পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি আরবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি : পথপরিক্রমা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ পর্যন্ত দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আর ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।’ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে। কারণ নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য সরবরাহঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন এবং বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছেন।’তবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার কোনো ইঙ্গিত সরকার পায়নি বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশকেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া পরিকল্পনা সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বলে শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিরা চাকরি হারানো ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।শামা ওবায়েদ বলেন, ইতোমধ্যে কিছু প্রবাসী কর্মসংস্থান হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে, অনেকে কর্মহীন অবস্থায় ওই অঞ্চলে রয়েছেন।শুধু সৌদি আরবেই ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান সংঘাত বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দক্ষ ও বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।সৌদি আরবে বারবার হুথিদের হামলা, বিশেষ করে দেশটির বিমান চলাচল অবকাঠামোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য এলো।এসব হামলায় বাংলাদেশ ও রিয়াদের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট স্থগিত করতে হয়েছে এবং হাজারো যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারওয়েজ’র মোট ১০টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএস’র গবেষণা ফেলো আয়েশা বিনতে তৌহিদ, গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির, গবেষণা ফেলো এএসএম তারেক হাসান সেমুল এবং গবেষণা পরিচালক ড. সুফিয়া খানম।বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় গ্রেফতার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন— লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)। সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ বশির আহমেদ। তিনি আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।এদিন বিকাল ৫টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এজলাসে নেওয়া হয় তাদের। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাওয়ার কারণ আদালতকে অবহিত করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করছিলেন।তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতাদের যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে ফেসবুক পেজ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তারা।রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২০১৮ সালে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন এবং পরবর্তীতে ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেন। তদন্তে তাদের সাথে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্যও পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।যে ৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়—১. অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করা।২. রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত দেশি ও বিদেশি চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করা।৩. ঘটনার পেছনে জড়িত অন্যান্য ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস সন্ধান।৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামিদের দ্বারা পরিচালিত অন্যান্য রাষ্ট্রবিরোধী ওয়েবসাইট বা পেজের সন্ধান।৫. মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধ করা।এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর মামলাটি দায়ের করেন।
পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ছয়টা ইউনিট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এছাড়া আরও চারটা ইউনিট ঘটনাস্থলে রয়েছে সহযোগিতা করার জন্য।এরই মধ্যে ওই ভবন থেকে পাশের আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে কি না এমন প্রশ্ন করলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগুন একটি ভবনেই রয়েছে। ছড়িয়ে পরেনি। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার ফাইটারদের।তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে এই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে যেকোনো এক দিন ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে, ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর।এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে তাদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি।সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল। এ বোর্ডের ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয় ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী। সেইসঙ্গে রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় এবারের এইচএসসিতে।এছাড়া, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এ পরীক্ষায়।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪২১ শিশু।আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে।প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ৬০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ১৬৪ শিশু মারা গেছে।এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৫২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৬৯। এই সময়ে ১ হাজার ১৭৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৮৬ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ২৯৭, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৫৭৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে দুই দিন সারা দেশে সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে সব সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ থাকবে।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।সভাপতি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সাপ্লাই নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসবের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সব দোকান বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের যেসব দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম বলেন, শুধু ৫টি কোম্পানির হাতে এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের বিপণন জিম্মি। তাদের হাত ধরে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির হচ্ছে।প্রসঙ্গেত, সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি ছাড়াও সব ওজনের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়। তবে সব সময়ের মতো সরকার নির্ধারিত এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস। কিন্তু ২ হাজার থেকে ২২০০ কিংবা ২৪০০ টাকা দিলে পাওয়া যায় ১২ কেজির সিলিন্ডার।
রাশিয়া এবং ইউক্রেন ভবিষ্যতে আর কখনও পরস্পরের জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে হামলা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দু’পক্ষ ইতোমধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতির’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।১১ অক্টোবর রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে এবং আমি দু’পক্ষকে আহ্বান জানাব— এই চুক্তি যেন না ভাঙে হয়।”রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি; তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে এখনও তেমন কিছু জানেন না এবং অপেক্ষায় আছেন যে কখন ওয়াশিংটন এ ‘চুক্তি’র ব্যাপারে তাকে বিস্তারিত জানাবে।সামাজিক যোগেযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, “আমি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ক্র্যানি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে কথা বলেছি। বিস্তারিত এখনও কিছু জানতে পারিনি। ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির সমর্থক এবং রাশিয়ারও তা সমর্থন করা জরুরি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় আছি।”রোববারের এক্সবার্তায় জেলেনস্কিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “ইউক্রেনের অবশ্যই রাশিয়ার তেল শোধানাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করা উচিত।”পাশপাশি তিনি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন করার আহ্বানও জানিয়েছেন ইউক্রেনীয়দের। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ জেলেনস্কি হাতছাড়া করেছেন।”সম্পর্কের নাটকীয় অবনতির প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প শনিবার জেলেনস্কিকে সতর্ক করে বলেন যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানো তার "অবশ্যই বন্ধ করা উচিত"; পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনীয়দের আহ্বান জানান যেন তারা নতুন নির্বাচনে তাদের নেতাকে পরিবর্তন করে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, মস্কোর সাথে সমঝোতায় পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ জেলেনস্কি হাতছাড়া করেছেন।উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে ৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবন হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যার ইরান-কেন্দ্রিক পদক্ষেপের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে ব্যাপকভাবে অভিযোগ রয়েছে—এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেনে জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন; যদিও কোনো পক্ষই এমন কোনো চুক্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধ করার জন্য কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল যে, তারা ইউক্রেনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ‘প্রাইওরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ (পার্ল) ব্যবস্থার আওতায় অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে এর আগে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস প্রকাশও হয়েছিল।সূত্রটি আরও জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে সৃষ্ট টানাপোড়েন অবস্থা শান্ত বা শিথিল করার বিষয়ে জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করছেন। তবে এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।ইউক্রেনের সাংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে ২০২৪ সালে। মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও একের পর এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে এখনও ক্ষমতা ধরে রেখেছেন তিনি।রোববারর বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনীয়দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।ট্রাম্প এ আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর টেলিগ্রামে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেছেন জেলেনস্কি। সেখানে তিনি বলেছেন, নিজেদের নেতা বেছে নেওয়ার বিষয়টি ‘ইউক্রেনীয়দের ওপরই নির্ভর করে’, তবে তার আগে সংঘাতের অবসান হওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তার স্বার্থে ইউক্রেনের আইনে সামরিক শাসন চলাকালীন নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ।জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন যে তিনি নির্বাচন দিতে রাজি আছেন, তবে সেজন্য রাশিয়াকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে।“দয়া করে পুতিনকে বলুন—আমাদের দুই মাস বা ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দিন; ৬০ দিন সময় পেলে আমরা নির্বাচনের আয়োজন করব”, ভিডিওবার্তায় বলেছেন জেলেনস্কি।সূত্র : রয়টার্স
পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা দেশের স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘ঘুমহীন প্রহরীর’ মতো সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছেন।সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্রি. জেনারেল অব. আ স ম হান্নান শাহ’র ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে অতীতের মতো এখনো নানা ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। গতকালও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত দুই সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নজরদারি রাখবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন।বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশজুড়ে লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং মানুষের জায়গা-জমি ও সম্পদ দখলের যে অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপির রাজনীতি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মী সরকারের অংশ। তাই তাদের আচরণে যেন ফ্যাসিবাদের কোনো ছাপ না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পদ-পদবির লোভ পরিহার করতে হবে। রাতারাতি বিত্তশালী হওয়া কিংবা ঠিকাদারি ব্যবসার লোভে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না।দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ডিজেল আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিষ্ঠার সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখতেও সরকার কাজ করছে।গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাবেন এবং ২৯ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। এরপর তার সময় পাওয়া গেলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।কোন কোন এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও এসময় জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি হেডরা এই সভায় উপস্থিত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে গন্তব্য দেশগুলো নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের হেলথ কার্ড সংগ্রহের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের নির্ভরশীল ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনলাইনে নিবন্ধন এবং প্রোফাইলের তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণক অনলাইনে আপলোড করতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিচয় ও তথ্য যাচাই করে প্রোফাইলের অবস্থা ‘ভেরিফায়েড’ করার পর নির্ধারিত কক্ষ থেকে হেলথ কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।গত ১১ অক্টোবর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেলথ কার্ড পেতে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের এইচএসএমএস সফটওয়্যারে অনুমোদিত প্রোফাইলের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এরপর হেলথ কার্ডের নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণক আপলোড করতে হবে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিচয় ও তথ্য যাচাই শেষে প্রোফাইলের অবস্থা ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে হালনাগাদ করলে যেকোনো কর্মদিবসে হাসপাতালের নির্ধারিত কক্ষ থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাধ্যতামূলক করার কথাও জানানো হয়েছে। হাসপাতালের এইচএসএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।এতে বলা হয়, অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পর কোনো রোগী পরপর দুবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুপস্থিত থাকলে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বাতিল না করলে তার ইউজার আইডি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ফলে ওই আইডি ব্যবহার করে নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সম্ভব হবে না।এ ছাড়া পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখানোর জন্য প্রতিবেদন পাওয়ার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট কাউন্টার থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন রোগীদের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ওয়েবসাইট www.skh.gov.bd এর ‘আমার প্রোফাইল’ অপশন ব্যবহার করতে হবে।সরকারি কর্মচারী ও তাদের নির্ভরশীল ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় প্রমাণক ও মূল কাগজপত্রসহ হাসপাতালের ৪২৪ ও ৪২৫ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে নিবন্ধন অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।নিবন্ধন, প্রোফাইল হালনাগাদ ও অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সহায়তার জন্য হাসপাতালের আইটি তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ছয়টা ইউনিট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এছাড়া আরও চারটা ইউনিট ঘটনাস্থলে রয়েছে সহযোগিতা করার জন্য।এরই মধ্যে ওই ভবন থেকে পাশের আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে কি না এমন প্রশ্ন করলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগুন একটি ভবনেই রয়েছে। ছড়িয়ে পরেনি। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার ফাইটারদের।তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে তিনি জৈনপুরী দরবার শরীফকে ‘জৌনপুরী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাশেদ, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানান তিনি। রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি লিখেছেন, ‘জৈনপুরী দরবার শরীফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট রেখে, অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণগত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার বক্তব্যে কোনো ধরনের অসম্মান প্রদর্শনের অভিপ্রায় ছিল না। বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে বিবেচনা করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সবার নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘আমার যতটুকু জানার সুযোগ হয়েছে, জৌনপুরী ও জৈনপুরী—দুটো শব্দই সঠিক। তবে শব্দ দুটির সঙ্গে আমার কাজের সম্পৃক্ততা সীমিত ও পরিচিতি কম থাকায় জ্ঞাতসারবহির্ভূত উচ্চারণগত ভুল হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে এই শব্দ দুটি উচ্চারণে আরও সাবধানতা অবলম্বন করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’রাশেদ খাঁন বলেন, ‘পরিশেষে মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি চমৎকার আয়োজন ও আন্তরিকতার জন্য। ইসলামের খেদমতে তিনি যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তাঁকে যে বা যারাই কটাক্ষ করুক না কেন, এতে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ। কেউ সঠিক পথে থাকলে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর বিজয় অনিবার্য।’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে জলবায়ু সহনশীল ভাসমান বেড কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫ কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২০ জন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন।ভবিষ্যতে কৃষক ও যুবসমাজের মধ্যে এ কৃষিপদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ম্যানুয়ালটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (ডিওয়াইডি) ও দ্য আর্থ সোসাইটির (টিইএস) যৌথ উদ্যোগে ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর চার দিনব্যাপী ‘টেকসই ভাসমান বেড স্মার্ট কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশে জলবায়ু কার্যক্রমে নারী ও যুবদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘গ্রিন ভয়েসেস: এমপাওয়ারিং উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি ব্যবস্থাপনা করছে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।প্রশিক্ষণের প্রথম তিন দিন শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সেশন এবং শেষ দিন মাঠপর্যায়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে ভাসমান বেড কৃষির ধারণা, কৌশল ও প্রয়োগের পাশাপাশি বন্যা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য আর্থ সোসাইটির চেয়ারম্যান এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও কো-চেয়ার শাকিলা সাত্তার তৃণা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণের প্রধান ফ্যাসিলিটেটর অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ এবং কো-ফ্যাসিলিটেটর বিবেকানন্দ হীরা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ পদ্ধতির ব্যবহারিক জ্ঞান স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।দ্য আর্থ সোসাইটির প্রকল্প সমন্বয়ক সোহানা রেজা উর্মি বলেন, এ উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি সম্ভব হলে ভবিষ্যতে অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই আরও বিস্তৃত পরিসরে এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা যাবে।সোহানা রেজা উর্মি আরও বলেন, অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ও জলবায়ু কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে বৃহত্তর অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে দ্য আর্থ সোসাইটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ কর্মএলাকায় ছড়িয়ে দিতে কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে কৃষক, যুবসমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টেকসই ভাসমান বেড কৃষির কৌশল ও ব্যবহারিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে থাকা এলাকাগুলোতে এ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে।যুব উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একই প্রশিক্ষণে যুক্ত করার ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ে অর্জিত দক্ষতার কার্যকর প্রয়োগের ওপর।সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রশিক্ষণটিকে নিয়মিত সরকারি কর্মসূচির আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। এতে জলবায়ু সহনশীল কৃষিপদ্ধতির বিস্তার, সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। সেই আফগানদের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ২৪০ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করে বোল্ড হন ইকরাম আলিখিল।এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে উইকেট পেয়েছেন হাসান। আউট করেছেন ইসমত, কায়েস ও জিয়া–উর–রেহমানকে।বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। পেসারদের মধ্যে প্রথম। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। তার দুজনেই ছিলে স্পিনার।এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।আর শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ৫টি ও এবাদত নিয়েছেন ৪টি উইকেট।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা পাটেকারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান; তবে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তার ছেলে মালহার পাটেকার তখন পুনেতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন নান পাটেকার। চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও তাকে একই ভূমিকায় দেখা যায়। পাশাপাশি ২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। আবারও তাদের পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। কন্যাসন্তান সারায়াহর প্রথম জন্মদিনের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আবারও মা হওয়ার ঘোষণা দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিশেষ ছবি শেয়ার করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানান কিয়ারা। যেখানে সিদ্ধার্থ ও মেয়ে সারায়াহর পাশাপাশি তিনজনের হাতে দেখা যায় এক জোড়া ছোট্ট শিশুর বোনা জুতো। গত বছর প্রথম সন্তান আসার সময় যেভাবে খবরটি ভাগ করেছিলেন তারা, এবারও প্রায় একই ধাঁচের ছবিতে ভরিয়ে তুলেছেন আবেগ। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এমন এক অমূল্য আশীর্বাদে হৃদয় কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।’২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমেরে জমকালো আয়োজনে চার হাত এক হয়েছিল এই তারকাদম্পতির। এরপর গত বছরের নভেম্বরে প্রথম সন্তান সারায়াহকে স্বাগত জানান তারা। মা হওয়ার পর খুব বেশি দিন ক্যামেরা থেকে দূরে ছিলেন না কিয়ারা। চলতি বছরেই সাউথ তারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।মাতৃত্ব নিজের ভেতর কতটা রূপান্তর এনেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলেন কিয়ারা। তার ভাষ্যমতে, মা হওয়ার পর জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নেয়। এমনকি নিজেকে আরও স্বাধীন ও শক্ত মানসিকতার বা ‘টাইগ্রেস’ মনে হয় বলে জানান তিনি।কাজের প্রতি কিয়ারার এই একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন ‘টক্সিক’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও। তিনি জানান, সিনেমাটির একটি ভারী বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করার সময় কিয়ারা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক নানান জটিলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতটুকু না দমে দৃশ্যটির কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘শেরশাহ’-র সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। সিনেমায় ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার চরিত্রে সিদ্ধার্থ এবং ডিম্পল চিমার চরিত্রে নজর কাড়েন কিয়ারা। পর্দার সেই প্রেম কালক্রমে বাস্তবে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ সম্পর্কের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন তারা, যা পরবর্তীতে পরিণতি পায় ধুমধাম বিয়ের মাধ্যমে।
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি অনন্য বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে বাংলার তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও অপ্সরা রূপে দেখা গেল এ অভিনেত্রীকে। তিনি রিয়া কাপুরের স্টাইলিং ও পোশাকের সমন্বয়ে ফ্যাশনে নিয়ে আসেন এক বৈচিত্র্য উপস্থাপনা।প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সেই অনুষ্ঠানে দেবীতুল্য ও মোহময়ী অবতারে ধরা দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন অভিনেত্রী। ফ্যাশন দুনিয়ার বিশ্ব সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের তালিকায় এবার স্থান পেয়েছেন তিনি। আর সেই উদযাপনের মঞ্চেই ভারতীয় ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি করে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান নিজেকে। বাংলার মসলিনের শাড়ি পরে বিশ্বমঞ্চে তাঁতশিল্প ও কারুকার্যকে তুলে ধরেন জাহ্নবী কাপুর।অভিনেত্রীর এই রাজকীয় স্টাইলিংয়ের নেপথ্যে ছিলেন কাপুর পরিবারের আরও এক কন্যা ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর কাস্টম ডিজাইনে নির্মিত এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।শাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে, যার মধ্যে ফুটে উঠেছে মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ বা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত। আইভরি ক্যানভাসের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট, মুক্তা ও সোনার পুঁতির চমৎকার কারুকাজ কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত ছড়ানো গহনার কাজ পোশাকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বজুড়ে আটটি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় জাহ্নবী কাপুরের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন আরও দুই ভারতীয় মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।‘শানেল’-এর শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী শানেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভাবিতা মান্ডভা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মডেল, অপারেশন্স স্মাইলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ও আয়ুর্বেদিক বিউটি ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রীতিশা স্বরূপ।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত সিনেমা ‘মাস্টার’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।নির্মাতা সুমিত খবরটি নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত।‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি।‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।
হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রাক্তন বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আগে ও পরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট চিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং বাসিন্দাদের মানবিক চাহিদাকে তুলে ধরেছে। ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক পোস্টে জোলি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, গাজার ‘পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জোলি বলেন, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।’তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই ভক্তদের হৃদয়ে বাড়তি উন্মাদনা। বয়স বাড়লেও তার রূপের দ্যুতি আর চিরসবুজ স্টাইল যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, স্নিগ্ধ গোলাপী রঙের পোশাকে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জয়া। একটি টেবিলের সামনে বসে থাকা অবস্থায় তার মুখে ভেসে উঠেছে এক মায়াবী ও মিষ্টি হাসি, যা তার রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ছবির এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন এক দারুণ ব্যাখ্যা। ছবিগুলোর ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’ (এমন একটি হাসি, যার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না)। অর্থাৎ, হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ভর করা এই অনাবিল হাসিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।জয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্য ঘরে অনুরাগীরা তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মায়াবতী’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ তার এই ঝকঝকে হাসির পেছনের ইতিবাচক শক্তির প্রশংসা করেছেন। কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন সুন্দর ও সাবলীল মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
সকালে বের হওয়ার আগে স্কিন কেয়ার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরামের পাশাপাশি সেই রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে সানস্ক্রিনও। তবে সানস্ক্রিন হাতে নেওয়ার পর, পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে সংখ্যাটির দিকে সবচেয়ে আগে চোখ যায়, সেটি হলো এসপিএফ—সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। কত এসপিএফ ব্যবহার করা উচিত, সেটি নিয়ে তাই প্রশ্নও থাকে অনেকের। কিন্তু তার আগে জানা দরকার, এসপিএফ আসলে কী?সহজভাবে বললে, এসপিএফ হলো সানস্ক্রিনের, সূর্যের আলো থেকে নির্গত ক্ষতিকর ইউভি বি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার একটি পরিমাপ। অন্যদিকে UVA রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু SPF-এর সংখ্যা নয়, সানস্ক্রিনটি UVA ও UVB—দুই ধরনের রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, অর্থাৎ এটি ব্রড স্পেকট্রাম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএফের সংখ্যা যত বাড়ে, UVB-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বাড়ে; তবে এই বৃদ্ধি সরলরৈখিক নয়। প্রচলিত হিসাবে SPF 15 প্রায় ৯৩%, SPF 30 প্রায় ৯৭% এবং SPF 50 প্রায় ৯৮% UVB রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। SPF 100-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৯%। অর্থাৎ SPF 30 থেকে SPF 50-এ সংখ্যাটি অনেকটা বাড়লেও UVB ফিল্টার করার হারে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে ছোট। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—SPF কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদে নিরাপদে থাকার অনুমতি নয়। অর্থাৎ SPF 30 ব্যবহার করলে SPF 15-এর তুলনায় দ্বিগুণ সময় রোদে থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সূর্যের তীব্রতা, কতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে, ঘাম, পানি এবং পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর বাস্তব সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে। তাহলে নিজের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় কী দেখা উচিত?American Academy of Dermatology-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য SPF 30 বা তার বেশি, broad-spectrum সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকলে সাধারণভাবে প্রতি দুই ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়; সাঁতার কাটা বা বেশি ঘাম হলে আরও ঘন ঘন লাগাতে হতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্যাকেজে লেখা দাবিটির পেছনে পরীক্ষার প্রমাণ আছে কি না। একটি সানস্ক্রিনের বোতলে SPF 30, 50 বা 100 লেখা থাকলেই সেই সংখ্যাটি যে বাস্তব পরীক্ষায় একইভাবে পাওয়া গেছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাটি কখন ও কোথায় হয়েছে এবং কোন ল্যাব তা করেছে—এসব তথ্যও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমারদের কাছে কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরে না। ফলে কোনো পণ্য তার প্যাকেজে করা দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন হয়ে যায়।বাংলাদেশের বাজারে কিছু ব্র্যান্ড এখন তাদের SPF পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করছে।এই জায়গায় উদাহরণ হিসেবে Skin Cafe-এর একটি সানস্ক্রিনের পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করা যায়। ব্র্যান্ডটির শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, Skin Cafe Sunscreen SPF 50 PA+++ with Vitamin C পণ্যটি তাইওয়ানের বিখ্যাত Bionest Biochemical Technology Co., Ltd থেকে পরীক্ষিত। পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.73 পাওয়া যায় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এটি WAFFEN Research Laboratory Limited-এ পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে UV spectrophotometry পদ্ধতি ব্যবহার করে SPF 52.51 পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলটি প্যাকেজে দেওয়া SPF 50 দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অর্থাৎ, সানস্ক্রিন কেনার সময় শুধু “SPF” লেখা আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। SPF-এর পাশাপাশি ব্রড স্পেক্ট্রাম সুরক্ষা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের প্রমাণ এবং পণ্যটি নিজের ত্বক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে কতটা মানানসই—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।শেষ পর্যন্ত সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু বোতলের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার, নিয়মিত পুনরায় প্রয়োগ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা—সবকিছু মিলেই কার্যকর সান প্রোটেকশন তৈরি হয়। ইমপোর্টেড হোক কিংবা লোকাল—পণ্যের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল এবং এসব তথ্য প্রকাশে ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে। আর একটি ভালো সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই তথ্য জানাটাই হতে পারে প্যাকেজের বড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিজেদের কর্মী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য বীমা সুবিধা দিতে সম্প্রতি মেটলাইফ বাংলাদেশের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড। এই চুক্তির আওতায়, কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলেরা দুর্ঘটনা, অক্ষমতা এবং জীবনহানির ঝুঁকি থেকে আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি ইন-পেশেন্ট, আউট-পেশেন্ট ও মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা বীমা সুবিধা পাবেন। পার্টনারশিপের ফলে উল্কাসেমির কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি এবং জীবনের অনিশ্চিত ঘটনায় সৃষ্ট আর্থিক ঝুঁকি সামলাতে বীমা সুরক্ষা পাবেন। কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতে উল্কাসেমির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন এ উদ্যোগ। দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক সাফল্য, গ্রাহকভিত্তিক বীমা সমাধান, আধুনিক ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, ক্যাশলেস হাসপাতালে ভর্তি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে উল্কাসেমি তাদের বীমা প্রদানকারী হিসেবে মেটলাইফকে নির্বাচন করেছে। এসব সুবিধা দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে বীমা দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ২০২৫ সালে মেটলাইফ ২,৮৫৩ কোটি টাকা এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১,৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করেছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই দেশের জীবন বীমা শিল্পে সর্বোচ্চ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ করপোরেট বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।উল্কাসেমি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর নকশাকারক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সিস্টেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের সেমিকন্ডাক্টর পণ্য তৈরিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।প্রকৌশলগত দক্ষতা, সর্বোচ্চ গুণগত মান ও পেশাদারিত্ব ধরে রেখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গ্রাহককে সেবা দচ্ছে উল্কাসেমি। তাদের কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, মোবাইল ডিভাইস, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিপিইউ ও জিপিইউ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ডেটা সেন্টার ও সার্ভার, গাড়ির প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড অবকাঠামো এবং চিকিৎসাসেবা সরঞ্জামসহ নতুন প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্র।মেটলাইফ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তি গ্রাহক এবং ৯০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখের বেশি কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের বীমা সুরক্ষা প্রদান করছে। মেটলাইফের সাথে পার্টনারশিপের ফলে উল্কাসেমির কর্মী ও তাদের পরিবার আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা বীমা সুবিধা পাবেন। এই উদ্যোগ কর্মীদের কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) দূতাবাসের এক অতিজরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ধরনের তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।এ ছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য প্রচার না করার পাশাপাশি মোবাইলে এসব কনটেন্ট সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান থেকেও সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে চলাফেরা না করে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শ্রমসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৫ ; পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৬ ; এবং ডিপ্লোম্যাটিক উইং-সংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৪ ; নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।এ ছাড়া মৃত্যুসংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ট্যুরিজম) তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়।এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করতে এবং এই খাতের টেকসই উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ‘সিটি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হয়েছে।আজ সকালে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরে সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন থেকে উদ্বোধনী র্যালি শুরু হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী র্যালিটি উদ্বোধন করবেন। র্যালিতে পর্যটন খাতের অংশীজনরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরবেন। পরে সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল শোভাযাত্রা। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি গাইডেড সিটি ট্যুরের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে শিশুরা রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি পর্যটককে বাংলাদেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলে বাংলাদেশের খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলে ধরা হবে। স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রাম সফটওয়্যার অ্যান্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড (এসএসসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ট্রেডট্রাস্ট-রেডি পার্টনার’ স্বীকৃতি পেয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিরাপদ, আন্তঃসংযুক্ত ও কাগজবিহীন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।ট্রেডট্রাস্ট হলো সিঙ্গাপুরের ইনফোকম মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (আইএমডিএ) তৈরি একটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাণিজ্য কাঠামো। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক নথি নিরাপদে তৈরি, আদান-প্রদান ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়। এসএসসিএল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ট্রেডট্রাস্ট-রেডি পার্টনার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য এ অর্জন এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ১৫ জারি করে অনুমোদিত ট্রেড করিডরের মাধ্যমে ডকুমেন্টারি কালেকশন ও লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) আওতায় বাণিজ্যিক নথির ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি পাইলট কাঠামো চালু করেছে। এতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ, নথির স্বাধীন যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক নথির আইনগত গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ব্যাংকিং ও বাণিজ্য অর্থায়নের ডিজিটাল রূপান্তরে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি পেয়েছে বলে জানিয়েছে এসএসসিএল। প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহব্যবস্থার অর্থায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নথি বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ও এন্টারপ্রাইজ অটোমেশনের পাশাপাশি গ্রিনএলসি এবং স্পেকট্রাট্রেডের মতো ডিজিটাল বাণিজ্য সমাধান তৈরি করেছে।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক উদ্যোগের আগেই ১০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংককে নিয়ে এলসি ও বাণিজ্যিক নথি প্রক্রিয়াকরণের ডিজিটাল রূপান্তরে কাজ শুরু করে তারা। এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছে এসএসসিএল। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।ডিজিটাল ও আন্তঃসংযোগযোগ্য বাণিজ্যব্যবস্থা শুধু কাগজের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ভরযোগ্য নথি দ্রুত আদান-প্রদান করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে এ ধরনের ব্যবস্থা বাণিজ্য ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।এসএসসিএলের মতে, ট্রেডট্রাস্ট-রেডি পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থার বিকাশেও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পথ আরও সুগম হবে।প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, এ অর্জন দেশের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
দোষী প্রমাণ হলে- বিদেশের আরামের বদলে দেশে ১০ বছরের জেল খাটাকেই বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কেউ যদি আমাকে বলে, ১০ বছর জেল খাটবে, নাকি আরামে দেশের বাইরে গিয়ে জীবন কাটাবে; আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাকেই বেছে নেব।তিনি বলেছেন, এখানে যে কথাগুলো বলা আছে যে- চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এক টাকাও যদি দেশের বাহিরে কোথাও পাওয়া যায় তাহলে আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাহিরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণাও সে দেশের বাহিরে কিনেছে। তার দাবি, আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে কেউ যদি আমাকে বলে যে- তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাহিরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা?সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি নির্দ্বিধায় ১০ বছর জেল খাটাটাকেই চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটা স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য তো কোনো প্রমাণ লাগে না। উনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং উনারা এটাই করছেন।তিনি আরও বলেন, সে জন্য আমার আহ্বান থাকবে যে- আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিকাল মাইন্ড সেটে দেখবেন। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা তাদেরকে কখনো প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিকালি না দেখে আর উপায় নেই।