সেবার নামে প্রতারণা, ৭০ কোটি টাকা আত্মসাত, দিশে হারা সাধারন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় সেবা হাসপাতালের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। প্রায় ১২শ গ্রাহক থেকে ৭০কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। এদের মধ্যে বেশির ভাগ গ্রাহক হচ্ছে বুড়িচং উপজেলার।

গত ১০ বছর ধরে গ্রাহকদের লাভ তো দুরের কথা আসল টাকাই দিচেছ না সেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনি প্রতারণার স্বীকার এক ভোগÍভোগী কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার বিকালে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

প্রতিরণার স্বীকার বুড়িচংয়ের ইয়াকুব আলীর ছেলে সোলেমান (৪০), হোছন আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫), আব্দুল সামাদের ছেলে কাদের (৪০), সোলেমানের ছেলে মজিবুর, মফিজুল ইসলামের মেয়ে ফরিদা (৩০), কফিল উদ্দিনের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৬০), অলোক কুমার দাশের স্ত্রী শিবানী রানী ভৌমিক (৩৫) এমন হাজারো গ্রাহক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এতেও ক্ষান্ত হয়নি তারা সাধারণ মানুষের হজ্জের টাকাও নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লোভনীয় অফার দিয়ে প্রতি মাসে প্রতি লাখে ২হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম কয়েক মাস পরিশোধ করে হঠাৎ উদাও । সেবা হাসপাতালের নামে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে টাকা গুলো। সেবা টাওয়ার, সেবা হাসপাতাল, সেবা সিএনজি পাম্প, সেবা মেগা প্রকল্প, সেবা হাউজিংয়ের নামে নানা প্রকল্প দেখানো হয়েছে গ্রাহককে। আর তাদের এই লোভনীয় অফারে সর্বশান্ত হয়েছে হাজারো মানুষ।

বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য সেবা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাও. বাতেন সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠো ফোনে জানান, আমরা টাকা নিয়েছি সত্য। আমরা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে দিব। আমরা রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্বীকার। আমরা যে সকল প্রকল্প করতে চেয়েছিলাম তা নানা কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গ্রাহকের টাকা নিয়ে আমরা জমি ক্রয় করেছিলাম বর্তমানে জমির মূল্য কমে যাওয়ায় আমরা গ্রাহকের টাকা দিতে পারছিনা।

এমএলএম কোম্পানী দেশের হাজারো মানুষকে নিঃস্ব করেছে। করেছে ভিটে বাড়ী ছাড়া। সরকারের নানা পদক্ষেপ আর আইনী প্রক্রিয়ার কারণে এমএলএম কোম্পানীর দৌড়ঝাপ কমলেও কমেনি প্রতারণার নানা ফাঁদ। এক সময় প্রতারণা করেছে এমএলএম কোম্পানী। বর্তমানে শুনছি হাসপাতালের নামেও প্রতারণা হচ্ছে। এধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতা মানুষ নামধারী নরপিশাচদের ধরে আইনের আওতায় না আনলে লাখ লাখ মানুষ এরকমভাবে আরো প্রতারণার ফাঁদে পড়তে হবে। হতে হবে নিঃস্ব ভিটেবাড়ী ছাড়া।

সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য তারা শহরের ভিআইপি রেষ্টুরেন্ট গুলোতে কনফারেন্স করে নামীদামী খাবারের আয়োজন করে। অত্যন্ত লোভনীয় অকল্পনীয় অফার আর অল্প দিনে কোটিপতি হবার স্বপ্ন নিয়ে এগুলোতে দৌড়ে যায় গ্রামের সাধারণ মানুষ ও বেকার যুবকরা। শুধু বেকার যুবকই নয় অনেক সময় শিক্ষিত ও কর্মজীবি মানুষ ও ছুটছে এই ব্যবসার দিকে।

ভোগÍভোগী শিবানী রানী ভৌমিক জানান, দুই হাজার বার সালে প্রথমে আমার কাছ থেকে ১লক্ষ টাকা নেয় মাসে ২হাজার টাকা করে লাভ দিয়েছে। তিন মাস লাভ দেওয়ার পর আমি ধীরে ধীরে আরো ৫লক্ষ টাকা । আমার সাথে আরো অনেকে রেখেছে। আমার এক সহকর্মীও ১৬লাখ টাকা রেখেছে। খুব ধার্মিক লোক সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ পড়ে দেখে বিশ্বাস করলাম । সেখানে অনেক শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও সরকারি চাকুরীজীবি লোকেরা আসে টাকা রাখে তাই কোন রকম কোন কিছু না ভেবেই টাকা রাখলাম। প্রতিদিন কয়েকশ লোক হাজার হাজার টাকা তাদের সেবা হাসপাতালের বিভিন্ন প্রকল্পে জমা করে।