সৈয়দপুরের ওসি হিসেবে পাল্টে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা

 সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান উপজেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছেন দশ মাসেই। অপরাধ দমন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, বাল্য বিবাহ, মাদক, বেদখল, জুয়া, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে মুক্ত করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করায় অল্প দিনের মধ্যেই পাল্টে গেছে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর যোগদানের পর উপজেলায় অপরাধ দমনে পুলিশি সেবা মানুষের কল্যানে পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও বিট পুলিশিং এর সহযোগিতা নিয়ে সাহসিকতার সাথে বিভিন্ন অপরাধ ও সমস্যা মোকাবেলা করছেন। ইতোমধ্যে পুলিশি সেবারমান সর্বসাধারণের কাছে প্রশংসা অর্জন করেছে।তাঁর কৌশলী দক্ষতার কারনে জনগনের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলায় ‘পুলিশ জনগনের সেবক, সেবাই পুলিশের ধর্ম’ এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। সৈয়দপুর থানা এলাকাকে বিভিন্ন অপরাধ মুক্ত করাসহ আধুনিক থানায় পরিণত করতে তিনি এবং তার পুলিশ প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।তাঁর যোগদানের পর থানায় দালালী কমেছে লক্ষনীয় ভাবে। কমেছে রাজনৈতিক প্রভাব।

গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন অপরাধীরা। বন্ধুসুলভ ও জনমুখি সেবায় পুলিশের ভাবমূর্তি সমুন্নত হচ্ছে। শান্তিতে জীবন যাপন করছেন সৈয়দপুরবাসী। তাঁর কৌশলী বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অপরাধ দমনের ফলে জনমনে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ জনবহুল এলাকায় আলোচনা সভা করে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, বাল্য বিবাহ, মাদক, বেদখল, জুয়া, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে সৈয়দপুর উপজেলাকে মুক্ত রাখতে জনসচেতনতা মূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

আর এর সুফল ভোগ করছেন এখানকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।দায়িত্বশীল নির্দেশনা ও তাঁর তৎপরতায় ৩৯৪ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত ৩ মাসে ১৪ জন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া গত ১০ মাসে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩৩০, সাজাপ্রাপ্ত ( ২-৫ বছরের) ৩৬, আলোচিত আকলিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৪, নিজে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে অপর এক হত্যা মামলায় ৪, ডাকাতি প্রস্তুতিকালে ৪, চুরি হওয়া ট্রাক উদ্ধারসহ ২জন আসামী। ওসি আবুল হাসনাত খান অপরাধীদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম বলে ব্যাপক প্রচারণা পেয়েছে।ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, মাদক নির্মূলে আমরা কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছি। সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, ছিনিতাই মাদক,জুয়া সহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আশা করছি সৈয়দপুর থানা এলাকা অচিরেই মাদকমুক্ত হবে। এ জন্য তিনি সংবাদকর্মীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।