১ হাজার ৬০০ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেন, এমপি আবু জাহির

সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া লোকজন চরম বিপাকে। এরই মাঝে বন্যার আক্রমণ। সামনে যে ঈদ, তা ভুলেই গেছে দুর্গত এলাকার লোকজন। এই অসহায় লোকজন যখন হতাশার মাঝে দিনাতিপাত করছিল তখনই তাদের মুখে হাঁসি ফুটালেন নন্দিত জননেতা অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি।

চারদিকে অথই জল আর বৃষ্টির আনাগোনার মাঝেও অবিচল থেকে তিনি হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামে ১ হাজার ৬০০ পরিবারের মাঝে তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার। প্রতিটি পরিবারগুলোতে পৌঁছে যায় ১০ কেজি করে চাল। বুধবার সকালে প্রচন্ড বৃষ্টি। এরই মাঝে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি চৌধুরীবাজার এলাকায় খোয়াই নদীতে গিয়ে উঠেন স্পীড বোটে।

এর আগেই চাল বোঝাই একটি নৌকা চলে ত্রাণ নিয়ে গ্রামীন জনপদে। তিনটি স্পীড বোটে জলে পরিপূর্ণ খোয়াই পারি দিয়ে প্রথমে যান লোকড়া ইউনিয়নের চানপুরে। নদী তীরেই অপেক্ষমান শতশত কর্মহীন অস্বচ্ছল নারী-পুরুষ। এমপি আবু জাহির কাছে পৌঁছলেই দেখা দেয় তাদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। পরে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান করে সবার হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ১০ কেজি করে চাল। এই চাল নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেন সবাই।

সেখানে ত্রাণ নিতে এসেছিলেন চানপুর গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আবু মিয়া। এমপি’র হাত থেকে চাল নিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যেন আমাদের এমপিকে বাঁচাইয়া রাখে অনেকদিন। দুই কাঁধে স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে চাল নিতে আসেন মূলচান বিবি। তার স্বামী আব্দুল হামিদ বেঁচে নেই অনেক দিন। নেই কোন সন্তানও। মূলচানও চাল পেয়ে আনন্দে প্রাণভরে দোয়া করেন এমপি আবু জাহির এর জন্য। চানপুরের পরেই নৌকা ভিড়ে কাশিপুর গ্রামে। সেখানেও একইভাবে তুলে দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার।

পরে গোপালপুর বাজারে এমপি আবু জাহিরকে পাশে পেয়ে জন¯্রােত দেখা দেয়। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি এমপি আবু জাহির সেখানে তুলে ধরেন তিনি এমপি হওয়ার পর কিভাবে অবহেলিত ওই এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সেখানকার উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণ কাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য পাকা রাস্তা তৈরীর পাশাপাশি ব্রীজ নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এলাকার সন্তান হিসেবে আবু জাহির এমপি ওই জনপদের মানুষের ভালবাসার কথাও তিনি স্বীকার করেন অকপটে। পাশাপাশি আগামীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নৌকার পাশে সবার সবার সমর্থন থাকবে কি না সেই কথা বললে উপস্থিত জনতা হাত তুলে তাকে সমর্থন জানায়। গোপালপুর-যাদবপুরের পর তিনি লাখাই উপজেলার বুল্লা ও লাখাই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখেন। মাদনা বাজারে ও লাখাই বাজারে সেখানে পানিবন্ধি থাকার পরও এমপি আবু জাহিরকে এক নজর দেখার জন্য নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে রীতিমতো জনসভায় রূপ নেয় ত্রাণ বিতরণ স্থল।

শুধু ত্রাণ বিতরণই নয়; জনগণকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করেন এবং মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধও জানান এমপি আবু জাহির। এসময় তিনি বলেন, করোনা মহামারির সাথে সাথে দেশে একাধিক দুর্যোগ চললেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সবকিছু সফল ভাবে সামাল দিচ্ছে সরকার। এই দুর্যোগে কেউ যেন অভূক্ত না থাকে, সে ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। খোয়াই নদীর পর বিস্তীর্ণ হাওর পারি দিয়ে ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী লোকজনের দুঃখ দুর্দশা অবলোকন এবং সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও এতটুকু ক্লান্ত হননি তিনি।

সাথে থাকা নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, এই জনগণই আমাকে আজ সম্মানের জায়গায় বসিয়েছে। তাদের পাশে থাকতে পারলেই আমি আনন্দ পাই। যখন এমপি ছিলাম না তখনও আমি ছুটে গেছি এই প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের কাছে। তিনবার এমপি হয়ে অবস্থার অভুতপূর্ব উন্নতি হওয়ায় এলাকার দৃশ্যপট বদলে গেলেও করোনা এবং বন্যার জন্য জনগণ দুর্দশায় পতিত হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি নেতাকর্মীদেরকেও এদের কাছে থাকতে হবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুচি কান্ত হাজং জেলা আওয়ামীলীগ এর সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আকরাম আলী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায়, বুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন বেনু ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রেজাউল আহমেদ দুলদুল ও মতিন মাস্টার প্রমুখ।