হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াবেন যেভাবে

করোনার কারণে বিগত কয়েক বছরে পরিবর্তন হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার। পার্কে হাঁটা কিংবা হেঁটে চলে বাজার করার অভ্যাস প্রায় চলে গেছে।

তার মধ্যে অনলাইলের মাধ্যমে যে কোনো কিছুই বাড়ির দরজায় হাজির, এই অভ্যাসের কারণে নিয়মিত হাঁটা প্রায় বন্ধ বললেই চলে। একটানা বসে কাজের ফলে বেশিক্ষণ হেঁটে কোথাও যাওয়ার এনার্জিও চলে গেছে,

কয়েক পা গিয়েই অটো কিংবা ট্যাক্সি চড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। কিন্তু হাঁটা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। জানেন রোজ কত পা হাঁটা উচিত?

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, একজন মধ্যবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭ হাজার পা হাঁটা উচিত। নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদরোগের আশঙ্কাও খানিকটা কমে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস-এর গবেষক অ্যামান্ডা পালুচ, ওই সমীক্ষায় জানিয়েছেন, শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে, রোজ হাঁটা অত্যন্ত জরুরি। শরীরকে সুস্থ রাখতে, নিয়মিত হাঁটা খুবই প্রয়োজনীয়।

চিকিৎসকেরা নিয়মিত ১০ হাজার পা করে হাঁটার পরামর্শ দেন, কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব না হলেও অন্তত ৭ হাজার পা করে রোজ হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

আরও পড়ুন: বারবার পানি পানের পরও কেন গলা শুকিয়ে যায়?

৭ হাজার কিংবা ১০হাজার পা হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন? হাঁটা মাপবেন কীভাবে? এখনকার বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই পেডোমিটার থাকে, গুগল প্লে স্টোর থেকেও পেয়ে যাবেন এ অ্যাপ। ফোন পকেটে রেখে দিলেই যথেষ্ট,  স্মার্ট ওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ডও থাকে এ অ্যাপ। সামান্য এ বিনিয়োগই ভবিষ্যতে দীর্ঘ সুস্বাস্থ্যের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন বলে মত চিকিৎসকেদের।

হাঁটার পাশাপাশি নিয়মিত এক্সারসাইজ করলে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে। তাই নিয়মিত ১৫ মিনিট ব্যায়ম করুন। মর্নিং ওয়াকও করতে পারেন। এছাড়া হৃদরোগ এড়াতে আরও কিছু বিষয়ে নজর রাখা জরুরি। সেগুলো হলো-

তৈলাক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন: জাঙ্ক ফুডে প্রচুর পরিমাণে তেল থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কম করতে চাইলে তেলে ভাজা জিনিস খাবেন না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: মোটা ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

সুষম আহার: খাওয়া-দাওয়াও আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। তাই স্বাস্থ্যকর ও সুষম আহার গ্রহণ করা উচিত। হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কম হয়।

অবসাদ: অবসাদ হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অবসাদ মুক্ত থাকার জন্য ধ্যান করুন। এর ফলে মস্তিষ্ক শান্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: হৃদরোগ থেকে নিরাপদে থাকতে চাইলে নিজের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। উচ্চরক্তচাপের রোগীদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।

মাছ খান: মাছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এর ফলে চোখই নয়, বরং হৃদয়েরও লাভ হয়। সপ্তাহে একবার মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। তাই নিজের খাদ্য তালিকায় মাছ অন্তর্ভূক্ত করুন।

লবণ কম খান: অধিক পরিমাণে লবণ খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা আবার হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য ক্ষতি কর। তাই নুনের পরিমাণ কমিয়ে দিন।

পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার ঘুম অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

তামাক সেবন করবেন না:  ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের জন্য তামাক ক্ষতিকর। তামাকের কারণে হৃদযন্ত্র ও রক্তবাহিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তামাক সেবন, ধূমপান বন্ধ করুন।