হবিগঞ্জে লাখাইয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাজার স্থাপন

সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে জীন্দা পীরের ‘কবর’ রয়েছে দাবি করে সেখানে ‘মাজার’ স্থাপন করেছেন রেনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। কিছু জায়গাজুড়ে কয়েকটি নিশান টানিয়ে নিয়ম করে সকাল-সন্ধা মোমবাতি জ্বালাচ্ছে। তার দাবি সেখানে ‘কালা শাহ্’ নামে জীন্দা পীরের ‘কবর’ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে তিনি সেখানে ‘কবর’টি প্রতিষ্ঠা করে দেখা শুনা করছেন। উপজেলা প্রশাসন একাধিক বার সেটিকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। কিন্তু পূণরায় তিনি সেখানে আবারও করব আকৃতি তৈরী করে লাল-সবুজ নিশান টানিয়ে দেন।
পূর্বে তার এই উৎপাৎ কম থাকলেও সম্প্রতি বেড়ে যায়। কেউ মাজারের বিরোধীতা করলে তিনি তাকে মারপিট করতে উদত্ত হন। কার্যালয়ের গেইট বন্ধ থাকলে সে দেয়াল টপকে সেখানে চলে যান। মাঝে মধ্যে কার্যালয়ের গেইটে লোহার ‘রড’ দিয়ে আঘাত করে।

লাখাই উপজেলা পরিষদের পাশেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। তার এই কর্মকাণ্ডের কারণে দাপ্তরিক কাছে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে।
রেনু মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৯শ’ বছর আগে থেকে এখানে জীন্দা পীর ‘কালা শাহ্’র কবর রয়েছে। এক সময় আমার দাদা সেটিকে সংরক্ষণ করত। এখন ২৭ বছর ধরে আমি সংরক্ষণ করছি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বাঁধা দিচ্ছে। অনেক বার কবরটি ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যখন গাছটি কেটে ফেলা হয় তখন আমি তাদের হাতে পায়ে ধরেছি। বলেছি গাছের যত দাম আছে আমি এর ডাবল দাম দেব। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ উল্লাহ্র বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি বলেন, ‘এক সময় এখানে একটি বড় গাছ ছিল। কয়েক বছর আগে উপজেলা প্রশাসন গাছটি কেটে এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করে। তবে কোন কবর আমাদের চোখে পড়েনি বা আমরা শুনিনি। এখন রেনু পাগলা নামে এক ব্যক্তি এখানে করব রয়েছে বলে দাবি করে মাজার স্থাপন করেছে।’
সৈয়দ ইব্রাহীম (৬৫) নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এখানেই বড় হয়েছি। কখনো এখানে খবর থাকার বিষয়টি শুনিনি। তবে এখানে একটি বড় আকৃতির গাছ ছিল, সেটিকে সাধারণ মানুষ অন্য রকম দৃষ্টিতে দেখতো। বেশ কয়েক বছর আগে গাছটি কেটে পেলা হয়।’

লাখাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেডেরিনারি সার্জন ডা. মো. শাহদাত হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করেছি মাত্র ৮ মাস হয়েছে। আসার পরই দেখলাম এখানে কবর রয়েছে। মাঝে মধ্যে একটা লোক এসে সন্ধার সময় মোমবাতি জ্বালাত। কিন্তু ৪/৫ দিন ধরে তার উৎপাৎ বেড়ে গেছে। সকাল-সন্ধা সে এখানে এসে এটা-ওটা করে। প্রায় সময় কার্যালয়ের গেইটে লোহার ‘রড’ দিয়ে আগাত করে। এতে গেইটের বেশ ক্ষতিও হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করেছি।’
লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং বলেন, ‘যেহেতু রেনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি এখানে কবর রয়েছে বলে দাবি করছে সেহেতু চাইলেই তাকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে না। এটি একটি সেন্সেটিভ বিষয়, তাই তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেনু মিয়া উপজেলার পুর্ব বামৈ গ্রামের মৃত মারাজ উল্ল্যাহর ছেলে। স্থানীয় লোজনের কাছে তিনি রেনু পাগলা নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ও ৪টি মেয়ে রয়েছে। পরিবারের দাবি, রেনু মিয়া তার স্ত্রী ও চার মেয়ের দেখাশুনা করে না।
এ ব্যাপারে তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘মেয়েদের ভরণ-পোষণ সে করে না। এ ব্যাপারে কিছু বললেই সে বলে ‘কালা শাহ্’ অনেক সোনা-গহনা নিয়ে আসছে। কয়েকটা দিন কষ্ট কর, তিনি আমাদেরকে রাজা বানিয়ে দেবেন।’

রেনুর মা সাবেনা খাতুন বলেন, ‘সারাদিন কোথায় থাকে কি করে কোন খোঁজ পাওয়া যায় না। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাত ১২টার পর বাড়ি ফিরে। সারাদিন কয়েকটি কুকুর নিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায়। তবে কারও কোন ক্ষতি করে না।