সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে বিরুদ্ধে যুবলীগ আহ্বায়কের ক্ষোভ

সাদিকুল ইসলাম সাদিক, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ খানকে কুখ্যাত খুনি, যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের সন্তানসহ মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদককে অভিযোগ দেওয়ায় স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীসহ আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ খান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন অভিযোগ দাখিল করায় ১৫ আগষ্ট তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ নেতাকর্মীরা জানান আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ খান ও তার পিতার বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন যে অভিযোগ দাখিল করেছেন সেটি একেবারেই মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ অভিযোগের তিল পরিমাণ সত্যতা প্রমান করতে পারবেন না তিনি।

যুবলীগ আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ হলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। নীলফামারী জেলার উত্তরা ইপিজেড এ তার বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া পাথরের ব্যবসা করে আসছেন দীর্ঘ দিন থেকে। দুঃখি মানুষের পাশে সুখে দুঃখে এগিয়ে যান বলেই তাকে প্রতিপক্ষ ভেবে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা বলেন আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ খানকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী সহ রেলের জমি দখলবাজ, দাজাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক সিন্ডিকেট, জুয়াসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন।

কিন্তু দিলনেওয়াজ খান ১৯৯৬ সালে পৌর এলাকার ৫নং পৌর ছাত্রলীগ কমিটি থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পদর্পন করেন। ২০০৪ সালে উপজেলা কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন। দলের জন্য অর্থ ও শ্রম বিসর্জন দেওয়ায় তিনি হয়েছেন যুবলীগ আহ্বায়ক ও কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য। কিন্তু কোনো দিনও তার দুর্নীতি বা কোনো অপকর্ম খুজে পাওয়া যায় নি।

সৈয়দপুর উপজেলার যুবলীগ আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ খান বলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারের যেসব তালিকা প্রকাশ করেছেন তাতে কোথাও তার বাবার নাম উলে¬খ করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত সব তালিকা তিনি প্রকাশ করেছেন। অথচ সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুকল হক মহসিন তাকেসহ তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে খুনি, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি আরও বলেন তার বাবা নঈম খানকে সৈয়দপুরের ৪৫০জন হিন্দু মাওয়ারিদের (ট্রেন ট্রাজেডি) গণ্য হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা বলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন। কিন্তু তার বাবা ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। বাংঙালী ও বেহারীর সাথে সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের।

১৯৭১ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কেউ কোনো দিন তার বাবাকে রাজাকার বলে আখ্যায়িত করতে পারেন নি। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রে অভিযোগ দাখিল করায় অল্প দিনের মধ্যে তথ্যে অধিকার আইনে মামলাসহ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সত্যতা প্রকাশ করে কেন্দ্রের নেতাকর্মীদের জানান দিবেন বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন কোনে মন্তব্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।