এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট জেলা এমনিতে বৃষ্টির প্রবল এলাকা, বৃষ্টির মাস আষাঢ় গ্রাম বাংলায় প্রচলিত আছে, ‘আষাঢ় মাসের মেঘে পাহাড় ভাঙে। অবশ্য সিলেটের মাটির গুণাগুণ ভালো থাকায় পাহাড় ভাঙতে না পারলেও উজানের অল্প বৃষ্টি ভাসিয়ে দিয়েছে সিলেটর অধিকাংশ এলাকা। জুন মাসের হিসাবে বিগত ৩০ বছরে সিলেটে সর্বনিম্ন বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গত দুই তিন দিনের প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চল এমন কি সিলেট শহরের ভিতরে কিছু এলাকায় ঢুকে পড়ে সুরমার নদীর পানি, বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে এই পানি নেমে যায়। তবে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয় ভারত সংলগ্ন বাংলাদেশের সীমান্ত জনপদ ও নিম্নাঞ্চল এবং ভাটির জনপদের লোকজনদের কে। সিলেটে গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ হয়েছে।

এছাড়া উজানে ভারতের মেঘালয়ে সিলেটের দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বরাক মোহনা থেকে আলাদা হয়ে আসা সিলেটের ওপর দিয়ে বহমান সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চল গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সদর এলাকার নিম্নাঞ্চল উজানের ঢলে প্লাবিত হয়েছে। সিলেট বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ভাটি অঞ্চল খ্যাত সুনামগঞ্জ শহর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার মানুষকে বানবাসি করেছে আষাঢ়ের বৃষ্টি।

তাহিরপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, অতিবৃষ্টিতে নগরের সড়কগুলোতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, গত রাতে সিলেটে প্রায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া গত তিন-চার দিনে সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৪শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সে তুলনায় উজানে বৃষ্টিপাত হয়েছে দ্বিগুণ।

এ কারণে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। কোনো স্থানে বিপৎসীমার উপরে পানি বহমান। তবে আগামীকাল থেকে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে । তিনি বলেন, এ মাসে গত ৩০ বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ৮১৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার। কিন্তু এবছর এখন পর্যন্ত ৬শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদি সিলেটের বাইরে প্রবল বৃষ্টি হয়, তাহলে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।