প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ব্যবসা, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। যদিও এখনও চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে এটি একটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। এটি বন্ধে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে তবে এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এই আইনের আওতায় নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এই আইনের আওতায় নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শিশুদের টিকা দেওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময় লাগে এবং অতীতে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতির কারণে কিছু শিশু কভারেজের বাইরে ছিল। তবে শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে, যদিও সম্পদের সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৪ এপ্রিল বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতার সুযোগ দিতে একটি অ্যামনেস্টি কর্মসূচি অনুমোদন করেছে স্পেন সরকার। এসব অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়। খবর আল জাজিরার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অভিবাসীরা এক বছরের জন্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে আবেদন শুরু হবে এবং অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পরে ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। স্পেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইলমা সেইজ জানান, যারা ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করেছেন এবং অন্তত পাঁচ মাস ধরে বসবাস করছেন, তারাই এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনকারীদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার শর্তও রাখা হয়েছে।দেশটির সরকার বলছে, স্পেনের শ্রমবাজারে কাজ করা এই অভিবাসীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তাই তাদের বৈধ মর্যাদা দেওয়া ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী সানচেজও এটিকে ন্যায়বিচারের একটি পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বলছে, এতে অভিবাসন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং প্রশাসনিক চাপ বাড়বে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ঘোষণা করেছেন, ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত তেহরানে তাদের গোপন অভিযান সমাপ্ত হবে না। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) হলোকাস্ট স্মরণ দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বার্নিয়া প্রকাশ করেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় মোসাদের এজেন্টরা ‘সরাসরি তেহরানের হৃদপিণ্ডে’ অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তার মতে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীকে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে ইসরায়েলের দিকে ধাবমান হুমকিগুলো নসাৎ করে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।মোসাদ প্রধান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, যুদ্ধের ময়দানে লড়াই থেমে যাওয়ার মানেই এই নয় যে মোসাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেছে। তিনি জানান, তেহরানে সরাসরি বিমান হামলার পরবর্তী সময়ের জন্য তারা আগে থেকেই সুনিপুণ পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন যাতে অভিযানগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়। বার্নিয়া জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের এই আমূল পরিবর্তনকামী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মোসাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ হবে না। মূলত তেহরানে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোকেই তিনি তাদের বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।ডেভিড বার্নিয়া আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। মোসাদ প্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিমান হামলার পর ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার মাঝেই বার্নিয়া এই নতুন অভিযানের ঘোষণা দিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, মোসাদের গোয়েন্দারা ইরানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বার্নিয়ার এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে। ইসরায়েল সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলায় কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। হলোকাস্টের মতো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির দিনে দেওয়া এই বক্তব্যে বার্নিয়া প্রকারান্তরে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না এবং শত্রুর ডেরায় ঢুকে আঘাত হানতে তাদের গোয়েন্দা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
উপজেলা ভূমি অফিসের নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ১৫ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী একথা জানান।ভূমিমন্ত্রী বলেন, দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপে (যেমন-নোটিশ জারি, শুনানি, অনুমোদন) এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানানো হয়, যাতে মাঝপথে কেউ অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে।ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী জানান, এখন নাগরিকরা তাদের এনআইডি ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেট ও অন্যান্য অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে ভূমি উন্নয়ন কর জমা দিতে পারছেন। এতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুযোগ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।মন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলা বা অনুপস্থিত প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শোকজ এবং বিভাগীয় মামলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভূমি অফিসে যদি কেউ ঘুষ দাবি করে বা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হন, তবে সরাসরি ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হয়। এছাড়াও হটলাইনের মাধ্যমে ভূমিসেবা সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে।ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এখন ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং পরিচালনা করছে। এর ফলে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁত ম্যাপ তৈরি হচ্ছে, যা রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে মানুষের হস্তক্ষেপ বা ভুল কমিয়ে আনবে। এর ধারাবাহিকতায় সারা দেশে ডিজিটালাইজড জরিপ করা হবে।ঢাকায় তেজগাঁও নাগরিক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে নাগরিকরা সরাসরি বিনা মূল্যে সেবা নিতে পারছেন উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী জানান, land.gov.bd পোর্টালে গিয়ে ঘরে বসেই যেকোন মৌজার খতিয়ান দেখাসহ নির্ধারিত ফি দিয়ে ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহ করা যায়, যা দালালের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত খরচ কমায়।এ ছাড়া ভূমি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও সেবা প্রদান এবং ভূমিসেবা বিষয়ে তথ্য নাগরিকদের অবগত করার জন্য ভূমিসেবা অ্যাপ চালু, ভূমি মন্ত্রণালয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু এবং ভূমি অধিগ্রহণ সিস্টেম, লিজ এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমসহ অন্যান্য সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি আরও কমে যাবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ১৫ এপ্রিল বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর মরদেহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ সৎকার কার্যক্রমের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিহতের পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, বিদেশগামী সব কর্মীকে অবশ্যই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিদেশ যেতে হবে। এতে করে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন।এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৮টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটযোগে বাহরাইনে নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বাণিজ্যমন্ত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহটি গ্রহণ করেন এবং তা নিহতের ছোট ভাই সমর চন্দ্র সূত্রধরের কাছে হস্তান্তর করেন।উল্লেখ্য, গিরিশ চন্দ্র সূত্রধর সিলেট জেলার সদর উপজেলার পূর্ব মাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কিছুদিন আগে বাহরাইনে কর্মরত অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে ৯৫তম। আগের সূচকে এটি ছিলো ৯৩তম। এই তালিকা অনুযায়ী ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বা আগাম ভিসা ছাড়া এখন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ৩৬ দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিয়ের তালিকায় দেখা গেছে এ চিত্র।৩৬টি দেশের তালিকায় রয়েছে বার্বাডোজ, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিউই, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব দেশের সবগুলোতে সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই; কিছু ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হবে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে ই-ভিসার প্রয়োজন পড়বে।বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এবারের সূচকেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।তৃতীয় স্থানে সুইডেন এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড।
দেশে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা আয়োজন পরিহারেরও নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব/সচিব, সকল বিভাগীয় কমিশনার, সকল জেলা প্রশাসক ও সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রাম (যেমন; সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ)-এ মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় পর্যায়ের প্রোগ্রামে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত সশরীরে সভা আয়োজন পরিহার করতে হবে যাতে যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয় যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তজনা এবং হরমোজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত সংস্থাটির ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা গত জানুয়ারিতে দেওয়া ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে কম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং হরমোজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকেই এই ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা থেকে চলতি বছরের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।আইএমএফের সংশোধিত পূর্বাভাসে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট কমিয়ে আনা হয়েছে, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমিয়ে মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ার গৌরিঞ্চাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, এই প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত অসম হবে এবং এর ফলে নিম্ন আয়ের দেশ ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি এখন বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে, যা তাদের আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। হরমোজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। এই পথে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় তেল, গ্যাস ও সারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, প্রতি ব্যারেলে তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৪ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯৮ ডলার। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনায় মঙ্গলবার তেলের দামে কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।ইউরোজোনের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে ১ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে বলে আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। বস্টন কলেজের কৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহযোগী ডিন আলেকজান্ডার টমিক আল জাজিরাকে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ স্বল্প মেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতিপথ বদলে দিচ্ছে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান এই বৈরিতা নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মধ্যে এক কঠিন ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা
ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় বেদান্ত লিমিটেডের একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এসময় বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার সিংহিতারাই গ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বয়লার টিউবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের সময় সেখানে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে শক্তি থানার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর জানান, দুপুর ২টার দিকে সিংগিতারাই গ্রামের বেদান্ত লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই বিস্ফোরণটি ঘটে।তিনি বলেন, ১৪ জন শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। আহতদের শক্তি ও রায়গড়ের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।বেদান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্ল্যান্টের একটি বয়লার ইউনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইউনিটটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনজিএসএল।তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এখন তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। আহতদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসা দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এসময় তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন।
নওগাঁ জেলায় হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. মুনির আলী আকন্দ।সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকর। এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।”তিনি আরও জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে জেলার মোট ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮৭ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার শিশুকে টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সকল অভিভাবকদের নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে জেলায় সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত ২৪১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ১৫ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী একথা জানান।ভূমিমন্ত্রী বলেন, দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপে (যেমন-নোটিশ জারি, শুনানি, অনুমোদন) এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানানো হয়, যাতে মাঝপথে কেউ অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে।ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী জানান, এখন নাগরিকরা তাদের এনআইডি ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেট ও অন্যান্য অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে ভূমি উন্নয়ন কর জমা দিতে পারছেন। এতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুযোগ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।মন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলা বা অনুপস্থিত প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শোকজ এবং বিভাগীয় মামলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভূমি অফিসে যদি কেউ ঘুষ দাবি করে বা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হন, তবে সরাসরি ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হয়। এছাড়াও হটলাইনের মাধ্যমে ভূমিসেবা সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে।ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এখন ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং পরিচালনা করছে। এর ফলে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁত ম্যাপ তৈরি হচ্ছে, যা রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে মানুষের হস্তক্ষেপ বা ভুল কমিয়ে আনবে। এর ধারাবাহিকতায় সারা দেশে ডিজিটালাইজড জরিপ করা হবে।ঢাকায় তেজগাঁও নাগরিক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে নাগরিকরা সরাসরি বিনা মূল্যে সেবা নিতে পারছেন উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী জানান, land.gov.bd পোর্টালে গিয়ে ঘরে বসেই যেকোন মৌজার খতিয়ান দেখাসহ নির্ধারিত ফি দিয়ে ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহ করা যায়, যা দালালের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত খরচ কমায়।এ ছাড়া ভূমি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও সেবা প্রদান এবং ভূমিসেবা বিষয়ে তথ্য নাগরিকদের অবগত করার জন্য ভূমিসেবা অ্যাপ চালু, ভূমি মন্ত্রণালয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু এবং ভূমি অধিগ্রহণ সিস্টেম, লিজ এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমসহ অন্যান্য সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি আরও কমে যাবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রচিত ‘আগামী বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বইটি পাঠকদের চিন্তা-চেতনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশ গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।অনুষ্ঠানে লেখক মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বইটি লেখার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি উন্নত ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা থেকেই বইটি রচিত হয়েছে।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা আ ন ম সামছুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বইটি পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক চিন্তা-ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, পাঠকরা বইটি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নওগাঁ জেলায় হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. মুনির আলী আকন্দ।সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকর। এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।”তিনি আরও জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে জেলার মোট ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮৭ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার শিশুকে টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সকল অভিভাবকদের নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে জেলায় সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত ২৪১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
মাস দুয়েকেরও কম সময় বাকি আছে ফুটবল বিশ্বকাপের। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। এর আগে একের পর এক দুঃসংবাদ পাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজের পর নতুন করে আরও এক ডিফেন্ডার চোটের কারণে ছিটকে গেছেন অন্তত পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের জন্য।সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, হাঁটুর লিগামেন্টের চোটের কারণে চলতি মৌসুমে আর টটেনহ্যাম হটস্পায়ারের হয়ে মাঠে নামা হবে না দলটির আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর। অন্তত পাঁচ থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।গত রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোমেরো। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন সান্ডারল্যান্ড স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। এরপর সতীর্থ গোলকিপার আন্তোনিন কিনস্কির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন রোমেরো।যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে, সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই রোমেরোর চোটের বিষয় জানিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। যেখানে জানানো হবে আগামী পাঁচ থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।এদিকে, আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এর আগে রোমেরোর চোট দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আর্জেন্টিনার কপালে। যদিও আর্জেন্টিনার আশা বিশ্বকাপের আগেই পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন রোমেরো।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা অভিনয় জগত থেকে বিরতি নেবেন বলে জানিয়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগেই। এবার জানা গেল তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছার কথা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন, বর্ষা দীর্ঘদিন ধরেই নিঃশব্দে সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছেন। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তার মনে প্রবল দেশসেবা করার ইচ্ছা আছে। বর্ষার মানবিক কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনন্ত জলিল আরও বলেন, বর্ষা স্কুল ব্যাগে করে টাকা নিয়ে নিজ হাতে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তার ভেতরে দেশসেবা করার এক অদম্য ইচ্ছা আছে। আমরা কোনোদিন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু দেশসেবার স্বার্থে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তো বেছে নিতেই হয়।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও আদর্শের জায়গা থেকে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তারকা দম্পতি। সৎ রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত জলিল বলেন, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো বলেন। সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না, অন্যায় করতে পারবে না। সৎ পথে থেকেও তো নেতৃত্ব দেওয়া যায়!প্রসঙ্গত, এর আগেও অনন্ত জলিল বর্ষাকে নেত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বর্ষাও জনসেবায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মানুষের সেবা করতে তার ভালো লাগে এবং সরকারের সহযোগিতায় বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে এবার রাজনীতির মাঠে নামার এই ঘোষণা ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের ছায়া কাটেনি টলিউডে। একাধারে টলিপাড়া যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ?ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এমন আবহেই এবার টেলিভিশন জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক ও ‘টেন্ট সিনেমা’র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর অভিযোগ, “আমার নিজের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।”সুকন্যার দাবি, “আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, “ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবকিছু শুনে মনে সাহস দিয়েছে। আমি আর চুপ করে থাকব না। ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন’-এ অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।” যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রযোজক সুশান্ত দাস।
টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে শোকের ছায়া এখনও সর্বত্র বিরাজমান। এই শোকের আবহেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহুলের জীবনের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিচালক শুভ্রজিৎ বাপ্পা।তিনি বলেন, এই ছবিটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মুক্তি দিচ্ছেন। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সহযোগিতা পেলে ছবিটি দর্শকদের বিনামূল্যে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘বিশ্বকর্মা’ নামের একজন চিত্রগ্রাহককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। সংসারের অভাব আর অবহেলার মাঝেও বিশ্বকর্মা মৃত মানুষের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।প্রথমে সিনেমাটির নাম ‘নেগেটিভ’ থাকলেও রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন সম্মানে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র ও রানা বসু ঠাকুর। রূপম ইসলাম ও সোমলতার কণ্ঠে গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্য ঋত। সব মিলিয়ে, ‘ছবিওয়ালা’ এখন কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং প্রিয় অভিনেতার প্রতি টলিউডের এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
বলিউড অভিনেত্রী জারিন খানের মা পারভীন খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। আজ সকাল ১০টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাশুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নাবিলাউল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন পারভীন খান। গত বছর অক্টোবর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এ বছরের শুরু থেকেই ফের অসুস্থ হয়ে আইসিউতে ছিলেন তিনি।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার জন্য বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রশংসা করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান অজয় বাঙ্গা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।স্থানীয় সময় ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বসন্তকালীন সভার প্রথম দিনের বৈঠক শেষে এ কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বিগত সময়ে ব্যাংক লুট করে বিদেশে টাকা পাচার, সঙ্গে উন্নয়নের নামে একের পর এক মেগা প্রকল্প নিয়ে হরিলুট। সবকিছু মিলিয়ে তলানিতে দেশের অর্থনীতি। অবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা।এরপর দায়িত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। থ্রি জিরো স্লোগান নিয়ে এই সরকার আগালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সামনে আসে নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে জনগণের সামনে বিএনপি তুলে ধরে অর্থনীতি পরিবর্তনের কৌশল। বিএনপির উপর আস্থা রাখে দেশের জনগণ।বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এর বসন্তকালীন সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সেই কৌশলই প্রশংসা কুড়ালো। খোদ বিশ্বব্যাংক চেয়ারম্যান পছন্দ করেছেন বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক পরিকল্পনা। পরামর্শের পাশাপাশি অর্থদিয়ে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।বসন্তকালীন সভার অপর একটি সম্মেলন কক্ষে ভি-২০ এর মিনিস্টার ডায়ালগে যোগ দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। জলবায়ুর কারণে দেশের ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। সেই আলোচনায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের উদ্যোগ তুলেন ধরেন মন্ত্রী। জানান-অপ্রতুল অর্থ দিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করা কঠিন।অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে এটা একেবারে ভিন্নধর্মী একটা বিষয়। যেটা আমরা ইশতেহারে বলেছি। এটাও তারা ভীষণভাবে পছন্দ করেছে।একই দিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনবিআর চেয়ারম্যান। এছাড়াও দেশের শেয়ারবাজার পুনরুজ্জীবিত করা ও সামগ্রিক আর্থিক খাত স্থিতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকেপড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।এছাড়াও, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে শিক্ষক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ সংবাদ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করা এবং আটকে পড়া অবশিষ্ট শ্রমিকদের নিয়োগ দ্রুত, সহজতর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা।যৌথ সংবাদ বিবৃতি আরও বলা হয়, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল উৎস দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি-চালিত, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো- মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তারা যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের জন্য খরচ শূন্য হবে।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।উভয়পক্ষ অনিয়মিত কর্মীদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সাথে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করতে ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক আলোচনায় উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল ও রবি এলিট গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহকরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিভিন্ন শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দ্রুততর চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা।অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে ম্যানিক লাল দাস, ডিরেক্টর, কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস (রবি মার্কেটিং); মো. সানজিদ হোসেন, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ; সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ; এবং তানভীর আলম চৌধুরী, জেনারেল ম্যানেজার, লয়্যালটি পার্টনারশিপস, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ, রবি মার্কেটিং উপস্থিত ছিলেন। এবং চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মি. মুনতাসির মাহমুদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এবং মি. বাদশা মোড়ল, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার।এ সময় মি. মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা সেবাকে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে রবি এলিট গ্রাহক খুব সহজভাবে দেশের বাহিরে চিকিৎসা সেবা। রবি’র বিপুল গ্রাহকভিত্তিক এখন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যাত্রায় একটি বিশ্বস্ত সহযোগী পাবে।”মি. তানভীর আলম বলেন, “রবি সবসময় সেবার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সীমানার বাইরে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।নিহত সীমান্তের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। তিনি হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।নিহতের চাচা রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত ওই বাসায় সাবলেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার রুমমেটের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত রাত নয়টার পর থেকে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন সীমান্ত। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, সীমান্ত আর বেঁচে নেই।রুহুল আমিন আরও জানান, অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ আসছিল। এতে তাদের ধারণা, ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানেন না।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।