জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য যে আইন করা হয়েছে, তা অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত করা হয়েছে এবং এর বৈধতা রয়েছে। তবে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানের তফসিলে সুনির্দিষ্টভাবে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রস্তাবের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জঘন্য হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচার ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তার দোসর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।মানবতাবিরোধী অপরাধের আদালতে চলমান মামলাগুলোর বিচার ত্বরান্বিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছে ১৪৮ জন। এছাড়া অক্টোবরের গত পাঁচ দিনে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৯৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩৫৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, বরিশালে ২০৩, চট্টগ্রামে ২৪২ জন, ময়মনসিংহে ৯৬, রংপুরে ৭৫ জন এবং রাজশাহী ১৯৯ জন।
নওগাঁর সাপাহার ও জয়পুরহাট সদর সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে বিজিবির তৎপরতায় পুশইনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাতজন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সোনাডাঙা এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার কড়িয়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এহসান হাবিব জানান, মঙ্গলবার সকালে বিএসএফ সদস্যরা সাপাহারের সোনাডাঙা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ভারতীয় অংশের শূন্যরেখার অভ্যন্তরে শনাক্ত করে। জানা যায়, চারজন একই পরিবারের সদস্য।এছাড়া জয়পুরহাট সদর উপজেলার কড়িয়া সীমান্ত এলাকায় আরও তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির তৎপরতায় তাদেরও বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানো হয়।বিজিবি অধিনায়ক বলেন, বর্তমানে এই সাতজন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের বাংলাদেশে পুশইন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কড়া নজরদারি ও সতর্ক অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পুশ ব্যাক করাতে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে।তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক এবং সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং পিএসকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।রামেবির কর্মচারীরা জানান, মঙ্গলবার সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ স্লোগান দিতে দিতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে আগে থেকে লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন তারা।তারা বলেন, স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যায় আপামর ছাত্র-জনতা। একই সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন জানান, সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য মহোদয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকে এবং পূর্বপ্রস্তুতকৃত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। এরপর আমাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। আমি এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে।রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে কাউকে দেখতে পায়নি। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, সাইবার হয়রানি এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন। তবে সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে গৃহিণী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পর্যন্ত অনেককে গ্রেফতার হতে হয়েছে। গাজীপুরে একজন শিক্ষার্থীকে একটি কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’-সংক্রান্ত বক্তব্যের কারণে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে, যদিও তার বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত নই। সালমান মুক্তাদিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তার স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, সালমানকে সাইজ করার টুল হাতে নেই, তাই এসব সাইবার আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে,এমন ধারণা যেন মানুষের মধ্যে তৈরি না হয়।ফুয়াদ প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ নাগরিকরা বিএনপির সমালোচনা করতে পারবেন কি না? সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ হবে কি না? পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে?এ কথা বললেও কি পুলিশের মানহানি হবে?তিনি বলেন, এমন কোনো আইন করা যাবে না, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাও সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকারও যেন একই পথে না হাঁটে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশে যেসব ইতিবাচক বিষয় ছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে কেন আবার কাটাছেঁড়া করা হচ্ছে,তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।তিনি বলেন, গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলার লোক ছিল না। আমরা চাই আপনারা সফল হন। কিন্তু আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না,সেই সক্ষমতা আপনাদের নেই।নকীব: প্রস্তাবিত আইন রাষ্ট্রকে আরও কর্তৃত্ববাদী করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এই প্রস্তাবনায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোকে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন ও চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।স্বাগত বক্তব্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন। হ্যাকিং, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড, আইডেন্টিটি থেফট এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।তবে প্রশ্ন হলো,সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা কি নাগরিকের স্বাধীনতাকে অনিরাপদ করে তুলব?তিনি বলেন, “একজন Cyber Criminal এবং একজন সরকারের সমালোচক এক ব্যক্তি নন। Cyber Criminal-এর বিরুদ্ধে কঠোরতা প্রয়োজন, কিন্তু রাজনৈতিক ভিন্নমতকে Cyber Crime বানানো যাবে না।সাম্প্রতিক Cyber Protection (Amendment) Act, 2026,CPA2-এর খসড়া নিয়ে TIB, ICNLসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।জনগণের মতামতের জন্য মাত্র ১০ দিন সময় যথেষ্ট নয়। আইন চূড়ান্ত করার আগে আরও সময় দিয়ে অর্থবহ জনপরামর্শ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, “misinformation”, “rumour” এবং বিশেষ করে “derogatory to the State”-এর মতো অস্পষ্ট শব্দের ভিত্তিতে অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।কোনো ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দ্রুত বিচারিক পর্যালোচনা, লিখিত কারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।বাংলাদেশ ICCPR-এর রাষ্ট্রপক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মতপ্রকাশ ও তথ্যের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো বিধিনিষেধ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক।বিশ্বের আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত critical infrastructure, data protection, risk management এবং cyber resilience-এর ওপর গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই এগোতে হবে।সরকারের প্রতি ৫ দফা আহ্বানঅ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, কাল তারা বিরোধী দলে থাকতে পারেন। আবার আজ যারা বিরোধী দলে আছেন, কাল তারা সরকারে যেতে পারেন। তাই এমন আইন প্রয়োজন, যা কোনো সরকারের হাতে বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে না।এ জন্য সরকারের প্রতি তিনি পাঁচটি আহ্বান জানান—১. আইন চূড়ান্ত করার আগে ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করতে হবে।২. ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’—এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।৩. কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে।৪. সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ করা যাবে না।৫. নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, আমরা এমন Cyber Security Law চাই, যা অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে, কিন্তু নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে সীমাহীন ক্ষমতা দেবে না। আমরা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা চাই, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিনিময়ে নয়।সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে অপরাধ দমন এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সুস্পষ্ট ভারসাম্য থাকতে হবে।তিনি বলেন, কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণ, গুজব” ও “মিসইনফরমেশন”, অনলাইন মানহানি, অপমান ও বুলিংকে অপরাধের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনের ভাষা অতিরিক্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হবে।বিশেষ করে আদালতের পূর্বানুমোদন ছাড়া কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লকের সুযোগ, “reason to believe”-এর মতো subjective মানদণ্ড এবং মতপ্রকাশ-সম্পর্কিত অপরাধে গ্রেফতারের ক্ষমতা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, সাংবাদিকদের source confidentiality এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরক্ষার বিষয়টিও আইনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হবে।যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া বলেন, গুজব, মিসইনফরমেশন, অপমান, হেয় করা বা বুলিংয়ের মতো অস্পষ্ট শব্দের ভিত্তিতে যেন বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা, সাংবাদিকতা বা জনস্বার্থের বক্তব্য অপরাধে পরিণত না হয়। ব্যাংক হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ransomware, অনলাইন প্রতারণা কিংবা শিশুদের যৌন শোষণের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কিন্তু সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা, নীতির সমালোচনা করা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা কিংবা জনস্বার্থে তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে শুধু সেই কারণে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র সাইবার অপরাধীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী হবে; নাগরিকের কণ্ঠের বিরুদ্ধে নয়।সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবু হানিফা, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন ও ব্যারিস্টার ইর্তিকা উদ্দিন। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান,সড়ক ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক: প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম,ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ,ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তারসহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, ছাত্রপক্ষের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফওজিয়া ফারিহা করবি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শেখ মাহমুদুল হাসান আসিফ ও সদস্য নুসরাত রহমান খানসহ এবি পার্টি লইয়ার্সের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে অর্থনীতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। একইভাবে ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে, রপ্তানির গতি কমেছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচও বেড়েছে।বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।এদিকে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৮ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।অন্যদিকে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধির চাপে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। তবে চলতি মাসে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নাও বাড়াতে পারে— এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের বড় ধরনের দরপতন ঘটেনি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা নাগাদ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৮.৮৩ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৫৫.৯০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। মার্কিন ডলার সূচক শক্ত অবস্থান ধরে রাখায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক পণ্য ক্রয় কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।গতকাল সোমবার ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ডের মুনাফা ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডায় বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট স্বর্ণের দামের পরবর্তী বড় অনুঘটক হতে পারে। পাশাপাশি সুদের হার নিয়ে মার্কিন নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হলে স্বর্ণের বাজারে আবারও নতুন ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় অক্টোবরেই ফেড সুদের হার বাড়াবে— এমন শঙ্কা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ বলে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে প্রতিফলিত হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো অনিয়মিত আয়ের সম্পদে বিনিয়োগ ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বা অপরচুনিটি কস্ট বেড়ে যায়।বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৬৯ ডলারে এবং প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭১২.২০ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬৬.৮৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।তাবারজাল-আলজাওফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দিতে আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর, শুক্রবার ও শনিবার একটি কনস্যুলার টিম সেখানে অবস্থান করবে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাবারজাল আল ফাহদা, দাইরেজা রোড, দাইরেজা, তাবারজাল-আলজাওফ এলাকায় এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।কনস্যুলার টিমের মাধ্যমে প্রবাসীরা ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি, শ্রম কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ বা হুরুবপ্রাপ্তদের আবেদন গ্রহণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।এছাড়া সোনালী ব্যাংকের সেবা, ট্রাভেল পারমিট প্রদান, কনস্যুলার ডকুমেন্ট সত্যায়ন, আমমোক্তারনামা প্রদান এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে।দূতাবাস জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি ই-পাসপোর্টের ছবির জন্য গাঢ় রঙের রঙিন পোশাক পরিধান করে আসার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরা যাবে না।প্রবাসীদের সুবিধার্থে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা আরও জোরদারের লক্ষ্যে সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এ কারণে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন এসব ব্যাংকের এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং কিছু কার্ড ও লেনদেনসেবা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে এসব সেবা সীমিত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেবাগুলো সীমিত থাকতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু হয়ে যেতে পারে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সাময়িক এ বিঘ্ন ঘটছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেনের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে; কিন্তু ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে অবহিত করেনি।তবে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।এ সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এটিএম, সিআরএম ও পিওএস ব্যবহার করে লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। তবে সব ব্যাংকের সব সেবা একসঙ্গে বন্ধ থাকবে না। ব্যাংকভেদে কোন সেবা কতক্ষণ বন্ধ থাকবে, তা আলাদা।৩০ ব্যাংকের সেবা বন্ধ: সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সাময়িকভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সীমিত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের এসএমএসের মাধ্যমে সাময়িক সেবা বন্ধ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে। জরুরি লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।তবে ডেবিট কার্ডের কিছু লেনদেন স্বাভাবিক থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা- বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মাধ্যমে লেনদেন চালু থাকার কথা বলা হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে সিস্টেম আপগ্রেড বা মাইগ্রেশনের সময় সাময়িকভাবে কিছু সেবা বন্ধ রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একসঙ্গে অনেক ব্যাংকের সেবা সীমিত থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে জরুরি সময়ে এটিএম থেকে টাকা তোলা, দোকানে কার্ড দিয়ে কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট কিংবা কিউআর লেনদেনের প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের জরুরি লেনদেনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের আগেই বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হলেই সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে অবস্থানে করছে ঢাকা। বায়ুমান সূচকে বাংলাদেশের রাজধানীর স্কোর ২৩৪। যা বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ভারতের শহর কলকাতা, যার স্কোর ১৯৮।সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউ এয়ারে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য দেখা যায়।বায়ুদূষণে এদিন বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ১৯১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। ১৮৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি। তালিকায় পঞ্চম স্থানে ১৬২ স্কোর নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জার্কাতা।আইকিউ এয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। বায়ুর মান ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।শীতকালে বৃষ্টিপাত না থাকা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুদূষণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য অপরিকল্পিত রাস্তা খনন ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওড়া ধুলিকণা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়াকে বিশেষভাবে দায়ী করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষিত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য যে আইন করা হয়েছে, তা অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত করা হয়েছে এবং এর বৈধতা রয়েছে। তবে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানের তফসিলে সুনির্দিষ্টভাবে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রস্তাবের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জঘন্য হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচার ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তার দোসর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।মানবতাবিরোধী অপরাধের আদালতে চলমান মামলাগুলোর বিচার ত্বরান্বিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।
জন্ম ও মৃত্যু সনদে নাগরিকদের নাম ও বিভিন্ন তথ্যের জায়গায় ‘লক্জ্ক্’, ‘ক্জ্ক্ল্জ্’, ‘দতককা’, ‘এলজেকেএলজেএফ’সহ অর্থহীন ও অদ্ভুত শব্দ যুক্ত হওয়া এবং এসব ভুল সংশোধন করতে গিয়ে নাগরিকদের চরম ভোগান্তির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকী এ প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থার ভুলে সনদে তৈরি হওয়া ত্রুটি বিনামূল্যে ও দ্রুত সংশোধন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।মুফতী মানসুর আহমদ সাকী বলেন, জন্ম ও মৃত্যু সনদ একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি। শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, চাকরি ও ব্যাংকিংসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজন হয়।তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৫৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি জন্মনিবন্ধন হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা হয়েছে। গত বছর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ১৭ হাজার। চলতি বছরের আট মাসে নাম ও ঠিকানা সংশোধনের সরকারি ফি বাবদ নাগরিকদের কাছ থেকে আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা।তিনি আরও বলেন, এত বিপুলসংখ্যক সংশোধনের বিষয়টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকারিতা, তথ্য যাচাই এবং নাগরিক সেবার মান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যবস্থার ভুলের কারণে যেসব নাগরিকের সনদে ভুল বা অদ্ভুত তথ্য যুক্ত হয়েছে, তাদের সংশোধনের জন্য হয়রানি করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।মুফতী মানসুর আহমদ সাকী বলেন, কীভাবে এমন অদ্ভুত ও অর্থহীন শব্দ নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথিতে যুক্ত হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। সরকারি ভুলে সৃষ্ট সনদের ভুল বিনামূল্যে ও দ্রুত সংশোধন এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় তথ্য যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মোটরসাইকেলের পার্টস চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে গিমাডাঙ্গা ও শ্রীরামকান্দি গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গিমাডাঙ্গা গ্রামের রোমান শেখের মোটরসাইকেল থেকে দুই দিন আগে কয়েকটি যন্ত্রাংশ চুরি হয়। পরে টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গওহরডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজনকে শনাক্ত করে রোমান শেখ।এ নিয়ে মঙ্গলবার তুহিন ও হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রোমান শেখ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়া কলেজ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।একপর্যায়ে গওহরডাঙ্গা ও শ্রীরামকান্দি এবং গিমাডাঙ্গা গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধরে চলা এ সংঘর্ষ ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ ও জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত এবং টুঙ্গিপাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ‘ঘটনাটি খুব একটা বড় বিষয় নয়। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই উভয়পক্ষ পাটগাতি বাসস্ট্যান্ডে মুখোমুখি হয়ে যায়। এতে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় কয়েকটি দোকানের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। গোপালগঞ্জ থেকে বিশেষ টিমও আনা হয়েছিল। তাদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের নভেম্বরে যুব এশিয়া কাপের আসর বসতে যাচ্ছে ওমানে। তার আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।এই সিরিজ উপলক্ষ্যে গেল সপ্তাহ দুয়েক ধরে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে হান্নান সরকারের দল। আগামী ১০ অক্টোবর ওমান পৌঁছাবে যুবা টাইগাররা। এরপর সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে ১৩ অক্টোবর, শেষ ম্যাচ ২৩ অক্টোবর। ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ডে হবে সিরিজের সব ম্যাচ। ১৩ ও ১৫ অক্টোবর প্রথম দুই ম্যাচের পর ১৮, ২০ ও ২৩ অক্টোবর হবে বাকি তিন ম্যাচ। অর্থাৎ প্রায় ১০ দিনের মধ্যে আফগানদের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশের যুবারা।বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওমানের মাটিতেই নভেম্বরে হবে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের এবারের আসর। ফলে এই সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলো এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি সারতে পারবে যুব টাইগাররা।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই ভক্তদের হৃদয়ে বাড়তি উন্মাদনা। বয়স বাড়লেও তার রূপের দ্যুতি আর চিরসবুজ স্টাইল যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, স্নিগ্ধ গোলাপী রঙের পোশাকে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জয়া। একটি টেবিলের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার মুখে ভেসে উঠেছে এক মায়াবী ও মিষ্টি হাসি, যা তার রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ছবির এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন এক দারুণ ব্যাখ্যা। ছবিগুলোর ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’ (এমন একটি হাসি, যার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না)। অর্থাৎ, হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ভর করা এই অনাবিল হাসিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।জয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্য ঘরে অনুরাগীরা তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মায়াবতী’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ তার এই ঝকঝকে হাসির পেছনের ইতিবাচক শক্তির প্রশংসা করেছেন। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন সুন্দর ও সাবলীল মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন পরিচিত ছিলেন ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন। সিনেমাটিতে তিনি অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন তিনি।১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান জেমস স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও দূরদর্শী চিন্তাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি স্টোরে ফাউন্ডার্স ডে উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে এপেক্সের সকল পণ্যে থাকছে ২৬ শতাংশ ছাড়।এই বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে এপেক্সের সবকটি রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও। ফলে জুতা, স্যান্ডেল, লেদার ব্যাগ, বেল্ট, অ্যাকসেসরিজ ও অ্যাপারেলসহ পরিবারের সব বয়সী সদস্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, বিশেষভাবে নারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে ক্রেতারা পছন্দমত পণ্যটি বিশেষ ছাড়ে কিনতে পারবেন।নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন কালেকশন ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে স্টোরগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর কেনাকাটার পরিবেশ। গত কয়েক বছরের ফাউন্ডার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও উৎসব, বিশেষ দিন, কিংবা বিভিন্ন মৌসুমকে মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে আসা এপেক্স পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটার দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারছে ক্রেতারা। এপেক্সের সঙ্গে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ পথচলাকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেইন উদযাপন করে থাকে। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী গুণগত মান ও গ্রাহকের আস্থা ভিত্তির ওপর এপেক্সেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই স্বপ্নকে স্মরণ করে এবং বিশেষ এই কেনাকাটার অভিজ্ঞতার অংশ হতে এপেক্সের নিকটস্থ আউটলেটে আসার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এপেক্স।
শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধির চাপে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। তবে চলতি মাসে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নাও বাড়াতে পারে— এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের বড় ধরনের দরপতন ঘটেনি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা নাগাদ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৮.৮৩ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৫৫.৯০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। মার্কিন ডলার সূচক শক্ত অবস্থান ধরে রাখায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক পণ্য ক্রয় কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।গতকাল সোমবার ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ডের মুনাফা ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডায় বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট স্বর্ণের দামের পরবর্তী বড় অনুঘটক হতে পারে। পাশাপাশি সুদের হার নিয়ে মার্কিন নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হলে স্বর্ণের বাজারে আবারও নতুন ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় অক্টোবরেই ফেড সুদের হার বাড়াবে— এমন শঙ্কা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ বলে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে প্রতিফলিত হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো অনিয়মিত আয়ের সম্পদে বিনিয়োগ ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বা অপরচুনিটি কস্ট বেড়ে যায়।বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৬৯ ডলারে এবং প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭১২.২০ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬৬.৮৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।তাবারজাল-আলজাওফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দিতে আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর, শুক্রবার ও শনিবার একটি কনস্যুলার টিম সেখানে অবস্থান করবে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাবারজাল আল ফাহদা, দাইরেজা রোড, দাইরেজা, তাবারজাল-আলজাওফ এলাকায় এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।কনস্যুলার টিমের মাধ্যমে প্রবাসীরা ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি, শ্রম কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ বা হুরুবপ্রাপ্তদের আবেদন গ্রহণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।এছাড়া সোনালী ব্যাংকের সেবা, ট্রাভেল পারমিট প্রদান, কনস্যুলার ডকুমেন্ট সত্যায়ন, আমমোক্তারনামা প্রদান এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে।দূতাবাস জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি ই-পাসপোর্টের ছবির জন্য গাঢ় রঙের রঙিন পোশাক পরিধান করে আসার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরা যাবে না।প্রবাসীদের সুবিধার্থে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি বাংলাদেশে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন realme C100 নিয়ে আসছে। ব্যবহারকারীদের সবধরনের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা এই স্মার্টফোনে দীর্ঘস্থায়ী পাওয়ার, টেকসই ডিউরেবিলিটি, ওয়াটার রেজিজট্যান্স ও স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা হয়েছে; যা তাদের প্রতিদিনের কাজের সাথে তালমিলিয়ে চলতে সক্ষম হবে।ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনের ব্যাটারি নিশ্চয়তা দিতে realme C100 সুবিশাল ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি সহ ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও ৭ বছরের ব্যাটারি হেলথ নিশ্চিত করছে। এছাড়াও, realme C100 সারাদিন ব্যবহারের পরও একইরকম সচল থাকতে সক্ষম। রিয়েলমির ল্যাব টেস্ট অনুযায়ী, একবার পূর্ণ চার্জে ডিভাইসটি ১.৭ দিন চলার পাশাপাশি, ১১ ঘণ্টার বেশি অনলাইন গেমিং (ফ্রি ফায়ার, মোবাইল লিজেন্ডস ব্যাং ব্যাং), ২৪ ঘণ্টার বেশি অনলাইন স্ট্রিমিং, ২০ ঘণ্টার বেশি অনলাইন নেভিগেশন ও ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করতে সক্ষম; যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ঘন ঘন ব্যাটারি চার্জ করা ছাড়াই সারাদিন কানেকটেড থাকতে পারবেন।প্রতিদিনের অপ্রত্যাশিত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে realme C100-এ আর্মরশেল গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, বাড়তি ডিউরেবিলিটি নিশ্চিত করতে ডিভাইসটিতে একটি শক্তিশালী প্রোটেক্টিভ লেয়ার রয়েছে, যা প্রতিদিন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পড়ে যাওয়া থেকে ফোনটিকে সুরক্ষা দিবে। পাশাপাশি, ছোটখাটো স্ক্র্যাচ থেকে ডিসপ্লে সুরক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে এতে হার্ড গ্লাস সারফেস ব্যবহার করা হয়েছে। একইসাথে, ডিভাইসটিতে অনবদ্য ডিউরেবিলিটি নিশ্চিত করতে এতে আইপি৬৯-প্রো ওয়াটার অ্যান্ড ডাস্ট রেজিজট্যান্স সহ মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিজট্যান্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।সুবিশাল ব্যাটারি, দীর্ঘমেয়াদী ব্যাটারি হেলথ, ডিউরেবিলিটি, ওয়াটার রেজিজট্যান্স ও স্মুথ পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে realme C100 তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি অল-রাউন্ড স্মার্টফোন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘসময় ধরে পড়াশোনা ও অনলাইন ক্লাস করা থেকে শুরু করে, গেমিং, স্ট্রিমিং, নেভিগেশন ও স্মুথ পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে আসন্ন এই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠবে। একইসাথে, এটি তাদের ব্যস্ত জীবনের সাথেও তালমিলিয়ে চলতে সক্ষম হবে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।