৩০ দিনের উৎসাহ বোনাস’ পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মী

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ ৩০ দিনের উৎসাহ বোনাস’ পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মী। চট্টগ্রাম বন্দরের সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘উৎসাহ বোনাস’ পাচ্ছেন। এক বছর আগেই কনটেইনার ওঠানামার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় তাঁদের এই বোনাস দেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে বন্দর চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কর্মচারী পর্যন্ত প্রত্যেকে এককালীন ৩৫ হাজার টাকা করে পাবেন। বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে এই উৎসাহ বোনাসের টাকা জোগান দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই উৎসাহ বোনাস দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২০ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা আছে,

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা থেকে কর্মচারী কর্মরত ছিলেন কেবল তাঁরাই এই বোনাস পাবেন। বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে এই ব্যয় মেটানো হবে। তবে বন্দর জেটিতে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকদের বিষয়ে এখনো নির্দেশনা আসেনি। এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম এ লতিফ এমপি বন্দরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো বন্দর জেটিতে কর্মরত সব শ্রমিক এই উৎসাহ বোনাস পাবেন।

এ বিষয়ে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্দেশনা আসা বাকি মাত্র।’ এম এ লতিফ আরো বলেন, ‘উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার রীতি তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো বেশি উৎসাহিত করবে। বাস্তব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করেই এটি চালু করেছে। এই রীতি নিয়মিতভাবেই চালু করা উচিত। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অনুসরণ করা উচিত। চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নকারী জার্মানির এইচপিসি হামবুর্গের হিসাবে, ২০১৫ সালে বন্দরে কনটেইনার ওঠানামার পূর্বাভাস ছিল ১৭ লাখ ৬৪ হাজার একক, কিন্তু ওঠানামা হয়েছে ২০ লাখ এককের বেশি। আর ২০১৬ সালের পূর্বাভাসে বলা আছে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার একক, কিন্তু এক বছর আগে ২০১৫ সালেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে বন্দর।

২০১৭ সালের পূর্বাভাস বলছে, পণ্য ওঠানামা হবে ২১ লাখ ৬৮ হাজার একক, কিন্তু বছর শেষে চলতি ২০১৬ সালেই সেই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালিদ ইকবাল বলেন, এক বছর আগে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ আমাদের বিশাল অর্জন। সফলতা অর্জনে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই বোনাস প্রদান তাঁদের আরো বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’ বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দর চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কর্মচারী পর্যন্ত মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার।

তাঁদের প্রত্যেককে নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই ভাতা দেওয়া হবে। তবে এর আগে এই নির্দেশনা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে আসতে হবে। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এককালীন ২০ হাজার টাকা করে বোনাস পেয়েছিলেন। বোনাস প্রদানের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বলেন,

আমরা প্রত্যেকের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। পরে বন্দর বোর্ড সভায় সেটি ৩৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তে বন্দরের প্রত্যেক সদস্য অত্যন্ত খুশি। এতে আমাদের কাজের গতি আরো বাড়বে।