জার্মানি গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সূত্র জানায়, ফয়েজ আহমদ এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (ইকে-৫৮৩) দুবাই হয়ে জার্মানি গেছেন।এ ছাড়া বিশেষ সহকারী তৈয়বের একজন সহযোগীও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফয়েজ আহমদ ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ দুই বিভাগই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আজ তিনি চলে গেছেন।এ বিষয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব একটি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘৯ ও ১০ তারিখে অফিস থেকে বিদায় নিয়েছি। ফরমালি মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।’ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিযুক্ত করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ইতিবাচক ধারার রাজনীতির পরিবর্তন আনতে জামায়াত ইসলামির আমির শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টায় জামায়াতে আমির আর ৮টা নাহিদের বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যানের।বিএনপির মিডিয়া উইং এর সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিবাচক ধারার রাজনীতি আগামীকাল থেকে সূচনা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় ৭টায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বাসায় যাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর রাত ৮টার দিকে তিনি বাড্ডায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন।
সারাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে আগামী সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এদিন আসরের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে মিছিলটি বের হবে।শনিবার সন্ধ্যায় ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।ওই সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন পরবর্তী দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের লোকদের বহু বাসা-বাড়ি, পরিবারের সদস্য ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বর্বর হামলার খবর পাওয়া গেছে।ভোটের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ছাড়াও ভোটের রাতেই অন্তত ২১টি সহিংসতার তথ্য তুলে ধরেছে জামায়াত। নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসতে যাওয়া বিএনপির লোকেরাই এসব সহিংসতা ঘটাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব (চুক্তিভিত্তিক) এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।এর আগে, এদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তির মেয়াদ বাতিল করে সরকার।
ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ দেখা যাবে। এদিকে, ইরানে ওপর চাপ তৈরি করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে পেন্টাগন।ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্ক নিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার মাঝেই ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের এই হুঁশিয়ারি এসেছে।এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ওই বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে। তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘‘লোকজন আছে।’’নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; পা, হাত, মুখও হারিয়েছে মানুষ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগোচ্ছি।ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং ইরানি জনগণের প্রতি সরকারের দমন-পীড়নের মতো বিভিন্ন ইস্যুকে পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনাতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’। তিনি বলেন, যদি হামলা চালানো হয়, তাহলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে। কিন্তু ইরানের হাতে যা বাকি আছে, তার সবটুকুই ধ্বংস করা হবে।যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। তবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে নতুন ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার হলো জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি মোতায়েন করা ছিল। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানেও অংশ নেয় এই রণতরী। বর্তমানে এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।শুক্রবার সকালের দিকে ট্রাম্প বলেছেন, যদি চুক্তি না হয়, তখন আমাদের এটি প্রয়োজন...। দরকার হলে আমরা প্রস্তুত রাখব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই ক্যারিয়ারটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সামনে রয়েছে কয়েকদিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো সংসদের উচ্চ কক্ষ গঠন হবে। রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ গঠনসহ নানা প্রক্রিয়া। চলছে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন প্রস্তুতের কার্যক্রমও। এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বাসভবনের স্থান। গত বছরের ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। স্থাপত্য অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় এবং এসএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কমিটিতে আছেন। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বানানোর যে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকরা। দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে-সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণভবন সংলগ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন প্রস্তুত হবে। তার আগ পর্যন্ত যমুনায় (বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। শপথের পরপরই তিনি সেখানে উঠবেন। এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। এছাড়া রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরি হবে। সেটিই হবে চূড়ান্ত বাসভবন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব আসনে ভোটের ফলাফল স্থগিত ও পুনর্গণনাসহ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান তিনি।এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন আশা করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সেই নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রেই কারচুপি-জালিয়াতি হয়েছে এবং ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হয়েছে। এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যা আমরা আগেও বলেছি।জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩০টি আসনে এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা দেখেছি। যেখানে ভোট জালিয়াতি হয়েছে, কারচুপি হয়েছে। যেসব কাগজ (রেজাল্ট শিট) দেয়া হয়েছে, সেখানে ওভাররাইটিং (কাটাকাটি) হয়েছে, ঘষামাজা হয়েছে। আমরা নির্বাচনের দিনও এসব বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। কিছু আসনে ফল দ্রুত দেয়া হলেও ইচ্ছে করেই কিছু আসনে ফলাফল দেয়া হয়নি। যেমন ঢাকার কয়েকটি আসনে আমরা ভোর ৫টায় গিয়ে নির্বাচনের রেজাল্ট পেয়েছি।তিনি বলেন, যেসব আসনগুলোয় আমরা এ ধরনের নির্বাচনি অব্যবস্থাপনা দেখেছি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে আচরণবিধি সেটি মানা হয়নি, এসব আসনের বিষয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং অফিসার অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদের জানিয়েছি। ভোট পুনর্গণনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আমরা আহ্বান জানিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকেও জানাব এবং এই ব্যাপারে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আছে এবং আমরা সেসব পদক্ষেপ নেবো।নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাদের ওপর, আমাদের সমর্থক, এজেন্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে মহিলাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এমন শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা সবগুলোর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করছি। গণমাধ্যমেও এসব তথ্য উঠে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুবরণের ঘটনাও ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন, পরে মৃত্যুবরণ করেছেন এমনকিছু ঘটনাও ঘটেছে।এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মৃত্যু ও আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশে সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন তিনি।এছাড়া ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ মান্নান অভিযোগ করেন, তার আসনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরশাদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ নারী 'এ' দল উদীয়মান এশিয়া কাপে দারুণ শুরু করেছে। ব্যাঙ্ককের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা 'এ' দলের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে তারা ৪ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৫ রানে অলআউট হয়। ওপেনিং জুটিতে ইশমা তানজিম ও শামীমা সুলতানা ভালো সূচনা এনে দেন, পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান তোলেন। ইশমা তানজিম ২৫ বলে ৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, আর শারমিন সুলতানা করেন ২৯ রান। শামীমা সুলতানা ১৭ ও রুবাইয়া হায়দার ১১ রান যোগ করলেও মিডল অর্ডার ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হন। শেষ ১৪ ওভারে মাত্র ৬৭ রান যোগ করে ৯ উইকেট হারায় দল।জবাবে শ্রীলঙ্কা শুরুতে ভালোই এগোচ্ছিল। প্রথম ৮ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তুলে হানসিমা করুনারত্নে দলকে জয়ের পথেই রাখেন। কিন্তু নিয়মিত উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে যায় তারা। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর পরের দুই উইকেট মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে হারায় লঙ্কানরা। এরপর আমা কাঞ্চনা ও নিশানসালা ষষ্ঠ উইকেটে ৩০ রানের জুটি গড়ে লড়াই চালিয়ে যান। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য ২১ রান দরকার ছিল, কিন্তু তারা ১৬ রানের বেশি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১১১ রানে থামে শ্রীলঙ্কা।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সানজিদা আক্তার মেঘলা ৩ উইকেট নিয়ে সেরা পারফর্মার হন। ফাহিমা খাতুন ও লতা মন্ডল দুজনই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় না জড়াতে নিজ দলের নেতাকর্মীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান এই আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে, সেটি যেন প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধে রূপ না নেয়, সবার প্রতি এই আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেবো না। কোনো ধরনের সহিংসতায় অংশ নেওয়া যাবে না। তারেক রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী মানুষ বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এ বিজয় বাংলাদেশের, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রকামী মানুষের। আমি এজন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলনসহ যেসব দল অংশ নিয়েছিল, সব দলকে অভিনন্দন এবং সাধুবাদ জানান তারেক রহমান।অন্যদিকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্যদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের নানা বিষয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ এসময় অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ দলের অন্যান্য নেতা এবং দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।১৪ ফেব্রুয়ারি রোববার এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমির বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
দেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে এ শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম।শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
সারাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে আগামী সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এদিন আসরের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে মিছিলটি বের হবে।শনিবার সন্ধ্যায় ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।ওই সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন পরবর্তী দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের লোকদের বহু বাসা-বাড়ি, পরিবারের সদস্য ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বর্বর হামলার খবর পাওয়া গেছে।ভোটের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ছাড়াও ভোটের রাতেই অন্তত ২১টি সহিংসতার তথ্য তুলে ধরেছে জামায়াত। নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসতে যাওয়া বিএনপির লোকেরাই এসব সহিংসতা ঘটাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
নির্বাচন পরবর্তীতে এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও একটি বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফরিদপুরের সালথা এবং বোয়ালমারী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে একাধিক বসতবাড়িতে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সালথা উপজেলা যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকাবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সালথা ও বোলয়ামারী উপজেলার সীমান্তে ময়েনদিয়া বাজারের অবস্থান। বাজারটি এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড়। ওই বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সালথার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কামাল আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে মো. জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সঙ্গে বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরোধ চলছে প্রায় একযুগ ধরে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান স্বাক্ষী হন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। এরপর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মান্নান ও তার সমর্থকরা। এতে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায় এলাকা ছেড়ে চলে যান বাচ্চুর ছেলে জিহাদ মিয়া ও তার পরিবার।জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিহাদ মিয়া এলাকায় এসে ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে মান্নান চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করেন জিহাদ মিয়ার সমর্থকরা। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্নান চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেন। দেশব্যাপী বিএনপির বিজয় হলে মান্নান বাড়ি আসেন। এরপর এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়।উত্তেজনার মধ্যে শনিবার সকালে জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সমর্থক ও আব্দুল মান্নানের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে স্থানীয় খারদিয়া, নটখোলা, ময়েনদিয়া ও পরমেশ্বর্দী এলাকার হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষ। এসময় অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুটি বাড়িও। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সালথা আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, নির্বাচনের পরদিন থেকে সালথার খারদিয়া ও বোয়ালমারী ময়েনদিয়া এলাকায় বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল। কিন্তু শনিবার সকালে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আশঙ্কা করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো এবং আটকৃত আসামিরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সালথা থানায় রয়েছে। এলাকার পরিবেশ এখন স্বাভাবিক। ঘটনাস্থলের আশপাশে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অবস্থান করছে। সালথা উপজেলায় যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও অরাজকতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুষ্কৃতিকারীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ নারী 'এ' দল উদীয়মান এশিয়া কাপে দারুণ শুরু করেছে। ব্যাঙ্ককের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা 'এ' দলের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে তারা ৪ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৫ রানে অলআউট হয়। ওপেনিং জুটিতে ইশমা তানজিম ও শামীমা সুলতানা ভালো সূচনা এনে দেন, পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান তোলেন। ইশমা তানজিম ২৫ বলে ৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, আর শারমিন সুলতানা করেন ২৯ রান। শামীমা সুলতানা ১৭ ও রুবাইয়া হায়দার ১১ রান যোগ করলেও মিডল অর্ডার ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হন। শেষ ১৪ ওভারে মাত্র ৬৭ রান যোগ করে ৯ উইকেট হারায় দল।জবাবে শ্রীলঙ্কা শুরুতে ভালোই এগোচ্ছিল। প্রথম ৮ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তুলে হানসিমা করুনারত্নে দলকে জয়ের পথেই রাখেন। কিন্তু নিয়মিত উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে যায় তারা। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর পরের দুই উইকেট মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে হারায় লঙ্কানরা। এরপর আমা কাঞ্চনা ও নিশানসালা ষষ্ঠ উইকেটে ৩০ রানের জুটি গড়ে লড়াই চালিয়ে যান। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য ২১ রান দরকার ছিল, কিন্তু তারা ১৬ রানের বেশি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১১১ রানে থামে শ্রীলঙ্কা।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সানজিদা আক্তার মেঘলা ৩ উইকেট নিয়ে সেরা পারফর্মার হন। ফাহিমা খাতুন ও লতা মন্ডল দুজনই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আনন্দচিত্তে ভোট দিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন তিনি।ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বেবী নাজনীন। তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম। এটাই তো চেয়েছিলাম। ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই।”দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটাও নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহ যদি চান, তবে হয়তো হবে।”ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ধানের শীষের জয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ভোটে অংশ নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটে অংশ নিচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকা, অভিনয় শিল্পী, নির্মাতারাও। নিজের ভোটটি দিয়ে এসে একটি ভিডিও বার্তায় কথা বললেন নির্মাতা আশফাক নিপুন।১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মহানগর খ্যাত নির্মাতা জানান, ভোট দেওয়া শেষ। সকাল ৭:৩০ মিনিটে এখানে এসেছি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে ৮:১০ মিনিটে আমার পালা এলো। মনোরম আবহাওয়া, উৎসাহী ভোটার আর আন্তরিক কর্মকর্তাদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত- সবাই ভোট দিন। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তায় নিপুন বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে হোক।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সারা দেশে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে, তখনই ন্যান্সি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়ে দিলেন, তিনি না ভোটের পক্ষে। যদি নেটিজেনদের একাংশ তাকে তীব্র তোপের মুখে ফেলেছেন। তবে এসবে একেবারে নজর দিচ্ছেন না এই গায়িকা। জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন ন্যান্সি। বিগত সময় তার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক কনসার্ট তার বাতিল হয়েছে।তবুও ভেঙে পড়েননি। নতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরনতুন সরকারের কাছে প্রধান দুই দাবি অপুরশোবিজ তারকাদের সবার যখন নানা সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিল, তখন ন্যান্সি বলেছিলেন, শিল্পীদের এত এমপি-মন্ত্রী হওয়ার শখ কেন? কী আছে সেখানে? কত টাকা বেতন পায় এমপিরা? গান অথবা অভিনয় করে কি যথেষ্ট সম্মানী আসে না যে এমপি হওয়ার জন্য লোভ করতে হবে? যারা এগুলো করে এদের ধরা উচিত। আমার মধ্যে এসব চিন্তা একেবারেই নেই। নিজে নির্বাচন করবেন কি না এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, আমি এখনই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না। তবে যে দল আমার ভালো লাগে, আমি তো চাইবই তারা ক্ষমতায় আসুক। তবে সব কিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের জনগণ। জনগণের কাছে আমার চাওয়া এত দিন যারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করে গুম, দুর্নীতি এবং কিছু বললেই চরিত্র নিয়ে কথা বলত, তাদের ক্ষমতায় আনবে কি না মাথায় রাখতে। আর কোনো তারকা দেখলেই নমিনেশন দেবেন না। যদি সেই তারকা রাজনীতির লম্বা পথ পাড়ি দিতে পারে তাহলে তাকে সেই টাইমে দেওয়া উচিত। তারপর তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মিত ‘মাস্টার’ চলচ্চিত্রটি সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে ছবিটি। উৎসবের শুরু থেকেই সিনেমার নির্মাতা সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।রটারড্যামের অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানান অভিনেত্রী বাঁধন। পুরস্কার প্রাপ্তির মুহূর্তটিকে তিনি বর্ণনা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। বাঁধন বললেন, সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা খুব সাধারণভাবে গিয়েছিলাম; ভেবেছিলাম অন্য সবাই পুরস্কার পাবে আর আমরা হাততালি দেব। সেই হাততালি যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, সেটা খুব আনন্দের ছিল।পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত একজন অত্যন্ত সৎ নির্মাতা। আজ তার সেই সততারই প্রতিফলন ঘটেছে এই অর্জনে।প্রবাসীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ বাঁধন জানান, সাপ্তাহিক কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ডাচ দর্শকদের সিনেমা দেখার আগ্রহ এবং প্রশংসা অভিনেত্রীকে অভিভূত করেছে। এবারের রটারড্যাম উৎসবে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য নিয়ে বাঁধন বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা শক্ত একটি জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। রেহেনা থেকে শুরু করে যেসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, সবগুলোই বাংলাদেশের সিনেমাকে সমৃদ্ধ করছে। আর এটা খুব সম্মানের বিষয়, এবার রটারড্যামে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল। মনে হয়েছে, ফেস্টিভ্যালটা আমাদের। একই সঙ্গে আমরা তিনটি টিম নেদারল্যান্ডসে এসেছি। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে গ্র্যামি-মনোনীত জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড মারা গেছেন। ৪৭ বছরে তার জীবনাবসান ঘটলো।৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ব্র্যাড স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানান ব্র্যাড আর্নল্ড। তখন তিনি জানান, তার শরীরে স্টেজ–৪ ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানসারের খবর জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি ভয় পাই না। সত্যিই ভয় পাচ্ছি না। সুযোগ পেলে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তার অসুস্থতার কারণে ওই সময় ব্যান্ডটির নির্ধারিত একাধিক ট্যুর বাতিল করা হয়।১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অ্যালবামটি ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়।এখন পর্যন্ত ব্যান্ডটি মোট ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ ও ‘লুজার’ এই গানগুলো রক সংগীতে তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি।
ঈদুল আজহায় আসছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’। এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা। দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের কোনো নায়িকা থাকতে পারেন-এমনটাই শোনা যাচ্ছে।সিনেমা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় নায়িকার চরিত্রের জন্য ইতোমধ্যে পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছেন মিথিলা। চরিত্রটি তার পছন্দও হয়েছে। তবে ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে কে থাকছেন, তা গোপন রাখা হয়েছে; হতে পারে পাকিস্তানের শীর্ষ কোনো অভিনেত্রীকে রাখা হবে সে স্থানে।বিষয়টি এখন পর্যন্ত গুঞ্জনে মোড়া থাকলেও কারও সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনই নাম প্রকাশ করতে চাইছে না নির্মাতা পক্ষ। এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো সংবাদ মাধ্যমে জানান, নায়িকা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, আমরা দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব। চূড়ান্ত হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এ প্রসঙ্গে চুপ রয়েছেন তানজিয়া মিথিলাও। বর্তমানে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাকিব খান। সেই ছবির কাজ শেষ করে দুই সপ্তাহের বিরতি নেবেন তিনি। এরপরই ‘রকস্টার’-এর শুটিং শুরু করার কথা রয়েছে ঢালিউড কিংয়ের।
আমার ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, সেজন্য ক্ষমা করবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আমি আগে কখনো কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না। সরকার গঠনের পরপরই পেশাগত জীবনে ফিরে যাব। আবারও সেই নিরিবিলি জীবনে ফিরে যেতে চাই। তবে একটি শেষ অনুরোধ আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তালা বরকত দিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। কোনো বিষয়ে যখনই পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। যত কিছু সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি প্রধান উপদেষ্টা তার নির্দেশনায় যে আমি, আমরা কাজ করতে পেরেছি এবং আমরা যখনই কোনো বিষয়ে উনার নির্দেশনা বা উনার গাইডেন্স কামনা করেছি উনি সকল সময়ে অসম্ভব দরদ দিয়ে এবং বুদ্ধিমত্তাকে মিলিয়ে যে ধরনের নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন, সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করেছি।শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।ছোট খামারি ও বড় উদ্যোক্তা– উভয় পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত রেখে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির পথে এগিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো। ভবিষ্যতেও তার উত্তরসূরিরা একই ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।এছাড়া, আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের অবহেলার কারণে পুলিশকে অবহিত করতে দেরি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করেননি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘একলা খেলে যম নেয়, দশজনে খেলে ধর্ম রয়।’ এ প্রবাদের আক্ষরিক অর্থ যমরাজ এসে ধরে নিয়ে যাওয়া না। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি অত্যন্ত গভীর। প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো, দশজনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে শরীর ও মন উভয়ই ‘ধর্ম’ অর্থাৎ সুশৃঙ্খল থাকে। আবার দশজন মানে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সংখ্যার দশ নয়, এর অর্থ অনেকে মিলে।খেয়াল করে দেখবেন, বয়স্ক মানুষেরা একা খেতে বসার পক্ষে নন। দাদি-নানিরা সব সময়ই বলে থাকেন, একা একা বসে খাচ্ছিস কেন, সবার সঙ্গে বসে খা! এই একা খেতে বসার অভ্যাস কেবল একাকিত্ব বাড়ায় না। বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তোলে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, একা খেতে বসার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে অন্তত দুবার একা বসে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সংমিশ্রণে হওয়া মেটাবলিক সিনড্রোম নামে একটি রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, একা খেতে বসলে পুরুষদের স্থূলতার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ২৪টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বলছে, একা খেতে বসলে মানুষ পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন প্রক্রিয়াজাত বা রেডি মিল বেশি পছন্দ করে। এতে শরীরে প্রোটিন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দেয়।মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবএকা খাওয়া কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৮ হাজারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক অসুস্থতার পর একা খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসুখী করে তোলে। অনেকে মনে করেন, একা খেতে বসা মানেই স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজিস্ট ড. স্টিফানি কাসিওপ্পোর মতে, মানুষ যদি খাওয়ার সময় নিজেকে একা মনে করে, তবে তার শরীর বেশি চর্বিযুক্ত ক্যালরি শোষণ করে।বার্ধক্য ও একাকী ভোজনপ্রবীণদের জন্য একা খাওয়া এক নীরব ঘাতক। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা যখন একা খান, তখন তাঁরা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা ফ্রেইল হয়ে পড়েন। একা খাওয়ার ফলে বয়স্কদের প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণ কমে যায়। তা নেমে আসে প্রায় ৫৮ গ্রাম থেকে ৫১ গ্রামে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি অস্টিওপোরোসিস বা হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং পুষ্টিহীনতা উভয়ই মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে, যা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কের আয়তনও সংকুচিত হতে পারে।কেন একা খেতে বসা ক্ষতিকরগবেষকেরা এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:উদ্দীপনার অভাব: যখন কেউ একা খান, তখন তাঁর ভালো কিছু রান্না করার আগ্রহ কমে যায়।খাওয়ার গতি: দলগতভাবে খেলে মানুষ গল্প করে ধীরে ধীরে খায়। এ বিষয়টি হজমে সাহায্য করে। একা খেলে মানুষ হয় খুব দ্রুত খায় নতুবা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে।ইগো ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ওজনের মানুষ অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে অন্যদের সামনে খেতে চান না। এটা তাঁদের আরও বেশি একা খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।খাবার কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপায়। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া বা মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস ম্যাগাজিন, ডেইলি মেইল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের প্রত্যাশা করেছেন বিজয়ীদের কাছে জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ প্রত্যাশার কথা বলেন তিনি।পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, নির্বাচনে বিজয়ী এবং বিজিত— উভয় পক্ষকে অভিনন্দন। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের শক্তি বিভাজনে নয়, ঐক্যে।তিনি লেখেন, যাদের কাঁধে ইতিমধ্যেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে, তারা ইসলামিক মূল্যবোধকে ধারণ করে— ন্যায়, ইনসাফ এবং সুশাসনের বাংলাদেশ উপহার দেবেন, সেই প্রত্যাশা রাখি।তার দেওয়া পোস্টের কমেন্টে আজহারী লেখেন, বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। বিজয়ী দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আর যারা বিজয়ী হতে পারেননি, তাদের প্রতিও শুভকামনা।মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।তিনি আরও লেখেন, মনে রাখতে হবে— নেতৃত্ব স্রেফ কোনো সম্মান নয়; এটি একটি আমানত। বিজয় এবং সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকতেন জবাবদিহিতার ভয়ে। কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই, বিজয় যেন কারো অন্তরে দাম্ভিকতা না আনে; বরং বিনয়, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করে। দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এগোয় ঐক্যে, পিছিয়ে পড়ে বিভাজনে।