সীমাহীন সাফল্যের অগ্রযাত্রায় শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল

আব্দুল আলিম, গাজীপুর থেকে:  গাজীপুরে চিকিৎসা সেবায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। টঙ্গী খুবই ব্যাস্ততম শিল্প এলাকা তবে এখানে যেমন বহু জেলার মানুষ আছে তেমনি রোগ বালাইয়ের ও কমতি নেই। এরই ধারাবাহিকতায় টঙ্গীর মাছিমপুর এলাকায় অবস্থিত পুরাতন ৫০শয্যা বিশিষ্ট ভবন ঘেষে নির্মিত ৮তলা বিশিষ্ট ২৫০ শয্যার নতুন ভবন চালু ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে জনবল।

সকল প্রকার ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ এর দ্বারা চিকিৎসা সেবা এখন উন্নত। গাজীপুরবাসীর প্রচেষ্টায় ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লহ মাষ্টারের নামে নামকরণ করা হয় হাসপাতালটির। কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই বেড়ে গেছে গাজীপুরের চিকিৎসা সেবার মান। যার ফলে আর রোগীদের নিয়ে কষ্ট করে যেতে হয় না ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা আশপাশের প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি হওয়ায় উত্তরা ও তার আশপাশের এলাকাগুলো থেকে প্রতিনিয়ত রোগীরা এসে ভীড় জমায়।

চিকিৎসার মান ভাল হওয়ায় গাজীপুরে বসবাস করা সল্প আয়ের মানুষের মনে আস্থা এসেছে। সরোজমিনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, হাসপাতালের সাবেক তত্ত¡াবধায়ক কোমরউদ্দিন স্যার যোগদান করার পর থেকেই হাসপাতালের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।

৩৫০শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন, ১৫০ জন জনবলের অনুমোদন, প্রাতিষ্ঠানিক কোড, অর্থিৈন্তক কোড, আউট সোর্সিং এ ৫৬ জন জনবল, নতুন বিল্ডিং এ প্যাথলজি ল্যাব স্থানান্তর, পুরাতন ভবন সংস্কার ও উচু করণ, ভবনের নিরাপত্তা গেইট নির্মাণ, রান্নাঘর বর্ধিতকরণ, বাগান তৈরী, ডিজিটাল এক্সরে, ডিজিটাল আলট্রা শ্নো, ল্যাবকল মেশিন বসানো, ডেঙ্গু ওয়ার্ড স্থানান্তর সহ বিভিন্ন উল্যেখযোগ্য কাজ করেছেন যা অন্য কেউ হলে হয়তোবা এত দ্রæত করা সম্ভব হতো না। তবে তিনি অবসরে গেলেও তার নির্দেশনা মোতাবেক কিভাবে কাজ করলে সাধারণ রোগীরা উপকৃত হবে সেভাবেই কাজ করছে সকল চিকিৎসকগণ। সরোজমিনে হাসপাতালের রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘’বর্তমানে চিকিৎসা সেবার মান অনেক বেড়ে গেছে। হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের সেবা চালু হওয়ায় রোগীদের তেমন ভোগান্তীতে পরতে হয়না।‘’

টঙ্গী ও গাজীপুরের স্বল্প আয়ের লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র অবলম্বন সরকারি হাসপাতাল। এখানেই শিশু, নাক, কান, গলা, চক্ষু বিভাগ, কার্ডিওলজি বিভাগ, এনেসথেপিয়া বিভাগ, হেপাটোলজি বিভাগ, ফরেনসিক বিভাগ, আইসিইউ (ইউনিট), অর্থপেডিক্স, বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি, সার্জারি, ক্যান্সার বিভাগ, রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ, রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ, শিশু কিডনি বিভাগ, প্রসতি ও গাইনি বিভাগ, ইউরোলজি বিভাগ, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে বহু  কার্যক্রম চালু হয়েছে  এবং যেগুলো হয়নি সেগুলো করার জন্যেও দ্রæত বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হবে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের (আরএমও) ডাঃ পারভেজ হোসেন বলেন, হাসপাতালের নতুন ভবন চালু হওয়ার পর থেকে রোগীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজারের ও বেশী রোগী এখানে ভীড় জমায়। এখন সাধারণ মানুষকে কষ্ট করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয় না এবং আগামী দিন গুলোতে আমাদের জনবল বৃদ্ধি পেলে আরো বেশী রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।  হাসপাতালের ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার মাসুদ রানা জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ আসায় এবং নতুন ভবন চালু হওয়ায় চিকিৎসার মান অনেকটাই বেড়ে গেছে। রোগীদের সার্বিক সেবা দেওয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করছি।

ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দা তানজিনা আফরিন ইভা জানান, নতুন ভবন চালু হওয়ার পরথেকে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব ইজতেমায় আসা অগণিত মুসল্লিদেরকে সেবা দিতে পেরেছি। আমরা চাই সকলে সুস্থ্য থাকুক তবে আমাদের জনবল বাড়লে আরো ভালো ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।