স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া সেবা দিয়ে যাচ্ছে নেত্রকোণার শতাধিক খাদ্যকর্মী

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই সেবা দিয়ে যাচ্ছে নেত্রকোণা জেলা খাদ্য বিভাগের শতাধিক খাদ্যকর্মী। প্রতিদিন তারা বিভিন্ন খাদ্যগুদাম থেকে জিআর, ওএমএসের চাল, ভিজিএফ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ অন্যান্য ত্রাণের চাল বিতরণ করে যাচ্ছে। তাছাড়া কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহের কাজটিও তাদের করতে হচ্ছে। কাজের গঠন অনুযায়ী তাদের শারীরিক দূরত্বও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এসব খাদ্যকর্মী। অথচ তাদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও ব্যবস্থা করা হয়নি।

১০এপ্রিল থেকে অদ্যাবধি পর্য্যন্ত নেত্রকোণা জেলায় করোনা ভাইরাসে ৬৭ জন (নেত্রকোনা সদর ৪, কেন্দুয়া ৫, বারহাট্টা ১০, মোহনগঞ্জ ১২, খালিয়াজুড়ি ৬, কলমাকান্দা ৪, আটপাড়া ১৩, মদন ৬ ও পূর্বধলা উপজেলায় ৭জন) আক্রান্ত হয়েছে। ফলে জেলা ও উপজেলা খাদ্যকর্মীদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এমন অবস্থায় তারা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী চেয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে সরকার সারাদেশে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করে। এতে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মাঠপর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেলায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ১০জন, ওসি এলএসডি ১৩জনসহ মোট ১১১জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নেত্রকোণা খাদ্য বিভাগে নিয়োজিত রয়েছ্নে।

প্রত্যেক উপজেলায় অবস্থিত খাদ্যগুদাম থেকে প্রতিদিন ত্রাণের চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিলাররা প্রত্যেক গুদাম থেকে ট্রাকে বা নৌকায় চাল নিয়ে যাচ্ছেন। সেই চাল হস্তান্তর করছেন গুদামে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেলায় কর্মরত বেশ কয়েক জন খাদ্য পরিদর্শক, সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন। কখন করোনা আক্রান্ত হন সেই ভয় তাদের তাড়া করছে।

ঝারিয়া উপজেলার একজন খাদ্য পরিদর্শক বলেন, আমাদের প্রতিদিন ট্রাকের চালক ও তাদের সহযোগী এবং ডিলারের লোকজনের সঙ্গে কাজ করতে হয় খুব কাছে থেকে। তাদের চাল বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে। যারা চাল নিতে আসেন তারা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেন না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই তাদের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকের কাছ থেকে ধান চাল সংগ্রহের সময়ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না।

উপজেলার একজন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক বলেন, ইতোমধ্যে চাল, ধান সংগ্রহের অভিযান শুরু হয়েছে। ওই সময় কৃষকদের সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করতে হবে। তখন আরও বেশি ভয় থাকে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোনো সুরক্ষা সামগ্রী নেই। অথচ আমরাও মাঠে থেকে কাজ করছি।

এ বছর জেলায় বুরো সিদ্ধ চাল ৩৬হাজার ৫শত ২৪মেট্রিক টন, আতব চাল ৪হাজার ৯শত ৭১মেট্রিক টন ও বুরো ধান ১৫হাজার ৬শত ৮৩ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছে উপজেলার ওসি এলএসডিসহ খাদ্যকর্মীরা।

এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন বলেন, আমরা অদ্যবধি করোনাকালীন সময়ে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছি, সরকারি ত্রাণ কার্য্যক্রম অন্যান্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সচল রাখার জন্য নিজেদের উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় কাজ করে যাচ্ছি । ইতোমধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সুরক্ষা সামগ্রী দেয়ার জন্য একটি চাহিদা পত্র প্রেরণ করতে বলেছেন।