হবিগঞ্জে হাওরে ধান কাটা শুরু

0
1

 সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে হাওয়ায় দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

হাওরের সর্বত্রই পাকা ধানের সুগন্ধ।

চলছে ধান কাটা উৎসব।  মাধবপুর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

এছাড়াও ধান কাটা উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে ভাটি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জে।

এ উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মতিউর রহমান খাঁন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে,

এ বছর জেলার ৯টি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নে ১ লক্ষ ২২ হাজার ১শ ৩০ হেক্টর জমি বোরো চাষ হয়েছে।

তন্মধ্যে, হাওরের নিচু এলাকা গুলোতে ৪৬ হাজার ৯শ ১৫ হেক্টর এবং হাওর ছাড়া ৭৫ হাজার ২শ ১৫ হেক্টর বোরো আবাদ করা হয়েছে।

এবার খাদ্যশষ্য উৎপাদেন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লক্ষ ১৪ হাজার মেট্রিক টন।

সরেজমিনে আজমিরীগঞ্জের হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওরে কাচা-পাকা ধান বাতাসে দুলছে।

কৃষক-কৃষানিরা প্রহর গুনছেন কখন ঘরে তুলবেন বছরজুড়ে হাড়ভাঙ্গা প্ররিশ্রমে ফলানো সোনার ফসল।

ইতিমধ্যে হাওরে ধান কর্তন শুরু হয়েছে।

কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েছি।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে দুশ্চিন্তায় আছি। ফসলের ক্ষতি হয়েছে শিলাবৃষ্টি, পাতাপুড়া রোগ ও গরম বাতাসেও।

তবে সামনে শ্রমিক সংকটসহ আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এবং ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও তারা জানিয়েছেন।

ঘরদাইর গ্রামের কৃষক বাশার মিয়া বলেন, এবছর তিনি বোরো ধান আবাদ করেছেন।

কিছু জমিতে পাতাপুড়া রোগে আক্রমন করলেও বাকি জমিতে ভালো ফলন হয়েছে।

আগামী শুক্রবার থেকে ধান কর্তন শুরু করবেন।

পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক হরিনাম বলেন, ১০ কিয়ার জমিতে বোরো ফসল আবাদ করেছেন।

আশা করছেন ভালো ফলন হবে।

গত বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

সরকার বেশি দামে ধান কিনলেও আমাদের মতো সাধারন কৃষক তা বিক্রি করতে পারেন নি।

তাই আমরা সঠিক দাম পাইনা। যাতে সঠিক মূল্য পাই সরকার সে ব্যবস্থা যেন করে দেন।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, ধান কর্তন শুরু হয়েছে।

এখনও পুরুদমে শুরু হয়নি।

আগামি কয়েক দিনের মধ্যে পুরুদমে শুরু হয়ে যাবে বলে ধারনা করছি।

এবার ধান কাটা শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় প্রজ্ঞাপণ মতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় শ্রমিক পরিবহণে কোন বিধি নিষেধ নেই।

আশা করা যাচ্ছে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেখা দিলে আগামি মাসের শেষের দিকে ধান কর্তন শেষ হয়ে কৃষকের গোলায় ধান উঠে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here