হরিণা ফেরিঘাটে দুর্নীতির অভিযোগে অফিস সহকারি স্ট্যান্ড রিলিজ

বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর জেলাপ্রতিনিধি: চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাটে স্কেলে দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময় পরের গাড়ি আগে পারাপার করার অভিযোগ ছিলো বহুদিনের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্যে চালকরা বিক্ষোভও করেছেন। অবশেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফেরিঘাটের স্কেলে দায়িত্বরত অফিস সহায়ক এইচ এম নজরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিনা ফেরিঘাট ম্যানেজার ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী।

টার্মিনালে থাকা বেশ কয়েকজন গাড়ী চালক জানায়, প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক মালবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে হরিনা ফেরিঘাট দিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসে। একটি গাড়ি নদী পারাপার হওয়ার জন্য প্রায় তিন-চারদিন টার্মিনালে অবস্থান করেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হরিনা গাড়ি ও মাল ওজন দেওয়ার স্কেলে অফিস সহকারীরা চালকদের সাথে টাকার বিনিময় সমন্বয় করে ৩/৪ দিন পূর্বে সিরিয়াল দিয়ে একই নাম্বারে ভুয়া স্লিপ তৈরি করে। তাদের কন্টাক্ট মত গাড়িগুলো আসার পরে লোক দেখানো স্কেল করে আরেকটি স্লিপ দিয়ে দেওয়া হয়। রাত হওয়ার সাথে সাথে সুযোগ বুঝে পরের গাড়িগুলো দ্রুত ফেরিতে উঠিয়ে পার পার হয়ে যায়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রো ১১-১৯৩৩ মালবাহী ট্রাক ওজন দেওয়ার জন্য স্কেলে আসে।

এ সময় স্কেলে থাকা অফিস সহকারী এইচ এম নজরুল ইসলাম ওই গাড়িটি ওজন দেওয়ার পরে সাথে সাথে দুইটি স্লিপ বের করে নেয়। এর মধ্যে পূর্বে মোবাইল ফোনে কন্টাক হওয়া খুলনা মেট্রো ট১১-১৯৯৪ মালবাহী গাড়ি সিরিয়াল দিয়ে রাখেন। দুদিন পরেই গাড়িটি হরিনা ফেরিঘাট আসার পর লোক দেখানো ওজন স্কেল ওরে স্লিপ নিয়ে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে চালক পূর্বের ভুয়া স্লিপটি নিয়ে নেয়।

রাত দশটা হওয়ার পর সেই পরে আশা মেট্রো ট১১-১৯৯৪ মালবাহী ট্রাকটি সিরিয়াল ব্রেক করে ফেরিতে উঠানোর সময় টার্মিনালে অপেক্ষমান চালকরা বাধা দেয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম জানান, এই বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করে সমাধান করা ভালো। যা ঘটেছে পরে আর ঘটবে না তবে চালকদের কারণেই এসব হয়েছে। এর সাথে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। এই ঘটনায় সেদিন ম্যানেজার ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী জানান, স্কেলে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযুক্ত অফিস সহকারি এইচ এম নজরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ধরনের দুর্নীতি বা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করি।