জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সংসদ গঠনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করেছে। সংবিধানে বিধান না থাকার অজুহাতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। অথচ সংবিধানে উল্লেখ না থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমান সংসদেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে রাষ্ট্রের অর্থ আবারও বিদেশে পাচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করেননি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে নেওয়া ব্যবস্থা।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা হতাশাজনক।সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যথায় দেশ নতুন সংকটে পড়তে পারে।
দেশে টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর সদ্য বিদায়ী জুন মাসে প্রবাসী আয়ের গতি কমেছে। মাসটিতে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮১ বিলিয়ন ডলার)। যা আগের মাস মে মাসের তুলনায় ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম।বুধবার (০১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (৩.৪২ বিলিয়ন ডলার)। আর ২০২৫ সালের জুন মাসে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরে দেশে আসে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। এরপর অর্থবছরের সপ্তম মাস ও চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আসে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩.০১ বিলিয়ন ডলার, মার্চে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার, এপ্রিলে ৩.১২ বিলিয়ন ডলার এবং মে মাসে ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স নেমে আসে ২.৮০ বিলিয়ন ডলারে, ফলে টানা ছয় মাস পর ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে প্রবাসী আয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাইকার অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার এমআরটি লাইনসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।বৈঠকে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্টসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে।এদিকে, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাপান। বৈঠকে এ খাতে বাংলাদেশের জন্য জাপানের বরাদ্দকৃত ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়।এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধি দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সুরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি আধুনিক প্যাট্রোল বোট প্রদান করা হবে।বৈঠকে মানবিক কারণে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে এ আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জাপানকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।জাপানের পক্ষে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ সাবেক তিন গভর্নরের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বুধবার (১ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক (ডিডি) মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে এ তথ্য চাওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির এবং আবদুর রউফ তালুকদারের মেয়াদের যাবতীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচিত রিজার্ভ চুরি, এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট এবং বিভিন্ন ঋণ জালিয়াতির নীতিগত সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসংক্রান্ত সব ধরনের রেকর্ড দ্রুত সরবরাহ করার অনুরোধ করা হয়।অভিযুক্তদের মধ্যে ড. আতিউর রহমান ও আবদুর রউফ তালুকদার ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নরদের কয়েকজন বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন আজ বুধবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। এ সময় স্টেশনটিতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তবে মেট্রোরেলের অন্যান্য সব স্টেশন স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।আজ দুপুরে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) উপপ্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ শরিফী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্য সব স্টেশনে যাত্রীসেবা চালু থাকবে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে রাজু ভাস্কর্যের সামনে একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তার স্বার্থে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে চ্যানেল এস-এ সংবাদ প্রচারের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের চালক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ১ জুলাই (বুধবার) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এদিকে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদ কামাল এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর নামে পোস্টার টানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অতীতে কথিত নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট তাদের স্বার্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সেই চক্রই এখন অপপ্রচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।তাদের দাবি, অতীতে ওই চক্রের সদস্যরা নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও বর্তমান মহাপরিচালক এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কোনো ধরনের অনৈতিক সুপারিশ বা তদবির গ্রহণ করেননি। ফলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।একজন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের অধীনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ না থাকায় একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র আরও জানায়, এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধারাবাহিকভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।এদিকে, শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে শাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে—এমন যেকোনো অপপ্রচার, গুজব বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক নাগরিক সমস্যার পেছনে মানুষের অসচেতনতাও একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বিস্তারেও ভূমিকা রাখছে। তাই নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সবাইকে নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে সরকার, বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার পাশাপাশি পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যমুনা কালিগঙ্গা নদীর ভাঙ্গন কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের নদী পাড়ের মানুষের মাঝে।বুধবার (১ জুলাই )সরেজমিন উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের দপ্তিয়রপশ্চিম খন্ড, বাককাটারী,ছিটকিবাড়ী দক্ষিণ খন্ড ও ছিটকিবাড়ী খেয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়,স্থানীয় সাংসদ রবিউল আওয়াল লাভলুর দিক নির্দেশনায়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ২৫০ কেজি ওজনের বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান জানান,দপ্তিয়র ইউনিয়নের দপ্তিয়র পশ্চিম খন্ড এলাকায় ৫১০মিটার,বাককাটারী ১৪০মিটার, ছিটকি বাড়ী দক্ষিন খন্ড ৭০মিটার ও ছিটকি বাড়ী খেয়া ঘাট এলাকায় ১৪০মিটার,এ ৪টি পয়েন্টে মোট ৮৬০ মিটার কাজ চল মান রয়েছে আশা করছি ২০/২৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী বলেন,আমি নিজে দাড়িয়ে থেকে কাজের তদারকি করছি। কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকার জনগন অনেক উপকৃত হবে। স্থানীয় মাঈন উদ্দিন(৬০)জানান,প্রতি বছর এই নদী ভাঙ্গনে আমাদের বাড়ি ঘর ভেঙে যায়। এবার বাধ দেয়াতে আশা করি ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবো।দপ্তিয়র ইউপি চেয়ারম্যান এম.ফিরোজ সিদ্দিকি মুঠোফোনে জানান,আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই স্থানীয় সাংসদ রবিউল আওয়াল লাভলুকে জিও ব্যাগ ফালানোর জন্য। কালিগঙ্গা নদীর দুপারে ৪/৫ কিলো স্থায়ী ভাবে বাধদেয়া হলে দপ্তিয়র ইউনিয়নের চরাঞ্চলের লোক জন নিরাপদে বাস করতে পারবে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.এরফান উদ্দীন বলেন জিও ব্যাগ ফেলার কোন অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আমি ট্যাগ অফিসার দিয়েছি এবং নিজেও মনিটরিং করছি।
জামালপুর শহরে এক বিচারক দম্পত্তির বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার (৩০জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পত্তির ভাড়া বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।বিচারক দম্পত্তি মোঃ আহমাদুল কবির সাকিল জামালপুর জেলা ও দায়রাজজ আদালতের মেলান্দহ জজ আদালতে এবং নুসরাত জেরিন জেনি দেওয়ানগঞ্জ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে কর্মরত আছেন।পুলিশ জানায়, শহরের দেওয়ানপাড়ায় জনৈক আনোয়ার হোসেনের বাসা ভাড়া নিয়ে বিচারক দম্পতি থাকেন। বাসায় না থাকার সুযোগে তৃতীয় তলার জানালার গ্রীল কেটে নগদ ১ লাখ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণ, হীরার আংটি ও মূল্যবার জিনিস চুরি হয়। সব মিলিয়ে ২০ লাখ টাকার বেশি মালামাল চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিচারক দম্পত্তি।জামালপুর সদর থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি বড় অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং অপর অংশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। তিন জেলার প্রশাসনিক সীমার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রকল্পটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরো প্রকল্প এলাকা ঢাকা জেলার আওতায় আনার প্রস্তাব দেয়, যা নিকার সভায় অনুমোদিত হয়েছে।সভায় আরও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।এ ছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও নিকার সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাইকার অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার এমআরটি লাইনসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।বৈঠকে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্টসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে।এদিকে, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাপান। বৈঠকে এ খাতে বাংলাদেশের জন্য জাপানের বরাদ্দকৃত ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়।এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধি দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সুরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি আধুনিক প্যাট্রোল বোট প্রদান করা হবে।বৈঠকে মানবিক কারণে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে এ আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জাপানকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।জাপানের পক্ষে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।
জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে ব্যক্তিপূজা বা তোষামোদের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সংসদ গঠনে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য করেছে। সংবিধানে বিধান না থাকার অজুহাতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। অথচ সংবিধানে উল্লেখ না থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমান সংসদেও বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে রাষ্ট্রের অর্থ আবারও বিদেশে পাচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করেননি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে নেওয়া ব্যবস্থা।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা হতাশাজনক।সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যথায় দেশ নতুন সংকটে পড়তে পারে।
কুমিল্লার কাটাবিলে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধের আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত মূলহোতা আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন রাতে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২৫ জুন দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।ঘটনার পর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়।তবে ঘটনার মূলহোতা ও অপু সিন্ডিকেটের দলনেতা আবু হানিফ ওরফে অপু আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বুধবার (১ জুলাই) রাত ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অপুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি থানার জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষের দিন ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, আবু হানিফ ওরফে অপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘানার ভাইরাল সেই তান্ত্রিক এবার ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে, বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দেবে কেপ ভার্দে। নানা কোয়াকু বনসাম নামের ওই তান্ত্রিক বলেছেন, মৌসুমের দ্বিতীয় পর্বে আফ্রিকান দল কেপ ভার্দে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে নিজেদের মেলে ধরবে এবং শিরোপাধারীদের বিপক্ষে তাদের জয় নিশ্চিত করবে।গ্রুপ এল-এর ইংল্যান্ড বনাম ঘানার মধ্যকার ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড দলের শীর্ষ গোলদাতার বিরুদ্ধে করা তার তন্ত্র-মন্ত্রের জন্য গত কয়েক দিন আগেই ভাইরাল হয়েছেন এই তান্ত্রিক বনসাম। ওই ম্যাচের আগে বনসাম বলেছিলেন, ‘আমি কেনকে নিয়ে কাজ করছি।আমি চাই না সে গুরুতর আহত হোক। আমার দেশের বিপক্ষে তাকে থামানোর জন্য এটাই যথেষ্ট হবে।আমি থামানোর জন্য সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।’ম্যাচটি ০-০ গোলে শেষ হয়েছিল এবং বিশ্বকাপে এটিই ছিল একমাত্র ম্যাচ যা জিততে ব্যর্থ হয়েছেন এই বায়ার্ন মিউনিখের নেতা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জাদুকর! এখন আমি হ্যারি কেনকে মুক্ত করতে যাচ্ছি যাতে সে পরের ম্যাচে একটি গোল করতে পারে। কেন আমার শত্রু নয়। আমার একটি সন্তান আছে। যার নাম আমি হ্যারির নামে রাখার জন্য প্রস্তুত।’ ঘানার এই নায়ক ঘোষণা করেছেন যে, তিনি হ্যারি কেনকে তন্ত্র-মন্ত্র থেকে মুক্ত করেছেন।আফ্রিকার দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এর আগে সাতবার মুখোমুখি হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। তারা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পাঁচবার এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে একবার জয়লাভ করেছে। এক্ষেত্রে একটি মাত্র পরাজয় রয়েছে তাদের। সেটি ছিল ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে।এবার আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে সরাসরি নকআউট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলো। এখন দেখা যাক, বনসামের ভবিষ্যদ্বাণী কতোটা সত্যি হয়!
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমান সময়ে অনেক তরুনেরই ক্রাশ। তার ব্যক্তিগত জীবন তথা প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান অকপটে জানালেন এ অভিনেত্রী।এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তটিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে নেই; আর সঠিক মানুষের সন্ধান পেলেই তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এর আগে অভিনেতা ইয়াশ রোহানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বারবার বলেছেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কই তাদের। উঠে আসা নানা গুঞ্জনের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, হি ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন। এইটা আমি আসলে এতবার বলেছি! আর আমার মনে হয় যে, প্রেম যদি থাকত তাহলে জিনিসটা আমি আরও প্রাইভেটলি হ্যান্ডেল করতাম। আসলে এইটা নিয়ে আমি কথা বলার সুযোগই দিতাম না। সো, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, কোনো প্রেম নেই।ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনা এবং কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ—এমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি একজন সঠিক মানুষের অপেক্ষায় আছেন।এ প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে তটিনী বলেন, বিয়ে করব যখন সঠিক মানুষ পাব। যে মানুষ আমাকে প্রপার সম্মান দিবে, আমাকে, আমার... আমার প্রফেশনকে, আমার ফ্যামিলিকে ভালোবাসবে—অবশ্যই। আমার কাছে একটা কথা সবসময় মনে হয়, জীবনে ভালোবাসার মানুষের থেকেও ভালো রাখার মানুষ খুব দরকার; যে আমাকে ভালো রাখতে পারবে। আল্লাহ যদি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ দেয়, তাহলে করব। একটি সম্পর্কে শুধু অন্ধ ভালোবাসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং দিনশেষে ভালো রাখার মানসিকতা বেশি জরুরি বলে মনে করেন পর্দার এই সুন্দরী। নিজের সেই জীবনবোধের কথা উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ভালোবাসা একটা পয়েন্ট পর্যন্ত তো অবশ্যই দরকার। বাট আমার কাছে মনে হয় মেইন প্রায়োরিটি—আপনাকে ভালো রাখতে পারছে কি না। অনেকে অনেক... আপনি অনেক ভালোবাসলেন, বাট সে আপনাকে প্রপার সম্মান দিল না; দিনশেষে সেখানে তো শান্তি নেই।তানজিম সাইয়ারা তটিনী বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটকগুলো দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। এদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি পরিচালিত এবং খাইরুল বাশারের সঙ্গে জুটি বাঁধা তটিনীর ‘সুতরাং’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলছে।
টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নীতিনির্ধারক, উপদেষ্টা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত হোটেল সুপারস্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ব্রডকাস্ট কমিউনিটি (এবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট চৌধুরী দৌলত মোহাম্মদ জাফরি, এনবিএ-এর সেক্রেটারি রাইসুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এছাড়াও সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, টেলিভিশন মেকআপ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বক্তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন মেকআপ শিল্পকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পেশাজীবীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। একই সঙ্গে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে পারিবারিক-সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা ঘরানার ওয়েবফিল্ম ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’–এর শুটিং। গভীর আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ওয়েবফিল্মটি দর্শকদের সামনে এক সংবেদনশীল গল্প তুলে ধরবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।ওয়েবফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মো: আকতার হোসেন। চিত্রগ্রহণে ছিলেন ইসমাইল হোসেন লিটন। জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ওয়েবফিল্মটি।প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান রেজা, তৃণা ইসলাম ও তাহসান বিন রফিক। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ছবি, মৌরি, বড়দা মিঠু, আজম খান, শশী রহমান, সিফাত ও আভাসহ আরও অনেকে।নির্মাতা জানান, ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শুধু একটি গল্প নয়; এটি সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা, নীরব কষ্ট এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক মানবিক উপস্থাপন। পাশাপাশি এই ওয়েবফিল্মে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। খুব শিগগিরই ওয়েবফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে।জায়না ইজে প্রোডাকশন–এর ব্যানারে নির্মিত ‘শব্দহীন যন্ত্রণা’ শিগগিরই একটি স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলা কনটেন্টভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ কর্মশালা “Call Sheet to Final Cut: সিনেমার সহকারী পরিচালকের কর্মযাত্রা”।বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্পে আগ্রহী ২৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার এবং Runout Films-এর পরিচালক সাবরিনা আইরিন।চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালকের যাত্রা, কাজ, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে এটিই দেশের প্রথম দিককার বিশেষায়িত কর্মশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।কর্মশালায় সহকারী পরিচালকের বাস্তব দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট ব্রেকডাউন, কলশিট ও শুটিং শিডিউল প্রস্তুতকরণ, প্রি-প্রোডাকশন পরিকল্পনা, সেট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন সমন্বয়, সময় ব্যবস্থাপনা, সংকট মোকাবিলা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সামগ্রিক কর্মপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান। তারা চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।কর্মশালার প্রশিক্ষক সাবরিনা আইরিন বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকই মূলত একটি চলচ্চিত্রের কর্মপ্রবাহকে সচল রাখেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি নিয়ে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি।”উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম লেখালিখি ২০১৮ সাল থেকে কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গল্প থেকে চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, মাস্টারক্লাস এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।লেখালিখির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। সহকারী পরিচালনা নিয়ে এই কর্মশালার ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্রের নেপথ্যের পেশাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা চলচ্চিত্রশিক্ষা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নে আরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চাই।”আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’। গত বছরের স্থগিত হওয়া কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’।আয়োজনটি প্রসঙ্গে ‘মেইন স্টেজ ইনকরপোরেটেড’-এর পরিচালক কাজী রাফসান বলেন, ‘গত বছর কনসার্টটি স্থগিত হওয়ার পর আমরা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই এই আয়োজন আবারও ফিরিয়ে আনব। গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪ জুলাই আমরা গত বছরের অসমাপ্ত অধ্যায়টি পূর্ণতা দিতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়; এটি আমাদের দর্শকদের প্রতি দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যারা গত বছর টিকিট কিনেছিলেন, তাদের আস্থা ও ধৈর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে।’আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Apply’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আটক থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামির দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন রাখেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে আলভী অপমান ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করতো। আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সে অন্য নারীর সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করে উস্কানিমূলক কথাবার্তা উল্লেখ করে তার ফেসবুকে পোস্ট করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, শনাক্তকরণ ও আসামির স্থায়ী ঠিকানা উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।গত ১ মার্চ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।এদিকে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অপর আসামি হলেন- আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ তার ভাগনি ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
দেশে টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর সদ্য বিদায়ী জুন মাসে প্রবাসী আয়ের গতি কমেছে। মাসটিতে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮১ বিলিয়ন ডলার)। যা আগের মাস মে মাসের তুলনায় ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম।বুধবার (০১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (৩.৪২ বিলিয়ন ডলার)। আর ২০২৫ সালের জুন মাসে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরে দেশে আসে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। এরপর অর্থবছরের সপ্তম মাস ও চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আসে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩.০১ বিলিয়ন ডলার, মার্চে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার, এপ্রিলে ৩.১২ বিলিয়ন ডলার এবং মে মাসে ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স নেমে আসে ২.৮০ বিলিয়ন ডলারে, ফলে টানা ছয় মাস পর ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে প্রবাসী আয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ দূতাবাস।শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
বৈশ্বিক সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞাপন উৎসব ‘কান লায়ন্স ২০২৬’-এ নতুন এজেন্টিক এআইভিত্তিক ক্রিয়েটিভ সমাধান উন্মোচন করেছে টিকটক। ‘সিম্ফনি এজেন্ট’ নামের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতা, ব্র্যান্ড ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আরও দ্রুত, সহজ ও সৃজনশীলভাবে ক্যাম্পেইন তৈরি করতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।টিকটকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবর্তনশীল ডিজিটাল সংস্কৃতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অধিক পরিমাণে কনটেন্ট তৈরির বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় রেখে ‘সিম্ফনি এজেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। এতে এআই লেবেল, অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক এবং কনটেন্ট মডারেশন ফিল্টারসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে।প্রতিষ্ঠানটি জানায়, টিকটকের বিদ্যমান ক্রিয়েটিভ টুলগুলোর সঙ্গে সমন্বিত এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি সাধারণ ধারণা থেকেই দ্রুত বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় ‘সিম্ফনি ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’র আওতায় এআইচালিত চ্যাট ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনদাতারা কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিকটকের জন্য আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারবেন।টিকটকের মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্লোবাল বিজনেস সলিউশনসের জেনারেল ম্যানেজার সাদি কান্দিল বলেন, সৃজনশীলতাই টিকটকের মূল শক্তি। এজেন্টিক এআই আইডিয়া তৈরি থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ‘সিম্ফনি এজেন্ট’-এর মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলো দর্শকদের আগ্রহ বিশ্লেষণ, সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি এবং সেই কনটেন্টের ব্যবসায়িক প্রভাব আরও দ্রুত মূল্যায়ন করতে পারবে।তিনি আরও বলেন, এই টুলগুলো সৃজনশীলতাকে আরও কার্যকর করে তুলতে এবং উন্নত ফলাফল অর্জনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ফলে টিকটকে ক্যাম্পেইন পরিচালনা, উপযুক্ত ক্রিয়েটর নির্বাচন এবং কমিউনিটিভিত্তিক কনটেন্ট খুঁজে পাওয়ার মতো কাজ আরও সহজ হবে।টিকটকের মতে, বর্তমান দর্শকরা আরও বাস্তবসম্মত, প্রাসঙ্গিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট প্রত্যাশা করেন। এ কারণে এআইচালিত ক্রিয়েটিভ টুলগুলো ব্র্যান্ড, ক্রিয়েটর এবং টিকটক মার্কেটারদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’