সৈয়দপুরে খাস জমি দখল করে বাড়ি ঘর নির্মানসহ চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে দৈনিক “মুক্তভাষা” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফয়েজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে খাস জমি দখল করে ঘড়বাড়ি নির্মান ও এলাকায় চাঁদাবাজি করার মিথ্যা অভিযোগ সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দপুর এর দপ্তরসহ বিভন্ন দপ্তরে প্রদান করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ঘটিকায় ধলাগাছ মতির মোড়ে খাস সম্পত্তি (রাস্তায়) এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কামার পুকুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মোমিনুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কামার পুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, কামার পুকুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জিকো আহমেদ,কামার পুকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান,কামার পুকুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রইচ উদ্দিন জোতদার মতি,কামার পুকুুর ইউপি’র ১নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস রহমান,যুবলীগ নেতা মোতাহার হোসেনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও স্থানীয় সার্ভেয়ার সামসুল আলম ও আব্দুল খালেক।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুরের,ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদ পত্রের সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,দৈনিক মুক্তভাষ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফয়েজ আহমেদ। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকগনদের খাস জমি মাপযোগ করে দেখিয়ে দেন স্থানীয় সার্ভেয়ারদ্বয়। সার্ভেয়ারদ্বয় বলেন,ফয়েজ আহমেদ এর বাড়িটি খাস সম্পত্তি নয়। জমিটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি,যাহাতে বাড়ি আছে। আর খাস জমিটি স্থানীয় জনগন রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করেন। অনুষ্ঠানে কামার পুকুর ইউনিয় ভূমি সহকারী কর্মকতা কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন,ফয়েজ আহমেদ কতৃক খাস জমি দখল করে বাড়ীঘর নির্মানের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। তার নির্মিত বাড়িটি খাস জমিতে স্থাপিত হয়নি। খাস জমিটি রাস্তা হিসেবে জনসাধারন ব্যবহার করেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক চেয়ারম্যান জিকো আহমেদ বলেন,ফয়েজ আহমেদ কোন খাস সম্পত্তি দখল করেন নাই। তার ফুফুত ভাইয়ের বাড়িটি তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে রয়েছে। তিনি এই মিথ্যা অভিযোগ কারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার জোরালো দাবী করেন। অনুষ্ঠানে কামার পুকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান বলেন,ফয়েজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি সম্পুন্ন মিথ্যা। খাস জমি তিনি দখল করেন নাই। তিনি অভিযোগ কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে কামারপুকুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রইচ উদ্দিন জোতদার মতি বলেন,অভিযোগকরীগনের মুল হোতা রেজাউল করিম পাটোয়ারী এলাকার অনেক লোকজনের জমি নিয়ে কেলেংকারীতে লিপ্ত আছেন। তিনি অনেক মানুষের জমি নিয়ে বিবাদে লিপ্ত।
এমন একজন মানুষ কতৃক একজন সূধীজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ মেনে নেয়া যায় না। তিনি এই রেজাউল করিম পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আহবান জানান। দৈনিক “মুক্তভাষা” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফয়েজ আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন,একটি কুচক্রী মহল আমার সামাজিক মান-মর্যাদা ও সুনাম বিনষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে খাস জমি দখল করে বাড়িঘর নির্মানসহ এলাকায় দখলবাজি করে চাঁদা আদায়ের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেন,যে সরকারি খাস সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ করা হয়েছে সেটা আসলে একটি সরকারি রাস্তা। যে রাস্তাটি দিয়ে ১৯৩৩ সাল থেকে জনগন চলাচল করে। যে টি কারও পক্ষে দখল করা সম্ভব নয়। অথচ ষড়যন্ত্রকারী রেজাউল করিম পাটোয়ারীসহ ০৬ জন ব্যাক্তি ওই রাস্তা দখল করে বাড়ীঘর নির্মান করেছি বলে মিথ্যা একটি অভিযোগ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে জমা দিয়ে এর অনুলিপি বিভন্ন দপ্তরে প্রেরন করেন। তিনি এই মিথ্যা অভিযোগ কারীদের প্রতি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জনৈক রেজাউল করিম পাটোয়ারীসহ ০৬ জন ব্যাক্তি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে ফয়েজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে খাস জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মান ও এলাকায় দখলবাজি করে চাঁদা আদায় শীর্ষক একটি মিথ্যা অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ আহমেদ যে খাস সম্পত্তি দখল করে বাড়িঘর নির্মান করেন নাই তা সরে জমিনে প্রমান করা হয়।