দেশের তিনজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যারা নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাক্ষাৎকালে অনুপ্রেরণাদায়ীদের ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি তাদের দিলেন উৎসাহ এবং আশ্বাস।তিন অনুপ্রেরণাদায়ী হলেন– বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এই তিনজনের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে। সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।’এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তিন অনুপ্রেরণাদায়ীর ব্যতিক্রমী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তাদের উৎসাহ দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।বুয়েট ছেড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নায়লাবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে এই নারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এমনকি ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন নানা শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। পা দিয়েই স্কুল চালান হাতহীন আলতাফনরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলতাফ হোসেন। তার জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন রেজাউলভোলার চরফ্যাশনের এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন রেজাউল। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। তাকেও সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে সহায়তা তিনগুন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গ্লোবাল পলিসি এজেন্ডা প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন কথায় জানিয়েছেন আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। প্রেস ব্রিফিং এ ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। করোনা মহামারি পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বড় সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি। প্রেস ব্রিফিং এ আর জানানো হয়,উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি নতুন সংকট তৈরি করেছে জ্বালানি অনিশ্চিতা। ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আগেই রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বঙ্গভবনে সকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।আসন্ন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আগামী ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৯ নভেম্বর রোজ সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দামেও স্থিতিশীলতা নেই। বর্তমানে জ্বালানি আমদানির উৎস হিসেবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্য উৎসগুলোও ঠিক নেই। এ অবস্থায় ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে সরকার কাজ করছে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘটের চেষ্টা করলে ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। জনগণ আস্থা রেখে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। ধর্মঘটের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চলতি মাসেই আবারও বৈঠক হবে।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক শ্রমিকেরা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর ও আজমপুর সড়ক অবরোধ করেন বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। অনেককে যানবাহন ছেড়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে।পুলিশের উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এডিসি রুবেল হক জানান, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বুধবার সকালে আজমপুর এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে তারা বিমানবন্দরের দিকে সরে যায়। এখন বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একপর্যায়ে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, কর্মজীবী, যাত্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে বিপাকে পড়েন অনেকে। যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের কেউ কেউ বাস ও অন্যান্য যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে থাকেন। এতে সড়কে চলাচলকারীদের ভোগান্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের ডিসি শাহজাহান হোসেন বলেন, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করাসহ কয়েকটি দাবিতে সোমবার থেকে সড়কে বিক্ষোভ করে আসছেন কিছু পোশাক কারখানার কর্মীরা।শ্রমিকদের রাস্তা অবরোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বেশ কয়েকটি। গার্মেন্টসের শ্রমিকরা একযোগে রাস্তা অবরোধ করেন। এ কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ আগে রাস্তা থেকে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের সিলিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের কুলিমের পাদাং মেহায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৬৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৯ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৯৬ জন চীনা নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নির্মাণাধীন ওই স্থাপনায় ‘অপস মেগা’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ কেদাহ রাজ্য শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে অভিবাসন বিভাগের বিভিন্ন শাখার মোট ১৫৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইন প্রয়োগ শাখা, গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা, বিশেষ কৌশলগত দল এবং কেদাহ, পারলিস, পেরাক, কুয়ালালামপুর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের কর্মকর্তারা ছিলেন।অভিযান চলাকালে মোট ৬৯৭ জন বিদেশি ও মালয়েশীয় নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৬৩০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৬২২ জন পুরুষ ও আটজন নারী।জাতীয়তাভিত্তিক হিসাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীনের ৩৯৬ জন—৩৯১ পুরুষ ও পাঁচ নারী; বাংলাদেশের ১৯৯ জন—১৯৮ পুরুষ ও একজন নারী; পাকিস্তানের ১০ জন পুরুষ; মিয়ানমারের সাতজন পুরুষ; ভারতের পাঁচজন পুরুষ; ঘানার চারজন পুরুষ; নাইজেরিয়ার তিনজন পুরুষ; কেনিয়ার দুজন পুরুষ; ইন্দোনেশিয়ার দুজন নারী; নিউজিল্যান্ডের একজন পুরুষ এবং সেনেগালের একজন পুরুষ রয়েছেন।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) ধারা এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) বিধির আওতায় বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সাক্ষীদের সহায়তা নিতে ছয়টি সমনও জারি করা হয়েছে।অভিযান চলাকালে কয়েকজন আটক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে পড়েন, এমনকি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদেও উঠে যান। এ সময় একদল আটক ব্যক্তির উসকানিমূলক আচরণে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।প্রায় পাঁচ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নির্মাণস্থলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল মেঝে, জমে থাকা পানি ও কাদামাখা পথ চলাচল কঠিন করে তোলে।এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের অসম্পূর্ণ কাঠামো, লিফটের গর্ত, উন্মুক্ত রড, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী, ভারী যন্ত্রপাতির চলাচল এবং উঁচু স্থানে কাজ করার কারণে অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ নিয়োগকর্তা, প্রধান ঠিকাদার ও উপঠিকাদারদের সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বৈধ ভ্রমণ নথি এবং অনুমোদিত পাস বা ওয়ার্ক পারমিট থাকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিবাসন বিভাগের নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশটির অভিবাসন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গু ও হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা বন্ধ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যকর এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতারা বলেছেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি চলতে পারে না।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি ডক্টরসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. (অব.) মেজর ওহাব মিনার। ডা. রাশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল আহাদ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল মোরশেদ খান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ, লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. সাইফুদ্দীন কিসরু, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) নেতা নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার এবং এবি পার্টি ডক্টরসের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শওকত আরমান।সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার বলেন, হাম ও রুবেলার টিকাদানে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার আওতা ৯২ শতাংশ থাকলেও ২০২৪-২৫ সালে তা ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অব্যবস্থাপনা, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং সময়মতো ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন না হওয়াকে তিনি বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই, নির্মাণাধীন ভবন ও ড্রেনে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারকপ হামের টিকাদান সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিলেও আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।অধ্যাপক মিনার বলেন, আজ আমরা এখানে সরকারকে দোষারোপ করতে আসিনি, আমরা এসেছি মানুষকে বাঁচাতে। সরকার ব্যর্থ হলেও আমরা আমাদের পরিবারকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।” তিনি প্রতি শুক্রবার অন্তত ১০ মিনিট বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, শিশুদের বয়স ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে কার্যকর করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীর পেটে ব্যথা, বারবার বমি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, বমির সঙ্গে রক্ত আসা কিংবা অস্বাভাবিক আচরণের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি সব শিশুর নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করে টিকাদানের আওতা অন্তত ৯৫ শতাংশে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অপচিকিৎসার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, ডেঙ্গু ও হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক-নার্সের সংকট রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল বা পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগের মৌসুম শুরুর আগেই প্রস্তুতি নেওয়া এবং স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংকটকে কেবল চিকিৎসকদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাসপাতালের অবকাঠামো, পরিবেশ, জনবল ও ব্যবস্থাপনার দায় রাষ্ট্রেরও রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান বাড়াতে নীতিনির্ধারক ও সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।হামের টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, টিকাদান কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব। নিয়মিত টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল আহাদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি। মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করতে হবে। সংকট তৈরি হওয়ার পর তৎপরতা নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, ডেঙ্গু ও হামে প্রাণহানির ঘটনায় যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খাল বন্ধ হয়ে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে বাধা এবং অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. সাইফুদ্দীন কিসরু বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব মানুষ এর সুফল পাবে। রোগীকেই চিকিৎসাব্যবস্থার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য প্রচার, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা এবং শিশুর পুষ্টি ও নিয়মিত টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল মোরশেদ খান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। মশক নিধনে ব্যবহৃত উপকরণ ও কীটনাশকের মান এবং কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার বলেন, ডেঙ্গু ও হামের বিষয়ে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রোগের কারণে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শওকত আরমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সুসংগঠিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হতে হবে।আলোচনা সভায় বক্তারা ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে টিকাদানের আওতা সম্প্রসারণ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার তদন্ত, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি কার্যকর স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং সরকার, চিকিৎসক, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু,নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক আমেনা বেগম, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী ও বরিশালের নেতা জাকির হোসেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর যে কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হেনস্তা করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি তাকে হেনস্তা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।ডা. তাহের বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে সম্মাননীয় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার মধ্যদিয়ে দেশের সকল নাগরিক এবং রাষ্ট্র হিসেবে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে অপমানিত ও খাটো করা হয়েছে। দেশের মান মর্যাদা বিশ্ব দরবারে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে এহেন নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কারোর জন্যই সমীচীন নয়, যা ফ্যাসিস্টদের দোসররা করেছে। এ ধরনের আচরণ থেকে সবার বিরত থাকা উচিত।বিরোধীদলীয় উপনেতা আরও বলেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। দেশের শান্তিপ্রিয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনসমূহের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে এলপিজি সরবরাহ ও ব্যবসা কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিরসনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে এলজিপির দাম নির্ধারণে ২৯ অক্টোবর গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর আগে সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মঘট প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও স্থিতিশীলতা নেই। বর্তমানে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে, অন্য উৎসগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে কেউ ধর্মঘটের চেষ্টা করলে ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের ভোগান্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
ডেঙ্গু ও হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা বন্ধ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যকর এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতারা বলেছেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি চলতে পারে না।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি ডক্টরসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. (অব.) মেজর ওহাব মিনার। ডা. রাশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল আহাদ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল মোরশেদ খান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ, লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. সাইফুদ্দীন কিসরু, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) নেতা নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার এবং এবি পার্টি ডক্টরসের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শওকত আরমান।সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার বলেন, হাম ও রুবেলার টিকাদানে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার আওতা ৯২ শতাংশ থাকলেও ২০২৪-২৫ সালে তা ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অব্যবস্থাপনা, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং সময়মতো ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন না হওয়াকে তিনি বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই, নির্মাণাধীন ভবন ও ড্রেনে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারকপ হামের টিকাদান সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিলেও আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।অধ্যাপক মিনার বলেন, আজ আমরা এখানে সরকারকে দোষারোপ করতে আসিনি, আমরা এসেছি মানুষকে বাঁচাতে। সরকার ব্যর্থ হলেও আমরা আমাদের পরিবারকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।” তিনি প্রতি শুক্রবার অন্তত ১০ মিনিট বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, শিশুদের বয়স ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে কার্যকর করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীর পেটে ব্যথা, বারবার বমি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, বমির সঙ্গে রক্ত আসা কিংবা অস্বাভাবিক আচরণের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি সব শিশুর নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করে টিকাদানের আওতা অন্তত ৯৫ শতাংশে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অপচিকিৎসার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, ডেঙ্গু ও হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক-নার্সের সংকট রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল বা পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগের মৌসুম শুরুর আগেই প্রস্তুতি নেওয়া এবং স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংকটকে কেবল চিকিৎসকদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাসপাতালের অবকাঠামো, পরিবেশ, জনবল ও ব্যবস্থাপনার দায় রাষ্ট্রেরও রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান বাড়াতে নীতিনির্ধারক ও সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।হামের টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, টিকাদান কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব। নিয়মিত টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল আহাদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি। মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করতে হবে। সংকট তৈরি হওয়ার পর তৎপরতা নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, ডেঙ্গু ও হামে প্রাণহানির ঘটনায় যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খাল বন্ধ হয়ে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে বাধা এবং অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. সাইফুদ্দীন কিসরু বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব মানুষ এর সুফল পাবে। রোগীকেই চিকিৎসাব্যবস্থার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য প্রচার, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা এবং শিশুর পুষ্টি ও নিয়মিত টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল মোরশেদ খান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। মশক নিধনে ব্যবহৃত উপকরণ ও কীটনাশকের মান এবং কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার বলেন, ডেঙ্গু ও হামের বিষয়ে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রোগের কারণে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শওকত আরমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সুসংগঠিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হতে হবে।আলোচনা সভায় বক্তারা ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে টিকাদানের আওতা সম্প্রসারণ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার তদন্ত, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি কার্যকর স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং সরকার, চিকিৎসক, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু,নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক আমেনা বেগম, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী ও বরিশালের নেতা জাকির হোসেন।
খুলনা- মোংলা রেলপথ উদ্বোধনের পর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও আলোর মূল দেখেনি ভাগা রেল স্টেশনটি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের বিড়ম্বনার শেষ নেই। দীর্ঘদিন বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিসহ দেওয়া হয়েছে লিখিত আবেদনও। তবু প্রতিকার না মেলায় রামপালের ভাগা রেলস্টেশনটি জনস্বার্থে অবিলম্বে চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় তারা জানান, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্টেশনটি চালু না করা হলে নেওয়া হবে বৃহৎ কর্মসূচি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ভাগা রেলস্টেশন এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দক্ষিনাঞ্চলের অর্থনৈতিক সচল ও সহজ করতে ভাগা রেল স্টেশনের বিকল্প নেই। স্টেশনটি চালু হলে সহজ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে ভাগা রেলস্টেশন চালু একান্ত প্রয়োজন। স্টেশনটি চালু না হওয়ায় উপজেলার ঝনঝনিয়ায় নির্মিত বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে সেবাগ্রহীতাদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন কষ্ট। এছাড়াও বাগেরহাট সদর, রামপাল, ফকিরহাট, চিতলমারী, কচুয়া ও শরণখোলা উপজেলার মানুষের যোগাযোগের চরম বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। রেল যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহনব্যবস্থা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভাগা রেলস্টেশনটি চালু না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ সম্ভাব্য রেলসেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি জনগুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনটি দ্রুত চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফিরোজ কবির ও মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী হালিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মল্লিক জিয়াউল হক জিয়া, সদস্যসচিব আলমগীর কবির বাচ্চু এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাজাহারুল ইসলাম ইয়ামিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। সেই আফগানদের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ২৪০ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করে বোল্ড হন ইকরাম আলিখিল।এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেট পেয়েছেন হাসান। আউট করেছেন ইসমত, কায়েস ও জিয়া–উর–রেহমানকে।বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। তার দুজনেই ছিলে স্পিনার।এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।আর শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ৫টি ও এবাদত নিয়েছেন ৪টি উইকেট।
বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে নতুন একক গান নিয়ে ফিরেছেন নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী। ‘ভুলে গেছি তোমাকে’ শিরোনামের গানটি এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।‘মন থেকে উঠে গেছো তুমি, ভুলে গেছি আমি তোমাকে, নেই ভালোবাসা বলে কিছু, বুঝেছি ভালোবেসে ঠকে, তোমারই পিছে ছুটেছি মিছে, পড়েছে কালি তাই চোখের নিচে’ এমন কথায় সাজানো গানটি লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ।গানটির সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ এবং সংগীতায়োজন করেছেন এম এম পি রনি। ইয়ামিন এলানের পরিচালনায় নির্মিত মিউজিক ভিডিওতে আসিফ আকবর নিজেই অংশ নিয়েছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর আর মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘ভুলে গেছি তোমাকে’।এই গানটির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর। আসিফের সংগীতজীবনের অন্যতম জনপ্রিয় অনেক গানের সুরকার রাজেশ ঘোষ। দীর্ঘদিনের এই শিল্পী-সুরকার জুটির বোঝাপড়াও বেশ পুরোনো। নতুন গানটি নিয়ে তাই প্রত্যাশাও বেশি আসিফের।গানটি প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, “অনেক দিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে গান গাইলাম। আমার সংগীত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু গানের সুরকার তিনি। তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটাও অনেক দিনের। আশা করছি, আমাদের এই পুরোনো শিল্পী-সুরকার জুটির নতুন আয়োজনটি সংগীতপ্রেমীদের ভালো লাগবে এবং প্রত্যাশা পূরণ করবে।”এদিকে, নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশ সফরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আসিফ আকবর। ইনছন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (আইবিসিকে)-এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশ উৎসব ২০২৬’-এ অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন তিনি।আগামী ১০ অক্টোবর ইনচিওনের সামসান ওয়ার্ল্ড জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। সেখানে সংগীত পরিবেশন করবেন আসিফ আকবর।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
সকালে বের হওয়ার আগে স্কিন কেয়ার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরামের পাশাপাশি সেই রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে সানস্ক্রিনও। তবে সানস্ক্রিন হাতে নেওয়ার পর, পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে সংখ্যাটির দিকে সবচেয়ে আগে চোখ যায়, সেটি হলো এসপিএফ—সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। কত এসপিএফ ব্যবহার করা উচিত, সেটি নিয়ে তাই প্রশ্নও থাকে অনেকের। কিন্তু তার আগে জানা দরকার, এসপিএফ আসলে কী?সহজভাবে বললে, এসপিএফ হলো সানস্ক্রিনের, সূর্যের আলো থেকে নির্গত ক্ষতিকর ইউভি বি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার একটি পরিমাপ। অন্যদিকে UVA রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু SPF-এর সংখ্যা নয়, সানস্ক্রিনটি UVA ও UVB—দুই ধরনের রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, অর্থাৎ এটি ব্রড স্পেকট্রাম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএফের সংখ্যা যত বাড়ে, UVB-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বাড়ে; তবে এই বৃদ্ধি সরলরৈখিক নয়। প্রচলিত হিসাবে SPF 15 প্রায় ৯৩%, SPF 30 প্রায় ৯৭% এবং SPF 50 প্রায় ৯৮% UVB রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। SPF 100-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৯%। অর্থাৎ SPF 30 থেকে SPF 50-এ সংখ্যাটি অনেকটা বাড়লেও UVB ফিল্টার করার হারে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে ছোট। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—SPF কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদে নিরাপদে থাকার অনুমতি নয়। অর্থাৎ SPF 30 ব্যবহার করলে SPF 15-এর তুলনায় দ্বিগুণ সময় রোদে থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সূর্যের তীব্রতা, কতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে, ঘাম, পানি এবং পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর বাস্তব সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে। তাহলে নিজের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় কী দেখা উচিত?American Academy of Dermatology-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য SPF 30 বা তার বেশি, broad-spectrum সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকলে সাধারণভাবে প্রতি দুই ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়; সাঁতার কাটা বা বেশি ঘাম হলে আরও ঘন ঘন লাগাতে হতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্যাকেজে লেখা দাবিটির পেছনে পরীক্ষার প্রমাণ আছে কি না। একটি সানস্ক্রিনের বোতলে SPF 30, 50 বা 100 লেখা থাকলেই সেই সংখ্যাটি যে বাস্তব পরীক্ষায় একইভাবে পাওয়া গেছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাটি কখন ও কোথায় হয়েছে এবং কোন ল্যাব তা করেছে—এসব তথ্যও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমারদের কাছে কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরে না। ফলে কোনো পণ্য তার প্যাকেজে করা দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন হয়ে যায়।বাংলাদেশের বাজারে কিছু ব্র্যান্ড এখন তাদের SPF পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করছে।এই জায়গায় উদাহরণ হিসেবে Skin Cafe-এর একটি সানস্ক্রিনের পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করা যায়। ব্র্যান্ডটির শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, Skin Cafe Sunscreen SPF 50 PA+++ with Vitamin C পণ্যটি তাইওয়ানের বিখ্যাত Bionest Biochemical Technology Co., Ltd থেকে পরীক্ষিত। পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.73 পাওয়া যায় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এটি WAFFEN Research Laboratory Limited-এ পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.51 পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলটি প্যাকেজে দেওয়া SPF 50 দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অর্থাৎ, সানস্ক্রিন কেনার সময় শুধু “SPF” লেখা আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। SPF-এর পাশাপাশি ব্রড স্পেক্ট্রাম সুরক্ষা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের প্রমাণ এবং পণ্যটি নিজের ত্বক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে কতটা মানানসই—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।শেষ পর্যন্ত সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু বোতলের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার, নিয়মিত পুনরায় প্রয়োগ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা—সবকিছু মিলেই কার্যকর সান প্রোটেকশন তৈরি হয়। ইমপোর্টেড হোক কিংবা লোকাল—পণ্যের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল এবং এসব তথ্য প্রকাশে ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে। আর একটি ভালো সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই তথ্য জানাটাই হতে পারে প্যাকেজের বড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত নয় মাসের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৮০৭.৬৮ মিলিয়ন টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে অর্জিত ৭৪৩.৮১ মিলিয়ন টাকার তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।গত বছরের একই সময়ের প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯৮ টাকা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৫২.০৩ টাকা, যা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ছিল ৪৯.৫৫ টাকা।হোম লোন স্পেশালিস্ট ডিবিএইচের আর্থিক ফলাফল সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন বলেন, “২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফল আমাদের পরিচালনগত দক্ষতা, দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিচক্ষণ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার প্রতি আমাদের অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”গত তিন দশক ধরে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি গৃহঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে বাড়ির মালিকানা অর্জনে মানুষকে সহায়তা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ইসলামিক ফাইন্যান্স উইং -এর মাধ্যমেও আবাসন অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করে। এ ছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি মেয়াদি আমানত ও মুদারাবা আমানতসহ বিভিন্ন ধরনের আমানত সেবা প্রদান করে।দেশজুড়ে অবস্থিত ১৯টি শাখার মাধ্যমে ডিবিএইচ গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটি টানা ২১ বছর ধরে সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং ‘এএএ’ অর্জন করেছে এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে খেলাপি ঋণের হার ১ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের কুলিমের পাদাং মেহায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৬৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৯ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৯৬ জন চীনা নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নির্মাণাধীন ওই স্থাপনায় ‘অপস মেগা’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ কেদাহ রাজ্য শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে অভিবাসন বিভাগের বিভিন্ন শাখার মোট ১৫৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইন প্রয়োগ শাখা, গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা, বিশেষ কৌশলগত দল এবং কেদাহ, পারলিস, পেরাক, কুয়ালালামপুর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের কর্মকর্তারা ছিলেন।অভিযান চলাকালে মোট ৬৯৭ জন বিদেশি ও মালয়েশীয় নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৬৩০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৬২২ জন পুরুষ ও আটজন নারী।জাতীয়তাভিত্তিক হিসাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীনের ৩৯৬ জন—৩৯১ পুরুষ ও পাঁচ নারী; বাংলাদেশের ১৯৯ জন—১৯৮ পুরুষ ও একজন নারী; পাকিস্তানের ১০ জন পুরুষ; মিয়ানমারের সাতজন পুরুষ; ভারতের পাঁচজন পুরুষ; ঘানার চারজন পুরুষ; নাইজেরিয়ার তিনজন পুরুষ; কেনিয়ার দুজন পুরুষ; ইন্দোনেশিয়ার দুজন নারী; নিউজিল্যান্ডের একজন পুরুষ এবং সেনেগালের একজন পুরুষ রয়েছেন।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) ধারা এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) বিধির আওতায় বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সাক্ষীদের সহায়তা নিতে ছয়টি সমনও জারি করা হয়েছে।অভিযান চলাকালে কয়েকজন আটক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে পড়েন, এমনকি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদেও উঠে যান। এ সময় একদল আটক ব্যক্তির উসকানিমূলক আচরণে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।প্রায় পাঁচ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নির্মাণস্থলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল মেঝে, জমে থাকা পানি ও কাদামাখা পথ চলাচল কঠিন করে তোলে।এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের অসম্পূর্ণ কাঠামো, লিফটের গর্ত, উন্মুক্ত রড, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী, ভারী যন্ত্রপাতির চলাচল এবং উঁচু স্থানে কাজ করার কারণে অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ নিয়োগকর্তা, প্রধান ঠিকাদার ও উপঠিকাদারদের সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বৈধ ভ্রমণ নথি এবং অনুমোদিত পাস বা ওয়ার্ক পারমিট থাকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিবাসন বিভাগের নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশটির অভিবাসন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে আরও সহজ, আধুনিক ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ওপাস টেকনোলজি লিমিটেডের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি করেছে ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস উপায় (upay)।চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন উপায়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল বি. দাস এবং ওপাস টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জি. মো. জাফর ইকবাল।এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ডিজিটাল সঞ্চয়সহ নতুন আর্থিক পণ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেবে উপায়। এর লক্ষ্য শুধু লেনদেন সহজ করা নয়, বরং গ্রাহকদের সঞ্চয়, আর্থিক পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে উপায় তার ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি বাড়াতে এবং আরও বেশি মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। বিশেষ করে সহজে ব্যবহারযোগ্য ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা তৈরির মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও অর্থবহ করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে উপায়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হেড অব প্রোডাক্ট এবং টেকনোলজি মোহাম্মদ মামুন রেজা খান এবং স্ট্র্যাটেজি বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহমুদুল হাসান। ওপাস টেকনোলজির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ টেকনোলজি অফিসার মো. বায়াসুজ্জামান ভূঁইয়া এবং চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. রাশেদুল ইসলাম। এ ছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।উপায়ের এই উদ্যোগ ডিজিটাল আর্থিক সেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি, গ্রাহকদের জন্য আরও কার্যকর সমাধান নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।