সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলায় সিন্ডিকেট করে ১০ টাকা মূল্যের চাউল হরিলুট

এনাম রহমান, সিলেট  প্রতিনিধি: সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি আওতায় হতদ্ররিদের তথা ১০ টাকা কেজি দরে নির্ধারিত মূল্যের চাউল নিয়ে চড়ম অনিয়ম দুর্নীতি ও হরিলুট হচ্ছে। কাডধারিদের নাম মাত্র চাউল দিয়ে কালাে বাজারে সব বিক্রি করা হচ্ছে। একটি সিন্ডিকেট নির্ভয়ে এসব চাউল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা কামাই করছে।

একটি দায়িত্বশীল সূত্রে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও কার্ডধারিদের নিকট থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১০ টাকা মূল্যের চাউল সরবরাহের জন্য ৮জন ডিলার রয়েছেন। চাউল বিতরনের সময় তদারকির জন্য ৮জন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও রয়েছেন। কিন্তু তার পরও অনিয়ম দূর্নীতি ঠেকানো যাচ্ছে না। উপজেলা খাদ্য অফিসের তথ্যমতে হতদরিদ্র লােকদের জন্য শুরু থেকে আজ পর্যন্ত। লামাকাজি ১৪৪.৪২ মেট্রিক টন, খাজাঞ্চি ১২৩.৭৯ মেট্রিক টন, অলংকারি ১১৬.৮৬০ মেট্রিক টন, রামপাশা ১৪৩.২৫ মেট্রিক টন, দৌলতপুর ১৩১.৩২ মেট্রিক টন, বিশ্বনাথ ১৮০.১৫ মেট্রিক টন, দেওকলস৭৯.৭১ মেট্রিক টন, এবং দশঘর ইউনিয়নে ৯২.৮৮ মেট্রিকটন চাল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

২০১৬ সাল থেকে এই কর্মসুচী শুরু হয়। উত্তোলনকৃত চাউলের চার ভাগের একভাগ চাউলও কাডধারিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত হতদরিদ্রদের যে তালিকা উপজেলা খাদ্য অফিসে দাখিল দাখিল করা করা হয়েছে। সেই কাডধারিদের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে বেশ কিছু নাম যাচাই বাচাই করে ভয়াভহ অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যায়। তালিকায় মৃত ব্যক্তি, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি, ধনী ব্যক্তি এবং ডিলার, চেয়ারম্যান, মেম্বারদের স্বজনদের নাম রয়েছে।

অভিযোগ কারিদের মতে সরকারি বিধি মােতাবেক তালিকাও তৈরী হয়নি। তালিকাভুক্তদের কাডও ডিলারের কাছে জমা থাকে যেটা সম্পূর্ণ বেআইনি, ডিলার নিজের ইচ্ছামত ডান হাত বাম হাত দিয়ে জাল টিপসই/স্বাক্ষরের মাধ্যমে কাড পূরণ করে রাখার অভিযােগ ও রয়েছে। একবার চাল দিয়ে ৩/৪ বার লিখে রাখা হয় যাচাইর কালে অধিকাংশ ব্যক্তি চাউল পাননি বলে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারনে বাচাইকৃত কাডধারিদের নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। মূলত খাদ্য গােদাম থেকে চাউল উত্তোলন করে সে চাউল প্রতিটি ইউনিয়নে পৌছায় না।

রাস্তায় উধাও হয়ে যায়। নাম না প্রকাশের শর্তে একজন বলেন গত রমজান মাসে উপজেলার একটি রাইস মিলে কয়েক শতাধিক সরকারি চাউলের বস্তা পরিবর্তনের দূশ্য দেখা যায়। ফলে দূর্নীতিবাজ চক্র কার্ডধারিদের কার্ড খাতাপত্র ঘষা মাজা শুরু করেন, অনেকেই কার্ডে তাদের নাম রয়েছে তা তারা জানেন না। সরকারি বেসরকারি ভাবে কেউ কেউ কিছু ত্রাণ পাওয়ার কথা ও জানিয়েছেন। লামাকাজি, অলংকারি, রামপাশা, দৌলতপুর এবং দশঘর ইউনিয়নে ব্যাপক দূর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়। চাউল কালাে বাজারে বিক্রি করে আয়ের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, ১০ টাকা মূল্যের চাউলের কার্ডধারীদের তালিকা মেম্বার চেয়ারম্যান দিলেও ডিলাররা তাদের ইচ্ছামত নাম পরিবর্তন করে।

এতে সত্যকথা বলে টিকে থাকার কোন সুযােগ নেই। বিএনপির শাসনামলের বিএনপির এক নেতা, বর্তমানে দল বদল করে সে এখন আওয়ামীলীগ নেতা, উপজেলার সবকিছু নিয়ন্ত্রন করছে সে। উপজেলার হতদরিদ্র ভুক্তভােগী লােকজন এই সব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা প্রসাশনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘােষিত ১০ টাকা মূল্যের চাউলের কিছু অনিয়ম দূর্নীতির কথা শুনেছি। কিন্তু করােনা পরিস্থিতির কারনে কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি।

তদন্তে অনিয়ম দূর্নীতি প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ১০ টাকা মূল্যের চাউলের বিষয়ে কোন অনিয়ম দূর্নীতির লিখিত অভিযােগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী বলেন, হতদরিদ্রদের তালিকা মেম্বারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে উপজেলায় দাখিল করা হয়ে থাকে কোন অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস জানান, ১০ টাকা। মূল্যের চাউলের ব্যাপারে কোন অভিযােগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।