সিলেট শহরে ও শহরতলিতে আরেক আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: পবিত্র ভূমি সিলেট শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে পবিত্র মাটি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে কিশোর গ্যাংরা ছিনতাইয়েও জড়িয়ে পড়েছে শহরে যত মোটরবাইক চুরি হচ্ছে সবি তাদের কাজ, শহরের নির্জন রাস্তায় রিক্সা করে একা কোনো মহিলা দেখলেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাথে থাকা সবকিছু চিনিয়ে নেয়।

গত মঙ্গলবার তাঁতীপাড়া গলির সামনে ১০/১২ জন কিশোর কে মারামারি করতে দেখা যায় সাধারণ পথচারীদের বাধা সাহস নেই। ১৪জুন রবিবার বিকেলে নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে ৫জন কিশোর মিলে একজনকে বেদম মারপিট করতে দেখা যায়। পথচারীরা দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

কিশোর গ্যাংদের অপরাধ টেকাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জুড়ালো অভিযান শুরু হলে কিছু দিনের জন্য থেমে যায় কিশোর গ্যাংদের অপরাধ কর্মকাণ্ড। পরে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে কিশোর গ্যাংরা কিশোর অপরাধ অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বছর জুড়ে আলোচনায় থাকছে কিশোর অপরাধীদের নৃশংসতার নানা ঘটনাগুলো। শহরের স্কুল-কলেজ ও আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা দ্বন্দ্ব মেটাতে কয়েকজন কিশোর মিলে গড়ে তুলছে গ্যাং।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্পটে কিশোর-তরুণরা মিলে নিয়মিত আড্ডা দিচ্ছে পাশাপাশি মেয়েদেরও উত্যাক্ত করছে। জরিয়ে পড়ছে হিরোইন, গাঁজা, ও মদ সেবনে। মাদকাসক্ত হয়ে জরিয়ে পড়ছে ছিনতাইয়ের কাজে যার শেষ পরিণতি অস্ত্রবাজি থেকে রক্তারক্তির মতো ঘটনা। আর এসব অপরাধে এখন অস্থির হয়ে পড়ছেন নগরীর বাসিন্দারা ছোট ভাই-বড় ভাই মিলে আড্ডা দিতে দিতে এক সময় তারা হয়ে উঠছে ভয়স্কর অপরাধী।

নগরীর শাহী ঈদগাহ, কাজীটুলা, নয়াসড়ক, জেল রোড,উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, বালুচর, কল্যাণপুর, শাপলাবাগ, মেজরটিলা, লামাপাড়া, মাদানীবাগ, জল্লারপার, জিন্দবাজার, লামাবাজার, ওসমানী মেডিকেল রোড, শিববাড়ি, ঘাসিটুলা বেতবাজার, মির্জাজাঙ্গাল,রিকাবীবাজার, তালতলা, তেলিহাওর, শেখঘাট, মাছুদিঘিরপার, জামতলা, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজার, মিরবক্সটুলা, আম্বরখানা, দর্শনদেউড়ি, রাজারগলি, হাউজিং এস্টেট, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই, চন্ডীফুলপয়েন্ট, মজুমদারি, বাঘবাড়ি, মদিনা মার্কেট, পীরমহল্লা, টেকনিক্যাল রোড, কদমতলি পয়েন্ট, ফাজিলচিশতসহ নগরীর প্রায় সবকটি এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিশোর অপরাধের দায় নিতে হবে পরিবার আর রাষ্ট্রকেই। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান নৈতিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেননি। অভিভাবকদের অতীত বা বর্তমান হাল চিত্র সন্তানদের নিকটই বির্তকিত। আস্থার স্থান গুলো বির্তকিত হয়ে উঠলে সেখানে সম্মান নীতি মূল্যবোধ বলে কিছু থাকে না। অপরাধীদের অভয়ারণ্য সর্বত্র তাদের নিয়ন্ত্রণে আমাদের সমাজের তেমন একটা ভূমিকা নেই।

একটা সময় ছিলো পিতা বা অভিভাবকদের ভয়ে নত থাকতো তার কিশোর সন্তান। কিন্তু বর্তমান সেই অবস্থা নেই কিশোরের কোন অপরাধের বিচার পিতা বা অভিভাবক পর্যন্ত নিয়ে গেলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায় নীতি নৈতিকতার শৃঙ্খলা যে অবশিষ্ট নেই এটাই তার প্রমাণ, এজন্য জোরাল ভূমিকা পালন করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।