নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক মিসাইলের সীমা বা রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটার রাখার বাধ্যবাধকাত তুলে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। এরফলে এখন থেকে যেসব মিসাইল তৈরি করা হবে সেগুলোর রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটার থেকে বেশি থাকবে।বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন।তার কাছ থেকে এমন ঘোষণা আসল যখন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি কয়েকদিন আগে জানান, ইরানের ওপর নতুন করে যদি কোনো হামলা হয় তাহলে তাদের পাল্টা হামলা হবে ভৌগলিক সীমাবদ্ধতার বাইরে। অর্থাৎ হামলার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা মানা হবে না।রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র বলেন, মিসাইলের রেঞ্জের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ইরান কথার বদলে বাস্তবে এটি করে দেখাবে।ইরানের কাছে এখনই দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের মিসাইল আছে কি না বা অতীতে ছিল কি না সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি।বর্তমানে যে দুই হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের সীমাবদ্ধতা সেটির আওতায় রয়েছে ইউরোপের গ্রিস ও বালকান অঞ্চলের কিছু অংশ। পুরো আরব উপত্যকা এবং মিসরের বেশির ভাগ অংশ। অর্থাৎ ইরান তাদের মিসাইল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পুরোটাতেই হামলা চালাতে পারবে। এ রেঞ্জ যদি বৃদ্ধি করা হয় তাহলে তাদের মিসাইলের আওতায় চলে আসবে অন্যান্য দেশগুলোও।চলতি বছরের মার্চে ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল। যা ইরান থেকে চার হাজার কিলোমিটার দূরে। রেঞ্জেরও বাইরের অঞ্চলে মিসাইল নিক্ষেপ করায় ওই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, ইরান কি তাহলে আরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানার সক্ষম মিসাইল তৈরি করেছে কি না। যদিও দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ছোড়া তাদের দুটি মিসাইলই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের শঙ্কা, ইরান তাদের মহাকাশ পোগ্রামকে কাজে লাগিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করতে পারে।সূত্র: এপি
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা মদিনা থেকে একটি যানবাহনে করে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান।তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে আবারও এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে দুপুর ১টা থেকে রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলার শনিবার দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ দুই হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এক হাজার ৫৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৮২৪ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছে।এর আগে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বুধবার (৪ নভেম্বর) বন্ধ করা হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ৪ নভেম্বর সকাল ৮টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এক হাজার ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৯৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। একই দিনে বন্ধ হয়ে যাবার পর সকাল ১০টায় মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল এক হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি সরবরাহ ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দুই ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমে ৪৬১ মিলিয়ন ঘনফুট।পেট্রোবাংলা এর আগে জানিয়েছিল, ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত সামিটের এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময়ে টার্মিনালটির মাধ্যমে এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ বন্ধ থাকবে। ফলে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে আসা মোট ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল কিংবা স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ১০৩টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২৩ হাজার ৮৫ জন যাত্রী।শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য জানিয়েছে।বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫১টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ২১টি এবং রিয়াদ এয়ারের ২১টি ফ্লাইট রয়েছে।অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ৩০টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির, মধ্যস্থতায় ইরানসৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি ও পরিচালনাগত জটিলতায় এসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সৌদি আরবগামী ও সেখান থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বিপুলসংখ্যক যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলে আসছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হস্তক্ষেপের পর থেকে হুথিরা বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রভাব পড়েছে দেশটির আকাশসীমা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তায়। নিরাপত্তাঝুঁকি ও আকাশপথ ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন, বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটের ফ্লাইট চলাচলেও।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফের বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে কসবা পৌর শহরে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধিসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ফাঁকা গুলির শব্দও শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।আহত সাংবাদিকের নাম হারুনুর রশীদ ঢালী (৬০)। তিনি মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি। অন্য আহতরা হলেন মঈনপুর গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৪৮), বিনাউটি গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে সালমান (৩২), বায়েক গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে বাবু (৩০), আড়াইবাড়ি গ্রামের রাশেদ মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩৪) এবং কুটি ঘড়িপুর গ্রামের জীবন মুন্সির ছেলে সাকিব (১৮)। আহতদের অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজনকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৌর শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেটের আশপাশে উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। বুধবার নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের বিমানা হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে নারী ও শিশু আছে বলে জানিয়েছে হুথি বিদ্রোহী সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো।বার্তাসংস্থা সানা হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বলেছে, “সানা প্রদেশের আল-সারিয়াহতে সৌদি শত্রুদের বিমান হামলায় ১১ জন শহীদ হয়েছেন। যারমধ্যে নারী ও শিশুও আছেন। আহত ও নিহতদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে এরমধ্যে প্যারামেডিকদের ওপর দুইবার হামলা হয়েছে।”এরআগে গতকাল ইয়েমেনের তাইজের একটি বাজারে সৌদির বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন বলে জানায় হুথি বিদ্রোহীরা। তবে পরবর্তীতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দাবি করে, ওই বাজারে হুথিরা মিসাইল ছুড়েছে। এতে সেখানে ৩০ জন নিহত হয়েছেন।হামলার শিকার বাজারটির অবস্থান তাইজের আল-ওয়াজিয়া শহরে। এ শহরটি ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন।পুরো ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিতে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি বড় আকারে সামরিক অভিযান শুরু করেছে হুথি গোষ্ঠী। পাল্টা অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি আরবের সমর্থন পুষ্ট এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার, বর্তমানে যারা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। দু’পক্ষের এ তীব্র লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তাইজ প্রদেশ।বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসাবাহি শক্রবারের হামলার পর তাদের নিজস্ব সংবাদ সংস্থা সাবা-কে বলেছেন, “সৌদি শত্রু বিমান আল-ওয়াজিয়া শহরের বাজারে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।”স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় ৩০ জন নিহত ও ৮ জন আহত উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহের সন্ধান চালাচ্ছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি জানিয়েছেন, শুক্রবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি বিমান থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে।সূত্র: এএফপি
পোশাক শিল্পে কয়েক দিনের অস্থিরতায় বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।মন্ত্রী বলেন,কোনো অস্থিরতাই কাম্য নয়। কারণ একটি অস্থিরতা নতুন আরেকটি অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তবে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। তাই এই কয়েক দিনের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ দুই পা পিছিয়ে বা এগিয়ে যাবে না।পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কয়েক দিনের অস্থিরতা ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড বিচার-বিশ্লেষণ করে শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করবে। সীমান্ত হাট চালু ও স্থলবন্দরগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রম দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য দেশেরও আগ্রহ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। উভয় দেশের সম্মিলিত উদ্যোগেই কার্যক্রম পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক।নিহতরা হলেন- ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারি এলাকার মোর্শেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা (২০), তাদের ৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান রিফা এবং মোটরসাইকেল আরোহী শওকত হাসান লিখন (৪৫)।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মেলান্দহ উপজেলার শিমুলতলী থেকে যাত্রী নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। এ সময় জামালপুরগামী ট্রাকটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল চালক শওকত হাসান লিখন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর ট্রাকটি পেছন থেকে যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের মোর্শেদ আলম, তার স্ত্রী ইকরামা ও তাদের ৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান রিফা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত মোটরসাইকেল চালক শওকত হাসান লিখনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশাচালক হযরত আলী (৪২) ও যাত্রী শাকিল (১৬) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিশুদের তাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে। এটি মূলত সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।বিশ্বব্যাংক জানায়, এই উদ্যোগে গুরুত্ব পাওয়ার প্রধান কারণ হলো, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার অর্জিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই তাদের বয়সোপযোগী একটি সহজ পাঠ বুঝতে সক্ষম নয়। যেখানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এ বিষয়ে বলেন, একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মীবাহিনী গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। বিগত দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় সব শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে। নতুন এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং স্কুলে ধরে রাখতে সহায়তা করবে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে আরও ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি করবেউল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি শিক্ষা কাঠামো। যেখানে সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসা মিলে ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করে। কর্মসূচির অধীনে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদান সামগ্রী, কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানভিত্তিক প্যাকেজ চালু করা হবে। এর পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টিম লিডার তাশমিনা রহমান জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী মৌলিক শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষেধকমূলক শিখন সুবিধা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে জেলাগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে সেগুলোতে বাড়তি নজর থাকবে। সেই সাথে কর্মসূচিটি শিক্ষক ও স্কুল নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেটের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।নতুন এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত বিষয়ে মানসম্মত পাঠদানের জন্য চিকিৎসাতুল্য প্রশিক্ষণ পাবেন শিক্ষকরা। একই সাথে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, যা শিশুদের স্কুলে প্রবেশের শুরুতেই পড়ালেখায় শক্ত ভিত্তি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। আশা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির সুবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজারেরও বেশি নতুন এবং তুলনামূলক উন্নত বেতনযুক্ত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), যা সাধারণত নিম্ন-আয়ের দেশগুলোকে সহায়তায় কাজ করে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্যে এ দেশ প্রকৃত স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার অঙ্গীকার খুঁজে পায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে সারা জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।শনিবার (৭ নভেম্বর) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদেন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দুই-তিন মিনিটের মধ্যে গোটা জাতিকে চিরতরে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার উদ্যোগ তারা নিয়েছিল। আইন করে, বাকশাল করে তারা এ সমস্ত নাগরিক অধিকার জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল। এরপর তাদের নিজেদের পালটাপালটি মর্মান্তিক রক্তপাতের পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি বলেন, এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে দেশকে ঠেলে দেওয়া হয়। দেশ এক অমানিশায় ঢেকে যায়। ওই মুহূর্তে জনগণের আকুতি ছিল একটা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ, গণতন্ত্রের স্বাদ পাওয়ার জন্য। জিয়াউর রহমান তা এনে দিয়েছিলেন।তিনি আরও বলেন, ২৩ নভেম্বর এ দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বন্দি করে রাখা হয়, তখন একটি স্বাধীন জাতির স্বাধীনভাবে বিকশিত লাভের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, তা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যায়। তখন মানুষ চরম অরাজকতায় পড়ে যায়। সবখানে শঙ্কা। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান মুক্তি লাভ করেন। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে সারা জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নে উৎপাদনে আন্তর্জাতিক দরবারে মর্যাদার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বলে জানান রিজভী। তিন বলেন, তার নেতৃত্বে এই জাতি বহুদলীয় গণতন্ত্র খুঁজে পায়।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে আবারও এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে দুপুর ১টা থেকে রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলার শনিবার দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ দুই হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এক হাজার ৫৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৮২৪ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছে।এর আগে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বুধবার (৪ নভেম্বর) বন্ধ করা হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ৪ নভেম্বর সকাল ৮টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এক হাজার ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৯৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। একই দিনে বন্ধ হয়ে যাবার পর সকাল ১০টায় মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল এক হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি সরবরাহ ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দুই ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমে ৪৬১ মিলিয়ন ঘনফুট।পেট্রোবাংলা এর আগে জানিয়েছিল, ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত সামিটের এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময়ে টার্মিনালটির মাধ্যমে এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ বন্ধ থাকবে। ফলে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।
সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই আল আবীর কোল্ড স্টোরস ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশির মর্মান্তিক নিহতের ঘটনায় আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।শোকবার্তায় গোলাম পরওয়ার বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ সাত বাংলাদেশির মর্মান্তিক নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার দোয়া করছি।গোলাম পরওয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, হে মহান রব! তাদের প্রিয়জন হারানোর এই অসহনীয় শোক ও বেদনা সহ্য করার তাওফিক দান করুন। একই সঙ্গে নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।মহান আল্লাহ নিহতদের পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন এবং এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন। আমীন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফের বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে কসবা পৌর শহরে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধিসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ফাঁকা গুলির শব্দও শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।আহত সাংবাদিকের নাম হারুনুর রশীদ ঢালী (৬০)। তিনি মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি। অন্য আহতরা হলেন মঈনপুর গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৪৮), বিনাউটি গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে সালমান (৩২), বায়েক গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে বাবু (৩০), আড়াইবাড়ি গ্রামের রাশেদ মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩৪) এবং কুটি ঘড়িপুর গ্রামের জীবন মুন্সির ছেলে সাকিব (১৮)। আহতদের অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজনকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৌর শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেটের আশপাশে উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। বুধবার নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
মাত্র দুই ম্যাচ আগেই টেস্টে অভিশেষ করেছেন তাওহীদ হৃদয়। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে মাঠে নেমেই ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে দলে বিপদে ফেলেছিলেন তিনি। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তবে তৃতীয় ম্যাচেই অসাধ্য সাধন করে সমালোচকদের কঠিন জবাব দিয়েছেন তিনি।বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এতদিন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের, অপরাজিত ২১৯ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হৃদয় আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিককে ছাড়িয়ে গেছেন। ২৪২ রানের অপরাজিত থেকে দলকে লিড এনে দেন তিনি।সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় হৃদয়ের নামের পাশে ১৯০ রান। সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম ইনজুরিতে পড়ায় তাসকিনই কার্যত বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ব্যাটার। আউট হলেই শেষ।সেই তাসকিনকে নিয়েই মহাকাব্যিক এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। এক প্রান্ত ধরে ধরে ৩০৪ বলে এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটার। ২০০ রান ছোঁয়ার পথে খেলার পথে ১৯টি চার আর ৭টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়।হৃদয়ের ইনিংসে বিরাট অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। দুজনের ১১৭ রানের জুটিতেই ৩০০ পার করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জুটির ইতি টানেন জোমেল ওয়ারিকেন। এরপর তাসকিন ১২ রান করে আউট হলে ৩৮৬ রানের থামে বাংলাদেশ। ৩২ রানের লিড পায় টাইগাররা।দিনের চতুর্থ শিকারে তাইজুলকে ব্যক্তিগত ২২ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন ওয়ারিকেন। ৩০১ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে মুশফিক জোমেল ওয়ারিকেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন। এরপর লিটনও ফিরেছেন মাত্র ৮ রান করে। মুশফিকের মতো ওয়ারিকেনের বলে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত ১৬ রানে। তাতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। তার বিদায়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। ১ রানের বেশি করতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ওয়ারিকেনের তৃতীয় শিকার হন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।
আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময় মেজাজ হারিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরীমণি ওই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?’ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে সাংবাদিকদের ভিড়ের মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর বেজায় চটে যান অভিনেত্রী এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তবে যাকে উদ্দেশ্য করে পরীমণি এই অভিযোগ করেন, সেই সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে তা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কেন আপনার গায়ে হাত দেব? আমার ট্রাইপড ভেঙে দিলেন কেন?’ এ সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তির কণ্ঠেও প্রতিবাদ করতে শোনা যায়, যিনি বলেন, ‘আপনি টেনে হাত ছিলে ফেলছেন।’ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হেনস্তার শিকার ওই জাতীয় দৈনিকের ডিজিটাল বিভাগের সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি মূলত একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করতেই আদালতে এসেছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার সময় অন্য সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি আমিও তাঁর ফুটেজ ধারণ করছিলাম। ঠিক যে মুহূর্তে তিনি লিফটে উঠছিলেন, তাঁর বডিগার্ডরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এর পরও আমি ফুটেজ নেওয়া চালিয়ে গেলে, তিনি হঠাৎ আমার ফোনে হাত দেন এবং খামচে ধরে ফোনটি কেড়ে নেন। পরে আমি তাঁর হাত থেকেই ফোনটি উদ্ধার করি।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘মামলার শুনানি শেষ করে নিচে নামার পর আমাকে দেখে তিনি আবারও তেড়ে আসেন। এ সময় তিনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এলোপাতাড়ি অকথ্য ও গালিগালাজপূর্ণ ভাষায় কথা বলতে থাকেন।’এর আগে আজ সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন পরীমণি। শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন দেন আদালত।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বুধবার পরীমণির মনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। এজন্য সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। আশা করি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয় এলার্জি জনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একইসঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমণি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় ও প্রিয় মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে রুপালি পর্দায় পা রাখার পর থেকেই নিজের অসাধারণ অভিনয়, অনবদ্য সৌন্দর্য আর সাবলীল অঙ্গভঙ্গিতে কোটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আজ এ নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন।দীর্ঘ অভিনয়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্লকবাস্টার ও জনপ্রিয় সিনেমা। বর্তমানে এ অভিনেত্রী অবস্থান করছেন আমেরিকায়। পেয়েছেন দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি। মৌসুমী বলেন, মানুষ চলার পথে অনেক ভুল করে। সেই ভুলগুলোই একসময় জীবনে অনুশোচনা হয়ে ফিরে আসে। আবার ভুলও মানুষের জীবনে প্রয়োজন আছে। ভুল করলে মানুষ একসময় বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, সেই ভুল থেকে শেখারও চেষ্টা করে একসময়। আমি নিজেও হয়তো চলার পথে ভুল করেছিলাম, সেসব ভুল শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছি বলেই আমি আজ এত দূর আসতে পেরেছি। এটাও সত্যি, ভুল একজন মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে উপলব্ধি থেকে।এই অভিনেত্রী বলেন, ভুল করলে ঝামেলায় পড়তে হয়, তবে ভুল ফেস করাটাও জীবনের অংশ। ভুল-ভ্রান্তি, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এই নিয়েই তো আসলে জীবন। যে জীবনের যোদ্ধা আমি, আমরা সবাই।তিনি বলেন, আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করতাম, তখন সিনিয়র জুনিয়ররা একটা টিম হয়ে কাজ করতাম। যে কারণে আমরা খুব বেশি যে নিরাপত্তহীনতায় ভুগতাম এমনটা নয়। তবে হ্যাঁ ইন্ডাস্ট্রির মধ্য থেকে আমাকে, আমাদের শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেনি। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হয়েছে সবসময়।অভিনেত্রী বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটা রাজনীতির জায়গা। ছোট ছোট বিষয় নিয়েও রাজনীতি হয় এখানে। সেসব নোংরা রাজনীতির মধ্যে পড়ে যেতাম আমি, আমরা। যে কারণে এসব ঝামেলা এড়ানোর জন্য নিজেরাই গ্রুপ মেইনটেইন করতাম, যাতে বিপদে পড়লেও তা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করতাম আমাদের মধ্যে কোনো জেলাসি ছিল না। আর ইন্ডাস্ট্রি নারী শিল্পীদের যে খুব বেশি সম্মান দিয়েছে তা বলব না, নারী শিল্পীরা যতটুকুই পেয়েছে তাদের যোগ্যতার কারণেই পেয়েছে। হোক সেটা শ্রদ্ধেয় শাবানা, ববিতা ম্যাডাম কিংবা আমিসহ অন্যদের ক্ষেত্রে। আমি মনে করি তারা নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই সম্মান আদায় করে নিয়েছেন।
মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছে তাকে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন পূর্বাভাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন শুটিংয়েও। তার ভাষায়, নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যেন দ্বিতীয় জন্মের মতো।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়েও ঘুমাতে পারতেন না। ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন সময় পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া।এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত নাটকটির গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে ভীষণ মিস করছিলেন তানিয়া। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। তাই শুটিংয়ে ফেরাটা তার কাছে শুধু পেশাগত প্রত্যাবর্তন নয়, মানসিকভাবেও স্বস্তির। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। এ অবস্থায় কাজের চাপ থেকে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা।তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরদিনই জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক অনকোলজিস্টের কাছ থেকে আয়ু নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস শুনতে হয় তাকে। চিকিৎসক জানান, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে ঢাকায় থাকতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানিয়া। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তাতেও ছিল বিদায়ের সুর। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পাশে মা ও বোনকে দেখে কিছুটা সাহস পান।অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তানিয়া। বাবা না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবা করেছেন মা। পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল তার মৃত্যুর গুজবও। তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এখন নতুন করে জীবন ও কাজের স্বপ্ন দেখছেন তানিয়া। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এবারও সেই ভালোবাসা আর আগের উদ্দীপনা নিয়েই ক্যারিয়ারকে নতুন করে এগিয়ে নিতে চান।জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উদ্দেশেও দিয়েছেন সাহসী বার্তা। তার মতে, রোগের নাম শুনেই মনোবল হারালে চলবে না। মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি। কঠিন সময়েও আশা না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
৭৫ হাজার টাকার শাড়িকাণ্ডের জেরে করা মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় করা ওই মামলার পর বিভিন্ন সময়ে তানজিন তিশা তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন এবং ক্ষতি করার ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর মুঠোফোনে বাদীকে হুমকি দিয়ে তানজিন তিশা বলেন, ‘আমি যদি তোমার পেছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না।’ এছাড়া ডিবি পুলিশ নিয়ে বসার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বাদীর দাবি, আগের মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হলে তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন তিনি।আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তানজিন তিশা ক্ষিপ্ত হন। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হয়। মামলা তুলে না নিলে তাকে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে নিকটস্থ থানায় মামলা করতে গেলে তাকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
টানা কাজ করা, শারীরিক ও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, বয়স বাড়া ইত্যাদি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আর এটি সৌন্দর্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে উপকারী। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।১. শশাশশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে।একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।২. কাঁচা আলুআলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়।একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিশুদের তাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে। এটি মূলত সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।বিশ্বব্যাংক জানায়, এই উদ্যোগে গুরুত্ব পাওয়ার প্রধান কারণ হলো, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার অর্জিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই তাদের বয়সোপযোগী একটি সহজ পাঠ বুঝতে সক্ষম নয়। যেখানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এ বিষয়ে বলেন, একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মীবাহিনী গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। বিগত দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় সব শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে। নতুন এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং স্কুলে ধরে রাখতে সহায়তা করবে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে আরও ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি করবেউল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি শিক্ষা কাঠামো। যেখানে সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসা মিলে ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করে। কর্মসূচির অধীনে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদান সামগ্রী, কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানভিত্তিক প্যাকেজ চালু করা হবে। এর পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টিম লিডার তাশমিনা রহমান জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী মৌলিক শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষেধকমূলক শিখন সুবিধা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে জেলাগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে সেগুলোতে বাড়তি নজর থাকবে। সেই সাথে কর্মসূচিটি শিক্ষক ও স্কুল নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেটের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।নতুন এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত বিষয়ে মানসম্মত পাঠদানের জন্য চিকিৎসাতুল্য প্রশিক্ষণ পাবেন শিক্ষকরা। একই সাথে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, যা শিশুদের স্কুলে প্রবেশের শুরুতেই পড়ালেখায় শক্ত ভিত্তি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। আশা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির সুবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজারেরও বেশি নতুন এবং তুলনামূলক উন্নত বেতনযুক্ত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), যা সাধারণত নিম্ন-আয়ের দেশগুলোকে সহায়তায় কাজ করে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা মদিনা থেকে একটি যানবাহনে করে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান।তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং নিহতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক প্রভাব তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘মিনিংফুল বিজনেস ১০০’ (এমবি১০০) তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর রিটেইল ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ।জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রিয়শপকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্র দুটি হলো ‘মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ এবং ‘শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো’।প্রযুক্তিনির্ভর কমার্স ও এমবেডেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে মুদি দোকানি, ব্র্যান্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে প্রিয়শপ। এর ফলে খুচরা ব্যবসার পুরো সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য ও আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার সহজ হচ্ছে।এমবি১০০-এর অষ্টম আয়োজন এবার। বিশ্বজুড়ে যেসব উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান ব্যবসার মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনছেন এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এ তালিকার মাধ্যমে। ২০২৬ সালের তালিকার জন্য ৩০টির বেশি দেশ থেকে ৯০০-এর বেশি মনোনয়ন জমা পড়ে। সেখান থেকে সমতা, সামাজিক প্রভাব, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সক্ষমতা বিবেচনায় বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।এবারের তালিকায় স্থান পাওয়া উদ্যোক্তা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, করপোরেট টেকসই উন্নয়নবিষয়ক নেতৃত্ব এবং প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এর লক্ষ্য ব্যবসার মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া।প্রিয়শপের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য দেশের ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা। একটি মহল্লার মুদি দোকানের ব্যবসা মূলত সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চলতি মূলধনের সুবিধা পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এসব সেবা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে দোকানিদের জন্য ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, বাংলাদেশের ৫০ লাখের বেশি খুচরা দোকানিকে সেবার আওতায় আনা এবং একই ধরনের সম্ভাবনাময় বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উন্নতির সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলেছে প্রিয়শপ।এ অর্জন সম্পর্কে প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুল আলম খাঁন বলেন, ‘প্রিয়শপের শুরু থেকেই আমরা বিশ্বাস করেছি, অনগ্রসর ও অবহেলিত বাজারের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারলে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। এই স্বীকৃতি আমাদের সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু প্রিয়শপের অর্জন নয়; আমাদের টিম, বিনিয়োগকারী, অংশীদার এবং বিশেষ করে সেই সব খুচরা বিক্রেতার অর্জন, যাঁরা প্রতিদিন আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন।’এমবি১০০ তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু সম্মাননাই পায় না, বছরজুড়ে বিভিন্ন পেশাদার সহায়তা, বিনিয়োগের সুযোগ, সম্ভাব্য ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক উদ্যোক্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগও পায়।প্রিয়শপের এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা এবং খুচরা ব্যবসা খাতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় বাজারের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানও যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে, এ অর্জন তারই একটি উদাহরণ।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ‘শিশু সুরক্ষা নীতিমালা’ বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এ ছাড়া শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি ও অনুপযুক্ত স্পর্শের কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষকদের নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ এবং অপরাধে জড়িতদের ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের আহ্বান জানান তিনি।আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী।ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, এ দেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রভাবশালী আলিম, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত খোলামেলা ও আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা করা। ভুলগুলো নিজেরা সংশোধন না করলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ নেবে, যার ফলে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই অযাচিত চাপ ও সংকটের মুখে পড়তে পারে।মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অসংখ্য সিসি ক্যামেরাহীন, অনিবন্ধিত ও তদারকিহীন প্রতিষ্ঠানের অপ্রীতিকর ঘটনার চিত্র উঠে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অনুমোদন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতির বিষয়ে আজহারী বলেন, শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ ও আবেগের ধরণ বুঝে শিক্ষকদের বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত বা ভয় দেখানোর ঘটনা শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার তাগিদ দিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, প্রতিটি মাদ্রাসায় চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশ থাকতে হবে। শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আজহারী জানান, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে পুনরায় অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।পরিশেষে মিজানুর রহমান আজহারী স্পষ্ট করেন, এই পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে দ্বীনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। আলেম-ওলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।