সিলেট বিভাগে করোনা পরীক্ষায় ভোগান্তি শেষ কোথায়

এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগ জোরে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের চার জেলার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। কোন কোন উপজেলায় নমুনা সংগ্রহের বুথও নেই। কোথাও আবার নমুনা দিতে আসা লোকজনই নমুনা সংগ্রহ করছেন। জেলা ভেদে রিপোর্ট পেতে সময় লাগে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত, এই দুই সাপ্তাহের অপেক্ষায় ভালো রোগী অসুস্থ হয়ে পরে রিপোর্ট এর চিন্তায়। এছাড়া, কয়েকদিনের সংগৃহীত নমুনা এক সাথে করে পাঠানো হয় ল্যাবে।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৯৮ লাখের বেশি মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব রয়েছে মাত্র দুইটি। একটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে, অপরটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বেশিরভাগ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকায়, বিভাগের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই সিলেট জেলায়। অথচ ১৩টি উপজেলার ১০টিতেই নেই করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের বুথ।

সদরে ৪টি এবং গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে দুইটি বুথ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন করোনা টেস্ট ভোগান্তির জন্য নমুনা সংগ্রহের পরিমান কমে যাওয়ায় দ্রুত ফলাফল দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এদিকে, মৌলভীবাজারের প্রতিটি উপজেলায় নমুনা সংগ্রহের বুথ থাকলেও টেকনোলজিস্ট, পিসিআর ল্যাব নেই। স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তা প্রতিদিন পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়না।

এ কারণে ফলাফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় দেড় থেকে দুই সপ্তাহ। মৌলভীবাজার সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় পরীক্ষা হয় বলে জানালেন সিভিল সার্জন। তবে, সদর হাসপাতালে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
সুনামগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় অনভিজ্ঞদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, দালালদের হয়রানির কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নমুনা দিতে আসা সাধারণ মানুষকে।

সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলার নমুনা সিলেট, ঢাকা এবং ময়মনসিংহে পরীক্ষা করা হয় বলে জানান সিভিল সার্জন।
এদিকে, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালুর জন্য লাইন টানা থাকলেও তা চালু হয়নি। এছাড়া, জেলার প্রতিটি উপজেলায় নমুনা সংগ্রহের বুথ থাকলেও ফি বসানোর পর থেকে সংগ্রহ হচ্ছে কম। সিলেটের সচেতন মহল মনে করছেন সাস্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর আশা করছেন।