রাজীবপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় হোটেল শ্রমিকে নির্যাতন

রফিকুল ইসলাম, রাজীবপুর(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় মজুরির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাগর হোসেন(১২) নামের এক কিশোর হোটেল শ্রমিককে খুঁটির সাথে হাত পা বেঁধে মারপিট করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার শহরের মাছ হাটি সংলগ্ন সাইম হোটেলে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজীবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় হোটেল থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় কিশোরকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে রাতে নির্যাতিত কিশোরের মা বাদী হয়ে রাজীবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রাতেই ওই হোটেল মালিকের ভাই শফি আলম ওরফে দুখু মিয়া কে আটক করেছে। নির্যাতিত ওই কিশোরের বাড়ি পাশ্ববর্তী জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের জোয়ানেরচর কারখানা পাড়া গ্রামে হোটেল মালিকের বাড়িও একই এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যক্তি সাংবাদিক ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজীবপুর নামা বাজার মাছ হাট সংলগ্ন ‘সাঈম’ হোটেলে’ কাজ করত সাগর নামের ওই কিশোর। গত বুধবার সে কাজে আসেনি। পরের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে মজুরির পাওনা টাকা চাওয়ায় জন্য হোটলে আসলে হোটেল মালিক তাকে কাজ করতে বলে। ওই কিশোর রাত পর্যন্ত কাজ করে বেতনের টাকা চাইলে গালমন্দ করে এবং গতকাল না আসার কারন জানতে চায়। শারিরীক অসুস্থতার কারনে আসে নি বললে হোটেল মালিক আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় সাগর হোটেল মালিকের সাথে টাকার জন্য জোড়াজুড়ি করলে তাকে হোটেলের পিছনে রান্নাঘরের খুঁটির সাথে হাত ও পা বেঁধে রাখে এবং চড়থাপ্পড় মারে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলেও সাগরকে উদ্ধার করতে পারে নি।

পরে স্থানীয় সাংবাদিক সহিজল ইসলাম সজল মুঠোফোনে ঘটনাটি জানতে পেরে তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজীবপুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে সাগরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।।

রাজীবপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাঠ কর্মী জাহাঙ্গীর আলম ওই কিশোরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং তিনি জানান, “কিশোরের শরীরে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।” তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সাগরের মা মমতা বেগম বলেন, “সংসারে অভাব স্বামী দিনমজুর দুই ছেলেকে নিয়ে তাদের পরিবার। অভাবের তারনায় তিনি নিজেও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ছেলেকে হোটেলে রেখেছেন দৈনিক ১৫০ টাকা বেতনে। ৭ দিনের বেতন টাকা আটকা আছে মালিকের কাছে।

মমতা বেগম আরও জানান, “পোলার শরীল খারাপ তাই একদিন হোটেলে কামে আসে নাই। পাওনা টাকা চাওয়ার জন্য আমার পোলা হোটেলে আইছিলো টেহা তো পাইলো না হোটেল মালিক সাইম ও তার ভাই শফি আলম আমার পোলারে বাইন্ধা মারধোর করলো। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।”

সাংবাদিক সহিজল ইসলাম সজল, “বলেন মুঠোফোন খবর পাই উপজেলা শহরের একটি হোটেলে এক কিশোরকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা মিললে থানা পুলিশকে অবহিত করি। পরে পুলিশ এসে বাঁধন মুক্ত করে সাগরকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় কোন অঘটন ঘটে নি।”

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীউল হাসানের সাথে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, “খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোটেল মালিকের নামে মামলা হয়েছে, শুক্রবার তাকে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”