দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।তিনি জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তারেক রহমান মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।সভায় আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের এমপি এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘কম্পারেটিভ গভার্নেন্স ফোরাম-২০২৬’ শীর্ষক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।ইয়াও ওয়েন বলেন, জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর ছিল দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ওই সফরে বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর এবং অন্যান্য যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে চীন আশাবাদী। আগামী দিনে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বক্তব্য দেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। আলোচিত মাসে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।সোমবার (৩ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিট পোশাকের তুলনায় ওভেন পোশাক রপ্তানি বেশি কমেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে মাত্র দশমিক ৯০ শতাংশ।খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল (প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় বর্তমান ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক শিল্প এখন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। এই সময়ে একক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন একটি ভালো শুরু বলা যায়।বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ২০২৬ মাসে বিজিএমইএ কর্তৃক সম্পাদিত ইউডি পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে (জুলাই ২০২৫-এর তুলনায়)। অর্থাৎ রপ্তানিতে চলমান স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা পেলে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত তিনটি উপজেলায় (হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী) সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ আগস্ট এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যাচ্ছেন, তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত।’প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ছাড়াও বন্যায় গৃহহারা পরিবারকে নতুন নির্মাণকৃত বাড়িও হস্তান্তর করবেন।প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে এসব উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোকে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে। সেসব বাড়ি প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের বুঝিয়ে দেবেন। একই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও সেখানে দুর্গতদের হাতে ত্রাণ তুলে দেবেন।প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য উপযুক্ত স্থানে হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখান থেকে তিনি পশ্চিম বাঁশখালীতে সমাবেশ ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই এলাকায় সরকারি সহায়তায় পুনর্নির্মাণ করা ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের হস্তান্তর করবেন।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে আমাকে ও সদস্য সচিবকে ডাকা হয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। এখনও দাপ্তরিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সফরসূচি চূড়ান্তভাবে জানানো হলে সে মোতাবেকও আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।’
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।ঢাকার বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সব সময় সবার জন্য দোয়া করি।এর আগে সোমবার সকালে তার দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও লন্ডনে ফেরত যাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ ও দুর্গা পূজার উৎসব ছাড়াও প্রায়ই টানা তিন-চার দিন করে ছুটি কাটানোর সুযোগ পান। সামনে আরও একবার আসছে সেই সুযোগ।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। এদিন সরকারি ছুটি থাকবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের কেউ যদি পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) একদিনের নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি নেন, তাহলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন।প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয়েছিল তৎকালীন ‘স্বৈরাচার’ আওয়ামী লীগ সরকারের। হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া সেই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র দিনটি পরের বছর থেকে জাতীয় দিবস হিসেবে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে ‘অন্তর্র্বতী সরকার’।বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও ৫ আগস্টে সরকারি ছুটি বহাল রেখেছে। কিন্তু সব পেশার মানুষই পাবেন না এই ছুটি। জানা গেছে, ৫ আগস্ট উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। তবে জরুরি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী যথারীতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।জরুরি সেবার আওতায় রয়েছে- হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, সমুদ্র ও স্থলবন্দর, বিমানবন্দর, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক গণপরিবহন, কারাগার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সেবাসহ অন্যান্য জরুরি সরকারি পরিষেবা।অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ৫ আগস্ট ছুটি থাকবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের নির্দেশনা ও নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।একই সঙ্গে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স-২ শাখা থেকে গত ২৮ জুলাই জারি করা এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সব সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই টুলের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের গতি, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়লেও অসতর্ক ব্যবহারে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।এ প্রেক্ষাপটে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই টুল ব্যবহারের সময় সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।এতে আরও বলা হয়, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে, যাতে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন থাকে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ জোবায়ের আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধে একদিনে উভয় দেশের অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় অন্তত নয়জন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২ আগস্ট) এ হামলার ঘটনা ঘটে।প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার পরিধি ও তীব্রতা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খবর এএফপির।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এ বছর এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যেগুলো প্রতিহত করা কঠিন। এতে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।অন্যদিকে, মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বসতে চাপ দিতে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও খুচরা পণ্যের গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।রোববার দিনের শুরুতে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি খেলার মাঠের কাছে থাকা ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে বলে অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ জানান।আলেকজান্ডার শুভায়েভ বলেন, ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি গুরুতর আহত হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আঘাত জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ছিল।অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ওলগা আব্রামোভা জানান, এদিকে, কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী রাশিয়ার রাতে অঞ্চলে পৃথক এক ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন। এছাড়া, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। অঞ্চলটি যুদ্ধের সম্মুখসার থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।ওলগা আব্রামোভা বলেন, এই ঘটনা অর্থহীনতার দিক থেকে ভয়াবহ। নিহতরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুইজন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলে অন্তত একজন করে নিহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান নোভা পোশতা জানায়, এ ছাড়া, উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক এক হামলায় একটি ডাক পরিবহন টার্মিনাল ধ্বংস হয়। এতে এক ডাককর্মী নিহত হন।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা কার্যত স্থগিত হয়ে আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে এই আলোচনা আর এগোয়নি।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস, সরকারি সভা এবং অন্যান্য প্রটোকলভিত্তিক আয়োজনে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬ (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে গত ৩০ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস, সরকারি সভা এবং অন্যান্য প্রটোকলিক আয়োজনে আসন বিন্যাস, আমন্ত্রণপত্র ও সরকারি চিঠিপত্রে নামের ক্রম নির্ধারণসহ সব ক্ষেত্রে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬ (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এতে আরও বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রটোকল-সংক্রান্ত কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানরা তাদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও মর্যাদা পাবেন বলে আশা করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।চিঠিটির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পুলিশ কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১১টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)।রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকায় প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন এগুলো আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ (ভাঙারি) হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বেবিচক সূত্র জানায়, একসময় দেশের আকাশে চলাচল করা এসব উড়োজাহাজ দীর্ঘদিন অযত্নে খোলা পরিবেশে পড়ে থাকায় কার্যত লোহালক্কড়ে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, মরিচা ধরেছে কাঠামোতে। ফলে এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয়।অ্যাপ্রোন দখলে ব্যাহত কার্গো কার্যক্রমবর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১টি এবং অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের ১টিসহ মোট ১২টি উড়োজাহাজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে পড়ে রয়েছে।এসব উড়োজাহাজ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট মূল্যবান অপারেশনাল এলাকা দখল করে রেখেছে। ফলে কার্গো কার্যক্রম, উড়োজাহাজ পার্কিং, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না এবং সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ভিত্তিমূল্য নয়, সরাসরি আন্তর্জাতিক দরপত্রবেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এসব উড়োজাহাজের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করতে যে ব্যয় হবে, তা বিক্রি থেকে সম্ভাব্য আয়ের চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই প্রচলিত মূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে কোনো ভিত্তিমূল্য ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলাম করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।এ লক্ষ্যে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গত ১৬ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বাজেয়াপ্তউড়োজাহাজগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে যায়। পরে আইন অনুযায়ী সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়। নিবন্ধন বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বেবিচক ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উড়োজাহাজ সরানো না হলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করা হবে।পরে বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স, বন্ধক গ্রহণকারী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২টি উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক।মূল্য নির্ধারণেই সবচেয়ে বড় জটিলতাবেবিচক বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহায়তা চাইলেও দেশে আন্তর্জাতিক মানে উড়োজাহাজ মূল্যায়নে সক্ষম কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা হলেও সম্ভাব্য ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেই উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা যায়নি।এ কারণে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়ার কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।যা বললেন বেবিচকবেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন,"দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২টি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এগুলো ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। মূল্য নির্ধারণে যে ব্যয় হবে, বিক্রি করে সেই অর্থ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। বাস্তবে এগুলো এখন স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে।"বিশেষজ্ঞদের মতবিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এতে কার্গো কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অপারেশনাল সক্ষমতা কমছে এবং সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে।তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত উড়োজাহাজগুলো অপসারণ করা গেলে একদিকে যেমন বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে বহুদিনের অচলাবস্থারও অবসান ঘটবে।
রাজধানীর খিলক্ষেতে সরকারি জমি, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মশিউর রহমান মসির সহযোগী হিসেবে পরিচিত মামুন বর্তমানে ওই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা সৃষ্টি করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায়ে এই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামুনের কয়েকজন সহযোগীকে খিলক্ষেত বাজারের প্রধান সড়কে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় মামুন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দল থেকে বহিষ্কারের পর মশিউর রহমান মসি প্রকাশ্যে সক্রিয় না থাকলেও তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ এখনও মসির কাছে পৌঁছে যায়।স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খিলক্ষেত এলাকায় সরকারি জমি দখল, অস্থায়ী দোকান স্থাপন এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজার, ফুটপাত, পরিবহন ও অন্যান্য খাত থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মশিউর রহমান মসির আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের দাবি, উত্তরপাড়া বটতলা এলাকায় তাঁর পূর্বের টিনশেড ঘরের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া একটি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে এলাকার নাম পরিবর্তনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন বলেন, “ছবিটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আমি ভুল করেছি।” তিনি আরও জানান, তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইনের কাছে তারেক রহমানের এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও ছবি অপব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (কমপ্লেইন) করতে হবে। তিনি অভিযোগ না করলে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।এ ছাড়া খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তাঁর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো করণীয় নেই।অন্যদিকে, বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, “রেললাইনের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো দোকানপাট থাকার সুযোগ নেই। রেলওয়ের মালিকানাধীন সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারি জমি দখল, অবৈধ দোকান স্থাপন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়ার ধুনটে আট বছর বয়সী শিশু মায়দা আক্তার রজনীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার নিয়ে হতাশায় ভুগছে নিহত শিশুটির পরিবার। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিহত রজনীর বাবা গাজিউর রহমান।মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ মে বিকেল ৫টার দিকে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী পশ্চিমপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক গাজিউর রহমানের মেয়ে, প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মায়দা আক্তার রজনী (৮), বাড়ির সামনে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে রজনীর বাবা ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।পরদিন ৫ মে সন্ধ্যায় এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে একটি পরিত্যক্ত স্থানের ঝোপঝাড় থেকে রজনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গাজিউর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন।তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে ঘটনার তিন বছর অতিবাহিত হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির স্বজনরা।নিহত রজনীর বাবা গাজিউর রহমান বলেন, “আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা বিচার পাইনি। প্রতিটি দিন আমাদের কাছে অসহনীয়। আমি চাই, দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন বেদনা সহ্য করতে না হয়।”তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে। তাই ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি ধুনট উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার টাঙিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।নিহত শিশুটির পরিবারের দাবি, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
উইকেট কঠিন ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররাও দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু সেটার কোনো উত্তর খুঁজে পাননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেছে স্রেফ ৮৯ রানে। এরপর বোলাররাও অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেননি। ফলে বড় ব্যবধানে হেরেই ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।আজ শনিবার (১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রনক্লুফ ওভালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০.২ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে মোটে ৮৯ রান করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রোটিয়া বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে পারেননি লাল-সবুজের ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ৪ ওভারে মোটে ৩ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক জাকির হাসান।নয় বল খেলে মাত্র ১ রান করে জাকির ফেরার পর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন বাকিরা। শাহাদাৎ হোসেন ৮, ইফতেখার হোসেন ২ আর মাহিদুল ইসলাম করেন মাত্র ২ রান। শুরুর সেই ধাক্কা আর সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ।নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে ইনিংসের শেষভাগে। দলের স্কোর বড় করার বদলে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০ ওভার ২ বলে স্রেফ ৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ৭৩ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। এছাড়া বাকিদের মধ্যে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ১১ ও সামিউন বাসীর করেন ১০ রান।দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একাই ৫ উইকেট শিকার করেন দাইয়ান গালিম।৯০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলও অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই পেসার ইকবাল হোসেন ইমনের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন জর্ডান কিং।পরে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান আরও দুটি উইকেট তুলে নিলেও জয় আটকানো যায়নি। রিচার্ড সেলেটসওয়ানের ৩৫ এবং মিচেল ভ্যান ব্যুরেনের ১৮ রানের সুবাদে ১৮ ওভার ৪ বলেই সহজ জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক ঘটলো। 'গুলশানের চামেলী' সিনেমার মাধ্যমে তিনি যাত্রা শুরু করছেন ঢালিউডে।১ আগস্ট শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।মধুমিতা বলেন, 'আমি এখানকার সবার এতটা ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত। এত এত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে, এত গুণী মানুষদের নিয়ে আমার অভিষেক হচ্ছে ঢাকাই সিনেমায়। এর চেয়ে ভালো অভিষেক আর হতে পারে না।'তিনি আরও বলেন, 'আমরা যে এনার্জি ও স্পিড নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি, আশা করি সিনেমাটি খুব ভালো হবে। আমাকে এই সিনেমায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই।' মহরতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে এমডি ইকবাল পরিচালিত 'গুলশানের চামেলী'।সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে মধুমিতা সরকারকে, যা নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। জানা গেছে, সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন এ অভিনেত্রী। এর আগে স্বামী দেবমাল্য চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান মধুমিতা সরকার।‘গুলশানের চামেলী’ নির্মিত হচ্ছে এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের জনপ্রিয় একঝাঁক শিল্পী অভিনয় করবেন। ইতোমধ্যে সিনেমাটির শিল্পী তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ওমর সানী, আমিন খান, আশীষ খন্দকার ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধনকে।
বহু প্রতীক্ষিত ‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার প্রথম ট্রেইলার প্রকাশ করেছে সনি। জনপ্রিয় এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ পর্বে আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া জুমানজি: ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল এবং ২০১৯ সালের জুমানজি: দ্য নেক্সট লেভেলের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হচ্ছে নতুন এই সিনেমা। আগের দুই পর্ব বিশ্বজুড়ে ১৭০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার আয় করে।নতুন সিনেমাতেও আগের মতোই থাকছে রোমাঞ্চ, হাস্যরস, অ্যাকশন এবং চরিত্র বদলের মজার সব ঘটনা। ভিডিও গেমের ভেতরের চরিত্রগুলোতে আবারও অভিনয় করেছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও কারেন গিলান।প্রধান চার তারকার পাশাপাশি এবারও অভিনয় করেছেন ড্যানি ডিভিটো, নিক জোনাস, অকওয়াফিনা, মারিন হিঙ্কল, বেবে নিউওয়ার্থ, লামর্ন মরিস ও রিস ডার্বি। নতুন মুখ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড্যান হিলডেব্র্যান্ড ও জ্যাক জুকস।সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জেক কাসদান। চিত্রনাট্য লিখেছেন জেক কাসদান, জেফ পিঙ্কনার ও স্কট রোজেনবার্গ। প্রযোজনায় রয়েছেন ম্যাট টলম্যাচ, ডোয়েন জনসন, ড্যানি গার্সিয়া, হিরাম গার্সিয়া এবং জেক কাসদান।প্রথমে আগামী ১১ ডিসেম্বর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পরে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বড়দিন উপলক্ষে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।উল্লেখ্য, নতুন এই সিনেমাটি ১৯৯৫ সালের জনপ্রিয় জুমানজি চলচ্চিত্রের আধুনিক সংস্করণের ধারাবাহিকতা। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত রবিন উইলিয়ামস ও কিরস্টেন ডানস্ট। নতুন সিরিজে বোর্ড গেমের পরিবর্তে ভিডিও গেমকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড়দিনে মুক্তি পাওয়ায় এটি ডিউন: পার্ট থ্রি এবং অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে।
সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ আয়োজন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানিয়েছে, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার নির্দেশনা দেয়।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আয়োজকরা বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি ও অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনসার্টটি আপাতত স্থগিত করতে হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শুধু দর্শকই নন, শিল্পী, স্পন্সর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছেন।টিকিট ক্রয়কারী দর্শকদের আশ্বস্ত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কনসার্টের জন্য কেনা সব টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানানো হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনিবার্য কারণ উল্লেখ করলেও কনসার্ট স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন অনেকটা খোলা বইয়ের মতো। অনেক পাতা-ই পড়া নেটিজেনদের। একটি পৃষ্ঠা যেন উল্টানো বাকি ছিল। যেটি কিং খান নিজেই উল্টালেন। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে জানালেন অপু-বুবলী না, ইংলিশ মিডিয়ামের এক তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন শাকিব খান। উপস্থাপনার কাজটি সামলাচ্ছিলেন পূর্ণিমা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীর কাছেই মনের গোপন জানিয়েছেন মেগাস্টার।জানান একসময় গুলশানের ইংরেজি মাধ্যমের এক তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। দুজনের সম্পর্কটি খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে সেই অসমাপ্ত ভালোবাসার স্মৃতি এখনও তাকে নাড়া দেয়।শাকিব বলেন, ‘আমার বাসার কাছাকাছি ছিল ওর বাড়ি। দেখতেও ভীষণ সুন্দর ছিল। আমি কিন্তু তার সঙ্গেই সেটেলড হতে চেয়েছিলাম। আমি মনে মনে সিরিয়াসলি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। আমাকে মেয়েটি খুব ভালোবাসত। আমি সত্যিই তার সঙ্গেই সংসার করতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে ভাবি— আমি চাইলাম কাকে, ভালোবাসলাম কাকে, আর কোথায় গেলাম!’সেই তরুণীকে এখনও মিস করেন বলে পূর্ণিমাকে জানান শাকিব। বলেন, ‘আমি এখনও তাকে মিস করি। মাঝেমাঝেই যখন একা থাকি তখন ভাবি যে, কেন এরকম হলো! সম্পর্কে যখন ভালোবাসাবাসি বেশি হয়ে যায় তখন মনে হয় এরকম হয়ে যায়।’ উপস্থাপকের আসনে পূর্ণিমা বরাবরই দক্ষ। শাকিবের বেলায়ও একই রকম ছিলেন। নায়কের পেট থেকে কথা বের করতে মোক্ষম প্রশ্ন ছোড়েন। প্রশ্ন করেন, সেই তরুণী যদি আবার জীবনে ফিরে আসেন, তাহলে তাকে গ্রহণ করবেন কি না। উত্তরে শাকিব বলেন, ‘সে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। আমি চাই, সে অনেক ভালো থাকুক।’
ভারতের মুম্বাইয়ের ২৭ বছর বয়সী মডেল ও থিয়েটারশিল্পী রিয়া আহির বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করলে, তাদের মুক্তির দাবিতে তিনি নিদ্বির্ধায় পুলিশের ভ্যানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।সেই সাহসী অবস্থানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে ‘সাহসী’ ও অকুতোভয় আখ্যা দিয়ে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সম্পর্কে রিয়া জানান, তার বাবা-মা মেয়ের এই সাহসিকতায় ভীষণ খুশি হয়েছেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জাতীয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তোলে, যার মধ্যে নারী আন্দোলনকারীও ছিলেন।রিয়া আহির জানান, আটক হওয়া সেই ব্যক্তিদের কাউকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। তবে যেভাবে গাদাগাদি করে মানুষকে ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তা দেখে নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি চুপ থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ভ্যানে অনেককে তুলে দেওয়া দেখে তিনি এক নারীকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তিনি চলন্ত ভ্যানের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং আটকে থাকা সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিয়া অবিচলভাবে পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেখান থেকে সরে যেতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। রিয়ার অভিযোগ, তাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভ্যানচালক বেশ কয়েকবার জোরে ইঞ্জিন চালিয়ে গাড়ি সামনে নেওয়ার ভয় দেখান, কিন্তু তিনি একচুলও নড়েননি।রিয়ার এই অদম্য অবস্থান দেখে অন্য আন্দোলনকারীরাও তার পাশে এসে কাঁধ মেলান। তীব্র প্রতিবাদ ও তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশ আটক ব্যক্তিদের শিবাজি পার্কেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।রিয়া জানান, এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ। ২১ জুলাই তিনি প্রথমবার শিবাজি পার্কে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ অনেককে আটক করায় তিনি পরদিন ২২ জুলাই আবার সেখানে যান। আর সেদিনই ঘটে যায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যা তাকে এক লহমায় পরিচিত মুখ বানিয়ে তোলে। রিয়া বলেন, আন্দোলনটির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না; পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়ে সে মুহূর্তে নিজের বিবেকের তাড়না থেকেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন।এমন বিপদের মুখেও সাহসের পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে রিয়া জানান, তার পরিবারের সঙ্গে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘ ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশে (ITBP) দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রতিরক্ষাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। রিয়া মুচকি হেসে বলেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস হয়তো তাঁর রক্তেই প্রবাহিত হচ্ছিল।রিয়া মনে করেন, এই সংগ্রাম কেবল প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে। মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পেশাগত ব্যাস্ততায় গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি রিয়া। বর্তমানে তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করছেন।নিজের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা থেকে অভিযোগ তুলে রিয়া বলেন, নিয়মিত কোর্স ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যায় না এবং সরকারি যোগাযোগের নম্বরগুলোতেও কেউ সাড়া দেয় না। তার ভাষায়, এটি শুধু বিশেষ একটি পরীক্ষার বিষয় নয়, পুরো ব্যবস্থার যে গলদ রয়েছে—এ আন্দোলন তারই এক সম্মিলিত প্রতিবাদ।প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে রিয়া আহির প্রায় ১৩ বছর ধরে নিয়মিত হিন্দি থিয়েটারে যুক্ত রয়েছেন এবং দাপটের সাথে মডেলিং করছেন। এর বাইরে গত বছর তিনি ‘রিয়াসত’ নামে নিজস্ব একটি উদ্যোগ চালু করেন, যার মূল কাজ হলো স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডার কোলহাপুরি চপ্পলের নকশা বিতর্কের পর দেশের প্রান্তিক কারিগরদের কাজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই এই সামাজিক উদ্যোগের জন্ম দেন তিনি।
অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী মো. খুরশীদ আলমকে নিয়ে এবার একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন টিভি ব্যাক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। দেশের বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর জীবন, সংগীতচর্চা ও শিল্পীসত্তাকে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ শিরোনামের প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, স্মৃতি, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্য চিত্রটিতে খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি তার ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা গল্প, স্মৃতিচারণ এবং বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তার অসামান্য অবদান উঠে এসেছে।দেশের সংগীতপ্রেমী দর্শকদের জন্য প্রামাণ্য চিত্রটি হবে একজন বরেণ্য শিল্পীকে নতুনভাবে জানার ও তার বর্ণাঢ্য জীবন-সংগীতের পথচলা উপভোগ করার একটি বিশেষ আয়োজন। আগামী ১লা আগস্ট খুরশীদ আলম ৮১ বছরে পা রাখবেন। তার এই জন্মদিন উপলক্ষে সেদিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে প্রামাণ্য চিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। আলোচিত মাসে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।সোমবার (৩ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিট পোশাকের তুলনায় ওভেন পোশাক রপ্তানি বেশি কমেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে মাত্র দশমিক ৯০ শতাংশ।খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল (প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় বর্তমান ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক শিল্প এখন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। এই সময়ে একক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন একটি ভালো শুরু বলা যায়।বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ২০২৬ মাসে বিজিএমইএ কর্তৃক সম্পাদিত ইউডি পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে (জুলাই ২০২৫-এর তুলনায়)। অর্থাৎ রপ্তানিতে চলমান স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা পেলে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
সাবেক মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া ফাইনালিস্ট কিশোওয়ার চৌধুরীকে নিয়ে ‘ফ্লেভারস অব হোম’ আয়োজনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) শুধু বাঙালি ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি, পাশাপাশি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে।যুগের পর যুগ ধরে নারীদের কাছে খাবার কখনোই শুধু স্বাদ গ্রহণের বিষয় না । এর প্রতিটি পদে পদে লুকিয়ে থাকে নানা রকম স্মৃতি, প্রতিটি রন্ধনপ্রণালীতে থাকে একেকটি গল্প, আর প্রতিটি পরিবেশনে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের টান। সেই টান উপলব্ধি করে বিশ্ব দরবারের বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পান্তাভাত, আলুভর্তা আর খিচুড়ির মতো সাধারণ বাঙালি খাবারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন যে নারী, সে হল কিশোওয়ার চৌধুরী। মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩ এর দ্বিতীয় রানার-আপ, যার পথচলা আজ রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে তরুন সমাজের অনুপ্রেরণা ও সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ। গত ২৬ জুলাই, ভিএএইউএস আয়োজিত ‘ফ্লেভারস অব হোম’ অনুষ্ঠানে তিনি শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পৌঁছানোর যাত্রা এবং ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট (কেসিসি) উইংস’-এর মাধ্যমে করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য রন্ধন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে একটি পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা থেকেই যাত্রা শুরু হয় ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) এর। পুরোনো শিক্ষার্থী বন্ধনকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং সেই বন্ধনকে কীভাবে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছুতে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবা থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভিএঅস। এরপর থেকে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের প্রায় ১২টি সংস্থাকে সহায়তা করেছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও পৌঁছে দিতে ভিএঅস এবার ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট - কেসিসি উইংস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আয়োজন করেছে ‘ফ্লেভারস অব হোম: অ্যান আরভো উইথ কিশোওয়ার চৌধুরী’।আশি ও নব্বইয়ের দশকে, যখন ক্যাটারিং সেবা এতটা প্রচলিত ছিল না, তখন পারিবারিক আয়োজন মানেই ছিল সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। এমন এক প্রাণবন্ত পরিবেশেই কিশোওয়ারের রান্নার হাতেখড়ি, যেখানে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের আসতে আলাদা নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে, খাবার শুধু পুষ্টি নয়, মানুষকে একত্রে আনারও শক্তি। আর এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল তার ছেলের একটি কথাই, "মা, তুমিও করো।"এই অনুপ্রেরণা তাঁর মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রায় শুধু বিশ্বজুড়ে বাঙালি ঘরোয়া রান্নার পরিচয়ই দেয়নি, বরং একটি সাধারণ স্বপ্নকে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করার মঞ্চও জুগিয়েছিল এবং অন্যদেরও বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে রান্নাও একটি পেশা হতে পারে। সাথে দিয়েছিল এক গভীর উপলব্ধি, , রেসিপি, পারিবারিক স্মৃতি আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পগুলো যদি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে সেগুলো খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। আর সেই উপলব্ধিই জন্ম দেয় তাঁর বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’-কে। বইটির ১৬০টিরও বেশি কপি অনুষ্ঠানের দিন নতুন ঠিকানা খুঁজে পায়। বইটির মাধ্যমে ঐতিহ্য রক্ষা ছিল কিশোওয়ারএর লক্ষ্যের একটি অংশ মাত্র। তিনি চেয়েছিলেন, খাদ্য যেন অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কেসিসি উইংস’ উদ্যোগের সূচনা করেন। এই প্রোগ্রামটির মূল উদ্দেশ্য হলো, করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ, ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, পারিবারিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের সঙ্গে মেন্টরশিপের সুযোগ করে দেয়া। কিশোওয়ারের এই স্বপ্নের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে ভিএঅস কেসিসি উইংসের জন্য ৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি অনুদান চেক প্রদান করে। এই অনুদানটি ভিএঅসের "কানেক্ট টু কেয়ার" দর্শন অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থবহ সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। কিশোওয়ারের কাছে এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এর তাৎপর্য ছিল আরও অনেক গভীর। তিনি বলেন, “ভিএঅসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, কারণ তারা শুধু আমার যাত্রাকেই উদযাপন করেনি, বরং অন্য কারও ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ” কিশোওয়ারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ভিএঅসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইসর ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, “ভিএএইউএস বিশ্বাস করে, শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।” ভিএঅসের জন্য ‘ফ্লেভারস অফ হোম’ কেবল একজন প্রখ্যাত শেফকে আমন্ত্রণ জানানো বা প্রবাসীদের একত্রিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং ঐতিহ্যকে অর্থবহ কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করা।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
তরুণ প্রজন্মের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি, আবারও সি-সিরিজ স্মার্টফোনের লাইনআপে ব্যাটারি পারফরম্যান্সে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রিয়েলমি সবসময়ই দীর্ঘস্থায়ী স্মার্টফোন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুঞ্জন রয়েছে, এই প্রতিশ্রুতি থেকেই তাদের আসন্ন ডিভাইসে সুবিশাল ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের টাইটান ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিত করার পাশাপাশি, এটি ব্যবহারকারীদের ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখবে।সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল থাকা ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করে আসন্ন এই সি-সিরিজ ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে। ডিভাইসটি প্রতিদিনের কাজ, পড়াশোনা, ভ্রমণ, বিনোদন ও গেমিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য অভিজ্ঞতা দিবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি পারফরম্যান্স ছাড়াও, স্মার্টফোনটিতে আলট্রা স্মুথ ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, কন্টেন্ট স্ট্রিমিং বা দ্রুতগতির মোবাইল গেমস উপভোগ করার ক্ষেত্রে প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।শক্তিশালী এই ব্যাটারির সাথে তালমেলাতে ডিভাইসটিতে ৪৫ ওয়াট পর্যন্ত ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুততম সময়ে চার্জ করে প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। পাশাপাশি, ডিভাইসটিতে এই সেগমেন্টের সবচেয়ে টেকসই ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সাত বছর পর্যন্ত ব্যবহার করার পরও ডিভাইসটিতে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি হেলথ থাকবে, যা দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স ও ব্যবহারকারীদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করবে।প্রতিদিনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি এই স্মার্টফোনে মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিজট্যান্স ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য স্থায়িত্বের পাশাপাশি, এতে আইপি৬৪ ডাস্ট অ্যান্ড ওয়াটার রেজিজট্যান্স রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা হঠাৎ হাত থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি, পানির ছিটা ও প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও রিয়েলমির আসন্ন উন্মোচনকে ঘিরে ব্যবহারকারীদের মাঝে উদ্দীপনা ক্রমশ বাড়ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’