প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার মাত্র দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন। সেই তালিকায় তারেক রহমান স্থান পেয়েছেন ৬৭ নম্বরে।ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল।বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘গভীর আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে অবহিত করছি যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান টাইম ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল অব ২০২৬-এর বর্ণাঢ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর দুরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে।’মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আশা জাগিয়েছেন, মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিয়েছেন, নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলেছেন।’‘তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন “আই হ্যাভ এ প্লান।” একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমতকারভাবে অগ্রসর হয়েছে।’মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘টাইম-এর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই,সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকে টাইম থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সকলের। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের, যারা বিশ্বাস করে গণতন্ত্র অপরাজিত, জনতার শক্তি কখনো হার মানে। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।’প্রসঙ্গত, লন্ডনে ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান থেকে তিনি হন বিএনপির চেয়ারম্যান। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের দুটি আসন থেকে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) আসন থেকে অংশ নেন তারেক রহমান। দুটিতেই তিনি জয়ী হন, পাশাপাশি তার দল বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।নবগঠিত এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত প্রায় দুই মাস ধরে বেশ দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই সুযোগ্য সন্তান।
রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজার এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক একজন চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে টার দিকে বনানী ১২ নম্বর রোডের ৪৪ নম্বর ভবন পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি। সানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগুন লাগার খবরটা পেয়েই তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দেন, যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যত কম রাখা যায়। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি কাজটা পর্যবেক্ষণ করে যেতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ পাঠিয়েছেন। যাতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া যায়।’ আগুনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার ফোন দিয়েছেন জানিয়ে সহকারী একান্ত সচিব বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন তিনি।’ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে সানি বলেন, ‘আগুন লাগা ফ্লোরে যথাসম্ভব লোকজন নেই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ওরকম নেই। কোনো মানুষ আহত হননি।’ এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বহুতল ভবনটিতে আগুন লাগে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন লাগার পরপরই ভবন থেকে সবাই নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছেন। আগুন ভবনের অষ্টম এবং দশম তলায় ছড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত আটটা ১৫ মিনিটের পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতীয় সংসদে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দ্রুত এই সড়ক প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাই, কবে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত বলেন, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাই, এই মৃত্যুর মিছিল কবে থামবে। যে মহাসড়কটি লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ছয় লেনে উন্নীত হওয়ার কথা, সেটি এখনো মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত। এই অবস্থায় এলাকায় আমি মুখ দেখাতে পারি না।কুমিল্লার এই সংসদ সদস্য জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময়ই তার নির্বাচনি এলাকার দেবীদ্বারে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এখন তাদের জানাজার প্রস্তুতি চলছে। এটি এখানে প্রতিদিনের ঘটনা।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের এমন কোনো সড়ক নেই যা দুটি বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করে, অথচ এত সংকীর্ণ। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ময়নামতি, দেবীদ্বার, জাফরগঞ্জ, কংশনগর হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া কুটি পর্যন্ত বিস্তৃত—যে পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষের যাতায়াত। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট কিংবা সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যেতে হলে এই সড়কই একমাত্র ভরসা। অথচ মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তাটি প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে দেবীদ্বার-বুড়িচং অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।সংসদ সদস্য দাবি করেন, চলতি মাসেই এ সড়কে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে উন্নয়ন কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের কাছে গেলে প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হয়।শেষে স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই মহাসড়ক প্রশস্ত হলে অন্তত ১০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা পাবে। আমি এই সংসদের কাছে ভিক্ষা চাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
রাজধানীর বনানীর কাঁচা বাজারের পাশে থাকা ১১ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস।বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভবনটির ১১ তলায় থাকা একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট বারিধারা স্টেশন থেকে পৌঁছায়। এরপর আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। সবশেষ দুটি ইউনিট যুক্ত হয়ে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড তা এখনো জানা যায়নি।এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই ভবনের উপরের তলায় আগুন লাগে।
পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা পুলিশ সুপার হিসেবে বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ।বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে- শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পিবিআইতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল হাসান মাহমুদকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ একই ইউনিটে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে, ডিএমপির উপ-কমিশনার সুফিয়ান আহমেদকে একই ইউনিটে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বাছির উদ্দিনকে একই ইউনিটে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে একই ইউনিটে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়াকে একই ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে, পুলিশ অধিদফতরের এআইজি মো. মাহবুবুল করিমকে একই ইউনিটে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, আরএমপির উপ-কমিশনার মো. আল মামুনকে একই ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহা. আসাদুজ্জামানকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ অধিদফতরে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুসারে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় এমপি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপাতত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেই।’পৃথক পৃথক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি কর্তৃক তদন্ত/শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অমুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা হতে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৮৪২টি অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত অভিযোগের আবেদন জামুকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সেগুলো জামুকায় যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত তরে ৪৮১ জনের গেজেট/লালমুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। জামুকা প্রতিষ্ঠার পর হতে এ পর্যন্ত ১০৩টি সভার মাধ্যমে ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে।’বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বিসিআইসি ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রতিটি সার ডিলারের বিক্রয় পয়েন্টে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সার বিক্রয় কার্যক্রম চলমান আছে এবং প্রতিটি সার ডিলার পয়েন্টে দৃশ্যমান জায়গায় লালসালু কাপড়ে অথবা ব্যানারে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সারের মূল্য তালিকা ঝুলানো আছে এবং প্রকৃত কৃষক যাচাইপূর্বক ক্যাশ মেমোতে নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দোকান পরিদর্শনকালে মূল্যসহ ক্যাশ মেমোতে উল্লেখিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বেশি মূল্যে সার বিক্রয়ের সুযোগ নাই।উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে জেঁকে বসা দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ই-নামজারি থেকে শুরু করে হটলাইন ১৬১২২ পর্যন্ত মোট ১১টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই খাতের অনিয়ম দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। এনসিপির সদস্য সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, ভূমি অধিগ্রহণ এবং লিজ অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমকেও সফটওয়্যারের আওতায় আনার কাজ চলছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হলে ভূমি খাতে দুর্নীতির সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ঘোষণা করেছেন, ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত তেহরানে তাদের গোপন অভিযান সমাপ্ত হবে না। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) হলোকাস্ট স্মরণ দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বার্নিয়া প্রকাশ করেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় মোসাদের এজেন্টরা ‘সরাসরি তেহরানের হৃদপিণ্ডে’ অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তার মতে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীকে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে ইসরায়েলের দিকে ধাবমান হুমকিগুলো নসাৎ করে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।মোসাদ প্রধান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, যুদ্ধের ময়দানে লড়াই থেমে যাওয়ার মানেই এই নয় যে মোসাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেছে। তিনি জানান, তেহরানে সরাসরি বিমান হামলার পরবর্তী সময়ের জন্য তারা আগে থেকেই সুনিপুণ পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন যাতে অভিযানগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়। বার্নিয়া জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের এই আমূল পরিবর্তনকামী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মোসাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ হবে না। মূলত তেহরানে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোকেই তিনি তাদের বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।ডেভিড বার্নিয়া আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। মোসাদ প্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিমান হামলার পর ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার মাঝেই বার্নিয়া এই নতুন অভিযানের ঘোষণা দিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, মোসাদের গোয়েন্দারা ইরানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বার্নিয়ার এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে। ইসরায়েল সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলায় কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। হলোকাস্টের মতো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির দিনে দেওয়া এই বক্তব্যে বার্নিয়া প্রকারান্তরে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না এবং শত্রুর ডেরায় ঢুকে আঘাত হানতে তাদের গোয়েন্দা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
রাজধানী বনানীতে একটি বহুতল ভবনে কাপড়ের গোড়াউনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বনানী ১২ নম্বর রোডের কাঁচাবাজারের সামনে ৪৪ নম্বর ভবনের ১১ তলায় এই আগুনের ঘটনা ঘটে।ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর প্রথম দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা কাজ শুরু করেছে। আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে তারাও কাজ শুরু করতে পারে।
হজ টিমের সদস্যদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, হাজিদের সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে হজ টিমের সদস্যদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের খাদেম হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। তাঁদের সেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। তাই টিমের সদস্যদের প্রকৃত অর্থে দায়িত্বশীল খাদেম হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, হজযাত্রীদের সেবা বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজে যুক্ত হওয়া যাবে না। হাজিদের সঙ্গে কেউ অনিয়ম বা অসদাচরণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের দেশে ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।মন্ত্রী বলেন, হাজিরা যাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন তাদেরকে পরবর্তী বছরে আবার হজযাত্রীদের খেদমতের সুযোগ দেওয়া হবে। যারা হাজিদের যথাযথ সেবা দেবেন না তাদের মক্কা থেকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয় সে ব্যাপারে হজ টিমকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।অনুষ্ঠানে হজ টিমের সদস্যরা হাজিদের সেবা করার বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলাম।এর আগে হজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক বিভিন্ন টিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন।প্রশিক্ষণে হজ মনিটরিং টিম, প্রশাসনিক টিম, প্রশাসনিক সহায়ক টিম, কারিগরি টিম ও সমন্বিত চিকিৎসক টিমের সদস্যরা অংশ নেন।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও সরবরাহে অনিয়ম প্রতিরোধে সারাদেশে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অভিযানে মোট পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এসব অভিযানে সর্বাধিক তিন লাখ ৬৬ হাজার এক লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার অকটেন এবং ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।এদিকে, চট্টগ্রামে পৃথক অভিযানে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ করা হয়েছে।জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এসময় বিভিন্ন অপরাধে ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ কার্যক্রম দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজার এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক একজন চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে টার দিকে বনানী ১২ নম্বর রোডের ৪৪ নম্বর ভবন পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি। সানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগুন লাগার খবরটা পেয়েই তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দেন, যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যত কম রাখা যায়। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি কাজটা পর্যবেক্ষণ করে যেতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ পাঠিয়েছেন। যাতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া যায়।’ আগুনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার ফোন দিয়েছেন জানিয়ে সহকারী একান্ত সচিব বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন তিনি।’ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে সানি বলেন, ‘আগুন লাগা ফ্লোরে যথাসম্ভব লোকজন নেই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ওরকম নেই। কোনো মানুষ আহত হননি।’ এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বহুতল ভবনটিতে আগুন লাগে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন লাগার পরপরই ভবন থেকে সবাই নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছেন। আগুন ভবনের অষ্টম এবং দশম তলায় ছড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত আটটা ১৫ মিনিটের পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রচিত ‘আগামী বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বইটি পাঠকদের চিন্তা-চেতনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশ গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।অনুষ্ঠানে লেখক মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বইটি লেখার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি উন্নত ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা থেকেই বইটি রচিত হয়েছে।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা আ ন ম সামছুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বইটি পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক চিন্তা-ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, পাঠকরা বইটি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৪ কেজি গাঁজাসহ সাবেক এক বিজিবি সদস্যসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানার এসআই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত সাবেক বিজিবি সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, যার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায়। অপর দুইজন হলেন মো. সহিদুর রহমান (৪৫) ও মো. হেলাল উদ্দিন (৪৫)।কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।স্থানীয়রা জানান, কসবা সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
শঙ্কা মাড়িয়ে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মাস দুয়েকেরও কম বাকি আছে বিশ্বকাপের। এখন আবার ব্রাজিলের বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে ভিন্ন আলোচনা। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার জুনিয়রের বিশ্বকাপ দলে থাকা না থাকা নিয়ে চলছে আলোচনা। সেটি গড়িয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত।ভঙ্গুর দশার মধ্যে থাকা ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার অধীনে আবারও নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরার পথে ব্রাজিল। আনচেলত্তির সর্বশেষ দল ঘোষণার সময় একটি প্রশ্ন থাকত নিয়মিতই। নেইমারকে নিয়ে তার ভাবনা কী? ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমারকে দলে জায়গা পেতে হলে পূর্ণ ফিট থাকতে হবে।বারবার চোটের কবলে পড়লেও বর্তমানে বেশ ভালোই ছন্দে আছেন নেইমার। সম্প্রতি সান্তোসের ম্যাচগুলোতে আগের চেয়ে প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে নেইমারকে। ফলে ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া নিয়ে তাই আলোচনাটা আরও জোরালো হয়েছে। অনেকের মতে, নেইমারকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে নেওয়া উচিত।সম্প্রতি ইউটিউবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, নেইমারকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখার বিষয়ে আনচেলত্তি তিনি সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনটিই জানিয়েছে ফার্স্টপোস্ট।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে ইউটিউবে দেওয়া এক বক্তব্যে লুলা বলেন– ‘আমার আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেসা করেছিলেন, ‘আপনার কি মনে হয় নেইমারকে দলে ডাকা উচিত?’আনচেলত্তির সেই প্রশ্নের উত্তরে লুলা বলেছেন, ‘সে (নেইমার) যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তাকে ডাকা উচিত। কারণ, সে খেলার মধ্যেই আছে। আমি যেটা জানতে চাই তা হলো, সে আসলে নিজে থেকে এটি কতটা (বিশ্বকাপ খেলতে) চায়। যদি সে চায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা মেসির মতো খেলোয়াড়দের অনুসরণ করতে পারে এবং এখনও জাতীয় দলে খেলতে পারে, কারণ তার বয়স খুব বেশি হয়ে যায়নি।’গত ১০ বছরে ব্রাজিল দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমার। ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। তবে লুলা স্পষ্ট করে আনচেলত্তিকে জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু নামের বিচারে নয়, বরং বর্তমান সক্ষমতার বিচারেই নেইমারকে দলে নেওয়া উচিত।লুলা বলেন, ‘সে শুধু নিজের নামের জোরে দলে যাওয়ার আশা করতে পারে না। তাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের জায়গা অর্জন করে নিতে হবে।’নেইমার অবশ্য নিজেও জানিয়েছেন, পূর্ণ ফিট হওয়ার জন্য কতটা আগ্রহী তিনি। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে পরিপূর্ণ ফিট হিসেবে প্রস্তুত করতে আবারও হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তার ক্লাব সান্তোসও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাকে ফিট রাখতে।২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। আগামী ১৪ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো শুরু হবে।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে শোকের ছায়া এখনও সর্বত্র বিরাজমান। এই শোকের আবহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহুলের জীবনের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিচালক শুভ্রজিৎ বাপ্পা।তিনি বলেন, এই ছবিটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মুক্তি দিচ্ছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহযোগিতা পেলে ছবিটি দর্শকদের বিনামূল্যে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বিশ্বকর্মা’ নামের একজন চিত্রগ্রাহককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। সংসারের অভাব আর অবহেলার মাঝেও বিশ্বকর্মা মৃত মানুষের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।প্রথমে সিনেমাটির নাম ‘নেগেটিভ’ থাকলেও রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন সম্মানে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র ও রানা বসু ঠাকুর। রূপম ইসলাম ও সোমলতার কণ্ঠে গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্য ঋত। সব মিলিয়ে, ‘ছবিওয়ালা’ এখন কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং প্রিয় অভিনেতার প্রতি টলিউডের এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বলিউড অভিনেত্রী জারিন খানের মা পারভীন খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাশুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাউল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পারভীন খান। গত বছর অক্টোবর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এ বছরের শুরু থেকেই ফের অসুস্থ হয়ে আইসিউতে ছিলেন তিনি।
জ্বালানির তেলের দাম না বাড়ানোর আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান।প্রফেসর ড. রাশেদ বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করেছে এবং তা জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নয়। এছাড়া অর্থনীতির বহুমাত্রার সংকট কাটাতে কেতাবি পদ্ধতি নয় বরং সমন্বয়ের বাজেটের আভাস দেন উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, সরকারের ১২ দিনের মাথায় ভঙ্গুর অর্থনীতির সঙ্গে যোগ হয় মধ্যপ্রাচ্য সংকট। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায় ঘর থেকে কলকারখানায়। তাতেও কর্মসংস্থানের মাইলফলকে পৌঁছাতে বা ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আসেনি সরকার। ভর্তুকি কমিয়ে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ে নানা চাপ থাকলেও কৃষিতে সেচ, কলকারখানা চালু ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সে পথে হাঁটার চিন্তা নেই। ডিসিসিআই ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় : ঋণদাতা ও ঋণগ্রহিতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনায় শিল্প পরিকল্পনায় খেলাপিদের কবলে থাকা ব্যাংকখাতের প্রভাব তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি। একইসঙ্গে আসন্ন বাজেটে সিএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান আলোচকরা। আলোচনায় ব্যাংক খাতে খেলাপি দৌরাত্ব কমানো, রিস্ক বেইজড সুপারভিশন চালু, বন্ডবাজার শক্তিশালী করা ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির পরিকল্পনায় জোর দেন আলোচকরা।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল ও রবি এলিট গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহকরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিভিন্ন শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দ্রুততর চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা।অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে ম্যানিক লাল দাস, ডিরেক্টর, কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস (রবি মার্কেটিং); মো. সানজিদ হোসেন, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ; সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ; এবং তানভীর আলম চৌধুরী, জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি পার্টনারশিপস, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ, রবি মার্কেটিং উপস্থিত ছিলেন। এবং চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মি. মুনতাসির মাহমুদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এবং মি. বাদশা মোড়ল, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার।এ সময় মি. মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা সেবাকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহক খুব সহজভাবে দেশের বাহিরে চিকিৎসা সেবা। রবি’র বিপুল গ্রাহকভিত্তিক এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যাত্রায় একটি বিশ্বস্ত সহযোগী পাবে।”মি. তানভীর আলম বলেন, “রবি সবসময় সেবার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সীমানার বাইরে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।