হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার দুই আসামী গ্রেফতার

সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে চাঞ্চল্যকর আব্দুর রউফ হত্যা মামলায় দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ ১৬জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে বানিয়াচং থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জনকে স্থানীয় চক বাজার এলাকা থেকে তৈয়ব আলী(৩৮)ও রফিকুল ইসলাম রবি(৩৫)কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বাগাহাতা গ্রামের আব্দু মিয়ার ছেলে। গত ১২ জুলাই বানিয়াচং উপজেলা ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি আব্দু রউফ(২৬)এর লাশ স্থানীয় জোয়াল্লা নদীর পাশ্ববর্তী বাগাহাতা ফুটবল খেলার মাঠে ভাসমান অবস্হায় দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবগত করা হয়। তারা এই বিষয়টি বানিয়াচং থানা পুলিশকে অবগত করলে, থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হবিগন্জ মর্গে প্রেরন করেন।

পরে এই ঘটনায় আব্দুর রউফের মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে ৪ আসামী ও অঞ্জাত ব্যাক্তিকে দিয়ে আজ ১৬জুলাই বৃহস্পতিবার বানিয়াচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা তারা হলেন তৈয়ব আলি (৩৮)রফিকুল ইসলাম রবি (৩৫)শুকুর আলী(৪০)ও শাহাজ উদ্দিন শাহা(৪৫)। থানা পুলিশ সূত্র জানা যায়, এই হত্যা কান্ডের পর থেকে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদেরকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালানো হয়। এরই ধারাবাহীকতায় আজ বৃহস্পতিবার বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেনের নেতৃত্বে এস আই আব্দুস ছাত্তার একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানাযায়,আব্দুর রউফের বাবা হাজী আব্দুর রহমান সৌদি আরব থাকেন। একারনে রউফ লেখা পড়ার পাশা পাশাপাশি নিজের সম্পত্তি দেখাশুনা করে আসছিল। মা বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান ছিল।তাদের গ্রামের দুটি ডোবা ইজারা নেয় রউফ। অন্যান্য সময় লিজ নিতেন উল্লেখিত আসামীগন। এই চলতি বছর এ নিয়ে তাদের সাথে মত বিরোধ হয়। হত্যা কান্ডের ঘটনার ২ দিন পূর্বে স্হানীয় আনন্দ বাজারে ছাত্রলীগ নেতা রউফের সাথে ওই ডোবা নিয়ে চাচদের বাকবিতন্ডা হয়। এ নিয়ে রউফ গ্রামের মুরব্বিদের সরনাপন্য হয়।মুরব্বীগণ শালিষে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন।

 

এই বিষয়টি শেষ করার জন্য রউফের চাচাগন বর্তমান মামলার আসামীরা রউফকে শনিবার রাতে খবর দিয়ে তাদের নিজ বাড়ি বাঘহাতা নিয়ে যান। ঐদিন আসামীরা সকলে মিলে শ্বাসরুদ্ধ করে বা পানিতে চুপসিয়ে ছাত্রলীগ নেতা রউফকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য আব্দুর রউফ শচীন্দ্র কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র আব্দুর রউফ। সাদা মাটা,অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখা ও প্রতিবাদকারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রউফ। এছাড়াও বাঘহাতা গ্রামের মোতাহের আলী জানান, স্থানীয় আনন্দ বাজারে মকবুল মিয়ার কম্পিউটারের দোকানে শনিবার রাত প্রায় সোয়া ৮ টা পর্যন্ত রউফের সাথে ছিলেন। এরপর রউফ তার বাঘহাতার পুরান বাড়িতে যাবে বলে তার চাচার সাথে চলে যায়।

অন্যদিকে রউফের ব্যবহ্রত মোবাইলটি রোববার সকাল পর্যন্ত চালু ছিল বলে মোতাহের আলী জানান। এব্যাপারে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,মামলার এজাহারের ভিত্তিতে আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতার করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু গ্রেফতারকৃতরা এই হত্যা কান্ডের বিষয়টি স্বীকার করেননি বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে বানিয়াচঙ্গ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হোসেন খান মামুন ও সাধারণ সম্পাদক সাইম হাসান পুলকসহ রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গসহ সবাই এই হত্যা কান্ডের বিচারের দাবী জানান।