হালদায় মা মাছ মেরে দ্বিগুণ জরিমানা গুণলেন মাছশিকারী

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  ১১ কেজি ওজনের বড়সড় এক কাতাল মাছটি খাবারের খোঁজে এদিক সেদিক হন্য হয়ে ঘুরছিল । এই সুযোগে দলবল নিয়ে হালদা পাড়ের সোহেল বড়সি ফেলে সেখানে । ক্ষুধার্থ মা মাছটি গিলে নেয় টোপ । তারপর আর কি টেনে হিছড়ে পাড়ে তোলার পর শুরু হয় উল্লাস । সেই উল্লাসে মাছটি দাম ওঠে ৬ হাজার টাকা।

খবরটি চলে আসে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের কাছে । তিনি নিয়মিত চোখ রাখছিলেন মা মাছ শিকারিদের ওপর । পরে ছিপাতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আহসান লাভুর সহযোগিতায় খুজেঁ বের করা হল মাছ শিকারি সোহেলকে তাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করে নেওয়া হয় মুছলেখা ।

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে অস্তিত্ব সংকটে পড়া মা মাছটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে হালদায় মাছ শিকারিদের তেমন জাল পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ গতকাল রাতে খবর পেলাম রাতে মাছ ধরা হচ্ছে, এবার জাল না, তারা ব্যবহার করছেন বড়শি। বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানলাম ডিম ছাড়ার পর মা মাছের খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়, এই সুযোগে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা সহজ।

আজ শনিবার সকালেই বের হয়ে পড়লাম, সাথে ছিলেন ছিপাতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আহসান লাভু। গিয়ে দেখি ছিপাতলী ইউনিয়নের হালদা নদীর মোয়াজ্জেম খান বাড়ি টেক এলাকায় মোহাম্মদ ইউনুচ সোহেলসহ সহযোগিদের নিয়ে হালদার পাড়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন। তারা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৬টি বড়শি ফেলে পালালেন । হালদায় মা মাছ মারা নিষেধ তাকলেও তা মানছে না অনেকেই । তবে আমাদের এই নজরদারী চলমান থাকবে ।