সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, গ্রাম পুলিশ আটক

 সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি: সড়ক দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইক্রোবাসের মালিককে আটকে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে মাক্রোবাসের মালিক রেজাউল হক নিজে বাদী হয়ে চেয়ারম‌্যানসহ ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করে। মামলার অন‌্যান‌্য আসামীরা হলেন, একই ইউনিয়নরে আলোকদি পাড়ার নুরে আলম সিদ্দিক ওরফে ভরসা (৩৫), ইউপি সদস‌্য আনছারুল (৪৩), ইউপি সদস‌্য রাজিউল ইসলাম রাজু (৩৮), কলাবাগানের মনছুর আলী (৫৫), রিফুজি পাড়ার ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ (৩৪), সাইফুল ইসলাম (৩৫), গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম (২৯) ও গ্রাম পুলিশ জহির রায়হান (২৭)।

মামলা সূ্ত্র মতে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মাইক্রোবাসের মালিক রেজাউল হক গত ৬ মে সন্ধ‌্যা ৬টার দিকে গাজীপুর থেকে নিজে মাইক্রোবাসটি চালিয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উদ্দেশ‌্যে রওনা দেন। পরদিন সকাল ৭টার দিকে সৈয়দপুরের কামারপুকুর বাজারে সন্নিকটে সাইকেল আরোহী মো. ফজলু মিয়ার সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আহত ফজলুকে নিয়ে মাইক্রোবাসটির মালিক অ‌্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।আহত ফজলু মিয়ার অবস্থার উন্নতি হলে বিকেলে মনছুর আলী ও তার সহযোহি মিলে জোর পূর্বক বাদীকে রংপুর থেকে কামারপুকুর বাজারে নিয়ে আসে।

রাতে ফিরোজের বাড়িতে আটককে রেখে পরদিন ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করা হয়। এ সময় মিমাংসার নামে চেয়ারম‌্যানসহ অন‌্যান‌্য আসামীরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অপরাগতা প্রদর্শণ করলে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় বাদীকে।বিষয়টি বাদী মোবাইল ফোনের মাধ‌্যমে গাজীপুরে পরিবারে কাছে জানালে পরিবারের লোকজন বিষয়টি পুলিশের উর্ধত্বন কর্তপক্ষকে অবহিত করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সৈয়দপুর থানা পুলিশ দুপুরে আসামী ফিরোজের বাড়ি থেকে বাদীকে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে দুই গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম ও জহির রায়হানকে আটক করা হয়।এ ব‌্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল জানান, অবৈধভাবে কাউকে আটকানোর এখতিয়ার কারো নাই। ঘটনা তদন্ত চলছে এবং মামলার অন‌্যান‌্য আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।