সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করছে পুলিশ। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দেওয়া তার বক্তব্যের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ক্রাইম প্রিভেনশন (সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় তাকে (নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী) জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।’শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধার সংক্রান্ত’ এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তা।সম্প্রতি রাজধানীতে এক প্রতিবাদ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।তার এই মন্তব্যের বিষয় তুলে ধরে সাংবাদিকরা যুগ্ম কমিশনারের কাছে জানতে চান, সম্প্রতি যেসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে, সেগুলো কি শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই করছে, নাকি অন্য কেউ জড়িত আছে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে তিনি এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।তাহলে কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।এর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধারসহ এক দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করেছে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম জাহিদ হাসান ইমন (৩০)।
মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে পেছন থেকে আরেকটি বাস ধাক্কা দিয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গোপালগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে পালকী পরিবহনের একটি বাস। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছার পর বাসটির চাকা নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় হানিফ পরিবহনের আরেকটি বাস পালকী পরিবহনের বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন।খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন।দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ গিয়ে কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পালকী পরিবহন এক্সপ্রেসওয়ে পার্কিং করে রাখে। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।’মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম ইবনে মিজান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার কাজের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়ে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও এনএসআই, এসবি ও ডিএসবি’র ভেরিফিকেশনের নামে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপর ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ, আইনগত ভিত্তি ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই বৈষম্য, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিকের রাজনৈতিক মত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ না থাকলে শুধু অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।নেতৃবৃন্দ বলেন, “গোপন প্রতিবেদন” বা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজন নাগরিকের চাকরি ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া চলবে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হলে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত কারণ যাচাইয়ের সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দিতে হবে।তারা আরও বলেন, সম্প্রতি সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। আর্থিক লেনদেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের অভিযোগ থেকে নিয়োগব্যবস্থাকে মুক্ত করে সরকারকে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ ও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া এবং অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে নম্বর বা মানদণ্ড পরিবর্তনের উদ্যোগ,দুটিই জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত জরুরি।তারা অবিলম্বে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনঃতদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত এবং আইনগতভাবে অযোগ্য নন,এমন বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্রুত পুনর্বহাল করে নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়, এটি নাগরিকের মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য অধিকারের বিষয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও বাছাই চলতে থাকে, তাহলে তা বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।এবি পার্টি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আইনানুগতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রিজভী বলেছেন, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো অবস্থান নেই। যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথে প্রান্তরে কঠিন বেরিকেড গড়ে তুলবে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের উত্তর গেটে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা গাজী মো. সেলিম রেজা।রুহুল আমিন রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন।তিনি বলেছেন অস্ত্রের বদলের পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক যুক্তিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা আর মানবতা। অসাধারণ বক্তব্য সেখানে দিয়েছেন। বলেছেন, প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে প্রত্যেকটি দেশের সমমর্যাদার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে হবে।তিনি আবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। রিজভী বলেন, তিনি বাংলাদেশের মুসলিম রোহিঙ্গা, যারা এখানে আজকে রিফিউজি হিসেবে আছেন, তাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।অর্থনীতি উন্নয়নসহ নানাবিধ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসের দাম বাড়ে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। জ্বালানির দাম বাড়ে। গ্যাসের দাম বাড়ে। বিদ্যুৎ থাকে না, নীলকল-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ বেকার হয়। আজকে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, আজকে যারা আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের যে এখানে গণতন্ত্রের যে ধারা, সেই ধারাকে যারা বন্ধ করতে চাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এই প্রতিবাদ।বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কোনো পাতানো নির্বাচন নয়, কোনো মিডনাইট নির্বাচন নয়। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা এসেছে। বহুদিনের প্রত্যাশিত জনগণের ভোটে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির জোট সরকার ক্ষমতায়। আমরা মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিএনপির সরকার কাজ করছি।তিনি বলেন, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো অবস্থান নেই। যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায় মোড়ে মোড়ে, পথে প্রান্তরে কঠিন বেরিকেড গড়ে তুলবে।এসময় বায়তুল জামে মসজিদের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাসে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় খালাস শুরু হয়েছে। ফলে আজকের বিকেলের মধ্যেই সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যশোরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।স্থানীয় গ্যাসের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, যশোরে কোনো সিএনজি স্টেশন নেই, এমনকি বাসাবাড়িতেও আবাসিক গ্যাস সংযোগ নেই। এছাড়া পুরো খুলনা বিভাগজুড়েই গ্যাসভিত্তিক বড় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে এই মুহূর্তে কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।সারা দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বঙ্গোপসাগরে থাকা দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ থেকে নির্ধারিত সময়ে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমে যায়। তবে শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে পুনরায় খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিকেলের মধ্যেই সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমলে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হলে দেশেও তেলের মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে জনগণকে স্বস্তি দিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের বাজারেও তা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা থাকবে। তবে এই মুহূর্তে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারের পরিকল্পনা নেই।এদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যশোরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন হান্নান মাসউদ। তিনি উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রবেশমুখে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষ হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে আট নেতাকর্মী আহত হন। পরে উপস্থিত পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও পূর্বপরিকল্পিত। বিনা উসকানিতে ছাত্রদল ও যুবদলের ক্যাডাররা এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সমাবেশে বিএনপিকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার ধারাবাহিক উসকানিমূলক আচরণের কারণেই সাধারণ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এতে দলীয় কোনো পূর্ব নির্দেশনা বা হামলার পরিকল্পনা ছিল না।ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাওয়ার পথে বিএনপির লোকজন পথরোধ করে হট্টগোল সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা মারমুখী আচরণ করে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এ সময় তাদের ছোঁড়া একটি ঘুসি আমার ঘাড়ে এসে লাগে।হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, সংসদ সদস্য সভাস্থলে প্রবেশের সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে।হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, উপজেলা পরিষদ গেটে দুপক্ষের উপস্থিতির কারণে ধাক্কাধাক্কি ও উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সভাকক্ষে পৌঁছে দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের সন্ধান ২৩ ঘণ্টা পরও মেলেনি।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।এর আগে বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে ট্রলারটি ডুবে গেলে তারা নিখোঁজ হন।নিখোঁজরা হলেন- হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) ও সামিন (৫)। তারা সবাই কুমিল্লা জেলার হোমনা থানা এলাকার বাসিন্দা এবং সেখান থেকে বৈদ্যেরবাজারের দিকে আসছিলেন তারা।আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, গত রাতে (বৃহস্পতিবার) উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার পর আজ (শুক্রবার) সকাল ৭টা থেকে আমাদের দল আবার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে তিনজন ডুবুরি নদীতে নেমেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জন যাত্রী গরু-ছাগলসহ ট্রলারে করে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকায় সাজিয়া আক্তার (১৯) ও শিশিরের বিয়েতে যোগ দিতে রওনা দেন। বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।এ সময় কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। একই সময় রায়েসা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে চারজন নিখোঁজ থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, গত রাত থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ও কোস্টগার্ডের দুটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরাতে সরকারের একটি অংশ ও প্রশাসনের ভেতরে থাকা একটি চক্র কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে কীভাবে ‘ইনক্লুসিভ’ প্রক্রিয়ায় রাজনীতিতে ফেরানো যায়, সে পথ খুঁজছে সরকার। এ ক্ষেত্রে দিল্লির সঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে খুলনা বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরাতে জামায়াতের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, এটি অসত্য, এটি একটি হাস্যকর কথা। আমরা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। যারা এ অভিযোগ করছেন, তাদেরই এর প্রমাণ দিতে হবে।তিনি বলেন, যাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ, তারা রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডিসহ দেশের অন্তত ২০টি জেলায় মিছিল করেছে। একটি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের একটি পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া এসব করা সম্ভব নয়।গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারের একটি অংশ ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের অনুসারীরা দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে ভেতর থেকে সহযোগিতা করছে। অথচ আওয়ামী লীগের মিছিলের দায় চাপিয়ে জামায়াতের নিরীহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হচ্ছে।শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা আমাদের নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছে, তাদের আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ হাস্যকর। বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই অসত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বুকে পাথর চাপা দিয়ে আমরা মেনে নিয়েছি। গত নির্বাচনে ম্যানুপুলেট করা হয়েছে ফলাফল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকেও আমরা এমনটি জানতে পেরেছি।তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু সরকার এটিকে তাদের দুর্বলতা হিসেবে মনে করছে। এই সরকারকে আমরা সহযোগিতা করেই যাচ্ছি, আর তারা আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক কথা বলছে, আচরণ করছে এবং বক্তব্য দিচ্ছে’ বলেন তিনি।দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্রাম-গঞ্জে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি আখড়া গেড়ে বসেছে। দুর্নীতি শুধু শহর বা প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক যে, বিরোধী দল জ্বালানি সংকটসহ সমসাময়িক ৩৮টি সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিনা খরচে বিশেষজ্ঞ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সরকার এ প্রস্তাব দেখেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার সহযোগিতা করছে। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা বর্তমানে বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বর্তমানে প্রতি ১০টি ব্যবসার মধ্যে ৯টিই ধ্বংস হয়ে গেছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন। খবর এএফপির।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইউএনসিটিএডির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পেদ্রো ম্যানুয়েল মোরেনো বলেন, গাজার অর্থনীতির এই ধস বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট। চলমান ধ্বংসযজ্ঞ গাজার কয়েক দশকের উন্নয়নকে পুরোপুরি মুছে ফেলেছে ও সেখানকার জনগণের জীবনযাত্রাকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে নিপতিত করেছে।ইউএনসিটিএডির নতুন এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। অঞ্চলটিতে বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক জিডিপি মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ ডলারে নেমে এসেছে, ২০২২ সালের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ২৭৪ শতাংশ।সংস্থাটির ফিলিস্তিনি সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী মুতাসিম এলাগ্রা জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে প্রতি তিনজন গাজাবাসীর মধ্যে দুজন দরিদ্র ছিলেন, কিন্তু আজ গাজার প্রায় প্রতিটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। শিল্প কার্যক্রম ও কৃষি উৎপাদন ৯৪ শতাংশ কমে গেছে ও মোট আবাদি জমির মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এখানকার মানুষ শতভাগ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।এছাড়া প্রতিবেদনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভঙ্গুর অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে সতর্ক করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডগুলো দ্রুতই ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যার সামাজিক ও মানবিক পরিণতি হবে সুদূরপ্রসারী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।’তিনি জানান, ‘দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।’
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করছে পুলিশ। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দেওয়া তার বক্তব্যের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ক্রাইম প্রিভেনশন (সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় তাকে (নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী) জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।’শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধার সংক্রান্ত’ এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তা।সম্প্রতি রাজধানীতে এক প্রতিবাদ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।তার এই মন্তব্যের বিষয় তুলে ধরে সাংবাদিকরা যুগ্ম কমিশনারের কাছে জানতে চান, সম্প্রতি যেসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে, সেগুলো কি শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই করছে, নাকি অন্য কেউ জড়িত আছে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে তিনি এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।তাহলে কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।এর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধারসহ এক দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করেছে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম জাহিদ হাসান ইমন (৩০)।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও এনএসআই, এসবি ও ডিএসবি’র ভেরিফিকেশনের নামে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপর ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ, আইনগত ভিত্তি ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই বৈষম্য, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিকের রাজনৈতিক মত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ না থাকলে শুধু অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।নেতৃবৃন্দ বলেন, “গোপন প্রতিবেদন” বা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজন নাগরিকের চাকরি ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া চলবে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হলে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত কারণ যাচাইয়ের সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দিতে হবে।তারা আরও বলেন, সম্প্রতি সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। আর্থিক লেনদেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের অভিযোগ থেকে নিয়োগব্যবস্থাকে মুক্ত করে সরকারকে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ ও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া এবং অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে নম্বর বা মানদণ্ড পরিবর্তনের উদ্যোগ,দুটিই জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত জরুরি।তারা অবিলম্বে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনঃতদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত এবং আইনগতভাবে অযোগ্য নন,এমন বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্রুত পুনর্বহাল করে নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়, এটি নাগরিকের মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য অধিকারের বিষয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও বাছাই চলতে থাকে, তাহলে তা বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।এবি পার্টি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আইনানুগতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া সেই অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম রবিন। নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া তার ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় শনাক্ত করে বেলতলী নৌ-পুলিশ।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী রবিন লঞ্চ থেকে নামেন। পরে নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন।পরে ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হলে ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন রবিন। এ সময় তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চটি মোহনপুর লঞ্চঘাটে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি ও এর দুই স্টাফকে আটক করে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।এদিকে, নিখোঁজ রবিনের পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতর থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য একটি ফোনে দিয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। কলটি রিসিভ করেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার। তিনি জানান, নম্বরটি তার স্বামী রবিনের। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নৌ-পুলিশ তার স্ত্রীকে ঘটনাটি জানায় এবং সান্ত্বনা দেয়। স্বামীর নিখোঁজের খবর পেয়ে আহাজারি করতে করতে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। সেখানে স্বামীর সন্ধানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ রবিনের জন্মস্থান শরীয়তপুর। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করতেন। তার শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। রবিনের সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।স্থানীয় সৈকত বলেন, লঞ্চচালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।বেলতলী নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ-পুলিশ, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালান।এদিকে, ঘটনার প্রায় ৪৫ মিনিট পর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে খবর পায় চাঁদপুর নদী ফায়ার সার্ভিস। এরপর আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতির কারণে সড়কপথে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয় ফায়ার সার্ভিসের দল। নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পর চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ জানান, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীতে স্রোত থাকায় প্রয়োজনে ভাটির দিকেও তল্লাশি চালানোর কথা জানান তিনি।চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে নিখোঁজের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় কিছুটা বিলম্ব হলেও পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি ঘটনাস্থল ষাটনল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি বিকেলে ঘটনাস্থলে এসেছি। নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কথা বলেছি। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও রবিনের কোনো সন্ধান পাননি ডুবুরিরা। একদিকে মিলেছে নিখোঁজ যুবকের পরিচয়, অন্যদিকে স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ষাটনল ঘাটে আহাজারি করছেন স্ত্রী নাসরিন আক্তার। নদীতে রবিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। এর আওতায় অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সী মেয়েদের রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সহসভাপতি মৌসুম আলী নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এর মেয়াদ হবে তিন বছর। তৃণমূল ও রাজধানী থেকে আগ্রহী মেয়েদের বিভিন্ন মেয়াদে রাগবি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করবে রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়ন। ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষক, খেলার উপকরণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে এবং ফেডারেশনের হয়ে খেলার জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, সারা বিশ্বে রাগবি একটি জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশেও খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারীদের খেলাধুলায় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে মেয়েদের জনপ্রিয় ও অপ্রচলিত বিভিন্ন খেলা শেখার সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
দুই বছর মঞ্চে ফিরছে নাট্যদল ম্যাড থেটারের ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। তাও আবার পরপর দুই দিন দুটি প্রদর্শনী নিয়ে। শুক্র ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে হবে প্রদর্শনী।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এনএসডি আয়োজিত ‘ভারত রঙ মহোৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর আর মঞ্চে ওঠেনি ‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’। একক চরিত্রের নাটকটিতে অভিনয় করেন আর্য মেঘদূত। বর্তমানে তিনি স্কলারশিপে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়নরত। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছাড়ার পর নাটকটির মঞ্চায়ন স্থগিত হয়ে যায়।সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে দেশে এসেছেন। সেই সুবাদেই নাটকের দুটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করবেন।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তখন মেঘদূত মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী। কনিষ্ঠ একক অভিনেত্রী হিসেবে চমকে দেন সবাইকে। এ পর্যন্ত নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী হয়েছে।‘অ্যানা ফ্রাঙ্ক’ নাটকের গল্পের শুরুটা এরকম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। হিটলারের বাহিনী একদিন দখল করে নেয় হল্যান্ড। ফ্রাঙ্ক পরিবার হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। ১৯৪২ সালের ৬ জুলাই তারা আশ্রয় নেয় সিক্রেট অ্যানেক্সে। ফ্রাঙ্ক পরিবারের ছোট মেয়ে অ্যানা ফ্রাঙ্ক। সিক্রেট অ্যানেক্সে ফ্রাঙ্ক পরিবারের সাথে যোগ দেয় অ্যানা ফ্রাঙ্কের বাবার বন্ধুর পরিবার ও একজন ডাক্তার। সব মিলেয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটজন। সিক্রেট অ্যানেক্স! ছোট্ট, স্যাঁতস্যাঁতে একটা জায়গা। এসবের মধ্যে এতগুলো মানুষ। তবু অ্যানা নিঃসঙ্গ, তার মনের কথা বলার মতো সে কাউকে পায় না। তার সব কথা সে লিখে রাখে ডায়েরিতে, ডায়েরিটাই হয়ে ওঠে তার কাছে প্রিয় বন্ধু।
সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতার কলম, তারপর ক্যামেরার সামনে অভিনয়—হাসান মাসুদের পেশাজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। পরে অভিনয়ে এসে ছোট পর্দায় পরিচিতি পান। এবার তার কর্মজীবনে যুক্ত হলো কর্পোরেট দুনিয়া।অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবার সেই পথচলায় যুক্ত হলো নতুন পরিচয় কর্পোরেট পেশাজীবী হাসান মাসুদ।যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান জেইন গ্লোবাল -এ হেড অব স্টুডেন্ট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেতা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি।একসময় নাটক, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন টেলিভিশন আয়োজনে নিয়মিত দেখা যেত হাসান মাসুদকে। অভিনয়ের নিজস্ব ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যস্ততা। নাটক কিংবা সিনেমায় এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বেছে বেছে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও অভিনয়কে আগের মতো পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রাখেননি।অভিনয় থেকে দূরে থাকার সেই সময়েই পেশাগত জীবনে নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।জেইন গ্লোবালে নতুন দায়িত্বে হাসান মাসুদের কাজের পরিধি হবে শিক্ষার্থীসেবা, ব্র্যান্ডিং ও যোগাযোগ কার্যক্রম ঘিরে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।জেইন গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসান মাসুদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে চায় তারা।হাসান মাসুদের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে। সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে শুরু, এরপর সাংবাদিকতা। তারপর অভিনয়ের জগতে প্রবেশ। ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া হাসান মাসুদের সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠার বদলে এবার তাকে কাজ করতে হবে ব্র্যান্ড, শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ নিয়ে।পেশাজীবনে একাধিকবার পথ বদলেছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন তিনি। এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। নতুন এই অধ্যায়ে তার দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরাধীন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের অঙ্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা পদাতিক।ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে।রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এবার ঐতিহাসিক এই নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুননাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।মিলনায়তনের প্রবেশপথেই প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আবারও বাবা হলেন বলিউড তারকা অভিনয়শিল্পী রণবীর সিং আর মা হলেন তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ) তাদের ঘর আলো করে এসেছে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।দীপিকা ও রণবীর যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় নবজাতকের পায়ের ছাপ। ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ওয়েলকাম বেবি গার্ল! ১৯/৯/২০২৬। দোয়া, দীপিকা অ্যান্ড রণবীর।’এর মধ্য দিয়ে তাদের দুই বছরের মেয়ে দোয়া পেল ছোট বোন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই দীপিকা ও রণবীরের পরিবারে নতুন অতিথি আসার খবর নিয়ে আলোচনা চলছিল।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাবা-মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দীপিকা ও রণবীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দোয়ার হাতে একটি ইতিবাচক গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট। তখনই জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরেই আসছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান। সন্তান জন্মের কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে একসঙ্গে দেখা যায় দীপিকা ও রণবীরকে। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তান দোয়ার জন্মের আগেও একই মন্দিরে গিয়েছিলেন তারা। সেবার ৬ সেপ্টেম্বর মন্দিরে যাওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল দোয়ার।এবারও সেই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবরটি এবার আর কোনো জল্পনা নয়; দীপিকা ও রণবীর নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।২০১৮ সালে বিয়ে করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দোয়ার জন্ম হয়। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরও এক কন্যাসন্তান।দীপিকা পাড়ুকোন
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে রুপালি পর্দার সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে। ছবিটিতে অভিনয়ের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর খুব শিগগিরই তিনি হয়ে ওঠেন কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
একসময় কোনো প্রসাধনীর গায়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকলে অনেক ক্রেতাই হয়তো একটু দ্বিধায় পড়তেন। দেশি পণ্য বলে নয়, বরং ত্বক আর চুলের যত্নের বিষয়টা যেহেতু বেশ স্পর্শকাতর তাই কোন পণ্যটি ব্যবহার করছি, তাতে কী আছে, আদৌ ভরসা করা যায় কি না, এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সেই ভরসার জায়গাটা ছিল মূলত বিদেশি পণ্যের দখলে।কোরিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড কিংবা ইউরোপের কোনো দেশ থেকে আসা পণ্য মানেই যেন বেশি নিরাপদ, বেশি ভালো, এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল গত দুই দশকে। বিপরীতে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ অনেকের কাছে ছিল সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প হিসেবে। এই ধারণা অবশ্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দেশের পার্সোনাল কেয়ার বাজারের একটা বড় সময় কেটেছে মূলত দামের প্রতিযোগিতায়। কোন উপাদান দিয়ে পণ্যটি তৈরি, কীভাবে তৈরি, কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এসব তথ্য ক্রেতার সামনে সবসময় পরিষ্কার ছিল না। তার ওপর নকল আর অননুমোদিত পণ্যের দাপট তো ছিলই। ফলে পরিচিত বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যকেই অনেকের কাছে সহজ ও নিরাপদ মনে হয়েছে।তবে সেই জায়গাটা এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। একটি বিউটি শপে গিয়ে স্থানীয় ব্র্যান্ডের ক্লেনজার, সানস্ক্রিন, হেয়ার অয়েল বা সিরাম দেখলে ক্রেতারা আগের মতো শুধু ‘দেশি’ বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন না। একই শেলফে থাকা বিদেশি পণ্যের সঙ্গে পাশাপাশি রেখে দেখছেন। শুধু সস্তা বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নিজেদের গুণ ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই এসব পণ্য ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।এখন ক্রেতারা শুধু একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতির ওপর নির্ভর করছেন না। বরং পণ্যে থাকা উপাদানগুলো, তার কার্যকারিতা সম্পর্কে বলা কথাগুলো এবং বাস্তবে তা কতটা কার্যকর, এই সব বিষয়েই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই একসময় অপরিচিত মনে হওয়া উপাদানের নাম ও পণ্যের বিভিন্ন দাবি এখন দৈনন্দিন সৌন্দর্যচর্চার আলোচনারই অংশ হয়ে উঠেছে।সাজগোজ লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনটেন্ট অফিসার সিনথিয়া শারমিন ইসলাম সাজগোজের কনটেন্ট ও কমিউনিটির মাধ্যমে এই পরিবর্তনটি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন শুরু করি, তখন কমেন্ট সেকশনের প্রায় প্রতিটি প্রশ্নই ছিল ‘পণ্যটি বিদেশ থেকে এসেছে, না দেশে তৈরি?’ এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন প্রশ্ন আসে, ‘এতে কত পার্সেন্ট নিয়াসিনামাইড আছে?’, ‘এটি কি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে?’, ‘ঢাকার আর্দ্র আবহাওয়ায়, তৈলাক্ত ত্বকে এটি কাজ করবে কি না?’ এই পরিবর্তনটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক , যদিও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এর উত্তর দেওয়াও কঠিন।”ক্রেতাদের এই বদলে যাওয়া প্রশ্ন আসলে স্থানীয় সৌন্দর্যপণ্যের বাজারেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কোভিড-১৯-এর সময় এবং পরবর্তী সময়ে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমদানি করা পণ্যের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের মানসম্মত পণ্য, উন্নত ফর্মুলেশন স্বচ্ছ উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের আরও সুযোগ পায়।এখন স্থানীয় বিউটি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতা শুধু দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্পষ্ট উপাদান তালিকা, তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষা, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন, কিংবা পণ্য নিয়ে দাবি করা নির্ভরযোগ্য তথ্য ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে পণ্যটি কোন দেশের, তার চেয়ে সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।পণ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিউটি কমিউনিটি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ক্রেতাদের রিভিউয়ের মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রচারণার বাইরেও পণ্য ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। এতে কেনার আগে একটি পণ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করার সুযোগও বেড়েছে। ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পণ্যের কার্যকারিতাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অফার বা ছাড় একজন ক্রেতাকে প্রথমবার পণ্যটি কিনতে আগ্রহী করতে পারে। কিন্তু সেই ক্রেতাকে আবার ফিরিয়ে আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।সাজগোজ লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ. প্রীতি বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, “অফার দিলে যে কেউই একবার হলেও একটি পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবে। স্থানীয় বাজার হোক বা আমদানিকৃত পণ্যের ব্র্যান্ড, দুই ক্ষেত্রে বাজারব্যবস্থা এভাবেই কাজ করে। কিন্তু শুধু অফার দিয়ে একজন ক্রেতাকে আবার ফিরিয়ে আনা যায় না। স্থানীয় স্কিনকেয়ার ও হেয়ারকেয়ারের জায়গায় এই পরিবর্তনটি ঠিক এভাবেই এসেছে।”সব মিলিয়ে, বাজারের প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু সাশ্রয়ী দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিউটি শেলফে জায়গা করে নিতে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের পণ্যের মান, কার্যকারিতা এবং ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে সৌন্দর্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা আছে কি না, সেটিই এখন আর ক্রেতার একমাত্র বিবেচনা নয়। পণ্যের গায়ে থাকা লেবেলের বাইরে গিয়ে ক্রেতারা এখন নিজের মতো করে খতিয়ে দেখছেন পণ্যের ভালো-মন্দ।
রাজধানী ঢাকা ও এর চারপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরতলী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই করতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে থাকা ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। বুধবার এডিবির ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।এডিবি জানায়, সম্প্রতি ঘোষিত এই ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মূল লক্ষ্য হলো ওভারলোড বা অতিরিক্ত লোড থাকা সাবস্টেশন সংস্কার, পুরনো অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, কারিগরি অপচয় বা সিস্টেম লস কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে প্রায়ই যে নেটওয়ার্ক সংকট তৈরি হয়, এডিবির সমন্বিত বৃদ্ধি উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় গৃহীত এই প্রকল্প তা অনেকাংশে দূর করবে।বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেন ঝাং জানান, বাংলাদেশ যখন এক সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন শক্তিশালী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পের ফলে ঢাকা অঞ্চলের শিল্প ও বসতিগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ তৈরি হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।সংস্থাটি জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২টি নতুন সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাবোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ধারণক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের ক্ষমতা আরও ১১৫ মেগাবোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে। বিতরণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ২,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে আধুনিক ইনসুলেটেড পরিবাহী। এছাড়া দ্রুত লাইন চ্যুতি বা ত্রুটি শনাক্ত করে তা মেরামতের জন্য ৯০০টি আধুনিক ফল্ট লোকেটর সেট স্থাপন করা হবে। নদীতে টাওয়ার ও আধুনিক সুইচিং স্টেশনও এই প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হবে।বাংলাদেশ ২০২২ সালেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পটি কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে সাহায্য করবে। এজন্য এডিবি প্রায় ১৪৬.৫২ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং দিচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।বিদ্যুৎ অবকাঠামোর পাশাপাশি বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এই প্রকল্প বিশেষ জোর দেবে। ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিচালনা, পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পিবিএসগুলোর আর্থিক ভিত শক্ত হবে, যা পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে। প্রকল্পটিতে নারীদের কর্মসংস্থান ও কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও বিশেষ পদক্ষেপ থাকছে।ঢাকার উপকণ্ঠের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই মহাপরিকল্পনায় মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসছে দেশীয় উৎস থেকেও। এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। তাছাড়া কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সহায়তায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক এই উন্নয়ন ব্যাংকটির এই নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
সংযোগ ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ পুলিশের সাথে দশ বছরের একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর সিরিজ (০১৩২০০০০০০০–০১৩২০২৯৯৯৯৯) এবং অফিসিয়াল ও সল্যুশন-ভিত্তিক নম্বরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগ সেবা প্রদান করবে অপারেটরটি। এছাড়া অনলাইন জিডি এবং ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস)-এর মতো প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট সহায়তাও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (হেডকোয়ার্টার্স) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এবং গ্রামীণফোনের হেড অব ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিজ বিজনেস হেলাল উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এসময় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার আসিফ নাইমুর রশীদ, চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সৈয়দা তাহিয়া হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম বলেন, “দেশজুড়ে জনগণের সেবা , আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ। আমাদের কাজ ও জনগণকে সেবা দেওয়ার ধরন যেভাবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেভাবে নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও প্রযুক্তিও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্রামীণফোনের সাথে এই পার্টনারশিপ আমাদের যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবার চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। আরও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিং জোরদার করতে একসাথে কাজ করার প্রত্যাশায় রয়েছি আমরা।” গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ পুলিশের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সক্ষমতা দিয়ে তাদের সহায়তা করা। এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোকে কীভাবে আরও সুসংহত ও দক্ষ পরিচালনায় কাজে লাগানো যায় তা বোঝার সুযোগ তৈরি করে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তি যখন দায়িত্বশীলভাবে এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হয় তখন তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হয়। আমাদের সক্ষমতা দিয়ে একটি নিরাপদ ও আরও স্মার্ট আগামী গড়তে অবদান রাখার প্রত্যাশায় রয়েছি আমরা।”
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।