মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।সকাল থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত দোহায় অন্তত পাঁচ দফা বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে কাতার সরকার দেশের নাগরিক ও প্রবাসীদের মোবাইলে ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ট পাঠিয়েছে। সতর্কবার্তায় সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।এদিন সকাল থেকেই কয়েক দফা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সর্বশেষ দুপুর ১২টা ৪২ মিনিটে অনেকের মোবাইলে জরুরি অ্যালার্ট পৌঁছায় বলে জানা গেছে। কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা প্রবাসীদের প্রতি সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অ্যালার্ট জারির পরও অনেক প্রবাসী বাইরে চলাফেরা করছেন, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সবাইকে সতর্ক থেকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও সকল বাংলাদেশি নাগরিককে কাতার সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার এবং সতর্ক ও সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং দেশে ফেরার সময়ে মাত্র চারজন কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরে থাকতে হবে। আগে এই সংখ্যা ছিল কয়েক গুণ বেশি।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত থাকবেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ যাত্রা ও ফেরার সময় বিমানবন্দরে রাষ্ট্রাচার নিয়ে নির্দেশনা জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন ওই নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।২০২৪ সালের নির্দেশনায় বলা হয়, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং সফর শেষে দেশে ফেরার সময় নিচের ব্যক্তিরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।উপদেষ্টা পরিষদের জ্যেষ্ঠতম একজন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশ/দেশগুলোর মিশন প্রধানরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান; মুখ্যসচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।এছাড়া বিমানবন্দরে থাকবেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ৯ মার্চ নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন আদালত। এর আগে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি তার জামিন দেন। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আইভীকে। সেগুলো হলো- ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা।হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু।গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানকালের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন দেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়।পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার দলীয়করণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন।বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশ্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুদকের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে সুকৌশলে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ায় যে গতি থাকার কথা ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।এ সময় তিনি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার জোর দাবি জানান।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানাই, যা আমাদের জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।’ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনকল্যাণে নিয়োজিত করার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।ইফতার মাহফিলে ব্রিটিশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ডেনমার্ক নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, স্পেন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।এনসিপি নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের উপ-প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ।
মেট্রোরেলে এক বা দুই স্টেশন আগে উঠে আসন দখল করে রাখার (লুপ রাইডিং) অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের এমন অভিযোগের পর সিট দখল ঠেকাতে মতিঝিল স্টেশনে নিয়মিত অপারেশন বা ট্রেন চালানোর নিয়মে বদল আনার কথা জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।ঢাকা মেট্রোরেলের অপারেশন প্রধান মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিয়মে পরিবর্তন আনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং মতিঝিল স্টেশনে ট্রেন ঘোরানোর (টার্নঅ্যারাউন্ড) পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে একটি ট্রেন মতিঝিল আসার পর প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করে আবার ছেড়ে যেত। এখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা সরাসরি মতিঝিল থেকেই নতুন ট্রেনে উঠতে পারবেন। এ ছাড়া কোনো যাত্রী মতিঝিল পৌঁছানোর পর ওই একই ট্রেনে বসে থেকে ফিরতি যাত্রা করতে পারবেন না। তাকে অবশ্যই ট্রেন থেকে নামতে হবে এবং অন্য প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নতুন ট্রেনে উঠতে হবে। মেট্রোর প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনের ভেতর অহেতুক ঘোরাঘুরি বন্ধে চেকইন ও আউটের মধ্যবর্তী সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানান নজরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, আমরা অনুমোদিত সময় কমিয়ে দিয়েছি। যদি কোনো যাত্রী নির্ধারিত সময়ের বেশি প্ল্যাটফর্ম বা সিস্টেমের ভেতরে অবস্থান করেন, তবে তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। যাত্রীদের অভিযোগ, একশ্রেণির যাত্রী উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা মতিঝিলগামী ট্রেনে আগেই উঠে পড়েন। তারা মতিঝিল স্টেশনে নামার বদলে সিটে বসে থাকেন এবং একই ট্রেনে আবার উত্তরার দিকে যাত্রা শুরু করেন। এর ফলে সচিবালয় বা শাহবাগ স্টেশন থেকে যারা ওঠেন, তারা কোনো আসন খালি পান না।
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের আরবিলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।নিহতদের মধ্যে দুজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এবং একজন ফেনী জেলার বাসিন্দা।প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে দূতাবাস জানায়, মৃত ব্যক্তিরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (পাসপোর্ট নং- EL-0875891) ও মো. সাব্বির এবং ফেনীর মেহেদী হাসান (পাসপোর্ট নং- A18633961)। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হয়েছে।নিহতদের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস।
ঈদের সময় কোনো বাস কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিয়ে সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ আসলেই পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। সেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটি টাকা বেশি নিলে আমাদেরকে জানান, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এটার নিয়ন্ত্রণ যে কোনো মূল্যে করা হবে। সভায় পরিবহন মালিকরা ছিলেন, তারা ভাড়া বেশি নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী। এসি বাসের ভাড়া নির্ধারিত নেই, তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো বাসেরই ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়া অনুমোদিত কি না, সেটা প্রশ্ন করতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়া নেয়, ইচ্ছামতো কোনো ভাড়া নিতে পারে না। আপনি কি তাহলে বলছেন ঈদের সময় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সেই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন? এমন প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম বলেন, আসলে নয়, সত্যিকারে (ব্যবস্থা) নেবো। সেটা আপনারা দেখতে পাবেন। কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তবে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ওই ভাড়া নিতে গিয়ে যদি ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকে, তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ঈদকে সামনে রেখে সভায় ২৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে যে দায়িত্ব আছে তা পালন করতে সবাই সক্ষম হবে- এই প্রত্যাশা আমরা রাখছি। মানুষ একটা স্বস্তির ঈদযাত্রা, নিরাপদ ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে আমরা নিশ্চিত করছি। মনে রাখা দরকার, ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটির মতো লোক ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যাবে। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।ঈদযাত্রা উপলক্ষে সড়কে চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন খাতে যারা জড়িত সবাই তৎপর আছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যারা এখানে মনিটরিং করা দরকার সেটা আছে। মোবাইল কোর্ট আছে, হাইওয়ে পুলিশ তৎপর আছে। কোনো অবস্থাতে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠার সুযোগ নেই।পোশাকশ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দিন শেষে তা রাখা হয় না। একসঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ছুটি হওয়ার কারণে চন্দ্রায় বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি থেকে আলাদা বাস ওখানে প্রস্তুত রাখা হবে। বিআরটিসি চেয়ারম্যান সেটা নিশ্চিত করেছেন। গার্মেন্টস যেটা ছুটি হবে- ১৬ তারিখে ১৬ শতাংশ, ১৭ তারিখে ২২ শতাংশ, ঠিক এইভাবে পর্যায়ক্রমে ঈদের আগেই ধাপে ধাপে গার্মেন্টসগুলো ছুটি হবে। তারা পরিসংখ্যান দিয়ে নিশ্চিত করেছেন এবং আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছি। এর কোনো ব্যত্যয় আশা করছি ঘটবে না। ঘটলে সেখানে তাৎক্ষণিক যানজটমুক্ত করা এবং যাত্রীরা যাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, যখন যে ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে তা নিশ্চিত করতে আমাদের সব ডিপার্টমেন্ট প্রস্তুত আছে। পরিস্থিতি বুঝে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে মেরামত করে- যাত্রীর প্রচুর চাপ থাকে বিধায় রাস্তায় তারা চলে আসতে পারছে। এসব ওয়ার্কশপে নজরদারি করা হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি কোনো অবস্থাতে রাস্তা উঠতে পারবে না- এটা নিশ্চিত করা হয়েছে।‘আরেকটা হচ্ছে যে আমাদের সেতু বিভাগ এবং সড়ক বিভাগ, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এরই মধ্যে চলমান আছে। সেই কাজগুলো যাতে কোনো রকমের মালামাল, ইকুইপমেন্টস রাস্তার ওপর না থাকে, লেনগুলো যাতে সচল থাকে, সেটা দ্রুত সময়ের মধ্যে কিছু মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।’শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং পচনশীল বস্তু ছাড়া অন্যান্য জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে সেগুলো যাতে ঈদের জন্য বন্ধ থাকে খালাস করা দুই-তিন দিন... চার দিন চার দিন নিশ্চিত করা হয়েছে, আর পাঁচ দিন পাঁচ দিন আমাদের প্রস্তাবনা আছে।দেখা যায় টোল কালেকশনের জন্য সেতুগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। টোল কালেকশন দ্রুত করার জন্য কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি না? এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একটা প্রস্তাবনা এসেছে যে যেসব দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাবে, তারা টোল প্লাজায় টোল না দিয়ে একটা টোলের টিকিট সিস্টেম করে দেওয়া যায় কি না- তারা এখান থেকে নিয়ে যাবেন আর ওটা দেখালে চলে যেতে পারবেন। এই প্রস্তাবনা এসেছে, কিন্তু কীভাবে কার্যকর করা যেতে পারে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে।তিনি বলেন, আশা করছি আপনারা একটা স্বস্তির ঈদযাত্রা পাচ্ছেন। আপনাদের শঙ্কা আছে জানি, কিন্তু আস্থা রাখুন নিশ্চয়ই আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো সার্ভিস নিশ্চিত করা হবে।এ সময় রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৬০টি আসনেই ভোট পড়ার হার ৭০ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮.২৭ শতাংশ ভোট পড়ে রেকর্ড গড়েছে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ৩৭.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।ইসির তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১ ও ২; ঠাকুরগাঁও-১, ২ ও ৩; দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; নীলফামারী-২ ও ৩; লালমনিরহাট-১; জয়পুরহাট-১ ও ২; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ও ২; নওগাঁ-১, ২, ৩ ও ৪; রাজশাহী-১, ৩, ৪ ও ৬; নাটোর-১, ২, ৩ ও ৪; সিরাজগঞ্জ-৪; পাবনা-১, ৩ ও ৪; মেহেরপুর-১; কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪; চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২; ঝিনাইদহ-১, ২, ৩ ও ৪; যশোর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; বাগেরহাট-২ ও ৩; খুলনা-৫ এবং সাতক্ষীরা-১, ২ ও ৩ আসন।গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে কমিশন। আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছিল। ওই আসনটি এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে আগামী ৯ এপ্রিল পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি।ইসির তথ্যমতে, নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্যে দেখা যায়, মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির নারী প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামপন্থি দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী ছিল না।ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসন (নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা), জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন, অন্যান্য (গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি ও ইসলামী আন্দোলন) ১টি করে আসন পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দুঃখপ্রকাশ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হাসনাত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেযে দুঃখপ্রকাশ করেন।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির মির্জা আব্বাসকে নিয়ে হাসনাতকে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি নির্বাচনকালীন সময়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং তাদের একটি ‘ক্লোজড গ্রুপে’ সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গতকাল এটি প্রকাশ্যে আসে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভিডিওটির জন্য আমি নিঃশর্ত ও আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। এই কাজটি করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি।’তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি। ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার সংস্কৃতিকে আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।’সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানিয়ে তিনি মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজসেবা বা জনসেবা সার্বিক অবদানের জন্য (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত সেই শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী। এবার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ বছর ২০ জন স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিম্নবর্ণিত ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা—১. বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদান২. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, মুক্তিযুদ্ধ৩. মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ8. অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি৫. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চিকিৎসাবিদ্যা৬.ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সাহিত্য৭. এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), সংস্কৃতি৮. বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতি৯. জোবেরা রহমান (লিনু), ক্রীড়া১০. পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), পল্লী উন্নয়ন১১. ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা১২. এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সমাজসেবা/ জনসেবা১৩. মো. সাইদুল হক, সমাজসেবা/ জনসেবা১৪. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সমাজসেবা/ জনসেবা১৫. মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা১৬. কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), জনপ্রশাসন১৭. মোহাম্মদ আবদুল বাকী, পি এইচ ডি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ১৮. অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ১৯. অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ২০. আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু), পরিবেশ সংরক্ষণ
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৬০টি আসনেই ভোট পড়ার হার ৭০ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮.২৭ শতাংশ ভোট পড়ে রেকর্ড গড়েছে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ৩৭.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।ইসির তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১ ও ২; ঠাকুরগাঁও-১, ২ ও ৩; দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; নীলফামারী-২ ও ৩; লালমনিরহাট-১; জয়পুরহাট-১ ও ২; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ও ২; নওগাঁ-১, ২, ৩ ও ৪; রাজশাহী-১, ৩, ৪ ও ৬; নাটোর-১, ২, ৩ ও ৪; সিরাজগঞ্জ-৪; পাবনা-১, ৩ ও ৪; মেহেরপুর-১; কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪; চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২; ঝিনাইদহ-১, ২, ৩ ও ৪; যশোর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; বাগেরহাট-২ ও ৩; খুলনা-৫ এবং সাতক্ষীরা-১, ২ ও ৩ আসন।গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে কমিশন। আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছিল। ওই আসনটি এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে আগামী ৯ এপ্রিল পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি।ইসির তথ্যমতে, নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্যে দেখা যায়, মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির নারী প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামপন্থি দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী ছিল না।ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসন (নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা), জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন, অন্যান্য (গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি ও ইসলামী আন্দোলন) ১টি করে আসন পেয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ৯ মার্চ নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন আদালত। এর আগে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি তার জামিন দেন। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আইভীকে। সেগুলো হলো- ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা।হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু।গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানকালের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন দেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়।পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় শরীয়তপুরে পৃথক দুটি অভিযানে সেমাই কারখানা ও ইটভাটাকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জেলার জাজিরা ও সদর উপজেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব জরিমানা করা হয়।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় অবস্থিত আর.এম ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। কারখানাটি অনিবন্ধিত অবস্থায় সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাত করায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট বাজারেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অপরদিকে একই দিনে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে মেসার্স এম কে এম ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫(২) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, শরীয়তপুর জেলা কার্যালয় সহযোগিতা করে।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অন্যতম প্রাণভোমরা ঋতুপর্ণা চাকমা। তিনি জাতীয় দলের জন্য যেনো দিন দিন অপরিহার্য হয়ে ওঠেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এই ফুটবলার এখন এশিয়ান মঞ্চেও আলো ফেলেছেন।৩ মার্চ মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে পায়ের জাদু দেখিয়ে মাত করেছেন তিনি। বিশেষ করে ১৩তম মিনিটে নেওয়া তার ওই দারুণ শট আলাদা করে নজর কেড়েছে সবার। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট প্রায় গোল হয়েই গিয়েছিল। লাফিয়ে ওঠে সেটিকে কোনোমতে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেছিলেন ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার চীনের গোলরক্ষক চেন চেন।ম্যাচ শেষে নিজের সেই শট নিয়ে কথা বলকে গিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমার নেওয়া শুটটা গোল হবে, যদি এটা গোল হতো আমার ক্যারিয়ারের সেরা গোল হিসেবে ভেবে নিতাম ৷’ তবে তিনি বলেন, ‘আমি খুব নার্ভাস ছিলাম ৷ আমরা খুব ভাগ্যবান যে চীনের মতো দলের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’দক্ষিণ এশিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশ দল এখন অনেক শক্তিশালী, টানা দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন তারা। সেই ফাইনালগুলোতেও নজর কেড়েছিলেন ঋতুপর্ণা। বিশেষ করে দ্বিতীয় ফাইনালে তার গোলেই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান মঞ্চে প্রথমবার মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তার ওপর আবার প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের বিপক্ষে। তাই কিছুটা নার্ভাস ছিলেন টাইগ্রেস এই ফুটবলার। তবে প্রতিপক্ষের কাছে থেকে শিখেছেন অনেক কিছু।
একসময় সংগীতশিল্পী দম্পতি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী। কিন্তু ভালোবেসে গড়া সংসার হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় এ নিয়ে দুই তারকাই নীরব থেকেছেন। তবে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ নিয়ে কথাও বলেছেন রবি চৌধুরী। সেখানে তিনি ডলি সায়ন্তনীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন।এবার সেই অভিযোগের বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ডলি সায়ন্তনী। মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না।’বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা না করার অনুরোধ জানিয়ে এই গায়িকা বলেন, ‘সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় বানাবেন না। আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো আছি, বাকিটা সময়ের হাতে।’বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে ডলি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ডিভোর্স প্রসঙ্গে নানা কথা বলা হচ্ছে; স্পষ্ট করে বলতে চাই, ডিভোর্স আমিই দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম সেটি এই মুহূর্তে আর বলতে চাই না। ডিভোর্স দেওয়ার পর সেই সময়েই প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম।’ ‘অতএব এত বছর পর এসব নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।’ সবশেষে পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘মাহে রমজানে আল্লাহ সবাইকে পবিত্রতা রক্ষার তৌফিক দান করুক।’
শাহরুখকন্যা সুহানা খান দক্ষিণ কোরিয়ান কে-পপ তারকা কিম জুন মিয়নের প্রেমে পড়েছিলেন। ডেটেও যেতে চেয়েছিলেন কিম জুন মিয়নের সঙ্গে। সুহানা সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে সরাসরি তা স্বীকারও করেছেন।শাহরুখ খানের মতো মেগাস্টারের ঘরে জন্মগ্রহণ করায় বলিউড নেপোকিড সুহানাকে সুবিধা-অসুবিধা সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু সুহানা তার পারিবারিক প্রভাব না খাটিয়ে সব সময় নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সে চর্চা এখনও তিনি করে যাচ্ছেন। এ কারণে তিনি নিজের দক্ষতা বাড়াতে তায়কোয়ান্দো শেখা এবং অভিনেত্রী হিসেবে যোগ্যতা বৃদ্ধি করার জন্য নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন।সামাজিকমাধ্যমে বরাবর সরব শাহরুখকন্যা বিভিন্ন সময় লাইভে ভক্তদের সামনে আসেন এবং তাদের অনেক প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন। ইনস্টাগ্রামে এরকমই এক সেশন ‘আস্ক মি এনিথিং’য়ে এক ভক্ত প্রশ্ন করেন, তিনি কোন অভিনেতার সঙ্গে ডেট করতে চান। সবাইকে অবাক করে দিয়ে, সুহানা কোরিয়ান গায়ক, গীতিকার এবং অভিনেতা কিম জুন-মিয়নের নাম বলেন। এ সময় সুহানা কে-পপ তারকার একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন—‘তাকে’। সূত্র: পিঙ্কভিলাশাহরুখ খান ও গৌরী খানের ঘরে জন্ম নেওয়া সুহানা খান গ্ল্যামার জগতের বাইরে খেলাধুলাও আগ্রহী। সৃজনশীলতা তার শিরায় প্রবাহিত হয়। তাই গান-নৃত্য এবং লেখালেখি সবকিছুই তাকে আকর্ষণ করে।এ বছরের একদম শেষ দিকে সুহানা খান তার বাবা শাহরুখ খানের সঙ্গে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় দেখা যাবে বাবা-মেয়ের অ্যাকশন। এতে বলিউডের দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চনের মতো বড় তারকারাও অভিনয় করেবেন।
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ দিনে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ধরনের অর্জন উদ্যাপন করা হয়। দিনটি তাই গানে গানে পালন করতে চান দেশের তিনজন নারী সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল, অন্তরা রহমান ও মাশা ইসলাম। তারা তাই নারী দিবস উপলক্ষে নতুন গান তৈরি করেছেন। গানটির শিরোনাম ‘নারী যায় বাড়ি’।অসংখ্য জনপ্রিয় গানের নেপথ্যের দুই কারিগর শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান রয়েছেন এই গানের পেছনে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর লেখা গানটিতে সুর দিয়েছেন পিলু খান। সংগীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম। ৮ মার্চ নারী দিবসে গানটি প্রকাশ করবে আজব রেকর্ডস। গানটির অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়েছেন মীর হিশাম ও সারাফ চিশতী।নারী যায় বাড়ি গান প্রসঙ্গে শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ‘নারীরা আজীবন তাঁদের নিজের ঘর খুঁজে বেড়ান। কখনো বাবার ঘর, কখনো স্বামীর ঘর, কখনো ছেলেন ঘর। তাঁর নিজের ঘর কি তিনি কখনো খুঁজে পান? চিরন্তন এই প্রশ্ন নিয়ে লেখা হয়েছে গানটি।’পিলু খান বলেন, ‘জঙ্গী ভাইয়ের সঙ্গে চার দশকে নানা বিষয়ভিত্তিক গান করেছি। এবার সে তালিকায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। আশা করি, শ্রোতাদের ভালো লাগবে এ গান।’গানটি নিয়ে কোনাল বলেন, ‘কিংবদন্তি দুজন মানুষের গান করতে পেরে আমি আনন্দিত। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার সংগীতজীবনের অনন্য অর্জন।’একই ধরনের অনুভূতি ফুটে উঠেছে অন্তরার কথায়, ‘একজন নারী হিসেবে এমন কথার গানে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের মতো বরেণ্য মানুষের সান্নিধ্য আমার জন্য পরম পাওয়া।’অন্যদিকে মাশা ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান আমাদের গানের জগতে দুই মহিরুহ। তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারা দারুণ ব্যাপার। সবার সঙ্গে গানটি করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আশা করি, যাঁরা শুনবেন তাঁদেরও ভালো লাগবে।’ ৮ মার্চ নারী যায় বাড়ি গানের ভিডিও আজব রেকর্ডসের ইউটিউব চ্যানেলসহ শিল্পীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পাবে। শোনা যাবে একাধিক আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও।
বোকা প্রেমিকের সরল ও চনমনে প্রেমকে ঘিরে নির্মিত নাটক ‘গুডলাক’। ঈদের বিশেষ আয়োজনে ফারহান আহমেদ জোভান ও নাজনীন নীহা অভিনীত নাটকটি নির্মাণ করেছেন ইমরোজ শাওন। রায়হান মাহমুদের চিত্রনাট্যে নির্মিত নাটকের চিত্রগ্রহণ করেছেন নাঈম ফুয়াদ। বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী দিলারা জামান।গল্প নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাইছেন না নির্মাতা কিংবা অভিনয়শিল্পীরা। তবে নির্মাতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, এক সরলমনা প্রেমিকের আবেগ, ভুলভাল সিদ্ধান্ত আর ভালোবাসার চেষ্টাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে কাহিনি। ক্যাম্পাসের হালকা আবহ থেকে পারিবারিক টানাপোড়েন—দুটো জায়গাতেই গল্পের বিস্তার রয়েছে।এদিকে জোভানের চরিত্রে থাকছে ভিন্নমাত্রা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার উপস্থিতি ও মোড় ঘোরানো মুহূর্ত দর্শকদের চমকে দেবে।প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, ‘গুডলাক’সহ এবারের ঈদে প্রস্তুত হয়েছে ২০টি বিশেষ নাটক। চাঁদরাত থেকে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো মুক্তি পাবে ইউটিউব চ্যানেলে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) খোঁজ মিলছে না। রোববার রাতে দেশে ফিরেছেন—এমনটা শোনা গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি। কেউ বলতে পারছেন না এখন তিনি কোথায়।আলভী ও ইকরাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গতকাল রোববার বিকেলে জাহের আলভী নেপাল থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করেন। ঢাকায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর একজনের মধ্যস্থতায় তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন। এদিকে আলভীর ফোন, ফেসবুকসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী কয়েক দিন আগে শুটিংয়ে যান নেপালে, একই নাটকের শুটিংয়ে আলভীর প্রেমিকা সেই অভিনয়শিল্পীও ছিলেন, যাঁকে নিয়ে আলভীর স্ত্রী ইকরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।আলভী গণমাধ্যমকে গতকাল দুপুর ১২টায় জানান, তিনি সন্ধ্যার মধ্যে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরবেন। ফিরে এসেই পুরো ব্যাপার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন। আলভী তাঁর কথামতো দেশে ফিরে থাকলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলেননি। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে আলভী তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি বন্ধ করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যপেও।বিনোদন অঙ্গনে আলভীর ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ বলছেন, এভাবে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে সামনে আলভীর বিপদই বাড়বে। তাঁর উচিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলা। সেদিন কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে ইকরাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে!আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং দুই বছর ধরে অবহেলা ও নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন তানভীর আহমেদ।গতকাল পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।অন্যদিকে মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায়।আজ সোমবার সকালে এস এম আলমগীর জাহান জানান, আলভীর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। তদন্ত চলমান।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিম আহমেদ বলেন, ‘একবার শুনি আলভী দেশে আসছে, একবার শুনি আসেনি। ধোঁয়াশা, ধোঁয়াশা। আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।’
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মধ্যেই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা ‘হোটেল তেহরান’। সিআইএর অভিযান নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি চলতি বছরে মুক্তি দেওয়া হবে। যদিও সিনেমাটির মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ জানিয়েছে এই বছরেই ছবিটি মুক্তি পাবে।‘হোটেল তেহরান’ পরিচালনার পাশাপাশি গাই মোশে মার্ক বাক্কির সঙ্গে মিলে ছবিটির চিত্রনাট্য করেছেন। ছবিটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে আছেন হলিউডের দুই হেভিওয়েট লিয়াম নিসন ও জ্যাকারি লেভি।আফগানিস্তানে এক মিশনে ব্যর্থ হন তেহরানে দুই সিআইএ এজেন্ট ল্যারি ও টাকার। তাদের ও তাদের দলের একটি উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই সিনেমার কাহিনী।ল্যারি চরিত্রে আছেন নিসন আর টাকার চরিত্রে অভিনয় করছে লেভি। এছাড়া আরও অভিনয় করছেন কুইন্সি আইসেয়া, জেইক চোই ও অগুস্তো আগিলেরা ও এলনাজ নোরুজি। ‘হোটেল তেহরান’ নিয়ে নির্মাতা মোশে বলেন, “হোটেল তেহরান একটি রোমাঞ্চকর যাত্রা যেখানে আনুগত্য, দায়মুক্তি ও যুদ্ধে মানবজীবনের ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।” সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা ব্যাজেল বাজের কাছ থেকে এই সিনেমার গল্পের কাহিনীসূত্র পেয়েছেন মোশে। মার্ক বাক্কির সঙ্গে মিলে মোশে চিত্রনাট্য লিখেছেন এই সিনেমার জন্য।
তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওয়াটারগান দিয়ে পানি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে তারা বিক্ষোভে অংশ নেন।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; যা আমানতকারীদের জন্য অন্যায্য ও অমানবিক।তারা জানান, গত দুই বছর ধরে অনেকেই মূলধন ও মুনাফা তুলতে না পেরে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সঞ্চয়পত্রের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধের দাবি তোলেন তারা।মানববন্ধন থেকে দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেন, দাবি আদায় না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের আরবিলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।নিহতদের মধ্যে দুজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এবং একজন ফেনী জেলার বাসিন্দা।প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে দূতাবাস জানায়, মৃত ব্যক্তিরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (পাসপোর্ট নং- EL-0875891) ও মো. সাব্বির এবং ফেনীর মেহেদী হাসান (পাসপোর্ট নং- A18633961)। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হয়েছে।নিহতদের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস।
আধুনিক ইতিহাসের পাতায় যে কয়েকজন নেতা একক সিদ্ধান্তে একটি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি কেবল একটি দেশের শাসক নন, বরং পুরো শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও শৈশব: অভাবের মাঝেও শিক্ষার আলো১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আলী খামেনেইর জন্ম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জাভাদ খামেনেই ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ আলেম, যিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। খামেনেই পরবর্তীকালে তার শৈশব সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের রাতের খাবারে শুধু রুটি আর কিশমিশ জুটত।’ অভাব থাকলেও পড়াশোনায় খামেনেই ছিলেন মেধাবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং ১১ বছর বয়সে ধর্মীয় লেবাস (পাগড়ি ও জাব্বা) ধারণ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হন।বিপ্লবের আগুন ও কারাবরণ১৯৬০-এর দশকে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে আসেন এবং শাহ শাসিত রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এই অপরাধে তাকে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। সাভাক (তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা) তাকে নির্মম নির্যাতন করেছিল এবং তিনি তিন বছরের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু এই কারাবাসই তাকে একজন আপসহীন নেতায় পরিণত করে।প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও হত্যাচেষ্টা১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনেই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আসীন হন। ১৯৮১ সালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে সেই বছরই একটি বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে সম্মান দিতে শুরু করে। তার আট বছরের প্রেসিডেন্সি ছিল মূলত ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধ’-এর কঠিন সময় পার করার গল্প।সুপ্রিম লিডার: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ৩৭ বছর১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দীর্ঘ শাসনামলের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:* আইআরজিসি (IRGC)-এর উত্থান: তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।* প্রতিরোধের অক্ষ: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সমর্থন দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যাকে তিনি ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বলেন।* পারমাণবিক কর্মসূচি: পশ্চিমা বিশ্বের প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও তিনি ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন।দর্শনের দর্পণ: খামেনেইর অবিনশ্বর কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত তার আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:* পশ্চিম প্রসঙ্গে: “আমেরিকা হলো ‘বড় শয়তান’। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।”* আঞ্চলিক সংঘাত ও ইসরায়েল: ‘ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।’* পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ফতোয়া: ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, আমাদের জনগণের ঈমানের মধ্যে।’* তরুণ প্রজন্মের প্রতি: ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’ব্যক্তিগত জীবন ও বিচিত্র পছন্দখামেনেইর জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা। তিনি নিয়মিত কবিতা পড়েন এবং ফারসি সাহিত্যের গভীর অনুরাগী। এমনকি ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ তার অন্যতম প্রিয় বই। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর জীবন, আদর্শ এবং তার প্রভাবশালী বক্তব্যগুলোকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত ফিচার নিউজ নিচে দেওয়া হলো:আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই: পারস্যের ক্ষমতার ধ্রুবতারা ও তিন দশকের আপসহীন নেতৃত্বতেহরান, ইরান — আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যদি কোনো একজন ব্যক্তির ছায়া সবচেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর, যখন দেশটি এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন খামেনেই হাল ধরেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা নন, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে এক অটল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও বৈপ্লবিক উত্থান১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদ শহরের এক অতি সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে খামেনেইর জন্ম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া খামেনেইর প্রধান সম্পদ ছিল তার মেধা ও ধর্মীয় নিষ্ঠা। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাদ্রাসায় শিক্ষা শুরু করা এই তরুণ ১৯৬০-এর দশকে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে এসে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে তাকে অন্তত ছয়বার কারাবরণ করতে হয়। নির্বাসন ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিখরে আরোহণ করেন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।‘জীবন্ত শহীদ’ ও অদম্য মনোবল১৯৮১ সালে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় খামেনেই এক ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হন। এই হামলায় তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জানবাজ’ বা ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা তাকে ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসায়।আদর্শিক স্তম্ভ: খামেনেইর বিখ্যাত কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:আমেরিকা ও পশ্চিম প্রসঙ্গে: তিনি সবসময়ই আমেরিকার আধিপত্যবাদের কট্টর বিরোধী। তার বিখ্যাত উক্তি:"আমেরিকা হলো 'বড় শয়তান'। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।"ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্বকে তিনি কখনোই মেনে নেননি। তার ভাষায়:"ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।"পারমাণবিক অস্ত্র ও ইসলাম: আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তিনি তার ধর্মীয় ফতোয়ায় অটল ছিলেন: "আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, জনগণের ঈমানের মধ্যে।"ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ও আঞ্চলিক প্রভাবখামেনেইর শাসনামলে ইরান কেবল টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধের অক্ষ আজ লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (IRGC) তিনি এমন এক সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন যা সরাসরি তার কাছে দায়বদ্ধ।ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাহিত্যের অনুরাগী এক রাষ্ট্রনায়ককঠোর প্রশাসক এবং ধর্মীয় নেতার বাইরেও খামেনেইর একটি ভিন্ন সত্তা রয়েছে। তিনি ফারসি সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং শৌখিন কবি। ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী সাহিত্য তার নখদর্পণে। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিলো। তিনি প্রায়ই তরুণদের বলতেন, ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তিদীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের নাটাই শক্ত হাতে ধরে রাখার পর, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তার এই দীর্ঘ সফর কেবল ইরানের ইতিহাস নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করে গেছে। তিনি যেমন একদিকে আধ্যাত্মিক গুরু, অন্যদিকে তেমনই ছিলেন এক অকুতোভয় রণকৌশলী। তেহরানের এই লৌহমানবের শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তি ঘটলো।
মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ। এখানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ আদায়-ই করেন না। বরং অনেক জায়গায় এই মসজিদ ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিকতার জ্ঞান অর্জনের চর্চা কেন্দ্র। দেশে দেশ পবিত্র মসজিদগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা স্থাপত্যের হয়ে থাকে। যার অপূর্ব স্থাপত্যে আর শৈল্পিকরুপ বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের আকর্ষণীয় সিলিং, দেয়ালের মার্বেল পাথর, অসধারণ কারুকাজ করা মিনার ইসলামিক কারুশিল্প এবং শৈল্পিকতাকে উপস্থাপন করে। এরকম কিছু সুন্দর মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হলো-আল-হারাম মসজিদ, সৌদি আরবআল-হারাম মসজিদ সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত। আল হারাম শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদই নয়, এটিকে পবিত্রতম স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ৪,০০,৮০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদ। লক্ষ লক্ষ লোক হজ এবং ওমরাহ পালনের জন্য আল-হারাম মসজিদ পরিদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ হিসাবে স্থান পেয়েছে। মোট ৪ মিলিয়ন মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এই মসজিদে।শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবিসংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই মসজিদ অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম হস্তনির্মিত কার্পেট এই মসজিদে রয়েছে। একটি ১২ টন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে যা দেখতে অনেক পর্যটক চলে আসে। ৮২টি সাদা মার্বেল গম্বুজ, ১,০৬৯ টি বাহ্যিক কলাম, ৯৬ টি অর্ধমূল্য রত্ন-ঢাকা অভ্যন্তরীণ কলাম, সাতটি ২৪ ক্যারেট সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে। মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক লেখা রয়েছে যা মুসলমানদের ধৈর্য বজায় রাখতে এবং শান্তি ছড়িয়ে দিতে উত্সাহিত করে।হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক হাগিয়া সোফিয়া মসজিদটি শুধুমাত্র অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের জন্য বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি এই মসজিদ। এই পবিত্র স্থানটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের একটি জীবন্ত উদাহরণ। এটি মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে অটোমান শাসনামলে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। হাগিয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত আরবি ভাষায় দীর্ঘ মিনার এবং শিলালিপি রয়েছে। যেখানে সুন্দর মোজাইকগুলি খ্রিস্টানদের অতীতের কথা বলে।নাসির-আল-মুলক মসজিদ, ইরাননাসির আল-মুলক মসজিদ তার অসম্ভাব্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বিখ্যাত। মসজিদটি প্রচুর গোলাপী টাইলস দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি ‘গোলাপী মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৯ শতকে এটি কাজার রাজবংশের মির্জা হাসান আলী নাসিরের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির চত্বরে একটি সুন্দর আয়তাকার পুল রয়েছে। যার চারপাশে ফুলের গাছপালা ঘেরা। মসজিদটি রঙিন কাচ দিয়ে ঘেরা। যার ফলে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে এক ধরনের আলোর খেলা শুরু হয়।ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, ক্রোয়েশিয়াএই মসজিদটি সমসাময়িক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার একটি সুন্দর সমন্বয়। বাঁকা জ্যামিতিক আকৃতি এবং নিদর্শন সমন্বিত নকশায় গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটিতে একটি অনন্য শৈলীযুক্ত গম্বুজ রয়েছে। যা পাঁচটি পৃথক অংশে বিভক্ত। ইসলামিক সেন্টার মসজিদটি সুপরিচিত ক্রোয়েশিয়ান ভাস্কর, দুসান জামোনজা দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।লিড মসজিদ : আলবেনিয়ার সাকোদার নগরীতে এই মসজিদটি অবস্থিত। হুই মসজিদ : চীনের নিংজিয়ায় এই মসজিদটি রয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।সেন্ট পিটার্সবুগ মসজিদ : রাশিয়ার পিটার্সবুর্গে এই মসজিদটি রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত মসজিদ।আল নিদা মসজিদ : এই মসজিদটি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।সানসাইন মসজিদ : অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে সূর্যের আলো পরলে চকচক করে।কুলশারিফ মসজিদ : রাশিয়ার কাজানে এই মসজিদটি রয়েছে। রাশিয়া ভ্রমণে গেলে প্রতিটি মুসলমানই চেষ্টা করেন এই মসজিদটি ঘুরে আসতে।বাদশাহী মসজিদ : পাকিস্থানের সবচেয়ে ঐতিহ্য মণ্ডিত এই মসজিদটি সে দেশের গর্বের প্রতীক। গ্রিন লেন মসজিদ : ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রতিটি মুসলমান এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ১৭ কোটি মানুষকে ডিজিটাল সংযোগের আওতায় এনেছে হুয়াওয়ে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) ‘পার্টনার-টু-কানেক্ট’ (পিটুসি) ডিজিটাল কোয়ালিশনে দেয়া ২০২২ সালের প্রতিশ্রুতিকেও ছাড়িয়ে গেল প্রতিষ্ঠানটি।বুধবার হুয়াওয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বার্সেলোনায় চলমান মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত হুয়াওয়ের ‘টেক কেয়ারস ফোরাম’-এ এই ঘোষণা দেন হুয়াওয়ে আইসিটি বিজি-র সিইও ইয়াং চাওবিন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।ফোরামে ইয়াং চাওবিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত অগ্রসর হলেও ডিজিটাল বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, "একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই এআই যুগের জন্য উচ্চগতির ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী কম্পিউটিং সক্ষমতা অপরিহার্য।" এই সংযোগ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আর্থিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ করবে বলে তিনি জানান।হুয়াওয়ের এই অর্জনের প্রশংসা করে আইটিইউ টেলিকমিউনিকেশন ডেভেলপমেন্ট ব্যুরোর পরিচালক কসমাস জাভাজাভা বলেন, ডিজিটাল ব্যবধান ঘোচাতে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল এবং টেকসই বিনিয়োগ প্রয়োজন। সর্বজনীন ও অর্থপূর্ণ সংযোগের প্রতি হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন তিনি।হুয়াওয়ের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি কৌশলের মূল স্তম্ভ দুটি—অন্তর্ভুক্তিমূলক সংযোগ এবং ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি। দক্ষতার ঘাটতি দূর করতে ‘স্কিলস অন হুইলস’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২১টি দেশে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।গ্রামীণ নেটওয়ার্ক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে এর ‘রুরালকাউ’ (RuralCow) সলিউশনের সাফল্য তুলে ধরে, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু হয়। এমটিএন নাইজেরিয়ার সহায়তায় তৈরি এই সিস্টেমটি মাত্র ১,৫০০ বাসিন্দার ছোট গ্রামেও নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে দিতে সক্ষম।ভবিষ্যতে ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করতে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ডিজিটাল বিশ্ব গড়তে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে হুয়াওয়ে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও প্রশাসনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিশু তাহিয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কারা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমন এবং অপরাধীদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফের প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের সকল মজলুম মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।