সরকার গঠনের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে এবং দুই দেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক করিডোর নিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত হলে বাংলাদেশই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, সফরের অংশ হিসেবে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন চীনের রাষ্ট্রপতি।এর আগে, চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।প্রসঙ্গত, চার দিনের সফরে গত সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে চীনের তালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বুধবার দুপুরে তালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং যান প্রধানমন্ত্রী।মূলত, বেইজিংয়েই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রধান কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।এর আগে, গত ২১ জুন প্রথম দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান তিনি। সফরটি ছিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ধনিয়ালা পাড়ার লাকী ম্যানশন এলাকা এবং জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় সেফটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে মারা যান দুই নির্মাণশ্রমিক।নিহতরা হলেন- রাউজান উপজেলার কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ। প্রদীপ দাশ বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ সেফটিক ট্যাংকে নামার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে নামা সমীরণও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে রাউজান উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু‘জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত প্রদীপ দাশের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার শ্বশুরবাড়ি ঝিকুটি পাড়ায় নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এদিকে একই দিন দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট ধনিয়ালা পাড়ার লাকী ম্যানশন এলাকায় সেফটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের একজনের নাম সাকিব, অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানান ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে। এরপর সবকিছু জানানো হবে।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।সাংবাদিকদের দেয়া এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে যারা নিহত হচ্ছেন, তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই সীমান্তে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে শুধু অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে সীমান্তবাসীর দুর্ভোগ কমবে না।’তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং উন্নত বেতন কাঠামোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সীমান্তে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তা আর হতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকার মানুষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রত্যেক সীমান্তবাসীকেই দেশের নিরাপত্তায় একজন সৈনিকের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি বলেন, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, যদি বিএনপি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলতে পারে, তাহলে এনসিপি শুধু বিরোধীদল হিসেবেই নয়, দেশের ছাত্রজনতাও তাদের পাশে থাকবে। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বাজেটকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং ফলপ্রসূ করতে ‘বাজেট ডেলিভারি ড্যাশবোর্ড’ চালুসহ পাঁচটি প্রস্তাব করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)।শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব করা হয়।সভায় এনডিএমের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের উচিত একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল ‘বাজেট ডেলিভারি ড্যাশবোর্ড’ চালু করা, যেখানে জনগণ সহজেই জানতে পারবেন— কত টাকা প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে, কতটি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু হয়েছে, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, কতজন নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন, সৃজনশীল অর্থনীতির কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, এডিপির অগ্রগতি কতদূর এবং কোন প্রকল্পে ব্যয় বা সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। যে বাজেটের অগ্রগতি জনগণ দেখতে পারে, সেই বাজেটই প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিমূলক বাজেট।এনডিএমের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে— শিল্প পুনরুজ্জীবন টাস্কফোর্স গঠন, প্রণোদনা প্যাকেজের সুশাসন নিশ্চিত করা, সৃজনশীল অর্থনীতি বাস্তবায়ন ইউনিট গঠন এবং প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের হিসাব যুক্ত করা।সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন এনডিএমের নির্বাহী সদস্য মো. শাফায়েত হাসান। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘শিল্প পুনরুজ্জীবন টাস্কফোর্স’ গঠন করা উচিত।এই টাস্কফোর্সের কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় কিন্তু বন্ধ শিল্পকারখানা চিহ্নিত করা, সুস্পষ্ট মানদণ্ডে পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা গ্রহণ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সমন্বিত করা।প্রণোদনা প্যাকেজের সুশাসন নিশ্চিত করার প্রস্তাবের বিষয়ে শাফায়েত বলেন, বাজেটের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি যেন কোনোভাবেই অপব্যবহার বা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার না হয়। এজন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড, স্বাধীন মূল্যায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উপকারভোগীর তালিকা প্রকাশ এবং ঋণ বিতরণের পর কার্যকর তদারকি। এই তহবিলের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত— উৎপাদন বৃদ্ধি, ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসন নয়।সৃজনশীল অর্থনীতি বাস্তবায়ন ইউনিট গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ডিজাইনার, শিল্পী, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, কারুশিল্পী, পর্যটন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং রপ্তানিকারকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় করবে। এই ইউনিট ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের হিসাব যুক্ত করার প্রস্তাবের বিষয়ে এনডিএমের এই নেতা বলেন, প্রতিটি বড় সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের আগে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর থাকা উচিত—এই প্রকল্প কতটি মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং কত সময়ের মধ্যে করবে? কারণ বাংলাদেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত বাজেটকে বিচার করবে বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং তাদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, সেই বাস্তবতা দিয়ে।বাজেট ইতিবাচক, বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বানপ্রস্তাবিত নতুন বাজেটে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সভার আলোচকরা। তবে বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও আছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন সরকারপক্ষের প্রতিনিধিরা।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা সরকার গঠনের পরই বাজেট নিয়ে একটা টেনশনে ছিলাম। কিন্তু বাজেট দেওয়ার পর স্বস্তি বিরাজ করছে। কারণ বাজেট দেওয়ার পর প্রেসক্লাবের সামনে কোনো সভা বা সমাবেশ হয়নি। তাই ধরে নিয়েছি, এটি জনবান্ধব বাজেট। এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, এটি সর্ববৃহৎ বাজেট। এই বাজেটের ত্রুটি বিরোধী দলের নেতারাও ধরতে পারেননি। এটি সিপিডির সম্মানিত ফেলো অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও স্বাগত জানিয়েছেন। বাজেট বাস্তবায়নের আগে এটি সবচেয়ে বড় অর্জন।তিনি বলেন, বাজেটে শুধু আয় ও ব্যয় দেখার বিষয় নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও দেখতে হবে। এই বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হাতে হাত রেখে কাজ করার বিষয়গুলোও এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।আরেক সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী) ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, আমি আইনি পেশায় ছিলাম, তাই ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি ছিলাম। তাদের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা হলেও বুঝি। তবে এবার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাবান্ধব বাজেট হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্লেষণ করে বলছি, কথার কথা বলছি না। আসলেই এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী বাজেট। এখন এটি বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সহযোগিতা করতে হবে।ইউএনডিপির জাতীয় পরামর্শক এস এম জিয়াউল হক বলেন, আসলে বাজেটে কী চাই, আমরা কিছু নীতিনির্ধারণী বিষয় দেখতে চাই। এবারের বাজেটে অনেক অন্তর্ভুক্তি দেখতে পাচ্ছি। কৃষক, নারীদের কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার বিষয় রয়েছে। এগুলোর সুফল আগামীতে দেখতে পাব।ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বাজেটে তিনটি ঘাটতি রয়েছে। একটি বাজেট ঘাটতি, অন্যটি রাজস্ব ঘাটতি। তবে এই দুই ঘাটতি আসলে ভৌতিক ঘাটতি। কারণ যে টাকা বাইরে চলে গেছে, সেটি ধরা হলে ওই ঘাটতির কোনো অস্তিত্ব থাকত না।তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ঘাটতি হলো নৈতিকতা (এথিক্স) ও সুশাসনের (গুড গভর্নেন্স) ঘাটতি। আমাদের এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতির যে আকাঙ্ক্ষা, সেটি পূরণ করতে হলে এই নৈতিকতা ও সুশাসনের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। তাহলে বাজেট বা রাজস্ব ঘাটতিও থাকবে না।ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা শেয়ারবাজারের যে পরিবর্তনগুলো চেয়েছিলাম, সেগুলো বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি, সামনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।এনডিএমের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শাহদুল আজমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন— ইউথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিউল আলম, সিকিউরিটি ৩৬০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মতিন, এনডিপির নেতা হুমায়ুন পারভেজ খান প্রমুখ।সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় বাজেট কখনোই নিখুঁত হয় না। এই বাজেটও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে চাহিদা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ, উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বৃদ্ধি, উৎপাদনমুখী প্রণোদনা, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব, সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত, ব্যাংকিং খাত সংস্কারের অঙ্গীকার, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অধিক জবাবদিহিতা—সব মিলিয়ে এই বাজেট একটি ইতিবাচক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।বক্তারা আরও বলেন, ঘোষণা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না; কার্যকর বাস্তবায়নই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। বরাদ্দ শিল্পকে সচল করে না; সুশাসন, উৎপাদনশীল ঋণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনাই শিল্পকে পুনর্জীবিত করে। যোগান রপ্তানি বাড়ায় না; উদ্ভাবন, নকশা, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্র্যান্ডিং-ই একটি জাতিকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করে। আর ব্যাংকিং খাতেও কেবল বক্তৃতা নয়; স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কঠোর তদারকি এবং আইনের সমান প্রয়োগই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।শুক্রবার (২৬ জুন) ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মায়ের ডাক আয়োজিত ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকারবিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সময় এসেছে। রাষ্ট্রকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংবিধান ও আইনের শাসনের মূল লক্ষ্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা। কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের কারণে অনেক ব্যক্তি ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত, সামাজিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। তাই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনকে কেবল আইনি প্রতিকার হিসেবে নয়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, চিকিৎসাসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, হেফাজতে নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে নির্যাতনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।কায়সার কামাল আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেকের প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত।তিনি আরও বলেন, গুমের তদন্ত অব্যাহত রাখতে বাজেট বরাদ্দও অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান সরকার গুমের বিচারের লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। পাশাপাশি তিনি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।সংলাপে আনিছুর রহমান এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, আমিনুল ইসলাম এমপি, আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, তাহসিনা রুশদীর এমপি, সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং মায়ের ডাকের সভাপতি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি কার্যকর ক্ষতিপূরণ কাঠামো প্রণয়ন, পুনর্বাসন তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং ভুক্তভোগীবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দাবি জানান।অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।/এএস
সামনের দিনগুলোতে গুমের মতো ঘটনার সঙ্গে আর জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই কথা জানান তিনি।গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বয়ে চলা স্বজন হারানোর বেদনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গুম হওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ (ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি)। এর প্রকাশ্যে বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিত। দৃঢ় আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আশা করি, দ্রুত বিচার এগিয়ে যাবে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে গুম হওয়া পরিবারের কেন হবে না? আমরা এ বাজেটেই তা রাখার চেষ্টা করব। আমরা আর গুম হয়ে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই না। যারা এ অপরাধে জড়িত, প্রকাশ্যে তাদের বিচার-শাস্তি হতে হবে।’ এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, একে একে প্রত্যেকে ধরা পড়বে। বিচার হবে।’ সভায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘এখন কান্নার সময় নয়, এখন বিচার-অধিকার-রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করার সময়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এবং বাজেট বাড়ানোর দাবি আসছে।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার জন্য এক মাস কাজ করতে হয়েছে। ৪২ পরিবারের গুমের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি এক মাসের মধ্যে শেষ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এক বছর হায়াত দিলে, মায়ের ডাকের গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার শেষ করবো। ট্রাইব্যুনালে জুলাই-গুমসহ ৮০ মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে।’
যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় আজ (শুক্রবার) দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। ইসলামী ইতিহাসে একই সঙ্গে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও কারবালার শোকাবহ স্মৃতির দিন ১০ মহররম।দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে শিয়া সম্প্রদায় আজ পুরান ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।১৪৪৮ হিজরি সনের ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা আজ। ইসলামী ইতিহাসে দিনটি একই সঙ্গে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও শোকের স্মৃতি বহন করে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটি। ‘আশুরা’ শব্দের অর্থ দশম। মহররম মাসের ১০ তারিখে দিনটি পালিত হওয়ায় একে আশুরা বলা হয়।আশুরা ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। হাদিস অনুযায়ী, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা ফেরাউনের নির্যাতন থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনার স্মরণে শুকরিয়াস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইহুদিদের অনুসৃত প্রথার সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার আগের বা পরের দিনসহ আরও একটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।একটি সহিহ হাদিসে আশুরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তিনি জানতে চাইলে তারা বলেন, এই দিনে আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে শত্রুর কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, তাই হজরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী।’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও এই রোজা পালনের নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০০৪)।মুসলমানদের একটি বড় অংশ এই দিনে নফল রোজা পালন করেন। ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। নবী করিম (সা.) নিজেও এই রোজা পালন করেছেন এবং উম্মতকে তা পালনে উৎসাহিত করেছেন।কিন্তু ইতিহাসের নির্মম ঘটনাক্রমে, বহু বছর পর এই একই দিনে (১০ মহররম) ঘটে যায় কারবালা প্রান্তরে হৃদয়বিদারক ঘটনা। ৬১ হিজরির ১০ মহররমে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যসহ সঙ্গীরা শাহাদাতবরণ করেন।আশুরা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পৃথক বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি সবাইকে আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।আশুরা উপলক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনেকে গতকাল (৯ মহররম) ও আজ নফল রোজা পালন করেছেন। শিয়া সম্প্রদায় কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।এ উপলক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
❝একটি হলেও বৃক্ষরোপন করবো জনে জনে-সবুজ দেশের সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে❞ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির বাগেরহাট জেলা শাখা।বৃহস্পতিবার (২৫জুন) বেলা ১১ টায় বাগেরহাট জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সরকারি পিসি কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকারী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী শাখার সভাপতি রাকিব হাসান , বাগেরহাট জেলা সভাপতি মোরশেদ আলম ও অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সঙ্কট মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মনে করে, একজন সচেতন শিক্ষার্থী কেবল জ্ঞানচর্চায় নয়; সমাজ ও পরিবেশ রক্ষায়ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এ উদ্যোগ।তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, প্রতিটি নাগরিক অন্তত একটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আজকের এই কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার সামাজিক অঙ্গীকার।’‘একজন মানুষ, একটি গাছ, একটি সবুজ ভবিষ্যৎ’— এই প্রত্যয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বহির্ভূতভাবে একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়েছিল। একই সভায় পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত। তাই নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না।এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের ১৩ জুন ৯৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেয়া আজীবন নিয়োগটি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ৯২তম সভার তারিখ (২০২৪ সালের ২০ জুন) থেকে অধ্যাপক ইমেরিটাস পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত বেতন-ভাতাদিও ফেরত দেয়ারও নির্দেশ রয়েছে অফিস আদেশে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ও সংকল্প রক্ষায় আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। শুক্রবার (২৬ জুন) বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভায় জুলাই আন্দোলনের অর্জন, সীমাবদ্ধতা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যার যার অবস্থান থেকে জুলাই সংগঠকদের দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি বলেন, জুলাই ব্যর্থ হয়নিএ বিষয়ে আমরা একমত। জুলাইয়ের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। তবে সেই অর্জনকে সুসংহত করতে হলে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময় আরও জোরদার করতে হবে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধির চর্চা প্রয়োজন।মঞ্জু আরো বলেন, জুলাই উদযাপন যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো জুলাইয়ের চেতনাকেও কোনো নেতিবাচক ট্যাগিংয়ের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। আমরা এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে জুলাইয়ের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে আমরা ব্যর্থও হইনি। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং জনগণের কাছে একটি কার্যকর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।সভায় সমাপনী বক্তব্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই শুধু স্মৃতির বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের একটি ভিত্তি। এই আন্দোলনে দেশের সবচেয়ে সচেতন ও শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল। বিদায় হজের ভাষণের বার্তার মতো জুলাইয়ের বার্তাও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।তিনি বলেন, জুলাইকে কেবল অতীতের একটি ঘটনা হিসেবে ধরে রাখা যাবে না। আগামী দিনের সংগ্রাম ও রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি হিসেবে জুলাইকে ধারণ করতে হবে। ২০২৪ সালের আন্দোলন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রজন্মের যোদ্ধা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, আমরা এখনো জুলাইকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছে দিতে পারিনি। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরে জুলাই নিয়ে যথেষ্ট কাজ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রল ও অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হয়। জুলাইকে সেলিব্রেট করার আগে জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। দেশের প্রশ্নে আমরা যেভাবে এক ছিলাম, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি বলেন, জুলাই আমার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ৫ আগস্ট ফজরের নামাজের পর যখন মাদ্রাসার ছাত্রদের রাজপথে দেখেছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল আমরা পরাজিত হবো না। জুলাই কারো একার নয়, জুলাই সবার।রেভুলেশন ওয়াচের আহ্বায়ক সানজিদ হাসান তানভির, জুলাই সংগঠক লাবিব মাহমুদ, PUNAB-এর সেক্রেটারি তানজিমুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (SDF)-এর সদস্য সচিব আনম আয়াশ এবং বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নোমান বিন নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংলাপ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং বিচার ও সংস্কার প্রশ্নে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোয় তরুণ ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাকছুদুর রহমান,রেভুলেশন ওয়াচের হেড অব কমিউনিকেশনস আব্দুর রহমান রাকিব, মঞ্চ ২৪ এর সংগঠক আসিফ আদনান, ইশরাত করিম অর্পিতা,PUSAB (প্রাইভেট) এর সংগঠকনুসরাত নুর,জিহাদ,ওয়ারিওরস অব জুলাইয়ের সভাপতি সালমান হোসেন, মুখপাত্র কামরুল ইসলাম,বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদের সভাপতি নেছার উদ্দিন নাঈম,সেক্রেটারী হাসান আল মাহমুদ,তারুণ্যের জুলাইয়ের সভাপতি সাগর,সেক্রেটারী আহাদুল ইসলাম, রেড জুলাইয়ের সভাপতি সাদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসাইন,রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (SDF) এর সদস্য সচিব আনম আয়াশ,কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রহমান মেহেদী,জুলাই সংগঠক সাদিক আল আরমান,PUNAB এরসিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ মোহাম্মদ বিন আলম,ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ রফিকুল ইসলাম,প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠন পরিষদ সমন্বয়কারী মোঃ ইফতেখার মাহমুদ, বাপ্পি সরকার, আমজাদ হোসেন, চেন বানু,মাহাদি কাদের মাজহার,জুলাই রাজবন্দি অ্যলায়েন্সেরদপ্তর সম্পাদক মাহাদি হাসান,সাংগঠনিক সম্পাদক কাদের মাজহার,স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি (SDF) এর আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, মুখপাত্র খান আহাদমতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার এবং ছাত্রপক্ষের সহ-সভাপতি আকিব হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।শুক্রবার (২৬ জুন) ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মায়ের ডাক আয়োজিত ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকারবিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সময় এসেছে। রাষ্ট্রকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংবিধান ও আইনের শাসনের মূল লক্ষ্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা। কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের কারণে অনেক ব্যক্তি ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত, সামাজিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। তাই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনকে কেবল আইনি প্রতিকার হিসেবে নয়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, চিকিৎসাসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, হেফাজতে নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে নির্যাতনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।কায়সার কামাল আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেকের প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত।তিনি আরও বলেন, গুমের তদন্ত অব্যাহত রাখতে বাজেট বরাদ্দও অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান সরকার গুমের বিচারের লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। পাশাপাশি তিনি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।সংলাপে আনিছুর রহমান এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, আমিনুল ইসলাম এমপি, আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, তাহসিনা রুশদীর এমপি, সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং মায়ের ডাকের সভাপতি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি কার্যকর ক্ষতিপূরণ কাঠামো প্রণয়ন, পুনর্বাসন তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং ভুক্তভোগীবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দাবি জানান।অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।/এএস
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।সাংবাদিকদের দেয়া এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে যারা নিহত হচ্ছেন, তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই সীমান্তে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে শুধু অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে সীমান্তবাসীর দুর্ভোগ কমবে না।’তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং উন্নত বেতন কাঠামোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সীমান্তে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তা আর হতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকার মানুষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রত্যেক সীমান্তবাসীকেই দেশের নিরাপত্তায় একজন সৈনিকের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি বলেন, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, যদি বিএনপি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলতে পারে, তাহলে এনসিপি শুধু বিরোধীদল হিসেবেই নয়, দেশের ছাত্রজনতাও তাদের পাশে থাকবে। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, রাজপথ অস্থিতিশীল করে নতুন করে রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপনারা আর সফল হতে পারবেন না। সেই সুযোগ আপনাদের নেই। দেশের জনগণ আপনাদের আর গ্রহণ করবে না।”শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশগাড়ী নয়াকান্দী এলাকায় খাল খনন শেষে রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি খোকন তালুকদার বলেন, “খাল খননের পর দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাঁশগাড়ী এলাকায় প্রায় দুই হাজার গাছ লাগানোর নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছ রোপণ করা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, মাদারীপুর-৩ আসনে আমরা তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করব। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফিন, মাদারীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান তালুকদার, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, যুবদল নেতা মামুন শিকদার, বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলামসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিশ্বকাপের আগের দুই পর্বে গ্রুপ পর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার বের হওয়ার পথে ছিল জার্মানি। আগের দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে একাধিক ম্যাচে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার অবশ্য প্রথম দুই ম্যাচ জিতে নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত করে নাগালসম্যানের দল।তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইকুয়েডেরের বিপক্ষে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বাদ পেল জার্মানরা।বৃহস্পতিবার ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে ২-১ জয় পায় ইকুয়েডর।স্মরণীয় এই জয় বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।এদিন ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল প্রত্যাশিত জয়ই পাবে জার্মানি।খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় ফ্লোরিয়ান ভার্টজের চমৎকার পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন লেরয় সানে। দ্রুত গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ইকুয়েডর।তবে ম্যাচের ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি দলটি। নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো নিচু শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে সমতায় ফেরান দলকে।বিরতির পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে ইকুয়েডর। অবশেষে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কর্নার থেকে আসা বলের জন্য দ্রুততম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে গনসালো প্লাতা নয়্যারের আগে বল স্পর্শ করেন এবং জালে পাঠিয়ে দেন। সেই গোলেই স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় উন্মাতাল উদযাপন।শেষদিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। তবে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখায়। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স ও ব্লকে তারা জয়ের ব্যবধান ধরে রাখে।জার্মানি আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল। ফলে তাদের খেলায় কিছুটা অতি আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা গেছে। অন্যদিকে ইকুয়েডরের সামনে ছিল বাঁচা-মরার লড়াই, আর সেই চাপই যেন তাদের সেরা ফুটবল বের করে এনেছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন। ২৩ জুন মঙ্গলবার সকালে রাজধানির মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ঢালিউডের এই পরিচিতজন। তার মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভাগ্নে মনির।এছাড়া প্রবাস থেকে অভিনেতা জায়েদ খানও খবরটি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে জাকির হোসেনের যোগাযোগ ছিল, একসঙ্গে কাজও করেছেন তারা। জায়েদ বলেন, ‘জাকির হোসেন ভাই চলচ্চিত্রের একজন গুণী নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তিনি দুইবার আমার সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আমার বেশ কয়েকটি সিনেমার গানে নৃত্য পরিচালনাও করেছেন।’অনেক দিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন জাকির হোসেন। মে মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতেও নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন, চিকিৎসকের পরামর্শমতে চলছিল চিকিৎসা। ভালো চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছিলেন শিল্পীর পরিবার। কিন্তু আর ফেরা হয়নি।ঢাকাই ছবির পরিচিত নৃত্য পরিচালকদের একজন জাকির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে বহু ছবির নৃত্য পরিচালনা করেছেন। এছাড়া কিছু ছবিতে তাকে অভিনয় করতেও দেখা গেছে।
পরিবেশ ও সামাজিক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সংগঠক’ ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক ‘বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (সিজন-২) অর্জন করেছেন তরুণ সাংবাদিক ও সংগঠক মো. ইসমাইল হোসেন।শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।মো. ইসমাইল হোসেন সাবেক এসএ টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং ‘দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সুরক্ষা, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।এছাড়া নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে ইসমাইল হোসেন বলেন, “বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমি এবং আমার সংগঠন সবসময় নদী, পরিবেশ ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছি। সাধ্যের মধ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”এই অর্জন নিজের মায়ের প্রতি উৎসর্গ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজকের এই সম্মাননা আমি আমার মায়ের চরণে উৎসর্গ করছি। আমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের।”সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রশাসন ও সরকার যদি আমাদের সামাজিক ও পরিবেশবাদী উদ্যোগগুলোর প্রতি আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমরা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারব।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, ইসমাইল হোসেনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এ সম্মাননা দেশের যুবসমাজকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আয়োজনটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে ভিন্ন মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।সবশেষে, টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্যবৃন্দ সকল অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের প্রতি সমর্থন ও ভোট প্রদানের জন্য বিনীত আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও গ্যালাক্সি বাংলাদেশের গ্রুপ চেয়ারম্যান তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও ইনোগ্লোবের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কাদির এবং বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের (বিএফটিডি) ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল একরাম (রাজু)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বোটফ সভাপতি চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি এবং উপ-সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ভ্যাকেশনের সিইও আবদুল্লাহ আল কাফি।
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দেশটির শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বাংলাদেশিরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত অপর ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক।নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
সম্প্রতি ব্র্যান্ড সনি 'সনি আলফা বাংলাদেশ ওয়েডিং স্টুডিও অ্যালায়েন্স' নামের একটি নতুন পার্টনারশিপের যাত্রা শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সেরা ছবি ও ভিডিও নির্মাতাদের আরও শক্তিশালী করা। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যালায়েন্সের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, স্টুডিও প্রতিষ্ঠাতা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশের ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ, ও পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যেতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওয়েডিং স্টুডিওগুলোকে একত্র করছে সনি। এই অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে দেশের সেরা সৃজনশীল কাজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা এই শিল্পখাতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন চলমান রাখবে।বাংলাদেশের সৃজনশীল পেশাজীবীদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, সনি তাদের আধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করবে। এর ফলে ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফাররা আরও উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।এই অ্যালায়েন্সে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ৯টি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি স্টুডিও একসাথে যুক্ত হয়েছে। স্টুডিওগুলো হলো- ড্রিম উইভার, রিলস অ্যান্ড স্টোরিজ, রেমিনিসেন্স ফটোগ্রাফি, কে. নাসিফ ফটোগ্রাফি, ছায়াছবি, স্ন্যাপশট, চিত্রগল্প, তানভীর আলী ফটোগ্রাফি এবং ব্রাইডাল হেরিটেজ।এছাড়া পেশাদার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের সনির অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে আসল পণ্য ক্রয়ের জন্যও উৎসাহিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। সনির অথেনটিক পণ্য সহজে শনাক্ত করার অন্যতম উপায় হলো কোম্পানির ১৮ মাসের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি স্টিকার। এই স্টিকারযুক্ত পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিশ্চিত ওয়ারেন্টি সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিক্রয়োত্তর সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’