আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ব্যাংককসহ সমগ্র থাইল্যান্ডজুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে থাইল্যান্ড রয়্যাল পুলিশ ও ব্যাংকক মেট্রোপলিটন পুলিশ। ১২ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টে বিশ্বের ১৯০টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং পুরো রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে থাই কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা চালু করেছে। 'কে-নাইন' ডগ স্কোয়াডের বিশেষ মহড়া ছাড়াও থাই রয়্যাল পুলিশের প্রধানের সরাসরি নির্দেশনায় সম্মেলনস্থল—কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (QSNCC), রিসেপশন ভেন্যু 'ওয়ান ব্যাংকক ফোরাম' এবং ভিআইপি অতিথিদের জন্য নির্ধারিত ২২টি বিলাসবহুল হোটেল এলাকাকে ঘিরে ৩-স্তরের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কে-নাইন (K-9) ও অ্যান্টি-বোম্ব স্কোয়াডবোমা নিষ্ক্রিয়করণ শাখা এবং পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত কে-নাইন (K-9) ডগ স্কোয়াড ভেন্যু, পার্কিং এরিয়া, সংলগ্ন পার্ক এবং ভিআইপি হোটেলগুলোতে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। কে-নাইন দলের বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো বিস্ফোরক, অস্ত্র ও যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু শনাক্তকরণে কাজ করছে। স্মার্ট প্যাট্রোল ও ড্রোন নজরদারি ট্যুরিস্ট পুলিশ ভেন্যু ও সংলগ্ন বেনজাকিত্তি পার্ক এলাকায় স্মার্ট মোবাইল অপারেশনাল ভ্যাকিং এবং পর্যবেক্ষণ ড্রোন মোতায়েন করেছে। ছবি: সঞ্জীব চক্রবর্তী সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সম্মেলনের প্রধান ভেন্যু ও ভিআইপি হোটেলগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে সব ধরনের জনসভা, মিছিল বা বিক্ষোভ সমাবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ পরিকল্পনাব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে তীব্র যানজট এড়াতে এবং ভিআইপি কনভয় চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে 'ট্রাফিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টার (1197)' এবং ট্রাফিক পুলিশ নির্দেশিকা জারি করেছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ ব্যাংকক পুলিশ সাধারণ জনগণকে ৫টি প্রধান সড়ক এলাকা (রাচাদাফিসেক রোড, আসোক-সুকুমভিত এলাকা, রামা ৪ রোড এবং দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশের সংযোগ সড়কগুলো) খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। গণপরিবহন ব্যবহারে জোর রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ কমাতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ইলেকট্রিক ট্রেন বা বিটিএস (BTS)/এমআরটি (MRT) নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম (WFH) ও বিশেষ ছুটিট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে ব্যাংকক সিটি কর্পোরেশন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' এবং ১৬ অক্টোবর বিশেষ ছুটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।সার্বক্ষণিক হটলাইন ও পুলিশের বার্তাথাইল্যান্ড সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রশাসন সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে জরুরি পুলিশ সেবা ১৯১, ট্যুরিস্ট পুলিশ হটলাইন ১১৫৫ এবং ট্রাফিক হালনাগাদের জন্য ১১৯৭ নম্বরে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বরে চলতি বছরে সারাদেশে মৃত্যু ৩০০ ছাড়িয়ে গেল। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছুঁইছুই।সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মশাবাহিত রোগটিতে সারাদেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০৩ জন। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে গত বছর সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।
বছরজুড়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন বা পালন সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা ওই পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে বছরজুড়ে জাতীয় পর্যায়ে ১৮টি দিবস ও উৎসব পালিত হবে। পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে বা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণে সহায়ক ৩৯টি দিবস উদযাপন বা পালন করা হবে।এ ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে বা পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণে সহায়ক দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে মন্ত্রিবৃন্দ সম্পৃক্ত থাকবেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর এ পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে।এ ছাড়া বছরজুড়ে বিশেষ বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে উদযাপন বা পালন করা হবে। মন্ত্রিবৃন্দ এসব দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয় বিবেচনা করবেন। তবে উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে না।নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, উল্লিখিত ৩ ধরনের দিবস ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আরও কিছু দিবস পালন করে থাকে, যা গতানুগতিক প্রকৃতির। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিবসগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় এবং সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো এ ধরনের দিবস পালনের সঙ্গে সম্পৃক্তি পরিহার করতে পারে।এতে আরও বলা হয়, শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হবে।তবে পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ের দিবসগুলো ছাড়া সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলো হলো-১) সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। তবে রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত আকারে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। এ ছাড়া কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।২) কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত থাকবে।৩) সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।৪) নগদ কিংবা উপকরণ আকারে অর্থ বা সম্পদ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না— এমস সাধারণ ইভেন্টগুলো ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। যেমন: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, পতাকা উত্তোলন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ঘরোয়া আলোচনা সভা, রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা, পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান ইত্যাদি।৫) কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে বা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করা হবে।৬) সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে প্রাধান্য দিয়ে এরূপ দিবসসমূহ একই তারিখে একত্রে পালন করা আবশ্যক। মন্ত্রণালয় বা বিভাগসমূহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ক সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়িত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান এবং সেখানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আগামী ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে একই দিনে উদ্যানটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন এবং নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন’ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নগরবাসী এই দৃষ্টিনন্দন উদ্যানটি ব্যবহার করতে পারবেন। জুলাই শহীদ ও জুলাই বীর যোদ্ধাদের স্মরণে উদ্যানে বিশেষ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, যা আগত দর্শনার্থীদের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করার সুযোগ করে দেবে।মীর শাহে আলম জানান, নতুনভাবে সাজানো এই উদ্যানে হাঁটার পথ, পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর সুবিধা, রেস্তোরাঁ, আধুনিক লাইব্রেরি, শিশুদের খেলার সুনির্দিষ্ট স্থান, কৃত্রিম পানির ফোয়ারা ও মনোরম জলধারা রয়েছে। এছাড়া সচিবালয় সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে এবং পরিবেশ মনোরম রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।প্রস্তুতি সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন নয়, দেশের বাস্তবতা ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশে এমন দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, যারা নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। বিশেষ করে ব্যয়বহুল প্রযুক্তির সুবিধা নিতে অক্ষম মানুষের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের কাজের মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। তাই শিক্ষাজীবন শেষে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশ এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অনেক মানুষ ব্যয়বহুল প্রযুক্তি কিংবা আধুনিক সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না। তাদের প্রয়োজনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক প্রকৌশল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি পরিবারের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।এ ক্ষেত্রে আইইউটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা এমন এক সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তির কারণে প্রতিনিয়ত কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন টুল ব্যবহারে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।সমাবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্নাতকদের জন্য দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি, অভিভাবকদের জন্য ত্যাগের সার্থকতা এবং শিক্ষকদের জন্য শিক্ষার্থীদের নতুন জীবনে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের মুহূর্ত।ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গর্বের বিষয়। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি বাস্তব প্রতিফলন আইইউটি।তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনা করতে আসেন। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ওআইসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি।এবারের সমাবর্তনে মোট ৬৫৯ শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাত শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে।তাদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী পেয়েছেন ওআইসি স্বর্ণপদক। অন্য ছয় শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে আইইউটি স্বর্ণপদক। শিক্ষামন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পদক পরিয়ে দেন এবং সনদপত্র তুলে দেন।সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ।
ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি তার আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে গুরুগ্রাম পুলিশের হাতে মুক্তি পাওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় এ দাবি করেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ধ্রুব রাঠি লেখেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, অপহরণ করা হয়েছিল।’তিনি বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে অংশ নিতে গেলে হয়তো আমাকে আটক করা হতো। কিন্তু আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম, তখনই সাধারণ পোশাক পরা একদল লোক আমাকে অপহরণ করে।’ধ্রুব অভিযোগ করেন, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি পরবর্তীতে জানতে পারেন যে তার বাড়ির বাইরে ৫০ জনেরও বেশি লোক অবস্থান করছিল। তাকে কোনো সুযোগ না দিয়েই অপরাধীর মতো বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্র অনুযায়ী, রাত ৩টার দিকে রাঠিকে মুক্তি দিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে তাদের আটক করা হয়।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাতজনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা কুলসুম মনি। অভিযানে দুটি নৌকা, প্রায় ৩ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৪০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ দুটি এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ এবং কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাছ এতিমখানায় বিতরণ এবং জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ঋণের কিস্তি আদায়ে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনজিওগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বছর মতলব উত্তরে প্রায় ৯০৪ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত জেলেদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। অভিযানে আটক ১০ জনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আটজনের মধ্যে সাতজনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। সেই আফগানদের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ২৪০ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করে বোল্ড হন ইকরাম আলিখিল।এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেট পেয়েছেন হাসান। আউট করেছেন ইসমত, কায়েস ও জিয়া–উর–রেহমানকে।বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। তার দুজনেই ছিলে স্পিনার।এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।আর শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ৫টি ও এবাদত নিয়েছেন ৪টি উইকেট।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি মিলিশিয়ার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরিফ হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে।শেহবাজ শরিফ বলেন, এ ধরনের সহিংসতা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সৌদি আরব, দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পাকিস্তানের ‘অটল সংহতি’ রয়েছে।শেহবাজ আরও বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ ভারত থেকে দেশে আনা হচ্ছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।মরদেহ দেশে আসাকে কেন্দ্র করে চেকপোস্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। এ কারণে চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২১ সালে তাঁকে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়।
বছরজুড়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন বা পালন সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা ওই পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে বছরজুড়ে জাতীয় পর্যায়ে ১৮টি দিবস ও উৎসব পালিত হবে। পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে বা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণে সহায়ক ৩৯টি দিবস উদযাপন বা পালন করা হবে।এ ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে বা পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণে সহায়ক দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে মন্ত্রিবৃন্দ সম্পৃক্ত থাকবেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর এ পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে।এ ছাড়া বছরজুড়ে বিশেষ বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে উদযাপন বা পালন করা হবে। মন্ত্রিবৃন্দ এসব দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয় বিবেচনা করবেন। তবে উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে না।নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, উল্লিখিত ৩ ধরনের দিবস ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আরও কিছু দিবস পালন করে থাকে, যা গতানুগতিক প্রকৃতির। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিবসগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় এবং সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো এ ধরনের দিবস পালনের সঙ্গে সম্পৃক্তি পরিহার করতে পারে।এতে আরও বলা হয়, শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হবে।তবে পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ের দিবসগুলো ছাড়া সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলো হলো-১) সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। তবে রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত আকারে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। এ ছাড়া কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।২) কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত থাকবে।৩) সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।৪) নগদ কিংবা উপকরণ আকারে অর্থ বা সম্পদ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না— এমস সাধারণ ইভেন্টগুলো ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। যেমন: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, পতাকা উত্তোলন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ঘরোয়া আলোচনা সভা, রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা, পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান ইত্যাদি।৫) কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে বা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করা হবে।৬) সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে প্রাধান্য দিয়ে এরূপ দিবসসমূহ একই তারিখে একত্রে পালন করা আবশ্যক। মন্ত্রণালয় বা বিভাগসমূহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ক সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।শনিবার দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন, শ্রম, সময় ও অর্থের ক্ষতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার তরুণ ধারদেনা করে, টিউশনির টাকা জমিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার আশায়। পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে তা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের ভবিষ্যতের প্রতি চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ।এবি পার্টির নেতারা বলেন, ২০০টির কিছু বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ প্রার্থীর অংশগ্রহণ দেশের কর্মসংস্থান সংকটের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। প্রশ্নপত্রে সেট বা গ্রুপভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তবে তদন্তের আগেই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত না করে প্রশ্নফাঁসের উৎস, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে নিরপেক্ষভাবে শনাক্ত করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা, আমলা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।নেতৃদ্বয় আরও বলেন, পরীক্ষা বাতিলের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খাতে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কে নেবে? পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনেও জনগণের করের টাকা ব্যয় হবে। তাই শুধু পরীক্ষা বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা কিংবা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে,মন্ত্রীর দায়িত্বে অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাঁর পদত্যাগসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, চাকরি কোনো দয়া নয়,মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নাগরিকের ন্যায্য অধিকার। বেকার তরুণদের স্বপ্নকে পুঁজি করে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ব্যবসা চালাবে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে,এটি মেনে নেওয়া যায় না।তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট নির্মূল, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার প্রতি তরুণদের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।
দুই মাস আগে দেশে এসেছিলেন ছুটি কাটাতে। স্বজনদের সঙ্গে কাটিয়েছেন আনন্দঘন সময়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কর্মস্থলে ফিরতে উড়াল দিয়েছিলেন সৌদি আরবের উদ্দেশে। কিন্তু আর ফেরা হলো না বগুড়ার শাহেদ আহমেদের (৩২)। সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর এসেছে দেশে। এতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়ার মাদলা এলাকার বাড়িতে শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। তিনি বগুড়া মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা মণ্ডলপাড়ার রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। গত তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি।শাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল।পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম মিঠু প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বাবার সুবাদে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান শাহেদ। দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে শুক্রবার আবার কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। তাঁর মা তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। আগামী ১৪ অক্টোবর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বর্তমানে শাহেদের মা-বাবা দাম্মামে অবস্থান করছেন।শাহেদের বোনজামাই সাজু বলেন, ‘আমার শ্বশুরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে তাঁরা এখনো রিয়াদে যেতে পারেননি।’স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন শাহেদের স্ত্রী কাকলি আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটার দিকেও তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কথা হয়নি। সরকারের কাছে আমার চাওয়া, আমার স্বামীকে ফেরত এনে দিক।’মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, শাহেদের বাড়ি তাঁর পাশের এলাকায়। খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। সেই আফগানদের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ২৪০ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করে বোল্ড হন ইকরাম আলিখিল।এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেট পেয়েছেন হাসান। আউট করেছেন ইসমত, কায়েস ও জিয়া–উর–রেহমানকে।বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। তার দুজনেই ছিলে স্পিনার।এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।আর শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ৫টি ও এবাদত নিয়েছেন ৪টি উইকেট।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই ভক্তদের হৃদয়ে বাড়তি উন্মাদনা। বয়স বাড়লেও তার রূপের দ্যুতি আর চিরসবুজ স্টাইল যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, স্নিগ্ধ গোলাপী রঙের পোশাকে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জয়া। একটি টেবিলের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার মুখে ভেসে উঠেছে এক মায়াবী ও মিষ্টি হাসি, যা তার রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ছবির এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন এক দারুণ ব্যাখ্যা। ছবিগুলোর ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’ (এমন একটি হাসি, যার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না)। অর্থাৎ, হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ভর করা এই অনাবিল হাসিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।জয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্য ঘরে অনুরাগীরা তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মায়াবতী’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ তার এই ঝকঝকে হাসির পেছনের ইতিবাচক শক্তির প্রশংসা করেছেন। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন সুন্দর ও সাবলীল মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
সকালে বের হওয়ার আগে স্কিন কেয়ার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরামের পাশাপাশি সেই রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে সানস্ক্রিনও। তবে সানস্ক্রিন হাতে নেওয়ার পর, পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে সংখ্যাটির দিকে সবচেয়ে আগে চোখ যায়, সেটি হলো এসপিএফ—সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। কত এসপিএফ ব্যবহার করা উচিত, সেটি নিয়ে তাই প্রশ্নও থাকে অনেকের। কিন্তু তার আগে জানা দরকার, এসপিএফ আসলে কী?সহজভাবে বললে, এসপিএফ হলো সানস্ক্রিনের, সূর্যের আলো থেকে নির্গত ক্ষতিকর ইউভি বি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার একটি পরিমাপ। অন্যদিকে UVA রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু SPF-এর সংখ্যা নয়, সানস্ক্রিনটি UVA ও UVB—দুই ধরনের রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, অর্থাৎ এটি ব্রড স্পেকট্রাম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএফের সংখ্যা যত বাড়ে, UVB-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বাড়ে; তবে এই বৃদ্ধি সরলরৈখিক নয়। প্রচলিত হিসাবে SPF 15 প্রায় ৯৩%, SPF 30 প্রায় ৯৭% এবং SPF 50 প্রায় ৯৮% UVB রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। SPF 100-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৯%। অর্থাৎ SPF 30 থেকে SPF 50-এ সংখ্যাটি অনেকটা বাড়লেও UVB ফিল্টার করার হারে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে ছোট। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—SPF কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদে নিরাপদে থাকার অনুমতি নয়। অর্থাৎ SPF 30 ব্যবহার করলে SPF 15-এর তুলনায় দ্বিগুণ সময় রোদে থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সূর্যের তীব্রতা, কতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে, ঘাম, পানি এবং পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর বাস্তব সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে। তাহলে নিজের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় কী দেখা উচিত?American Academy of Dermatology-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য SPF 30 বা তার বেশি, broad-spectrum সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকলে সাধারণভাবে প্রতি দুই ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়; সাঁতার কাটা বা বেশি ঘাম হলে আরও ঘন ঘন লাগাতে হতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্যাকেজে লেখা দাবিটির পেছনে পরীক্ষার প্রমাণ আছে কি না। একটি সানস্ক্রিনের বোতলে SPF 30, 50 বা 100 লেখা থাকলেই সেই সংখ্যাটি যে বাস্তব পরীক্ষায় একইভাবে পাওয়া গেছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাটি কখন ও কোথায় হয়েছে এবং কোন ল্যাব তা করেছে—এসব তথ্যও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমারদের কাছে কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরে না। ফলে কোনো পণ্য তার প্যাকেজে করা দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন হয়ে যায়।বাংলাদেশের বাজারে কিছু ব্র্যান্ড এখন তাদের SPF পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করছে।এই জায়গায় উদাহরণ হিসেবে Skin Cafe-এর একটি সানস্ক্রিনের পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করা যায়। ব্র্যান্ডটির শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, Skin Cafe Sunscreen SPF 50 PA+++ with Vitamin C পণ্যটি তাইওয়ানের বিখ্যাত Bionest Biochemical Technology Co., Ltd থেকে পরীক্ষিত। পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.73 পাওয়া যায় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এটি WAFFEN Research Laboratory Limited-এ পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.51 পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলটি প্যাকেজে দেওয়া SPF 50 দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অর্থাৎ, সানস্ক্রিন কেনার সময় শুধু “SPF” লেখা আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। SPF-এর পাশাপাশি ব্রড স্পেক্ট্রাম সুরক্ষা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের প্রমাণ এবং পণ্যটি নিজের ত্বক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে কতটা মানানসই—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।শেষ পর্যন্ত সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু বোতলের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার, নিয়মিত পুনরায় প্রয়োগ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা—সবকিছু মিলেই কার্যকর সান প্রোটেকশন তৈরি হয়। ইমপোর্টেড হোক কিংবা লোকাল—পণ্যের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল এবং এসব তথ্য প্রকাশে ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে। আর একটি ভালো সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই তথ্য জানাটাই হতে পারে প্যাকেজের বড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ নিয়ে এলো বছরের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন শপিং ক্যাম্পেইন ‘দারাজ ১০.১০ শপিং ফেস্ট’। ক্যাম্পেইনটি ৯ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। কেনাকাটায় সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এই ক্যাম্পেইনে থাকছে প্রিপেমেন্ট ভাউচারে সর্বোচ্চ ১২% ছাড়, ব্র্যান্ড রাশ আওয়ারে আকর্ষণীয় ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট, ফ্ল্যাশ সেলে ৮০% পর্যন্ত ছাড়, হট ডিলে ৭৫% পর্যন্ত ছাড় এবং প্ল্যাটফর্মজুড়ে বিশেষ ডেলিভারি সুবিধা।১০.১০ শপিং ফেস্টে গ্রাহকরা ইলেকট্রনিক্স, ফ্যাশন, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, হেলথ অ্যান্ড বিউটি ও লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে উপভোগ করতে পারবেন দারুণ সব ডিল। ক্রেতাদের জন্য আরও রয়েছে আকর্ষণীয় মূল্যে মেগা ডিল, ফ্ল্যাশ সেলে ৮০% পর্যন্ত ছাড় এবং নির্বাচিত পণ্যে হট ডিলে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়। এছাড়া দেশজুড়ে সাশ্রয়ী অনলাইন শপিং নিশ্চিত করতে থাকছে সাইট-ওয়াইড ডেলিভারি ডিসকাউন্ট এবং ৬৪ জেলার গ্রাহকদের জন্য নির্বাচিত পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা।এবারের ক্যাম্পেইনের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো দুটি বিশেষ অফার। এর মধ্যে ‘প্রিপেমেন্ট ভাউচার’-এর মাধ্যমে কেনাকাটায় আগে মূল্য পরিশোধ করে গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন ১২% পর্যন্ত ছাড়, যা দ্রুত অর্ডার প্রসেসিং নিশ্চিত করবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য কেনাকাটায় বিশেষ ছাড় দিতে রয়েছে ‘ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার’। প্রথম ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার সেশনটি শুরু হবে ৯ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে এবং চলবে ১০ অক্টোবর রাত ২টা পর্যন্ত। পরবর্তীতে আরও তিনটি সেশন পরিচালিত হবে—১০ অক্টোবর (সারাদিন), ১৬ অক্টোবর (সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত) এবং ১৯ অক্টোবর (সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত)।ক্যাম্পেইন চলাকালীন গ্রাহকদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্র্যান্ড অ্যাক্টিভেশন ও ব্র্যান্ড ডে। ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ‘স্পিন দ্য হুইল’ ফেসবুক লাইভ সেশনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, যেখানে অংশ নিয়ে দর্শকরা জিতে নিতে পারবেন চমৎকার সব পুরস্কার। এছাড়া ১১ অক্টোবর ভিশন ব্র্যান্ড ডে, ১২ অক্টোবর লোটো ব্র্যান্ড ডে, ১৩ অক্টোবর নেসলে ব্র্যান্ড ডে, ১৪ অক্টোবর ডেটল সুপার ব্র্যান্ড ডে, ১৬ অক্টোবর ডাবর ব্র্যান্ড ডে এবং ১৭ অক্টোবর হিমালয়া ব্র্যান্ড ডে অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের বিশেষ অফার ও ছাড় থাকবে।দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে দারাজ চয়েসের মাধ্যমে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) সুবিধাও অব্যাহত থাকবে। দারাজ চয়েস থেকে কেনাকাটায় ক্রেতারা ৩টি পণ্য কিনলে ফ্রি ডেলিভারি এবং ৫টি পণ্য কিনলে একটি ফ্রি উপহারসহ ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা পাবেন।১০.১০ শপিং ফেস্টে দারাজের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। হিমালয়া, ডেটল এবং ইউনিলিভার এক্সক্লুসিভ প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে এবং গোদরেজ ও প্যারাশুট ন্যাচারেল গোল্ড স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিওকেয়ার সিলভার স্পনসর হিসেবে ক্যাম্পেইনে অংশ নিচ্ছে।কেনাকাটায় বাড়তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিতে ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় পেমেন্ট পার্টনাররা। বিকাশ ব্যবহারকারীরা মার্কেটপ্লেসে ন্যূনতম ৫৯৯ টাকার অর্ডারে উপভোগ করতে পারবেন ১২% ছাড় (সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত)। নগদ ব্যবহারকারীরাও মার্কেটপ্লেসে ন্যূনতম ৫৯৯ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ১২% ক্যাশব্যাক (সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত)। এছাড়া কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারকারীরা উপভোগ করতে পারবেন ১২% ডিসকাউন্ট (সর্বোচ্চ ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত)। পাশাপাশি, এনআরবি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডহোল্ডাররা যোগ্য ইএমআই লেনদেনে লেনদেন প্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০% ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন।অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দারাজের নামে পরিচালিত প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অননুমোদিত ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দারাজের নামে ভুয়া ‘মিস্ট্রি বক্স’ অফার এবং চাকরি বা অনলাইনে আয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দারাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দারাজ কোনো ‘মিস্ট্রি বক্স’ অফার পরিচালনা করে না। একইভাবে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার জন্য দারাজ কখনো হোয়াটসঅ্যাপ, ব্যক্তিগত মেসেজ বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে না। তাই অননুমোদিত কোনো মাধ্যমে দারাজের পরিচয়ে যোগাযোগ করা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার জন্য ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দারাজের অনুমোদিত অ্যাফিলিয়েট পেজ ও গ্রুপগুলো বৈধ অ্যাফিলিয়েটদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেগুলোর লিংক দারাজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিয়ে যায়।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন ‘স্কুল অব লিডারশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সমাজগঠনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।সাম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ড. গোলাম রাব্বানী প্রথাগত রাজনীতির বদলে পরিবেশ ও শিক্ষার মতো বিষয়ে দক্ষ রাজনৈতিক সমাজকর্মী তৈরি এবং গ্রামীণ চায়ের দোকানগুলোকে সামাজিক যোগাযোগের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভিলেজ কোর্টকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ড. গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। একটি সুনির্দিষ্ট কাজের দর্শন নিয়ে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরে এই বহুমুখী নেতৃত্ব ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করতে চান।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণ। ১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এই সম্মেলনে ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন। মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং এর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিকাশে বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন।জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিবিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে দেশের ফিনটেক খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এই সামিটের মূল লক্ষ্য। এ বছরের আলোচনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও অধিকতর মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা, গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রধান্য পেয়েছে।আয়োজনটির স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের আগামী দিনের অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারি তার ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি এসব সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন। এজন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।এ বছরের সামিটটি দুটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল ডিসকাশন, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ, একটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেইস স্টাডির সমন্বয়ে সাজানো হয়েছিল। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রকৃত প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সামিটের কিনোট সেশনগুলোতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন, পারস্পরিক সংযোগ এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংককে শূন্য থেকে দশ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।এছাড়াও সামিটের এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ ও অন্যান্য সেশনে স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা থেকে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব, নগদবিহীন লেনদেন এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে আরও দশ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েও কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো তৈরি, নতুন সেবা পরীক্ষার সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে সঠিক তদারকি এবং তথ্য ও গ্রাহক সুরক্ষার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়।দেশের ব্যাংকিং, পেমেন্টস, বীমা এবং করপোরেট খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রধান নির্বাহী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সামিটের বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে তাদের সুচিন্তিত মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। মাস্টারকার্ড, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি ও উপায়ের পাশাপাশি এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ব্রেইন স্টেশন ২৩, বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল এবং ব্যাকপেজ পিআর।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।