টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।পূর্বাভাসে বলা হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।আগামী দুই দিন দেশের রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদী দুটির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী পাঁচ দিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণা জেলার সোমেশ্বরী নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানিও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই সময়ের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ বা ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার।রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য থেকে এই তথ্য জানা গেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। এর আগে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, সরকারের প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ বাড়ায় রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।তাদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে পুরেনো বন্দোবস্তের পথে গেলে রাজনীতি টিকবে না বলেও মন্তব্য তার।তিনি বলেন, ‘যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।’রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই : প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটি, শিক্ষক, আইনজীবীসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানিক কাঠামোর বাইরে রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়। অথচ যারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি করছে, তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেয়নি।’তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র কাঠামোর কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য। এ কারণেই সরকার রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে। অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ওয়াকআউট করেছে। অথচ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মতভেদ থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কেবল স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে। আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’ গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হলে গণভোটের বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক গণভোট ছিল না। এটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন আইন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হবে।’গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্ত্রীয় নেতারাসহ অনেকে।
জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজে ধরাশায়ী হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটের সিরিজে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে কোনো পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেয়ার পর শেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।আজ (১৯ জুলাই) বুলাওয়েতে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৪৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে ২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় পুরোটা সময়ই জয়টা হাতের মুঠোয় ছিল বাংলাদেশের। তবে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং সহজ জয়কে রূপ দেয় রুদ্ধশ্বাস জয়ে। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল কেবল ৯ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ইয়াসির আলী রাব্বির উইকেট তুলে নেন রিচার্ড এনগারাভা। শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন সেট ব্যাটার তানজিদ তামিম। পরের দুই বলে ইভান্সের শিকার হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন এবং সাইফউদ্দিন সাজঘরে ফিরলে লড়াই জমে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। হ্যাটট্রিক বলটায় দারুণ এক ইয়োর্কারে শেখ মেহেদীকে পরাস্ত করেন ইভান্স, বল লাগে ইভান্সের পায়ে। এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশ। তবে বলটা ডেলিভারির আগেই আম্পায়ার নো বল দেয়ায় বেঁচে যান মেহেদী। পরের বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী। তবে ১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান। তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা। ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী। এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের চালানের আড়ালে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অন্তত ১৬ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ।রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ এই স্বর্ণ জব্দ করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আসা একটি ফলের চালান নিয়ে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্গো ভিলেজে তল্লাশি চালানো হলে ফলের ক্যারেটের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিক হিসেবে জব্দ হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ অন্তত ১৬ কেজি।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র ফল আমদানির আড়ালে স্বর্ণ দেশে পাচারের চেষ্টা করছিল।কীভাবে চালানটি দেশে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।একইসঙ্গে স্বর্ণের প্রকৃত মালিক, চালানের উৎস এবং এর পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে।এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটির বিলাইছড়ি থেকে নৌপথে বাড়ি ফিরতে গিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নিখোঁজ হয়েছেন মো. মাসুদ (৫০) নামে এক বিএনপি নেতা।শনিবার (১৮ জুলাই) হ্রদের গর্জনটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ মো. মাসুদ কাপ্তাই ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার কাজ শেষে বিলাইছড়ি ফারুয়া বাজার থেকে নৌপথে বাড়ি ফেরার পথে কাপ্তাই হ্রদে নিখোঁজ হন তিনি। রাইংখিয়ং বাজারসংলগ্ন এলাকায় তার মালামালসহ ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে, তিনি সেখানে ছিলেন না। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধরণী ম্যাচে জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাস লিখেছেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন ফরাসি এই তারকা। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইটাও নিয়ে গেলেন অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে।দশ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪-৬ ব্যবধানে হেরে যায় ফ্রান্স। মায়ামিতে শনিবার প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফরাসিরা। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথমার্ধে তাদের চার গোল হজমের অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম।দ্বিতীয়ার্ধে চার গোল করলেও হার এড়াতে পারেনি তারা। এর মধ্যে দুটি গোল করেন এমবাপে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন এমবাপের। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে (২১) ছাড়িয়ে গেলেন তিনি (২২)।আসরে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও লিওনেল মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে গেলেন এমবাপে। তবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সামনে এখনও একটি সুযোগ আছে—স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল। সেখানে যদি ৩৯ বছর বয়সী কমপক্ষে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট অথবা হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে তিনি গোল্ডেন বুট জিতবেন।অন্যথায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার এই পুরস্কার জিতবেন এমবাপে।.আসরে এমবাপের গোল ১০টি, সঙ্গে চারটি অ্যাসিস্ট। এই শতকে কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপে এত গোল করতে পারেননি। সর্বশেষ গার্ড মুলার ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির হয়ে এক আসরে ১০ গোল করেছিলেন। এর আগে মাত্র আটজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে এক আসরে আট বা তার বেশি গোল করেছিলেন—মুলার, জাস্ট ফন্টেইন, শান্দর কোচিস, আদেমির, ইউসেবিও, গুইলার্মো স্টাবিলে, রোনালদো এবং এমবাপে।আসরে মেসির ৮ গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্ট ৪টিতে।ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যামের ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল তাকে গোল্ডেন বুট তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। আসরে তার গোল সাতটি—এক আসরে যা কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। এতে তিনি অ্যাসিস্টের কারণে আরলিং হালান্ডকে পিছনে ফেলেছেন।ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে তাদের ঠিক পিছনে ছয় গোল নিয়ে অবস্থান করছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, ‘বিরোধী দলের কাজ বিরোধিতা করা। তাদের কোনো ইস্যু নেই। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতে করতে পতন হয়েছে, বাংলাদেশে দাফন হয়েছে দিল্লিতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। জুলাই-আগস্টে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি।শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে জুলাই আন্দোলনে নরসিংদীর প্রথম শহীদ তাহমিদ ভূঁইয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন।খোকন বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাই চেতনা আমরা বুকে ধারণ করি এবং সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাসহ আহতদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যাদের কারণে আজকে মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই শহীদদের কাছে দেশ, জাতি ও রাজনৈতিক দলগুলো ঋণী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি ভিপি জলিল, গোলাম কবির কামাল, খবিরুল ইসলাম বাবুল, আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দুই দলই সেমিফাইনাল হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে।তৃতীয় স্থান নিয়ে তাই আগ্রহ ছিলনা কারও।তবে সেই অনাগ্রহের ম্যাচেই গোলের বন্যা বসিয়ে দিল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ১০ গোলের 'খ্যাপাটে' ম্যাচে অবশ্য শেষ হাসি টমাস টুখেলের শিষ্যদের।তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করল ইংলিশরা।এই ম্যাচ নিয়ে দুই দলের কারও তেমন আগ্রহ ছিল না। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশঁ নিজেই সেটা স্বীকার করেছিলেন। সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভাঙার পরই এই ম্যাচে নামতে হয় দলগুলোকে। তবে মাঠের লড়াইয়ে আগ্রহের কোনো কমতি দেখা যায়নি।ম্যাচ শুরুর মাত্র আড়াই মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠেন ডেকলান রাইস। তার শট গিয়ে জড়ায় জালে।বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের কীর্তি গড়লেন রাইস, দুই মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। দেশটির দ্রুততম গোলের রেকর্ড ব্রায়ান রবসনের, ১৯৮২ আসরে ফ্রান্সের বিপক্ষেই ২৮ সেকেন্ডে।এরপর একে একে স্কোরকার্ডে নাম লেখান কোনসা ও সাকা। ১৮ মিনিটে কোনসা এবং ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জোড়া গোল পূর্ণ করেন সাকা। বিরতির আগেই ইংল্যান্ড ৪-০ গোলে এগিয়ে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন ফ্রান্সের কোচ। ফলও পান। ৪৮ মিনিটে আসরে নিজের নবম গোলটি করে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে।৫৪ ব্যবধানে গোল করেন বদলি নামা বারকোলা। ৬৬ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান এমবাপ্পে, যা আসরে তার দশম গোল। আর এই গোলই তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন দিয়েছে।International Sports ম্যাচে তখন উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রথমার্ধে ৪ গোল হজম করা ফ্রান্স ৩ গোল ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে।কিন্তু ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পটকিকে হ্যাটট্রিক পূর্ন করে আবারও ব্যবধান বাড়ান সাকা।যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দেম্বেলে আসরে তার ষষ্ঠ গোলটি করে আবারও ব্যবধান কমান। কিন্তু বদলি নামা জুড বেলিংহ্যাম ৯৮ মিনিটে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন। এটি আসরে তার সপ্তম গোল। আর তাতেই ১৯৬৬ সালে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর, বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। আগে দুইবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরেছিল তারা- ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে ও ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার।
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করার পর তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহলী মানুষ ওই যুবককে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।জানা গেছে, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম মিয়ার মেয়ে আয়েশা সুলতানার সঙ্গে চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরের বাসিন্দা সনং হানজোর অনলাইনে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন সনং হানজো। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন ২০২৬ বাংলাদেশে আসেন তিনি। এরপর ১৪ জুন ২০২৬ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক আয়েশা সুলতানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ৯ জুলাই ঢাকা থেকে নববধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কসবার বাইসার গ্রামের বাড়িতে আসেন। তবে বিষয়টি ১৮ জুলাই (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ঘটনাটি।চীনা যুবক মোহাম্মদ (সনং হানজো) জানান, তিনি চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত। তার পরিবারে বাবা ও এক বোন রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আয়েশাকে ভালোবেসেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং বিয়ে করেছি। ভবিষ্যতে তাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে।”আয়েশা সুলতানা বলেন, “অনলাইনে আমাদের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাস কথা বলার পর আমাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে আমরা বিয়ে করি। সে আমাকে চীনে নিয়ে যেতে চায়।”আয়েশার মা বলেন, “আমরা মেয়ের ভালো ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছি। ছেলের পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তারা আমাদের মেয়েকে নিজের সন্তানের মতো দেখাশোনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।”আয়েশার বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই করেই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। আশা করি তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করবে।”এদিকে, গ্রামের বাড়িতে চীনা জামাইকে দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন। অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং কথা বলছেন।তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশিদের মাধ্যমে প্রতারণা ও মানবপাচারের বিভিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তাই তারা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, আন্তঃদেশীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতারণা, মানবপাচার বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।সব মিলিয়ে, এটি সত্যিকারের ভালোবাসার পরিণতি, নাকি ভবিষ্যতে অন্য কোনো বাস্তবতা সামনে আসবে—সেই প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে নবদম্পতিকে ঘিরে কসবার বাইসার গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।
জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে পুরেনো বন্দোবস্তের পথে গেলে রাজনীতি টিকবে না বলেও মন্তব্য তার।তিনি বলেন, ‘যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।’রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই : প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটি, শিক্ষক, আইনজীবীসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানিক কাঠামোর বাইরে রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়। অথচ যারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি করছে, তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেয়নি।’তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র কাঠামোর কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য। এ কারণেই সরকার রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে। অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ওয়াকআউট করেছে। অথচ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মতভেদ থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কেবল স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে। আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’ গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হলে গণভোটের বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক গণভোট ছিল না। এটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন আইন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হবে।’গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্ত্রীয় নেতারাসহ অনেকে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, ‘বিরোধী দলের কাজ বিরোধিতা করা। তাদের কোনো ইস্যু নেই। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতে করতে পতন হয়েছে, বাংলাদেশে দাফন হয়েছে দিল্লিতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। জুলাই-আগস্টে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি।শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে জুলাই আন্দোলনে নরসিংদীর প্রথম শহীদ তাহমিদ ভূঁইয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন।খোকন বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাই চেতনা আমরা বুকে ধারণ করি এবং সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাসহ আহতদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যাদের কারণে আজকে মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই শহীদদের কাছে দেশ, জাতি ও রাজনৈতিক দলগুলো ঋণী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি ভিপি জলিল, গোলাম কবির কামাল, খবিরুল ইসলাম বাবুল, আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ‘বৃক্ষ দেবো ভব’ প্রতিপাদ্যে বগুড়ার শেরপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টায় শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে শেরপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কেএম মাহাবুবার রহমান হারেজ, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক পৌর মেয়র জানে আলম খোকা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু, শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন এবং শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আকরাম হোসাইন।বক্তারা পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগানো এবং পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সবুজ, বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজে ধরাশায়ী হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটের সিরিজে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে কোনো পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেয়ার পর শেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।আজ (১৯ জুলাই) বুলাওয়েতে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৪৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে ২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় পুরোটা সময়ই জয়টা হাতের মুঠোয় ছিল বাংলাদেশের। তবে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং সহজ জয়কে রূপ দেয় রুদ্ধশ্বাস জয়ে। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল কেবল ৯ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ইয়াসির আলী রাব্বির উইকেট তুলে নেন রিচার্ড এনগারাভা। শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন সেট ব্যাটার তানজিদ তামিম। পরের দুই বলে ইভান্সের শিকার হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন এবং সাইফউদ্দিন সাজঘরে ফিরলে লড়াই জমে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। হ্যাটট্রিক বলটায় দারুণ এক ইয়োর্কারে শেখ মেহেদীকে পরাস্ত করেন ইভান্স, বল লাগে ইভান্সের পায়ে। এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশ। তবে বলটা ডেলিভারির আগেই আম্পায়ার নো বল দেয়ায় বেঁচে যান মেহেদী। পরের বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী। তবে ১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান। তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা। ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী। এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর কট্টরপন্থী এক হিন্দু ধর্মগুরুর পক্ষ থেকে অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার দাবি সামনে এসেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অযোধ্যার কট্টরপন্থী ধর্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য এক বক্তব্যে দাবি করেন, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ও বহনের কথাও বলেন তিনি।সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে আইনি প্রক্রিয়ায় গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।পরমহংস আচার্যের অভিযোগ, আমিরের তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, একই বক্তব্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরমহংস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আমির খান বা তার টিমের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।তবে জানা গেছে গৌরি হিন্দু নন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। সূত্র: সামা টিভি
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুঁটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কামব্যাক করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জন্য এটিই চরকির সাথে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (এমওএল) প্রজেক্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে সপ্তম চলচ্চিত্র, যা সহ-প্রযোজনা করছে খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।নির্মাতা জাহিদ প্রীতম জানান, সমকালীন জীবনের নানা জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং আধুনিক জীবনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে এই সিনেমার গল্পে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’সাধারণত পর্দায় আরিফিন শুভকে অ্যাকশন হিরো কিংবা ‘আলফা মেইল’ চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় আনিস নামের একটি চরিত্রে একদম ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে।নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে রয়েছেন সহজ-সরল ও সৎ যুবক আনিস (শুভ), আর অন্য প্রান্তে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা। এই অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত।নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন। ‘চরকির ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ মূলত সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে গল্প বলে। এই প্রজেক্ট নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’গল্পের ভিন্নতার কারণেই এই প্রজেক্টের সাথে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভালো লাগা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ছিল ২০২৩ সালের ‘উনিশ২০’। অন্যদিকে, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ‘ঘুমপরী’র পর তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে চরকিতে ফিরছেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়েছে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় অভিনয় শিল্পী সংঘের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।চুক্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষে সভাপতি আজাদ আবুল কালাম যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সূচনা সিকদারও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ব্রডওয়ে ও টেলিভিশন অঙ্গনের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জশ গ্রিসেত্তি আর নেই। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানায়, গত ১০ জুলাই আত্মহত্যা করেন এই অভিনেতা। পরে তার সহ-অভিনেতা রব ম্যাকব্লুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বিষয়টি জানান।রব ম্যাকব্লুর লিখেছেন, এই মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তিনি জশের স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিও প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, জশ গ্রিসেত্তিকে ছাড়া অভিনয়জগত আর আগের মতো থাকবে না। তাকে সবাই গভীরভাবে মিস করবেন।মৃত্যুর আগে নিজের শেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জশ জানান, ব্যক্তিগত কারণে একটি নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।তার মৃত্যুর পর উৎসব কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে জানায়, জশ গ্রিসেত্তি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, স্নেহশীল ও নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়।ব্রডওয়েতে নাইজেল বটম চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান জশ গ্রিসেত্তি। এছাড়া ইট শুডা বিন ইউ, ব্রডওয়ে বাউন্ড, রেন্ট, পিটার অ্যান্ড দ্য স্টারক্যাচার ও এন্টার লাফিং-সহ একাধিক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।টেলিভিশনেও সফল ছিলেন জশ। তিনি দ্য মার্ভেলাস মিসেস মেজেল, দ্য নাইটস অব প্রসপারিটি, নার্স জ্যাকি এবং দ্য গুড ফাইট-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্র ও সংগীতনির্ভর নাটকের পরিচালনাও করেছেন।১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় জন্ম নেওয়া জশ গ্রিসেত্তি ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে হলিউড ও ব্রডওয়ের অভিনয় অঙ্গনে।
চার বছর আগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার বছর পর প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও মানসিক শান্তি আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন এই অভিনেত্রী।স্ট্যাটাসে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে দেওয়া তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে, বনানীর বাসায় দীর্ঘ অভিযান শেষে তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।নিজের জীবনের সেই অধ্যায়কে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে পরীমনি লেখেন, ‘আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’তিনি আরও দাবি করেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আজও সেই ঘটনার ভুক্তভোগী হয়ে আছেন। তার ভাষ্য, ‘যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্নও তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানতে চান, হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান এবং মানসিক শান্তি কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? তিনি লেখেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’তবে অতীতের ঘটনার প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তার প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’স্ট্যাটাসের শেষাংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।’২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধারের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনা মূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে পরীমনি তাকে গালাগাল করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দর্শকদের জন্য থাকছে তারকাখচিত আয়োজনও। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে সুপার বোলের আদলে আয়োজিত হবে বিশেষ হাফটাইম শো। সেখানে এক মঞ্চে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই বর্ণাঢ্য পরিবেশনায় আরও অংশ নেবেন তাদের মধ্যে অন্যতম নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, কোল্ডপ্লের অংশগ্রহণে পিএস২২ কোরাস এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসেমি স্ট্রিট’-এর মাপেট চরিত্রগুলো। অনুষ্ঠানটি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে আয়োজিত হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে জাস্টিন বিবার বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আসর, যা পৃথিবীর মানুষকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি একত্রিত করে।’স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে ‘জাস্টিস’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর বাতিলের চার বছর পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা উৎসবে মঞ্চে ফিরেছিলেন বিবার। সেখানে তিনি ‘বেবি’, ‘নেভার সে নেভার’, ‘ওয়ান টাইম’ এবং ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিট’-সহ তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। ফিফার এই ঐতিহাসিক হাফ-টাইম শোর কিউরেশন করেছেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করা হবে।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করা কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ও আবারও একসঙ্গে মঞ্চে উঠবেন। তাদের যৌথ গান ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সংগীত চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং বিভিন্ন ম্যাচেও ব্যাপকভাবে বাজানো হচ্ছে।এদিকে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই আসরের আয়োজক তিন দেশের দলই এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে।বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচ দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব আবার শুরু হচ্ছে। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম। শনিবার মিয়ামিতে খেলবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, আর একই দিনে কানসাস সিটিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন পর্যন্ত আট গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনেই সাত গোল করে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের এরলিং হালান্ড। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোলসংখ্যা ছয়।
দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই সময়ের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ বা ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার।রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য থেকে এই তথ্য জানা গেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। এর আগে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, সরকারের প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ বাড়ায় রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।তাদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভবন থেকে প্রবাসীদের উচ্ছেদের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত প্রবাসীদের জন্য আবাসনসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং চলাচলের সময় সিভিল আইডি বা বৈধ পরিচয়পত্র সবসময় সাথে রাখার জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাদের উচ্ছেদ করা হয়।পরে তাদের জন্য হাসাবিয়া এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করে কুয়েত সরকার। সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয় রাখা হয়েছে। এছাড়া সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এয়ারকন্ডিশন) সুবিধা রাখা হয়েছে।আশ্রয়কেন্দ্রে সাময়িকভাবে স্থান পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল।সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তারা ওইসব এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কুয়েতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।পরিদর্শনকালে দূতাবাসের কাউন্সিলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আশ্রয়কেন্দ্রে যায় এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন।কুয়েতি কর্মকর্তাদের মতে, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করে অপসারণের লক্ষ্যে এই অভিযান চলছে। আগামীতে দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।কুয়েত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ কাগজপত্রধারী প্রবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ প্রবাসীদের নির্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। উচ্ছেদে গৃহহীনরা বৈধ কাগজ দেখিয়ে সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারলেও, সেখানে থাকাকালীন কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বাইরে যেতে পারবেন না।চলমান অভিযানের কারণে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিদের আবাসনের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে, বাইরে চলাচলের সময় প্রত্যেককে নিজ নিজ কুয়েতি নাগরিক পরিচয়পত্র (সিভিল আইডি) বা অন্য কোনো বৈধ নথিপত্র সবসময় সাথে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, ঢাকার পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের ১ নম্বর বেজমেন্টের ৪১ ও ৪২ নম্বর দোকানে তাদের নতুন ‘গামা কোম্পানি স্টোর ৩.০ প্রো’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন রিটেইল অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আকর্ষণীয় পরিবেশে ডিজাইন করা নতুন এই প্রজন্মের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটিতে ক্রেতারা অপোর অত্যাধুনিক স্মার্টফোন, আইওটি ডিভাইস, ওয়্যারেবল, অডিও প্রোডাক্ট ও অ্যাক্সেসরিজগুলো সরাসরি দেখে কেনার সুযোগ পাবেন। চলমান ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে ফুটবল থিমভিত্তিক একটি প্রাণবন্ত ফ্যান এনগেজমেন্ট ইভেন্ট অত্যন্ত সফলভাবে উদযাপন করা হয়েছে।এই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করতে, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রথম ১০০ জন ভাগ্যবান ক্রেতাকে জামাল ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা এক্সক্লুসিভ লিমিটেড এডিশন টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, অপো স্মার্টফোন কিনে মেগা লটারিতে অংশ নেওয়া ক্রেতারা অপো ওয়াচ, অপো প্যাড এসই, অপো এনকো বাডস ৩ প্রো ও জামাল ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা ফুটবল সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় উপহার জিতে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।দিনটির আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল জামাল ভূঁইয়ার সাথে আয়োজিত একটি এক্সক্লুসিভ ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেশন। এই সেশনে অপোর ‘মেক ইওর ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্ট উইথ অপো’ ও ‘শুট অ্যান্ড উইন’ নামক বিশেষ ক্যাম্পেইনের বিজয়ীরা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কের সাথে সরাসরি দেখা করার দুর্লভ সুযোগ পান। যেখানে ফ্যানরা প্রিয় তারকার কাছ থেকে অটোগ্রাফ নেওয়া ও তার সাথে ছবি তোলার পাশাপাশি, ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে একসাথে উদযাপন করেন।এই জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন; বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া; অপো হেডকোয়ার্টারের রিটেইল অপারেশন ম্যানেজার কাইল ও সায়েন্স; বাংলাদেশের ঢাকা ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব জিটিএম লিউ বো (জেড); অপো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড স্টোর বিজনেস ডেভেলপমেন্টের হেড অব ডিপার্টমেন্ট ওয়াং হাইনিং (ভিক); ব্র্যান্ড স্টোর অপারেশনসের হেড অব ডিপার্টমেন্ট লিয়া; অপো হেডকোয়ার্টারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ক্যাথি ও অপো বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং মো. নাজিমুদ্দৌলা নিলয়। তাদের এই উপস্থিতি বাংলাদেশে অপোর প্রিমিয়াম রিটেইল কার্যক্রমকে আরও অর্থবহ করে তুলে বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে আরও সুনিশ্চিত করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’