প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এক কলেজছাত্রের নিজ হাতে তৈরি করা একটি গো-কার্ট (রেসিং কার) শুধু পর্যবেক্ষণই করেননি, নিজে চালিয়েও দেখেছেন তিনি।২৫ এপ্রিল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য দেখা যায়।জানা যায়, রিজয়ান রশীদ নামে এক কলেজছাত্র সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি ও মেধা খাটিয়ে একটি গো-কার্ট বা ছোট রেসিং কার তৈরি করেছেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয় প্রাঙ্গণে গাড়িটি নিয়ে আসা হলে প্রধানমন্ত্রী সেটি দেখতে যান। এ সময় তিনি বেশ সময় নিয়ে গাড়িটির নির্মাণশৈলী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।এরপর উদ্ভাবক রিজয়ান রশীদসহ দেশের অন্যান্য মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণদের কাজে আরও উৎসাহ জোগাতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রেসিং কারটির স্টিয়ারিং ধরেন এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণে তা চালিয়ে দেখেন।
সরকার দেশে স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।শনিবার (২৫ এপ্রিল) টেলিকম পলিসি নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যাতে গরিব মানুষের হাতেও একটা স্মার্টফোন থাকে, সেজন্য সরকার এই উদ্যোগ নিতে চায়। যাতে তারাও ডিজিটাল সেবা পান।তিনি আরও বলেন, দেশের গরিব মানুষের কাছ থেকে ১০০ টাকার মোবাইল রিচার্জে সরকার সরাসরি ৩৮ টাকা করবাবদ কেটে নিচ্ছে। এটা ঠিক না।টেলিকম সেবায় আরোপিত ট্যাক্স-ভ্যাট কমানো নিয়ে সরকার এরইমধ্যেই কাজ শুরু করছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ফাইভজি সেবার আওতায় আনতে চায় সরকার। একইসঙ্গে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও নিশ্চিত করতে চাই।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা আরও বলেন, গ্রাহক মোবাইল সার্ভিস নিতে অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।এসময় উপদেষ্টা হিসেবে কাজের জন্য সরকারের কাছ থেকে তিনি কোনো বেতন নেন না বলে জানান।উপদেষ্টা বলেন, কোনো সরকারি গাড়িও ব্যবহার করি না। আমি দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি।
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল আগামী ১ মে শ্রমিক দিবসে সমাবেশ করবে। নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর আড়াইটায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। ২৫ এপিল শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে—জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা ও তীব্র নিন্দা জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, তিনি (জামায়াত আমীর) ও তার দল কখনোই সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করেন না। দেশি ও বিদেশি সব পর্যবেক্ষক একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এই নির্বাচনে বিএনপি তাদের জনপ্রিয়তার মাধ্যমে ২১৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। সুতরাং জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য আমি প্রত্যাখ্যান করছি—নিন্দা জানাচ্ছি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, আজ বিভিন্নভাবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপর ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। বিভেদ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে। ৫ আগস্টের পর দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। একটি মহল আবারও স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কি না—সেটি আমাদের চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকেও চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কি না, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে।তিনি আরও বলেন, অতীত ইতিহাস বিবেচনায় জনগণ ইতোমধ্যেই ওই দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতেও যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।দলীয় সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ।গাজায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই নির্বাচনে জিতেই উপত্যকায় ক্ষমতাসীন হয়েছিল সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রথমেই প্রতিপক্ষ ফাতাহ-কে গাজা থেকে উচ্ছেদ করে হামাস। ফাতাহ পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন এবং ফিলিস্তিনের বৈধ সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) জোটের অন্যতম শরিক দল।২০০৭ সালে ফাতাহকে বিতাড়িত করার পর অলিখিতভাবে গাজায় সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিল হামাস। ২০০৬ সালের পর থেকে পরবর্তী ২০ বছর আক্ষরিক অর্থেই কোনো নির্বাচন হয়নি উপত্যকায়।২০২৩ সালের ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলা এবং তার জবাবে ২ বছর ধরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ সামরিক অভিযান চলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে হামাস এবং ইসরায়েল।যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার পাশাপাশি গাজার ক্ষমতাও ছাড়তে হয় হামাসকে; কারণ ট্রাম্পের প্রস্তাবের একটি পয়েন্টে উল্লেখ করা ছিল যে হামাসকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং নির্বাচিত সরকার আসার আগ পর্যন্ত গাজার শাসনক্ষমতা থাকবে একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট সরকার। কয়েক মাস আগে সেই টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিতও হয়েছে। সেই সরকারের অধীনেই হচ্ছে এই নির্বাচন।পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন পিএ জোট এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গাজার রাজনীতিতে ফের নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে।ইউরোপ এবং মধ্যপ্রচ্যের অনেক দেশের সরকার গাজার এই স্থানীয় নির্বাচনের পূর্ণ প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালের ও গাজা উপত্যকার সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠন প্রক্রিয়া এবং ফিলিস্তিনের জনগণের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও গতিশীল হবে।পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, দেইর আল বালাহের নির্বাচন যদি সফল হয়— তাহলে তা পুরো গাজায় নির্বাচনের পরিস্থিতি সৃষ্ট করবে এবং দুই দশক পর গাজায় একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরাল করবে।গাজায় ক্ষমতাসীন টেকনোক্র্যাট সরকারের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো গাজা উপত্যকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তারা; কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজার শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এবং এখনও জঞ্জাল পরিষ্কার না হওয়ায় আপাতত দেইর আল-বালাহ শহরেই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ইসরায়েলি অভিযানে অন্যান্য শহরের তুলনায় এই শহরটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কম।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহের পৌর নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৪৯ জন। শহরজুড়ে মোট ১২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে; এসব ভোট কেন্দ্রের বেশিরভাগই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে।গাজার সাবেক ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস অবশ্য এই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে, তবে হামাসের সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে সম্পর্কিত কয়েক জন ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।দেইর আল-বালাহের সাধারণ ভোটাররা এই নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন। আদহাম আল-বারদিনি নামের এক তরুণী ভোটার রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি জন্মের পর থেকে নির্বাচনের কথা শুধু শুনে এসেছি। আজ নিজের চোখে দেখলাম নির্বাচন ব্যাপারটা আসলে কী।”“আমরা এতে অংশ নিতে আগ্রহী। কারণ যে বাস্তবতা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে— আমরা তার পরিবর্তন চাই।”সূত্র : রয়টার্স
গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি আদায় করে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা কোন অস্থিতিশীলতা চাই না আমাদের দাবি একটাই, গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সম্মান দেয়া, শহীদ পরিবারকে সম্মান দেয়া। আমরা সেটার জন্য রাজপথে এবং সংসদে আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই দাবি আদায় করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ।’২৫ এপ্রিল শনিবার জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে জাতীয় সমাবেশে নাহিদ এসব কথা বলেন। সমাবেশে সারাদেশ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাইয়ের আহত কয়েক হাজার যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা নেই, যারা মুরুব্বী আছেন তারা বলতে পারবেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোন সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা। আমরা জানি না আগামী ছয় মাসে তাদের কি পরিণতি হবে।’নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে, বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল এদেশে আর কখনো স্বৈরতন্ত্র ফেরত আসতে দেয়া হবে না। এজন্য দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচ তারিখের পর থেকেই প্রতি পদে পদে বিএনপি সংস্কারে বাধা দিয়ে এসেছে। একটা পর্যায়ে তাঁরা ঐকমত্য কমিশনে আসে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে এসেও তারা প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করে অসম্মতি জানিয়ে এসেছে।’জনগণের গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপি গণভোটকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে সেই বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের পরে গণভোটকে অস্বীকার করছে। এর মাধ্যমেই বিএনপি মূলত তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।’আওয়ামী লীগ এর পথে হাঁটালে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যে নতুন করে দলীয়করণ করছে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পথেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথে, পুরনো স্বৈরাচারের পথে এ দেশকে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও রুখে দাঁড়াবে। এদেশের তরুণ সমাজ আবারও রুখে দাঁড়াবে। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ছাত্র জনতা আবারো রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।' নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই কার্ড দিতে দিতে তাদের জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তেল ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছে কোন জ্বালানি সংকট নাই। বাস্তব সমস্যাতে অস্বীকার করছে, অর্থনৈতিক সমস্যা কে অস্বীকার করছে। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে সেটাকে অস্বীকার করছে। আমরা সর্বাত্মকভাবে এ সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম, দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সরকার সহযোগিতা নেয়ার সকল দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।’সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বাংলার উৎসবের রঙ, আনন্দ ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে আবারও শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘বাংলার প্রেমে উইকি ২০২৬’ (Wiki Loves Bangla)। অংশ নিয়ে জিতে নেয়ার সুগোগ থেকছে মোট $১,১০০ নগদ পুরস্কার। উইকিমিডিয়া আন্দোলনের এই উদ্যোগটি বাংলা সংস্কৃতিকে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম।২০২৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসর শুরু হয়েছে গত ১৪ আগস্ট এবং চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম’-এর অংশ হিসেবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করছে ‘বাংলা উইকিমৈত্রী’। প্রতিবছর বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলা বৈশাখ মাস জুড়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ‘বাংলার উৎসব’—পহেলা বৈশাখ থেকে দুর্গাপূজা, ঈদ, নবান্ন কিংবা গ্রামীণ মেলা—বাংলার প্রাণের প্রতিটি উৎসবই হতে পারে আপনার ক্যামেরার গল্প। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ছবি ও ভিডিও জমা দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে, এবং একজন অংশগ্রহণকারী একাধিক কাজ জমা দিতে পারবেন।আয়োজকদের মতে, বাংলার উৎসবের চিত্র কেবল সৌন্দর্যের মুহূর্ত নয়—এগুলো আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ডিজিটাল মাধ্যমে এসব আলোকচিত্র সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য ও জীবনাচার দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।প্রতিযোগিতায় সেরা ১০টি আলোকচিত্র আন্তর্জাতিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে ১ম স্থান অর্জনকারী পাবেন $৪০০, ২য় স্থান অর্জনকারী $৩০০ এবং ৩য় স্থান অর্জনকারী $২০০ নগদ পুরস্কার। এছাড়াও শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীর জন্য থাকবে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। এছাড়াও সেরা ভিডিওর জন্য থাকছে $১৫০ নগদ পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র।প্রতিযোগিতার আয়োজক ‘বাংলা উইকিমৈত্রী’ একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যা বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলাভাষী উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। ২০২৩ সালে মার্কিন অলাভজন প্রতিষ্ঠান উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের স্থানীয় চ্যাপ্টার উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উইকিমিডিয়া ব্যবহারকারী দলের যৌথ উদ্যোগে এই উইকিমিডিয়া হাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আরও জানতে ও অংশগ্রহণ করতে দেখুন: https://w.wiki/KLbd
সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনেক সময় আংশিক ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালায়। মাহদী আমিন লিখেন, পাশাপাশি, গণঅভ্যুত্থানের পরও অশালীন আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ধারণ করে তারা যে জনমানস থেকে বিচ্ছিন্ন, তা সোশ্যাল মিডিয়া হাইপের বিপরীতে নির্বাচনী ফলাফলেই প্রমাণিত। সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের নিয়ে নামে-বেনামে, নিজ বা ভিন্ন পরিচয়ে, ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর শব্দ চয়ন এক ধরনের গুপ্ত স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও লিখেন, গঠনমূলক রাজনীতির স্বার্থে এখন প্রয়োজন সংযত ভাষা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ইতিবাচক আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। বিরোধী দলের মনে রাখা প্রয়োজন, মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখা জরুরি। ন্যায়সঙ্গত অবস্থান ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজকে শক্তিশালী করে।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসহাক সরকারকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ জন্য বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।ইসহাক সরকার আগে ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তিন শতাধিক মামলার আসামি হন। পরে কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে খালাস পান।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হন।একই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া মহিউদ্দিন রনি রেল খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। আর নুরুজ্জামান কাফি সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিও নির্মাণ করে পরিচিতি লাভ করেন।দলটির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, নতুন এ অন্তর্ভুক্তি এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি আরও জোরদার করবে।
বৈশ্বিক এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলা এবং ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এর সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান। খবর তথ্য বিবরণীর। সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করছে। এ প্রেক্ষাপটে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি আরও জানান, ঋণের ব্যয় হ্রাস, অকার্যকর অবকাঠামো-সম্পর্কিত ঋণ পরিহার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।একই সঙ্গে একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পাচার করা সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার দেশে স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।শনিবার (২৫ এপ্রিল) টেলিকম পলিসি নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যাতে গরিব মানুষের হাতেও একটা স্মার্টফোন থাকে, সেজন্য সরকার এই উদ্যোগ নিতে চায়। যাতে তারাও ডিজিটাল সেবা পান।তিনি আরও বলেন, দেশের গরিব মানুষের কাছ থেকে ১০০ টাকার মোবাইল রিচার্জে সরকার সরাসরি ৩৮ টাকা করবাবদ কেটে নিচ্ছে। এটা ঠিক না।টেলিকম সেবায় আরোপিত ট্যাক্স-ভ্যাট কমানো নিয়ে সরকার এরইমধ্যেই কাজ শুরু করছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ফাইভজি সেবার আওতায় আনতে চায় সরকার। একইসঙ্গে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও নিশ্চিত করতে চাই।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা আরও বলেন, গ্রাহক মোবাইল সার্ভিস নিতে অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।এসময় উপদেষ্টা হিসেবে কাজের জন্য সরকারের কাছ থেকে তিনি কোনো বেতন নেন না বলে জানান।উপদেষ্টা বলেন, কোনো সরকারি গাড়িও ব্যবহার করি না। আমি দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি।
বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল আগামী ১ মে শ্রমিক দিবসে সমাবেশ করবে। নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর আড়াইটায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। ২৫ এপিল শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে—জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা ও তীব্র নিন্দা জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, তিনি (জামায়াত আমীর) ও তার দল কখনোই সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করেন না। দেশি ও বিদেশি সব পর্যবেক্ষক একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এই নির্বাচনে বিএনপি তাদের জনপ্রিয়তার মাধ্যমে ২১৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। সুতরাং জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য আমি প্রত্যাখ্যান করছি—নিন্দা জানাচ্ছি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, আজ বিভিন্নভাবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপর ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। বিভেদ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে। ৫ আগস্টের পর দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। একটি মহল আবারও স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কি না—সেটি আমাদের চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকেও চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কি না, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে।তিনি আরও বলেন, অতীত ইতিহাস বিবেচনায় জনগণ ইতোমধ্যেই ওই দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতেও যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।দলীয় সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।
নওগাঁর নিয়ামতপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত ২১ এপ্রিল একই পরিবারের চার সদস্য—পিতা, মাতা ও দুই শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সবুজ (ভাগ্নে), শাহীন (ভাগ্নে) ও শহিদুল (ভগ্নিপতি ও শাহিনের পিতা)। তাদের দেখানো মতে জঙ্গল ও পানির ডোবা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও বড় ছোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।এ ঘটনায় শাহীন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যদিকে, শাহীন মন্ডল ও তার পিতা শহিদুল মন্ডলকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ডে তারাও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহীন মন্ডল হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তারা তার মামা হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে। এ সময় শাহীন ধারালো হাসুয়া দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করে এবং তার বাবা শহিদুল, কাজিন সবুজসহ অন্যরা ভুক্তভোগীকে চেপে ধরে রাখে। পরে স্বপন নামে এক ব্যক্তি বড় ছোড়া দিয়ে গলা কেটে দেয়।এরপর তারা হাবিবুরের স্ত্রীকে হত্যা করে। পরে ঘরে ঢুকে দলিল ও গরু বিক্রির টাকা খোঁজার সময় শিশু সন্তান জাকির ও সাদিয়া জেগে উঠলে, তাদেরও জবাই করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমিজমা ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শুরুতেই ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে খেললেন ৪২ ওভার পর্যন্ত। বিপর্যয় সামলে মাঝে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। এরপর অবশ্য তার পথচলা আর বেশি দূর যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ।শুরুতে দেখেশুনে খেলতে থাকা শান্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রান বাড়িয়ে নিয়েছেন। ম্যাচের ৪১তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।এরপর অবশ্য আর বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি শান্ত। ৪৩তম ওভারের শেষে বলে লিনক্সের শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ধরা পড়েন বাউন্ডারির কাছে। ফেরা আগে ১১৯ বলে করেন ১০৫ রান। ৯ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।হাফসেঞ্চুরি করে ফিরলেন লিটন, দুইশর পথে বাংলাদেশলিটনকে দাসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে ছুটছেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দিতে এসে লিটনও খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন তিনিও। কিন্তু আর আগেই কাটা পড়লেন লিটন।৩৩তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১৩তম ফিফটি তুলে নেন লিটন। দুটি চারে ৭১ বলে ফিফটি করেছেন তিনি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ৩৯তম ওভারে প্রথম বলে জেডেন লিনক্সের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরা আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৯১ বলে ৭৬ রান।শান্ত-লিটনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশশুরুতেই নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রোর্ক ভয় ধরে দিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে। পাওয়ার-প্লেতেই তিন উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। এরপর অবশ্য নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলারকেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশের দুই ব্যাটার লিটন দাস আর নাজমুল হোসেন শান্ত। স্বাগতিকদের পথ দেখাচ্ছেন তারা।তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন লিটন আর শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সুযোগ না দিয়ে এগিয়ে চলছেন তারা। শতরান ছাড়িয়েছে তাদের জুটি। ইতোমধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শান্ত। লিটনও ছুটছেন সেই পথেই।বিপর্যয় সামলে এগোচ্ছে বাংলাদেশদুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিম ফেরার পর ভালোই খেলছিলেন সৌম্য সরকার। শুরুটাও ভালো পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংস আর বড় করতে পারলেন কোথায়! পাওযার প্লেতেই আরও এক উইকেট হারাল বাংলাদেশ।নবম ওভারে ও’রোর্কের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য। ফেরার আগে ২৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম তিন উইকেটই শিকার করেন এই কিউই পেসার।শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশব্যাটিংয়ে নেমে চোখে যেন সর্ষেফুল দেখলেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। দলকে বিপদে ফেলে বিদায় নিলেন দুজনই।ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট বিলিয়ে দিলেন সাইফ। উইল ও’রোর্কের ডেলিভারিতে উইকটের পেছনে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগেই উইকেট নেই। তৃতীয় ওভারে আবার রোর্কের আঘাত। ৫ বলে ১ রান করে বোল্ড হলেন তামিম। ৯ রানে ঘটে দ্বিতীয় উইকেটের পতন।টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তনঅলিখিত ফাইনালে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে নিউজিল্যান্ড।শেষ ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। দুজনকে জায়গা করে দিতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনকে।বাংলাদেশ একাদশমেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, সাইফ হাসান, তানভীর ইসলাম, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ নুসরাত জাহানকে তলব করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী ২২ এপ্রিল কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই অভিনেত্রীকে।ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশে গম পাঠানোকে কেন্দ্র করে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত।ধারণা করা হচ্ছে, এই পাচারচক্রের কিছু আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অভিনেত্রীর যোগসূত্র থাকতে পারে।তবে সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল কলকাতায় ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তদন্তকারীদের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন নুসরাত জাহান। তিনি কলকাতায় নয়, বরং দিল্লিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে চান। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পাঁচ বছরের জন্য বসিরহাট লোকসভা আসনের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহান। সেই সময় দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হলেও পরবর্তী নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।তবে দলটির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এখনও রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ইডির এই তলবের পর নুসরাত কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। একইসঙ্গে তার আইনজীবীরা কী অবস্থান নেন, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানজিন তিশা অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন সেন্স নিয়েও বেশ সচেতন। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই নিজেকে মেলে ধরেন নানা রূপে ও সাজে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একগুচ্ছ নতুন ছবি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সেখানে তার সাজ ও আভিজাত্য ভক্ত-অনুরাগীদের বেশ নজর কেড়েছে। বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা মাঝেমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন। কখনো অভিনয়ের প্রশংসা, আবার কখনো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের জেরে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় থাকেন এ তারকা। বর্তমানে তানজিন তিশা বিভিন্ন ইভেন্ট ও ফটোশুটে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর আগে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। যদিও এ নাটকটি ঘিরে তিশার বিরুদ্ধে একটি বিতর্কও দানা বেঁধেছিল। এদিকে ছবিতে দেখা গেছে, অভিনেত্রীকে একটি প্যাস্টেল শেডের কারুকাজ করা শাড়িতে। হালকা গোলাপি রঙের এ শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ফুল স্লিভ ব্লাউজ ও গলায় ভারি চকার তার লুকে এনেছে রাজকীয় আভা। কানের দুল আর খোঁপা করা চুল তার এই বিশেষ সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মেকআপেও ছিল তানজিন তিশার স্নিগ্ধতার ছাপ। গোলাপি আইশ্যাডো ও লিপস্টিকে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।পোস্ট করা ছবিতে আরও দেখা গেছে, অভিনেত্রীর নানা ঢঙে পোজ ছিল বেশ নজরকাড়া। কখনো বসে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে মিষ্টি হেসে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন তিনি। কোনো ছবিতে তার চোখের মায়াবী চাহনি দিতেও দেখা যাচ্ছে। নিজের এই লুক তানজিন তিশার কতটা পছন্দ হয়েছে তা বোঝা যায় তার দেওয়া ক্যাপশনেও। অভিনেত্রী ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন— এই সাজকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি। একই ফটোশুটের ছবি আরও একটি পোস্টে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন— কথায় নয়, কাজেই পরিচয়।তানজিন তিশার এ ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেই মুহূর্তেই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। অসংখ্য লাইক ও কমেন্ট করেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসায় মেতে উঠেন নেটিজেনরা। বেশ কয়েকজনের মন্তব্য এমন— দেখে সুন্দর, অনন্য লাগছে, শাড়িতে মানিয়েছে।
উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও আমেরিকা) বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেখানে মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ছবিটি ছাড়িয়ে গেছে এ যাবৎকালে আয়ের শীর্ষে থাকা সিনেমা ‘হাওয়া’-র লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’ ও বক্স অফিস ট্র্যাকার ‘কমস্কোর’। জানিয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহেই ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার আয় করে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে ৫৪টি থিয়েটারে প্রদর্শিত হওয়া সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে।এর আগে উত্তর আমেরিকার বাজারে ‘হাওয়া’ সিনেমাটি মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার আয় করেছিল; এবার তার রেকর্ড ভেঙেছে বনলতা এক্সপ্রেস।সিনেমাটির অভাবনীয় এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছেন। অন্যদিকে সিনেমার পরিচালক তানিম নূর দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য, তানিম নূর পরিচালিত ও বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই সিনেমাটি গেল শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে মোট ২২টি থিয়েটারে তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও শরীফুল রাজসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে হইচই প্রোডাকশন।
জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন নটিয়াল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা। তাই তার বিয়ের খবরটিও সামনে এসেছে অনেকটা নিভৃতেই।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একেবারে সাদামাটা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই শুভ আয়োজন। শোনা যাচ্ছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জুবিন, তিনি তার শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। তবে কনের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেননি এই গায়ক। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দেরাদুনের এই শিল্পী ২০১১ সালে ‘এক্স ফ্যাক্টর ইন্ডিয়া’ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেবল’ সিনেমার ‘এক মুলাকাত’ গানের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ‘জিন্দেগি কুছ তো বাতা’ এবং ‘কাবিল’এর টাইটেল ট্র্যাক গেয়ে। পরবর্তীতে ‘লুট গায়ে’, ‘তুম হি আনা’ এবং ‘রাতা লম্বিয়া’র মতো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ‘শেরশাহ’ সিনেমার ‘রাতান লম্বিয়াঁ’ গানটি তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রিয় গায়কের নতুন জীবনের জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি রণবীর সিং-দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আবারও ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রেম আর আট বছরের দাম্পত্য জীবন কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায়, রেডিটে একটি ভাইরাল পোস্ট থেকেই এই জল্পনার শুরু। সেখানে দাবি করা হয়, রণবীর ও দীপিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নাকি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারেন এই তারকা দম্পতি।এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছে ভক্তদের মধ্যেও। বিশেষ করে তাদের কন্যা দুয়া’র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি রণবীর বা দীপিকা কেউই।এই সিনেমা সাফল্যের সময় দীপিকার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রিমিয়ারেও তাকে না দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও পরে সমালোচনার জবাবে দীপিকা স্পষ্টই জানান, তিনি সিনেমাটি সবার আগেই দেখে ফেলেছেন।এদিকে তারকা দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে নাকচ করেন রণবীর নিজেই। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। সংসার জীবনে তারা ভালো আছেন।ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়—বাস্তবের সঙ্গে যার মিল অনেক সময়ই থাকে না।সব মিলিয়ে, ‘বাজিরাও-মাস্তানি’ জুটির সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সত্যিটা জানতে এখন অপেক্ষাই ভরসা।
আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের দুই সিনেমা। যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ ও আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে অতল আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’।২০২২ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে প্রিমিয়ার হয় যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’। জিতে নেয় ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা। নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ারও মস্কোয় হচ্ছে। সিনেমায় অস্তিত্বসংকটে ভোগা এক মানুষের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা অতল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। তিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিও করেছেন তুষার।আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প, যেখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।‘প্রিন্সেস’ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ১৬ এপ্রিল, পর্দা নামবে ২৩ এপ্রিল।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হলেও সরকার পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করবে।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, দেশে ডিজেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম। এর ফলে পণ্যমূল্যে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ পয়সার মতো সামান্য প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় নানা অব্যবস্থাপনা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো অনেকাংশে গ্যাসনির্ভর উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও চাহিদা পূরণে আরও প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কারিগরি জটিলতার কারণে আমদানিতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসিয়া খাল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে, যা সিলেটের সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এদিকে সৌদি আরব থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুত বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতায় যাতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে নতুন সংরক্ষণাগার নির্মাণে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য এম এ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।তবে তার সঙ্গে একই দিন নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনো পায়নি পুলিশ।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরের হাওয়ার্ড ফ্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয়।তবে নিখোঁজ হওয়া আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি এবং তার খোঁজ পাওয়ার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কার্যালয়।নাহিদা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। সেদিন জামিলকে সর্বশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার ছাত্রাবাসে। অন্যদিকে নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায় সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে।জামিল ও নাহিদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাদের এক পারিবারিক বন্ধু পরদিন ১৭ এপ্রিল বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজাও জামিলের লাশ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছেন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক সংবাদটি জানাতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাহিদা এস বৃষ্টির বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
সুন্দরবনঘেঁষা গ্রাম টেপাখালী। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ওপারেই গহীন অরণ্য। ভৌগলিক অবস্থানে গ্রামটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। কেউ মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। কেউ বা মাছ ধরে কিংবা কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। তবে এবার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ধরে হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো ভিন্ন কিছু। নদীর জেগে ওঠা চরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ব্যতিক্রম এই অর্থে যে সাধারণত লোনাপানির চরে সুন্দরবনের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ-গুল্ম জন্মায় না। তবে এভাবে সুন্দরবনে পরিকল্পিত চারা লাগানোর দৃশ্য স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের একটি অংশ বাঁশ ও জাল দিয়ে ঘেরা। ভেতরে পলিব্যাগে সারি সারি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের চারা। ছোট্ট পরিসরের একটি নার্সারি। নদীতে জোয়ার ওঠা শুরু করেছে। চারাগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার আগে ছবি তুলতে গিয়ে নজর কাড়েন এক নারী, যিনি জালের ঘেরের ভেতরে ঢুকে চারাগাছের পরিচর্যা করছেন। তার নাম বাসন্তি মুন্ডা (৫০)। নিজের নার্সারির পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতার কথা এই প্রতিবেদককে বলছিলেন তিনি। ‘নিজেরাই কয়জন মিলে (নারী) এই গাছ লাগাইছি,’ বলছিলেন বাসন্তি। তিনি জানালেন, এই চরে কেওড়া, খলিশা, কাঁকড়া ও বাইন—চার ধরনের সুন্দরবনের গাছের চারা তৈরি হয়। গোলপাতার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বীজ না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। ‘তবে কয়েক দিনের মধ্যে গোল ফল সংগ্রহ করে সেই চেষ্টাও করা হবে,’ যোগ করেন বাসন্তির সঙ্গে কাজ করা আরেক নারী মনিকা মুন্ডা। বাসন্তী ছাড়াও নতুন এই উদ্যোগে আরও কয়েকজন নারী যুক্ত আছেন। তারা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী। এরা হলেন- মনিকা, রিতা, কমলা মণ্ডল ও সমলা। প্রথম দিকে অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, এভাবে চারা হবে কী না? তবে বাসন্তীর বিশ্বাস ছিল, হবে। তার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে নদীর চরে পইড়ে থাকা বীজ থেইকে তো চারা গজায় দেখি। সেই ভরসাতেই চেষ্টা করিছি, ফলও হয়েছে।’চারা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাসন্তী জানালেন, প্রথমে বাঁশ দিয়ে চারপাশ ঘিরে জাল টাঙানো হয়, যাতে ছাগল বা অন্য পশু ঢুকতে না পারে। এরপর ছোট ছোট জায়গা ভাগ করে প্রতিটি লাইনে ২০ থেকে ২৫টি পলিব্যাগ সাজিয়ে তাতে চরের মাটি ভরা হয়। তারপর নদীতে ভেসে আসা সুন্দরবনের ফল সংগ্রহ করে পলিব্যাগে বসানো হয়। সেখান থেকে বের হয়েছে নতুন চারা।তবে এই উদ্যোগের বিষয়টি বাসন্তির মাথায় ধরিয়ে দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। আত্মবিশ্বাসী বাসন্তি বলেন, একদিন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন এনজিওকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমায় গ্রামের কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে নদীর চরে সুন্দরবনের গাছের চারা উৎপাদনের প্রস্তাব দেন এবং বলেন তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে। বদৌলতে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং চারা বড় হলে প্রতিটি চারা ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়ার কথাও বলে।‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগলো। আমি প্রাথমিকভাবে বাড়ি এসে প্রতিবেশী কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। আর সেখান থেকেই শুরু।’নার্সারীতে কাজ করে স্বাবলম্বী বাসন্তিরা। তার স্বামী দীপঙ্কর মুন্ডা কাজের খোঁজে ইটভাটায় গেছেন এলাকার বাইরে। বাসন্তি তিন বছরের মেয়ে তনুশ্রীকে নিয়ে নদীর চরের পাশে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে থাকেন। নদীর চরের নার্সারি পরিচর্যার পাশাপাশি কখনও সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেন, কখনও দিনমজুরি করেন। মজুরি কত পান- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুরুষেরা এক বেলা কাজ করলি ৪০০ টাকা পায়। আমরা একই কাজ করে পাই ৩০০ টাকা। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন সুন্দরবনে যাই কাঁকড়া ধরতি। আগে বাঘের ভয় লাগত, এখন ভয় করে ডাকাইতের। বনে ডাকাইত না থাকলি শান্তিতে থাকতি পারতাম।’জানা যায়, বাসন্তিদের এই নার্সারী উদ্যোগে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কয়রা উপজেলা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানালেন, নদীর চরে বনায়নের একটি প্রকল্পের জন্য বিপুলসংখ্যক চারা প্রয়োজন। কিন্তু বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো এসব ম্যানগ্রোভ গাছের চারা উৎপাদন করে না। তাই স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে সুন্দরবনের ভেসে আসা ফল থেকে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল স্থানীয় লোকজন শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় চারা গবাদিপশু খেয়ে ফেলে। তাই নদীর চর ও বেড়িবাঁধের পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সংরক্ষণ জরুরি,’ যোগ করেন তিনি। নুরুজ্জামানের ভাষ্য, মূলত এই লক্ষ্যে কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতীরবর্তী প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।মনিকা মুন্ডা বলেন, আগে দিনভর কাঁকড়া ধরতাম। এখন কাঁকড়া ধরি আবার চারা লাগানোর কাজও করি। ফলে রোজগার আগের থেকে বেড়েছে। এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় লোকালয়ে প্রতিদিন নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন গাছের ফল। খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যরা এসব ফল সংগ্রহ করেন। তারা এসব ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটাতেন। এ কাজের ফলে বনভূমির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছিলো। তবে নার্সারি হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটা কমে গেছে। কয়রা উপজেলায় অবস্থিত কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা এই প্রতিবেদককে বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে এলে এলাকায় সাধারণ মানুষ না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ফলগুলো সংরক্ষণ করে নার্সারি করার ফলে চরগুলোতে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন রোধ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের ওপর সুস্পষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই জানিয়ে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবনের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল নিচে পড়ে বনের মধ্যে কিছু চারা গজায় এবং অধিকাংশ ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে লোকালয়ে নদীর কিনারে জমা হয়। এসব ফল দিয়ে উপকূলীয় মানুষের সাময়িক জ্বালানি সমস্যার সমাধান হলেও পরিবেশের জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে এসব ভেসে আসা ফল ও বীজ দিয়ে নার্সারি করায় প্রাকৃতিকভাবে বিশাল এলাকায় বনায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।সূত্র: বাসস
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ছিল এবং এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে। মনজু বিজয় চৌধুরীর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে ডেস্ক রিপোর্ট।জানা,যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।প্রায় তিনশ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে 'মুন্সিবাজার'। বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু।বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল এবং পুরোনো স্থাপত্যশৈলী আজও বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মুন্সিবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই মুন্সিবাড়ি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলেও উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে এর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা-এর কমলগঞ্জ থানাধীন শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরন, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোনা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চন্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুর, সহ আরো অনেক নাম না-জানা গ্রাম নিয়ে গঠিত মুন্সীবাড়ি এষ্টেট।কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সীবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপিনাথ আখড়া, মঙ্গলচন্ডি বাড়ী, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মান্ডব, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি, মুন্সীবাজার হাসপাতাল, সর্বশেষ কালী প্রসাদ স্কুলের ছাত্রদের নামাজের জন্য মসজিদের ভূমি দান করেন এই জমিদার বাড়ি।এলাকাবাসীর জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, যা এলাকার অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।"এই জমিদার বাড়িটা আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কোনো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের এই মূল্যবান স্থাপনাটি। আমরা চাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়িটা সংরক্ষণ করুক।" মুন্সিবাড়ির জমিদার বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা শুনেছি এখানে একটি জমিদার বাড়ি আছে। আমরা লোক পাঠিয়েছি অচিরেই এই জমিদার বাড়িটি সংস্কার করবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা এই এলাকার সাধারণ মানুষের।
ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে, শুকনো পাতার মৃদু নূপুরধ্বনি যেন বাজিয়ে তোলে বিদায়ের এক বিষণ্ন সুর; সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।আজ বাংলা সনের অন্তিম দিন-৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।চৈত্রসংক্রান্তি পালনের আচার-অনুষ্ঠানে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য থাকলেও এর মর্মকথা এক-ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যুগে যুগে, কালের পর কাল ধরে বাঙালির জীবনধারা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা পরিণত হয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি পেয়েছে সর্বজনীন স্বীকৃতি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে নেয়, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ।গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।খাদ্য সংস্কৃতিতেও এই দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতারই এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়-এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা এবং নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। বাসস।
বাংলার উৎসবের রঙ, আনন্দ ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে আবারও শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘বাংলার প্রেমে উইকি ২০২৬’ (Wiki Loves Bangla)। অংশ নিয়ে জিতে নেয়ার সুগোগ থেকছে মোট $১,১০০ নগদ পুরস্কার। উইকিমিডিয়া আন্দোলনের এই উদ্যোগটি বাংলা সংস্কৃতিকে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম।২০২৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসর শুরু হয়েছে গত ১৪ আগস্ট এবং চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম’-এর অংশ হিসেবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করছে ‘বাংলা উইকিমৈত্রী’। প্রতিবছর বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলা বৈশাখ মাস জুড়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ‘বাংলার উৎসব’—পহেলা বৈশাখ থেকে দুর্গাপূজা, ঈদ, নবান্ন কিংবা গ্রামীণ মেলা—বাংলার প্রাণের প্রতিটি উৎসবই হতে পারে আপনার ক্যামেরার গল্প। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ছবি ও ভিডিও জমা দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে, এবং একজন অংশগ্রহণকারী একাধিক কাজ জমা দিতে পারবেন।আয়োজকদের মতে, বাংলার উৎসবের চিত্র কেবল সৌন্দর্যের মুহূর্ত নয়—এগুলো আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ডিজিটাল মাধ্যমে এসব আলোকচিত্র সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য ও জীবনাচার দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।প্রতিযোগিতায় সেরা ১০টি আলোকচিত্র আন্তর্জাতিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে ১ম স্থান অর্জনকারী পাবেন $৪০০, ২য় স্থান অর্জনকারী $৩০০ এবং ৩য় স্থান অর্জনকারী $২০০ নগদ পুরস্কার। এছাড়াও শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীর জন্য থাকবে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। এছাড়াও সেরা ভিডিওর জন্য থাকছে $১৫০ নগদ পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র।প্রতিযোগিতার আয়োজক ‘বাংলা উইকিমৈত্রী’ একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যা বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলাভাষী উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। ২০২৩ সালে মার্কিন অলাভজন প্রতিষ্ঠান উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের স্থানীয় চ্যাপ্টার উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উইকিমিডিয়া ব্যবহারকারী দলের যৌথ উদ্যোগে এই উইকিমিডিয়া হাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আরও জানতে ও অংশগ্রহণ করতে দেখুন: https://w.wiki/KLbd
গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসাছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।তিনি আরো বলেন, যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।