মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় নেতা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। দেশটির সামরিক, বিচারিক ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন। তেহরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা যান। শৈশব ও ধর্মীয় শিক্ষাজীবনএকটি ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি অল্প বয়সেই কোরআন ও ইসলামি ফিকহ শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইরানের ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র কোমে উচ্চতর ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। এখানেই তিনি ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন ইরানের বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মতাদর্শের সঙ্গে, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।শাহবিরোধী আন্দোলন ও কারাবরণ১৯৬০–৭০ দশকে ইরানের শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন খামেনি। একাধিকবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন। তাঁর বক্তৃতা ও লেখালেখি তৎকালীন তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতন ঘটে এবং খোমেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতা হন। নতুন ইসলামি প্রজাতন্ত্রে খামেনি দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে উঠে আসেন।রাষ্ট্রপতি পদে আরোহন (১৯৮১–১৯৮৯)১৯৮১ সালে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এই সময় চলছিল ইরান–ইরাক যুদ্ধ। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক নীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। একই বছর এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন; সেই হামলার পর তাঁর ডান হাত আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে যায়।সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘ অধ্যায় (১৯৮৯–২০২৬)১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে খামেনি ইরানের সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত হন। এই পদ ইরানের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর অবস্থান। ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন—তিনি ইরানের রাষ্ট্রকাঠামো, সামরিক নীতি ও আঞ্চলিক কৌশলের প্রধান নিয়ন্ত্রক। তাঁর নেতৃত্বে ইরান একটি আদর্শভিত্তিক বিপ্লবী রাষ্ট্র থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।রাজনৈতিক কাঠামোয় তাঁর প্রভাবইরানের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম লিডার হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। আর খামেনির নিয়ন্ত্রণাধীন ক্ষেত্রগুলো হলো: সশস্ত্র বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ড, বিচার বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও পররাষ্ট্রনীতি অনুমোদন। রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত নীতিগত প্রশ্নে সুপ্রিম লিডারের কথাই শেষ কথা। ফলে ইরানের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদি।গত তিন দশকে তিনি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন—বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে ইরানের উপস্থিতি জোরদারে সমর্থন দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত নীতিগত প্রশ্নে সুপ্রিম লিডারের কথাই শেষ কথা। ফলে ইরানের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদি। গত তিন দশকে তিনি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন—বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে।পারমাণবিক ইস্যু ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনাখামেনির আমলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা তাঁর নেতৃত্বকালেই তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানকে একটি বিশেষ ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।ছাত্রজীবন থেকে সর্বোচ্চ নেতা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদ এবং সর্বোচ্চ নেতা—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাজনৈতিক জীবন ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি দেশটির নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বই ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে এবার বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক অভিযানে গত কয়েক দিনে দেশটিতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন।আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। অন্য দুই জন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ছোঁড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে ১৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২টি ক্রুজ মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমুদ্রে পতিত হয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া ৫৪১টি ইরানি ড্রোনের মধ্যে ৫০৬টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে আমিরাতি বাহিনী। তবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পড়ায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে এবং বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমিরাত সরকার একে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নাগরিকদের শান্ত থাকার ও সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আঘাত হেনেছে। এতে রণতরীটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।’‘স্থল ও সমুদ্র ক্রমশ সন্ত্রাসী আক্রমণকারীদের কবরস্থানে পরিণত হবে’— এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সামরিক সংঘাতের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং স্থল ও সমুদ্রে অভিযান আরও তীব্র করা হবে’।তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। গত জানুয়ারিতে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তাদের সাথে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’, যা বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, সেজন্য পর্যায়ক্রমে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোও খোলা হবে এবং ভিসা প্রদানের হার ক্রমান্বয়ে বাড়বে।ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে রোববার (০১ মার্চ) সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধির জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি। কিন্তু গত দেড় বছরে সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে আমাদের ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ভিসা প্রদানের হার কম ছিল।মন্ত্রী এ সময় ভারতীয় ভিসা সেন্টারসহ ভারতীয় স্থাপনাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে নেওয়া হয়। সেজন্য ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) নির্দেশ দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়।তিনি বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই।তিনি আরও বলেন, আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দু’দেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতি ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধকরণ, মহাপরিচালক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ এর সম্মেলন, দু’দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণ, বন্দি বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। হাইকমিশনার এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা একসাথে পারস্পরিক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করতে চাই।তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় যেটি দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে সেটি হলো সীমান্ত হত্যা। তিনি সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো অনেক উন্নত মানের। তিনি ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি হারে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি হারে ভারতে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণ করা হবে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।বৈঠকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে, কাউন্সেলর অভিজিৎ সপ্তর্ষি ও প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট পর্ব অপরাজিত থেকেই শেষ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোববার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে লড়াকু জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম ওভারেই সিকান্দার রাজার দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে আউট হন ওপেনার কুইন্টন ডি কক।কিছুক্ষণ পর আবারও আঘাত হানেন রাজা। মাত্র ৫ বলে ৪ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। ২.৫ ওভারে ১৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন রায়ান রিকেলটন ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজন মিলে ভালো একটি জুটি গড়েন, যেখানে বেশি রান আসে রিকেলটনের ব্যাট থেকে।তাদের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন ব্র্যাড ইভানস। ২২ বলে চারটি ছক্কায় ৩১ রান করে আউট হন রিকেলটন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৫.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৩। এরপর ব্রেভিস বাউন্ডারিতে রান তুলতে থাকেন। তার সঙ্গে যোগ দেন ডেভিড মিলার। দুজনের জুটিতে ৫০ পার করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ইনিংসের ১০ম ওভারের শেষ বলে মিলারকে ফেরান মুজারাবানি। ১৬ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ২২ রান করেন মিলার।এরপর আবারও আঘাত করেন সিকান্দার রাজা। ১৮ বলে দুটি চার ও চারটি ছক্কায় ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা ব্রেভিসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১০.৪ ওভারে ১০১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে ট্রিস্টান স্টাবস ও জর্জ লিন্ডে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্টাবস ২৪ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর লিন্ডে ২১ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩০ রান।এর আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। জিম্বাবুয়ে শুরুটা ভালোই করেছিল। প্রথম ওভার থেকেই ১৩ রান আসে। তবে দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ৭ রান করে আউট হন উইকেটকিপার ব্যাটার তাদিওয়ানাশে মারুমানি, তাকে ফেরান কওয়েনা মাফাকা।এরপর অ্যানরিখ নর্টজে ফেরান ব্রায়ান বেনেটকে। ১৩ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১৫ রান করেন তিনি। তখন জিম্বাবুয়ের স্কোর ৪.৩ ওভারে ২ উইকেটে ২৮। ডিওন মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস সামাল দেন রাজা। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ৫০ পার করান। তবে ১৬ বলে ১১ রান করা মায়ার্সকে আউট করে সেই জুটি ভাঙেন জর্জ লিন্ডে।এরপর দ্রুতই আউট হন রায়ান বার্ল ও টনি মুনিয়ঙ্গা। তারা যথাক্রমে ৫ ও ২ রান করে ফেরেন লুঙ্গি এনগিডি ও করবিন বোশের বলে। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ৭৩ রান করেন সিকান্দার রাজা। ৪৩ বলে তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। ১৬.৩ ওভারে তার বিদায়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর হয় ১২৬/৬। পরে ব্র্যাড ইভানসকে (১১ বলে ৮) আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন করবিন বোশ। শেষ দিকে ২০ বলে তিন চারে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন ক্লাইভ মাদান্দে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কওয়েনা মাফাকা ও করবিন বোশ দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া জর্জ লিন্ডে, লুঙ্গি এনগিডি ও অ্যানরিখ নর্টজে একটি করে উইকেট পেয়েছেন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল দক্ষিণ আফ্রিকা। উড়তে থাকা প্রোটিয়ারা আজ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সুপার এইট থেকেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার জেরে সৃষ্ট ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ ও জরুরি অবস্থার অজুহাতে পবিত্র মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রোববার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইসরায়েলি ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় জোহরের আজানের আগেই আকসা প্রাঙ্গণ থেকে সাধারণ মুসল্লি ও ওয়াক্ফ কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক প্রহরীকে সেখানে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনিনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া আর কেউ নামাজে অংশ নিতে পারেননি।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে পুরো রমজান মাসজুড়েই আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন ৩৫ হাজার থেকে প্রায় এক লাখ মুসল্লি এখানে তারাবি আদায় করে আসছিলেন। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সেই নির্জন আকসার স্মৃতি ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস এই ঘটনাকে ‘আকসাকে একক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে আকসা বন্ধ করা মানে একে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনে নেওয়ার অপচেষ্টা।এদিকে শুধু মসজিদই নয়, পুরোনো শহরের ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বেকারি ও নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া অধিকাংশ দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে পুলিশ। অথচ একই এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা পুলিশের নিরাপত্তায় নিয়মিত আচার-অনুষ্ঠান পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।আকসার পাশাপাশি হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবার ইসলামিক ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার অজুহাতে সেখানেও ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কর্মরতদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় বিভিন্ন দেশের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রয়েছেন, যারা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন।আহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে কুয়েতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের দেখতে ও খোঁজখবর নিতে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন হাসপাতালে যান। তিনি আহতদের চিকিৎসার সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন-এর সঙ্গে কথা বলেন সময় সংবাদের কুয়েত প্রতিনিধি। এ সময় সৈয়দ তারেক হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, তিনি কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং গুজব বা যাচাইহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কুয়েত বিমানবন্দরে সংঘটিত ড্রোন হামলায় আহত চার বাংলাদেশি প্রবাসীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন: আমিনুল ইসলামজেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া (নবীনগর), গ্রাম: দৌলতপুরআঘাতের ধরন: পায়ে গুরুতর আঘাতচিকিৎসা: স্কিন গ্রাফটিং প্রয়োজনবর্তমান অবস্থা: স্থিতিশীল রকিবুল ইসলামজেলা: পাবনা (সাঁথিয়া), গ্রাম: ভুলবাড়িয়াআঘাতের ধরন: সামান্য মাসুদুর রহমানজেলা: নোয়াখালী (বেগমগঞ্জ), গ্রাম: লতিফপুরআঘাতের ধরন: সামান্য দুলাল মিয়াজেলা: কুমিল্লা (জোনা), গ্রাম: পাথালিয়া কান্দিআঘাতের ধরন: সামান্য দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আহত চারজনের মধ্যে তিনজন আশঙ্কামুক্ত এবং একজনের চিকিৎসা বিশেষ নজরদারিতে চলছে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং কুয়েত সরকারের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
দেশের পাঁচ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারা হলেন- গাজীপুরের ডিসি মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের ডিসি কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার ডিসি মো. সাইফুর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মো. শাহাদাত হোসের মাসুদ।তবে নতুন করে এসব জেলায় এখনও ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
জাতীয় ভোটার দিবস ২ মার্চের পরিবর্তে পহেলা মার্চ ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।রোববার (১ মার্চ) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।আখতার আহমেদ বলেন, ২ মার্চের পরিবর্তে আমরা পহেলা মার্চ ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ নির্ধারণের জন্য মন্ত্রিপরিষদে চিঠি দিয়েছি। চিঠির সিদ্ধান্তর পর ভোটার দিবস কবে হবে জানা যাবে।২০১৩ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন ফেমবোসার চতুর্থ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর পরই মূলত জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়।এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাব কমিশন সভায় উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে এবং নীতিগতভাবে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।২০১৯ সালে ১ মার্চ ভোটার দিবস পালন করা হলেও ১ মার্চ ‘বীমা দিবস’ থাকায় ২০২০ সালে ভোটার দিবসকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ঘোষণা করে ২ মার্চকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
ইরানে হামলা ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।রোববার (১ মার্চ) বিকেলে দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর উত্তর গেইটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির, সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানান।বক্তারা বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেখানে হামলা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। জাতিসংঘ ও ওআইসির কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।দেশের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে নেতারা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দলটি ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।সমাবেশ শেষে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।রোববার (১ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সেফ সিটি বাস্তবায়ন ও ডাটাবেজ রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক সহযোগিতা ও সন্ত্রাস দমন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।এছাড়া দুদেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, অপরাধী বা বন্দি বিনিময়, ড্রোন খাতে সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর উত্তরায় শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের পরিবার একের পর এক শোকের আঘাতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। শেখ হাসিনার পতনের দিনে গুলিতে জাহিদের মৃত্যুর মাত্র ১৪ দিনের মাথায় ধরা পড়ে তার ছোটভাই আব্দুল্লাহ বিন জিসানের কোলন ক্যান্সার। তাও আবার তৃতীয় ধাপে। এখানেই পরিবারটির বিপদের শেষ হয়নি। এক ছেলের মৃত্যু, অন্য ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ার কিছুদিন না যেতেই স্ট্রোক করে মারা যান জিসানের বাবা। এমন অবস্থায় স্বামী ও বড় সন্তানকে হারিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট সন্তানকে নিয়ে কূলকিনারাহীন শহীদের মা ফাতেমা-তোজ-জোহরা। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের পাশে দাঁড়ায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। যে সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।শহীদ জিহাদের এই অসহায় মায়ের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়ানো ‘আমরা বিএনপি পরিবার-এর সদস্যরা তারেক রহমানের নির্দেশনায় শুরু থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত জিসানের পুরো চিকিৎসায় ব্যয় বহন করছে। ক্যান্সারের মতো এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর সুযোগ পেয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে কিশোর জিসান। আর এমন বিপদে পাশে থাকার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাই জিসানের মা ফাতেমা-তুজ জোহরা সাংবাদিকদের বললেন, ‘এমন বিপদের সময় যদি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ পাশে না দাঁড়াতো তাহলে আমাদের কি হত তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে আমার ছেলের চিকিৎসায়। ক্যামোথেরাপি, রেডিওথেরাপিসহ চিকিৎসার সবকিছু এই সংগঠন থেকে করা হয়েছে। শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত কথা বলেছি। সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ভাইসহ সবাই বাকি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।রোববার (০১ মার্চ) গুলশানে আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে জিসানের চিকিৎসার আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়া হয়। এসময় তার মা সাংবাদিকদের একথা বলেন।সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বড় ছেলেকে হারিয়েছি দেশের জন্য, স্বামীকেও হারালাম শোক সইতে না পেরে। এই কঠিন সময়ে ছোট ছেলেটাকে বাঁচানোর লড়াইয়ে তারেক রহমান ও 'আমরা বিএনপি পরিবার' যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমি শুধু তাদের জন্য দোয়া করি।আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।গুলশানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সহায়তা তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।এসময় বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুরু থেকে মানবিক কাজের পাশাপাশি জুলাই শহীদদের পরিবার, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ, আমাদের মাঝে যাতে তারা স্মরণীয় হয়ে থাকেন সেজন্য কাজ করছি। যেহেতু আমরা এখন সরকারে আছি তাই দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। আমরা তাদের হারাতে দেবো না। চীর স্মরণীয় রাখবো শহীদদের। তাদের পরিবারের পাশেও আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী থাকবো।এসময় উপস্থিত ছিলেন– ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা ব্যারিস্টার শাহাদাৎ বিন জামান শোভন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ ও শাকিল আহমেদ।এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন– দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ. কে. এম. মনজুরুল ইসলাম, দ্য ডেইলি সানের ডেপুটি এডিটর মোহাম্মদ আল আমিন, দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সিনিয়র প্রতিবেদক এনামুল হক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান প্রমুখ।
ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-পরিচয় জানায়নি কর্তৃপক্ষ।অবশ্য বিভিন্ন সূত্র বলেছে, নিহত ওই বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ। তিনি আরব আমিরাতের আজমান প্রদেশে কর্মরত ছিলেন।মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সালেহ আহমদ সেখানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। জানা যায়, গতকাল শনিবার (২৮ ফ্রেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হলে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত সালেহ আহমেদ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকার বাসিন্দা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালেহ আহমেদ ইফতার শেষে জরুরি খাদ্য-পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তাঁর সঙ্গে আরও একজন সহকর্মী ছিলেন। হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সালেহ আহমেদ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল।পরে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠায়। আজ রোববার সকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে এখনো এ বিষয়ে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।নিহত সালেহ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কাজ করছিলেন। দেশে তাঁর মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন তিনি।সালেহ আহমেদের চাচাতো ভাই মাহবুব আলম চৌধুরী জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট পর্ব অপরাজিত থেকেই শেষ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোববার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে লড়াকু জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম ওভারেই সিকান্দার রাজার দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে আউট হন ওপেনার কুইন্টন ডি কক।কিছুক্ষণ পর আবারও আঘাত হানেন রাজা। মাত্র ৫ বলে ৪ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। ২.৫ ওভারে ১৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন রায়ান রিকেলটন ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজন মিলে ভালো একটি জুটি গড়েন, যেখানে বেশি রান আসে রিকেলটনের ব্যাট থেকে।তাদের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন ব্র্যাড ইভানস। ২২ বলে চারটি ছক্কায় ৩১ রান করে আউট হন রিকেলটন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৫.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৩। এরপর ব্রেভিস বাউন্ডারিতে রান তুলতে থাকেন। তার সঙ্গে যোগ দেন ডেভিড মিলার। দুজনের জুটিতে ৫০ পার করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ইনিংসের ১০ম ওভারের শেষ বলে মিলারকে ফেরান মুজারাবানি। ১৬ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ২২ রান করেন মিলার।এরপর আবারও আঘাত করেন সিকান্দার রাজা। ১৮ বলে দুটি চার ও চারটি ছক্কায় ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা ব্রেভিসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১০.৪ ওভারে ১০১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে ট্রিস্টান স্টাবস ও জর্জ লিন্ডে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্টাবস ২৪ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর লিন্ডে ২১ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩০ রান।এর আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। জিম্বাবুয়ে শুরুটা ভালোই করেছিল। প্রথম ওভার থেকেই ১৩ রান আসে। তবে দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ৭ রান করে আউট হন উইকেটকিপার ব্যাটার তাদিওয়ানাশে মারুমানি, তাকে ফেরান কওয়েনা মাফাকা।এরপর অ্যানরিখ নর্টজে ফেরান ব্রায়ান বেনেটকে। ১৩ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১৫ রান করেন তিনি। তখন জিম্বাবুয়ের স্কোর ৪.৩ ওভারে ২ উইকেটে ২৮। ডিওন মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস সামাল দেন রাজা। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ৫০ পার করান। তবে ১৬ বলে ১১ রান করা মায়ার্সকে আউট করে সেই জুটি ভাঙেন জর্জ লিন্ডে।এরপর দ্রুতই আউট হন রায়ান বার্ল ও টনি মুনিয়ঙ্গা। তারা যথাক্রমে ৫ ও ২ রান করে ফেরেন লুঙ্গি এনগিডি ও করবিন বোশের বলে। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ৭৩ রান করেন সিকান্দার রাজা। ৪৩ বলে তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। ১৬.৩ ওভারে তার বিদায়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর হয় ১২৬/৬। পরে ব্র্যাড ইভানসকে (১১ বলে ৮) আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন করবিন বোশ। শেষ দিকে ২০ বলে তিন চারে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন ক্লাইভ মাদান্দে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কওয়েনা মাফাকা ও করবিন বোশ দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া জর্জ লিন্ডে, লুঙ্গি এনগিডি ও অ্যানরিখ নর্টজে একটি করে উইকেট পেয়েছেন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল দক্ষিণ আফ্রিকা। উড়তে থাকা প্রোটিয়ারা আজ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সুপার এইট থেকেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যা করেছেন।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।অভিনেতা জাহের আলভী বর্তমানে ঈদের একটি বিশেষ নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে প্রিয়মায়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ করেন বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।রোজের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জামিন পেয়েই তাকে ‘মারধর’ করেন নোবেল। কেন গায়কের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বাদী, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নোবেল বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করতে শুরু করেন।শরীরে মারধরের আঘাত দেখিয়ে রোজ বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে মানুষটা যেরকম, মিডিয়ার বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা। আমি ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। ও নেশাখোর, কিন্তু নিজেকে ভিকটিম দাবি করে। পরিস্থিতির শিকার দাবি করে।’বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোজকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা ও প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন কণ্ঠশিল্পী নোবেল। ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রেম, অভিমান, নাটকীয়তা আর নৃশংসতার সংমিশ্রণে বিশেষ নাটক ‘প্রেমাতাল’ নির্মাণ করেছেন হাসিব হোসাইন রাখি। এবারের ঈদে সিএমভি’র বিশেষ এই নির্মাণ শুধু প্রেমের নয়, বরং এক অনন্ত অপেক্ষার।গল্পের মূল চরিত্র নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা এবং সদ্যবিবাহিত স্ত্রী এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি হন। প্রিয় মানুষটি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, সেটিও তাদের জানা নেই। এমন এক হৃদয়স্পর্শী প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে । নাটকটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও নাজনীন নীহা। নির্মাতা হাসিব হোসাইন রাখি পরিচালিত এই নাটকটির শুটিং সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এর চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন সুমন হোসাইন।নাটকটির গল্প নিয়ে নির্মাতা রাখি জানিয়েছেন, এটি একই সাথে এক মায়ের ছেলের জন্য এবং এক স্ত্রীর স্বামীর জন্য অপেক্ষার গল্প। এই অপেক্ষার আবহে মিশে আছে অনেক গভীর আবেগ ও নাটকীয়তা। প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু নাটকটি নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জানান, বর্তমান সময়ে এমন গভীর গল্পের চিত্রনাট্য পাওয়া বেশ কঠিন। তাই ‘প্রেমাতাল’ হতে যাচ্ছে এই ঈদে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আসন্ন ঈদে সিএমভি’র অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পাবে।
দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের পর অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রাজস্থানের উদয়পুরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শুরু হয় দুই তারকার বিয়ের রজকীয় আয়োজন।ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো খবররে বলা হয়েছে, তেলুগু রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা বিয়েতে বসেন রাশমিকা ও বিজয়। এই বিশেষ আয়োজনে রাশমিকার পরেন ঐতিহ্যবাহী কোডাভা স্টাইলের শাড়ি।জানা গেছে, কোডাভা প্রথা অনুযায়ী শাড়ির ভাঁজ থাকে পেছনের দিকে, যা কুর্গ অঞ্চলের নারীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। এই পোশাক নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নিজের শেকড় ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অভিনেত্রী।এর আগে সকালে তেলুগু রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি। তেলুগু বিয়েতে রাশমিকার পোশাক ছিল অত্যন্ত নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী।শোনা যাচ্ছে, তার বিবাহের পোশাকে ছিল মহরৎ ও দামী সিল্ক শাড়ির বিশেষ সমাহার, যা পুরো বিয়ের আয়োজনকে দিয়েছে রাজকীয় আবহ।বিকেল ৫টার শুরু হওয়া কোডাভা বিবাহানুষ্ঠানটি এক থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানা গেছে। সকালে তেলুগু রীতি এবং সন্ধ্যায় কোডাভা প্রথা—দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উদয়পুরে সম্পন্ন হলো রাশমিকা ও বিজয়ের বহুল আলোচিত বিয়ে। সূত্র: এনডিটিভি
বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি অসুস্থ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল এই নন্দিত পরিচালকের ৬৩তম জন্মদিন। কিন্তু আনন্দের সেই ক্ষণ কাটতে না কাটতেই ভক্তদের জন্য এলো দুঃসংবাদ। জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে নিজের জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন বনশালি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার খবর ছড়িয়ে পড়লে বলিপাড়াসহ ভক্তমহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।এদিকে বনশালির অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেললে মুখ খোলে তার পরিবার। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সঞ্জয় লীলা বনশালি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ জন্মদিনের পার্টিতে বনশালি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পরিচালকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, হাসপাতালে ভর্তির খবরটি একেবারেই ভিত্তিহীন এবং বনশালি এখন নিজের বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছেন।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বেশ আলোচনায় এসেছেন । তবে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান নানা বিষয়ে তাকে টার্গেট করে ইচ্ছে করে মানহানির চেষ্টা চলছে। মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং তার মানহানির চেষ্টা করায় আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ফেসবুকে মেহজাবীন লেখেন, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।' তার দাবি, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় তাকে কখনোই বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি। এমনকি তার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও জব্দ করা হয়নি। তার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মেহজাবীন বলেন, যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা তার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়েছে—এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে কিনা।পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমানে মানহানি যেন খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অভিযোগ, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ক্লিকবেইট তৈরির উদ্দেশ্যে তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টে বিদেশ থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল। সেখানে তার লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ ‘রিয়েল ঈদ, রিয়েল ডিলস’ থিমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত ক্যাম্পেইন ‘৩.৩ ঈদ সেল’। ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের কেনাকাটায় বাড়তি আনন্দ যোগাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনজুড়ে ক্রেতারা পাচ্ছেন আকর্ষণীয় সব ডিল, নামী ব্র্যান্ডগুলোর সাথে বিশেষ কোলাবরেশন এবং পেমেন্ট পার্টনারদের মাধ্যমে নিশ্চিত সাশ্রয়ের দারুণ সুযোগ।ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতিকে আরও সহজ করতে এই ক্যাম্পেইনে থাকছে ফ্ল্যাশ সেল এবং মেগা ডিল যেখানে মিলবে ৮০% পর্যন্ত ছাড়, পাশাপাশি হট ডিলগুলোতে থাকছে ৭৫% পর্যন্ত বিশাল ডিসকাউন্ট। এছাড়া ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ব্র্যান্ড ফ্ল্যাট ডিসকাউন্ট, সাইট-ব্যাপী ডেলিভারি ডিসকাউন্ট এবং নির্দিষ্ট পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা। ফ্যাশন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বিউটি এবং লাইফস্টাইলসহ প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই দারাজ নিশ্চিত করছে বাজারসেরা দাম, যা রমজানের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ঈদের প্রস্তুতিকে করবে আরও সাশ্রয়ী।দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দারাজ তাদের 'চয়েস' চ্যানেলের মাধ্যমে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) অফারটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে গ্রাহকরা বড় কোনো ক্যাম্পেইনের জন্য অপেক্ষা না করেই সারা বছর প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সবচেয়ে কম দামে কেনার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। ৩.৩ ঈদ সেল চলাকালীন দারাজ চয়েস থেকে ৩টি পণ্য কিনলে ফ্রি ডেলিভারি এবং ৫টি পণ্য কিনলে ১টি ফ্রি গিফট পাওয়ার পাশাপাশি ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা, যা বড় পরিবারের কেনাকাটাকে করবে আরও লাভজনক।ক্যাম্পেইনের গতি ধরে রাখতে আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন থাকছে ‘পাগলা ফ্ল্যাশ’ ডিল। যেখানে প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে ৫টা এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা- এই দুটি বিশেষ সময়ে সেরা সব পণ্যে মিলবে অতিরিক্ত ১০% ছাড়। এছাড়া ২, ৫, ৭, ৯ এবং ১২ মার্চ আয়োজিত হবে বিশেষ ‘ব্র্যান্ড রাশ আওয়ার’ যেখানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে পাওয়া যাবে ফ্ল্যাট ৩০% বা ৫০% ডিসকাউন্ট। অন্যদিকে ৬ ও ১৩ মার্চ রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলবে ‘জুম্মা নাইটস’ অফার, যেখানে ন্যূনতম ৩৪৯ টাকার অর্ডারে ৯% ডিসকাউন্ট ভাউচার উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা।ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়েছে সিলন ওয়ার্ল্ড কাপ ম্যানিয়া টিকিট গিভঅ্যাওয়ে। ক্যাম্পেইন চলাকালে সর্বোচ্চ অর্ডার প্রদানকারী এবং অন্তত একটি সিলন পণ্য ক্রয়কারী গ্রাহক জিতে নিতে পারবেন এক্সক্লুসিভ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ম্যাচ টিকিট, যা পুরো সেলজুড়ে গ্রাহকদের অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করবে।পুরো সপ্তাহজুড়েই গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন থিমভিত্তিক শপিংয়ের সুযোগ। এর মধ্যে রয়েছে চয়েস ডে স্যাটারডে, ফ্যাশন ফরোয়ার্ড সানডে এবং মানডে, ইলেকট্রিক্যাল টিউজডে, বুধবারের বাজার, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস থার্সডে এবং লাইফস্টাইল কোজি ফ্রাইডে। প্রতিটি নির্দিষ্ট দিনে সেই ক্যাটাগরির ওপর বিশেষ ডিল ও সীমিত সময়ের অফার উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা।এবারের ৩.৩ ঈদ সেল সফল করতে দারাজের সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের জনপ্রিয় সব ব্র্যান্ড। এক্সক্লুসিভ প্ল্যাটিনাম পার্টনার হিসেবে রয়েছে ডেটল, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, লোটো এবং হিমালয়া। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে প্যারাশুট ন্যাচারালে ও বাটা এবং সিলভার স্পন্সর হিসেবে সাথে রয়েছে গোদরেজ। এই শক্তিশালী পার্টনারশিপের মাধ্যমে প্রতিটি সেগমেন্টেই ক্রেতারা পাচ্ছেন শতভাগ আসল এবং মানসম্মত পণ্যের নিশ্চয়তা।গ্রাহকদের কেনাকাটা আরও উপভোগ্য করতে দারাজ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে নিয়ে এসেছে আকর্ষণীয় সব ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার। ক্রেতারা বিকাশ, নগদ, সিটি ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-র মাধ্যমে পেমেন্ট করে ১০% পর্যন্ত ছাড় বা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন।এছাড়া দারাজে সংরক্ষিত মাস্টারকার্ড ব্যবহারকারী কার্ডের সর্বোচ্চ স্পেন্ডারদের জন্য রয়েছে টিভি এবং এসি-র মতো মেগা পুরস্কার। ইবিএল ভিসা ক্রেডিট কার্ডধারীরা ১২ মাস পর্যন্ত ০% সুদে ইএমআই সুবিধায় পাবেন ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক এবং এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা ৬ মাস পর্যন্ত ০% সুদে ইএমআই-তে পাবেন ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে দারাজ বাংলাদেশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার কামরুল হাসান বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ এবং পারস্পরিক মেলবন্ধন। আমাদের ৩.৩ ঈদ সেলের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যেন প্রতিটি পরিবার এই আনন্দ উৎসবের সেরা পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সংগ্রহ করতে পারে। ‘রিয়েল ঈদ, রিয়েল ডিলস’ স্লোগানটি মূলত আমাদের গ্রাহকদের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যেখানে আমরা সেরা দাম, বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড এবং একটি নিরবচ্ছিন্ন শপিং অভিজ্ঞতার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”৩.৩ ঈদ সেল চলাকালে দারাজ বাংলাদেশ সবাইকে ‘রিয়েল ঈদ, রিয়েল ডিলস’-এর এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। নতুন নতুন ডিল উপভোগ করতে গ্রাহকরা ভিজিট করতে পারেন দারাজ ৩.৩ ক্যাম্পেইন পেজ অথবা দারাজ অ্যাপ। সর্বশেষ আপডেট পেতে দারাজ বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজর রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে এবার বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক অভিযানে গত কয়েক দিনে দেশটিতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন।আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। অন্য দুই জন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ছোঁড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে ১৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২টি ক্রুজ মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমুদ্রে পতিত হয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া ৫৪১টি ইরানি ড্রোনের মধ্যে ৫০৬টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে আমিরাতি বাহিনী। তবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পড়ায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে এবং বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমিরাত সরকার একে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নাগরিকদের শান্ত থাকার ও সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ। এখানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ আদায়-ই করেন না। বরং অনেক জায়গায় এই মসজিদ ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিকতার জ্ঞান অর্জনের চর্চা কেন্দ্র। দেশে দেশ পবিত্র মসজিদগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা স্থাপত্যের হয়ে থাকে। যার অপূর্ব স্থাপত্যে আর শৈল্পিকরুপ বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের আকর্ষণীয় সিলিং, দেয়ালের মার্বেল পাথর, অসধারণ কারুকাজ করা মিনার ইসলামিক কারুশিল্প এবং শৈল্পিকতাকে উপস্থাপন করে। এরকম কিছু সুন্দর মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হলো-আল-হারাম মসজিদ, সৌদি আরবআল-হারাম মসজিদ সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত। আল হারাম শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদই নয়, এটিকে পবিত্রতম স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ৪,০০,৮০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদ। লক্ষ লক্ষ লোক হজ এবং ওমরাহ পালনের জন্য আল-হারাম মসজিদ পরিদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ হিসাবে স্থান পেয়েছে। মোট ৪ মিলিয়ন মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এই মসজিদে।শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবিসংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই মসজিদ অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম হস্তনির্মিত কার্পেট এই মসজিদে রয়েছে। একটি ১২ টন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে যা দেখতে অনেক পর্যটক চলে আসে। ৮২টি সাদা মার্বেল গম্বুজ, ১,০৬৯ টি বাহ্যিক কলাম, ৯৬ টি অর্ধমূল্য রত্ন-ঢাকা অভ্যন্তরীণ কলাম, সাতটি ২৪ ক্যারেট সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে। মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক লেখা রয়েছে যা মুসলমানদের ধৈর্য বজায় রাখতে এবং শান্তি ছড়িয়ে দিতে উত্সাহিত করে।হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক হাগিয়া সোফিয়া মসজিদটি শুধুমাত্র অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের জন্য বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি এই মসজিদ। এই পবিত্র স্থানটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের একটি জীবন্ত উদাহরণ। এটি মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে অটোমান শাসনামলে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। হাগিয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত আরবি ভাষায় দীর্ঘ মিনার এবং শিলালিপি রয়েছে। যেখানে সুন্দর মোজাইকগুলি খ্রিস্টানদের অতীতের কথা বলে।নাসির-আল-মুলক মসজিদ, ইরাননাসির আল-মুলক মসজিদ তার অসম্ভাব্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বিখ্যাত। মসজিদটি প্রচুর গোলাপী টাইলস দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি ‘গোলাপী মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৯ শতকে এটি কাজার রাজবংশের মির্জা হাসান আলী নাসিরের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির চত্বরে একটি সুন্দর আয়তাকার পুল রয়েছে। যার চারপাশে ফুলের গাছপালা ঘেরা। মসজিদটি রঙিন কাচ দিয়ে ঘেরা। যার ফলে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে এক ধরনের আলোর খেলা শুরু হয়।ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, ক্রোয়েশিয়াএই মসজিদটি সমসাময়িক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার একটি সুন্দর সমন্বয়। বাঁকা জ্যামিতিক আকৃতি এবং নিদর্শন সমন্বিত নকশায় গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটিতে একটি অনন্য শৈলীযুক্ত গম্বুজ রয়েছে। যা পাঁচটি পৃথক অংশে বিভক্ত। ইসলামিক সেন্টার মসজিদটি সুপরিচিত ক্রোয়েশিয়ান ভাস্কর, দুসান জামোনজা দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।লিড মসজিদ : আলবেনিয়ার সাকোদার নগরীতে এই মসজিদটি অবস্থিত। হুই মসজিদ : চীনের নিংজিয়ায় এই মসজিদটি রয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।সেন্ট পিটার্সবুগ মসজিদ : রাশিয়ার পিটার্সবুর্গে এই মসজিদটি রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত মসজিদ।আল নিদা মসজিদ : এই মসজিদটি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।সানসাইন মসজিদ : অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে সূর্যের আলো পরলে চকচক করে।কুলশারিফ মসজিদ : রাশিয়ার কাজানে এই মসজিদটি রয়েছে। রাশিয়া ভ্রমণে গেলে প্রতিটি মুসলমানই চেষ্টা করেন এই মসজিদটি ঘুরে আসতে।বাদশাহী মসজিদ : পাকিস্থানের সবচেয়ে ঐতিহ্য মণ্ডিত এই মসজিদটি সে দেশের গর্বের প্রতীক। গ্রিন লেন মসজিদ : ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রতিটি মুসলমান এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বরকতময় মাস রমজান। এটি শুধু উপবাসের মাস নয়; আত্মিক পরিশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষায় ভরা এক মহিমান্বিত সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই সাধনা মুমিনের জীবনে আনে প্রশান্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা।আত্মিক পরিশুদ্ধির আহ্বানরমজান মানেই এক পবিত্র আবহ। ভোরের সেহরি থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সৌরভে ভরপুর। এ মাসে মানুষ কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার চর্চা করে। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক বিশেষ অনুশীলন। এই এক মাসের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক শিক্ষাই যেন বছরের বাকি সময়ের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।ইফতারের আমেজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনদিনভর সিয়াম সাধনার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, খেজুর ও শরবতের সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে ইফতারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চর্চা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষারমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার প্রকৃত অর্থ। যারা সারা বছর অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ এনে দেয় এই মাস। তাই রমজানে দান-সদকা ও জাকাত প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো—এসবের মধ্য দিয়েই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়।বদলে যাওয়া নাগরিক জীবনরমজানে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দেও আসে পরিবর্তন। অফিস-আদালতের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়, বাজারে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে শেষ দশকে ঈদের আনন্দঘন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের হৃদয়ে থাকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। শান্তি, রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের কাছে ফিরে আসে এই মহিমান্বিত মাস। রমজানের সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবে গড়ে উঠবে কলুষমুক্ত, সুন্দর এক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন—এই হোক মাহে রমজানের অঙ্গীকার।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও প্রশাসনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিশু তাহিয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কারা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমন এবং অপরাধীদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফের প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের সকল মজলুম মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।