হিন্দু দুই সহোদরকে পিটিয়ে যখম বাড়ী-ঘরে হামলার হুমকি,আতংকে ওই পরিবার

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মুজুরির পাওনা টাকা চাওয়ায় দুই হিন্দু সহোদরকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতার ভাতিজা মোঃ সোহেল। অভিযুক্ত সোহেল এতে ক্ষান্ত না হয়ে পূনরায় তাঁঁর দলবল নিয়ে দুই দফা ওই হিন্দু বাড়ীতে গিয়ে পরিবারকে হুমকি দিয়েও আসে সোহেল। এসময় পুনরায় হামলার ভয়ে আহত দুই সহোদর রায়পুর পৌর শহরে তাদের এক স্বজনের বাড়ীতে আত্মরক্ষার্তে আশ্রয় নিয়েছিল।
সোহেল ও তার লোকদের ভয়ে অসহায় দিনমজুর পরিবারটি আতংকে দিন কাটাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল ইউপির মধ্য উদমারা গ্রামের মালের বাড়ীতে। এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন এঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আহত সুজন মজুমদার ও তার বাবা বিকাশ মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, রায়পুর চর আবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিনের ভাতিজা সোহেলের মালিকানাধীন সোহেল ইন্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসফে দৈনিক ৫’শ টাকায় মুজুরিতে কাজ করতেন। কর্মচারিদের-সঠিক সময়ে বেতন দিতেন না সোহেল।
সময় মত বেতন না পাওয়ায় তাই তার দোকান থেকে চলে যায় সুজন। গত বুধবার সকালে ৫০ টাকা পাওনা আছে বলে দোকানে আসার জন্য সোহেল মোবাইলে সুজনকে বলে। সুজন বৃহস্পতিবার সকালে দোকানে এসে আধা বেলা কাজ করে বাড়ি চলে যায় ও আরো দুইশত টাকা দেয়ার জন্য সোহেলকে অনুরোধ করেন। কিন্তু টাকা না দিয়ে উল্টো শুক্রবার বিকালে সোহেল তার অনুসারী তাহের ও আরিফকে নিয়ে বাড়ীতে গিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে সুজন ও তার ভাইকে।
পূনরায় সন্ধার দিকে সোহেল ১০/১২ জন যুবককে নিয়ে ওই বাড়ীতে গিয়ে সুজনের ঘরে ঢুকে তার মা-বাবাকে আস্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে আসে। ফের হামলার ভয়ে সুজন ও তার ভাই সুমন বাড়ী ছেড়ে রায়পুর পৌর শহরের নতুনবাজার খাজুরতলা এলাকায় দু’দিন পালিয়ে ছিলেন। শনিবার রাতে বাড়িতে সাংবাদিক আসার খবরে তারা বাড়িতে এসে সাংবাদিকদের নিকট বিভিন্ন অভিযোগ করেন।
এঘটনায় বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সোহেলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সে ফোন রিসিভ করেনি। তবে আরিফ জানান, তিনি সুজন মজুমদারকে সোহেলের দোকানে কাজে দিয়েছেন বলে সেই সুবাদে ওইদিন সোহেলের সঙ্গে গেছেন। এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রায়পুুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, এঘটনা কেও আমাকে জানায়নি। সুজন বা তার পরিবার থানায় অভিযোগ করিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।