বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের নয়টি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় ট্রেনটির ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে এ নির্দেশনা দেন তিনি।এসময় দুর্ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি দ্রুত উদ্ধার এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেখানকার পরিস্থিতি জানতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর, দুর্ঘটনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন দ্রুত উদ্ধার, যোগাযোগ পুনরায় সচল এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ী এলাকায় ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে কয়েকটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছিলেন।আহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত নীলসাগর এক্সপ্রেসকে উদ্ধারে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে একটি রিলিফ ট্রেন। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। পথে আছে পার্বতীপুর থেকে আসা আরেকটি রিলিফ ট্রেন।অন্যদিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় উত্তরের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এতে ওই ট্রেনের কয়েকশ যাত্রী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।এছাড়া এ ঘটনায় আক্কেলপুর স্টেশনে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, রকেট মেইল ও রাণীনগরে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন তিনটি আটকা পড়েছে। ফলে এই তিন ট্রেনের যাত্রীদের যাত্রা এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের বহন করা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে কয়েকটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে, এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।দুর্ঘটনার পর থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়েছে। ঈদযাত্রায় বাড়ি ফেরা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার ও ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। দ্রুত লাইন পরিষ্কার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দুয়ারে সমাগত। জাতি এমন এক সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক ও জালিম সরকারের পতন ঘটেছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা পাবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০% নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নিবে না। তাই আসুন, সরকারি ও বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করি।’তিনি বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ও আহত হয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের মাঝে আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার গুণাবলি সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলার দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর আমাদের মাঝে আগমন ঘটেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব সব শ্রেণির মুসলমানদের মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।’তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার এক মহাসেতুবন্ধন গড়ে তুলি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে তৎপর হই এবং সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসি। আমরা একে অপরের সুখ-আনন্দ ও দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিই।’তিনি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করছি। সেই সাথে সবাইকে আবারো আন্তরিকভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
রাজধানীর সদরঘাটে ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরতে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত আরও ৩ জন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।মূলত, কেরাণীগঞ্জ থেকে ট্রলারযোগে কিছু যাত্রী ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটে চলা একটি লঞ্চের পেছন দিক থেকে উঠতে গেলে এ দূর্ঘটনা ঘটে।এসময় জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি সরাসরি সেই ট্রলার ও বিপরীত দিকে থাকা লঞ্চটিতে আঘাত হানে। পরে দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করে ঘাতক লঞ্চটি। ট্রলারে থাকা আহত এক নারীকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। তাকে উদ্ধার করে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ভ্রমণের বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। উৎসবের মৌসুমে বিপুল জনসমাগম, তীব্র যানজট এবং দীর্ঘ সরকারি ছুটির কারণে স্বাভাবিক পরিষেবা বিঘ্নিত হতে পারে– এমন আশঙ্কায় নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করেছে দেশটি।বুধবার (১৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়।এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যেও সরকারি ছুটি রয়েছে। এই দীর্ঘ ছুটির প্রভাবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জরুরি পরিষেবা সীমিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বার্তায় আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলগুলোতে এই সময়ে বিপুল জনসমাগম ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য বিঘ্নের জন্য পর্যটকদের প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ব্যবহার কমাতে কিছু বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি ক্রয়ের ওপর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং স্কুল ও সরকারি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কারণে দৈনন্দিন যাতায়াত ও পরিষেবা গ্রহণে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।বার্তায় নাগরিকদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অনেক দেশে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকা আবশ্যক। যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শিগগির শেষ হতে চলেছে, তাদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এখনই পাসপোর্ট নবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হলেও দায়িত্ব পালনে বিরতি নেই প্রধানমন্ত্রীর। রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে নিজ বাসভবনে অবস্থান করে তিনি নিয়মিত সরকারি জরুরি কাজ সম্পাদন করছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবরও নিচ্ছেন।বুধবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, ঈদের ছুটির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তদারকি জোরদারের নির্দেশ দিচ্ছেন।এছাড়া সিটি করপোরেশনগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি।ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগের দিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভা এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন। ঈদের ছুটি আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ দাবি করেছেন, ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব ইসরাইলের এক রাতের হামলায় নিহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরার।বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, ইসরাইলি বাহিনী ওই অভিযানে খাতিবকে হত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।এর আগে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার একদিন পরই দেশটির গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে লক্ষ্য করে তেহরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলএ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরাইল–ইরান সংঘাতকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে একই ধারাবাহিক হামলায় ইরানের আরও কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরাইল।
আসন্ন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। তবে ঈদকে সামনে রেখে প্রার্থীরা সেলামির নামে ভোটারদের নগদ অর্থ দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।বুধবার (১৮ মার্চ) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো কিছুর বিনিময়ে ভোটারকে প্রভাবিত করা যাবে না। বিধিমালা-৪ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈদিক দল বা প্রার্থী কিংবা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পূর্ব সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ওই এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অুনদান বা উপঢৌকন প্রদান করতে বা প্রদানের অঙ্গীকার করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে ঈদকে সামনে রেখে সেলামির নাম দিয়ে নগদ অর্থ প্রদান করে ভোটারদের প্রভাবিত করলে তা এই বিধি লঙ্ঘন হবে। বিধিমালার বিধি ২৭ অনুযায়ী, নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে প্রার্থীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। আবার কোনো দল বিধিমাল লঙ্ঘন দলকেও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অন্যদিকে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার মতো অপরাধ হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ পেলে কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করে দিতে পারবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রার্থীদের অবশ্যই মানতে হবে। অনথ্যায় বিধিমালায় যে শাস্তির কথা বলা আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র থেকে মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ভোট স্থগিত করে ইসি। পরবর্তীতে নতুন তফসিল দিয়ে নির্বাচন করছে সংস্থাটি। আবার বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার। এই আসনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু সংসদে একই সঙ্গে দুটি আসনের সদস্য থাকার আইন না থাকায় ঢাকা-১৭ আসনটি ধরে রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। পরবর্তী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন করে তফসিল দেয় কমিশন। আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ দুই আসনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করবে সংস্থাটি।
ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনার লক্ষ্যে সভা আহ্বান করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত চাঁদ দেখার সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই সভা থেকেই নিশ্চিত করা হবে কবে পালিত হবে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।চাঁদ দেখার তথ্য সরাসরি জাতীয় চাঁদ দেখার কমিটিকে জানাতে নির্দিষ্ট কিছু টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন। এই তথ্য প্রদানের জন্য ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরগুলো সচল থাকবে।এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা নিজ নিজ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও চাঁদ দেখার সংবাদ জানানো যাবে।
ইরানের নারী ফুটবল দলকে তুরস্ক থেকে গাড়িতে করে গুরবুলাক সীমান্ত দিয়ে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আগে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইগদিরে অবতরণ করে তারা।অস্ট্রেলিয়া থেকে মালয়েশিয়া ও ওমান হয়ে দীর্ঘ যাত্রা শেষে গত মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছায় ইরানের নারী ফুটবলাররা।তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা পুলিশের নিরাপত্তায় বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকার করার পর, প্রাথমিকভাবে দলের সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন।তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পাঁচজন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং দলের বাকি সদস্যদের সাথে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পরিবারের সদস্যদের ওপর হুমকি ও চাপের কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়ে থাকতে পারেন।
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের নয়টি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় ট্রেনটির ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে এ নির্দেশনা দেন তিনি।এসময় দুর্ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি দ্রুত উদ্ধার এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেখানকার পরিস্থিতি জানতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর, দুর্ঘটনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন দ্রুত উদ্ধার, যোগাযোগ পুনরায় সচল এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ী এলাকায় ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে কয়েকটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছিলেন।আহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত নীলসাগর এক্সপ্রেসকে উদ্ধারে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে একটি রিলিফ ট্রেন। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। পথে আছে পার্বতীপুর থেকে আসা আরেকটি রিলিফ ট্রেন।অন্যদিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় উত্তরের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এতে ওই ট্রেনের কয়েকশ যাত্রী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।এছাড়া এ ঘটনায় আক্কেলপুর স্টেশনে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, রকেট মেইল ও রাণীনগরে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন তিনটি আটকা পড়েছে। ফলে এই তিন ট্রেনের যাত্রীদের যাত্রা এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দুয়ারে সমাগত। জাতি এমন এক সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক ও জালিম সরকারের পতন ঘটেছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা পাবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০% নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নিবে না। তাই আসুন, সরকারি ও বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করি।’তিনি বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ও আহত হয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের মাঝে আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার গুণাবলি সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলার দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর আমাদের মাঝে আগমন ঘটেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব সব শ্রেণির মুসলমানদের মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।’তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার এক মহাসেতুবন্ধন গড়ে তুলি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে তৎপর হই এবং সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসি। আমরা একে অপরের সুখ-আনন্দ ও দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিই।’তিনি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করছি। সেই সাথে সবাইকে আবারো আন্তরিকভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মতি মেম্বার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত সহস্রাধিক মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী ইয়াকুব আলী ও উপজেলা নায়েবে আমীর শিবলী নোমানী।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা হুমায়ুন কবির, সাবেক শিবির নেতা নুরে আলম সিদ্দীকি, জেলা শিবিরের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল আরিফ, কসবা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মুন্সীজাদা বরকতুল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি জামাল মিয়া, যুব বিভাগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন, খাড়েরা ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল ইসলাম, কায়েমপুর ইউনিয়ন সভাপতি জমসিদ মিয়া, বায়েক ইউনিয়ন সভাপতি আলী আশরাফ, মূলগ্রাম ইউনিয়ন সভাপতি আবু হানিফ, মেহারি ইউনিয়ন সভাপতি আবুল হোসাইন, গোপিনাথপুর ইউনিয়ন সভাপতি ডা. গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।বিতরণ অনুষ্ঠানে আতাউর রহমান সরকার বলেন, মানুষের অভাব–অভিযোগ শুনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে একটি দায়িত্বশীল সরকারের প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।তিনি ভিজিএফ কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দ দলীয় কর্মীদের মাঝে বিতরণ না করে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ইরানের নারী ফুটবল দলকে তুরস্ক থেকে গাড়িতে করে গুরবুলাক সীমান্ত দিয়ে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আগে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইগদিরে অবতরণ করে তারা।অস্ট্রেলিয়া থেকে মালয়েশিয়া ও ওমান হয়ে দীর্ঘ যাত্রা শেষে গত মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছায় ইরানের নারী ফুটবলাররা।তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা পুলিশের নিরাপত্তায় বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকার করার পর, প্রাথমিকভাবে দলের সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন।তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পাঁচজন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং দলের বাকি সদস্যদের সাথে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পরিবারের সদস্যদের ওপর হুমকি ও চাপের কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়ে থাকতে পারেন।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা সিজন–৬”। বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী বাছাই করা হয়।নির্বাচিত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে রমজান মাসজুড়ে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৯–এ বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রচারিত এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্ব পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী ও আবু বকরসহ সংশ্লিষ্টরা।প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়—ক গ্রুপ: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিখ গ্রুপ: ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে সসাস-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবারের আসরে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন পান ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাস নয়—সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” ‘সেরাদের সেরা’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিভা, নৈতিকতা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার সমন্বয় ঘটছে। আয়োজকদের আশা, এই মঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের সেই প্রতিভাবান মুখগুলো, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটিকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের অনুমতি দেয়। মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমাটির স্থিতিকাল ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা। সোমবার রাতে সামাজিক আমধ্যমে সার্টিফিকেট প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোর্তিময়ীসহ আরও অনেকে।এদিকে প্রিন্স ছাড়াও মুক্তি মিছিলে থাকা আরও চার সিনেমা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন গত সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেগুলো হচ্ছে- ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও প্রেশার কুকার। প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ভিন্ন ধারার হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্সর সার্টিফিকেশন পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
‘সাহস আর সমর্থন নিয়ে সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মন জানালা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মন জানালার আয়োজনে নারীর আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও নিজেকে যত্ন নেওয়ার গুরুত্বের কথা তুলে ধরের তারা।অতিথিরা বলেন, হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে। সমালোচনা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জবাব দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। জীবনের চলার পথে ট্রমা থাকবে, নানা রকম বাধা আসবে; এগুলো মোকাবিলা করে নিজেকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে।গত ৭ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডির প্যারাগন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর, রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন, মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ , চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক মৌসুমী মৌ, মন জানালার সহ–প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুল করিমমূলত ৪০ উর্ধ্ব নারীদের নিয়ে কাজ করে এই সংগঠন। ‘গিইভ টু গেইন’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের দেড় শতাধিক নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষক ও কমিউনিটি নেত্রী অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর বলেন, ‘আমি হতাশায় বিশ্বাসী না। আমাদের নারীরা যে হতাশায় বিশ্বাসী এটা আমি মানি না। কারণ, আমি আমার ভাগ্য নিয়েই এসেছি। আমরা কেউ জানি না কার ভাগ্যে কী আছে। তাই আমাকে এগিয়ে যেতেই হবে আমার নিজের জন্য, আমার বাচ্চাদের জন্য, আমার পরিবারের জন্য, আমার সমাজের জন্য, আমার দেশের জন্য।’রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন কথা বলেন নারী স্বাস্থ্য নিয়ে। আমরা অনেক সময় শরীরকে খুব শক্ত মনে করি।ভাবি — একটু কম ঘুমালে কিছু হবে না,সমস্যা নেই, পানি কম খেলেও শরীর তো চলছে!কিন্তু সত্যিটা হলো—শরীরকে শাস্তি দিলে সে চুপ থাকে না। আজ না হোক, একদিন সে হিসাব নেবে। যখন নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হয়, তখন তারা শুধু নিজেরাই উন্নতি করে না—বরং তাদের পরিবার, অর্থনীতি এবং পুরো দেশও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়! ৪০ উর্ধ্ব নারীদের একে অন্যের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘নারীরাই নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বী। সব জায়গায় নারীদের সাথেই আমার লড়তে হয়েছে। আমি কখনো সেটা মুখে উত্তর দিইনি, আমি আমার কাজে প্রমাণ করেছি। আমার কাছে মনে হয় যে “ইগনোর” একটা বিষয় আছে, যেটা অনেক বড় শাস্তি। আপনাকে একজন অনেক কথা বলে গেল, আপনি চুপ করে থাকলেন, একটা টাইমের পরে কিন্তু সে আর কথা বলবে না।’চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী এসেছিলেন তাঁর মাকে নিয়ে। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের বয়সে পৌঁছাইনি; কিন্তু আপনারা প্রত্যেকে এক একটা জার্নি কমপ্লিট করে এখানে বসে আছেন। আপনারা সে সময়ে কথা বলেছেন যখন মেয়েদের কথা বলা অতটা সহজ ছিল না। আপনারা সে সময়ে অনেকে কাজ করেছেন যখন মেয়েদের পড়াশোনা করার অনুমতি খুব একটা ছিল না। আমাদের প্রত্যেকের কোনো না কোনো ট্রমা আছে। তার মানে এটাও না যে আপনার ট্রমা আপনি নিজের মধ্যে চেপে রেখে নিজেকে শেষ করে দেবেন।’মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক মৌসুমী মৌ বলেন, নারীর মানসিক মুক্তি সবার আগে দরকার। মানসিক মুক্তি মিললেই নারী স্বাবলম্বী হবে, তার অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।’ নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য এই অনুষ্ঠানে ৫ জন নারীকে ‘সিটি ব্যাংক মন জানালা আলোকিত নারী সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন— নাবেগাহ্ দোরদানা, জাহেদা খানম, বদরুন্নেছা সরকার, লায়ন ইয়াসমিন শাহাদাত ও কানিজ ফাতেমা।তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডলি জহুর, সাদিয়া ইসলাম মৌ, ডক্টর তাওহিদা রহমান ইরিন ,জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশি ও মন জানালার সহ–প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুল করিম। অনুষ্ঠান সহযোগিতায় সিটি ব্যাংক পিএলসি এবং ইস্পাহানি। শেষে সবাই ইফতার ও ডিনারে অংশগ্রহণ করেন।
ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ এর ২০২৬ সেশনের জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এইচ এম আবু মুসা এবং সহকারী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাকির হোসাইন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা, মূল্যবোধভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রেখে আসছে।আজ (শনিবার) রাজধানীর মগবাজারে সসাসের অফিসে সসাসের নির্বাহী কমিটিদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ২০২৬ সেশনের জন্য নির্বাহী পরিচালক এবং সহাকারী নির্বাহী পরিচালক মনোনীত করা হয়। নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছর সংগঠনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবে।
দেশের শোবিজ অঙ্গনের চর্চিত খবর দ্বিতীয়বারের মতো মা হচ্ছে অভিনেত্রী শবনম বুবলী। কিন্তু তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন। চিত্রনায়িকা নিজে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার হাটা চলাফেরা সন্দেহ জাগিয়েছে ভক্তদের মনে। এবার এক দাফ এগিয়ে তার মা হওয়ার গুঞ্জন। দেশের একটি গণমাধ্যমে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, সন্তান জন্ম দিতে চলতি মাসেই আমেরিকায় উড়াল দিয়েছেন বুবলী। বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তিনি। বেশকিছু দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন বুবলী। সেখানে নৃত্যপরিবেশন করেন এই নায়িকা। পরনে ছিল ঘাগরা। এ সময় উৎসুক ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশের দাবি, বুবলী অন্তঃসত্ত্বা। ‘বসগিরি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা বুবলী। দুই ডজনের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। ২০২০ সালে প্রথমবার মা হন অভিনেত্রী। যদিও ছেলের জন্মের খবর প্রকাশ্যে এনেছিলেন প্রায় দুই বছর পরে। সেই সময়ে এই খবরে প্রায় ঝড় ওঠে। বুবলী জানিয়েছিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে ধর্মীয় আচার মেনে বিয়ে হয়েছে তার। তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয় আমেরিকায়। তার নাম শেহজাদ খান বীর।
একসময় সংগীতশিল্পী দম্পতি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী। কিন্তু ভালোবেসে গড়া সংসার হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় এ নিয়ে দুই তারকাই নীরব থেকেছেন। তবে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ নিয়ে কথাও বলেছেন রবি চৌধুরী। সেখানে তিনি ডলি সায়ন্তনীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন।এবার সেই অভিযোগের বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ডলি সায়ন্তনী। মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না।’বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা না করার অনুরোধ জানিয়ে এই গায়িকা বলেন, ‘সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় বানাবেন না। আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো আছি, বাকিটা সময়ের হাতে।’বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে ডলি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ডিভোর্স প্রসঙ্গে নানা কথা বলা হচ্ছে; স্পষ্ট করে বলতে চাই, ডিভোর্স আমিই দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম সেটি এই মুহূর্তে আর বলতে চাই না। ডিভোর্স দেওয়ার পর সেই সময়েই প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম।’ ‘অতএব এত বছর পর এসব নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।’ সবশেষে পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘মাহে রমজানে আল্লাহ সবাইকে পবিত্রতা রক্ষার তৌফিক দান করুক।’
বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আরও কঠোর নীতিগত অবস্থানের ঝুঁকি বিবেচনা করছেন। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৮৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। নেমো.মানির বাজার বিশ্লেষক জেমি দত্ত বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকবে বলে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। ইরান সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, এই পরিস্থিতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণকে কম আকর্ষণীয় করে তুলছে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরান তেল আবিবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলের হাতে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।তেলের উচ্চমূল্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায়। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণ ধরে রাখার খরচ বাড়ে। ফলে এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, দিনের শেষে নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় ফেড টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। বিনিয়োগকারীরা ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যের দিকেও নজর রাখছেন, যা থেকে ২০২৬ সালের বাকি সময়ের নীতিগত দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। ফিউচার মার্কেটে ইঙ্গিত মিলেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে একবার এবং ২০২৭ সালের শেষ দিকে আরও একবার সুদের হার কমতে পারে।জেমি দত্ত আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়, স্ট্যাগফ্লেশনের ঝুঁকি এবং বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণের চাহিদা-এই দীর্ঘমেয়াদি কারণগুলো এখনও রয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমায় ঈদের আগে দেশের বাজারেও আরেক দফা কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে। এর আগে সবশেষ ৩ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩ বারই স্বর্ণের দাম কমিয়েছ বাজুস। তিন দফায় মোট কমানো হয়েছে মোট ৮ হাজার ১৬৫ টাকা।সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এদিকে, বিশ্ববাজারে কমেছে অন্যান্য ধাতুর দামও। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ২৯ ডলারে, স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিল ৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৩ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৬০ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে কয়েকশ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দুইশ বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি সংখ্যক বাংলাদেশিকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ঢাকায় ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।প্রথমে তাদের সড়কপথে ইরান সীমান্ত দিয়ে আজারবাইজানে নেওয়া হবে। পরে বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়টি তদারকির জন্য তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক আজারবাইজান যাচ্ছেন। এছাড়া, প্রত্যাবাসনের সহযোগিতা করতে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তাও মঙ্গলবার রাতে বাকুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে দেশে ফিরতে আগ্রহী প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু হবে।
পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা পেরুর রাজধানী লিমা। যেখানে রমজানের প্রকাশ্য ঘোষণা, মাইকে আজানের সুমধুর ধ্বনি কিছুই নেই। তবে ১১ কোটি মানুষের এই কর্মব্যস্ত শহরে ট্রাফিক আর ব্যবসার চিরচেনা ছন্দে রমজান যেন এক শান্ত নীরবতা বয়ে যায়। এই খ্রিষ্টানপ্রধান দেশটিতে কয়েক দশক ধরে টিকে আছে একনিষ্ঠ এক মুসলিম জনপদ, যাদের কাছে প্রতিটি রমজান হলো ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা।পেরুর মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে মুসলিমরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। সরকারি হিসব অনুযায়ী মাত্র ২ হাজার ৬০০ জন মুসলিম বসবাস করেন এখানে। এই ছোট্ট জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার মানুষের বাস রাজধানী লিমায়। বাকি ৬০০ জন থাকেন চিলির সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে।লিমার ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন’ মসজিদের ইমাম আহমেদ মোহাম্মদ (৩৬) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে রমজানে চারপাশ থেকে যে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন পাওয়া যায়, এখানে তা নেই। এখানে মানুষ নিজের মতো জীবন চালায়, অফিস-আদালত সব স্বাভাবিক থাকে। তাই আমাদের জন্য এটি ঈমানের এক বড় পরীক্ষা।প্রশান্ত মহাসাগরের কোলঘেঁষা একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদে ইফতারের সময় নেমে আসে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। শুধু মুসলিম নন, মসজিদে ভিড় করেন কৌতূহলী প্রতিবেশীরাও। ইমামের মতে, ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো মানুষের সেবা করা এবং খাবার ভাগ করে নেওয়া।ইফতারের দস্তরখানে খেজুর ও শরবতের পাশাপাশি থাকে পেরুর ঐতিহ্যবাহী ‘এসকাবেচে’ (সিরকা ও পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা মুরগির ঝাল পদ)। এখানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিসর, ভেনেজুয়েলা এবং পেরুর স্থানীয় মুসলিমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতার করেন। শুধু তাই নয়, রমজান মাসে লিমা ও এর আশপাশের প্রায় ২ হাজার দরিদ্র মুসলিম ও অমুসলিম পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে এই মসজিদ কর্তৃপক্ষ।১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এক সময় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। মজার তথ্য হলো, পেরুতে ১৯ শতকের শেষের দিকে আরব অভিবাসীদের মাধ্যমে ইসলাম এলেও বর্তমানের মুসলিমদের প্রায় ৯৯ শতাংশই জন্মসূত্রে পেরুভিয়ান। তারা নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।তেমনই একজন আবু বকর। আমাজন অঞ্চলের উকায়ালি থেকে আসা এই যুবক ১৫ বছর আগে একদল পাকিস্তানি মুসলিমের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বিশাল ক্যাথলিক জনসমুদ্রের মাঝে আমাদের অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের জীবনে যে পরিবর্তন এনেছে, তা আমাদের শান্তি দেয়।পাকিস্তানের ফরিদ নাসিম ১৯৮০-এর দশকে ইনকা সভ্যতার টানে পেরুতে এসেছিলেন। তার মতে, পেরুর মানুষ মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে খুব একটা জানে না, তাই রমজান নিয়ে তাদের প্রচুর কৌতূহল। ইমাম আহমেদ মোহাম্মদের ভাষায়, ইসলামে বর্ণ, ভাষা বা সীমান্ত কোনো বাধা নয়। এখানে সবাই সমান এবং আমরা সবাই মিলে এই দেশের মঙ্গল কামনায় ঐক্যবদ্ধ।সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ঈদের ছুটিতে সমুদ্রের টানে অনেকেই ছুটে যান দক্ষিণের পর্যটন শহর কুয়াকাটায়। তবে এই সমুদ্রকন্যার পাশেই রয়েছে আরেক অপার বিস্ময়- নিঃশব্দ, নির্জন ও স্বপ্নময় চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল বুকে স্বপ্নের মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার।দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দিগন্তজোড়া জলরাশির মাঝখানে সৃষ্টিকর্তা যেন নিভৃতে গড়ে তুলেছেন এক টুকরো স্বর্গভূমি। কাছে গেলে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়। অসীম আকাশ আর অনন্ত সাগরের মিলনরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক নিঃশব্দ কবিতা। সোনালি বালুকাবেলা, ঢেউয়ের ছন্দময় আছড়ে পড়া আর বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ সব মিলিয়ে চর হেয়ার এক অনাবিল প্রশান্তির ঠিকানা।দ্বীপের ভেতরে পা রাখলেই মেলে আরেক ভিন্ন জগতের দেখা। গহীন বনের ছায়াঘেরা পথ, পাখিদের নিরন্তর কলকাকলি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ সব মিলিয়ে এখানে বিরাজ করে এক অপার্থিব নির্জনতা। মনে হবে, কোলাহলমুখর পৃথিবী থেকে আপনি অনেক দূরে, যেখানে সময়ও যেন ধীর হয়ে যায়। এখানে শত শত পাখির কলরবে ভোরের নীরবতা ভাঙে, বিস্তীর্ণ বালুচরে লাল কাঁকড়ার দল ছুটে বেড়িয়ে আঁকে জীবনের চঞ্চল রেখাচিত্র। ঢেউয়ের ফেনায় ভেজা তটরেখা, দূরে ভাসমান মাছধরা নৌকা আর আকাশজুড়ে সাদা মেঘ সব মিলিয়ে চর হেয়ার স্বপ্নীল জগৎ।সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কুয়াকাটা ভ্রমণের সঙ্গে চর হেয়ার হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য। এই ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে দক্ষিণের এই নিভৃত দ্বীপে কাটাতে পারেন এক ভিন্ন রকম সময়। যেখানে প্রকৃতি নিজেই আপনার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।ভৌগোলিক অবস্থান পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার। কেউ কেউ একে ‘হেয়ার চর’ নামেও ডাকেন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কলা গাছিয়ার চর’ নামেও পরিচিত। চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘সোনার চর’, যেখানে হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। পূর্বে চর আন্ডা, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ ও তার পাশেই চর কাশেম। এসব চরের নান্দনিক দৃশ্যও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এই চরের দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার। আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে চরটির দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।ভ্রমণের আদর্শ সময়বঙ্গোপসাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এখানে ভ্রমণের আদর্শ সময় শীতকাল। এ সময় অতিথি পাখির দেখা মেলে বেশি। তবে এই সময়েও চরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।যেসব সুবিধা রয়েছেচর হেয়ারে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট তাবু ও কটেজ। তাবু প্রতি ভাড়া এক রাতের জন্য ৪০০ টাকা। সমুদ্রের ঢেউয়ের কলকল ধ্বনি শুনতে শুনতে নির্জন রাতে তাবুতে কাটানো সময় হয়ে উঠতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা। এছাড়া সৈকতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছাতাসহ আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। বনভূমির ভেতরে গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনা শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সব বয়সীদের জন্য আনন্দদায়ক।খাবারের জন্য রয়েছে সাগরের তাজা মাছ, মুরগি, ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। থাকা, খাওয়া, ট্রলার সার্ভিস, তাবু ও কটেজসহ ভ্রমণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সোনার চর ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলস’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চর হেয়ার ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান। তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ০১৭১৯৩৬৮১৭৮।তবে এখানে পর্যাপ্ত দোকান বা ফার্মেসি না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো। মোবাইল চার্জিংয়ের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাও রাখলে সুবিধা হবে।যেভাবে যাবেননৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায়। ডেকের ভাড়া ৬৫০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা। সেখান থেকে ১৫০০ টাকায় ট্রলার (রিজার্ভ) বা ২০০০ টাকায় স্পিডবোটে চর হেয়ারে যাওয়া যায়। কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়া ভাগাভাগি করা সম্ভব।সড়কপথে: ঢাকার সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে পটুয়াখালী চৌরাস্তা পর্যন্ত বাসভাড়া প্রায় ৬৫০ টাকা। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকায় ৪০ মিনিটে হরিদেবপুর ফেরিঘাট। ট্রলারে ১০ টাকায় গলাচিপা শহরে উঠে মোটরসাইকেলে ১৫০ টাকায় পানপট্টি লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায় (সময় প্রায় ২৫ মিনিট)। পানপট্টি থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা ও বিকেল ৩টায় লঞ্চ চরমোন্তাজের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। প্রায় ৩ ঘণ্টার নদীপথে আগুনমুখা ও তেতুলিয়া নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চরমোন্তাজ থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টা এবং স্পিডবোটে ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন চর হেয়ারে।বিকল্প পথ: গলাচিপার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট থেকে ১০ হাজার টাকায় স্পিডবোট ভাড়া করা যায়। এছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসা যায়। মাত্র ৩০০০-৩৫০০ টাকায় আপনি চলে আসতে পারবেন চর হেয়ারে।যা যা দেখবেনচর হেয়ারে রয়েছে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত,যেখানে আচড়ে পড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি। দ্বীপের বুকে আছে ঝাউগাছ আর পেয়ারাগাছের বন। এছাড়া আছে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার ঝোপঝাড়। সবুজ বনভূমির গাছগুলোতে বিচরণ করে হাজারো দেশীয় ও বিদেশী অতিথি পাখি যার মধুর কণ্ঠে কিচিরমিচির গানে ভুলে যাবেন শহুরে কোলাহলের অবসাদ।দোলনায় শুয়ে দুলতে দুলতে পাখিদের গানে মুগ্ধ হবেন আপনি। সারস, বক, শামুকখোল, মদনটাকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় এখানকার গাছের মগডালে। আর ঝোপগুলো ডাহুক, কোড়াসহ নাম না জানা পাখিদের অভয়ারণ্য সৈকতে বসে সাগরের গর্জন আন্দোলিত করে তোলে মন। এখান থেকে দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরা। সূর্যোদয়ের সময় লাল আভায় রাঙা দিগন্ত আর সূর্যাস্তের ক্ষণে সোনালি-কমলা রঙে ঢেকে যাওয়া জলরাশি হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অনির্বচনীয় মায়া। বালুকাময় সৈকত এর চারদিকে দেখা যাবে লাল কাঁকড়া। এছাড়া এই চরটি চমৎকার এক পিকনিক স্পট। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা ব্যবস্থা। চর হেয়ার শুধু একটি দ্বীপ নয় এ এক অনুভূতি, বিস্ময়, নিঃশব্দ সৌন্দর্যের ঘোষণা। ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি, নির্জনতা ও সমুদ্রের মিলিত রূপ উপভোগ করতে চাইলে দক্ষিণের এই স্বর্গভূমি হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ (৮ মার্চ) উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অন্যতম।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন। এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।উল্লিখিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা অধিদফতর। এ ছাড়া, বিভিন্ন অফিস ও সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।সারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারও সারা বিশ্বের সব দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি পালনে প্রতিবছরই একটি প্রতিপাদ্য সুনির্দিষ্ট করা হয়।
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো, যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা অপো স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একেবারে নতুন অপো এ৬এস প্রো।উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে অপো গ্রাহকরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক পার্টনারদের মাধ্যমে বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত অপো স্মার্টফোন কিনলে গ্রাহকরা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংক কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং কমিউনিটি ব্যাংক কার্ডধারীরা ফ্ল্যাট ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, অপো রেনো১৫ এফ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন, যা ঈদ উপলক্ষে স্মার্টফোন আপগ্রেড করতে আগ্রহীদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।এই ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ অপো এ৬এস প্রো, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি। এই ডিভাইসে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এআই অটো জুম ৫০মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা স্মার্ট ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বড় গ্রুপ সেলফি সহজে ধারণ করতে পারে—ঈদের পারিবারিক আড্ডা ও আনন্দময় মুহূর্ত ধারণের জন্য একেবারে উপযুক্ত।ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “ঈদ আনন্দ, একসাথে থাকার মুহূর্ত এবং স্মরণীয় সময়ের উৎসব। এই বিশেষ অফারগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে চাই এবং একই সঙ্গে অপো এ৬এস প্রো -এর মতো উদ্ভাবনী ডিভাইস তুলে ধরতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকারের উচিত হবে দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদ-নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান পোস্টে লিখেন, বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নদীগুলো সচল ছিল। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিক্ষেত্রে নদী ছিল বিশাল নিয়ামক শক্তি। তার পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ, জমির উর্বরা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে পানি প্রবাহ সঠিক থাকার কারণে ঘনঘন বন্যা এবং এই জনিত দুর্ভোগের প্রাদুর্ভাব কমই হতো।‘কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে একদিকে ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ, অন্যদিকে প্রধান প্রধান নদীগুলোসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী, খাল এবং বিল ভরাট হওয়ার ফলে একসময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন ভরা মৌসুমে পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে অকাল বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শুকনো মৌসুমে মরুভূমির রূপ ধারণ করে।’তিনি বলেন, বর্ষায় পানির প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি প্রধান প্রধান শহর ও নগরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে যেখানে নৌ-চলাচল ও কৃষির জন্য পানির প্রয়োজন হয়, সেখানে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করার মতো পানি থাকে না।‘অতএব দেশ বাঁচাতে হলে প্রধান প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত হবে দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদ-নদী গুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।’জামায়াত আমির বলেন, মনে রাখতে হবে- অতীতে ড্রেজিংয়ের নামে, নদী শাসনের নামে, নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। কারণ লুটপাটতন্ত্র ছিল তখন শাসকদের মূলনীতি।তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। দেশবাসীর আমানত সর্বোত্তম পন্থায় স্বচ্ছতার সাথে কাজে লাগানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার মূলত দেশবাসীর পক্ষে সকল কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে।এমনকি খাল খননের সুফল তখনই পাওয়া যাবে- যখন নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, নাব্যতা ফিরে পাবে। অন্যথায় খাল খনন থেকেও জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।