সুবর্ণচরে রাজাকার কর্তৃক আওয়ামি পরিবারের ভূমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী সুবর্ণচরে প্রতারণা করে ভূমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলা জজ কোর্টে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার মামলা নং ১৩১/২০। মামলা এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের কাচাবুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র গাজী আলী আকবর(৫৮) প্রতারণা করে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হাই এর পুত্র আওয়ামি লীগ নেতা হাজি রফিকুর রহমান ওরপে বাচ্চু মিয়া’র ভূমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানি করার চেষ্টা করছেন।

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৯৮৪ সালে সালে হাজি রফিকুর রহমান বাচ্চু মিয়া তার কর্মচারী একই এলাকার আবুল হাশেমের কাছে নাম মাত্র মূল্যে ৪০ শতক জমি বিক্রয় করে এবং তখনই ৪০ শতক জমি বাচ্চু মিয়া আবুল হাশেমকে বুঝিয়ে দেয়। আবুল হাশেম ৭ বছর ভোগ দখল করার পর ১৯৯১ সালে উপরোক্ত অভিযুক্ত গাজী আলী আকবর তার বাড়ির দরজা বের করার জন্য নিরিহ আবুল হাশেম থেকে এক প্রকার বাধ্যকরে মাত্র ৬ হাজার টাকায় মূল্য দিয়ে ঐ জমি ক্রয় করে আজ পর্যন্ত ভোগ দখল করে আসছে।

পরবর্তীতে গাজির নজর পড়ে রফিকুর রহমান বাচ্চু মিয়ার পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর। গাজি আলী আকবর প্রতারণার মাধ্যমে রফিকুর রহমান বাচ্চু মিয়ার পৈত্রিক সম্পত্তির ১৮৫০ দাগের ৪৪ শতক জায়গায় মধ্যে ১২ শতক ভূমি(যা অগ্রণী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত) ও বসত ভিটির নিচের অবৈধ ভাবে ভূমি রেকর্ড করে নেয়। যা কখনো তার কাছে বিক্রি করা হয়নি। এব্যাপারে আবুল হাশেমের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, আমি রফিকুর রহমান বাচ্চু মিয়ার দির্ঘদিন কর্মচারী ছিলাম হঠাৎ উনার কিছু টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি আমার কাছে ৪০ শতক জমি নাম মাত্র মূলে বিক্রি করে,

পরবর্তীতে আমি গাজি আলী আকবরের কাছে আমি যে জায়গা বিক্রি করেছি এবং সেটা তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি এবং সে বর্তমানে সেটা ভোগ দখল করে খাচ্ছে। কিন্তু বাচ্চু সাহেবের সম্পত্তি রেকর্ড করে দখলের চেষ্টা এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়’। রফিকুর রহমান বাচ্চু মিয়ার পুত্র রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমার বাবা সহজ সরল মানুষ তার সরলতার সুযোগ নিয়ে গাজি এমন ন্যাক্কার জনক কাজ করেছে, আমরা কিংবা আমার বাবা এতই পাগল হয়ে যাইনি যে আমাদের নিজের ঘর ভিটির জায়গা বিক্রি করবো এটা সম্পূর্ণ আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এসব নাটক সাজাচ্ছে,

গাজি আলী একবর একজন চিহ্নিত রাজাকার, সে আমাদের চরজুবিলী ইউনিয়নের মৃত মুকবুল আহেদের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জয়নাল আবেদিনকে সোনাপুর থেকে রাজাকারদের হাতে তুলে দেয়। সে একজন রাজাকার হয়ে আমাদের মত সম্মানী পরিবারকে হয়রানি করে চলছে ভুমি দখলের মত করার চেষ্টা করছে আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক তার উপযুক্ত শাস্তি চাই”। ভুমি দখলের চেষ্টা করার জন্য রফিকুর রহমানের পুত্র রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে গাজির বিরুদ্ধে চরজব্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে আলী আকবর গাজীকে মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি।

সুবর্ণচর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুবিমল দাস বলেন, গাজী আলী আকবর একজন তালিকা ভুক্ত রাজাকার, তার নাম আমাদের রাজাকারের তালিকায় রয়েছে, তালিকাটি বহু আগে আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেছি। চরজব্বার থানার এস আই সাদেকুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, এটা নিয়ে আদালতেও তাদের মামলা চলমান আছে, বিষয়টি যেহেতু জায়গাজমি সংক্রান্ত সেহেতু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি”।