স্বপ্ল আয়ের মানুষের দরজায় খাবার নিয়ে হাজির এসপি শামসুন্নাহার

মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর (গাজীপুর): আস্সালামু আলাইকুম। চাচী বাসায় আছেন। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে এসেছি। বাসায় আর কে আছেন? আমরা জেনেছি করোনা ভাইরাসের সংক্রামনে রোধে বাড়িতে অবস্থান করায় আপনারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে এসেছি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের সদর উপজেলার দরগারচালা গ্রামে হেঁটে হেঁটে স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়ি খুঁজে এভাবেই গাজীপুর জেলা পুলিশের এক মাসের রেশন থেকে বরাদ্দের খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।

আর বাড়িতে পুলিশ সুপারের আকস্মিক আগমনে অনেকটা অবাক হয়ে পুলিশের এমন কার্যক্রমে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

আমেনা বেগম জানান, নয় বছর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে স্বামীকে হারিয়েছেন। দিন মজুর দুই ছেলে পৃথক সংসার পেতেছেন। তাদের দেয়া টাকা-পয়সায় কোনমতে চলছিল তার একার সংসার। দিন এনে দিন খাওয়ার মতো চললেও সরকারে অঘোষিত লকডাউন ও মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়ায় দুটো ছেলেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ঘরের সামান্য মজুদও ফুরিয়ে এসেছিল। এঅবস্থায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল সে। হঠাৎ খাবার নিয়ে তাঁর বাড়িতে গাজীপুর পুলিশ সুপার আসার হাসি ফুটেছে আমেনা বেগমের মুখে।

এভাবে গাজীপুরের প্রায় সব উপজেলাতেই এভাবেই স্বল্প আয়ের মানুষদের সহায়তা দিচ্ছেন গাজীপুর জেলা পুলিশ। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করছি। কিছু কিছু তাদের বাধ্যও করা হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে আবার তাদের খাবারের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। সেই চিন্তা থেকে জেলার ১৭শ পুলিশের একমাসের রেশনের খাদ্যসামগ্রী স্বল্প আয়ের মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

ঢাকা রেঞ্জের (অতিরিক্ত) উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক নূরে আলম মিনা বলেন, সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। আর লকডাউনের ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। এই সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশ পুলিশের ১ মাসের রেশনের সম্পন্ন খাদ্য দ্রব্য নিম্ম আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। তাই আমরা সারাদেশের মত গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার অবহেলিত জনপদে বসাবাসরত নিম্ম আয়ের মানুষের মধ্যে তা বিতরণ করছি। এসময় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন সম্বলিত প্যাকেট বিতরণের জন্য জেলার সকল থানা অফিসার ইনচার্জ এর কাছে পাঠানো হয়েছে।