সৈয়দপুরে ভিজিএফ’র চাল নিয়ে চালবাজি

 সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরির বিরুদ্ধে ঈদ- উল আযহা উপলক্ষ্যে অতি দরিদ্রদের জন্য সরকারি রিলিফের (ভিজিএফ) চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভিজিএফ’র চাল না পেয়ে এলাকার লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ ঘেড়াওসহ ভিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ঈদ -উল আযহা উপলক্ষ্যে এ ইউনিয়নে স্লিপের মাধ্যমে ৯ হাজার ৯৯৮ জনের বিপরীতে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। যা গত ২৭ জুলাই উপজেলা খাদ্য গুদাম হতে উত্তোলনের মাধ্যমে বিতরণ শুরু করে।
দুদিন ধরে এলাকার লোকজন কে চাল দেয়া হলেও তৃতীয় দিনে প্রায় ১ হাজার স্লিপ ধারী চাল নিতে আসলে, তাদের কে বলা হয় চাল শেষ হয়ে গেছে। এ মূহর্তে দেয়া সম্ভব নয়। এ কথা শুনে স্লিপ ধারীরা প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদেরকে মার ধর করে পরিষদ থেকে বের করে দেয়। এব্যাপারে স্লিপধারী মোছা: আমিনা, মো.আলী, আব্দুর রশিদ, নূরীসহ অনেকে বলেন, সকাল থেকে চালের জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু দু’ঘন্টা পর চেয়ারম্যান এসে আমাদের বলেন, চাল দেয়া সম্ভব নয়।
আপনারা ১০০ টাকা করে নিয় স্লিপ জমা দিয়ে যান। এতে আমরা রাজি না হওয়ায় অনেকের কাছ থেকে স্লিপ কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী বলেন, শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০০ লোককে আগামীকাল উত্তোলনের মাধ্যমে চাল দেয়া হবে। ভিজিএফ চাল বিতরণ কমিটি উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন বলেন, সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী একদিনেই উত্তোলনের মাধ্যমে একাধিক দিনে চাল বিতরন করা যাবে।
২৭ জুলাইয়ের পর চাল উত্তোলনের আর কোন সুযোগ নেই। ইউপি চেয়ারম্যান চাল না পাওয়ার যে সংখ্যা বলছেন, প্রকৃতপক্ষ্যে এরচেয়ে দ্বিগুন হবে। তিনি আরও জানান, ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল নিয়ে এর আগেও নয় ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। করোনাকালিন সময়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া খাদ্য সহয়ায়তা থেকে ৮ নং ওয়ার্ডের চকপাড়ার মফার উদ্দিনের ছেলে মোজাফফ আলী, পশ্চিম বেল পুকুরের মো. আলীর ছেলে আমিনুল হক, বাগিচা পাড়ার হারুনর রশিদের ছেলে রেজাউলসহ ২৩ জনকে বঞ্চিত করা হয়।
সে সময় তাদেরকে ঈদ- উল আযহায় চাল দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। এব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নাসিম আহমেদ বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত ও সমবায় কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে বিস্তারিত জানা জন্য পাঠিয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।