৩টি স্লুইজ গেট বন্ধ করে বেড়িবাঁধ নির্মান, থমকে গেছে ৪ শত পরিবারের জীবনযাত্রা

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে পুরোন তিনটি স্লুইজ গেট বন্ধ করে নতুন বেড়িবাঁধ নির্মান করায় দুর্ভোগে পড়েছেন কমপক্ষে ৪ শত পরিবার। বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী খাউলিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী, ফাশিয়াতলা, উত্তর কুমারখালী ও পূ্র্ব আমতলী গ্রামটিকে সুরক্ষা দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ। বাঁধটি উন্নয়নের কাজ এখন চলছে। চলমান ওই কাজে বাঁধের কুমারখালী, ফাশিয়াতলা, পূর্ব আমতলী ও উত্তর কুমারখালী এলাকার ৩টি স্লুইজ গেট (পানি ওঠা নামার গেট) বন্ধ করে দেওয়ায় জন দুভোর্গ এখন চরমে। জলোচ্ছাসে ঢুকে পড়া পানি আটকে থাকে লোকালয়ে। ২/৩ সপ্তাহ ধরে ওইসকল এলাকার মানুষ ঘরে পানিবন্দি থাকে। এর ফলে বন্ধ থাকে রান্নাবান্না সহ দৈনন্দিন কাজ।

বিপর্যস্ত হয় স্বাভাবিক জীবন যাপন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল ৪টায় কুমারখালী বেড়িবাঁধে ঘন্টাব্যাপি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ভূক্তভোগীরা। আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৬০ বছর ধরে কুমারখালী এলাকায় ফ্লাশিং গেট চালু ছিল। চলমান উন্নয়ন কাজের সময় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৪শ’ পরিবার পানিবন্দী। এছাড়া ৫০টি ঘের ও ২শ’ একর জমির ফসল ধ্বংস হয়েছে। একই বেড়িবাঁধে ফাসিয়াতলা ও দক্ষিণ কুমারখালী গ্রামের ফ্লাশিং গেট দুটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেসব গ্রামেও অনুরূপ দুর্ভোগে আছেন শতশত পরিবার।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সহকারি কমিশনারকে(ভূমি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কর্তব্যরত প্রকল্প প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী কাজ শেষের পথে। ইতোপূর্বে বিষয়টি কেউ বলেনি। এখন সরেজমিনে দেখে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ৩৫/১ পোল্ডারের এ বেড়িবাঁধটি উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের দিকে। যখন সার্ভে হয়েছে তখন হয়তো ওই গেটগুলো বাদ পড়েছে। এই মুহুর্তে কিছু করার নেই। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।