সৈয়দপুর পৌর মেয়র পদে প্রথম নারী প্রার্থী

সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর প্রথম শ্রেণির সৈয়দপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬২ বছর পর এই প্রথম মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন একজন নারী প্রার্থী। তাও আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে।

তিনি হলেন, সাবেক মেয়র ও সদ্য প্রয়াত উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আখতার হোসেন বাদলের স্ত্রী রাফিকা আকতার জাহান বেবী। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকার মাঝি হিসেবে মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ন হচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তার প্রার্থীতা নিশ্চিত হওয়ায় তাকে নিয়ে সৈয়দপুর জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন করে ভোটের হিসাব নিকাশ। বিশেষ করে আওয়ামী পরিবারে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে প্রার্থীর পক্ষে।

সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে সবাই এক কাতারে সামিল হতে প্রস্তুত। শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করে উপহার হিসেবে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র পদটি দিতে চান তারা। সৈয়দপুর পৌরসভার দীর্ঘ পরিক্রমায় স্বাধীনতার পূর্বে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত প্রশাসকসহ স্বাধীনতা উত্তর নির্বাচিত এ পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়টি পরিষদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক প্রার্থীসহ অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু কোনো নির্বাচনেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদ ছাড়া কোনো নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

এবারই প্রথম মেয়র পদে নারী প্রার্থী হওয়ায় অন্যরকম এক আবহ তৈরি হয়েছে তাকে নিয়ে। বিশেষ করে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকারের বিপরীতে রাজনীতিতে একেবারে নতুন মুখ হিসেবে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। আওয়ামী লীগ সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, রংপুর বিভাগীয় ও নীলফামারী জেলা সভাপতি জননেতা আখতার হোসেন বাদলের হঠাৎ মৃত্যুতে তার স্ত্রী রাফিকা আকতার জাহান বেবীকে প্রার্থী করতে স্থানীয় নেতারা সম্মিলিত উদ্যোগ নেন এবং সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানোর প্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এর ফলে প্রার্থী নিয়ে দলের মাঝে যে টানাপোড়েন ছিল তা যেমন দূর হয়েছে, তেমনি মেয়র পদে বিজয় নিয়ে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় রাফিকা আকতার জাহান বেবীর সঙ্গে। তিনি জানান, আমার স্বামী ছিলেন সৈয়দপুর তথা নীলফামারী জেলার জন মানুষের নেতা। তিনি মটর শ্রমিক অঙ্গনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাফিকা বলেন, আখতার হোসেন ছিলেন সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে সৈয়দপুরে নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখেছেন।

তার নেতৃত্বেই বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর এখন আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত হয়েছে। তিনি জাতীয় সব আন্দোলন সংগ্রামে জননেত্রীর নির্দেশে স্থানীয় জনমানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আজীবন চেষ্টা করে গেছেন। তার এ অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে সদ্য প্রয়াত আখতার হোসেন বাদলের যে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তার অসমাপ্ত উন্নয়ন চিন্তার আলোকে সৈয়দপুরকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহরে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সুবিবেচনা করে আমাকে প্রার্থীতা প্রদান করেছেন। তার সে বদান্যতার উত্তম প্রতিদান দিতে আমরা আওয়ামী পরিবার বদ্য পরিকর।

তাইতো সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদিও ইতোপূর্বে আমি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলামনা। তবুও আমার স্বামীর রাজনৈতিক দর্শন ও কার্যক্রম সম্পর্কে সর্বদা অবগত ও সচেতন ছিলাম। তাই তার কর্মকান্ডের আলোকে আমার মাঝেও রাজনীতি বিষয়ে সম্যক ধারণা রয়েছে এবং সবার সহযোগিতায় আগামীতে আরও সমৃদ্ধি ঘটবে। রাফিকা বলেন, যতটুকু বিচক্ষণতা রয়েছে তার সঙ্গে নেতাদের দিক নির্দেশনা আর সুপরামর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবো বলেই আমি আশাবাদি।

সেই পথচলার প্রথম ধাপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশির্বাদে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সৈয়দপুরবাসী আমার স্বামীর প্রতি যেমন ভরসা করতেন তারই আলোকে আমাকেও তাদের ভালোবাসা ও ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন ইনশা আল্লাহ। নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার দীর্ঘদিনের মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ জানান,

বর্তমান সরকারের আমলে জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সেই সূত্রে সৈয়দপুরেও উন্নয়ন হয়েছে এবং আগামীতেও আরও নানা কার্যক্রম সম্পাদনের পথে রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সৈয়দপুরের সচেতন জনগণ অবশ্যই সুবিবেচনা করবেন।