দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল ও সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমান সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি।পাশাপাশি বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে শিল্প মালিকদের সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।এ ছাড়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক খাতের অপরিহার্য ও ঐতিহাসিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে খাতটির টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ ও ‘দম্ভের’ বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কথা বলেছেন। পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যের শুরুতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনারে একটি স্কুলের মার্কিন হামলায় নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন।ইরানের মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, “যখন আপনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করেন, তখন তারা সেটিকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘অঞ্চলের অনিরাপত্তা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করে”।ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্পের ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার এই হুমকি ইরানি জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে এবং ইরান আগ্রাসীদের এ জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে’।তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ এত দিনে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে যে ইরানকে চাপ দিয়ে নতিস্বীকার করানো অসম্ভব। তার দেশ ইতিহাসে কখনো আগ্রাসী ভূমিকা নেয়নি কিংবা কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি; বরং সবসময়ই শান্তির জন্য আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সমান মর্যাদার ভিত্তিতে যেকোনো সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে কোনো ধরনের শক্তি বা হুমকির ভাষা তেহরান মেনে নেবে না’।মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইরানি প্রেসিপেন্ট বলেন, ‘এই অঞ্চলে কেউই এককভাবে নিরাপদ থাকবে না। হয় আমরা সবাই মিলে নিরাপত্তা গড়ে তুলব, নয়তো সবাই মিলে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হবো।’ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না, তবে তারা ‘পারমাণবিক বিজ্ঞান’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি’ ত্যাগ করবে না বলেও মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান।ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পারমাণবিক জ্ঞানে কেবল কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার আছে- এটা ইরান মানে না। ইরান তার নিজস্ব জলসীমায় নৌপরিবহন তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে দেবে না’।আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ করতে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক বোমা ইসরায়েলের কাছে আছে, কিন্তু কখনও সেটি পরিদর্শন করা হয়নি। অথচ তারা ইরানকে পরিদর্শন করছে। ইসরায়েল মানুষ হত্যা করে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ইরান’।ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে তেহরান সরে আসবে না।এরআগে গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। পাশাপাশি আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করে আগের চেয়ে অনেক উন্নত একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ দেব? নাকি আমি এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে (ইরান) নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং তা দ্রুত করব, যাতে তারা আর কখনো মানুষ হত্যা ও দেশ ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?’ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি কি তাদেরকে এমন এক নরকে ঠেলে দেব যেখানে তাদের বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না এবং ভবিষ্যৎ মহত্ত্ব বা প্রজন্মের কোনো আশাও থাকবে না? কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের ঠিক পরেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে অন্যান্য দেশকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানও জানান তিনি।সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
দ্রুত প্রত্যাবাসনে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ চান প্রধানমন্ত্রী; জাতিসংঘে ৫ দফা প্রস্তাব, ‘বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা নয়, এবার অবসানের সময়’রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত—এ মন্তব্য করে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা করে যাওয়ার সময় নয়; বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাবের প্রথমটিতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে টেকসই সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন।তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাড়তে থাকা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। মানবপাচার, মাদকপাচার, অনলাইন ও ডিজিটাল প্রতারণা এবং অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে তাদের অনির্দিষ্টকাল রেখে দেওয়ার মধ্যে নয়; বরং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরানোর মধ্যেই সমাধান নিহিত।এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী একই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। নিউইয়র্কে ধারাবাহিক এসব বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার মূলত তিনটি বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে—রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা।রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর প্রভাব এখন শুধু মানবিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। মানবপাচার, মাদক ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিস্তারসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। ফলে সংকটটির দ্রুত সমাধান বাংলাদেশের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এবার শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান নয়, বরং প্রত্যাবাসনকেন্দ্রিক একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি সামনে এনেছে। আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও রোহিঙ্গা সংকটের এই বার্তা গুরুত্ব পেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মালিকানাধীন মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে ঢাকায় একটি অফিস খোলার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকরপোরেটেডের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করে এ আহ্বান জানায় তিনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ছাড়া, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।মেটার বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার সুযোগ-সুবিধাও উঠে আসে, বিশেষ করে মেটার প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি কীভাবে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উদ্যোক্তা, এসএমই এবং ডিজিটাল বাণিজ্যকে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।তিনি মেটাকে বাংলাদেশে একটি কার্যালয় খোলার আহ্বান জানান এবং অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া, তিনি বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা করেন।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কৃত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।গ্রেফতারের পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।প্রসিকিউশনের এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, আসামির পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।ওই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর গাজী নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।বুধবার বিকাল ৫টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তাকে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি।উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোস্তাক আহমেদ রুহী। এর আগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন। চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধীসহ একাধিক মামলা আছে।
মৎস্য অধিদফতরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মহসিন মিলন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে।সেখানে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন।ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।তিনি বলেন, আমদানির উদ্দেশ্য ওপারে তাদের ক্রয় কৃত ইলিশ রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া আমদানি খরচের লোকশান তো রয়েছে।
হারানো, চুরি বা কোনো কারণে নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃ ইস্যুর বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি যাওয়ার পর পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে মোট ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরিপত্রে বলা হয়, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে অধিদপ্তর পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ করবে।এ ছাড়া নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি দিয়েই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।জিডি যাচাইয়ে যদি প্রমাণ হয় যে ভিসা পাওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া সম্ভব না হলে আগের পাসপোর্ট বাতিল (রিভোক) করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তা হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইন্টারপোলকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে এর ডেটা পেজে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি লেখা থাকবে। একই সঙ্গে ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের হারানো বা বাতিল হওয়ার তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য, নাম, জন্মতারিখ, পিতার নাম ও মাতার নাম, সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।পরিপত্রে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে পুনঃইস্যু করা যাবে।তবে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ প্রদর্শন করা সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হিসেবে রিপোর্ট করার পর সেটি বাতিল করা হলে পরবর্তীতে পাওয়া গেলেও তা পুনরায় সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না।এ ধরনের পাসপোর্ট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত করতে হবে।পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ক্ষেত্রে জরিমানার বিষয়েও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি’র বাইরে অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না।তবে পরবর্তীতে প্রত্যেকবার হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনায় নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত আগের সব পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে। এটি জারির তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখার স্মারক নম্বর ১১৯৭-এর মাধ্যমে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদায়ন করা হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের পদায়ন করা হয়।আদেশ অনুযায়ী, ডিএমপিতে সদ্য বদলিকৃত আবুজায়েদ মো. নাজমুন নুরকে গুলশান ও মো. সালাউদ্দিনকে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।একই আদেশে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলামকে গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইন—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, এসব আইনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে। ফলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সক্ষমতা কমতে পারে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। এনএইচআরসির তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নএইচআরডব্লিউ বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) শক্তিশালী করতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, গুম প্রতিরোধ এবং আটককেন্দ্র পরিদর্শনের মতো ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।তবে সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া নতুন এনএইচআরসি আইনে কমিশনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রতিবেদন দিতে বলা যাবে। তবে ওই প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে বা প্রতিবেদন না দিলে কমিশনের নিজস্ব তদন্তের সুযোগ রয়েছে বলে আইনে উল্লেখ আছে।এইচআরডব্লিউর মতে, নতুন আইনে কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বাড়ানো এবং কমিশনের বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।গুমের তদন্তে পরিবর্তন৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা এনএইচআরসিকে দেওয়া হলেও নতুন আইনে সেই দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত বাহিনীকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থা বা আন্তঃসংস্থা তদন্ত দলের মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এ ছাড়া আটককেন্দ্র, এমনকি গোপন আটককেন্দ্রের সন্দেহ থাকলেও সেগুলো পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের যে ক্ষমতা আগের অধ্যাদেশে কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল, নতুন আইনে তা আর নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।গুমের ঘটনায় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আইনি মানদণ্ডও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে। আগের ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তা কোনো লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতেন বা জানা উচিত ছিল এবং তা প্রতিরোধ করতে পারতেন—এমন পরিস্থিতিতেও দায় নির্ধারণের সুযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।র্যাবের বদলে এসআরবি১০ সেপ্টেম্বর সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন পাস করে র্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নামে বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে।সংস্থাটির দাবি, র্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ, এমনকি নথিপত্রও নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাহিনীটির লোগোও একই রাখা হয়েছে, শুধু ‘RAB’-এর পরিবর্তে ‘SRB’ লেখা হয়েছে।এইচআরডব্লিউ বলছে, নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত মানবাধিকার সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাধীন তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখা হয়নি।নিরাপত্তা খাতে সংস্কারের আহ্বানএইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কার এবং নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা প্রয়োজন।তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহির বাইরে রাখার উদ্যোগ মানুষের আস্থা তৈরিতে সহায়ক নয়।তবে সরকারের পক্ষ থেকে এনএইচআরসি আইনকে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, নতুন আইনে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দ্রুত প্রত্যাবাসনে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ চান প্রধানমন্ত্রী; জাতিসংঘে ৫ দফা প্রস্তাব, ‘বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা নয়, এবার অবসানের সময়’রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত—এ মন্তব্য করে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা করে যাওয়ার সময় নয়; বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাবের প্রথমটিতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে টেকসই সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন।তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাড়তে থাকা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। মানবপাচার, মাদকপাচার, অনলাইন ও ডিজিটাল প্রতারণা এবং অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে তাদের অনির্দিষ্টকাল রেখে দেওয়ার মধ্যে নয়; বরং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরানোর মধ্যেই সমাধান নিহিত।এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী একই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। নিউইয়র্কে ধারাবাহিক এসব বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার মূলত তিনটি বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে—রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা।রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর প্রভাব এখন শুধু মানবিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। মানবপাচার, মাদক ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিস্তারসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। ফলে সংকটটির দ্রুত সমাধান বাংলাদেশের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এবার শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান নয়, বরং প্রত্যাবাসনকেন্দ্রিক একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি সামনে এনেছে। আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও রোহিঙ্গা সংকটের এই বার্তা গুরুত্ব পেতে পারে।
মানুষের নানা সংকটের মধ্যে এমপি-মন্ত্রীদের ‘আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রক্রিয়ায়’ বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এমন প্রতিক্রিয়া জানান।জামায়াত আমির বলেন, ‘এমপি মন্ত্রীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর আলোচনা চলছে। এই উদ্যোগ নেওয়া হলে আমরা তার কঠোর বিরোধিতা করব।’তিনি বলেন, ‘গোটা সমাজ একটা সংকটের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবো? এটা প্রশ্নই ওঠে না।‘সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যেন নেওয়া না হয়। নিলে আমরা সুস্পষ্টভাবে বিরোধিতা করবো।’শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রয়োজনে সংসদে গেছেন, বেতনের বিনিময়ে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন সবার সঙ্গে অংশীদার হতে তাদের আপত্তি থাকবে না।তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট না নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে সংসদেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।‘আমরা বলেছিলাম, সরকারি প্লট নেবো না। সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুযোগ আছে, সেটাও নেবো না। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা পেরেছি। সরকারি দলও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছি,’ বলেন তিনি।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। সংসদ সদস্যদের শাসকের মানসিকতা পরিহার করে সেবকের মানসিকতা নিয়ে কাজ করা উচিত।সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের দেওয়া নোটিশ আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা দফায় দফায় নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু সব নোটিশ আলোচনায় আনা হচ্ছে না।তিনি বলেন, একটি অধিবেশনে তেলের সংকট নিয়ে তাদের নোটিশের পর সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য নিয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি গঠনের পর মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কও কমে যায় বলে দাবি করেন তিনি।দেশের শিল্প ও বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।তিনি বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পমালিকেরা সংকটে পড়বেন এবং শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। এতে শুধু শ্রমিক নয়, তাদের পরিবারও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে।‘একজন লোক বিপদে পড়ার মানে একটা পরিবার বিপদে পড়া। তার সন্তানদের লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা- সবকিছুই বিপদে পড়ে যায়। এই জায়গাগুলো সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরা না হলে আমরা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারব না,’ বলেন তিনি।জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করা হয়েছে।কর্মসূচি বানচাল করতে কেউ আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে থাকলে তার দায় তাদের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি আগামীকাল লংমার্চ করবো, আর আজকে ককটেল ফুটাবো, বাসে আগুন দেবো, ঢাকাকে অস্থির করবো- এটা কোনো পাগলও করবে না। আমি তো চাইবো আমার কর্মসূচি সফল হোক।’জামায়াতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য যদি কেউ এ ধরনের প্যানিক পরিস্থিতি তৈরি করে থাকে, দায় তাদের।’সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, এক লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়লে এর প্রভাব শুধু গাড়িচালকের ওপর পড়ে না; পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ও বাজারদরেও এর প্রভাব পড়ে।সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরতে হবে। কখনো কোনো বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করে প্রচার করা হলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি ইন্টারভিউতে যা বলি, ফটোকার্ডে তা আসে না। মিসলিড করা হয়। কাটপিস—লেজ নাই, মাথা নাই, মাঝখান থেকে শুধু পেট উঠিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে মানুষ কনফিউজড হয়।’সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো গণমাধ্যমের ওপর অসঙ্গত আচরণ হলে সেটিও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একটি রেফারেন্স পাবে।গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যম ঠিক থাকলে রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিও শক্তিশালী থাকে।তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি সাংবিধানিক স্তম্ভ সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত না হলেও গণমাধ্যম এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।গণমাধ্যমের মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন শফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি।সাংবাদিকদের নিজেদের সংগঠনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা পেলে তাদের পক্ষে সংসদে ও সংসদের বাইরে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা সহজ হবে।বিদেশ সফরের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে সফরে গেলেও তিনি সরকারি খরচে যাননি। রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান না বলেও জানান তিনি।নিজের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি বাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি তাকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয়নি; সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলেও জানান তিনি।মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন, মোবারাক হোসাইন, মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাচিকশিল্পী ও সাংবাদিক মেহেদী হাসানের থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ‘অপারেশন নেমেসিস’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। লেখকের জন্মতিথি উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার জিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।লেখক মাতা সামছুন্নাহার বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক আশিকুর রহমান সাহেদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ডঃ এমদাদুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জিন্নুরাইন সিকদার।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রদ্যুৎ রায়, কবি মিন্টু রায়, কবি শরীফ এমদাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. একরামুল হক, বিশিষ্ট গুণীজন আবুল বাশার, গোলাম মোস্তফা এবং জিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবরুল ইসলাম,আবুল হাসান মুন, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক সজল সরকার প্রমুখ।‘অপারেশন নেমেসিস’ লেখক মেহেদী হাসানের দ্বিতীয় গ্রন্থ। বইটি প্রকাশ করেছে শোভা প্রকাশ এবং প্রচ্ছদ করেছেন মো. কামরুজ্জামান তালুকদার।থ্রিলার উপন্যাসটিতে রহস্য, বিপদ, নাটকীয়তা, কাহিনির চমক ও অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি গোপন অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, ভূগোল, রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমি, বিশ্বাসঘাতকতা এবং সময়ের চাপের মতো বিষয় উঠে এসেছে। লেখক সাবেক পুলিশ সদস্য হওয়ায় অভিযান ও অপারেশনের বিভিন্ন বর্ণনায় তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে বলে বইটির আলোচনায় উঠে আসে।উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অগ্নিভ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় তার সাহস, বিচক্ষণতা ও দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্প। রহস্য ও টানটান উত্তেজনার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও সত্যের জয়কে গল্পের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখক মেহেদী হাসান বলেন, “লেখালেখি আমার কাছে শুধু গল্প বলা নয়, বরং পাঠকের সঙ্গে একটি নতুন জগৎ তৈরি করার চেষ্টা। ‘অপারেশন নেমেসিস’ লিখতে গিয়ে থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি , দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের প্রতি অটল থাকার বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সাবেক পুলিশ সদস্য হিসেবে আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণও গল্প নির্মাণে কাজে লেগেছে। বইটি পাঠকদের ভালো লাগলে সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”তিনি আরও বলেন, “নিজের জন্মদিনে মায়ের হাতে নিজের দ্বিতীয় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের ও আনন্দের মুহূর্ত। যারা আমাকে লেখালেখিতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং আজকের আয়োজনে উপস্থিত হয়ে ভালোবাসা জানিয়েছেন, সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘অপারেশন নেমেসিস’-এর কাহিনি, চরিত্র নির্মাণ ও লেখকের উপস্থাপনার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, রহস্য, অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে বইটি পাঠকদের আকৃষ্ট করবে।লেখকের দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘অপারেশন নেমেসিস’ এখন পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া বইটি রকমারি ডট কমে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। এর আওতায় অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সী মেয়েদের রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সহসভাপতি মৌসুম আলী নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এর মেয়াদ হবে তিন বছর। তৃণমূল ও রাজধানী থেকে আগ্রহী মেয়েদের বিভিন্ন মেয়াদে রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করবে রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়ন। ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষক, খেলার উপকরণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে এবং ফেডারেশনের হয়ে খেলার জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, সারা বিশ্বে রাগবি একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশেও খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারীদের খেলাধুলায় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে মেয়েদের জনপ্রিয় ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলা শেখার সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের অঙ্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা পদাতিক।ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এবার ঐতিহাসিক এই নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুননাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।মিলনায়তনের প্রবেশপথেই প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আবারও বাবা হলেন বলিউড তারকা অভিনয়শিল্পী রণবীর সিং আর মা হলেন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) তাদের ঘর আলো করে এসেছে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।দীপিকা ও রণবীর যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় নবজাতকের পায়ের ছাপ। ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ওয়েলকাম বেবি গার্ল! ১৯/৯/২০২৬। দোয়া, দীপিকা অ্যান্ড রণবীর।’এর মধ্য দিয়ে তাদের দুই বছরের মেয়ে দোয়া পেল ছোট বোন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই দীপিকা ও রণবীরের পরিবারে নতুন অতিথি আসার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাবা-মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা ও রণবীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দোয়ার হাতে একটি ইতিবাচক গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট। তখনই জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরেই আসছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান। সন্তান জন্মের কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে একসঙ্গে দেখা যায় দীপিকা ও রণবীরকে। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তান দোয়ার জন্মের আগেও একই মন্দিরে গিয়েছিলেন তারা। সেবার ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরে যাওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল দোয়ার।এবারও সেই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবরটি এবার আর কোনো জল্পনা নয়; দীপিকা ও রণবীর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।২০১৮ সালে বিয়ে করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দোয়ার জন্ম হয়। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরও এক কন্যাসন্তান।দীপিকা পাড়ুকোন
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের পরিবেশ পুনরুদ্ধার, সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে গত ৪৬ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি খাত-সমর্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ চারা বিতরণ কর্মসূচি বনায়ন।১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা বনায়ন গত সাড়ে চার দশকে সারা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। এই দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চলতি বছর দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বনায়নের। দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের সহনশীলতা ও জলবায়ু মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।বর্তমানে সারা দেশে ১৯টি নার্সারির মাধ্যমে বনায়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব নার্সারিতে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়। বনায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ৭০:৩০ প্রজাতি বিন্যাস কৌশল, যেখানে দ্রুতবর্ধনশীল বনজ প্রজাতির পাশাপাশি দেশীয় ও ঔষধি গাছকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে বনায়ন সারা দেশের কৃষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছে। একই সঙ্গে ১১৯টি ঔষধি উদ্ভিদবাগান প্রতিষ্ঠা করেছে কর্মসূচিটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঔষধি উদ্ভিদের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিচিতি বাড়ানোর সহায়তা করা হচ্ছে।পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে, বিভিন্ন সামাজিক ও জনসমাগমস্থলে এবং পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সবুজ আচ্ছাদন বাড়িয়ে চলেছে বনায়ন। পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কাজ করছে কর্মসূচিটি।পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বনায়ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে। এর মধ্যে পাঁচবার বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।বনায়নের মুখপাত্র আহমেদ রায়হান আহসানউল্লাহ বলেন, “বনায়নের ৪৬ বছরের পথচলা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি এটি আমাদের জন্য একটি চলমান দায়িত্বও। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হওয়ায় বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি। গত ৪৬ বছর ধরে বনায়ন সারা দেশে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে আসছে। চলতি বছর আমরা দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা করেছি, যা দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”
রাজধানী ঢাকা ও এর চারপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরতলী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই করতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে থাকা ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। বুধবার এডিবির ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।এডিবি জানায়, সম্প্রতি ঘোষিত এই ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মূল লক্ষ্য হলো ওভারলোড বা অতিরিক্ত লোড থাকা সাবস্টেশন সংস্কার, পুরনো অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, কারিগরি অপচয় বা সিস্টেম লস কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে প্রায়ই যে নেটওয়ার্ক সংকট তৈরি হয়, এডিবির সমন্বিত বৃদ্ধি উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় গৃহীত এই প্রকল্প তা অনেকাংশে দূর করবে।বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেন ঝাং জানান, বাংলাদেশ যখন এক সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন শক্তিশালী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পের ফলে ঢাকা অঞ্চলের শিল্প ও বসতিগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ তৈরি হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।সংস্থাটি জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২টি নতুন সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাবোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ধারণক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের ক্ষমতা আরও ১১৫ মেগাবোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে। বিতরণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ২,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে আধুনিক ইনসুলেটেড পরিবাহী। এছাড়া দ্রুত লাইন চ্যুতি বা ত্রুটি শনাক্ত করে তা মেরামতের জন্য ৯০০টি আধুনিক ফল্ট লোকেটর সেট স্থাপন করা হবে। নদীতে টাওয়ার ও আধুনিক সুইচিং স্টেশনও এই প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হবে।বাংলাদেশ ২০২২ সালেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পটি কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে সাহায্য করবে। এজন্য এডিবি প্রায় ১৪৬.৫২ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং দিচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।বিদ্যুৎ অবকাঠামোর পাশাপাশি বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এই প্রকল্প বিশেষ জোর দেবে। ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিচালনা, পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পিবিএসগুলোর আর্থিক ভিত শক্ত হবে, যা পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে। প্রকল্পটিতে নারীদের কর্মসংস্থান ও কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও বিশেষ পদক্ষেপ থাকছে।ঢাকার উপকণ্ঠের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই মহাপরিকল্পনায় মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসছে দেশীয় উৎস থেকেও। এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। তাছাড়া কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সহায়তায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক এই উন্নয়ন ব্যাংকটির এই নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে।মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে জেআইএমের নিজস্ব অভিযান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথগুলোতে আটক করা হয়েছে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর আটক করা হয়েছে।লোকমান এফেন্দি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান চালানো হয়েছে।সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট শ্রী কলামে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম)-এর সদস্যরাও অংশ নেন।ফ্ল্যাট শ্রী কলামের অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে।লোকমান এফেন্দি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি বা আবাসিক স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। একইভাবে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।জেআইএমের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকমান এফেন্দি।তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সম্ভব হলে ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।লোকমান এফেন্দি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মালয়েশিয়ার জনগণের সচেতনতা ও উদ্বেগকে তারা গুরুত্ব দেন। তবে কোনো ব্যক্তি নিজে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম দেখলে নিজেরা ব্যবস্থা নেবেন না। বরং পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সম্ভব হলে ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন। এতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেশটিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তা ও আবাসনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জোরদার করা হচ্ছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বৃহৎ পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন কাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নতুন এআই কম্পিউটিং সল্যুশন অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড উন্মোচন করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।সম্প্রতি সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬-এ হুয়াওয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড ও রোটেটিং চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং তাঁর মূল প্রবন্ধে এ সল্যুশনটি উন্মোচন করেন।“অ্যাডভান্সিং দ্য এজেন্টিক ওয়ার্ল্ড” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পখাতের নেতা, গ্রাহক, সহযোগী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞগণ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এআই, ডিজিটাল সংযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বুদ্ধিমান ও উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড উন্নত এআই মডেল তৈরি ও পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। শক্তিশালী কম্পিউটিং সক্ষমতা, উন্নত জ্বালানি দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ও পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।এর পাশাপাশি হুয়াওয়ে অ্যাটলাস ৯৫০ সুপারপডও উন্মোচন করেছে। সুপারপডভিত্তিক সুপারক্লাস্টারগুলো হুয়াওয়ের পিরিয়াম কম্পিউটিং আর্কিটেকচারের প্রথম প্রজন্মের পণ্য। এগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ১০ লাখ প্রসেসর একসঙ্গে একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করতে পারে।এ তালিকায় আরও রয়েছে সাধারণ কম্পিউটিংয়ের জন্য উন্নত তাইশান ৯৫০ সুপারপড এবং এআই-সম্পর্কিত ডেটার চাহিদা পূরণে তৈরি স্টোরেজ সল্যুশন ওশানস্টোর এম৯০০। এসব সল্যুশন বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানকে ক্রমবর্ধমান ডেটা ব্যবস্থাপনা, কম্পিউটিং দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআইয়ের বাস্তব প্রয়োগ ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।এ ছাড়া, হুয়াওয়ে জানিয়েছে যে তাদের ক্যান (CANN) প্ল্যাটফর্ম এখন ওপেন সোর্স। এর মাধ্যমে ডেভেলপার, অংশীদার এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি কমিউনিটি এআই উদ্ভাবনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন।হুয়াওয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড ও রোটেটিং চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং বলেন, “হুয়াওয়েতে আমরা শক্তিশালী এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কম্পিউটিং ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে ওপেন সোর্স ও ওপেন সিস্টেমকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এআই উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে এবং বুদ্ধিমান বিশ্বের পথে এগোতে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব।”টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা, উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন, জনসেবা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হুয়াওয়ে বিশ্বজুড়ে গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।