সৈয়দপুরে শীত নিবারণে অব্যর্থ চেষ্টা চুলার আগুনে বৃদ্ধা দগ্ধ

সাদিকুল ইসলাম সাদিক,  নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:  শীতের প্রচন্ডতায় একটু তাপ পেতে চুলার আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন এক বৃদ্ধা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চড়কপাড়া (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামে। অগ্নিদগ্ধ বৃদ্ধার নাম আম্মাজান (৬০)। তিনি ওই গ্রামের অবসর প্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মচারী মোঃ মজিবর রহমানের স্ত্রী। জানা যায়, বিগত কয়েকদিন থেকে প্রবল শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে নীলফামারী জেলাসহ উত্তরাঞ্চল। এর ফলে প্রচন্ড শীতে কাতর হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। এই শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না পেয়ে অনেকেই খুরকুটো জ্বালিয়ে বা চুলার আগুনে একটু তাপ পেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অগ্নিদগ্ধ আম্মাজানও ঘটনার দিন বিকালে রান্নাঘরের চুলায় আগুন তাপানোর সময় পড়নের ম্যাক্সিতে অগোচরে আগুন লেগে যায়। এতে তার শরীরের পিছনের অংশ তথা সম্পূর্ণ পিঠ ঝলসে যায়। তার আর্তচিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোঃ ওমেদুল হাসান সরকার জানান, অগ্নিদগ্ধ আম্মাজানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তার শরীরের প্রায় ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ আম্মাজানের কনিষ্ঠ পুত্র সোহাগ জানায়, চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু আমাদের পক্ষে আমার মায়ের জন্য যথাযথ চিকিৎসা করানোর মত সামর্থ নেই। এজন্য বিত্তবানসহ প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রনোবেশ চন্দ্র বাগচী জানান, অগ্নিদগ্ধের কথা শুনেছি। তবে এখন কি অবস্থায় তা জানিনা। একই কথা জানান সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার জুলফিকার রহমান।

তিনি বলেন, আমাকে কেউ জানায়নি এবং কোনভাবে শুনিনি। তাই এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবোনা। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেও সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া খেজুরবাগ মসজিস সংলগ্ন এলাকার ফেরি করে মাছ ব্যবসায়ী মাসুদের স্ত্রী লিসা বেগম অন্তঃস্বত্বা অবস্থায় আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায়।