সীতাকুণ্ডে বন বিটের রান্নাঘরে মায়া হরিণ জবাইয়ের অভিযোগ

 মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে এক বন বিটের রান্নাঘরের মধ্যেই একটি বৃহৎ মায়া হরিণ জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর বন বিট অফিসে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে বন কর্মকর্তারা জবাইকৃত চামড়া ছাড়ানো হরিণটি মাটি চাপা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে শীতলপুর বন বিট অফিসের মধ্যেই একটি হরিণ জবাই করা ও চামড়া ছাড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, শীতলপুর বিট অফিসারের সহযোগিতায় স্থানীয় একটি শিকারী চক্র হরিণটি শিকার করে বিট অফিসে নিয়ে আসে। পরে শিকারী ও বিট অফিসার জাকির হোসেন একত্রিত হয়ে জবাই করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কিছু যুবক সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। তারা সাংবাদিকদের খবর পাঠান।
খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন সীতাকুণ্ড থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকও। এ সময় তিনি বিট অফিসের রান্না ঘরে হরিণটি জবাই ও জবাইয়ের আলামত দেখেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবলু মিয়া বলেন, শীতলপুর মদনহাট ফরেস্ট অফিসের মধ্যেই আনুমানিক ১২ কেজি ওজনের হরিণটি জবাই করেছে বিট অফিসের কর্মকর্তারা। ওই অফিসের ভেতরে গিয়ে তো আর অন্য কারো জবাই করার সুযোগ নেই। সোনাইছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুনীর হোসেন বলেন, সেখানে মাঝেমধ্যেই এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিট অফিসারেরা যদি এসব করে তাহলে বিট রক্ষা হবে কি করে ? জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সীতাকুণ্ড থানার এসআই মো. রফিক বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে দুপুরে শীতলপুর বিট অফিসে গিয়ে দেখি বিশাল হরিণটি জবাই করা ও চামড়া ছাড়ানো অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, এটি জবাই করা হয়েছিলো ওই বিট অফিসের রান্না ঘরের মধ্যে। সেখানে জবাইয়ের অস্ত্রও ছিলো। তবে আমার কাছে বিট অফিসাররা জানিয়েছেন যে একজন শিকারী এটি মেরে ফেলেছিলো। তাদের লোকজন দেখে হরিণটি ফেলে শিকারীরা পালিয়ে যায়। এ ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে বন কর্মকর্তারা নাকি প্রথমেই হরিণের চামড়াটি সংরক্ষণ করেন। এ ক্ষেত্রেও তারা চামড়া সংরক্ষণের জন্যই রান্না ঘরে নিয়ে চামড়া ছাড়ান। পরে বিষয়টি কুমিরা রেঞ্জ অফিসার উত্তর কুমার দত্ত ও বিট অফিসার জাকির হোসেন আমার উপস্থিতিতে সেটি মাটি চাপা দেন। এদিকে, বণ্যপ্রাণি মারা গেলে সেটি পোস্টমর্টেমের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হয়নি। হয়নি পোস্টমর্টেমও।
এ বিষয়ে কথা বলতে শীতলপুর বিট অফিসার মো. জাকির হোসেন ও কুমিরা রেঞ্জ অফিসার উত্তম কুমার দত্তের নম্বরে বারবার ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, ঘটনার পর আমি স্থানীয়দের কাছে এই খবর পেয়ে পোস্টমর্টেম ছাড়া হরিণটি দাফন করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তারা পোস্টমর্টেম ছাড়াই নাকি দাফন করেছে। আমাকে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।