স্কুলছাত্র রাসেল হত্যার রহস্য উন্মোচন; মূল হত্যাকারী হাসান গ্রেফতার

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ খুলশী থানাধীন জালালাবাদ এলাকার হাসেম কোম্পানির পাহাড়ের উপর ছুরিকাঘাতে নির্মম ভাবে হত্যার শিকার স্কুল ছাত্র মোঃ রাসেল (১৩) এর হত্যার রহস্যা উদঘাটন ও মূল আসামীকে গ্রেফতার করেছে খুলশী থানার পুলিশ ৷ গত ৩ আগস্ট তারিখে পচা গলা অবস্থায় রাসেলের লাশ পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃত কিশোর অপরাধী মোঃ হাসানুল করিম প্রকাশ হাসান (১৬) পিতা মৃতঃ জয়নাল আবেদীন জালাবাদ হাউসিং সোসাইটি ৪নং রোড খুলশীর বাসিন্দা।

এর আগে ৩১ জুলাই থেকে তিন দিন যাবৎ রাসেল নিখোঁজ ছিল। ৩ আগস্ট এলাকার হাসেম কোম্পানির পাহাড়ে লাশের পচা গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার হওয়া লাশটি নিখোঁজ রাসেলের বলে সনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা হুমায়ুন কবির (৫২) থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী বলেন, আমরা হত্যা মামলাটি নিবিড় ভাবে তদন্ত করতে গিয়ে একপর্যায়ে সন্দেহজনক আসামি কিশোর অপরাধী মোঃ হাসানুল করিম প্রকাশ হাসানকে (১৬) গত ৬ আগস্ট তারিখ দিবাগত রাতে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করি। রাসেলের লাশ উদ্ধার করার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই কিশোর অপরাধী হাসান সার্বক্ষণিক ছিল। তার কোনো কর্মকাণ্ডে সে কাউকে বুঝতে দেয়নি যে সেই রাসেল কে খুন করেছিল।

আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এক সময় সে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করে। কিশোর অপরাধি হাসান একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। রাসেল বয়সে হাসানের ছোট হলেও তারা একসাথে চলাফেরা করত। হাসান মেয়ে দেখলে অশালীন আচরণ করতো যা রাসেলের ভালো লাগতো না। কিছুদিন আগে রাসেল হাসানের মাকে গালি গালাজ করে। এতে হাসানের প্রচন্ড অপমান বোধ হয়। তাই হাসান ওইদিনই সিদ্ধান্ত নেয় রাসেলকে সে মেরে ফেলবে। মেরে ফেলা বিষয়টি মারার চার দিন আগে হাসান রাহাতকে জানালেও রাহাত সে কথা বিশ্বাস করেনি। ইতিমধ্যে কিশোর অপরাধী হাসানের জবানবন্দি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে।

হাসান জানায়, গত ৩১ জুলাই বিকাল অনুমান ৫ টায় সে রাসেলকে নিয়ে নিউ মার্কেটে যায় এবং একটি স্টীলের ছোরা কিনে। নিউমার্কেট থেকে এসে রাসেলসহ জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির মনির মায়ের প্লটে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে। তারপর সন্ধ্যা অনুমান ৭ ঘটিকায় হাসান রাসেল কে হাসেম কর্পোরেশনের পাহাড়ে যাওয়ার জন্য বললে সে কারণ জিজ্ঞাসা করে। তখন হাসান বলে ওই পাহাড়ে টাওয়ারের নিচে হাসান ৪ হাজার টাকা লুকিয়ে রেখেছে। তখন রাসেল হাসানের সাথে পাহাড়ে যেতে রাজি হয়। হাসান কিছুক্ষণ টাকা খোঁজাখুঁজি করে একটি প্যাকেট রাসেল কে দেখিয়ে প্যাকেটটা তুলতে বলে। রাসেল প্যাকেটটি তোলার সময় মাথা নিচু করলে হাসান সামনের দিক থেকে তার পেটে সজোরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রাসেল চিৎকার করলে হাসান তার মুখ চেপে ধরে টাওয়ারের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরে তাকে আরো কয়েকবার ছুরির আঘাত করে। তারপর হাসান পাহাড় থেকে নেমে দ্রুত বাসায় চলে যায়। তার পরনের থাকা সাদা প্যান্ট ও নীল সাদা রঙের পাঞ্জাবিতে রক্ত লেগেছিল। পরে হাসান বাসায় গিয়ে প্যান্ট পাঞ্জাবী চেঞ্জ করে ঘুমিয়ে পড়ে। কোরবানি ঈদের পরের দিন নুর ফ্যাক্টরির সামনে রাহাতের সাথে হাসানের দেখা হয়। হাসান রাহাতকে রাসুলের খুনের ব্যাপারে সবকিছু খুলে বলে।

হাসানের রক্তমাখা সাদা প্যান্ট ও পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের জন্য এবং আরও তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে ৫দিনের রিমান্ডের আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রনব চৌধুরী।