হাতি আমাদের ঐশ্বর্য: জয়া আহসান

ঢাকায় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। শুধু বাংলােদেশে নয়, ওপার বাংলাতেও সমান জনপ্রিয় এই নায়িকা। অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন দুই বাংলাতেই। জয়ার সুনিপুণ অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ লাখো ভক্ত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় জয়া আহসান। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন ছবি অথবা স্ট্যাটাস দিয়ে ভক্তদের উজ্জীবিত রাখে। তবে জয়া বরাবরই প্রাণী প্রেমী। কিছু দিন আগেও কুকুর নিধন নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন।

এবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি বন্যহাতিকে হত্যার ঘটনায় সরব এই অভিনেত্রী। হাতি রক্ষায় সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে গুলি করে বন্যহাতিকে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

জয়া আহসানের স্ট্যাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

‘হাতির এমন অপূর্ব একটি সৌন্দর্য আছে, যা অন্য আর কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। আর কী রকম নিমেষেই যে হাতি আমাদের ছেলেমানুষীতে ভরা নিটোল শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে! খবর পেলাম, অনিন্দ্যসুন্দর তেমন একটি হাতিকে নাকি গুলি করে মারা হয়েছে চকরিয়ায়। দেশে হাতি মারার খবর প্রায় নিয়মিতই পাচ্ছি।

বনবিভাগ আর আইইউসিএনের একটি হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বনে মাত্র ২৬৮টি এশীয় হাতি বাস করছে। তাদের এক তৃতীয়াংশ বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারে। খুব মনের আনন্দে নয়। কারণ, বন উজাড় করে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরার পথগুলো দখল করে নিচ্ছে মানুষেরা। ফলে তারা যখন নিজেদের পথে চলতে-ফিরতে আসছে, দখলদার মানুষেরাই উল্টো তাদের গুলি করে মারছে।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২০টি হাতি মারার খবর পাওয়া গেছে। আজকে আরেকটি। গত ছয় দিনে চারটি হাতি মারা হলো, বাংলাদেশ হাতির জন্য হয়ে উঠছে এক নির্মম গোরস্থান।

হাতি মহাবিপন্ন তালিকায় থাকা একটি প্রাণী। আমাদের অনন্য সৌভাগ্য যে বাংলাদেশ হাতির একটি সুন্দর বিচরণক্ষেত্র। তারা আমাদের ঐশ্বর্য। আগামী পৃথিবীর জন্য কি আমরা তাদের রক্ষা করব না?

আমি দাবি করি, আলাদা করে একটি বন্যপ্রাণী অধিদপ্তর বা বিভাগ খোলা হোক। নইলে অচিরেই আমাদের জীববৈচিত্র্য শূন্যের কোঠায় দৌড়ে নামতে শুরু করবে। কপাল চাপড়েও আর উদ্ধার পাব না।

আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মনে একটু মমতা জন্মাক। আমরা জীবে দয়া করি। ‘জীবে দয়া করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।’