বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হকের পদত্যাগের দাবিতে সরকারকে দ্বিতীয় দফায় আলটিমেটাম দিয়েছে।তাদের দাবি, আজ বুধবার রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পরে সেখান থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে ‘লংমার্চ’ করা হবে।বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। ঘোষণার পর তারা শাহবাগ ছেড়ে চলে গেলে সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।আন্দোলনকারীদের পক্ষে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাস্তা আটকে থাকায় জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা মানুষের ভোগান্তি চাই না। তাই আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করছি। আমাদের দাবি একটাই, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আজ (বুধবার) রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ‘লংমার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করব।অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরে সেখান থেকে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হবেন শিক্ষার্থীরা।তিন দফা দাবিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এতে শাহবাগ হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন।বিকেল ৪টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। সেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে শাহবাগের উদ্দেশে রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীবান্ধব পাঁচটি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।পোস্টে তিনি জানান, বুধবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের ২ হাজার ৫৮৩টি কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে উদ্ভূত জটিলতা মোকাবিলায় সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে।উদ্যোগগুলো হলো—১. বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বার্থ বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।২. কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩. প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।৪. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।৫. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।পোস্টে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় কাজ করছে।এতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানি বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ এবং এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি শূন্য দশমিক সাত শতাংশ বা ৫৮ সেন্ট বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও শূন্য দশমিক চার শতাংশ বা ৩৫ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম দুই শতাংশ বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই তেলের ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করছে। বিশ্ববাজারে তেলের পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বাড়লে কিংবা ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নতুন কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা এলে তা বাজারকে দ্রুত সংকুচিত করে তুলবে। উল্লেখ্য যে বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর কট্টরপন্থী এক হিন্দু ধর্মগুরুর পক্ষ থেকে অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার দাবি সামনে এসেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অযোধ্যার কট্টরপন্থী ধর্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য এক বক্তব্যে দাবি করেন, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ও বহনের কথাও বলেন তিনি।সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে আইনি প্রক্রিয়ায় গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।পরমহংস আচার্যের অভিযোগ, আমিরের তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, একই বক্তব্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরমহংস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আমির খান বা তার টিমের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।তবে জানা গেছে গৌরি হিন্দু নন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। সূত্র: সামা টিভি
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ ১২ জন জেলা রেজিস্ট্রারকে পদোন্নতি দিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে পদায়ন করেছে।সম্প্রতি আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪০,০০০-৫৩,১৭০ টাকা বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে নিবন্ধন ক্যাডারভুক্ত সহকারী পরিদর্শক (আইআরঅ্যান্ডএস) পদ থেকে সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, মো. মোহছেন মিয়া (বরিশাল), মো. খন্দকার জামীলুর রহমান (চট্টগ্রাম), দীপক কুমার সরকার (পাবনা), মো. হেলাল উদ্দিন (ঠাকুরগাঁও), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (টাঙ্গাইল), মুনসী মোখলেছুর রহমান (ঢাকা), মো. আবদুল মালেক (নেত্রকোণা), মুহাম্মদ আবু তালেব (যশোর), মহসীন আলম (ঝালকাঠি), মোহা: আবদুল হাফিজ (নারায়ণগঞ্জ), মো. মিজানুর রহমান (খুলনা) এবং মো. আব্দুল বারী (জয়পুরহাট)।
আটলান্টা স্টেডিয়াম সুবিশাল। মিডিয়া সেন্টার থেকে প্রেস কনফারেন্স কক্ষে যেতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত ঐতিহাসিক। এরপর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ। তাই সংবাদ সম্মেলন কক্ষ পুরোপুরি পূর্ণ।ইংল্যান্ডের বেসক্যাম্প কানসাস। তারা সেখানে দুপুরে অনুশীলন করে আটলান্টা রওনা হয়েছে। আটলান্টা সময় বিকেল ছয়টায় তাদের প্রেস কনফারেন্স থাকলেও আধ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের সম্মেলন দেরি হওয়াই এর কারণ।আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে কালকের ম্যাচের পাশাপাশি দুই দলের ঐতিহাসিক দ্বৈরথ নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। আধ ঘণ্টা সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিক। টেকনিক্যালি কোনো বিষয় নয়, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থন নিয়ে তিনি স্কালোনির কাছে জানতে চান। এনিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘আসলে আমরা বিস্মিত, এত দূর থেকে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনাকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অনেকে। এটা আসলেই অনেক অসাধারণ ও সুন্দর বিষয়। আশা করি আমরা আগামীকাল ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।’বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থন দীর্ঘদিন থেকেই। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উন্মাদনা নিয়ে নিজেই মন্তব্য করেছিলেন। এবার আর্জেন্টিনার ম্যাচের মিক্সড জোনে এমিলিয়েনো মার্টিনেজ, সংবাদ সম্মেলনে ব্রুনো গিমারেস বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন।বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না। এরপরও বাংলাদেশের সমর্থকদের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের জন্য বিশ্বকাপে আলোচনা হয়। না খেলেও তাই বিশ্বকাপের অংশ হয় বাংলাদেশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে।বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রসিকিউশন ও তদন্ত বিভাগ যৌথভাবে ১১৪ জন শহীদের কবর সরেজমিনে পরিদর্শন করে।পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যারা মনে করছেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে গেছেন, তাদের সেই ধারণা ভুল।এ পর্যন্ত প্রায় ৮৬৫ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। অনুসন্ধানে শহীদের সংখ্যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ১৪শর বেশি হতে পারে বলেও জানান তিনি।আমিনুল ইসলাম আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রসিকিউশন ও তদন্ত দল নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন গণকবর পরিদর্শন করবে। একই সঙ্গে যেসব পরিবার এখনো তাদের স্বজনের মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি, তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে জমজমাট লড়াই হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছিল স্পেন-ফ্রান্স মহারণ। তবে লড়াইয়ের দিনে দুর্ভেদ্য ডিফেন্স, নিখুত পাসিং,ক্ষিপ্র অ্যাটাক-সব মিলিয়ে শৈল্পিক ফুটবলে ফ্রান্স দাঁড়াতেই দেয়নি স্পেন।ডালাসে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে কোনো পাত্তাই পায়নি ফ্রান্স। তাদেরকে অনায়াসে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে সফল পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারজাবালের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যাওয়ার পর তাদের হয়ে ব্যবধান বাড়ান পেদ্রো পোরো।অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল লা রোহারা।ম্যাচের শুরু থেকে একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে খেলার চেষ্টা করে। ১০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি–কিক পেয়েছে স্পেন। তবে ফ্রি–কিকটি কাজে লাগাতে পারেনি। এরপর ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর লামিনে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোল হজমের পরও ছন্দে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বরং ৩১তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তাদের নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া।প্রথমার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ৩৯তম মিনিটে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বিত আক্রমণের পর ফাবিয়ান রুইজ বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। অন্যদিকে ফ্রান্সের সেরা সুযোগ আসে ৪৩তম মিনিটে। একা গোলমুখে ছুটে যাওয়া এমবাপ্পের সামনে দ্রুত বেরিয়ে এসে দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে স্পেন। ফ্রান্স আক্রমণে উঠলেও সেগুলো সহজেই সামলে দেয় স্প্যানিশ রক্ষণভাগ।৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লা রোজা। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে মাইক মেইনিয়াঁকে পরাস্ত করেন ডান-ব্যাক পেদ্রো পোরো। ৬২তম মিনিটে লামিনে ইয়ামাল আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দিদিয়ের দেশম একের পর এক পরিবর্তন আনেন। দেজিরে দুয়ে, থিও হার্নান্দেজ ও রায়ান শেরকিকে মাঠে নামিয়েও আক্রমণে ধার ফেরাতে পারেননি। এমবাপ্পেও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। একাধিকবার অফসাইডে ধরা পড়েন তিনি, ৮৭তম মিনিটে হতাশা থেকে উনাই সিমনের ওপর ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখেন।শেষদিকে ওসমান দেম্বেলের শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। যোগ করা সময়ে এমবাপ্পের আরেকটি শটও বার অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান কমাতে পারেনি ফ্রান্স।পুরো ম্যাচে আক্রমণ, বলের দখল এবং সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে থাকা স্পেন শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে লা রোজা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে টানা ২৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহী থেকে সারাদেশে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় পরিবহন শ্রমিকদের বিবদমান দুই পক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর টার্মিনাল থেকে যানবাহন ছাড়তে শুরু করে। এর আগে সোমবার রাত ৮টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।পরিবহন শ্রমিক সূত্র জানায়, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানায়। তবে জেলা প্রশাসক সেই দাবি নাকচ করে নিজেই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন এবং সেখানে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন।প্রশাসনের এই প্রস্তাবে শ্রমিকদের একাংশ অসম্মতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। এরই জেরে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিন সমর্থিত শ্রমিক গ্রুপের বিরোধে সোমবার রাত থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীকে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেন।মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় যে, মোমিন গ্রুপের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনী কমিটিতে নজরুল ইসলাম হেলাল থাকবেন না। নির্বাচনটি জেলা প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নির্বাচনের আগ পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুই পক্ষের চারজন করে মোট আট সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমঝোতার পর বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও শ্রমিক নেতা লিটন আলীর আপত্তির কারণে তা বিলম্বিত হয়। লিটন আলী ও তার অনুসারীরা ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাস চলবে না’ মর্মে টার্মিনাল এলাকায় মাইকিং শুরু করলে ফের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে রাত ১০টার দিকে সব পক্ষ পুনরায় একমত হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা লিটন আলী জানান, সাধারণ শ্রমিকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে সমঝোতা অনুযায়ী আপাতত বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সংকট নিরসনে রাতে আবারও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী বিরোধের অবসান ঘটবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র এক ‘দস্যু রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে।লন্ডন থেকে প্রকাশিত আশারাক আল–আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব ধরনের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।লুলা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ দেশ, যে দেশকে আমি দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি বলে বিশ্বাস করি, তারা এখন নিজেরাই জলদস্যু হয়ে উঠতে পারে না।’অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ সঠিক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও সুরক্ষিত চলাচল নিশ্চিত করে যে পক্ষ, তার এই সেবার জন্য পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। ইরান সবসময়ই এই প্রণালীর অভিভাবক ছিল এবং চিরকাল থাকবে। অবশ্যই ২০ শতাংশ অনেক বেশি। আমরা ন্যায্য থাকব।’গতকাল সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি হরমুজ প্রণালীর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ কার্যকর করবেন এবং ওই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত সব ধরনের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় বহন করছে, সেই ব্যয় মেটাতেই এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।ট্রাম্প লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী খোলা আছে এবং ইরান থাকুক বা না থাকুক, এটি খোলাই থাকবে। আমরা ইরানিয়ান ব্লকেড পুনর্বহাল করছি, যার এই নাম কারণ এটি শুধু ইরানের জাহাজ অথবা ইরানের গ্রাহকদের প্রবেশ বা প্রস্থান ঠেকায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের এই অত্যন্ত অস্থিতিশীল অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে কোনো এবং সব ধরনের ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ হারে সব কার্গো জাহাজ থেকে অর্থ ফেরত পাবে।’মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।এর আগে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প একই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রণালীটি রক্ষা করব এবং সম্ভবত আমরা এটি পরিচালনাও করব। আমরা এই প্রণালীর অভিভাবক হয়ে উঠব। হয়তো আমরা নিজেদের হরমুজ প্রণালির অভিভাবক বলব। আর এর জন্য আমাদের পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত।’বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রণালীটিতে ইরানের কার্যকর অবরোধ জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে।এদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানায়, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপায় হলো ওই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, ‘এই হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।’
তিন দফা দাবিতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান ও সড়ক অবরোধের পর সচিবালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে তারা সায়েন্সল্যাব এলাকা ছেড়ে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে রওনা হন। শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে যাওয়ার পর সায়েন্সল্যাব মোড় দিয়ে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।সরেজমিনে দেখা যায়, সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তিন দফা দাবির পক্ষে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পরে একত্রিত হয়ে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলের সামনে ও পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাতে এসেছি। আমাদের তিন দফা দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আমাদের দাবি জানাব।নূরনন্নবী নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দুর্যোগের মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েছে। আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার যেন দ্রুত এগুলো বাস্তবায়ন করে।শিক্ষার্থীরা মিছিলের সময় ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে যাওয়ার পর সায়েন্সল্যাব মোড়, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও শাহবাগমুখী সড়কে আটকে থাকা যানবাহন ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করে। এর আগে অবরোধের কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা।সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে এমন ঘটনা ঘটে।ওয়াকআউটের আগে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দুইটা শপথ নিয়েছি, একটা সংসদ সদস্য হিসেবে, অপরটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। দুইটা শপথই বিদ্যমান আছে। ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য কমিটি করা হয় তবে এটা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি।’তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি গণতন্ত্রের দাবিই হচ্ছে জনগণের মতামত মেনে নেওয়া। সেই মতামত ৭০ শতাংশের পাশাপাশি জনগণের মতামত। গণভোটের মতামত যদি এভাবে শেষ হয়ে যায় তবে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক এই পদ্ধতির ওপর মানুষ শুধু আস্থাই হারাবে না, বিদ্রোহী হয়ে পড়বে।’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করা উচিত হবে না। জনগণের মতামতকে যেহেতু সম্মান করা হচ্ছে না, তাই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জয়নাল আবেদিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান পার্থ, মোহাম্মদ নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, সাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।
‘জয় অব গিভিং’ প্রতিপাদ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৮০ জন স্বাবলম্বী উপকারভোগী তাদের ৮০ জন দুঃস্থ প্রতিবেশীকে গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি উপহার দিয়ে সহায়তা করেছেন।বুধবার (১৫ জুলাই) ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল এডিপির উদ্যোগে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল কোঅর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বিনয় কুমার দে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা শেফা, রামপাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকির আতিয়ার রহমান, প্রেসক্লাব রামপালের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান এবং সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে ফুলি সরকার বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন দীর্ঘদিন ধরে রামপালের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ২৬৩ জন দুঃস্থ উপকারভোগীকে নগদ অর্থ, গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি দিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছে।তিনি বলেন, “আজ আনন্দের বিষয় হলো, যাদের আমরা আগে সহায়তা করেছিলাম, তারা এখন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে ‘জয় অব গিভিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রতিবেশীদের সহায়তা করছেন। আজ ৮০ জন উপকারভোগী আরও ৮০ জন দুঃস্থ প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের ছোট্ট অবদানই অন্যের বড় স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এভাবে সবাই যদি পিছিয়ে পড়া প্রতিবেশীদের স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করেন, তাহলে সমাজে দারিদ্র্য কমিয়ে আরও বেশি মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা সম্ভব। তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আটলান্টা স্টেডিয়াম সুবিশাল। মিডিয়া সেন্টার থেকে প্রেস কনফারেন্স কক্ষে যেতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত ঐতিহাসিক। এরপর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ। তাই সংবাদ সম্মেলন কক্ষ পুরোপুরি পূর্ণ।ইংল্যান্ডের বেসক্যাম্প কানসাস। তারা সেখানে দুপুরে অনুশীলন করে আটলান্টা রওনা হয়েছে। আটলান্টা সময় বিকেল ছয়টায় তাদের প্রেস কনফারেন্স থাকলেও আধ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের সম্মেলন দেরি হওয়াই এর কারণ।আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে কালকের ম্যাচের পাশাপাশি দুই দলের ঐতিহাসিক দ্বৈরথ নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। আধ ঘণ্টা সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিক। টেকনিক্যালি কোনো বিষয় নয়, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থন নিয়ে তিনি স্কালোনির কাছে জানতে চান। এনিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘আসলে আমরা বিস্মিত, এত দূর থেকে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনাকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অনেকে। এটা আসলেই অনেক অসাধারণ ও সুন্দর বিষয়। আশা করি আমরা আগামীকাল ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।’বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থন দীর্ঘদিন থেকেই। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উন্মাদনা নিয়ে নিজেই মন্তব্য করেছিলেন। এবার আর্জেন্টিনার ম্যাচের মিক্সড জোনে এমিলিয়েনো মার্টিনেজ, সংবাদ সম্মেলনে ব্রুনো গিমারেস বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন।বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না। এরপরও বাংলাদেশের সমর্থকদের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের জন্য বিশ্বকাপে আলোচনা হয়। না খেলেও তাই বিশ্বকাপের অংশ হয় বাংলাদেশ।
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুঁটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কামব্যাক করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জন্য এটিই চরকির সাথে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (এমওএল) প্রজেক্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে সপ্তম চলচ্চিত্র, যা সহ-প্রযোজনা করছে খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।নির্মাতা জাহিদ প্রীতম জানান, সমকালীন জীবনের নানা জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং আধুনিক জীবনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে এই সিনেমার গল্পে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’সাধারণত পর্দায় আরিফিন শুভকে অ্যাকশন হিরো কিংবা ‘আলফা মেইল’ চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় আনিস নামের একটি চরিত্রে একদম ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে।নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে রয়েছেন সহজ-সরল ও সৎ যুবক আনিস (শুভ), আর অন্য প্রান্তে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা। এই অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত।নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন। ‘চরকির ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ মূলত সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে গল্প বলে। এই প্রজেক্ট নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’গল্পের ভিন্নতার কারণেই এই প্রজেক্টের সাথে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভালো লাগা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ছিল ২০২৩ সালের ‘উনিশ২০’। অন্যদিকে, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ‘ঘুমপরী’র পর তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে চরকিতে ফিরছেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়েছে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় অভিনয় শিল্পী সংঘের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।চুক্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষে সভাপতি আজাদ আবুল কালাম যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সূচনা সিকদারও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ব্রডওয়ে ও টেলিভিশন অঙ্গনের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জশ গ্রিসেত্তি আর নেই। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানায়, গত ১০ জুলাই আত্মহত্যা করেন এই অভিনেতা। পরে তার সহ-অভিনেতা রব ম্যাকব্লুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বিষয়টি জানান।রব ম্যাকব্লুর লিখেছেন, এই মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তিনি জশের স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিও প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, জশ গ্রিসেত্তিকে ছাড়া অভিনয়জগত আর আগের মতো থাকবে না। তাকে সবাই গভীরভাবে মিস করবেন।মৃত্যুর আগে নিজের শেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জশ জানান, ব্যক্তিগত কারণে একটি নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।তার মৃত্যুর পর উৎসব কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে জানায়, জশ গ্রিসেত্তি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, স্নেহশীল ও নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়।ব্রডওয়েতে নাইজেল বটম চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান জশ গ্রিসেত্তি। এছাড়া ইট শুডা বিন ইউ, ব্রডওয়ে বাউন্ড, রেন্ট, পিটার অ্যান্ড দ্য স্টারক্যাচার ও এন্টার লাফিং-সহ একাধিক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।টেলিভিশনেও সফল ছিলেন জশ। তিনি দ্য মার্ভেলাস মিসেস মেজেল, দ্য নাইটস অব প্রসপারিটি, নার্স জ্যাকি এবং দ্য গুড ফাইট-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্র ও সংগীতনির্ভর নাটকের পরিচালনাও করেছেন।১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় জন্ম নেওয়া জশ গ্রিসেত্তি ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে হলিউড ও ব্রডওয়ের অভিনয় অঙ্গনে।
চার বছর আগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার বছর পর প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও মানসিক শান্তি আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন এই অভিনেত্রী।স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেওয়া তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে, বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।নিজের জীবনের সেই অধ্যায়কে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে পরীমনি লেখেন, ‘আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’তিনি আরও দাবি করেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আজও সেই ঘটনার ভুক্তভোগী হয়ে আছেন। তার ভাষ্য, ‘যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্নও তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানতে চান, হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান এবং মানসিক শান্তি কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? তিনি লেখেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’তবে অতীতের ঘটনার প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তার প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’স্ট্যাটাসের শেষাংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।’২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধারের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনা মূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে পরীমনি তাকে গালাগাল করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দর্শকদের জন্য থাকছে তারকাখচিত আয়োজনও। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে সুপার বোলের আদলে আয়োজিত হবে বিশেষ হাফটাইম শো। সেখানে এক মঞ্চে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই বর্ণাঢ্য পরিবেশনায় আরও অংশ নেবেন তাদের মধ্যে অন্যতম নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, কোল্ডপ্লের অংশগ্রহণে পিএস২২ কোরাস এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসেমি স্ট্রিট’-এর মাপেট চরিত্রগুলো। অনুষ্ঠানটি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে আয়োজিত হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে জাস্টিন বিবার বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আসর, যা পৃথিবীর মানুষকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি একত্রিত করে।’স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে ‘জাস্টিস’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর বাতিলের চার বছর পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা উৎসবে মঞ্চে ফিরেছিলেন বিবার। সেখানে তিনি ‘বেবি’, ‘নেভার সে নেভার’, ‘ওয়ান টাইম’ এবং ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিট’-সহ তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। ফিফার এই ঐতিহাসিক হাফ-টাইম শোর কিউরেশন করেছেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করা হবে।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করা কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ও আবারও একসঙ্গে মঞ্চে উঠবেন। তাদের যৌথ গান ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সংগীত চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং বিভিন্ন ম্যাচেও ব্যাপকভাবে বাজানো হচ্ছে।এদিকে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই আসরের আয়োজক তিন দেশের দলই এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে।বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচ দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব আবার শুরু হচ্ছে। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম। শনিবার মিয়ামিতে খেলবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, আর একই দিনে কানসাস সিটিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন পর্যন্ত আট গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনেই সাত গোল করে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের এরলিং হালান্ড। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোলসংখ্যা ছয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের প্রতি প্রতারণার অভিযোগ দেশের জনপ্রিয় ও বরেণ্য চিত্রনায়িকা রোজিনার। অভিমানের সুরে তিনি জানিয়েছেন মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়।রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে এ সব কথা জানান তিনি।অভিমানী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জীবনে আর কখনো শিল্পী সমিতিতে যাবো কি না, আমার জানা নেই। তবে এফডিসি থেকে যেহেতু আমার পরিচয়, সে কারণে এফডিসিকে তো ভুলতে পারবো না। যদি পরিচালক কিংবা প্রযোজক সমিতিতে কোনো অনুষ্ঠান হয় কিংবা কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে আমার ডাক পড়ে; তবে অবশ্যই যাবো। তা ছাড়া কখনোই আমি এফডিসিতে পা রাখব না।’অভিমানের পারদ এতটাই আকাশচুম্বী যে মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন কোনো অবস্থাতেই এফডিসিতে নিয়ে যাওয়া না হয়—পরিবারের সদস্যদের এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন রোজিনা। এর কারণ হিসেবে এফডিসির বর্তমান পরিবেশ ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।ৎরোজিনা বলেন, ‘আমার পরিবারকে অনেক আগেই বলে রেখেছি যে মৃত্যুর পর আমাকে তোমরা এফডিসিতে নেবে না। এ সিদ্ধান্ত কোনো আক্ষেপ বা কষ্ট থেকে নয়। সেখানে এখন আর সেসব মানুষ নেই, যারা শিল্পীদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা করবে। এখন সেখানে সেই সম্মান, মূল্যবোধ কিংবা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ খুঁজে পাওয়া যায় না।’রোজিনা জানান, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তার ছিল না। জয় চৌধুরীর অনুরোধ ও পীড়াপীড়িতেই তিনি প্রার্থী হতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু যাদের ওপর ভরসা করেছিলেন, সেই প্যানেলই তাঁর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে।ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আসলেই খুব মর্মাহত। এভাবে প্ল্যানিং করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে, এটা ভাবতেও পারিনি। আমার প্যানেলেও যারা ছিল, তাদের অনেকে আমাকে ভোট দেয়নি। কাকে কাকে ভোট দিয়ে জেতাতে হবে, ওরা আগে থেকেই তা সিলেক্ট করে রেখেছিল। নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য আমাকে কেবল একটা ট্রাম্পকার্ড বানিয়ে এভাবে হেয় করাটা তাদের মোটেও উচিত হয়নি।’
বিশ্বখ্যাত ‘টপ এমপ্লয়ার্স ইনস্টিটিউট’ থেকে টানা সপ্তমবারের মতো ‘টপ এমপ্লয়ার’ স্বীকৃতি অর্জন করেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পিএলসি (বিএটি বাংলাদেশ)। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে টানা সপ্তমবার এ স্বীকৃতি অর্জনের কৃতিত্ব ধরে রাখল কোম্পানিটি।মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মপরিবেশ এবং কর্মী উন্নয়নে উৎকর্ষ মূল্যায়নের জন্য পরিচিত ‘টপ এমপ্লয়ার্স ইনস্টিটিউট’ জনবল কৌশল, কর্মপরিবেশ, মেধাবী কর্মী নিয়োগ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি, কর্মীদের কল্যাণসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন করে।এবারের মূল্যায়নে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিএটি বাংলাদেশ প্রায় সব বিভাগেই শীর্ষ স্কোরপ্রাপ্তদের অন্যতম ছিল। নেতৃত্ব বিকাশ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর, কর্মীদের কল্যাণ এবং কর্মী সম্পৃক্ততা জোরদারে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক উদ্যোগ এ স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।বিএটি বাংলাদেশের হেড অব ট্যালেন্ট, কালচার অ্যান্ড ইনক্লুশন রাইয়ান আহমেদ বলেন, “টপ এমপ্লয়ার সনদ আমাদের নীতি ও কার্যপ্রণালীগুলোকে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডের বিপরীতে মূল্যায়ন করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি আমাদের আরও এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে আমরা কর্মীদের যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে কীভাবে সহায়তা করছি, তা ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা, পরিমার্জন ও আরও শক্তিশালী করতে পারি। সপ্তমবারের মতো এই স্বীকৃতি অর্জন এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি আমাদের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যেখানে কর্মীরা বিকশিত হতে, সফল হতে এবং নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন।”টপ এমপ্লয়ার্স ইনস্টিটিউটের মূল্যায়নে বিএটি বাংলাদেশের শক্তিশালী নিয়োগদাতা ব্র্যান্ড, মেধাবী জনবল আকর্ষণ ও ধরে রাখার সক্ষমতা এবং নতুন কর্মীদের জন্য সুসংগঠিত অনবোর্ডিং ব্যবস্থারও প্রশংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেধাবী জনবল আকর্ষণ এবং কর্মী উন্নয়ন—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন সূচকেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য স্কোর অর্জন করেছে। এ স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএটি বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩৬ হাজার ৯০০ অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় এক হাজার নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে পরিচালিত ৬ হাজার ২৩৭টি অভিযানে মোট ৮৪ হাজার ৪৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৯০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯৭৮ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।তিনি বলেন, শুধু জুন মাসেই দেশব্যাপী ১ হাজার ১৫৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৩ হাজার ৭৮ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৩৩ জন নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে।জাকারিয়া জানান, আটক বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকার অপরাধ। এছাড়া ইমিগ্রেশনের দেওয়া পাসের অপব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে শনাক্ত হয়েছে।রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার আইনগত অবস্থান ও নথিপত্রের ভিত্তিতে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অধিকাংশ রোহিঙ্গার কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিচয়পত্র রয়েছে। তাই শুধু বৈধ পাস না থাকা বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।তবে রোহিঙ্গারা দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে অব্যাহতি পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হন বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।এছাড়া কেউ অবৈধভাবে সড়কের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করলে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (পিবিটি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
প্রতিটি ফুটবলপ্রেমী দেশের এমন একজন খেলোয়াড় থাকেন, যাকে সে দেশের মানুষ নিজেদের গর্ব হিসেবে দেখে। আর্জেন্টিনার আছে মেসি, পর্তুগালের রোনালদো, ব্রাজিলের নেইমার। আর বাংলাদেশের আছে নিজেদের ফুটবল নায়ক, জামাল ভূঁইয়া। ফিফা বিশ্বকাপ এলে কোটি কোটি বাংলাদেশি যেমন বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকাদের সমর্থন করেন, তেমনি লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া নিজেদের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার প্রতিও সমান গর্ব অনুভব করেন। দেশের ফুটবলপ্রেম ও এই গর্বকে উদযাপন করতেই বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সাথে অংশীদারিত্ব করেছে অপো।বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি মেসি, রোনালদো কিংবা নেইমারের মতো তারকারা যেমন কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে জামাল ভূঁইয়া নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অসংখ্য তরুণ ফুটবলারের মনে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন জাগিয়েছে।এ বছরের বিশ্বকাপ উদযাপনকে আরও অনন্য করে তুলতে অপো দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফিফা ম্যাচ স্ক্রিনিং ক্যাম্পেইন ‘কোন বিশ্ববিদ্যালয় পাবে জামাল ভূঁইয়ার সাথে সেমিফাইনাল দেখার সুযোগ?’-এর আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ক্যাম্পাসের পক্ষে ভোট ও সমর্থন জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করা ও সমর্থন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে বিশেষ স্ক্রিনিং আয়োজনের সুযোগ পাবে, যেখানে বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সাথে একসাথে খেলা উপভোগ করবেন শিক্ষার্থীরা এবং উদযাপন করবেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব। এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের জেনারেল ম্যানেজার ডেমন ইয়াং বলেন, “ফুটবল এমন একটি খেলা, যা সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব ফুটবল নায়ক রয়েছে, আর্জেন্টিনার মেসি, পর্তুগালের রোনালদো, ব্রাজিলের নেইমার আর বাংলাদেশের জামাল ভূঁইয়া। অপোর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের ফুটবলকে সমর্থন করতে পেরে এবং কোটি বাংলাদেশির ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে উদযাপন করতে পেরে।”এ বিষয়ে জামাল ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ। এই আবেগ উদযাপনে অপোর সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করার ও বিজয়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল উপভোগ করার অপেক্ষায় আছি।” এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের ওয়েবসাইট https://www.oppo.com/bd/ ভিজিট করুন বা অপো বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ফলো করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’