হবিগঞ্জের নিজাপুর ইউনিয়নে পুলিশের উঠান বৈঠকে দু’পক্ষের সমঝোতা

সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের দ্বরিয়াপুর গ্রামে শিল্প প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী দু’টি পক্ষের দন্ধ পুলিশের উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে সমাধান হয়।

৩১ আগস্ট বিকালে নিজামপুর ইউনিয়নের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের উদ্যোগে এক উঠান বৈঠকের আয়োজন করে। পুলিশী প্রচেষ্টায় এতে অংশ নেয় গণ্যমান্য বর্গসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রায় কয়েক ঘন্টা আলোচনার পর দুপক্ষের লোকজনের ভুল বুঝাবুঝি ভেঙ্গে সমঝোতায় আসে।

এতে পুলিশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন রবিউল ইসলাম, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ সদর সার্কেল। এসময় রবিউল ইসলাম বলেন দাঙ্গা-হাঙ্গামার অনেক দিক নির্দেশনা তুলে ধরে কারো কান কথা শুনে মান করে’ দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়ানোসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানান।

তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত করতে উস্কানি না দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সামান্য কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়ানো যাবে না। নিজেদের গ্রামকে দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত না করে একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য সন্তানদের হাতে ফিকল, টেঁটা তুলে না দিয়ে সন্তানদের খাতা-কলম দিয়ে স্কুল-কলেজে পাঠান। ভবিষ্যতে যেন তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ অফিসার হয়ে মা-বাবাসহ গ্রামের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। “আসুন আমরা সবাই মিলে সমাজ সাজাই। কারো ব্যক্তি স্বার্থে অপরাধ নয়,

দেশের স্বার্থে অপরাধ প্রতিরোধ করি। কারো ইন্দনে নয়, নিজের জ্ঞানে চলি। উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট নিজামপুর ইউনিয়নের দরিয়াপুর গ্রামে শিল্প প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইন্দনে দুটি পক্ষের মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এতে কয়েক হাজার লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।

খবর পেয়ে হবিগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ সদর সার্কেল রবিউল ইসলাম পিপিএম সেবা-এর নেতৃত্বে একদল পুলিম তাৎক্ষনিকভাবে জীবনবাজী রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেঁচে যায় অনেক প্রাণ। পুলিশের তৎপরতায় রণক্ষেত্রের স্বানিধ্য থেকে ফিরে আসে দ্বরিয়াপুরবাসী।

কিন্তু পুলিশী তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হলেও উভয়পক্ষের মধ্যে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এক উঠান বৈঠকের আয়োজন করে এর সমাধান করা হয়।