হাইমচর জালিয়ারচরে চলছে জাটকা বেচা-কেনা উৎসব

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের জালিয়ার চরে নিষিদ্ধ সময়ে চলছে জমজমাট জাটকা বেচা-কেনার উৎসব। জালিয়ার চরের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বেপারীর বাড়ির দক্ষিন পাশে নদীর পাড়ে ওপেন এ মাছ বেচা-কেনার অভিযোগ রয়েছে। লক্ষীপুর, রায়পুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন মাছ ক্রয় করতে আসায় ঐ এলাকায় মেলারমত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়াতে করোনা ভাইরাসের ঝুকিতে রয়েছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী মানুষজনের মিলন মেলা এ আড়ত বন্ধ করার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

নাম বলতে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বেপারীর ছেলে বিল্লাল বেপারী, সাদেক বেপারী ও জাগল মাঝির ছেলে দাদন মাঝির নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ বেচা-কেনা হয়। শুধু তাই নয় গভীর রাতে স্প্রীট বোটে করে তাদের নেতৃত্বে মাওয়া, ফতুল্লায় জাটকা মাছ পাচার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, অবৈদ এ মাছ ব্যবসায়ীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে তাদের সোর্স বসিয়ে রাখে। পুলিশ কিংবা কোন অপরিচিত লোক এলাকায় ডুকলে তারা সব কিছু সরিয়ে পেলে। স্থানীয়রা তাদের নাম প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করে বলেন এ ছাড়া এ মাছ ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রবাবশালী ব্যক্তি তারা যদি জানতে পারে আমরা আপনাদের কাছে এসব তথ্য দিয়েছি তাহলে আমাদের মেরে পেলবে অথবা এলাকা ছাড়া করবে। এই এলাকায় আমাদেরকে থাকতে দিবে না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, আমাদের চোঁখের সামনে দিয়ে আমাদের নদীর মাছ বরিশাল হিজলার জেলেরা ধরে এনে বিল্লাল বেপারীর বসানো আড়তে মাছ বিক্রি করে টাকা নিয়ে চলে যায়। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি আর আফসোস করি। অন্য এলাকার জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যায় আপনারা বসে থাকেন কনে? আমাদের এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলে নদীতে নৌকা নামাতে হলে কোষ্টগার্ডসহ প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে তাদেরকে ৩ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে হয়। তাছাড়া যত বার নদীতে নামবো ততবার এক হাজার টাকা করে দিয়ে আবার তাদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হয়। আমরা তাদেরকে টাকা দিতেও পারি না,, নদীতে জাল ফেলতেও পারি না। কিন্তু নদীতে যেমন মাছ ধরার উৎসব চলে তেমনি এ পাড়েও মাছ বেচা-কেনার মহুর্তটা যেন একটা উৎসবে পরিনত হয়।

এ ব্যাপারে চরভৈরবী ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলী মাষ্টার জানান, আমার ইউনিয়নের জালিয়ার চরে আড়ৎ পরিচালনা করে মাছ বেচা-কেনা করার সংবাদ আমি পেয়েছি। বিষয়টি আমি চরভৈরবী পুলিশ ফাড়ির আইসি আব্দুল জলিলকে অবহিত করেছি। যারা এ নিষিদ্ধ সময়ে এ মাছ ক্রয় বিক্রয় করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি এ আড়ৎগুলো বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাড়ির আইসি আব্দুল জলিল জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জালিয়ারচরে মাছ বেচা-কেনার সংবাদটি পেয়েছি। ঘটনাস্থলে আমি আমার ফোর্স পাঠিয়েছি তারা ঐখানে কাউকে পায়নি। আমি বিল্লাল বেপারীকে খবর দিয়ে ফাঁড়িতে আনবো। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ বেচা-কেনা করবে না এমন মর্মে তার কাছ থেকে অঙ্গীকার নামা রাখবো। তিনি বলেন, হাইমচরের মেঘনা নদী জেলে শুন্য করতে আমরা এ পর্যন্ত জাটকা নিধনের অপরাধে ৫২ জন জেলেকে আটক করেছি। অসাধু জেলে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।