নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:০৮:০২
শ্রমিক অসন্তোষ: জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীতে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও অসন্তোষের জেরে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জরুরি বৈঠকের জন্য ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছেন। বৈঠকে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত থাকতে পারেন। মাগরিবের নামাজের পর বৈঠকটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে।
সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনীত ব্যক্তির নাম পেতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সময় লেগে যায়। এ কারণে মজুরি বোর্ড গঠনেও বিলম্ব হয়।
সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ে বোর্ড বসবে এবং এটিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড। আজকে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো। আশা করি, এখন তারা রাস্তা ছেড়ে কলকারখানায় যোগ দেবে।
শ্রমিকদের আন্দোলন ও কারখানা বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতারা আমাদের সঙ্গে বসে আহ্বান জানালো, সরকার রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করবে, শ্রমিক ভাই-বোনরা তোমরা কলকারখানায় থাকো। কিন্তু আজ কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হলো। তাদের বলা হলো, এখনো (মজুরি বোর্ড) ঘোষণা হয়নি। অথচ তাদের নেতাদের সঙ্গে নিয়েই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা আজ (বোর্ড) ঘোষণা দেবো।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা খুবই পরিষ্কার, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন এই কাজগুলো করছে, যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয়, জনগণ ও শ্রমিকরা এ ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই! এটা তো পরিষ্কার। একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখা গেছে শ্রমিক সেজে সেখানে (ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনে) গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
কোন ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের কথা বলছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন!’
এদিকে, মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বাধীন সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
তবে বোর্ডের প্রথম বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। একইসঙ্গে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার সময়সীমাও জানানো হয়নি।