দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন হতেই থাকবে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করা হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি আছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন খালি বাংলাদেশ ব্যাংকেই তো হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং এটা হতেই থাকবে।অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি, পছন্দ ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। আমীর খসরু বলেন, নতুন সরকারের যে প্রোগ্রাম আছে, প্রিফারেন্স আছে, যে চিন্তা-ভাবনা আছে— সবগুলো মিলিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তো পরিবর্তন হবে।তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হতে থাকবে। খুবই স্বাভাবিক এটা। এর আগে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর নিয়োগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ১২৭, ১৯৭২)–এর ১০ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার (৪) বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেবেন। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ (প্রেসিডেন্ট অর্ডার ১২৭ অব ১৯৭২) এর ১(৫) অনুযায়ী পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরকে ২০২৪ সালের আগস্টে ৪ বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র দেড় বছরের মাথায় তাকে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আবারও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভালোবাসা ও ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসেনি; বরং বিভিন্ন ‘কায়দা’ ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে তারা সেই ভোট নিয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন দাবি করেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক পালাবদল ও আদর্শ দেখেছে; কিন্তু ইসলামি আদর্শের সরকার গঠন হতে দেখেনি। এবার মানুষের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিবর্তন; বিশেষ করে যুবসমাজ তা চেয়েছিল। আমাদের সংস্কার ও পরিবর্তনের ডাকের পক্ষে ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। এটাই প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।তিনি বলেন, যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে ছিলেন। ফলাফল স্পষ্ট–তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোট পাননি।নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং করে, কায়দা করে এবং ইলেকট্রিসিটি বন্ধ করে নয়-ছয় করা হয়েছে। দেশের বহু জায়গায় আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা রক্তের বিনিময়ে ভোট চায়নি বলে কেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে, আমরা এই কায়দাগুলো এবার চিনে নিয়েছি। ভবিষ্যতে সব ঘাটে শক্ত পাহারা দেওয়া হবে।স্বল্প আসনে জয়ী হয়েও কেন সংসদে যোগ দিলেন–এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ভোটের যেটুকু মর্যাদার স্বীকৃতি হয়েছে, আমরা তার অমর্যাদা করতে পারি না। আমরা সংসদে গিয়ে নিজেদের নয়, জনগণের পক্ষে কথা বলবো এবং তাদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করবো।সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি প্লট না নেওয়া এবং ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা আমরাই প্রথম দিয়েছিলাম। সরকার আমাদের সেই পথ অনুসরণ করায় তাদের অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার সিদ্ধান্তকেও আমরা সাধুবাদ জানাই।এরপর তিনি ঢাকা-১৫ আসনের (মিরপুর-কাফরুল) ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রমজানে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। যারা চাঁদার জ্বালায় অতিষ্ঠ, তারা এখন থেকে চাঁদা দেওয়া বন্ধ করুন। কেউ বাধা দিলে আমাদের ডাকবেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।এছাড়া, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জামায়াত আমির অঙ্গীকার করেন, সুযোগ পেলে আমি মাসে একদিন সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হবো এবং তাদের সমালোচনা ও পরামর্শ শুনবো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোটের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। তারা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাঠ পর্যায়ের ৯২টি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। একরাম হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আরপিওর বিধান মেনে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্যানেল তৈরি করেনি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর দলীয় চাপ সত্ত্বেও ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি, পরে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।তিনি আরও বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনি প্রচারণা, প্রতিপক্ষকে হুমকি, পেশিশক্তির ব্যবহারসহ ব্যাপক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরিদপুর, পঞ্চগড়, মাদারীপুর ও গাজীপুরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ এবং ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা দেখা গেছে।একরাম হোসেন আরও বলেন, নির্বাচনি সহিংসতায় ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দীতে মৃত্যু ঘটেছে। ভোটের দিন খুলনা-২ আসনে একজন ভোটার নিহত হন এবং মেহেরপুর-২ আসনে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভোটের দিন চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও পঞ্চগড়ের কয়েকটি আসনে অনেক প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট অনুপস্থিত ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা ও পঞ্চগড়ে ধর্মীয় শপথের মাধ্যমে ভোট দেয়ার চেষ্টা এবং গোপন বুথে প্রবেশে বাধার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ভোলা-১ ও ঝালকাঠি-১ আসনে ফলাফল পরিবর্তন এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত।সুজন জানায়, নির্বাচনে প্রায় দুই ডজন অভিযুক্ত ঋণখেলাপি এবং কয়েকজন দ্বৈত নাগরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন, যাদের মধ্যে ৪১ জন বিএনপি এবং ৪ জন জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। এদের মধ্যে ১১ জন বিজয়ী হয়েছেন। সুজন অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন তদন্ত না করেই তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে।একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০.২৬ শতাংশ। জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২০টি (৬২.০৩%) এবং 'না' ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি (২৮.৪১%)। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ।সুজনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং সর্বাধিক সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একরাম হোসেন মন্তব্য করেছেন, জয়ী দলের নেতা ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে সাক্ষাৎ এবং অভিনন্দনের প্রচেষ্টা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ নিয়ে বিরোধ নতুন শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সুজন।
বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাতকালে এ কথা জানান।চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। মন্ত্রী অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছে। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।এ সময় মন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল এ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম এন্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।মন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে ‘প্লান অব এ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিং কো-অপারেশন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। মন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব প্রার্থীকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব এএসএম ইকবাল হাসান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৪৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীগণের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের বিধান রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থীগণের নাম, ঠিকানা সম্বলিত গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণ কর্তৃক ব্যয় বিবরণী দাখিল নিশ্চিতকরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জারিকৃত পরিপত্র-১৮ অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্ব-স্ব নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্নের তথ্য আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে হবে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেই হিসেবে আগামী ১৫ মার্চ গেজেট প্রকাশের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আর ওই দিনেই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজারের বেশি প্রার্থী।
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।
পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য এক অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি ও ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেছেন। সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি গোষ্ঠী জুলাইকে ব্যর্থ করে দিতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে।’তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ও ‘কনসেন্ট’ তৈরির খেলা চলছে, তা খুবই ভয়ংকর বার্তা দেয়!’ডাকসু ভিপি লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে আওয়ামী পারপাস সার্ভের যে তৎপরতা চলছে, সেখানে কিছু মিডিয়া সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ থাকার দাবি করছে।’সাদিক কায়েম সতর্ক করেছেন, ‘মনে রাখবেন, যদি সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল কিংবা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে বিপ্লবীদের হেনস্তা করার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়ে যায়, তবে সম্মুখসারির ছাত্রনেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ আওয়ামী বিরোধী সকল শক্তিকেই এর ভুক্তভোগী হতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বয়ং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হুকুমের আসামি হয়ে যেতে পারেন!’সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জুলাইকে ব্যর্থ করতে পতিত ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীদের অপপ্রয়াস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় জীবনে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত হয় জুলাই বিপ্লব। এই আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করা হয়।অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবসান হয় তার টানা ১৬ বছরের শাসনামলের।
মন্ত্রিপরিষদে নিয়োগ পাওয়া নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এটি প্রকাশ পায়।সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেবের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপনের আলোকে তাদের এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।এই অবস্থায় তাদের দপ্তর বণ্টনের আদেশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।নতুন ২ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মো. রাজিব আহসানকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।এ সময় উপিস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এর আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গত মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা)।জানা যায়, মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথমবার চাকরিচ্যুত, পরের বার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর সুপার নিউমারিতে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। আমন্ত্রিত বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে লোকাল হসপিটালিটি প্রদান করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের বিমানবন্দর হতে রিসিভ করে হোটেলে আনয়ন, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করানো, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন, বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার রাইট আপ ও ছবি এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সংগ্রহ করে বই আকারে একটি ডকুমেন্টেশন তৈরি করে তা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিম্নোক্তভাবে একটি কমিটি গঠন করা হলো।কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিদেশি পর্যবেক্ষক সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করা। কমিটির প্রত্যেক সদস্য তার টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যবেক্ষক প্রতিবেদন সংগ্রহপূর্বক কমিটির সদস্য-সচিবের কাছে জমা দেবেন। আগত অতিথিদের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে রাইট আপ ও ছবি সরবরাহ করবে। প্রাপ্ত পর্যবেক্ষক প্রতিবেদন ও ছবি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এছাড়া কমিটি কাজের প্রয়োজনে যে কাউকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবেন। সূত্র: বাসস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আবারও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভালোবাসা ও ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসেনি; বরং বিভিন্ন ‘কায়দা’ ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে তারা সেই ভোট নিয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন দাবি করেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক পালাবদল ও আদর্শ দেখেছে; কিন্তু ইসলামি আদর্শের সরকার গঠন হতে দেখেনি। এবার মানুষের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিবর্তন; বিশেষ করে যুবসমাজ তা চেয়েছিল। আমাদের সংস্কার ও পরিবর্তনের ডাকের পক্ষে ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। এটাই প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।তিনি বলেন, যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে ছিলেন। ফলাফল স্পষ্ট–তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোট পাননি।নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং করে, কায়দা করে এবং ইলেকট্রিসিটি বন্ধ করে নয়-ছয় করা হয়েছে। দেশের বহু জায়গায় আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা রক্তের বিনিময়ে ভোট চায়নি বলে কেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে, আমরা এই কায়দাগুলো এবার চিনে নিয়েছি। ভবিষ্যতে সব ঘাটে শক্ত পাহারা দেওয়া হবে।স্বল্প আসনে জয়ী হয়েও কেন সংসদে যোগ দিলেন–এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ভোটের যেটুকু মর্যাদার স্বীকৃতি হয়েছে, আমরা তার অমর্যাদা করতে পারি না। আমরা সংসদে গিয়ে নিজেদের নয়, জনগণের পক্ষে কথা বলবো এবং তাদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করবো।সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি প্লট না নেওয়া এবং ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা আমরাই প্রথম দিয়েছিলাম। সরকার আমাদের সেই পথ অনুসরণ করায় তাদের অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার সিদ্ধান্তকেও আমরা সাধুবাদ জানাই।এরপর তিনি ঢাকা-১৫ আসনের (মিরপুর-কাফরুল) ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রমজানে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। যারা চাঁদার জ্বালায় অতিষ্ঠ, তারা এখন থেকে চাঁদা দেওয়া বন্ধ করুন। কেউ বাধা দিলে আমাদের ডাকবেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।এছাড়া, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জামায়াত আমির অঙ্গীকার করেন, সুযোগ পেলে আমি মাসে একদিন সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হবো এবং তাদের সমালোচনা ও পরামর্শ শুনবো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মো. রতন মিয়া (প্রায় ৫০) স্থানীয় বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের কারণে তার সৎ ভাই মিলন খাঁনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল।অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মিলন খাঁনের ছেলে রতন মিয়ার ওপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা প্রশাসনকে অবহিত করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানজিন সুলতানা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আগামী মাস থেকে দেশের মাদ্রাসা পর্যায়েও ক্রিকেট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নতুন পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই স্কুল ক্রিকেট এবং মাদ্রাসা ক্রিকেট শুরু করে দেওয়ার কথা।এক পডকাস্টে তিনি বলেন, এরপর শুরু হবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটও। আমাদের অনেক খেলোয়াড় ও কোচই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতেও দেখবেন মাদ্রাসা থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে। মাদ্রাসার বড় বড় মাঠও আছে, তাই আমাদের লক্ষ্য ক্রিকেটকে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া। ছেলেদের পরীক্ষা-পরীক্ষা থাকে, সেগুলো দেখে আমরা সূচি ঘোষণা করব।গত অক্টোবরে নির্বাচনের পর আসিফ আকবর দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিসিবির বয়সভিত্তিক গ্রুপের প্রধান হিসেবে। তার পরে জাহানারা আলম নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলার পর বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঞ্জুরকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আসিফ আকবর এই প্রসঙ্গে বলেন, একটা বিচার প্রক্রিয়া তো সময় নেয়। এখন বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্জুকে বিসিবি নিষিদ্ধ করেছে, এবং যেহেতু মামলা হয়নি, এটি কোর্টের দায়িত্ব। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিবের ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে তার ফেরা আরও সম্ভবপর হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ।
গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সে ভিডিও। অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেছে পুলিশকে। যা নেটিজেনরা ভালোভাবে নেননি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াও। অভিযান চলাকালে এক কিশোরকে সপাটে চড় মারেন এক পুলিশ সদস্য। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তার-ই এক স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবস্থা, অবশ্যই সার্চ করবেন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এইটা আপনাদের কাজ। কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন কেন? এইযে হুদাই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে আপনাদের ওপর মানুষের বিশ্বাস কিংবা সম্মান নষ্ট হয়ে যায়!’ অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা আপনাদের সন্মান করতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই আপনারা সত্যিই আমাদের সেবায় নিয়োজিত। আমরা চাই আপনারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কিন্তু দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি সন্মান ও করতে হবে।’
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের শারীরিক অবস্থা ও কর্মব্যস্ততা নিয়ে অবাক করা তথ্য ফাঁস করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা গোবিন্দ নমদেব। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে শাহরুখের- এমনটা জানেন সেই অভিনেতা। তাই বিষ্ময় প্রকাশ করে বললেন, এ অবস্থাতেই ২০ ঘণ্টা কাজ করেন বলিউড কিং! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিং খানের কঠোর পরিশ্রম ও জীবনযাপন নিয়ে মুখ খোলেন গোবিন্দ নমদেব। শাহরুখের এই সহ-অভিনেতার মতে, নায়কের শরীরে নানাবিধ জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে তার শিরদাঁড়ার হাড়ের সমস্যা বেশ পুরনো। গোবিন্দ বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই এই ভেবে যে, শরীরে এত সমস্যা থাকার পরও একজন মানুষ কীভাবে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন? তিনি মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমান, আবার নিয়ম করে শরীরচর্চা ও সংলাপ মুখস্থ করেন। শারীরিক কষ্টকে উপেক্ষা করেই তিনি সব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় শাহরুখের সঙ্গে কাজ করেছিলেন গোবিন্দ নমদেব। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শাহরুখের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতার। তখনই বুঝেছিলাম, ২৪ ঘণ্টা কাজ করার ক্ষমতা যদি কারও থাকে, তবে তা শুধু শাহরুখেরই আছে। নিজের শরীর নিয়ে একদমই ভাবেন না তিনি।এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান নিজেও তার অনিয়মিত জীবনযাপনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুমাতে যান তিনি। শুটিং থাকলে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সকাল ৯টা বা ১০টার মধ্যে সেটে হাজির হন। কাজ থেকে ফিরে গোসল সেরে আবারও শরীরচর্চায় মনোযোগ দেন তিনি।
ফের এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগে কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা-পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গত বছরের ১৩ আগস্ট এক তরুণী নোবেলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নোবেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, তাঁর মা নাজমা হোসেন এবং তাঁর সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুই পরিবারের সমঝোতার মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে নোবেলের বাগদান সম্পন্ন হয়। তরুণী একদিন নোবেলের ডেমরার বাসায় দেখা করতে যান। এ সময় স্টুডিওতে আটকে রেখে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন নোবেল। সম্মতি না দিলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন নোবেল। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এর আগেও নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ মে ডেমরা থানার একটি মামলায় ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর তিনি জামিন পান।গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ইতোমধ্যে সিনেমাটির শুটিং নিয়ে বর্তমানে কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢালিউড সুপারস্টার। গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার বৌবাজার, হাওড়া ও আলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি শাকিব খানের নতুন কিছু লুকের কিছু ছবি দেখা গেল ভারতীয় বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে। ছবিতে শাকিব খানের চরিত্র অনুযায়ী নব্বই দশকের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ‘কালা জাহাঙ্গীর’-এর আদলে দেখা গেছে। অগোছালো চুল, ঘন দাড়ি-গোঁফ এবং বুক খোলা জ্যাকেটের নিচে শার্ট; যেখানে তাকে পুরোপুরি ভিন্ন এক অবতারে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। একজন সাধারণ মানুষ থেকে কীভাবে তিনি দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টারে পরিণত হন, সেই উত্তরণের গল্পই উঠে আসবে এই সিনেমায়।আনন্দবাজারের খবর, গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হাওড়ার শালিমারের একটি পরিত্যক্ত কারখানায় রাতভর সিনেমাটির মারপিট বা অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং শুরু হয়। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বৌবাজারের মাধো ভবনে চিত্রধারণ করা হয়। সেখানে বাইক নিয়ে শাকিব খানের একটি প্রবেশ দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দেয়। কলকাতার এই ধাপ শেষ করে পুরো ইউনিটের ভারতের হায়দেরাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে শাকিব খানের এই সিনেমাটিতে মেগাস্টারের বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের শরীফ সিরাজ ও মাহমুদ; কলকাতার লোকনাথ দে, পিয়ান সরকার, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য।সিনেমার চিত্রগ্রহণে রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘অ্যানিম্যাল’ খ্যাত চিত্রগ্রাহক অমিত রায় এবং শৈলেশ অবস্থী। জানা গেছে, শ্রীলঙ্কায় প্রথম লটের শুটিং শেষ হওয়ার পর এটি সিনেমার দ্বিতীয় লটের কাজ। ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে শিলিন সুলতানা প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটি চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বলিউড তারকা মালাইকা অরোরা আবারও ব্যক্তিগত জীবনের কারণে আলোচনায়। ইতালির রাজধানী রোমে ছুটি কাটাতে গিয়ে কথিত প্রেমিক হর্ষ মেহতার সঙ্গে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবিকে ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে তাদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা।গত বছর মুম্বাইয়ে গায়ক এনরিকে ইগলেসিয়াসের কনসার্টে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই মালাইকা ও হর্ষকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। এবার ইতালির ভ্রমণ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দুজনকে দেখা যায় রোমের বিখ্যাত ট্রেভি ফাউন্টেনের সামনে দাঁড়িয়ে।ছবিতে মালাইকার পরনে ছিল ওভারসাইজড কালো ট্রেঞ্চ কোট। নো মেকআপ লুক ও স্লিক হেয়ারস্টাইলে তিনি ছিলেন স্বাভাবিক অথচ স্টাইলিশ। অন্যদিকে ধূসর জ্যাকেটে হর্ষ মেহতাকেও দেখা যায় স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে। শোনা যাচ্ছে, ৩৩ বছর বয়সী উদ্যোক্তা হর্ষ মেহতার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন মালাইকা। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউই কিছু জানাননি, তবু একসঙ্গে উপস্থিতি ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে।‘ছাইয়া ছাইয়া’, ‘আনারকলি ডিস্কো চলি’, ‘মুন্নি বদনাম’–এর মতো জনপ্রিয় গানে পারফর্ম করে মালাইকা বলিউডে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় নাচের সংখ্যায় তাকে কম দেখা গেলেও শহরের নানা আয়োজনে উপস্থিতি ও ব্যক্তিগত জীবনের ঝলক তাকে সব সময়ই খবরের শিরোনামে রাখে।অর্জুনের সঙ্গে বিচ্ছেদ তবু মালাইকা বললেন...রোম ভ্রমণের এই ছবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—একি কেবল বন্ধুত্ব, নাকি সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়েছে? আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত উত্তর অজানাই থাকছে। তবে আপাতত ইতালির মনোরম পটভূমিতে মালাইকা–হর্ষের এক ফ্রেমই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রশংসায় ভাসলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমানকে নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।জাইমা রহমানকে মাটির মানুষ আখ্যা দিয়ে তিশা লেখেন, ‘বিদেশে বেড়ে উঠলেও তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সৌন্দর্য, মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে ধারণ করেন।’তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যেখানে বেড়ে উঠুক না কেন, নিজের শিকড়কে এভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রোজায় রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেন জাইমা রহমান।
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
সৌদি আরবে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে সিকদার (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হারুন সিকদার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি রহমত আলী সিকদারের নতুন বাড়ির মো. নাগু মিয়ার ছেলে। ছয় ভাই ও সাত বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২ ডিসেম্বর ছুটিতে দেশে আসেন হারুন। এক মাস পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরেন। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।স্বজনেরা জানান, ভবনের একটি চতুর্মুখী সিঁড়িতে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান হারুন। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি মেডিকেল কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।হারুনের ছোট ভাই মো. সিফাত বলেন, আমার বোনের জামাই সেখানে তার সঙ্গে আছেন। কবে নাগাদ মরদেহ দেশে আনা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নই। মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক বলেন, ঘটনাটি শুনে খুব মর্মাহত হয়েছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দেশে আনা ও দাফন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বরকতময় মাস রমজান। এটি শুধু উপবাসের মাস নয়; আত্মিক পরিশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষায় ভরা এক মহিমান্বিত সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই সাধনা মুমিনের জীবনে আনে প্রশান্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা।আত্মিক পরিশুদ্ধির আহ্বানরমজান মানেই এক পবিত্র আবহ। ভোরের সেহরি থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সৌরভে ভরপুর। এ মাসে মানুষ কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার চর্চা করে। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক বিশেষ অনুশীলন। এই এক মাসের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক শিক্ষাই যেন বছরের বাকি সময়ের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।ইফতারের আমেজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনদিনভর সিয়াম সাধনার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, খেজুর ও শরবতের সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে ইফতারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চর্চা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষারমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার প্রকৃত অর্থ। যারা সারা বছর অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ এনে দেয় এই মাস। তাই রমজানে দান-সদকা ও জাকাত প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো—এসবের মধ্য দিয়েই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়।বদলে যাওয়া নাগরিক জীবনরমজানে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দেও আসে পরিবর্তন। অফিস-আদালতের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়, বাজারে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে শেষ দশকে ঈদের আনন্দঘন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের হৃদয়ে থাকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। শান্তি, রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের কাছে ফিরে আসে এই মহিমান্বিত মাস। রমজানের সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবে গড়ে উঠবে কলুষমুক্ত, সুন্দর এক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন—এই হোক মাহে রমজানের অঙ্গীকার।
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, ফলে শরীরের তরল ক্ষতি হয় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পেশীর কার্যক্রমে। এই অবস্থায় পানিশূন্যতা এড়াতে শুধু ইফতার বা সেহরিতে পানি খাওয়া যথেষ্ট নয়, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুনসেহরি ও ইফতারের সময় মোটামুটি ৮-১০ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে একবারে খুব বেশি পানি খাওয়ার চেয়ে এতে পানি ধীরে ধীরে পান করলে শরীর তার শোষণ ভালোভাবে করতে পারে। ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, টমেটো ইত্যাদি পানি-সমৃদ্ধ। এগুলো সেহরি ও ইফতারে থাকলে শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে।ক্যাফেইন ও চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় সীমিত করুনচা, কফি ও কোলার মতো পানীয় শরীর থেকে পানি বের করে দেয় (ডাইউরেটিক প্রভাব), ফলে শরীর দ্রুত পানি হ্রাস পায়। জুস বা চিনিযুক্ত মিষ্টি পানীয়ও বেশি শর্করা থাকার কারণে ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার কম খানঅতিরিক্ত লবণ শরীরের পানির চাহিদা বাড়ায়। তাই সেহরি ও ইফতারে বেশি লবণ বা তীব্র মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে লবণের বদলে লেবু, জিরা, তুলসী ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।হালকা ও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুনরোজা যখন ভাঙবে (ইফতার), তখন একবারে অনেক পানি না গিলেই বরং ধীরে ধীরে এবং নিয়মিত পানি পান করুন। এইভাবে শরীরকে পর্যায়ক্রমে হাইড্রেটেড রাখা সহজ হয়।বাইরের তাপ বা গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে সতর্ক থাকুনযদি রোজা রাখার সময়ে সূর্যের তাপে বেশি সময় কাটে বা শারীরিক কাজ বেশি হয়, তাহলে ঘাম বের হয়ে শরীর থেকে আরও পানি ক্ষয় হতে পারে। চেষ্টা করুন সূর্যের তাপ থেকে দূরে থাকুন এবং হালকা কাজ বা বিশ্রাম নিন।ইফতার ও সেহরিতে স্যুপ বা দই রাখুনহালকা তরকারি স্যুপ বা দই পানি ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে দইতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের ত্বরণ ভালো রাখে।রোজা রাখার সময় শরীরের সিগন্যাল যেমন খুব বেশি পিপাসা, মাথাব্যথা, অতি ক্লান্তি বা কম প্রস্রাবের রং এসব লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে শরীরকে রিফ্রেশ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য এক অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি ও ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেছেন। সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি গোষ্ঠী জুলাইকে ব্যর্থ করে দিতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে।’তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ও ‘কনসেন্ট’ তৈরির খেলা চলছে, তা খুবই ভয়ংকর বার্তা দেয়!’ডাকসু ভিপি লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে আওয়ামী পারপাস সার্ভের যে তৎপরতা চলছে, সেখানে কিছু মিডিয়া সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ থাকার দাবি করছে।’সাদিক কায়েম সতর্ক করেছেন, ‘মনে রাখবেন, যদি সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল কিংবা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে বিপ্লবীদের হেনস্তা করার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়ে যায়, তবে সম্মুখসারির ছাত্রনেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ আওয়ামী বিরোধী সকল শক্তিকেই এর ভুক্তভোগী হতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বয়ং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হুকুমের আসামি হয়ে যেতে পারেন!’সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জুলাইকে ব্যর্থ করতে পতিত ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীদের অপপ্রয়াস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় জীবনে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত হয় জুলাই বিপ্লব। এই আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করা হয়।অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবসান হয় তার টানা ১৬ বছরের শাসনামলের।