৭০ তম জন্মদিনে ফুল নেননি ফারুক

 নিজস্ব প্রতিবেদক: দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় ৭০ তম জন্মদিনে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহন করেন নি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলক্ষেতে জয়নুল আবদিন ফারুকের বাসায় জিয়া নাগরিক ফোরাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, ঢাকাস্থ সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ও যুব ফোরাম, জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা প্রজন্ম দল, জাতীয়তাবাদী তরুণ দল, জনতা দল, চালক দলসহ আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন তার ৭০ তম জন্মদিনে ফুলের শুভেচ্ছা জানালে তিনি তা গ্রহন করেন নি। এ সময় তিনি কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসতে তৃণমূল আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা এখন কর্মসূচি চায়। তাই তৃণমূলের সমর্থনে দলের নীতিনির্ধারকরা যে কোনো কর্মসূচি দিলে তা শতভাগ সফল হবেই বলে ঢৃর ভাবে আমি বিশ্বাস করি। প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবদিন ফারুক। নোয়াখালী-২ ও নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালে জুন মাসে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জয়নুল আবদিন ফারুক। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিরোধী দলের চিফ হুইপ নিযুক্ত হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে ২০১১ সালে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দেয় সংসদে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। হরতালের প্রথম দিন ৬ সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন ফারুক। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তধস্তিতে পুলিশের তৎকালীন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুনুর রশিদও আহত হন। এ ঘটনায় ফারুককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে পুলিশের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আশরাফউদ্দিন নিজান। ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করা মামলায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্তকারীরা ফারুককে দোষারোপ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে মহানগর হাকিম আদালত মামলাটি বরখাস্ত করে দেন। এর পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের করা নাশকতার অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই গ্রেফতার হন ফারুক। এর ১০ দিন পর ১৩ জুলাই ফারুককে ৩ মাসের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে বিদেশ গমনে কোনোরকম বাধা না দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ২০১৫ সালে বিএনপির হরতাল অবরোধ চলাকালে নাশকতার অভিযোগে জয়নুল আবদিন ফারুকের বিরুদ্ধে পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৭ সালের ২ জুলাই দুটি মামলায় তাকে জামিন দেয়া হয়। অপর চারটি মামলায় তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুর নাহার ইয়াসমিনের আদালত। ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই ওই চার মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ২০ জুলাই কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন ফারুক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও নোয়াখালী-২ আসনে (সেনবাগ) ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। হামলায় ফারুক অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিএনপির অন্তত ৩ জন নেতা গুলিবিদ্ধ হন। ভাঙচুর করা হয় বহরে থাকা ৪-৫টি গাড়ি ও ডজনখানের মোটরসাইকেল।