বিএনপি জোট সমর্থিত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।রোববার (১৬ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই করেন নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।বিস্তারিত আসছে...
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।তাদের এই মনোনয়নপত্র রোববার (১৬ আগস্ট) যাচাই-বাছাই করছে ইসি। এরই প্রেক্ষিতে ১১ দলীয় জোট থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে এ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে ইসি। এরপর বৈধ প্রার্থীরা আগামী ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টার মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।এবার রাষ্ট্রপতি পদে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিএনপি একটি এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য দুটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/ এম পি এন্ড ডি জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আত্মীয়ের মাধ্যমে নিজ দপ্তরে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অর্জিত কালো টাকার বলে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার জন্যে সাংবাদিকদের হামলা-মামলার হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।২৭ এপ্রিল-২০২৬ তারিখে ধানমন্ডি নিবাসী এলাহী নেওয়াজ খান কর্তৃক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বরাবর দায়েরকৃত এক অভিযোগ পত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ফিনানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।উত্থাপিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান এর ঢাকা শহরে রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট। রয়েছে প্রাইভেট গাড়ি। গ্রামের বাড়িতে রয়েছে বিলাশবহুল বাংলো ও খামারবাড়ি। নিজের ও পরিবারের সদ্যস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর। তার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মো. আলমগীর খান ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে ব্যাংক ব্যালেন্স ও সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা মানিলন্ডারিং প্রক্রিয়ায় কানাডায় পাচার করে; সেখানে বাড়ি ক্রয় করেছেন এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।এছাড়া, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান ও তার পরিবারের সদস্যরা অর্জিত বৈধ-অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত তথ্য আয়কর ফাইলে গোপন করে নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের ই/এম ডিভিশন দুর্নীতি, অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়েছেন ঢাকা জোনের সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর খান। সিসি ক্যামেরা না লাগিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গাড়ি চালকের বেতন বাবদ ৮৭ লক্ষ টাকা অপচয়, জনবল থাকা সত্ত্বেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেখিয়ে অর্থ লুটপাট এবং অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মোঃ আলমগীর খান। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় কোনো সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছে ই/ত্রম বিভাগ-৬। অপরদিকে ই/এম বিভাগ-৮ দুটি গাড়ির বিপরীতে ৩১ জন চালকের পেছনে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ৮৭ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ সালের অডিট রিপোর্টে এই অনিয়ম কর্তৃপক্ষের নজরে এলেও গণপূর্ত অধিদপ্তর কোন এক অজানা কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৬ ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয় ৩টি ১৬ চ্যানেল বিশিষ্ট ডিডিআর, ১২টি পিটিডোর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ৩টি ডিসপ্লে মনিটর, ১০টি ডে নাইট ভিশন ক্যামেরাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মালামাল চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য মাত্র দুদিনে একজন ঠিকাদারকে তিনটি কার্যাদেশ দেয়। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর পত্র স্মারক নং- ৩৫০২ (তারিখ; ১৪-০৬-২০১৬) এবং স্মারক নং-৩৫০৭ ও ৩৫০৮ (তারিখ:১৫- ০৬-২০১৬)- এর মাধ্যমে চুক্তি মোতাবেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করে। চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হলেও কাজ গুলো আজও সমাপ্ত হয়নি। একই বছরের ২০ অক্টোবর অডিট বিভাগের কর্মকর্তারা সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সরেজমিন গিয়ে দেখতে পান, সিসি ক্যামেরাগুলো ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত কারিগরি লোক থাকার পরও যন্ত্রগুলো কাজে আসছে না অথচ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বলে অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। নথি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অডিট রিপোর্ট বিশ্লেষণে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল অনিয়ম নয়, বরং একটি সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের ভয়াবহ নজির। আর লুটপাটের নেতৃত্বে রয়েছেন মোঃ আলমগীর খান।ই/এম বিভাগ-৮ এ সরকারি মালিকানাধীন মাত্র দুটি গাড়ি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অথচ সরকারি নথিতে নিয়মিতভাবে ৩১ জন চালকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। শুধু এই একটি খাতেই বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব তথাকথিত চালকের কোনো বাস্তব উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ নামই কাগজে-কলমে সৃষ্টি করা। অর্থাৎ, ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের পকেটে যাচ্ছে। বিভাগের অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পর্যাপ্ত স্থায়ী জনবল থাকার পরও নিয়ম বহির্ভূতভাবে দৈনিক মজুরি, চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী জনবল দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়েছে। এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চক্র। এখানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারী, হিসাব শাখা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ম্যানেজ করেই এই লুটপাট চলছে। অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত একাধিক অডিট রিপোর্টে এসব আর্থিক অসঙ্গতি, অযৌক্তিক ব্যয় ও নথিভিত্তিক গরমিল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও রহস্যজনক কারণে এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে মো. আলমগীর খান এর হোয়াটসএ্যাপে অভিযোগপত্র সম্বলিত বার্তা প্রদান করা হলেও তিনি কোন রেসপন্স করেন নি। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর হোয়াটসএ্যাপে অভিযোগপত্র পাঠিয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে;তিনিও কোন মন্তব্য করেন নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৭ জনে। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৭৩০ জন।আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৯, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৭, খুলনা বিভাগে ১২৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৭৩ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে ৭ হাজার ৮৬৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ১৩ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাহুগ্রাস থেকে দেশ রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন, অকুতোভয় বীর সিপাহসালার। একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান' জাতি গভীর শ্রদ্ধায় চিরকাল স্মরণ রাখবে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এবং মেঘনা উপজেলায় পৃথক দুটি মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড.খন্দকার মারুফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে নারী শিক্ষার প্রসার,গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মজবুত অর্থনীতি ও দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। '৮২ সাল থেকে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন ভুমিকা তাঁকে 'দেশনেত্রী' উপাধিতে ভূষিত করেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের চাপের মুখে তিনি কখনও আপোষ করেননি, কারও কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর এই আপোষহীন দৃঢ় সংকল্প বেগম জিয়াকে বাংলাদেশ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের জেল-জুলুম, নিপীড়ন উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নির্ভীক ও সদা জাগ্রত। দেশের আপামর জনগণের কাছে তিনি হয়েছেন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও নন্দিত। স্বীকৃতি পেয়েছেন 'গণতন্ত্রের মাতা' হিসাবে। আর বিএনপি ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের তীব্রতায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে হয়েছেন- গণধিকৃত, নিন্দিত।ড.খন্দকার মারুফ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের উপরে দাঁড়িয়ে তিনি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আগামী দিনে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ শির উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা হবো উন্নয়নের রোল মডেল।ড.খন্দকার মারুফ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ৬ মাসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছেন। এটি এখন জনগণের কাছে প্রমাণিত যে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। ড.খন্দকার মারুফ হোসেন দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। দাউদকান্দি সদরে 'মারুফ ভিলা' প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দোয়া অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার এবং মেঘনায় ভাওরখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। এইসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক,দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহবায়ক দিলারা শিরীন, যুবদল নেতা ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া,শরীফ চৌধুরী,শাহ্ আলম সরকার ও রোমান খন্দকার প্রমুখ।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে পর্যায়ক্রমে ফেরত নিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রত্যাবাসন শুরু হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। খবর এপি।শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর শুরু হওয়া এই রোহিঙ্গা সংকট ৯ বছরে পদার্পণ করার মুখে এই বিবৃতি এলো।বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জন শরণার্থীর তথ্য চূড়ান্তভাবে যাচাই করে মিয়ানমার। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের নিবন্ধিত অধিবাসী ছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেপিদো।মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানায়, ২০১৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে ২০২১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে আরাকান আর্মির সাথে সামরিক বাহিনীর তীব্র সশস্ত্র সংঘাত বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে নিবন্ধিত ৩ লাখের বেশি নাগরিককে ফেরত নিতে ঢাকার সাথে আলোচনা চালু রাখা হবে।বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন। টানা শরণার্থী জীবনের হতাশা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরাতে সমঝোতার কথা উল্লেখ করলেও, মিয়ানমার জানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষেই কেবল এই নিবন্ধিত অধিবাসীদের ফেরত নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় আমির হামজার গাড়ি। পাশাপাশি হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এমপি আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এ সমাবেশ স্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরছিলেন। এ সময় সমাবেশ স্থলের কাছাকাছি আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে আমির হামজার সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় আমির হামজার গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়।এ ঘটনার পর গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে মাগরিবের নামাজ চলাকালে আমির হামজার বাড়ি থেকে তার সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়। পরে আমির হামজার সংঘবদ্ধ সমর্থকরা সেখান থেকে মিছিল করে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সংঘর্ষ ঘিরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।গণঅধিকার পরিষদ নেতা তৌকির আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় এমপি আমির হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।তবে এ ব্যাপারে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিক জানান, গণধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, উত্তেজনা প্রমোশনে দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আজকের দিন আমাদের বেগম খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি।শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এই দিন আমাদের দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি। এই দিনটি এমন একটি দিন, যেদিন হাজারো কোটি টাকা খরচ করে দিনটি উদ্যাপন করা হতো। আর আজকে এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।’তিনি বলেন, ‘আজ সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে তাদের অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাই জাতির ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।’তিনি বলেন, ‘একটি হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ। এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। আমরা পারিনি তার প্রিয় বিষয়, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে যে কারিগরি শিক্ষার ফেয়ার এবং সেখানে যা করেছি, সেগুলো তার সময়ের অভাবে করতে পারিনি। আশা করি, তিনি ১৮০ দিনের প্রোগ্রামে এগুলো নিয়ে যাবেন। আজকে এই শিক্ষা খাতে, এই কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতার সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা করে দিচ্ছি। বাকি টাকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন এবং বিভিন্ন রকম সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখছেন।’তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যেটা সেলিম ভূঁইয়া সাহেব বলেছেন। ইতোমধ্যে তারা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা যে ব্যাংকগুলোতে দিয়েছে, সেই ব্যাংকগুলোর নাম আমি আপনাদের বলছি না। আটটি ব্যাংকে এই টাকাগুলো দিয়েছে, যেখান থেকে আমরা টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ছাড়াও সরকারি ব্যাংকে আমাদের কিছু টাকা রয়েছে। সেগুলো আমরা পেতে যাচ্ছি।’তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমাদের এই ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ যে অনুদান আপনারা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যে বন্ড কেনার টাকা দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে মোট আমাদের ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ডের সম্পদ রয়েছে। এই আয় দিয়ে আজকে যে যাত্রা আমরা শুরু করলাম, ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধা কল্যাণ ট্রাস্ট অ্যান্ড অবসর ভাতা তারপর আগামী বছরে আমরা ক্রমান্বয়ে আপনাদের বাকি সকল টাকা পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।’শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, আমাদের সময়ে একজন শিক্ষক তার সারা জীবনের সুন্দর সময়টি শিক্ষা দিয়ে যখন বাড়ি ফিরতেন, তখন আমরা একটি ফেয়ারওয়েল দিতাম। একটি মানপত্র পড়তাম। মুসলমান হলে একটি টুপি, একটি পাঞ্জাবি, একটি ছাতা, একটি লাঠি এবং একখানা কোরআন শরিফ ও একজোড়া তসবিহ দিয়ে তাদের বিদায় করতাম।’তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষকরা জাতি গঠনে সাহায্য করেছেন, তাদের এভাবে বিদায় দেওয়া যায় না। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম কল্যাণ ট্রাস্টে ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। এই যাত্রা শিক্ষকদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তাই আজকের এই দিনে আমরা স্মরণ করব আমাদের দেশনেতা বেগম খালেদা জিয়াকে। আমরা স্মরণ করব শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি এই বেসরকারি শিক্ষকদের শতকরা ৫০ ভাগ বেতন দিয়ে এই সিস্টেম চালু করেছিলেন। শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া শুরু করেছিলেন।’তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে এই শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া চলতেই থাকবে, চলবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আমরা চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগামী দিনে যা যা করণীয় রয়েছে, এই শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য আমরা সেদিকে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’
দেশে গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে বছর দুয়েক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। অবকাঠামো তৈরি করে সংকট থেকে বের হতে যতটুকু সময় প্রয়োজন সেটা দিতে হবে। আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে কাজ করছে সরকার।এছাড়া, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে ৪ নেতাকে নতুন সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নতুন মনোনীত নেতারা হলেন— অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।বার্তায় বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লিখিত নেতাদের বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। নতুন মনোনীত নেতারা তাদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দলকে সুচিন্তিত পরামর্শ দেবেন। একইসঙ্গে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।তাদের এই মনোনয়নপত্র রোববার (১৬ আগস্ট) যাচাই-বাছাই করছে ইসি। এরই প্রেক্ষিতে ১১ দলীয় জোট থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে এ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে ইসি। এরপর বৈধ প্রার্থীরা আগামী ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টার মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।এবার রাষ্ট্রপতি পদে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিএনপি একটি এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য দুটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাহুগ্রাস থেকে দেশ রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন, অকুতোভয় বীর সিপাহসালার। একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান' জাতি গভীর শ্রদ্ধায় চিরকাল স্মরণ রাখবে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এবং মেঘনা উপজেলায় পৃথক দুটি মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড.খন্দকার মারুফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে নারী শিক্ষার প্রসার,গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মজবুত অর্থনীতি ও দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। '৮২ সাল থেকে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন ভুমিকা তাঁকে 'দেশনেত্রী' উপাধিতে ভূষিত করেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের চাপের মুখে তিনি কখনও আপোষ করেননি, কারও কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর এই আপোষহীন দৃঢ় সংকল্প বেগম জিয়াকে বাংলাদেশ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের জেল-জুলুম, নিপীড়ন উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নির্ভীক ও সদা জাগ্রত। দেশের আপামর জনগণের কাছে তিনি হয়েছেন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও নন্দিত। স্বীকৃতি পেয়েছেন 'গণতন্ত্রের মাতা' হিসাবে। আর বিএনপি ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের তীব্রতায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে হয়েছেন- গণধিকৃত, নিন্দিত।ড.খন্দকার মারুফ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের উপরে দাঁড়িয়ে তিনি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আগামী দিনে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ শির উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা হবো উন্নয়নের রোল মডেল।ড.খন্দকার মারুফ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ৬ মাসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছেন। এটি এখন জনগণের কাছে প্রমাণিত যে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। ড.খন্দকার মারুফ হোসেন দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। দাউদকান্দি সদরে 'মারুফ ভিলা' প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দোয়া অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার এবং মেঘনায় ভাওরখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। এইসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক,দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহবায়ক দিলারা শিরীন, যুবদল নেতা ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া,শরীফ চৌধুরী,শাহ্ আলম সরকার ও রোমান খন্দকার প্রমুখ।
রাঙ্গামাটির সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২জন।রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ (চট্টগ্রাম মেট্রো ন-১১-২৫৯৯) কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার করে রাঙামাটি হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আনা চারজন মৃত ছিল, দুইজন গুরুতর আহত ছিল, এর মধ্যে একজনকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন— মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮), শোভা চাকমা (৫২) এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫)।দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) এবং সুমন চাকমা (৪৫)-কে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার মানিকছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
ডারউইনে বাংলাদেশ চালকের আসনে ছিল একেবারে প্রথম দিন থেকেই। সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানটা ক্রমেই শক্ত হয়েছে। দর্শক সমর্থকদের অপেক্ষাও ছিল বহুক্ষণ, বহু দিন ধরে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বাংলাদেশ ইতিহাসটা গড়েই ফেলল। অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৯ উইকেটে। অজি মুল্লুকে প্রথমবার তাদেরই ধসিয়ে দিয়ে জেতার দারুণ স্বাদ এসে ধরা দিল ইন্দ্রিয়ে।আশা ছিল, তার পিঠে একটু ভয়ও ছিল বৈকি! বিশ্বাস না হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রির ফাঁকে ফাঁকে সমর্থকদের মন্তব্যগুলো খুঁজে দেখুন? সেখানে বহু বাংলাদেশির কথা ছিল একটাই, ‘কত কিছুই তো হতে দেখলাম!’বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্শক–সমর্থক হলে বোধ হয় এই এক সমস্যা। শেষের আগে বিশ্বাসই হতে চায় না কোনো কিছু। ইতিহাস তাতে রসদ যুগিয়ে যায়, মুলতান টেস্টের ইনজামাম থেকে যে যাত্রার শুরু, ফতুল্লা টেস্টে রিকি পন্টিং, এরপর চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অতিমানব হয়ে ওঠা… সবকিছুই হয়েছে যে চোখের সামনে, সে চোখ কোনো কিছু হতে দেখার আগে যদি বিশ্বাস না করে, তাকে কি দোষারোপ করা যায়?কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা চোখের সামনে হতে দেখলেও বুঝি খানিকটা অবিশ্বাস চলে আসে মগজে, চিমটি কেটে দেখতে হয় ‘স্বপ্নে হচ্ছে না তো সব?’ এই ভুলটা ভাঙতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বোধ হয় তেমনই এক ঘটনা।কেন হবে না বলুন? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৮৫ রানে হারল মাসদুয়েক আগে, সেই দলে আজকের একাদশের ৭ জন ছিলেন। সেটাকে না হয় আপনি ঝড়ে-বকে বলে উড়িয়ে দিলেনই। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের ওই ইনিংস ব্যবধানে হারটা? সেই দলটা তো আজকের এই একাদশই ছিল মোটাদাগে!সেই দলটা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে, তাও এমন ৪ দিন ধরে ছড়ি ঘুরিয়ে! কে ভেবেছিল! অস্ট্রেলিয়া ভাবেনি, তা নিশ্চিত। মারারা স্টেডিয়ামের ভিএআইপি লাউঞ্জের দিকে তাকালেই বুঝা যায় বিষয়টা। অস্ট্রেলিয়া সফর কাভার করতে যাওয়া এক সহকর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেল, ম্যাচটা ৩ দিনে শেষ হয়ে যাবে, তাই না ভেবে ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিটই কাটেননি কেউ, আজকের দিনটায় ফাঁকা পড়ে আছে জায়গাটা!খেলাটা ৩ দিন পেরোনো নিয়েই যেখানে সন্দেহ ছিল অনেকের, সেখান থেকে বাংলাদেশের জয়… বিষয়টা অভাবনীয় ছিল। এতটাই অভাবনীয় যে বাংলাদেশের পক্ষে বাজির রেট ছিল ১-২০! বাংলাদেশ সে পাশার দানটা উলটে দিয়েছে পুরোপুরি।একটা টেস্ট জিততে একক নৈপুণ্য যথেষ্ট হয় না। বাংলাদেশের এই জয়ও একক নৈপুণ্যে আসেনি। শুরুটা করে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অজিদেরকে প্রথম চমকটা দিয়েছিলেন। সে চমকের দমক সইতে না পেরে স্বাগতিকরা অলআউট হলো ১৯৮ রানে। এরপরও শঙ্কা ছিল ব্যাটিংয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি যে দলের ঝুলিতে আছে, আরও একটা বার এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে দল, শঙ্কাটা ছিলই। তানজিদ হাসান তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত সে শঙ্কাটা বিদায় করলেন। তামিম করলেন সেঞ্চুরি, শান্ত তিন অঙ্কের দেখা না পেলেও গেলেন খুব কাছে, ৮৪ রানের এই ইনিংস চালকের আসনে জাঁকিয়ে বসার উপায় বাতলে দিল দলকে।১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট অবশ্য মাঝে নাড়িয়ে দিয়েছিল দলকে। এরপরই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আবির্ভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার তিনি সেঞ্চুরি না করলেও যা করলেন, তা দলকে এনে দিল বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ এর চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসেই পেয়েছে মোটে দুই বার, তাও আয়ারল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সে তেঁতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে; বিশালত্বটা বুঝুন তাহলে?কাজটা তখনও অর্ধেক হয়েছে। বাকি কাজটা সারতে হতো বোলারদের। হাসান মাহমুদ আবারও শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছিলেন। তবে মূল স্পটলাইটটা কেড়ে নিলেন মিরাজ। একে একে ৫ উইকেট। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে হারটা এড়াল বটে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া শেষমেশ অলআউট হয় ২৮৪ রানে। বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭। মামুলি লক্ষ্যে বাংলাদেশ পা হড়কায়নি। ১ উইকেট হারালেও সাদমান ইসলাম আর মুমিনুলের ব্যাটে চড়ে তুলে নিয়েছে ৯ উইকেটের দারুণ এক জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়। তাও ৪ দিন দাপট ধরে রেখে, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে! বাংলাদেশ দল ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে বটে!
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার চ্যানেল এসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তারাই বিষয়টি তদন্ত করছে।’সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।পুরোনো নথি অনুযায়ী, সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ ওই তদন্তের ফল মেনে নেয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ডন হককে গ্রেফতারের পর মামলার তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে।
কাঁধখোলা কালো গাউনে নজরকাড়া এক ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর সঙ্গে পুরুষদের নিয়ে ক্যাপশনে দিলেন খোঁচা। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার দেওয়া এই পোস্টে দখো গেলো গ্ল্যামারাস লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। তার পোস্ট করা একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়- স্নিগ্ধ ও খানিকটা বোল্ড লুকে। টিউব কাটের বডি ফিটেড কালো মেরমেড গাউনে ফুটে উঠেছে ফারিয়ার শার্প লুক। সাজসজ্জায় বেছে নিয়েছেন ডায়মন্ড ও পান্নার মিশেলে তৈরি নেকলেস, মানানসই দুল এবং ব্রেসলেট।ছবিগুলোতে ফারিয়ার অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে আভিজাত্য আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বিলাসবহুল সোফায় হেলান দিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ছবিই নয়, ভক্তদের নজর কেড়েছে তার পোস্টের ক্যাপশনটি। ফারিয়া লিখেছেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষের চেয়ে হীরাই মেয়েদের মন বেশি বোঝে।’ ছবিগুলো পোস্ট করার পরপরই মন্তব্যের ঘরে অনুরাগী ও নেটিজেনদের ভিড় জমেছে। ফারিয়ার রূপের প্রশংসা করে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘একদম কুইন লুক!’ অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সত্যিই দারুণ লাগছে ফারিয়া আপু!’ অনেকেই আবার এই বোল্ড লুকের প্রশংসা করেছেন মুক্তকণ্ঠে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চোটের গভীরতা বেশি থাকায় জরুরি ভিত্তিতে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।আপাতত তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। তবে ঠিক কীভাবে অভিনেতা হাতে চোট পেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুটিং সেটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।প্রিয় ‘মহাগুরু’র অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অজস্র ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন জেনে স্বস্তি মিলেছে সবার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। গত ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নবগঠিত বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র গবেষক আবদুর রহমান। এছাড়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ এবং সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন অনুযায়ী এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এ ছাড়া বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু।মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন করে এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
'কিং' সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার সম্ভাব্য নতুন লুক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি কাটানোর সময় এক ভক্তের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কিং খান। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশাহ কালো রঙের হুডি ও ‘VR-46’ লেখা একটি কালো ক্যাপ পরে ছিলেন। মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাপের ফাঁক দিয়ে তার ব্লিচ করা চুল দেখা যায়। এ থেকেই নেটিজেনদের ধারণা— পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার নতুন লুক আড়াল করতেই এমন সতর্ক ছিলেন শাহরুখ খান।‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে সম্পূর্ণ ধূসর চুলের ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ঘুরতে বের হওয়ার সময় শাহরুখ খানের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট। সাধারণ পোশাকে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ এড়াতে পারেননি তিনি। কয়েকজন ভক্ত-অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ অভিনেতা।এ ছাড়া লন্ডনে শাহরুখ খানের বাড়িও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তার বাড়ির সামনে ভিড় করছেন অসংখ্য ভক্ত। অনেকেই সেখানে ছবি ও সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। দৃশ্যটি মুম্বাইয়ে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ভিড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।ঢাকার বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সব সময় সবার জন্য দোয়া করি।এর আগে সোমবার সকালে তার দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও লন্ডনে ফেরত যাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
দেশে গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে বছর দুয়েক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। অবকাঠামো তৈরি করে সংকট থেকে বের হতে যতটুকু সময় প্রয়োজন সেটা দিতে হবে। আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে কাজ করছে সরকার।এছাড়া, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স’-এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হলেন রুপালী বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ ও দৈনিক আমাদের সময়ের ফ্রান্স প্রতিনিধি আশিক আহমেদ উল্লাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে প্যারিসের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন।১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য নেতৃবৃন্দ হলেন- সহ সভাপতি অবিরাম বাংলা ডটকমের উপসম্পাদক বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক জান-ই-আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরা বাংলা টিভি ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি আবু বাকার আল আমীন, কোষাধ্যক্ষ এশিয়া পোস্টের ফ্রান্স প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রনি, প্রচার সম্পাদক বাংলা টেলিগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার তানভীর তালুকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ টুডে ও সংবাদ প্রতিদিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি নিপু বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক ইউরো বাংলা টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাই টিভি ও দৈনিক মুক্তখবরের ফ্রান্স প্রতিনিধি বাদল পাল, ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং দৈনিক যুগভেরীর ফ্রান্স প্রতিনিধি সাহাদ উদ্দিন।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।নবগঠিত কমিটির নেতারা বলেন, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনটি কাজ করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের সংবাদ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহজ কিস্তি বা অর্থায়ন সুবিধায় স্মার্টফোন সহজলভ্য করার একটি পাইলট প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেড’-কে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়েছে।উদ্যোক্তাদের দাবি, এককালীন অর্থ পরিশোধ করে স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য না থাকায় গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের অনেক মানুষ এখনো ডিজিটাল সেবা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। এ বাধা কমানোই পাইলট প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।প্রকল্পের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেন, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নায়েম ফয়েজ বলেন, বর্তমানে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; আর্থিক সেবা, শিক্ষা, তথ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ যেন এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু আল মোতালিব বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হলে শহরের বাইরের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদেরও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নীতি ও শর্ত মেনে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর কার্যক্রম পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিয়মিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।উদ্যোক্তারা আশা করছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দায়িত্বশীল স্মার্টফোন অর্থায়ন এবং ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি