ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মার্চ ঠেকাতে পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের আটকের পর এবার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মধ্য দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সিজেপির দুই নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। তবে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামের এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই আন্দোলনের নেতাদের আটক করল দিল্লি।এরআগে অভিজিৎ দীপকে-কে তার ঝান্ডেওয়ালানের বাসা থেকে আটক করা হয়।এনডিটিভি জানিয়েছে, আটকের আগে দিল্লি পুলিশ দীপকেকে একটি নোটিশ দেয়।নোটিশে বলা হয়, কনট প্লেস এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল বা বড় ধরনের জমায়েত করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ নয়; তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমতিহীন সমাবেশ করা যাবে না। তবে সেই নোটিশের জবাবে অভিজিৎ দীপকে বলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য কারাগারে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত। এরপরই তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার আগে তিনি আরও বলেন, সিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে সরকার। যদিও তাদের দাবি সরকার পরিবর্তন নয়; বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া।এরআগে গত বুধবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মূলত, দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় কারাগারে পাঠানো প্রতিবাদে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর নতুন কর্মসূচির জন্য সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নেয় দলটি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই জমায়েতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপ করায় ঢাকা-সৌদি রুটে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পর্যন্ত এ রুটে ১০৭টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট।সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।
রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা শাখার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আমিরে জামায়াত হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর আহত শামীম আহসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের মেডিকেল জোনের দায়িত্বশীলরা আমিরে জামায়াতের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। পরে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শামীম আহসানের পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।হাসপাতাল থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করছেন। এর আগেও আরেকজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকের বাড়ি-ঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই আমি সরকারদলীয় চিফ হুইপকে ফোন করেছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি। আমি আশা করি, সরকার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা চাই না, কেউ ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত করুক। রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি রয়েছে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা দেশে একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই। এ বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। আমি সবাইকে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি, ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা থাকবে।শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) সব ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এর আগে, ৭ অক্টোবর পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নবমী উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবারও) নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। তবে, ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে।
দেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যু থামছে না।ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩৫ জনের মৃত্যু হলো।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এই চারজনের মৃত্যু হয়েছে।এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন।এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০। তবে তাঁদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।
বেশি মাত্রার কোকেন সেবনের পর শিশু সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এক রাজবধূকে। ৩২ বছর বয়সী ওই রাজবধূ হলেন মেহরা আল নাহিয়ান।গত ১৩ জুন পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর তিনি পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। এ সময় শিশুটি অভিভাবকহীন অবস্থায় রাস্তায় ঘুরছিল। একপর্যায়ে দ্রুতগতির যানবাহনের কাছাকাছি চলে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিশুটির দিকে নজর দেন তারা।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ পৌঁছানোর আগপর্যন্ত পথচারীরা শিশুটির দেখাশোনা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট অচেতন থাকার পর জ্ঞান ফেরে মেহরার। তখন আশপাশের মানুষের উদ্বেগের জবাবে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলা হয়। গত মঙ্গলবার শুনানিতে সন্তানের প্রতি অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা। আদালতকে জানানো হয়, ঘটনার সময় তার শরীরে মাদকের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মেহরার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি দাবি করেন, যেদিন তাকে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, সেদিন তিনি কোকেন সেবন করেননি। এর আগের কয়েক দিনে মাদক সেবনের কারণে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন।মেহরাকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক উদ্ধার হয়নি বলে আদালতে জানানো হয়। ঘটনার পর তাকে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য একটি নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।মেহরার আইনজীবী আদালতে বলেন, নিজের আচরণের জন্য তিনি অনুতপ্ত। মাদকাসক্তি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ওই দিনের ঘটনা যে গুরুতর ভুল ছিল, তা তিনি উপলব্ধি করেছেন।বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি বলেন, পথচারীরা এগিয়ে না এলে শিশুটির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। শিশুটি যানবাহনের ধাক্কায় আহত হতে পারত, হারিয়ে যেতে পারত কিংবা অপরিচিত কারও দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। এ ছাড়া কাছাকাছি দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে শিশুটির মনে ভয় ও মানসিক আঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।আদালত মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডারের আওতায় রেখেছেন। একই সঙ্গে তাকে পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।আদালতে আরও জানানো হয়, মেহরা বিয়ের সূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য। তিনি যুক্তরাজ্যে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) নির্বাচনে গঠনতন্ত্র ও বাই-লজ অনুযায়ী প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা নিষিদ্ধের বিষয়টি সামনে এনে প্রার্থীদের বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নে কমিশনের এ অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকার রমনাস্থ আইইবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জরুরি মতবিনিময় সভায় নির্বাচনি বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সেলিম ভূঁইয়া, পিইঞ্জ. প্রার্থীদের গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।জানা যায়, আইইবির গঠনতন্ত্রের ৩০.০৭ ধারা অনুযায়ী প্যানেল শিট, লিফলেট বা কার্ডের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালানোর ওপর বিধিনিষেধের বিষয়টি নির্বাচনি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।ওই বৈঠকে প্রকৌশলীরা তাদের মতামত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। গঠনতন্ত্রে নিষেধাজ্ঞা, মুখে আচরণবিধির বুলি, আর মাঠে প্যানেল প্রচারণার অভিযোগ আইইবি ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে এই দ্বিমুখী চিত্র নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা।প্রশ্ন উঠেছে, আইইবির গঠনতন্ত্র কি সবার জন্য, নাকি কিছু লোকের জন্য নিয়ম ভাঙার অলিখিত লাইসেন্স রয়েছে? নির্বাচন কমিশন যদি বিধি বাস্তবায়নই করতে না পারে, তাহলে এত আয়োজন, সভা আর সতর্কবার্তার মানে কী? গঠনতন্ত্রে নিষেধ থাকলেও প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা চলছে প্রকাশ্যেই।এমনকি আইইবির অডিটরিয়াম ও কনফারেন্স সেন্টারে প্যানেল ঘোষণার অভিযোগও উঠেছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে- বিধি যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে অভিযোগ ওঠার পর কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়? গঠনতন্ত্র কি শুধু দেয়ালে টাঙানোর জন্য? এমন সমালোচনার প্রেক্ষিতে প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা নিষিদ্ধের বিষয়টি সামনে এনে প্রার্থীদের বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইইবি’র আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে পেশাজীবী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী প্যানেল গঠনে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং স্বৈরাচারী ও সুবিধাবাদী বলয়ের পুনর্বাসনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।আইইবির নির্বাচনে প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গঠনতন্ত্র ও বাই-লজের বিধান অনুসরণ করে নির্বাচন পরিচালনা করা হলে সব প্রার্থীর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।আইইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে গঠনতন্ত্রের বিধান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এখন দেখার বিষয়, প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা বন্ধে কমিশনের অবস্থান নির্বাচনী মাঠে কতটা কার্যকর হয় এবং বিধিবিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় কি না।সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, আইইবি নির্বাচনে অ্যাব সমর্থিত অফিস বিয়ারার ও কেন্দ্র ভিত্তিক প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত প্রকৌশলীদের চূড়ান্ত অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীকে অ্যাব সমর্থিত মূল প্যানেলে স্থান দেওয়া হয়েছে। এটি তৃণমূলের ত্যাগী প্রকৌশলী ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।শুধু তাই নয়, অ্যাবের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে একক ক্ষমতাবলে প্যানেল চূড়ান্ত করার অভিযোগ তুলছেন বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একাধিক প্রকৌশলী নেতা জানান, সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী ফোরামগুলোর মতামতকে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব পছন্দ ও বলয়ভিত্তিক প্রার্থী চয়ন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে সিদ্ধান্তের বাইরে রেখে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিভিন্ন কমিশন ও চার্জ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফুডপান্ডাকে দেওয়া আলটিমেটামের মেয়াদ শেষ হলেও সমাধান মেলেনি। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডা বয়কট কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরের বারকোড ফুড জাংশন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক।সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন কমিশন ও চার্জ নিয়ে আপত্তির বিষয়ে ফুডপান্ডাকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডার সেবা বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা।রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার কমিশন, বিভিন্ন ধরনের চার্জ ও ব্যবসায়িক নীতিমালার কারণে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সমাধান না আসা পর্যন্ত বয়কট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
কংগ্রেসকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের মতো ভারতেও ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে চায় কংগ্রেস। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।রাজনাথ সিং বলেন, ‘ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে বাংলাদেশে যে মডেল দেখা গেছে, কংগ্রেসও সেই পথ অনুসরণ করতে চায়।’তার দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার কিংবা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই দলটির মূল উদ্দেশ্য।প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের ‘হাতের পুতুলে’ পরিণত করার চেষ্টা করেছিল।১৯৯৩ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বছর নির্বাচন কমিশনে রাতারাতি পরিবর্তন এনেছিল কংগ্রেস। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলাকে অপসারণের সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস তাকেই পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে উন্নীত করে।রাজনাথ সিংয়ের দাবি, ১৯৯৩ সালের আগে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ভোটার কার্ডের ব্যবস্থা ছিল না। ভোটার পরিচয়পত্র চালু হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস আর এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কংগ্রেসের এসআইআরবিরোধী আন্দোলন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি তোলার আড়ালে স্বাধীনভাবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীকেও সতর্ক করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, গণতন্ত্র কাউকে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ার অধিকার দেয় না। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে রাজনাথ বলেন, ‘রাহুল বাধা সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি করছেন।’তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
গোপনে শিবির ও প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতার মতো তেজস্বী কণ্ঠ অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, বিরোধী রাজনীতির বক্তব্যে তেজস্বী ভাব থাকতে হয়। জামায়াত-শিবির ও এনসিপি মিলিয়েও এমন কোনো নেতা নেই, যার বক্তব্য জনতার মধ্যে শিহরণ ও উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, জেল-জুলুম ও ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একজন নেতার কণ্ঠে এমন দৃঢ়তা তৈরি হয়। গোপনে শিবির এবং প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে সেই ‘বারুদ বজ্র কণ্ঠ’ অর্জন করা যায় না।একই পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, বিরোধী রাজনীতিতে নুরের কণ্ঠে যে তেজ ছিল, সরকারে যাওয়ার পর তা অনেকটাই নমনীয় হয়ে পড়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার জামায়াত ও এনসিপির কথিত ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আবারও সেই তেজস্বী নুরকে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ভিপি নুরকে ক্ষেপানোর পরিণতি জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে ভোগ করতে হবে। নুরের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা হিসেবে তাকে কাছ থেকে চেনেন উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘ভিপি নুর মানেই একটা বারুদ।’
শারদীয় দুর্গোউৎসবের আনন্দ ও সৌহার্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী শারদোৎসব ১৪৩৩। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশের আইন-কানুন কেউ কাউকে সম্প্রদায় বলে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, সবাই সিটিজেন, সবাই সমান অধিকারের অধিকারী।এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন গুলশান-বনানী পূজা কমিটির সভাপতি অলক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় রায়সহ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন বিদেশি মিশনের কমিশনার, আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।এবারের পূজার মূল আকর্ষণ হলো নান্দনিক থিম ‘জলজ’। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন রেচেল পেরিস ও তাঁর দল এবং সংগীত পরিবেশন করেন রণু কর্মকার, জয়ন্ত আচার্য, রোকসানা মমতাজ, বিমান বিশ্বাস প্রমুখ। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এবারের পুজোয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে।
রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা শাখার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আমিরে জামায়াত হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর আহত শামীম আহসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের মেডিকেল জোনের দায়িত্বশীলরা আমিরে জামায়াতের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। পরে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শামীম আহসানের পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।হাসপাতাল থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করছেন। এর আগেও আরেকজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকের বাড়ি-ঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই আমি সরকারদলীয় চিফ হুইপকে ফোন করেছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি। আমি আশা করি, সরকার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা চাই না, কেউ ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত করুক। রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি রয়েছে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা দেশে একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই। এ বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। আমি সবাইকে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের লাঠির আঘাতের অভিযোগের পর গাজী খোরশেদ আলম (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর কাইমপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে রাবেয়া আক্তার (২৪) ও স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি নিয়ে বাবা-মেয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে খোরশেদ আলমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর সঙ্গে আঘাতের সম্পর্ক তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। সেই আফগানদের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ২৪০ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করে বোল্ড হন ইকরাম আলিখিল।এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেট পেয়েছেন হাসান। আউট করেছেন ইসমত, কায়েস ও জিয়া–উর–রেহমানকে।বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। তার দুজনেই ছিলে স্পিনার।এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।আর শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ৫টি ও এবাদত নিয়েছেন ৪টি উইকেট।
বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে নতুন একক গান নিয়ে ফিরেছেন নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী। ‘ভুলে গেছি তোমাকে’ শিরোনামের গানটি এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।‘মন থেকে উঠে গেছো তুমি, ভুলে গেছি আমি তোমাকে, নেই ভালোবাসা বলে কিছু, বুঝেছি ভালোবেসে ঠকে, তোমারই পিছে ছুটেছি মিছে, পড়েছে কালি তাই চোখের নিচে’ এমন কথায় সাজানো গানটি লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ।গানটির সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ এবং সংগীতায়োজন করেছেন এম এম পি রনি। ইয়ামিন এলানের পরিচালনায় নির্মিত মিউজিক ভিডিওতে আসিফ আকবর নিজেই অংশ নিয়েছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর আর মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে ‘ভুলে গেছি তোমাকে’।এই গানটির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর। আসিফের সংগীতজীবনের অন্যতম জনপ্রিয় অনেক গানের সুরকার রাজেশ ঘোষ। দীর্ঘদিনের এই শিল্পী-সুরকার জুটির বোঝাপড়াও বেশ পুরোনো। নতুন গানটি নিয়ে তাই প্রত্যাশাও বেশি আসিফের।গানটি প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, “অনেক দিন পর রাজেশ ঘোষের সুরে গান গাইলাম। আমার সংগীত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু গানের সুরকার তিনি। তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটাও অনেক দিনের। আশা করছি, আমাদের এই পুরোনো শিল্পী-সুরকার জুটির নতুন আয়োজনটি সংগীতপ্রেমীদের ভালো লাগবে এবং প্রত্যাশা পূরণ করবে।”এদিকে, নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশ সফরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আসিফ আকবর। ইনছন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (আইবিসিকে)-এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশ উৎসব ২০২৬’-এ অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন তিনি।আগামী ১০ অক্টোবর ইনচিওনের সামসান ওয়ার্ল্ড জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। সেখানে সংগীত পরিবেশন করবেন আসিফ আকবর।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
সকালে বের হওয়ার আগে স্কিন কেয়ার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরামের পাশাপাশি সেই রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে সানস্ক্রিনও। তবে সানস্ক্রিন হাতে নেওয়ার পর, পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে সংখ্যাটির দিকে সবচেয়ে আগে চোখ যায়, সেটি হলো এসপিএফ—সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। কত এসপিএফ ব্যবহার করা উচিত, সেটি নিয়ে তাই প্রশ্নও থাকে অনেকের। কিন্তু তার আগে জানা দরকার, এসপিএফ আসলে কী?সহজভাবে বললে, এসপিএফ হলো সানস্ক্রিনের, সূর্যের আলো থেকে নির্গত ক্ষতিকর ইউভি বি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার একটি পরিমাপ। অন্যদিকে UVA রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু SPF-এর সংখ্যা নয়, সানস্ক্রিনটি UVA ও UVB—দুই ধরনের রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, অর্থাৎ এটি ব্রড স্পেকট্রাম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএফের সংখ্যা যত বাড়ে, UVB-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বাড়ে; তবে এই বৃদ্ধি সরলরৈখিক নয়। প্রচলিত হিসাবে SPF 15 প্রায় ৯৩%, SPF 30 প্রায় ৯৭% এবং SPF 50 প্রায় ৯৮% UVB রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। SPF 100-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৯%। অর্থাৎ SPF 30 থেকে SPF 50-এ সংখ্যাটি অনেকটা বাড়লেও UVB ফিল্টার করার হারে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে ছোট। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—SPF কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদে নিরাপদে থাকার অনুমতি নয়। অর্থাৎ SPF 30 ব্যবহার করলে SPF 15-এর তুলনায় দ্বিগুণ সময় রোদে থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সূর্যের তীব্রতা, কতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে, ঘাম, পানি এবং পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর বাস্তব সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে। তাহলে নিজের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় কী দেখা উচিত?American Academy of Dermatology-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য SPF 30 বা তার বেশি, broad-spectrum সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকলে সাধারণভাবে প্রতি দুই ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়; সাঁতার কাটা বা বেশি ঘাম হলে আরও ঘন ঘন লাগাতে হতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্যাকেজে লেখা দাবিটির পেছনে পরীক্ষার প্রমাণ আছে কি না। একটি সানস্ক্রিনের বোতলে SPF 30, 50 বা 100 লেখা থাকলেই সেই সংখ্যাটি যে বাস্তব পরীক্ষায় একইভাবে পাওয়া গেছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাটি কখন ও কোথায় হয়েছে এবং কোন ল্যাব তা করেছে—এসব তথ্যও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমারদের কাছে কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরে না। ফলে কোনো পণ্য তার প্যাকেজে করা দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন হয়ে যায়।বাংলাদেশের বাজারে কিছু ব্র্যান্ড এখন তাদের SPF পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করছে।এই জায়গায় উদাহরণ হিসেবে Skin Cafe-এর একটি সানস্ক্রিনের পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করা যায়। ব্র্যান্ডটির শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, Skin Cafe Sunscreen SPF 50 PA+++ with Vitamin C পণ্যটি তাইওয়ানের বিখ্যাত Bionest Biochemical Technology Co., Ltd থেকে পরীক্ষিত। পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.73 পাওয়া যায় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এটি WAFFEN Research Laboratory Limited-এ পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.51 পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলটি প্যাকেজে দেওয়া SPF 50 দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অর্থাৎ, সানস্ক্রিন কেনার সময় শুধু “SPF” লেখা আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। SPF-এর পাশাপাশি ব্রড স্পেক্ট্রাম সুরক্ষা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের প্রমাণ এবং পণ্যটি নিজের ত্বক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে কতটা মানানসই—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।শেষ পর্যন্ত সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু বোতলের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার, নিয়মিত পুনরায় প্রয়োগ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা—সবকিছু মিলেই কার্যকর সান প্রোটেকশন তৈরি হয়। ইমপোর্টেড হোক কিংবা লোকাল—পণ্যের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল এবং এসব তথ্য প্রকাশে ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে। আর একটি ভালো সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই তথ্য জানাটাই হতে পারে প্যাকেজের বড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি, ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা থাকবে।শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) সব ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এর আগে, ৭ অক্টোবর পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নবমী উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবারও) নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। তবে, ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে।
মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তদন্ত ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে মক্কা অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সাজা বাস্তবায়ন করা হয়।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। প্রতিবেদন আজেল নিউজের।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধের গুরুতরতা এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিবেচনামূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ রায় বহাল রাখে। এরপর দণ্ড কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বুধবার মক্কা অঞ্চলে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন প্রয়োগে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকেও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।সূত্র: আজেল
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তরুণ প্রজন্মের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি, ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সাথে যৌথ উদ্যোগে এক রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে রিয়েলমি সি১০০-এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যাটারি পারফরম্যান্স ও ডিউরেবিলিটি তুলে ধরেছে। গত ২৭-২৯ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইলে দুই দিন ও দুই রাতের এই ট্র্যাকিং অভিযানের পুরো জার্নিতে ফোনটি নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করেছে। অভিযান শেষ হওয়ার পরও স্মার্টফোনটিতে ৪০% ব্যাটারি পাওয়ার অবশিষ্ট ছিল।বিবিএ বিভাগের তোহানুর রাহমান তোহা ও রুশদি হাসান রাফি, সিএসই বিভাগের আনিকা তাহমিন, এমএসজে বিভাগের মেহদি হাসান সিয়াম ও ডিইএইচ বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস; ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের এই পাঁচজন শিক্ষার্থী ‘রিয়েলমি সি১০০ – ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার বান্দরবান চ্যালেঞ্জে’ অংশগ্রহণ করে। রুমা বাজার থেকে যাত্রা শুরু করে বগা লেক ও দার্জিলিং পাড়া হয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত মাউন্টেন ট্র্যাকিং গন্তব্য কেওক্রাডং গিয়ে এ যাত্রা শেষ হয়। পুরো যাত্রায় শিক্ষার্থীরা দুর্গম এলাকা নেভিগেশন, আউটডোর ক্যাম্পিং ও বান্দরবানের প্রাকৃতিক দৃশ্য ধারণ করে। অংশগ্রহণকারী অন্য চারজন শিক্ষার্থী অন্যান্য ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও, একমাত্র রাফি এই ট্র্যাকিংয়ের জন্য রিয়েলমি সি১০০ সাথে নেয়। ট্র্যাকিং শুরুর আগে সবাই ব্যাকআপ হিসেবে চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখে; কিন্তু, রাফি তার ডিভাইসের ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারির ওপর ভরসা রেখে কোনো চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক নেয়নি। পরবর্তীতে পুরো দল মিলে একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে; যার ফোনের চার্জ আগে শেষ হবে, সে হেরে যাবে। পুরো ট্রিপে রাফি নেভিগেশন, ফটোগ্রাফি, ভিডিও রেকর্ডিং, মিউজিক ও বিনোদনের জন্য সি১০০ ব্যবহার করে। এসময় অন্যদের স্মার্টফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে আসলেও রিয়েলমি সি১০০ একটানা সচল ছিল। এই চ্যালেঞ্জে স্মার্টফোনটির ডিউরেবিলিটিও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। ট্র্যাকিংয়ের সময় ডিভাইসটি হঠাৎ হাত থেকে কাদামাটির মধ্যে পড়ে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় দলটি প্রথমে শঙ্কিত হলেও, রাফি ডিভাইসটি তুলে পরিষ্কার করে দেখে এটি আগের মতোই সচল রয়েছে। পড়ে যাওয়ার পরও স্মার্টফোনটির কোনো সমস্যা হয়নি; বরং, ট্রিপের বাকি সময় নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে; যা বাইরের প্রতিকূল পরিবেশেও ফোনটির অনন্য ডিউরেবিলিটি তুলে ধরে। রিয়েলমি সি১০০-এ থাকা আইপি৬৯ প্রো রেটিং, ২ মিটার ড্রপ রেজিজট্যান্স ও ৬ মিটার ওয়াটার রেজিজট্যান্সের পাশাপাশি, আর্মরশেল প্রোটেকশন ও মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিজট্যান্স এই অনন্য ডিউরেবিলিটি নিশ্চিত করেছে। পুরো যাত্রায় নেভিগেশন, ফটোগ্রাফি, ভিডিও রেকর্ডিং ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার পরও রিয়েলমি সি১০০-এর ব্যাটারি পাওয়ার ৪০% অবশিষ্ট ছিল। ট্র্যাকিংয়ের এ অভিজ্ঞতা নিয়ে ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের রুশদি হাসান রাফি বলেন, “আমরা আগেও অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপে গিয়েছি। প্রতিবারই ফোনের চার্জ ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এবার আমরা দেখতে চেয়েছিলাম বান্দরবানের এই দুই দিনের ট্র্যাকিং, ক্যাম্পিং ও ঘোরাঘুরিতে রিয়েলমি সি১০০ কেমন পারফর্ম করে। নেভিগেশন থেকে শুরু করে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ধরে রাখা, সবকিছুতে আমরা কোনো পাওয়ার ব্যাংক ছাড়াই ফোনটি ব্যবহার করেছি। এটি আমাদের জন্য একেবারেই অন্যরকম একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।”ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সাথে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে রিয়েলমি তাদের স্মার্টফোনের সক্ষমতা ল্যাব টেস্টের বাইরে বাস্তব পরিবেশে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। বিশেষ করে, ব্যবহারকারীরা যখন চার্জিং সুবিধা থেকে দূরে থাকেন, তখন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ও ডিউরেবিলিটি কীভাবে উপযুক্ত হয়ে ওঠে তা দেখানোর মাধ্যমে ডিভাইসটি নিজেকে একটি অল-রাউন্ড ডিউরেবল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে https://www.realme.com/bd/realme-c100 ভিজিট করুন বা রিয়েলমির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/realmeBD/ ফলো করুন।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।