ভারতের দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সারা ভারতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টারে সংগঠনটি ‘প্রতিটি জেলা, এক দিন, এক দাবি’ স্লোগানে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। সিজেপি জানিয়েছে, প্রতিটি জেলায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজন করে সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশি অভিযানের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানানো হবে। অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত স্থানে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার জন্য একটি স্মারকলিপির খসড়া প্রকাশ করেছে।স্থানীয় আয়োজকদের ছাত্রসংগঠন ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া এবং পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সিজেপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।বর্তমানে দিল্লির জন্তর মন্তরে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সিজেপির আন্দোলন চলছে।এদিকে আন্দোলন চলমান থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার আবারও সংগঠনটির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকার সংসদের ফ্লোর লিডারদের নিয়ে বৈঠক করতে পারে।সরকার বিরোধী দলগুলোকে জানিয়েছে, পদত্যাগের মতো কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত।আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডাও পুনরায় বলেন, সরকার সিজেপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি জানান, সংগঠনের প্রতিনিধিরা চাইলে তার সরকারি বাসভবন বা দপ্তরে গিয়ে বৈঠক করতে পারেন।তবে সিজেপি জানিয়েছে, যেহেতু তাদের আন্দোলন জন্তর মন্তরে চলছে, তাই আলোচনাও সেখানেই বা এর আশপাশে হতে হবে। সরকারের প্রস্তাবিত বৈঠকের স্থান তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন বাংলাদেশ থেকে বিদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলে জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মিরপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে যারা অপমান করেছে, ইতিহাসে তাদের কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। আপনাদের দেরি হয়েছে, সমস্যা নেই, বাস্তবতা মেনে নিন। জনগণকে সম্মান দেখালে, জনগণও আপনাদের সম্মান ও গ্রহণ করবে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের এককভাবে দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ' দিলেও নির্বাচনের পর সরকার বলছে, গণভোট অবৈধ। তাহলে গণভোট যদি হারাম হয়, সংসদ নির্বাচন কীভাবে হালাল হয়—প্রশ্ন জামায়াত আমিরের।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যাদের হাত ধরে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলো, সেই যোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার। জুলাইয়ের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রাজধানী রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সৌদি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। অন্যদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তানিয়া তাহমিনা রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও তাদের বড় ছেলে নাবিল গুরুতর আহত হয়েছেন। শফিকুল ইসলামের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়।নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বোন, ভগ্নীপতি ও তিন সন্তান নিজস্ব একটি প্রাইভেট কারে করে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে একটি দ্রুতগামী ভারী বাহন তাদের প্রাইভেট কারটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বোন রিনা, ছোট ভাগনে তাসবিক ও ভাগনি জারার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।এদিকে নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই সৌদি প্রবাসী নাসিম আহমেদ কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পুরো পরিবারটি রিয়াদ থেকে রওনা হওয়ার পর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই এই নির্মম দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত ভগিনীপতি শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ভাগনে নাবিলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি সালথাসহ স্বজনদের মাঝে শোকের চরম মাতম চলছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আসিয়ান দেশগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব জটিল ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সংলাপ, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এক দিনেই ৭ হাজার ৮৫৩টি পুরোনো ‘ক্রিমিনাল মিস’ মামলা নিষ্পত্তি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে হাইকোর্টের ১০টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় গত ৭ মে থেকে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয় জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে) মোট ৩৫ হাজার ৭৯২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।’ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) ও রিট মামলা মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬৯৯টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এক দিনে ৭৮৫৩টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।মামলাজট কমানোর এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।’পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চসমূহের বিচারপতি মহোদয়বৃন্দ দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন।’
বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। পরীক্ষাকালীন সময়ে তাকে আর চাকরি করতে হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে মন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।ফারহান ইশতিয়াক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যেন ইকনকে চাকরিতে ডিউটি করতে না হয়, সে জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উচ্চশিক্ষাসহ তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।ইকনের সংগ্রামী জীবনের গল্প প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দুপুরে তিনি মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।অত্যন্ত নাজুক পারিবারিক অবস্থার মধ্যেই ইকন তার মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে বাগেরহাটে মাসে চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করেন। তাদের আদি বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও দাদার চাকরির সুবাদে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে বসবাস করছে।বাবার মৃত্যুজনিত শোকের মধ্যেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ইকন সেদিন রাতেই কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে ডিউটিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনের ফাঁকে বুথের ভেতরেই বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি। পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়।ইকনের এই সংগ্রামের কাহিনি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষাকালে তার কর্মদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন।
সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও এক হাজার ১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে তথ্যটি জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৪৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকেবৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট এক লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার সাতজনের হাম শনাক্ত হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ তিন হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে এক লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণপত্র এসেছে। আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়েছি।’আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র না হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৭ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদেরকে অবসরে পাঠানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলো— হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল বাকী, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা, পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ) সারদার ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেন, এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি সহেলী ফেরদৌস, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা, সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিনা রহমান, পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়সল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সুলতানা নাজমা হোসেন, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম, টিডিএস ঢাকার পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী, সিআইডির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদা ইয়াসমিন।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে দক্ষ নেতৃত্ব এবং টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে প্রকৌশল মহলে এ পদোন্নতিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৯ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতনক্রমে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি দেয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি না হওয়ায় এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা ছিল। সংশ্লিষ্ট অনেকেই তার জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানিয়েছিলেন।পদোন্নতির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোঃ বেলাল হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, এলজিইডির মূল লক্ষ্য টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা। তিনি জানান, শুধু গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ নয়, বর্তমানে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাল পুনঃখনন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণেও এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তিনি বলেন, বর্তমানে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ৪ লাখ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ১৩২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৯৬টি গ্রামীণ উন্নয়ন, ৩২টি নগর উন্নয়ন এবং ৪টি ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। এ পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর আর্থিক অগ্রগতি ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এলজিইডির সদর দপ্তর, দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৬টি উপজেলায় আধুনিক নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২৩০টি উপজেলায় পরীক্ষাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সীমিত রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এলজিইডি এখন ডিজিটাল মনিটরিং, উন্নত প্রকল্প পরিকল্পনা, শক্তিশালী চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মোঃ বেলাল হোসেন ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি গাজীপুরের ডুয়েটে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা জীবনে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।দীর্ঘ কর্মজীবনে মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্প, নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল সেতু নির্মাণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করেছেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রশাসন, নকশা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও দায়িত্ব পালন করেন।নতুন দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, এ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবেন। এ সময় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ উন্নয়ন ব্যবস্থার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থানের কারণে মোঃ বেলাল হোসেনের এ পদোন্নতি এলজিইডির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বে দেশের গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রাজধানী রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সৌদি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। অন্যদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তানিয়া তাহমিনা রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও তাদের বড় ছেলে নাবিল গুরুতর আহত হয়েছেন। শফিকুল ইসলামের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়।নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বোন, ভগ্নীপতি ও তিন সন্তান নিজস্ব একটি প্রাইভেট কারে করে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে একটি দ্রুতগামী ভারী বাহন তাদের প্রাইভেট কারটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বোন রিনা, ছোট ভাগনে তাসবিক ও ভাগনি জারার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।এদিকে নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই সৌদি প্রবাসী নাসিম আহমেদ কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পুরো পরিবারটি রিয়াদ থেকে রওনা হওয়ার পর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই এই নির্মম দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত ভগিনীপতি শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ভাগনে নাবিলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি সালথাসহ স্বজনদের মাঝে শোকের চরম মাতম চলছে।
সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন বাংলাদেশ থেকে বিদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলে জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মিরপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে যারা অপমান করেছে, ইতিহাসে তাদের কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। আপনাদের দেরি হয়েছে, সমস্যা নেই, বাস্তবতা মেনে নিন। জনগণকে সম্মান দেখালে, জনগণও আপনাদের সম্মান ও গ্রহণ করবে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের এককভাবে দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ' দিলেও নির্বাচনের পর সরকার বলছে, গণভোট অবৈধ। তাহলে গণভোট যদি হারাম হয়, সংসদ নির্বাচন কীভাবে হালাল হয়—প্রশ্ন জামায়াত আমিরের।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যাদের হাত ধরে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলো, সেই যোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার। জুলাইয়ের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল (২৬) নামে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত সাগর মন্ডল বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মন্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগর মন্ডলের বিরোধ চলছিল। তিনি স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস করতেন। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাইরে হইচই শুনে তার স্ত্রী মারজিয়া খাতুন ঘর থেকে বের হন। তখন সাগরের জেঠাতো ভাই জুলহাসসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে আমি চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা আমাকেও হুমকি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময়ও দুর্বৃত্তরা মানিকচকের শাওনের বাড়ির দিকে আমাদের পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির গলি থেকে সাগরকে উদ্ধার করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে খুব নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আমার ছেলে পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানিও দেয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, রাতেই আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে সাগর মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নিহত সাগর মন্ডলের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে উঠে এসেছে এক বৈচিত্র্যময় বিশ্বকাপের গল্প। সেখানের এক সাংবাদিক এই গল্প তুলে ধরে বলেছেন, 'জাতীয়তা বলে দেয় আপনি কোথা থেকে এসেছেন। সত্য বলতে, আমি চারটি দেশ থেকে এসেছি- ফ্রান্স, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া ও গ্রেট ব্রিটেন। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কারণ আমার মধ্যে ভিন্ন চারটি সংস্কৃতি রয়েছে, যা আমাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে।' কথাগুলো মাইকেল ওলিসির। এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড সাত গোলের অ্যাসিস্ট করে একক আসরে করা পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। এই কীর্তি তিনি গড়েছেন ফ্রান্সের হয়ে, যদিও সেটি তার জন্মভূমি নয়।খোলা চোখে তাকালে, এবারের বিশ্বকাপে অভিবাসী খেলোয়াড়দের অর্জন অতীতের যে-কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে নিবন্ধিত ফুটবলারদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নিজের জন্মভূমির বাইরে অর্থাৎ অন্যদেশের হয়ে খেলেন। সংখ্যাটি ২০১৮ সালের চেয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। আর এবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ৪৮টি দলের ১ হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩.৬%) তাদের জন্মভূমির বাইরের দেশের জার্সিতে মাঠে নামেন। ৪৮ দল ও ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল টুর্নামেন্টে এটি অবশ্যই লক্ষণীয় দিক।জন্মভূমির বাইরের দেশের জার্সি গায়ে চাপানো ফুটবলারদের পা থেকে এবার গোল ও অ্যাসিস্ট এসেছে ৭০টি, যার মধ্যে ১৯টি গোল ছিল এমন- যেখানে পাস দেওয়া ও গোলদাতা—উভয়ই জন্মসূত্রে অন্য দেশের। অথচ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আটটি আসরের মধ্যে ছয়টিতে মোট গোল ছিল ৮৯টির কম। তবে সব গোলের গুরুত্ব এক নয়, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে। বিশ্বকাপের একেকটি মুহূর্ত যেন জাতীয় চেতনার গভীরে গেঁথে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ আসরের তিন আয়োজক দেশের হয়ে অভিবাসী খেলোয়াড়রা অসামান্য অবদান রেখেছেন। কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া হুলিয়ান কিনিয়োনেস মেক্সিকোর হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম গোল করেন। ওই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারায় মেক্সিকো। পরে নকআউট পর্বের দুটিসহ আরও তিনটি ম্যাচে জাল খুঁজে নেন এই স্ট্রাইকার।যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মালেক তিলমান করেন দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে এক গোলের কারিগর হয়ে তিলমান যখন মাঠ ছাড়েন, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জিও রেইনা (গোলও করেন)। অর্থাৎ ওই ম্যাচে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এক খেলোয়াড়ের জায়গায় মাঠে নামেন এমন একজন, যিনি বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে। উল্টো ঘটনাও ঘটেছে। জোনাথন ডেভিড তার জীবনের প্রথম কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটালেও পরে কানাডা ফুটবলের নায়ক হয়ে ওঠেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কানাডার প্রথম জয়ে তিনি অসাধারণ হ্যাটট্রিক উপহার দেন। সব মিলিয়ে ১২ জন ফুটবলার তিন আয়োজক দেশের কোনো একটিতে জন্ম নিলেও এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অন্য দেশের।তবে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ে দেশমের ফরাসি স্কোয়াডে সুযোগ না পেয়ে অন্য দেশের জার্সিতে এবার বিশ্বকাপে খেলেছেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৭৪ ফুটবলার। কুরাসাও দলটি এক্ষেত্রে একেবারে ব্যতিক্রম, তাদের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের ২৫ জনই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণকারী। স্পেনের হয়ে ফাইনালে জয়সূচক গোলের পেছনে অবদান রেখেছেন নিকো উইলিয়ামস। বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামসের চেয়ে এই টুর্নামেন্ট তার জন্য ছিল অনেক বেশি রঙিন। ইনিয়াকির দেশ ঘানা কেবল শেষ ৩২ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবার ইনিয়াকির দল ঘানাকে আলো দেখান আমস্টারডামে জন্ম নেওয়া ডিফেন্ডার ডেরিক লুকাসেন, যার সৎ ভাই ব্রায়ান ব্রোবি আবার নেদারল্যান্ডসের হয়ে যৌথভাবে সর্বাধিক গোলদাতা।দুই ভাই দেসিরে দুয়ে ও গুয়েলা দুয়ের জন্ম ফ্রান্সের অঁজের শহরে। দেসিরে খেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে, আর গুয়েলা ছিলেন আইভরি কোস্ট স্কোয়াডে। একাই কাহিনি স্কটল্যান্ডের সটার পরিবারের প্রযোজ্য। এই পরিবারের দুই ভাই- হ্যারি খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে, আর জন ছিলেন স্কটল্যান্ড টিমে। আসলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সীমানার প্রাচীর এখন একেবারে অর্থহীন।বিশ্বকাপের এই বহুমাত্রিকতাকে যদি একজন খেলোয়াড়ের মাধ্যমে সবচেয়ে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়, তবে তিনি ২০ বছর বয়সী নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। তানজানিয়ায় জন্ম নেওয়া এই তরুণের বর্তমান ক্লাব ওয়াটফোর্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে কানাডার মাঠে তুরস্কের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সিয়াটলে। তার অনবদ্য পারফরম্যান্স পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হয়ত তার পরবর্তী ঠিকানা হতে যাচ্ছে পর্তুগাল।ফুটবলে জাতীয়তার সংজ্ঞা আর কখনোই এতটা জটিল বা বৈচিত্র্যময় ছিল না। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জাতীয়তা আর কখনো এমন সহজভাবে মিলেমিশে এক হয়েও যায়নি।
দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশনায় হাজির হচ্ছেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। একই অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা। তবে এবারের আয়োজনটি শুধু সম্মাননা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘রুনা লায়লা’ শীর্ষক এই সম্মাননা ও একক সংগীত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই। রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানটি। এতে নিজের জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শ্রেণিতে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ২ হাজার টাকা। টিকিট বিক্রির অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে।টিকিট সংগ্রহের জন্য আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে অর্থ, হিসাব ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায়।জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং ডা. জাহেদ উর রহমান (উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণে সাফল্য অর্জন করে ফেলেছেন। এরপর এখন যাত্রা শুরু করলেন বড় পর্দার নির্মাণ। নির্মাতা আদনান আল রাজী কয়েক দিন আগে দিয়েছেন নিজের প্রথম সিনেমার ঘোষণা। তখন সিনেমার নাম কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও তিনি এখন জানিয়েছেন এটি হবে একটি প্রেমের গল্প। আর সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ।সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাতা ও সিয়ামের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগেই মৌখিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি নন আদনান আল রাজীব কিংবা সিয়াম। দুজনই এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।যদিও নায়ক হিসেবে সিয়ামের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, সিনেমাটির নায়িকা কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।এ বিষয়ে আদনান আল রাজীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সিয়াম আহমেদকে সর্বশেষ গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ দেখা গেছে। নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও একটি রোমান্টিক চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।অন্যদিকে ‘কাছে আসার গল্প’, ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’-এর মতো আলোচিত নাটক নির্মাণের পর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনায় অভিষেক হতে যাচ্ছে আদনান আল রাজীবের।
বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা আবারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায়। গ্রিসে অবকাশযাপনের সময় সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।নিজের ইনস্টাগ্রামে ‘গ্রিস ডায়েরি’ ক্যাপশনে একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন মালাইকা। সেখানে সমুদ্রের নীল জলে স্বল্পবসনা অবস্থায় তাকে দেখা যায়। একটি ছবিতে হাতে ওয়াইনের বোতল নিয়ে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তবে নেটিজেনদের নজর কাড়ে তার পাশে একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময় পুরুষ। ওই ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তার পরিচয় নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনেকের ধারণা ওই ব্যক্তি হতে পারেন হীরা ব্যবসায়ী হর্ষ মোহতা। যদিও এ বিষয়ে মালাইকা অরোরা বা হর্ষ মোহতার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।এর আগে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই ছবিগুলো প্রকাশের পর আবারও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।বর্তমানে গ্রিসের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সময় কাটাচ্ছেন মালাইকা। সেখানে গোলাপি মনোকিনি, বিকিনি এবং সমুদ্রসৈকতে তোলা বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন তিনি। তবে রহস্যময় পুরুষ সঙ্গীকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর কট্টরপন্থী এক হিন্দু ধর্মগুরুর পক্ষ থেকে অভিনেতাকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণার দাবি সামনে এসেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অযোধ্যার কট্টরপন্থী ধর্মগুরু জগৎগুরু পরমহংস আচার্য এক বক্তব্যে দাবি করেন, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করবে, তাকে ৫ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ও বহনের কথাও বলেন তিনি।সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে আইনি প্রক্রিয়ায় গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।পরমহংস আচার্যের অভিযোগ, আমিরের তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, একই বক্তব্যে অযোধ্যার রামমন্দিরের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরমহংস বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তদন্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আমির খান বা তার টিমের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।তবে জানা গেছে গৌরি হিন্দু নন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। সূত্র: সামা টিভি
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুঁটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কামব্যাক করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের জন্য এটিই চরকির সাথে প্রথম কাজ। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (এমওএল) প্রজেক্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে সপ্তম চলচ্চিত্র, যা সহ-প্রযোজনা করছে খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’।নির্মাতা জাহিদ প্রীতম জানান, সমকালীন জীবনের নানা জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং আধুনিক জীবনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে এই সিনেমার গল্পে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’সাধারণত পর্দায় আরিফিন শুভকে অ্যাকশন হিরো কিংবা ‘আলফা মেইল’ চরিত্রে দেখে দর্শক অভ্যস্ত। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় আনিস নামের একটি চরিত্রে একদম ভিন্নরূপে হাজির হবেন তিনি। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ‘সিগমা মেইল’ হিসেবে।নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে রয়েছেন সহজ-সরল ও সৎ যুবক আনিস (শুভ), আর অন্য প্রান্তে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা। এই অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত।নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন। ‘চরকির ব্যতিক্রমী প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ মূলত সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে গল্প বলে। এই প্রজেক্ট নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’গল্পের ভিন্নতার কারণেই এই প্রজেক্টের সাথে সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভালো লাগা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’উল্লেখ্য, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আরিফিন শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ছিল ২০২৩ সালের ‘উনিশ২০’। অন্যদিকে, নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ‘ঘুমপরী’র পর তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে চরকিতে ফিরছেন। ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬-২৪-৩৬’ এবং ‘ডিমলাইট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়েছে।
রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় অভিনয় শিল্পী সংঘের সব সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা এক্সিকিউটিভ হেলথ চেক-আপ, কার্ডিয়াক হেলথ চেক-আপসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।চুক্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষে সভাপতি আজাদ আবুল কালাম যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সূচনা সিকদারও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ভোক্তার আস্থা অর্জন এবং পণ্য ও সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খাস ফুড লিমিটেড। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং উত্তম ভোক্তা-সেবা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে খাস ফুডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) বিকাশ চন্দ্র দাস, সহকারী পরিচালক (মেট্রো-১) মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এবং সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) তাহমিনা বেগম প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে খাস ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুল মোস্তফাসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।প্রশিক্ষণে বাস্তব কেস স্টাডি, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত গ্রাহকসেবা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করেন।সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) তাহমিনা বেগম ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা, আইনের প্রয়োগ, ভোক্তার অধিকার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।সহকারী পরিচালক (মেট্রো-১) মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, “গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জনে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সদাচরণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি অভিযোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) বিকাশ চন্দ্র দাস এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য খাস ফুডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “একটি ব্র্যান্ডের মূল ভিত্তি হলো পণ্যের গুণগত মান এবং ভোক্তার সন্তুষ্টি।” তিনি ভোক্তার অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এ ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সবসময় খাস ফুডের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।খাস ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুল মোস্তফা বলেন, “নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণকে খাস ফুড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি গ্রাহকের কাছে সর্বোচ্চ মানের পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া। পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং ভোক্তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত নতুন জ্ঞান অর্জন, কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং ধারাবাহিক উন্নয়নে বিশ্বাস করি। এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন কাজে প্রতিফলিত হবে এবং ভোক্তার আস্থা অর্জনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” উল্লেখ্য, খাস ফুড লিমিটেড দেশের একটি স্বনামধন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। গত ১১ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে লাখো গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য দুই দিনের বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই ২০২৬ (শুক্র ও শনিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওয়ারদি আল-দাওয়াসির এলাকায় এ কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।ক্যাম্পে নিজ উদ্যোগে ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ করা আবেদনকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পাসপোর্ট বিতরণ, শ্রমকল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড তৈরি, বিশেষ এক্সিট প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কনস্যুলার ও আইনি সেবা প্রদান করা হবে।এছাড়াও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, সেবা গ্রহণের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও ছাতা সঙ্গে রাখারও পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
‘মা’-ছোট্ট এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সীমাহীন মমতার গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার মা। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। আর সেই মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিনই হলো বিশ্ব মা দিবস।আজ মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবস। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নয়; বরং এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও দিন—আমরা আমাদের মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, তাঁর ত্যাগের প্রতিদান আদৌ দিতে পেরেছি কি না, সেই প্রশ্ন ভাবার দিন।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি মায়ের ভালোবাসা। মা তার সন্তান জন্মের আগ থেকেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। সন্তানের সুখের জন্য তিনি নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও আরাম বিসর্জন দেন। একটি শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম হাঁটা, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর পেছনেই থাকে মায়ের অবিরাম শ্রম ও স্নেহ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তিও একজন মা। কারণ একজন শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মা-ই একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারেন।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে সংগ্রাম করেন মায়েরা । গ্রামীণ জনপদের কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী নারী—প্রতিটি মা পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। অনেক মা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। আবার অসংখ্য মা সন্তানকে মানুষ করতে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। অথচ তাঁদের এই অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না।আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারে দূরত্ব বাড়ছে। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন ছবি বা স্ট্যাটাস দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন জীবিত অবস্থায় মায়ের পাশে থাকা, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন করা। কারণ একজন মা সন্তানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যা চান, তা হলো ভালোবাসা ও সম্মান।ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” এই বাণী শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতেও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মা কেবল ব্যক্তি নন, একটি অনুভূতি। মা একটি আশ্রয়, একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের নাম, পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসার দিন, সম্মানের দিন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস।
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন রাজধানীর মিরপুরে একটি নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) উদ্বোধন করেছে। উদ্ভাবন ও ডিজিটাল-ফার্স্ট সেবার মাধ্যমে আরো মানসম্মত গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সংকল্পবদ্ধ কোম্পানিটি; এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের হেড অব ব্র্যান্ড মার্কেটিং নাফিস আনোয়ার চৌধুরী, হেড অব কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আব্দুল্লা আল মাহমুদ, সার্কেল বিজনেস হেড (ঢাকা) আশফাকুজ্জামান চৌধুরী এবং গ্রামীণফোন সেন্টারের পার্টনার ইফতেখার মাহমুদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সেন্টার এজেন্ট, গ্রাহক এবং বৃহত্তর মিরপুর এলাকার স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।মিরপুরের প্রখ্যাত বেনারসি পল্লীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় সেন্টারটি আধুনিক ডিজাইন এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচিতির সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। সেন্টারটি মিরপুর ১১ মেট্রো রেল স্টেশনের পাশে স্থাপন করা হয়েছে যেন পল্লবী, মিরপুর-১০, রূপনগর ও মিরপুর ডিওএইচএসসহ বৃহত্তর মিরপুর এলাকার গ্রাহকরা সহজে সেবা নিতে পারেন।পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন উদ্বোধন হওয়া এই সেন্টারটিতে রয়েছে আধুনিক ডিজাইন ও অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধার সমন্বয়। সেন্টারটিতে আসা গ্রাহকরা গ্রামীণফোনের সব ধরণের টেলিযোগাযোগ সেবা, ডিজিটাল সল্যুশন ও অত্যাধুনিক পণ্যসহ সব কিছু এক ছাদের নিচেই পেয়ে যাবেন। নতুন এই গ্রামীণফোন সেন্টারটি সকলের জন্য সহজলভ্য, আধুনিক ও টেকসই সেবা ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রামীণফোনের ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি সেবা প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রাখার প্রতি কোম্পানির অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। ৫ জুন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদি হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয়, যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না।উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদির ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদিপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে; সেইদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলেছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পরে, ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা। যার দাম তখন ছিল বাংলাদেশি ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো ১৬ সালে যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো, তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম। এই জন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না।এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে; তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে।ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমারা হারাইতে দিব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে; সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?’