দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন ও খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৩৫ জন।আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে সর্বমোট ৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন। বুলেটিনে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৫৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৭২১ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৭৫ জন, খুলনায় ১৬১ জন, বরিশালে ১৪৩ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৮ জন এবং রংপুরে ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান এবার প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এসব পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চালানটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি সরবরাহ করা হবে। এসব জ্বালানি মোট নয়টি চালানে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। অবশিষ্ট চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফলাফল ও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, কেন্দ্রটির প্রতিটি কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো যন্ত্রাংশে ত্রুটি পাওয়া গেলে কিংবা ভাল্ব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না এলে সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিদ্যুতের সরবরাহও সম্প্রসারিত হবে।
রাজধানীর ভাটারা এলাকার কোকাকোলা মোড়ে চলন্ত বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।এ ঘটনায় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নির্বাপণ করে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের খবর পায় বলে জানিয়েছেন ডিউটি অফিসার রাসেদ বিন খালিদ।তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসে খবর আসার ১০ মিনিটের মাথায় ৫টা ৫৮ মিনিটে বারিধারা থেকে দুটি ইউনিট ছুটে যায়। পরে তারা ৬টা ২০ মিনিটে আগুন নির্বাপণ করতে সক্ষম হয়। তিনি আরও জানান, বাসটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। হঠাৎ আগুন দেখে যাত্রীরা দ্রুত নেমে যান।‘তবে কী কারণে আগুন লেগেছিল তা জানা যায়নি। কেউ হতাহত নেই। ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে তা তদন্তের পর রিপোর্ট আসলে জানা যাবে।’
ক্ষমতার ভাগাভাগি এবি পার্টির রাজনীতির লক্ষ্য নয়, বরং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের বিদ্যমান সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানই দলের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।তিনি বলেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি। এবি পার্টি সেই ব্যবধান দূর করতে চায়। রাজনীতিকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা থেকে বের করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য রাজনৈতিক দলের ভিড়ে এবি পার্টি কেন আলাদা হবে, মানুষ কেন এই দলকে বেছে নেবে,এমন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাব নেতাকর্মীদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই দিতে হবে।রাজনৈতিক দলগুলোর হানাহানি, সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়; রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিহিংসার মধ্যে জড়াতে চায় না। বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০টি নিবন্ধিত। এত দলের মধ্যে মানুষ কেন এবি পার্টির ওপর আস্থা রাখবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আমাদের আচরণ, সততা, আন্তরিকতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে। মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পারলেই এবি পার্টি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই জন্মলগ্ন থেকে বড় হয়ে ওঠে না। মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়েই একটি দল ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এজন্য প্রয়োজন দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য, আন্তরিকতা ও নিরলস পরিশ্রম। শুধু মুখে দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের কথা বললে হবে না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, পেশা ও কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কর্মীরা। কর্মীদের অবমূল্যায়ন না করে ভালোবাসা, সম্মান, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক কার্যক্রম, কর্মীদের ভূমিকা, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া আরিফ সুলতান কদমতলী থানার আহ্বায়ক কাজী মো. খোকন, হাতিরঝিল থানার আহ্বায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ, কোতোয়ালি থানার সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ জুয়েল, পল্টন থানার আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ, খিলগাঁও থানার আহ্বায়ক মোহাম্মদ রনি গাজী,কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সদস্য আবু রায়হান জাফর, মো. সাইফুল ইসলাম এবং মো. ইয়াহইয়া।
সিলেটে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১টার দিকে নগরের আখালিয়া এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়।মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন জুরেজ আবদুল্লাহ গুলজার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকালে নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৪ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্মসূচিতে অংশ নেন মন্ত্রী। এসব কর্মসূচি শেষে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি।পরে দ্রুত তাঁকে সিলেট নগরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আখালিয়া এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।জুরেজ আবদুল্লাহ গুলজার আরও জানান, চিকিৎসকেরা মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে তাঁকে হাসপাতালে রেখে পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
একসঙ্গে তিনটি সার কারখানা করার চিন্তা। ছবি: সংগৃহীতদেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি ও নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।বিসিআইসি জানিয়েছে, বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া দুইটি নন-ইউরিয়া কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা, ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনাদেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়নের পর উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাটি স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বাসস’কে বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনানরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনানতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বাসস’কে বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।’সূত্র: বাসস
আইন পেশায় সফল হতে হলে মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।তিনি বলেন, একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার কাছে সমর্পণ করেন। তাই মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা একজন আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিষয়ক ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এবং আইইউবি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। এ পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না; প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারিত্ব, অধ্যবসায় ও গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন আইনজীবীকে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য ও শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে। মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি নয়; বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পেরেছেন কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরণ, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি; বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশও নতুন-নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাক্সক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন।তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আইসিআরসির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং আইইউবির স্কুল অব ল’-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান বক্তৃতা করেন।
গণহত্যা ও আলেম-ওলামার রক্তের দাগ যে আওয়ামী লীগের গায়ে লেগে আছে, সেই ফ্যাসিস্ট দলের আর এদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম-ওলামার রক্ত ঝরিয়েছে এবং মানুষকে মসজিদে ইবাদত পর্যন্ত করতে বাধা দিয়েছে, এ দেশে তাদের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাদরাসাটির পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান বাংলাদেশে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভাজন থাকতে পারে, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, তবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সবাই এক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে ১৭ বছর লেগেছে। এ আন্দোলনে আলেম-ওলামারা রক্ত দিয়েছেন। শাপলা চত্বরেও আলেমরা রক্ত দিয়েছেন। ইসলামবিদ্বেষী সরকারকে বিদায় করতে তারা ভূমিকা রেখেছেন।মন্ত্রী বলেন, শুধু জুলাই-আগস্টেই জাতিসংঘের হিসাবে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হাজার হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। যারা এসব ঘটনার জন্য অনুতপ্ত নয় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের প্রত্যাবর্তন বা রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।রাজনৈতিক বিভেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে গণহত্যা, আলেম-ওলামার রক্তপাত এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতির মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের প্রতিফলন নেই। নির্বাচনি ইশতেহারে তারা ইসলাম বা শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। বরং ধর্মের নাম ব্যবহার করে বিভক্তি তৈরি করছে।সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবিধানে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাবেন বলেও জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে যেসব বিষয় বাদ দিয়েছিলেন, সেগুলো পুনঃস্থাপন করা হবে। মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে যুক্ত করা হবে। সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বেতন বা মজুরির বৃদ্ধি থেমে থাকা এবং জনকল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাবের প্রতিবাদে ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ফের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে ফ্রান্সজুড়ে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন শনিবারের বিক্ষোভে।আর ফ্রান্সের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থা জেনারেল কনফেডারেশন অফ লেবার’ (সিজিটি)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০০টিরও বেশি স্থানে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজার জন।মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি অবশ্য তাদের প্রতিবেদনে কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি, তবে জানিয়েছে যে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর দিনগুলোর তুলনায় বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জমায়েতের হার অনেকগুণ বেশি ছিল।দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে স্কুল ও হাইস্কুলগুলোর অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাছি থেকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ শুরু করে জুনিয়র ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। পরবর্তী দিনগুলোতে শিক্ষা-সংস্কারের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, মজুরি বৃদ্ধি প্রভৃতি দাবি নিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে থাকেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ।বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভেও অগ্রসর বাহিনী ছিলেন হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা; আর তাদের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, রেলকর্মী ও অন্যান্য পেশাজীবিরা।বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি বিবৃতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভকারীদের হামলায় ফ্রান্সজুড়ে ৫৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন, ৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং আইনভঙ্গ, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজিটি’র মহাসচিব সোফি বিনে এই বিক্ষোভকে অত্যন্ত কার্যকর উল্লেখ করে বলেছেন, “জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়, গ্যাস, বিদ্যুৎ-- সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে না কেবল মজুরি-পেনশন। সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে আমাদের থামানো যাবে না।”সাক্ষাৎকারে সব শ্রমিক-পেশাজীবিদের মজুরি বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সোফি বিনে।এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু আগামী ৯ নভেম্বর (সোমবার) ম্যাটিগননে (ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর) ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন।গত প্রায় দেড় মাস ধরে চলতে থাকা এ বিক্ষোভের কারণে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ১৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিতে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা খাতের শ্রমিক-পেশাজীবিদের অধিকার আদায় সংস্থা এসএনইএস-এফএসইউ ইউনিয়ন জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস ও বোর্দোসহ বেশ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে।শিক্ষা ব্যবস্থার পরিস্থিতি, অর্থায়ন এবং কর্মী সংকট নিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতাতেই এই বিক্ষোভগুলো অনুষ্ঠিত হলো।সূত্র : এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি
পরমাণু ইস্যুতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন যদি তেহরানের সাতটি দাবি পূরণ করে, কেবল তাহলেই প্রস্তাবটির ওপর আলোচনা শুরু হতে পারে।ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, “মধ্যস্থতকারী মিত্রের (কাতার) মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই ও পর্যালোচনা করছে।”যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ নতুন করে শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। ট্রাম্প মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না; অন্যদিকে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরান আরও বড় ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, “কূটনীতির ক্ষেত্রে আমরা আমেরিকানদের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছি। যতক্ষণ না তারা আমাদের এই সাতটি শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করব না, কোনো আলোচনাতেও বসব না।”এই সাত শর্তের মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, ওয়াশিংটন বলেছে যে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনার অংশ হিসেবে পারমাণবিক ইস্যুগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সে অভিযানের জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান । একই সময়ে লেবাননেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।সম্প্রতি এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; সেখান থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।সূত্র : আরব নিউজ
রাজধানীর ভাটারা এলাকার কোকাকোলা মোড়ে চলন্ত বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।এ ঘটনায় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নির্বাপণ করে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের খবর পায় বলে জানিয়েছেন ডিউটি অফিসার রাসেদ বিন খালিদ।তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসে খবর আসার ১০ মিনিটের মাথায় ৫টা ৫৮ মিনিটে বারিধারা থেকে দুটি ইউনিট ছুটে যায়। পরে তারা ৬টা ২০ মিনিটে আগুন নির্বাপণ করতে সক্ষম হয়। তিনি আরও জানান, বাসটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। হঠাৎ আগুন দেখে যাত্রীরা দ্রুত নেমে যান।‘তবে কী কারণে আগুন লেগেছিল তা জানা যায়নি। কেউ হতাহত নেই। ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে তা তদন্তের পর রিপোর্ট আসলে জানা যাবে।’
ক্ষমতার ভাগাভাগি এবি পার্টির রাজনীতির লক্ষ্য নয়, বরং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের বিদ্যমান সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানই দলের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।তিনি বলেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি। এবি পার্টি সেই ব্যবধান দূর করতে চায়। রাজনীতিকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা থেকে বের করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য রাজনৈতিক দলের ভিড়ে এবি পার্টি কেন আলাদা হবে, মানুষ কেন এই দলকে বেছে নেবে,এমন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাব নেতাকর্মীদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই দিতে হবে।রাজনৈতিক দলগুলোর হানাহানি, সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়; রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিহিংসার মধ্যে জড়াতে চায় না। বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০টি নিবন্ধিত। এত দলের মধ্যে মানুষ কেন এবি পার্টির ওপর আস্থা রাখবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আমাদের আচরণ, সততা, আন্তরিকতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে। মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পারলেই এবি পার্টি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই জন্মলগ্ন থেকে বড় হয়ে ওঠে না। মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়েই একটি দল ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এজন্য প্রয়োজন দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য, আন্তরিকতা ও নিরলস পরিশ্রম। শুধু মুখে দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের কথা বললে হবে না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, পেশা ও কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার কর্মীরা। কর্মীদের অবমূল্যায়ন না করে ভালোবাসা, সম্মান, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক কার্যক্রম, কর্মীদের ভূমিকা, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া আরিফ সুলতান কদমতলী থানার আহ্বায়ক কাজী মো. খোকন, হাতিরঝিল থানার আহ্বায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ, কোতোয়ালি থানার সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ জুয়েল, পল্টন থানার আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ, খিলগাঁও থানার আহ্বায়ক মোহাম্মদ রনি গাজী,কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সদস্য আবু রায়হান জাফর, মো. সাইফুল ইসলাম এবং মো. ইয়াহইয়া।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী (ফুল পুকুরপাড়) এলাকায় বাড়ির সীমানায় অনধিকার প্রবেশ করে রান্নাঘর ভাঙচুর, এক নারীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন নারীর বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় সুমিত্রা মন্ডল (৪৫) নামে এক নারী রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ওই এলাকার রমনি মন্ডলের স্ত্রী।থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ৫'নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১'টা ৩০'মিনিটের দিকে একই এলাকার মিনতি মন্ডল (৫০), বিনা মন্ডল (৫২) ও চঞ্চলা শিকদারের (৭৫) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২ ও ৩ নম্বর বিবাদীর নির্দেশে ১ নম্বর বিবাদী মিনতি মন্ডল তাদের বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে রান্নাঘর ভাঙচুর করেন। এ সময় সুমিত্রা মন্ডল প্রতিবাদ জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং কিল, ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি নীলাফুলা জখম হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।এ অভিযোগে আরও বলা হয়, তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী সুমিত্রা মন্ডল।সুমিত্রা মন্ডলের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীরা তাকে বা তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। এমনকি তার স্বামীকে কুপরামর্শ দিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি এবং সংসার ভাঙার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সুমিত্রা মন্ডল।তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একের পর এক গোল মিসের হতাশায় পুড়ছিল বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার থেকে ফরোয়ার্ডে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছিল না। কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিল না, তখন সুপার-সাব হিসেবে মাঠে নেমে নায়ক হয়ে যান মোহাম্মদ ইব্রাহীম। একমাত্র গোলটি করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন তিনি।আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আক্রমণ ফুটবল খেললেও বাংলাদেশকে ভুটানকে হারিয়ে ১-০ গোলে।ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আক্রমণে উঠেছিল বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন রাকিব হোসেন। তবে ভুটানের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।৪ মিনিট পরই জোড়াল আক্রমণ করেছিল বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিলেন রাকিব। বিশ্বনাথ ঘোষ লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি। তবে পেছনে থাকা জামাল ভূঁইয়া শট নিয়েছিলেন ফিরতি বলে। কিন্তু হেডে দারুণভাবে সেটি আটকে দেন ভুটানের ডিফেন্ডার।ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে আটকে দেয় ভুটান। জামালের নেওয়া কর্ণার প্রথমে আটকে দেন ভুটানের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে ফাহিমের নেওয়া প্রথম শট ব্লক হয়ে যায়, তবে দ্বিতীবার দারুণ শট নেন তিনি। এবার ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলমুখ থেকে সেটি আটকে দেন ভুটানের গোলরক্ষক।ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বাড়ানো বলে হেড করেছিলেন ফাহিম। সেটি গ্লাভসবন্দি করতে এগিয়ে এসেছিলেন ভুটানের গোলরক্ষক। তখনই লাফিয়ে উঠে হেড করার চেষ্টা করেছিলেন বিশ্বনাথ। তিনি হেড করতে না পারলেও বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি ভুটানের গোলরক্ষক। দ্বিতীয় দফা চেষ্টা করলেও বল জালে জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।এর ২ মিনিট পরই বিশ্বনাথের দুর্দান্ত হেডার অবশ্য চলে যায় বাইরে দিয়ে। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিলেন রাকিব। দ্বিতীয় পোস্টে বিশ্বনাথ লাফিয়ে উঠে হেডার করেন বিশ্বনাথ। তবে বল চলে যায় বাহির দিয়ে।ম্যাচের ২৬তম মিনিটে নিশ্চিত গোল মিস করে বসে বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত থেকে কর্ণার কিক নিয়েছিলেন জামাল। সেখান থেকে বক্সে লাফিয়ে উঠে হেড কিংবা ক্লিয়ার কিছুই করতে পারেনি কোনো ফুটবলার। সেই বল পেয়ে যান বিশ্বনাথ। তবে ফাঁকা জালে বর রাখতে পারেননি তিনি।ম্যাচের ৩১তম মিনিটে প্রথমবার বাংলাদেশের বক্সে বল নিয়ে ঢুকতে পারে ভুটান। তবে বিপদ কিংবা সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি তারা। বল ক্লিয়ার করে দেয় জিদান আহমেদরা।৩৮তম মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে হতাশ করেন বিশ্বনাথ। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো থ্রু-বল ফাঁকায় পেয়েছিলেন তিনি। একটু কঠিন কোণ ছিল। তবে বল গোলমুখেই রাখতে পারেনি বিশ্বনাথ।দুই মিনিট পর উল্টো গোলহজম করতে বসেছিল বাংলাদেশ। আক্রমণে উঠে বক্সের একটু বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নিয়েছিল ভুটানের ফরোয়ার্ড। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে সেটি গ্লাভসবন্দি করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে আরও একাবর গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বামপাস থেকে সেটপিস নিয়েছিলেন জামাল। প্রথমবারে লাফিয়ে উঠে সেটিতে মাথা ছুঁইয়েছিলেন সাদ উদ্দীন। সেটি চলে দূরের পোস্টে। কিন্তু সেখানে বলের নাগাল পাননি জিদান আহমেদ কিংবা শমিত সোম কেউই। ফলে গোলশূন্য সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধার কমায়নি বাংলাদেশ। ৪৭তম মিনিটে জামালের কর্ণার থেকে আবারও সুযোগ এসেছিল। তবে ছয়গজ বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার।খেলার ধারার বিপরীতে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে বাংলাদেশকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল ভুটান। মাঝমাঠে বল পেয়ে প্রতিআক্রমণে উঠেছিল ভুটান। বাংলাদেশের দুজন দু’বার বাধা দিয়েও আটকাতে পারেননি। তবে বক্সের বাইরে শেষ বাধা দেন জামাল। যে কারণে সেটি আর বড় কোনো ভুলের কারণ হয়ে উঠেনি।ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশের রক্ষণে হানা দেয় ভুটান। কিছুটা ঢিলেঢালা আক্রমণ থেকে বক্সের বাইরে থেকে গতিময় শট নিতে চেয়েছিলেন ভুটানের প্রেমা জাঙ্কো। তবে সেটি কাজেম শাহর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বাইরে চলে যায়।কয়েক মিনিট ভুটানের আধিপত্য শেষে আবারও আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। ৬৪তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বল পেয়ে যান বিশ্বনাথ। তিনি থ্রু-পাস বাড়ান ফাহমিদুল ইসলামের দিকে। তিনি বল নিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে বক্সের কাছে চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শট নিয়েছিলেন। তবে সেটি ঠিকঠাক ছিল না।ফরোয়ার্ড লাইনে খেলতে নামা বিশ্বনাথ ঘোষ একের পর এক সুযোগ হাত ছাড়া করছিলেন। কোচ টমাস ডুলি এরপর তার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনেন। ৬৪তম বিশ্বনাথকে বসিয়ে মাঠে নামান ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে। সেটাই কাজে দেয়। মাঠে নেমে পঞ্চম মিনিটেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন ইব্রাহীম।ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ক্রস বাড়ান রাকিব। বক্সে ছিল বাংলাদেশের দুজন ফুটবলার। শমিত হেডে বল প্লেসিং করে দেন ইব্রাহীমকে। প্লেসিং শটে সেটি জালে জড়িয়ে দিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিকে জাগিয়ে তুলেন ইব্রাহীম। বাংলাদেশকে এনে দেন লিড।শেষদিকে আর তেমন গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। বাংলাদেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে, তবে নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বুধবার পরীমণির মনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। এজন্য সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। আশা করি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয় এলার্জি জনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একইসঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমণি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় ও প্রিয় মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে রুপালি পর্দায় পা রাখার পর থেকেই নিজের অসাধারণ অভিনয়, অনবদ্য সৌন্দর্য আর সাবলীল অঙ্গভঙ্গিতে কোটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আজ এ নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন।দীর্ঘ অভিনয়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্লকবাস্টার ও জনপ্রিয় সিনেমা। বর্তমানে এ অভিনেত্রী অবস্থান করছেন আমেরিকায়। পেয়েছেন দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি। মৌসুমী বলেন, মানুষ চলার পথে অনেক ভুল করে। সেই ভুলগুলোই একসময় জীবনে অনুশোচনা হয়ে ফিরে আসে। আবার ভুলও মানুষের জীবনে প্রয়োজন আছে। ভুল করলে মানুষ একসময় বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, সেই ভুল থেকে শেখারও চেষ্টা করে একসময়। আমি নিজেও হয়তো চলার পথে ভুল করেছিলাম, সেসব ভুল শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছি বলেই আমি আজ এত দূর আসতে পেরেছি। এটাও সত্যি, ভুল একজন মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে উপলব্ধি থেকে।এই অভিনেত্রী বলেন, ভুল করলে ঝামেলায় পড়তে হয়, তবে ভুল ফেস করাটাও জীবনের অংশ। ভুল-ভ্রান্তি, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এই নিয়েই তো আসলে জীবন। যে জীবনের যোদ্ধা আমি, আমরা সবাই।তিনি বলেন, আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করতাম, তখন সিনিয়র জুনিয়ররা একটা টিম হয়ে কাজ করতাম। যে কারণে আমরা খুব বেশি যে নিরাপত্তহীনতায় ভুগতাম এমনটা নয়। তবে হ্যাঁ ইন্ডাস্ট্রির মধ্য থেকে আমাকে, আমাদের শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেনি। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হয়েছে সবসময়।অভিনেত্রী বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটা রাজনীতির জায়গা। ছোট ছোট বিষয় নিয়েও রাজনীতি হয় এখানে। সেসব নোংরা রাজনীতির মধ্যে পড়ে যেতাম আমি, আমরা। যে কারণে এসব ঝামেলা এড়ানোর জন্য নিজেরাই গ্রুপ মেইনটেইন করতাম, যাতে বিপদে পড়লেও তা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করতাম আমাদের মধ্যে কোনো জেলাসি ছিল না। আর ইন্ডাস্ট্রি নারী শিল্পীদের যে খুব বেশি সম্মান দিয়েছে তা বলব না, নারী শিল্পীরা যতটুকুই পেয়েছে তাদের যোগ্যতার কারণেই পেয়েছে। হোক সেটা শ্রদ্ধেয় শাবানা, ববিতা ম্যাডাম কিংবা আমিসহ অন্যদের ক্ষেত্রে। আমি মনে করি তারা নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই সম্মান আদায় করে নিয়েছেন।
মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছে তাকে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন পূর্বাভাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন শুটিংয়েও। তার ভাষায়, নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যেন দ্বিতীয় জন্মের মতো।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়েও ঘুমাতে পারতেন না। ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন সময় পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া।এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত নাটকটির গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে ভীষণ মিস করছিলেন তানিয়া। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। তাই শুটিংয়ে ফেরাটা তার কাছে শুধু পেশাগত প্রত্যাবর্তন নয়, মানসিকভাবেও স্বস্তির। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। এ অবস্থায় কাজের চাপ থেকে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা।তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরদিনই জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক অনকোলজিস্টের কাছ থেকে আয়ু নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস শুনতে হয় তাকে। চিকিৎসক জানান, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে ঢাকায় থাকতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানিয়া। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তাতেও ছিল বিদায়ের সুর। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পাশে মা ও বোনকে দেখে কিছুটা সাহস পান।অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তানিয়া। বাবা না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবা করেছেন মা। পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল তার মৃত্যুর গুজবও। তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এখন নতুন করে জীবন ও কাজের স্বপ্ন দেখছেন তানিয়া। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এবারও সেই ভালোবাসা আর আগের উদ্দীপনা নিয়েই ক্যারিয়ারকে নতুন করে এগিয়ে নিতে চান।জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উদ্দেশেও দিয়েছেন সাহসী বার্তা। তার মতে, রোগের নাম শুনেই মনোবল হারালে চলবে না। মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি। কঠিন সময়েও আশা না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
৭৫ হাজার টাকার শাড়িকাণ্ডের জেরে করা মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় করা ওই মামলার পর বিভিন্ন সময়ে তানজিন তিশা তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন এবং ক্ষতি করার ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর মুঠোফোনে বাদীকে হুমকি দিয়ে তানজিন তিশা বলেন, ‘আমি যদি তোমার পেছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না।’ এছাড়া ডিবি পুলিশ নিয়ে বসার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বাদীর দাবি, আগের মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হলে তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন তিনি।আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তানজিন তিশা ক্ষিপ্ত হন। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হয়। মামলা তুলে না নিলে তাকে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে নিকটস্থ থানায় মামলা করতে গেলে তাকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোবিজ অঙ্গনে বেশ কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন, ভাঙনের মুখে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সংসার। সত্যিই আলাদা হয়ে যাচ্ছেন এই তারকা দম্পতি?মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিচ্ছেদের গুঞ্জনকে উড়ো খবর বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি বা তিশা।ফারুকী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তো নানা প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা নিউজ প্রচার শুরু হয়েছে আরও আগে থেকে। এখন চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ। আসলে মিথ্যা নিউজে তো ঘটনা সত্য হয় না। আর এসব নিয়ে কথা বলা মানে আরও প্রশ্রয় দেওয়া। তাই এ বিষয়ে আমি বা তিশা কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’এদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিশা। সিনেমাটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি ফারুকী। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ‘ফুলস্ক্রিন’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন তিশা। অন্যদিকে, ফারুকী বর্তমানে তিনটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের কাজে ব্যস্ত। পাশাপাশি লিখছেন নতুন সিনেমার চিত্রনাট্য। এর মধ্যে একটি সিনেমার নাম আপাতত রেখেছেন ‘টু হেল, উইথ লাভ’। আরেকটি সিনেমার গল্প সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে, যার নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
টানা কাজ করা, শারীরিক ও মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, বয়স বাড়া ইত্যাদি কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আর এটি সৌন্দর্য কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে উপকারী। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।১. শশাশশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে।একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।২. কাঁচা আলুআলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়।একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান এবার প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এসব পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চালানটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি সরবরাহ করা হবে। এসব জ্বালানি মোট নয়টি চালানে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। অবশিষ্ট চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফলাফল ও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, কেন্দ্রটির প্রতিটি কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো যন্ত্রাংশে ত্রুটি পাওয়া গেলে কিংবা ভাল্ব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না এলে সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিদ্যুতের সরবরাহও সম্প্রসারিত হবে।
মরিশাসের প্লেন-দে-পাপাই এলাকায় কন্টেইনার দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী রেজা উতিম এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি কার্গো কন্টেইনার ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কন্টেইনারের ভেতর ভারী কাঠের বাক্সে চাপা পড়ে এই তিন শ্রমিক মারা যান।নিহত ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বিলাল (৩৭) এবং সিকদার জোবায়েদ ইসলাম (২৫)। তারা সকলেই প্লেন-দে-পাপাই এলাকার একটি অ্যালুমিনিয়াম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মী ছিলেন।ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। তবে কন্টেইনারের ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল বলে জরুরি উদ্ধারকারী দলের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন।দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্তকারীরা কাজ শুরু করেছেন। কারখানাটিতে উপযুক্ত নিরাপত্তা বিধিমালা মানা হয়েছিল কি না এবং কর্মরত শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে ক্ষতিয়ে দেখবে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল।মন্ত্রী রেজা উতিম নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ভুক্তভোগী পরিবারদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং স্বজনদের ইচ্ছানুযায়ী মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সূত্র: ডেফি মিডিয়া
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর সাথে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে তাদের ব্র্যান্ডেড রিটেইল স্টোরগুলোতে বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালু করলো দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। এর ফলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকরা, যা আরও সহজ ও সুবিধাজনক। গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের অ্যাপের মাধ্যমে গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারগুলোতে রাখা বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।এই জাতীয় কিউআর স্ট্যান্ডার্ডটি ব্যবহার করছে এমন সকল প্রতিষ্ঠানে একটি একক মার্চেন্ট কোডের মাধ্যমেই অর্থ পরিশোধ করতে পারেন গ্রাহকরা, যা নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমায় এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের পরিধিটাও বাড়িয়ে দেয়। ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ভিশনের আওতায় বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। সেবাটি প্রাথমিকভাবে রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারগুলোতে পাওয়া যাবে। আজ (০৪ নভেম্বর, বুধবার) গুলশান গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান। এ সময় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক এবং চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও চৌধুরী আখতার আসিফ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোঃ শাফকাত হোসেন এবং চিফ ডিজিটাল অফিসার খালিদ হোসেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। দেশে আরও সমন্বিত ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে গ্রামীণফোনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই এবং এ উপলক্ষ্যে এখানে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে, তরুণদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ক্রমবর্ধমান ক্যাশলেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এই উদ্যোগে যুক্ত হবে বলে আমার প্রত্যাশা।” গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “গ্রামীণফোনে গ্রাহক-কেন্দ্রিকতা আমাদের গ্রাহকদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলোকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করতে আমাদের প্রেরণা জোগায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা উদ্ভাবনকে আরও বেগবান করে। আর এমটিবির সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। গ্রাহকরা এখন নগদ টাকার এবং ভাঙতি টাকার জন্য অপেক্ষার বিষয়টি ছাড়াই ফোনের মাধ্যমে সহজে স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এটি ডিজিটাল পেমেন্টকে বাস্তবসম্মত দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করবে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বিস্তৃত করতে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়ে তোলা; পাশাপাশি দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ভিশনে অবদান রাখা।”মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “আরও বেশি গ্রাহকের কাছে স্ক্যান-টু-পেমেন্টের মতো সহজ সুবিধা পৌঁছে দিতে গ্রামীণফোনের সাথে পার্টনারশিপ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পেমেন্ট সম্পর্কে আমাদের বিশেষ অভিজ্ঞতার সাথে গ্রামীণফোনের বিস্তৃত রিটেইলের সমন্বয়ে আমরা দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সুবিধাজনক করে তুলেছি এবং দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপক প্রসার ও ব্যবহারে অবদান রাখছি।”দৈনিক এক কোটি লেনদেনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্রাহকের দৈনন্দিন কেনাকাটায় এ সেবাটি চালু করে সেই জাতীয় লক্ষ্যকেই বেগবান করছে গ্রামীণফোন। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের কাছে সেবাটি পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণফোনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে তাদের উদ্বুদ্ধ করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ‘শিশু সুরক্ষা নীতিমালা’ বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এ ছাড়া শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি ও অনুপযুক্ত স্পর্শের কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষকদের নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ এবং অপরাধে জড়িতদের ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের আহ্বান জানান তিনি।আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী।ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, এ দেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রভাবশালী আলিম, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত খোলামেলা ও আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা করা। ভুলগুলো নিজেরা সংশোধন না করলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ নেবে, যার ফলে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাই অযাচিত চাপ ও সংকটের মুখে পড়তে পারে।মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা অসংখ্য সিসি ক্যামেরাহীন, অনিবন্ধিত ও তদারকিহীন প্রতিষ্ঠানের অপ্রীতিকর ঘটনার চিত্র উঠে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অনুমোদন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতির বিষয়ে আজহারী বলেন, শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ ও আবেগের ধরণ বুঝে শিক্ষকদের বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত বা ভয় দেখানোর ঘটনা শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার তাগিদ দিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, প্রতিটি মাদ্রাসায় চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশ থাকতে হবে। শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আজহারী জানান, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে পুনরায় অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।পরিশেষে মিজানুর রহমান আজহারী স্পষ্ট করেন, এই পর্যালোচনা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে দ্বীনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। আলেম-ওলামা, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।