২২শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবিতে উত্তাল ছিল সারাবাংলা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ- ছাত্র জনতার মিছিলে পাক সেনাদের গুলিবর্ষণ।

রফিক বরকত-জব্বারের রক্তরাঙা রাজপথ ও উত্তাল ঢাকার খবরটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছায় পরের দিন । ফলে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হরতাল পালিত হয় পরের দিন বা তার পরের দিনও।

এখনকার মতো এত গতিময় ছিল না সময়।  ফলে ঢাকার খবর সিলেট ময়মনসিংহে পৌঁছাতে লেগে যেতো একদিন।  এমনকি প্রতান্ত অঞ্চলে সেই খবর পৌঁছাতে সময় নিতো দুই-তিন দিনও।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ঢাকা, ১৪৪ জারি ভঙ্গ এবং ঢাকার রাজপথের অগ্নিঝরা সেই খবর ২২শে ফেব্রুয়ারি পৌঁছায় খুলনা, রংপুর-ময়মনসিংহ-সিলেটে। দূরবর্তী গ্রাম-গঞ্জে অগ্নিঝরা একুশের খবর পৌঁছায় ২৩-২৪শে ফেব্রুয়ারি। ময়মনসিংহ-সিলেটে ২১ নামে ২২ তারিখ। ভাষার জন্য রাজপথে নামে আপামর জনতা।

২২শে ফেব্রুয়ারি নতুন রুপ দেখা যায় সিলেটে।  হরতাল পালিত হয় দিনটি। রাস্তাঘাট দোকানপাট বন্ধ করে একের পর এক মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠে সিলেট। পদত্যাগে বাধ্য হন মুসলিম লীগ নেতা মাহমুদ আলী- কালা মিয়ারা।

রফিক বরকত হত্যার সংবাদে উত্তেজিত ময়মনসিংহের ছাত্র-জনতা ২২শে ফেব্রুয়ারি রাস্তায় নেমে আসে। সভাগুলোতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি ছাড়াও গুলিবর্ষণ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি, নুরুল আমিন মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারবর্গকে ক্ষতিপূরণদান এবং আটক ছাত্র-জনতার মুক্তির দাবিতে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

খুলনায় একুশের হাওয়া লাগে ২৩শে ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার চাই দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয় খুলনায়। সুষ্ট তদন্ত করে রফিক জব্বারদের হত্যার বিচারের দাবি জানোনো হয়।