বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।একইসঙ্গে আরও ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে; যার ফলে খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়ক হবে।পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে এক পত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, রাজাকারের তালিকায় অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকে গেছে। একই সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে। এসব চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।আহমেদ আজম খান বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যেন ঠিকভাবে কাজ করতে পারি এবং যে দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়েছে তা যেন সততার সঙ্গে পালন করতে পারি।’তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিন্তা-চেতনা এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে সরকার কাজ করছে।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তার মধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া, রাজাকারের তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা ঢুকে গেছেন। বিষয়টি আমরা চিহ্নিত করব। একই সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এসময় আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর, বাসাইল, মধুপুর ও ধনবাড়ী এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আচমকা বজ্রসহ বৃষ্টিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন।রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, লিংক রোড, গুলশান, ভাটারা মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় আকারের শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এ ঝড়ে অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।শনিবার দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে আচমকা এ ঝড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া নেত্রকোণায় বজ্রপাতে ২ জন নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তান ইনিংসের শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা মেলে ধরেছিলেন নিজেদের। যেখানে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০০ ছাড়ানোর কথা ছিল, বাংলাদেশ তাদের আটকে রাখে ৩০০-র বেশ আগে। কিন্তু, ব্যাটাররা প্রতিদান দিতে পারেননি। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে আত্মসমর্পন করেছেন পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান। জবাবে ২৩.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১১৪ রানে।রান তাড়ায় শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হয় স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৫ রান তুলতেই সাজঘরে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। ওপেনার সাইফ হাসান (১২ বলে ১২), তানজিদ হাসান তামিম (৭ বলে ১) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২ বলে ০)—দাঁড়াতে পারেননি কেউই।এরপর হঠাৎ বন্ধ হয় ম্যাচ। প্রথমে বজ্রপাত, পরে শিলাবৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হলে নতুন করে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। খেলতে হতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে।বৃষ্টি শেষে অনেকটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলছিলেন লিটন। ১৮ বলে করেছিলেন ৩৮ রান। তবে বেশি সময় স্থায়ী হয়নি তার ঝড়। মাজ সাদাকতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ফেরার আগে করেছেন ৩৩ বলে ৪১ রান।এরপর উইকেটে এসে আফিফ হোসেনও রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকেও স্থায়ী হতে দেননি সাদাকাত। ১৫ বলে ৪১ রান করা আফিফকে ফিরিয়েছেন আলীর ক্যাচ বানিয়ে।দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসনা মিরাজও। তিনি ফিরেছেন ফাহিশ আশরাফের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে করেছেন ৫ বলে মোটে ১ রান। রিশাদ হোসেনকেও (৫ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন সাদাকাত। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান শাহিন শাহ আফ্রিদি।দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের হয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন মাজ সাদাকাত। পুরো সময় টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেন তিনি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে, সেটি করতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন তাকে। ফেরার আগে সাদাকাত করেন ৪৬ বলে ৭৫ রান। ১০৩ রানে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ফারহান করেন ৪৬ বলে ৩১।শামিল আহমেদকে নাহিদ রানা ফেরালে হঠাৎ চাপে পড়ে পাকিস্তান। ১৯ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান।চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে মিরাজের বদ্যানতায়। বিতর্কিত এক রান আউটে বিদায় নেন সালমান। এর আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান। ৫৯ বলে ৪৪ রান রিজওয়ান ফেরেন এক বল পরেই। রিজওয়ান আউট হলে পাকিস্তান শিবির ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। শেষ ৫ উইকেট হারায় ২২ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারকে শেষ করেন তিনি। ৩৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মিরাজ। তার একটি রান আউটে বদলে যায় ম্যাচের মোমেন্টাম।সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী ১৫ মার্চ।সংক্ষিপ্ত স্কোরপাকিস্তান : ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪/১০ (শাহিবজাদা ৩১, মাজ ৭৫, শামিল ৬, রিজওয়ান ৪৪, সালমান ৬৪, হুসাইন ৯, সামাদ ১১, ফাহিম ১৪, আফ্রিদি ৩, ওয়াসিম ১, রউফ ২*; তাসকিন ৮-০-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৩-১, নাহিদ ১০-০-৫৯-১, মিরাজ ১০-২-৩৪-২, রিশাদ ৯.৩-০-৫৬-৩, আফিফ ১-০-৮-০)বাংলাদেশ : ২৩.৩ ওভারে ১১৪/১০ (সাইফ ১২, তামিম ১, শান্ত ০, লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, আফিফ ১৪, মিরাজ ১, রিশাদ ২, মুস্তাফিজ ৪, তাসকিন ৫, নাহিদ ৩*; আফ্রিদি ৫-০-২২-২, ওয়াসিম জুনিয়র ৫-০-২৫-১, রউফ ৪.৩-০-২৬-৩, মাজ ৫-০-২৩-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-১)ফলাফল : পাকিস্তান বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে জয়ী।
দেশের অতি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় আশার আলো দেখাচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। সাম্প্রতিক রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) এক গবেষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্প যদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫৬ লাখ হ্রাস পাবে এবং প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক সেমিনারে র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এই তথ্য উপস্থাপন করেন।২০২২ সালের হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভের (এইচআইইএস) তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সকল দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করলে দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া অতি দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাবে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে তার দলের ইশতেহারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে এই কর্মসূচির একটি পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে। র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রতিশ্রুত অর্থ যদি প্রকৃত দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তবে বাস্তবায়নের প্রথম বছরেই দারিদ্র্য বিমোচনে দেশ এক অভাবনীয় দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে পাবে।সেমিনারে জানানো হয়, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধা থেকে প্রায় ৬৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত ছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে মাঠ পর্যায়ে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু অসামঞ্জস্যতা ও চ্যালেঞ্জের কথা উঠে এসেছে। সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রকল্পের লক্ষ্য নির্ধারণে আসা বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় নিশ্চিত করাই এখন এই কর্মসূচির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।তালিকায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সচিব জানান, এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে যেখানে তিন তলা বাড়ির মালিকের নামও এই তালিকায় উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রকৃত দরিদ্রদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় আয়োজিত এই সেমিনারে বক্তারা একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ফ্যামিলি কার্ড কেবল প্রকৃত হকদারদের হাতেই পৌঁছায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছালে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সমর্থনে আজ শুক্রবার আয়োজিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘আল কুদস দিবস’ উপলক্ষে ইরানের ছোট-বড় সব শহরে বিশাল জনসমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। -সিএনএনদেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানসহ খোররামাবাদ, ইসফাহান, গোলেস্তান, ইয়াজদ, মাশহাদ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাহেদান শহরে লাখো মানুষ পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নিয়েছেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ও তাঁর নিহত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি দেখা গেছে।এমন এক সময়ে এ বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানে ‘বড় ধরনের হামলার’ ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তেহরান, ইসফাহানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছিল।
পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, দেশে দীর্ঘ ১৭ বছর কোনো নির্বাচিত সরকার ছিল না। এই সময়ে জমে থাকা নানা সমস্যা ও অনিয়ম এখন দূর করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “এই ১৭ বছরের জঞ্জাল ও আবর্জনা আমাদের পরিষ্কার করতে হবে।”শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী খাল, ওয়াপদা খাল, জকসিন খাল ও মান্দারী খাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।তিনি বলেন, যেহেতু এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে রয়েছে, তাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব বিভাগ ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। দেশপ্রেমিক সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় খাল খননের যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, সে সময় এর সুফল পাওয়া গিয়েছিল। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং মাছ চাষের প্রসার ঘটেছিল। ফলে অনেক এলাকাই স্বনির্ভর হয়ে উঠেছিল। সেই কর্মসূচিকে আবারও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ্যানি বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী, ওয়াপদা, জকসিন ও মান্দারী খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব খালে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল রয়েছে। এসব অপসারণ না করলে খাল খননের সুফল পাওয়া যাবে না।তিনি দখলদারদের সতর্ক করে বলেন, খাল দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। একদিকে খাল খনন অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেলাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করেছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা।সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও বাজুস সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়েছিল। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা এবং প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৬ বার কমানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ৯০ হাজার টাকার জাল নোটসহ আব্দুর রহিম ফকির (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মো. খোকন ফকিরের ছেলে।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে তিনি পূবালী ব্যাংক এর মুকসুদপুর শাখায় এক হাজার টাকার মোট ৯০টি নোট জমা দিতে যান। এ সময় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার নোটগুলো পরীক্ষা করে সেগুলো জাল হিসেবে শনাক্ত করেন।পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কৌশলে আব্দুর রহিমকে আটকে রেখে মুকসুদপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মোঃ নাজিম ইসলাম, তারাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত রুপলাল ও প্রদীপ হত্যাকাণ্ডের চিহ্নিত অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলামকে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়ন এর ফকিরপাড়ায় তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে রংপুর-১৩ র্যাব। ২০২৪ সালের ৯ আগষ্ট রাতে রুপলালের মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক করে, বাড়ি ফিরার পথে রুপলাল ও প্রদীপ কে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা দুর্বৃত্তরা। হত্যাকান্ডের সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে মাজেদুল কে রুপলাল ও প্রদীপকে আঘাত করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। রুপলালের পরিবারের দাবী অনুযায়ী মাজেদুল প্রত্যক্ষভাবে আলোচিত সেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলো। আজ (১৩ই মার্চ) রাত্রি ১টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর -১৩ র্যাবের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাজেদুল (২৪) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার মাজিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ উপজেলা সয়ার ইউনিয়ন এর ফকিরপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে।এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন,আলোচিত রুপলাল হত্যা মামলার অভিযুক্ত মাজেদুল কে রংপুর -১৩ র্যাব গ্রেফতার করে তারাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন। এ পর্যন্ত রুপলাল ও প্রদীপ হত্যা মামলায় নয়জন কে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আচমকা বজ্রসহ বৃষ্টিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন।রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, লিংক রোড, গুলশান, ভাটারা মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় আকারের শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এ ঝড়ে অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।শনিবার দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে আচমকা এ ঝড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া নেত্রকোণায় বজ্রপাতে ২ জন নিহত হয়েছেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সবকিছু পর্যালোচনা করে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।এর আগে সকালে তার সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিক্যাল বোর্ড বসে এবং সব কিছু দেখে এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডে দেশের প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন বলে জানান ডা. রফিক।বোর্ডে অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, সৈয়দ অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন।এর আগে সকালে তার সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে এবং সব কিছু দেখে এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে।এর আগে জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন। মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
সুনামগঞ্জের ছাতকে লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) ছাতক কিবরিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালক এবং এফবিসিসিআইয়ের জেনারেল বডি সদস্য আহমদ সাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী।গ্রুপের সদস্য সাংবাদিক নাজমুল হাসান জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সমিতির কর্মকর্তা আছাব উদ্দিনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. শামসুল হক।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাতক পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ফজলুর রহমান বকুল, আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার, জসীমউদ্দিন সুমেন, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল, ছাতক সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আব্দুল খালিক পীর, অধ্যাপক হরিদাস রায় এবং ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।আলোচনা পর্বে লাইমস্টোন ব্যবসার উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বক্তারা বলেন, ছাতকের লাইমস্টোন খাত দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতকে আরও গতিশীল করতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি, ব্যবসায়ী ও সুধীজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান ইনিংসের শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা মেলে ধরেছিলেন নিজেদের। যেখানে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০০ ছাড়ানোর কথা ছিল, বাংলাদেশ তাদের আটকে রাখে ৩০০-র বেশ আগে। কিন্তু, ব্যাটাররা প্রতিদান দিতে পারেননি। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে আত্মসমর্পন করেছেন পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান। জবাবে ২৩.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১১৪ রানে।রান তাড়ায় শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হয় স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৫ রান তুলতেই সাজঘরে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। ওপেনার সাইফ হাসান (১২ বলে ১২), তানজিদ হাসান তামিম (৭ বলে ১) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২ বলে ০)—দাঁড়াতে পারেননি কেউই।এরপর হঠাৎ বন্ধ হয় ম্যাচ। প্রথমে বজ্রপাত, পরে শিলাবৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হলে নতুন করে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। খেলতে হতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে।বৃষ্টি শেষে অনেকটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলছিলেন লিটন। ১৮ বলে করেছিলেন ৩৮ রান। তবে বেশি সময় স্থায়ী হয়নি তার ঝড়। মাজ সাদাকতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ফেরার আগে করেছেন ৩৩ বলে ৪১ রান।এরপর উইকেটে এসে আফিফ হোসেনও রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকেও স্থায়ী হতে দেননি সাদাকাত। ১৫ বলে ৪১ রান করা আফিফকে ফিরিয়েছেন আলীর ক্যাচ বানিয়ে।দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসনা মিরাজও। তিনি ফিরেছেন ফাহিশ আশরাফের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে করেছেন ৫ বলে মোটে ১ রান। রিশাদ হোসেনকেও (৫ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন সাদাকাত। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান শাহিন শাহ আফ্রিদি।দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের হয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন মাজ সাদাকাত। পুরো সময় টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেন তিনি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে, সেটি করতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন তাকে। ফেরার আগে সাদাকাত করেন ৪৬ বলে ৭৫ রান। ১০৩ রানে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ফারহান করেন ৪৬ বলে ৩১।শামিল আহমেদকে নাহিদ রানা ফেরালে হঠাৎ চাপে পড়ে পাকিস্তান। ১৯ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান।চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে মিরাজের বদ্যানতায়। বিতর্কিত এক রান আউটে বিদায় নেন সালমান। এর আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান। ৫৯ বলে ৪৪ রান রিজওয়ান ফেরেন এক বল পরেই। রিজওয়ান আউট হলে পাকিস্তান শিবির ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। শেষ ৫ উইকেট হারায় ২২ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারকে শেষ করেন তিনি। ৩৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মিরাজ। তার একটি রান আউটে বদলে যায় ম্যাচের মোমেন্টাম।সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী ১৫ মার্চ।সংক্ষিপ্ত স্কোরপাকিস্তান : ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪/১০ (শাহিবজাদা ৩১, মাজ ৭৫, শামিল ৬, রিজওয়ান ৪৪, সালমান ৬৪, হুসাইন ৯, সামাদ ১১, ফাহিম ১৪, আফ্রিদি ৩, ওয়াসিম ১, রউফ ২*; তাসকিন ৮-০-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৩-১, নাহিদ ১০-০-৫৯-১, মিরাজ ১০-২-৩৪-২, রিশাদ ৯.৩-০-৫৬-৩, আফিফ ১-০-৮-০)বাংলাদেশ : ২৩.৩ ওভারে ১১৪/১০ (সাইফ ১২, তামিম ১, শান্ত ০, লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, আফিফ ১৪, মিরাজ ১, রিশাদ ২, মুস্তাফিজ ৪, তাসকিন ৫, নাহিদ ৩*; আফ্রিদি ৫-০-২২-২, ওয়াসিম জুনিয়র ৫-০-২৫-১, রউফ ৪.৩-০-২৬-৩, মাজ ৫-০-২৩-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-১)ফলাফল : পাকিস্তান বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে জয়ী।
ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ এর ২০২৬ সেশনের জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এইচ এম আবু মুসা এবং সহকারী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাকির হোসাইন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা, মূল্যবোধভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রেখে আসছে।আজ (শনিবার) রাজধানীর মগবাজারে সসাসের অফিসে সসাসের নির্বাহী কমিটিদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ২০২৬ সেশনের জন্য নির্বাহী পরিচালক এবং সহাকারী নির্বাহী পরিচালক মনোনীত করা হয়। নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছর সংগঠনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবে।
দেশের শোবিজ অঙ্গনের চর্চিত খবর দ্বিতীয়বারের মতো মা হচ্ছে অভিনেত্রী শবনম বুবলী। কিন্তু তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন। চিত্রনায়িকা নিজে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার হাটা চলাফেরা সন্দেহ জাগিয়েছে ভক্তদের মনে। এবার এক দাফ এগিয়ে তার মা হওয়ার গুঞ্জন। দেশের একটি গণমাধ্যমে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, সন্তান জন্ম দিতে চলতি মাসেই আমেরিকায় উড়াল দিয়েছেন বুবলী। বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তিনি। বেশকিছু দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন বুবলী। সেখানে নৃত্যপরিবেশন করেন এই নায়িকা। পরনে ছিল ঘাগরা। এ সময় উৎসুক ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশের দাবি, বুবলী অন্তঃসত্ত্বা। ‘বসগিরি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা বুবলী। দুই ডজনের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। ২০২০ সালে প্রথমবার মা হন অভিনেত্রী। যদিও ছেলের জন্মের খবর প্রকাশ্যে এনেছিলেন প্রায় দুই বছর পরে। সেই সময়ে এই খবরে প্রায় ঝড় ওঠে। বুবলী জানিয়েছিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে ধর্মীয় আচার মেনে বিয়ে হয়েছে তার। তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয় আমেরিকায়। তার নাম শেহজাদ খান বীর।
একসময় সংগীতশিল্পী দম্পতি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী। কিন্তু ভালোবেসে গড়া সংসার হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় এ নিয়ে দুই তারকাই নীরব থেকেছেন। তবে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ নিয়ে কথাও বলেছেন রবি চৌধুরী। সেখানে তিনি ডলি সায়ন্তনীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন।এবার সেই অভিযোগের বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ডলি সায়ন্তনী। মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না।’বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা না করার অনুরোধ জানিয়ে এই গায়িকা বলেন, ‘সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় বানাবেন না। আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো আছি, বাকিটা সময়ের হাতে।’বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে ডলি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ডিভোর্স প্রসঙ্গে নানা কথা বলা হচ্ছে; স্পষ্ট করে বলতে চাই, ডিভোর্স আমিই দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম সেটি এই মুহূর্তে আর বলতে চাই না। ডিভোর্স দেওয়ার পর সেই সময়েই প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম।’ ‘অতএব এত বছর পর এসব নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।’ সবশেষে পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘মাহে রমজানে আল্লাহ সবাইকে পবিত্রতা রক্ষার তৌফিক দান করুক।’
শাহরুখকন্যা সুহানা খান দক্ষিণ কোরিয়ান কে-পপ তারকা কিম জুন মিয়নের প্রেমে পড়েছিলেন। ডেটেও যেতে চেয়েছিলেন কিম জুন মিয়নের সঙ্গে। সুহানা সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে সরাসরি তা স্বীকারও করেছেন।শাহরুখ খানের মতো মেগাস্টারের ঘরে জন্মগ্রহণ করায় বলিউড নেপোকিড সুহানাকে সুবিধা-অসুবিধা সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু সুহানা তার পারিবারিক প্রভাব না খাটিয়ে সব সময় নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সে চর্চা এখনও তিনি করে যাচ্ছেন। এ কারণে তিনি নিজের দক্ষতা বাড়াতে তায়কোয়ান্দো শেখা এবং অভিনেত্রী হিসেবে যোগ্যতা বৃদ্ধি করার জন্য নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন।সামাজিকমাধ্যমে বরাবর সরব শাহরুখকন্যা বিভিন্ন সময় লাইভে ভক্তদের সামনে আসেন এবং তাদের অনেক প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন। ইনস্টাগ্রামে এরকমই এক সেশন ‘আস্ক মি এনিথিং’য়ে এক ভক্ত প্রশ্ন করেন, তিনি কোন অভিনেতার সঙ্গে ডেট করতে চান। সবাইকে অবাক করে দিয়ে, সুহানা কোরিয়ান গায়ক, গীতিকার এবং অভিনেতা কিম জুন-মিয়নের নাম বলেন। এ সময় সুহানা কে-পপ তারকার একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন—‘তাকে’। সূত্র: পিঙ্কভিলাশাহরুখ খান ও গৌরী খানের ঘরে জন্ম নেওয়া সুহানা খান গ্ল্যামার জগতের বাইরে খেলাধুলাও আগ্রহী। সৃজনশীলতা তার শিরায় প্রবাহিত হয়। তাই গান-নৃত্য এবং লেখালেখি সবকিছুই তাকে আকর্ষণ করে।এ বছরের একদম শেষ দিকে সুহানা খান তার বাবা শাহরুখ খানের সঙ্গে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় দেখা যাবে বাবা-মেয়ের অ্যাকশন। এতে বলিউডের দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চনের মতো বড় তারকারাও অভিনয় করেবেন।
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ দিনে নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ধরনের অর্জন উদ্যাপন করা হয়। দিনটি তাই গানে গানে পালন করতে চান দেশের তিনজন নারী সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল, অন্তরা রহমান ও মাশা ইসলাম। তারা তাই নারী দিবস উপলক্ষে নতুন গান তৈরি করেছেন। গানটির শিরোনাম ‘নারী যায় বাড়ি’।অসংখ্য জনপ্রিয় গানের নেপথ্যের দুই কারিগর শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান রয়েছেন এই গানের পেছনে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর লেখা গানটিতে সুর দিয়েছেন পিলু খান। সংগীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম। ৮ মার্চ নারী দিবসে গানটি প্রকাশ করবে আজব রেকর্ডস। গানটির অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়েছেন মীর হিশাম ও সারাফ চিশতী।নারী যায় বাড়ি গান প্রসঙ্গে শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ‘নারীরা আজীবন তাঁদের নিজের ঘর খুঁজে বেড়ান। কখনো বাবার ঘর, কখনো স্বামীর ঘর, কখনো ছেলেন ঘর। তাঁর নিজের ঘর কি তিনি কখনো খুঁজে পান? চিরন্তন এই প্রশ্ন নিয়ে লেখা হয়েছে গানটি।’পিলু খান বলেন, ‘জঙ্গী ভাইয়ের সঙ্গে চার দশকে নানা বিষয়ভিত্তিক গান করেছি। এবার সে তালিকায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। আশা করি, শ্রোতাদের ভালো লাগবে এ গান।’গানটি নিয়ে কোনাল বলেন, ‘কিংবদন্তি দুজন মানুষের গান করতে পেরে আমি আনন্দিত। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার সংগীতজীবনের অনন্য অর্জন।’একই ধরনের অনুভূতি ফুটে উঠেছে অন্তরার কথায়, ‘একজন নারী হিসেবে এমন কথার গানে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের মতো বরেণ্য মানুষের সান্নিধ্য আমার জন্য পরম পাওয়া।’অন্যদিকে মাশা ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান আমাদের গানের জগতে দুই মহিরুহ। তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারা দারুণ ব্যাপার। সবার সঙ্গে গানটি করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আশা করি, যাঁরা শুনবেন তাঁদেরও ভালো লাগবে।’ ৮ মার্চ নারী যায় বাড়ি গানের ভিডিও আজব রেকর্ডসের ইউটিউব চ্যানেলসহ শিল্পীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পাবে। শোনা যাবে একাধিক আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও।
বোকা প্রেমিকের সরল ও চনমনে প্রেমকে ঘিরে নির্মিত নাটক ‘গুডলাক’। ঈদের বিশেষ আয়োজনে ফারহান আহমেদ জোভান ও নাজনীন নীহা অভিনীত নাটকটি নির্মাণ করেছেন ইমরোজ শাওন। রায়হান মাহমুদের চিত্রনাট্যে নির্মিত নাটকের চিত্রগ্রহণ করেছেন নাঈম ফুয়াদ। বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী দিলারা জামান।গল্প নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাইছেন না নির্মাতা কিংবা অভিনয়শিল্পীরা। তবে নির্মাতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, এক সরলমনা প্রেমিকের আবেগ, ভুলভাল সিদ্ধান্ত আর ভালোবাসার চেষ্টাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে কাহিনি। ক্যাম্পাসের হালকা আবহ থেকে পারিবারিক টানাপোড়েন—দুটো জায়গাতেই গল্পের বিস্তার রয়েছে।এদিকে জোভানের চরিত্রে থাকছে ভিন্নমাত্রা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার উপস্থিতি ও মোড় ঘোরানো মুহূর্ত দর্শকদের চমকে দেবে।প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, ‘গুডলাক’সহ এবারের ঈদে প্রস্তুত হয়েছে ২০টি বিশেষ নাটক। চাঁদরাত থেকে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো মুক্তি পাবে ইউটিউব চ্যানেলে।
দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করেছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা।সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও বাজুস সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়েছিল। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা এবং প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৬ বার কমানো হয়েছে।
মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণকাজের (কনস্ট্রাকশন) সাইটের গেস্টহাউসে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন আরও দুজন।শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, হঠাৎ বিস্ফোরণের পর গেস্টহাউসের ভেতর থেকে সাত বাংলাদেশিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ জানান, আহত দুজনের মধ্যে একজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং অপরজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিতে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঈদের ছুটিতে সমুদ্রের টানে অনেকেই ছুটে যান দক্ষিণের পর্যটন শহর কুয়াকাটায়। তবে এই সমুদ্রকন্যার পাশেই রয়েছে আরেক অপার বিস্ময়- নিঃশব্দ, নির্জন ও স্বপ্নময় চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল বুকে স্বপ্নের মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার।দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দিগন্তজোড়া জলরাশির মাঝখানে সৃষ্টিকর্তা যেন নিভৃতে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো স্বর্গভূমি। কাছে গেলে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়। অসীম আকাশ আর অনন্ত সাগরের মিলনরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক নিঃশব্দ কবিতা। সোনালি বালুকাবেলা, ঢেউয়ের ছন্দময় আছড়ে পড়া আর বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ সব মিলিয়ে চর হেয়ার এক অনাবিল প্রশান্তির ঠিকানা।দ্বীপের ভেতরে পা রাখলেই মেলে আরেক ভিন্ন জগতের দেখা। গহীন বনের ছায়াঘেরা পথ, পাখিদের নিরন্তর কলকাকলি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ সব মিলিয়ে এখানে বিরাজ করে এক অপার্থিব নির্জনতা। মনে হবে, কোলাহলমুখর পৃথিবী থেকে আপনি অনেক দূরে, যেখানে সময়ও যেন ধীর হয়ে যায়। এখানে শত শত পাখির কলরবে ভোরের নীরবতা ভাঙে, বিস্তীর্ণ বালুচরে লাল কাঁকড়ার দল ছুটে বেড়িয়ে আঁকে জীবনের চঞ্চল রেখাচিত্র। ঢেউয়ের ফেনায় ভেজা তটরেখা, দূরে ভাসমান মাছধরা নৌকা আর আকাশজুড়ে সাদা মেঘ সব মিলিয়ে চর হেয়ার স্বপ্নীল জগৎ।সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কুয়াকাটা ভ্রমণের সঙ্গে চর হেয়ার হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য। এই ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে দক্ষিণের এই নিভৃত দ্বীপে কাটাতে পারেন এক ভিন্ন রকম সময়। যেখানে প্রকৃতি নিজেই আপনার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।ভৌগোলিক অবস্থান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার। কেউ কেউ একে ‘হেয়ার চর’ নামেও ডাকেন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কলা গাছিয়ার চর’ নামেও পরিচিত। চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘সোনার চর’, যেখানে হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। পূর্বে চর আন্ডা, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ ও তার পাশেই চর কাশেম। এসব চরের নান্দনিক দৃশ্যও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এই চরের দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার। আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে চরটির দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।ভ্রমণের আদর্শ সময়বঙ্গোপসাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এখানে ভ্রমণের আদর্শ সময় শীতকাল। এ সময় অতিথি পাখির দেখা মেলে বেশি। তবে এই সময়েও চরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।যেসব সুবিধা রয়েছেচর হেয়ারে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট তাবু ও কটেজ। তাবু প্রতি ভাড়া এক রাতের জন্য ৪০০ টাকা। সমুদ্রের ঢেউয়ের কলকল ধ্বনি শুনতে শুনতে নির্জন রাতে তাবুতে কাটানো সময় হয়ে উঠতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা। এছাড়া সৈকতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছাতাসহ আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। বনভূমির ভেতরে গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনা শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সীদের জন্য আনন্দদায়ক।খাবারের জন্য রয়েছে সাগরের তাজা মাছ, মুরগি, ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। থাকা, খাওয়া, ট্রলার সার্ভিস, তাবু ও কটেজসহ ভ্রমণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সোনার চর ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলস’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চর হেয়ার ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান। তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭১৯৩৬৮১৭৮।তবে এখানে পর্যাপ্ত দোকান বা ফার্মেসি না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো। মোবাইল চার্জিংয়ের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাও রাখলে সুবিধা হবে।যেভাবে যাবেননৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায়। ডেকের ভাড়া ৬৫০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা। সেখান থেকে ১৫০০ টাকায় ট্রলার (রিজার্ভ) বা ২০০০ টাকায় স্পিডবোটে চর হেয়ারে যাওয়া যায়। কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়া ভাগাভাগি করা সম্ভব।সড়কপথে: ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে পটুয়াখালী চৌরাস্তা পর্যন্ত বাসভাড়া প্রায় ৬৫০ টাকা। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকায় ৪০ মিনিটে হরিদেবপুর ফেরিঘাট। ট্রলারে ১০ টাকায় গলাচিপা শহরে উঠে মোটরসাইকেলে ১৫০ টাকায় পানপট্টি লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায় (সময় প্রায় ২৫ মিনিট)। পানপট্টি থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা ও বিকেল ৩টায় লঞ্চ চরমোন্তাজের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। প্রায় ৩ ঘণ্টার নদীপথে আগুনমুখা ও তেতুলিয়া নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চরমোন্তাজ থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টা এবং স্পিডবোটে ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন চর হেয়ারে।বিকল্প পথ: গলাচিপার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট থেকে ১০ হাজার টাকায় স্পিডবোট ভাড়া করা যায়। এছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসা যায়। মাত্র ৩০০০-৩৫০০ টাকায় আপনি চলে আসতে পারবেন চর হেয়ারে।যা যা দেখবেনচর হেয়ারে রয়েছে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত,যেখানে আচড়ে পড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি। দ্বীপের বুকে আছে ঝাউগাছ আর পেয়ারাগাছের বন। এছাড়া আছে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার ঝোপঝাড়। সবুজ বনভূমির গাছগুলোতে বিচরণ করে হাজারো দেশীয় ও বিদেশী অতিথি পাখি যার মধুর কণ্ঠে কিচিরমিচির গানে ভুলে যাবেন শহুরে কোলাহলের অবসাদ।দোলনায় শুয়ে দুলতে দুলতে পাখিদের গানে মুগ্ধ হবেন আপনি। সারস, বক, শামুকখোল, মদনটাকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় এখানকার গাছের মগডালে। আর ঝোপগুলো ডাহুক, কোড়াসহ নাম না জানা পাখিদের অভয়ারণ্য সৈকতে বসে সাগরের গর্জন আন্দোলিত করে তোলে মন। এখান থেকে দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরা। সূর্যোদয়ের সময় লাল আভায় রাঙা দিগন্ত আর সূর্যাস্তের ক্ষণে সোনালি-কমলা রঙে ঢেকে যাওয়া জলরাশি হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অনির্বচনীয় মায়া। বালুকাময় সৈকত এর চারদিকে দেখা যাবে লাল কাঁকড়া। এছাড়া এই চরটি চমৎকার এক পিকনিক স্পট। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা ব্যবস্থা। চর হেয়ার শুধু একটি দ্বীপ নয় এ এক অনুভূতি, বিস্ময়, নিঃশব্দ সৌন্দর্যের ঘোষণা। ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি, নির্জনতা ও সমুদ্রের মিলিত রূপ উপভোগ করতে চাইলে দক্ষিণের এই স্বর্গভূমি হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ (৮ মার্চ) উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অন্যতম।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন। এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।উল্লিখিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা অধিদফতর। এ ছাড়া, বিভিন্ন অফিস ও সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।সারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারও সারা বিশ্বের সব দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি পালনে প্রতিবছরই একটি প্রতিপাদ্য সুনির্দিষ্ট করা হয়।
আধুনিক ইতিহাসের পাতায় যে কয়েকজন নেতা একক সিদ্ধান্তে একটি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি কেবল একটি দেশের শাসক নন, বরং পুরো শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও শৈশব: অভাবের মাঝেও শিক্ষার আলো১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আলী খামেনেইর জন্ম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জাভাদ খামেনেই ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ আলেম, যিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। খামেনেই পরবর্তীকালে তার শৈশব সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের রাতের খাবারে শুধু রুটি আর কিশমিশ জুটত।’ অভাব থাকলেও পড়াশোনায় খামেনেই ছিলেন মেধাবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং ১১ বছর বয়সে ধর্মীয় লেবাস (পাগড়ি ও জাব্বা) ধারণ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হন।বিপ্লবের আগুন ও কারাবরণ১৯৬০-এর দশকে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে আসেন এবং শাহ শাসিত রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এই অপরাধে তাকে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। সাভাক (তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা) তাকে নির্মম নির্যাতন করেছিল এবং তিনি তিন বছরের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু এই কারাবাসই তাকে একজন আপসহীন নেতায় পরিণত করে।প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও হত্যাচেষ্টা১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনেই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আসীন হন। ১৯৮১ সালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে সেই বছরই একটি বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে সম্মান দিতে শুরু করে। তার আট বছরের প্রেসিডেন্সি ছিল মূলত ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধ’-এর কঠিন সময় পার করার গল্প।সুপ্রিম লিডার: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ৩৭ বছর১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দীর্ঘ শাসনামলের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:* আইআরজিসি (IRGC)-এর উত্থান: তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।* প্রতিরোধের অক্ষ: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সমর্থন দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যাকে তিনি ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বলেন।* পারমাণবিক কর্মসূচি: পশ্চিমা বিশ্বের প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও তিনি ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন।দর্শনের দর্পণ: খামেনেইর অবিনশ্বর কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত তার আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:* পশ্চিম প্রসঙ্গে: “আমেরিকা হলো ‘বড় শয়তান’। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।”* আঞ্চলিক সংঘাত ও ইসরায়েল: ‘ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।’* পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ফতোয়া: ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, আমাদের জনগণের ঈমানের মধ্যে।’* তরুণ প্রজন্মের প্রতি: ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’ব্যক্তিগত জীবন ও বিচিত্র পছন্দখামেনেইর জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা। তিনি নিয়মিত কবিতা পড়েন এবং ফারসি সাহিত্যের গভীর অনুরাগী। এমনকি ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ তার অন্যতম প্রিয় বই। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর জীবন, আদর্শ এবং তার প্রভাবশালী বক্তব্যগুলোকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত ফিচার নিউজ নিচে দেওয়া হলো:আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই: পারস্যের ক্ষমতার ধ্রুবতারা ও তিন দশকের আপসহীন নেতৃত্বতেহরান, ইরান — আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যদি কোনো একজন ব্যক্তির ছায়া সবচেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর, যখন দেশটি এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন খামেনেই হাল ধরেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা নন, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে এক অটল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও বৈপ্লবিক উত্থান১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদ শহরের এক অতি সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে খামেনেইর জন্ম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া খামেনেইর প্রধান সম্পদ ছিল তার মেধা ও ধর্মীয় নিষ্ঠা। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাদ্রাসায় শিক্ষা শুরু করা এই তরুণ ১৯৬০-এর দশকে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে এসে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে তাকে অন্তত ছয়বার কারাবরণ করতে হয়। নির্বাসন ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিখরে আরোহণ করেন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।‘জীবন্ত শহীদ’ ও অদম্য মনোবল১৯৮১ সালে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় খামেনেই এক ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হন। এই হামলায় তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জানবাজ’ বা ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা তাকে ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসায়।আদর্শিক স্তম্ভ: খামেনেইর বিখ্যাত কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:আমেরিকা ও পশ্চিম প্রসঙ্গে: তিনি সবসময়ই আমেরিকার আধিপত্যবাদের কট্টর বিরোধী। তার বিখ্যাত উক্তি:"আমেরিকা হলো 'বড় শয়তান'। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।"ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্বকে তিনি কখনোই মেনে নেননি। তার ভাষায়:"ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।"পারমাণবিক অস্ত্র ও ইসলাম: আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তিনি তার ধর্মীয় ফতোয়ায় অটল ছিলেন: "আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, জনগণের ঈমানের মধ্যে।"ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ও আঞ্চলিক প্রভাবখামেনেইর শাসনামলে ইরান কেবল টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধের অক্ষ আজ লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (IRGC) তিনি এমন এক সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন যা সরাসরি তার কাছে দায়বদ্ধ।ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাহিত্যের অনুরাগী এক রাষ্ট্রনায়ককঠোর প্রশাসক এবং ধর্মীয় নেতার বাইরেও খামেনেইর একটি ভিন্ন সত্তা রয়েছে। তিনি ফারসি সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং শৌখিন কবি। ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী সাহিত্য তার নখদর্পণে। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিলো। তিনি প্রায়ই তরুণদের বলতেন, ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তিদীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের নাটাই শক্ত হাতে ধরে রাখার পর, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তার এই দীর্ঘ সফর কেবল ইরানের ইতিহাস নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করে গেছে। তিনি যেমন একদিকে আধ্যাত্মিক গুরু, অন্যদিকে তেমনই ছিলেন এক অকুতোভয় রণকৌশলী। তেহরানের এই লৌহমানবের শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তি ঘটলো।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান এবং দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিস ইফতার মাহফিল ২০২৬-এর আহ্বায়ক এ এইচ এম রোকমুনুর জামান রনি, সহ-আহ্বায়ক ফেরদোস আলমসহ বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ, বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে আইসিটি খাতের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ও বেসিস প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সরকার এই খাতের উন্নয়নে বেসিসের মতো সংগঠনের পাশে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে আইসিটি শিল্প ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”দেশের তরুণ কর্মশক্তির সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক দক্ষ জনশক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সুপ্রস্তুত। এ লক্ষ্যে লক্ষ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বেসিসের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ সফটওয়্যার ও আইটি সেবার একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “বেসিস দেশের আইসিটি শিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”বেসিস প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান বলেন, “বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বেসিস নিরলসভাবে কাজ করছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্পখাতের সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আয়োজন পারস্পরিক নেটওয়ার্কিং জোরদারের পাশাপাশি নতুন সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।”তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের আইসিটি পণ্য ও সেবার বৈশ্বিক চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসিস দেশের ডিজিটাল খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”বেসিস ইফতার মাহফিল ২০২৬-এর আহ্বায়ক এ এইচ এম রোকমুনুর জামান রনি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য অতিথি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পবিত্র মাহে রমজানের এই মিলনমেলা আইসিটি শিল্পের অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের আয়োজন শিল্পখাতের ঐক্যকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”দেশের সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাতের অগ্রযাত্রায় বেসিস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সংগঠনটি তার অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এই আহ্বান জানান তিনি।ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরে দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি অনুরূপ থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে তার বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করতে হবে।’সিন্ডিকেট নির্মূলের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পাশাপাশি এই সময়ে যেন নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’