স্বর্ণের লোভে দোহারের তপন হত্যাকান্ড, প্রেস ব্রিফিং এ ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার

কাজী জোবায়ের আহমেদ, দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকার (৪৫) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান,হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তপনের পরিবারের এক সদস্যের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করলেও দুর্বৃত্তরা ডাকাতি করতে না পেরে তপনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, মামলাটি আলোচিত হওয়ায় আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্টের দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই মামলার তদন্ত কাজ শুরু করি। যে কারণে ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচজন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার বিবরন দিয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার জানান, তপন কর্মকার যেহেতু পেশায় একজন স্বর্ণকার। তাঁর বাড়িতে ২ কেজির মতো স্বর্ণ আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই পরিবারের এক সদস্য তাঁর নিকট আত্মীয়ের সহায়তায় মূলত ডাকাতির পরিকল্পনা করে। এই ডাকাতিতে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা প্রত্যেকে তিন লাখ টাকা করে পাবে বলে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ডাকাতির কাজে ব্যবহারকৃত ধারালো অস্ত্র গেই তৈরি করে রাখা হয়। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তপনের পরিবারের ওই সদস্য বাড়িতে প্রবেশের প্রধান ফটক খুলে দিলে ডাকাতরা রাত গভীর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে তপনের বড় ভাই কৃষ্ণ কর্মকার ঘর থেকে দেখেন বাড়িতে অপরিচিত লোকের অবস্থান। তখন সে চিৎকার দিলে তপন কর্মকার ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এসময় তপন কর্মকার একজনকে জড়িয়ে ধরে ফেললে তাকে ছুড়ি ও ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এসময় তপনের মায়ের আত্মচিৎকারে তারা ডাকাতি না করেই চলে যায়। এদিকে ঘটনায় সহযোগিতা করা তপনের পরিবারের ওই সদস্য ঘটনা থেকে নিজেকে আড়াল করতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন। পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনার সাথে সাতজন আসামী জড়িত।

আমরা ইতোমধ্যে মূল আসামীসহ ৫ জনকে আটক করেছি। বাকী দুইজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করি শিঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। যেহেতু তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান, তাই এখনই বিস্তারিত বলা যাবে না। এতে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। যেহেতু এটি একটি আলোচিত ঘটনা তাই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দক্ষিণ) হুমায়ন কবির সহ আরও অনেকে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সাথে তপনের পরিবারের যে সদস্যের নাম উঠে এসেছে তিনি হলেন তপনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকার (৩৫)। নিজের অপরাধ ঢাকতে অপহরনের নাটক সহ নানা কৌশলের আশ্রয় নেন ওই নারী। হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন,

নিহত তপনের বৌদি মনি কর্মকারের বোন জামাই ভোলানাথ ওরফে হৃদয় (৪৬), প্রেমানন্দ হালদার (৩০), সাধু বিশ্বাস (৩৫), সবুজ চন্দ্র বিশ্বাস (৩০) ও আলী মিয়া (৩২)। জানা যায় আসামিদের মধ্যে ভোলানাথ ও প্রেমানন্দের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা গ্রামে। সম্পর্কে তাঁরা মামা-ভাগিনা। এছাড়া সাধু বিশ্বাসের বাড়ি দোহার উপজেলা অরঙ্গাবাদ গ্রামে, সবুজ বিশ্বাসের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কান্দাবাড়িল্যা গ্রামে এবং আলী মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকার’কে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ওই ব্যবসায়ীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকারকে তুলে নিয়ে যায় তারা। বুধবার দুুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। ওই দিনই সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মনি কর্মকারকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।