সংক্রামক ব্যাধি হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে আরও সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গে ১ হাজার ১৩৫ জন।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সানায়ে তাকাইচি জানান, দুই দেশের সহযোগিতার মূল ভিত্তি ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একমত হয়ে উদ্যোগটিকে ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগি করার বিগ-বি’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ত্বরান্বিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার তাগিদ দেন তিনি।অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথাও জানান সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, দুই দেশের নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।এগুলো হলো আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি ও নিয়মনীতি প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা।অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা খাতেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় বাংলাদেশকে টহল জাহাজ দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার।এ ছাড়া সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সানায়ে তাকাইচি।বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা জাপানের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বৈঠক শেষে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎমুখী এই কৌশলগত অংশীদারত্বের অধীনে দুই দেশ একসঙ্গে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়ে নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাবে।এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
দেশের মধ্যেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রতি বছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এ প্রবণতা কমাতে দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়। এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পর্কিত এক মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, চিকিৎসার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় রোগী ও তার স্বজনদের বুঝিয়ে বলা, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’তিনি আহ্বান জানান, ‘আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন সে লক্ষ্যে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, ‘বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।’এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহিতা এবং অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।এসময় তিনি দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।’এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।সম্মেলনের সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনে বিশ্বসেরা সার্জনদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা সমৃদ্ধ হবেন ও দেশের সাধারণ মানুষের সেবায় এই সুযোগকে কাজে লাগাবেন। আপনাদের হাত ধরেই একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’এর আগে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জন্সের (বিএসসিআরএস) পক্ষ থেকে সম্মাননা স্বারক দেওয়া হয়।বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স ও সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক (মহাসচিব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞগণ এদেশের তরুণ চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
১১ দলের ঐক্য নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার লড়াইয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ আছেন। এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত করার এবং হাজার হাজার শহীদের রক্তের যে দায়, সেই দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। কাজেই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেব না।’মামুনুল হক বলেন, এই ঐক্যকে শুধু বিরোধী দলের ঐক্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণের লড়াইয়ে তারা একসঙ্গে রয়েছেন। দেশের গতিপথ নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার এই লড়াইয়ে তাদের ঐক্য অব্যাহত থাকবে। ধীরে ধীরে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে, কমবে না।১১ দলের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এবার তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।মামুনুল হক জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে লংমার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।লংমার্চে দেশের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অতীতের দুটি লংমার্চের মতো এবারও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সফল হবে বলে তারা আশা করছেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের দাবি এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সামনে রেখে এই লংমার্চের আয়োজন করা হচ্ছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিচার বিভাগের দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিও এতে তুলে ধরা হবে।বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডসহ জুলাই গণহত্যা ও শাপলা গণহত্যার বিচার এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবির পাশাপাশি নাগরিক জীবনের সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।লংমার্চ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি। বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ থেকে বাধা সৃষ্টি বা দূরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা চালানো হবে না বলে তারা আশা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা দেখা গেলে তা প্রতিহত করেই কর্মসূচি সফল করা হবে।সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, জনদাবি আদায়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।দেশের চলমান সংকটগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল হিসেবে তারা সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ পর্যন্ত সহনশীল কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা।তবে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে সরকার আগ্রহী নয় বলে মনে হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।’সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, জনগণের ক্ষমতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় পরিণাম ভালো হওয়ার কোনো কারণ নেই।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরপেক্ষতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে বলে জানান তিনি। মামুনুল হকের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তারা চুপ করে বসে থাকবেন না।জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তাদের উদ্বেগের নিরসন না হলে কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলের বৈঠকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে পরবর্তী প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি। এ বিষয়ে এর আগে দলগুলোর পক্ষ থেকে যে অবস্থান জানানো হয়েছিল, তা-ই বহাল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মামুনুল হক।দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ে বক্তব্য আসা অত্যন্ত আতঙ্কজনক। এ ধরনের বক্তব্যে তারা স্তম্ভিত এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফরের সফরসঙ্গী নির্বাচন ও আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, সফরসঙ্গী হিসেবে এমন ব্যক্তিদের নেওয়া হয়েছে, যারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘোরাফেরা ও বিনোদনের সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব বিষয় দেশের মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও সংশয় তৈরি করছে। সরকার বিষয়গুলো নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।সংসদের চতুর্থ অধিবেশন সামনে রেখে বিরোধী দলের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন মামুনুল হক। বলেন, আসন্ন অধিবেশনে সরকারের এজেন্ডাগুলো কতটা জনবান্ধব হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারও বৈঠক করা হবে। সেখানে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়াগামী লংমার্চের পথে গোপালগঞ্জ থাকায় সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে এ ধরনের আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করেন।মামুনুল হক বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুল জনগোষ্ঠী রয়েছেন। লংমার্চের সময় তারা ব্যাপকভাবে রাজপথে থাকবেন বলে আশা করছেন। কোনো দূরভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের চেষ্টা হলে তা রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে।গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।খুলনায় লংমার্চের সমাবেশস্থল হিসেবে জেলা স্কুল নির্ধারণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মামুনুল হক বলেন, জেলা স্কুলের জায়গা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে জায়গা ছোট এবং প্রবেশপথগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় কিছু সমস্যা রয়েছে।এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাবেশস্থল চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে জেলা স্কুলে কর্মসূচি পালনের কথা বলা হলেও এখন তারাও বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।১১ দলের ঐক্য ও কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবিতে তারা মাঠে নেমেছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না তারা।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আবারো বলেন, এই ঐক্য কেবল বিরোধী দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণ এবং দেশের গতিপথ ঠিক করার বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।এ সময় ভারতের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিকভাবে যারা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, বৈঠক মনেহয় তাদের সঙ্গেই হয়েছে। তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা ও মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সভাপতি সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল বিএনপির ‘ইস্পাত কঠিন অগ্রবাহিনী’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নিজেদের একটি ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষের অধিকার রক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ৪৮ বছর আগে জাতীয়তাবাদী যুবদলের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি দেশের বৃহৎ যুব সংগঠনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য ও বীরত্বের প্রতীক যুবদলকে রাজপথে বারবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অনেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি।বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষাভিত্তিক যে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, তা বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে সংগঠনটি।যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব আজ যুবদলের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্রের পতনেও তাদের সাহসী নেতৃত্ব প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টায় সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিকে সঙ্গে নিয়ে রুহুল কবির রিজভী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানকালে অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, মাদক এবং অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকা এবং গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তায় পরিচালিত অভিযান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ৫৪৩ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্রাফিক ও অপরাধ বিভাগ মিরপুর থেকে। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯৪ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৪ জন, গুলশান বিভাগে ৬২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৮ জন, লালবাগ বিভাগে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৭ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে গ্রেপ্তার হন ৩ জন।অভিযান চলাকালে পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি সুইচ গিয়ার, একটি প্লায়ার্স, একটি অ্যান্টি কাটার, একটি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ। মাদকের মধ্যে ১ হাজার ১২১ পিস ইয়াবা ও ২৮ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা, ১৫টি মোবাইল ফোন ও ১৩টি সিমকার্ড জব্দ করার পাশাপাশি অপহৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত ১ জন ভিকটিমকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ।ডিএমপি জানিয়েছে, মহানগরে অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধানে মেট্রোপলিটন পুলিশের এই ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।মামলায় হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন।এর আগে, ৭ অক্টোবর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়। পরে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২।গত ৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগের এই চার নেতার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।প্রসিকিউশন জানায়, হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলাটি আগেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে কিছু অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করে।প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হানিফ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের অংশ হিসেবে সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে অধীনস্তদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে সবকিছু বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি সিভিলিয়ান লিডার ছিলেন। এ কারণে অধীনস্তদের নির্দেশ বা টেলিফোনে কথোপকথন করে এসব বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অতএব একই অবস্থানে থেকে মাহবুবউল আলম হানিফকেও ট্রাইব্যুনাল একই শাস্তি দেবেন বলে আমরা আশা করছি। কেননা একটি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সব ধরনের সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেছেন হানিফ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যেক বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন করেছেন তিনি। এছাড়া টেলিফোনে কথোপকথন করে কুষ্টিয়ার এসপি, জেলা-উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। টেলিফোনের সেসব কথোপকথন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।এর আগে, ১০ জুন এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে প্রসিকিউশন থেকে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর তা আমলে নেওয়া হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জাপানে জেরা’র স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত জেরা’র স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এ পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সে সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকে৷এ ছাড়া সে সময় পররাষ্ট্রসচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন—বাটজা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিতে তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর জবাব ও হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।গত ৬ অক্টোবর থেকে বলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রধান ফটক থেকেই তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা জানাচ্ছেন, ভেতরে প্রবেশের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি প্রয়োজন।এভিয়েশন বিটের সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিমানের দুর্নীতি, অনিয়ম ও যাত্রী দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর বলাকার প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের আটকে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। সে সময় বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সরাসরি নির্দেশে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।গত ২৫ অক্টোবরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। সৌদিগামী ফ্লাইটে বিঘ্ন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে বলাকায় যান বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিবেদক পার্থ রহমান এবং একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাশেদ আনিস। তবে প্রধান ফটকে তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া ভেতরে যাওয়া যাবে না।সাংবাদিকদের অভিযোগ, সৌদিগামী ফ্লাইটের সংকট ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রায় ২০ দিন ধরে বিমানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁরা সফল হননি। জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।এ ঘটনায় বাটজার সাধারণ সম্পাদক ইমন চৌধুরী বলেন, “বিমান একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকরা সেখানে জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। তাঁদের বাধা দেওয়া কিংবা প্রধান ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া নিন্দনীয়। আমরা বাটজার পক্ষ থেকে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর জবাব ও হস্তক্ষেপ চাই।”তিনি আরও বলেন, “গত ২১ দিন ধরে সাংবাদিকরা তথ্য নিতে বিমানের প্রধান কার্যালয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের গেট থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে বাধা দেওয়া হলে সাংবাদিকরা তথ্য যাচাই করবেন কীভাবে, আর যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই বা নেবেন কীভাবে?”বাটজার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।এদিকে সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেয়নি।
দেশের মধ্যেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রতি বছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এ প্রবণতা কমাতে দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়। এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পর্কিত এক মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, চিকিৎসার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় রোগী ও তার স্বজনদের বুঝিয়ে বলা, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’তিনি আহ্বান জানান, ‘আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন সে লক্ষ্যে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, ‘বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।’এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহিতা এবং অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।এসময় তিনি দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।’এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।সম্মেলনের সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনে বিশ্বসেরা সার্জনদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা সমৃদ্ধ হবেন ও দেশের সাধারণ মানুষের সেবায় এই সুযোগকে কাজে লাগাবেন। আপনাদের হাত ধরেই একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’এর আগে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জন্সের (বিএসসিআরএস) পক্ষ থেকে সম্মাননা স্বারক দেওয়া হয়।বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স ও সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক (মহাসচিব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞগণ এদেশের তরুণ চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
১১ দলের ঐক্য নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার লড়াইয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ আছেন। এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত করার এবং হাজার হাজার শহীদের রক্তের যে দায়, সেই দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। কাজেই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেব না।’মামুনুল হক বলেন, এই ঐক্যকে শুধু বিরোধী দলের ঐক্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণের লড়াইয়ে তারা একসঙ্গে রয়েছেন। দেশের গতিপথ নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার এই লড়াইয়ে তাদের ঐক্য অব্যাহত থাকবে। ধীরে ধীরে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে, কমবে না।১১ দলের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এবার তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।মামুনুল হক জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে লংমার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।লংমার্চে দেশের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অতীতের দুটি লংমার্চের মতো এবারও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সফল হবে বলে তারা আশা করছেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের দাবি এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সামনে রেখে এই লংমার্চের আয়োজন করা হচ্ছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিচার বিভাগের দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিও এতে তুলে ধরা হবে।বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডসহ জুলাই গণহত্যা ও শাপলা গণহত্যার বিচার এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবির পাশাপাশি নাগরিক জীবনের সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।লংমার্চ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি। বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ থেকে বাধা সৃষ্টি বা দূরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা চালানো হবে না বলে তারা আশা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা দেখা গেলে তা প্রতিহত করেই কর্মসূচি সফল করা হবে।সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, জনদাবি আদায়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।দেশের চলমান সংকটগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল হিসেবে তারা সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ পর্যন্ত সহনশীল কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা।তবে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে সরকার আগ্রহী নয় বলে মনে হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।’সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, জনগণের ক্ষমতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় পরিণাম ভালো হওয়ার কোনো কারণ নেই।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরপেক্ষতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে বলে জানান তিনি। মামুনুল হকের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তারা চুপ করে বসে থাকবেন না।জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তাদের উদ্বেগের নিরসন না হলে কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলের বৈঠকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে পরবর্তী প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি। এ বিষয়ে এর আগে দলগুলোর পক্ষ থেকে যে অবস্থান জানানো হয়েছিল, তা-ই বহাল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মামুনুল হক।দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ে বক্তব্য আসা অত্যন্ত আতঙ্কজনক। এ ধরনের বক্তব্যে তারা স্তম্ভিত এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফরের সফরসঙ্গী নির্বাচন ও আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, সফরসঙ্গী হিসেবে এমন ব্যক্তিদের নেওয়া হয়েছে, যারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘোরাফেরা ও বিনোদনের সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব বিষয় দেশের মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও সংশয় তৈরি করছে। সরকার বিষয়গুলো নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।সংসদের চতুর্থ অধিবেশন সামনে রেখে বিরোধী দলের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন মামুনুল হক। বলেন, আসন্ন অধিবেশনে সরকারের এজেন্ডাগুলো কতটা জনবান্ধব হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারও বৈঠক করা হবে। সেখানে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়াগামী লংমার্চের পথে গোপালগঞ্জ থাকায় সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে এ ধরনের আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করেন।মামুনুল হক বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুল জনগোষ্ঠী রয়েছেন। লংমার্চের সময় তারা ব্যাপকভাবে রাজপথে থাকবেন বলে আশা করছেন। কোনো দূরভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের চেষ্টা হলে তা রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে।গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।খুলনায় লংমার্চের সমাবেশস্থল হিসেবে জেলা স্কুল নির্ধারণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মামুনুল হক বলেন, জেলা স্কুলের জায়গা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে জায়গা ছোট এবং প্রবেশপথগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় কিছু সমস্যা রয়েছে।এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাবেশস্থল চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে জেলা স্কুলে কর্মসূচি পালনের কথা বলা হলেও এখন তারাও বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।১১ দলের ঐক্য ও কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবিতে তারা মাঠে নেমেছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না তারা।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আবারো বলেন, এই ঐক্য কেবল বিরোধী দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণ এবং দেশের গতিপথ ঠিক করার বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।এ সময় ভারতের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিকভাবে যারা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, বৈঠক মনেহয় তাদের সঙ্গেই হয়েছে। তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা ও মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মর্জিনা আক্তার। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিশোর কুমার দাস ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর দুপুরে উপজেলা মিনি অডিটিতে সব অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মির্জা মর্জিনা আক্তার বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপসংস্কৃতি থেকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি সমাজে বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ নির্মূলে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।এর আগে জেলা প্রশাসক মির্জা মর্জিনা আক্তার কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর আকস্মিক পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় তাঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উৎসাহ বাড়াতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে এবারের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। অসাধারণ গোল করার দক্ষতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার উঠেছে তার হাতে।লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে জমকালো আয়োজনে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো খাম থেকে বিজয়ীর নাম লেখা কাগজ বের করতেই অনুষ্ঠানস্থলে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। কেইনের নাম ঘোষণার পর ‘হ্যারি, হ্যারি’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত কেইন বলেন, ‘বাহ, বাহ, বাহ। আমি প্রায় বাক্যহারা। লন্ডনে এই আয়োজনটি হওয়ায় এটি আমার জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। আজকের রাতটি যেন আমার জন্য শুভ সংকেত নিয়ে এসেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমি বুঝতে পারছি, এ বছর বিজয়ী নির্বাচন করা নিশ্চয়ই বেশ কঠিন ছিল।’তিনি আরও বলেন, আজকের রাতে এই হলে অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় উপস্থিত আছেন। সব বিজয়ী ও মনোনীতকে অভিনন্দন। জেদ ও কঠোর পরিশ্রম যে সত্যিই সাফল্য এনে দিতে পারে, আজ সেটিই ফুটে উঠেছে।২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ৭৩টি গোল করেছেন কেইন। ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পরও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ১৫৮ ম্যাচে তার গোল ১৫৬টি।বুন্দেসলিগায় টানা তিন মৌসুম সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকার পাশাপাশি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলেও সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। এসব সাফল্য ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাকে এগিয়ে রেখেছে।জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জনের পথে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আসর শেষ করার পাশাপাশি দলকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিতিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতাতে সহায়তা করেন কেইন।সব মিলিয়ে গোলের ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলের সাফল্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন ইংল্যান্ডের এই তারকা স্ট্রাইকার।
শোবিজ অঙ্গনে বেশ কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন, ভাঙনের মুখে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সংসার। সত্যিই আলাদা হয়ে যাচ্ছেন এই তারকা দম্পতি?মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে উড়ো খবর বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি বা তিশা।ফারুকী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তো নানা প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা নিউজ প্রচার শুরু হয়েছে আরও আগে থেকে। এখন চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ। আসলে মিথ্যা নিউজে তো ঘটনা সত্য হয় না। আর এসব নিয়ে কথা বলা মানে আরও প্রশ্রয় দেওয়া। তাই এ বিষয়ে আমি বা তিশা কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’এদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিশা। সিনেমাটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি ফারুকী। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ‘ফুলস্ক্রিন’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন তিশা। অন্যদিকে, ফারুকী বর্তমানে তিনটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের কাজে ব্যস্ত। পাশাপাশি লিখছেন নতুন সিনেমার চিত্রনাট্য। এর মধ্যে একটি সিনেমার নাম আপাতত রেখেছেন ‘টু হেল, উইথ লাভ’। আরেকটি সিনেমার গল্প সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে, যার নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একাডেমি (অস্কার) অ্যাওয়ার্ডসের ৯৯ তম আসরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সিনেমা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশ অস্কার কমিটি দীর্ঘদিন নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারের জন্য একটি সিনেমা সিলেকশন করে প্রেরণ করে।সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থেকে অস্কারে চলচ্চিত্র পাঠানো উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফেডারেশন এর সদস্য ফিল্ম সোসাইটি, চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব গুলোকে এই বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ও মতামত কেন গ্রহণ করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশের অস্কার চলচ্চিত্র নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফেডারেশনের একাংশ বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের (বিএফএসএফ) সভাপতি বড়ুয়া মনোজিত ধীমন বলেন, 'চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয়। অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র সমতা উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা উচিত নয়।'তিনি আরও বলেন, 'আমরা চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। চলচ্চিত্রের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও আপসহীন। ফেডারেশনের একাংশ যদি দেশের সুনামহানি করে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে, সেটি বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। আমি মনে করি এটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের (বিএফএসফফ) সাধারণ সম্পাদক সায়মন তারিক বলেন, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) প্রায় দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দখলে ছিল। নিজেদের দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন, চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয় বার বার ফুটে উঠেছে। সরকারিভাবে অস্কারে সিনেমা পাঠাতে হবে, আমরা এই অনিয়মের বিষয়টি অস্কার কমিটিকে অভিযোগ করবো।চলচ্চিত্র সংসদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) এর সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যেক বছর অর্থ হাতিয়ে নেয়। সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে অভিযুক্ত ফেডারেশনের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। বছরে একবার সদস্যদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোই যদি ফেডারেশনের প্র্রধান কার্যক্রম হয়ে থাকে, তাহলে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বিকাশ, সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং অস্কার বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কীভাবে পালিত হচ্ছে এমন প্রশ্নও তুলেছেন চলচ্চিত্র সংসদ কর্মীরা।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্তের বিষয় হতে পারে না। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা, স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটির গঠন, সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব, চলচ্চিত্র নির্বাচনের মানদন্ড এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।এ অবস্থায় চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ অস্কার কমিটির গঠন ও কার্যক্রম, চলচ্চিত্র নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত।চলচ্চিত্র অঙ্গনের স্বার্থে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন ও চলচ্চিত্রকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে আজ শুক্রবার গান শোনাবেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের জনপ্রিয় তারকা মাহফুজ আনাম জেমস। এই শপিং কমপ্লেক্সের কার্নিভাল অ্যারেনায় বসছে ‘রক এন রিদম ৫.০ : নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্ট। এতে নিজ দল নগরবাউল নিয়ে পারফর্ম করবেন জেমস। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে অনেকদিন পর টিকিট কনসার্ট করছি। আশা করি শ্রোতা-দর্শক নতুন কিছু শুনতে ও দেখতে পাবেন।’আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশন’ এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, বিশেষ এই আয়োজনে নগরবাউল ও আর্ক ছাড়াও দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য পারফর্ম করবে। পাশাপাশি, গিটারিস্ট ওনি হাসান ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সঙ্গে একক পরিবেশনাতেও থাকবেন তিনি। একে রাহুলও ওই কনসার্টে পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে।
শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের উৎসব ঘিরে সাধারণ মানুষের মতো আনন্দে মেতেছেন শোবিজ তারকারাও। কেউ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরেছেন মণ্ডপে মণ্ডপে, কেউ ব্যস্ত ছিলেন গানের অনুষ্ঠান ও শুটিংয়ে। আবার কারও উৎসব কেটেছে প্রিয়জনকে স্মরণ করে।অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। দুর্গাপূজাতেও পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটিয়েছেন তিনি। শারদীয় সাজে তোলা নিজের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।একসময় দুর্গাপূজায় মায়ের সঙ্গে মণ্ডপে যেতেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। মা মারা যাওয়ার পর থেকে একাই পূজামণ্ডপে যান তিনি। এবারও পূজার প্রথম দিন থেকেই নিয়ম করে মণ্ডপে ঘুরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেও তাকে একা দেখা গেছে।মা দুর্গার কাছে পূজা চেরীর প্রার্থনা, সবার দুঃখের অবসান হোক, অন্ধকার দূর হয়ে আলো ছড়িয়ে পড়ুক এবং প্রতিটি হৃদয়ে জেগে উঠুক নতুন আশার আলো। ব্যস্ততায় কেটেছে বাঁধন সরকার পূজার উৎসবসংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজার এবারের দুর্গোৎসব কেটেছে ব্যস্ততায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূজামণ্ডপেও গেছেন তিনি।বিয়ের পর এটিই তার প্রথম দুর্গাপূজা। পূজার ইচ্ছা ছিল উৎসবের অন্তত এক দিন শ্বশুরবাড়ির এলাকা মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার। তবে শাশুড়ির অসুস্থতার কারণে পুরো পূজার সময় তাকে ঢাকাতেই কাটাতে হয়েছে।চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর কাছে দুর্গাপূজা মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। উৎসবের প্রথম দিকে ঢাকায় থাকলেও শেষ দুই দিন নিজের শহর নারায়ণগঞ্জে কাটিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, দুর্গাপূজার নবমী ও দশমীর সেরা আয়োজন হয় নারায়ণগঞ্জে।তবে এবারের পূজায় মাকে খুব মনে পড়ছে বাপ্পীর। দুই বছর আগে তার মা মারা যান। গত বছর পূজার সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় মায়ের অভাব তেমন অনুভব করেননি। কিন্তু এবার নিজ শহরে, নিজের বাড়িতে প্রতিটি মুহূর্তেই মায়ের কথা মনে পড়েছে তার।সারা বছর নাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দুর্গোৎসবের সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়েছেন নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত। তার মতে, শৈশব হোক কিংবা বড়বেলা—উৎসবের আনন্দ কখনো ফিকে হয়ে যায় না।দুর্গাপূজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে বিসর্জনই তার বেশি পছন্দ। পূজা সেনগুপ্ত মনে করেন, কোনো কিছুর সমাপ্তি মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং সেখান থেকেই নতুন কিছু শুরু হওয়ার বা নতুনভাবে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।গত বছর দুর্গাপূজার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ছিলেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। এবার তার ইচ্ছা ছিল গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উৎসব কাটানোর। তবে একটি বাস্তবধর্মী অনুষ্ঠানমালার শুটিং থাকায় ঢাকাতেই থাকতে হয়েছে তাকে। দিনের বেলা শুটিং করেছেন, আর সন্ধ্যায় সময় বের করে গেছেন পূজামণ্ডপে।শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পূজামণ্ডপে গেছেন অভিনেত্রী সুষমা সরকার। সন্ধ্যা ও রাতে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত আরতি তার বিশেষ পছন্দের। আর বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলাও উপভোগ করেন তিনি।দুর্গাপূজার আনন্দে মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়, তা মুগ্ধ করে সুষমাকে।সব মিলিয়ে এবারের দুর্গোৎসব তারকাদের জীবনে বয়ে এনেছে নানা রকম অভিজ্ঞতা। কারও উৎসব কেটেছে ঘোরাঘুরি ও আনন্দে, কারও ব্যস্ততায়, আবার কারও মনে ছিল প্রিয়জন হারানোর বেদনা। আনন্দ, স্মৃতি আর আবেগের মধ্য দিয়েই বিদায় নিচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, ও সংস্কৃতিরও অন্তর্গত। পূজার সময় মণ্ডপ, প্রতিমা, সাজসজ্জা, অঞ্জলি, প্রসাদ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন; এই সবকিছুতেই থাকে আলাদা আবেগ। এখন সেই উৎসবের আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে। তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দুর্গাপূজার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে তুলে ধরছেন।দুর্গাপূজাকে ঘিরে তৈরি ভিডিওগুলোতে দেখা যায় সাজসজ্জা, ফ্যাশন, এবং পূজার আনন্দ। #Durgapuja হ্যাশট্যাগে ইতোমধ্যে ৫ লাখেরও বেশি ভিডিও টিকটকে পোস্ট করেছেন ইউজাররা। ইজা, প্রত্যাশা এবং শার্লি রহমানের মতো কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এখন তুলে পূজার ফ্যাশন নিয়ে তুলে ধরছেন বিশেষ কনটেন্ট।ইজা (@itss.eza) মূলত মেকআপ, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন। টিকটকে তিনি বিভিন্ন উৎসব ও মৌসুমকে কেন্দ্র করে টিউটোরিয়াল দেন। কোন পোশাকের সঙ্গে কেমন গয়না মানাবে, কিংবা কেমন মেকআপ কখন করতে হবে, সেটি তার ভিডিওতে উঠে আসছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি নানা ধরনের ফ্যাশন ও মেকআপ লুকের ভিডিও বানিয়েছেন। শাড়ি পরার ধরন, নানান স্টাইলে চুলে ফুল গোঁজা, আর নতুন চুড়িতে পূজার সাজপোশাক তুলে ধরছেন ইজা। এছাড়া, পূজার ছুটিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, কিংবা বন্ধুদের সাথে কোথায় সময় কাটানো যায়, এসবও তিনি তুলে ধরছেন।প্রত্যাশার (@protyasha_zh) কনটেন্টে সাজগোজ ও ফ্যাশনের বিষয়বস্তু বেশি দেখা যায়। বেশ কিছু ভিডিও তিনি স্কিনকেয়ার নিয়ে বানিয়েছেন। এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ লুক, ফ্যাশন ও ট্রেন্ড নিয়ে তিনি ভিডিও দিয়েছেন। সেসব ভিডিওতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, পূজার প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকা আর বিভিন্ন ধাঁচের ফ্যাশনও উঠে এসেছে। গয়না, সাজ আর পোশাকের ফিউশন তাঁর ভিডিওগুলোকে সবার থেকে আলাদা করে তোলে। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি, কপালের টিপের সাথে শাঁখা-পলা, ফুলের গয়না ও চুলের সাজ দেখা যায় তার ফ্যাশন কনটেন্টে। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুযায়ী আরামদায়ক ও মানানসই সাজের পরামর্শও মিলবে তার কনটেন্টে।শার্লি রহমান (@iamthedemig0d) একজন মেক আপ এবং ফ্যাশন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কেনাকাটার ভিডিওসহ প্রতিদিনের জন্য "গেট রেডি উইথ মি", কিংবা কম খরচে বেস্ট লুকের জন্য "অ্যাফোর্ডেবল গ্ল্যাম" এর মতো কনটেন্ট তুলে ধরেন শার্লি। দূর্গাপুজাকে মাথায় রেখেও তিনি বেশ কিছু ফ্যাশন এবং মেক আপ কনটেন্ট বানিয়েছেন। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ দুই ধরনের পোশাকের সাথে কেমন সাজ, হেয়ারস্টাইল, গয়না এবং অন্যান্য এক্সেসরিজ পরতে হবে সেটিও তিনি তুলে ধরেন। ইজা, প্রত্যাশা এবং শার্লি রহমান-এর মতো বর্তমানের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উৎসবের গল্প বলার ধরন বদলে দিয়েছেন। তাদের কনটেন্টের মাঝে ধর্মীয় উৎসব ঘিরে সৃজনশীলতা ও অংশগ্রহণের বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পূজার রঙ ও আনন্দ নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এক সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির চেয়ারম্যান সরদার এ রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ সরদার এ নাঈম, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজি কনসাল্টেন্ট প্রফেসর ডাঃ এম. এ. বাকি, ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদুজ্জামান চৌধুরী, সুইড বাংলাদেশ এর মহাসচিব মাহবুবুল মুনির, তরি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশফাক উল কবির, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করীম সিদ্দিকী, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার বশির আল হোসাইন, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মুরাদ হোসেন খান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ কাজী খলিলুর রহমান, টিম গ্রুপ বিডি’র উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহিল নাকিব, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অমিতাভ বড়ুয়া এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিগণ ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দৃশ্যমান কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। তারা বলেন, সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তাদের উপযোগী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতি জোর দেন বক্তারা।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ঢাকার আটটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত ড্যান্স সেলিব্রিটি গ্রুপ পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা মোঃ শাহদাত হোসেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোসাইটির প্রোগ্রাম অফিসার ও সেলফ অ্যাডভোকেসি লিড আহমাদ ইবনে সালেহ।
টানা কাজ করা, শারীরিক ও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, বয়স বাড়া ইত্যাদি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আর এটি সৌন্দর্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে উপকারী। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।১. শশাশশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে।একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।২. কাঁচা আলুআলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়।একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
ঢাকা-চট্টগ্রামের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ প্রবাহ বিপর্যয় হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এজন্য আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যায়। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের আইসিটি ও অপারেশন পরিচালক রবিউল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানা যায়নি।’
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারে সহযোগিতা জোরদারে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, এমপি।সিউলে ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন—এনইএসএ এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া—সিএকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি।এ সময় বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কোরিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার সন্ধানে চাকরি খুঁজেছেন নারায়ণগঞ্জের মাইনুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে মাসে ৯ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পেলেও অসুস্থ মাকে রাতে একা রেখে যেতে হবে বলে তাতে যোগ দেননি। পরে মায়ের জোগাড় করে দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় কম্পিউটার কিনে শুরু করেন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ। নানা বাধা পেরিয়ে এখন তিনি কাজ করছেন মিডিয়া বায়ার ও গ্রোথ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে। মাইনুল জানান, বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার।২০১২ সাল থেকে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল মাইনুলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমস্যায় পড়া ব্যক্তিদের সহযোগিতার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও বিনোদনজগতের মানুষের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তবে নিয়মিত উপার্জনের পথ তৈরি হয় বাবার মৃত্যুর পর।২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন মাইনুল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজেও সুবিধা করতে পারেননি। তখন আগে থেকে জানা প্রযুক্তির কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিকল্পনায় সংশয় থাকলেও মা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। মায়ের কথাটি এখনো মনে রেখেছেন তিনি—‘তুই পারবি বাবা।’সেই টাকা দিয়ে কেনা ল্যাপটপটি এক মাসের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। পরে মায়ের সহযোগিতায় পুরোনো ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনে আবার কাজ শুরু করেন। ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), গুগল অ্যাডস, মেটা অ্যাডস ও ওয়েব অ্যানালিটিক্সে দক্ষতা বাড়ান। ফাইভার ও আপওয়ার্কে কাজের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।২০২৩ সালের আগস্টে একটি জাতীয় দৈনিকে সিনিয়র ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড কনটেন্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। মাসিক বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। পরে এক সহপাঠীকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মার্কেটিং এজেন্সি চালু করেন। সেখানে একপর্যায়ে প্রায় ১৫ জন কাজ করতেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্লায়েন্ট কাজ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে এজেন্সির কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হয়।এরপর দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান মাইনুল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বহুজাতিক প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া বায়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করতেন।বর্তমানে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য মাসে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যবসার প্রবৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করছেন। এসব কাজ থেকে তাঁর মাসিক আয় তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার বলে জানান তিনি।প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারও শিখেছেন মাইনুল। এখন নেক্সট জেএস, ওয়ার্ডপ্রেস ও শপিফাই ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরির কাজেও এআইকে সহায়ক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন।মাইনুল জানান, প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় টিকে থাকতে হলে নিয়মিত শিখতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এআই আমার শত্রু নয়, এআই এখন আমার পরম বন্ধু।’
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ‘শিশু সুরক্ষা নীতিমালা’ বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এ ছাড়া শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি ও অনুপযুক্ত স্পর্শের কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষকদের নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ এবং অপরাধে জড়িতদের ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের আহ্বান জানান তিনি।আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী।ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, এ দেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রভাবশালী আলিম, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত খোলামেলা ও আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা করা। ভুলগুলো নিজেরা সংশোধন না করলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ নেবে, যার ফলে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই অযাচিত চাপ ও সংকটের মুখে পড়তে পারে।মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অসংখ্য সিসি ক্যামেরাহীন, অনিবন্ধিত ও তদারকিহীন প্রতিষ্ঠানের অপ্রীতিকর ঘটনার চিত্র উঠে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অনুমোদন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতির বিষয়ে আজহারী বলেন, শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ ও আবেগের ধরণ বুঝে শিক্ষকদের বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত বা ভয় দেখানোর ঘটনা শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার তাগিদ দিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, প্রতিটি মাদ্রাসায় চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশ থাকতে হবে। শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আজহারী জানান, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে পুনরায় অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।পরিশেষে মিজানুর রহমান আজহারী স্পষ্ট করেন, এই পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে দ্বীনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। আলেম-ওলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।