নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:২৭:২৩
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা শুরু: শান্তির পথে ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে দেখছেন শাহবাজ শরিফ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সংলাপকে ‘দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে প্রথম ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই পক্ষের গঠনমূলক অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন যে, এই সংলাপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক উপদেষ্টা জারেড কুশনার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নকভি।
এই বৈঠক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। দুই সপ্তাহের বিরতির মধ্যে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় বলে জানা যায়।
শনিবার সকালে নূর খান এয়ারবেসে মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান ইসহাক দার, মহসিন নকভি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলও আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এত উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আলোচনার পথ সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর সীমাবদ্ধতা চায়, অন্যদিকে ইরান দাবি করছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের নিশ্চয়তা এবং বিদেশে জব্দ সম্পদ মুক্তি।
এছাড়া লেবানন পরিস্থিতি, আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আবারও ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা এই সংলাপ সফল করতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দিনের প্রাথমিক আলোচনায় বড় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এটি ভবিষ্যৎ সংলাপের ভিত্তি তৈরি করতে পারে এবং উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এর ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: ডন অনলাইন