স্বরূপকাঠীতে তহসিলদারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

তরিকুল ইসলাম নেছারাবাদ, নাজিরপুর প্রতিনিধি:- তহসিল অফিসের ঘুষ বাণিজ্যে লোকজন অভ্যস্ত হলেও ব্যাতিক্রম স্বরূপকাঠীর সারেংকাঠী ইউনিয়নের লোকজন।

ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তার বদলি জনিত আদেশ প্রকাশ পেলে টাকা নিয়ে কাজ না করার অভিযোগে

রীতিমত জনরোশে পড়েছেন তহসিলদার রিয়াজ হোসেন।

সহকারি কমিশনার ভূমিসহ উপজেলার জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত অভিযোগ করছেন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী লোকজন।

ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ সাধারন লোকজনও অকপটেই বলে ফেলছেন খুল্লামখাল্লা ঘুষ বাণিজ্যের শিকার হওয়ার কথা।

মিউটেশন ডিসিআরসহ ভূমি অফিসের কাজে ফাইল আটকে টাকা নিয়েও কাজ না করার একের পর এক

অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রিয়াজের বিরুদ্ধে।

প্রায় এক বছর পূর্বে উপজেলার করফাহাটে দোকান ভিটা ডিসিআর দেওয়ার নামে পঁচিশ/সাতাস হাজার টাকা

করে নিয়েও ডিসিআর না দিয়ে সোহাগদলে বদলি হচ্ছেন বলে অভিযোগ সারেংকাঠী ইউনিয়নের করফা বাজারের একাধীক ব্যবসায়ির।

এছাড়াও দলিল করার পরে মিউটেশনের জন্য তার কার্যালয়ে গেলে সরকার নির্ধারিত এগারশত ষাট টাকার

পরিবর্তে পাঁচ/ছয় হাজারের নিচে কোন মিউটেশন করা যায় না বলে অভিযোগ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক জমি মালিকসহ অনেক জনপ্রতিনিধির।

সারেংকাঠী ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রিয়াজের বদলির সংবাদে জমি মালিকরা তাদের অভিযোগ নিয়ে

২৪ আগষ্ট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্তের অফিসে জড় হন শ্যামল হালদারসহ কিছু অভিযোগকারী।

ভাইস চেয়ারম্যান তাদের সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন এবং তিনিও এসিল্যান্ডকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে সারেংকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে শ্যামল হালদারেরমত বেশ কয়েকজন লোকের একই অভিযোগ শোনা যায়।

এসময় বিগত নির্বাচনে নির্বাচীত এবং বর্তমানে নির্বাচীত সারেংকাঠীর কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না

করা শর্তে জানান, এসিল্যান্ড সাহেব বলেছেন মিউটেশন করতে মাত্র এগারশত ষাট টাকা সরকারি খরচ এর

বেশি কেউকে না দিতে কিন্তু এখানে পাঁচ ছয় হাজারের নিচে মিউটেশন করা যায় না। অনেকে দশ হাজার পর্যন্ত

টাকা দিয়েও ঘুরছেন কোন কাজ করেনি তহশিলদার।

অত্র ইউনিয়ন পরিষদের সামনের এক দোকানদার বলেন, বাবা এখানে প্রতিদিন ভিড় পড়ে মিউটেশন বা

ডিসিআরের জন্য টাকা দিয়েও কাজ না পাওয়া লোকের।

কাজবাজ ফেলে দিনের পর দিন মানুষ ঘুরতেই থাকে এখানে। সারেংকাঠী ভূমি অফিসের এক অফিস সহায়ক

মুঠোফোনে জানায়, ভাই রিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ লোকজন করছে তা অনেকটাই সত্য।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মিঃ রিয়াজ বলেন, আমি টাকা নিয়েছি এমন কোন প্রমান কেউ কি দেখাতে পেরেছে?

দশ হাজার টাকা নিয়েও মিউটেশন না দেওয়ার ব্যাপারে তহসিলদার মিঃ রিয়াজের দাবী, ওই ব্যাক্তির দলিল এবং

রেকর্ডের কাগজ অনুযায়ী দুই শতাংশ জমি টেকেনা সে যদি দুই শতাংশ কম রেকর্ড নেয় তাহলে আমি রেকর্ড

করে দিতে পারি। তারা দীর্ঘ দিনেও সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় তাদের রেকর্ড দেওয়া হয়নি। শ্যামল হালদারের

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, করফাহাটে সরকারের মাত্র নয় শতাংশ জমি। শ্যামল যে জমি দাবী করেছিল

সেখানে অন্য লোক দখলে থাকায় শ্যামলকে ডিসিআর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ বশির গাজী বলেন, রিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি

মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে। শ্যামলের কাজটি রবিবার বা সোমবার পেয়ে যাবে।