শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিতে কমপক্ষে ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধজাহাজটিতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাবমেরিন থেকে হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিল’।তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজটি টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে’। এদিকে শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, পূর্ব ভারতের একটি বন্দর থেকে ইরানের দিকে যাত্রা করা ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’ হামলায় কমপক্ষে ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের খোঁজে অনুসন্ধান চলছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, জাহাজটির নথিপত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।মহড়া সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি জাহাজটি গত ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ভারতের বার্ষিক নৌ মহড়ায় ‘মিলান ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিল এবং মহড়া শেষে ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছিল।এরআগে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, আজ ভোরের দিকে ইরানি নৌ বাহিনীর ‘আইআরআইএস ডেনা’ জাহাজটি থেকে একটি বিপদ সংকেত পায় দেশটির নৌবাহিনী। পরে সকাল ৬টার দিকে জাহাজটি উদ্ধার অভিযানে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি বিমান মোতায়েন করা হয়।হেরাথ আরও জানান, ইতোমধ্যেই জাহাজটি থেকে আহত ৩২ জনকে উদ্ধার করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী গ্যালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া সংখ্যা সঠিক হয়, তবে এখনো প্রায় ৬১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।প্রসঙ্গত, গত চার দিনে আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানের নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন এবং ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। ওই অঞ্চলের বাইরে ইরানি সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের এটিই প্রথম হামলা। সূত্র: রয়টার্স
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর একই কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের সম্পত্তির বিবরণ তুলে ধরেছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরুর পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে এমন উদ্যোগ নেন।বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি উপদেষ্টা থাকাকালীন বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনার চেষ্টা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন; যাতে বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।আসিফ আরও বলেন, আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দিই, তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।তার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এ ছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আমার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।এর আগে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ তলবনামা পাঠানো হয়।ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সন্ধ্যা ৭টায় বাংলামোটর কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন। এ সময় তিনি তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করবেন।পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রার্থিতার আলোচনা শুরু হলে ফ্যাসিস্ট এনাবলার সাকিব আল হাসানের ভক্ত পরিচয়ে একদল লোক বেনামে দুদকে কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রধান প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (আইএআই)-এর সদর দপ্তরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার রাত ২টার দিকে (জিএমটি ০০:০০) তারা একঝাঁক ‘অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে মধ্য ইসরায়েলে অবস্থিত আইএআই সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংস্থাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি তৈরি করে থাকে। এছাড়া হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে যে, বুধবার ভোরে তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থিত একটি ‘ড্রোন কন্ট্রোল বেস’ বা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে আসা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আইএআই সদর দপ্তরে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর তারা সরাসরি নিশ্চিত করেনি। তবে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে স্থাপণাটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। উত্তর ইসরায়েলে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহর এই সাম্প্রতিক হামলাকে সেই বৃহত্তর সংঘাতেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।অন্যদিকে, সংঘাত এড়াতে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিলেও গোষ্ঠীটি সেই নির্দেশ তোয়াক্কা না করেই তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।এই হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোন হামলা প্রমাণ করে যে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের গভীরে এবং স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করতে পারে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস।
দায়িত্ব কমানো হয়েছে প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির। দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা সাকিকে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বুধবার (০৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ৩বি(আইআই) বিধি অনুযায়ী এই পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ আছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এখন থেকে কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর দুই রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব ও দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ৩বি(আইআই) বিধি অনুযায়ী এই পুনবর্ণ্টন করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অপর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে তার বর্তমান পদের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।এর আগে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বুধবার (৪ মার্চ) ২৫টিসহ তিন দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৭৩ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট, ১ মার্চ ৪০ টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬ টি এবং ৩ মার্চ ৩৯ টি ফ্লাইট বাতিল হয়। বুধবার (আজ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে– কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ ২ টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪ ফ্লাইট রয়েছে।এদিকে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপনের তথ্য মতে, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকে এপিবিএনে, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদকে বগুড়ার পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকারকে খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে, জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়েছে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশালের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ফের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এবার দায়িত্ব কমানো হয়েছে ববি হাজ্জাজ ও নুরুল হক নুরের।বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক গেজেটে আটজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬–এর ৩বি(আইআই) বিধি অনুযায়ী এ পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ববি হাজ্জাজ শুধু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।এছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা নুরকে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এখন থেকে কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পর জনগণের জানার জন্য গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।৪ মার্চ বুধবার বিচারপতি ফরিদ আহমেদ এবং বিচারপতি মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেন।হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মনজিল মোরসেদ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না মর্মে ২০২২ সালে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।মনজিল মোরসেদ আরও জানান, রায়ে দূষণকারীদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরকে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপনের তথ্য মতে, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকে এপিবিএনে, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদকে বগুড়ার পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকারকে খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে, জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়েছে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশালের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের সম্পত্তির বিবরণ তুলে ধরেছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরুর পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে এমন উদ্যোগ নেন।বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি উপদেষ্টা থাকাকালীন বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনার চেষ্টা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন; যাতে বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।আসিফ আরও বলেন, আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দিই, তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।তার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এ ছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আমার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।এর আগে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ তলবনামা পাঠানো হয়।ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সন্ধ্যা ৭টায় বাংলামোটর কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন। এ সময় তিনি তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করবেন।পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রার্থিতার আলোচনা শুরু হলে ফ্যাসিস্ট এনাবলার সাকিব আল হাসানের ভক্ত পরিচয়ে একদল লোক বেনামে দুদকে কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বুধবার সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের মারধরকে কেন্দ্র করে কদমচাল গ্রামের বাসিন্দা আজমান মিয়া ও তার সহোদর ভাই ইব্রাহীম মিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে বুধবার সকালে আজমান মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার পক্ষ নিয়ে ইব্রাহীম মিয়ার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে তর্কে জড়ায়।পরে খবর পেয়ে ইব্রাহীম মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েব খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অন্যতম প্রাণভোমরা ঋতুপর্ণা চাকমা। তিনি জাতীয় দলের জন্য যেনো দিন দিন অপরিহার্য হয়ে ওঠেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এই ফুটবলার এখন এশিয়ান মঞ্চেও আলো ফেলেছেন।৩ মার্চ মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে পায়ের জাদু দেখিয়ে মাত করেছেন তিনি। বিশেষ করে ১৩তম মিনিটে নেওয়া তার ওই দারুণ শট আলাদা করে নজর কেড়েছে সবার। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট প্রায় গোল হয়েই গিয়েছিল। লাফিয়ে ওঠে সেটিকে কোনোমতে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেছিলেন ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার চীনের গোলরক্ষক চেন চেন।ম্যাচ শেষে নিজের সেই শট নিয়ে কথা বলকে গিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমার নেওয়া শুটটা গোল হবে, যদি এটা গোল হতো আমার ক্যারিয়ারের সেরা গোল হিসেবে ভেবে নিতাম ৷’ তবে তিনি বলেন, ‘আমি খুব নার্ভাস ছিলাম ৷ আমরা খুব ভাগ্যবান যে চীনের মতো দলের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’দক্ষিণ এশিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশ দল এখন অনেক শক্তিশালী, টানা দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন তারা। সেই ফাইনালগুলোতেও নজর কেড়েছিলেন ঋতুপর্ণা। বিশেষ করে দ্বিতীয় ফাইনালে তার গোলেই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান মঞ্চে প্রথমবার মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তার ওপর আবার প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের বিপক্ষে। তাই কিছুটা নার্ভাস ছিলেন টাইগ্রেস এই ফুটবলার। তবে প্রতিপক্ষের কাছে থেকে শিখেছেন অনেক কিছু।
বোকা প্রেমিকের সরল ও চনমনে প্রেমকে ঘিরে নির্মিত নাটক ‘গুডলাক’। ঈদের বিশেষ আয়োজনে ফারহান আহমেদ জোভান ও নাজনীন নীহা অভিনীত নাটকটি নির্মাণ করেছেন ইমরোজ শাওন। রায়হান মাহমুদের চিত্রনাট্যে নির্মিত নাটকের চিত্রগ্রহণ করেছেন নাঈম ফুয়াদ। বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী দিলারা জামান।গল্প নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাইছেন না নির্মাতা কিংবা অভিনয়শিল্পীরা। তবে নির্মাতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, এক সরলমনা প্রেমিকের আবেগ, ভুলভাল সিদ্ধান্ত আর ভালোবাসার চেষ্টাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে কাহিনি। ক্যাম্পাসের হালকা আবহ থেকে পারিবারিক টানাপোড়েন—দুটো জায়গাতেই গল্পের বিস্তার রয়েছে।এদিকে জোভানের চরিত্রে থাকছে ভিন্নমাত্রা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার উপস্থিতি ও মোড় ঘোরানো মুহূর্ত দর্শকদের চমকে দেবে।প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, ‘গুডলাক’সহ এবারের ঈদে প্রস্তুত হয়েছে ২০টি বিশেষ নাটক। চাঁদরাত থেকে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো মুক্তি পাবে ইউটিউব চ্যানেলে।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) খোঁজ মিলছে না। রোববার রাতে দেশে ফিরেছেন—এমনটা শোনা গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি। কেউ বলতে পারছেন না এখন তিনি কোথায়।আলভী ও ইকরাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গতকাল রোববার বিকেলে জাহের আলভী নেপাল থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করেন। ঢাকায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর একজনের মধ্যস্থতায় তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন। এদিকে আলভীর ফোন, ফেসবুকসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী কয়েক দিন আগে শুটিংয়ে যান নেপালে, একই নাটকের শুটিংয়ে আলভীর প্রেমিকা সেই অভিনয়শিল্পীও ছিলেন, যাঁকে নিয়ে আলভীর স্ত্রী ইকরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।আলভী গণমাধ্যমকে গতকাল দুপুর ১২টায় জানান, তিনি সন্ধ্যার মধ্যে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরবেন। ফিরে এসেই পুরো ব্যাপার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন। আলভী তাঁর কথামতো দেশে ফিরে থাকলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলেননি। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে আলভী তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি বন্ধ করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যপেও।বিনোদন অঙ্গনে আলভীর ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ বলছেন, এভাবে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে সামনে আলভীর বিপদই বাড়বে। তাঁর উচিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলা। সেদিন কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে ইকরাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে!আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং দুই বছর ধরে অবহেলা ও নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন তানভীর আহমেদ।গতকাল পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।অন্যদিকে মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায়।আজ সোমবার সকালে এস এম আলমগীর জাহান জানান, আলভীর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। তদন্ত চলমান।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিম আহমেদ বলেন, ‘একবার শুনি আলভী দেশে আসছে, একবার শুনি আসেনি। ধোঁয়াশা, ধোঁয়াশা। আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।’
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মধ্যেই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা ‘হোটেল তেহরান’। সিআইএর অভিযান নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি চলতি বছরে মুক্তি দেওয়া হবে। যদিও সিনেমাটির মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ জানিয়েছে এই বছরেই ছবিটি মুক্তি পাবে।‘হোটেল তেহরান’ পরিচালনার পাশাপাশি গাই মোশে মার্ক বাক্কির সঙ্গে মিলে ছবিটির চিত্রনাট্য করেছেন। ছবিটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে আছেন হলিউডের দুই হেভিওয়েট লিয়াম নিসন ও জ্যাকারি লেভি।আফগানিস্তানে এক মিশনে ব্যর্থ হন তেহরানে দুই সিআইএ এজেন্ট ল্যারি ও টাকার। তাদের ও তাদের দলের একটি উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এই সিনেমার কাহিনী।ল্যারি চরিত্রে আছেন নিসন আর টাকার চরিত্রে অভিনয় করছে লেভি। এছাড়া আরও অভিনয় করছেন কুইন্সি আইসেয়া, জেইক চোই ও অগুস্তো আগিলেরা ও এলনাজ নোরুজি। ‘হোটেল তেহরান’ নিয়ে নির্মাতা মোশে বলেন, “হোটেল তেহরান একটি রোমাঞ্চকর যাত্রা যেখানে আনুগত্য, দায়মুক্তি ও যুদ্ধে মানবজীবনের ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।” সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা ব্যাজেল বাজের কাছ থেকে এই সিনেমার গল্পের কাহিনীসূত্র পেয়েছেন মোশে। মার্ক বাক্কির সঙ্গে মিলে মোশে চিত্রনাট্য লিখেছেন এই সিনেমার জন্য।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা রাশমিকা মান্দানা ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আলোচনায় এসেছে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।সম্প্রতি রাজস্থানের উদয়পুরে জমকালো আয়োজনে সাতপাক ঘোরার পর মা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। রাশমিকা জানিয়েছেন, সংসার ও সন্তান নিয়ে তিনি এখন থেকেই স্বপ্ন দেখছেন এবং মাতৃত্বকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। বিয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাশমিকা তার এই অনুভূতির কথা ভাগ করে নেন। জানান, শুধু একটি নয়, একাধিক সন্তানের মা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। রাশমিকার মতে, সন্তান স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করে তোলে। মা হওয়ার পর সন্তানের নিরাপত্তাই হবে তার কাছে সবথেকে বড় অগ্রাধিকার।ক্যারিয়ার না কি সন্তান- এমন প্রশ্নের জবাবে রাশমিকা বেশ স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। বিনোদন জগতে কাজের কোনো ধরাবাঁধা সময় না থাকলেও তিনি সাফ জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর তার কাছে সন্তানই হবে সবার আগে। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত। এমনকি প্রয়োজনে পেশাগত জীবনে ছাড় দিতেও পিছপা হবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।দীর্ঘদিন প্রেমের পর সম্প্রতি বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে বাগদান ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন রাশমিকা মান্দানা। বর্তমানে এই তারকা দম্পতির ব্যক্তিজীবন ও ক্যারিয়ারের ভারসাম্য নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল ও আমেরিকার আকস্মিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সেখানে আটকা পড়েন তিনি। পরে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগজনক সময় পার করে অবশেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ভক্তদের নিজের এই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ফারিয়া।গত শনিবার রাতে দেওয়া সেই পোস্টে নুসরাত ফারিয়া দিনটিকে ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, ঘুম থেকে উঠে শুনলাম যুদ্ধ, ইউএই(আরব আমিরাতের)-এর আকাশপথ বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু থেমে গেল। ইস্তানবুল থেকে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল চারপাশের পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে, এত অনিশ্চয়তা, এত চাপ, এত ভয়।তবে এই সংকটের মুহূর্তে ইস্তাম্বুলে অবস্থানরত বন্ধু ও তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফারিয়া। চরম বিশৃঙ্খলার মাঝেও তারা যেভাবে ফারিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং বারবার খোঁজ নিয়েছেন, তা তাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি বলে জানান অভিনেত্রী। বর্তমানে তিনি প্লেনে চড়ে ঢাকার পথে রয়েছেন। পোস্টে বিশ্বজুড়ে শান্তি কামনার পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন এই নায়িকা।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যা করেছেন।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।অভিনেতা জাহের আলভী বর্তমানে ঈদের একটি বিশেষ নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে প্রিয়মায়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
দেশের বাজারে ছয় দফা দাম বাড়ার পর অবশেষে কমলো সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ৪ মার্চ বুধবার সকালে এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এতে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে এই বড় পতন দেখা গেছে। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমা এবং স্থানীয় তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি এখন ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও যথাযথভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। এই দাম আজ সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতিদিন পর্যালোচনা করে সমন্বয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম উত্থান-পতন দেখা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব এখন স্থানীয় বাজারে পড়েছে। এই পতনের ফলে সোনার গয়না ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে। তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে দাম আবার বাড়তে পারে। রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সোমবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের উপর পড়লে একজন বাংলাদেশি নিহত ও দুইজন আহন হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী মানামার কাছে সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যে আগুন লেগেছিল তা নেভানো হয়েছে। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ তারেক (৪৮) নিহত ও দুইজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। মো. তারেকের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। সোমবার ভোরে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিকালীন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মো. তারেক দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন। নিহতের ফুফাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টেও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আধুনিক ইতিহাসের পাতায় যে কয়েকজন নেতা একক সিদ্ধান্তে একটি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি কেবল একটি দেশের শাসক নন, বরং পুরো শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও শৈশব: অভাবের মাঝেও শিক্ষার আলো১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আলী খামেনেইর জন্ম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জাভাদ খামেনেই ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ আলেম, যিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। খামেনেই পরবর্তীকালে তার শৈশব সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে আমাদের রাতের খাবারে শুধু রুটি আর কিশমিশ জুটত।’ অভাব থাকলেও পড়াশোনায় খামেনেই ছিলেন মেধাবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং ১১ বছর বয়সে ধর্মীয় লেবাস (পাগড়ি ও জাব্বা) ধারণ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হন।বিপ্লবের আগুন ও কারাবরণ১৯৬০-এর দশকে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে আসেন এবং শাহ শাসিত রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এই অপরাধে তাকে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। সাভাক (তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা) তাকে নির্মম নির্যাতন করেছিল এবং তিনি তিন বছরের জন্য নির্বাসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু এই কারাবাসই তাকে একজন আপসহীন নেতায় পরিণত করে।প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও হত্যাচেষ্টা১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনেই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আসীন হন। ১৯৮১ সালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে সেই বছরই একটি বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন, যার ফলে তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে সম্মান দিতে শুরু করে। তার আট বছরের প্রেসিডেন্সি ছিল মূলত ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধ’-এর কঠিন সময় পার করার গল্প।সুপ্রিম লিডার: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ৩৭ বছর১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দীর্ঘ শাসনামলের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:* আইআরজিসি (IRGC)-এর উত্থান: তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।* প্রতিরোধের অক্ষ: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সমর্থন দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যাকে তিনি ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বলেন।* পারমাণবিক কর্মসূচি: পশ্চিমা বিশ্বের প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও তিনি ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন।দর্শনের দর্পণ: খামেনেইর অবিনশ্বর কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত তার আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:* পশ্চিম প্রসঙ্গে: “আমেরিকা হলো ‘বড় শয়তান’। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।”* আঞ্চলিক সংঘাত ও ইসরায়েল: ‘ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।’* পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ফতোয়া: ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, আমাদের জনগণের ঈমানের মধ্যে।’* তরুণ প্রজন্মের প্রতি: ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’ব্যক্তিগত জীবন ও বিচিত্র পছন্দখামেনেইর জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা। তিনি নিয়মিত কবিতা পড়েন এবং ফারসি সাহিত্যের গভীর অনুরাগী। এমনকি ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ তার অন্যতম প্রিয় বই। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর জীবন, আদর্শ এবং তার প্রভাবশালী বক্তব্যগুলোকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত ফিচার নিউজ নিচে দেওয়া হলো:আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই: পারস্যের ক্ষমতার ধ্রুবতারা ও তিন দশকের আপসহীন নেতৃত্বতেহরান, ইরান — আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যদি কোনো একজন ব্যক্তির ছায়া সবচেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর, যখন দেশটি এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন খামেনেই হাল ধরেন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা নন, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে এক অটল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জন্ম ও বৈপ্লবিক উত্থান১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদ শহরের এক অতি সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে খামেনেইর জন্ম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া খামেনেইর প্রধান সম্পদ ছিল তার মেধা ও ধর্মীয় নিষ্ঠা। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাদ্রাসায় শিক্ষা শুরু করা এই তরুণ ১৯৬০-এর দশকে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সংস্পর্শে এসে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে তাকে অন্তত ছয়বার কারাবরণ করতে হয়। নির্বাসন ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিখরে আরোহণ করেন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।‘জীবন্ত শহীদ’ ও অদম্য মনোবল১৯৮১ সালে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় খামেনেই এক ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হন। এই হামলায় তার ডান হাতটি চিরতরে অকেজো হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানিরা তাকে ‘জানবাজ’ বা ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা তাকে ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসায়।আদর্শিক স্তম্ভ: খামেনেইর বিখ্যাত কিছু বক্তব্যআয়াতুল্লাহ খামেনেইর শাসনকাল ছিল মূলত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। তার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যগুলোই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি:আমেরিকা ও পশ্চিম প্রসঙ্গে: তিনি সবসময়ই আমেরিকার আধিপত্যবাদের কট্টর বিরোধী। তার বিখ্যাত উক্তি:"আমেরিকা হলো 'বড় শয়তান'। তারা যখন হাসে, তখনো তাদের হাতে লুকানো খঞ্জর থাকে। তাদের ওপর বিশ্বাস করা মানেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।"ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্বকে তিনি কখনোই মেনে নেননি। তার ভাষায়:"ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এই অবৈধ রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্ব এই অঞ্চলে থাকবে না।"পারমাণবিক অস্ত্র ও ইসলাম: আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তিনি তার ধর্মীয় ফতোয়ায় অটল ছিলেন: "আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করি না কারণ আমাদের ধর্ম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি আমাদের বোমায় নয়, জনগণের ঈমানের মধ্যে।"ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ও আঞ্চলিক প্রভাবখামেনেইর শাসনামলে ইরান কেবল টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধের অক্ষ আজ লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (IRGC) তিনি এমন এক সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন যা সরাসরি তার কাছে দায়বদ্ধ।ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাহিত্যের অনুরাগী এক রাষ্ট্রনায়ককঠোর প্রশাসক এবং ধর্মীয় নেতার বাইরেও খামেনেইর একটি ভিন্ন সত্তা রয়েছে। তিনি ফারসি সাহিত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং শৌখিন কবি। ভিক্টর হুগোর ‘লা মিজারেবল’ থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী সাহিত্য তার নখদর্পণে। তিনি একজন দক্ষ কোরআন তেলাওয়াতকারী এবং ধর্মীয় পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিলো। তিনি প্রায়ই তরুণদের বলতেন, ‘ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে। তোমরা যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারো, তবে কোনো পরাশক্তি তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তিদীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের নাটাই শক্ত হাতে ধরে রাখার পর, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তার এই দীর্ঘ সফর কেবল ইরানের ইতিহাস নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করে গেছে। তিনি যেমন একদিকে আধ্যাত্মিক গুরু, অন্যদিকে তেমনই ছিলেন এক অকুতোভয় রণকৌশলী। তেহরানের এই লৌহমানবের শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে এক আপসহীন যোদ্ধার মহাকাব্যের সমাপ্তি ঘটলো।
মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ। এখানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ আদায়-ই করেন না। বরং অনেক জায়গায় এই মসজিদ ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিকতার জ্ঞান অর্জনের চর্চা কেন্দ্র। দেশে দেশ পবিত্র মসজিদগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা স্থাপত্যের হয়ে থাকে। যার অপূর্ব স্থাপত্যে আর শৈল্পিকরুপ বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের আকর্ষণীয় সিলিং, দেয়ালের মার্বেল পাথর, অসধারণ কারুকাজ করা মিনার ইসলামিক কারুশিল্প এবং শৈল্পিকতাকে উপস্থাপন করে। এরকম কিছু সুন্দর মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হলো-আল-হারাম মসজিদ, সৌদি আরবআল-হারাম মসজিদ সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত। আল হারাম শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদই নয়, এটিকে পবিত্রতম স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ৪,০০,৮০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদ। লক্ষ লক্ষ লোক হজ এবং ওমরাহ পালনের জন্য আল-হারাম মসজিদ পরিদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ হিসাবে স্থান পেয়েছে। মোট ৪ মিলিয়ন মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এই মসজিদে।শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবিসংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই মসজিদ অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম হস্তনির্মিত কার্পেট এই মসজিদে রয়েছে। একটি ১২ টন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে যা দেখতে অনেক পর্যটক চলে আসে। ৮২টি সাদা মার্বেল গম্বুজ, ১,০৬৯ টি বাহ্যিক কলাম, ৯৬ টি অর্ধমূল্য রত্ন-ঢাকা অভ্যন্তরীণ কলাম, সাতটি ২৪ ক্যারেট সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে। মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক লেখা রয়েছে যা মুসলমানদের ধৈর্য বজায় রাখতে এবং শান্তি ছড়িয়ে দিতে উত্সাহিত করে।হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক হাগিয়া সোফিয়া মসজিদটি শুধুমাত্র অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের জন্য বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি এই মসজিদ। এই পবিত্র স্থানটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের একটি জীবন্ত উদাহরণ। এটি মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে অটোমান শাসনামলে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। হাগিয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত আরবি ভাষায় দীর্ঘ মিনার এবং শিলালিপি রয়েছে। যেখানে সুন্দর মোজাইকগুলি খ্রিস্টানদের অতীতের কথা বলে।নাসির-আল-মুলক মসজিদ, ইরাননাসির আল-মুলক মসজিদ তার অসম্ভাব্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বিখ্যাত। মসজিদটি প্রচুর গোলাপী টাইলস দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি ‘গোলাপী মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৯ শতকে এটি কাজার রাজবংশের মির্জা হাসান আলী নাসিরের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির চত্বরে একটি সুন্দর আয়তাকার পুল রয়েছে। যার চারপাশে ফুলের গাছপালা ঘেরা। মসজিদটি রঙিন কাচ দিয়ে ঘেরা। যার ফলে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে এক ধরনের আলোর খেলা শুরু হয়।ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, ক্রোয়েশিয়াএই মসজিদটি সমসাময়িক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার একটি সুন্দর সমন্বয়। বাঁকা জ্যামিতিক আকৃতি এবং নিদর্শন সমন্বিত নকশায় গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটিতে একটি অনন্য শৈলীযুক্ত গম্বুজ রয়েছে। যা পাঁচটি পৃথক অংশে বিভক্ত। ইসলামিক সেন্টার মসজিদটি সুপরিচিত ক্রোয়েশিয়ান ভাস্কর, দুসান জামোনজা দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।লিড মসজিদ : আলবেনিয়ার সাকোদার নগরীতে এই মসজিদটি অবস্থিত। হুই মসজিদ : চীনের নিংজিয়ায় এই মসজিদটি রয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।সেন্ট পিটার্সবুগ মসজিদ : রাশিয়ার পিটার্সবুর্গে এই মসজিদটি রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত মসজিদ।আল নিদা মসজিদ : এই মসজিদটি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।সানসাইন মসজিদ : অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে সূর্যের আলো পরলে চকচক করে।কুলশারিফ মসজিদ : রাশিয়ার কাজানে এই মসজিদটি রয়েছে। রাশিয়া ভ্রমণে গেলে প্রতিটি মুসলমানই চেষ্টা করেন এই মসজিদটি ঘুরে আসতে।বাদশাহী মসজিদ : পাকিস্থানের সবচেয়ে ঐতিহ্য মণ্ডিত এই মসজিদটি সে দেশের গর্বের প্রতীক। গ্রিন লেন মসজিদ : ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রতিটি মুসলমান এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও প্রশাসনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিশু তাহিয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কারা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমন এবং অপরাধীদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফের প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের সকল মজলুম মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।