স্বরুপকাঠিতে আংশিক স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন

তরিকুল ইসলাম, নেছারাবাদ, নাজিরপুর প্রতিনিধি: করোনা প্রতিরোধে ঈদ-উল আযহার পর আবারও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।

২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ চলমান থাকবে। সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৩টি শর্ত যুক্ত করে

এবারের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতো কিছুর পরেও সাধারন মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবনতা যেমন নেই

তেমন নেই মাক্স পরার আগ্রহ। মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকলেও নানা অজুহাতে কারনে অকারনে রাস্তায় বেড়িয়ে আসছে তারা।

কেউবা আসতেছে লকডাউন কেমন চলে তা দেখতে। স্বরুপকাঠির মিয়ারহাটে সোমাবার (২৬ জুলাই) চতুর্থ দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া

কঠোর লকডাউনে ২৩ নির্দেশনার সব ছিল উপেক্ষিত। উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড় এবং পূর্ব দক্ষিণ পাড়ের কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য

প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পরলেও অনেক প্রান্তেই দেখা মেলেনি প্রশাসনের লকডাউন বাস্তবায়নের কার্যত্রুম।

গত তিনদিন গ্রাম্য পুলিশ দ্বারা চেক পোষ্ট পরিচালনা কারা হলেও আজ নেই কোনও চেক পোষ্ট। লকডাউন কার্যকর করতে

কিছু জায়গায় বাশঁ বেঁধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মানুষের চলাচল। প্রত্যেকেই যে যার অযুহাত দেখিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত।

উপজেলার মাছ, মাংস, ফল, সবজি, মুদিখানা সব দোকানেই ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়ছে ভিড়। পাশাপাশি সাধারন মানুষ ঠিকমতো

মাস্ক ব্যবহার করছেন না। উপজেলায় করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অধিকাংশ মানুষ।

কঠোর বিধি নিষেধে প্রথম দিন পালন করলেও দ্বিতীয় দিন থেকে অনেকটা গা ছাড়াভাবে চলছেন তারা। সাধারণ মানুষ

ও ব্যবসায়ীরা যেনো মানছেইনা এই কঠোর বিধিনিষেধ। এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা জরুরি। সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে মিয়ারহাট-ইন্দেরহাট বাজারের

পাশাপাশি গ্রামের হাট বাজারে বিধিনিষেধ কার্যকর করা জরুরি। সরেজমিন দেখা গেছ, স্বরুপকাঠি থেকে সারা দেশের সঙ্গে

আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও আঞ্চলিক সড়ক উপর দিয়ে চলছে মাহেন্দ্র, অটোরিকশা, মটর সাইকেল সহ ব্যাটারি চালিত যানবাহন।

সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকলেও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। সড়কেও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক।

উপজেলার বিভিন্ন সড়কে শুধু যাত্রীবাহী বাস ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলাচল করেছে যথারীতি। উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়ে

বিশেষ করে মিয়ারহাট-ইন্দেরহাট, জুলুহার, দুর্গাকাঠি, জলাবাড়ী, পূর্ব জলাবাড়ি, ইদিলকাঠি, আলকিরহাট ও করফা বাজারে

লোকসমাগম ছিল তুলানামূলক ভাবে অনেক বেশি। এদিকে জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের না হতে

ও মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য হ্যান্ড মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। বিধিনিষেধের কারণে

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষেরা। উপজেলার অধিকাংশ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। সরকারি বেসরকারি ব্যাংকগুলো

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও লেনদেন তেমন একটা হয়নি। সকাল থেকে স্বরূপকাঠী বাসস্ট্যান্ড,

ফেরিঘাট ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোয় যাত্রীদের আনাগোনা দেখা গেলেও কোনো যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

তবে বেশিরভাগ দোকানদার প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি খেলায় মত্ত। যখন প্রশাসন দেখে তারা দোকানের শাটার বন্ধ করে দেয়

এবং চলে গেলে আংশিক শাটার উঁচু করে রাখে। মফেশ্বল গ্রামগুলোর চায়ের দোকানগুলো অনায়াসে খোলা রাখছে প্রতিনিয়ত।

এমতাবস্থায় প্রশাসনের আরো সজাগ দৃষ্টি রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার আপামর জনগণ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, “লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে

মাঠপর্যায়ে কয়েকটি টিম কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ পরিচালনা করে সচেতনতামূলক প্রচার এবং সরকারের

নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানা আদায় অব্যাহত রয়েছে। জনস্বার্থে প্রশাসন আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।