চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাঠানো তথ্য থেকে এটি জানা গেছে।এ ছাড়া পদ্মার পাশাপাশি মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। বর্তমানে মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার। এ নদীর বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটারে। এ নদীর বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল (শনিবার) পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।এদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন চাঁপাইনববাগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল আওয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহবুব হোসেন এবং নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হওয়া, যাতায়াত, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন।উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন বলেন, নদীর পানি স্কুল ভবনে প্রবেশ করার কারণে কয়েকটি স্কুল বন্ধ আছে। এ ছাড়া যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তাদেরকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তোলে জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা সরকার পালন করেনি। জনগণের গণরায় সরকার উপেক্ষা করেছে।’বিল পাসের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া মতামত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েকটি বিষয় ছাড়া তাদের মতামত সরকার আমলে নেয়নি। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা হলে সেটিকে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে জনগণের ভোটের রায় সরকার উপেক্ষা করলে সেটি তারা মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি।সংস্কার বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না। সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন না করলেও জনগণের রায় থেকে তারা সরে দাঁড়াবেন না।সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার ভালো কাজ করলে আমরা সমর্থন করব। খারাপ কাজ করলে তার বিরোধিতা করব এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘র্যাব জাতির সঙ্গে চরম অন্যায় করেছে, তাই আমরা এর বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরাতন সদস্য এবং আগের সব কার্যক্রম রেখে নতুন মোড়ক দেওয়া হয়েছে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে।’এ ছাড়া সম্পদ বণ্টন আইন নিয়েও আপত্তি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কোরআনের বিপরীতে তারা সম্পদ বণ্টন আইন করেছে। এমন দুঃসাহস ইংরেজরাও করেনি।’
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে নিয়ে প্রশ্ন করায় বিব্রত বোধ করেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি দলটির সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও অধিকার নেই।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। গতকালও আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না। আওয়ামী লীগ নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে তো এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা ঠিক না, উচিতও না। কারণ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে নিয়ে আমাদের পর্যায়ে প্রশ্ন করলে আমরা বিব্রত বোধ করি।”তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার তাদের নেই। তাদের কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করারও অধিকার নেই। এমনকি দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও সুযোগ নেই।”মীর শাহে আলম বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এই দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বাংলাদেশে নির্বাচন করা তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই। যদি তারা তা করে, তাহলে আইনের আওতায় আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্রিকসের শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর আবার ভারতে আসছেন শি।চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেবেন।গত একসপ্তাহ ধরে চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচুর জল্পনা হয়েছে। সেই সব জল্পনার অবসান হলো। গালওয়ানের পর দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরেছিল এবং তারপর শি জিনপিং আর ভারত সফরে আসেননি।বার্তাসংস্থা রয়টার্স সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, যে সব চীনা কোম্পানি এখন ভারতে বিনিয়োগ করতে চায়, বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে, তারা নিজেদের দেশেই স্ক্রুটিনির মধ্যে পড়ছে। তা সত্ত্বেও গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তা ২৩ শতাংশ বেড়েছে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই দিল্লি এসে পৌঁছেছেন।
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ কর্তৃক বাস ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক গুলশান বিভাগ জানিয়েছে, মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কে যান চলাচল সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে পুলিশ বাস ডাম্পিং করলে এর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করছেন।এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নগরবাসীকে ওই সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগ।পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পাটগাতী মধুমতী সেতু থেকে খালেক বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে আগাছা ও ঘন জঙ্গলে ঢেকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে গজিয়ে ওঠা ঝোপঝাড় ও জঙ্গলের কারণে একদিকে যেমন স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সড়কটি হয়ে উঠেছে মাদকসেবন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ফলে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী ও শিশুদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলাতেও সড়কের বিভিন্ন নির্জন স্থানে অসামাজিক ও অপ্রতিকর কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘন জঙ্গলের আড়ালে অপরাধীরা সহজেই আত্মগোপন করতে পারে বলেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাজিরুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তাটি দিয়ে এখন সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে এখানকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জঙ্গলের কারণে তারা নানা ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে।”মধুমতী ভাসমান রেস্টুরেন্টের ওনার মাইনুল ইসলাম বলেন, “এখানে একটি ভালো মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সন্ধ্যার পর রেস্টুরেন্টে আসা অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের অনেক সময় পাহারা দিতে হয়, যাতে কোনো অঘটন না ঘটে। এরপরও অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমরা সেখানে গেলে অভিযুক্তরা ঘন জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে, পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।”স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কের দুই পাশের জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হলে অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। রাস্তাটি যেহেতু এলজিইডির আওতাধীন, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়- দ্রুত সড়কের দুই পাশের জঙ্গল পরিষ্কার করে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মো. জামাল হোসেন (জামাল মিয়া)। এ ঘটনায় তার দোকানের এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল মিয়া উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজেই দোকানটি পরিচালনার পাশাপাশি একজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাউথ আফ্রিকার স্থানীয় সময় একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই জামাল হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় দোকানে থাকা এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।জামাল হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং তিন সন্তান রেখে গেছেন। তার সন্তানদের মধ্যে ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়ার ৩ বছর এবং সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর। এছাড়া তিনি তিন ভাই ও এক বোনসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বলেন, পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য তাঁর ছেলে বিদেশে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।তিনি দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার যেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাফনসহ প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সাউথ আফ্রিকার প্রচলিত আইনে তাঁর ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে সিপাই কান্দি গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। ছোট্ট তিন সন্তান বাবাকে হারিয়ে নির্বাক। স্বজনদের প্রশ্ন—যে বাবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, সেই বাবাই এখন আর কোনোদিন সন্তানদের কাছে ফিরে আসবেন না।এদিকে নিহত জামাল হোসেনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সেই ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরু করা যায়নি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে বলে জানায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ সার্ভার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম ও নথিপত্র।এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আগে চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো বাস্তবে কতটা দূর করা হয়েছে? গত সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেউ হতাহত হননি। তবে দুটি কক্ষের আসবাব, নথি ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়েছে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিকরা।প্রাথমিকভাবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতরের অংশের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করছে।
১২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "উত্থিত সংহতি: অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক জোট"। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে কৃষকদের খাপ খাইয়ে নেওয়া, সবুজ শক্তির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মী কর্তৃক মহামারীর দ্রুত মোকাবেলার ক্ষেত্রে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।মহাসচিব বলেন, 'গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন'-এর যাত্রা একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সরকার, উন্নয়ন ব্যাংক, একাডেমিয়া এবং বেসরকারি খাতকে এক ছাতার নিচে এনে এই উদ্যোগ জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে অর্থায়ন ও দক্ষতার সংযোগ ঘটাবে, যা ধারণাকে বিনিয়োগে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে।তবে গ্লোবাল সাউথের এই অগ্রগতি উন্নত দেশগুলোর উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতা বাড়ানো এবং বৈষম্য কমানোর দায়বদ্ধতাকে কোনোভাবেই হ্রাস করে না বলে তিনি সতর্ক করেন। বৈশ্বিক বিভাজন ও সংঘাতের এই সংকটময় সময়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিশ্ব সংহতি পুনরুজ্জীবিত করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে উল্লেখ করে মহাসচিব সীমান্তে সব বাধা পেরিয়ে সমতা, সমৃদ্ধি ও শান্তির লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ইয়েমেনের তাইজ, আল-হুদায়দাহ, আল-জাওফ এবং মারিব গভর্নরেটের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে সৌদি আরব ৪০টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম দাবি করেছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হুথিদের দ্বারা পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের আল-সালিফ ও আল-তুহায়তা জেলা ছাড়াও কামারান দ্বীপে এই বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে।ইয়েমেনের আরেকটি সংবাদ মাধ্যম আল মাসিরা জানিয়েছে, আল-হাজম, আল-ঘায়েল এবং আল-জুবা জেলায় অন্তত ১৮টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।তবে ইয়েমেনে নিয়োজিত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে এই হামলাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।সূত্র: আল জাজিরা
মা-বাবার সম্পত্তির অধিকার ও তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বিরোধিতা করে শরিয়া আইনের দোহাই দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।তিনি বলেছেন, মা-বাবাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ইসলামেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে আইন করার উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ হুইপ বলেন, ‘শরিয়া আইন চালু হবে’ এমন কোনো কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে যারা এই আইনের বিরোধিতা করছেন, তাদের নিজেদের অবস্থানও পরিষ্কার করা উচিত। দেশের অনেক মা-বাবা বৃদ্ধাশ্রমে থাকছেন। কেউ কেউ অসুস্থ মা-বাবাকে ঘরে আটকে রাখছেন, সম্পত্তি নেওয়ার চেষ্টা করছেন কিংবা তাদের খোঁজখবর রাখছেন না। তাদের জীবনের শেষ সময়ে নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার জন্যই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি প্রশ্ন করেন বলেন,‘এই আইন করে তারেক রহমানের কী লাভ হবে? এখানে ব্যক্তিগতভাবে কারও কী লাভ হবে? দেশের সাধারণ মানুষের মা-বাবাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই তো এই উদ্যোগ।’শরিয়া আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফৌজদারি আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রচলিত রয়েছে। চুরি করলে শরিয়া আইনে হাত কাটার বিধান থাকলেও বাংলাদেশে সেই আইন প্রয়োগ করা হয় না। তাহলে প্রচলিত আইনের অধীনে যারা আইন পেশায় যুক্ত, তারা কেন শরিয়া আইনের প্রসঙ্গ তুলে একটি জনকল্যাণমূলক আইনের বিরোধিতা করবেন।সংসদে পাস হওয়া বিভিন্ন আইন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়েছে। মানবাধিকার, আইনজীবী, বিচারক, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে আইন করতে চাই, যাতে মানবাধিকার কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে একটি ভালো আইন করার চেষ্টা করেছি।’দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।সারের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার রয়েছে। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগের সরকারের সময়ের প্রায় চার হাজার সার ডিলার এবং বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।কৃষকদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে।বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রয়োজন না থাকলেও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সরকার এখন এসব ব্যয় কমিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।চিফ হুইপ আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত সরকারের নেওয়া ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। জনগণের করের টাকা যাতে অপচয় না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।সরকারি ব্যয় কমানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সরকারি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন। সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে মন্ত্রী-এমপিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চের সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চ করত। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে দেখার নীতি নেই। বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার।তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে কাজ করা প্রয়োজন, আমরা সেটিই আগে করব।’সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকার সংসদকে কার্যকর রাখতে চায়। বিরোধী দলের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের তিনজন করে রাখা হয়েছে। আইন ও বিচার, অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক, শ্রম, রেল, মহিলা ও শিশু এবং খাদ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সংসদের মাধ্যমেই তা করা হবে। বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। এর জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা করা হবে। আমরা চাই সবাই একসঙ্গে এসে সংবিধান সংশোধন করি।’চিফ হুইপ বলেন, সরকার দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য সরকার কাজ করছে। এ কাজে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায়।ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশকে ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তারা সেই সম্মানটুকু দেখাবে। আমরা সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।’তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো দেশের সঙ্গে শত্রুতা নেই। প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ জড়িত, সেখানে সেই স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদের কোন বিষয় মানা হচ্ছে না, সেটা আপনারা নির্দিষ্ট করে বলেন।’তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। প্রয়োজন হলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে সংসদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার।সরকারের বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, ‘আমরা সব ১০১টি এমওইউ নিয়েই আলোচনা করছি। এর ফল আপনারা পাবেন। আর্থিক বিষয়টি সবকিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব নয়। আমরা চাই বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী হোক। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। যেখানে প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেখানে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।’বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের মতপার্থক্য বাড়ছে না দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, বরং সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির চেষ্টা রয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং আমরা ক্লোজার হয়েছি। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যে ১৯৭১, ১৯৪৭ ও ভাষা আন্দোলনের কথা এসেছে। কিন্তু জিয়াউর রহমান সম্পর্কে একটি শব্দও তিনি উচ্চারণ করেননি। এরপর এরশাদের সময় এবং পরবর্তী আন্দোলনের কথা এসেছে। একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে হবে।’সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরোধিতা না করে জনস্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে এগিয়ে যেতে চায়।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তোলে জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা সরকার পালন করেনি। জনগণের গণরায় সরকার উপেক্ষা করেছে।’বিল পাসের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া মতামত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েকটি বিষয় ছাড়া তাদের মতামত সরকার আমলে নেয়নি। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা হলে সেটিকে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে জনগণের ভোটের রায় সরকার উপেক্ষা করলে সেটি তারা মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি।সংস্কার বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না। সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন না করলেও জনগণের রায় থেকে তারা সরে দাঁড়াবেন না।সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার ভালো কাজ করলে আমরা সমর্থন করব। খারাপ কাজ করলে তার বিরোধিতা করব এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘র্যাব জাতির সঙ্গে চরম অন্যায় করেছে, তাই আমরা এর বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরাতন সদস্য এবং আগের সব কার্যক্রম রেখে নতুন মোড়ক দেওয়া হয়েছে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে।’এ ছাড়া সম্পদ বণ্টন আইন নিয়েও আপত্তি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কোরআনের বিপরীতে তারা সম্পদ বণ্টন আইন করেছে। এমন দুঃসাহস ইংরেজরাও করেনি।’
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে নিয়ে প্রশ্ন করায় বিব্রত বোধ করেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি দলটির সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও অধিকার নেই।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। গতকালও আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না। আওয়ামী লীগ নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে তো এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা ঠিক না, উচিতও না। কারণ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে নিয়ে আমাদের পর্যায়ে প্রশ্ন করলে আমরা বিব্রত বোধ করি।”তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার তাদের নেই। তাদের কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করারও অধিকার নেই। এমনকি দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও সুযোগ নেই।”মীর শাহে আলম বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এই দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বাংলাদেশে নির্বাচন করা তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই। যদি তারা তা করে, তাহলে আইনের আওতায় আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচডেতে মাঠে নামছে ইউরোপের চার বড় নাম—বার্সেলোনা, লিভারপুল, পিএসজি ও আর্সেনাল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী চার ম্যাচের মধ্যে বার্সেলোনার ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে, আর বাকি তিনটি ম্যাচের পর্দা উঠবে বুধবার দিবাগত রাত (বৃহস্পতিবার) রাত ১টায়।বার্সেলোনা বনাম ফেইনুর্ড — ম্যাচটি হবে বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসর ঘরের মাঠে শুরু করবে বার্সা। লিভারপুল বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ — ম্যাচটি হবে লিভারপুলের অ্যানফিল্ডে। সমর্থনের বিচারে এগিয়ে থাকলেও শক্তিমত্তায় সমানে সমান লড়বে আতলেতিকো। পিএসজি বনাম স্লোভান ব্রাতিস্লাভা — পিএসজি নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে খেলবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু হচ্ছে এই ম্যাচ দিয়ে।নাপোলি বনাম আর্সেনাল — ম্যাচের ভেন্যু নাপোলির স্টাদিও দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা। সফরকারী হিসেবে গেলেও বেশ শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছ গানার্সরা। বার্সেলোনা ও পিএসজি ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করছে। দল ও শক্তিমত্তার বিচারে বিনা হোঁচটেই তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তারপরও বড় মঞ্চে বেশ সতর্ক এই দুই জায়ান্ট। অন্যদিকে লিভারপুল-আতলেতিকো এবং নাপোলি-আর্সেনালের লড়াই দুটোই হতে পারে এই রাতের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ।তবে এই চারটি ম্যাচ বাদেও আরও দুইটি ম্যাচ এই রাতেই মাঠে গড়াচ্ছে। সেগুলো হলো: স্টুটগার্ড-ভাইকিং (রাত ১০.৪৫টায়) ও স্পোর্টিং-গালাতেসারে (রাত ১টায়)।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভ্লগ সিরিজ ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’-এর একটি পর্বে বেগম জিয়ার আইকনিক লুকে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সাজ, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সাজ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, “আপনারা কি আমার ‘ডিসকাভারিং বাংলাদেশ’ ব্লগ আগে দেখেন নাই? এর আগে আমি যখন মনিপুরী বা গারোদের নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাদের কস্টিউম পরেছি। আমি যখন তাঁতশিল্প নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাঁতের শাড়িটা পরছি। আমি যখন যে ভিডিওটা করি, তখন সেটার লুক নিই। ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা করিনি, আপনারা খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এটা আমার ভিডিও বানানোর প্যাটার্ন।”নিজের সাজ ও পোশাক দিয়ে দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাশন, আমাদের ট্র্যাডিশন ও কালচার নিয়ে স্টাডি করি। বাংলাদেশের পোশাক এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি, দেশের পরিচয় ও কালচার রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’চলতি বছর বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। রাজনীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি দেশনীতিবিদ হতে চাই। আমার জন্য রাজনীতি শব্দটা একটু আলাদা। দেশের জন্য কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরকম কিছু বড় প্ল্যাটফর্ম যদি পাই, সেখান থেকে আমার জন্য দেশের পলিসি মেকিং, দেশের অনেক পরিবর্তন আনার জায়গাটা পাওয়া সহজ হবে। এটাই আমার রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ ছিল।’বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এই মূল্যায়নটা কোনো আলাদা জায়গা দিয়ে করতে পারব না। কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ১০, কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ০। এক কথায় তো উতর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ‘হায়দার’, ‘মহানগর’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ দিয়ে অল্প দিনেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং নিয়েও বেশ সরব এই অভিনেত্রী।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
কয়লা স্বল্পতায় বিগত এক মাস ধরে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন কমায় আরও লোডশেডিং বাড়ছে দেশে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছিল তারা। গতকাল রাতে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় উৎপাদন। তবে একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন হচ্ছে ৭৫০ মেগাওয়াটের কম।জানা যায়, ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। চাহিদা বুঝে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড আছে এই কেন্দ্রের।এ বিষয়ে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।পিডিবি সূত্র জানায়, দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লাস্বল্পতা ও কারিগরি কারণে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা আছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গরম বাড়লেই লোডশেডিং বাড়ছে। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়—৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। আজ ছুটির দিন সকালেও আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি সারাদেশে লোডশেডিং হচ্ছে।
সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মো. জামাল হোসেন (জামাল মিয়া)। এ ঘটনায় তার দোকানের এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল মিয়া উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজেই দোকানটি পরিচালনার পাশাপাশি একজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাউথ আফ্রিকার স্থানীয় সময় একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই জামাল হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় দোকানে থাকা এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।জামাল হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং তিন সন্তান রেখে গেছেন। তার সন্তানদের মধ্যে ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়ার ৩ বছর এবং সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর। এছাড়া তিনি তিন ভাই ও এক বোনসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বলেন, পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য তাঁর ছেলে বিদেশে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।তিনি দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার যেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাফনসহ প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সাউথ আফ্রিকার প্রচলিত আইনে তাঁর ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে সিপাই কান্দি গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। ছোট্ট তিন সন্তান বাবাকে হারিয়ে নির্বাক। স্বজনদের প্রশ্ন—যে বাবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, সেই বাবাই এখন আর কোনোদিন সন্তানদের কাছে ফিরে আসবেন না।এদিকে নিহত জামাল হোসেনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
ওয়ানএআই চালু করল দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। এখন থেকে মাইজিপি অ্যাপে একটিমাত্র ইন্টারফেস এবং সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে একাধিক এআই মডেল ও টুল। বাংলাদেশে এআই ব্যবহার আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গ্রামীণফোনের পথযাত্রায় এই উদ্যোগ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যাধুনিক এআই টুল-গুলোকে আরও সহজ, সুলভ ও সাশ্রয়ী করে তোলার লক্ষ্যে চালু হওয়া ওয়ানএআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যাবে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গ্রক, ডিপসিক, জেমিনাইসহ আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল। একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ও সাবস্ক্রিপশন আলাদাভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে ওয়ানএআই গ্রাহককে দেবে দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে নির্বিঘ্নে এআই ব্যবহারের সুযোগ; যার মধ্যে রয়েছে শেখা ও গবেষণা, কনটেন্ট লেখা, কোডিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল কাজ, এআই দিয়ে ছবি তৈরি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও সারসংক্ষেপ তৈরিসহ অন্যান্য এআইনির্ভর কাজ।গ্রামীণফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই ডে’ উপলক্ষ্যে জিপিহাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ানএআই সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, গ্রামীণফোন ম্যানেজমেন্ট টিম ও কর্মীদের উপস্থিতিতে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ানএআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবিরুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন,” আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা অর্জনে এআই-এর ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, শিল্প খাত ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই এআই-এর এই সম্ভাবনাকে গ্রহণ ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানএআই-এর মতো বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এআই-কে সহজলভ্য করে তুলতে গ্রামীণফোনের এমন অগ্রণী ভূমিকা দেখে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সাশ্রয়ী উপায়ে এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে, যা তাদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে এআই-এর প্রসার ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে, তা দেখার প্রত্যাশায় রয়েছি।“গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে গ্রামীনফোনের 'এআই অ্যান্ড আই' যাত্রার পরবর্তী ধাপের সূচনা হল। এখন আমাদের জন্য এআই আর কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়। স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক এবং হাইপার-পারসোনালাইজড সেবা থেকে শুরু করে এআই-ভিত্তিক গ্রাহকসেবা পর্যন্ত, আমাদের কর্মী, সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহক অভিজ্ঞতার সর্বস্তরে এআই-এর প্রয়োগ প্রতিনিয়ত আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ কেবল এআই-এর একার নয়; বরং ভবিষ্যৎ সেই মানুষদের, যারা দায়িত্বশীলতার সাথে ও ইতিবাচক উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবে। গ্রামীণফোনের ভেতরে আমরা যেমন ভবিষ্যৎ-উপযোগী সক্ষমতা তৈরি করছি, তেমনি এই লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছড়িয়ে দিচ্ছি। মাইজিপি অ্যাপে ওয়ানএআই যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের—বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের—হাতে এআই-এর সম্ভাবনা সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছি, যা শেখা, কাজ, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের পথকে আরও সহজ করে তুলবে। পাশাপাশি, গ্রামীণফোন একাডেমি ও ফিউচারমেকার্সের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থী ও তরুণদের এআই দক্ষতা তৈরি করতে এবং তাদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে অর্থপূর্ণ সমাধানে রূপান্তর করতে সহায়তা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়তে সাহায্য করবে।” গ্রামীণফোন গ্রাহকরা মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি 'ওয়ানএআই' ব্যবহার করতে পারবেন এবং তাঁদের মোবাইল ব্যালেন্সের মাধ্যমে পছন্দসই বিভিন্ন প্যাকেজ কিনতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রতি মাসে মাত্র ৭১ টাকা থেকে; যার মাধ্যমে আনলিমিটেড এআই চ্যাটের পাশাপাশি গবেষণা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং কোডিং সহায়তার সুবিধা পাওয়া যাবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘হাইপ আর ‘ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আপা (শেখ হাসিনা) না কি ডিসেম্বরে লীগের (আওয়ামী লীগ) পলাতকদের দেশে ফিরতে বলবে না। মূলত, তাদেরকে বললেও কেউ আসতো না।’তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট কীভাবে পরিবারের সবার পালানো নিশ্চিত করে বাকিদের ফেলে দিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন এটা কোনোমতে জান বাঁচিয়ে পালানো নিষিদ্ধ লীগের নেতাদের ভালো মতোই মনে আছে।’এনসিপির এ নেতার মতে, ‘ডিসেম্বরের (শেখ হাসিনার দেশে ফেরা) হাইপ আর ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ!’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা শেখ হাসিনা সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি কোনো নির্দেশনা কাউকে দিচ্ছি না। তবে দেশে-বিদেশে আমাদের সমর্থক-নেতাকর্মী যারা যেখানেই আছেন তারা তাদের ইচ্ছা পোষণ করছে। তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারাও আমার সঙ্গে যেতে চায়। আমি নির্দেশনা দিয়ে কাউকে তো বিপদে ফেলতে পারি না, কিন্তু যারা মনে করবেন যেতে চায়, তারা যাবে।