দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই ৫ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৫৫ জন রোগী এসেছে।বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩৭৭ জন, রাজশাহীতে ৫৫, সিলেটে ১২১, চট্টগ্রামে ২০০, বরিশালে ৬০, ময়মনসিংহে ৩৭, খুলনায় ৩১ এবং রংপুরে ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬ জন।
একটি সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষকসহ সমাজের সর্বস্তরের জনসাধারণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে এরকম একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করি, যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হই।অনুষ্ঠানে বক্তাদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, পূর্ববর্তী বক্তাগণ এবং বিশেষ করে ডক্টর আনিসুজ্জামান ইনোভেশন নিয়ে তার উপস্থাপন ও বক্তব্যে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলোর মধ্য দিয়েই আমাদের আগামী দিনের কর্মপন্থা মোটামুটিভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমরা যদি এসব কর্মপন্থা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব।দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের বর্তমান প্রয়োজনে উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তা ও গবেষকদের সর্বাত্মক সহায়তায় সব সময় পাশে থাকবে।পরে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি উদ্ভাবক ও বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি থেকেই এডিস মশার প্রজনন এবং ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সচেতন হয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন সবাই মিলে আমরা এই দেশকে গড়ে তুলি। প্রত্যেককে যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি, তাহলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।”তিনি আরও বলেন, শুধু নিজেরা সচেতন হলেই হবে না, আশপাশের মানুষকেও সচেতন করতে হবে। ঘরবাড়ি ও এর আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে অন্যদেরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে হবে।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিতভাবে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
আগামী বছর (২০২৭ সালে) তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। আগামী ২০২৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা যাবে। তিস্তা নদী ও এর আশপাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এই মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এ সময় তিনি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে ১১টি সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইনুল হক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনোনিতা দাসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ব্যাপক আকারে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হবে। হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষায় নিয়মিত ভ্যাকসিন কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হবে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে হাম আক্রান্ত যেসব শিশু আসছে, তাদের বেশিরভাগই ভ্যাকসিন নেয়নি। এ কারণে এখনো হাম হচ্ছে। হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষায় ভ্যাকসিন দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।তিনি বলেন, আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা অতীতের সরকারের মতো বসে থাকব না। আগামী ২৬ তারিখ থেকে সারাদেশে আমরা ব্যাপক আকারে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কোনো ভ্যাকসিন রেখে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে ২১ দিনের মধ্যে আমরা বাংলাদেশে দুই কোটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি। দুই কোটি শিশুকে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত আমরা ভ্যাকসিন দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।মন্ত্রী আরও বলেন, আগেও হাম হয়েছে, তবে তখন পুষ্টির ঘাটতি ও নিউমোনিয়ার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা কম ছিল। বর্তমানে পুষ্টির অভাবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে। এর প্রতিকার হিসেবে শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার গুরুত্ব অনেক। আমরা ভ্যাকসিনের কার্যক্রম সবসময় চালু রাখব, যাতে কোনো শিশু হঠাৎ করে রোগাক্রান্ত না হয়।ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহিলা আসন-৩২৮-এর সংসদ সদস্য মমতাজ আলো এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রমুখ।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যেখানেই অসংগতি দেখব, সেখানেই কথা বলব। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে—এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমি চাই।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন। সেই সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে তাঁরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।তিনি বলেন, ‘আমরা যখন তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি, তখন সরকার স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’সংকট সমাধানে সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদের ভেতরে বারবার বলেও যখন কিছু করতে পারিনি, তখন বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’ দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। এই সময় একটি জাতির জন্য কম নয়। মালয়েশিয়া ও জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশ কোথায়?’পাকিস্তান আমলে শোষণের পর স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আসা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আদমজী জুট মিল একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেই গৌরব আর নেই। স্বাধীনতার পর অনেক কিছুই ‘হরিলুট’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তেল ও বিদ্যুৎ সংকটের সময় তাঁরা পাম্পে পাম্পে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। সংসদের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পেরে এখন পাঁচটি দাবির সঙ্গে আরও কিছু দাবি নিয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে লংমার্চ চলছে।গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দিয়েছেন। এখন জনগণের ভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমাদের কারও নেই’—বলেন তিনি।সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াতের আমির বলেন, মাঝে মাঝে তাঁর বক্তব্য কাঁটছাঁট করে প্রচার করা হয়। তারপরও তিনি গণমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁর ভাষায়, ‘মিডিয়া হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পাওয়ারফুল পিলার।’ গণমাধ্যম সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে রাষ্ট্রের অন্য স্তম্ভগুলোও সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।মতবিনিময় সভায় বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় শেষে জামায়াতের আমির হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলতে যাচ্ছে। এতে বিদেশে যেতে আগ্রহী হাজারো তরুণের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাজার খোলার আগেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রায় এক মাস আগে প্রকাশ করলেও বাংলাদেশে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।তথ্যের এই শূন্যস্থানই দখল করেছে রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচার, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করছেন। ফলে সরকারি ঘোষণার চেয়ে দালালের কথাই অনেকের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা না দিতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে বলেছে। কিন্তু এই সতর্কবার্তার মধ্যেই কিছু লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালের কার্যক্রম থেমে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণায় সরগরম চাকরির বাজার। তরুণরা ছুটছেন তাদের দেওয়া আশ্বাসে, সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে নয়।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার শুরু থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত একজন কর্মীকে নিজ দেশেই নানা ধরনের হয়রানি, অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মিথ্যা আশ্বাস, তথ্য গোপন, যখন-তখন টাকা দাবি, পাসপোর্ট আটকে রাখা কিংবা পাসপোর্টের অপব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়।এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রের ওটিপি নিয়ে অভিযোগ। কর্মীদের অভিযোগ, এজেন্ট বা দালালের দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে বিমানবন্দরে বহির্গমন ছাড়পত্রের ওটিপি পাওয়া যায় না। ফলে বিদেশে যাওয়ার শেষ মুহূর্তেও কর্মীকে অর্থ দিতে বাধ্য হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীর পরিবর্তে রিক্রুটিং এজেন্সি বা দালালের কাছে ওটিপি নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে একধরনের নতুন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।এসব অনিয়ম একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর বিভিন্ন স্তরে যথাযথ নজরদারি ও প্রয়োগের ঘাটতির কারণে অনেক অনিয়মই কার্যত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার রূপ নিয়েছে। আইন ও বিধিবিধান থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল হলে অনিয়মের সংস্কৃতি যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তার বড় উদাহরণ।তথ্য না দিলে দালালের দখলনাগরিককে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য না দিলে শুধু প্রতারণার ঝুঁকিই বাড়ে না, সচেতন হওয়ার সুযোগও কমে যায়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় কর্মী নিয়োগের ধাপ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল একই তথ্য দ্রুত, সহজ ভাষায় এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা। কারণ সরকারি তথ্যের জায়গা ফাঁকা থাকলে সেই জায়গা অন্যরা দখল করবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। কিন্তু কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও নতুন নয়। কয়েক বছর পরপর নানা অভিযোগে বাজার বন্ধ হয়েছে, পরে সরকারের তৎপরতায় আবার খুলেছে। আবার অনিয়মের অভিযোগে বন্ধও হয়েছে। ভিসা কেনাবেচা, দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমান টিকিটে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ কর্মীকে। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিদেশে গিয়ে চাকরি না পাওয়া, বেতন না পাওয়া, নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হওয়া কিংবা আইনি জটিলতায় পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত অনেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন। কেউ কেউ আবার অনিয়মিত অবস্থায় থেকে আরও বড় ঝুঁকিতে পড়েছেন।৩৩৮ এজেন্সি নিয়ে প্রশ্নএবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে। তালিকায় রয়েছে ২৫টি প্রধান এজেন্সি, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের সঙ্গে ৬২টি এজেন্সি।প্রশ্ন উঠেছে, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি কি সরাসরি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে কর্মী পাঠাতে পারবে, নাকি তারা ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনেই সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে?বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় সহযোগী এজেন্সিগুলো নিজেরা কর্মী পাঠাতে না পারা এবং প্রধান এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, তালিকায় থাকা কিছু এজেন্সির মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী তিন বছর কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা নেই। কারও কারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতাই নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। কিছু প্রধান এজেন্সির বিএমইটি ছাড়পত্রের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, ৩৩৮টি এজেন্সি বাংলাদেশ নির্বাচন করেনি; মালয়েশিয়া তাদের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ী তালিকা করেছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় কোন কোন বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ারই নির্বাচন করার এখতিয়ার রয়েছে।খরচ কত সরকারি তথ্য কোথায়?এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কর্মী পাঠাতে প্রকৃত খরচ কত হবে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি ঘোষণা না থাকায় বাজারে নানা ধরনের অঙ্ক ঘুরছে।বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচ, অর্থাৎ অভিবাসন লেভি ও বিমান টিকিট বহন করার কথা। বাংলাদেশ প্রান্তে বিএমইটি ছাড়পত্রের নির্ধারিত ফি, মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং রিক্রুটিং এজেন্সির নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ কর্মীর দেওয়ার কথা।কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতায় কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সরকার যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসন ব্যয় ঘোষণা করেনি, সেখানে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য কীভাবে বাজারে অর্থ লেনদেনের ভিত্তি হয়ে উঠছে?শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, সরকারি নির্ধারিত খরচ ও প্রকৃত খরচের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকলে নতুন করে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রধান ও সহযোগী এজেন্সির ভূমিকা স্পষ্ট নয়দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ও সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকার নির্ধারিত প্রধান এজেন্সিগুলোই কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে মূল এখতিয়ার পাবে। আর সহযোগী এজেন্সিগুলো বাংলাদেশে কর্মী সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত থাকবে।কিন্তু এই কাঠামোটি সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ৩৩৮ এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পরও চাকরিপ্রত্যাশীরা জানেন না কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কোন পর্যায়ে টাকা দেবেন এবং কোন সেবার জন্য কত টাকা দিতে হবে।এর মধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ঘোষণা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সরকার যেখানে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠাতে পারে, সেখানে বেসরকারি ব্যবস্থায় কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে কেন?এই উদ্যোগ সফল হলে তা স্বচ্ছ ও নিরাপদ কর্মী পাঠানোর একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে। তবে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের মডেলটি সীমিত ১০ হাজার কর্মীর মধ্যেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বৃহত্তর নিয়োগ ব্যবস্থায়ও এর প্রতিফলন ঘটবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।আইন আছে, বাস্তবতা ভিন্নবাংলাদেশের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কর্মীদের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে গিয়ে চাকরি খোঁজার কথা নয়। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র আসবে, এরপর সরকার অনুমোদন দেবে এবং বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে কর্মী বাছাইয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা।কিন্তু বাস্তবে বিএমইটির ডাটাবেজে নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আইনে ডাটাবেজে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। তখনই চাকরিপ্রত্যাশীরা এজেন্সির দপ্তরে যেতে পারেন।বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। পরে বিএমইটি নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।বিদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের বিএমইটিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও সম্ভাব্য কর্মীদের নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, জেলা কর্মসংস্থান অফিস ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র টিটিসির মাধ্যমেও এ নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল কি কাজে লাগছে?সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইএলও সহযোগিতায় তৈরি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল চালু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চাকরিপ্রত্যাশী, নিয়োগকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সি, বিএমইটি, মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বিত করার সুযোগ রয়েছে।একজন চাকরিপ্রত্যাশী কোন দেশে কী ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে, নতুন চাহিদা এসেছে কি না, কোন এজেন্সি কোন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, কী খরচ হবে এবং কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এসব তথ্য এক জায়গায় পেলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমতে পারে।কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পোর্টালটির সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। তথ্যের উন্মুক্ত প্রবাহ, সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত তথ্য এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকার পরও বাস্তবে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী দালালের দ্বারস্থ হচ্ছেন।বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিলালাল বলেন, সরকারি সেবাগুলো যদি মানুষের দোরগোড়ায় থাকে, তাহলে চাকরিপ্রত্যাশীরা কেন দালাল ও এজেন্সির ওপর বেশি নির্ভর করবেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।রামরুর গবেষণাতেও দেখা গেছে, চাকরিপ্রত্যাশীরা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে কাছের দালালের তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করেন। অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ওকুপের মতে, ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টালের উদ্দেশ্য ছিল চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম করা। এটি দ্রুত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে প্রতারণা ও বঞ্চনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।তথ্যই হতে পারে দালাল প্রতিরোধের হাতিয়ারচাকরিপ্রত্যাশীদের নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ গ্রহণের ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা গেলে ঢাকায় এসে অযথা অর্থ খরচের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে টিটিসিগুলোকে শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে নয়, নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের তথ্য ও পরামর্শকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা প্রয়োজন।কারণ বিদেশি শ্রমবাজার খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি যদি একটি চক্রে পরিণত হয় বাজার বন্ধ থাকলে আগাম প্রচারণা, চাহিদা তৈরি ও অর্থ সংগ্রহ এবং বাজার খুললে তাড়াহুড়ো করে কর্মী পাঠানো তাহলে পুরোনো সংকটই নতুন করে ফিরে আসবে।শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন, সেই সংখ্যাকে সাফল্যের মাপকাঠি করলে চলবে না। কত কম খরচে, কতটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, কতটা নিরাপদে এবং কতটা দক্ষ কর্মী বিদেশে গেলেন সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের মানদণ্ড।এবার কার স্বার্থে খুলবে বাজার?বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু নতুন করে বাজার খোলার খবর নয়; এটি পুরোনো ভুল থেকে বেরিয়ে আসার বড় পরীক্ষা। ভবিষ্যতে জাপানের মতো নিয়মিত ও উন্মুক্ত ব্যবস্থায় যোগ্য সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য কর্মী প্রেরণের সুযোগ রাখা যায় কি না, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। শ্রমবাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত কর্মী প্রেরণ চালু রাখতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো অনিয়মের চাপের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান যেন নীরব বা নিষ্ক্রিয় হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।নতুন সরকারের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন ও কার্যকর তৎপরতার ওপর। আর সেই নেগোসিয়েশনের শক্তি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর। অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানও দুর্বল হতে পারে।বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ কমিটির সভার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ধরনের বৈঠকে শ্রম নিয়োগের প্রক্রিয়া, খরচ, সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও কর্মী সুরক্ষাসহ খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এ বছর এখন পর্যন্ত যৌথ কমিটির সভা না হওয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার খুলবে কর্মীর স্বার্থে, নাকি আবারও খুলবে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের স্বার্থে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার সত্যিই কতটা ‘নতুন’।
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পুনরায় বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এ কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বদলি আবেদনের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন কার্যক্রম ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় ধাপে যেসব শিক্ষকের তথ্য সংশোধন করা হয়েছে, কেবল তারাই এ ধাপে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম ধাপে আবেদনকারী শিক্ষকরা দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে আবেদন কিংবা আগের আবেদন সংশোধন করতে পারবেন না।প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্যও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি। এতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে শিক্ষক তথ্য, শূন্য পদের তালিকা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য উপজেলা বা জোন পর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।বদলি আবেদন কার্যক্রম চলমান থাকায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর সুযোগ বন্ধ থাকবে। যাচাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে।এদিকে, বদলি আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মাউশি। ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বদলির জন্য শিক্ষকদের ১০ দিন সময় দেওয়া হবে।এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘বদলি আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বদলির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক মুহূর্তও দেরি করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের বদলি করা হবে।’
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীনকে ঢাকার এসবিতে, পাবনা বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লাবীব আবদুল্লাহকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাককে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে।এছাড়াও, নওগাঁ সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানকে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকর্তা আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করবেন অন্যথায় আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন।
রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের আনুমানিক বয়স ৬৫ ও ৪৫ বছর। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন ফুটপাত ও কদম ফোয়ারা মোড় এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাইকোর্ট মাজার ও জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ফুটপাতে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় পথচারীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।তিনি বলেন, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।এসআই তৌফিক হাসান আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত দুজন ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলতে যাচ্ছে। এতে বিদেশে যেতে আগ্রহী হাজারো তরুণের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাজার খোলার আগেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রায় এক মাস আগে প্রকাশ করলেও বাংলাদেশে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।তথ্যের এই শূন্যস্থানই দখল করেছে রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচার, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করছেন। ফলে সরকারি ঘোষণার চেয়ে দালালের কথাই অনেকের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা না দিতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে বলেছে। কিন্তু এই সতর্কবার্তার মধ্যেই কিছু লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালের কার্যক্রম থেমে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণায় সরগরম চাকরির বাজার। তরুণরা ছুটছেন তাদের দেওয়া আশ্বাসে, সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে নয়।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার শুরু থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত একজন কর্মীকে নিজ দেশেই নানা ধরনের হয়রানি, অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মিথ্যা আশ্বাস, তথ্য গোপন, যখন-তখন টাকা দাবি, পাসপোর্ট আটকে রাখা কিংবা পাসপোর্টের অপব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়।এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রের ওটিপি নিয়ে অভিযোগ। কর্মীদের অভিযোগ, এজেন্ট বা দালালের দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে বিমানবন্দরে বহির্গমন ছাড়পত্রের ওটিপি পাওয়া যায় না। ফলে বিদেশে যাওয়ার শেষ মুহূর্তেও কর্মীকে অর্থ দিতে বাধ্য হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীর পরিবর্তে রিক্রুটিং এজেন্সি বা দালালের কাছে ওটিপি নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে একধরনের নতুন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।এসব অনিয়ম একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর বিভিন্ন স্তরে যথাযথ নজরদারি ও প্রয়োগের ঘাটতির কারণে অনেক অনিয়মই কার্যত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার রূপ নিয়েছে। আইন ও বিধিবিধান থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল হলে অনিয়মের সংস্কৃতি যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তার বড় উদাহরণ।তথ্য না দিলে দালালের দখলনাগরিককে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য না দিলে শুধু প্রতারণার ঝুঁকিই বাড়ে না, সচেতন হওয়ার সুযোগও কমে যায়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় কর্মী নিয়োগের ধাপ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল একই তথ্য দ্রুত, সহজ ভাষায় এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা। কারণ সরকারি তথ্যের জায়গা ফাঁকা থাকলে সেই জায়গা অন্যরা দখল করবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। কিন্তু কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও নতুন নয়। কয়েক বছর পরপর নানা অভিযোগে বাজার বন্ধ হয়েছে, পরে সরকারের তৎপরতায় আবার খুলেছে। আবার অনিয়মের অভিযোগে বন্ধও হয়েছে। ভিসা কেনাবেচা, দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমান টিকিটে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ কর্মীকে। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিদেশে গিয়ে চাকরি না পাওয়া, বেতন না পাওয়া, নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হওয়া কিংবা আইনি জটিলতায় পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত অনেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন। কেউ কেউ আবার অনিয়মিত অবস্থায় থেকে আরও বড় ঝুঁকিতে পড়েছেন।৩৩৮ এজেন্সি নিয়ে প্রশ্নএবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে। তালিকায় রয়েছে ২৫টি প্রধান এজেন্সি, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের সঙ্গে ৬২টি এজেন্সি।প্রশ্ন উঠেছে, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি কি সরাসরি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে কর্মী পাঠাতে পারবে, নাকি তারা ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনেই সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে?বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় সহযোগী এজেন্সিগুলো নিজেরা কর্মী পাঠাতে না পারা এবং প্রধান এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, তালিকায় থাকা কিছু এজেন্সির মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী তিন বছর কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা নেই। কারও কারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতাই নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। কিছু প্রধান এজেন্সির বিএমইটি ছাড়পত্রের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, ৩৩৮টি এজেন্সি বাংলাদেশ নির্বাচন করেনি; মালয়েশিয়া তাদের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ী তালিকা করেছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় কোন কোন বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ারই নির্বাচন করার এখতিয়ার রয়েছে।খরচ কত সরকারি তথ্য কোথায়?এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কর্মী পাঠাতে প্রকৃত খরচ কত হবে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি ঘোষণা না থাকায় বাজারে নানা ধরনের অঙ্ক ঘুরছে।বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচ, অর্থাৎ অভিবাসন লেভি ও বিমান টিকিট বহন করার কথা। বাংলাদেশ প্রান্তে বিএমইটি ছাড়পত্রের নির্ধারিত ফি, মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং রিক্রুটিং এজেন্সির নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ কর্মীর দেওয়ার কথা।কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতায় কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সরকার যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসন ব্যয় ঘোষণা করেনি, সেখানে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য কীভাবে বাজারে অর্থ লেনদেনের ভিত্তি হয়ে উঠছে?শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, সরকারি নির্ধারিত খরচ ও প্রকৃত খরচের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকলে নতুন করে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রধান ও সহযোগী এজেন্সির ভূমিকা স্পষ্ট নয়দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ও সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকার নির্ধারিত প্রধান এজেন্সিগুলোই কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে মূল এখতিয়ার পাবে। আর সহযোগী এজেন্সিগুলো বাংলাদেশে কর্মী সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত থাকবে।কিন্তু এই কাঠামোটি সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ৩৩৮ এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পরও চাকরিপ্রত্যাশীরা জানেন না কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কোন পর্যায়ে টাকা দেবেন এবং কোন সেবার জন্য কত টাকা দিতে হবে।এর মধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ঘোষণা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সরকার যেখানে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠাতে পারে, সেখানে বেসরকারি ব্যবস্থায় কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে কেন?এই উদ্যোগ সফল হলে তা স্বচ্ছ ও নিরাপদ কর্মী পাঠানোর একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে। তবে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের মডেলটি সীমিত ১০ হাজার কর্মীর মধ্যেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বৃহত্তর নিয়োগ ব্যবস্থায়ও এর প্রতিফলন ঘটবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।আইন আছে, বাস্তবতা ভিন্নবাংলাদেশের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কর্মীদের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে গিয়ে চাকরি খোঁজার কথা নয়। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র আসবে, এরপর সরকার অনুমোদন দেবে এবং বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে কর্মী বাছাইয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা।কিন্তু বাস্তবে বিএমইটির ডাটাবেজে নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আইনে ডাটাবেজে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। তখনই চাকরিপ্রত্যাশীরা এজেন্সির দপ্তরে যেতে পারেন।বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। পরে বিএমইটি নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।বিদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের বিএমইটিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও সম্ভাব্য কর্মীদের নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, জেলা কর্মসংস্থান অফিস ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র টিটিসির মাধ্যমেও এ নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল কি কাজে লাগছে?সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইএলও সহযোগিতায় তৈরি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল চালু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চাকরিপ্রত্যাশী, নিয়োগকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সি, বিএমইটি, মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বিত করার সুযোগ রয়েছে।একজন চাকরিপ্রত্যাশী কোন দেশে কী ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে, নতুন চাহিদা এসেছে কি না, কোন এজেন্সি কোন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, কী খরচ হবে এবং কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এসব তথ্য এক জায়গায় পেলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমতে পারে।কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পোর্টালটির সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। তথ্যের উন্মুক্ত প্রবাহ, সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত তথ্য এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকার পরও বাস্তবে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী দালালের দ্বারস্থ হচ্ছেন।বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিলালাল বলেন, সরকারি সেবাগুলো যদি মানুষের দোরগোড়ায় থাকে, তাহলে চাকরিপ্রত্যাশীরা কেন দালাল ও এজেন্সির ওপর বেশি নির্ভর করবেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।রামরুর গবেষণাতেও দেখা গেছে, চাকরিপ্রত্যাশীরা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে কাছের দালালের তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করেন। অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ওকুপের মতে, ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টালের উদ্দেশ্য ছিল চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম করা। এটি দ্রুত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে প্রতারণা ও বঞ্চনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।তথ্যই হতে পারে দালাল প্রতিরোধের হাতিয়ারচাকরিপ্রত্যাশীদের নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ গ্রহণের ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা গেলে ঢাকায় এসে অযথা অর্থ খরচের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে টিটিসিগুলোকে শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে নয়, নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের তথ্য ও পরামর্শকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা প্রয়োজন।কারণ বিদেশি শ্রমবাজার খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি যদি একটি চক্রে পরিণত হয় বাজার বন্ধ থাকলে আগাম প্রচারণা, চাহিদা তৈরি ও অর্থ সংগ্রহ এবং বাজার খুললে তাড়াহুড়ো করে কর্মী পাঠানো তাহলে পুরোনো সংকটই নতুন করে ফিরে আসবে।শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন, সেই সংখ্যাকে সাফল্যের মাপকাঠি করলে চলবে না। কত কম খরচে, কতটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, কতটা নিরাপদে এবং কতটা দক্ষ কর্মী বিদেশে গেলেন সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের মানদণ্ড।এবার কার স্বার্থে খুলবে বাজার?বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু নতুন করে বাজার খোলার খবর নয়; এটি পুরোনো ভুল থেকে বেরিয়ে আসার বড় পরীক্ষা। ভবিষ্যতে জাপানের মতো নিয়মিত ও উন্মুক্ত ব্যবস্থায় যোগ্য সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য কর্মী প্রেরণের সুযোগ রাখা যায় কি না, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। শ্রমবাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত কর্মী প্রেরণ চালু রাখতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো অনিয়মের চাপের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান যেন নীরব বা নিষ্ক্রিয় হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।নতুন সরকারের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন ও কার্যকর তৎপরতার ওপর। আর সেই নেগোসিয়েশনের শক্তি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর। অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানও দুর্বল হতে পারে।বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ কমিটির সভার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ধরনের বৈঠকে শ্রম নিয়োগের প্রক্রিয়া, খরচ, সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও কর্মী সুরক্ষাসহ খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এ বছর এখন পর্যন্ত যৌথ কমিটির সভা না হওয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার খুলবে কর্মীর স্বার্থে, নাকি আবারও খুলবে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের স্বার্থে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার সত্যিই কতটা ‘নতুন’।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে পৌঁছেছে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদরাসা মাঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে সকালে ডা. শফিকুর রহমান একই গ্রামের ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় মাদরাসায় আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।ডা. শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদরাসা মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তিনি হাত নেড়ে উপস্থিত মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় পৌঁছে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে তিনি সার্কিট হাউস থেকে ধুনটের উদ্দেশে রওনা হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করে পুকুরের মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি ড্রেজিং মেশিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করার পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ঘনফুট পাইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুইজনকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উপজেলার পঞ্চগ্রাম ঈদগাহ, ধর্মপুর ও মনকশাইর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযান চলাকালে মনকশাইর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন পুকুরে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলনের অপরাধে মাসুদ (৩৫), পিতা চান মিয়া, ঠিকানা তারাকান্দা, ময়মনসিংহ এবং তালেমান (২৩), পিতা মুরাদুজ্জামান, ঠিকানা দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর—দুজনকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।এ সময় দুটি স্পটে দুটি ড্রেজিং মেশিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করা হয় এবং আনুমানিক এক হাজার ঘনফুট পাইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।অভিযানটি পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির।উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধে কসবা উপজেলায় এ ধরনের ড্রেজিংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচডেতে মাঠে নামছে ইউরোপের চার বড় নাম—বার্সেলোনা, লিভারপুল, পিএসজি ও আর্সেনাল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী চার ম্যাচের মধ্যে বার্সেলোনার ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে, আর বাকি তিনটি ম্যাচের পর্দা উঠবে বুধবার দিবাগত রাত (বৃহস্পতিবার) রাত ১টায়।বার্সেলোনা বনাম ফেইনুর্ড — ম্যাচটি হবে বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসর ঘরের মাঠে শুরু করবে বার্সা। লিভারপুল বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ — ম্যাচটি হবে লিভারপুলের অ্যানফিল্ডে। সমর্থনের বিচারে এগিয়ে থাকলেও শক্তিমত্তায় সমানে সমান লড়বে আতলেতিকো। পিএসজি বনাম স্লোভান ব্রাতিস্লাভা — পিএসজি নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে খেলবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু হচ্ছে এই ম্যাচ দিয়ে।নাপোলি বনাম আর্সেনাল — ম্যাচের ভেন্যু নাপোলির স্টাদিও দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা। সফরকারী হিসেবে গেলেও বেশ শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছ গানার্সরা। বার্সেলোনা ও পিএসজি ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করছে। দল ও শক্তিমত্তার বিচারে বিনা হোঁচটেই তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তারপরও বড় মঞ্চে বেশ সতর্ক এই দুই জায়ান্ট। অন্যদিকে লিভারপুল-আতলেতিকো এবং নাপোলি-আর্সেনালের লড়াই দুটোই হতে পারে এই রাতের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ।তবে এই চারটি ম্যাচ বাদেও আরও দুইটি ম্যাচ এই রাতেই মাঠে গড়াচ্ছে। সেগুলো হলো: স্টুটগার্ড-ভাইকিং (রাত ১০.৪৫টায়) ও স্পোর্টিং-গালাতেসারে (রাত ১টায়)।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের আচরণ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ডনের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কী কারণে এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে সিআইডি।সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মজিবুর রহমানের করা ওই আবেদনে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢালিউডের রাজপুত্র বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তা আজও অমলিন। সকলের প্রিয় এই নায়কের চলে যাওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। সেই হিসেবে আজ তাঁকে ছাড়া আরও একটি বছর পার হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে সমানভাবে জায়গা করে আছে।১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।চলচ্চিত্রে আসার আগে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এই জুটিকে দেখা গেছে ১৪টি সিনেমায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনূর, শাহনাজ, সোনিয়া ও অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা।তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। ওই দিন রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি।সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তাঁর সিনেমা, অভিনয় আর অনন্য ফ্যাশন এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান আকর্ষণের। ‘স্বপ্নের নায়ক’ বাস্তবের পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও ‘অন্তরে অন্তরে’।৩০ বছর পরও তাই সালমান শাহ যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, যেখানে সময় থেমে আছে—কিন্তু ভালোবাসা ফুরায়নি।
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ মুকুট জিতেছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে ১১১ জন প্রতিযোগীকে টপকে বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব জেতেন তিনি।এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডোমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সুবাদে এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে সফল জোহাইরি একাধারে শিক্ষক, সাংবাদকর্মী, সমাজকর্মী। শনিবার তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি।এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই ডোমিনিকান সুন্দরী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
কক্সবাজারের সমুদ্রে সৈকতে মোহনীয় লুকে দেখা মিলল অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির। তিনি নিজেই সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এরপর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবেতিনি জানিয়েছেন অন্য কোনো কারণে নয় শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন চিত্রনায়িকা দীঘি। নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী।নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজ ধারণ করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ভ্লগ সিরিজ ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ উইথ চমক’-এর একটি পর্বে বেগম জিয়ার আইকনিক লুকে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সাজ, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে সম্প্রতি একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন অভিনেত্রী। ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সাজ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, “আপনারা কি আমার ‘ডিসকাভারিং বাংলাদেশ’ ব্লগ আগে দেখেন নাই? এর আগে আমি যখন মনিপুরী বা গারোদের নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাদের কস্টিউম পরেছি। আমি যখন তাঁতশিল্প নিয়ে ভিডিও করছি, তখন তাঁতের শাড়িটা পরছি। আমি যখন যে ভিডিওটা করি, তখন সেটার লুক নিই। ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা করিনি, আপনারা খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এটা আমার ভিডিও বানানোর প্যাটার্ন।”নিজের সাজ ও পোশাক দিয়ে দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাশন, আমাদের ট্র্যাডিশন ও কালচার নিয়ে স্টাডি করি। বাংলাদেশের পোশাক এমন একটা জিনিস যার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইডেন্টিটি, দেশের পরিচয় ও কালচার রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’চলতি বছর বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় এসেছিলেন চমক। রাজনীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি দেশনীতিবিদ হতে চাই। আমার জন্য রাজনীতি শব্দটা একটু আলাদা। দেশের জন্য কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরকম কিছু বড় প্ল্যাটফর্ম যদি পাই, সেখান থেকে আমার জন্য দেশের পলিসি মেকিং, দেশের অনেক পরিবর্তন আনার জায়গাটা পাওয়া সহজ হবে। এটাই আমার রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ ছিল।’বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এই মূল্যায়নটা কোনো আলাদা জায়গা দিয়ে করতে পারব না। কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ১০, কোনো জায়গায় তারা ১০ এ ০। এক কথায় তো উতর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ‘হায়দার’, ‘মহানগর’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’ ও ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ দিয়ে অল্প দিনেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং নিয়েও বেশ সরব এই অভিনেত্রী।
এ প্রজন্মের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মডেল তাসরিন ইসলাম রশনি। এবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘ফুলের বিয়ে’। এটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ।তিনি ‘মিস এভারগ্রিন বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ফ্যাশন মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে ফটোশুট ও মিউজিক ভিডিওতেও নিয়মিত কাজ করছেন এই মডেল।‘ফুলের বিয়ে’ নাটকে রশনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি ও জুনায়েদ বোগদাদী। এসকে মিডিয়া পিআর প্রযোজিত নাটকটির শুটিং এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসরিন ইসলাম রশনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো ছিল। কাজটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমার ইচ্ছা মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজ করা। এছাড়াও নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথা চলছে। মডেলিং ও অভিনয়ের সব মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাশন মডেলিং নিয়ে আমার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের পরিচিতি বাড়ানো। আমি চাই বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের মঞ্চে তুলে ধরতে। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে সব মাধ্যমে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’নাটকে অভিষেকের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান তাসরিন। সামনে ভালো গল্প ও চরিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি।
ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের সবাইকে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় পড়তে হলো হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে। আপাতদৃষ্টিতে ধকলটা শুধু আমাদেরই মনে হলেও, প্রতিদিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের ত্বককেও কম ধকল পোহাতে হয় না। গরম, ধুলাবালি আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে ঢোকা, আবার বেরিয়ে আসা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের ত্বককে।কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে, দেখতে মলিন মনে হয়, কিংবা দুপুর হওয়ার আগেই হয়ে যায় অতিরিক্ত তেলতেলে। বছরের পর বছর ধরে এর সমাধান হিসেবে পরামর্শটা ছিল খুবই সহজ, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, আর ভালোভাবে ব্যবহার করুন।কিন্তু এমন এক শহরে, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায়ই ৭০ শতাংশের ওপরে থাকে, সেখানে বারবার মুখে ঘন ক্রিম লাগানো সবসময় ভালো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, এমনটা নয়। ত্বকের আসল প্রয়োজন হলো ভারসাম্য। ইউরোপের মতো ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে ক্রিম বেশ আরামদায়ক মনে হয়, ঢাকার গরমে সেটিই হয়তো ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। বরং ঘাম আর তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে অস্বস্তি।তবুও আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ত্বকের যত্নের জন্য আমদানি করা পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। বিশেষ করে কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপিয়ান পণ্য অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু স্কিনকেয়ার সবার জন্য এক রকম নয়। এক দেশের আবহাওয়ায় যে পণ্য দারুণ কাজ করে, অন্য দেশের আবহাওয়ায় সেটি হয়তো ততটা আরামদায়ক নাও হতে পারে।আর এখানেই বাড়ছে লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের চাহিদা। এখন ভালো ময়েশ্চারাইজার মানেই শুধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা নয়, বরং আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। এটি কি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে? মুখে কি আঠালো ভাব থাকবে? এর ওপর সানস্ক্রিন বা মেকআপ দিলে কি মুখ তেলতেলে লাগবে?কাস্টমারদের এই প্রশ্নগুলো মাথায় রেখে দেশের আবহাওয়ায় আসলে কোন ধরনের ফর্মুলা ও উপাদান ভালো কাজ করবে, সেদিকেও এখন নজর দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। আর এর ফলে দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ।যেমন ধরুন, রাজকন্যার লাইট ময়েশ্চারাইজার। নামের মতোই এর টেক্সচারও হালকা, অনেকটা জেলের মতো। কোনো চিটচিটে অনুভূতি ছাড়াই আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি গ্লো। এতে রয়েছে এশিয়ান স্কিনকেয়ারে পরিচিত কিছু উপাদান, যেমন রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট। রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও ত্বক নরম রাখতে ব্যবহৃত হয়, আর লিকোরিস সাধারণত ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করা হয়।হালকা, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং মাত্র ২৯৫ টাকা দামের কারণে বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ায়, তরুণদের মধ্যে এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ, ভালো ময়েশ্চারাইজার হলো সেটিই, যা ত্বককে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিয়ে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ব্যবহারের পরও চিটচিটে অনুভূতি দেবে না।
ঢাকায় আয়োজিত হলো বাংলাদেশের অন্যতম কেমিক্যাল ও শিল্পজাত কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অ্যানুয়াল পার্টনার সামিট ‘রেডমিন হরাইজন’। রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। আয়োজনে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ডিস্ট্রিবিউটররা অংশগ্রহণ করেন। রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে। দ্রুত বর্ধনশীল ম্যানুফ্যাকচারার, সাপ্লায়ার, ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান উচ্চমানের কেমিক্যাল, অ্যাডহেসিভ ও থিনার পণ্যের পাশাপাশি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল সলিউশন, প্রিন্টিং-প্যাকেজিং ইঙ্ক, হট মেল্ট গ্লু, হাইজিন গ্লু, টয়েজ, বেবি প্রোডাক্ট ও অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশের কেমিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন খাতকে আরও উন্নত, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে তোলাও এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশীয়ভাবে মানসম্মত ও উদ্ভাবনী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী শিল্পখাত গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রেজভী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, পরিচালক রাইসা সিগমা হিমা, পরিচালক রিফাহ তাসনিয়া স্বর্ণা ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. জহুরুল হক সহ সারা দেশ থেকে আগত ডিস্ট্রিবিউটররা অংশ নেন। এসময়, অতিথিদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা করেন সংগীত শিল্পী সাবরিনা এহসান পড়শী। এ বিষয়ে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি বলেন, “রেডমিনের মূল চালিকাশক্তি হলো উদ্ভাবন ও গুনগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন। আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিমের সহায়তায়, উৎপাদনগত বিভিন্ন জটিলতার ক্ষেত্রে আমরা দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান প্রদান সক্ষম। রেডমিন, আমাদের ক্রেতাদের আধুনিক জীবনমান নিশ্চিতের লক্ষ্যে আরও বুদ্ধিদীপ্ত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমাদের বিশ্বাস, এই সামিটের মাধ্যমে আমরা বহুমুখী শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে শিল্পখাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।”দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এ আয়োজন, শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং কেমিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মো. জামাল হোসেন (জামাল মিয়া)। এ ঘটনায় তার দোকানের এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল মিয়া উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজেই দোকানটি পরিচালনার পাশাপাশি একজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাউথ আফ্রিকার স্থানীয় সময় একদল সন্ত্রাসী তার দোকানে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই জামাল হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় দোকানে থাকা এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।জামাল হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী, মা খুকুমণি, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং তিন সন্তান রেখে গেছেন। তার সন্তানদের মধ্যে ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়ার ৩ বছর এবং সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর। এছাড়া তিনি তিন ভাই ও এক বোনসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী বলেন, পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য তাঁর ছেলে বিদেশে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।তিনি দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার যেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাফনসহ প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সাউথ আফ্রিকার প্রচলিত আইনে তাঁর ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে সিপাই কান্দি গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। ছোট্ট তিন সন্তান বাবাকে হারিয়ে নির্বাক। স্বজনদের প্রশ্ন—যে বাবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, সেই বাবাই এখন আর কোনোদিন সন্তানদের কাছে ফিরে আসবেন না।এদিকে নিহত জামাল হোসেনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বে ওয়েভ হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি. এর উদ্যোগে রাজধানীর হোটেল ৭১ এ সফটওয়্যার উদ্বোধন, কর্পোরেট মিলনমেলা ও ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, প্রজেক্ট ইউনিট ওনার, কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বে ওয়েভ হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি, এর পরিচালক হোসাইন আল মামুনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে পোগ্রাম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বে ওয়েভের বর্তমান কার্যক্রম, প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন করা হয়।বে ওয়েভ হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি.-এর সিইও মো. ইকরাম বলেন, “বে ওয়েভ শুধু একটি হোটেল প্রকল্প নয়; এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের একটি প্ল্যাটফর্ম। নতুন সফটওয়্যারটি আমাদের কার্যক্রমকে আরও জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগকারীবান্ধব করবে।”প্রজেক্ট ও কোম্পানির অগ্রগতি তুলে ধরে নাজমুল হাসান রাজু বলেন, “আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ এগিয়ে নিচ্ছি। বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত তথ্য প্রদান এবং তাঁদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখাই আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচজন শেয়ারহোল্ডারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়। উপস্থিত কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার ও অতিথিও তাঁদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন , শাহনাজ খাতুন শম্পা ও ইবনুল বিন হোসাইন শাকিল।ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বুফে ডিনারের মাধ্যমে আয়োজনটি শেষ হয়।বে ওয়েভ হোটেল এন্ড রিসোর্ট লি. কক্সবাজারের কলাতলীতে পরিকল্পিত একটি শরিয়াহসম্মত, শেয়ারভিত্তিক হোটেল ও রিসোর্ট প্রকল্প। স্থানীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ অংশীদারত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘হাইপ আর ‘ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আপা (শেখ হাসিনা) না কি ডিসেম্বরে লীগের (আওয়ামী লীগ) পলাতকদের দেশে ফিরতে বলবে না। মূলত, তাদেরকে বললেও কেউ আসতো না।’তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট কীভাবে পরিবারের সবার পালানো নিশ্চিত করে বাকিদের ফেলে দিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন এটা কোনোমতে জান বাঁচিয়ে পালানো নিষিদ্ধ লীগের নেতাদের ভালো মতোই মনে আছে।’এনসিপির এ নেতার মতে, ‘ডিসেম্বরের (শেখ হাসিনার দেশে ফেরা) হাইপ আর ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ!’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা শেখ হাসিনা সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি কোনো নির্দেশনা কাউকে দিচ্ছি না। তবে দেশে-বিদেশে আমাদের সমর্থক-নেতাকর্মী যারা যেখানেই আছেন তারা তাদের ইচ্ছা পোষণ করছে। তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারাও আমার সঙ্গে যেতে চায়। আমি নির্দেশনা দিয়ে কাউকে তো বিপদে ফেলতে পারি না, কিন্তু যারা মনে করবেন যেতে চায়, তারা যাবে।