সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনের আগে ভাগেই প্রচারণার আমেজ – ব্যানার,ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহরের ওলিগলি

সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি: সৈয়দপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়রের মেয়াদ শেষ হবে আগামি ফেব্রুয়ারি মাসে। দেশের অন্যান্য পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও তফসিল ঘোষণা হয়নি সৈয়দপুর পৌরসভার। কিন্তু নির্বাচনের প্রচারণায় থেমে নেই মেয়র প্রার্থীদের। নির্বাচনি প্রাচরণায় সড়ক হয়ে উঠেছে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ নেতা প্রার্থীদের। দলিয় মনোনয়ন পেতে ও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শহরের রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে সয়লাব করে দিয়েছে।
বর্তমান পৌর মেয়রের দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা বলে আওয়ামী মনোনয়ন প্রার্থীরা উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে চলেছেন। তবে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার একেবারে নিরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন। খোজ নিয়ে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের অন্তত ৮ জন নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন। যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তফা ফিরোজ ব্যানার পোষ্টারে ভরে দিয়েছেন শহর জুড়ে। তিনি শহরের উন্নয়ন করার প্রতিশ্র“তির পাশাপাশি সকলের দোয়া চেয়ে ও প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে পোষ্টার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আখতার হোসেন বাদল মেয়র প্রার্থীতার জানান দিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যনার পোষ্টার লাগিয়েছেন।
পাশাপাশি বর্তমান মেয়রের দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে গণসংযোগ করছেন। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু সহ গত দিনে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খোকন শহরে ব্যানার পোষ্টার না লাগালেও মনোনয়ন পেতে একাধিক সময় কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন এবং মাঝে মধ্যে শহরে পথসভা করে বর্তমান মেয়রের দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা প্রকাশ করে চলেছেন। সাখাওয়াত হোসেন খোকন বলছেন সৈয়দপুর বাসীর সমস্যার শেষ নেই। বর্তমান সরকার সারা দেশের ন্যায় সৈয়দপুরের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে চলেছেন। কিন্তু সিকি ভাগও উন্নয়ন হয়নি। সরকারের দেওয়া বরাদ্দের তিন ভাগ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বর্তমান মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার।
তিনি বলেন পৌরবাসী তার পক্ষে থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী নির্বাচন এলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে বিএনপির প্রার্থীর সাথে হাত মেলায়। তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে গত দিনে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। দলের সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই মেয়র সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন। পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। দল তাকে সমর্থন করলে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, সৈয়দপুর হলো বিএনপির ঘাটি। জনগণ তাকে ভালোবেসে বার বার নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দেওয়া বরাদ্দে উন্নয়ন না হলে সৈয়দপুরবাসী তাকে বার বার নির্বাচিত করতেন না।
তিনি বলেন যারা অন্যের বদনাম করেন তারা শুধু দলকে ভালোবাসেন, নেতাকর্মীকে নয়, উন্নয়নকে নয়। উন্নয়নের বেলায় সব দলের নেতাকর্মীকে নিয়ে কাজ করলে শতভাগ উন্নয়ন সম্ভব বলেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ তাকে বার বার নির্বাচিত করেছেন। আগামীতে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তিনিই নির্বাচিত মেয়র বলে মন্তব্য করেন।