প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ সম্মতি দেয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক সংগীত পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে; তার বর্তমান অবস্থা কী? জামায়াতের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অসম্মতি প্রদান করা হয়েছে।সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ–তরুণীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এছাড়া গত বছরের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এরপর ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিভিন্ন সভা, সেমিনার, বিক্ষোভ সমাবেশে নাচ-গানের শিক্ষকের বদলে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি করেন। নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করা না হলে তারা আন্দোলনেরও হুমকি দেন।আন্দোলনের মুখে গত নভেম্বরে বিধিমালা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ সদরদপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্রিয় তৎপরতার মধ্যে রয়েছে।রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মামলা পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, এই দুটি মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতেই দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুসরণ করে তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, উচ্চপদস্থ কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা একটি বিরল ঘটনা।এদিকে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক ইতোমধ্যে এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, “আমরা আশা করছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় খুব দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া যাবে। এতে করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সব মিলিয়ে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কত দ্রুত বাংলাদেশের আদালতের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার এবং পরে গ্রেফতার হওয়া শিবিরনেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (১৪ জুন) সংসদে বিষয়টি তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের পর সংসদকে অবহিত করা প্রয়োজন মনে করা হয়েছে। আলোচনায় তিনি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পর গ্রেফতারের বিষয়ও উল্লেখ করেন।এর জবাবে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, একটি বিতর্কিত বিষয় সংসদে তোলা উচিত হয়নি। তার দাবি, ঘটনাটিকে ঘিরে প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার বা এক্সপাঞ্জ করার আহ্বান জানান।এ সময় দুই পক্ষের দাঁড়িয়ে যাওয়াতে সংসদে হট্টগোল তৈরি হয়। তখন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।তবে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে সংসদে উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয়। পরে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হবে কি না, তা যাচাই করা হবে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চলতি বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “বিগত স্বৈরাচার সরকার এবং অদক্ষ কেয়ারটেকার সরকার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার জন্য কোনো ভ্যাকসিনের মজুত রেখে যায়নি। তবে বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ হামের টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।” নিজেকে অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে দুটি হবে নারীদের জন্য। ১ হাজার ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা, পঙ্গু পুনর্বাসন, মাতৃসেবা ও সাধারণ চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত আইসিইউ ইউনিটের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
খুলনার দৌলতপুর এলাকায় একটি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন মো. লোকমান ও মো. আলম। তাদের মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত আলম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের নামাজের সময় বা নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং হামলার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলে গুলশান থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. দাউদ হোসেন। রাজধানীর অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পাওয়ায় এ পদায়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এর আগে খিলগাঁও ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রেখে প্রশংসা কুড়ান তিনি। একাধিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেন।বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সংবেদনশীল মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে তার ভূমিকা আলোচনায় আসে। মাঠ পর্যায়ে থেকে অভিযান পরিচালনা এবং তদন্ত তদারকির কারণে সহকর্মীদের কাছেও তিনি পরিচিত একজন কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে।দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসস্থল গুলশানে সাইবার অপরাধ, প্রতারণা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গুলশান থানার নতুন ওসি হিসেবে মো. দাউদ হোসেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে পরিবারের ৫ বছর বয়সী এক শিশু। ১৩ জুন শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন— ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটি তাদের ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫)। সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।স্থানীয় বাসিন্দা সুরভী বড়ুয়া জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজার কাছে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকেও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে এনি বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে কর্মস্থলে ছিলেন। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে লিমন তার বাড়িতে এসে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে তার সন্দেহ। এছাড়া মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী লিমন বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একই মজুরিতে কাজ করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ১ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা।ন্যায্য মজুরি, ঠিকাদারদের সঙ্গে স্বচ্ছ চুক্তি এবং সমন্বয়হীনতার অবসানের দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং-৮৯১ ও ৯২৫) ব্যানারে রবিবার সকালে যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দরে ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি টনে মাত্র ১৬ টাকা এবং ম্যানুয়াল হ্যান্ডলিংয়ে প্রতি টনে ১৮ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে। গত ১৪ বছর ধরে এই হার অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমের মূল্য বিবেচনায় বর্তমান মজুরি অমানবিক ও অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তারা।শ্রমিকদের দাবি, ইকুইপমেন্ট হ্যান্ডলিংয়ে প্রতি টন মজুরি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা এবং ম্যানুয়াল হ্যান্ডলিংয়ে ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ইনপোটার এর কাছ থেকে টন প্রতি পায় ৭৮ টাকা কিন্তু শ্রমিকদের হাতে আসে ১৫ টাকা।একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সুস্পষ্ট চুক্তি এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তারা।কর্মবিরতির ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি সমাধানে বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে।শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক। আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক মাস সময় প্রার্থনা করে।শ্রমিক নেতারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।শ্রমিকরা আরো বলেন, “দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে আমরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করছি। কিন্তু আমাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়নি। জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও মজুরি একই জায়গায় আটকে আছে। শ্রমিকদের এ আন্দোলন বন্দরকেন্দ্রিক শ্রম ব্যবস্থাপনা, মজুরি কাঠামো এবং শ্রমিক কল্যাণ প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত সমাধান করা হোক এমনটাই দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টাকালে বিজিবির ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন ভারতীয় এক চোরাকারবারি। ১৩ জুন শনিবার রাত ১০টার দিকে বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে আহত ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়নি। শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বিজিবি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে বিয়ানীবাজার (৫২ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এসময় বিজিবির টহলদল দুই জন সন্দেহভাজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লে একজন চোরাকারবারি আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিসহ অন্য চোরাকারবারি দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্রিয় তৎপরতার মধ্যে রয়েছে।রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মামলা পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, এই দুটি মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতেই দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুসরণ করে তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, উচ্চপদস্থ কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা একটি বিরল ঘটনা।এদিকে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক ইতোমধ্যে এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, “আমরা আশা করছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় খুব দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া যাবে। এতে করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সব মিলিয়ে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কত দ্রুত বাংলাদেশের আদালতের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার এবং পরে গ্রেফতার হওয়া শিবিরনেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (১৪ জুন) সংসদে বিষয়টি তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের পর সংসদকে অবহিত করা প্রয়োজন মনে করা হয়েছে। আলোচনায় তিনি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পর গ্রেফতারের বিষয়ও উল্লেখ করেন।এর জবাবে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, একটি বিতর্কিত বিষয় সংসদে তোলা উচিত হয়নি। তার দাবি, ঘটনাটিকে ঘিরে প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার বা এক্সপাঞ্জ করার আহ্বান জানান।এ সময় দুই পক্ষের দাঁড়িয়ে যাওয়াতে সংসদে হট্টগোল তৈরি হয়। তখন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।তবে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে সংসদে উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয়। পরে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হবে কি না, তা যাচাই করা হবে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে সালিশের মাধ্যমে বৈঠকে ধর্ষণ চেষ্টা কারীকে বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পর করার রায় দেওয়া হয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ চেষ্টা কারী ওই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করবেন এবং তখনই সালিশ কারীরা চড়থাপ্পর করবেন। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দুলারচর নতুন বাজারের পাশে পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি গ্রামে সালিশ বসিয়ে এই বিচার করা হয়।এই ধরনের অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করায় স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার এলাকায় একটি বাড়ির পাশে বিয়ের আয়োজন ছিল। চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কামাল কাজীসেখানে দাওয়াতে গিয়ে আত্মীয়তার সূত্র ধরে শিশুটিকে টাকার লোভ দেখিয়ে কাছে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে তিনি চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ঝাপটে ধরে ধৈঞ্চা ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আটক করেন।পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। সালিশে মাতব্বরদের জেরার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে ওই বৈঠকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ও চড়থাপ্পরের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।একজন ইউনিয়নের মেম্বার হয়ে এমন সালিশ বৈঠক করার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না বলে জানা গেছে।সালিশের বিষয়ে ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার বলেন, বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের মাধ্যমে সুরাহা করা হয়েছে। গ্রাম্য সালিশরা কি ধর্ষন চেষ্টার বিচার করতে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।জানতে চাইলে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শিশুটির পরিবারের অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক ম্যাচ হাতে রেখে আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করেছিলো বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়া সিরিজে টাইগারদের আরও বড় সুযোগ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করার। তবে শ্বাসরুদ্ধকর তৃতীয় ওয়ানডেতে তীরে এসে তরী ডুবিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ দিকে শরিফুলের বোলিং তোপে অজিদের দরকার হয় ১ ওভারে ৪ চার রান। তবে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে আর আটকাতে পারেনি টাইগাররা। তাতে ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পায় অজিরা।শুরুটা ছিল না খুব স্বস্তির। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৫৩ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৪ ও তানজিদ হাসান তামিম ১৯ করলেও সৌম্য সরকার ফেরেন মাত্র ২ রানে। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট পড়লে চাপ বেড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের অসাধারণ জুটিতে দল একশ ছাড়িয়ে যায়। লিটন দলীয় ১৫৩ রানে ব্যক্তিগত ৪৮ করে রিটায়ার্ড হার্ট হন। কিন্তু তিনি মাঠ ছাড়ার পরও হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান। ৮৩ রান করে (৮৮ বলে ৮ চার) বেন ডারশুইসের বলে আলেক্স ক্যারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।হৃদয় ফেরার পর শেখ মেহেদী মাত্র ৩ রান করে আউট হলে আবার মাঠে ফেরেন লিটন। এবার তিনি মিরপুরের অভিশাপ ঘুচিয়ে দেন। ওয়ানডেতে ঘরের মাঠে প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান লিটন। ৭৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান। অন্যদিকে সৈকত ৫১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বড় স্কোর এনে দেন। প্রথম ইনিংসে মোসাদ্দেক, হৃদয় ও লিটনের ফিফটিতে ২৭৪ রান দাঁড় করায় টাইগাররা। জবাবে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে। ওপেনার কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিস মিলে প্রথম ৪০ রান তুলে ফেলেন মাত্র কয়েক ওভারে। ইংলিস ১২ বলে ঝোড়ো ২১ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে ফিরলে প্রথম ধাক্কা খায় অজিরা। একই ওভারে ম্যাট রেনশকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে শরিফুল দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেন।৭০ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পরও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান কনোলি। অ্যালেক্স ক্যারি (৮) তাসকিনের শিকার হন। মারনাস লাবুশেন ২৯ ও ক্যামেরন গ্রিন ২৭ রান করে সাজঘরে ফিরলেও কনোলি একাই টেনে নিতে থাকেন দলকে। তিনি দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অজিদের জয়ের পথ সহজ করে দেন।শেষ দিকে ওলিভার পিক কনোলির সঙ্গে ভালো জুটি গড়েন। তাসকিনের এক ওভারে ২১ রান এসে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শরিফুল ইসলাম তখনও হাল ছাড়েননি। পরপর দুই বলে পিক ও জাভিয়ের বার্টলেটকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অসাধারণ বোলিং করেন শরিফুল। যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগার।নাটকীয়তা তখনও বাকি। ১৪৯ রানে অপরাজিত থাকা কনোলিকে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে প্লে-অন করে ফিরিয়ে দেন। এতে ম্যাচ আবার ঝুলে যায়। শেষ ২ ওভারে ৫ রান দরকার ছিল অজিদের। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের প্রথম বলে ১ রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে ইয়র্কার। তারপরই অ্যাডাম জাম্পা একটি চার মেরে ৩ বল বাকি রেখে ১ উইকেট হাতে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।বাংলাদেশের বোলিংয়ে শরিফুল ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন, মুস্তাফিজ ও মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রান করেও ম্যাচ হারলেও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়ে দারুণ এক অর্জন করে টাইগাররা।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করে বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। দলটির নেতারা বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে যে তিনি বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের একজন অকৃত্রিম দেশবন্ধু।শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকনির্দেশনা রয়েছে।”তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা নতুন বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে শিল্পখাত প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটাইল সোর্সিং আয়োজনের জন্য।ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬ আগামী ১৮–১৯–২০ জুন, আইসিসিবি, পূর্বাচল এক্সপ্রেস হাইওয়ে, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রদর্শনী বৈশ্বিক টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনকে এক ছাদের নিচে একত্রিত করবে এবং সোর্সিং, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বি-টু-বি টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, বাংলাদেশ, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং ও উজবেকিস্তানসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের নির্মাতা এবং সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তন্তু, সুতা, কাপড়, ট্রিমস, এক্সেসরিজ, রং, রাসায়নিক পদার্থ, কমপ্লায়েন্স সেবা এবং টেকসই সাপ্লাই চেইন উদ্ভাবনের বিস্তৃত পরিসর এখানে প্রদর্শিত হবে।বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো দ্রুতগতিতে তুলার বাইরে বিকল্প উপকরণের দিকে ঝুঁকছে — ফলে ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ), পারফরম্যান্স টেক্সটাইল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য তন্তু এবং ট্রেসযোগ্য সাপ্লাই চেইনের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এই সংস্করণ সরাসরি সেই পরিবর্তনের সাড়া দেবে — শীর্ষ টেক্সটাইল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিশেষ প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতাদের সামনে পরবর্তী প্রজন্মের উপকরণ ও উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হবে।প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন — টেক্সপ্রোসিল, ম্যাটেক্সিল ও পিডেক্সিলসহ শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি উন্নয়ন পরিষদের সহায়তায় — ৭৫টিরও বেশি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে অংশ নেবে। পাশাপাশি চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়নে চীনের শীর্ষ প্রদেশগুলো থেকে ৭০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আরএমজি শিল্পের জন্য এমএমএফ, টেকসই উপকরণ, পোশাক এক্সেসরিজ এবং উন্নত ফেব্রিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন উপস্থাপন করবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, আর্জেন্টিনা, ভারত, ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ২০টিরও বেশি দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক ক্রেতারা ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এ অংশ নিতে আগ্রহী।প্রদর্শনীতে আরও থাকবে ইন্টারেক্টিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ — ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায় — যেখানে শিল্প নেতারা টেকসইতা, সাপ্লাই চেইন স্থিতিশীলতা, ট্রেসেবিলিটি ও উদীয়মান বাজারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করবেন। এর পাশাপাশি বি-টু-বি কানেক্ট ওয়ান-টু-ওয়ান ম্যাচমেকিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক বৈঠকের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। অফিশিয়াল ট্রেসেবিলিটি পার্টনার হিসেবে টেক্সটাইলজেনেসিস ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল সোর্সিংয়ের আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, “ ইন্টেক্স বাংলাদেশ বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহকারীদের সাথে বাংলাদেশের গতিশীল পোশাক শিল্পকে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে চলেছে। এ ধরনের উদ্যোগ সোর্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত এবং টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন জুড়ে মূল্যবান সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করে।”বিজিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, “বাংলাদেশ যখন বৈশ্বিক পোশাক সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে, তখন ইন্টেক্স বাংলাদেশের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী, ক্রেতা ও নির্মাতাদের সংযুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিজিবিএ এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে পেরে গর্বিত এবং ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করে।”বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে হাজার হাজার ব্যবসায়িক বৈঠক সহজতর করার ইতিহাস নিয়ে ইন্টেক্স ধারাবাহিকভাবে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইন একীকরণকে শক্তিশালী করে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিসর, ভবিষ্যৎমুখী কর্মসূচি এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং সুযোগ নিয়ে ইন্টেক্স বাংলাদেশ ২০২৬ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ও বৈশ্বিক টেক্সটাইল সাপ্লাই চেইনের নির্ধারিত মিলনস্থল হয়ে উঠতে প্রস্তুত।বিনামূল্যে ই-ব্যাজ নিবন্ধন করুন bd.intexsouthasia.com-এ — দ্রুত প্রবেশাধিকারের জন্য।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’