ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় ও গ্রাহকবান্ধব করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।সার্কুলারে বলা হয়, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে এ তারিখ থেকে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে।সার্কুলারে বলা হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে কোনো পেমেন্ট হলে সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) মোবাইল অ্যাপের নির্দিষ্ট স্থানে বাংলা কিউআর পেমেন্টের আইকন দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত লোগো মোতাবেক আইকন প্রদর্শন করতে হবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাংলা কিউআর স্ক্যানের পাশাপাশি বাংলা কিউআর ইমেজ আপলোডের মাধ্যমেও পেমেন্ট সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।একই সময়সীমার মধ্যে কার্ড হিসাবধারীসহ সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীকে মোবাইল অ্যাপ থেকে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুবিধা চালু করতে হবে। পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ১৮(২) ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এসব নির্দেশনা জারি করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের উষ্ণ শুভেচ্ছা। আপনার এই বিশেষ দিনটি বারবার ফিরে আসুক। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার নিবেদিত সেবা সর্বদা সুস্বাস্থ্য ও উচ্চ মনোবল সমৃদ্ধ হোক—এই কামনা করি।’বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজেও নরেন্দ্র মোদির ছবি সংবলিত কার্ড প্রকাশ করে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।এক্সে তারেক রহমানের পোস্ট শেয়ার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আপনার আন্তরিক শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনার সদয় কথাগুলোকে আমি গভীরভাবে মূল্যায়ন করছি।’
ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও পেশাদার এবং দলভিত্তিক নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। ব্যাগি ক্যাপের পর এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রতিটি দলকে বিশেষভাবে তৈরি কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দলগুলোর হাতে এসব হেলমেট তুলে দেওয়া শুরু হবে। বিদেশে বিশেষভাবে তৈরি করা এই হেলমেটগুলো শুধু এবারের জন্য নয়, দলের জন্য স্থায়ীভাবেই রাখা হবে।ভারতের জনপ্রিয় Shrey (শ্রেয়) ব্র্যান্ডের হেলমেট প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ব্র্যান্ডটির আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত, কেএল রাহুল থেকে শুরু করে তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই মাঠে বলের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে এই ব্র্যান্ডের হেলমেট ব্যবহার করে থাকেন।কোনো খেলোয়াড়ের হেলমেটের সাইজে সমস্যা হলে সেটিও পরিবর্তন করার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে যোগ দিলে তার জন্যও নতুন কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করবে বিসিবি। এনসিএলে দলভিত্তিক এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও আলাদা ও পেশাদার পরিচয় তৈরি করার লক্ষ্য বিসিবির।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে বড় ধরনের আগুনের গোলা এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে মিশিগান স্টেট পুলিশ। খবর সিএনএনের।দুর্ঘটনার আগে ওই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে থাকা আরেকটি বিমানের পাইলট বিমানটির সম্ভাব্য বিপদের কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। লাইভএটিসি ডটনেটের ধারণ করা অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিমানটি সম্ভবত কোনো পাখির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থাকতে পারে।এরপর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার কাছের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের এক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিমানটির ইঞ্জিনে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে এবং পাইলট বিমান থেকে বের হয়ে গেছেন। দুর্ঘটনাস্থলে ব্যাপক কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল বলেও তিনি জানান।মিশিগান স্টেট পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বিমানটিতে শুধু একজন পাইলট ছিলেন। বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই তিনি নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। দুর্ঘটনায় অন্য কেউ আহত হননি।অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, বিমানটি মিশিগানের আলপেনা এলাকায় অবস্থিত একটি ন্যাশনাল গার্ড ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল।দুর্ঘটনার পর বিমান থেকে সংশ্লিষ্ট একটি ‘বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার’ আশঙ্কায় ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যে অধিকাংশ বাসিন্দাকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।দুর্ঘটনার কারণ এবং যুদ্ধবিমানটির ইঞ্জিনে কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশে এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভরের সরবরাহ করা প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে সামিটের টার্মিনালে নোঙর করা কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে।এই কার্গো থেকে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ ঘনমিটার এলএনজি খালাস করা হবে বলে জানা গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গানভরের সঙ্গে করা ১৩ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর দেশে আসবে মোট পাঁচটি এলএনজি কার্গো।মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় চুক্তির প্রথম কার্গো নিয়ে ‘এলএনজি জেনেভা’ জাহাজটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল থেকে কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভোরের সরবরাহ করা এটিই প্রথম কার্গো। এর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে এসেছিল। পরপর দুটি কার্গো আসায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আসার নিশ্চয়তা মিলেছে। এর মধ্যে আরামকোর দুটি এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে মোট চারটি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো এসেছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটালএনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভর থেকে একটি করে আরও চারটি কার্গো আসার কথা রয়েছে।এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
ইরান যুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন বাহিনীর হামলায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়টিতে বিশ্বাস করার মতো যুক্তসঙ্গত কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওই ঘটনা তদন্ত করে ইরান বিষয়ক জাতিসংঘের একটি সত্যানুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, এ ঘটনাগুলো যুদ্ধাপরাধের শামিল।জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় এড়াতে পারে না। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে পেশ করার জন্য প্রস্তুত করা এই স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর আচরণ এবং আগের বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় ইরানি সরকারের পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়েছে।মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই তাদের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়, আর অন্যদিকে ইরানও সুসংগঠিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল—এমনটি বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ তারা পেয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ওই হামলায় আনুমানিক ১২০ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।জাতিসংঘ মিশন সিদ্ধান্ত টেনে বলেছে যে, এটি ছিল বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনকারী একটি নির্বিচার হামলা, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধের শামিল।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই স্থানে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার উপস্থিত আছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র; তবে হামলা চালানোর আগে তারা সেই তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করতে ব্যর্থ হয়। তদন্তকারীরা জানান, লক্ষ্যবস্তুর তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি কোনো সামরিক কেন্দ্র কি না তা নিশ্চিত না হওয়া নিছক অবহেলার চেয়েও বেশি কিছু।প্রতিবেদনে মিশন বলেছে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চরম ঝুঁকি এবং সেরকমটা ঘটার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়াভাবে বিদ্যালয়ের ভবনটিতে সরাসরি বিমান হামলা চালায়।গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটি নিয়ে একটি তদন্তের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন যে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মেয়েদের একটি স্কুলে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্স খবর প্রকাশ করে বলেছিল যে, প্রাথমিক এক অভ্যন্তরীণ মার্কিন সামরিক তদন্তে দেখা গেছে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে ঘটা প্রাণঘাতী ওই হামলায় ‘সম্ভবত’ মার্কিন বাহিনীই দায়ী ছিল।পেন্টাগন পরে তদন্ত প্রক্রিয়াটি উচ্চপর্যায়ে পাঠালেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করেনি।জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মেয়েদের স্কুলটি স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ছিল এবং এটি কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, ইরানের লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস সেন্টার বা ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো হামলার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞরা একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলায় কাছের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক লোক নিহত ও আহত হন। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এটি একটি নির্বিচার হামলা ছিল এবং সে কারণে এটি যুদ্ধাপরাধ।তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মার্চ মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সেদিন মার্কিন বাহিনী লামের্দ শহরে কোনো হামলা চালায়নি।জাতিসংঘের মিশন তাদের তদন্তে আরও পেয়েছে যে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের সময় সাধারণ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায় ইরানি কর্তৃপক্ষ। এতে ছিল বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চরম বিধিনিষেধ আরোপের মতো ঘটনার প্রমাণ।মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে শিয়া ইসলামি আলেমরা ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বড় এই দমন-পীড়নের সময় নিহতদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও ছিলেন। অন্যদিকে, তেহরান এর জন্য নির্বাসিত বিরোধী দল এবং বিদেশি শত্রু অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে।জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর দমনপীড়নের বিষয়ে তারা স্বাধীনভাবে মৃতের সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি, তবে তারা বিশ্বাস করে যে, নিহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বহু গুণ বেশি। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত ও ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় ব্যবহারসহ এই বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলো আগের যেকোনো সময়ের সরকারের বিরোধিতার ‘মুখ বন্ধে’র ধরনের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ১২০টি নির্বাচনি প্রতীক নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তালিকায় ‘নৌকা’ প্রতীকটি স্থগিত রাখা হয়েছে।নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি সংশোধন করে এ প্রতীক তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি। এ বিষয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।এটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, Representation of the People Order, ১৯৭২-এর Article ৯৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপ-বিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে।সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ২০-এর দফা (১)-এর অধীন স্থগিতকৃত প্রতীক ছাড়া তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।চূড়ান্ত তালিকায় মোট ১২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কাস্তে, কাপ-পিরিচ, কাঁচি, কাঁঠাল, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চেয়ার, ছাতা, জাহাজ, টর্চ লাইট, টেলিভিশন, ট্রাক, ট্র্যাক্টর, ডাব, তারা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, লাঙল, লিচু, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালী আঁশ, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক এবং ‘না’ প্রতীকসহ বিভিন্ন প্রতীক।তালিকায় ৬৫ নম্বরে থাকা ‘নৌকা’ প্রতীকের পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ উল্লেখ করা হয়েছে।ফলে সংশোধিত তালিকায় মোট ১২০টি প্রতীক থাকলেও নৌকা প্রতীকটি বর্তমানে বরাদ্দযোগ্য প্রতীকের বাইরে রাখা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ীই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আইজিপি ও বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মরহুম আলতাফ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাৎকালে আইজিপি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।এ সময় আইজিপি মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের আত্মত্যাগ পেশাগত কর্তব্যনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অসামান্য অবদান বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।তিনি পরিবারটিকে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন এবং আলতাফের এই আত্মত্যাগ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্তির যোগ্য বলে উল্লেখ করেন।উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেন শাহাদাতবরণ করেন।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং দুই পৃথক বিচারিক অঞ্চলে বিভক্ত করার পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আইনগত ও বিচারিক পদক্ষেপ নিতে আইনমন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।নোটিশে ঢাকা উত্তর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা উত্তর মহানগর দায়রা আদালত এবং একইভাবে, ঢাকা দক্ষিণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠা বা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।ঢাকার বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং ক্রমবর্ধমান দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক, বিশেষ ও মহানগর ফৌজদারি মামলার চাপ বিবেচনায় বর্তমান বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, বিদ্যমান বিচারিক ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক মামলা, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সাক্ষী, আসামি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সমাগমের কারণে বিচারিক প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালতে যাতায়াত, মামলার ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্টে রিট করার কথাও নোটিশে বলা হয়।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।
দেশে এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভরের সরবরাহ করা প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে সামিটের টার্মিনালে নোঙর করা কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে।এই কার্গো থেকে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ ঘনমিটার এলএনজি খালাস করা হবে বলে জানা গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গানভরের সঙ্গে করা ১৩ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর দেশে আসবে মোট পাঁচটি এলএনজি কার্গো।মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় চুক্তির প্রথম কার্গো নিয়ে ‘এলএনজি জেনেভা’ জাহাজটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল থেকে কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভোরের সরবরাহ করা এটিই প্রথম কার্গো। এর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে এসেছিল। পরপর দুটি কার্গো আসায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আসার নিশ্চয়তা মিলেছে। এর মধ্যে আরামকোর দুটি এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে মোট চারটি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো এসেছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটালএনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভর থেকে একটি করে আরও চারটি কার্গো আসার কথা রয়েছে।এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তা হতে দেব না।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, ইন্টেলিজেন্স এবং চলার পথের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, আপনারা আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, এই জাতীয় কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।’১১ দলীয় এই কর্মসূচিতে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাইজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে অপোজিশন সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে, দাবি আদায় করে, প্রতিবাদ করে। কিন্তু ৭০ ভাগ লোকের হ্যাঁ ভোট দেওয়া গণভোটের রায়কে পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নাই যে একটা রেফারেন্ডাম, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সেই নজিরও গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া মেজরিটির জোরে তারা সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা খর্ব করে দিয়েছে।’সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আজকের শীর্ষ বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না।’তিনি বলেন, ‘আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কোরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের উপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?’স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে। মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর কাফেলা গাজীপুর হয়ে সরাসরি রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত লংমার্চ অব্যাহত থাকবে।লংমার্চের রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা করে গাজীপুর-টঙ্গী হয়ে প্রথম পথসভা হবে গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায়। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে। এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে। এরপর লংমার্চ যাবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময়ের দিকে পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে জানান তিনি। এরপর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরের শেষে প্রত্যেক জেলার যারা যেতে আগ্রহী হবেন, তাদের গাড়িবহর যুক্ত হবে। সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি টিম ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সবগুলোরই একটা সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মধ্য দিয়ে আমাদের এই লংমার্চের বহর ইনশাআল্লাহ যাত্রা করবে।’লংমার্চের পথ ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলে আমরা পথে কোনো আলাদা রান্না করা খাবার বা ব্যবস্থা সম্ভব হবে না।’এ জন্য প্রত্যেক গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।
সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গত আট মাসে সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ সময়ে বিভিন্ন অভিযানে ৯ শত ১৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বিওপিতে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান।তিনি জানান, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তে চারটি সেক্টর সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিজিবি সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে গত আট মাসে এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও পেশাদার এবং দলভিত্তিক নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। ব্যাগি ক্যাপের পর এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রতিটি দলকে বিশেষভাবে তৈরি কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দলগুলোর হাতে এসব হেলমেট তুলে দেওয়া শুরু হবে। বিদেশে বিশেষভাবে তৈরি করা এই হেলমেটগুলো শুধু এবারের জন্য নয়, দলের জন্য স্থায়ীভাবেই রাখা হবে।ভারতের জনপ্রিয় Shrey (শ্রেয়) ব্র্যান্ডের হেলমেট প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ব্র্যান্ডটির আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত, কেএল রাহুল থেকে শুরু করে তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই মাঠে বলের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে এই ব্র্যান্ডের হেলমেট ব্যবহার করে থাকেন।কোনো খেলোয়াড়ের হেলমেটের সাইজে সমস্যা হলে সেটিও পরিবর্তন করার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে যোগ দিলে তার জন্যও নতুন কাস্টমাইজড হেলমেট প্রদান করবে বিসিবি। এনসিএলে দলভিত্তিক এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও আলাদা ও পেশাদার পরিচয় তৈরি করার লক্ষ্য বিসিবির।
'জুলাই যোদ্ধাদের ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে নিরাপদ হওয়া যাবে না; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হামলাকারীরাই নিজেদের আরও অনিরাপদ করে তুলছেন ' বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন।সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইতালিতে তাকে হেনস্থার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধনের দাবি, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।এ সময় বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনায় শুধু তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।বাঁধন আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় ও গ্রাহকবান্ধব করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।সার্কুলারে বলা হয়, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে এ তারিখ থেকে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে।সার্কুলারে বলা হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে কোনো পেমেন্ট হলে সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) মোবাইল অ্যাপের নির্দিষ্ট স্থানে বাংলা কিউআর পেমেন্টের আইকন দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত লোগো মোতাবেক আইকন প্রদর্শন করতে হবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাংলা কিউআর স্ক্যানের পাশাপাশি বাংলা কিউআর ইমেজ আপলোডের মাধ্যমেও পেমেন্ট সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।একই সময়সীমার মধ্যে কার্ড হিসাবধারীসহ সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীকে মোবাইল অ্যাপ থেকে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুবিধা চালু করতে হবে। পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ১৮(২) ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এসব নির্দেশনা জারি করেছে।
লিবিয়ায় আটকে পড়া এবং বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ ১৬৮ জনকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বেনগাজি শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছে, গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা এসব বাংলাদেশি বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) করে আজ সকাল ১০টা ৪ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার অবৈধ চেষ্টা করতে গিয়ে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।এতে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান।অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করারও আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।আইওএম দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে যাতায়াত ব্যয়, খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাজারে উন্মোচিত হয়েছে আসুস এক্সপার্টবুক আল্ট্রা সিরিজের নতুন ২টি ল্যাপটপ। বর্তমান সময়ের প্রফেশনাল, ব্যবসায়িক কাজ এবং প্রতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য এই ফ্ল্যাগশিপ বিজনেস ল্যাপটপটি ডিজাইন করা হয়েছে। দারুণ পারফরম্যান্স, পোর্টেবিলিটি ও নিরাপত্তাকে এই ল্যাপটপটির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন ল্যাপটপ দুটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আসুসের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তারা।“দ্য ফ্ল্যাগশিপ অব দ্য ইন্ডাস্ট্রি। পিরিয়ড।” শীর্ষক এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক্সপার্টবুক আল্ট্রা ল্যাপটপটির মূল ফিচারগুলো তুলে ধরা হয়। প্রিমিয়াম ডিজাইন তৈরি এই ডিভাইসটি পরবর্তী প্রজন্মের এআই এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য ভালো পারফরম্যান্স দিবে।বাংলাদেশে ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৫ এবং ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ প্রসেসর কনফিগারেশনে আসুস এক্সপার্টবুক আল্ট্রা ল্যাপটপটি পাওয়া যাবে। ল্যাপটপটির দাম শুরু হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে।প্রফেশনালদের জন্য ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্সপ্রফেশনালদের একাধিক অ্যাপ্লিকেশন ও জটিল কাজ সহজে করতে সাহায্য করবে এক্সপার্টবুক আল্ট্রা ল্যাপটপটি। সর্বশেষ ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসরের মাধ্যমে ল্যাপটপটি এআই-নির্ভর কম্পিউটিংয়েরও সুবিধা দিবে। এছাড়া, স্থিতিশীল কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে আসুসের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি এতে ব্যবহার করা হয়েছে। একইসাথে ডিভাইসটির হালকা ডিজাইন কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে।প্রিমিয়াম ডিজাইনে পোর্টেবিলিটি এক্সপার্টবুক আল্ট্রা ল্যাপটপটি ওজনের মাত্র প্রায় ০.৯৯ কেজি। তাই যারা নিয়মিত অফিস, মিটিং এবং কাজের জন্য যাতায়াত করে থাকেন, তারা সহজে এটি বহন করতে পারবে। এর প্রিমিয়াম ধাতব কাঠামো হালকা ওজনের পাশাপাশি এক্সপার্টবুক সিরিজের স্থায়িত্বও নিশ্চিত করে। এছাড়া, ডিভাইসটিতে রয়েছে উচ্চ-রেজল্যুশনের ওলেড ডিসপ্লে, যা উজ্জ্বল রঙ ও স্পষ্ট ছবি তুলে ধরে। ফলে প্রেজেন্টেশন, তথ্য উপস্থাপন কিংবা দৈনন্দিন কম্পিউটিংয়ে আরও স্বচ্ছ ও উন্নত ভিজ্যুয়ালের অভিজ্ঞতা দেয়।এআই-ভিত্তিক কাজের ফিচারকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি হওয়ায় এক্সপার্টবুক আল্ট্রাতে যুক্ত করা হয়েছে এআই অ্যাপ্লিকেশন ও নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা। কাজের দক্ষতা বাড়ানোর টুলস থেকে শুরু করে এআই-নির্ভর কমিউনিকেশন ও ওয়ার্ক ফ্লোর সুবিধা এতে পাওয়া যাবে। তাই ডিভাইসটি পেশাজীবীদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ব্যবসায়িক ব্যবহারের জন্য এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান।এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতাযেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য সুরক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ, তাদের জন্য এক্সপার্টবুক আল্ট্রাতে রয়েছে আসুসের নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এগুলো ডিভাইস, তথ্য ও ফার্মওয়্যারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখবে। আসুস এক্সপার্টগার্ডিয়ান এবং অন্যান্য এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড নিরাপত্তা সুবিধার মাধ্যমে এক্সপার্টবুক আল্ট্রা একাধিক স্তরের সুরক্ষা দেয়। একই সঙ্গে আসুস এক্সপার্টবুক সিরিজের নির্ভরযোগ্যতার মানও নিশ্চিত করা হয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসুসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া প্যাসিফিক কমার্শিয়াল বিজনেসের জেনারেল ম্যানেজার রেক্স লি বলেন, “সত্যিকারের ফ্ল্যাগশিপ বিজনেস ল্যাপটপ কেমন হওয়া উচিত, এক্সপার্টবুক আল্ট্রা ল্যাপটপ সেটির উদাহরণ। আজকের পেশাজীবীরা একটি ডিভাইসে একইসাথে কর্মক্ষমতা, সহজ বহনযোগ্যতা, ডিজাইন এবং নিরাপত্তা চায়। এক্সপার্টবুক আল্ট্রার মাধ্যমে আমরা এই সমন্বিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে নিয়ে আসছি এবং প্রিমিয়াম বিজনেস কম্পিউটিংয়ের মানকে আরও এগিয়ে নিচ্ছি।”এই আয়োজনে আসুসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গ্লোবাল অফিসিয়াল এবং বাংলাদেশে আসুসের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহ ব্যবসায়িক পার্টনার, এন্টারপ্রাইজ গ্রাহক, চ্যানেল পার্টনার, গণমাধ্যমকর্মী, টেক ইনফুলেয়ন্সার এবং ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা এক্সপার্টবুক আল্ট্রা সরাসরি দেখার এবং এর বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।আসুস অনুমোদিত ব্যবসায়িক ও খুচরা বিক্রয় অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশে এক্সপার্টবুক আল্ট্রা পাওয়া যাবে। আরও তথ্যের জন্য আসুস বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।