রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন- আইজিসি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মাদকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নেতিবাচক পরিবেশও আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। ক্যাম্পের সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।’তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের মানুষকে সীমাহীন সমস্যা বা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ক্যাম্প যত জনবহুল হতে থাকবে সংকট তত ঘণীভূত হতে থাকবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত মানবিক সহায়তা খুবই জরুরি। তবে এই মানবিক সহায়তা অবশ্যই একটি সাময়িক ব্যবস্থা প্রত্যাবাসনের বিকল্প নয়।’সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানের সাথে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের সহায়তা ও সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এ সহায়তা ও সমর্থন প্রত্যাশা করে।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আশা করবে জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনে যেন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অন্য কোনো প্রসঙ্গের আলোচনায় চাপা না পড়ে যায়।’
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেবে সরকার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।ধর্মমন্ত্রী জানান, হজে বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ব্যয় কম হওয়ায় প্যাকেজের অর্থ থেকে এই টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী প্রত্যেক হাজি যে পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন, তা ভিন্ন হবে।হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।একই প্যাকেজে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা করে পাবেন।হজ প্যাকেজ-২-এর আওতায় ২ নম্বর বাড়ি বা হোটেল লুলুয়াত আল ভাওহীদের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং আপগ্রেডেশনসহ শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা।এ ছাড়া তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং একই আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন।৩ নম্বর বাড়ি বা হোটেল রাওদাত আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা এবং দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন। এ ক্ষেত্রে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরারা পাবেন ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।অন্যদিকে, ৪ নম্বর বাড়ি বা হোটেল মানার আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা করে ফেরত পাবেন।এ ছাড়া সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় হোটেল নান্দার ওয়ানে অবস্থানকারী প্রত্যেক হাজিকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা করে ফেরত দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্যও আলাদা পে-স্কেল দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। এ বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পে-স্কেল ১১ বছর পর হতে যাচ্ছে। হঠাৎ করে এটি কিন্তু ইনফ্লেশনের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট হয়নি। এই উপলব্ধি প্রধানমন্ত্রীর ছিল এবং আমরা ক্যাবিনেট মিটিংয়েও তা দেখেছি।তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকে আমরা আগামী দিনের চিন্তা করছি। যেভাবে বিচার বিভাগে আলাদা পে-স্কেল রয়েছে, তেমনিভাবে আমরাও একটি চিন্তাভাবনা করছি। কিন্তু সেটা এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি রাজনৈতিক সরকার পারছে না; এটা আপনারাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেদিকেই এগোব।শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, শিক্ষকরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আর আমরা সেই ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্যই কাজ করছি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২১ সাল থেকে শিক্ষকদের বকেয়া নিজ কন্ট্রিবিউশনের অংশ তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার বাকি অংশও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধের দিকে এগোনো হচ্ছে।‘আমি আশা করছি, আগামী বাজেটগুলো পাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার নিরসন হবে। এটি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ছিল, আমরা সেটি এড্রেস করেছি,’ বলেন শিক্ষামন্ত্রী।এদিকে আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের স্মরণ ও সম্মানিত করতে এই আয়োজন করা হচ্ছে। গুণী শিক্ষক বাছাইয়ে ব্যাপক পরিসরে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।তিনি বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতা চাই। যোগ্যদের সম্মান দিতে চাই। তাদের কাজের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করতে চাই।’শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে গুণী শিক্ষকদের নির্বাচন করে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে দুটি, মাধ্যমিক স্তরে তিনটি, কলেজ স্তরে তিনটি এবং সাধারণ, চিকিৎসা, কৃষি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে একটি করে—মোট ১২টি সম্মাননা পদক দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন মনে করলে সম্মাননার সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে।তবে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের জন্য আরও বড় পরিসরে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ১০০ জন শিক্ষককে নির্বাচন করা এবং প্রত্যেক শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা।’তিনি বলেন, যারা ভালো কাজ করেছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিগত সরকারের সময়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। আমরা শিক্ষকদের মর্যাদা, সহযোগিতা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে চাই। এটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা।গুণী শিক্ষক নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আজ স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা ও কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হলেও দলটির ‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন।রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত।’তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান’ করেছিল বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না।’জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’- এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে।রাশেদ খাঁন আরও বলেন, সবকিছু দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। তার দাবি, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিক খেলায় নামতে চায় দলটি।তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই তারা জামায়াতে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গে থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে তারা জোট পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করেন।ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’সবশেষে জামায়াতের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!’ তিনি দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি লেখেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’
দখলদার ইসরায়েলে সমন্বিত এবং ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আর এ হামলায় যুক্ত করা হবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের গাজার স্বাধীনতাকামী হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবামাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। খবর জেরুজালেম পোস্টের।সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ইরানের পরিকল্পনা খুঁজে বের করেছেন।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অবৈধভাবে দখল করে রাখা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে (ইসরায়েল) হামলা চালায় গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তবে ওই সময় তারা ইরান বা হিজবুল্লাহকে এ ব্যাপারে অবহিত করেনি। এর বদলে নিজেরা এক হামলা চালায়।হামাসের হামলার সময় যে হিজবুল্লাহ ও ইরান একসঙ্গে সমন্বিত হামলা চালায়নি, সেটিও এবার বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সংবাদমাধ্যগুলোর প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইরান এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্ট খুলতে চায়। অর্থাৎ একই সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে ইসরায়েলে হামলা হবে।ইরানের বিপ্লবী গার্ডের চৌকস ইউনিট কুর্দস ফোর্সের কর্মকর্তারা সম্প্রতি হিজবুল্লাহ, হুতি এবং ইরাকি মিলিশিয়ার কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের আলোচনার বিষয় হলো উত্তেজনা বৃদ্ধি করা।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার পর বাড্ডা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দূদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে বাড্ডা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালায় দুদক। এ সময় অফিসে থাকা নানা নথি যাচাই বাচাই করা হয় এবং পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট একাধিক নথি জব্দ করা হয়।অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাড্ডা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালাচ্ছে দুদক। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রতারণার মামলায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রোববার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।২০০৮ সালে দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় চলতি বছরের ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলমের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।ওই মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে রোববার আদালত তাকে জামিন দেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীগুলোর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর থেকে দেশটির কিছু তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এটি অন্যতম।শনিবারের (৫ সেপ্টেম্বর) এ সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে বেসামরিকরাও রয়েছেন বলে দেশটির চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ দিন দেশটির দক্ষিণপশ্চিমে দু'পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা নিহত হয়।অপরদিকে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠির চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ লড়াইয়ে ৩১ বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহরের এক মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী বাসে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় বেসামরিক নিহত ও আরও সাতজন আহত হয়েছেন।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হুথিদের অবস্থানে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালায়। এতে দু'পক্ষের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়ে ওঠে।
গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘No gas no bill, No service no tax’ (গ্যাস না থাকলে বিল নয়, সেবা না মিললে কর নয়)। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুমিন ফারহানা। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে মানুষ বলে— দুষ্টু লোকেরা বলে, অবশ্য ভালো লোক না— ‘টুকু আসে টুকু যায়’। এই আসে এই যায়, কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক লংমার্চ, শোডাউন কিংবা বড় ধরনের কর্মসূচিতে অতিরিক্ত যানবাহন ব্যবহার করে জ্বালানি অপচয় করা উচিত নয়।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা ও থানা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি কর্মসূচির কারণে যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেবে সরকার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।ধর্মমন্ত্রী জানান, হজে বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ব্যয় কম হওয়ায় প্যাকেজের অর্থ থেকে এই টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী প্রত্যেক হাজি যে পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন, তা ভিন্ন হবে।হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।একই প্যাকেজে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা করে পাবেন।হজ প্যাকেজ-২-এর আওতায় ২ নম্বর বাড়ি বা হোটেল লুলুয়াত আল ভাওহীদের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং আপগ্রেডেশনসহ শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা।এ ছাড়া তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং একই আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন।৩ নম্বর বাড়ি বা হোটেল রাওদাত আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা এবং দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন। এ ক্ষেত্রে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরারা পাবেন ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।অন্যদিকে, ৪ নম্বর বাড়ি বা হোটেল মানার আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা করে ফেরত পাবেন।এ ছাড়া সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় হোটেল নান্দার ওয়ানে অবস্থানকারী প্রত্যেক হাজিকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা করে ফেরত দেওয়া হবে।
জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হলেও দলটির ‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন।রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত।’তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান’ করেছিল বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না।’জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’- এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে।রাশেদ খাঁন আরও বলেন, সবকিছু দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। তার দাবি, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিক খেলায় নামতে চায় দলটি।তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই তারা জামায়াতে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গে থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে তারা জোট পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করেন।ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’সবশেষে জামায়াতের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!’ তিনি দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি লেখেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক মাদকাসক্ত যুবকের দেওয়া আগুনে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আগুন দেওয়ার অভিযোগে সোহেল হোসেন (নাম) নামে ওই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার আশক আলী ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল হোসেন এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। মাদকের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর প্রায়ই ঝগড়া হতো। এরই জেরে রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ও মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই আগুনে বেশ কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।এদিকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়রা সোহেল হোসেনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে।রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত যুবক সোহেল নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে গণপিটুনি দেন। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্দান্ত জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকি শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চীনে হকিতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশি মেয়েদের একচেটিয়া আধিপত্য।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে বাংলাদেশ। দলের হয়ে প্রথম গোল করেন কনা আক্তার। কনার পর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া। তারা দুজনেই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করেন।চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের পক্ষে হাল ধরেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। তিনি চমৎকার দক্ষতায় পরপর আরও দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোলে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত হয়।কনার প্রথম গোল, এরপর ইমা ও রিয়ার জোড়া গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে অধিনায়ক সারিকা রিমনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৭-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ।টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া। এ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হংকং চায়নার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পাকিস্তান।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভ্লগ সিরিজ ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’-এর একটি পর্বে বেগম জিয়ার আইকনিক লুকে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সাজ, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সাজ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, “আপনারা কি আমার ‘ডিসকাভারিং বাংলাদেশ’ ব্লগ আগে দেখেন নাই? এর আগে আমি যখন মনিপুরী বা গারোদের নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাদের কস্টিউম পরেছি। আমি যখন তাঁতশিল্প নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাঁতের শাড়িটা পরছি। আমি যখন যে ভিডিওটা করি, তখন সেটার লুক নিই। ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা করিনি, আপনারা খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এটা আমার ভিডিও বানানোর প্যাটার্ন।”নিজের সাজ ও পোশাক দিয়ে দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাশন, আমাদের ট্র্যাডিশন ও কালচার নিয়ে স্টাডি করি। বাংলাদেশের পোশাক এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি, দেশের পরিচয় ও কালচার রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’চলতি বছর বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। রাজনীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি দেশনীতিবিদ হতে চাই। আমার জন্য রাজনীতি শব্দটা একটু আলাদা। দেশের জন্য কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরকম কিছু বড় প্ল্যাটফর্ম যদি পাই, সেখান থেকে আমার জন্য দেশের পলিসি মেকিং, দেশের অনেক পরিবর্তন আনার জায়গাটা পাওয়া সহজ হবে। এটাই আমার রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ ছিল।’বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এই মূল্যায়নটা কোনো আলাদা জায়গা দিয়ে করতে পারব না। কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ১০, কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ০। এক কথায় তো উতর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ‘হায়দার’, ‘মহানগর’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ দিয়ে অল্প দিনেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং নিয়েও বেশ সরব এই অভিনেত্রী।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
নেপালের আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। নিখোঁজ আছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। চরম এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে আটকে পড়েছিলেন ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো ইউনিট। তবে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে নেপালের শুটিং শিডিউল স্থগিত রেখে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগটি ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে যাত্রা করার। ভ্রমণের সময় একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম।ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে অপু বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’দুর্ভোগের মাঝে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবিতে অপুর পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। যখন নেপালে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির কথা খবরে আসতে থাকে, তখনই তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ভক্তরা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে খরাজ পা রাখতেই ভক্ত সকলকে আশ্বস্ত করেন তারা নিরাপদে ছিলেন; তার ঘণ্টা কয়েক পর অপু বিশ্বাস ঢাকায় ফিরে সেখানকার অবস্থার কথা জানালেন।
চা বাগান ও পাহাড়ি গিরিপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে টেলিফিল্ম ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’-এর দৃশ্যধারণের কাজ। এটি রচনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা মো: বোরহানুল আশেকীন (পেশাগত নাম: বোরহান খান)। খুব শীঘ্রই নাটকটি একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন ফরিদ আহমেদ রনি। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিনা শাম্মী, আল মামুন রূপান্তর, বাঁধন খান, রাজিব, ফাহাদ সরদার, রোহান সরকার, সাদিয়া আমিন একা, ইকফাত শেখ মারিয়া এবং ইমরান সানি। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন এস এম রনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিমস ইন ফ্রেম’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে।টেলিফিল্মটির গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক মো. বোরহানুল আশেকীন জানান, ‘গহিনের দীর্ঘশ্বাস’ মূলত একটি গভীর ভাবনামূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘ রেখাপাত করবে। এর আগে তার প্রযোজনায় ও পরিচালনায় একাধিক টিভি সিরিজ, একক নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।পরিচালনার পাশাপাশি বোরহান খান একজন লেখক। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কাব্যগ্রন্থ ‘সবুজ প্রেম’, থ্রিলার উপন্যাস ‘অপারেশন কার্গো নিক্স’ এবং ‘শিশুর দেখা ৭১’।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
টানা তিন দফা কমার পর একদফা বেড়েছিল স্বর্ণের দাম। আজ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও কমিয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। আজ ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈধ কাগজপত্র নেই। আবার কারও বৈধ কর্ম-অনুমতিপত্র থাকলেও কাজ করছেন অন্য কোম্পানিতে। বিদেশি কর্মী নিয়োগে এমন অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) অভিযানে। পেরাক রাজ্যের ইপোহ শহরের বেরচাম এলাকায় শুক্রবার রাতে পরিচালিত ‘অপস মাহির’ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৭৫ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।অভিযানে তিনটি স্থানে কর্মরত ৩০৫ শ্রমিকের কাগজপত্র ও কর্মস্থল যাচাই করা হয়। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই বাংলাদেশের নাগরিক। এছাড়া মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকও রয়েছেন।মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে বৈধ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়া কাজ করা এবং এক কোম্পানির নামে ইস্যু করা পারমিট দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মতো অনিয়ম পাওয়া গেছে।শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া অভিযানে বেরচাম এলাকার একটি কাঠের কারখানা, গ্লাভস তৈরির কারখানা ও একটি খাবারের দোকানকেন্দ্রে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের কাগজপত্র ও কর্মস্থলের তথ্য যাচাইয়ের পর ১৭৫ জনকে আটক করা হয়।জাকারিয়া শাবান বলেন, বৈধ পারমিট ছাড়া বিদেশি নাগরিকের কাজ করা ইমিগ্রেশন আইনের লঙ্ঘন। একইভাবে কোনো শ্রমিকের পারমিট থাকলেও সেটি যে কোম্পানির নামে দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করাও অপরাধ।অভিযানে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাই করতে গিয়ে কয়েকটি ঘটনায় জাল সাময়িক কর্মভ্রমণ পাস (পিএলকেএস) ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নথিগুলোর উৎস এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা তদন্ত করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।জাকারিয়া শাবান জানান, জাল পিএলকেএস কোথা থেকে আসছে, কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িতএসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।তদন্তে এসব নথি ব্যবহারকারী নিয়োগকর্তাদের ভূমিকাও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো নিয়োগকর্তা জেনেশুনে ভুয়া পিএলকেএস ব্যবহার করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেছেন কি না, তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।ইপোহের ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন জাল পিএলকেএসের উৎস কোথায়? কারা এসব নথি তৈরি করছে এবং কীভাবে তা বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে?ভুয়া পিএলকেএস পাওয়া শ্রমিকরা এসব নথি কার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন, কোনো এজেন্ট, দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল কি না তাও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র যাচাই করার দায়িত্ব নিয়োগকর্তারও রয়েছে। ফলে জাল নথি ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগের ঘটনায় শুধু সরবরাহকারী এজেন্ট নয়, সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার ভূমিকার বিষয়টিও সামনে আসছে।ইমিগ্রেশনের তদন্তে যদি নথি সরবরাহকারী, এজেন্ট ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে পরিকল্পিত যোগাযোগের প্রমাণ মেলে, তাহলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আড়ালে থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান মিলতে পারে।ইপোহের অভিযানে আটক ১৭৫ বিদেশির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশি হওয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে বৈধ পারমিট থাকা সত্ত্বেও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়োগদাতা বা কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন না থাকলে বৈধ নথি থাকার পরও ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক।তবে এ ধরনের ঘটনায় শুধু শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার মূল কারণ দূর হবে না। এক কোম্পানির নামে পারমিট ইস্যু হওয়ার পর শ্রমিক কীভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ করছেন এর পেছনে নিয়োগকর্তা, এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে কর্মস্থল পরিবর্তনের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না, অবৈধভাবে শ্রমিক সরবরাহের কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না তদন্তে এসব বিষয় উঠে এলে পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যের চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।ফলে ‘অপস মাহির’ এখন শুধু বিদেশি শ্রমিক আটকের অভিযান নয়; বৈধ পারমিটের অপব্যবহার, কর্মস্থল পরিবর্তন এবং জাল পিএলকেএসের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য চক্রের দিকেও নজর দিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস, তাদের বার্ষিক ‘স্টেট অব র্যানসমওয়্যার ইন এডুকেশন ২০২৬’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে জানা গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হওয়া র্যানসমওয়্যার হামলার ৮৫ শতাংশ আইডেন্টিটি-ভিত্তিক অর্থাৎ অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যবহার করে এখানে হামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর ই-মেইল, ফিশিং, চুরি করা লগইন তথ্য ও ব্রুট-ফোর্স হামলা। বিভিন্ন খাত মিলিয়ে এই হার ৭৯ শতাংশ।র্যানসমওয়্যার হামলার প্রধান মাধ্যম ছিল ক্ষতিকর ই-মেইল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৯ শতাংশ হামলার পেছনে এটি ছিল প্রধান কারণ। এছাড়া ৭৭ শতাংশ উচ্চশিক্ষা এবং ৭১ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের সবচেয়ে গুরুতর আইডেন্টিটি নিয়ে করা হামলার সাথে র্যানসমওয়্যার জড়িত ছিল। হামলার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশি সময় লাগছে। ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে এক থেকে তিন মাস সময় লেগেছে। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের সময় লেগেছে এক মাস বা তার বেশি।সফোসের চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার রস ম্যাককারচার বলেন, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার বড় লক্ষ্য। অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় রিসোর্স সীমিত। সাইবার হামলাকে আইডেন্টিটি চুরি ও এআই আরও দ্রুত ও জটিল করে তুলছে। তাই হামলা দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিক্ষা খাতে সাইবার নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩% প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞের ঘাটতির কথা জানিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক ভুল, পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাব এবং সিকিউরিটি গ্যাপ বড় সমস্যা। তবে ডেটা সুরক্ষায় কিছু অগ্রগতিও হয়েছে; এনক্রিপশনের হার ২০২৫ সালের ২৯% থেকে ২০২৬ সালে ৬১% এ বেড়েছে। হামলার পর ৭৭% প্রাথমিক-মাধ্যমিক ও ৬৯% উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাকআপ থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতিও দেখা গেছে যেখানে মুক্তিপণের দাবি ছিল ৭ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ ডলার এবং গড় পুনরুদ্ধার খরচ ২২.৬ লাখ ডলার। আইটি ও নিরাপত্তা দলের ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩% টিমের পক্ষ থেকে বাড়তি চাপের কথা জানিয়েছে। এছাড়া ৩৯% প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মানসিক চাপ বা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার কারণে কর্মীরা অনুপস্থিত থাকে।এই তথ্যগুলো ১৭টি দেশের ২২৬ জন আইটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ওপর একটি জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। জরিপটি করা হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। শিক্ষা খাতে র্যানসমওয়্যার প্রবণতা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এটি সফোসের ষষ্ঠ বছরের গবেষণা।
গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘No gas no bill, No service no tax’ (গ্যাস না থাকলে বিল নয়, সেবা না মিললে কর নয়)। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুমিন ফারহানা। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে মানুষ বলে— দুষ্টু লোকেরা বলে, অবশ্য ভালো লোক না— ‘টুকু আসে টুকু যায়’। এই আসে এই যায়, কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।