কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সামরিক সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর রয়টার্সের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্দেশ্যে চলতি মাসেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে জাতীয় সংসদে একটি সম্মতি প্রস্তাব পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার।দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যে বিকল্পগুলো বিবেচনা করছে তার মধ্যে রয়েছে— মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট বা সামুদ্রিক টহল বিমান, লজিস্টিক সাপোর্ট ভেসেল এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণের বিশেষ দল পাঠানো। এই সম্ভাব্য সহায়তার পরিধি ও ধরন কেমন হবে, সে বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা শুরু করেছে।তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচলে কীভাবে বাস্তবমুখী সহায়তা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চললেও সেনাবাহিনী পাঠাতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে— এমন খবর ‘সত্যের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন’।এর আগে আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি সিউলের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের সেই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের পর এবার হরমুজ প্রণালিতে সেনাবহর পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছ সিউল।
দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল উত্থাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ বিল উত্থাপন করা হয়।ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চলা সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বিলটি উত্থাপনের সময় নতুন এই বাহিনীর রূপরেখা, প্রয়োজনীয়তা ও সময়সীমা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বেশ প্রাণবন্ত বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি হয়।বিলটি উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী র্যাব নামের সংগঠনটি আমরা বিলুপ্ত করছি। তবে সাইবার ক্রাইম, জুয়া ও মাদকের মতো অপরাধ দমনে পুলিশের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এলিট ফোর্স প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।অতীতের পুলিশের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন ‘কুখ্যাত’ বেনজীর। তাই বলে আমরা পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করে দেব? মাথা ব্যথা হলে মাথা কর্তন করা যায় না। প্রতিষ্ঠান যারা চালায়, সেই রাজনৈতিক অথবা মাফিয়া শক্তির দোষ হতে পারে, প্রতিষ্ঠানের কোনো দোষ নেই।”নতুন বাহিনীর স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এই বিলে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন বাহিনীর কোনো সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়ালে তার বিচারের জন্য যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে বেসরকারি সদস্য, মানবাধিকার কর্মী এবং জুডিশিয়াল কর্মকর্তা থাকবেন। ফলে অতীতের র্যাবের মতো বিতর্কিত বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নতুন এই বাহিনীর থাকবে না।”র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে সর্বান্তঃকরণে স্বাগত জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে গভীর পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে তিনি অতীত ট্রমার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “একবার চুন খেয়ে গাল ঘা হয়েছে, এখন সাদা দই দেখলেও ভয় লাগে। জাতি আজ ট্রমাটাইজড। র্যাবের দ্বারা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলা এর জ্বলন্ত প্রমাণ। এই জুলুমের কথা স্মরণ হলে এখনও অনেকে ঘুমাতে পারে না।”নতুন বাহিনী যেন কেবল নামসর্বস্ব না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “নতুন করে একই ধরনের পারসেপশন যেন জনগণের কাছে না যায়, যে এটা জাস্ট ‘এপ্রনটা’ চেঞ্জ করা হয়েছে। জাতির সামনে যেন প্রমাণ হয় যে টোটাল কনসেপ্টটাই চেঞ্জ হয়েছে।”আইনটি গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য তিনি স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিলটি উত্থাপন আজ স্থগিত রেখে আগামী সপ্তাহে আনার অনুরোধ জানান।সংসদীয় কমিটিতে বিল পাঠানোর সিদ্ধান্তবিরোধীদলীয় নেতার দাবির প্রেক্ষিতে সংসদে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশাল হৃদয়ের প্রশংসা করে বিলটি নিয়ে আরও পড়াশোনার সময় চান।এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার যুক্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘বিলটি আজ উত্থাপিত হয়ে সংসদের প্রপার্টি হিসেবে থাকুক। এরপর এটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। কমিটিতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ কার্যদিবস সময় দেওয়া হবে। সেখানে বিরোধী দলসহ সবার মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনে বিলটির সংশোধনী আনা হবে।’
চিকিৎসা ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত এবং আবাসস্থলের নিরাপত্তা যাচাই করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। কলকাতায় আগমনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার পূর্বেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের পূর্বেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে ওই হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসাধিক সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে কলকাতায় আবাসনের সমস্যায় না পড়ার জন্য অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা কোরআনের হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, 'ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্যের পর এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।'বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা দিই, সম্মানিত করি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোরআনের হাফেজরা এই যে বারবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের মুখ, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’কওমি ও হিফজ শিক্ষার সঙ্গে যুক্তদের প্রতি সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘যারা কওমি সিস্টেমের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, যারা হিফজের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের কোনো কমিটমেন্ট নেই, কোনো ডেলিভারি নেই। এটা একটা সাফসফা বৈষম্য।’তিনি জানান, এ বছর মক্কায় বিশ্ব তাহফিজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগী অংশ নেন এবং চারজনই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং বাকি তিনজন তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।বিজয়ী হাফেজদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু সংবর্ধনা নয়, তাদের আরও বিভিন্নভাবে সম্মানিত করার সুযোগ রয়েছে। সরকারকে সেসব উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।এদিকে বিরোধী দলের লংমার্চ ‘প্রিম্যাচিউর’ সময়ে হচ্ছে—সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর যে সমাজ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকেই তাদের এই কর্মসূচি।‘প্রিম্যাচিউরিটি’ শব্দটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ওনাকে আল্লাহ আগে ম্যাচিউরিটি দান করুক। আমরা অনেক ম্যাচিউরিটি দেখছি এই সমাজে। ম্যাচিউরিটির জ্বালায় এখন মানুষ অতিষ্ঠ। ওই ম্যাচিউরিটি থেকে আল্লাহর দরবারে আমরা পানাহ চাই।’অনুষ্ঠানে রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, 'চার বাংলাদেশি প্রতিযোগীর একজন প্রথম এবং তিনজন তৃতীয় হয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার পুরস্কার নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কোনো সম্মাননা বা সহযোগিতা পাননি। ভবিষ্যতে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সরকারি সম্মাননা ও সংবর্ধনার দাবি জানান তিনি।'
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে।এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আইডিবির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মিজানুর রহমান এবং আইডিবির পক্ষে সংস্থাটির কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।সরকারি সূত্র জানায়, এটি বাংলাদেশে আইডিবির কোনো একক প্রকল্পে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। এই অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির চলমান উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।এছাড়া প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে।চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও আইডিবি’র মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি পরিকল্পনা বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা একটি মাইলফলক উদযাপন করছি। আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করছি। এটি শুধু একটি লেনদেন নয়। এটি একটি বার্তা যে, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখে।’তিনি এ চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ইআরএল এবং ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাদের কঠোর পরিশ্রমেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তাকে ও তার পদকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়। বাংলাদেশে আসার জন্য তিনি ড. আল জাসেরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।ড. আল জাসের আইডিবির চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলো ও মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে আরও বড় অর্জন হবে বলে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইডিবির সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশক ধরে আইডিবি বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। বাংলাদেশ এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত। এই সদস্যপদ শুধু অর্থায়নের বিষয় নয়; এর ভিত্তি হলো আস্থা, সংহতি ও মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে অভিন্ন লক্ষ্য।২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে এবং নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। ‘আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি কোনো স্লোগান নয়। এটি একটি পরিকল্পনা। রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই দশকে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই আমরা,’ বলেন তিনি।বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বারে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকখাত বাংলাদেশের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে।তিনি বলেন, সরকার এমন কারখানা চায়, যেগুলো কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং এমন কর্মসংস্থান চায়, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।তারেক রহমান জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে এবং হেলথ কার্ডের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ববাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমবর্ধমান জটিল চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-আইডিবি সহযোগিতায় নতুন পদ্ধতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা হবে আরও উদ্ভাবনী, সাড়া প্রদানকারী, ফলাফলভিত্তিক ও বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বানউন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইসিএফ আইডিবির সহানুভূতিশীল দিকটি সত্যিকার অর্থে তুলে ধরে, যা এটিকে অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) থেকে আলাদা করে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত বাড়ছে। তাই সদস্য দেশগুলো স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নে সহায়তা দেওয়ার জন্য আইসিএফের পরিধি বাড়ানো হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বিনিয়োগপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের চুক্তি দেখিয়েছে অংশীদারত্ব কী করতে পারে। অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করে অংশীদারত্ব।ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু জ্বালানিখাতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় বিনিয়োগ।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং আস্থাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী অংশীদারত্ব কী অর্জন করতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি করবে।আইডিবিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. আল জাসেরের নেতৃত্বে এই প্ল্যাটফর্ম সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরিতে ব্যবহৃত হবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।তারেক রহমান বলেন, কোনো কোনো সদস্য দেশ জ্বালানিখাতে এগিয়ে আছে, আবার কোনো কোনো দেশ অবকাঠামোখাতে এগিয়ে আছে। ব্যাংকটি এসব দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সদস্য দেশগুলো শুধু পাশাপাশি নয়, পরস্পরের সঙ্গে নির্মাণ ও উন্নয়নে কাজ করবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।সবশেষে আইডিবির চেয়ারম্যান ড. আল জাসেরের বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশ-আইডিবি সম্পর্ক জোরদারে তার ব্যক্তিগত নেতৃত্বের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে ড. আল জাসেরের উপস্থিতি দুই পক্ষের বন্ধনের শক্তির কথা তুলে ধরে। এই আয়োজনের মাধ্যমে অংশীদারত্ব, সংহতি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য অভিন্ন অঙ্গীকার নতুন করে শক্তিশালী হবে।ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং তা বাংলাদেশের জনগণ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করবে— এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার এক লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি প্রশিক্ষিত ভিত্তি গড়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১০-এর সরকারি দলের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।নিলুফার চৌধুরী মনি ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি এবং উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে জানতে চান।জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন বলেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কার্যক্রম চলছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় সঠিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা অনেক বড়। ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আরো কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন আরও জানান, শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর সরঞ্জাম নয়, দেশের বেসরকারি খাতের কাছে থাকা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
নেপালের বিধ্বসংসী বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছানো এখন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর ফলে বন্যাদুর্গতদের কাছে মৌলিক ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার বন্যাকবলিত লোকজনের কাছে পৌঁছাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের বিকল্প হিসেবে পণ্যবাহী ড্রোন ও ভারবাহক (কুলি) ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীন উভয় দেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট হিমালয় পর্বতমালায় মারাত্মক হিমবাহ ধসের পর থেকে সীমান্তের দুই পাড়ে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৪টি দেশের প্রায় ৬০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে।কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া বলেন, ‘দুর্যোগের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ একেবারেই অবিশ্বাস্য।’ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা পানি, পয়ঃনিষ্কাশন কিট এবং খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে প্রবেশ করা খুবই, খুবই, খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।’এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের স্বজনরা হতাশ হয়ে কোনো তথ্যের আশায় হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। নিজের স্ত্রীকে খুঁজতে নেপালে আসা মার্কিন নাগরিক সঞ্জীব রাই (৫৩) বলেন, ‘আমার খুব অসহায় লাগছে, এতগুলো দিন পার হয়ে গেল।’হিমবাহ ধসের উৎপত্তিস্থলের কাছের এলাকাগুলো এখনো মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে, যার ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছে দিতে নেপাল সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে জাতিসংঘ। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল আজ বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে কূটনীতিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই বন্যাকে ‘হিমালয়ের সুনামির মতো দুর্যোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শিশির খানাল বলেন, ‘বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মাঠপর্যায়ের চিত্রটি প্রাপ্ত ছবির চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। এটি কোনো সাধারণ বন্যা নয়।’ভয়াবহতার মাত্রা ও জটিলতানেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর পৌডেল ছেত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপাল তার কাছে থাকা সমস্ত সম্পদ কাজে লাগিয়েছে, তবে আমরা স্বীকার করি যে, এই দুর্যোগের মাত্রা ও জটিলতা সামলাতে আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহায়তা প্রয়োজন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক।’লোক বাহাদুর ছেত্রী আবারও বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানান, যার মধ্যে রয়েছে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন, অস্থায়ী সেতু, এবং মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টিং কিট। তিনি জানান, ভূকম্পন পর্যবেক্ষণের জন্য নেপালের একটি মোবাইল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ব্রডব্যান্ড সিসমোমিটারও প্রয়োজন।অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে নেপালের ২১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য কাজ করছেন। ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালি উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পাহাড়ি ঢল ও বন্যা পার্বত্য জেলাগুলোকে ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং রাস্তা, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ধ্বংস করেছে।এ প্রসঙ্গে লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের সাথে হেলিকপ্টার এবং কার্গো ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছি।’যত দ্রুত সম্ভব কাজ করতে হবেজাতিসংঘ নেপালের ভারবাহক ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হওয়ার কথা ভাবছে, যারা পর্বতারোহণ অভিযানগুলোতে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম পার্বত্য পথ ধরে ভারী মালামাল বহনে অভ্যস্ত। লিলা পিটার্স আরও যোগ করেন, ‘আপনাদের দেশের মূল সৌন্দর্য হলো আপনাদের ভারবাহক রয়েছে, এবং জাতিসংঘ যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ পৌঁছে দিতে এই অত্যন্ত সাধারণ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারে।’বিপর্যয়ের পরিধি বিবেচনা করে সহায়তার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকা অনিবার্য বলে সতর্ক করেন লিলা পিটার্স। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের মাত্রা এতোটাই বেশি যে সব জায়গায় কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যাবে।’নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, উদ্ধার করা মৃতদেহের সংখ্যা ১,২৫২ এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৪,২১৬। চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর ফলে সামগ্রিক নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৭৩ জনে এবং অন্তত ৪,৭৫৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
৪১টি তফসিলি ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড থেকে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. ইসমাইল হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে।দুদক সচিব সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি ট্রাস্ট সম্পত্তির দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—এমন তথ্যও এজাহারে রয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া ৪১টি ব্যাংকের তথ্য ও নথি পর্যালোচনার বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবির সভাপতি থাকাকালে নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও 'বিবিধ' আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের সিএসআর -সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ২০২২ সালের 'পলিসি গাইডলাইনস অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন'-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হলেও ট্রাস্টটিতে এ ধরনের অর্থ দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই।এজাহারে আরও বলা হয়, সরেজমিন পরিদর্শনে ট্রাস্টের ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।দুদকের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এছাড়া, তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে তার অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির যাবতীয় তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. জাহিদ কালামের সই করা এ-সংক্রান্ত চিঠি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকে পাঠাতে বলা হয়েছে।দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।চিঠিতে বলা হয়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচ ধরনের তথ্য ও নথি চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র।এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের স্মারকের ভিত্তিতে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।দুদকের চিঠিতে তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে অনুসন্ধান দল।দুদকের চাওয়া নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও সহায়ক রেকর্ডপত্রও পাঠাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।এর আগে, গতকাল বুধবার আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর কথা জানায় দুদক। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি-বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্র ও কেনাকাটায় অনিয়ম।দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দমতো পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের বিশেষ দল কাজ করছে।তবে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
চিকিৎসা ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত এবং আবাসস্থলের নিরাপত্তা যাচাই করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। কলকাতায় আগমনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার পূর্বেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের পূর্বেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে ওই হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসাধিক সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে কলকাতায় আবাসনের সমস্যায় না পড়ার জন্য অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা কোরআনের হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, 'ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্যের পর এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।'বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা দিই, সম্মানিত করি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোরআনের হাফেজরা এই যে বারবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের মুখ, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’কওমি ও হিফজ শিক্ষার সঙ্গে যুক্তদের প্রতি সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘যারা কওমি সিস্টেমের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, যারা হিফজের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের কোনো কমিটমেন্ট নেই, কোনো ডেলিভারি নেই। এটা একটা সাফসফা বৈষম্য।’তিনি জানান, এ বছর মক্কায় বিশ্ব তাহফিজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগী অংশ নেন এবং চারজনই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং বাকি তিনজন তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।বিজয়ী হাফেজদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু সংবর্ধনা নয়, তাদের আরও বিভিন্নভাবে সম্মানিত করার সুযোগ রয়েছে। সরকারকে সেসব উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।এদিকে বিরোধী দলের লংমার্চ ‘প্রিম্যাচিউর’ সময়ে হচ্ছে—সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর যে সমাজ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকেই তাদের এই কর্মসূচি।‘প্রিম্যাচিউরিটি’ শব্দটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ওনাকে আল্লাহ আগে ম্যাচিউরিটি দান করুক। আমরা অনেক ম্যাচিউরিটি দেখছি এই সমাজে। ম্যাচিউরিটির জ্বালায় এখন মানুষ অতিষ্ঠ। ওই ম্যাচিউরিটি থেকে আল্লাহর দরবারে আমরা পানাহ চাই।’অনুষ্ঠানে রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, 'চার বাংলাদেশি প্রতিযোগীর একজন প্রথম এবং তিনজন তৃতীয় হয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার পুরস্কার নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কোনো সম্মাননা বা সহযোগিতা পাননি। ভবিষ্যতে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সরকারি সম্মাননা ও সংবর্ধনার দাবি জানান তিনি।'
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলা দেখানোর সময় সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ। এরপর সাপুড়েকে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে একে একে আক্রান্ত বাবা-ছেলে। শেষ পর্যন্ত হামলায় প্রাণ যায় ৭৪ বছরের বৃদ্ধ এন্দাজ মিয়ার। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেলেন অভিযুক্তরা। অবশেষে মুন্সিগঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৫), ৩ নম্বর আসামি মো. মাবু মিয়া (৩০), ৪ নম্বর আসামি মো. লেবু মিয়া (৩০) ও ৫ নম্বর আসামি মো. এরশাদ আলী (৪০)। তাঁরা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে।র্যাব জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কাশিয়াবাড়ীর হাটসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে সাপ খেলা দেখাচ্ছিলেন এক সাপুড়ে। সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। তখন অভিযুক্তরা ও অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জন সাপুড়েকে মারধর শুরু করেন।সাপুড়েকে মারধর করতে দেখে এন্দাজ মিয়ার বড় ছেলে আব্দুল মালেক তাঁকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল মালেককে গালাগালির পর মারধর শুরু করেন।ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এন্দাজ মিয়া। সেখানে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট গঙ্গাচড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩২। মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।র্যাব-১৩ জানায়, আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ রংপুর ও র্যাব-১১-এর একটি যৌথ দল মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালায়।গত মঙ্গলবার রাতে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী থানার বালিগাঁও বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ৮টা ৫ মিনিটে আশরাফুল ইসলাম ও মাবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে একই থানার ইসলামপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লেবু মিয়া ও এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩০০*) হাঁকিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৫০ বলের এক মহাকাব্যিক ও ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নেন তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকাব্যিক ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন এ ব্যাটার।অবশ্য যে মাঠে ত্রিশতক হাঁকিয়েছেন হৃদয়, এই মাঠ বাংলাদেশিদের কাছে এক অনন্য ভেন্যু। ২০২০ সালে এখানেই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। ছয় বছর পর এই ঐতিহাসিক মাঠেই বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩০০ রানের অলৌকিক ইতিহাস লিখলেন বগুড়ার এ ব্যাটার।এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের পথচলায় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ২৩ বছর আগের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হৃদয়। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ২১৮ রানের একটি স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা এত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। ম্যাচের প্রথম দিনে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শাহরিয়ার বিদ্যুৎকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি।বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটি কেবল তৃতীয়। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিম ইকবাল জাতীয় ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাকিবুল হাসান।তবে তামিম ও রাকিবুল— দুজনের রেকর্ডই ছিল দেশের মাটিতে ঘরোয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যেখানে হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি বিদেশের মাটিতে।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। দিনটি উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে স্মরণ করছেন বিশ্বের মুসলিমরা। দুই বাংলায় একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জয়া আহসানও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘ঈদে মিলাদুন্নবী- ভালোবাসা, শান্তি আর মানবতার পথে ফিরে আসার এক পবিত্র স্মরণ।’ জয়ার এই সংক্ষিপ্ত বার্তায় ভালোবাসা, শান্তি ও মানবতার গুরুত্ব উঠে এসেছে। পবিত্র এই দিনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী মাজার এলাকা থেকেও জশনে জুলুসের র্যালি বের হয়। এ ছাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ অংশ নেন।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।এদিকে গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর আগে গত ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। অভিনয়ের দক্ষতা এবং সাবলীল উপস্থাপনায় তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং চিন্তাধারা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি নতুন ছবি প্রকাশ করে পূজা চেরি এক গভীর অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, "নিজের অজান্তেই সেই নারী হয়ে উঠছি, যার কল্পনা আমি একসময় করতাম।"ছবিটিতে পূজা চেরিকে বেশ চমৎকার একটি লুকে দেখা গেছে। তিনি একটি সাদা রঙের শার্ট এবং নীল রঙের জিন্স পরে আছেন। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং আঙুলে রিং রয়েছে। তাঁর চোখে রয়েছে স্টাইলিশ রোদচশমা (সানগ্লাস)। তিনি হাত দিয়ে একটি মিষ্টি "ফিঙ্গার হার্ট" পোজ তৈরি করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।তার এই ছবি দেখে ভক্তরা ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই তার এই পরিণত চিন্তাধারা এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের প্রশংসা করছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা থাকলেও, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা পূজার ভক্তদের জন্য সবসময়ই এক দারুণ অনুপ্রেরণা।শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা শুরু করা পূজা চেরি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষ করে 'পোড়ামন ২' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর থেকে 'দহন' সহ বিভিন্ন ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড়পর্দা কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সবখানেই পূজার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে ৪০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানতে চান, বর্তমানে দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর নামের তালিকা কী, বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি সদস্য কারখানাসহ ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি কারখানায় রফতানি আদেশ দিতে অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করেন তিনি।তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।এছাড়া রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংঅন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান চালানো হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও আরও জোরদার করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা এমইভি সুবিধা সীমিত করেছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার ৩১টি দেশের নাগরিকরা এ সুবিধার আওতার বাইরে পড়েছেন।ফলে বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসাই প্রযোজ্য হবে। যেসব দেশের জন্য এই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা বাতিল করে সিঙ্গেল এন্ট্রি করা হয়েছে তাদের তালিকাও প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) আর ঢালাওভাবে সব দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া হবে না।নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে অবশ্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে- ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এই নতুন ঘোষণা ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংক্রান্ত ভিসার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নীতির কথা জানানো হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
এআই-নির্ভর গ্লোবাল উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো-এর জনপ্রিয় ক্যামন সিরিজের নতুন সংযোজন টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে যাত্রা শুরু করল নতুন এই স্মার্টফোন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে এসেছে নতুন টেকনো ক্যামন এয়ার। আকর্ষণীয় স্লিম এই দুটি স্মার্টফোনে এডভান্সড ছবি তোলার টেকনোলজি, এআই-নির্ভর ফিচার, ডিউরাবেল ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সমন্বয় এনেছে টেকনো। “স্লিম, স্টং, আনস্টপেবল” ট্যাগলাইন সামনে রেখে তৈরি টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি -এর থিকনেস মাত্র ৬.৩৯ মিলিমিটার এবং ওজন মাত্র ১৯০ গ্রাম। লাইটওয়েটের পাশাপাশি ডিউরাবিলিটিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিভাইসটিতে। এতে রয়েছে আইপি৬৮, আইপি৬৯ ও আইপি৬৯কে প্রোটেকশন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি ও ৪৫ ওয়াট সুপার চার্জ সুবিধা।টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি -তে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চি ১.৫কে ১৪৪ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ই ৫জি প্রসেসর। ছবি তোলার জন্য এতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সনি এলওয়াইটি৭০০সি ওআইএস ক্যামেরা, সাথে ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, ফ্লিকার সেন্সর এবং ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। ডিভাইসটিতে আরও রয়েছে টেকনো-এর সর্বশেষ এআই-নির্ভর বিভিন্ন সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি নির্ণয়ের সুবিধাসহ এআই হেলথকেয়ার, এআই নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, এআই পেট স্ন্যাপ এবং এআই স্টারক্যাম্প সহ আরও অনেক ফিচার।টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি (৮জিবি+২৫৬জিবি)-এর মূল্য ৫৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। ডিভাইসটির প্রি-বুকিং চলবে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইন চলাকালে সফলভাবে প্রি-বুক করা গ্রাহকরা পাবেন এক্সক্লুসিভ গিফট বক্স যার মধ্যে থাকবে টেকনো স্মার্টওয়াচ নিও এবং টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচের একটি টিকিট। (অফারটি ক্যাম্পেইনের প্রযোজ্য টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস ও গিফট অ্যাভেইলেবিলিটির সাপেক্ষে কার্যকর হবে।)ক্যামন স্লিম ৫জি -এর বিশ্বব্যাপী প্রথম উন্মোচনের পাশাপাশি টেকনো ক্যামন এয়ার এখন দেশজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ৬.৩৯ মিলিমিটার থিক থ্রিডি কার্ভড ডিজাইন এবং ১৬২.৮ গ্রাম ওজনের ক্যামন এয়ার -এ রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি ও ৬০ ওয়াটের আল্ট্রা চার্জার। এতে আরও রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চি ১.৫কে ১৪৪ছার্জ অ্যামোলেড থ্রিডি কার্ভড ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ আলটিমেট প্রসেসর এবং আইপি৬৮/আইপি৬৯ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট প্রোটেকশন। ছবি তোলার জন্য টেকনো ক্যামন এয়ার -এ রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সনি এলওয়াইটি৬০০ মেইন ক্যামেরা ও ফ্লিকার সেন্সর এবং ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। পাশাপাশি রয়েছে টেকনো-এর এআই-নির্ভর বিভিন্ন সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ক্যালরি নির্ণয়ের সুবিধাসহ এআই হেলথকেয়ার, এআই নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট, এআই পেট স্ন্যাপ এবং এআই স্টারক্যাম্প সহ আরও অনেক ফিচার। পাশপাশি এর ব্যাকসাইডে রয়েছে এআই মুড লাইট ফিচার। ক্যামন এয়ার পাওয়া যাচ্ছে দুটি ভার্সনে, ৮জিবি+১২৮জিবি-এর প্রাইস ৪৪,৯৯৯ টাকা এবং ৮জিবি+২৫৬জিবি-এর প্রাইস ৪৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।বাংলাদেশে ক্যামন স্লিম ৫জি -এর বিশ্বব্যাপী প্রথম উন্মোচন দেশের বাজারে টেকনো ক্যামন সিরিজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ক্যামন এয়ারের দেশব্যাপী অ্যাভেইলেবিলিটির পাশাপাশি নতুন এই অ্যাডিশন বাংলাদেশে টেকনোর ক্যামন সিরিজকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকদের জন্য স্লিম ও আকর্ষণীয় ডিজাইন, এডভান্সড ফটোগ্রাফি টেকনোলজি, ডিউরাবিলিটি, এআই-নির্ভর ফিচার এবং শক্তিশালী ডেইলি পারফরম্যান্সের সমন্বয় নিয়ে এসেছে টেকনো। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন টেকনো মোবাইল বাংলাদেশের ওয়েবসাইট অথবা ফলো করুন টেকনো বাংলাদেশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি