চলতি বছরের অক্টোবরে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ঘোষণা করা হবে তফসিল। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির রোডম্যাপের কথা জানান।চব্বিশের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা দিতে হচ্ছে প্রশাসক নিয়োগের মধ্য দিয়ে। এতে নাগরিক সেবা পেতে নানা ত্রুটির কথা উঠে আসছে। তাই নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করার পরিকল্পনা ইসির। একসাথে সব জায়গায় নির্বাচন পরিচালনা করার বিড়ম্বনা এড়াতে ধাপে ধাপে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন, আচরণবিধি চূড়ান্ত করা এবং সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বিধিমালায় বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও নিরপেক্ষ, সাশ্রয়ী ও সহিংসতামুক্ত করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাগজের পোস্টার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ারও সুযোগ থাকছে না। কোনো দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে। নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার সুযোগটি নিতে পারে রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সমর্থকরা।চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন কারাগারে বন্দি থাকলেও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় ছাত্রলীগকে। আর কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনে পরিণত হয় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল, দেশের সবচেয়ে প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি।বিগত দুবছর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার সাহস করেনি নেতাকর্মীরা। তবে বিভিন্ন সময় গুটি কয়েক নেতাকর্মী নিয়ে চোরাগুপ্তা কয়েক মিনিটের মিছিল করতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ফুটেজ দেখে এইসব নেতাকর্মীদের অনেককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।গত ৯ জুন, সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করতে পারলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমস্যা নেই। এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, একজন নির্দলীয় ব্যক্তি প্রার্থী হলেন, কিন্তু প্রচারে আওয়ামী লীগ বা তাঁদের যা যা বলার সেটা বলেন, সেটা সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি, তাঁর যে ক্রাইটেরিয়া আছে নির্বাচনটি করার জন্য, সেটা যদি পূরণ করতে পারেন, তিনি নির্বাচন করতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নাম বা পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক বা নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দল বা দলীয় প্রতীক অংশ নেয় না। তাই আইনি বাধা না থাকলে যেকোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র বা অদলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে যারা আওয়ামী আমলে এলাকায় নানা ধরনের কুকীর্তি, অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল, নিশ্চয়ই সেটি আইনের আওতায় আসতে হবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দৌড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থাকতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্ন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। কিন্তু সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিয়ে জামায়াতের বক্তব্য হলো, গণহত্যা ও অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনোভাবেই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ নেই। এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোভাবেই অংশ নিতে পারে না। এনসিপি নেতাদের মতে, ফ্যাসিবাদী তকমা নিয়ে পতন হওয়া এই দলের নেতাকর্মীরা কোনো নির্বাচনে অংশ নিলে তা হবে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা।এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় নেবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যে কেউ ভোটে অংশ নিতে পারবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নীতি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী আওয়ামী লীগের নাম, প্রতীক বা স্লোগান ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে আইনগত যোগ্যতা থাকলে যেকোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে দলীয় প্রতীক বা স্লোগান ব্যবহার না করে ব্যক্তি ইমেজে নির্বাচন করা এবং তৃণমূলের সমর্থন ধরে রাখা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার সব পরীক্ষাকেন্দ্রে ১১ জুলাই অনুষ্ঠেয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরে প্রকাশ করা হবে।এদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে পরীক্ষার্থীদের দ্রুত বিষয়টি জানাতে সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা সময়মতো এ তথ্য জানতে পারবেন।এর আগে একই কারণে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। বন্যার কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন নাহিদ। আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবে, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি সারেন্ডার করবেন কি করবেন না- এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না— এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ৩০ হাজার আহত ও এক হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি। আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গেছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে একাধিক দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনায় নিজেদের কোনো ভূমিকা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। নতুন এই বিস্ফোরণগুলো নিয়ে অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও রহস্য তৈরি হয়েছে।আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুশেহর শহর ও আশপাশের চোগাদাক এলাকায় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বুশেহরে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আল জাজিরাকে সরাসরি জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভেতরে তারা কোনো হামলা চালায়নি।মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর মধ্যে ইরান কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা এখন আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান বলেছেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় প্রজেক্টাইল আঘাত করেছে।বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। দুই নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলছে এবং বড় ধরনের নতুন অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলা চালাতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর থেকেই এই নতুন সংঘাত তীব্র হয়। ইরান চায় সব জাহাজ তাদের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে চলাচল করুক। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি নেতাদের ‘নোংরা লোক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আগের সমঝোতা কার্যত শেষ। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তা বাতিল করেনি।
দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নতুন বাস্তবতায় দলটি সাংগঠনিক কাঠামো আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রায় ১৪টি সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আমিরের নেতৃত্বে এটিই গঠনতন্ত্রে সবচেয়ে বড় ধরনের সংশোধন হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ধারার পরিমার্জন।প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৬৮ নম্বর ধারায় নতুন উপধারা যুক্ত করে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের আমিরদের আর্থিক ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দলীয় অর্থায়নের উৎস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও স্পষ্টভাবে গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে দলীয় শুরা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রস্তাবগুলো প্রথমে সংশোধনী কমিটি, পরে নির্বাহী পরিষদ এবং শেষে শুরা পরিষদের বিবেচনায় আনা হচ্ছে।তিনি বলেন, ২৩তম সংশোধনী প্রস্তাব শুরা সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কয়েকটি বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তও হয়েছে। তবে কিছু প্রস্তাব নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়টিও রয়েছে। এই পরিষদে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে, যারা দলের সদস্য না হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়টি নিয়ে শুরা সদস্যদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী শুরা বৈঠকেও এটি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশোধনীগুলো দলীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতেই এসব সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কখনও নির্বাচনী ইশতেহার, উন্নয়ন পরিকল্পনা, আবার কখনও মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে এই প্রকল্পের কথা। হয়েছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা। অনুমোদিত হয়েছে প্রকল্প এবং বেড়েছে ব্যয়। বাস্তবে দেখা যায়নি এক ইঞ্চি রেললাইনও। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কাগজের প্রকল্পটি এবার ‘লাইনে’ এসেছে। জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে এসেছে বড় অগ্রগতি। শেষ হয়েছে ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্ত। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে ছাড় হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে চেক বিতরণ শুরু হয়েছে। রেলওয়ে ও বগুড়া জেলা প্রশাসনের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতির চিত্র। বগুড়া অংশে মোট ৪৮১ দশমিক শূন্য ৯ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর ও কাহালু উপজেলার ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মাঠ জরিপ, ভিডিও ধারণ এবং মালিকানা যাচাই কাজও শেষ। গত ২২ জুন ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ এক হাজার ৯৬৯ কোটি ১০ লাখ টাকার চেক বগুড়া জেলা প্রশাসকের হাতে এসেছে। এখন পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ কাজ চলছে।আট বছর পর কাজে গতিবগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আলোচনা নতুন নয়। যমুনা বহুমুখী সেতু চালুর পর থেকেই উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, রুট নির্বাচন এবং কারিগরি বিশ্লেষণ করা হলেও প্রকল্পটি দীর্ঘদিন পরিকল্পনার টেবিলেই আটকে ছিল।২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দীর্ঘসূত্রতা, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন অবকাঠামো সংযোজন এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে এখন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে ভূমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রীর দাম এবং প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদানের ব্যয় বেড়ে যায়। এতে সংশোধিত ব্যয় প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছায়।প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৮৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি লুপলাইন, নতুন স্টেশন, সেতু, কালভার্ট, সিগন্যালিং ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে প্রকল্পটি ধীরগতির কারণে ‘কাগজের রেলপথ’ হিসেবেই পরিচিতি পায়।বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, সরকার থেকে অর্থ পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত আইন অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই নির্মাণকাজ শুরুর প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার হবে।বদলে যাবে যোগাযোগের চিত্ররেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন রেললাইন চালু হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সরাসরি রেল করিডোর তৈরি হবে। এতে ঢাকার সঙ্গে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ১১২ কিলোমিটার কমবে। যাত্রাকালও তিন-চার ঘণ্টা পর্যন্ত কমে আসতে পারে। এর সুফল শুধু যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তরাঞ্চলের আলু, ধান, ভুট্টা, সবজি, মাছ, দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিপুল কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এসব পণ্য প্রায় পুরোপুরি সড়কপথে পরিবহন হওয়ায় যানজট, দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়।বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি সাইরুল ইসলাম বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ শুধু একটি জেলার প্রকল্প নয়। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের আট-দশটি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছাবে, পরিবহন ব্যয় কমবে এবং নতুন শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।চাপ কমবে মহাসড়কেবর্তমানে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত করিডোর। উৎসবের ছুটির সময় তো বটেই, সাধারণ দিনেও দীর্ঘ যানজট এখন নিয়মিত ঘটনা। সম্প্রতি বগুড়া থেকে ঢাকায় যেতে অনেক যাত্রীর ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগে। চার লেন, ছয় লেন এবং সেতু নির্মাণের পরও সড়কপথের ওপর চাপ কমেনি। সড়কপথ বিশেষজ্ঞ আমিনুল হক বলেন, উত্তরাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশের যাত্রী ও পণ্য যদি রেলপথে স্থানান্তর করা যায়, তাহলে মহাসড়কের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, এই প্রকল্প শুধু একটি নতুন রেললাইন নয়; উত্তরাঞ্চলের জন্য বিকল্প পরিবহন করিডোর। দীর্ঘ মেয়াদে সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নির্মাণকাজ শুরু বড় চ্যালেঞ্জজমি অধিগ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তবু প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মূল নির্মাণকাজ শুরু করা। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধাপগুলো দ্রুত শেষ করা না গেলে আবারও সময় ও ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, জমি বুঝে পাওয়া গেলে দরপত্র ও মূল নির্মাণকাজ শুরুর প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পতে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৮৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মিত হবে। এতে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়; কৃষি ও শিল্পপণ্য পরিবহনেও বড় পরিবর্তন আসবে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। সরকারের বরাদ্দ পাওয়া অর্থ থেকে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বগুড়া নয়; উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি পাল্টে যাবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন বলে দাবি করেছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ। বুধবার (৮ জুলাই) হারেৎজ পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় বছর ধরে ইয়াইর সরকারি নথিপত্রে ‘ইয়োনাতান হান’ নামে নিবন্ধিত রয়েছেন। ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের নথি ঘেঁটে এই তথ্য বের হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার নাম ছিল ‘ইয়াইর নেতানিয়াহু’। কিন্তু চলতি বছরের নথিতে একই পরিচয়পত্র নম্বরের বিপরীতে নাম দেখা যাচ্ছে ‘ইয়োনাতান হান’। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বালফোর ০’।গাজা যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, আইনি ও কূটনৈতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যেই এই নাম বদলের খবর সামনে এসেছে। তবে ইয়াইর কেন হঠাৎ নাম পরিবর্তন করলেন, সে বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।ইয়াইর নেতানিয়াহু এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন। অন্যদিকে তার বাবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতির একাধিক মামলার পাশাপাশি গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি রয়েছেন।হারেৎজ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু পরিবারে এটিই প্রথম নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়। ইয়াইরের ছোট ভাই অ্যাভনারও কয়েক বছর আগে নিজের নাম বদলে ফেলেছিলেন। এছাড়া বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন ‘বেন নিতাই’ নামে পরিচিত ছিলেন বলে আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আবাসন খাত, আইন, নিরাপদ বিনিয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন অনুষ্ঠান ‘আইন ও আবাসন’ শুরু করছে একুশে টেলিভিশন। দেশের আবাসন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজ, নির্ভুল ও তথ্যসমৃদ্ধভাবে তুলে ধরতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আবাসন খাত নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য থেকেই এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেন টেরানোভা ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রিহ্যাবের পরিচালক এবং রিহ্যাব প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান তাসনোভা মাহবুব সালাম। তার পরিকল্পনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় নির্মিত এই আয়োজনের মাধ্যমে আইন, আবাসন ও নিরাপদ বিনিয়োগের বিভিন্ন বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে সহজ, নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হবে।‘আইন ও আবাসন’ অনুষ্ঠানে দেশের আবাসন খাতের বর্তমান বাস্তবতা, বাজার পরিস্থিতি, বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা, ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার আগে করণীয়, নিরাপদ বিনিয়োগের কৌশল, ক্রেতাদের আইনি অধিকার এবং আবাসন শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কর কাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ফাইন্যান্স, পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ এবং স্মার্ট হাউজিংয়ের মতো সমসাময়িক বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।এছাড়া প্রতিটি পর্বে আবাসন খাতের উদ্যোক্তা, আইন বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে প্রথমবার বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের জন্য থাকবে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও ব্যবহারিক পরামর্শ।একুশে টেলিভিশনের এই নতুন আয়োজন আবাসন খাত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান এবং আইনভিত্তিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ দিনের শোক অনুষ্ঠান শেষে সমাহিত হলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা মাজারের কাছে দাফন করা হয়েছে তার মরদেহ। শুক্রবার সকালে সরকারিভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরান।এই মাশহাদ শহরেই ১৯৩৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মেছিলেন খামেনি। মৃত্যুর পর এই শহরেই শায়িত হলেন তিনি।খামেনির দাফনের সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার মেজো ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ পদে আসেন এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই পদেই ছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন হওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন খামেনি।বৃহস্পতিবার যখন খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছিল, সে সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরা শোকাহত লাখো মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান–সংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।খামেনির দাফনের মধ্যে দিয়ে ইরানে গত ৬ দিন ধরে চলা রাষ্টীয় শোক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটল। এই শোক অনুষ্ঠানে খামেনির চার ছেলের মধ্যে ৩ জন উপস্থিত ছিলেন— মোস্তফা খামেনি (বড় ছেলে), মাসুদ খামেনি (সেজো ছেলে) এবং মেইসাম খামেনি (ছোটো ছেলে)। দাফনের সময় শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। বাকি দুই ছেলেও উপস্থিত ছিলেন, তবে মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না। পুরো শোক অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা এবং চিকিৎসাধীন থাকার মোজতবা তার পিতার শোক অনুষ্ঠান এবং জানাজায় আসতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি তরুণ বয়সে কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।সূত্র : রয়টার্স
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।
চলতি বছরের অক্টোবরে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ঘোষণা করা হবে তফসিল। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির রোডম্যাপের কথা জানান।চব্বিশের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা দিতে হচ্ছে প্রশাসক নিয়োগের মধ্য দিয়ে। এতে নাগরিক সেবা পেতে নানা ত্রুটির কথা উঠে আসছে। তাই নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করার পরিকল্পনা ইসির। একসাথে সব জায়গায় নির্বাচন পরিচালনা করার বিড়ম্বনা এড়াতে ধাপে ধাপে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন, আচরণবিধি চূড়ান্ত করা এবং সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বিধিমালায় বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও নিরপেক্ষ, সাশ্রয়ী ও সহিংসতামুক্ত করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাগজের পোস্টার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ারও সুযোগ থাকছে না। কোনো দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে। নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার সুযোগটি নিতে পারে রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সমর্থকরা।চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন কারাগারে বন্দি থাকলেও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় ছাত্রলীগকে। আর কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনে পরিণত হয় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল, দেশের সবচেয়ে প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি।বিগত দুবছর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার সাহস করেনি নেতাকর্মীরা। তবে বিভিন্ন সময় গুটি কয়েক নেতাকর্মী নিয়ে চোরাগুপ্তা কয়েক মিনিটের মিছিল করতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ফুটেজ দেখে এইসব নেতাকর্মীদের অনেককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।গত ৯ জুন, সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করতে পারলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমস্যা নেই। এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, একজন নির্দলীয় ব্যক্তি প্রার্থী হলেন, কিন্তু প্রচারে আওয়ামী লীগ বা তাঁদের যা যা বলার সেটা বলেন, সেটা সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি, তাঁর যে ক্রাইটেরিয়া আছে নির্বাচনটি করার জন্য, সেটা যদি পূরণ করতে পারেন, তিনি নির্বাচন করতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নাম বা পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক বা নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দল বা দলীয় প্রতীক অংশ নেয় না। তাই আইনি বাধা না থাকলে যেকোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র বা অদলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে যারা আওয়ামী আমলে এলাকায় নানা ধরনের কুকীর্তি, অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল, নিশ্চয়ই সেটি আইনের আওতায় আসতে হবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দৌড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থাকতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্ন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। কিন্তু সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিয়ে জামায়াতের বক্তব্য হলো, গণহত্যা ও অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনোভাবেই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ নেই। এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোভাবেই অংশ নিতে পারে না। এনসিপি নেতাদের মতে, ফ্যাসিবাদী তকমা নিয়ে পতন হওয়া এই দলের নেতাকর্মীরা কোনো নির্বাচনে অংশ নিলে তা হবে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা।এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় নেবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যে কেউ ভোটে অংশ নিতে পারবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নীতি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী আওয়ামী লীগের নাম, প্রতীক বা স্লোগান ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে আইনগত যোগ্যতা থাকলে যেকোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে দলীয় প্রতীক বা স্লোগান ব্যবহার না করে ব্যক্তি ইমেজে নির্বাচন করা এবং তৃণমূলের সমর্থন ধরে রাখা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন নাহিদ। আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবে, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি সারেন্ডার করবেন কি করবেন না- এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না— এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ৩০ হাজার আহত ও এক হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি। আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গেছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ২০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ঘর মেরামতের জন্য প্রতিজনকে ৩ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ. এম. মাজহারুল রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফেরদৌসুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি মেরামত এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার গ্লানির অনুভূতি কি রকম হতে কিলিয়ান এমবাপ্পের সেটি এখনো জানা হয়নি।প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। পেলের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথম বিশ্বকাপে করেছিলেন বাজিমাত। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, ধীরে ধীরে ফরাসি ফরোয়ার্ড নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এ নিয়ে খেলছেন তিনটি বিশ্বকাপ।প্রতি বিশ্বকাপে নিজে তো সফল বটেই, দলকেও প্রতিবার তুলেছেন সেমিফাইনালে।কোয়ার্টার ফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই মরক্কো কোন প্রতিরোধ করতে পারেনি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসিদের সামনে। বৃহস্পতিবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-০ গোলে জিতল দিদিয়ে দেশমের দল। তাদের দ্বিতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে।ম্যাচের শুরু থেকে এমবাপ্পেদের দাপট ছিল স্পষ্ট। রক্ষণ সামলাতে মরিয়া আফ্রিকার দল মরক্কো ২৮ মিনিটে পেনাল্টি দিয়ে দেয়। এমবাপ্পেকে থামাতে বক্সে ফাউল করে বসেন মাজরাউই। পেনাল্টির বাঁশি বাজানো রেফারিকে ভিএআর চেক করে পাকা সিদ্ধান্ত নিতে হয়।স্পটকিক থেকে বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হারান এমবাপ্পে।তবে ৬০ মিনিটে আর এমবাপ্পেকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। শরীরের ঝাঁকুনিতে বক্স থাকা মরক্কান ফুটবলাররা অল্প জায়গা ছাড়তে বাধ্য করেন। নিঁখুত শট নিয়ে বাঁ প্রান্ত জালে বল পাঠিয়ে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। মরক্কোর গোলের মুখ খোলা ফ্রান্স দ্বিতীয় গোলটি করতে বেশিক্ষণ সময় নেননি। বরং ছয় মিনিট পরই উসমান ডেম্বেলে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে জালে বল পাঠিয়ে দেন। গোলরক্ষক বনোর শটটি ফেরানোর সুযোগ ছিল। তিনি লাফিয়েও ছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ফ্রান্স ২-০ গোলে লিড নেওয়ার পর বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন আক্রমণের শিকার কিলিয়ান এমবাপ্পে।এই জয়ে টুর্নামেন্টে টানা ছয় ম্যাচ জিতল ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট—সব মিলিয়ে দারুণ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে দেশমের দল। শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারানোর পর এবার মরক্কোকেও বিদায় করে শেষ চারে পৌঁছাল তারা।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিজের প্রতি প্রতারণার অভিযোগ দেশের জনপ্রিয় ও বরেণ্য চিত্রনায়িকা রোজিনার। অভিমানের সুরে তিনি জানিয়েছেন মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়।রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে এ সব কথা জানান তিনি।অভিমানী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জীবনে আর কখনো শিল্পী সমিতিতে যাবো কি না, আমার জানা নেই। তবে এফডিসি থেকে যেহেতু আমার পরিচয়, সে কারণে এফডিসিকে তো ভুলতে পারবো না। যদি পরিচালক কিংবা প্রযোজক সমিতিতে কোনো অনুষ্ঠান হয় কিংবা কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে আমার ডাক পড়ে; তবে অবশ্যই যাবো। তা ছাড়া কখনোই আমি এফডিসিতে পা রাখব না।’অভিমানের পারদ এতটাই আকাশচুম্বী যে মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন কোনো অবস্থাতেই এফডিসিতে নিয়ে যাওয়া না হয়—পরিবারের সদস্যদের এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন রোজিনা। এর কারণ হিসেবে এফডিসির বর্তমান পরিবেশ ও শ্রদ্ধাবোধের অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।ৎরোজিনা বলেন, ‘আমার পরিবারকে অনেক আগেই বলে রেখেছি যে মৃত্যুর পর আমাকে তোমরা এফডিসিতে নেবে না। এ সিদ্ধান্ত কোনো আক্ষেপ বা কষ্ট থেকে নয়। সেখানে এখন আর সেসব মানুষ নেই, যারা শিল্পীদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা করবে। এখন সেখানে সেই সম্মান, মূল্যবোধ কিংবা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ খুঁজে পাওয়া যায় না।’রোজিনা জানান, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তার ছিল না। জয় চৌধুরীর অনুরোধ ও পীড়াপীড়িতেই তিনি প্রার্থী হতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু যাদের ওপর ভরসা করেছিলেন, সেই প্যানেলই তাঁর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে।ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আসলেই খুব মর্মাহত। এভাবে প্ল্যানিং করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে, এটা ভাবতেও পারিনি। আমার প্যানেলেও যারা ছিল, তাদের অনেকে আমাকে ভোট দেয়নি। কাকে কাকে ভোট দিয়ে জেতাতে হবে, ওরা আগে থেকেই তা সিলেক্ট করে রেখেছিল। নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য আমাকে কেবল একটা ট্রাম্পকার্ড বানিয়ে এভাবে হেয় করাটা তাদের মোটেও উচিত হয়নি।’
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান আজ জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করছেন তিনি।তবে আলোঝলমলে তারকাদের ভিড় নয়, বরং পরিবারের মানুষ, কাছের বন্ধু আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা নিয়েই শুরু হচ্ছে অভিনেতার জীবনের নতুন অধ্যায়।বলিউডের তারকাখচিত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একেবারেই ব্যক্তিগত পরিসরে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা জুটি। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ে আমির খানের নিজ বাসভবনেই অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। উপস্থিত থাকবেন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিথি। তাদের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের অল্প কয়েকজন সহকর্মী থাকবেন।অতিথির তালিকা থেকে শুরু করে বিয়ের মধ্যাহ্নভোজের মেনু—সবকিছুই নিজেরা ঠিক করেছেন আমির ও গৌরী। এমনকি অতিথিদের জন্য পরিবেশিত খাবারের প্রস্তুতিও তারা নিজেরা তদারকি করেছেন।একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘এটি কোনো তারকাসুলভ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়। আমির ও গৌরী চেয়েছেন, দিনটি যেন শুধুই পরিবারের মানুষ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে কাটে।’বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য থাকবে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। সূত্রের দাবি, মেনু তৈরিতে দুজনের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমির ও গৌরী দুজনই তাদের প্রিয় খাবারগুলো রাখতে বলেছেন। অনুষ্ঠানটি যতটা সম্ভব আন্তরিক ও পারিবারিক আবহে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে।বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আমির খানের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ রাও খান। এ ছাড়া আমন্ত্রণ পেয়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মীদের কয়েকজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানি। বলিউডের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে নতুন সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’র প্রচারণায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রথমবারের মতো বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন আমির খান। তিনি বলেন, ‘৫ জুলাই আমাদের বিয়ে। একেবারেই ছোট পরিসরে, নিজের বাড়িতেই আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। দুই পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকবেন। আমরা খুব সীমিত পরিসরে উদ্যাপন করতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে থাকতে পারি এবং জীবনের নতুন পথচলা সুন্দর হয়।’কয়েক মাস ধরেই আমির ও গৌরীর বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ঘরোয়া আয়োজনে নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা। গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আমির খানের পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের। তবে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও কয়েক বছর আগে আবারও তাদের দেখা হয়। পুরোনো বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।২০২৫ সালের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। তখনই তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে গৌরীর মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের শান্তি ও স্থিরতা খুঁজে পেয়েছেন, যা আগে কখনো অনুভব করেননি।একাধিক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছেন, ‘আমি এমন একজন মানুষকে খুঁজছিলাম, যার সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারব। গৌরীর মধ্যে আমি সেই মানুষটিকেই খুঁজে পেয়েছি।’আরেক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘আমি খুব সৌভাগ্যবান যে গৌরী আমার জীবনে এসেছে। মনে হয়, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি যেন পূর্ণতা পেয়েছি।’বেঙ্গালুরুতে বেড়ে ওঠা গৌরী স্প্র্যাট পেশায় একজন উদ্যোক্তা ও লাইফস্টাইল–সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী। দীর্ঘদিন একটি পরিচিত স্যালন ও বিউটি চেইনের সঙ্গে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি আমির খান প্রোডাকশনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। আগের সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।গৌরী বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চেয়েছিলেন, যিনি ভদ্র, যত্নশীল ও মানবিক। আমিরকে তিনি কখনো সুপারস্টার হিসেবে দেখেননি, বরং একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ ও সঙ্গী হিসেবে দেখেছেন।এটি হবে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাদের ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও আজও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তারা। সন্তানের সহ-অভিভাবক হিসেবে একসঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী।শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশন জানায়, মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু হয়।ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পান ১৭৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিশ্বখ্যাত গায়িকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সম্ভাব্য বিয়ে ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। বিয়ের দিনক্ষণ কিংবা আয়োজন সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অতিথিদের পোশাক।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেইলর সুইফট তার ব্যক্তিগত বিষয় সবসময় গোপন রাখতেই পছন্দ করেন। তাই সম্ভাব্য বিয়ের আয়োজন নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।জল্পনা রয়েছে, নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শুক্রবার (৩ জুলাই) এই আয়োজন হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রায় এক হাজার ১০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অতিথিদের পোশাকে থাকবে মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও রোমান্টিক ধাঁচ। অনেকেই বিখ্যাত নকশাকারদের তৈরি পোশাক বেছে নিতে পারেন। গ্রীষ্মকালীন আয়োজন হওয়ায় হালকা রঙ, ঢিলেঢালা পোশাক ও সূক্ষ্ম নকশার পোশাক বেশি দেখা যেতে পারে।সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তবে কী বিয়ে করছেন টেইলর ও ট্র্যাভিস? টেইলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও রয়েছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে সেলেনা গোমেজ, সুকি ওয়াটারহাউস, সাবরিনা কার্পেন্টার, কারা ডেলিভিনসহ আরও অনেকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র ফ্যাশনধারা বজায় রাখলেও কনের চেয়ে বেশি নজর কাড়ার চেষ্টা করবেন না।বিয়ের পোশাক নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ফ্যাশন বিশ্লেষকদের ধারণা, টেইলর সুইফট নিজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পোশাক পরতে পারেন। রাজকীয় নকশার করসেট ও ছড়ানো ঘেরের পোশাক তার পছন্দ হতে পারে। পরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তিনি আরও হালকা ও আরামদায়ক পোশাকেও দেখা যেতে পারেন।অন্যদিকে, ট্রাভিস কেলসি বরাবরই ব্যতিক্রমী পোশাকের জন্য পরিচিত। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর তাকে রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাকে দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বিয়ের আয়োজন, অতিথি তালিকা কিংবা পোশাক—সবকিছুই এখনো জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে টেইলর সুইফট বা ট্রাভিস কেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।সূত্র: বিবিসি
বিশ্ব সংগীত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আর্টিস্ট ক্লাবের আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এ সংগীত পরিবেশন করে। কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সংগীতপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব সংগীত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সংগীত এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা সংস্কৃতি, জাতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর্টিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আর্টিস্ট ক্লাব সবসময়ই সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে রয়েছে। বিশ্ব সংগীত দিবসে ডিইউসিএফ-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে ডিইউসিএফ-এর শিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশন করেন একটি প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’। দলীয় ও একক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ পুরো সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।অনুষ্ঠান শুরু হয় ব্যতিক্রম ধর্মী পুথি পাঠ এর মাধ্যমে। ডিইউসিএ’কে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম গান শুরু হয় একটি কোরাস ‘মোরো ঝনঝার মত’ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন নির্ঝর চৌধুরী, ইরবতি মন্ডল, আনিকা শারমিলা কৃপা ও ফরহাদ মিল্টন। নজরুল ইসলামের গান করেন নন্দিত শিল্পী নন্দিনী দও ধরা। পল্লী গীতি ও উকিল মুন্সীর গান করেন মাহফুজার রহমান মহব্বত। রবি ঠাকুরের গান করেন নাঈমা ইসলাম নাজ এবং অনুষ্ঠান শেষ হয় আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে সমেবেত সংগীত পরিবেশন মাধ্যমে। সভাপতি সুজিত মোস্তফা ডিইউসিএ’কে তাদের পরিবেশনার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা শিল্পী ও দর্শকদের এক সুরের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং উপস্থিত সকলের কাছে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ও ২৯২ টাকা কমেছিলো সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এবার সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা । বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রিভো বাংলাদেশ দেশের বাজারে দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক—রিভো সি৩৫ ও রিভো সি৩৫-ওয়াই—উন্মোচন করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মডেল দুটি উদ্বোধন করা হয়। নগর এলাকায় দৈনন্দিন যাতায়াতের কথা বিবেচনায় রেখে বাইক দুটি তৈরি করা হয়েছে। কমপ্যাক্ট ডিজাইন ও আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তিতে তৈরি রিভো সি৩৫ -এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম ফিচারসমৃদ্ধ ও রিভো সি৩৫-ওয়াই পাওয়া যাবে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকায়।রিভো বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, একবার পূর্ণ চার্জে বাইক দুটি প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এতে রিয়েল-টাইম ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিএমএস)-এর চার্জের শতাংশ প্রদর্শনের সুবিধা রয়েছে, যা চালককে ব্যাটারির অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়। এছাড়া রয়েছে ৮ ইঞ্চির ইন্টিগ্রেটেড ফুল-স্ক্রিন এলসিডি ডিসপ্লে, যেখানে প্রয়োজনীয় রাইডিং তথ্য দেখা যায়। "রাইড ডিফারেন্ট" প্রতিপাদ্যে উন্মোচিত রিভো সি৩৫ ও রিভো সি৩৫-ওয়াই-এ “মেকা” (Mecha) অনুপ্রাণিত ডিজাইন, ব্লেড-স্টাইল এয়ার গাইড সাইড গ্রিল এবং অ্যারোডাইনামিক বডি ব্যবহার করা হয়েছে। মডেল দুটি জেট ব্ল্যাক, স্পেস গ্রে, মেমফিস গ্রীন এবং গ্লো রেড —এই চারটি রঙে পাওয়া যাবে।উভয় মডেলে ৭২ ভোল্ট ৩৫ এম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি এবং উচ্চ-দক্ষতার পাওয়ারট্রেইন ব্যবহার করা হয়েছে। রিভো সি৩৫-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার, আর রিভো সি৩৫-ওয়াই-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাইক দুটি নগর যাতায়াতের জন্য পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিভো বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মি. ভেন নি বলেন, "রিভো উদ্ভাবনী প্রকৌশলকে এমন স্মার্ট, শূন্য-নির্গমন প্রযুক্তিতে রূপ দিয়েছে, যা বাংলাদেশের আধুনিক নগর জীবনের চালকদের প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে।"নতুন মডেল দুটি বাজারে আনা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অফার ঘোষণা করেছে রিভো বাংলাদেশ। রিভো সি৩৫ কিনলে ক্রেতারা পাবেন ৫,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক, একটি টি-শার্ট এবং একটি কীরিং। রিভো সি৩৫-ওয়াই কিনলে পাওয়া যাবে একটি হেলমেট, একটি টি-শার্ট এবং একটি কীরিং।মডেল দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনুমোদিত শোরুমে পাওয়া যাবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’