হলুদের বর্ণিল সৈয়দপুরে সরিষা ক্ষেত

সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাঠে মাঠে এখন হলুদে সমারোহ। সরষে ফুলের হলুদ বর্ণে বর্ণিত মাঠ প্রান্তর। স্বল্প খরচ ও হালকা শ্রমে পর্যাপ্ত ফলনসহ ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরষে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কয়েক মৌসুমে ধান চাষে লোকশান হওয়ায় কৃষকরা সরষে চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে কৃষকদের মতামত। কৃষকরা বলছেন বীজ রোপনের ২/৩ মাসের মধ্যেই সরষের ফলন ঘরে তুলা যায়। এ ফসলে খুব বেশী পরিশ্রমও করতে হয় না। শুধু গোবর সার ও সামান্য কিছু ইউরিয়া সার ব্যবহার করলেই হয়। মাঝে মাঝে আগাছা পরিস্কার করলে গাছের চেহারা খুব ভালো হয়।

আর গাছ ভালো হলে ফলনও পর্যাপ্ত হয়। অতিরিক্ত কোন অর্থ ব্যয় করতে হয় না। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে সরষে আবাদ করা হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৬ হাজার মেট্রিকটন। কৃষকরা বলছেন প্রায় কয়েক বছর থেকে ধানে লোকশান গুনতে গিয়ে কমর বাঁকা হয়ে ভালো ভাবে দাড়াতে পারছেন না।

কিন্তু কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ মতে প্রায় সব কৃষকই সরষে আবাদে ঝুকে পড়েছেন। তারা বলেন প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে সরষে আবাদ থেকে সরে এসে অন্যান্য আবাদে ঝুজে পড়েন প্রায় সকলেই। যার ফলে এক প্রকার বন্ধই হয়ে যায় সরষের আবাদ। কিন্তু কয়েক বছর থেকে ধানে লোকশান গুনতে গিয়ে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ মতে সরষে আবাদে আগ্রহী হয়েছেন তারা।

একারলেই উপজেলার বিস্তৃর্ন মাঠ জুড়ে সরষে ফুলে হলুদ আর সবুজের সমারোহ। দেখা গেছে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী, কামারপুকুর, বাঙ্গালীপুর, কাশিরাম বেলপুকুর ও খাতামধুপুর ইউনিয়নের বিশাল অংশ জুড়ে সরষের আবাদ হয়েছে। উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের কৃষক হেলাল ও বেলালের সাথে কথা হয় তারা জানান আমন ধান কাটার সাথে সাথে ওই জমিতে সরষে চাষ করেছেন।

আবাহওয়া অনুকুলে থাকায় সরষের ফলন খুব ভালো হয়েছে। সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানান তারা। তারা আরও জানান ধানে যে পরিমান খরচ হয় তার ৪ ভাগের ১ ভাগরও খরচ হয় না সরষে আবাদে, অথচ লাভ দ্বিগুন। ১ মন সরষে ২০ হাজার টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা দরে বিক্রি সম্ভব বলে জানান তারা।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিসেস সাবিনা জানান কৃষকদের আগ্রহ ও উদ্যোগ কে আমরা ইতি বাচক হিসাবে দেখছি। কৃষকা যদি পরামর্শ মতো সরিষার সাথে অন্যান্য ফসল আবাদ করেন তাহলে কোন ফসলই লোকশান গুনতে হবে না বলে তিনি  সাংবাদিকদের জানান।