লক্ষ্মীপুর-বরিশাল-ভোলা মহাসড়কের বেহাল দশা মৃত্যুঝুঁকি চলছে যানবাহন

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুর- বরিশাল-ভোলা এই জাতীয় সড়কটির (এন৯০৮) লক্ষ্মীপুর অংশ প্রায় গত দুই বছর ধরে খানাখন্দ ও বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে মনে হয় যেন চাষাবাদের জমিনে পরিণত হয়েছে। মেঘনা নদী হয়ে এই সড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ প্রায় ২১ টি জেলার সাথে যুক্ত হয়ে তা গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমে পরিনত হয়েছে।

বর্ষ মৌসুমে একটু বৃষ্টিতেই খানাখন্দগুলো বিরাটাকায় গর্তে পানি ভর্তি হয়ে কাঁদায় পরিণত হয়। এতে যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বিদ্বমান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই সড়কটি লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট সড়ক হিসেবে পরিচিত। সড়কের এই বেহাল পরিনতি সম্পর্কে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানিয়েছেন, সরকার সড়ক সংস্কারের এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ দিচ্ছে না, একাধিকবার সড়ক মেরামতের জন্য বরাদ্ধ চেয়েও তা পাওয়া যায়নি। তাই সড়কটি খারাপ জেনেও সংস্কারের কাজ করা দুরহ হয়ে পড়েছে। এবং জানা যায় যে পরিমাণ অর্থ তাদের কাছে বরাদ্দ আছে তাহা দিয়ে, সড়কের যেসব স্থানে বেশি খানাকন্দ সহ বড় গর্ত সেগুলো মেরামত করা হবে খুব শিগ্রই।

গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের বিইউ চৌধুরী ফিশারি এলাকায় সড়কের কাঁদা ভর্তি গর্তে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস, বালুবাহী ট্রাক, অটোরিকশা আটকে যায়। এই পরিস্হিতিতে যাতায়াত সমস্যা সহ পন্য আনা নেয়ার বিগ্ন ও সময় অপচয় হয়। লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট হওয়ার কারনে প্রায় ১১ কিলোমিটারের এই সড়কটি জেলার সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়াও মজুচৌধুরীর হাট থেকে আশেপাশে অন্তত ১০ টি বালু মহাল রয়েছে। লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের জেলায় এই বালু প্রতিদিন বিক্রি হয়।

লক্ষ্মীপুরের মেঘনার নদী হয়ে দেশের ২১ জেলার সংগে যোগাযোগ থাকায় যাত্রীবাহীবাস প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করে। ভঙ্গুর এই সড়কের কারনে প্রতিদিন যাত্রীদের ও নিত্যপন্য দ্রব্য আনা নেয়ায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গাড়ি চালক ও যাত্রী সাধারনের। জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়কটি প্রশস্তকরনসহ কার্পেটিং উল্টিয়ে নতুন করে করার জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। প্রায় ৪ মাস আগে রি-টেন্ডারও করা হয়। লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল থেকে মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ১০ কিলোমিটার। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে সড়কটির উন্নয়ন থেমে আছে।

সন্ধ্যার পরই সড়কটি পুরো অন্ধকার হয়ের যায়। এই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। সড়কটির সংস্কারের ব্যপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত বলেন, সড়কটি নতুন করে করার জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে, দাপ্তরিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি।