হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে তরুণীকে ধর্ষণ করলেন ফুফা, স্বামী-স্ত্রী কারাগারে

সুশীল চন্দ্র দাস,  হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:  হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ফুফুর কাছে দর্জির কাজ শিখতে গিয়ে ফুফার (বাবার বোনের জামাই) যৌন লালসার শিকার হয়েছে ১৬ বছরের এক তরুণী। এতে সহযোগিতা করেছেন ভিকটিমের আপন ফুফু (বাবার বোন)। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় স্বামী-স্ত্রীর (ফুফু-ফুফা) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

আলোচিত এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার খাঁনপুর গ্রামের আজির উদ্দিন (৩৫) ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম (২৮)। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়- সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার খাঁনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আজির উদ্দিন প্রায় ৮/৯ বছর পূর্বে বিয়ে করেন নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের শ্রীধরপুর প্রকাশ (গুমগুমিয়া) গ্রামের নাজমা বেগমকে।

বিয়ের পর নাজমাকে তার বাড়িতে নেয়নি আজির উদ্দিন। নাজমার বাড়িতেই তারা সংসার শুরু করেন। প্রায় ৩ মাস পূর্বে নাজমা বেগম তার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে জনৈকা তরুণীকে দর্জির কাজ শেখানোর প্রলোভন দেন। এতে সম্মতি দেন তরুণীর মা। গত ১১ অক্টোবর থেকে ওই তরুণী তার ফুফু নাজমার বাড়িতে যায় দর্জি কাজ শিখতে। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৪ অক্টোবর বুধবার দর্জি কাজ শিখতে যায় তরুণী। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফুফু নাজমার সহায়তায় আজির উদ্দিন ওই তরুণীকে একটি ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

প্রতিদিনের মতো মেয়ে বাড়ীতে না ফেরায় অপেক্ষা করে মেয়েকে আনতে নাজমার বাড়িতে যান ওই তরুণীর মা। তখন নাজমা ও তার স্বামী তরুণীর মাকে ঘরে প্রবেশ করতে বাঁধা দেয়। এমনকি তরুণীকেও আটকে রাখে। এক পর্যায়ে গ্রামের মুরুব্বিদের জানিয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভিকটিমের মা বাদি হয়ে আজির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমানের নির্দেশে ওসি (অপারেশন) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই কামাল আহমেদসহ একদল পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে গ্রেফতার করেন। পরে শনিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান জানান- ধর্ষণ মামলার প্রেক্ষিতে দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শনিবার দুুপুরে তাদেরকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।