হত্যা মামলা থেকে রক্ষা পেতে সাজানো হচ্ছে লুটপাটের ঘটনা

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি:  চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে লোকমান গাজী হত্যা মামলা হওয়ায় আসামী পক্ষ নিজেদেরকে রক্ষা করতে তৈরি করছে লুটপাটে সাজানো নাটক। বিবাহ বিচ্ছেদ আর ফেইজবুকে লেখাকে কেন্দ্র করে গত ২৮মে বিকেল ৪টায় রাজরাজেশ্ব ইউনিয়নের ১নং ওয়াডের শিলারচর ও লক্ষ্মির চরের গাজী ও মাঝি বংশের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আধা ঘন্টা পর আবার  দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। এর মধ্যে গায়ে পরে বকাউল বংশের লোকজন গাজী বংশিয়দির সাথে ঝগড়ায় জরিয়ে পরে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়।

রাজরাজেশ্বরে ইউনিয়নের তিনটি বংশের মাঝে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলার মাঝে একজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে গাজী বংশের প্রায় ১০জন মারাত্বক ভাবে আহত হয়েছে। গুরুতর আহত লোকমান গাজী সোহরয়ারদি হাসপাতালে ৯দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায়। মৃত্যুর খবর জানতে পেরে ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দিতে প্রতিপক্ষরা নিজেদের জিনিষ অন্যত্র সরিয়ে এখন লুটপাটে অভিযোগ সাজাচ্ছে বলে জানা যায়।তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে সূত্র মতে জানা যায়।

৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার পারভেজ গাজী রনি বলেন, আমি ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার, যেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সেটা ১নং ওয়ার্ড।কিন্তু একটি মহল আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যে ও সাংবাদিকদের মিথ্যা আর ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। খুনের ঘটনার পর থেকে ১নং ওয়ার্ড মেম্বার আলী আহমেদ বকাউল এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। যারা গরু লুট হয়েছে বলে প্রথমে বলেছিল তাদের একজন জসীম গাজী, তিনি জানান, ডাকাতের ভয়ে তার ৬টি গরু অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন। আঃআজিজ খান তার একটি গরু কুলসুমা বেগমের কাছে লালন পালনের জন্য দিয়েছিলেন। সেই গরুটি আঃআজিজ খান কুলসুমার কাছ থেকে নিয়ে যান। এখানে গরু ছাগল কিছুই লুটপাট হয়নি বলে জানা যায়।

রাজরাজেশ্বরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্হিতির যাতে অবনতি না ঘটে সেজন্য চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন ও রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার পারভেজ গাজী রনি কে নির্দেশ দিলে গ্রামপুলিশ ও গ্রামবাসীর সমন্নয়ে রাতভর পাহারর ব্যবস্হা করা হয়েছে। উল্লেখ্য দুলাল মাঝির স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমকে কেন্দ্র করে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এটি সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেইজবুকে ভাইরাল করা হলে বিরোধ সৃস্টি হয়। আর তা থেকেই ২৮ মে সংঘর্ষে লোকমান গাজী (৬০) চিকিৎসাধী অবস্হায় মারা যায়।

এই হত্যা মামলাটি কে ঘায়েল করতেই লুটপাটের এ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী বলেন, আমাদের এই ইউনিয়নটি শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এখানকার প্রতিটি পরিবারই একে অন্যের আত্মীয়-স্বজন। কিন্তু একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি নিজে বহুবার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কেউই আমাদের কথা শুনছে না। যার কারণে ইতিমধ্যে এক পক্ষের একজনেরর মৃত্যু এবং অপর পক্ষের একজন মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। আমিও চাই এর সুষ্ঠু বিচার হোক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায় বিচার পাক