল, একসঙ্গে কাজও করেছেন তারা। জায়েদ বলেন, ‘জাকির হোসেন ভাই চলচ্চিত্রের একজন গুণী নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তিনি দুইবার আমার সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আমার বেশ কয়েকটি সিনেমার গানে নৃত্য পরিচালনাও করেছেন।’অনেক দিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন জাকির হোসেন। মে মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতেও নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন, চিকিৎসকের পরামর্শমতে চলছিল চিকিৎসা। ভালো চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছিলেন শিল্পীর পরিবার। কিন্তু আর ফেরা হয়নি।ঢাকাই ছবির পরিচিত নৃত্য পরিচালকদের একজন জাকির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে বহু ছবির নৃত্য পরিচালনা করেছেন। এছাড়া কিছু ছবিতে তাকে অভিনয় করতেও দেখা গেছে।
পরিবেশ ও সামাজিক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সংগঠক’ ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক ‘বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (সিজন-২) অর্জন করেছেন তরুণ সাংবাদিক ও সংগঠক মো. ইসমাইল হোসেন।শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।মো. ইসমাইল হোসেন সাবেক এসএ টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং ‘দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সুরক্ষা, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।এছাড়া নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে ইসমাইল হোসেন বলেন, “বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমি এবং আমার সংগঠন সবসময় নদী, পরিবেশ ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছি। সাধ্যের মধ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”এই অর্জন নিজের মায়ের প্রতি উৎসর্গ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজকের এই সম্মাননা আমি আমার মায়ের চরণে উৎসর্গ করছি। আমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের।”সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রশাসন ও সরকার যদি আমাদের সামাজিক ও পরিবেশবাদী উদ্যোগগুলোর প্রতি আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমরা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারব।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, ইসমাইল হোসেনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এ সম্মাননা দেশের যুবসমাজকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আয়োজনটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে ভিন্ন মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।সবশেষে, টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্যবৃন্দ সকল অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের প্রতি সমর্থন ও ভোট প্রদানের জন্য বিনীত আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও গ্যালাক্সি বাংলাদেশের গ্রুপ চেয়ারম্যান তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও ইনোগ্লোবের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কাদির এবং বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের (বিএফটিডি) ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল একরাম (রাজু)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বোটফ সভাপতি চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি এবং উপ-সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ভ্যাকেশনের সিইও আবদুল্লাহ আল কাফি।
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দেশটির শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বাংলাদেশিরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত অপর ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক।নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সম্প্রতি ব্র্যান্ড সনি 'সনি আলফা বাংলাদেশ ওয়েডিং স্টুডিও অ্যালায়েন্স' নামের একটি নতুন পার্টনারশিপের যাত্রা শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সেরা ছবি ও ভিডিও নির্মাতাদের আরও শক্তিশালী করা। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যালায়েন্সের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, স্টুডিও প্রতিষ্ঠাতা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশের ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ, ও পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যেতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওয়েডিং স্টুডিওগুলোকে একত্র করছে সনি। এই অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে দেশের সেরা সৃজনশীল কাজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা এই শিল্পখাতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন চলমান রাখবে।বাংলাদেশের সৃজনশীল পেশাজীবীদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, সনি তাদের আধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করবে। এর ফলে ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফাররা আরও উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।এই অ্যালায়েন্সে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ৯টি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি স্টুডিও একসাথে যুক্ত হয়েছে। স্টুডিওগুলো হলো- ড্রিম উইভার, রিলস অ্যান্ড স্টোরিজ, রেমিনিসেন্স ফটোগ্রাফি, কে. নাসিফ ফটোগ্রাফি, ছায়াছবি, স্ন্যাপশট, চিত্রগল্প, তানভীর আলী ফটোগ্রাফি এবং ব্রাইডাল হেরিটেজ।এছাড়া পেশাদার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের সনির অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে আসল পণ্য ক্রয়ের জন্যও উৎসাহিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। সনির অথেনটিক পণ্য সহজে শনাক্ত করার অন্যতম উপায় হলো কোম্পানির ১৮ মাসের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি স্টিকার। এই স্টিকারযুক্ত পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিশ্চিত ওয়ারেন্টি সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিক্রয়োত্তর সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’