গত ৯৫ দিনে দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৭৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৬৬ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে (পরীক্ষায় শনাক্ত) হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৯০৪ জন।একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯২ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৫৬ জন।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগেই মারা গেছে দুজন। এ সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৮ জন।হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হামজনিত উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৯০১ জন।এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৮ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, এই সমঝোতায় পৌঁছানো মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত ‘প্যালেস অব ভার্সাইয়ে’ চুক্তি স্বাক্ষরের একদম শেষ মুহূর্তে তিনি নিজের এই অনুভূতির কথা জানান। খবর আলজাজিরার। ভার্সাই প্রাসাদে চুক্তি স্বাক্ষরের সেই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নথিতে কলম ছোঁয়ানোর ঠিক আগে কিছুটা সময় বিরতি নেন। এরপর সেখানে উপস্থিত বিশ্বনেতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দুই হাত প্রসারিত করে বলেন, এই চুক্তি সম্পন্ন করা মোটেও সহজ ছিল না। আমি আপনাদের নিশ্চিত করে এটি বলতে পারি। এই মন্তব্য করার পরপরই তিনি চুক্তির প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করেন।দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপড়েন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও দুই দেশের মধ্যকার তীব্র অনাস্থার পরিবেশ পেরিয়ে এই সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পৌঁছানো যে কতটা জটিল ও স্পর্শকাতর ছিল, ট্রাম্পের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই চুক্তির মাধ্যমে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি পেল এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘শান্তির আলো’ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তবে একই সঙ্গে চুক্তিতে অংশ নেওয়া সমস্ত পক্ষকে তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই যুগান্তকারী কূটনৈতিক চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপের অনুরোধ করা হয়েছিল।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে যেকোনো সংকটের সমাধানে সংলাপ এবং কৌশলগত আলোচনাই একমাত্র সঠিক পথ। ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, "এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাইরের যেকোনো ধরনের উসকানি বা বাধা প্রতিহত করতে হবে।" একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ দূর করতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধানের তাগিদ দেন তিনি।ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক মাস ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পর অর্জিত ১৪ দফার এই শান্তি স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে চীনকে অবহিত করেন। আরাগচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই প্রাথমিক চুক্তিটি সব ভূ-রাজনৈতিক ফ্রন্টে কার্যকর করতে হবে, যার মধ্যে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এই স্মারক চুক্তির মাধ্যমে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় লেবানন সীমান্তসহ সব সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা অবসান, ইরানের ওপর থেকে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো অবিলম্বে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত আনুষ্ঠানিক সইয়ের আগেই, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতারা আকস্মিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার ঘোষণা দেন। এই চুক্তির মাধ্যমে বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ও বাণিজ্য স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি একজন প্রধান কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল।
সর্বসম্মতিক্রমে গণমাধ্যম কমিশনের পথনকশা তৈরি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন কর্মশালার বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল রুমে এই কর্মশালার আয়োজন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আজ এখানে নোয়াব, সম্পাদক পরিষদ, এডিটরস গিল্ডসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত আছেন। সর্বসম্মতিক্রমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে আপনাদের মতামত প্রয়োজন।আমরা বিশ্বাস করব আপনারা কমিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানার উপস্থাপনায় ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিশেষজ্ঞবৃন্দ।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে যুক্ত সকলকে একটি মঞ্চে আনতে সক্ষম হয়েছি, যা একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে। তাই আমরা আজ সর্বসম্মতভাবে একটি পথনকশা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, সরকার মূলত সমন্বয়কের কাজটি করবে। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা দরকার।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম আপনাদের এটিকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে ব্যাপারে আপনারাই সিদ্ধান্ত নিবেন। সরকারের ভুল ভ্রান্তি তুলে ধরা গণমাধ্যমের কাজ। আপনারা আমাদের পথ দেখাবেন, বলেন তিনি।তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়নগুলো কীভাবে সমন্বিতভাবে তুলে ধরতে পারি সেখানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা দরকার। এজন্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন।আপনাদের বুদ্ধি ও পরামর্শ নিয়ে আমরা কমিশন গঠন করব, বলেন ইয়াসের খান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ -২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বিজেপির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ জামায়াতের এক সংসদ সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দিতে চাওয়ার যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে?’বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ ‘জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তার এ নিয়ে বিতর্কে জড়ান। এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আর বাড়াবাড়ি তো কোনও দরকার নাই।’পার্থের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদে মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় সদস্য (পার্থ) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি (স্পিকার) তো প্রথমেই নাকচ করেছেন যে, এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় না। দুই নম্বর, একজন সদস্য (জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান) সবার জন্য একটা বিষয় (মাইক্রোওভেন) চেয়েছে। আপনি (স্পিকার) রাইটলি বলেছেন, হাউজে না বলে এটার জন্য কমিটি আছে, ওখানে বললেই হতো। কিন্তু তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে আবার গাড়ি-বাড়ি সব নিয়ে আসলেন। উনি তো আমি মনে করি একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। আবার নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে আমি সব দিয়ে দেব। উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ, যে উনি দেবেন? আমার মনে হয়, আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত, যেটা এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারও সম্মানে আমরা আঘাত করব না।’বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আশা করব যে আমিসহ আমরা সবাই আগামীতে এগুলোর প্রতি আরও যত্নশীল হব। ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।’এর আগে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, এটা নিয়ে কোনও বিতর্ক হোক, এটা আমি চাই না। আপনি অন্য কোনও বিষয়ে বললে বলেন। এটা সম্পর্কে আর শুনতে চাই না।’এসময় তিনি আন্দালিব রহমান পার্থকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে অফার করেছেন, তাকে দেবেন—এটাও তার জন্য একটি ডিসরেসপেক্টফুল মনে হতে পারে। উনি নিজের জন্য চান নাই। সব সংসদ সদস্য, যারা সংসদের সরকারি বাড়িতে বসবাস করেন, তাদের জন্য বলেছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘এটা নিয়ে আর বিতর্ক না হোক, এটা আমি চাই। মাননীয় নেতা, এর পরে আর বাড়াবাড়ি তো কোনও দরকার নাই। বিরোধী দলের নেতা, আপনি এই সম্পর্কেই বলবেন তো?’আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পর এবং বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য দেওয়ার আগে স্পিকার এ বিষয়ে রুলিং দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, এটা সংসদে না বললেও ভালো হতো। কিন্তু এটা বলে তিনি এমন কোনও গর্হিত অপরাধও করেন নাই। আমাদের হাউস কমিটি আছে। সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র ইত্যাদি দিয়ে থাকি। সেই হিসাবে তিনি যদি সব সদস্য—তিনি তার নিজের জন্য চান নাই; যারা সংসদের দেওয়া ভবনে বসবাস করেন, তাদের সবার জন্যই বলেছেন। সুতরাং এটা এমন কোনও গর্হিত অপরাধ হয়নি। তবে আমি মনে করি, না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাদের প্রাপ্য হতে পারে। এটা এমন কিছু বড় জিনিস না। এই সামান্য জিনিস নিয়ে আর তর্ক-বিতর্ক করতে চাই না। কারণ এটি নিয়ে বিতর্ক করলে বাইরে খারাপ বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমরা সবাই সতর্ক থাকব। যেসব বিষয় ব্যক্তিগতভাবে বলার, হাউস কমিটির চেয়ারম্যান আছেন, সদস্যরা তাকে জানালে তারাই এর সমাধান করতে পারবেন।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক)-এর মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্যকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।মানবিক নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।এছাড়া নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন।বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে মানবিক অর্থায়নের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।জাতিসংঘে অবস্থানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ইকোসক মানবিক বিষয়ক অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা-২-এ অংশ নেবেন।এছাড়া তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২০৮৬ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৯ টি বাস, ১ টি ট্রাক, ৬ টি কাভার্ডভ্যান, ১৩ টি সিএনজি ও ২৫ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৯১ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৭ টি বাস, ৪ টি ট্রাক, ৩ টি কাভার্ডভ্যান, ১৪ টি সিএনজি ও ৭৮ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৫ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৩ টি বাস, ২৬ টি কাভার্ডভ্যান, ১০৬ টি সিএনজি ও ২৮৫ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫০৩ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৮ টি বাস, ১৯ টি ট্রাক, ১২ টি কাভার্ডভ্যান, ২৪ টি সিএনজি ও ৬৮ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২০১ টি মামলা হয়েছে।অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১১ টি বাস, ২ টি ট্রাক, ১০ টি কাভার্ডভ্যান, ৩১ টি সিএনজি ও ৫৮ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫১ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৮ টি বাস, ১০ টি ট্রাক, ১২ টি কাভার্ডভ্যান, ৬২ টি সিএনজি, ২০৯ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬৯ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৪ টি বাস, ১১ টি ট্রাক, ১৭ টি কাভার্ডভ্যান, ১০৩ টি সিএনজি ও ১৬৫ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪০৭ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ১৬ টি বাস, ৪ টি ট্রাক, ৯ টি কাভার্ডভ্যান, ৩১ টি সিএনজি ও ৮৪ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২১৯ টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৩৮৭ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৪৪৫ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মুগদা থানাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও মুগদা থানা পুলিশ।যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অত্র থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। শিশির মুন্না (৩৯) ২। জিহাদ আহম্মেদ শাওন (২০) ৩। মোঃ গোলাপ মিয়া (৫২) ৪। মোঃ জুয়েল (৩৮) ৫। বেলাল (৩৫) ৬। রশিদ বেপারী (৬৫) ৭। শিশির (২০) ৮। মোছাঃ মেহেজাবিন (১৯) ৯। মোঃ আব্দুর রহিম (১৯) ১০। নিলয় (২১) ১১। মোঃ আমির (২২) ১২। মোঃ আতাউর রহমান (২৩) ১৩। মোঃ হাসান (২৫) ও ১৪। মোঃ রাসেল বেপারী (৩২)।অন্যদিকে ডিএমপির মুগদা থানা সূত্রে জানা যায়, মুগদা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ আলামিন (২২) ২। মৌসুমী (৫১) ৩। মুক্তা (৪০) ৪। মোঃ আলম (৫২) ৫। শাহীদা বেগম (৪৪) ৬। মোঃ ইয়াসিন (২২) ৭। মোঃ সাকিব (২১) ৮। মোঃ সানি (১৮) ৯। মোঃ আল আমিন (১৮) ১০। মোঃ সাজ্জাদ (২৭) ১১। মোঃ রাব্বি (১৯) ১২। মোঃ জুব (১৮) ১৩। মোঃ রানা (৩২) ১৪। মোঃ সুজন মিয়া (২৫) ১৫। মোঃ মঙ্গল হোসেন ওরফে সুন্দর (৩০) ও ১৬। মোঃ ইয়াছিন (৩১)।উভয় থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অপরাধী।গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৩ টায় উদ্বোধন হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী "হারমোনি ফেস্টিভ্যাল" সিজন-২ এর আয়োজন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের বর্ণিল জীবন ও মেলবন্ধনের প্রাণের উৎসব ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ এর উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম এমপি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এনডিসি মিজ ফাহমিদা আখতার।শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের করতে এবং স্থানীয় বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তুলে ধরতে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী মনোমুগ্ধকর এই উৎসবে স্থানীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র-জাতি-গোষ্টির কালচারাল প্রোগামের পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরনের স্টল থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।
সর্বসম্মতিক্রমে গণমাধ্যম কমিশনের পথনকশা তৈরি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন কর্মশালার বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল রুমে এই কর্মশালার আয়োজন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আজ এখানে নোয়াব, সম্পাদক পরিষদ, এডিটরস গিল্ডসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত আছেন। সর্বসম্মতিক্রমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে আপনাদের মতামত প্রয়োজন।আমরা বিশ্বাস করব আপনারা কমিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানার উপস্থাপনায় ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিশেষজ্ঞবৃন্দ।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে যুক্ত সকলকে একটি মঞ্চে আনতে সক্ষম হয়েছি, যা একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে। তাই আমরা আজ সর্বসম্মতভাবে একটি পথনকশা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, সরকার মূলত সমন্বয়কের কাজটি করবে। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা দরকার।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম আপনাদের এটিকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে ব্যাপারে আপনারাই সিদ্ধান্ত নিবেন। সরকারের ভুল ভ্রান্তি তুলে ধরা গণমাধ্যমের কাজ। আপনারা আমাদের পথ দেখাবেন, বলেন তিনি।তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়নগুলো কীভাবে সমন্বিতভাবে তুলে ধরতে পারি সেখানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা দরকার। এজন্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন।আপনাদের বুদ্ধি ও পরামর্শ নিয়ে আমরা কমিশন গঠন করব, বলেন ইয়াসের খান।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন,দেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমাদের ভাষা,কৃষ্টি,সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন। রাষ্ট্রের বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে। আমরা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিভাজনে বিশ্বাসী নই। সকল ধর্মের মানুষের স্বার্থরক্ষায় বিএনপি সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।তিনি বৃহস্পতিবার (১৮জুন) রাতে দাউদকান্দি উপজেলা সদরে সাহাপাড়ায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে ব্রহ্মা পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পূজারী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। ড.খন্দকার মারুফ বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতির আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে নিরাপদে পালন করতে পারে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ কেউ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেনি। তাদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীর সোনার ছেলেরা সারাদেশে পবিত্র কুরআনের তাফসির মাহফিল এবং হিন্দুদের পূজামন্ডপসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা দেশকে সকল ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল করেছে। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে।খন্দকার মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি মসজিদ,মন্দির,গীর্জার ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মাসিক সন্মানি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এইসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ,সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার প্রচুর অনুদান বরাদ্দ দিচ্ছেন। চলতি বাজেটে এই খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর দু:শাসন আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে। ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে 'খাল খনন কর্মসূচি', ফ্যামিলি কার্ড,কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফসহ অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন।এতে তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখে সকল ধর্ম,বর্ণ ও শ্রেণিপেশার মানুষ আশাবাদী। তাঁর হাতেই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ। তিনিই পারবেন আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ কাঙ্খিত উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ড.খন্দকার মারুফ আগামী দিনে নিরাপদ,উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের পতাকাতলে সামিল হতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। জিউর আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি অশোক সাহার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম.এ বারী, পৌর বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী,বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কমিশনার ও মাহবুব হোসেন হিরণ, পৌর যুব দলের আহবায়ক শরীফ চৌধুরী,দাউদকান্দি উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব মো.রোমান খন্দকার ও জাসাস নেতা মধু সরকার প্রমুখ।
মাদারীপুরের কালকিনি থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের অভিযানে মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি থানার একটি দল উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের বড় চর কয়ারিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সুমন হাওলাদার (২৮), পিতা মঞ্জু মিয়া হাওলাদার এবং রানা হাওলাদার (২২), পিতা মৃত ইসমাইল হাওলাদার। তাদের উভয়ের বাড়ি কয়ারিয়া ইউনিয়নের বড় চর কয়ারিয়া গ্রামে।এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখেও পানামা জিততে পারেনি। রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ঘানা। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হলো ছয় মিনিট। সেটিরই শেষ মিনিটের খেলা চলছিল। পাল্টা আক্রমণে ঝড়ের বেগে নিজেদের অর্ধ থেকে দ্রুত বল নিয়ে এগিয়ে গেল ঘানা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মার্কারকে ছিটকে বল নিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়লে ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে এবং সামনের ডিফেন্ডারের পাশ দিয়ে বল বাড়িয়ে লেন মাঝখানে। ছুটে এসে স্রেফ ‘ট্যাপ ইন’ করলেন ক্যালেব ইয়েরেনকি। বৃষ্টিস্নাত টরন্টোয় বুনো উল্লাসে মেতে উঠল ঘানার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হলো ৯৫তম মিনিটে। পানামার বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন বিষাদময় করে ঘানা জিতে গেল শেষের ওই গোলে।পানামার জন্য এই ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিনই। ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের কাছে। গোলে শট নিয়েছে তারা ১১টি, লক্ষ্যে ছিল ৪টি। অন্যান্য সূচকেও তারা এগিয়ে। কিন্তু গোলের খেলায় আসল কাজটি করে নেয় ঘানা।গোলের পর মাঠে দুই দলের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়ে যায় এবং খানিকটা হাতাহাতিও হয়। তাতে ম্যাচের বয়স ১০০ মিনিট পেরিয়ে যায়। শেষ দিকে বক্সের বাইরে ডান প্রান্তে ফ্রি কিক পায় পানামা। দলের সবাই উঠে আসে সামনে, এমনকি গোলকিপার অরলান্দো মুসকেরাও চলে আসেন ঘানার বক্সে। লাফিয়ে হেড করে বল সামনে বাড়ান মুসকেরা, আবার হেড করেন ইসমায়েল দিয়াস। কিন্তু কোনোরকমে বল ধরে ফেলেন ঘানার গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে।আসারে অবশ্য দলের প্রথম পছন্দের গোলকিপার নন। ম্যাচের শুরু থেকে গোলবারে ছিলেন লরেন্স আটি-জিগি। প্রথমার্ধে দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনিই। কিন্তু শেষ দিকে চোট পেয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি।ঘানার শক্তির ঘাটতি ছিল আরও। ভিসা জটিলতায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি দলের তারকা মিডফিল্ডার তমাস পার্তে। পরের ম্যাচগুলিতে অবশ্য তাকে পাওয়া যাবে।ঘানার এটি টানা দ্বিতীয় ও ছয় আসরের মধ্যে পঞ্চম বিশ্বকাপ। ২০১০ বিশ্বকাপে চমকে দিয়েছিল তারা কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে। পানামা আগে বিশ্ব আসরে খেলেছিল কেবল ২০১৮ আসরে।টরন্টো স্টেডিয়ামে পানামা এগিয়ে যেতে পারত খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে। আমির মুরিয়োর নান্দনিক পাসে বক্সের ভেতর থেকে সেসিলিও ওদারমানের শট দারুণভাবে উড়ে গিয়ে রক্ষা করেন ঘানার গোলকিপার আটি-জিগি।ঘানা পরে একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পানি পানের রিতির পর আবার তাদেরকে চেপে ধরে পানামা। কিন্তু গোল বের করতে পারেনি।৩৮তম মিনিটে একটি সুযোগের মতো পেয়েছিল পানামা। আটি-জিগি লাফিয়ে উঠে একটি ক্রস ক্লিয়ার করেন। বল জিওভানি রামোসের কাছে গেলে ১৪ গজ দূর থেকে ডান পায়ের শটে তিনি ডানদিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন।বক্সের মধ্যে ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেস পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি জানায় পানামা, কিন্তু জেরোম ওপোকুর স্পর্শের অভিযোগ রেফারিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।গোল না পেলেও সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে পানামাই ছিল এগিয়ে। ঘানা পারেনি গোলে একটি শটও নিতে। এবারের বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞতা হয়নি আগে কোনো দলের।ঘানা প্রথম সুযোগ পায় ৪৮তম মিনিটে। জোনাস আজেতির হেড ধরে ফেলেন পানামার গোলকিপার মুসকেরা। ৬০তম মিনিটে পানামা প্রায় গোল করেই ফেলেছিল। কিন্তু গোলের খুব কাছে বল পেলেও সংকীর্ণ কোণ থেকে সাইড-নেটে মেরে দেন মার্তিনেস। ঘানা এরপর বেশ কিছু আক্রমণ করে। কিন্তু খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পানামাও পাল্টা আক্রমণে জবাব দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় শেষের ওই গোল।দুই দলই বিশ্বকাপে এসেছিল এই ম্যাচে জয়কে লক্ষ্য বানিয়ে। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ যে খুবই কঠিন! ম্যাচের ফলাফলের বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়াও তাই তীব্র।
হাসি মুখের কারিনা কায়সার গত ১৬ মে প্রয়াত হয়েছেন। তার এ অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ শোবিজের অঙ্গনের মানুষ। সদ্যপ্রয়াত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘চরকি কার্নিভাল’। এতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চরকিতে মুক্তি পাওয়া কনটেন্টগুলো থেকে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।এরই মধ্যে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের (২০২৪) মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ’৩৬-২৪-৩৬’ ওয়েব ছবির জন্য বেস্ট অ্যাক্টরের (ফিমেল) মনোনয়ন পেয়েছিলেন কারিনা। তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে তাকে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, ’কারিনার অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে। তাই প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।’এদিকে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে সেরা ছবির মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ’৩৬-২৪-৩৬’। রয়েছে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিরিজ, সেরা গানসহ বিভিন্ন বিভাগ। চরকির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পছন্দের কনটেন্ট বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারবেন সাবস্ক্রাইবাররা। আজ থেকে শুরু হয়েছে ভোট। সমালোচক বিভাগ এবং ২০২৩ সালের কনটেন্টে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হবে শিগগির।
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী একসময় দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তাঁর গানের রয়্যালটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেনগণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে জজ কোর্ট, সাতক্ষীরার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোঃ আহসানুল হাবিব অনিকের কাছে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি আজ পর্যন্ত শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব ও রয়্যালটির অর্থ প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।নোটিশে আরও বলা হয়, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান Spotify, Apple Music, YouTube Music, YouTube Content ID, TikTok, Facebook Music Library, Shazam, Beatport এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।শিল্পীর দাবি, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৩, ৪০৬, ৪১৫ ও ৪২০ ধারাসহ কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘনের শামিল।নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আয়ের হিসাব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে। অনেকে বলছেন তিনি আর দেশে ফিরবেন। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সব আলোচনার উত্তর দিয়ে ফারুকী বললেন, আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকেনা।তিনি বলেন, উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলা জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিলো না। এদের নিয়া কথা বলা তো দুরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতোটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ৭ জুন রোববার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তাদের নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা কখনোই সিলেবাসে ছিলো না। ফারুকীর ভাষায়, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা। যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবরটি নিজেই নিশ্চিত করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলো করে এলো নতুন অতিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ পোস্টে এই সুখবরটি শেয়ার করেছেন বুবলী। তাদের কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন শারলিন খান। পোস্টে একটি কার্ড প্রকাশ করেন বুবলী, তা থেকে বোঝা যায়, গত ১১ মে তাদের এই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কার্ডে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা-মা হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীর নাম স্পষ্ট করা হয়েছে।পোস্টে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।উল্লেখ্য, বুবলী-শাকিবের ঘরে রয়েছে আরও এক সন্তান- শেহজাদ খান বীর। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন নায়ক। এর মাস ছয়েক পর গুঞ্জন ওঠে, সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বুবলী। তাদের ভক্তরাও কার্যত দিনক্ষণ গুনছেন- কবে ভূমিষ্ঠ হবে তাদের সন্তান। অবশেষে কন্যা সন্তান আসার খবরের মাঝে এলো এই সুসংবাদ।
বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।ভারতের দিল্লি শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হাসিবুর রেজা কল্লোল নির্মাতা, সংগঠক এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রযোজনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।পরিচালক হিসেবে তাঁর নির্মিত সত্তা চলচ্চিত্রটি ব্যাপক আলোচিত হয় এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি চ্যানেল নাইন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।প্রতিক্রিয়ায় হাসিবুর রেজা কল্লোল বলেন, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার (১ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়। এর প্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করায় প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়।একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দুটি ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সাংস্কৃতিক চর্চায় অনবদ্য অবদান রেখে আসছেন এ জেলার কৃতিসন্তানরা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে এর প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।আমরা চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রধারার পক্ষে। চলচ্চিত্র দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা, দেশপ্রেম, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জনগণের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের অনুমতি নিয়েই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন, যা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি কারও বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।আমরা সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”বিবৃতিদাতারা হলেন--১. সাংবাদিক আবদুন নূর, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, সদস্যসচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।২. নীহাররঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৩. জহিরুল ইসলাম, সভাপতি, উদীচী জেলা সংসদ; ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জেলা সংসদ।৪. অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি; অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি।৫. শোভা সেন, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; সাথী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।৬. হাবিবুর রহমান পারভেজ, জেলা পরিচালক, আবরণী; শারমিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক, আবরণী।৭. হুমায়ুন কবির, সভাপতি, কবির কলম; আব্দুল মতিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক, কবির কলম।৮. ডা. প্রেমানন্দ দাস, সংগঠক, চারণ।৯. ফাহিম মুনতাসির, সভাপতি, সোনালি সকাল; সানিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সোনালি সকাল।১০. মুস্তাফা জাফরি হামিম, জেলা সভাপতি, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন; সর্পা মিত্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, আজকের সংস্কৃতি সংগঠন।
দেশের বাজারে সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে মূল্য ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ভরিপ্রতি ৯ হাজার ১৩ টাকা কম।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে গত ১৫ জুন ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এর আগে, গত ১৫ জুন ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে এক ভরি স্বর্ণালংকারে বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৩ টাকা।এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।এ ছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।সোনার দামে সঙ্গে ভ্যাটসহ রুপার দামও নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সোনার দামে নির্ধারিত ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। দেশে সোনা ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় আগে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হতো। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এবার ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করে বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। দলটির নেতারা বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে যে তিনি বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের একজন অকৃত্রিম দেশবন্ধু।শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকনির্দেশনা রয়েছে।”তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা নতুন বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
গ্লোবাল ইনোভেটিভ এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো, যা জনপ্রিয় স্পার্ক সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন। ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের প্রটেকশন, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং স্মার্ট এআই সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি এই স্মার্টফোনটি আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আনা হয়েছে।স্পার্ক সিরিজের সফলতার ধারাবাহিকতায় টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে যুক্ত করা হয়েছে এমন কিছু ফিচার, যা এই সেগমেন্টের স্মার্টফোনে কম দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে আইপি৬৮/আইপি৬৯ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, সর্বোচ্চ ৬ মিটার পানির গভীরতায় যা সার্ভাইভ করতে পারবে, ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং, ৫০ মেগাপিক্সেল সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ মেইন ক্যামেরা, মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসর, ১২০ হার্জ ডিসপ্লে এবং টেকনো এআই সুবিধা।দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি নিশ্চয়তা দিতে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ সার্টিফায়েড সুরক্ষা, যা ডিভাইসটিকে ধুলাবালি ও পানির প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। এছাড়াও, সর্বোচ্চ ৬ মিটার গভীর পানির মধ্যেও ডিভাইসটি নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে সক্ষম, যা আন্ডারওয়াটার ছবি ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা যোগ করে। শুধু পানি থেকে সুরক্ষাই নয়, টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে এসজিএস ফাইভ-স্টার প্রিমিয়াম ড্রপ রেজিস্ট্যান্স এবং ৩৬০ ডিগ্রি ড্রপ প্রোটেকশন, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে অনাকাঙ্ক্ষিত পড়ে যাওয়া বা আঘাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। এছাড়া টি-গার্ড প্রোটেকশন সিস্টেম ডিভাইসটির নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুরক্ষিত স্পার্ক স্মার্টফোনগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা নিশ্চিত করে। যারা সারাদিন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। টেকনোর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিটি ১,৯০০টিরও বেশি চার্জিং সাইকেলের পরেও ৮০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, যা দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে।ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ মেইন ক্যামেরা, যা বিভিন্ন লাইটিং কন্ডিশনে চমৎকার ডিটেইল ধরে রাখতে সক্ষম। এছাড়া ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা ক্লিয়ার সেলফি এবং উন্নত ভিডিও কলিং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। ভ্রমণ, প্রতিদিনের মুহূর্ত কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরিতে ক্যামেরা সিস্টেমটি একটি ভার্সেটাইল ফটোগ্রাফি এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে।মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসরচালিত টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো মাল্টিটাস্কিং, গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ডেইলি ইউজে স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। স্মার্টফোনটি ২৪ জিবি ডাইনামিক র্যাম (৮ জিবি র্যাম + ১৬ জিবি এক্সটেন্ডেড র্যাম) এবং ১৮ জিবি ডাইনামিক র্যাম (৬ জিবি র্যাম + ১২ জিবি এক্সটেন্ডেড র্যাম) – এই দুই সংস্করণে পাওয়া যাবে। উভয় সংস্করণেই রয়েছে ১২৮ জিবি স্টোরেজ।স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০ হার্জ ডিসপ্লে, যা স্মুথ স্ক্রলিং এবং ইমার্সিভ ভিউয়িং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ডিটিএস সাউন্ডসমৃদ্ধ ডুয়াল স্পিকার এবং অল-সিনারিও নয়েজ ক্যানসেলেশন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য আরও রিচ অডিও এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে, যা বিনোদন ও ভয়েস কমিউনিকেশনকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে ওয়ান-ট্যাপ সামারাইজেশন, এআই ফ্ল্যাশমেমো, এআই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, এআই প্রবলেম সলভিং, এআই রাইটিং, এআই হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এআই স্মার্ট স্কেডিউলিং-সহ বিভিন্ন এআই সুবিধা। এছাড়া ফ্রিলিংক ২.০ এবং টাচ ট্রান্সফার উইথ আইফোন ফিচার বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে আরও সহজ ও স্মুথ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করে।টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো এখন দেশজুড়ে টেকনোর সকল ব্র্যান্ড আউটলেট ও রিটেইল স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে এবং স্মার্টফোনটির মূল্য শুরু হচ্ছে ২৬,৯৯৯ টাকা থেকে (ভ্যাট প্রযোজ্য)।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’