৫ বছর আটকে আছে হোসেনী দালানে বোমা হামলা মামলা

দুই আসামির বয়স বিতর্কেই দুই বছর আটকে থেকেছে হোসেনী দালানে বোমা হামলা মামলা। হামলার ৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। এতদিনেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মাঝে। দ্রুত মামলার বিচারকাজ শেষ করার দাবি তাদের। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম প্রহরে তাজিয়া মিছিলের জন্য হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ের ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ, তখন হঠাৎই বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। পরপর ৩টি বোমা বিস্ফোরণে আহত হন অর্ধশত মানুষ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায় আহতদের মধ্যে এক কিশোরসহ ২ জন।

এরপর কেটে গেছে ৫ বছর । মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৪৬ সাক্ষীর মধ্যে ১১তম সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার পর আর অগ্রগতি হয়নি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে কারাবন্দী আসামি জাহিদ হাসান ওরফে রানার বয়স ১৮ বছর হয়নি জানিয়ে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী। এরপর আরেক আসামী মাসুদ রানার আইনজীবীও তার মক্কেলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ঘোষণা করে শিশু আদালতে বিচারের আবেদন করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে আলাদা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর মামলা শিশু আদালতে স্থানান্তরে আদেশ হয়। বয়স জটিলতায় ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবরের পর এই মামলায় আর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। বয়স জটিলতা কেটে যাওয়ায় মামলা এগিয়ে নিতে আশাবাদী রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার বলেন, এই মামলায় দুইজন আসামি নাবালক থাকায় এদের সাক্ষী গ্রহণ করতে পারিনি। এখন এই নাবালকের সিজন শেষ হয়েছে, আমরা দ্রুতই মামলা নিষ্পত্তি করবো।

সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও আতঙ্কিত করে তোলে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের। হামলা মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।

তাজিয়া মিছিলে হামলার দুদিন পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে চকবাজার থানা পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২ বছর পর ২০১৭ সালের ৩১ মে মহানগর দায়রা জজ আদালতে গ্রেপ্তার ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। মামলার ১০ আসামির মধ্যে ইতিমধ্যে ৪ আসামি জামিনে বের হয়ে গেছে। ৬ জন আছে কারাগারে।