ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে প্রাণ গেল চারজনের। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩১ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে মশাবাহিত রোগটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৯ জন। ৩০০ ছুঁতে আর একজন বাকি। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৯৭ হাজার ৮২ জন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে গত বছর সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।
সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা হবে।দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধে৵ সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিএনপির নেতারা।বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলোচনায় আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা ও সংবিধান সংশোধনক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনাটির পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি।এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।স্থানীয় নির্বাচন ও দলের সংগঠনআসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই—সবই দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা তৃণমূলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
কমিশনের বাইরে নানা ধরনের চার্জ, জটিল হিসাব, অর্ডার বাতিলের লোকসান, অপেক্ষার মাশুল, একতরফা জরিমানা ও রিফান্ডের নামে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে। রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, বিক্রির টাকা পেতেও ১৩ দিন বা তার বেশি সময় লাগছে। এতে একদিকে বাড়ছে ব্যবসার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে মুনাফা। এমন পরিস্থিতিতে ফুডপান্ডার একতরফা ও অস্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকেরা।তাদের দাবি, কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অর্ডার গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক। এসময় চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, প্রযুক্তির বিরোধিতা করছেন না তারা। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা চান। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতিতে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ওপরও।রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হয়। ফলে কাগজে-কলমে বিক্রি ভালো দেখালেও সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকছে সামান্য অর্থ। এসব চার্জের বিস্তারিত হিসাবও সহজে বোঝা যায় না বলে দাবি তাদের।মালিকদের ভাষ্য, মাস শেষে ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব এতটাই জটিল যে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হিসাবের খাত ও কর্তনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। এতে নিজেদের বিক্রি, কমিশন ও প্রকৃত আয় যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে।অর্ডার বাতিলের লোকসান রেস্তোরাঁর, দায়ও তাদেররেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় জটিলতার কারণে অর্ডার বাতিল হলেও এর আর্থিক দায় নিতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে সেই খাবার অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সব সময় সম্ভব হয় না। এতে খাবারের পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হতে পারে।তাদের আরও অভিযোগ, সরবরাহকর্মী বা রাইডার দেরিতে খাবার সংগ্রহ করলে গ্রাহক অর্ডার বাতিল করেন। অথচ এ ধরনের পরিস্থিতিতেও রেস্তোরাঁকে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যে বিলম্বের জন্য রেস্তোরাঁ দায়ী নয়, তার খেসারতও কেন রেস্তোরাঁ মালিকদের দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা।গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনেই পাওনা টাকা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।বিক্রির টাকা পেতেও অপেক্ষারেস্তোরাঁ মালিকদের আরেকটি বড় অভিযোগ, ফুডপান্ডার মাধ্যমে বিক্রি হওয়া খাবারের টাকা পেতে ১৩ দিন বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। অথচ রেস্তোরাঁ চালাতে প্রতিদিনই কর্মচারীদের বেতন, দোকানভাড়া, কাঁচামাল কেনা, বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খরচ মেটাতে হয়। বিক্রির টাকা দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে চলতি মূলধনের সংকট তৈরি হয়। এতে নিয়মিত ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।তাদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি বাড়লেও অতিরিক্ত চার্জ ও নানা ধরনের কর্তনের কারণে প্রকৃত মুনাফা কমে গেলে সেই বিক্রির সুফল রেস্তোরাঁ মালিকেরা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে খাবারের মান বজায় রাখা, কর্মচারীদের বেতন দেওয়া ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ব্যয় বহনের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হচ্ছে।দেশীয় প্ল্যাটফর্মের কমিশন ১৫ শতাংশ, প্রশ্ন ফুডপান্ডাকে নিয়েসংবাদ সম্মেলনে দেশীয় খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম ফুডির উদাহরণ টেনে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ফুডপান্ডার ক্ষেত্রে কমিশনের বাইরে এত ধরনের চার্জ কেন থাকবে? তাদের দাবি, সব চার্জ কমিশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশন নির্ধারণ করতে হবে।রেস্তোরাঁ মালিকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—কমিশনের বাইরে সব ধরনের অতিরিক্ত চার্জ বাতিল, সহজ ও স্বচ্ছ খাতওয়ারি হিসাব দেওয়া, রেস্তোরাঁর দোষ ছাড়া অর্ডার বাতিল হলে খাবারের সম্পূর্ণ খরচ বহন, রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধ, অভিযোগ যাচাই ও রেস্তোরাঁর বক্তব্য না শুনে অর্থ কর্তন বন্ধ এবং সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে বিক্রির টাকা পরিশোধ।দাবি না মানলে ফুডপান্ডা পুরোপুরি বয়কটের হুঁশিয়ারিরেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানিয়েছে, ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো মেনে না নিলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁ মালিকেরা সম্মিলিতভাবে এ প্ল্যাটফর্মে অর্ডার গ্রহণ স্থগিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ করার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এতে ফুডপান্ডার পাশাপাশি অনলাইন অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকরাও প্রভাবিত হতে পারেন।একই সঙ্গে অনলাইন খাবার সরবরাহ খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা, যাতে বহুজাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার না হন।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকাল ৩টায়।শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল অধিদপ্তর। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নজরে আসায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর বিকাল ৩টায় পরীক্ষাটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আনুষঙ্গিক তথ্য দ্রুতই মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। আসন্ন রমজানে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে।রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, রমজান সামনে রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময়ে সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।খাদ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।খাদ্য বিভাগের জনবলসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগের কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবলসংকট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা গেলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিপাঙ্কর ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং স্বনামধন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্দোলনকারী যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করা হয়।আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির আইএনএ মার্কেটের কাছ থেকে আন্দোলনস্থলে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে গাড়িতে তোলে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে তারা জোরবাগ এলাকা থেকে দিল্লির আইএনএ মার্কেট হয়ে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজধানীতে জারি করা চরম কড়াকড়ি ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই তাদের গতিরোধ করে আটক করা হয়।এর আগে সকালে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে গুরুগাঁওয়ের বাসভবন থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।শীর্ষ সব নেতাদের একে একে আটকের পর আন্দোলনের হাল ধরেছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় প্রধান ও বিশিষ্ট ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা।
পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা মুসলিম দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগতে পারে।তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ কারণে মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহের কথা জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নেই।সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে উচ্চ পর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বাড়ছে। সৌদি আরবের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সৌদি আরব সফর করছেন।তিনি বলেন, শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফরেও বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানিসংকট মোকাবেলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও সফরে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, তরুণেরা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিলে সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী ও গুনীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।উপদেষ্টা তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তবে সবকিছুর আগে একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় ভালো মানুষ হওয়া তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আজকের অর্জনকে শেষ নয়, বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে কবি, লেখক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জীবনে যত বড়ই হও না কেন, নিজের শিকড়, পরিবার, শিক্ষক ও এলাকার কথা ভুলে যাওয়া যাবে না। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও কাজ করতে হবে। তিনি এমন একটি বৃহত্তর নোয়াখালী গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী স্বপ্ন হারাবে না, কর্মসংস্থানের অভাবে কোনো তরুণ তার সম্ভাবনা হারাবে না এবং বিপদের সময় কোনো পরিবার নিজেকে অসহায় মনে করবে না।অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আবদুল মালেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামীম আরা এবং বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মির্জা গালিব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনীতিবিদ, গুণীজন, বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। লক্ষ্য, প্রতিটি বাস ও ট্রাকের অবস্থান, গতি ও চলাচলের তথ্য এক জায়গায় আনা। এতে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, রুট মেনে চলা আর দুর্ঘটনার পর দায় নির্ধারণ সহজ হবে।উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর। তারা গাড়িতে যন্ত্র বসাবে, আর সেই যন্ত্রের তথ্য এপিআইয়ের মাধ্যমে পৌঁছাবে বিআরটিএর সার্ভারে। এ জন্য এপিআই-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে বিআরটিএ।তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ডুপনো ট্র্যাকার। দেশের পরিচিত এই ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিসের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে বিটিআরসির লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে বড় কোম্পানির গাড়ির বহর — সব ধরনের গ্রাহকই আছে তাদের।উদ্যোগের আসল চ্যালেঞ্জ ঢাকার বাইরে। জেলা শহর, মহাসড়কের পাশের টার্মিনাল আর বন্দরনগরীর ট্রাকস্ট্যান্ডে হাজারো গাড়িতে যন্ত্র বসানো এবং পরে নিয়মিত সেবা দেওয়া — কাজটা এখানেই কঠিন।ডুপনো ট্র্যাকার জানিয়েছে, দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে তাদের অফিস ও ইনস্টলেশন কেন্দ্র রয়েছে। ফলে রাজশাহী, খুলনা বা সিলেটের একজন বাসমালিককে যন্ত্র বসাতে বা সারাতে ঢাকায় আসতে হচ্ছে না। বড় বহরের ক্ষেত্রে ডিপো বা টার্মিনালে গিয়েই কাজ করছে তাদের দল।ডুপনো ট্র্যাকারের মুখপাত্র বলেন, “গণপরিবহনে জিপিএস আমাদের জন্য নতুন কাজ নয়। বিআরটিএর নির্দেশনার আগে থেকেই আমরা বাস, ট্রাক আর বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে ট্র্যাকিং সেবা দিচ্ছি। এখন সারা দেশে একসঙ্গে সেবা দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”তিনি আরও বলেন, “যন্ত্র বসানোই শেষ কথা নয়। গাড়ির তথ্য নিয়মিত বিআরটিএর সার্ভারে যাচ্ছে কি না, যন্ত্রে সমস্যা হলে কত দ্রুত সমাধান হচ্ছে — আসল পরীক্ষা সেখানেই। মালিক যেন নিজের জেলাতেই সেবা পান, আমরা সেভাবেই কাজ করছি।”নিয়ম মানার বাইরেও ট্র্যাকারে মালিকের সরাসরি লাভ আছে। গাড়ি কোথায়, কত গতিতে চলছে, কোথায় কতক্ষণ থেমেছিল — সব মোবাইলেই দেখা যায়। অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত এলাকার বাইরে গেলে সতর্কবার্তা আসে, আর গাড়ি চুরি হলে দূর থেকে ইঞ্জিন বন্ধ করা যায়। একই প্ল্যাটফর্মে এআই ড্যাশক্যাম ও ফুয়েল মনিটরিং যোগ করার সুযোগও রাখছে ডুপনো ট্র্যাকার।যাত্রীদের জন্যও এর সুফল আছে। বাসের গতি ও রুট নজরদারিতে থাকলে বেপরোয়া চালানো কমে, আর দুর্ঘটনার পর কোন গাড়ি কত গতিতে ছিল তা-ও জানা যায়।খাতসংশ্লিষ্টরা মালিকদের আগে দুটি বিষয় যাচাই করতে বলছেন: প্রতিষ্ঠানটির বিটিআরসি লাইসেন্স আছে কি না, আর নিজের এলাকায় তাদের অফিস বা সার্ভিস পয়েন্ট আছে কি না। কারণ যন্ত্র বসানোর পরেও বছরের পর বছর সেবা লাগবে। বাস-ট্রাকের জন্য ডুপনো ট্র্যাকারের সেবার বিস্তারিত পাওয়া যাবে তাদের ওয়েবসাইটে।
সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে।শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের বজ্রকণ্ঠ সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। এতে সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের হাতে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ট্যাব তুলে দেন।প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্যাব ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মান আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল হবে।ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের গুরুত্ব বিবেচনায় এ প্রশিক্ষণ ও ট্যাব বিতরণ মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জনশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হুমায়ুন কবির।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী, বিনিয়োগ সম্পর্কও শক্তিশালী। জাপান সফরে প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানো।চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সফরে বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, দেশটির বিনিয়োগে বাস্তবায়িত কয়েকটি মেগা প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করেছে।আসন্ন সফরে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি স্মরণ করেন, জাপানের জ্বালানি সংকটের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি একটি জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সম্পৃক্ততা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জাপান সরকারের আস্থা তৈরিতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন তিনি।এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ জানায়, সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ওই উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত সৌদি আরব সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি যুবরাজ প্রধানমন্ত্রীকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং খুব শিগগিরই কোনো এক সময়ে সফর করবেন।সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তাকে স্বাগত জানাবে ঢাকা।এ ছাড়া পবিত্র মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মুসলিমবিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর সুরক্ষায় কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ।সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান ও এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।শনিবার দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন, শ্রম, সময় ও অর্থের ক্ষতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার তরুণ ধারদেনা করে, টিউশনির টাকা জমিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার আশায়। পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে তা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের ভবিষ্যতের প্রতি চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ।এবি পার্টির নেতারা বলেন, ২০০টির কিছু বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ প্রার্থীর অংশগ্রহণ দেশের কর্মসংস্থান সংকটের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। প্রশ্নপত্রে সেট বা গ্রুপভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তবে তদন্তের আগেই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত না করে প্রশ্নফাঁসের উৎস, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে নিরপেক্ষভাবে শনাক্ত করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা, আমলা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।নেতৃদ্বয় আরও বলেন, পরীক্ষা বাতিলের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খাতে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কে নেবে? পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনেও জনগণের করের টাকা ব্যয় হবে। তাই শুধু পরীক্ষা বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা কিংবা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে,মন্ত্রীর দায়িত্বে অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাঁর পদত্যাগসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, চাকরি কোনো দয়া নয়,মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নাগরিকের ন্যায্য অধিকার। বেকার তরুণদের স্বপ্নকে পুঁজি করে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ব্যবসা চালাবে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে,এটি মেনে নেওয়া যায় না।তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট নির্মূল, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার প্রতি তরুণদের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।
কমিশনের বাইরে নানা ধরনের চার্জ, জটিল হিসাব, অর্ডার বাতিলের লোকসান, অপেক্ষার মাশুল, একতরফা জরিমানা ও রিফান্ডের নামে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে। রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, বিক্রির টাকা পেতেও ১৩ দিন বা তার বেশি সময় লাগছে। এতে একদিকে বাড়ছে ব্যবসার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে মুনাফা। এমন পরিস্থিতিতে ফুডপান্ডার একতরফা ও অস্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকেরা।তাদের দাবি, কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অর্ডার গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক। এসময় চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, প্রযুক্তির বিরোধিতা করছেন না তারা। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা চান। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান নীতিতে রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ওপরও।রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হয়। ফলে কাগজে-কলমে বিক্রি ভালো দেখালেও সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকছে সামান্য অর্থ। এসব চার্জের বিস্তারিত হিসাবও সহজে বোঝা যায় না বলে দাবি তাদের।মালিকদের ভাষ্য, মাস শেষে ফুডপান্ডার পাঠানো হিসাব এতটাই জটিল যে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা বুঝতে হিমশিম খেতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হিসাবের খাত ও কর্তনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। এতে নিজেদের বিক্রি, কমিশন ও প্রকৃত আয় যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে।অর্ডার বাতিলের লোকসান রেস্তোরাঁর, দায়ও তাদেররেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় জটিলতার কারণে অর্ডার বাতিল হলেও এর আর্থিক দায় নিতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে সেই খাবার অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সব সময় সম্ভব হয় না। এতে খাবারের পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হতে পারে।তাদের আরও অভিযোগ, সরবরাহকর্মী বা রাইডার দেরিতে খাবার সংগ্রহ করলে গ্রাহক অর্ডার বাতিল করেন। অথচ এ ধরনের পরিস্থিতিতেও রেস্তোরাঁকে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যে বিলম্বের জন্য রেস্তোরাঁ দায়ী নয়, তার খেসারতও কেন রেস্তোরাঁ মালিকদের দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা।গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না শুনেই পাওনা টাকা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।বিক্রির টাকা পেতেও অপেক্ষারেস্তোরাঁ মালিকদের আরেকটি বড় অভিযোগ, ফুডপান্ডার মাধ্যমে বিক্রি হওয়া খাবারের টাকা পেতে ১৩ দিন বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। অথচ রেস্তোরাঁ চালাতে প্রতিদিনই কর্মচারীদের বেতন, দোকানভাড়া, কাঁচামাল কেনা, বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খরচ মেটাতে হয়। বিক্রির টাকা দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে চলতি মূলধনের সংকট তৈরি হয়। এতে নিয়মিত ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।তাদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি বাড়লেও অতিরিক্ত চার্জ ও নানা ধরনের কর্তনের কারণে প্রকৃত মুনাফা কমে গেলে সেই বিক্রির সুফল রেস্তোরাঁ মালিকেরা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে খাবারের মান বজায় রাখা, কর্মচারীদের বেতন দেওয়া ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ব্যয় বহনের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হচ্ছে।দেশীয় প্ল্যাটফর্মের কমিশন ১৫ শতাংশ, প্রশ্ন ফুডপান্ডাকে নিয়েসংবাদ সম্মেলনে দেশীয় খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম ফুডির উদাহরণ টেনে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ফুডপান্ডার ক্ষেত্রে কমিশনের বাইরে এত ধরনের চার্জ কেন থাকবে? তাদের দাবি, সব চার্জ কমিশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশন নির্ধারণ করতে হবে।রেস্তোরাঁ মালিকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—কমিশনের বাইরে সব ধরনের অতিরিক্ত চার্জ বাতিল, সহজ ও স্বচ্ছ খাতওয়ারি হিসাব দেওয়া, রেস্তোরাঁর দোষ ছাড়া অর্ডার বাতিল হলে খাবারের সম্পূর্ণ খরচ বহন, রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধ, অভিযোগ যাচাই ও রেস্তোরাঁর বক্তব্য না শুনে অর্থ কর্তন বন্ধ এবং সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে বিক্রির টাকা পরিশোধ।দাবি না মানলে ফুডপান্ডা পুরোপুরি বয়কটের হুঁশিয়ারিরেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানিয়েছে, ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো মেনে না নিলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁ মালিকেরা সম্মিলিতভাবে এ প্ল্যাটফর্মে অর্ডার গ্রহণ স্থগিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ করার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এতে ফুডপান্ডার পাশাপাশি অনলাইন অর্ডারের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকরাও প্রভাবিত হতে পারেন।একই সঙ্গে অনলাইন খাবার সরবরাহ খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা, যাতে বহুজাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার না হন।
ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নারী দলকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪.২ ওভার হাতে রেখেই অনায়াস জয় তুলে নেয় অজিরা।টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের তোপের মুখে পড়ে নির্ধারিত ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ঋতু মনি সর্বোচ্চ ৪৫ রান (৬৩ বল) করেন। এছাড়া অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ২৯ এবং স্বর্ণা আক্তার ২১ রান যোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মেগান শুট ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। সাদারল্যান্ড ৩০ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট এবং শুট ১০ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।জবাবে ব্যাট করতে নেমে তরুণ ওপেনার ফিবি লিচফিল্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। লিচফিল্ড ৫৭ বলে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। জর্জিয়া ভল ১৯ ও বেথ মুনি ১৩ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হওয়া তরুণ বোলার হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি ২টি উইকেট শিকার করেন।একই ভেন্যুতে আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই ভক্তদের হৃদয়ে বাড়তি উন্মাদনা। বয়স বাড়লেও তার রূপের দ্যুতি আর চিরসবুজ স্টাইল যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, স্নিগ্ধ গোলাপী রঙের পোশাকে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জয়া। একটি টেবিলের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার মুখে ভেসে উঠেছে এক মায়াবী ও মিষ্টি হাসি, যা তার রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ছবির এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন এক দারুণ ব্যাখ্যা। ছবিগুলোর ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’ (এমন একটি হাসি, যার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না)। অর্থাৎ, হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ভর করা এই অনাবিল হাসিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।জয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্য ঘরে অনুরাগীরা তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মায়াবতী’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ তার এই ঝকঝকে হাসির পেছনের ইতিবাচক শক্তির প্রশংসা করেছেন। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন সুন্দর ও সাবলীল মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও দূরদর্শী চিন্তাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি স্টোরে ফাউন্ডার্স ডে উদযাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে এপেক্সের সকল পণ্যে থাকছে ২৬ শতাংশ ছাড়।এই বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে এপেক্সের সবকটি রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটাতেও। ফলে জুতা, স্যান্ডেল, লেদার ব্যাগ, বেল্ট, অ্যাকসেসরিজ ও অ্যাপারেলসহ পরিবারের সব বয়সী সদস্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পাশাপাশি, বিশেষভাবে নারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে ক্রেতারা পছন্দমত পণ্যটি বিশেষ ছাড়ে কিনতে পারবেন।নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন কালেকশন ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহের পাশাপাশি ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে বিশেষ ছাড়কে কেন্দ্র করে স্টোরগুলোতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর কেনাকাটার পরিবেশ। গত কয়েক বছরের ফাউন্ডার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনেও উৎসব, বিশেষ দিন, কিংবা বিভিন্ন মৌসুমকে মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে আসা এপেক্স পণ্য বিশেষ ছাড়ে কেনাকাটার দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারছে ক্রেতারা। এপেক্সের সঙ্গে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ পথচলাকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেইন উদযাপন করে থাকে। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী গুণগত মান ও গ্রাহকের আস্থা ভিত্তির ওপর এপেক্সেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই স্বপ্নকে স্মরণ করে এবং বিশেষ এই কেনাকাটার অভিজ্ঞতার অংশ হতে এপেক্সের নিকটস্থ আউটলেটে আসার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এপেক্স।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ নিয়ে এলো বছরের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন শপিং ক্যাম্পেইন ‘দারাজ ১০.১০ শপিং ফেস্ট’। ক্যাম্পেইনটি ৯ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। কেনাকাটায় সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এই ক্যাম্পেইনে থাকছে প্রিপেমেন্ট ভাউচারে সর্বোচ্চ ১২% ছাড়, ব্র্যান্ড রাশ আওয়ারে আকর্ষণীয় ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট, ফ্ল্যাশ সেলে ৮০% পর্যন্ত ছাড়, হট ডিলে ৭৫% পর্যন্ত ছাড় এবং প্ল্যাটফর্মজুড়ে বিশেষ ডেলিভারি সুবিধা।১০.১০ শপিং ফেস্টে গ্রাহকরা ইলেকট্রনিক্স, ফ্যাশন, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, হেলথ অ্যান্ড বিউটি ও লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে উপভোগ করতে পারবেন দারুণ সব ডিল। ক্রেতাদের জন্য আরও রয়েছে আকর্ষণীয় মূল্যে মেগা ডিল, ফ্ল্যাশ সেলে ৮০% পর্যন্ত ছাড় এবং নির্বাচিত পণ্যে হট ডিলে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়। এছাড়া দেশজুড়ে সাশ্রয়ী অনলাইন শপিং নিশ্চিত করতে থাকছে সাইট-ওয়াইড ডেলিভারি ডিসকাউন্ট এবং ৬৪ জেলার গ্রাহকদের জন্য নির্বাচিত পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা।এবারের ক্যাম্পেইনের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো দুটি বিশেষ অফার। এর মধ্যে ‘প্রিপেমেন্ট ভাউচার’-এর মাধ্যমে কেনাকাটায় আগে মূল্য পরিশোধ করে গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন ১২% পর্যন্ত ছাড়, যা দ্রুত অর্ডার প্রসেসিং নিশ্চিত করবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য কেনাকাটায় বিশেষ ছাড় দিতে রয়েছে ‘ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার’। প্রথম ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার সেশনটি শুরু হবে ৯ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে এবং চলবে ১০ অক্টোবর রাত ২টা পর্যন্ত। পরবর্তীতে আরও তিনটি সেশন পরিচালিত হবে—১০ অক্টোবর (সারাদিন), ১৬ অক্টোবর (সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত) এবং ১৯ অক্টোবর (সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত)।ক্যাম্পেইন চলাকালীন গ্রাহকদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্র্যান্ড অ্যাক্টিভেশন ও ব্র্যান্ড ডে। ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ‘স্পিন দ্য হুইল’ ফেসবুক লাইভ সেশনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, যেখানে অংশ নিয়ে দর্শকরা জিতে নিতে পারবেন চমৎকার সব পুরস্কার। এছাড়া ১১ অক্টোবর ভিশন ব্র্যান্ড ডে, ১২ অক্টোবর লোটো ব্র্যান্ড ডে, ১৩ অক্টোবর নেসলে ব্র্যান্ড ডে, ১৪ অক্টোবর ডেটল সুপার ব্র্যান্ড ডে, ১৬ অক্টোবর ডাবর ব্র্যান্ড ডে এবং ১৭ অক্টোবর হিমালয়া ব্র্যান্ড ডে অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের বিশেষ অফার ও ছাড় থাকবে।দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে দারাজ চয়েসের মাধ্যমে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) সুবিধাও অব্যাহত থাকবে। দারাজ চয়েস থেকে কেনাকাটায় ক্রেতারা ৩টি পণ্য কিনলে ফ্রি ডেলিভারি এবং ৫টি পণ্য কিনলে একটি ফ্রি উপহারসহ ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা পাবেন।১০.১০ শপিং ফেস্টে দারাজের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। হিমালয়া, ডেটল এবং ইউনিলিভার এক্সক্লুসিভ প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে এবং গোদরেজ ও প্যারাশুট ন্যাচারেল গোল্ড স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিওকেয়ার সিলভার স্পনসর হিসেবে ক্যাম্পেইনে অংশ নিচ্ছে।কেনাকাটায় বাড়তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিতে ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় পেমেন্ট পার্টনাররা। বিকাশ ব্যবহারকারীরা মার্কেটপ্লেসে ন্যূনতম ৫৯৯ টাকার অর্ডারে উপভোগ করতে পারবেন ১২% ছাড় (সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত)। নগদ ব্যবহারকারীরাও মার্কেটপ্লেসে ন্যূনতম ৫৯৯ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ১২% ক্যাশব্যাক (সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত)। এছাড়া কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারকারীরা উপভোগ করতে পারবেন ১২% ডিসকাউন্ট (সর্বোচ্চ ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত)। পাশাপাশি, এনআরবি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডহোল্ডাররা যোগ্য ইএমআই লেনদেনে লেনদেন প্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০% ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন।অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দারাজের নামে পরিচালিত প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অননুমোদিত ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দারাজের নামে ভুয়া ‘মিস্ট্রি বক্স’ অফার এবং চাকরি বা অনলাইনে আয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দারাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দারাজ কোনো ‘মিস্ট্রি বক্স’ অফার পরিচালনা করে না। একইভাবে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার জন্য দারাজ কখনো হোয়াটসঅ্যাপ, ব্যক্তিগত মেসেজ বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে না। তাই অননুমোদিত কোনো মাধ্যমে দারাজের পরিচয়ে যোগাযোগ করা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার জন্য ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দারাজের অনুমোদিত অ্যাফিলিয়েট পেজ ও গ্রুপগুলো বৈধ অ্যাফিলিয়েটদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেগুলোর লিংক দারাজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিয়ে যায়।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন ‘স্কুল অব লিডারশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সমাজগঠনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।সাম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ড. গোলাম রাব্বানী প্রথাগত রাজনীতির বদলে পরিবেশ ও শিক্ষার মতো বিষয়ে দক্ষ রাজনৈতিক সমাজকর্মী তৈরি এবং গ্রামীণ চায়ের দোকানগুলোকে সামাজিক যোগাযোগের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভিলেজ কোর্টকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ড. গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। একটি সুনির্দিষ্ট কাজের দর্শন নিয়ে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরে এই বহুমুখী নেতৃত্ব ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করতে চান।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণ। ১০ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এই সম্মেলনে ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন। মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং এর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিকাশে বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন।জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিবিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে দেশের ফিনটেক খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এই সামিটের মূল লক্ষ্য। এ বছরের আলোচনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও অধিকতর মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা, গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় প্রধান্য পেয়েছে।আয়োজনটির স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের আগামী দিনের অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারি তার ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি এসব সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন। এজন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।এ বছরের সামিটটি দুটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল ডিসকাশন, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ, একটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেইস স্টাডির সমন্বয়ে সাজানো হয়েছিল। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রকৃত প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সামিটের কিনোট সেশনগুলোতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন, পারস্পরিক সংযোগ এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংককে শূন্য থেকে দশ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।এছাড়াও সামিটের এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ ও অন্যান্য সেশনে স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা থেকে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব, নগদবিহীন লেনদেন এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে আরও দশ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েও কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো তৈরি, নতুন সেবা পরীক্ষার সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে সঠিক তদারকি এবং তথ্য ও গ্রাহক সুরক্ষার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়।দেশের ব্যাংকিং, পেমেন্টস, বীমা এবং করপোরেট খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রধান নির্বাহী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সামিটের বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে তাদের সুচিন্তিত মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। মাস্টারকার্ড, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি ও উপায়ের পাশাপাশি এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ব্রেইন স্টেশন ২৩, বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল এবং ব্যাকপেজ পিআর।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।