সিলেট সিটি কর্পোরেশনে লকডাউন নিয়ে সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্ব শীলদের আচারনে বিভ্রান্ত সচেতন মহল

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট সিটি কর্পোরেশনে লকডাউন নিয়ে কি হচ্ছে কৌতূহলী নগরবাসী। চলছে আলোচনা-পাল্টা আলোচনা, বসেছে বৈঠকও। এদিকে গণমাধ্যমে লকডাউনের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের একেক সময়ে একেক বক্তব্য মানুষের মধ্যে এক বীথিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এ রকম সিদ্ধান্তকে পুঁজি করে সিলেটের বিভিন্ন পাইকারি ও খুরচা বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সিলেটে লকডাউন করার কোনো নির্দেশনা এখনও আসেনি বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংক্রামনের দিক বিবেচনায় এলাকাকে রেড, ইয়োলো এবং গ্রীণ জোনে চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়ে ছিলো সিভিল সার্জনকে। সিভিল সার্জন সেটি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিয়েছেন। সরকারের উচ্চ কমিটি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে। এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, উনারা কোথা থেকে পেলেন বৃহস্পতিবারে লকডাইন হচ্ছে। প্রথমত লকডাউন দিতে হলে সরকারের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসত হবে তারপর না লকডাউন।

সিসিকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১ থেকে ২৪ ওয়ার্ড সবগুলোই রেড জোনের আওতায় আর দক্ষিণ সুরমা এলাকার ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ড গ্রিন জোন। ২৭ নং ওয়ার্ডে করোনা রোগী থাকলেও আপাতত দক্ষিণ সুরমা এলাকার ৩ ওয়ার্ডকেই রেড জোনে রাখা হচ্ছে না। তাই এই তিন ওয়ার্ড নতুন নীতিমালার আওতায় থাকছে না। দক্ষিণ সুরমা যেহেতু নতুন নীতিমালার আওতায় পড়ছে না তাই বাস স্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাবে। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর সুরমার) ২৪টি ওয়ার্ডে সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা ও টাউন বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

গত মঙ্গলবার সিলেটের দায়িত্বশীলগন গণমাধ্যমেকে এ রকম তথ্য জানিছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক কাজী এম. এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের এক সভায় সিলেটের ‘রেড জোনে’ চিহ্নিত হওয়া এলাকা গুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিসিকের ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড ছাড়া বাকী ২৪টি ওয়ার্ডকেই ‘রেড জোনে’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে নগর ভবনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব কাউন্সিলরদের নিয়ে সভা করেন, উক্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় যেহেতু এবারের লকডাউন খুব শক্ত হবে, নগরবাসীকে দুই দিনের সময় দিলে সহজে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখতে পারবে। হঠাৎ সবকিছু বন্ধ হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিবে, এজন্য বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে আগামী শনিবার সকাল থেকে লকডাউন কার্যকর করার জন্য। এই প্রস্তাবনা লিখিত আকারে পেশ করে জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রদানের পর পরই লকডাউন কার্যকর করা হবে সভায় জানিয়ে দেওয়া হয়।

তাছাড়া এই দুই দিন সময় দেয়া হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে মাইকিং করে মানুষকে লকডাউন শুরুর সময় জানিয়ে দেয়া যাবে। শুক্রবারে নগরীর বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা লকডাউন সম্পর্কে মানুষকে সহজে অবগত করতে পারবেন। বুধবার ঢাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনার চিঠি পাঠানো হবে।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডলসহ, নগরীর কাউন্সিলর ও সরংক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরগণ।